Category: পরম্পরা

Get updated History and Heritage and Culture and Religion related news from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Ramakrishna 568: “প্রার্থনা কম পড়ে যাচ্ছে; আজকাল ‘আমি’টা খুঁজে পাচ্ছি না, দেখছি তিনিই এই খোলটার ভিতরে রয়েছেন”

    Ramakrishna 568: “প্রার্থনা কম পড়ে যাচ্ছে; আজকাল ‘আমি’টা খুঁজে পাচ্ছি না, দেখছি তিনিই এই খোলটার ভিতরে রয়েছেন”

    ৫১ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে

    দ্বাদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২০শে ও ২৪শে সেপ্টেম্বর

    অসুস্থ শ্রীরামকৃষ্ণ ও ডাক্তার রাখাল—ভক্তসঙ্গে নৃত্য

    শ্রীরামকৃষ্ণের রোগ কেন?

    ডাক্তার ব্যবস্থা করার পর শ্রীরামকৃষ্ণ আবার কথা কহিতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) ভক্তদের প্রতি—আচ্ছা, লোকে বলে ইনি যদি এত—(এত সাধু) তবে রোগ হয় কেন?

    তারক—ভগবানদাস বাবাজী অনেকদিন রোগে শয্যাগত হয়েছিলেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ(Ramakrishna)—মধু ডাক্তার, ষাট বছর বয়সে রাঁড়ের জন্য তার বাসায় ভাত নিয়ে যাবে; এদিকে নিজের কোন রোগ নাই।

    গোস্বামী—আজ্ঞা, আপনার যে অসুখ সে পরের জন্য; যারা আপনার কাছে আসে তাদের অপরাধ আপনার নিতে হয়, সেই সকল অপরাধ, পাপ লওয়াতে আপনার অসুখ হয়!

    একজন ভক্ত—আপনি যদি মাকে বলেন মা, এই রোগটা সারিয়ে দাও, তা হলে শীঘ্র সেরে যায়।

    সেব্য-সেবকভাব কম—‘আমি’ খুঁজে পাচ্ছি না

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—রোগ সারাবার কথা বলতে (Kathamrita) পারি না; আবার ইদানীং সেব্য-সেবক ভাব কম পড়ে যাচ্ছে। এক-একবার বলি, ‘মা, তরবারির খাপটা একটু মেরামত করে দাও’; কিন্তু ওরূপ প্রার্থনা কম পড়ে যাচ্ছে; আজকাল ‘আমি’টা খুঁজে পাচ্ছি না। দেখছি তিনিই এই খোলটার ভিতরে রয়েছেন।

    কীর্তনের জন্য গোস্বামীকে আনা হইয়াছে। একজন ভক্ত জিজ্ঞাসা করিলেন, ‘কীর্তন কি হবে?’ শ্রীরামকৃষ্ণ অসুস্থ, কীর্তন হইলে মত্ততা আসিবে; এই ভয় সকলে করিতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ বলিতেছেন, “হোক একটু। আমার নাকি ভাব হয়, তাই ভয় হয়। ভাব হলে গলার ওইখানটা গিয়ে লাগে (Kathamrita)।”

    কীর্তন শুনিতে শুনিতে ঠাকুর ভাব সম্বরণ করিতে পারিলেন না; দাঁড়াইয়া পড়িলেন ও ভক্ত সঙ্গে নৃত্য করিতে লাগিলেন।

    ডাক্তার রাখাল সমস্ত দেখিলেন; তাঁহার ভাড়াটিয়া গাড়ি দাঁড়িয়া আছে। তিনি ও মাস্টার গাত্রোত্থান করিলেন, কলিকাতায় ফিরিয়া যাইবেন। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণকে উভয়ে প্রণাম করিলেন। শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) সস্নেহে মাস্টারের প্রতি—তুমি কি খেয়েছ?

  • Ramakrishna 567: “মায়ের ছেলের উপর টান, সতীর পতির উপর টান, বিষয়ীর বিষয়ের উপর টান”

    Ramakrishna 567: “মায়ের ছেলের উপর টান, সতীর পতির উপর টান, বিষয়ীর বিষয়ের উপর টান”

    ৫১ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে

    একাদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২রা সেপ্টেম্বর
    শ্রীযুক্ত ডাক্তার ভগবান রুদ্র ও ঠাকুর রামকৃষ্ণ

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) ডাক্তারের প্রতি— আবার এমনি অবস্থা, যদি কেউ বললে, ‘কমে গেছে’ তো অমনি অনেকটা কমে যায়। সেদিন ব্রাহ্মণী বললে, ‘আট-আনা কমে গেছে’ — অমনি নাচতে লাগলুম!

    ঠাকুর ডাক্তারের স্বভাব দেখিয়া সন্তুষ্ট হইয়াছেন। তিনি ডাক্তারকে বলিতেছেন, ‘তোমার স্বভাবটি বেশ। জ্ঞানের দুটি লক্ষণ—শান্ত ভাব, আর অভিমান থাকবে না।”

    মণি—এঁর (ডাক্তারের) স্ত্রী-বিয়োগ হয়েছে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (ডাক্তারের প্রতি)—আমি বলি, তিন টান হলে ভগবানকে পাওয়া যায়। মায়ের ছেলের উপর টান, সতীর পতির উপর টান, বিষয়ীর বিষয়ের উপর টান।

    “যা হোক, আমার বাবু এটা ভাল করো (Kathamrita)!”

    ডাক্তার এইবার অসুখের স্থানটি দেখিবেন। গোল বারান্দায় একখানি কেদারাতে ঠাকুর বসিলেন। ঠাকুর প্রথমে ডাক্তার সরকারের কথা বলিতেছেন, “শ্যালা, যেন গরুর জিব টিপলে!”

