Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • PM Modi: ছ’দিনে তিন দেশ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী, ইন্দোনেশিয়া দিয়ে শুরু, আর কোথায় যাবেন?

    PM Modi: ছ’দিনে তিন দেশ সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী, ইন্দোনেশিয়া দিয়ে শুরু, আর কোথায় যাবেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) আগামী ৬ থেকে ১১ জুলাই—ছ’দিনের সফরে (Six Day Tour) যাচ্ছেন ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে। এই সফরকে ভারতের পূর্বমুখী নীতির অংশ হিসেবে কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও সামুদ্রিক সহযোগিতা আরও জোরদারের উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করাই এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

    ইন্দোনেশিয়া দিয়ে শুরু সফর (PM Modi)

    সফরের প্রথম গন্তব্য ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা। ৬ থেকে ৮ জুলাই সেখানে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, ডিজিটাল সংযোগ-সহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে। এর পাশাপাশি ব্রহ্মোস অতিধ্বনিত গতির ক্ষেপণাস্ত্র রফতানি এবং সাবমেরিন প্রযুক্তি সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে একাধিক সূত্রের খবর। ২০১৮ সালে ভারত ও ইন্দোনেশিয়া সম্পর্ককে সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্বের পর্যায়ে উন্নীত করার পর এটি মোদির (PM Modi) প্রথম ইন্দোনেশিয়া সফর। একই সঙ্গে এটি ইন্দোনেশিয়ায় তাঁর চতুর্থ সফর। সফরকালে তিনি জাকার্তায় অবস্থিত ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী প্রামবানান মন্দির দর্শন করবেন। প্রবাসী ভারতীয়দের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী।

    ভারত দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতির দেশ

    ইন্দোনেশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী যাবেন অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে। সেখানে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের সঙ্গে বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। ২০২২ সালের পর দুই নেতার এটি হবে ষষ্ঠ বৈঠক। ২০২৫ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত বিশের জোট শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে তাঁদের সাক্ষাৎ হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি (Six Day Tour) হবে মোদির তৃতীয় অস্ট্রেলিয়া সফর। এর আগে তিনি ২০১৪ ও ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিলেন। ২০২০ সালে দুই দেশ তাদের সম্পর্ককে সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করে। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে ভারতকে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম এবং দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতির দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

    আপ্লুত অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী

    মোদির সফরের কথা ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, “আমার বন্ধু নরেন্দ্র মোদিকে অস্ট্রেলিয়ায় স্বাগত জানাতে পেরে আমি সম্মানিত।” তিনি এও বলেন, “দুই দেশের সম্পর্ক এখন আগের যে কোনও সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই অংশীদারিত্ব ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখছে।” দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ, স্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থা, বাণিজ্য, শিক্ষা এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হবে (Six Day Tour)। পাশাপাশি ভারত-অস্ট্রেলিয়া প্রধান নির্বাহীদের ফোরামের যৌথ অধিবেশনে অংশ নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে উৎপাদন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

    প্রধানমন্ত্রীর সফর সূচি

    অস্ট্রেলিয়া সফরকালে তিনি দেশটির গভর্নর-জেনারেল স্যাম মোস্টিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া প্রবাসী ভারতীয়দের এক বড় সমাবেশেও ভাষণ দেবেন। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মতে, প্রবাসী ভারতীয় সম্প্রদায় দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি। অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়ায় প্রচুর ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস। ৯ জুলাই মেলবোর্নের মার্ভেল স্টেডিয়ামে “মেলবোর্ন মিটস মোদি” নামে একটি বড় কমিউনিটি অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে (PM Modi)। সফরের শেষ ধাপে ১০ থেকে ১১ জুলাই নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড সফর করবেন নরেন্দ্র মোদি। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এই রাষ্ট্রীয় সফর বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। প্রায় চার দশক পর কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নিউজিল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন। এর আগে ১৯৮৬ সালে রাজীব গান্ধী পা রেখেছিলেন এই দ্বীপরাষ্ট্রে।

    মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

    অকল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি কৃষি, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হবে। ভারতের শীর্ষকর্তাদের মতে, এই তিন দেশের সফর পূর্ব ভারত মহাসাগর এবং বৃহত্তর ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের প্রতিফলন। সাম্প্রতিক সময়ে দ্বীপরাষ্ট্রগুলি এবং জাপানের সঙ্গে ধারাবাহিক কূটনৈতিক তৎপরতার পর এই সফরকে সেই প্রচেষ্টারই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভারত, অস্ট্রেলিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানকে নিয়ে গঠিত (Six Day Tour) চার দেশের নিরাপত্তাভিত্তিক জোটও আঞ্চলিক নিরাপত্তা আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে আসবে বলেই (PM Modi) অনুমান আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের।

     

  • MHA Designated Terrorists: পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি,  বড় পদক্ষেপ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের! জৈশ ও লস্করের ২৩ সদস্যকে ‘জঙ্গি’ ঘোষণা কেন্দ্রের

