Category: পরম্পরা

Get updated History and Heritage and Culture and Religion related news from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Ramakrishna 27: “সব ত্যাগ করে ভগবানকে ডাক–তিনিই সত্য আর সব অনিত্য”

    Ramakrishna 27: “সব ত্যাগ করে ভগবানকে ডাক–তিনিই সত্য আর সব অনিত্য”

    তৃতীয় পরিচ্ছেদ

    শ্রীরামকৃষ্ণের (Ramakrishna) কেশবের প্রতি স্নেহজগন্মাতার কাছে ডাবচিনি মানা

    আজ কমলকুটিরে সেই বৈঠকখানাঘরে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ভক্তসঙ্গে উপবিষ্ট। ২রা এপ্রিল ১৮৮২, বেলা ৫টা। কেশব ভিতরের ঘরে ছিলেন, তাঁহাকে সংবাদ দেওয়া হইল। তিনি জামা-চাদর পরিয়া আসিয়া প্রণাম করিলেন। তাঁহার ভক্তবন্ধু কালীনাথ বসু পীড়িত, তাঁহাকে দেখিতে যাইতেছেন। ঠাকুর আসিয়াছেন, কেশবের আর যাওয়া হইল না। ঠাকুর বলিতেছেন, তোমার অনেক কাজ, আবার খপরের কাগজ লিখতে হয়; সেখানে (দক্ষিণেশ্বরে) যাবার অবসর নাই; তাই আমিই তোমায় দেখতে এসেছি। তোমার অসুখ শুনে ডাব-চিনি মেনেছিলুম; মাকে বললুম, মা! কেশবের যদি কিছু হয়, তাহলে কলিকাতায় গেলে কার সঙ্গে কথা কইব।

    শ্রীযুক্ত প্রতাপাদি ব্রাহ্মভক্তদের সহিত শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) অনেক কথা কহিয়াছেন। কাছে মাস্টার বসিয়া আছেন দেখিয়া তিনি কেশবকে বলিতেছেন, ইনি কেন ওখানে (দক্ষিণেশ্বরে) যান না; জিজ্ঞাসা করত গা; এত ইনি বলেন, মাগছেলেদের উপর মন নাই। মাস্টার সবে এক মাস ঠাকুরের কাছে যাতায়াত করিতেছেন। শেষে যাইতে কয়দিন বিলম্ব হইয়াছে তাই ঠাকুর এরূপ কথা বলিতেছেন। ঠাকুর বলিয়া দিয়াছিলেন, আসতে দেরি হলে আমায় পত্র দেবে।

    ব্রাহ্মভক্তেরা শ্রীযুক্ত সমাধ্যায়ীকে দেখাইয়া ঠাকুরকে বলিতেছেন, ইনি পণ্ডিত, বেদাদি শাস্ত্র বেশ পড়িয়াছেন। ঠাকুর বলিতেছেন, হাঁ এঁর চক্ষু দিয়া ভিতরটি দেখা যাচ্ছে, যেমন সার্সীর দরজার ভিতর দিয়া ঘরের ভিতরকার জিনিস দেখা যায়।

    শ্রীযুক্ত ত্রৈলোক্য গান গাইতেছেন। গান গাইতে গাইতে সন্ধ্যার বাতি জ্বালা হইল, গান চলিতে লাগিলেন। গান শুনিতে শুনিতে ঠাকুর হঠাৎ দণ্ডায়মান—আর মার নাম করিতে করিতে সমাধিস্থ। কিঞ্চিৎ প্রকৃতিস্থ হইয়া নিজেই নৃত্য করিতে করিতে গান ধরিলেনঃ

    সুরা পান করি না আমি সুধা খাই জয় কালী বলে,

    মন-মাতালে মাতাল করে মদ-মাতালে মাতাল বলে।

    গুরুদত্ত গুড় লয়ে, প্রবৃত্তি তায় মশলা দিয়ে;

    জ্ঞান শুঁড়িতে চোঁয়ায় ভাঁটি পান করে মোর মন মাতালে।

    মূল মন্ত্র যন্ত্রভরা, শোধন করি বলে তারা;

    প্রসাদ বলে এমন সুরা খেলে চতুর্বর্গ মেলে।

    শ্রীযুক্ত কেশবকে ঠাকুর স্নেহপূর্ণ নয়নে দেখিতেছেন। যেন কত আপনার লোক; আর যেন ভয় করিতেছেন, কেশব পাছে অন্য কারু, অর্থাৎ সংসারে হয়েন! তাঁহার দিকে তাকাইয়া আবার গান ধরিলেন;

    কথা বলতে ডরাই; না বললেও ডরাই

    মনের সন্দ হয়; পাছে তোমা ধনে হারাই হারাই।।

    আমরা জানি যে মন-তোর; দিলাম তোরে সেই মন্তোর।

    এমন মন তোর, যে মন্ত্রে বিপদেতে তরী তারই।।

    আমরা জানি যে মন-তোর সেই মন্তোর; এখন মনতোর। অর্থাৎ সব ত্যাগ করে ভগবানকে ডাক,–তিনিই সত্য আর সব অনিত্য; তাঁকে না লাভ করলে কিছুই হল না! এই মহামন্ত্র।

    আবার উপবেশন করিয়া ভক্তদের সঙ্গে কথা কহিয়াছেন।

    তাঁহাকে জল খাওয়াইবার উদযোগ হইতেছে। হলঘরের একপাশে একটি ব্রাহ্মভক্ত পিয়ানো বাজাইতেছেন। শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) হাস্যবদন, বালকের ন্যায় পিয়ানোর কাছে গিয়া দাঁড়াই দেখিতেছেন। একটু পরেই অন্তঃপুরে তাঁহাকে লইয়া যাওয়া হইল। জল খাইবেন। আর মেয়েরাও প্রণাম করিবেন।

    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের জলসেবা হইল। এইবারেই তিনি গাড়িতে উঠিলেন। ব্রাহ্মভক্তেরা সকলেই গাড়ির কাছে দাঁড়াইয়া আছেন। কমলকুটির হইতে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরাভিমুখে যাত্রা করিল।

    আরও পড়ুনঃ“এই স্থানে নরেন্দ্রের গান ঠাকুর প্রথমে শুনেন ও তাঁহাকে দক্ষিণেশ্বরে যাইতে বলেন”

    আরও পড়ুনঃ “দক্ষিণেশ্বরের পরমহংস সামান্য নহেন, এক্ষণে পৃথিবীর মধ্যে এত বড় লোক কেহ নাই”

    আরও পড়ুনঃ “দু-চারটা মাছ এমন সেয়ানা যে, কখনও জালে পড়ে না”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Rash Behari Bose: আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন তাঁর হাতেই, আজ বিপ্লবী রাসবিহারী বোসের জন্মদিন

    Rash Behari Bose: আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন তাঁর হাতেই, আজ বিপ্লবী রাসবিহারী বোসের জন্মদিন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহান বিপ্লবী রাসবিহারী বোসের জন্মদিন আজ। ১৮৮৬ সালের ২৫ মে বর্ধমান জেলার (বর্তমানে পূর্ব বর্ধমান) সুবলদহ গ্রামে তাঁর জন্ম হয়। বিপ্লবী রাসবিহারী বোসের (Rash Behari Bose) রোমহর্ষক কর্মকাণ্ড, স্বদেশপ্রম, দেশের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম তাঁকে ইতিহাসে অমর করে রেখেছে। রাসবিহারী বোস স্থান পেয়েছেন সাহিত্যেও। অনেকের মতে, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘পথের দাবী’ উপন্যাসের সব্যসাচী চরিত্র যেন রাসবিহারী বোসের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।

