Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Belgium PM: ‘আগেই সতর্ক করেছিলেন মোদি, শোনেনি ইউরোপ, আজ উপলব্ধি হচ্ছে’! ভারতে এসে অকপট বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী

    Belgium PM: ‘আগেই সতর্ক করেছিলেন মোদি, শোনেনি ইউরোপ, আজ উপলব্ধি হচ্ছে’! ভারতে এসে অকপট বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাণিজ্য ও শিল্পক্ষেত্রে অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপ অনেক দেরিতে বাস্তবতা উপলব্ধি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্ট ডি ওয়েভার (Belgium PM)। তাঁর বক্তব্য, অর্থনৈতিক নির্ভরতা যখন রাজনৈতিক ও কৌশলগত চাপ তৈরির হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তখন মুক্ত বাণিজ্যের পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে ভারত ও ইউরোপের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারীত্বের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন (Modi Trade Warning) তিনি। ভারত-ইউরোপ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান বিভাজনের প্রেক্ষাপটে দু’পক্ষের সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওয়েভার বলেন, ইউরোপ বর্তমানে এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে বাণিজ্যিক ও শিল্পক্ষেত্রের নির্ভরতা কেবল অর্থনৈতিক বিষয় হিসেবে থাকছে না; বরং তা কৌশলগত প্রভাব বিস্তারের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

    বদলাচ্ছে ক্ষমতার ভারসাম্য (Belgium PM)

    তিনি বলেন, বিশ্বের বড় শক্তিগুলির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাচ্ছে এবং কিছু দেশ নিজেদের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে অন্যদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা বা নির্ভরতাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা ইউরোপের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ডি ওয়েভারের কথায়, ভারত ও ইউরোপের সামনে থাকা বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ একই ধরনের। বিশেষ করে কোনও একটি দেশ বা শক্তির ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক নির্ভরতা তৈরি হলে সেটি ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও কৌশলগত চাপের কারণ হতে পারে। তাঁর মতে, এই অভিজ্ঞতা ইউরোপকে নতুন করে বাণিজ্যনীতি ও অংশীদার বাছাইয়ের বিষয়ে ভাবতে বাধ্য করেছে। ভারতের ভূমিকার কথা বলতে গিয়ে বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেন, ইউরোপের বর্তমান উপলব্ধির অনেক আগেই ভারত এই ধরনের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। কিন্তু সেই সতর্কবার্তা তখন ইউরোপ যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে নেয়নি।

    বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

    তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বহু আগেই ইউরোপকে সতর্ক করেছিলেন। তখন সেই সতর্কবার্তা গুরুত্ব পায়নি, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউরোপ সেই বাস্তবতা বুঝতে শুরু করেছে। ডি ওয়েভারের বক্তব্য, এই উপলব্ধি ইউরোপের ক্ষেত্রে কিছুটা বিলম্বিত হলেও এখন তা বাস্তবে রূপ নিচ্ছে।

    বিশ্ব অর্থনীতির কাঠামো যখন বিভিন্ন শক্তিশালী গোষ্ঠী ও বাণিজ্যিক ব্লকে ভাগ হয়ে পড়ছে, তখন ভারত ও ইউরোপ কীভাবে একটি স্থায়ী কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে ডি ওয়েভার সহযোগিতার ভিত্তি হিসেবে পারস্পরিক সম্মান, বহুপাক্ষিকতা এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেন।

    তাঁর মতে, ইউরোপ এমন অংশীদার খুঁজছে যারা বহুপাক্ষিকতার প্রতি আস্থাশীল এবং শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সহযোগিতাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। এই জায়গায় ভারত ইউরোপের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে (Modi Trade Warning)।

    বিশ্বের বড় অর্থনীতিগুলির মধ্যে ভারতের অবস্থান তুলে ধরে ডি ওয়েভার দেশটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিগুলির একটি হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ভারতের বিপুল মানবসম্পদ, দক্ষ জনশক্তি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখেন তিনি।

    জাপানের মতো তুলনামূলকভাবে পরিণত অর্থনীতির সঙ্গে ভারতের পার্থক্যও তুলে ধরেন বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ভারতের অর্থনীতির বিকাশের পর্যায় এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ইউরোপের জন্য পারস্পরিকভাবে লাভজনক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং সরবরাহ-শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা—সব ক্ষেত্রেই দু’পক্ষের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানো সম্ভব বলেই মনে করেন তিনি।

    ইউরোপের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা

    ইউরোপের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গে ডি ওয়েভার বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ইউরোপের বাজারে উৎপাদন সক্ষমতার অতিরিক্ত অংশ কম দামে প্রবেশ করেছে। এর ফলে ইউরোপের নিজস্ব শিল্পভিত্তি দুর্বল হয়েছে এবং নির্দিষ্ট উৎসের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। পরবর্তী সময়ে সেই নির্ভরতাকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    এই প্রসঙ্গে তিনি কোনও দেশের নাম সরাসরি না বললেও এমন একটি প্রতিবেশী দেশের কথা উল্লেখ করেন, যে এই প্রক্রিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টতই চিনের দিকে ইঙ্গিত ছিল। ডি ওয়েভারের মতে, ভারত ইউরোপের তুলনায় আগেই এই প্রবণতা উপলব্ধি করেছিল এবং সতর্ক করেছিল। কিন্তু ইউরোপ তখন সেই সতর্কবার্তায় কর্ণপাত করেনি (Belgium PM)।

    বাণিজ্যের ক্ষেত্রে উন্মুক্ততার নীতি বজায় রাখার পাশাপাশি কৌশলগত নির্ভরতার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। তাঁর মতে, মুক্ত বাণিজ্য মানে এমন নয় যে কোনও দেশের জাতীয় স্বার্থ বা নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত নির্ভরতাগুলি উপেক্ষা করতে হবে। বরং উন্মুক্ত অর্থনীতির সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই বর্তমান সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ।

    সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল বিশ্বব্যবস্থা

    ডি ওয়েভার আরও বলেন, ভারত ও ইউরোপের ইতিহাস, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে পার্থক্য রয়েছে। কিন্তু সেই পার্থক্য সত্ত্বেও গণতন্ত্র, উদ্ভাবন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং একটি সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দু’পক্ষের স্বার্থের যথেষ্ট মিল রয়েছে (Modi Trade Warning)।

    ভারতকে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক শক্তি এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য দেশ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, বিশ্বব্যবস্থা যখন নতুনভাবে গড়ে উঠছে, তখন ভারতের মতো একটি বড় শক্তির কণ্ঠস্বর বাদ দিয়ে কোনও মুক্ত ও সমৃদ্ধ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা কল্পনা করা কঠিন।

    এদিকে ইউরোপের শক্তি হিসেবে তিনি তুলে ধরেন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ একক বাজার, শিল্প সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং পূর্ব-অনুমানযোগ্য ও নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি অঙ্গীকারকে। তাঁর মতে, এই দু’পক্ষের নিজস্ব সক্ষমতাকে কাজে লাগানো গেলে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ভারসাম্যপূর্ণ অংশীদারিত্ব তৈরি করা সম্ভব (Belgium PM)।

    বাণিজ্য অংশীদার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য বাড়ানোর পক্ষে মত দেন ডি ওয়েভার। তাঁর বক্তব্য, যেসব দেশ নিজেদের প্রতিশ্রুতি ও আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা সম্মান করে, তাদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। এর ফলে কোনও একটি দেশ বা অঞ্চলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

    বিশ্ব রাজনীতি

    বিশ্ব রাজনীতিতে বর্তমানে বিভিন্ন দেশকে নির্দিষ্ট কোনও একটি শিবির বেছে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে ভারত ও ইউরোপের সম্পর্ককে কোনও একটি পক্ষের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার বদলে স্বাধীন ও পারস্পরিক স্বার্থনির্ভর অংশীদার হিসেবে দেখার পক্ষে তিনি (Belgium PM)।

    সব মিলিয়ে ডি ওয়েভারের বক্তব্যে ভারত-ইউরোপ সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাণিজ্যের পাশাপাশি কৌশলগত স্বনির্ভরতা, সরবরাহ-শৃঙ্খলের নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ এবং বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিষয়গুলি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ইউরোপের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা এবং ভারতের আগের সতর্কবার্তাকে সামনে রেখে তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা হল—ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক সম্পর্ক শুধু সস্তা পণ্য বা বড় বাজারের হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; নির্ভরতার ঝুঁকি, জাতীয় স্বার্থ এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত নিরাপত্তাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে (Modi Trade Warning)।

    আর সেই নতুন বাস্তবতায় ভারতকে ইউরোপের অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে দেখছেন বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, বৈশ্বিক অর্থনীতির পুনর্বিন্যাসের সময়ে ভারত-ইউরোপ সম্পর্ক শুধু বাণিজ্যিক সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারত্বের দিকে এগিয়ে যেতে পারে (Belgium PM)।

     

  • Sheikh Hasina: ‘ভয় আমার কর্তব্য নির্ধারণ করতে পারে না’, ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা

    Sheikh Hasina: ‘ভয় আমার কর্তব্য নির্ধারণ করতে পারে না’, ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরতে চান, সে দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। মুজিব কন্যা জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষিত হলেও আদালতের মুখোমুখি হতে তিনি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ৭৮ বছর বয়সি আওয়ামি লিগ নেত্রী। তবে একইসঙ্গে শেখ হাসিনার দাবি, বিচারপ্রক্রিয়া অবশ্যই নিরপেক্ষ হতে হবে। কোনও পূর্বনির্ধারিত রায়ের ভিত্তিতে বিচার হলে তা ন্যায়বিচার হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

