Category: পরম্পরা

Get updated History and Heritage and Culture and Religion related news from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • August Kranti Day: তমলুকে গড়ে ওঠে পরাধীন ভারতের স্বাধীন সরকার, ফিরে দেখা অগাস্ট ক্রান্তি দিবস

    August Kranti Day: তমলুকে গড়ে ওঠে পরাধীন ভারতের স্বাধীন সরকার, ফিরে দেখা অগাস্ট ক্রান্তি দিবস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাল ১৯৪২। তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে (Second World War) চলছে। হিটলারের জার্মানি এবং তার সহযোগী দেশগুলি যুদ্ধজয়ের বিচারে সাফল্যের শীর্ষে। সবে সোভিয়েতের উপর হামলা করেছে অক্ষসেনা। টালমাটাল হচ্ছে ব্রিটিশরা। ঠিক সেই সময়েই ভারতেও তুঙ্গে উঠল ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের ঢেউ (Indian National Movement)। অগাস্ট ক্রান্তি দিবস (August Kranti Day), যা কুইট ইন্ডিয়া মুভমেন্ট (Quit India Movement) দিবস নামে পরিচিত, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক পর্ব। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার দাবি জানিয়ে ১৯৪২ সালের ৮ অগাস্ট মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে এই আন্দোলন শুরু হয়। এখনও প্রতিবছর পালিত হয় ভারত ছাড়ো আন্দোলন দিবস। স্মরণ করা হয় ওই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অসংখ্য নাম জানা-না জানা মানুষদের। শ্রদ্ধা জানানো হয় তাঁদের ত্যাগের প্রতিও। এই বছর, কুইট ইন্ডিয়া মুভমেন্টের ৮২তম বার্ষিকী উদযাপন করছে দেশ।

    ভারত ছাড়ো আন্দোলনের পটভূমি

    ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায়, ১৯৪২ সালের মার্চ মাসে ক্রিপস মিশনের ব্যর্থতার পর ব্রিটিশ শাসনের প্রতি ভারতীয়দের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ থেকে কুইট ইন্ডিয়া মুভমেন্টের (Quit India Movement) উৎপত্তি হয়। ১৯৪২ সালের ৮ অগাস্ট, তৎকলীন বোম্বেতে (অধূনা মুম্বই) অনুষ্ঠিত অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির অধিবেশনে কুইট ইন্ডিয়া প্রস্তাব গৃহীত হয়। ব্রিটিশদের ভারত ছেড়ে চলে যাওয়ার ডাক দেন মহাত্মা গান্ধী (Mahatma Gandhi)। মহাত্মা গান্ধীর “করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে” স্লোগানকে সম্বল করেই শুরু হয়েছিল ভারতজোড়া এই অহিংস আন্দোলন। 

    আন্দোলনের বিস্তার

    ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য নির্বিশেষে এই আন্দোলনে (August Kranti Day) যোগ দিয়েছিলেন প্রায় সকলে। আইন অমান্য, মিছিল, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ-ধর্মঘট সম্বল করেই দেশের নানা প্রান্তে ঢল নেমেছিল স্বাধীনতাকামী ভারতবাসীর। নেতারা গ্রেফতার হলেও স্বাধীনতাকামী যে কোনও ভারতীয় এই আন্দোলনে নামবেন এবং নেত্বত্ব দেবেন এমন সিদ্ধান্তই পাশ হয়েছিল কংগ্রেসের বোম্বে অধিবেশনে। ৯ অগাস্টই গ্রেফতার হয়ে যান কংগ্রেসের প্রথম সারির সকল নেতা। মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু, আবুল কালাম আজাদ-সহ প্রায় সকলেই গ্রেফতার হয়ে যান। তারপরেও চলেছে আন্দোলন। তার কদিনের মধ্যেই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এই আন্দোলন। অধিকাংশ এলাকাতেই সেই অর্থে স্থানীয় নেতৃত্ব বা কোনওরকম নেতৃত্ব ছাড়াই আন্দোলন গড়ে ওঠে। 

    পরাধীন ভারতে স্বাধীন সরকার

    ভারত ছাড়ো আন্দোলনের (Quit India Movement) আঁচ দাবানলের মত ছড়িয়ে পড়ে। এই আন্দোলনের পটভূমিতেই পরাধীন ভারতে প্রথম গড়ে উঠেছিল সাধারণ মানুষের স্বাধীন সরকার। বাংলার তমলুকেই প্রথম গড়ে ওঠে স্বাধীন সরকার। ১৯৪২ সালের ভারত ছাড়ো আন্দোলন বা অগাস্ট আন্দোলনের মাধ্যমে ভারতবর্ষের নানা জায়গায় মহাভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র স্বাধীন সরকার গঠিত হয়। ভারতবর্ষের বেশ কিছু জায়গায় স্বাধীন জাতীয় সরকার গঠিত হয়। মহারাষ্ট্রের সাতারা, উত্তরপ্রদেশের বলিয়া ও বাংলার বুকে তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার তমলুক মহকুমায় গঠিত হয় তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার। 

    কঠোর দমন নীতি

    প্রথম থেকেই এই আন্দোলন (August Kranti Day) দমাতে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করেছিল ব্রিটিশরা (British Rule in India)। শুরু হয়েছিল ‘অপারেশন জিরো আওয়ার’। শীর্ষ নেতারা গ্রেফতার হয়েছিলেন। মৃত্যু হয়েছিল, জেলে গিয়েছিলেন বহু সাধারণ মানুষও। এই আন্দোলনে যোগ দিয়ে শহিদ হয়েছিলেন বাংলার নারী-পুরুষও। আন্দোলন চলাকালীন তমলুকে একটি মিছিলে নেতৃত্ব দেওয়ার সময় পুলিশের গুলিতে মারা গিয়েছিলেন বিপ্লবী মাতঙ্গিনী হাজরা। প্রবল অত্যাচারের কারণেই হয়ত ১৯৪৪ সালে সেই অর্থে গতি হারায় এই আন্দোলন। কিন্তু ততদিনে স্বাধীনতা আন্দোলন তার সর্বোচ্চ গতি পেয়ে গিয়েছে।

    আরও পড়ুন: ছোট বালুকণার মধ্যেও অসীমের স্পর্শ পেতেন, প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা কবিগুরুকে

    আন্তর্জাতিক স্তরে প্রভাব

    আন্তর্জাতিক স্তরে, কুইট ইন্ডিয়া মুভমেন্ট ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের (August Kranti Day) প্রতি বিশ্বব্যাপী মনোযোগ আকর্ষণ করেছিল এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়িয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে ব্রিটিশ রাজের শেষ কটা বছরে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করে দিয়েছিল ভারত ছাড়ো আন্দোলন। ব্রিটিশদের হাত থেকে যে মুক্তি মেলা সম্ভব, সেই বিশ্বাস এবং তার জন্য লড়াই করার জেদ আপামর ভারতবাসীর মনে গেঁথে দেওয়ার জন্য ভারত ছাড়ো আন্দোলনের গুরুত্ব রয়েছে। এর কয়েক বছর পরেই ১৯৪৭ সালে দীর্ঘদিনের কাঙ্খিত স্বাধীনতা পায় ভারত। তবে সইতে হয় দেশভাগের যন্ত্রণা। যা আজও ভারতীয়দের মনে এক গভীর ক্ষত। অখণ্ড ভারতের স্বপ্ন এখনও দেখে আসমুদ্র হিমাচল।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Nag Panchami 2024: আজ দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে নাগ পঞ্চমী, জানুন পৌরাণিক কাহিনী

    Nag Panchami 2024: আজ দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে নাগ পঞ্চমী, জানুন পৌরাণিক কাহিনী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে পালিত হয় নাগ পঞ্চমী। এ বছর আজ, ৯ অগাস্ট শুক্রবার দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে নাগ পঞ্চমী (Nag Panchami 2024)। সনাতন ধর্মে, নাগ দেবতাকে ভগবান ভোলানাথের অত্যন্ত প্রিয় বলে মনে করা হয়। এই বিশেষ দিনে তাই নাগ দেবতার পুজো করা হয়। ভক্তদের বিশ্বাস রয়েছে যে নাগ পঞ্চমীতে নাগ দেবতার পুজো করলে ভগবান শিব অত্যন্ত প্রসন্ন হন এবং ব্যক্তি জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি লাভ করেন।