    আমি রাসবিহারীকে দেখেছি 

    আরও বিভিন্ন সাহিত্যে তুলে ধরা হয়েছে বিপ্লবীর (Rash Behari Bose) বীরত্ব গাধা। এমনই একটি বই হল – ‘আমি রাসবিহারীকে দেখেছি’, লেখক নারায়ণ সান্যাল। এই বইতে নারায়ণ সান্যাল লিখছেন, প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে লোকটা ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছে, সঙ্গী আছেন নদীয়ার বসন্ত বিশ্বাস। হঠাৎই তিনি অল্পবয়সী সঙ্গীকে বললেন, ‘‘ভাল দেখে দুটো পাটনার টিকিট নিয়ে আয়।’’ লোকটাকে এর আগে দেখেনি বসন্ত বিশ্বাস! তারপর এই ধরনের কথাবার্তার জন্য ঠিকঠাক বনিবনাও হচ্ছিল না। সে বলল, ‘‘টিকিট আবার ভাল দেখে খারাপ দেখে হয় নাকি!!” আহ! কথা বাড়াস নি, টিকিট নিয়ে আয়। টিকিট এল পাটনার। লোকটি বসন্ত বিশ্বাসকে নিয়ে ছুটে গিয়ে উঠল দেরাদুন এক্সপ্রেসে। বসন্ত বিশ্বাস এবার নিশ্চিত হল লোকটা পাগল। ট্রেনে উঠেই বাথরুমে। বহুক্ষণ পর বেরিয়ে এসে বললেন, ‘‘দেখিস নি একটা টিকটিকি আমাকে ফলো করছিল, বেচারা কাল সকালে পাটনায় নেমে আমাকে খুঁজবে, ভেরি প্যাথেটিক।’’ লেখকের আরও সংযোজন, ‘‘দিল্লির বুকে বড়লাট লর্ড হার্ডিঞ্জের ওপর বোমা পড়ল। ওদিকে দেরাদুনে সন্ত্রাস বিরোধী সভা শুরু হল। সভাপতি রাসবিহারী বোস (Rash Behari Bose)। সেকি ভাষণ!! বন্ধু পুলিশ কী করছিল! গোয়েন্দারা এখন কোথায়!! এ যে ভারত আত্মার ওপর হামলা! সারা পৃথিবী আমাদের দিকে তাকিয়ে হাসছে। এমন ঘৃণ্য ঘটনা যারা ঘটায় তাদের দিল্লির চাঁদনি চকে প্রকাশ্যে ফাঁসি দেওয়া উচিত! পিছনের সারিতে বসে এই ভাষণ শুনছিল বসন্ত বিশ্বাস। সদ্য সে হার্ডিঞ্জকে বোমা মেরে এসেছে। নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিল না সে। এসব কথা কে বলছেন? যিনি নিজের হাতে  আমাকে বোমা বানাতে শিখিয়েছিলেন! যিনি নিজে বোমা নিক্ষেপের সময় আমার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। শ্রদ্ধায় ভক্তিতে মাথা নত হয় তার।’’

    ব্রিটিশ পুলিশ অতি সক্রিয় হয়েও ধরতে পারেনি তাঁকে  

    রাসবিহারী বোস (Rash Behari Bose) সম্পর্কে ওই বইতে আরও লেখা রয়েছে, সুনীল ঘোষ, দুঁদে গোয়েন্দা! স্বীকারোক্তি দিচ্ছেন ‘‘ঘড়িয়ালটাকে আমি প্রচুর টাকা দিয়েছি, রাজভক্ত কর্মচারী হিসেবে বিপ্লবীদের ধরিয়ে দেওয়া নাকি তার কর্তব্য!! তাকে আমি এজেন্ট রেখেছিলাম ! আমার কাছে টাকা নিয়ে সে বিপ্লবীদের জন্য বোমা বানাতো।’’ সমগ্র ব্রিটিশ প্রশাসনকে চোখের জলে, নাকের জলে করে ছেড়েছিলেন। তিনিই ছিলেন একমাত্র বিপ্লবী যাঁকে শেষ দিন পর্যন্ত অতিসক্রিয় হয়েও ব্রিটিশ পুলিশ ধরতে পারেনি।

    প্রাথমিক জীবন

    মাত্র তিন বছর বয়সেই রাসবিহারী বোসের মাতৃদেবী পরলোক গমন করেন এরপরে তিনি তাঁর মামার কাছে মানুষ হন। জানা যায় রাসবিহারী বসু প্রাথমিকভাবে তাঁর দাদু কালীচরণ বোসের তত্ত্বাবধানে সুবলদহে এবং পরবর্তীকালে চন্দননগরের ডুপ্লে কলেজে শিক্ষা লাভ করেন। তৎকালীন সময়ে সারা দেশে ব্রিটিশ শাসন থাকলেও চন্দননগর ফরাসি শাসনের অধীনে ছিল। বাল্যকালে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা আনন্দমঠ উপন্যাস পড়ে তিনি অনুপ্রাণিত হন। তাঁর জাতীয়তাবাদী চেতনার উন্মেষণ ঘটে স্বামী বিবেকানন্দের বিভিন্ন লেখা এবং বক্তৃতা পড়ে। জানা যায়, বিপ্লবী তাঁর বাবার ইচ্ছায় সিমলা চলে যান এবং সেখানে সরকারী প্রেসে কাজ করতে থাকেন। এরপর সেখান থেকে এক সহকর্মীর পরামর্শে বিপ্লবী মহানায়ক প্রমথনাথ ঠাকুরের বাড়িতে দেহরাদুনে থাকতে শুরু করেন। সেখানে ‘দেরাদুন ফরেস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউশন’-এ কেরানির চাকরি করতে থাকেন তিনি।

    ১৯১২ সালে বড়লাটের ওপর বোমা নিক্ষেপ

    ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের পরে বিভিন্ন বিপ্লবী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়তে থাকেন রাসবিহারী বসু (Rash Behari Bose)। তিনি ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের (বাঘা যতীন)। ১৯১২ সালে ২৩ ডিসেম্বর দিল্লিতে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের ওপর বোমা নিক্ষেপ করা হয়। যার মূল কারিগর ছিলেন রাসবিহারী বসু নিজে। সঙ্গী ছিলেন দুজন, বসন্ত বিশ্বাস ও অবোধ বিহারী বোস। দিল্লির শোভাযাত্রায় মহিলার বেশে বোমা ছোঁড়ার আগে বসন্ত বিশ্বাস প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন দেরাদুনে। প্রশিক্ষক ছিলেন রাসবিহারী বসু। টিনের সিগারেটের কৌটোতে পাথর ভরে, তা ছুড়তেন বসন্ত বিশ্বাস। ১৯১২ সালে ২৩ ডিসেম্বর বড়লাট হাতির পিঠে সওয়ার ছিলেন। সেসময় বোমা ছোড়া হয় তাঁর ওপরে। বোমার আঘাতে জখম বড়লাটকে ডাক্তার এসি সেনের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। অবোধ বিহারী ও বসন্ত বিশ্বাস দুজনেরই ফাঁসি হয়। কিন্তু রাসবিহারী বোসকে শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ পুলিশ ধরতে পারেনি।

    সেনা বিদ্রোহের প্রচেষ্টা 

    বড়লাট মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেলেও রাসবিহারী বসুর বিপ্লবী প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিল। ১৯১৪ সাল নাগাদ, ভারতের বিপ্লবী কাজকর্মের জন্য আমেরিকা, কানাডা থেকে প্রচুর পরিমাণে বিস্ফোরক পদার্থ ভারতে আনা হয়েছিল। এই কাজগুলি করত মূলত আমেরিকার গদর পার্টি। এই সময়ে সামনে আসেন বিষ্ণু গনেশ পিংলার নাম। যিনি আমেরিকারতে একজন প্রশিক্ষিত গদর পার্টির নেতা। তিনি বারাণসীতে রাসবিহারী বোসের সঙ্গে দেখা করেন এবং এক বড় বিপ্লবী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করেন। সেই মতো ১৯১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনীতে বিপ্লব করার দিনক্ষণ স্থির করা হয়। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী, সমস্ত পুলিশ ফাঁড়িগুলিকে দখল করে নেওয়া হবে, এমন পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু মাত্র ছয় দিন আগে ১৫ ফেব্রুয়ারি কৃপাল সিং এর বিশ্বাসঘাতকতায় এই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

    ছদ্মবেশে দেশ ত্যাগ ও জাপানে গিয়ে বিবাহ 

    এরপরেই ওই বছরেই অর্থাৎ ১৯১৫ সালের ১২ মে রাজ রাসবিহারী বসু ছদ্মবেশে কলকাতা ত্যাগ করেন। তিনি রাজা পিএন ঠাকুর হিসেবে জাপানে যান এবং নিজেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দূর সম্পর্কের আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দেন। সে মতো পাসপোর্টও তিনি বানিয়েছিলেন। অনেক ঐতিহাসিক বলেন যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাকি অবগত ছিলেন রাসবিহারী বসুর এই ছদ্মবেশ সম্পর্কে। ১৯১৫ সালের ২২ মে সিঙ্গাপুরে এবং ওই বছরের জুন মাসে তিনি টোকিওতে পৌঁছান। ১৯১৫ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত রাসবিহারী বসু সতেরোবার তাঁর আবাসস্থল পরিবর্তন করেন বলে জানা যায়। পরবর্তীকালে তিনি বিয়ে করেন জাপানেই এবং সেখানকার নাগরিকত্ব নেন। তাঁর স্ত্রীর নাম ছিল তোসিকো। তাঁদের দুই সন্তান ছিল। একটি ছেলে এবং অপরটি মেয়ে। ছেলের নাম ছিল মাসাহিদ আর মেয়ের নাম ছিল তেতাকু।

    আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন 

    ১৯৪২ সালের ২৮ মার্চ টোকিও-তে একটি সম্মেলনের পরে তিনি ‘ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স লিগ’ কে প্রতিষ্ঠা করেন। এরপরেই সেই লীগের সভাপতি করার কথা ঘোষণা করেন সুভাষচন্দ্র বসুকে। জাপানিদের হাতে বন্দি ভারতীয় সেনাদের ইন্ডিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্স লিগ এবং ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মিতে যোগদান করানো হয়, যা আজাদ হিন্দ ফৌজ নামে পরিচিত। ১৯৪৫ সালের ২১ জানুয়ারি রাসবিহারী বসু (Rash Behari Bose), দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই টোকিওতে প্রয়াত হন। জাপান সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত করে। ‘দ্য সেকেন্ড অর্ডার অফ মেরিট অফ দ্য রাইসিং সান’ সম্মান লাভ করেন তিনি।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Ramakrishna 26: “এই স্থানে নরেন্দ্রের গান ঠাকুর প্রথমে শুনেন ও তাঁহাকে দক্ষিণেশ্বরে যাইতে বলেন”