    ‘বাংলাদেশ আমার দেশ, দায়িত্বও আমার’

    বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শেখ হাসিনা (Hasina on Returning Bangladesh) বলেন, বাংলাদেশই তাঁর দেশ এবং রাজনৈতিক জীবনের প্রায় পুরোটাই তিনি দেশের মানুষের সঙ্গে কাটিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘বাংলাদেশ আমার দেশ। আমার রাজনৈতিক জীবনের পুরোটা আমি বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে কাটিয়েছি। আমার মা, ভাই এবং পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে বাংলাদেশের মাটিতেই হত্যা করা হয়েছিল। আমার শিকড় সেখানে, আমার মানুষ সেখানে, আমার দায়িত্বও সেখানে।’’ দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত সংকটজনক বলে উল্লেখ করে হাসিনা বলেন, এমন সময়ে দেশের বাইরে থেকে তিনি রাজনীতি করতে চান না। মানুষের পাশে দাঁড়াতেই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। হাসিনা বলেন, ‘‘আমি ফিরতে চাই। এই কঠিন সময়ে আমি আমার মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। আমি আদালতের মুখোমুখি হতে এবং নিজের পক্ষে সওয়াল করতে প্রস্তুত। কিন্তু বিচার মানে পূর্বনির্ধারিত রায় নয়।’’

    ক্ষমতা দখল নয়, রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার দাবি

    দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত ক্ষমতা পুনর্দখলের উদ্দেশ্যে নয় বলেও স্পষ্ট করেছেন শেখ হাসিনা। তাঁর দাবি, আওয়ামি লিগের সমর্থকদের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার রক্ষা করাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কী হবে, সেই সিদ্ধান্ত দেশের মানুষকেই নিতে দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে হাসিনা বলেন, ভারতের বন্ধুত্বকে তিনি সবসময়ই মূল্য দিয়েছেন। তবে বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তাঁর নিজের রাজনৈতিক ও নৈতিক সিদ্ধান্ত। ভারত তাঁর প্রত্যর্পণ নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবে, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি তিনি। হাসিনার বক্তব্য, ভারত একটি সার্বভৌম দেশ এবং প্রত্যর্পণের বিষয়টি তাদের নিজস্ব আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ঠিক হবে।

    মৃত্যুদণ্ড নিয়েও ‘ভয় নেই’

    নিজের বিরুদ্ধে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডের প্রসঙ্গেও সরব হয়েছেন শেখ হাসিনা। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেওয়া কোনও মৃত্যুদণ্ডকে সত্যের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে স্বাভাবিক, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য বিচারপ্রক্রিয়ায় নিজের বক্তব্য পেশ করার যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়নি। হাসিনার কথায়, ‘‘আদালতে আমাকে হাজির হতে দিন। আমাকে প্রমাণ পেশ করতে দিন। আমার আইনজীবীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিন। সাক্ষীদের জেরা করতে দিন। প্রমাণকেই কথা বলতে দিন।’’ তাঁর আরও অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য আদালত, আইন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

    ‘আমার বিরুদ্ধে ১৯ বার প্রাণঘাতী হামলার চেষ্টা’

    বাংলাদেশে ফেরার ঝুঁকি সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ অবগত বলেও জানিয়েছেন। শেখ হাসিনার দাবি, তাঁর জীবনে ১৯ বার প্রাণনাশের চেষ্টা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের হত্যার কথাও স্মরণ করেন তিনি। ২০০৪ সালের আগস্টে গ্রেনেড হামলার ঘটনাও উল্লেখ করেন হাসিনা। তাঁর দাবি, সেই হামলার লক্ষ্য ছিল তাঁকে এবং আওয়ামি লিগের নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করা। তিনি বলেন, ‘‘আমি কারাবাস, সামরিক শাসন, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং বারবার হুমকির মুখোমুখি হয়েছি। তাই ঝুঁকি সম্পর্কে আমি জানি। কিন্তু রাজনৈতিক জীবনে শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তাই সবকিছু হতে পারে না। মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকার চেয়ে দেশে ফিরে যা আসবে, তার মুখোমুখি হওয়াই আমি বেছে নেব।’’

    নিজের সরকারের কাজের সাফাই

    নিজের দীর্ঘ শাসনকালের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেছেন শেখ হাসিনা। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের কল্যাণই তাঁর সরকারের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল। বিদ্যুৎ পরিষেবা সম্প্রসারণ, গ্রামীণ এলাকায় কমিউনিটি ক্লিনিক, বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প, ভূমিহীনদের জন্য ঘর ও জীবিকার ব্যবস্থা, শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং নারীর ক্ষমতায়নের মতো বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। হাসিনার দাবি, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তাঁর সরকার বাংলাদেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করেছিল।

    আওয়ামি লিগের বিরুদ্ধে ‘দমন-পীড়নের’ অভিযোগ

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে আওয়ামি লিগের নেতা, কর্মী এবং সাধারণ সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন শেখ হাসিনা। তাঁর দাবি, বহু নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং হামলা ও ভয় দেখানোর ঘটনা ঘটেছে। অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। হাসিনার অভিযোগ, আওয়ামি লিগের লক্ষ লক্ষ সমর্থক এবং সাধারণ নাগরিককে এমনভাবে দেখা হচ্ছে যেন নিজেদের দেশেই তাঁদের কোনও রাজনৈতিক অধিকার নেই। তবে আওয়ামি লিগ বাংলাদেশ ছেড়ে যাবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। হাসিনার কথায়, ‘‘আমরা গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ছেড়ে যাব না। আওয়ামি লিগ মানুষের কাছে ফিরে আসবে, কারণ আমাদের রাজনীতি মানুষের জন্যই।’’ ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা এবং মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হয়েও আদালতে নিজের বক্তব্য রাখার প্রস্তুতির কথা জানিয়ে শেখ হাসিনার এই সাক্ষাৎকার বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে তাৎপর্য তৈরি করেছে।

     

     

     

     

     

  • EOS-05: জিস্যাট-১ ব্যর্থতার ৫ বছর পর বড় কামব্যাক! ইসরোর ইওএস-০৫ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

    EOS-05: জিস্যাট-১ ব্যর্থতার ৫ বছর পর বড় কামব্যাক! ইসরোর ইওএস-০৫ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাকাশ থেকে পৃথিবীর উপর নজরদারির ক্ষেত্রে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এগিয়ে গেল ভারত। শুক্রবার ভোরে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হল ভারতের নতুন প্রজন্মের আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট বা ইওএস-০৫। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো-র জিএসএলভি-এফ১৭ রকেটে চেপে শ্রীহরিকোটা থেকে মহাকাশে পাড়ি দিল প্রায় ২,৩৬৭ কেজি ওজনের এই উপগ্রহ। সবচেয়ে বড় বিষয়, ইওএস-০৫-কে সাধারণ নিম্ন কক্ষপথে নয়, সাব-জিটিও বা সাব-জিওসিনক্রোনাস ট্রান্সফার অরবিটে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী ধাপে নিজস্ব প্রপালশন সিস্টেম ব্যবহার করে নির্দিষ্ট জিওসিনক্রোনাস কক্ষপথে পৌঁছবে উপগ্রহটি।

    ভোররাতে শ্রীহরিকোটা থেকে সফল উৎক্ষেপণ

    শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ভোর ২টা ৫৫ মিনিটে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারের সেকেন্ড লঞ্চ প্যাড থেকে জিএসএলভি-এফ১৭-এর সফল উৎক্ষেপণ হয়। প্রায় ৫১.৭ মিটার লম্বা রকেটটি নির্ধারিত সময়েই আকাশে উড়ে যায়। উৎক্ষেপণের প্রায় ১৮-১৯ মিনিট পর রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয় ইওএস-০৫। এরপর উপগ্রহটিকে নির্ধারিত সাব-জিটিও-তে স্থাপন করা হয়। অর্থাৎ, এই মুহূর্তে ইওএস-০৫ এখনও তার চূড়ান্ত ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতার অপারেশনাল জিওসিনক্রোনাস অবস্থানে পৌঁছয়নি। সেটি হবে পরবর্তী অরবিট-রেইজিং ম্যানুভারের মাধ্যমে। এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উপগ্রহটি সফলভাবে মহাকাশে পৌঁছে গেলেও তার পূর্ণাঙ্গ অপারেশনাল মিশন শুরু হতে এখনও কয়েকটি ধাপ বাকি।

    ইওএস-০৫ কেন অন্য আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইটের থেকে আলাদা?

    ইওএস-০৫-এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল জিওসিনক্রোনাস অরবিট থেকে ইমেজিং করার ক্ষমতা। সাধারণ আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইটের বড় অংশই লো আর্থ অরবিট (এলইও) বা সান-সিনক্রোনাস অরবিটে (এসএসও) কাজ করে। এই উপগ্রহগুলি পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করার সময় বিভিন্ন অঞ্চলের ছবি তোলে। ফলে কোনও নির্দিষ্ট এলাকার ছবি পাওয়ার জন্য পরবর্তী অরবিটাল পাসের অপেক্ষা করতে হয়।

    ইওএস-০৫-এর ধারণাটি সম্পূর্ণ আলাদা। প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় জিওসিনক্রোনাস অরবিটে অবস্থান করলে উপগ্রহটি পৃথিবীর ঘূর্ণনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রদক্ষিণ করবে। ফলে ভারতের মতো একটি বড় ভৌগোলিক অঞ্চলের দিকে প্রায় একই অবস্থান থেকে ক্রমাগত নজর রাখা সম্ভব হবে। অর্থাৎ, ইওএস-০৫-এর মূল শক্তি শুধু অত্যন্ত উচ্চ রেজোলিউশনের ছবি তোলা নয়। এর আসল সুবিধা হল একই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ঘন ঘন আপডেটেড ছবি পাওয়া।

    ৩৬ হাজার কিলোমিটার দূরে গিয়েও কেন সুবিধা?

