Author: suman-das

  • Maa Aahar: ‘মা ক্যান্টিন’ এবার থেকে ‘মা আহার’, সপ্তাহে ২ দিন মিলবে মাছ-ভাত, ঘোষণা দিলীপের

    Maa Aahar: ‘মা ক্যান্টিন’ এবার থেকে ‘মা আহার’, সপ্তাহে ২ দিন মিলবে মাছ-ভাত, ঘোষণা দিলীপের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের প্রান্তিক ও অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর মানুষের পুষ্টি সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে সুলভ মূল্যের ঐতিহ্যবাহী খাদ্য প্রকল্প ‘মা ক্যান্টিন’-এর পরিকাঠামো ও খাদ্যতালিকায় ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছে। উল্লেক্য মা আহার (Maa Aahaar) নামে এই পরিষেবা দেওয়া হবে। মিলবে মাছ (Fish Meal), ডিম ও সবজি ভাতের ব্যবস্থাও।

    নামকরণ ও পরিধি সম্প্রসারণ (Maa Aahaar)

    • ● নতুন নামকরণ: প্রকল্পটিকে আরও আকর্ষণীয় ও সর্বজনীন করতে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হচ্ছে ‘মা আহার’ (Maa Aahaar)।
    • ● কেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি: পূর্বে রাজ্যজুড়ে মোট ৩৯০টি কেন্দ্র পরিচালিত হতো। বর্তমান সরকারের নীতি অনুযায়ী এক ধাক্কায় আরও ১১০টি নতুন কেন্দ্র খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজ্যে মোট ‘মা আহার’ কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৫০০-তে।

     মেনুতে পুষ্টির ছোঁয়া ও বৈচিত্র্য

    সাধারণ মানুষের প্রোটিন ও পুষ্টির চাহিদার কথা বিবেচনা করে খাবারের তালিকায় বড়সড় রদবদল আনা হয়েছে। মাত্র ৫ টাকার বিনিময়ে পেটভরা মধ্যাহ্নভোজনের এই নতুন মেনু সাজানো হয়েছে নিম্নোক্তভাবে:

    • ● সপ্তাহে ২ দিন: ডিম-ভাত।
    • ● সপ্তাহে ২ দিন: মাছ-ভাত (Fish Meal) নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের অংশ হিসেবে।
    • ● বাকি দিনগুলো: সম্পূর্ণ নিরামিষ, তবে অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাদ্য উপাদান।

    মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা যৌথভাবে ঘোষণা করেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এবং মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

    রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও ধারাবাহিকতা

    পূর্বতন সরকারের আমলে ২০২১ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে ৫ টাকায় ভাত, ডাল, সবজি ও ডিম দেওয়া হতো। রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন সরকার আশ্বস্ত করেছিল যে, জনকল্যাণমুখী কোনও সামাজিক প্রকল্প বন্ধ করা হবে না; বরং সেগুলির পরিধি আরও বিস্তার করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেই প্রকল্পটিকে আরও আধুনিক ও পুষ্টিকর করে ‘মা আহার’ (Maa Aahaar) রূপে জনসমক্ষে আনা হচ্ছে। বুধবারের ক্যাবিনেট বৈঠক থেকে একদিকে যেমন রাজ্যের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও সীমান্ত সুরক্ষার মতো কঠোর প্রশাসনিক বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, ঠিক তেমনই নবান্নের পক্ষ থেকে প্রান্তিক মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা (Fish Meal) সুনিশ্চিত করার এই মানবিক বার্তাও দেওয়া হলো।

  • TMC Councilor: তোলাবাজি-দুর্নীতির অভিযোগে কলকাতা পুরসভার আরও ২ কাউন্সিলর গ্রেফতার, সংখ্যা বেড়ে ৫

    TMC Councilor: তোলাবাজি-দুর্নীতির অভিযোগে কলকাতা পুরসভার আরও ২ কাউন্সিলর গ্রেফতার, সংখ্যা বেড়ে ৫

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা পুরসভায় (Kolkata Municipal Corporation) আর্থিক অনিয়ম ও বেআইনি কাজকর্মের অভিযোগে পুলিশি তৎপরতা আরও জোরদার হয়েছে। এবার তোলাবাজি ও হুমকির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে পুরসভার ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর (TMC Councilor) মহেশকুমার শর্মাকে। একই ভাবে গ্রেফতার হয়েছেন ১১২ নম্বর ওয়ার্ডের আরও এক তৃণমূল কাউন্সিলর, যার নাম বিশ্বজিৎ মণ্ডল। গত কয়েক দিনে এই নিয়ে শাসকদলের মোট ৫ কাউন্সিলর পুলিশের জালে ধরা পড়লেন।

    তৃণমূলের গ্রেফতার হওয়া কাউন্সিলর (TMC Councilor) বিশ্বজিৎ মণ্ডলের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগগুলি হল-

    • ● অভিযোগের সূত্রপাত: রিজেন্ট পার্ক এলাকার (Kolkata Municipal Corporation) এক আবাসন নির্মাতার (প্রোমোটার) কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ।
    • ● শারীরিক হেনস্থা: অভিযোগকারী জানান, টাকা দিতে অস্বীকার করায় কাউন্সিলর এবং তাঁর অনুগামীরা মারধর করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।
    • ● আইনি পদক্ষেপ: ভুক্তভোগী প্রোমোটার রিজেন্ট পার্ক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ তদন্তে নামে।

    পুলিশের তদন্ত ও গ্রেফতারি

    অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ (Kolkata Municipal Corporation) সক্রিয় হয়। প্রাথমিক তদন্তের পর কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডেকে পাঠানো হয়। বয়ানে অসঙ্গতি থাকায় এবং অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মেলায় পুলিশ তাকে সরকারিভাবে গ্রেফতার করে। এই ঘটনায় এলাকার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। কাউন্সিলর (TMC Councilor) মহেশকুমার শর্মার গ্রেফতারি ও অভিযোগের পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে।কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation) এলাকায় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা তোলা, প্রোমোটারকে মারধর, হুমকি এবং বেআইনি কাজের অভিযোগে তাকে আটক করার পর দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেফতার করা হয়।

    অভিযোগের সূত্রপাত

    ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে বড়বাজার থানায় মহেশকুমার শর্মার (TMC Councilor) বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

    • নির্দিষ্ট ধারাসমূহ: তদন্ত প্রক্রিয়ার পর পোস্তা এলাকার বাসিন্দা মহেশকুমার শর্মার বিরুদ্ধে একাধিক জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
      • অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র (ধারা-৬১/২)
      • সরকারি কর্মীকে কাজে বাধা দেওয়া বা বলপ্রয়োগ (ধারা-১৩২)
      • তোলাবাজি (ধারা-৩০৮) ও অপরাধের চেষ্টা (ধারা-৬২)
      • ভয় প্রদর্শন ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে অর্থ আদায় (ধারা-৩০৮/৩ এবং ৩০৮/৬)
      • ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান করা (ধারা-৩৫২)