    ভগবান (Ramakrishna)—তিনি বোধ হয় ইচ্ছা করে ওরূপ করেন নাই।

    শ্রীরামকৃষ্ণ—না, তা নয় খুব ভাল করে দেখবে বলে টিপেছিল।

    দ্বাদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২০শে ও ২৪শে সেপ্টেম্বর

    অসুস্থ শ্রীরামকৃষ্ণ ও ডাক্তার রাখাল—ভক্তসঙ্গে নৃত্য

    শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে নিজের ঘরে বসিয়া আছেন। রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ১৮৮৫ খ্রীষ্টাব্দ; ৫ই আশ্বিন; শুক্লা একাদশী। নবগোপাল, হিন্দু স্কুলের শিক্ষক হরলাল, রাখাল, লাটু প্রভৃতি; কীর্তনীয়া গোস্বামী; অনেকেই উপস্থিত।

    বহুবাজারের রাখাল ডাক্তারকে সঙ্গে করিয়া মাস্টার আসিয়া উপস্থিত; ডাক্তারকে ঠাকুরের অসুখ দেখাইবেন।

    ডাক্তারটি ঠাকুরের গলায় কি অসুখ হইয়াছে দেখিতেছেন (Kathamrita)। তিনি দোহারা লোক; আঙুলগুলি মোটা মোটা।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) সহাস্যে, ডাক্তারের প্রতি—যারা এমন এমন করে (অর্থাৎ কুস্তি করে) তাদের মতো তোমার আঙুল। মহেন্দ্র সরকার দেখেছিল কিন্তু জিভ এমন জোরে চেপেছিল যে ভারী যন্ত্রণা হয়েছিল; যেমন গরুর জিভ চেপে ধরেছে।

    রাখাল ডাক্তার—আজ্ঞা, আমি দেখছি আপনার কিছু লাগবে না।

  • Ramakrishna 565: “আচ্ছা, এটা তোমার কি মনে হয়? টাকা ছুঁলে হাত এঁকে বেঁকে যায়, নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়!”

    Ramakrishna 565: “আচ্ছা, এটা তোমার কি মনে হয়? টাকা ছুঁলে হাত এঁকে বেঁকে যায়, নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়!”

    ৫১ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে

    একাদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২রা সেপ্টেম্বর

    শ্রীযুক্ত ডাক্তার ভগবান রুদ্র ও ঠাকুর রামকৃষ্ণ

    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) মধ্যাহ্নে সেবা করিয়া নিজের আসনে বসিয়া আছেন। ডাক্তার ভগবান রুদ্র ও মাস্টারের সহিত কথা কহিতেছেন। ঘরে লাটু প্রভৃতি ভক্তেরাও আছেন।

    আজ বুধবার, নন্দোৎসব, ১৮ই ভাদ্র; শ্রাবণ অষ্টমী-নবমী তিথি; ২রা সেপ্টেম্বর, ১৮৮৫ খ্রীষ্টাব্দ। ঠাকুরের অসুখের বিষয় সমস্ত ডাক্তার শুনিলেন। ঠাকুর মেঝেতে আসিয়া ডাক্তারের কাছে বসিয়াছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— দেখো গা, ঔষধ সহ্য হয় না! ধাত আলাদা।

    টাকা স্পর্শন, গিরোবান্ধা, সঞ্চয় — এ-সব ঠাকুরের অসম্ভব 

    “আচ্ছা, এটা তোমার কি মনে হয়? টাকা ছুঁলে হাত এঁকে বেঁকে যায়। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়! আর যদি আমি গিরো (গ্রন্থি) বাঁধি যতক্ষণ না গিরো খোলা হয়, ততক্ষণ নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে থাকবে!”

    এই বলিয়া একটি টাকা আনিতে বলিলেন (Kathamrita)। ডাক্তার দেখিয়া অবাক্‌ যে হাতের উপর টাকা দেওয়াতে হাত বাঁকিয়া গেল; আর নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গেল। টাকাটি স্থানান্তরিত করিবার পর, ক্রমে ক্রমে তিনবার দীর্ঘনিঃশ্বাস পড়িয়া, তবে হাত পুনর্বার শিথিল হইল।

    ডাক্তার মাস্টারকে বলিতেছেন, Action on the nerves (স্নায়ুর উপর ক্রিয়া)।

    পূর্বকথা — শম্ভু মল্লিকের বাগানে আফিম সঞ্চয় — জন্মভূমি কামারপুকুরে আম পাড়া — সঞ্চয় অসম্ভব

    ঠাকুর (Ramakrishna) আবার ডাক্তারকে বলিতেছেন, ‘আর একটি অবস্থা আছে। কিছু সঞ্চয় করবার জো নাই! শম্ভু মল্লিকের বাগানে একদিন গিছলাম। তখন বড় পেটের অসুখ। শম্ভু বললে — একটু একটু আফিম খেও তাহলে কম পড়বে। আমার কাপড়ের খোঁটে একটু আফিম বেঁধে দিলে। যখন ফিরে আসছি, ফটকের কাছে, কে জানে ঘুরতে লাগলাম—যেন পথ খুঁজে পাচ্ছি না। তারপর যখন আফিমটা খুলে ফেলে দিলে, তখন আবার সহজ অবস্থা হয়ে বাগানে ফিরে এলাম।

    “দেশেও আম পেড়ে নিয়ে আসছি — আর চলতে পারলাম না, দাঁড়িয়ে পড়লাম। তারপর সেগুলো একটা ডোবের মতন জায়গায় রাখতে হল — তবে আসতে পারলাম! আচ্ছা, ওটা কি?”

    ডাক্তার — ওর পেছনে আর একটা (শক্তি) আছে, মনের শক্তি।

    মণি—ইনি বলেন (Kathamrita), এটি ঈশ্বরের শক্তি (Godforce) আপনি বলছেন মনের শক্তি (Willforce)।

  • Ramakrishna 564: “তুমি ভক্তিনদীতে ডুবে যাবে কি করে? ডুবে গেলে, চিকের ভিতর যারা আছে তাদের কি হবে”

    Ramakrishna 564: “তুমি ভক্তিনদীতে ডুবে যাবে কি করে? ডুবে গেলে, চিকের ভিতর যারা আছে তাদের কি হবে”

    ৫১ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে

    দশম পরিচ্ছেদ

           ১৮৮৫, ১লা সেপ্টেম্বর

                                                            জন্মাষ্টমীদিবসে নরেন্দ্র, রাম, গিরিশ প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে

    গিরিশ ঘোষ—গুরুই ইষ্ট—দ্বিবিধ ভক্ত 

    পূর্বকথা—কেশব সেনকে উপদেশ ‘এগিয়ে পড়ো’ 