    Ramakrishna 26: “এই স্থানে নরেন্দ্রের গান ঠাকুর প্রথমে শুনেন ও তাঁহাকে দক্ষিণেশ্বরে যাইতে বলেন”

    তৃতীয় পরিচ্ছেদ

    শ্রীযুক্ত কেশবের হিন্দুধর্মের উপর উত্তরোত্তর শ্রদ্ধা

    ইহার কিছুদিন পরে ১৮৮১ মাঘোৎসবের সময় জানুয়ারি মাসে কেশব শ্রীরামকৃষ্ণকে (Ramakrishna) দর্শন করিতে দক্ষিণেশ্বরে যান। তখন রাম, মনোমোহন, জয়গোপাল সেন প্রভৃতি অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

    ১৮০৩ শক, ১লা শ্রাবণ (কৃষ্ণা চতুর্থী, ১২৮৮), শুক্রবার, ১৫ই জুলাই, ১৮৮১, কেশব আবার শ্রীরামকৃষ্ণকে দক্ষিণেশ্বর হইতে স্টিমারে তুলিয়া লন।

    ১৮৮১ নভেম্বর মাসে মনোমোহনের বাটিতে যখন ঠাকুর শুভাগমন করেন ও উৎসব হয়, তখনও কেশব নিমন্ত্রিত হইয়া উৎসবে যোগদান করেন। শ্রীযুক্ত ত্রৈলোক্য প্রভৃতি গান করিয়াছিলেন।

    ১৮৮১ ডিসেম্বর মাসে রাজেন্দ্র মিত্রের বাটিতে শ্রীরামকৃষ্ণ নিমন্ত্রিত হইয়া যান। শ্রীযুক্ত কেশবও গিয়েছিলেন। বাটিটি ঠন্‌ঠনে বেচু চাটুজ্যের স্ট্রীটে। রাজেন্দ্র রাম ও মনোমোহন মেসোমহাশয়। রাম, মনোমোহন, ব্রাহ্মভক্ত রাজমোহন, রাজেন্দ্র, কেশবকেও সংবাদ দেন ও নিমন্ত্রণ করেন।

    কেশবকে যখন সংবাদ দেওয়া হয়, তখন তিনি অঘোরনাথের শোকে অশৌচ গ্রহণ করিয়েছিলেন। প্রচারক ভাই অঘোর ২৪শে অগ্রহায়ণ, ৮ই ডিসেম্বর বৃহস্পতিবারে লক্ষণৌ নগরে দেহত্যাগ করেন। সকলে মনে করিলেন, কেশব বুঝি আসিতে পারিবেন না। কেশব সংবাদ পাইয়া বলিলেন, “সে কি! পরমহংস মহাশয় আসিবেন আর আমি যাইব না। অবশ্য যাইব। অশৌচ তাই আমি আলাদা জায়গায় খাব।

    মনোমোহনের মাতা ঠাকুরানী পরম ভক্তিমতী শ্যামসুন্দরী দেবী ঠাকুরকে পরিবেশন করিয়াছিলেন। রাম খাবার সময় দাঁড়াইয়াছিলেন। যেদিন রাজেন্দ্রের বাটিতে শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) শুভাগমন করেন, সেইদিন অপরাহ্ণে সুরেন্দ্র তাঁহাকে লইয়া চীনাবাজারে তাঁহার ফোটোগ্রাফ লইয়াছিলেন। ঠাকুর দণ্ডায়মান সমাধিস্থ।

    উৎসবের দিবসে মহেন্দ্র গোস্বামী ভগবত পাঠ করিলেন।

    ১৮৮২ জানুয়ারি মাঘোৎসবের সময় সিমুলিয়া ব্রাহ্মসমাজের উৎসব হয়। জ্ঞান চৌধুরির বাটীতে, দালানে ও উঠানে উপাসনা ও কীর্তন হয়। শ্রীরামকৃষ্ণ ও কেশব নিমন্ত্রিত হইয়া উপস্থিত ছিলেন। এই স্থানে নরেন্দ্রের গান ঠাকুর প্রথমে শুনেন ও তাঁহাকে দক্ষিণেশ্বরে যাইতে বলেন।  

    ১৮৮২ খ্রিষ্টাব্দে ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ১২ই ফাল্গুন বৃহস্পতিবার কেশব শ্রীরামকৃষ্ণকে দক্ষিণেশ্বরে ভক্তসঙ্গে আবার দর্শন করিতে আসেন। সঙ্গে জোসেফ কুক্‌ আমেরিকান পাদরী মিস পিগট। ব্রাহ্মভক্তগণসহ কেশব ঠাকুরকে স্টিমারে তুলিয়া লইলেন। কুক্‌ সাহেব শ্রীরামকৃষ্ণের (Ramakrishna) সমাধি অবস্থা দেখিলেন। শ্রীযুক্ত নগেন্দ্র এই জাহাজে উপস্থিত ছিলেন। তাঁহার মুখে সমস্ত শুনিয়া মাস্টার দশ-পনেরো দিনের মধ্যে দক্ষিণেশ্বরে শ্রীরামকৃষ্ণকে প্রথম দর্শন করেন।

    আরও পড়ুনঃ “দক্ষিণেশ্বরের পরমহংস সামান্য নহেন, এক্ষণে পৃথিবীর মধ্যে এত বড় লোক কেহ নাই”

    আরও পড়ুনঃ “দু-চারটা মাছ এমন সেয়ানা যে, কখনও জালে পড়ে না”

    আরও পড়ুনঃ“বেঙাচির ল্যাজ খসলে জলেও থাকতে পারে, আবার ডাঙাতেও থাকতে পারে”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Naga Sadhus: তাঁদের বীরত্ব ও দাপটের সামনে হার মানে আফগান বাহিনীও, জানুন নাগা সাধুদের ইতিহাস

    Naga Sadhus: তাঁদের বীরত্ব ও দাপটের সামনে হার মানে আফগান বাহিনীও, জানুন নাগা সাধুদের ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সনাতন ধর্মে যুদ্ধের ঐতিহ্য বরাবরই রয়েছে। ধর্মের বেশিরভাগ দেবতার হাতেই সে কারণে অস্ত্র আমরা দেখতে পাই। দেবী দুর্গা থেকে শ্রীকৃষ্ণ, ভগবান বিষ্ণু থেকে রামচন্দ্র। প্রত্যেকেই অস্ত্র ধরেছেন, যুদ্ধ করেছেন ও ধর্মরাজ্যের স্থাপন করেছেন। অষ্টম শতাব্দীতে হিন্দু ধর্মের পুনর্জাগরণ করেন আদি শঙ্করাচার্য। মূলত সারা ভারতব্যাপী তীর্থ ভ্রমণ করে হিন্দু জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন তিনি। তখন থেকেই নতুন একটি সামরিক প্রথা চালু হয়। হিন্দু আখড়াগুলির মধ্যে নাগা-রা ছিল সবচেয়ে বেশি সামরিকভাবে সজ্জিত এবং শক্তিশালী। বৈদিক ধর্মের ওপর যেখানেই আঘাত আসত সেখানেই এগিয়ে যেত নাগা সাধুরা (Naga Sadhus) এবং তারা রুখে দিত আক্রমণকারীদের। ঐতিহাসিকদের মতে, নাগাদের হাতে থাকত তলোয়ার, বর্শা, তীরধনুক ইত্য়াদি।

    শঙ্করাচার্যের শাস্ত্র ও শস্ত্র ভাবনা

    আদিগুরু শঙ্করাচার্য (Adi Shankaracharya) কেরলের কালাডি গ্রামের জন্মগ্রহণ করেছিলেন। জানা যায়, মাত্র পাঁচ বছর বয়সেই সন্ন্যাস ধর্মে দীক্ষিত হয়ে তিনি বাড়ি ছেড়েছিলেন। জ্ঞান এবং অস্ত্র অর্থাৎ ভালো বাংলায় বলতে গেলে শাস্ত্র এবং শস্ত্র – এই দুটিরই প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন আদি শঙ্করাচার্য। শাস্ত্রকে তিনি আচার্যদের ওপর ছেড়ে দেন এবং অস্ত্রের দায়িত্ব তিনি নাগাদের (Naga Sadhus) ওপরেই দেন। আদিগুরু শঙ্করাচার্যের এমন ভাবনা সফল হয়। সারা ভারতবর্ষে হিন্দু ধর্মের পুনর্জাগরণ শুরু হয়। শঙ্করাচার্য প্রবর্তিত সম্প্রদায় দশনামী সম্প্রদায় নামে পরিচিত। উল্লেখযোগ্য সম্প্রদায়গুলি হল – গিরি অর্থাৎ পর্বতের সম্প্রদায়, পুরী অর্থাৎ শহরের সন্ন্যাসী, সরস্বতী যার অর্থ পুরোহিত, আরণ্যক অর্থাৎ বনের সম্প্রদায়। সাগর অর্থাৎ সমুদ্র উপকূলীয় সম্প্রদায়।