    তিথি ও পুজোর সময় (Nag Panchami 2024)

    ৯ অগাস্ট সকালেই শুরু হয়ে গিয়েছে তিথি। পঞ্জিকা অনুসারে, পুজোর শুভ সময় সকাল ৫টা ৪৭ মিনিট থেকে ০৮টা ২৭ মিনিট পর্যন্ত রয়েছে। দুপুরে পুজোর শুভ সময় হবে দুপুর ১২টা ১৩ মিনিট থেকে ১টা পর্যন্ত। সন্ধ্যা বেলায় পুজোর সময় ০৬টা ৩৩ মিনিট থেকে রাত ০৮টা ২০ মিনিট পর্যন্ত।

    নাগ পঞ্চমীর (Nag Panchami 2024) পৌরাণিক আখ্যান

    হিন্দু ধর্মের অন্যতম জনপ্রিয় উৎসব হল নাগ পঞ্চমী। প্রসঙ্গত শুধুমাত্র ভারতেই নয়, পার্শ্ববর্তী নেপালেও পালন হয় এই উৎসব। নাগপঞ্চমী ঘিরে রয়েছে বেশ কিছু পৌরাণিক কাহিনীও। হিন্দু পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, শ্রীকৃষ্ণ একবার যমুনা নদীর ধারে খেলছিলেন। এমন সময়ে শ্রীকৃষ্ণ নদীতে পড়ে যান এবং কলিঙ্গ নামের একটি সাপ তাঁকে জাপটে ধরে। নিজেকে বাঁচানোর জন্য কঠিন লড়াই শুরু করেন ভগবান। কলিঙ্গ সাপ বুঝে যায় যে শ্রীকৃষ্ণ কোনও সাধারন শিশু নয়। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মারে কলিঙ্গ সাপের তখন বেসামাল অবস্থা। কলিঙ্গ সাপ এরপর শ্রীকৃষ্ণকে অনুরোধ করেন, তাঁকে হত্যা না করার জন্য। শ্রীকৃষ্ণ আশ্বাস দেন এবং কলিঙ্গ সাপকে ছেড়ে দেন। এর পাশাপাশি ওই সাপকে তিনি বলেও দেন যে সাধারণ মানুষের কোনও রকম ক্ষতি না করার জন্য। সাধারণভাবে নাগ পঞ্চমী শ্রীকৃষ্ণের বিজয়কেই চিহ্নিত করতে উদযাপিত হয়, বলে বিশ্বাস করেন অনেক ভক্ত।

    বৃষ্টি ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করা হয় নাগদেবতার কাছে

    হিন্দু ধর্মে এই দিন গোবর দিয়ে সাপের প্রতিকৃতি বানানোর প্রথা দেখা যায়। নাগ পঞ্চমীর দিন বাড়ির মূল প্রবেশদ্বারে গোবর দিয়ে সাপের প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়। সনাতন ধর্মে, নাগ দেবতাকে জল এবং খাদ্যের দেবতা হিসাবে বিবেচনা করা হয়। গোবর দিয়ে তৈরি সাপ রূপী নাগ দেবতার পুজো করা হয় এবং বৃষ্টি ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করা হয় তাঁর কাছে।

    শিব ও পার্বতীকেও এইদিন পুজো করা হয়

    নাগ দেবতা (Nag Panchami 2024) শিবের (Lord Shiva) গলায় অবস্থান করেন। নাগ পঞ্চমীর এই বিশেষ দিনে শিব ও পার্বতীকেও পুজো করা হয় বেশ কিছু জায়গায়। ভক্তদের বিশ্বাস, এর ফলে পরিবারে সুখের আগমন ঘটে। এর সঙ্গে ইতিবাচক শক্তিও সঞ্চারিত হয় মনে। এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে গোবর দিয়ে তৈরি সাপের প্রতিকৃতি ঘরে মঙ্গল বয়ে আনে। এটি তৈরি করলে ঘরে কখনও সাপের ভয় থাকে না।

    নাগ দেবতাকে সম্পদ ও শস্যের দেবতাও মনে করা হয়

    নাগ দেবতাকে সম্পদ ও শস্যের দেবতাও মনে করা হয়। বাড়ির প্রধান প্রবেশদ্বারে একটি নাগদেবতার প্রতিকৃতি তৈরি করলে গৃহে সমৃদ্ধি আসে বলে বিশ্বাস করা হয়। শুধু তাই নয়, এমনটা বিশ্বাস করা হয় যে মূল দরজায় সাপের প্রতিকৃতি তৈরি করলে ঘরে প্রবেশকারী সমস্ত মানুষের উপর নাগ দেবতার আশীর্বাদ থাকে। এছাড়া মূল ফটকে সাপের প্রতিকৃতি তৈরি করলে ভগবান শিবেরও (Lord Shiva) আশীর্বাদ মেলে বলে ভক্তদের বিশ্বাস।

    পশ্চিমবঙ্গ বাদে অন্যত্রও হয় নাগ পঞ্চমী উৎসব

    শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ নয়, মহারাষ্ট্র কেরল সর্বত্র এই উৎসব দেখা যায়। মহারাষ্ট্রে এই দিন থালায় করে সাপ নিয়ে গৃহস্থের দরজায় দরজায় যাওয়ার রীতি রয়েছে। অন্যদিকে, কেরলেও একইভাবে সাপের মূর্তি পুজো করার রীতি দেখা যায়। অনেক জায়গাতে ভারতবর্ষে কাদা ও বালির তৈরি সাপের মূর্তিও পুজো করা হয়। নাগ দেবতাকে দুধ, ধান, দুর্বা অর্পণ করা হয়। হিন্দুদের বিশ্বাস রয়েছে, দেবাদিদেব মহাদেবের গলায় জড়িয়ে থাকে নাগ দেবতা, তাই সেই নাগ দেবতাকে খুশি করলে সুফল পাওয়া যায়।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Ramakrishna 98: “তাঁর কাছে জোর কর, তিনি তো পর নন, তিনি আপনার লোক”

    Ramakrishna 98: “তাঁর কাছে জোর কর, তিনি তো পর নন, তিনি আপনার লোক”

    সিঁথি ব্রাহ্মসমাজ-দর্শন ও শ্রীযুক্ত শিবনাথ প্রভৃতি ব্রাহ্মভক্তদিগের সহিত কথোপকথন ও আনন্দ

    তৃতীয় পরিচ্ছেদ

    ক্লৈব্যং মাস্ম গমঃ পার্থ নৈতিৎ ত্বয্যুপপদ্যতে

      ক্ষুদ্রং হৃদয়দৌর্বল্যং ত্যক্তোত্তিষ্ঠ পরন্তপ।।

    গীতা—২/৩/

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—ভক্তির তমঃ যার হয়, তার বিশ্বাস জ্বলন্ত। ঈশ্বরের কাছে সে রূপ ভক্ত জোর করে। যেন ডাকাতি করে ধন কেড়ে লওয়া। মারো কাটো বাঁধো! এইরূপ ডাকাত-পড়া ভাব।

    ঠাকুর ঊর্ধব দৃষ্টি, তাঁহার প্রেমরসাভিসিক্ত কণ্ঠে গাহিতেছেনঃ (Kathamrita)

    গয়া গঙ্গা প্রভাসাদি কাশী কাঞ্চী কেবা চায়।

    কালী কালী কালী বলে আমার অজপা যদি ফুরায়।।

    ত্রিসন্ধ্যা যে বলে কালী, পূজা সন্ধ্যা সে কি চায়।

    সন্ধ্যা তার সন্ধানে ফেরে, কভু সন্ধি নাহি পায়।।

    দয়া ব্রত দান আদি, আর কিছু না মনে লয়।

    মদনের যাগযজ্ঞ, ব্রহ্মময়ীর রাঙা পায়।।

    কালীনামের এত গুণ, কেবা জানতে পারে তায়।

    দেবাদিদেব মহাদেব, যাঁর পঞ্চমুখে গুণ গায়।।

    ঠাকুর ভাবোন্মত্ত, যেন অগ্নিমন্ত্রে দীক্ষিত হইয়া গাহিতেছেনঃ

    নামমাহাত্ম্য ও পাপ—তিন প্রকার আচার্য

    আমি দুর্গা দুর্গা বলে মা যদি মরি।

    আখেরে এ-দীনে, না তারো কেমনে, জানা (Kathamrita) যাবে গো শঙ্করী।

    কি! আমি তাঁর না করেছি—আমার আবার পাপ! আমি তাঁর ছেলে। তাঁর ঐশ্বর্যের অধিকারী! এমন রোখ হওয়া চাই!