    “যত এগোবে, দেখবে, চন্দন কাঠের পরও আছে,—রূপার খনি,—সোনার খনি,—হীরে মাণিক! তাই এগিয়ে পড়।

    “আর ‘এগিয়ে পড়’ এ-কথাই বা বলি কেমন করে!—সংসারী লোকদের বেশি এগোতে গেলে সংসার-টংসার ফক্কা হয়ে যায়! কেশব সেন উপাসনা কচ্ছিল, — বলে, ‘হে ঈশ্বর, তোমার ভক্তিনদীতে (Ramakrishna) যেন ডুবে যাই।’ সব হয়ে গেলে আমি কেশবকে বললাম, ওগো, তুমি ভক্তিনদীতে ডুবে যাবে কি করে? ডুবে গেলে, চিকের ভিতর যারা আছে তাদের কি হবে। তবে এককর্ম করো — মাঝে মাঝে ডুব দিও, আর এক-একবার আড়ায় উঠো।” (সকলের হাস্য)

    বৈষ্ণবের ‘কলকলানি’—‘ধারণা করো’! সত্যকথা তপস্যা

    কাটোয়ার বৈষ্ণব তর্ক করিতেছিলেন। ঠাকুর তাঁহাকে বলিতেছেন (Kathamrita), “তুমি কলকলানি ছাড়। ঘি কাঁচা থাকলেই কলকল করে।

    “একবার তাঁর আনন্দ পেলে বিচারবুদ্ধি পালিয়ে যায়। মধুপানের আনন্দ পেলে আর ভনভনানি থাকে না।

    “বই পড়ে কতকগুলো কথা বলতে পারলে কি হবে? পণ্ডিতেরা কত শ্লোক বলে — ‘শীর্ণা গোকুলমণ্ডলী!’ — এই সব।

    “সিদ্ধি সিদ্ধি মুখে বললে কি হবে? কুলকুচো করলেও কিছু হবে না। পেটে ঢুকুতে হবে! তবে নেশা হবে। ঈশ্বরকে নির্জনে গোপনে ব্যাকুল হয়ে না ডাকলে, এ-সব কথা ধারণা হয় না।”

    ডাক্তার রাখাল ঠাকুরকে দেখিতে আসিয়াছেন। তিনি ব্যস্ত হইয়া বলিতেছেন — “এসো গো বসো।” বৈষ্ণবের সহিত কথা চলিতে লাগিল।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— মানুষ আর মানহুঁশ। যার চৈতন্য হয়েছে, সেই মানহুঁশ। চৈতন্য না হলে বৃথা মানুষ জন্ম!

    পূর্বকথা — কামারপুকুরে ধার্মিক সত্যবাদী দ্বারা সালিসী

    “আমাদের দেশে পেটমোটা গোঁফওয়ালা অনেক লোক আছে। তবু দশ ক্রোশ দূর থেকে ভাল লোককে পালকি করে আনে কেন — ধার্মিক সত্যবাদী দেখে। তারা বিবাদ মিটাবে। শুধু যারা পণ্ডিত, তাদের আনে না।

    ঠাকুর বালকের মতো ডাক্তারকে বলিতেছেন (Kathamrita)— “বাবু আমার এটা ভাল করে দাও।”

    ডাক্তার — আমি ভাল করব?

    শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্যে) — ডাক্তার নারায়ণ। আমি সব মানি।

    Reconciliation of Free Will and God’s Will — of Liberty and Necessity — ঈশ্বরই মাহুত নারায়ণ 

    “যদি বলো সব নারায়ণ, তবে চুপ করে থাকলেই হয়, তা আমি মাহুত নারায়ণও মানি।

    “শুদ্ধমন আর শুদ্ধ-আত্মা একই! শুদ্ধমনে যা উঠে, সে তাঁরই কথা। তিনিই ‘মাহুত নারায়ণ।’

    “তাঁর কথা শুনব না কেন? তিনিই কর্তা। ‘আমি’ যতক্ষণ রেখেছেন, তাঁর আদেশ শুনে কাজ করব।”

    ঠাকুরের গলার অসুখ এইবার ডাক্তার দেখিবেন। ঠাকুর বলিতেছেন — “মহেন্দ্র সরকার জিব টিপেছিল, যেমন গরুর জিবকে টিপে।”

    ঠাকুর আবার বালকের ন্যায় ডাক্তারের জামায় বারংবার হাত দিয়ে বলিতেছেন, “বাবু! বাবু! তুমি এইটে ভাল করে দাও!”

    Laryngoscope দেখিয়া ঠাকুর হাসিতে হাসিতে বলিতেছেন — “বুঝেছি, এতে ছায়া পড়বে।”

    নরেন্দ্র গান (Ramakrishna) গাইলেন। ঠাকুরের অসুখ বলিয়া বেশি গান হইল না।

  • Ramakrishna 563: “শোনো! শিষ্যের মাথাটা গুরুর জিনিস, আর গুরুর পা শিষ্যের জিনিস”

    Ramakrishna 563: “শোনো! শিষ্যের মাথাটা গুরুর জিনিস, আর গুরুর পা শিষ্যের জিনিস”

    ৫১ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে

     দশম পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ১লা সেপ্টেম্বর

                         জন্মাষ্টমীদিবসে নরেন্দ্র, রাম, গিরিশ প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে গিরিশ ঘোষ—গুরুই ইষ্ট—দ্বিবিধ ভক্ত 

    গিরিশ— হ্যাঁ গা, গুরু আর ইষ্ট; — গুরু-রূপটি বেশ লাগে — ভয় হয় না — কেন গা? ভাব দেখলে দশহাত তফাতে যাই। ভয় হয়।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—যিনি ইষ্ট, তিনিই গুরুরূপ হয়ে আসেন। শবসাধনের পর যখন ইষ্টদর্শন হয়, গুরুই এসে শিষ্যকে বলেন — এ (শিষ্য) ওই (তোর ইষ্ট)। এই কথা বলেই ইষ্টরূপেতে লীন হয়ে যান। শিষ্য আর গুরুকে দেখতে পায় না। যখন পূর্ণজ্ঞান হয়, তখন কে বা গুরু, কে বা শিষ্য। ‘সে বড় কঠিন ঠাঁই। গুরুশিষ্যে দেখা নাই।’

    একজন ভক্ত — গুরুর মাথা শিষ্যের পা।

    গিরিশ — (আনন্দে) হাঁ।

    নবগোপাল — শোনো মানে! শিষ্যের মাথাটা গুরুর জিনিস, আর গুরুর পা শিষ্যের জিনিস। শুনলে?