    বীর নাগা সাধুরা পরাস্ত করে আফগানদের 

    আদিগুরু শঙ্করাচার্যের এই ভাবনা যে বৃথা যায়নি তা প্রমাণ করে দেন নাগা সন্ন্যাসীরা (Naga Sadhus)। একাধিক যুদ্ধভূমিতে। ১৭৫৭ সালে গোকুলের যুদ্ধের নাগা সন্ন্যাসীরা (Naga Sadhu) অসম্ভব বীরত্বের পরিচয় দেন এবং সেখানে আফগান সেনাপতি সর্দার খান যখন গোকুল আক্রমণ করেন সেখানে মাত্র তিন হাজার নাগা সাধু ত্রিশ হাজার আফগান সৈন্যকে পরাজিত করতে সমর্থ হন।

    আহমেদ শাহ আবদালি চারবার ভারত আক্রমণ করেছিলেন

    প্রসঙ্গত, আফগানিস্তানের সম্রাট আহমেদ শাহ আবদালি চারবার ভারত আক্রমণ করেছিলেন বলে জানা যায়। সে সময় মুঘলরা অত্যন্ত দুর্বল ছিল এবং উত্তর ভারতে ইসলামিক আক্রমণকে প্রতিহত করার মতো কোনও হিন্দু শক্তি ছিল না। ১৭৫৭ সালের জানুয়ারি মাসে আফগান বাহিনী লুণ্ঠন করে, প্রচুর মন্দির ধ্বংস করে। এত লুটপাট চালানোর পরেও আফগান সম্রাট তাঁর দুই জন সেনাপতি নাজিব খান এবং জাহান খানকে কুড়ি হাজার সৈন্য সমেত মথুরা,আগ্রা, বল্লভগড় এবং বৃন্দাবনে হামলা চালানোর  নির্দেশ দেন। জানা যায়, সেই সময় তিনি তাঁর সৈন্যদের বলেন যে মথুরা এবং বৃন্দাবন হিন্দুদের একটা পবিত্র স্থান। এটিকে সম্পূর্ণভাবে তলোয়ারের নিশানায় রাখতে হবে। আগ্রা পর্যন্ত কোনও জায়গাকে ছাড়া যাবে না। প্রতিটি দালান বাড়িতে ভেঙে ফেলতে হবে। হিন্দু কাফেরদের শিরোচ্ছেদ করতে হবে। আফগানিস্তানে এসে সেই মাথা আমাকে উপহার দিতে হবে। তার জন্য পুরস্কার হিসেবে তোমরা ৫ টাকা নেবে।

    মথুরায় ধ্বংসলীলা আফগানদের

    আফগান সেনারা এই নির্দেশ মোতাবেক মথুরায় পৌঁছায় এবং তারা একের পর এক মন্দিরকে ধ্বংস করতে থাকে। তার পাশাপাশি হিন্দু মহিলাদের ধর্ষণ করতে থাকে। হিন্দু পুরুষদের শিরোচ্ছেদ করে টুকরো টুকরো করা হয়। শিশুদেরকে দাস বানানো হয়। অনেক নারী তাদের সম্মান রক্ষায় যমুনা নদীতে ঝাঁপ দিতে বাধ্য হন। জানা যায়, সে সময়ে আফগান আক্রমণকারীদের হাত থেকে বাঁচার জন্য প্রচুর সংখ্যক মহিলা এবং শিশু শীতলা মাতা মন্দির এর পিছনে গুহায় আশ্রয় নেন। কিন্তু সেই জায়গাও আফগান সৈন্যরা দেখে ফেলে এবং সেখানে অত্যন্ত নিষ্ঠুরতা সঙ্গে প্রবেশ করে ভিতরে থাকা প্রত্যেকটি হিন্দুকে হত্যা করে। মথুরার পবিত্র ভূমিতে হিন্দুদের ওপর এই আক্রমণ তিনদিন ধরে চলেছিল এবং সেখানে আকাশ বাতাসে কয়েক মাস ধরে দুর্গন্ধ ছিল বলে জানা যায়। আফগানিস্তানের সেনারা ৬,০০০ হিন্দু নারীকে ক্রীতদাস বানায় এবং ১২ কোটি টাকা মথুরা থেকে লুট করে। মথুরা আক্রমণ করার পর আফগানরা বৃন্দাবনের দিকে অগ্রসর হয় এবং সেখানে আক্রমণ চালানো হয়। 

    আফগানরা রণে ভঙ্গ দেয় নাগাদের আক্রমণের মুখে পড়ে

    বৃন্দাবনকে ধ্বংস করার পর আফগান সেনাপতি সর্দার খান, গোকুলকে লুণ্ঠন করে লুটপাট করার কথা ভাবেন। সেই মতো ১০ হাজার আফগান সেনা বাহিনী গোকুলের দিকে অগ্রসর হয়। সেখানে তারা দেখতে পান ৪ হাজার নাগা সাধু (Naga Sadhus) তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য দাঁড়িয়ে রয়েছে। নাগা সাধুরা যখন আফগানিস্তানে হিন্দুদের ওপর দুর্দশার কথা শুনেছিলেন তখন তাঁরা হরিদ্বার এবং উজ্জয়িনী গোকুলে আসতে থাকেন। নাগা সাধুদের সঙ্গে প্রবল যুদ্ধ শুরু হয় আফগানিস্তানে সেনাদের। প্রথমে আফগান সেনারা মনে করেছিল যে নাগা সাধুরা তাদেরকে মোকাবিলা করতে পারবে না কিন্তু শীঘ্রই তারা ভুল প্রমাণ হতে থাকে। নাগাদের (Naga Sadhu) সামরিক দক্ষতার কাছে একদম পরাস্ত হয় তারা। আতঙ্কিত আফগান সেনারা রণে ভঙ্গ দিয়ে পালিয়ে যায় এবং নাগাদের কোনওভাবেই তারা প্রতিরোধ করতে পারে না। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে আফগান সেনারা পরাজয় স্বীকার করে। জানা যায়, গোকুলের প্রবল যুদ্ধে ২০০০ নাগা সৈন্য মারা যান এবং আফগান সৈন্যদের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা ছিল ৫০০০। নাগা সন্ন্যাসীরা অসংখ্য হিন্দু মন্দিরে আফগান শাসন থেকে মুক্ত করেছিলেন এবং গোকুলকে সেদিন রক্ষা করেন নাগা সাধুরা (Naga Sadhus)। নাগা সাধুদের সাহসিকতা এবং বীরত্বের ইতিহাস আজও অনুপ্রাণিত করে আমাদের।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।
     

  • Sharada Peeth: আদি শঙ্করাচার্য পাঠ দিতেন, কেমন ছিল প্রাচীন ভারতের সারদা বিশ্ববিদ্যালয়?

    Sharada Peeth: আদি শঙ্করাচার্য পাঠ দিতেন, কেমন ছিল প্রাচীন ভারতের সারদা বিশ্ববিদ্যালয়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রাচীন ভারতের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল সারদা পীঠ (Sharada Peeth)। ঐতিহাসিকদের মতে, দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত এই বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান চর্চার উল্লেখযোগ্য কেন্দ্র ছিল। এখানেই আদি শঙ্করাচার্য, কলহন শিক্ষাদান করতেন বলে জানা যায়। সারদা পীঠেই রচিত হয়েছিল অসংখ্য সংস্কৃত পান্ডুলিপি। সংস্কৃত শিক্ষার পীঠস্থান হয়ে উঠেছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয় পাকিস্তান অধ্যুষিত কাশ্মীরের অবস্থিত। সারদা পীঠের বর্তমান অবস্থান পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাজধানী মুজাফফরাবাদ থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে এবং জম্মু কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগর থেকে ১৩০ কিলোমিটার দূরে। সারদা পীঠে বিভিন্ন বৈদিক ধর্মের কাজ, ধর্মগ্রন্থ রচনা, অনুবাদ, ভাষ্যের কাজ চলত বলে জানা যায়। এরপাশাপাশি একাধিক বিষয়ে ছাত্ররা পাঠ নিতেন পণ্ডিতদের কাছে। অনেক ঐতিহাসিকের মতে সারদা পীঠ ছিল তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমসাময়িক এবং নালন্দার চেয়েও বহু পুরনো। 

    সারদা নামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিদ্যার দেবী অর্থাৎ দেবী সরস্বতী নাম 

    সারদা (Sharada Peeth) নামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বিদ্যার দেবী অর্থাৎ দেবী সরস্বতী নাম। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন নামকরণ থেকেই বোঝা যায় জ্ঞান ও বিদ্যা চর্চার এক উৎকর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়। প্রসঙ্গত, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, দেবী সরস্বতীর আবাস ছিল কাশ্মীরে এবং সেই অনুযায়ী এই শ্লোক আজ ও উচ্চারিত হয়- 
    “नमस्ते शारदे देवी काश्मीरपुरवासिनि, त्वामहं प्रार्थये नित्यं विद्यादानं च देहि मे”