    সাম্প্রতিক সময়ে গ্রেফতার হওয়া অন্যান্য কাউন্সিলর

    প্রশাসনের এই দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গত কয়েক দিনে আরও বেশ কয়েকজন কাউন্সিলরকে (TMC Councilor) গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে হলেন-

    • ১. অরিজিৎ দাস ঠাকুর (১০৬ নম্বর ওয়ার্ড): স্থানীয় প্রোমোটার ও ব্যবসায়ীদের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় ও ‘কাটমানি’ চাওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গড়ফা থানার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
    • ২. শচীন সিংহ (৩৬ নম্বর ওয়ার্ড): ব্যবসায়ীদের হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের অভিযোগে নারকেলডাঙা থানার পুলিশ তাকে একই রাতে গ্রেফতার করে।
    • ৩. সুদীপ পোল্লে (১২৩ নম্বর ওয়ার্ড ও ১৬ নম্বর বরোর তৎকালীন চেয়ারম্যান): এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা দাবি করার অভিযোগে গত মে মাসে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

    প্রশাসনিক অবস্থান

    পর পর এই গ্রেফতারির ঘটনায় শহরের (Kolkata Municipal Corporation) রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইন অমান্যকারী ও তোলাবাজির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনও প্রকার আপস না করে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • Abhishek Banerjee: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘শান্তিনিকেতনে’ গেলেন ইডি আধিকারিকরা, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের তলব

    Abhishek Banerjee: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘শান্তিনিকেতনে’ গেলেন ইডি আধিকারিকরা, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের তলব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার (Teacher Recruitment Scam) তদন্তে ফের বড়সড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। বুধবার বিকেলে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) দক্ষিণ কলকাতার বাসভবন ‘শান্তিনিকেতন’-এ হাজির হন ইডি আধিকারিকরা। তবে সে সময় অভিষেক বাড়িতে ছিলেন না; তিনি কালীঘাটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তদন্তকারীরা কালীঘাটের বাড়িতে গিয়ে তাঁর সুরক্ষাকর্মীদের মাধ্যমে সমনের নোটিসটি দিয়ে আসেন।

    রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যে কেন্দ্রীয় তৎপরতা (Abhishek Banerjee)

    বুধবার দিনভর রাজ্য রাজনীতি উত্তাল ছিল বিধানসভার অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও ৫৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষর সহ চিঠি এবং নতুন বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিধানসভা চত্বর সরগরম হয়ে ওঠে। এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) মিলে দলের সমস্ত রাজ্য কমিটি ও শাখা সংগঠন ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই সাংগঠনিক রদবদলের পর্যালোচনার জন্য বিকেল গড়াতেই কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে পৌঁছান অভিষেক। ঠিক তার পরপরই বিকেল ৫টা নাগাদ ইডির দু’জন উচ্চপদস্থ আধিকারিক একটি ফাইল হাতে অভিষেকের বাসভবনে পৌঁছান এবং সেখানে তাঁকে না পেয়ে কালীঘাটের ঠিকানায় গিয়ে সমন (Teacher Recruitment Scam) দিয়ে আসেন।

    সিআইডি বনাম অভিষেক স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলা ও আইনি লড়াই

    শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে (Teacher Recruitment Scam) ইডির এই নতুন সমনের সমান্তরালে, রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি (CID)-র সঙ্গেও অভিষেকের একটি মামলা পিছু ছাড়ছে না। তবে মনে করা হচ্ছে, ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংক্রান্ত নথিপত্র এবং শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরেই ইডি ফের নতুন করে এই সমন পাঠিয়েছে। তবে এই কেন্দ্রীয় তৎপরতা নিয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস বা অভিষেকের শিবিরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও রকম প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।

    সিআইডি-র তলব ও হাজিরা এড়ানো

    বিধানসভায় জমা পড়া একটি চিঠিতে বিধায়কদের সই জালিয়াতির অভিযোগে গত সোমবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনের সিআইডি সদর দফতর সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণ দর্শিয়ে তিনি সেই হাজিরা এড়িয়ে যান এবং পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১৫ দিনের সময় চেয়ে লিখিত আবেদন করেন।

    হাইকোর্টের দ্বারস্থ অভিষেক

    সিআইডি-র এই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে বুধবারই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায়ের এজলাসে এই সংক্রান্ত মামলা দায়েরের অনুমতি চাওয়া হয়। আইনজীবীর দাবি, সিআইডি-র এই নোটিস আইনত বৈধ নয়, তাই এটি খারিজ করা হোক। আদালত মামলা দায়েরের (Teacher Recruitment Scam) অনুমতি দিয়েছে এবং আগামী ৫ জুন এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।

    বিতর্কের সূত্রপাত

    বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচন সংক্রান্ত একটি চিঠিতে কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষরের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। স্বাক্ষর জালিয়াতির এই অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিধানসভার পক্ষ থেকে হেয়ার স্ট্রিট থানায় একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল, যার তদন্তভার বর্তমানে সিআইডি-র হাতে।

    কেন্দ্রীয় তদন্তের আতসকাচে অভিষেক

    অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) এবং তাঁর পরিবারকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিক মামলায় (Teacher Recruitment Scam) তাঁকে ও তাঁর সংস্থাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

  • Jay Prakash Majumdar: এবার পুলিশের জালে জয়প্রকাশ মজুমদার, ১৪ বছর ধরে ফ্ল্যাট জবরদখল ও বৃদ্ধা মালকিনকে হুমকির অভিযোগ

    Jay Prakash Majumdar: এবার পুলিশের জালে জয়প্রকাশ মজুমদার, ১৪ বছর ধরে ফ্ল্যাট জবরদখল ও বৃদ্ধা মালকিনকে হুমকির অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিদায়ী শাসকদলের প্রভাবশালী নেতাদের আইনি বিপাকে পড়ার ধারা অব্যাহত। এবার ফ্ল্যাট জবরদখল, বৃদ্ধা মালকিনকে কটূক্তি ও হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার হলেন তৃণমূল (Tmc Leader) নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার। বুধবার সল্টলেকের বিধাননগর এলাকার একটি আবাসনকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। সেখানে জয়প্রকাশকে (Jay Prakash Majumdar) ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রথমে তাঁকে আটক করে এবং পরে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

    ঘটনার প্রেক্ষাপট ও দীর্ঘস্থায়ী আবাসন বিতর্ক (Jay Prakash Majumdar)

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই আইনি বিরোধের সূত্রপাত প্রায় এক দশক আগে। মামলার বিবরণ নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো-