    গিরিশ — না, ও মানে নয়। বাপের ঘাড়ে ছেলে কি চড়ে না? তাই শিষ্যের পা।

    নবগোপাল — সে তেমনি কচি ছেলে থাকলে তো হয়।

    পূর্বকথা—শিখভক্ত—দুই থাক ভক্ত—বানরের ছা ও বিল্লির ছা

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— দুরকম ভক্ত আছে। একথাকের বিল্লির ছার স্বভাব। সব নির্ভর — মা যা করে। বিল্লির ছা কেবল মিউ মিউ করে। কোথায় যাবে, কি করবে — কিছুই জানে না। মা কখন হেঁশালে রাখছে — কখন বা বিছানার উপরে রাখছে। এরূপ ভক্ত ঈশ্বরকে আমমোক্তারি (বকলমা) দেয়। আমমোক্তারি দিয়ে নিশ্চিন্ত।

    “শিখরা বলেছিল (Kathamrita)— ঈশ্বর দয়ালু। আমি বললাম, তিনি আমাদের মা-বাপ, তিনি আবার দয়ালু কি? ছেলেদের জন্ম দিয়ে বাপ-মা লালন-পালন করবে না, তো কি বামুনপাড়ার লোকেরা এসে করবে? এ-ভক্তদের ঠিক বিশ্বাস—তিনি আপনার মা, আপনার বাপ।

    “আর-এক থাক ভক্ত আছে, তাদের বানরের ছার স্বভাব। বানরের ছা নিজে জো-সো করে মাকে আঁকড়ে ধরে। এদের একটু কর্তৃত্ব বোধ আছে। আমায় তীর্থ করতে হবে, জপতপ করতে হবে, ষোড়শোপচারে পূজা করতে হবে, তবে আমি ঈশ্বরকে ধরতে পারব,—এদের এই ভাব।

    “দুজনেই ভক্ত (ভক্তদের প্রতি)—যত এগোবে, ততই দেখবে তিনিই সব হয়েছেন (Kathamrita)— তিনিই সব করছেন। তিনিই গুরু, তিনিই ইষ্ট। তিনিই জ্ঞান, ভক্তি সব দিচ্ছেন।”

  • Saraswati Puja 2026: সরস্বতী পুজোর দিন হলুদ রঙের পোশাক কেন পরা হয়? কী এর মাহাত্ম্য?

    Saraswati Puja 2026: সরস্বতী পুজোর দিন হলুদ রঙের পোশাক কেন পরা হয়? কী এর মাহাত্ম্য?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ বসন্ত পঞ্চমী। আজ সরস্বতী পুজো। চারদিকে চলছে বাগদেবীর আরাধনা। সরস্বতী পুজোয় (Saraswati Puja 2026) হলুদ রঙের পোশাক পরার চল রয়েছে। এই দিন কিশোর ছেলেদের হলুদ পাঞ্জাবি ও কিশোরীদের হলুদ শাড়ি পরতে দেখা যায়। তবে ঠিক কোন কারণে হলুদ পরা হয়? সে কারণই আমরা জানব। মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে (Saraswati Puja) আরাধিত হন দেবী সরস্বতী। অনেকে মনে করেন, এই দিন থেকেই আগমন ঘটে বসন্ত ঋতুর। তাই একে বসন্ত পঞ্চমীও বলা হয়ে থাকে। সরস্বতী পুজোর সঙ্গে হলুদ রঙের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে বলেই জানাচ্ছেন শাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা।

    হলুদ রঙকে শুভ বলে মানা হয় (Saraswati Puja 2026)

    হলুদ রঙকে শুভ বলে মানা হয়। এতে দেবী সরস্বতী সন্তুষ্ট হন বলেই ভক্তদের বিশ্বাস। মনে করা হয় বসন্ত পঞ্চমী থেকেই শীত ঋতুর অবসান ও বসন্তের আগমন বার্তা ঘোষিত হয়। দেবীকে হলুদ ফুল অর্পণ করা হয়। সুখ ও সমৃদ্ধির জন্য সরস্বতীকে হলুদ রঙের ফুল নিবেদন করা ভালো বলে মনে করা হয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, হলুদ রঙ জীবনে আনে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি। ঠিক এই কারণেই মা সরস্বতীকে হলুদ রঙের ফুল নিবেদন করা হয়। অন্যদিকে এর বৈজ্ঞানিক কারণও রয়েছে। মনে করা হয়, হলুদ রঙ মানসিক চাপ দূর করে মনে গভীর শান্তি আনে। এর পাশাপাশি হলুদ রঙ আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও সাহায্য করে।

    হলুদ রঙে থাকে পজিটিভ এনার্জি

    সরস্বতী পুজোর সময়ে সর্ষে ফুলে (Saraswati Puja 2026) ছেয়ে যায় চারিদিকে। তাই কেউ কেউ বলেন, হলুদ ফুল দিয়ে ঘর সাজালে পজিটিভ এনার্জি থাকে। একইসঙ্গে হলুদ রঙকে সুখ, আশা, জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও রোদের প্রতীক বলে মানা হয়। বসন্ত ও বন্ধুত্বের রঙও হল হলুদ।

    বাস্তুশাস্ত্র মতেও হলুদ রঙের আলাদা মাহাত্ম্য রয়েছে

    বাস্তুশাস্ত্র মতেও হলুদ রঙের আলাদা মাহাত্ম্য রয়েছে। হলুদ রঙের অর্থ কোনও কিছুর নতুন সূচনা। হলুদ রঙ শুভ ও মঙ্গলদায়ক শক্তির দিকে আমাদের আকর্ষণ করে। হলুদ রঙ আশার রঙ হিসেবেও পরিচিত অনেকের কাছে। একে জীবনের এবং শুভবুদ্ধির রঙ বলে মানা হয়। বসন্তের শুরুতে এই রঙ মনে নতুন আশার সঞ্চার (Saraswati Puja 2026) ঘটায় আবার সুস্বাস্থ্যেরও প্রতীকও হলুদ রঙ।