    ২৩৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থাপন করা হয়েছিল

    ঐতিহাসিকদের গবেষণা থেকে জানা যায়, ২৩৭ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থাপন করা হয়েছিল। আবার অনেক গবেষক মনে করেন, কুষাণদের রাজত্বকালে প্রথম শতাব্দীর দিকে এটি নির্মিত হয়েছিল। সারদা পীঠের (Sharada Peeth) সঙ্গে আদিগুরু শঙ্করাচার্যের নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত রয়েছে। মনে করা হয় আদিগুরু শঙ্করাচার্য সারদা পীঠের দায়িত্ব নেওয়ার আগে সেখানে বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরাই শিক্ষাদান করতেন। দেশভাগের আগে পর্যন্ত সারদা পীঠ ছিল ভারতের তিনটি প্রধান মন্দিরের অন্যতম। অন্য দুটি হল মার্তন্ড সূর্য মন্দির অমরনাথ মন্দির।

    সারদা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন পাঁচ হাজারেরও বেশি পণ্ডিত ও ছাত্র 

    ঐতিহাসিকদের গবেষণা থেকে জানা যায়, সারদা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন পাঁচ হাজারেরও বেশি পণ্ডিত ও ছাত্র। সেখানে একটি লাইব্রেরিও ছিল। এই গ্রন্থাগার নালন্দার থেকে কোনও অংশে কম ছিল না। এখানে বৌদ্ধধর্মের শিক্ষা যেমন দেওয়া হতো, তেমনই ইতিহাস, ভূগোল, স্ট্রাকচারাল সায়েন্স, যুক্তিবিদ্যা, দর্শন ইত্যাদিও পড়ানো হতো। অনেক ঐতিহাসিকের মতে, প্রাচীন ভারতের সবথেকে বৃহত্তম গ্রন্থাগার সারদা বিশ্ববিদ্যালয়তেই ছিল। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি নিজস্ব লিপির কথাও জানা যায়, একটি হল সারদা লিপি এবং অপরটি হল নাগরী লিপি।

    সারদা পীঠে হিন্দু বৌদ্ধ ধর্মের পাশাপাশি জৈন সমাজের পণ্ডিতরাও যুক্ত ছিলেন

    সারদা পীঠে (Sharada Peeth) হিন্দু বৌদ্ধ ধর্মের পাশাপাশি জৈন সমাজের পণ্ডিতরাও যুক্ত ছিলেন বলে জানা যায়। রামানুচার্য সারদাপীঠ দর্শন করেছিলেন বলে জানা যায়। চিনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং সারদা পীঠে আসেন। এই পীঠকে জ্ঞান ও শিক্ষার এক উৎকর্ষ এবং সমৃদ্ধ কেন্দ্র হিসেবে তিনি নিজের বিবরণীতে লেখেন। দেশভাগের পরবর্তীকাল থেকেই পাকিস্তান মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদীদের হানা চলতে থাকে জম্মু-কাশ্মীরে। যার ফলে এই মন্দিরটি পরিত্যক্ত হয়ে ওঠে। ২০০৫ সালে কাশ্মীরে ভূমিকম্পের ফলে মন্দিরটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদিও পাকিস্তান সরকার এই মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ এবং পুনরুদ্ধারের জন্য কোনও রকমের ব্যবস্থা নেয়নি।

    আদি শঙ্করাচার্য পাঠদান করতেন

    বহু উল্লেখযোগ্য পণ্ডিতদের নাম জড়িয়ে রয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন হলেন-

    কলহন: কলহন ছিলেন প্রাচীন ভারতবর্ষের একজন ঐতিহাসিক। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ রাজতরঙ্গিনী সংস্কৃত ভাষায় লেখা। এটি কাশ্মীরের ওপর লেখা একটি ইতিহাস।

    আদি শঙ্করাচার্য: আদি শঙ্করাচার্যের নামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে হিন্দু ধর্মের পুনর্জাগরণের ইতিহাস। আদি শঙ্করাচার্যও যুক্ত ছিলেন সারদা পীঠের সঙ্গে।

    কুমারজীব: সারদা পীঠের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বৌদ্ধ পণ্ডিত কুমারজীবের নাম যিনি একজন অনুবাদক ছিলেন।

    হিন্দুদের বিশ্বাস, সতীর ডান হাত এখানে পড়েছিল

    প্রসঙ্গত, ৫১ শক্তি পীঠের মধ্যে অন্যতম হল সারদা পীঠ। হিন্দুদের বিশ্বাস, সতীর ডান হাত এখানে পড়েছিল। ঐতিহাসিকদের মতে, কলহন তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ রাজতরঙ্গিনীতে লেখেন, অষ্টম শতাব্দীতে গৌড় রাজা ললিতাদিত্যের শিষ্যরা সারদা মন্দিরের দর্শনের জন্য বাংলা থেকে কাশ্মীরে এসেছিলেন। আকবরের সভাকবি আবুল ফজলের লেখাতেও উল্লেখ মেলে সারদা পীঠের।

    সাম্প্রতিক সময়ে ফের একবার সারদা পীঠ খবরের শিরোনামে এসেছে

    প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে ফের একবার সারদা পীঠ খবরের শিরোনামে এসেছে। গত বছরেই ২২ মার্চ ২০২৩ সালে কুপওয়ারাতে সারদা মন্দিরের ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেন অমিত শাহ এবং সে সময় ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সারদা পীঠ যা বর্তমানে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অবস্থিত, এটি ভারত থেকে আসা হিন্দু তীর্থযাত্রীদের জন্য খুলে দেওয়া উচিত। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য সারদা পীঠের মতোই শিখ তীর্থযাত্রী যাত্রীদের জন্য কর্তারপুরে একটি করিডোর ইতিমধ্যে খোলা হয়েছে। সেরকমই সারদা পীঠে (Sharada Peeth) হিন্দু তীর্থযাত্রীদের জন্য করিডর খোলা হবে নাকি তা ভবিষ্যতেই বোঝা যাবে।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Ramakrishna 25: “দক্ষিণেশ্বরের পরমহংস সামান্য নহেন, এক্ষণে পৃথিবীর মধ্যে এত বড় লোক কেহ নাই”

    Ramakrishna 25: “দক্ষিণেশ্বরের পরমহংস সামান্য নহেন, এক্ষণে পৃথিবীর মধ্যে এত বড় লোক কেহ নাই”

    তৃতীয় পরিচ্ছেদ

    শ্রীযুক্ত কেশবের হিন্দুধর্মের উপর উত্তরোত্তর শ্রদ্ধা

    ১৮৯৭, ২৯ শে অক্টোবর বুধবার (১৩ই কার্তিক, ১২৮৬), কোজাগর পূর্ণিমায় বেলা ১ টার সময় কেশব আবার ভক্তসঙ্গে শ্রীরামকৃষ্ণকে দক্ষিণেশ্বরে দর্শন করতে যান। স্টীমারের সঙ্গে একখানি বজরা, ছয়খানি নৌকা, দুইখানি ডিঙ্গি, প্রায় ৮০ জন ভক্ত। সঙ্গে পতাকা পুষ্পপল্লব খোল করতাল ভেরী। হৃদয় অভ্যর্থনা করিয়া কেশবকে স্টীমার হইতে আনেন—গান গাইতে গাইতে সুরধনীর তীরে হরি বলে কে, বুঝি প্রেমদতা নিতাই এসেছে। ব্রাহ্মভক্তগণও পঞ্চবটী হইতে কীর্তন করিতে করিতে তাঁহার সঙ্গে আসিতে লাগিলেন; সচ্চিদানন্দ বিগ্রহ রূপানন্দ ঘন! তাহাদের মধ্যে ঠাকুর মাঝে মাঝে সমাধিস্থ। এই দিনে সন্ধ্যার পর বাঁধঘাটে পূর্ণচন্দ্রের আলোকে কেশব উপাসনা করিয়াছিলেন।    

    উপাসনার পর ঠাকুর বলিতেছিলেন, তোমরা বল “ব্রহ্ম আত্মা ভগবান” “ব্রহ্ম মায়া জীব জগৎ” “ভগবত ভক্ত ভগবান”। কেশবাদি ব্রাহ্মভক্তগণ সেই চন্দ্রালোকে ভাগীরথীতীরে সমস্বরে শ্রীরামকৃষ্ণের সঙ্গে সঙ্গে ওই সকল মন্ত্র ভক্তিভরে উচ্চারণ করিতে লাগিলেন। শ্রীরামকৃষ্ণ আবার যখন বলিলেন, “বল গুরু কৃষ্ণ বৈষ্ণব”। তখন কেশব আনন্দে হাসিতে হাসিতে বলিতেছেন, মহাশয়, এখন অতদূর নয়; “গুরু কৃষ্ণ বৈষ্ণব” আমরা যদি বলি লোকে বলিবে গোঁড়া! শ্রীরামকৃষ্ণও হাসিতে লাগিলেন ও বলিলেন, বেশ তোমরা (ব্রাহ্মরা) যতদূর পার তাহাই বল।