    সাধারণভাবে মনে হতে পারে, পৃথিবীর যত কাছাকাছি থাকা যায়, তত বেশি স্পষ্ট ছবি তোলা সম্ভব। সেই যুক্তিতে লো আর্থ অরবিটের উপগ্রহ অনেক ক্ষেত্রে উচ্চ রেজোলিউশনের ছবি তুলতে সুবিধাজনক। কিন্তু ইওএস-০৫-এর লক্ষ্য আলাদা। ধরা যাক, বঙ্গোপসাগরে দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে একটি ঘূর্ণিঝড়। লো আর্থ অরবিটের কোনও স্যাটেলাইট সেই সময় অন্য জায়গার উপর দিয়ে উড়ে গেলে, নির্দিষ্ট অঞ্চলের পরবর্তী ছবি পেতে পরবর্তী পাসের অপেক্ষা করতে হতে পারে।

    ইওএস-০৫ অপারেশনাল হলে একই বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে অনেক বেশি ঘন ঘন পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।ফলে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ, মেঘের গঠন, বন্যার বিস্তার কিংবা আগুনের মতো দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির উপর নজরদারিতে এই ব্যবস্থা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আগের জিস্যাট কর্মসূচি সংক্রান্ত সরকারি তথ্যেও নির্দিষ্ট সেক্টরের ছবি ঘন ঘন সংগ্রহ এবং উপযুক্ত পরিস্থিতিতে প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে সমগ্র ভারতীয় ভূখণ্ডের ছবি পাওয়ার লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

    দুর্যোগ মোকাবিলায় বড় হাতিয়ার হতে পারে ইওএস-০৫

    ইওএস-০৫-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারগুলির মধ্যে অন্যতম হতে পারে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা। ভারতের মতো দেশে প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, ভূমিধস, দাবানল-সহ একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা যায়। এই ধরনের পরিস্থিতিতে কয়েক ঘণ্টা আগের তথ্য অনেক সময় যথেষ্ট হয় না। কোথায় জল ঢুকছে, কোন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি বেশি, ঘূর্ণিঝড়ের মেঘ কোথায় তৈরি হচ্ছে—এসব তথ্য যত দ্রুত পাওয়া যায়, প্রশাসনের পক্ষে তত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। জিওসিনক্রোনাস ইমেজিং স্যাটেলাইট সেই জায়গাতেই বড় সুবিধা দিতে পারে।

    উপগ্রহের ছবি ব্যবহার করে—

    • ● ঘূর্ণিঝড়ের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ,
    • ● মেঘের বিকাশ ও আবহাওয়ার পরিবর্তন শনাক্ত,
    • ● বন্যাকবলিত এলাকা চিহ্নিত,
    • ● বনাঞ্চলে আগুনের বিস্তার পর্যবেক্ষণ,
    • ● দুর্যোগের পর ভূমি ও উদ্ভিদের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা সম্ভব হতে পারে।

    তবে ইওএস-০৫ ভারতের অন্যান্য আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইটকে প্রতিস্থাপন করবে না। বরং এটি দেশের বর্তমান উপগ্রহ ব্যবস্থার সঙ্গে একটি সম্পূর্ণ নতুন ধরনের অবজারভেশন সক্ষমতা যোগ করবে।

    কৃষি থেকে পরিবেশ—বহু ক্ষেত্রে ব্যবহার

    ইওএস-০৫-এর গুরুত্ব শুধু দুর্যোগ মোকাবিলাতেই সীমাবদ্ধ নয়। আর্থ অবজারভেশন ডেটা কৃষি, বন, পরিবেশ এবং ভূমি ব্যবস্থাপনাতেও গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন স্পেকট্রাল ব্যান্ডে ইমেজিংয়ের মাধ্যমে শুধুমাত্র কোনও এলাকার ছবি নয়, সেই এলাকার উদ্ভিদ, ফসল, মাটি এবং পরিবেশের পরিবর্তন সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া যায়। ভিজিবল ও নিয়ার-ইনফ্রারেডের মতো বিভিন্ন স্পেকট্রাল ব্যান্ড ব্যবহার করে কোনও অঞ্চলের উদ্ভিদের স্বাস্থ্য বা পরিবেশগত পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা সম্ভব।

    অর্থাৎ প্রশ্নটা শুধু নয় যে—“এই জায়গাটা দেখতে কেমন?” বরং স্যাটেলাইট ডেটা থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়—“এই জায়গায় কী পরিবর্তন হচ্ছে?” কৃষিক্ষেত্রে ফসলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, পরিবেশগত পরিবর্তন বিশ্লেষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি ল্যান্ড-ইউজ মনিটরিংয়ের ক্ষেত্রে এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ইওএস-০৫

    ইওএস-০৫-কে সরাসরি কোনও ডেডিকেটেড মিলিটারি স্পাই স্যাটেলাইট হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না। এটি মূলত একটি আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট, যার অসামরিক এবং কৌশলগত—দুই ধরনের ব্যবহারই থাকতে পারে।  তবে জিওসিনক্রোনাস অরবিট থেকে ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ও আশপাশের জলভাগকে ঘন ঘন পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।

    বিশেষ করে দেশের সংবেদনশীল সীমান্ত অঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা এবং সামুদ্রিক অঞ্চলের উপর নিয়মিত নজরদারির ক্ষেত্রে এই ধরনের হাই-ফ্রিকোয়েন্সি স্যাটেলাইট ইমেজারি সহায়ক হতে পারে। এখানেই ইওএস-০৫-এর কৌশলগত গুরুত্ব। এটি কোনও একটি সামরিক লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে তৈরি নয়, বরং একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চলের উপর নিয়মিত ও দ্রুত আপডেটেড নজরদারি সক্ষমতা তৈরি করছে।

    জিস্যাট-১ ব্যর্থতার পাঁচ বছর পর নতুন সাফল্য

    ইওএস-০৫-এর এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ অতীত। উপগ্রহটির সঙ্গে জিস্যাট কর্মসূচির সরাসরি যোগ রয়েছে। মূল পরিকল্পনায় জিওস্টেশনারি অরবিটে ইমেজিং স্যাটেলাইট পাঠিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশের উপর প্রায় রিয়েল-টাইম অবজারভেশন সক্ষমতা তৈরি করার লক্ষ্য ছিল।

    কিন্তু ২০২১ সালের অগাস্টে জিএসএলভি-এফ১০ মিশন ব্যর্থ হয়। সেই মিশনে জিস্যাট-১-কে কক্ষপথে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ক্রায়োজেনিক আপার স্টেজের অপারেশনের সময় সমস্যার কারণে উপগ্রহটি নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছতে পারেনি। প্রায় পাঁচ বছর পর ইওএস-০৫-এর সফল উৎক্ষেপণ সেই বৃহত্তর পরিকল্পনাকেই নতুন করে এগিয়ে দিল।

    জিএসএলভি-এফ১৭-এর সফল মিশন শুধু একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ নয়; এটি জিওসিনক্রোনাস ইমেজিং সক্ষমতা তৈরির ক্ষেত্রে ইসরো-র জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাবর্তনও।

    জিএসএলভি-এফ১৭-ও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়

    এই মিশনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল জিএসএলভি-এফ১৭। এটি ভারতের জিওসিনক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকলের ১৯তম উড়ান। রকেটটিতে রয়েছে সলিড কোর, চারটি লিকুইড স্ট্র্যাপ-অন মোটর, লিকুইড সেকেন্ড স্টেজ এবং ভারতের নিজস্ব ক্রায়োজেনিক আপার স্টেজ। তুলনামূলকভাবে ভারী স্পেসক্রাফ্টকে জিওসিনক্রোনাস অরবিটের দিকে পাঠানোর ক্ষেত্রে জিএসএলভি ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চ ভেহিকল। ইওএস-০৫-কে সাব-জিটিও-তে সফলভাবে স্থাপন করে জিএসএলভি-এফ১৭ সেই সক্ষমতারই আরও একটি প্রমাণ দিল।

    এখন কী হবে ইওএস-০৫-এর?

    এখনও ইওএস-০৫-এর কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। সাব-জিটিও-তে পৌঁছনোর পর উপগ্রহটি নিজস্ব অনবোর্ড প্রপালশন সিস্টেম ব্যবহার করে ধাপে ধাপে কক্ষপথের উচ্চতা বাড়াবে। একাধিক অরবিট-রেইজিং ম্যানুভার-এর পর সেটি তার নির্দিষ্ট জিওসিনক্রোনাস অবস্থানে পৌঁছবে। এরপর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, ক্যালিব্রেশন এবং কমিশনিং সম্পন্ন হলে শুরু হবে অপারেশনাল ইমেজিং। তাই ইওএস-০৫ ইতিমধ্যেই ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতার ফাইনাল জিওসিনক্রোনাস অরবিটে পৌঁছে গিয়েছে—এমন দাবি করা প্রযুক্তিগতভাবে সঠিক হবে না। লঞ্চ এবং অরবিটাল ইনজেকশন সফল হয়েছে; ফাইনাল অপারেশনাল অরবিটে পৌঁছনোর যাত্রা এখনও বাকি।

    ভারতের স্পেস অবজারভেশনে নতুন যুগের সূচনা?