  • Saraswati Puja 2026: কেন বসন্ত পঞ্চমীতে হয় সরস্বতী পুজো? বাগদেবীর পৌরাণিক গল্পগুলি জানুন

    Saraswati Puja 2026: কেন বসন্ত পঞ্চমীতে হয় সরস্বতী পুজো? বাগদেবীর পৌরাণিক গল্পগুলি জানুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘‘ওম জয় জয় দেবী চরাচর সারে, কুচযুগশোভিত মুক্তাহারে… ’’

    আজ বসন্ত পঞ্চমী। ধুমধাম করে ঘরে-ঘরে, স্কুল-কলেজে, পাড়ায়-পাড়ায় পালিত হচ্ছে সরস্বতী পুজো। সকাল থেকেই চলছে বাগদেবীর আরাধনা। পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার পালা। তবে, সরস্বতী পুজোর (Saraswati Puja 2026) গুরুত্ব বর্তমানে দেবী আরাধনার মধ্যেই আটকে নেই। পুজো পুজো ভাব প্রায় ১ মাস আগেই শুরু হয়ে যায়, বালক বা বালিকারা এইসময় মনে করে সরস্বতী পুজোর (Saraswati Puja) দিনই কুল খাওয়া শুরু করতে হয়। এর আগে কুল খেলে পরীক্ষার ফল খারাপ হতে পারে। যেমনটা আমরা সবাই ছেলেবেলায় বা মেয়েবেলায় ভাবতাম। বয়ঃসন্ধিকালে এই পুজোর দিন মনে প্রেমভাব জাগ্রত হয় না এমন কিশোর-কিশোরী খুঁজে পাওয়া যায় না। স্কুল কলেজে আলপনা, চিত্রপ্রদর্শনী, পুষ্পাঞ্জলি, পাত পেড়ে খিচুড়ি প্রসাদ গ্রহণে জমজমাট হয়ে ওঠে সরস্বতী পুজো।

    সরস্বতী পুজোর (Saraswati Puja) সঙ্গে সম্পর্কিত পৌরাণিক কাহিনীগুলি…

    গুপ্ত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত বা বিক্রমাদিত‍্যের “নবরত্ন” সভার কথা নিশ্চয় সবাই শুনেছি। এখানে অন‍্যতম শ্রেষ্ঠরত্ন ছিলেন মহাকবি কালিদাস। ঋক বৈদিক যুগ থেকেই সরস্বতী পুজোর (Saraswati Puja) প্রচলন শুরু হলেও, দেবী সরস্বতীর পৌরাণিক আখ্যান মূলত কালিদাসের সঙ্গেই সম্পর্কযুক্ত। কিন্তু কীভাবে? আসুন জেনে নিই।

    কালীদাস ও সরস্বতী

    প্রথম জীবনে খুবই বোকা ছিলেন কালিদাস। বিভিন্ন কাহিনী অনুযায়ী তিনি থাকতেন উজ্জ্বয়িনীতে শিপ্রা নদীর তীরে। কথিত আছে উজ্জ্বয়িনীর রাজকন্যার কাছে তর্কে পরাস্ত হয়ে তাঁকে জব্দ করতে চাইছিলেন পরাজিত পণ্ডিতদের দল। পণ্ডিতরা ভাবলেন রাজকন্যার সঙ্গে একজন বোকার বিয়ে যেভাবেই হোক দিতে হবে। এতেই জব্দ করা যাবে রাজকন্যাকে।

    পথে যেতে যেতে এক জায়গায় পণ্ডিতরা দেখলেন, একজন লোক একটি গাছের ডালের ডগায় বসে তার গোঁড়ার দিকটা কুড়ুল দিয়ে কাটছে। কিন্তু কাটার পর ডালটা যে তাকে নিয়েই মাটিতে পড়বে, সেটা বোঝার মতো জ্ঞান তার নেই। ইনিই কালিদাস। এরপর কোনওভাবে রাজকন্যার সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হল লোকটির। চরম প্রতিশোধ নিলেন পণ্ডিতরা। বিছানায় মশারির দরজা খুঁজে না পেয়ে কালিদাস ঝাঁপ দিলেন রাজকন্যার গায়েই। এবার রাজকন্যা বুঝে গেলেন, দেশের পণ্ডিতরা তাঁর সঙ্গে এক নির্ভেজাল বোকার বিয়ে দিয়েছে!

    কালিদাস স্ত্রীর কাছ থেকে বিদায় নিলেন। মনের জ্বালায় শুরু হল কালিদাসের অনিশ্চিত পথ চলা। চলতে চলতে একটি সরোবরের ধারে এসে বিশ্রাম। ঠিক করলেন, এখানকার জলে ডুবেই প্রাণ বিসর্জন দেবেন। কিন্তু তার আগেই অবাক হয়ে কালিদাস দেখলেন, সরোবরের ঘাটের পাথরের ওপর গর্ত। মেয়েরা জল নিতে এসে ওই পাথরের ওপরেই কলসি রাখে আর তাতেই ক্ষয়ে গেছে কঠিন পাথর। দেখে কালিদাস ভাবলেন, শক্ত পাথর যদি ক্ষয় হতে পারে, তবে তার বুদ্ধি হবে না কেন! ওখানেই শুরু হলো কালিদাসের সরস্বতী তপস্যা। তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে দেবী সরস্বতী (Saraswati Puja) কালিদাসকে দেখা দিয়ে শ্রেষ্ঠ কবি হবার বর দিলেন। বর পেয়েই সরস্বতীর (Saraswati Puja) বরপুত্র মুখে মুখেই রচনা করে ফেললেন সরস্বতী বন্দনা।

    বীরভূমের নানুরে “সরস্বতী তলা”