    কিছু দিন পরে ১৩ই নভেম্বর (২৮ শে কার্তিক), ১৮৭৯ কালীপূজার পরে রাম, মনোমোহন, গোপাল মিত্র দক্ষিণেশ্বরে শ্রীরামকৃষ্ণকে প্রথম দর্শন করেন।

    ১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দে একদিন গ্রীষ্মকালে রাম ও মনোমোহন কমলকুটিরে কেশবের সহিত দেখা করিতে আসিয়াছিলেন। তাঁহাদের ভারী জানিতে ইচ্ছা, কেশববাবু ঠাকুরকে কিরূপ মনে করেন। তাঁহারা বলিয়াছেন, কেশববাবুকে জিজ্ঞাসা করাতে বলিলেন, “দক্ষিণেশ্বরের পরমহংস সামান্য নহেন, এক্ষণে পৃথিবীর মধ্যে এত বড় লোক কেহ নাই। ইনি এত সুন্দর, এত সাধারণ ব্যক্তি, ইঁহাকে অতি সাবধানে সন্তর্পণে রাখতে হয়; অযত্ন করলে এঁর দেহ থাকবে না; যেমন সুন্দর মূল্যবান জিনিস গ্লাসকেসে রাখতে হয়।

    আরও পড়ুনঃ “ঈশ্বরলাভ না করলে তাঁর আদেশ পাওয়া যায় না”

    “বেঙাচির ল্যাজ খসলে জলেও থাকতে পারে, আবার ডাঙাতেও থাকতে পারে”

    আরও পড়ুনঃ “দু-চারটা মাছ এমন সেয়ানা যে, কখনও জালে পড়ে না”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Buddha Purnima: আজ দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে বুদ্ধ পূর্ণিমা, জানুন এই দিনের মাহাত্ম্য

    Buddha Purnima: আজ দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে বুদ্ধ পূর্ণিমা, জানুন এই দিনের মাহাত্ম্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুদ্ধ পূর্ণিমা (Buddha Purnima) বৌদ্ধ ধর্মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং পবিত্রতম উৎসব। প্রতিবছর বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়। ইতিহাসবিদদের মতে, এই পবিত্র দিনেই গৌতম বুদ্ধ জন্মগ্রহণ করেছিলেন। শুধু তাই নয় এই দিনেই বোধিবৃক্ষের নীচে তিনি জ্ঞান লাভ করেছিলেন।

    এবছরের বুদ্ধপূর্ণিমার শুভ তিথি (Buddha Purnima 2024)

    এ বছর, আজ, ২৩ মে পড়ছে বুদ্ধপূর্ণিমা। এই পূর্ণিমার শুভ তিথি শুরু হয়েছে ২২ মে, অর্থাৎ বুধবার সন্ধ্যে থেকেই। ২২ মে সন্ধ্যা ৫.৫৭ মিনিটে এই বুদ্ধপূর্ণিমার তিথি শুরু হয়েছে। আজ, বৃহস্পতিবার ২৩ মে, সন্ধ্যা ৬টা ৪১ মিনিটে শেষ হতে চলেছে বুদ্ধ পূর্ণিমা (Buddha Purnima)। ফলে, উদয়-তিথি হিসেবে, আজ, বৃহস্পতিবার, দেশজুড়ে পালিত হবে বুদ্ধ পূর্ণিমা। অনেকেই এই দিনটিকে বুদ্ধজয়ন্তী হিসাবে পালন করে। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়কালকে হিন্দুশাস্ত্রমতে বিশেষ কিছু আচারপালনের মাধ্যমে পালন করা হয়।

    নবম অবতার গৌতম বুদ্ধ

    হিন্দু ধর্মের মতে, অবশ্য গৌতম বুদ্ধ হলেন শ্রী বিষ্ণুর নবম অবতার। এই বিশেষ তিথিতে গৌতম বুদ্ধের জন্মবার্ষিকী পালন করা হয় সারা বিশ্ব জুড়ে। এই দিনে ভারতে সরকারিভাবে ছুটি থাকে। সারাদেশ জুড়ে উৎসব পালিত হয় বৌদ্ধ মঠ ও মন্দিরে। ভারত ছাড়াও শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, তাইল্যান্ড, মায়ানমার, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় উৎসব পালিত হয়।

    আরও পড়ুন: প্রাচীন ভারতের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়! কেমন ছিল জগদ্দলা মহাবিহারের রোজকার জীবন?

    এই দিন (Buddha Purnima 2024) গৌতম বুদ্ধের শিক্ষা ও বাণী স্মরণ করেন বৌদ্ধরা। বৌদ্ধ মঠ ও মন্দিরগুলিতে প্রচুর ভক্ত সমাগম হয়। ভগবান বুদ্ধকে পূজা করা ছাড়াও অধিকাংশ বৌদ্ধ ভিক্ষুক ধ্যানে লিপ্ত থাকেন। পঞ্চাঙ্গ (বা পাঁজি) অনুসারে, কবে বুদ্ধ পূর্ণিমা (Buddha Purnima) পালিত হয় এবং এই দিনের শুভ সময়, তাৎপর্য ও পুজোর নিয়ম জানেন না অনেকেই। অবশ্য অনেক হিন্দু ও বাঙালির বাড়িতে লক্ষ্মী নারায়ণ পুজোর আয়োজন হয়ে থাকে।

    বুদ্ধ পূর্ণিমা পুজোর নিয়ম

    বুদ্ধ পূর্ণিমার (Buddha Purnima 2024) দিন খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠা উচিত। ঘুম থেকে উঠে বাড়ির সব জায়গা পরিষ্কার করে সুন্দর করে সাজিয়ে নিতে হবে। এরপর স্নান সেরে পরিষ্কার বা নতুন পোশাক পরতে পারেন। এদিন গঙ্গা স্নান করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। এরপর একটি মোমবাতি বা প্রদীপ জ্বালিয়ে বাড়ির সর্বত্র ঘুরিয়ে আনতে পারেন। বাড়ির প্রবেশদ্বারের সামনে হলুদ, লাল সিঁদুর বা রঙ ব্যবহার করে স্বস্তিক চিহ্ন আঁকতে পারেন। বোধি গাছের কাছে দুধ ঢেলে বুদ্ধের বাণী ও শিক্ষাকে স্মরণ করতে পারেন। দানকর্মেরও বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে এদিন। বস্ত্র ও খাদ্য বিলি করলে পূণ্যলাভ করতে পারেন আপনি (Buddha Purnima)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • IST Story: গোটা দেশে সময় একটাই! আইএসটি নির্ধারণে রেল ও সর্দার প্যাটেলের ভূমিকা জানেন?

    IST Story: গোটা দেশে সময় একটাই! আইএসটি নির্ধারণে রেল ও সর্দার প্যাটেলের ভূমিকা জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সারা ভারতে এখন ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড টাইম (IST Story) মেনে সময় নির্ধারণ করা হয়। ১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ সালে ভারতে আইএসটি চালু করা হয়েছিল। এতে ঠিক হয়েছিল যে ভারত যে আইএসটি (Indian Standard Time) বলে টাইম জোন মেনে চলবে তা গ্রিনিচ মিন টাইম-এর থেকে ৫.৩০ঘণ্টা এগিয়ে থাকবে। মানে গ্রিনিচ মিন টাইম-এ কোথাও সকাল ৬টা বাজলে ভারতে তখন সময় হবে ১১.৩০টা। ভারতের সমস্ত প্রদেশকে এ বিষয়ে এক ছাতার তলায় এনেছিলেন সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল। এক্ষেত্রে ভারতীয় রেলওয়েরও একটা ভূমিকা ছিল।

    প্রাচীন ভারতে সময় নির্ধারণ

    কমন এরার চার শতকে অবশ্য ভারতে সময় গোনার পদ্ধতি একটু অন্যরকম ছিল। সূর্য সিদ্ধান্তে বর্ণিত স্ট্যানডার্ড টাইম (IST Story) মেনে এই সময় গোনা হত। অবন্তি তথা উজ্জয়ন-এর উপর দিয়ে আদ্য দ্রাঘিমা গিয়েছে বলে সূর্য সিদ্ধান্তে বলা হয়েছিল। ২৩ডিগ্রি ১১ ইঞ্চি উত্তর ও ৭৫ডিগ্রি ৪৫ ইঞ্চি পূর্ব দিয়ে উজ্জয়নের উপর দিয়ে এই আদ্য দ্রাঘিমা গিয়েছে বলে বর্ণিত করা হয়েছিল এই গ্রন্থে। আবার রোহিতাকা, যার আধুনা নাম রোহতক-এও ২৮ ডিগ্রি ৫৪ ইঞ্চি উত্তর, ৭৬ডিগ্রি ৩৮ ইঞ্চি পূর্ব দিয়ে আদ্য দ্রাঘিমা যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল সূর্য সিদ্ধান্তে। এমনকী এই গ্রন্থে এটাও উল্লেখ করা হয় যে রোহিতাকা ও অবন্তি বিষুবরেখা ও উত্তর মেরুর লাইন বরাবর স্থাপিত।প্রাচীন ভারতে এই সূর্য সিদ্ধান্ত মতে উজ্জয়নের আদ্য দ্রাঘিমা রেখায় সূর্যোদয় দেখে প্রাথমিকভাবে সময় গোনা হত। এরপর এই সময়কে গণিতিক আকারে ভেঙে ছোট ছোট সময়-এ ভাগ করা হত। তবে, সময় গণনাকে তখনকার দিনে শুধুমাত্র জ্যোতিষশাস্ত্রেই ব্যবহার করা হত।  সে সময় বিভিন্ন রাজ্য়গুলি হিন্দু ক্যালেন্ডার মেনে নিজস্ব স্থানীয় সময় নির্ধারণ করত। 