    তমোগুণকে মোড় ফিরিয়ে দিলে ঈশ্বরলাভ (Ramakrishna) হয়। তাঁর কাছে জোর কর, তিনি তো পর নন, তিনি আপনার লোক। আবার দেখ, এই তমোগুণকে পরের মঙ্গলের জন্য ব্যবহার করা যায়। বৈদ্য তিনপ্রকার। উত্তম বৈদ্য, মধ্যম বৈদ্য, অধম বৈদ্য। যে বৈদ্য এসে নাড়ী টিপে ঔষধ খেও হে এই কথা বলে চলে যায়, সে-অধম বৈদ্য—রোগী খেলে কিনা এ-খবর সে লয় না। যে বৈদ্য রোগীকে ঔষধ খেতে অনেক করে বুঝায়—যে মিষ্ট কথাতে বলে, ওহে ঔষধ না খেলে কেমন করে ভাল হবে। লক্ষ্মীটি খাও, আমি নিজে ঔষধ মেড়ে দিচ্ছি খাও—সে মধ্যম বৈদ্য। আর যে বৈদ্য, রোগী কোনও মতে খেলে না দেখে বুকে হাঁটু দিয়ে, জোর করে ঔষুধ খাইয়ে দেয়—সে উত্তম বৈদ্য। এই বৈদ্যের তমোগুণ, এ-গুণে রোগীর মঙ্গল হয়, অপকার হয় না।

     

    আরও পড়ুনঃ “সংসারীর তমোগুণের লক্ষণ—নিদ্রা, কাম, ক্রোধ, অহংকার”

    আরও পড়ুনঃ “বিবেক, বৈরাগ্যরূপ হলুদ মাখলে তারা আর তোমাকে ছোঁবে না”

    আরও পড়ুনঃ “ধ্যান করবার সময় তাঁতে মগ্ন হতে হয়, উপর উপর ভাসলে কি জলের নিচে রত্ন পাওয়া যায়?”

    আরও পড়ুনঃ “পশ্চিমে বিবাহের সময় বরের হাতে ছুরি থাকে, বাংলাদেশে জাঁতি থাকে”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Ramakrishna 97: “সংসারীর তমোগুণের লক্ষণ—নিদ্রা, কাম, ক্রোধ, অহংকার”

    Ramakrishna 97: “সংসারীর তমোগুণের লক্ষণ—নিদ্রা, কাম, ক্রোধ, অহংকার”

    সিঁথি ব্রাহ্মসমাজ-দর্শন ও শ্রীযুক্ত শিবনাথ প্রভৃতি ব্রাহ্মভক্তদিগের সহিত কথোপকথন ও আনন্দ

    দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

    মাঞ্চ যোহথব্যভিচারেণ ভক্তিযোগেন সবতে।

    স গুণান্‌ সমতীত্যৈতান্‌ ব্রহ্মভূয়ায় কল্পতে।।

    গীতা—১৪/২৬

    নিতাই কোনরকমে হরিনাম করিয়ে নিতেন। চৈতন্যদেব বলেছিলেন (Kathamrita), ঈশ্বরের নামে ভারী মাহাত্ম্য (Ramakrishna)। শীঘ্র ফল না হতে পারে, কিন্তু কখন না কখন এর ফল হবেই হবে। যেমন কেউ বাড়ির কার্নিসের উপর বীজ রেখে গিয়েছিল; অনেকদিন পরে বাড়ি ভূমিসাৎ হয়ে গেল, তখন সেই বীজ মাটিতে পড়ে গাছ হল ও তার ফলও হল।

    মানুষ্যপ্রকৃতি ও গুণত্রয়—ভক্তির সত্ত্ব, রজঃ, তমঃ

    যেমন সংসারীদের মধ্যে স্বত, রজঃ, তমঃ তিন গুণ আছে; তেমনি ভক্তিরও স্বত্ব, রজঃ, তমঃ তিন গুণ আছে।

    সংসারীর স্বত্বগুণ কিরকম জানো? বাড়িতে এখানে ভাঙা, ওখানে ভাঙা—মেরামত করে না। ঠাকুরদালানে (Ramakrishna) পায়রাগুলো হাগছে, উঠানে শেওলা পড়েছে হুঁশ নাই। আসবাবগুলো পুরানো, ফিটফাট করবার চেষ্টা নাই। কাপড় যা তাই একখানা হলেই হল। লোকটি খুব শান্ত, শিষ্ট, দয়ালু, অমায়িক, কারু কোনও অনিষ্ট করে না।

    সংসারীর রজোগুণের লক্ষণ আবার আছে। ঘড়ি, ঘড়ির চেন, হাতে দুই-তিনটা আঙটি। বাড়ির আসবাব খুব ফিটফাট। দেওয়ালে কুইনের ছবি, রাজপুত্রের ছবি, কোন বড় মানুষের ছবি। বাড়িটি চুনকাম করা, যেন কোনখানে একটু দাগ নাই। নানারকমের ভাল পোশাক। চাকরদেরও পোশাক। এমনি এমনি সব।

    সংসারীর তমোগুণের লক্ষণ—নিদ্রা, কাম, ক্রোধ, অহংকার এই সব।

    আর ভক্তির (Ramakrishna) সত্ত্ব আছে। যে ভক্তের স্বত্বগুণ আছে, সে ধ্যানকরে অতি গোপনে। সে হয়তো মশারির ভিতর ধ্যান করে—সবাই জানছে, ইনি শুয়ে আছেন, বুঝি রাত্রে ঘুম নাই, তাই উঠতে দেরি হচ্ছে। এদিকে শরীরের উপর আদর কেবল পেটচলা পর্যন্ত; শাকান্ন পেলেই হল। খাবার ঘটা নাই। পোশাকের আড়ম্বর নাই। বাড়ির আসবাবের জাঁকজমক নাই। আর সত্ত্বগুণী ভক্ত কখনও তোষামোদ করে ধন লয় না।

    ভক্তির রজঃ থাকলে সে ভক্তের হয়তো তিলক আছে, রুদ্রাক্ষের মালা আছে। সেই মালার মধ্যে মধ্যে আবার একটি সোনার দানা। (সকলের হাস্য) যখন পূজা করে, গরদের কাপড় পরে পূজা করে।

    আরও পড়ুনঃ “ঈশ্বরের নামে ভারী মাহাত্ম্য, শীঘ্র ফল না হতে পারে, কিন্তু…”

    আরও পড়ুনঃ “বিবেক, বৈরাগ্যরূপ হলুদ মাখলে তারা আর তোমাকে ছোঁবে না”

    আরও পড়ুনঃ “ধ্যান করবার সময় তাঁতে মগ্ন হতে হয়, উপর উপর ভাসলে কি জলের নিচে রত্ন পাওয়া যায়?”