    • ● ভাড়ার চুক্তি: ২০১২ সালে বিধাননগরের এই-৩৩৭ নম্বর ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন জয়প্রকাশ মজুমদার। ফ্ল্যাটটির মূল মালকিন আরতি রায়চৌধুরী নামের এক বৃদ্ধা।
    • ● চুক্তির মেয়াদোত্তীর্ণ: ২০১৫ সালে ওই ভাড়ার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। অভিযোগ, এরপর দীর্ঘ ৯ বছর কেটে গেলেও জয়প্রকাশ নতুন কোনো চুক্তি করেননি বা পুরনো চুক্তির নবীকরণও করাননি।
    • ● আইনি নোটিস অমান্য: ফ্ল্যাটের মালকিন আরতি রায়চৌধুরী তাঁকে একাধিকবার আইনি নোটিস পাঠিয়ে ফ্ল্যাটটি খালি করে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, বিদায়ী শাসকদলের প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় জয়প্রকাশ সেই নোটিসে কর্ণপাত করেননি; উল্টো বৃদ্ধা মালকিনকে কটূক্তি ও হুমকি দেওয়া হয়।

    রাজনৈতিক পটভূমি

    তৃণমূল কংগ্রেস (Tmc Leader) ক্ষমতায় থাকাকালীন জয়প্রকাশ মজুমদারের রাজনৈতিক দাপটের কারণে আরতি রায়চৌধুরীর পরিবার আইনি পথে লড়াই করেও ফ্ল্যাটটি উদ্ধার করতে পারেনি। তবে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছে এবং বিজেপি প্রথমবার সরকার গঠন করেছে। এই ক্ষমতার পালাবদলের পরেই আরতি রায়চৌধুরীর পরিবার নিজেদের সম্পত্তি ফিরে পেতে নতুন করে সক্রিয় হয়ে ওঠে।

    বুধবারের উত্তেজনা ও গ্রেফতারি

    কয়েক দিন আগেই আরতি রায়চৌধুরী কিছু অনুগামীকে সঙ্গে নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে যান। সে সময় জয়প্রকাশ (Jay Prakash Majumdar) বাড়িতে না থাকায় তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে বচসা হয় এবং আরতিদেবী জয়প্রকাশের স্ত্রীকে চড় মারেন বলেও একটি পাল্টা অভিযোগ ওঠে। এর রেশ ধরে বুধবার পুনরায় ওই ফ্ল্যাটের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে জড়ো হন বেশ কিছু মানুষ। দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, বিক্ষোভকারীদের ওপর জয়প্রকাশ মজুমদার চড়াও হন এবং হাত তোলেন। ঘটনার খবর পেয়েই বিধাননগর উত্তর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী সেখানে পৌঁছায়। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝখান থেকেই জয়প্রকাশকে ধরে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর ফ্ল্যাট জবরদখল ও হুমকির অপরাধে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

  • Suvendu Adhikari: কাকলির পর শুভেন্দুর বৈঠকে ফিরহাদ-কুণাল-নয়না! হাজির ঋতব্রতও, বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন মোড়

    Suvendu Adhikari: কাকলির পর শুভেন্দুর বৈঠকে ফিরহাদ-কুণাল-নয়না! হাজির ঋতব্রতও, বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন মোড়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। এবার সেই বদলের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হল বুধবার নবান্নে আয়োজিত একটি হাইপ্রোফাইল বৈঠককে কেন্দ্র করে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত হলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং তৃণমূলের তিন বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh-Firhad Hakim), জাভেদ খান এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন সরকারের মেয়াদের শুরুতেই এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী শিবিরের দুই নেতার উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই বৈঠকের নেপথ্যে কেবল সৌজন্য বিনিময় নয়, বরং শাসকদলে যোগদানের সুপ্ত ইঙ্গিত বা ‘দলবদল’-এর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

    বৈঠকের প্রেক্ষাপট ও রুদ্ধদ্বার আলোচনা (Suvendu Adhikari)

    গত ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূল শিবিরের একাধিক প্রথম সারির নেতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে দলমত নির্বিশেষে সকলের গঠনমূলক পরামর্শকে স্বাগত জানানো হবে। তবে প্রশাসনিক আলোচনার আড়ালে এই বৈঠকের রাজনৈতিক গুরুত্ব যে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী, তা মানছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

    সৌজন্য সাক্ষাৎ নাকি অন্য কিছু?

    নবান্ন সূত্রে খবর, বৈঠকটি বেশ কিছু সময় ধরে চলে। যদিও বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ফিরহাদ হাকিম এবং কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh-Firhad Hakim) উভয়েই একে একটি ‘প্রশাসনিক সৌজন্য সাক্ষাৎ’ এবং কলকাতার কিছু বকেয়া উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে আলোচনা বলে দাবি করেছেন। ফিরহাদ হাকিম বলেন, “কলকাতার মেয়র হিসেবে শহরের বেশ কিছু জনকল্যাণমুখী কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই আমি মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছিলাম।” অন্যদিকে, কুণাল ঘোষও বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে হালকা করার চেষ্টা করে বলেন, “প্রতিটি বৈঠকের পেছনেই দলবদলের সমীকরণ খোঁজা অর্থহীন।” উল্লেখ্য এদিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খানও।

    জল্পনা বনাম বাস্তবতা

    তৃণমূল রাজত্বে দুই অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও প্রভাবশালী নেতার এভাবে নবান্নে এসে মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে বৈঠক করাকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা কেবল ‘প্রশাসনিক’ বলে মানতে নারাজ। এই বৈঠকের নেপথ্যে মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ উঠে আসছে। এই সমীকরণগুলি হল-

    নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ ও রাজনৈতিক অস্তিত্ব

    রাজ্যে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠার পর তৃণমূলের বহু বিদায়ী মন্ত্রী ও নেতার সরকারি নিরাপত্তা ও ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং এলাকার উন্নয়ন সচল রাখতে নতুন শাসক শিবিরের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা ছাড়া অন্য কোনও বিকল্প নেই বলেই মনে করছেন অনেকে।

    তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভ

    বেশ কিছুদিন ধরেই তৃণমূলের অভ্যন্তরে পুরনো বনাম নতুন নেতৃত্বের কোন্দল প্রকাশ্যে আসছিল। বিশেষ করে কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh-Firhad Hakim) মতো নেতারা অতীতেও দলের একাংশের বিরুদ্ধে একাধিকবার সোচ্চার হয়েছিলেন। ফলে এই বৈঠক দলের অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।

    শুভেন্দুর কৌশলী অবস্থান

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বরাবরই তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতাগুলোকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে দক্ষ। বিরোধী শিবিরের (Kunal Ghosh-Firhad Hakim) হেভিওয়েট নেতাদের নবান্নে ডেকে বৈঠক করার মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন ‘উদার ও সমন্বয়বাদী’ নেতার ভাবমূর্তি তুলে ধরছেন, অন্যদিকে বিদায়ী শাসকদলকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে ব্যাকফুটে ঠেলে দিচ্ছেন।

    রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া

    এই বৈঠককে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতির অন্দরে কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়ে গেছে। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের দাবি, তৃণমূলের বহু নেতাই এখন নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে এবং বর্তমান সরকারের উন্নয়ন যজ্ঞে শামিল হতে যোগাযোগ রাখছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই তালিকা আরও দীর্ঘ হবে।

    ঋতব্রত-সন্দীপনদের সঙ্গেই কুণাল-ববিরা!

    ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বা সন্দীপন সাহার মতো প্রকাশ্য বিদ্রোহীরা যে শুভেন্দুর বৈঠকে আসবেন, তা আগেই নিশ্চিত ছিল। কিন্তু, কুণাল-ববি-নয়নার উপস্থিতি আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। কারণ, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্তও ফিরহাদ হাকিম (কলকাতার মেয়র) এবং কুণাল ঘোষের মতো নেতাদের কোণঠাসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করার বার্তা দিতে দেখা গিয়েছিল। অথচ, বুধবার তাঁদের দেখা গেল নবান্নের কনফারেন্স রুমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঠিক কয়েক আসন দূরে অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে বসে থাকতে।

    ‘সুবিধাবাদী রাজনীতি’

    অন্যদিকে, তৃণমূলের অন্দরে এই বৈঠক নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দলের একাংশ বিষয়টিকে তীব্র সমালোচনা করে একে ‘সুবিধাবাদী রাজনীতি’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁদের মতে, দলের কঠিন সময়ে যাঁরা এভাবে বিরোধী শিবিরের দরজায় কড়া নাড়ছেন, তাঁরা আদতে নিজেদের আখের গোছাতেই ব্যস্ত। তবে অন্য একটি অংশের দাবি, গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোয় একজন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধী দলের নেতারা দেখা করতেই পারেন, একে দলবদল ভাবা অতি রঞ্জিত মানসিকতার পরিচয়। সব মিলিয়ে, শুভেন্দুর সঙ্গে (Suvendu Adhikari) নবান্নের এই বৈঠক যে আগামী দিনে বাংলার রাজনৈতিক চালচিত্রকে অনেকটাই প্রভাবিত করবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, এই সৌজন্য সাক্ষাৎ কেবলই প্রশাসনিক স্তরে সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি অদূর ভবিষ্যতে কোনও বড়সড় রাজনৈতিক দলবদলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে।

  • Sourav Ganguly: সৌরভের নিরাপত্তায় কাটছাট, ‘জেড’ থেকে দু’ধাপ নামিয়ে ‘ওয়াই’ ক্যাটাগরি করল শুভেন্দুর সরকার

    Sourav Ganguly: সৌরভের নিরাপত্তায় কাটছাট, ‘জেড’ থেকে দু’ধাপ নামিয়ে ‘ওয়াই’ ক্যাটাগরি করল শুভেন্দুর সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্টজনদের সরকারি নিরাপত্তা খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা বর্তমান সিএবি (CAB) সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম। গত তিন বছর ধরে রাজ্য সরকারের ‘জেড ক্যাটাগরি’ (Z Category)-র নিরাপত্তা পেয়ে আসছিলেন তিনি। তবে নতুন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তাঁর সুরক্ষাবলয় কমিয়ে এবার ‘ওয়াই ক্যাটাগরি’ (Y Category) করা হয়েছে। এই বিষয়ে সৌরভের (Sourav Ganguly) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

    সরকারি নিরাপত্তার বিভিন্ন স্তর (Sourav Ganguly)

    সাধারণত কার জীবনের ঝুঁকি (Threat Perception) কতটা, গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে তা পর্যালোচনা করেই সরকারি নিরাপত্তার স্তর নির্ধারণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী, সাংসদ-বিধায়ক, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতি এবং শীর্ষ আমলাদের পাশাপাশি চলচ্চিত্র তারকা, শিল্পপতি ও খেলোয়াড়দেরও এই নিরাপত্তা দেওয়া হয়ে থাকে। সুরক্ষার এই বিন্যাস মূলত তিনটি স্তরে বিভক্ত—‘এক্স’, ‘ওয়াই’ (Y Category) এবং ‘জেড’। এর মধ্যে ‘ওয়াই’ এবং ‘জেড’ স্তরের ক্ষেত্রে ‘প্লাস’ (Plus) নামক আরও একটি উচ্চতর ক্যাটাগরি থাকে— ‘ওয়াই প্লাস’ এবং ‘জেড প্লাস’। অর্থাৎ, ‘ওয়াই’ এবং ‘জেড’ স্তরের মাঝে থাকে ‘ওয়াই প্লাস’। সেই দিক দিয়ে ‘মহারাজ’-এর নিরাপত্তা দুই ধাপ কমিয়ে দেওয়া হল।

    সৌরভের নিরাপত্তার বিবর্তন

    ২০২৩ সালের মে মাস পর্যন্ত সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় (Sourav Ganguly) ‘ওয়াই ক্যাটাগরি’র (Y Category) নিরাপত্তাই পেতেন। সে সময় কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চের তিনজন কর্মী (যার মধ্যে দুজন সশস্ত্র) তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকতেন। এরপর তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তাঁর নিরাপত্তা বাড়িয়ে ‘জেড’ ক্যাটাগরি করে। এর ফলে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ থেকে ১০ জনে। পাশাপাশি, তাঁর বাড়ি পাহারা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয় এবং রাস্তায় চলাচলের জন্য দেওয়া হয় পাইলট কার। সব মিলিয়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন পুলিশকর্মী তাঁর সুরক্ষায় নিযুক্ত ছিলেন।

    রাজ্যে প্রশাসনিক সংস্কার এক নজরে নিরাপত্তা কাটছাঁট

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, সুনির্দিষ্ট প্রয়োজন ছাড়া কাউকে অতিরিক্ত সরকারি নিরাপত্তা দেওয়া হবে না। গত ৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই এই পর্যালোচনা শুরু হয়। তৃণমূল জমানায় রাজ্যে সর্বোচ্চ অর্থাৎ ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা পেতেন মূলত তিনজন— রাজ্যপাল, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়া নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন এবং কলকাতার তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিমও উচ্চস্তরের নিরাপত্তা পেতেন। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই চিত্রে বড় বদল এসেছে:

    • ● মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: কালীঘাটের বাড়ি থেকে বাড়তি পুলিশ পাহারা সরানো হয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আইনত তিনি যতটুকু নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারী, তাঁকে ঠিক ততটুকুই দেওয়া হচ্ছে।
    • ● অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়: তাঁর ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। একজন সাধারণ সাংসদ হিসেবে তাঁর প্রাপ্য সুরক্ষাই বহাল রাখা হয়েছে।
    • ● অন্যান্য: একাধিক তৃণমূল নেতা এবং প্রাক্তন শীর্ষ পুলিশ কর্তাদের নিরাপত্তার পরিধিও ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হয়েছে।