    আধুনিক ভারতে সময় নির্ধারণ

    ১৭৩৩ সালে জয়পুরে যন্তর-মন্তর তৈরি করেছিলেন মহারাজা সোয়াই জয় সিং। যিনি সময় গণনার জন্য যন্তর-মন্তরে বড় ডায়ালের ঘড়িও লাগিয়েছিলেন। ১৭৯২ সালে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানি চেন্নাই-এ মাদ্রাজ অবজারভেটরি তৈরি করে। এরপর ১৮০২ সালে জ্যোতিষবিদ জন গোল্ডিনংহাম চেন্নাই লংঙ্গিটুড গঠন করেন। যা গ্রিনিচ মিন টাইমের থেকে ৫ ঘণ্টা এগিয়ে ছিল।

    সময় নির্ধারণে ভারতীয় রেলের ভূমিকা

    ১৮৫০ সালে ভারতীয় রেলের জন্মের আগে পর্যন্ত দেশের ভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন টাইম জোন কাজ চালিয়ে দিচ্ছিল। কিন্তু রেলের জন্ম হতেই দেশজুড়ে একই সময় গণনার দাবি উঠল। এক দেশ এক টাইমের দাবিতে সওয়াল হতে শুরু করেছিল। সমস্যা সমাধানে রেল এক অভূতপূর্ব ব্যবস্থার আমদানি করল। ১৯ শতকে রেল টাইম সিগন্যালের মাধ্য়মে বিভিন্ন রেলস্টেশনকে সূচনা দিতে থাকল সেখানকার স্থানীয় সময় অনুসারে কখন ট্রেন পৌঁছবে।

    টাইম জোনের সূচনা

    টাইম-জোন-এর গণনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল ১৮৮৪ সালে। এর ফলে ভারতে টাইম জোনের আবির্ভাব ঘটেছিল, একটি কলকাতা ও অন্যটি মুম্বই। কলকাতার টাইমজোন গ্রিনিচ মিন টাইমের থেকে ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট ও ২১ সেকেন্ড এগিয়ে ছিল। অন্যদিকে মুম্বই টাইম জোন গ্রিনিচ মিন টাইমের থেকে ৪ ঘণ্টা ৫১ মিনিট এগিয়ে ছিল। ১৮৮৪ সালে ওয়াশিংটন ডিসি-তে আন্তর্জাতিক মেরিডিয়ান কনফারেন্সে ইউনিফর্ম টাইম জোনস গঠনের দাবি ওঠে। ১৯০৫ সালে ভারতের ব্রিটিশ সরকার স্ট্যান্ডাডাইজড টাইম জোনের নীতি গ্রহণ করে। এর জেরে এলাহাবাদকে এই নীতির আওতায় আনা হয়। কারণ, দেশের অন্যান্য জায়গার থেকে দ্রাঘিমার রেখার কাছে এর সর্বনিকট অবস্থান। ১৯০৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এলাহাবাদে কাজ শুরু করে।

    ভারতীয় মান সময় নির্ধারণ

    শেষমেশ স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর এলাহাবাদের সময় গণনাকে আইএসটির (Indian Standard Time) মর্যাদা দেওয়া হয়। এবং তখন থেকে ভারত জুড়ে এই আইএসটি (IST Story) প্রয়োগের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। চেন্নাই থেকে সেন্ট্রাল অবজারভেটরি সেন্টারকে এলাহাবাদের মিরজাপুরে সরিয়ে নিয়ে আসা হয়। আইএসটি মূলত নির্ধারণ হয় এলাহাবাদের মীরজাপুরের ক্লক টাওয়ার থেকে ৮২.৫ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশের ভিত্তিতে। এই মীরজাপুর ভারতে দ্রাঘিমা রেখার সবচেয়ে কাছাকাছি এলাকা। সেই কারণে ক্লক টাওয়ারকে এখানেই প্রতিস্থাপন করা হয়। 

    সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ভূমিকা 

    কিন্তু স্বাধীনতার পরও প্রথমে কলকাতা এবং বোম্বে প্রেসিডেন্সিগুলি তাদের নিজস্ব সময় ধরে রেখেছিল। তারা ভারতীয় মান সময় মানতে চায়নি। এর জন্য পশ্চিমবঙ্গ ও বোম্বের মুখ্যমন্ত্রীদের সময়ের সাপেক্ষে জাতীয় মান অনুসরণ করার জন্য বল্লভভাই প্যাটেলের জোরাজুরির প্রয়োজন ছিল। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলই তখন রাজ্যগুলিকে বোঝায়। তাঁর বুদ্ধি ও যুক্তি গ্রহণ করে কলকাতা ও মুম্বই। তাই শুধু রাজ্যগুলিকে ভারতীয় ইউনিয়নে একীভূত করার জন্য নয়, বাংলা ও বোম্বের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ভারতীয় প্রমাণ সময় মেনে নেওয়ার জন্যও প্যাটেলের কৃতিত্ব রয়েছে।

    আরও পড়ুন: গুজরাটই ছিল তাঁর আদি বাড়ি, জানেন বিশ্বের একমাত্র হিন্দু শেখ কনকসি খিমজির গল্প?

    দেবাশীষ দাস তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন , ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ড টাইমের (IST Story) ভূমিকা : একটি ঐতিহাসিক সমীক্ষা , “১৯৪৭ সালের জুলাই মাসে, স্বাধীনতার ঠিক আগে, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকে বাংলার সময়কে সরিয়ে দেওয়ার জন্য একটি অনুরোধ করা হয়েছিল: যখন একটি কঠোর পরিবর্তন সারা ভারতে, বিশেষ করে বাংলায় তৈরি করা হচ্ছে, একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয় বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্বারা উপেক্ষা করা হচ্ছে, অর্থাৎ, বেঙ্গল টাইম যা ভারতীয় মান সময়ের থেকে এক ঘন্টা এগিয়ে এবং শুধুমাত্র বাংলায় অনুসরণ করা হয় যা দেশের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর। নাগরিকেরা… আমরা বাঙালিরা এক সময় দাঁড়াতে চাই, অর্থাৎ ভারতীয় মান সময় অন্য সব প্রদেশে অনুসরণ করে।” বোম্বে সম্পর্কেও অনুরূপ অনুরোধ করা হয়েছিল। স্বরাষ্ট্র দফতর পরামর্শ দিয়েছিল যে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারগুলি বিবেচনা করতে পারে। এরপরই কলকাতা তথা বাংলায় ৩১ অগাস্ট বা ১ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ সালের মধ্যরাত থেকে আইএসটি (Indian Standard Time) গ্রহণ করে। এর প্রায় আড়াই বছর পরে বোম্বে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৪ মার্চ ১৯৫০ আইএসটি গ্রহণ করে। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Ramakrishna 24: “ঈশ্বরলাভ না করলে তাঁর আদেশ পাওয়া যায় না”

    Ramakrishna 24: “ঈশ্বরলাভ না করলে তাঁর আদেশ পাওয়া যায় না”

    তৃতীয় পরিচ্ছেদ

    কমলাকুটিরে শ্রীরামকৃষ্ণ শ্রীযুক্ত কেশব সেন

    তোমরা বক্তৃতা দাও সকলের উপকারের জন্য, কিন্তু ঈশ্বরদর্শন করে বক্তৃতা দিলে উপকার হয়। তাঁর আদেশ না পেয়ে লোকশিক্ষা দিলে উপকার হয় না। ঈশ্বরলাভ না করলে তাঁর আদেশ পাওয়া যায় না। ঈশ্বরলাভ যে হয়েছে, তার লক্ষণ আছে। বালকবৎ, জড়বৎ, উন্মাদবৎ, পিশাচবৎ হয়ে যায়; যেমন শুকদেবাদি। চৈতন্যদেব কখন বালকবৎ, কখন উন্মাদের ন্যায় নৃত্য করিতেন। হাসে, কাঁদে, নাচে, গায়। পুরীধামে যখন ছিলেন, তখন অনেক সময় জড় সমাধিতে থাকতেন।  