    ভারতের আর্থ অবজারভেশন কর্মসূচি ইতিমধ্যেই যথেষ্ট শক্তিশালী। বিভিন্ন রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইট পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের উচ্চমানের ছবি এবং তথ্য সংগ্রহ করছে। কিন্তু ইওএস-০৫ সেই ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। লো আর্থ অরবিট স্যাটেলাইটের বড় সুবিধা হল ডিটেল বা স্পেশিয়াল রেজোলিউশন। অন্যদিকে জিওসিনক্রোনাস ইমেজিং প্ল্যাটফর্মের বড় শক্তি হল ফ্রিকোয়েন্সি এবং পারসিস্টেন্স—একই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের পরিবর্তনকে আরও ঘন ঘন পর্যবেক্ষণ করা।

    দুর্যোগের সময় এই পার্থক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একটি ঘূর্ণিঝড়, বন্যা কিংবা দাবানলের ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টা আগের ছবি এবং সদ্য পাওয়া ছবির মধ্যে ব্যবধানই কখনও কখনও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য তৈরি করে। সেই জায়গায় ইওএস-০৫ ভারতের জন্য শুধুমাত্র আরও একটি স্যাটেলাইট নয়। এটি বড় অঞ্চলের উপর দ্রুত, ঘন ঘন এবং ধারাবাহিক আর্থ অবজারভেশনের নতুন সক্ষমতা তৈরি করতে পারে।

    মহাকাশে ভারতের নতুন চোখ

    জিএসএলভি-এফ১৭-এর সফল উৎক্ষেপণ এবং ইওএস-০৫-এর সাব-জিটিও-তে সঠিকভাবে পৌঁছে যাওয়া ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির জন্য নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। এখন নজর থাকবে উপগ্রহটির অরবিট-রেইজিং, কমিশনিং এবং অপারেশনাল ইমেজিংয়ের দিকে। চূড়ান্তভাবে কাজ শুরু করলে ইওএস-০৫-এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যেতে পারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, কৃষি, পরিবেশ এবং কৌশলগত নজরদারি—এই একাধিক ক্ষেত্রে। অর্থাৎ, মহাকাশ থেকে ভারতকে দেখার ক্ষমতা শুধু আরও শক্তিশালী হচ্ছে তাই নয়—কত দ্রুত সেই ছবি পাওয়া যাচ্ছে, সেই ক্ষমতাতেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে ইওএস-০৫।

  • Ram Mandir Trust: অযোধ্যায় রামমন্দির প্রকল্পে বড় রদবদল, নয়া সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ দেব গিরি

    Ram Mandir Trust: অযোধ্যায় রামমন্দির প্রকল্পে বড় রদবদল, নয়া সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ দেব গিরি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রামমন্দির প্রকল্পের প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কাজ (Ram Mandir Trust) আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক সিদ্ধান্ত নিল শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট। ২ সেপ্টেম্বর অযোধ্যায় অনুষ্ঠিত ট্রাস্টের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে একাধিক নতুন পদাধিকারী নিয়োগ করা হয়েছে (Govind Dev Giri)। এর মধ্যে আধ্যাত্মিক নেতা গোবিন্দ দেব গিরিকে ট্রাস্টের নতুন সাধারণ সম্পাদক, মহেশ ভাগচন্দকাকে ট্রাস্টি ও কোষাধ্যক্ষ, আইনজীবী মদন মোহন পাণ্ডেকে ট্রাস্টি এবং নির্মলা যাদবকে ট্রাস্টি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্রকে ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (Ram Mandir Trust)

    নতুন নিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। সংগঠনের আন্তর্জাতিক সভাপতি তথা প্রবীণ আইনজীবী অলোক কুমার বিশেষভাবে গোবিন্দ দেব গিরিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁর আশা, গিরির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, আধ্যাত্মিক নেতৃত্ব এবং সাংগঠনিক দক্ষতা ট্রাস্টের কাজকে আরও সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    ট্রাস্টের এই সাংগঠনিক পরিবর্তনকে রামমন্দির প্রকল্পের পরবর্তী পর্যায়ের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মন্দির নির্মাণের পাশাপাশি অযোধ্যায় সংশ্লিষ্ট বৃহত্তর উন্নয়নমূলক কাজের দায়িত্বও ট্রাস্টের উপর রয়েছে। সেই কাজ আরও কার্যকর, স্বচ্ছ এবং সমন্বিতভাবে পরিচালনার লক্ষ্যেই নতুন দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে বলে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বক্তব্য।

    সাধারণ সম্পাদক পদে গোবিন্দ দেব গিরি

    গোবিন্দ দেব গিরির নিয়োগকে এই বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। আধ্যাত্মিক ও সাংগঠনিক ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ জানিয়েছে, নতুন দায়িত্বে তিনি ট্রাস্টকে প্রয়োজনীয় দিশা দিতে পারবেন। অলোক কুমার তাঁর দায়িত্ব গ্রহণে শুভেচ্ছা জানিয়ে আস্থা প্রকাশ করেছেন যে, গিরির অভিজ্ঞতা ট্রাস্টের সাংগঠনিক কাজকে আরও শক্তিশালী করবে।

    রামমন্দির নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কাজ ক্রমশ বিস্তৃত হওয়ার প্রেক্ষাপটে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মন্দির প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রশাসনিক সমন্বয়, বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে যোগাযোগ এবং ভবিষ্যতের কাজের পরিকল্পনায় এই পদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

    ট্রাস্টি ও কোষাধ্যক্ষ মহেশ ভাগচন্দকা

    বৈঠকে মহেশ ভাগচন্দকাকে ট্রাস্টি এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের দাবি, রাম জন্মভূমি আন্দোলনের একেবারে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই তিনি এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি সংশ্লিষ্ট কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    অশোক সিংঘল ফাউন্ডেশনের মাধ্যমেও তিনি হিন্দুত্বের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কাজে অবদান রেখেছেন বলে জানিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। সংগঠনের মতে, রাম জন্মভূমি আন্দোলনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং অভিজ্ঞতা ট্রাস্টের নতুন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে মূল্যবান হবে (Govind Dev Giri)।

    কোষাধ্যক্ষ হিসেবে তাঁর দায়িত্বও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। মন্দির প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট কাজের সমন্বয় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সেই জায়গায় তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলে মনে করছে সংগঠনটি (Ram Mandir Trust)।

    আইনজীবী মদন মোহন পাণ্ডে হলেন ট্রাস্টি

    আইনজীবী মদন মোহন পাণ্ডেকেও ট্রাস্টি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ সংক্রান্ত দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের সঙ্গে যুক্ত আইনজীবীদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। রামমন্দির নির্মাণের পক্ষে মামলার নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।

    ট্রাস্টে তাঁর অন্তর্ভুক্তিকে আইনি ও বিচারিক অভিজ্ঞতার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মন্দির প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিষয়ে আইনি পরামর্শ, নথিপত্র, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যতের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা ট্রাস্টকে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

    বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বক্তব্য, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া জ্ঞান ট্রাস্টের কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক ও আইনি দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করবে।

    নির্মলা যাদবের অন্তর্ভুক্তি, বাড়ল মহিলা প্রতিনিধিত্ব

    ট্রাস্টের নতুন ট্রাস্টি হিসেবে নির্মলা যাদবের নিয়োগও উল্লেখযোগ্য। তাঁর অন্তর্ভুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ জানিয়েছে, এর ফলে ট্রাস্টে প্রতিনিধিত্বের পরিসর আরও বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে রামমন্দির প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কাজে মহিলাদের ভূমিকার স্বীকৃতিও এই নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে বলে সংগঠনটির বক্তব্য (Ram Mandir Trust)।

    অলোক কুমার মনে করেন, সীতা ও রামের পবিত্র ভূমির সঙ্গে যুক্ত এই বৃহৎ কাজে মহিলাদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, নির্মলা যাদবের উপস্থিতি ট্রাস্টের কাজের ক্ষেত্রে আরও সংবেদনশীলতা, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং অন্তর্ভুক্তির মানসিকতা তৈরি করবে।

    প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হলেন অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র

    বৈঠকের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হল অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্রকে ট্রাস্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ তাঁকে অভিজ্ঞ, সম্মানিত এবং দক্ষ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছে। তাঁর দীর্ঘ পেশাগত অভিজ্ঞতা ট্রাস্টের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করতে সাহায্য করবে বলে সংগঠনটির আশা।

    পূর্ণকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়টিও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজের পরিধি ক্রমশ বাড়ছে। ফলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, বিভিন্ন কাজের মধ্যে সমন্বয়, সময়সীমা বজায় রাখা এবং কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য একজন পূর্ণকালীন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে নতুন কাঠামো

    নতুন নিয়োগগুলির দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে, আধ্যাত্মিক, আইনি, প্রশাসনিক, আর্থিক এবং সাংগঠনিক—বিভিন্ন ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতাকে একই কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। গোবিন্দ দেব গিরির আধ্যাত্মিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, মহেশ ভাগচন্দকার দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও আর্থিক দায়িত্বের অভিজ্ঞতা, মদন মোহন পাণ্ডের আইনি জ্ঞান, নির্মলা যাদবের অন্তর্ভুক্তি এবং জিতেন্দ্র মিশ্রের প্রশাসনিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে ট্রাস্টের কাজের পরিধিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে (Ram Mandir Trust)।

    বিশ্ব হিন্দু পরিষদ জানিয়েছে, নতুন সদস্যদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে শ্রী রামমন্দিরের সঙ্গে যুক্ত বৃহৎ প্রকল্পের কাজ আরও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে অযোধ্যার বৃহত্তর উন্নয়নমূলক কাজকেও এগিয়ে (Govind Dev Giri) নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে আশা সংগঠনটির।