    আরও পড়ুনঃ “পশ্চিমে বিবাহের সময় বরের হাতে ছুরি থাকে, বাংলাদেশে জাঁতি থাকে”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Rabindranath Tagore: ছোট বালুকণার মধ্যেও অসীমের স্পর্শ পেতেন, প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা কবিগুরুকে

    Rabindranath Tagore: ছোট বালুকণার মধ্যেও অসীমের স্পর্শ পেতেন, প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধা কবিগুরুকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ ২২ শ্রাবণ (Baishe Shrabon)। আজ থেকে ৮৩ বছর আগে, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের ২২ শ্রাবণ,(ইংরেজি ১৯৪১ সালের ৭ অগাস্ট) প্রয়াত হয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore)। দীর্ঘ দিন থেকে কবি মূত্রনালী সমস্যায় ভুগছিলেন। ১৯৪১ সালের ৩০ জুলাই, জোড়াসাঁকোর বাড়িতে কবির শরীরে অস্ত্রোপচার হয়। তার কিছু পূর্বে তিনি শেষ কবিতা রচনা করেন ‘তোমার সৃষ্টির পথ রেখেছ আকীর্ণ করি, বিচিত্র ছলনাজালে হে ছলনাময়ী।’ চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করে নিস্ফল হন। অবস্থা দ্রুত সংকটজনক হতে শুরু করে। ব্যর্থ হয় সকলের সব প্রচেষ্টা। মধ্যাহ্নের সূর্য যখন মধ্য গগনে তখন অস্তনমিত হয় সাহিত্যের রবি। প্রয়াত হন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। দিনটি ছিল রাখীপূর্ণিমার দিন। আজ কবিগুরুর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে শ্রদ্ধাঞ্জলি। 

    দেবতার সঙ্গে প্রিয়ের সম্পর্ক

    মঙ্গলকাব্যের সময় থেকেই বঙ্গজাতি দেবতাদের সঙ্গে এক প্রিয়ত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। রবীন্দ্রনাথ (Rabindranath Tagore) সেই সম্পর্কে শৈল্পিক প্রলেপ দেন। একটি ছোট বালুকণার মধ্যেও অসীমের স্পর্শ অনুভব করেন রবীন্দ্রনাথ। বহু প্রতিভার এক আপন সত্ত্বার অধিকারী এই কবি তার প্রতিভার আলোয় উদ্ভাসিত করে বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতিকে তুলে ধরেছিলেন বিশ্ব দরবারে। পেয়েছিলেন বিশ্বকবির সম্মান। তিনি বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ কবি। 

    অন্য রবীন্দ্রনাথ

    রবীন্দ্রনাথ ছিলেন খুব মজার মানুষ। একদিন শান্তিনিকেতনের ছেলেদের সঙ্গে অন্য এক প্রতিষ্ঠানের ছেলেদের ফুটবল খেলা ছিল। শান্তিনিকেতনের ছেলেরা আট-শূন্য গোলে জেতে। সবাই দারুণ খুশি। তবে এ জয় দেখে রবীন্দ্রনাথ মন্তব্য করলেন “জিতেছে ভালো, তা বলে আট গোল দিতে হবে? ভদ্রতা বলেও তো একটা কথা আছে!”

    ভোজনরসিক রবিঠাকুর

    কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore) নানা ধরনের খাবার ভালোবাসতেন এবং কখনও কখনও নিজ হাতে রান্নাও করতেন। দেশি খাবারের মধ্যে পছন্দ করতেন ইলিশের ঝোল, চিতল মাছ আর চালতা দিয়ে মুগের ডাল এবং নারকেল চিংড়ি। এছাড়া, তিনি কাবাব খেতে খুব পছন্দ করতেন। এর মধ্যে ছিল শ্রুতি মিঠা কাবাব, হিন্দুস্তানি তুর্কি কাবাব, চিকেন কাবাব নোসি। কবিগুরু ছিলেন পানের ভক্ত।

    আরও পড়ুন: অযোধ্যা রাম জন্মভূমি আন্দোলনের এই ‘অজ্ঞাত নায়ক’দের চেনেন?

    মৃত্যুই সত্য

    রবীন্দ্রনাথের (Rabindranath Tagore) কথায়, “মহারাক্ষস মৃত্যু জীবনকে গ্রাস করে চিরদিন বেঁচে রয়েছে।” কবির অনুভব জীবন যেন চার দিকে মৃত্যুরূপী কালো জল দিয়ে ঘেরা দ্বীপ। মুহূর্তে যে কালো জলের প্রবল বন্যায় জীবনরূপ দ্বীপ ডুবে যেতে পারে। সেই প্রকাণ্ড কালীদহ মন্থন করে আলোর কমল তুলে আনা যে কী প্রাণান্তকর কাজ, যিনি জানেন তিনিই জানেন শুধু। তিনিই একমাত্র পারেন ‘মরণ রে তুঁহু মম শ্যাম সমান’ বলে সম্বোধন করতে। মৃত্যুই জীবনের প্রথম ও শেষ সত্য। মানুষ যে দিন জন্মায়, সে দিন থেকে নিশ্চিত হয়ে যায় পরিণতি— জন্মেছি যখন, তখন আর কিছু হোক না হোক, মরণ হবেই। রবীন্দ্রনাথের কথায়, ‘মরণ বলে আমি তোমার জীবন তরী বাই’। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Ramakrishna 96: “ঈশ্বরের নামে ভারী মাহাত্ম্য, শীঘ্র ফল না হতে পারে, কিন্তু…”

    Ramakrishna 96: “ঈশ্বরের নামে ভারী মাহাত্ম্য, শীঘ্র ফল না হতে পারে, কিন্তু…”

    সিঁথি ব্রাহ্মসমাজ-দর্শন ও শ্রীযুক্ত শিবনাথ প্রভৃতি ব্রাহ্মভক্তদিগের সহিত কথোপকথন ও আনন্দ

    দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

    মাঞ্চ যোহথব্যভিচারেণ ভক্তিযোগেন সবতে।

    স গুণান্‌ সমতীত্যৈতান্‌ ব্রহ্মভূয়ায় কল্পতে।।

    গীতা—১৪/২৬।

    ভক্ত-সম্ভাষণে

    সহাস্যবদনে ঠাকুর শ্রীযুক্ত শিবনাথ আদি ভক্তগণের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করিতে লাগিলেন। বলিতেছেন (Kathamrita), এই যে শিবনাথ! দেখ তোমরা ভক্ত, তোমাদের দেখে বড় আনন্দ হয়। গাঁজাখোরের স্বভাব, আর-একজন গাঁজাখোরকে দেখলে ভারী খুশি হয়। হয়তো তার সঙ্গে কোলাকুলি করে।(শিবনাথ ও সকলের হাস্য)

    সংসারী লোকের অভাব—নামমাহাত্ম্য

    যাদের দেখি ঈশ্বরে (Ramakrishna) মন নাই, তাদের আমি বলি, আমার একটু ওইখানে গিয়ে বস। অথবা বলি, যাও বেশ বিল্ডিং (রাসমণির কালীবাটির মন্দির সকল) দেখ গে। (সকলের হাস্য)

    আবার দেখেছি যে, ভক্তদের সঙ্গে হাবাতে লোক এসেছে। তাদের ভারী বিষয়বুদ্ধি। ঈশ্বরীয় কথা ভাল লাগে না। ওরা হয়তো আমার সঙ্গে অনেকক্ষণ ধরে ঈশ্বরীয় কথা বলছে। এদিকে এরা আর বসে থাকতে পারে না, ছটফট করছে। বারবার কানে কানে ফিসফিস করে বলছে, কখন যাবে—কখন যাবে। তারা হয়তো বললে, দাঁড়াও না হে, আর-একটু পরে যাব। তখন এরা বিরক্ত হয়ে বলে, তবে তোমরা কথা কও, আমরা নৌকায় গিয়ে বসি।(সকলের হাস্য)

    সংসারী লোকদের যদি বল (Kathamrita) যে সব ত্যাগ করে ঈশ্বরের পাদপদ্মে মগ্ন হও, তা তারা কখনও শুনবে না। তাই বিষয়ী লোকদের টানবার জন্য গৌর নিতাই দুই ভাই মিলে পরামর্শ করে এই ব্যবস্থা করেছিলেন—মাগুর মাছের ঝোল, যুবতী মেয়ের কোল, বোল হরি বোল। প্রথম দুইটির লোভে অনেকে হরিবোল বলতে যেত। হারিনাম-সুধার একটি আস্বাদ পেলে বুঝতে পারত যে, মাগুর মাছের ঝোল আর কিছুই নয়, হরিপ্রেমে যে অশ্রু পড়ে তাই যুবতী মেয়ে কিনা-পৃথিবী। যুবতী মেয়ের কোল কিনা—ধুলায় হরিপ্রেমে গড়াগড়ি।

    নিতাই কোনরকমে হরিনাম করিয়ে নিতেন। চৈতন্যদেব বলেছিলেন, ঈশ্বরের নামে ভারী মাহাত্ম্য (Ramakrishna)। শীঘ্র ফল না হতে পারে, কিন্তু কখন না কখন এর ফল হবেই হবে। যেমন কেউ বাড়ির কার্নিসের উপর বীজ রেখে গিয়েছিল; অনেকদিন পরে বাড়ি ভূমিসাৎ হয়ে গেল, তখন সেই বীজ মাটিতে পড়ে গাছ হল ও তার ফলও হল।

    আরও পড়ুনঃ “বিবেক, বৈরাগ্যরূপ হলুদ মাখলে তারা আর তোমাকে ছোঁবে না”

    আরও পড়ুনঃ “ধ্যান করবার সময় তাঁতে মগ্ন হতে হয়, উপর উপর ভাসলে কি জলের নিচে রত্ন পাওয়া যায়?”