    নেপথ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ ও ‘ভারসাম্যের রাজনীতি’

    সৌরভের (Sourav Ganguly) নিরাপত্তা হ্রাসের এই ঘটনাকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বিজেপির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের পারদ ওঠানামার চশমায় দেখছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সৌরভকে ‘মুখ’ করে বাংলায় বৈতরণী পার হতে চেয়েছিল বিজেপি। সেই লক্ষ্যেই ২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সক্রিয় ভূমিকায় সৌরভ বিসিসিআই (BCCI) সভাপতি হন। ২০২০ সালে বিজেপির উদ্যোগে আয়োজিত পুজোয় সৌরভ-পত্নী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের নৃত্য পরিবেশন কিংবা ২০২১-এর নির্বাচনের ঠিক আগে সৌরভের বেহালার বাড়িতে অমিত শাহের নৈশভোজ— এই সমস্ত ঘটনাকে সেই রাজনৈতিক অঙ্কেরই অংশ মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সৌরভ রাজনীতি থেকে দূরত্ব বজায় রাখায় বিজেপি নেতৃত্ব একে একপ্রকার ‘বিশ্বাসভঙ্গ’ হিসেবেই দেখেছিল।

    শালবনী নিয়ে কটাক্ষ শমীকের

    সৌরভ বরাবরই উভয় পক্ষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলার নীতি বা ‘ভারসাম্যের রাজনীতি’ পছন্দ করেছেন। একদিকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যেমন তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল, অন্যদিকে অমিত শাহের সঙ্গেও তিনি সম্পর্ক তিক্ত করতে চাননি। তবে অতি সম্প্রতি শালবনি কারখানার প্রসঙ্গ টেনে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সৌরভকে কটাক্ষ করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বর্তমান শাসক দল সৌরভকে ঠিক কোন নজরে দেখছে, সেই কটাক্ষেই তা স্পষ্ট ছিল। আর এবার নিরাপত্তার বহর কমিয়ে নবান্ন সেই রাজনৈতিক বার্তাই প্রশাসনিকভাবে কার্যকর করল বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Arijit Das Thakur: তোলাবাজির অভিযোগে ফের গ্রেফতার তৃণমূল কাউন্সিলর, তালিকায় এবার অরিজিৎ দাস ঠাকুর

    Arijit Das Thakur: তোলাবাজির অভিযোগে ফের গ্রেফতার তৃণমূল কাউন্সিলর, তালিকায় এবার অরিজিৎ দাস ঠাকুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই একের পর এক শাসকদলের বিদায়ী নেতা ও কাউন্সিলরের গ্রেফতারির পালা চলছে। সুদীপ পোল্লে এবং সচিন সিংয়ের পর এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন কলকাতা পুরনিগমের ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অরিজিৎ দাস ঠাকুর (Arijit Das Thakur)। তোলাবাজিসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে গড়ফা থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। বুধবারই তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে। গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি এবং তোলাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বিজেপি সরকার।

    ব্যবসায়ীদের ভয় দেখিয়ে টাকা তোলার অভিযোগ (Arijit Das Thakur)

    তৃণমূল নেতাদের (TMC Councillor) বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তৎকালীন বিরোধী দল হিসেবে বিজেপি এই নিয়ে বারবার সরব হলেও, শাসকদলের পক্ষ থেকে কোনও সদর্থক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠত। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চিত্রটি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। আইন এখন নিজের পথে চলছে এবং একের পর এক প্রভাবশালী নেতার শ্রীঘরে ঠাঁই হচ্ছে। অরিজিতের বিরুদ্ধে মূলত স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা তোলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতেই এভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ধরপাকড় চলছে।

    অরিজিৎ দাস ঠাকুর (Arijit Das Thakur) তৃণমূলের দীর্ঘদিনের প্রবীণ নেতা দুলাল দাস ঠাকুরের পুত্র। এলাকায় তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কিছুদিন ধরেই ক্ষোভ জমছিল। অথচ, সম্প্রতি দল তাঁকে নিজেদের আইটি (IT) সেলে বড়সড় দায়িত্বও দিয়েছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না; ব্যবসায়ীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে গড়ফা থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।

    এক নজরে সাম্প্রতিক গ্রেফতারি

    কলকাতা পুরনিগমে এই নিয়ে পরপর তিনজন তৃণমূল কাউন্সিলর (TMC Councillor) পুলিশের জালে ধরা পড়েছে। যারা যারা অসৎ উপায় অবলম্বন করে মানুষের জনজীবনকে বিপন্নকে করেছেন তাঁদের আরও কয়েকজন সম্পর্কে অভিযোগগুলি ছিল ভীষণ গুরুতর। সুদীপ পোল্লে, ওয়ার্ড নম্বর ১২৩, কলকাতা পুরনিগমের প্রথম কাউন্সিলর হিসেবে কয়েকদিন আগে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। এরপর সচিন সিং, ওয়ার্ড নম্বর ৩৬, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ভাঙচুর, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে গত ২৭ মে নারকেলডাঙা থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে।

    সচিন সিংয়ের গ্রেফতারির নেপথ্যে রয়েছে ২০২১ সালের ৪ মে-র একটি ঘটনা। অভিযোগকারী আদর্শ পাণ্ডে দাবি করেন, ওই দিন বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ সচিন সিংয়ের নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতী তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়। বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর পাশাপাশি তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। সেই পুরনো মামলার তদন্তে নেমেই পুলিশ সচিনকে গ্রেফতার করে। আর তার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের অরিজিৎ দাস ঠাকুর (Arijit Das Thakur)।

  • Ramakrishna 661: “আমাকে কেউ কেউ ঈশ্বর বলে, আমি বললাম, ‘হাজার লোকে ঈশ্বর বলুক, আমার যতক্ষণ সত্য বলে না বোধ হয়, ততক্ষণ বলব না”

    Ramakrishna 661: “আমাকে কেউ কেউ ঈশ্বর বলে, আমি বললাম, ‘হাজার লোকে ঈশ্বর বলুক, আমার যতক্ষণ সত্য বলে না বোধ হয়, ততক্ষণ বলব না”

    ৫৩ কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    বুদ্ধদেব কি ঈশ্বরের অস্তিত্ব মানতেন? নরেন্দ্রকে শিক্ষা

    অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৬, ২১শে এপ্রিল

    নরেন্দ্র ও ঈশ্বরের অস্তিত্ব — ভবনাথ, পূর্ণ, সুরেন্দ্র

    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণকে (Ramakrishna) দর্শন করিয়া হীরানন্দ গাড়িতে উঠিতেছেন। গাড়ির কাছে নরেন্দ্র, রাখাল দাঁড়াইয়া তাঁহার সহিত মিষ্টালাপ করিতেছেন। বেলা দশটা। হীরানন্দ আবার কাল আসিবেন।