    অলোক কুমার সমস্ত নবনিযুক্ত সদস্যকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তাঁদের সম্মিলিত অভিজ্ঞতা ট্রাস্টের কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আস্থা প্রকাশ করেন তিনি। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বক্তব্যে শেষ পর্যন্ত অযোধ্যার এই কর্মকাণ্ডকে বৃহত্তর আদর্শের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। সংগঠনটির আশা, নতুন সাংগঠনিক কাঠামো এবং নেতৃত্বের মাধ্যমে অযোধ্যায় চলা কাজ এমন এক পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক হবে, যা রামরাজ্যের সঙ্গে যুক্ত আদর্শগুলিকে প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে (Ram Mandir Trust)।

     

  • Jeetendra Mishra: রাম মন্দিরের প্রশাসনিক দায়িত্বে অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র, রয়েছে অপারেশন সিঁদুরে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা

    Jeetendra Mishra: রাম মন্দিরের প্রশাসনিক দায়িত্বে অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র, রয়েছে অপারেশন সিঁদুরে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অযোধ্যার রাম মন্দিরের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে চলেছেন ভারতীয় বায়ুসেনার অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্র মিশ্র (Jeetendra Mishra)। অপারেশন সিঁদুরের সময় আকাশপথে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। যুদ্ধকালীন অসামান্য নেতৃত্ব ও পরিষেবার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ যুদ্ধকালীন বিশিষ্ট (Ram Temple Trust) পরিষেবা সম্মান  ‘সর্বোত্তম যুদ্ধ সেবা পদক’।

    যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উচ্চমানের পরিষেবার জন্য এই পদক দেওয়া হয়। গত ৪৬ বছরে মাত্র ১০ বার এই সম্মান দেওয়া হয়েছে। ফলে জিতেন্দ্রর এই স্বীকৃতি তাঁর সামরিক জীবনের বিশেষ কৃতিত্ব হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

    জিতেন্দ্র মিশ্র (Jeetendra Mishra)

    জিতেন্দ্রর আদি বাড়ি উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়া জেলার ভোপথপুরায়। অযোধ্যা থেকে সড়কপথে তাঁর গ্রামের দূরত্ব প্রায় তিন ঘণ্টা। মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা জিতেন্দ্রর বাবা ছিলেন অধ্যাপক। দীর্ঘ সামরিক জীবনের পর ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে তিনি অবসর নেন। এরপরই শ্রীরামের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে তাঁর সামনে।

    রাম মন্দিরের প্রশাসনিক কাঠামোয় এই নিয়োগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশাল মন্দির চত্বরের দৈনন্দিন কার্যক্রম, নিরাপত্তা, পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ এবং বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর ব্যবস্থাপনার মতো দায়িত্ব সামলাতে তাঁর দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা কার্যকর হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    কীভাবে হল নির্বাচন প্রক্রিয়া?

    রাম মন্দিরের প্রধান নির্বাহী আধিকারিক নির্বাচনের জন্য ২০২৬ সালের ৬ জুলাই সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রমোদ কোহলি, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভিকে চতুর্বেদী এবং পরমাণু বিজ্ঞানী সুরেশ হাওরে। প্রতিরক্ষা, বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে তাঁদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

    ১১ জুলাই কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে নির্বাচন প্রক্রিয়া ও যোগ্যতার মানদণ্ড চূড়ান্ত করা হয়। ১৪ জুলাই শিল্পপতি সমীর পাণ্ডাকে কমিটির সচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়। বিপুল সংখ্যক আবেদনপত্র ও সংশ্লিষ্ট কাজ সামলানোর জন্য তাঁর নেতৃত্বে একটি দলও গঠন করা হয়। ১৮ জুলাই আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ হয়। মোট ৫,৫৮৫টি আবেদনপত্র জমা পড়ে। পরবর্তী পর্যায়ে আবেদনগুলি যাচাই ও মূল্যায়নের পর ১,৫৮০ জন আবেদনকারীকে যোগ্য ও উপযুক্ত বলে চিহ্নিত করা হয় (Jeetendra Mishra)।

    ৩ থেকে ৬ অগাস্ট যোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে ১০৮ জনের সঙ্গে অনলাইনে পারস্পরিক আলোচনা ও সাক্ষাৎকারের আয়োজন করা হয়। এই ১০৮ জন ছিলেন যোগ্য ও উপযুক্ত আবেদনকারীদের শীর্ষ ৭ শতাংশের মধ্যে। এরপর ১১ ও ১২ আগস্ট অযোধ্যায় শ্রীরাম মন্দিরের গ্রিন হাউসে ১৬ জন চূড়ান্ত প্রার্থীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করা হয়।

    সার্চ কমিটির রিপোর্ট

    অবশেষে ১ সেপ্টেম্বর সার্চ কমিটি ৭৫ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয়। একই সঙ্গে রাম মন্দিরের প্রধান নির্বাহী আধিকারিক পদের জন্য তিন সদস্যের একটি প্যানেলের সুপারিশ করা হয়।

    এই পুরো প্রক্রিয়ার পর অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল জিতেন্দ্রর নিয়োগ রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলে মনে করা হচ্ছে।

    সামরিক জীবনে অর্জিত কৌশলগত পরিচালন দক্ষতা, শৃঙ্খলাবদ্ধ নেতৃত্ব এবং দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার কারণে মন্দির চত্বরের প্রতিদিনের বিপুল (Ram Temple Trust) কর্মকাণ্ড, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পরিকাঠামোগত সম্প্রসারণ সামলানোর ক্ষেত্রে জিতেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে (Jeetendra Mishra) পারেন বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • SC: নিট আন্দোলনের মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বড় সিদ্ধান্ত, দেশজুড়ে এফআইআর বন্ধের নির্দেশ

    SC: নিট আন্দোলনের মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বড় সিদ্ধান্ত, দেশজুড়ে এফআইআর বন্ধের নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জুলাই মাসে নিট-সংক্রান্ত আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে দায়ের হওয়া একাধিক ফৌজদারি মামলার নিষ্পত্তি করল সুপ্রিম কোর্ট (SC)। সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে দেওয়া বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে আদালত তার সামনে থাকা এফআইআরগুলি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে একই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের অন্যত্র দায়ের হওয়া একই ধরনের এফআইআরগুলির ক্ষেত্রেও সুরক্ষা বাড়ানো হয়েছে (NEET Protest)। তবে এই নির্দেশকে নিঃশর্তভাবে “সব এফআইআর বাতিল” হিসেবে দেখলে বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বোঝা যাবে না।

    ‘সুপ্রিম’ শুনানি (SC)

    প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার তিন সদস্যের বেঞ্চ জুলাইয়ের ২০ থেকে ২৫ তারিখ পর্যন্ত হওয়া বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া এফআইআর সংক্রান্ত একগুচ্ছ আবেদনের শুনানি করছিল।আদালত মনে করেছে, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনে অংশ নেওয়া পড়ুয়া এবং অন্যান্য তরুণ-তরুণীদের শুধুমাত্র একটি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে বছরের পর বছর ফৌজদারি মামলার বোঝা বহন করা উচিত নয়। সেই কারণেই আদালতের সামনে থাকা এফআইআরগুলি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দেশের অন্যান্য জায়গায় দায়ের হওয়া একই ধরনের মামলাতেও এই সুরক্ষা প্রযোজ্য হবে।

    তবে এই নির্দেশের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম রেখেছে শীর্ষ আদালত।

    কেন্দ্রীয় সরকার আদালতকে জানিয়েছে, দিল্লি পুলিশ ২,৮৭৩ জনকে চিহ্নিত করেছে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই করে পুলিশের দাবি, ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধমূলক অতীতের তথ্য রয়েছে এবং তাঁরা প্রাথমিকভাবে বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত ছিলেন (SC)।

    এই ২,৮৭৩ জনকে নিয়ে দিল্লি পুলিশকে একটি নতুন এফআইআর দায়ের করে তদন্তের অনুমতি দিয়েছে আদালত। তবে সেই তদন্তের বিষয় হবে বিক্ষোভ চলাকালীন তাঁদের কেউ শারীরিক ক্ষতি বা সম্পত্তি ধ্বংসের মতো নির্দিষ্ট অপরাধে যুক্ত ছিলেন কি না।

    আদালতের অবস্থান

    বিষয়টি নিয়ে আদালতের অবস্থানও স্পষ্ট। ২,৮৭৩ জনকেই অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করেনি সুপ্রিম কোর্ট। শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা বলছি না যে তাঁরা অপরাধী। অভিযোগ রয়েছে, এই পর্যন্ত।”

    অর্থাৎ, শুধু ওই ব্যক্তিরা বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন বলেই তাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাচ্ছে না। নতুন করে যে তদন্ত হবে, তার কেন্দ্রে থাকতে হবে হিংসা, শারীরিক ক্ষতি অথবা সম্পত্তি নষ্ট করার মতো নির্দিষ্ট অপরাধমূলক কাজ।

    ফলে সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সার্বিকভাবে মামলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তও বলা যায় না, আবার সব ধরনের অভিযোগ থেকে নিঃশর্ত অব্যাহতি দেওয়াও বলা যায় না।

    আদালতের অবস্থানের মূল বিষয় হল, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রতিবাদে অংশ নেওয়া এবং সেই জমায়েতকে আড়াল করে সংঘটিত সম্ভাব্য অপরাধের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য করা। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনে অংশ নেওয়া পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ যাতে দীর্ঘদিন ধরে ফৌজদারি মামলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করেছে আদালত। একই সঙ্গে হিংসা বা সম্পত্তি নষ্টের মতো নির্দিষ্ট অপরাধের তদন্তের সুযোগও রাষ্ট্রের হাতে রাখা হয়েছে।