    আরও পড়ুনঃ “পশ্চিমে বিবাহের সময় বরের হাতে ছুরি থাকে, বাংলাদেশে জাঁতি থাকে”

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Ram Janmabhoomi Movement: অযোধ্যা রাম জন্মভূমি আন্দোলনের এই ‘অজ্ঞাত নায়ক’দের চেনেন?

    Ram Janmabhoomi Movement: অযোধ্যা রাম জন্মভূমি আন্দোলনের এই ‘অজ্ঞাত নায়ক’দের চেনেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৪ সালের ২২ জানুয়ারি। অযোধ্যায় (Ayodhya) নব নির্মিত রামমন্দিরের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুরু হয় এক নতুন অধ্যায়। কিন্তু এ লড়াই ছিল দীর্ঘদিনের। ১৯৪৯ সাল থেকে অযোধ্যায় রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ নিয়ে বির্তকের সূত্রপাত। সেই সময় থেকে মন্দির নির্মাণের দাবিতে শুরু হয়েছিল আন্দোলন। পরবর্তীকালে এই বিতর্ক গড়িয়েছিল আদালত পর্যন্ত। বিভিন্ন সময় এই আন্দোলনে (Ram Janmabhoomi Movement) নেতৃত্বের ব্যাটন হাতে তুলে নিয়েছিলেন বিজেপির প্রবীণ নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণী, উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিং, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রাক্তন সভাপতি অশোক সিংঘলরা। তবে শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নয়, রামমন্দির আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন সাধু-সন্ত থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। যাঁরা, কোনও দিন পরিচিত ছিলেন না এবং আড়ালে থেকেই নিজেদের কাজ করে গিয়েছেন।

    কেন আড়ালে (Ayodhya) 

    শ্রী রাম জন্মভূমি আন্দোলনের (Ram Janmabhoomi Movement) ইতিহাসের বেশিরভাগ সময়, বিশেষ করে বিংশ শতাব্দীর ৮-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে বাম-কংগ্রেস মতাদর্শ বিশ্বাসীরা রাম জন্মভূমি আন্দোলনকে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)-এর রাজনীতির পদক্ষেপ হিসেবে উপহাস করেছিলেন। রাম মন্দির আন্দোলনকে দলিত বিরোধী, মুসলিম বিরোধী, উপজাতি বিরোধী হিসেবে দেখানো হয়েছিল। আন্দোলনের পুরো সময়জুড়ে, বাম-কংগ্রেস গোষ্ঠী যুক্তি দেখিয়ে চলেছিল যে, এটি কেবল কয়েকটি তথাকথিত ‘উচ্চ বর্ণের’ আন্দোলন এবং বৃহত্তর হিন্দু সমাজের এর সঙ্গে কোনও যোগ নেই।

    বাস্তব অন্য

    যে প্রচার বাম-কংগ্রেসরা করেছিল, তা আসলে সত্য থেকে অনেক দূরে। শ্রী রাম জন্মভূমি আন্দোলন (Ram Janmabhoomi Movement) ছিল জনগণের আন্দোলন। একটি আহত সভ্যতা ইতিহাসের একটি নির্দিষ্ট মোড়ে জাগ্রত হয়েছিল, এবং তার হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিল। তাই ১৯৯০ সালে লালকৃষ্ণ আডবাণীর রাম রথযাত্রায় যোগ দিয়েছিলেন অগণিত মানুষ। ‘মন্দির ওয়াহি বানায়েঙ্গে’ স্লোগানে কেঁপে উঠেছিল ভারত। তাঁরা ছিলেন  ধর্মীয় পুরুষ, স্বেচ্ছাসেবক, নিবেদিত এবং গর্বিত হিন্দু। সেই দলে থাকা কয়েকজন ‘নেপথ্য-নায়ক’-এর সম্পর্কে জেনে নেব। 

    মহন্ত অবৈদ্যনাথ

    উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষনাথ মঠের মহন্ত দিগ্বিজয়ের উত্তরসূরি ছিলেন মহন্ত অবৈদ্যনাথ। ১৯৮৪ সালে রাম জন্মভূমি আন্দোলনের জোরদার করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন। সাধুদের এক ছাতার তলায় নিয়ে আসতে রাম জন্মভূমি মুক্তি যজ্ঞ কমিটি গঠন করেছিলেন তিনি।

    মোরোপান্ত পিংলে

    নাগপুরের মরিস কলেজ থেকে স্নাতক এবং আরএসএস প্রচারক, পিংলে রাম মন্দির আন্দোলনের একজন প্রধান কৌশলবিদ ছিলেন। পিংলে রাম মন্দির আন্দোলনের (Ram Janmabhoomi Movement) সমস্ত প্রধান ‘যাত্রা’, দেশব্যাপী প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। যার মধ্যে ‘শিলা পূজন’ প্রোগ্রামও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি প্রথম ৩ লক্ষেরও বেশি ইট অযোধ্যায় পাঠিয়েছিলেন। তিনি সবসময় পর্দার আড়ালে কাজ করতেন। 

    স্বামী বামদেব

    একজন তপস্বী, গো-মাতাকে রক্ষা করাই ছিল তাঁর কাজ। তিনি ১৯৮৪ সালে জয়পুরে সর্বভারতীয় স্তরের একটি বৈঠকের মাধ্যমে বিভিন্ন হিন্দু ধর্মীয় এবং আধ্যাত্মিক নেতাদের একত্রিত করেছিলেন। ৪০০-এরও বেশি হিন্দু ধর্মীয় নেতা আন্দোলনের ভবিষ্যৎ রোডম্যাপ তৈরি করতে ১৫ দিন ধরে একসঙ্গে কাজ করেছিল। স্বামী বামদেব ১৯৯০ সালে অযোধ্যায় করসেবকদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এই সময়ই মুলায়ম সিং যাদবের সরকারের আদেশে উত্তরপ্রদেশে পুলিশের গুলিতে বেশ কয়েকজন কর সেবক মারা যান। তিনি সেই উত্তাল সময়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর যখন অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছিল, তখনও সেখানে ছিলেন বামদেব।

    ভিএইচ ডালমিয়া

    একটি সুপরিচিত শিল্পপতি পরিবার থেকে আসা, ডালমিয়া ১৯৯২ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত ভিএইচপির সভাপতি ছিলেন। আড়ালে থাকতে পছন্দ করা ডালমিয়া রাম জন্মভূমি আন্দোলনের (Ram Janmabhoomi Movement) একজন প্রধান নেতা ছিলেন। যখন শ্রী রাম জন্মভূমি ন্যাস ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তখন তাঁকে এর কোষাধ্যক্ষ করা হয়। বিতর্কিত কাঠামো ধ্বংসের পরে তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল।

    এসসি দীক্ষিত

    ১৯৮০-এর দশকে রাম জন্মভূমি আন্দোলনের একজন সামনের সারির নেতা ছিলেন এসসি দীক্ষিত। তিনি ১৯৮২ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশের পুলিশ মহাপরিদর্শক ছিলেন। অবসর নেওয়ার পরে, তিনি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সহ-সভাপতি হিসাবে যোগদান করেন। তিনি অযোধ্যায় (Ayodhya) করসেবকদের আন্দোলনের কৌশল তৈরি করতেন। ভিএইচপি দ্বারা পরিচালিত বিভিন্ন মঠের প্রচারণার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৯০ সালে অযোধ্যায় করসেবা চলাকালীন রাম জন্মভূমি আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