    আজ বুধবার, ৯ই বৈশাখ, চৈত্র কৃষ্ণা তৃতীয়া। ২১শে এপ্রিল, ১৮৮৬। নরেন্দ্র উদ্যানপথে বেড়াইতে বেড়াইতে মণির সহিত কথা কহিতেছেন। বাটিতে মা ও ভাইদের বড় কষ্ট — এখনও সুবন্দোবস্ত করিয়া দিতে পারেন নাই। তজ্জন্য চিন্তিত আছেন।

    নরেন্দ্র (Ramakrishna)— বিদ্যাসাগরের ইস্কুলের কর্ম আর আমার দরকার নাই। গয়াতে যাব মনে করেছি। একটা জমিদারীর ম্যানেজারের কর্মের কথা একজন বলেছে। ঈশ্বর-টীশ্বর নাই।

    মণি (সহাস্যে) — সে তুমি এখন বলছ; পরে বলবে না। Scepticism ঈশ্বরলাভের পথের একটা স্টেজ; এই সব স্টেজ পার হলে আরও এগিয়ে পড়লে তবে ভগবানকে পাওয়া যায়, — পরমহংসদেব বলেছেন।

    নরেন্দ্র — যেমন গাছ দেখছি, অমনি করে কেউ ভগবানকে দেখেছে (Kathamrita)?

    মণি — হাঁ, ঠাকুর দেখেছেন।

    নরেন্দ্র — সে মনের ভুল হতে পারে।

    মণি — জে যে অবস্থায় যা দেখে, সেই অবস্থায় তা তার পক্ষে রীয়্যালিটি (সত্য)। যতক্ষণ স্বপন দেখছ। একটা বাগানে গিয়েছ, ততক্ষণ বাগানটি তোমার পক্ষে রীয়্যালিটি; কিন্তু তোমার অবস্থা বদলালে — যেমন জাগরণ অবস্থায় — তোমার ওটা ভুল বলে বোধ হতে পারে! যে অবস্থায় ঈশ্বরদর্শন করা যায়, — সে অবস্থা হলে তখন রীয়্যালিটি (সত্য) বোধ হবে।

    নরেন্দ্র — আমি ট্রুথ চাই। সেদিন পরমহংস মহাশয়ের সঙ্গেই খুব তর্ক করলাম।

    মণি (সহাস্যে) — কি হয়েছিল (Kathamrita)?

    নরেন্দ্র (Ramakrishna)— উনি আমায় বলছিলেন, ‘আমাকে কেউ কেউ ঈশ্বর বলে।’ আমি বললাম, ‘হাজার লোকে ঈশ্বর বলুক, আমার যতক্ষণ সত্য বলে না বোধ হয়, ততক্ষণ বলব না।’

    “তিনি বললেন — ‘অনেকে যা বলবে, তাই তো সত্য — তাই তো ধর্ম!’

    “আমি বললাম, ‘নিজে ঠিক না বুঝলে অন্য লোকের কথা শুনব না’।”

    মণি (সহাস্যে) — তোমার ভাব Copernicus, Berkeley — এদের মতো। জগতের লোক বললছে, — সূর্য চলছে, Copernicus তা শুনলে না; জগতের লোক বলছে External World (জগৎ) আছে, Berkeley তা শুনলে না। তাই Lewis বলেছেন, ‘Why was not Berkeley a philosophical Copernicus?’

  • Ramakrishna 662: “ঠাকুর বলছেন, তাঁকে বিচার করে জানা যায় না, বিশ্বাসেই সমস্ত হয়, —জ্ঞান, বিজ্ঞান, দর্শন, আলাপ—সব”

    ৫৩ কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    বুদ্ধদেব কি ঈশ্বরের অস্তিত্ব মানতেন? নরেন্দ্রকে শিক্ষা

    অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৬, ২১শে এপ্রিল

    নরেন্দ্র ও ঈশ্বরের অস্তিত্ব — ভবনাথ, পূর্ণ, সুরেন্দ্র

    নরেন্দ্র (Ramakrishna)— উনি আমায় বলছিলেন, ‘আমাকে কেউ কেউ ঈশ্বর বলে।’ আমি বললাম, ‘হাজার লোকে ঈশ্বর বলুক, আমার যতক্ষণ সত্য বলে না বোধ হয়, ততক্ষণ বলব না।’

    “তিনি বললেন — ‘অনেকে যা বলবে, তাই তো সত্য — তাই তো ধর্ম!’

    “আমি বললাম, ‘নিজে ঠিক না বুঝলে অন্য লোকের কথা শুনব না’।”

    মণি (সহাস্যে) — তোমার ভাব Copernicus, Berkeley — এদের মতো। জগতের লোক বললছে, — সূর্য চলছে, Copernicus তা শুনলে না; জগতের লোক বলছে External World (জগৎ) আছে, Berkeley তা শুনলে না। তাই Lewis বলেছেন, ‘Why was not Berkeley a philosophical Copernicus?’

    নরেন্দ্র — একখানা History of philosophy দিতে পারেন?

    মণি — কি, Lewis?

    নরেন্দ্র  — না, Ueberweg; — German পড়তে হবে।

    মণি (Ramakrishna)—তুমি বলছো, সামনে গাছের মতন কেউ কি দেখেছে? তা ঈশ্বর মানুষ হয়ে যদি এসে বলেন, ‘আমি ঈশ্বর!’ তাহলে তুমি কি বিশ্বাস করবে? তুমি ল্যাজারাস্‌-এর গল্প তো জান? যখন ল্যাজারাস্‌ পরলোকে গিয়ে এব্রাহাম-কে বললে যে, আমি আত্মীয়বন্ধুদের বলে আসি যে সত্যই পরলোক আর নরক আছে। এব্রাহাম বললেন (Kathamrita), তুমি গিয়ে বললে কি তারা বিশ্বাস করবে? তারা বলবে, কে একটা জোচ্চোর এসে এই সব কথা বলছে।

    “ঠাকুর বলছেন, তাঁকে বিচার করে জানা যায় না। বিশ্বাসেই সমস্ত হয়, — জ্ঞান, বিজ্ঞান। দর্শন, আলাপ, — সব।”

    ভবনাথ বিবাহ করিয়াছেন। তাঁহার অন্নচিন্তা হইয়াছে। তিনি মাস্টারের কাছে আসিয়া বলিতেছেন, “বিদ্যাসাগরের নূতন ইস্কুল হবে, শুনলাম। আমারও তো খ্যাঁটের যোগাড় করতে হবে। ইস্কুলের একটা কাজ করলে হয় না?”

