মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা পুরসভায় (Kolkata Municipal Corporation) আর্থিক অনিয়ম ও বেআইনি কাজকর্মের অভিযোগে পুলিশি তৎপরতা আরও জোরদার হয়েছে। এবার তোলাবাজি ও হুমকির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে পুরসভার ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর (TMC Councilor) মহেশকুমার শর্মাকে। একই ভাবে গ্রেফতার হয়েছেন ১১২ নম্বর ওয়ার্ডের আরও এক তৃণমূল কাউন্সিলর, যার নাম বিশ্বজিৎ মণ্ডল। গত কয়েক দিনে এই নিয়ে শাসকদলের মোট ৫ কাউন্সিলর পুলিশের জালে ধরা পড়লেন।
তৃণমূলের গ্রেফতার হওয়া কাউন্সিলর (TMC Councilor) বিশ্বজিৎ মণ্ডলের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগগুলি হল-
- ● অভিযোগের সূত্রপাত: রিজেন্ট পার্ক এলাকার (Kolkata Municipal Corporation) এক আবাসন নির্মাতার (প্রোমোটার) কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ।
- ● শারীরিক হেনস্থা: অভিযোগকারী জানান, টাকা দিতে অস্বীকার করায় কাউন্সিলর এবং তাঁর অনুগামীরা মারধর করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন।
- ● আইনি পদক্ষেপ: ভুক্তভোগী প্রোমোটার রিজেন্ট পার্ক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ তদন্তে নামে।
পুলিশের তদন্ত ও গ্রেফতারি
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ (Kolkata Municipal Corporation) সক্রিয় হয়। প্রাথমিক তদন্তের পর কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডেকে পাঠানো হয়। বয়ানে অসঙ্গতি থাকায় এবং অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মেলায় পুলিশ তাকে সরকারিভাবে গ্রেফতার করে। এই ঘটনায় এলাকার রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। কাউন্সিলর (TMC Councilor) মহেশকুমার শর্মার গ্রেফতারি ও অভিযোগের পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে।কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation) এলাকায় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা তোলা, প্রোমোটারকে মারধর, হুমকি এবং বেআইনি কাজের অভিযোগে তাকে আটক করার পর দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযোগের সূত্রপাত
২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে বড়বাজার থানায় মহেশকুমার শর্মার (TMC Councilor) বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
- নির্দিষ্ট ধারাসমূহ: তদন্ত প্রক্রিয়ার পর পোস্তা এলাকার বাসিন্দা মহেশকুমার শর্মার বিরুদ্ধে একাধিক জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- ● অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র (ধারা-৬১/২)
- ● সরকারি কর্মীকে কাজে বাধা দেওয়া বা বলপ্রয়োগ (ধারা-১৩২)
- ● তোলাবাজি (ধারা-৩০৮) ও অপরাধের চেষ্টা (ধারা-৬২)
- ● ভয় প্রদর্শন ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে অর্থ আদায় (ধারা-৩০৮/৩ এবং ৩০৮/৬)
- ● ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান করা (ধারা-৩৫২)
সাম্প্রতিক সময়ে গ্রেফতার হওয়া অন্যান্য কাউন্সিলর
প্রশাসনের এই দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গত কয়েক দিনে আরও বেশ কয়েকজন কাউন্সিলরকে (TMC Councilor) গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে হলেন-
- ১. অরিজিৎ দাস ঠাকুর (১০৬ নম্বর ওয়ার্ড): স্থানীয় প্রোমোটার ও ব্যবসায়ীদের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় ও ‘কাটমানি’ চাওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গড়ফা থানার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
- ২. শচীন সিংহ (৩৬ নম্বর ওয়ার্ড): ব্যবসায়ীদের হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের অভিযোগে নারকেলডাঙা থানার পুলিশ তাকে একই রাতে গ্রেফতার করে।
- ৩. সুদীপ পোল্লে (১২৩ নম্বর ওয়ার্ড ও ১৬ নম্বর বরোর তৎকালীন চেয়ারম্যান): এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা দাবি করার অভিযোগে গত মে মাসে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
প্রশাসনিক অবস্থান
পর পর এই গ্রেফতারির ঘটনায় শহরের (Kolkata Municipal Corporation) রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইন অমান্যকারী ও তোলাবাজির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনও প্রকার আপস না করে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

Leave a Reply