    দাউদয়াল খান্না

    রাম জন্মভূমি মুক্তি যজ্ঞ সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসাবে, দাউদয়াল খান্না আন্দোলনের (Ram Janmabhoomi Movement) মাটি প্রস্তুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি তাঁর প্রথম জীবনে একজন কংগ্রেস নেতা ছিলেন এবং ১৯৬০-এর দশকে উত্তরপ্রদেশে কংগ্রেস পরিচালিত সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন। তিনি ১৯৮৩ সালে একটি জনসভায় অযোধ্যা, মথুরা এবং কাশী (বারাণসী)-তে মন্দির পুনর্নির্মাণের বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। তাঁর উদ্যোগটি রাম জন্মভূমি আন্দোলন পুনরায় শুরু করার মূল অনুঘটক প্রমাণিত হয়েছিল। 

    কোঠারি ভ্রাতৃদ্বয়

    রম কুমার কোঠারি এবং শরদ কুমার কোঠারি ছিলেন দুই ভাই। এঁরা ১৯৯০ সালের অক্টোবর মাসে করসেবায় অংশ নিতে কলকাতা থেকে অযোধ্যায় (Ayodhya) গিয়েছিলেন। তাঁরা অযোধ্যায় ১৯৯০ সালের ৩০ অক্টোবর করসেবায় প্রথম ব্যাচের সদস্য হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন। দুই দিন পরে, ২ নভেম্বর, যখন তাঁরা করসেবা করছিলেন তখন তাঁদের দুজনকেই পুলিশ কাছাকাছি থেকে গুলি করে হত্যা করে। রমের বয়স ছিল ২৩ এবং শরদের বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর।

    আরও পড়ুন: তাঁর আমলেই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, বাংলাদেশকে গণতন্ত্রের পথ দেখিয়েছিলেন হাসিনা

    শুধু এঁরা নয়, অন্যদের মধ্যে সেতারাম মালি (যোধপুর), রমেশ কুমার (গঙ্গানগর), মহাবীর প্রসাদ (ফৈজাবাদ), রমেশ পাণ্ডে (অযোধ্যা), সঞ্জয় কুমার (মুজাফফরপুর), অধ্যাপক মহেন্দ্রনাথ অরোরা (যোধপুর) এই আন্দোলনের (Ram Janmabhoomi Movement) জন্য তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। অযোধ্যায় (Ayodhya) হনুমানগড়ির কাছে শহিদ গলি আজও প্রমাণ করে “রাম লাল্লা হাম আয়েঙ্গে, মন্দির ওহি বনায়েঙ্গে” ছিল একটা আবেগ। যার সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Mangala Gauri Vrat: শ্রাবণী মঙ্গলবারে পালন করুন মঙ্গলা গৌরী ব্রত, জানেন এর মাহাত্ম্য?

    Mangala Gauri Vrat: শ্রাবণী মঙ্গলবারে পালন করুন মঙ্গলা গৌরী ব্রত, জানেন এর মাহাত্ম্য?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, মঙ্গলবার, ৬ অগাস্ট, তৃতীয় মঙ্গলা গৌরী ব্রত (Mangala Gauri Vrat)। শ্রাবণ মাসে এই ব্রত পালন করলে তবেই সোমবারের পুণ্য লাভ হয়। এই ব্রত এবং উপবাস পালনের কিছু নিয়ম রয়েছে। বিবাহিত মহিলারা সাধারণত এই ব্রত পালন করে থাকেন। সংসারের উন্নতি, স্বামীর আয়ুতে মঙ্গল কামনা এবং দাম্পত্য জীবনে সুখ-সমৃদ্ধির জন্য এই ব্রত পালন করা হয়। আসুন জেনে নিই এই ব্রতর নিয়ম।

    কোন কোন দিন পালিত হবে মঙ্গলা গৌরী ব্রত (Mangala Gauri Vrat)

    হিন্দু পঞ্জিকা মতে, এই বছর ৪টি মঙ্গলা গৌরী (Mangala Gauri Vrat) উপবাস পালিত হবে। প্রত্যেক শ্রাবণী সোমবারের পরের মঙ্গলবারে পালিত হয় ব্রত। ২৩ জুলাই, ৩০ জুলাই, ৬ অগাস্ট, ১৩ অগাস্ট — হল এই ব্রতের নির্ধারিত দিন। আজ, ৬ অগাস্ট, তৃতীয় ব্রতপালনের দিন। এই ব্রত মূলত শিবপত্নী পার্বতীর পুজো। শিব তো পার্বতী ছাড়া অসম্পূর্ণ, তাই সোমের পর মঙ্গলে শক্তির পুজো করতে হয়। তবে গৌরী ব্রত শুধু যে বিবাহিত মহিলারা করেন তাই নয়, একই ভাবে অবিবাহিত মহিলারাও পালন করে থাকেন। শ্রাবণ মাসে দেবাদিদেব এবং দেবী পার্বতীকে একসঙ্গে পুজো করার নিয়ম থাকে। মঙ্গলবার মঙ্গলা গৌরী ব্রত পুজোর অভিজিৎ মুহূর্ত হল দুপুর ১২টা থেকে ১২.৫৫ মিনিট পর্যন্ত। বিজয় মুহূর্ত দুপুর ২টা ৪৪ মিনিট থেকে ৩.৩৯ মিনিট পর্যন্ত থাকবে। দ্বিপুষ্কর যোগও এদিন গঠিত হয়েছে। ফলে আজকের এই বিশেষ দিন থাকবে সকাল ৫টা ৩৮ মিনিট থেকে, যা চলবে ১০টা ২৩ মিনিট পর্যন্ত।

    আরও পড়ুনঃ RSS: অর্থ সংগ্রহ করতে আরএসএসের ভরসা গুরুদক্ষিণা!

    শ্রাবণ মাসে পাঁচ সোমবার

    এই বছর শ্রাবণ মাসে মোট সোমবার পড়েছে ৫টি। বাংলায় শ্রাবণ মাস (Mangala Gauri Vrat) শুরু হয়েছে গত ২২ জুলাই থেকে এবং চলবে ১৯ অগাস্ট পর্যন্ত। এই এক মাসে সোমবার পড়ছে ২২ জুলাই, ২৯ জুলাই, ৫ অগাস্ট, ১২ অগাস্ট এবং ১৯ অগাস্ট। ভোলা মহেশ্বরের মাথায় জল ঢেলে মনস্কামনা করে থাকেন শৈব ভক্তরা। এই মাসে আবার নক্ষত্র পূর্ণিমাও রয়েছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Ramakrishna 95: “তিনি আসিয়াছেন, চারিদিকের লোক তাঁহাকে মণ্ডলাকারে ঘেরিতেছে”

    Ramakrishna 95: “তিনি আসিয়াছেন, চারিদিকের লোক তাঁহাকে মণ্ডলাকারে ঘেরিতেছে”

    সিঁথি ব্রাহ্মসমাজ-দর্শন ও শ্রীযুক্ত শিবনাথ প্রভৃতি ব্রাহ্মভক্তদিগের সহিত কথোপকথন ও আনন্দ

    প্রথম পরিচ্ছেদ

    উৎসবমন্দিরে শ্রীরামকৃষ্ণ

    অপরাহ্ণে বাগানটি বহুলোক সমাকীর্ণ হইয়াছে। কেহ লতামণ্ডপচ্ছায়ায় কাষ্ঠাসনে উপবিষ্ট। কেহ বা সুন্দর বাপীতটে বন্ধু সমভিব্যবহারে বিচরণ করিতেছেন। অনেকেই সমাজগৃহে শ্রীরামকৃষ্ণের (Ramakrishna) আগমন প্রতীক্ষায় পূর্ব হইতেই উত্তম আসন অধিকার করিয়া বসিয়া আছেন। উদ্যানের প্রবেশদ্বারে পানের দোকান। প্রবেশ করিয়া বোধ হয় পূজাবাড়ি—রাত্রিকালে যাত্রা হইবে। চতুর্দিক আনন্দে পরিপূর্ণ। শরতের নীল আকাশে আনন্দ প্রতিভাসিত হইতেছে। উদ্যানের বৃক্ষলতাগুল্মমধ্যে প্রভাত হইতে আনন্দের সমীকরণ বহিতেছে। আকাশ, জীবজন্তু, বৃক্ষলতা, যেন একতানে গান (Kathamrita) করিতেছেঃ

    আজি কি হরষ সমীর বহে প্রাণে—ভগবৎ মঙ্গল কিরণে!