    অনেকেই বলেন, তাঁর সাধনস্থল বীরভূম জেলার নানুরের “সরস্বতী তলা।” কেউ বলেন, তাঁর সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলের ব‍র্ণনার সঙ্গে হুবহু মিলে যায় মেদিনীপুরের কাঁথি এলাকার সমুদ্র উপকূল। তাই তিনি মেদিনীপুরের কাঁথির লোক। আরেকটি মতবাদ প্রচলিত আছে, বীরভূম জেলার নানুরের কাছে বেলুটি গ্রামে মহাকবি কালিদাসের আবির্ভাব ও সরস্বতী সাধনায় সিদ্ধিলাভ ঘটে। এখানে আজও রয়েছে কালিদাসের স্মৃতিবিজড়িত “সরস্বতী তলা।”

    আরও পৌরাণিক কাহিনিি

    অপর একটি পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী, বসন্ত পঞ্চমীর দিনেই জ্ঞান ও বিদ্যার দেবী সরস্বতী আবির্ভূত হয়েছিলেন। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের স্রষ্টা ছিলেন ব্রহ্মা। যখন তিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছিলেন, তখনই তিনি অনুভব করেছিলেন কোনও কিছু অনুপস্থিত রয়েছে। ধরাধামে শব্দ সঞ্চারের জন্য তিনি তাঁর কমণ্ডলু থেকে পৃথিবীতে জল ছিটিয়ে দেন। আর ঠিক সেই সময়তেই পৃথিবী কাঁপিয়ে আবির্ভূতা হয়েছিলেন দেবী সরস্বতী (Saraswati Puja 2026)। দেবীর হাতে ছিল বীণা, জপমালা ও বই। তখনই দেবীর জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় সারাবিশ্ব জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়। তাই বসন্ত পঞ্চমীর দিন সরস্বতীর বিশেষ পুজো করা হয়। বসন্ত পঞ্চমী জীবনের নতুন শুরুর প্রতীক বলে মনে করা হয়। বসন্ত ঋতুতে ফসল পাকতে শুরু করে। হালকা শীতের মনোরম আবহাওয়ায় প্রকৃতি রঙে ভরে ওঠে, চারিদিক রঙিন ফুলে ঢেকে যায়। গাছে গাছে নতুন পাতা, রঙিন ফুল ও ফল ধারণ করে। এই দিনটিকে নতুন জিনিস শুরু করার জন্য শুভ বলে মনে করা হয়।

  • Ramakrishna 562: “ভগবন্‌, আশ্চর্য হচ্ছি যে, পূর্ণব্রহ্ম ভগবানের সেবা করছি! এমন কি তপস্যা করিছি যে এই সেবার অধিকারী হয়েছি!”

    Ramakrishna 562: “ভগবন্‌, আশ্চর্য হচ্ছি যে, পূর্ণব্রহ্ম ভগবানের সেবা করছি! এমন কি তপস্যা করিছি যে এই সেবার অধিকারী হয়েছি!”

    ৫১ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে

    দশম পরিচ্ছেদ

       ১৮৮৫, ১লা সেপ্টেম্বর

                                                                   জন্মাষ্টমীদিবসে নরেন্দ্র, রাম, গিরিশ প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— আমার লাগবে!

    গিরিশ-ভাল হয়ে যা! (ফুঁ)। ভাল যদি না হয়ে থাকে তো—যদি আমার ও-পায়ে কিছু ভক্তি থাকে, তবে অবশ্য ভাল হবে! বল, ভাল হয়ে গেছে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (বিরক্ত হইয়া)—যা বাপু, আমি ও-সব বলতে পারি না। রোগ ভাল হবার কথা মাকে বলতে পারি না। আচ্ছা ঈশ্বরের ইচ্ছায় হবে।

    গিরিশ—আমায় ভুলোনো! তোমার ইচ্ছায়!

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—ছি, ও-কথা বলতে নাই। ভক্তবৎ ন চ কৃষ্ণবৎ। তুমি যা ভাবো, তুমি ভাবতে পারো। আপনার গুরু তো ভগবান—তাবলে ও-সব কথা বলায় অপরাধ হয়—ও-কথা বলতে (Kathamrita) নাই।

    গিরিশ—বল, ভাল হয়ে যাবে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ—আচ্ছা, যা হয়েছে তা যাবে।

    গিরিশ নিজের ভাবে মাঝে মাঝে ঠাকুরকে সম্বোধন করিয়া বলিতেছেন,

    “হ্যাঁগা, এবার রূপ নিয়ে আস নাই কেন গা?”

    কিয়ৎক্ষণ পরে আবার বলিতেছেন, ‘এবার বুঝি বাঙ্গালা উদ্ধার!’

    কোন কোন ভক্ত ভাবিতেছেন, বাঙ্গালা উদ্ধার, সমস্ত জগৎ উদ্ধার!

    গিরিশ আবার বলিতেছেন, “ইনি এখানে রয়েছেন কেন, কেউ বুঝেছো? জীবের দুঃখে কাতর হয়ে সেছেন; তাঁদের উদ্ধার করবার জন্যে!”

    গাড়োয়ান ডাকিতেছিল। গিরিশ গাত্রোত্থান করিয়া তাহার কাছে যাইতেছেন। শ্রীরামকৃষ্ণ মাস্টারকে বলিতেছেন, “দেখো, কোথায় যায়—মারবে না তো।” মাস্টারও সঙ্গে সঙ্গে গমন করিলেন।

    গিরিশ আবার ফিরিয়াছেন ও ঠাকুরকে স্তব করিতেছেন “ভগবন্‌, পবিত্রতা আমায় দাও। যাতে কখনও একটুও পাপ-চিন্তা না হয়।”

    শ্রীরামকৃষ্ণ তুমি পবিত্র তো আছ।—তোমার যে বিশ্বাস-ভক্তি! তুমি তো আনন্দে আছ।

    গিরিশ—আজ্ঞা, না। মন খারাপ—অশান্তি—তাই খুব মদ খেলুম।

    কিয়ৎক্ষণ পরে গিরিশ আবার বলিতেছেন (Kathamrita), “ভগবন্‌, আশ্চর্য হচ্ছি যে, পূর্ণব্রহ্ম ভগবানের সেবা করছি! এমন কি তপস্যা করিছি যে এই সেবার অধিকারী হয়েছি!”