    আরও একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আদালত জানিয়েছে, ১৪২ অনুচ্ছেদের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের সিদ্ধান্তটি এই মামলার সামনে থাকা বিশেষ পরিস্থিতি ও ঘটনাপ্রবাহের ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছে। এটিকে ভবিষ্যতের মামলায় অনুসরণযোগ্য নজির হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। ফলে গণবিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া সব এফআইআর ভবিষ্যতে একইভাবে বাতিল করা যাবে—এমন সাধারণ নিয়ম এই রায় থেকে তৈরি হচ্ছে না।

    নিট বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আত্মহত্যা করে মারা যাওয়া পড়ুয়াদের পরিবারের ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও শুনানিতে উঠে আসে। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারকে তিন মাসের মধ্যে গোটা দেশের জন্য একটি অভিন্ন কাঠামো তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

    ‘সুপ্রিম’ সিদ্ধান্তের তাৎপর্য বহুমাত্রিক

    সব মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের তাৎপর্য বহুমাত্রিক। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং তরুণ আন্দোলনকারীদের দীর্ঘমেয়াদি আইনি জটিলতা থেকে রক্ষা করা হয়েছে (NEET Protest)। তবে বিক্ষোভের সময় সংঘটিত হতে পারে এমন নির্দিষ্ট হিংসাত্মক অপরাধ বা সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনা তদন্তের বাইরে রাখা হয়নি। অর্থাৎ, আদালত (SC) যে সীমারেখা টেনেছে, তা হল গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ একদিকে এবং সেই প্রতিবাদের সময় সংঘটিত সম্ভাব্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আর একদিকে।

     

  • Eknath Shinde: এসসিও সম্মেলনের ছবি থেকে মোদিকে বাদ, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ছিছিক্কার

    Eknath Shinde: এসসিও সম্মেলনের ছবি থেকে মোদিকে বাদ, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ছিছিক্কার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সাম্প্রতিক সম্মেলনের একটি সম্পাদিত ছবি প্রকাশকে ঘিরে নতুন করে তৈরি হয়েছে কূটনৈতিক বিতর্ক। কিরগিজস্তানের বিশকেকে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনের দলগত ছবিতে (SCO Group Photo) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ছবি বাদ দিয়ে শুধু পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং (Eknath Shinde) রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে রাখা হয়েছিল। সরকারি দফতর থেকে প্রকাশিত ছবিতে এই পরিবর্তন সামনে আসতেই ভারতের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

    কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী (Eknath Shinde)

    ঘটনাটিকে ভারতের একাধিক রাজনৈতিক নেতা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং অত্যন্ত নিম্নমানের রুচির পরিচয় বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক মঞ্চে কোনও দেশের প্রতিনিধিকে একটি সরকারি দলগত ছবি থেকে বাদ দেওয়ার মতো পদক্ষেপ শুধু রাজনৈতিক বিদ্বেষের পরিচয় নয়, বরং সংশ্লিষ্ট দেশের কূটনৈতিক মানসিকতারও প্রতিফলন। পরে অবশ্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নিজের সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে সম্মেলনের আসল ছবিটি প্রকাশ করেন। ফলে সরকারি দফতরের প্রকাশিত সম্পাদিত ছবি নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়। যদিও পরে মূল ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, তবুও প্রথমে কেন ছবিটি সম্পাদনা করে নরেন্দ্র মোদি এবং ইরানের প্রেসিডেন্টকে বাদ দেওয়া হল, তা নিয়ে বিতর্ক থামেনি।

    ভারতীয় নেতাদের কড়া প্রতিক্রিয়া

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন। সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে ছবির বাইরে রাখার চেষ্টা কোনওভাবেই তাঁর আন্তর্জাতিক গুরুত্বকে কমিয়ে দিতে পারে না।

    শিন্ডে বলেন, “পাকিস্তান যা করেছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। পাকিস্তান সবসময়ই এই ধরনের কাজ করার চেষ্টা করে। তবে আমি বলব, তারা মোদিজির ছবি সরিয়ে দিতে পারে, কিন্তু মোদিজি চাইলে গোটা বিশ্বের ছবিতেই পাকিস্তানকে সরিয়ে দিতে পারেন।”

    শিন্ডের বক্তব্য, একটি ছবি সম্পাদনা করে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে কোনও আন্তর্জাতিক পরিসর থেকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। তাঁর দাবি, নরেন্দ্র মোদি দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে যে রাজনৈতিক ও আবেগগত গুরুত্ব বহন করেন, কোনও ছবি থেকে তাঁর উপস্থিতি বাদ দেওয়া সেই বাস্তবতাকে বদলাতে পারে না।

    তিনি এও বলেন, ছবিতে কারও উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি দিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কোনও নেতার গুরুত্ব নির্ধারিত হয় না। বরং এই ধরনের ঘটনা সংশ্লিষ্ট দেশের আচরণ এবং মানসিকতাকেই প্রকাশ করে (Eknath Shinde)।

    “আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পাকিস্তান নিজেকেই হাসির খোরাক করছে”

    প্রাক্তন বিদেশ প্রতিমন্ত্রী এমজে আকবরও পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে সরকারি ছবি সম্পাদনা করে কোনও রাষ্ট্রনেতাকে বাদ দেওয়ার ঘটনা পাকিস্তানের জন্যই বিব্রতকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    আকবর বলেন, “প্রতিটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পাকিস্তান এভাবেই নিজেকে হাসির পাত্রে পরিণত করে। ছবির এই সেন্সরশিপ ঔদ্ধত্যের চরম প্রকাশ। শুধু আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এমনভাবে ছবি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেন তিনি সেখানে ছিলেনই না, তার ওপর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে ছবির কেন্দ্রে রাখা হয়েছে এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে প্রান্তে রাখা হয়েছে (SCO Group Photo)।”

    আকবরের বক্তব্যে স্পষ্ট, ছবির সম্পাদনার ধরন নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর মতে, ছবিতে নেতাদের অবস্থান পরিবর্তন করে পাকিস্তান নিজের রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়িয়ে দেখানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু বাস্তবে এই ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ভাবমূর্তির উপরই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    সমাজবাদী পার্টির নেতার কটাক্ষ

    সমাজবাদী পার্টির নেতা এসটি হাসানও এই ঘটনাকে “সস্তা এবং লজ্জাজনক” বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে অর্থনীতি, উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক প্রভাব এবং অন্যান্য বহু ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে একটি ছবি সম্পাদনা করে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা পাকিস্তানের কোনও রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারবে না (Eknath Shinde)।

    হাসান বলেন, “এটি অত্যন্ত সস্তা এবং লজ্জাজনক কাজ। পাকিস্তানের এতটা নীচে নামা উচিত নয়। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমাদের দেশ পাকিস্তানের থেকে অনেক এগিয়ে।”

    তাঁর আরও অভিযোগ, পাকিস্তানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি বড় অংশ ভারতবিরোধিতা এবং সন্ত্রাসবাদকে ঘিরে আবর্তিত হয়। তাঁর মতে, এই ধরনের আচরণ পাকিস্তানের সেই মানসিকতাকেই আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে।

    বিজেপির পাল্টা আক্রমণ

    বিজেপির মুখপাত্র সদিনেনি ইয়ামিনী শর্মাও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান ক্রমশ শক্তিশালী হওয়ায় পাকিস্তানের দ্বিচারিতা আন্তর্জাতিক মহলে প্রকাশ্যে চলে আসছে।

    ইয়ামিনী শর্মা বলেন, “পাকিস্তান সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সরকারি সম্মেলনের দলগত ছবি সম্পাদনা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইরানের প্রেসিডেন্টকেও সেই ছবি থেকে বাদ দিয়েছে। সন্ত্রাসবাদের পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর নির্ভীক ও দৃঢ় কূটনীতি পাকিস্তানের দ্বিমুখী সন্ত্রাসবাদী অবস্থানকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসছে।”

    বিজেপির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, ভারত আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানের ভূমিকার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অবস্থান নিয়েছে। সেই কারণে নরেন্দ্র মোদির কূটনৈতিক অবস্থান পাকিস্তানের কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে বলেও দাবি করা হয়েছে (SCO Group Photo)।

    ছবি নিয়ে বিতর্ক, বাড়ছে কূটনৈতিক চাপ

    একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সরকারি ছবি সাধারণত নিছক একটি ছবি নয়। সেখানে অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রনেতাদের উপস্থিতি, তাঁদের অবস্থান এবং ছবির প্রকাশভঙ্গির মধ্যেও কূটনৈতিক বার্তা নিহিত থাকে। ফলে কোনও রাষ্ট্রনেতার ছবি ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হলে তা নিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক (Eknath Shinde)।

    এই ঘটনায়ও মূল বিতর্ক সেখানেই। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দফতর কেন এমন একটি সম্পাদিত ছবি প্রকাশ করল, তা নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনও সামনে আসেনি। পরবর্তী সময়ে শাহবাজ শরিফ নিজেই মূল ছবি প্রকাশ করায় সম্পাদিত ছবিটি নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক মহলে চর্চার খোরাক শরিফের দেশের আচরণ

    ভারতীয় রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, এই ধরনের পদক্ষেপে ভারতের আন্তর্জাতিক অবস্থান বা নরেন্দ্র মোদির গ্রহণযোগ্যতার কোনও ক্ষতি হবে না। বরং পাকিস্তানের আচরণই আন্তর্জাতিক মহলে চর্চার খোরাক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে চিন ও রাশিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রনেতাদের উপস্থিতি থাকা একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ছবি নিয়ে এমন সম্পাদনা পাকিস্তানের কূটনৈতিক পরিপক্বতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে।

    সব মিলিয়ে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনের একটি দলগত ছবি ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক ভারত-পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্তেজনার নতুন একটি দিক সামনে নিয়ে এসেছে। ছবিতে নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতি মুছে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও, সেই সম্পাদনাই শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের পদক্ষেপকে আরও বেশি করে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। ভারতের রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কোনও রাষ্ট্রনেতার গুরুত্ব একটি ছবির ফ্রেম দিয়ে নির্ধারিত হয় না। বরং তাঁর দেশের কূটনৈতিক অবস্থান, আন্তর্জাতিক প্রভাব এবং নীতিগত দৃঢ়তাই সেই গুরুত্ব নির্ধারণ করে (SCO Group Photo)। কিস্তিমাত করতে গিয়ে ফাউল করে ফেলল শাহবাজ শরিফের দেশ (Eknath Shinde)!