    সকলেই যেন ভগবদ্দর্শন-পিপাসু। এমন সময়ে শ্রীশ্রীপরমহংসদেবের (Ramakrishna) গাড়ি আসিয়া সমাজগৃহের সম্মুখে উপস্থিত হইল।

    সকললেই গাত্রোত্থান করিয়া মহাপুরুষের অভ্যর্থনা করিতেছেন। তিনি আসিয়াছেন। চারিদিকের লোক তাঁহাকে মণ্ডলাকারে ঘেরিতেছে।

    সমাজগৃহের প্রধান প্রকোষ্ঠমধ্যে বেদী রচনা হইয়াছে। সে-স্থান লোকে পরিপূর্ণ। সম্মুখে দালান, সেখানে পরমহংসদেব (Ramakrishna) সমাসীন, সেখানেও লোক। আর দালানের দুই পার্শ্বস্থিত দুই ঘর—সে ঘরেও লোক—ঘরের দ্বারদেশে উদগ্রীব হইয়া লোকে দণ্ডায়মান। দালানে উঠিবার সোপানপরম্পরা একপ্রান্ত হইতে অপরপ্রান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত। সেই সোপানও লোকে লোককীর্ণ; সোপানের অনতিদূরে ২/৩ টি বৃক্ষ পার্শ্বে লতামণ্ডপ—সেখানে কয়েকখানি কাষ্ঠাসন। তথা হইতেও উদগ্রীব ও উৎকীর্ণ হইয়া মহাপুরুষের দিকে দৃষ্টিপাত করিতেছে। সারিসারি ফুল ও পুস্পের বৃক্ষ, মধ্যে পথ। বৃক্ষ সকল সমীকরণে ঈষৎ হেলিতেছে দুলিতেছে, যেন আনন্দভরে মস্তক অবনত করিয়া তাঁহাকে অভ্যর্থনা করিতেছে।  

    ঠাকুর পরমহংসদেবের হাসিতে হাসিতে (Kathamrita) আসন গ্রহণ করিলেন। এখন সব চক্ষু এককালে তাঁহার আনন্দমূর্তির উপর পতিত হইল। যেমন, যতক্ষণ নাট্যশালার অভিনয় আরাম্ভ না হয়, ততক্ষণ দর্শকবৃন্দের মধ্যে কেহ হাসিতেছে, কেহ বিষয়কর্মের কথা কহিতেছে, কেহ একাকী অথবা বন্ধুসঙ্গে পাদচারণ করিতেছে, কেহ পান খাইতেছে, কেহ বা তামাক খাইতেছে, কিন্তু যাই ড্রপসিন উঠিয়া গেল, অমনি সকলে সব কথাবার্তা বন্ধ করিয়া অনন্যমন হইয়া একদৃষ্টে নাট্যরঙ্গ দেখিতে থাকে! অথবা যেমন, নানা পুষ্প-পরিভ্রমণকারী ষট্‌পদবৃন্দ পদ্মের সন্ধান পাইলে অন্য কুসুম ত্যাগ করিয়া পদ্মমধু পান করিতে ছুটিয়া আসে!

    আরও পড়ুনঃ “সেই মধুর সংকীর্তন শুনিতে ও দেবদুর্লভ হরিপ্রেমময় নৃত্য দেখিতে পাইবেন”

    আরও পড়ুনঃ “বিবেক, বৈরাগ্যরূপ হলুদ মাখলে তারা আর তোমাকে ছোঁবে না”

    আরও পড়ুনঃ “ধ্যান করবার সময় তাঁতে মগ্ন হতে হয়, উপর উপর ভাসলে কি জলের নিচে রত্ন পাওয়া যায়?”

    আরও পড়ুনঃ “পশ্চিমে বিবাহের সময় বরের হাতে ছুরি থাকে, বাংলাদেশে জাঁতি থাকে”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RSS: অর্থ সংগ্রহ করতে আরএসএসের ভরসা গুরুদক্ষিণা!

    RSS: অর্থ সংগ্রহ করতে আরএসএসের ভরসা গুরুদক্ষিণা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যে কোনও সংগঠন চালাতে গেলে খরচ বিস্তর। অন্যান্য সংগঠন চাঁদা তুলে সংগঠন চালায়। এ পথে হাঁটে না রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ, সংক্ষেপে আরএসএস (RSS)। ১৯২৫ সালে জন্ম ইস্তক আর পাঁচটা সংগঠনের পথে না হেঁটে সম্পূণ ভিন্নভাবে অর্থ সংগ্রহ করে আসছে আরএসএস। সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকদের সাহায্য করতে গুরুদক্ষিণার (Guru Dakshina) মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে আরএসএস।

    আরএসএসে গুরুর স্থান

    সনাতন শাস্ত্রে গুরুর স্থান সবার ওপরে। আরএসএসও গুরুকে ভীষণ গুরুত্ব দেয়। তাই সংগঠনের প্রতিটি শাখা আয়োজন করে ‘গুরুদক্ষিণা’ অনুষ্ঠানের। বছরের একটি বিশেষ দিনে স্বয়ং সেবকদের জন্য আয়োজন করা হয় এই বিশেষ অনুষ্ঠানের। হিন্দুদের গুরুপূর্ণিমার দিন থেকে শুরু করে তিন-চার সপ্তাহের মধ্যেই বিভিন্ন শাখায় আয়োজন করা হয় এই অনুষ্ঠানের। চলতি বছর গুরুদক্ষিণার অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে ২১ জুন। এদিনই ছিল গুরুপূর্ণিমা। এই দিনেই গুরুদক্ষিণার অনুষ্ঠান আয়োজন করার কারণ মূলত দুটি। একটি, সুপ্রাচীন কাল থেকে গুরু-শিষ্যের যে পরম্পরা সনাতন ভারতে চলে আসছে, তা বজায় রাখা। সেই সময় শিষ্যরা থাকতেন গুরুর আশ্রমে। ব্রহ্মচর্য-পর্ব শেষে গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তাঁরা দিতেন গুরুদক্ষিণা। হিন্দু পরম্পরায় শিষ্য গুরুকে কী দিলেন, সেটা বিষয় নয়, যেটা বিষয়, সেটা হল শিষ্য গুরুর কৃপায় যে জ্ঞান অর্জন করেছেন, সেজন্য গুরুর কাছে তিনি কতটা কৃতজ্ঞ, তা যাচাই করা। গুরুদক্ষিণা হিসেবে শিষ্য যা-ই দিতেন, তা-ই সাদরে গ্রহণ করতেন গুরু।

    গুরু পরম্পরা

    সনাতনী এই পরম্পরাই বিভিন্ন শাখায় বাঁচিয়ে রেখেছে আরএসএস (RSS)। আজ্ঞে হ্যাঁ, জন্ম ইস্তক এই পরম্পরাই ধরে রেখেছে আরএসএস। আরএসএসে গুরুদক্ষিণার অনুষ্ঠানটি পালিত হয় নিতান্তই সাদামাটাভাবে। সচরাচর অনুষ্ঠানটি হয় একটি হল ঘরে, যেখানে ৫০-১০০ জনের ব্যবস্থা হয়। অনুষ্ঠান শুরু হয় সকালে। এদিন প্রত্যেকেই ভারতীয় ঐতিহ্য মেনে সাদা পোশাক পরে আসেন। গুরুদক্ষিণার দিন স্বয়ংসেবকরা পাজামা-পাঞ্জাবি কিংবা ধুতি-পাঞ্জাবি পরেন। যে হলঘরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, সেখানে প্রথমে উত্তোলন করা হয় সংগঠনের গৈরিক পতাকা। জ্বালানো হয় মাটির প্রদীপ। আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা তথা প্রথম সরসঙ্ঘচালক কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার এবং দ্বিতীয় সরসঙ্ঘচালক যিনি আরএসএসে গুরুজি নামে খ্যাত তাঁদের বাঁধানো ছবি রাখা হয় অডিটোরিয়ামে।