    ঠাকুর মধ্যাহ্নের সেবা করিলেন। অসুখ হওয়াতে অতি সামান্য একটু আহার করিলেন।

    ঠাকুরের সর্বদাই ভাবাবস্থা — জোর করিয়া শরীরের দিকে মন আনিতেছেন। কিন্তু শরীর রক্ষা করিতে বালকের ন্যায় অক্ষম। বালকের ন্যায় ভক্তদের বলিতেছেন, “এখন একটু খেলুম — একটু শোব! তোমরা একটু বাহিরে গিয়ে বসো।”

    ঠাকুর (Ramakrishna) একটু বিশ্রাম করিয়াছেন। ভক্তেরা আবার ঘরে বসিয়াছেন।

  • Saraswati Puja 2026: শুক্রবার সরস্বতী পুজো, দেখে নিন পঞ্চমী তিথি এবং অঞ্জলির সময়সূচি

    Saraswati Puja 2026: শুক্রবার সরস্বতী পুজো, দেখে নিন পঞ্চমী তিথি এবং অঞ্জলির সময়সূচি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিদ্যা, জ্ঞান এবং সঙ্গীতের দেবী হিসেবে আরাধিত হন মা সরস্বতী (Saraswati Puja 2026)। দেবী শ্বেতপদ্মে অধিষ্ঠান করেন, তাঁর এক হাতে থাকে পুস্তক, অন্য হাতে দেখা যায় বীণা। হাতে বীণা থাকার কারণে দেবী সরস্বতীকে বীণাপাণিও বলা হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, দেবী সরস্বতী হলেন বৈদিক দেবী। বৈদিক যুগে অবশ্য চারহাতের দেবীর উল্লেখ পাওয়া যায়। সেই চার হাতে পুস্তক, জপমালা, জলের পাত্র এবং বীণা ধারণ করে থাকে দেবী। শাস্ত্র বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুস্তক হল বিদ্যা, জপমালা হল জ্ঞান, জলের পাত্র হল সৃষ্টি এবং বীণা হল সঙ্গীতের প্রতীক। এক কথায় বলতে গেলে, দেবী সরস্বতীকে অপার্থিব সম্পদের দেবী মানা হয়। বসন্ত পঞ্চমীর পবিত্র তিথিতে অভ্র, আবির, আমের মুকুল, যবের শীষ এবং দোয়াত-কলম সহযোগে দেবী সরস্বতীর পুজো করা হয়।

    কবে সরস্বতী পুজো (Saraswati Puja 2026)?

    মাঘ মাসের শুক্ল পঞ্চমী তিথিতে হয় দেবী সরস্বতীর (Saraswati Puja 2026) আরাধনায় মেতে ওঠেন সকলে। ঠিক এই কারণেই সরস্বতী পুজোর পাশাপাশি এই দিনটি বসন্ত পঞ্চমী হিসেবেও পালিত হয় দেশজুড়ে। শুধু বাংলাই নয়, ওড়িশা, উত্তর ভারত, নেপাল, ভুটানেও এই পুজো ধুমধাম করে পালিত হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, এই দিনেই আবির্ভূতা হয়েছিলেন জ্ঞান, বিদ্যা ও শিল্পকলার দেবী সরস্বতী।

    উদয় তিথি অনুযায়ী, চলতি বছর সরস্বতী পুজো পড়েছে ২৩ জানুয়ারি। অর্থাৎ আগামিকাল, শুক্রবার সরস্বতী পুজো। আর মাত্র কিছু ঘণ্টার অপেক্ষা। বাংলা তারিখ অনুযায়ী দিনটি ৯ মাঘ। দেখে নিন পঞ্জিকা অনুসারে কখন পড়েছে বসন্ত পঞ্চমী তিথি।

    বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসারে–

    পঞ্চমী তিথি আরম্ভ–

    ইংরেজি– ২২ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার।
    বাংলা– ৮ মাঘ, বৃহস্পতিবার।
    সময়– রাত ২টো ৩০ মিনিট।

    পঞ্চমী তিথি শেষ–

    ইংরেজি– ২৩ জানুয়ারি, শুক্রবার।
    বাংলা– ৯ মাঘ, শুক্রবার।
    সময়– রাত ১টা ৪৭ মিনিট।

    গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা মতে –

    পঞ্চমী তিথি আরম্ভ–

    ইংরেজি– ২২ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার।
    বাংলা– ৮ মাঘ, বৃহস্পতিবার।
    সময়– রাত ১টা ৩৭ মিনিট ৪০ সেকেন্ড।

    পঞ্চমী তিথি শেষ–

    ইংরেজি– ২৩ জানুয়ারি, শুক্রবার ।
    বাংলা– ৯ মাঘ, শুক্রবার।
    সময়– রাত ১২টা ২৭ মিনিট ২৮ সেকেন্ড।

    পুজোয় কী কী লাগে?

    ভোরে স্নান সেরে উপোস করে বাগদেবীর অঞ্জলি দেওয়াই হল রীতি। এই পুজোয় সাধারণত তিনবার পুষ্পাঞ্জলি দেওয়া হয়। বিদ্যা, বুদ্ধি এবং জ্ঞানের আশীর্বাদ চান পড়ুয়ারা। সরস্বতী পুজোয় খুব বেশি জাঁকজমক না থাকলেও কিছু কিছু জিনিস দরকার হয়। যেমন- বই, খাতা, দোয়াত, কলম, আমের মুকুল, গাঁদা ফুল অথবা পলাশ ফুল, আবির এবং বাদ্যযন্ত্র। বাসন্তী রঙের ফুলই এই পুজোর বিশেষ আকর্ষণ।

    সরস্বতীর পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্র

    ওম জয় জয় দেবী চরাচর সারে, কুচযুগশোভিত মুক্তাহারে।
    বীণা-পুস্তক রঞ্জিত হস্তে, ভগবতী ভারতী দেবী নমোস্তুতে।।
    নমঃ ভদ্রকাল্যৈ নমো নিত্যং সরস্বত্যৈ নমো নমঃ।
    বেদ-বেদাঙ্গ-বেদান্ত-বিদ্যা-স্থানেভ্য এব চ।।
    এস স-চন্দন পুষ্পবিল্ব পত্রাঞ্জলি সরস্বতৈ নমঃ।।