     

  • Kerala HC: ‘নাবালিকা স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে পকসো আইনে দায় এড়ানো যাবে না’, জানিয়ে দিল কেরল হাইকোর্ট

    Kerala HC: ‘নাবালিকা স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে পকসো আইনে দায় এড়ানো যাবে না’, জানিয়ে দিল কেরল হাইকোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৮ বছরের কম বয়সি স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে মুসলিম ব্যক্তিও শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইনের আওতায় ফৌজদারি মামলার মুখে পড়তে পারেন। মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (Muslim Personal Law) অনুযায়ী ওই বিয়ে বৈধ হলেও, তা শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইনের আওতা থেকে অভিযুক্তকে মুক্তি দেয় না। একটি মামলার শুনানিতে এমনই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে কেরল হাইকোর্ট (Kerala HC)। এক ব্যক্তির দায়ের করা আবেদনের শুনানি করছিল হাইকোর্ট। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৬৬ এবং ৩৭৬(২)(এন) ধারায় এবং শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইনের ৬(১), ৫(এল) ও ১৫(১) ধারায় মামলা হয়েছিল। ওই মামলায় তিনি ছিলেন প্রথম অভিযুক্ত।

    যা নিয়ে অভিযোগ (Kerala HC)

    অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি নাবালিকা মেয়েটিকে অপহরণ করে গাড়িতে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর ২০২১ সালের ২৩ অক্টোবর থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত টানা চার দিন তার ওপর একাধিকবার যৌন নির্যাতন করা হয়। অপর দুই অভিযুক্ত এই অপরাধ সংঘটনে তাঁকে সাহায্য করেছিলেন বলেও অভিযোগ। মেয়েটির বাবা-মায়ের বিরুদ্ধেও অপরাধের কথা কর্তৃপক্ষকে না জানানোর অভিযোগ ওঠে।

    আবেদনকারী আদালতে দাবি করেন, মেয়েটি তাঁর আইনসঙ্গত স্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ২০২১ সালে ইসলামি ধর্মীয় রীতি মেনে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। তখন মেয়েটির বয়স ছিল ১৭ বছর এক মাস। নিজের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে তিনি ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারার একটি ব্যতিক্রমের উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি ছিল, ১৫ বছরের বেশি বয়সি স্ত্রীর সঙ্গে স্বামীর যৌন সম্পর্ককে ওই বিধানের অধীনে ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা হত না। তবে তাঁর এই আবেদনের বিরোধিতা করে সরকারি পক্ষ এবং অভিযোগকারী।

    কেরল হাইকোর্টের বক্তব্য

    দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর কেরল হাইকোর্ট জানায়, অভিযোগগুলিকে প্রাথমিকভাবে সত্য ধরে নিলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট অপরাধের উপাদান স্পষ্টভাবে পাওয়া যায় (Kerala HC)।

    আদালত অভিযুক্তের এই দাবিও খতিয়ে দেখে যে মেয়েটি তাঁর স্ত্রী ছিলেন। এ ক্ষেত্রে অভিযুক্ত মূলত মেয়েটি, তার ভাই এবং যে মসজিদের কাজির উপস্থিতিতে বিয়ে হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে, তাঁর পুলিশের কাছে দেওয়া বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেছিলেন। কিন্তু বিয়ের প্রমাণ হিসেবে কোনও নথিপত্র আদালতে পেশ করা হয়নি।

    হাইকোর্ট জানায়, আদৌ বৈধ বিয়ে হয়েছিল কি না, তা বিচারপর্বেই নির্ধারণ করতে হবে। তবে আদালত স্পষ্ট করে বলেছে, “বিতর্কের অবকাশ নেই যে, বিয়ের কোনও এক পক্ষ নাবালক বা নাবালিকা হলে, মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের অধীনে সেই বিয়ে বৈধ হোক বা না হোক, শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইনের বিধান প্রযোজ্য হবে।”

    অভিযুক্তের বক্তব্য খারিজ

    অভিযুক্ত ব্যক্তি ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারার ব্যতিক্রমের সুরক্ষা পাওয়ার যে যুক্তি দিয়েছিলেন, হাইকোর্ট তাও গ্রহণ করেনি। এ ক্ষেত্রে আদালত সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের ওপর নির্ভর করেছে, যেখানে ওই ব্যতিক্রমের পরিধি সীমিত করে দেওয়া হয়েছিল। সেই ব্যাখ্যা অনুযায়ী, স্ত্রীর বয়স ১৮ বছরের কম হলে তাঁর সঙ্গে স্বামীর যৌন সম্পর্ক বা যৌন আচরণকে ধর্ষণের সংজ্ঞার বাইরে রাখা যায় না।

    ফলে শুধুমাত্র বিয়ের বৈধতার দাবি তুলে শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইনের অধীনে দায় এড়ানো সম্ভব নয় বলে জানায় কেরল হাইকোর্ট (Muslim Personal Law)। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চলা ফৌজদারি মামলা বাতিলের আবেদনও খারিজ করে দেয় আদালত (Kerala HC)।

     

  • Sheikh Hasina: ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে ফিরতে চান হাসিনা, তারেকের দিল্লি সফরের সঙ্গে প্রত্যর্পণ জুড়ে দেওয়ায় তুললেন প্রশ্নও

    Sheikh Hasina: ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে ফিরতে চান হাসিনা, তারেকের দিল্লি সফরের সঙ্গে প্রত্যর্পণ জুড়ে দেওয়ায় তুললেন প্রশ্নও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে স্বেচ্ছানির্বাসনে থাকা বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামি লিগ সভাপতি শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) জানিয়েছেন, তিনি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নিজের দেশে ফিরতে চান। তাঁর প্রত্যাবর্তনকে বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের (Tarique Rahman) সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফরের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে কেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সংবাদমাধ্যমে দেওয়া প্রথম টেলিফোন সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেন, কোনও প্রত্যর্পণ চুক্তির শর্তে নয়, তিনি নিজের ইচ্ছাতেই দেশে ফিরতে চান। ২০২৪ সালের অগাস্টে ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে আন্দোলনের পর তাঁর সরকারের পতন ঘটে। এরপর থেকেই হাসিনা ভারতে রয়েছেন। দীর্ঘদিন পর ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এই সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, দেশে ফেরার ইচ্ছা, বিএনপি সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেন।

    হাসিনার সাফ কথা (Sheikh Hasina)

    হাসিনা বলেন, তাঁর দেশে ফেরার ইচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনও কারণ নেই। তাঁর কথায়, “আমি আমার নিজের দেশে ফিরে যাচ্ছি। তিনি কেন এতে আপত্তি করছেন, তা আমি বুঝতে পারছি না। তারা প্রত্যর্পণ চুক্তির কথা বলছে। আমি নিজের ইচ্ছায় নিজের দেশে ফিরে যেতে চাই। আমি ফিরে যাব। আমি কি সারা জীবন বিদেশে থাকতে পারি? আমাকে আমার দেশে, আমার নিজের মানুষের কাছে ফিরতেই হবে।”

    হাসিনার উপস্থিতি সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে নয়াদিল্লি থেকে ৫ অগাস্ট তাঁর ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেই সময় বাংলাদেশ ও ভারত তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফর নিয়ে আলোচনা করছিল। কিন্তু হাসিনার ওই ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন পুরো প্রক্রিয়াটিকে প্রভাবিত করেছে বলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

    এমনকি তারেকের ভারত সফরের সঙ্গে হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টিকেও শর্ত হিসেবে সামনে আনা হয়েছিল। ভারত ইতিমধ্যেই তারেককে দ্বিপাক্ষিক সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এর পাশাপাশি আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের বিশেষ যোগাযোগমূলক অধিবেশনেও তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে এই দুই আমন্ত্রণের বিষয়ে ঢাকা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।

    বিএনপি সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন

    হাসিনা অবশ্য বিএনপি সরকারের এই অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিএনপি সরকার ভারতে বসে তাঁর ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের বিরোধিতা করলেও অতীতে তারেক নিজেই লন্ডনে থাকাকালীন বিএনপির বিভিন্ন ভার্চুয়াল বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ব্রিটেনে বসবাসের সময় রাজনীতিতে অংশ নেবেন না বলে অঙ্গীকার করার পরেও, তারেক বিএনপির ভার্চুয়াল রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিলেন। ফলে তাঁর মতে, বর্তমান অবস্থান এবং অতীতের বক্তব্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে।

    বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন হাসিনা। তাঁর দাবি, সত্য কথা বলার কারণে দুই দেশের সম্পর্ক নষ্ট হয় না। বরং গণতন্ত্র ধ্বংস হলে, উগ্রপন্থার উত্থান ঘটলে, সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়লে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কাজে ব্যবহার করা হলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষতি হয় (Sheikh Hasina)।

    সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণ

    হাসিনা বলেন, “সত্যের কারণে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। গণতন্ত্র ধ্বংস হলে, উগ্রপন্থার উত্থানের সুযোগ দেওয়া হলে, সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাহীন বোধ করলে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়লে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য ব্যবহার করা হলে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।”

    বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন হাসিনা। তাঁর বক্তব্য, দেশে যখন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে, সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির চাপে রয়েছেন, তখন বিপুল অর্থ ব্যয় করে যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক (Tarique Rahman)।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিনের কাছ থেকে যুদ্ধবিমান কেনার জন্য প্রায় ২৩০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি সরকার। এই সময়েই দেশের জ্বালানি সংকট এবং জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির বিষয়টি সামনে এনে হাসিনা সরকারের অগ্রাধিকার নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন।

    যুদ্ধবিমান কেনায় প্রশ্ন

    তিনি বলেন, “এমন কঠিন পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিমান কেনার জন্য এত অর্থ ব্যয়ের এই সিদ্ধান্ত কেন? সেটাই আমার প্রশ্ন। তবে এই প্রশ্ন আপনারা বিএনপি সরকারকেও করুন।”

    বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হাসিনা। তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের করা সতর্কবার্তার প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে “আর একটি পাকিস্তানে” পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে (Sheikh Hasina)।

    হাসিনা আরও বলেন, “রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের নজরদারি ব্যবস্থাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, ভারতীয় উপমহাদেশে আল-কায়েদা বাংলাদেশকে ব্যবহার করে সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি গড়ে তোলার চেষ্টা করতে পারে। স্থানীয় তদন্তেও একই ধরনের বিপদের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে (Sheikh Hasina)।”

    হাসিনার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন তাঁর দেশে ফেরা, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং তারেকের সম্ভাব্য ভারত সফর—এই তিনটি বিষয়ই আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁর প্রত্যর্পণ নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির অবস্থানও ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    তবে হাসিনার বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—তিনি তাঁর দেশে ফেরার প্রশ্নটিকে কোনও রাজনৈতিক সমঝোতা বা অন্য কোনও নেতার বিদেশ সফরের সঙ্গে যুক্ত করতে চাইছেন না। তাঁর দাবি, দেশের মানুষের কাছে ফিরে যাওয়া তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত এবং সেই কারণেই তিনি ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন (Tarique Rahman)।

    হাসিনার বার্তা

    এদিকে, তাঁর এই বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে গণতন্ত্র, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা, উগ্রপন্থা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যবহার এবং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার—এই সব প্রশ্নকে সামনে রেখে হাসিনা বর্তমান সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও তাঁর বক্তব্যে একটি বার্তা রয়েছে। সেটি হল, দুই দেশের সম্পর্কের স্থায়িত্ব কেবল কূটনৈতিক যোগাযোগের ওপর নির্ভর করে না, বরং গণতন্ত্র, নিরাপত্তা, সংখ্যালঘু অধিকার এবং পারস্পরিক আস্থার মতো বিষয়গুলিও তার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত (Sheikh Hasina)।

     

  • PM Modi on GDP: ৭.৮% জিডিপি বৃদ্ধি, উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী! ‘স্বদেশি’ পণ্যে জোর দেওয়ার আহ্বান, সোশ্যাল মিডিয়ায় কী লিখলেন মোদি?

    PM Modi on GDP: ৭.৮% জিডিপি বৃদ্ধি, উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী! ‘স্বদেশি’ পণ্যে জোর দেওয়ার আহ্বান, সোশ্যাল মিডিয়ায় কী লিখলেন মোদি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের অর্থনীতির ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধিকে দেশের মানুষের সম্মিলিত শক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের প্রতিফলন বলে প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একইসঙ্গে দেশবাসীকে ‘স্বদেশি’ ও ‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর প্রচার আরও জোরদার করার আহ্বান জানালেন তিনি। অপ্রয়োজনীয় বিদেশি খরচ, বিশেষ করে অবকাশযাপন, বিদেশে ডেস্টিনেশন ওয়েডিং এবং প্রয়োজন না থাকলে সোনা কেনার মতো ব্যয় কমানোর বার্তাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার একটি ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, নানা সংকট এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার মতো কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ভারত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। তাঁর মতে, এই সাফল্য কোনও একজনের নয়, বরং দেশের সাধারণ মানুষের সংকল্প ও পরিশ্রমের ফল।

    সম্মিলিত শক্তির প্রতিফলন

    ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধির প্রসঙ্গে মোদি বলেন, “দেশের মানুষকে অনেক অভিনন্দন। ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধি। দেশ আনন্দে ভরে উঠেছে। তবে দেশের মানুষের সংকল্প ও কঠোর পরিশ্রমের জন্য তাঁদের অভিনন্দন জানাই। এটি সম্মিলিত শক্তির প্রতিফলন।” বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ অতিমারির সময় থেকে এখনও পর্যন্ত বিশ্বে স্থিতিশীলতা পুরোপুরি ফিরে আসেনি। বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধের খবর আসছে, বিশ্ব একাধিক সংকটের মধ্যে রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। মোদি বলেন, “২০২০ সালে কোভিডের সময় থেকে আজ পর্যন্ত কোথাও স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে না। বিশ্ব যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে, চারদিকে সংকট। সরবরাহ শৃঙ্খল সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত। তা সত্ত্বেও ভারত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।”

    ভোকাল ফর লোকাল

    বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল অবস্থা। আমেরিকা ও ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে বিশ্ব বাজারে। তখন সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছে ভারতীয় অর্থনীতি। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার পূর্বাভাসকে ছাপিয়ে গিয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের প্রকৃত জিডিপি GDP) বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ। ভারতের অর্থনীতির এই সাফল্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সাধারণ মানুষকে দেশীয় পণ্য ও পরিষেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বার্তা, প্রয়োজনীয় খরচের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে বেশি অর্থপ্রবাহ নিশ্চিত করতে অপ্রয়োজনীয় বিদেশি ব্যয় কমিয়ে ‘স্বদেশি’ ও ‘ভোকাল ফর লোকাল’-কে আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

    মেড ইন ইন্ডিয়া

    ভবিষ্যতেও এই সাফল্যের ধারা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে মোদি বলেন, ভারতকে পুরোপুরি ‘আত্মনির্ভর’ হতে হবে এবং ‘স্বদেশী’ মন্ত্র মেনে কাজ করতে হবে। তিনি দেশবাসীকে অনুরোধ জানান, যেন তারা বিদেশে গিয়ে ধুমধাম করে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত বা অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ বদলে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ মন্ত্রকে জীবনে আপন করে নেন। একই সঙ্গে প্রয়োজন ছাড়া সোনা কেনা বন্ধ করার পরামর্শও দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, আমরা যত বেশি দেশি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল হব, স্বাধীনতার ১০০ বছরে পৌঁছে দেশের যুবসমাজকে তত সুন্দর এক নতুন ভারত উপহার দিতে পারব।

    ভারত আবারও বিকশিত হল

    ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) ভারতের প্রকৃত GDP (মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন) বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৭.৮ শতাংশ। সোমবার কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রক এই তথ্য প্রকাশ করেছে। এই তথ্য সামনে আসার পরই এক্স হ্যান্ডলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের ৭.৮ শতাংশের অসাধারণ জিডিপি বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে এক বিরাট সাফল্য। বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে তেলের দামের ধাক্কা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার নানা সমস্যার মধ্যেও দেশের মানুষের সম্মিলিত শক্তিই ভারতকে এই প্রবৃদ্ধি অর্জনে সাহায্য করেছে।” এরপরই ভারতীয় অর্থনীতির সমালোচকদের নিশানা করে মোদি লেখেন, “হতাশাবাদীদের ভবিষ্যদ্বাণী মুখ থুবড়ে পড়ল, ভারত আবারও বিকশিত হল।” প্রধানমন্ত্রী বুঝিয়ে দিলেন, যাঁরা ভারতের অর্থনীতি নিয়ে হতাশার ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তাঁদের সেই আশঙ্কা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

    আরবিআই-এর পূর্বাভাস

    প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবর্ষের একই ত্রৈমাসিকে জিডিপি (GDP) বৃদ্ধির হার ছিল ৬.৯ শতাংশ। চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে সেটাই হয়েছে ৭.৮ শতাংশ। চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের প্রকৃত জিডিপি (GDP)-র পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮১.৩৬ লক্ষ কোটি টাকা। গত অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে এই পরিমাণ ছিল ৭৫.৪৬ লক্ষ কোটি টাকা। জিডিপি বৃদ্ধির এই হার রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার (RBI) ৭ শতাংশ পূর্বাভাসকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। জুনে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকের জন্য আরবিআই ৭ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল।

    তরুণ প্রজন্মকে বার্তা

    অর্থনীতির পাশাপাশি দেশের তরুণ প্রজন্ম নিয়েও আশাবাদী বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আজ যে পরিশ্রম করা হচ্ছে, তার সুফল ভবিষ্যতে দেশের যুব সমাজ পাবে। মোদি বলেন, তরুণদের স্বপ্ন পূরণ করাই দেশের অন্যতম বড় লক্ষ্য। আজকের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই আগামী দিনের ভারত তৈরি হবে। তিনি দেশবাসীকে দেশের উন্নয়নে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, সরকারের নীতি সঠিক পথে রয়েছে। উদ্দেশ্যও স্পষ্ট। আর ১৪০ কোটি মানুষের সম্মিলিত শক্তি ভারতকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তার মূল সুর হল—দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সাধারণ মানুষকেও নিজেদের কেনাকাটা, ভ্রমণ এবং জীবনযাপনের কিছু সিদ্ধান্তে দেশীয় ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

LinkedIn
Share