    গুরুদক্ষিণার অনুষ্ঠান

    শারীরিকভাবে সক্ষম স্বয়ংসেবকরা মেঝেয় বসেন। মেঝেয় পাতা থাকে পাতলা কাপড় দিয়ে তৈরি ‘দড়িস’(আসন)এবং কাপড়ের পাতলা চাদর। তার আগে অবশ্য ঘর পরিষ্কার করা হয়। স্বয়ংসেবকরা খুবই শৃঙ্খলাবদ্ধ। তাই এদিন তাঁরা চলে আসেন অনুষ্ঠান (Guru Dakshina) শুরুর ঢের আগে, নির্দিষ্ট সময়ে। তার পরেই হল ঘরে আগে থেকে বিছানো দরিস (পাটি বিশেষ) পেতে বসেন তাঁরা, সারিবদ্ধভাবে। এই সময় অনুষ্ঠান স্থলে শোনা যায় পিন-পতনের শব্দও। অনুষ্ঠান শুরুর আগে তাদের নাম লেখা একটি করে সাদা খাম দেওয়া হয়। এই কাজটি করেন শাখা প্রধান, সঙ্ঘের(RSS) ভাষায় যিনি মুখ্য শিক্ষক বা শাখাকার্যবাহ নামে পরিচিত। প্রায়ই এই খামগুলো পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাঁদের বাড়িতে। সেই খাম যে গুরুদক্ষিণা দানের জন্য পাঠানো হয়েছে, তাও জানিয়ে দেওয়া হয়। যেসব স্বয়ংসেবক একবার শাখার এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন, তাঁদেরও এ ব্যাপারে জানানো হয়। কর্মক্ষেত্রের দায়বদ্ধতার কারণে যাঁরা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন না কিংবা শাখার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন না, তাঁদেরও গুরুদক্ষিণার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

    কেন নিশানই গুরু

    আরএসএসের গুরুদক্ষিণার (Guru Dakshina) এই অনুষ্ঠানে যাঁরা প্রথমে যোগ দেন, তাঁদের পক্ষে খুবই আনন্দদায়ক। খোলা মনে যাঁরা একবার গুরুদক্ষিণার এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন, তাঁদের মনে এর একটা গভীর ছাপ থেকে যায়, বিশেষত তরুণ মনে। যেহেতু মানুষ মাত্রেই ভুল করে, এবং কোনও মানুষই ত্রুটিহীন নন, তাই আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা ঠিক করেছিলেন, কেউই একা গুরু নন। আরএসএসে সঙ্ঘের পতাকাকেই গুরু মেনে চলা হয়। সেই কারণেই আরএসএসের প্রতিটি শাখায় নিত্য দিনের প্রথম কাজ হল গৈরিক পতাকা উত্তোলন। শাখার স্বেচ্ছাসেবকরা দিন শুরু করেন সঙ্ঘের পতাকার সামনে মাথা নত করে। সূর্য অস্ত গেলেও পালন করা হয় একই প্রথা।

    সোনালি যুগ ফিরিয়ে আনার শপথ

    গুরুদক্ষিণার এই অনুষ্ঠান বছরভর সঙ্ঘের গৈরিক নিশানকে গুরু বলে মনে করায়। মাটির প্রদীপ ও ধূপ জ্বালিয়ে শুরু হয় গুরুদক্ষিণার অনুষ্ঠান। গোটা হলে তখন অদ্ভুত নীরবতা, প্রশান্তি। এই সময় সংস্কৃতে লেখা কিছু গুরু-স্তুতি পাঠ করা হয়। জানানো হয় গুরুর প্রতি কৃতজ্ঞতা। ভারতের সোনালি যুগের কথা স্মরণ (RSS) করায় যেসব গান, সেগুলোও গান স্বয়ংসেবকরা। দেশ গঠনের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে সেই সোনালি যুগ ফিরিয়ে আনার শপথও নেন তাঁরা। এর পরেই একের পর স্বয়ংসেবক যান পতাকা তলে। সেখানে ট্রেতে রাখা ফুলের পাপড়ি তাঁরা ছড়িয়ে দেন পতাকা দণ্ডের পায়ের কাছে। মাথা নতও করেন স্বয়ংসেবকরা। এই সময় ডান হাত আনত থাকে ভূমি বরাবর। সঙ্ঘের গৈরিক নিশানকে এভাবেই নিত্যদিন শ্রদ্ধা জানান স্বয়ংসেবকরা। সঙ্ঘের (RSS) পরিভাষায় একে বলা হয় ‘ধ্বজা প্রণা’ম। বাংলা তর্জমা করলে যার অর্থ দাঁড়ায় গেরুয়া পাতাকাকে শ্রদ্ধা জানানো। এর পরেই স্বয়ংসেবকরা খামে করে কিছু টাকা কিংবা ফুলের পাপড়ি রেখে দেন।

    গুরুদক্ষিণা কত

    গুরুদক্ষিণা হিসেবে কত টাকা দিতে হবে, তার কোনও নির্দিষ্ট অঙ্ক নেই। কেউ কাউকে জিজ্ঞেসও করেন না, গুরুদক্ষিণা বাবদ কে কত দিলেন। যেহেতু খামের মুখ বন্ধ করা থাকে, তাই কেউই জানেন না, খামে কে কত টাকা দিয়েছেন। দক্ষিণান্তে স্বয়ংসেবকরা ফের একবার ধ্বজা প্রণাম করেন। ফিরে আসেন নিজের আসনে। একইভাবে তাঁর পরের স্বয়ংসেবকও পালন করেন গুরুদক্ষিণার পরম্পরা। উপস্থিত প্রত্যেক স্বয়ংসেবকের (RSS) গুরুদক্ষিণা দেওয়া হয়ে গেলে হয় বক্তৃতা পর্ব। ভাষণ দেন হয় আরএসএসের কোনও প্রবীণ কর্মকর্তা কিংবা এমন কোনও ব্যক্তি, যাঁকে ওই দিনের অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কোনও অধ্যাপক, চিকিৎসক, অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী কিংবা এমন কোনও ব্যক্তি যিনি প্রমিনেন্ট, শাখা প্রধানদের তাঁদেরই প্রধান অতিথি করে আনতে বলা হয়। এই অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তাও তিনিই। এটা করা হয়, যাতে যাঁরা আরএসএস-মনস্ক নন, তাঁরাও যাতে সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।

    আরও পড়ুন: পরপর মন্দিরে হামলা, নেতাকে হত্যা! বাংলাদেশে ফের টার্গেট হিন্দুরা

    সঙ্ঘের ভাবাদর্শ প্রচারে সহায়ক

    সাধারণ অভিজ্ঞতা থেকে জানা গিয়েছে, যাঁরা একবার আরএসএসের গুরুদক্ষিণার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন, তাঁরা এমন অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফেরেন, যাতে সারা জীবনের জন্য তাঁরা আরএসএসের সদস্য পদ গ্রহণ করেন কিংবা আরএসএসের বন্ধু বা সমর্থক হয়ে যান। গুরুদক্ষিণার অনুষ্ঠান শেষে হয় আরএসএসের প্রার্থনা। তার পর প্রত্যেককে তাঁদের প্রাপ্য দেওয়া হয়। যাঁরা নতুন করে আরএসএসের প্রোগ্রামে যোগ দেন, তাঁদের জন্য স্বয়ংসেবকরা কখনও কখনও চা কিংবা কফি এবং স্ন্যাক্সের ব্যবস্থা করেন। এটা অবশ্য সব সময় হয় না, হয় মাঝে মধ্যে। যাঁরা আরএসএসের কোনও প্রোগ্রামে আগে যোগ দেননি কিংবা আরএসএসের সঙ্গে সঙ্গ ছিন্ন করেছেন, মূলত তাঁদের জন্যই আয়োজন করা হয় চা কিংবা কফি চক্রের।

    গুরুদক্ষিণা একটা ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য আরএসএস (RSS) কখনওই ভাঙেনি। তাদের কাছে এটি হল সব চেয়ে শ্রদ্ধার ও পবিত্র একটি অনুষ্ঠান। মৌলিক এই পদ্ধতিতেই অর্থ সংগ্রহ করে আরএসএস। তাই বজায় রাখতে পারে সঙ্ঘের স্বাধীনতা। আরএসএসের প্রসার (Guru Dakshina) ঘটাতেও এটি একটি কার্যকরী মাধ্যম বলে বিবেচিত হয় (RSS)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share