    রামলাল—পূর্ণের গাড়িভাড়া—সুরেন্দ্রের খসখসের পরদা

    বেলা তিনটে-চারটে। ঠাকুর শুইয়া আছেন। রামলাল পদসেবা করিতেছেন। ঘরে সিঁথির গোপাল ও মণি আছেন। রামলাল দক্ষিণেশ্বর হইতে আজ ঠাকুরকে দেখিতে আসিয়াছেন।

    ঠাকুর মণিকে জানালা বন্ধ করিয়া দিতে — ও পায়ে হাত বুলাইয়া দিতে বলিতেছেন।

    শ্রীযুক্ত পূর্ণকে গাড়িভাড়া করিয়া কাশীপুরের উদ্যানে আসিতে বলিয়াছিলেন। তিনি দর্শন করিয়া গিয়াছেন। গাড়িভাড়া মণি দিবেন। ঠাকুর গোপালকে ইঙ্গিত করিয়া জিজ্ঞাসা করিতেছেন, “এঁর কাছে (টাকা) পেয়েছ?”

    গোপাল — আজ্ঞা, হাঁ।

    রাত নয়টা হইল। সুরেন্দ্র, রাম প্রভৃতি কলিকাতায় ফিরিয়া যাইবার উদ্যোগ করিতেছেন।

    বৈশাখ মাসের রৌদ্র — দিনের বেলা ঠাকুরের ঘর বড়ই গরম হয়। সুরেন্দ্র তাই খসখস আনিয়া দিয়াছেন। পরদা করিয়া জানালায় টাঙ্গাইয়া দিলে ঘর বেশ ঠাণ্ডা হইবে।

    সুরেন্দ্র — কই, খসখস কেউ পরদা করে টাঙ্গিয়ে দিলে না (Ramakrishna)? — কেউ মনোযোগ করে না।

    একজন ভক্ত (সহাস্যে) — ভক্তদের এখন ব্রহ্মজ্ঞানের অবস্থা। এখন ‘সোঽহম্‌’ — জগৎ মিথ্যা। আবার ‘তুমি প্রভু, আমি দাস (Kathamrita)’ এই ভাব যখন আসবে তখন এই সব সেবা হবে! (সকলের হাস্য)

  • Munambam: কেরলে চার দেশক ধরে বসবাস করা হিন্দু মৎস্যজীবীদের কেনা জমিতে দখল বসাতে চায় ওয়াকফ, অন্দরের গল্পটা কেমন?

    Munambam: কেরলে চার দেশক ধরে বসবাস করা হিন্দু মৎস্যজীবীদের কেনা জমিতে দখল বসাতে চায় ওয়াকফ, অন্দরের গল্পটা কেমন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজকের সত্যটা শুনলে আপনার পায়ের তলার মাটি সরে যাবে। আচ্ছা, আপনি যে জমিতে আজ বাড়ি বানিয়ে শান্তিতে ঘুমাচ্ছেন, কাল সকালে উঠে যদি শোনেন সেই জমিটা আর আপনার নয়, ওটা রাতারাতি একটা ধর্মীয় বোর্ডের সম্পত্তি হয়ে গেছে—কেমন লাগবে আপনার? ভাবছেন অবাস্তব? কাল্পনিক গল্প? একদমই নয়! দেশের বুকে এটাই এখন রূঢ় বাস্তব। কেরলের এরনাকুলাম জেলার মুনামবাম (Munambam) গ্রাম। যেখানে ৬০০-র বেশি সনাতন এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের দরিদ্র মৎস্যজীবী পরিবার গত চার দশক ধরে নিজেদের রক্ত জল করা টাকায় কেনা জমিতে বাস করছেন, সরকারকে ট্যাক্স দিচ্ছেন, রেজিস্ট্রি দলিল পকেটে নিয়ে ঘুরছেন—আজ তারা নিজেদের ভিটেমাটি হারানোর ভয়ে রাস্তায় বসে কাঁদছেন! বর্তমান ইউডিএফ (UDF) সরকার চুপ।

    গোটা অন্যায়ের পেছনে কারা দাঁড়িয়ে আছে (Munambam)?

    কারণটা কী জানেন? কারণ, কেরলের ওয়াকফ বোর্ড হঠাৎ ফতোয়া জারি করেছে—পুরো মুনামবাম (Munambam) গ্রামটাই নাকি তাদের সম্পত্তি! দলিল, আইন, আদালত—সব কিছুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এক নিমেষে কয়েকশো পরিবারকে রিফিউজি বানানোর ছক কষা হয়েছে। আর এই গোটা অন্যায়ের পেছনে কারা দাঁড়িয়ে আছে? কেরলের বামপন্থী আর কংগ্রেস জোটের সেই চেনা ‘তুষ্টিকরণের রাজনীতি’ (Appeasement Politics)! সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক বাঁচানোর জন্য তারা আজ নিশ্চুপ, অসহায় সাধারণ মানুষের কান্না তাদের কানে পৌঁছাচ্ছে না।

    কিন্তু পাপ তো আর চাপা থাকে না! মোদি সরকার যখনই ওয়াকফ বোর্ডের এই একনায়কতন্ত্রের ডানা ছাঁটতে ‘উমিদ’ (UMEED) পোর্টাল আনল এবং ডিজিটাল ট্র্যাকিং শুরু করল—অমনি কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে পড়ল! ওয়াকফ বোর্ডের ভেতরের এই বিশাল জমি দখলের খেলা আজ হাতেনাতে ধরা পড়ে গেছে। কী এই মুনামবাম বিতর্ক? কীভাবে ওয়াকফ আইনের অপব্যবহার করে একটি আস্ত গ্রাম গিলে খাওয়ার চেষ্টা চলছে?

    শিক্ষার উন্নতির জন্য জমি দেওয়া হয়েছিল

    কীভাবে একটা আস্ত গ্রামকে ওয়াকফ সম্পত্তির তকমা দিয়ে সাধারণ মানুষের মুখের গ্রাস কেড়ে নেওয়ার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হল? ঘটনার সূত্রপাত ১৯৫০ সালে থেকেই। সিদ্দীক শেঠ নামের এক মুসলিম ব্যবসায়ী কোঝিকোড়ের ফারুক কলেজকে (Farook College) শিক্ষার প্রসারের জন্য মুনামবাম (Munambam) এলাকার প্রায় ৪০৪ একর উপকূলীয় জমি দান করেন। তবে এটি ছিল ফারুক কলেজকে দেওয়া একটি সাধারণ দানপত্র বা ‘গিফট ডিড’। শিক্ষার উন্নতির জন্য জমি দেওয়া হয়েছিল, কোনও ধর্মীয় ওয়াকফ করার জন্য নয়।