    শ্রীযুক্ত কেশবের হিন্দুধর্মের উপর উত্তরোত্তর শ্রদ্ধা

    এইরূপ নানাস্থানে শ্রীযুক্ত কেশবচন্দ্র সেনকে শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) কথাচ্ছলে নানা উপদেশ দিয়েছিলেন। বেলঘরের বাগানে প্রথম দর্শনের পর কেশব ২৮শে মার্চ, ১৮৭৫ রবিবার ‘মিরার’ সংবাদপত্রে লিখিয়াছিলেন, আমরা অল্প দিন হইল, দক্ষিণেশ্বরে পরমহংস রামকৃষ্ণকে বেলঘরের বাগানে দর্শন করিয়াছি। তাঁহার গভীরতা, অর্ন্তদৃষ্টি, বালকস্বভাব দেখিয়া আমরা মুগ্ধ হইয়াছি। তিনি শান্তস্বভাব, কোমল প্রকৃতি, আর দেখিলে বোধ হয়, সর্বদা যোগেতে আছেন। এখন আমাদের বোধ হইতেছে যে, হিন্দুধর্মের গভীরতম প্রদেশ অনুসন্ধান করিলে কত সৌন্দর্য, সত্য ও সাধুতা দেখিয়ে পাওয়া যায়। তা না হইলে পরমহংসের ন্যায় ঈশ্বরীয়ভাবে ভাবিত যোগীপুরুষ কিরূপে দেখা যাইতেছে? ১৮৭৬ জানুয়ারি আবার মাঘোৎসব আসিল, তিনি টাউন হলে বক্তৃতা দিলেন; বিষয়—ব্রাহ্মধর্ম ও আমরা কি শিখিয়াছি—(Our Faith and Experiences)—তাহাতেও হিন্দুধর্মের সৌন্দর্যের কথা অনেক বলিয়াছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) তাঁহাকে যেমন ভালবাসিয়াছিলেন, কেশবও তাঁহাকে তদরূপ ভক্তি করিতেন। প্রায় প্রতি বৎসর ব্রাহ্মোৎসবের সময়েও কেশব দক্ষিণেশ্বরে যাইতেন ও তাঁহাকে কমলকুটিরে লইয়া আসিতেন। কখন কখন একাকী কমলকুটিরের দ্বিতলস্থ উপাসনাকক্ষে পরম অন্তরঙ্গজ্ঞানে ভক্তিভরে লইয়া যাইতেন ও একান্তে ঈশ্বরের পূজা ও আনন্দ করিতেন।

    ১৮৭৯ ভাদোৎসবের সময় আবার কেশব শ্রীরামকৃষ্ণকে (Ramakrishna) নিমন্ত্রণ করিয়া বেলঘরের তপোবনে লইয়া যান। ১৫ই সেপ্টেম্বর সোমবার (৩১ শে ভাদ্র, ১২৮৬, কৃষ্ণা চতুর্দর্শী)। আবার ২১ শে সেপ্টেম্বর কমলকুটিরে উৎসবে যোগদান করিতে লইয়া যান। এই সময় শ্রীরামকৃষ্ণ সমাধিস্থ হইলে ব্রাহ্মভক্তসঙ্গে তাঁহার ফটো লওয়া হয়। ঠাকুর দণ্ডায়মান, সমাধিস্থ। হৃদয় ধরিয়া আছেন। ২২শে অক্টোবর (৬ই কার্তিক, ১২৮৬, বুধবার), মহাষ্টমী—নবমীর দিন কেশব দক্ষিণেশ্বরে গিয়ে তাঁহাকে দর্শন করিলেন।

    “বেঙাচির ল্যাজ খসলে জলেও থাকতে পারে, আবার ডাঙাতেও থাকতে পারে”

    আরও পড়ুনঃ “দু-চারটা মাছ এমন সেয়ানা যে, কখনও জালে পড়ে না”

    আরও পড়ুনঃ “ভালো লোকের সঙ্গে মাখামাখি চলে, মন্দ লোকের কাছ থেকে তফাত থাকতে হয়”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Ramakrishna 23: “বেঙাচির ল্যাজ খসলে জলেও থাকতে পারে, আবার ডাঙাতেও থাকতে পারে”

    Ramakrishna 23: “বেঙাচির ল্যাজ খসলে জলেও থাকতে পারে, আবার ডাঙাতেও থাকতে পারে”

    তৃতীয় পরিচ্ছেদ

    কমলকুটিরে শ্রীরামকৃষ্ণ ও শ্রীযুক্ত কেশব সেন

    শ্রীরামকৃষ্ণ কাপ্তেনের বাটি হইয়া শ্রীযুক্ত কেশব সেনের কমলকুটির নামক বাটিতে আসিয়াছেন। সঙ্গে রাম, মনোমোহন, সুরেন্দ্র, মাস্টার প্রভৃতি অনেকগুলি ভক্ত। সকলে দ্বিতল হল ঘরে উপবেশন করিয়াছেন। শ্রীযুক্ত প্রতাপ মজুমদার, শ্রীযুক্ত ত্রৈলোক্য প্রভৃতি ব্রাহ্মভক্তগণও উপস্থিত আছেন।

    ঠাকুর শ্রীযুক্ত কেশবকে বড় ভালবাসেন। যখন বেলঘরের বাগানে সশিষ্য তিনি সাধন-ভজন করিতেছিলেন, অর্থাৎ ১৮৭৫ খ্রিষ্টাব্দে মাঘোৎসবের পর—কিছুদিনের মধ্যে ঠাকুর একদিন বাগানে গিয়া তাঁহার সহিত দেখা করিয়াছিলেন। সঙ্গে ভাগিনেয় হৃদয়রাম। বেলঘরের এই বাগানে তাঁহাকে বলেছিলেন, তোমারই ল্যাজ খসেছে, অর্থাৎ তুমি সব ত্যাগ করে সংসারের বাহিরেও থাকতে পার; আবার সংসারেও থাকতে পার; যেমন বেঙাচির ল্যাজ খসলে জলেও থাকতে পারে, আবার ডাঙাতেও থাকতে পারে। পরে দক্ষিণেশ্বরে, কমলকুটিরে, ব্রাহ্মসমাজ ইত্যাদি স্থানে অনেকবার ঠাকুর কথাচ্ছলে তাঁহাকে উপদেশ দিয়াছিলেন, নানা পথ দিয়া, নানা ধর্মের ভিতর দিয়া ঈশ্বরলাভ হতে পারে। মাঝে মাঝে নির্জনে সাধন-ভজন করে ভক্তিলাভ করে সংসারে থাকা যায়, জনকাদি ব্রহ্মজ্ঞানলাভ করে সংসারে ছিলেন; ব্যাকুল হয়ে তাঁকে ডাকতে হয়, তবে দেখা দেন; তোমরা যা কর, নিরাকার সাধন, সে খুব ভাল। ব্রহ্মজ্ঞান হলে ঠিক বোধ করবে—ঈশ্বর সত্য আর সব অনিত্য, ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা। সনাতন হিন্দু ধর্মে সাকার নিরাকার দুই মানে; নানাভাবে ঈশ্বরের পূজা করে—শান্ত, দাস্য, সখ্য, বাৎসল্য মধুর। রোশনচৌকিওয়ালারা একজন শুধু পোঁ ধরে বাজায় অথচ তার বাঁশীর সাত ফোকর আছে। কিন্তু আর একজন তারও সাত ফোকর আছে, সে নানা রাগরাগিণী বাজায়।

    তোমরা সাকার মানো না, তাতে কিছু ক্ষতি নাই, নিরাকারের নিষ্ঠা থাকলেই হল। তবে সাকারবাদীদের টানটুকু নেবে। মা বলে তাঁকে ডাকলে ভক্তি-প্রেম আরও বাড়বে। কখন দাস্য, কখন বাৎসল্য, কখন মধুর ভাব। কোন কামনা নাই তাঁকে ভালবাসি, এটি বেশ। এর নাম অহেতুকী ভক্তি। বেদ, পুরাণ, তন্ত্রে এক ঈশ্বরেরই কথা আছে ও তাঁহার লীলার কথা; জ্ঞান ভক্তি দুইই আছে। সংসারে দাসীর মতো থাকবে, দাসী সব কাজ করে, কিন্তু দেশে মন পড়ে আছে। মনিবের ছেলেদের মানুষ করে, বলে, আমার হরি, আমার রাম, কিন্তু জানে, ছেলে আমার নয়। তোমরা যে নির্জনে সাধন করছ, এ খুব ভাল, তাঁর কৃপা হবে। জনক রাজা নির্জনে কত সাধন করেছিলেন, সাধন করলে তবে তো সংসারে নির্লিপ্ত হওয়া যায়।

    আরও পড়ুনঃ “গুরুর উপদেশ অনুসারে চলতে হয়, বাঁকাপথে গেলে ফিরে আসতে কষ্ট হবে”

    আরও পড়ুনঃ “পাপ করলে তার ফল পেতে হবে! লঙ্কা খেলে তার ঝাল লাগবে না?”

    আরও পড়ুনঃ “ব্যাকুলতা না এলে কিছুই হয় না, সাধুসঙ্গ করতে করতে ঈশ্বরের জন্য প্রাণ ব্যাকুল হয়”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share