    বসন্ত পঞ্চমীর মাহাত্ম্য

    মা সরস্বতীর (Saraswati Puja) পাশাপাশি গণেশ, লক্ষ্মী, নবগ্রহ, বই, খাতা, পেন এবং বাদ্যযন্ত্রের পুজোও করা হয় এই বিশেষ দিনে। অনেক বাড়িতেই শিশুদের প্রথম হাতেখড়ির অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয় এই দিন। তাদের আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রথম বিদ্যাচর্চা শুরু হয় এই দিন থেকেই। মনে করা হয় বসন্ত পঞ্চমী থেকেই শীত ঋতুর অবসান ও বসন্তের আগমন বার্তা ঘোষিত হয়। দেবীকে হলুদ ফুল অর্পণ করা হয়। সুখ ও সমৃদ্ধির জন্য মা সরস্বতীকে হলুদ রঙের ফুল নিবেদন করা ভালো বলে মনে করা হয়। এছাড়া বসন্তের আগমনের বার্তা বয়ে আনে হলুদ রং। দেবীভাগবত পুরাণ থেকে জানা যায়, পরম কুস্মন্দের প্ৰথম অংশে দেবী সরস্বতীর জন্ম। বিষ্ণুর জিহ্বাগ্র থেকে তাঁর উৎপত্তি । সরস্বতী বাক, বুদ্ধি, বিদ্যা ও জ্ঞানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী।

  • Ramakrishna 561: “বাগানে আম খেতে এসেছ, কত হাজার ডাল, কত লক্ষ পাতা, এ-সব খপরে কাজ কি? জন্ম-জন্মান্তরের খপর!”

    Ramakrishna 561: “বাগানে আম খেতে এসেছ, কত হাজার ডাল, কত লক্ষ পাতা, এ-সব খপরে কাজ কি? জন্ম-জন্মান্তরের খপর!”

    ৫১ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে

    দশম পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ১লা সেপ্টেম্বর

    জন্মাষ্টমীদিবসে নরেন্দ্র, রাম, গিরিশ প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে

    বলরাম—তিনি বলেছেন যে, নরেন্দ্রের যেমন বুকে পা দিলে (ভাবাবেশ) হয়েছিলো, কই আমার তো তা হয় নাই।

    শ্রীরামকৃষ্ণ—কি জানো, কামিনী-কাঞ্চনে মন থাকলে ছড়ান মন কুড়ান দায়। ওর সালিসী করতে হয়, বলছে (Kathamrita)। আবার বাড়ির ছেলেদের বিষয় ভাবতে হয়। নরেন্দ্রাদির মন তো ছড়ানো নয়—ওদের ভিতে এখনো কামিনী-কাঞ্চন ঢোকে নাই।

    “কিন্তু (শ্যামাপদ) খুব লোক!”

    কাটোয়ার বৈষ্ণব ঠাকুরকে প্রশ্ন করিতেছেন। বৈষ্ণবটি একটু ট্যারা।

    জন্মান্তরের খপর—ভক্তিলাভের জন্যই মানুষজন্ম

    বৈষ্ণব—মশায়, আবার জন্ম কি হয়?

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— গীতায় আছে, মৃত্যুসময় যে যা চিন্তা করে দেহত্যাগ করবে তার সেই ভাব লয়ে জন্মগ্রহণ করতে হয়। হরিণকে চিন্তা করে ভরত রাজার হরিণ-জন্ম হয়েছিল।

    বৈষ্ণব—এটি যে হয়, কেউ চোখে দেখে বলে তো বিশ্বাস হয়।

    শ্রীরামকৃষ্ণ—তা জানি না বাপু। আমি নিজের ব্যামো সারাতে পারছি না—আবার মলে কি হয়!

    “তুমি যা বলছো এ-সব হীনবুদ্ধির কথা। ঈশ্বরে কিসে ভক্তি হয়, এই চেষ্টা করো। ভক্তিলাভের জন্যই মানুষ হয়ে জন্মেছ। বাগানে আম খেতে এসেছ, কত হাজার ডাল, কত লক্ষ পাতা, এ-সব খপরে কাজ কি? জন্ম-জন্মান্তরের খপর!”

    গিরিশ ঘোষ ও অবতারবাদ! কে পবিত্র? যার বিশ্বাস-ভক্তি 

    শ্রীযুক্ত গিরিশ ঘোষ দুই-একটি বন্ধু সঙ্গে গাড়ি করিয়া আসিয়া উপস্থিত। কিছু পান করিয়াছেন। কাঁদিতে কাঁদিতে আসিতেছেন ও ঠাকুরের চরণে মাথা দিয়া কাঁদিতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ সস্নেহে তাঁহার গা চাপড়াইতে লাগিলেন। একজন ভক্তকে ডাকিয়া বলিতেছেন — “ওরে একে তামাক খাওয়া।”

    গিরিশ মাথা তুলিয়া হাতজোড় করিয়া বলিতেছেন (Kathamrita), তুমিই পূর্ণব্রহ্ম। তা যদি না হয়, সবই মিথ্যা!

    “বড় খেদ রইল, তোমার সেবা করতে পেলুম না! (এই কথাগুলি এরূপ স্বরে বলিতেছেন যে, দু-একটি ভক্ত কাঁদিতেছেন!)

    “দাও বর ভগবন্‌, এক বৎসর তোমার সেবা করব? মুক্তি ছড়াছড়ি, প্রস্রাব করে দি। বল, তোমার সেবা এক বৎসর করব?”

    শ্রীরামকৃষ্ণ—এখানকার লোক ভাল নয়—কেউ কিছু বলবে।

    গিরিশ—তা হবে না, বলো —

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— আচ্ছা, তোমার বাড়িতে যখন যাব —

    গিরিশ—না, তা নয়। এইখানে করব।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (জিদ দেখিয়া)—আচ্ছা, সে ঈশ্বরের ইচ্ছা।

    ঠাকুরের গলায় অসুখ। গিরিশ আবার কথা কহিতেছেন, “বল, আরাম হয়ে যাক!—আচ্ছা, আমি ঝাড়িয়ে দেব। কালী! কালী!”

LinkedIn
Share