    ১৯৮৮ সালে ফারুক কলেজ কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয় এই জমির কিছু অংশ তারা বিক্রি করে দেবে। এলাকার প্রায় ৬১০টি গরিব পরিবার—যাদের সিংহভাগই খ্রিস্টান এবং হিন্দু মৎস্যজীবী সম্প্রদায়—নিজেদের জীবনের সমস্ত সঞ্চয়, আনুমানিক ৩৩ লক্ষ টাকা দিয়ে আইনি রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে ফারুক কলেজের থেকে এই জমি কিনে নেয়। বিগত প্রায় ৪০ বছর ধরে এই মানুষগুলো সেখানে ঘর বানিয়েছে, রক্ত জল করে চাষবাস করেছে, প্রতি বছর সরকারকে জমির ট্যাক্স দিয়েছে। কিন্তু ২০১৯ সালে ঘটল সেই ভয়ঙ্কর কাণ্ড! কেরল রাজ্য ওয়াকফ বোর্ড হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে দাবি করল—এই পুরো ৪০৪ একর জমি আদতে ফারুক কলেজের নয়, ওটা ওয়াকফ সম্পত্তি! অতএব, ১৯৮৮ সালে সাধারণ মানুষ যে জমি কিনেছিল, সেই কেনাবেচার কোনো আইনি মূল্যই নেই! সরকারও গোটা বিষয় (UDF) নিয়ে চুপ।

    কেরলের কংগ্রেস আর বামপন্থীরা মায়া

    আজ কেরলের কংগ্রেস আর বামপন্থীরা মায়াকান্না কাঁদছে। মুখ্যমন্ত্রী ভি. ডি. সতীশন বলছেন, “কাউকে উচ্ছেদ করা হবে না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যখন ২০১৯ সালে ওয়াকফ বোর্ড এই তুঘলকি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তখন এই তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলো কোথায় ছিল? ভোটব্যাংক হাতছাড়া হওয়ার ভয়ে তারা চুপ করে বসে ওয়াকফ বোর্ডের এই আগ্রাসনকে লাইসেন্স দিয়েছিল।”

    ইতিমধ্যে মুনামবামের হিন্দু এবং খ্রিস্টান সমাজ একজোট হয়ে রাস্তায় নেমেছে। তারা বুঝে গেছে, এই ছদ্ম-ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলো তাদের রক্ষা করবে না। আজ সারা দেশের মানুষ স্পষ্ট দেখছে—কেন মোদি সরকারের ওয়াকফ সংশোধন বিল আনাটা কতটা জরুরি ছিল। যদি এই আইন সংশোধন না করা হয়, তবে আজ কেরলের মুনামবাম (Munambam), কাল আপনার বা আমার ঘরের জমিও এভাবে ওয়াকফ বোর্ড কেড়ে নিতে পারে!

    মুনামবাম গ্রামে আজ শত শত হিন্দু ও খ্রিস্টান পরিবার চোখের জল ফেলছে, এর আসল অপরাধী কে? এর আসল খলনায়ক হলো ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং তাদের দশকের পর দশক ধরে চালানো নির্লজ্জ ‘মুসলিম তোষণ’ নীতি।

    আজ কংগ্রেসের নেতারা কেরলে গিয়ে বড় বড় কথা বলছেন, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ভণ্ডামি করছেন। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী আছে, এই ওয়াকফ বোর্ডকে দেশের সংবিধান এবং আদালতের ওপরে বসিয়ে দিয়ে একটা ‘সমান্তরাল সরকার’ চালানোর লাইসেন্স কারা দিয়েছিল? উত্তরটা হল—কংগ্রেস (UDF)!

    ফিরে যান ১৯৯৫ সালে। কেন্দ্রে তখন পি. ভি. নরসিমা রাও-এর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকার। সংখ্যালঘু ভোটব্যাংককে নিজেদের পকেটে রাখতে কংগ্রেস দেশের সংসদে এমন এক কালো আইন পাস করল, যা স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে সবচেয়ে বৈষম্যমূলক—’ওয়াকফ অ্যাক্ট ১৯৯৫’।

    ওয়েনাডের সাংসদ একটা শব্দও উচ্চারণ করেননি?

    কেরলের (Munambam) পরিস্থিতি আরও মারাত্মক। সেখানে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ (UDF) জোটের অন্যতম প্রধান অংশীদার হলো ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ (IUML)। কেরলে ক্ষমতা (UDF) টিকিয়ে রাখতে এবং মুসলিম লীগের ভোটব্যাংক নিশ্চিত করতে কংগ্রেস সেখানে সবসময় ওয়াকফ বোর্ডের প্রতিটি অন্যায় পদক্ষেপের সামনে নতজানু হয়ে থেকেছে।

    ২০১৯ সালে যখন ওয়াকফ বোর্ড মুনামবামের গরিব মৎস্যজীবীদের জমি নিজেদের বলে কেড়ে নিল, তখন কেন কংগ্রেসের রাজপুত্র রাহুল গান্ধী—যিনি কেরলেরই ওয়েনাডের সাংসদ ছিলেন—একটা শব্দও উচ্চারণ করেননি? কেন তখন ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশ পরা এই দলগুলো নীরব ছিল? কারণ একটাই—সাধারণ হিন্দু বা খ্রিস্টান মৎস্যজীবীদের কান্নার চেয়ে তাদের কাছে মুসলিম লীগের ভোটব্যাংকের মূল্য অনেক বেশি!

    মুনামবামের ঘটনা আজ ভারতের চোখ খুলে দিয়েছে। দেশের মানুষকে বুঝিয়ে দিয়েছে যে, কংগ্রেসের এই তোষণের রাজনীতি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য এবং সাধারণ মানুষের সম্পত্তির অধিকারের জন্য কতটা বড় হুমকি!

    মৎস্যজীবীদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে

    আজ কেরলের মৎস্যজীবীদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। কিন্তু সুখের বিষয় এটাই যে, আজ আর ভারত আগের জায়গায় দাঁড়িয়ে নেই। দিল্লিতে আজ এমন এক সরকার রয়েছে, যারা ভোটব্যাংকের তোষণ নয়, বরং ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস’-এর নীতিতে বিশ্বাস করে।

    আজ নরেন্দ্র মোদির দূরদর্শিতার কারণেই ‘উমিদ’ পোর্টালের মাধ্যমে ওয়াকফ বোর্ডের প্রতিটি গোপন পদক্ষেপ দেশের মানুষের সামনে চলে আসছে। আর সেই কারণেই আজ দেশের আপামর জনতা—তা সে হিন্দু হোক বা খ্রিস্টান—একজোট হয়ে মোদি সরকারের ওয়াকফ সংশোধন বিলের পক্ষে সওয়াল করছে। দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা করতে এই বৈষম্যমূলক আইনের পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি (UDF)।

    মুনামবামের মানুষ আজ লড়াই করছেন তাদের ভিটেমাটি বাঁচানোর জন্য, আর আমাদের লড়াই করতে হবে এই তোষণের রাজনীতির ধারক-বাহকদের দেশ থেকে রাজনৈতিকভাবে উপড়ে ফেলার জন্য। যাতে ভবিষ্যতে ভারতের আর কোনো মুনামবাম গ্রামকে এভাবে চোখের জল ফেলতে না হয়।

LinkedIn
Share