    MHA Designated Terrorists: পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি, বড় পদক্ষেপ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের! জৈশ ও লস্করের ২৩ সদস্যকে ‘জঙ্গি’ ঘোষণা কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেনস’ নীতির কথা তুলে ধরে ২৩ জনকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সমাজমাধ্যম এক্সে মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (ইউএপিএ)-এর অধীনে ওই ২৩ জনের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ইউএপিএ অ্যাক্টের ৩৫ নম্বর ধারার অধীনে এদের জঙ্গি বলে ঘোষণা করা হয়েছে। মন্ত্রকের দাবি, তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতবিরোধী কার্যকলাপ, জঙ্গি হামলা, সন্ত্রাসে উসকানি, অস্ত্র পাচার, সীমান্ত অনুপ্রবেশ, জঙ্গি সংগঠনকে সহায়তা, অর্থ সংগ্রহ এবং সদস্য নিয়োগের অভিযোগ রয়েছে। ঘোষিত ২৩ জনের মধ্যে ১৭ জন পাকিস্তানের নাগরিক এবং ৬ জন ভারতীয়। তবে বর্তমানে সকলেই পাকিস্তান ও পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর থেকে কার্যকলাপ চালাচ্ছে বলেই দাবি কেন্দ্রের।

    বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের

    শনিবার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন জৈশ-ই-মহম্মদ ও লস্কর-ই-তৈবার ওই ২৩ জন সদস্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জঙ্গি’ ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জঙ্গি নিয়োগ, ভারতে অনুপ্রবেশ করানো, ট্রেনিং দেওয়া, ড্রোনে অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচার এবং জম্মু-কাশ্মীরে একাধিক জঙ্গি হামলার ছক কষার অভিযোগ রয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দাবি, ২৩ জনের মধ্যে তিন জন লস্কর-ই-তৈবার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ মহম্মদ সইদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। এছাড়া তিনজন ২০১৬ সালের নাগরোটা সেনা শিবিরে হামলার অন্যতম মূলচক্রী এবং দু’জন ২০২২ সালের সুনজওয়ানে নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলার সঙ্গে জড়িত।

    হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ

    কেন্দ্রের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে আবদুল রউফ, হাফিজ খালিদ ওয়ালিদ এবং রানা ইফতিখারের নাম হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কেন্দ্রের অভিযোগ, রানা ইফতিখারের কাজ ছিল বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের মধ্যে যোগাযোগ রাখা। সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের মগজ ধোলাইও করতেন তিনি। সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির মধ্যে সমন্বয়ের জন্য কট্টরপন্থী পাক গোষ্ঠী জামাত-উদ-দাওয়ার তরফে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইফতেখার। রউফও জামাত-উদ-দাওয়ার নেতা। সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের পরিকল্পনা ও সমন্বয়, অর্থ সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত। ওয়ালিদ বর্তমানে হাফিজের নিরাপত্তা্র দায়িত্বপ্রাপ্ত। তিনিও কাশ্মীরে একাধিক সন্ত্রাসবাদী হামলার মূল পরিকল্পনাকারী।

    তালিকাভুক্তদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নাম

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই তালিকাভুক্তদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নাম—

    মাসুদ ইলিয়াস কাশ্মীরি (জইশ-ই-মহম্মদ): কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিবৃতি জানাচ্ছে, এই পাকিস্তানি নাগরিক ২০২২ সালে সুঞ্জওয়ান সেনা শিবিরে হামলায় জড়িত ছিলেন। এনআইএ-র চার্জশিটে ‘চক্রান্তকারী’ হিসাবে তাঁর নাম রয়েছে। গত ৭ মে ‘সিঁদুর’ অভিযানে পাকিস্তানের আটটি জায়গায় জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। বাহাওয়ালপুরে জইশ-এর সদর দফতরে হামলার জেরে জইশ প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজহারের ভাই ইউসুফ-সহ পরিবারের অন্তত ১০ জন নিহত হন। ইলিয়াসই বর্তমানে সংগঠনে ‘নম্বর টু’।

    মহম্মদ মুসাদ্দিক (জইশ-ই-মহম্মদ): ২০২২ সালে সুঞ্জওয়ান সেনা শিবিরে হামলায় জড়িত। এনআইএ তদন্তে বলা হয়েছে, পাকিস্তান থেকে অনুপ্রবেশকারী জঙ্গিদের ভারতের যে হ্যান্ডলারেরা নিয়ন্ত্রণরেখা টপকাতে সাহায্য করেছিলেন, তাঁদের সঙ্গে পাকিস্তান থেকে সমন্বয়ের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন মুসাদ্দিক।মুফতি মুহাম্মদ আসগর খান (জইশ-ই-মহম্মদ): ২০১৬ সালের নাগ্রোটা সেনা শিবিরে হামলার মূল অভিযুক্ত। পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জইশের ‘লঞ্চিং প্যাড’গুলির প্রধান পরিচালক। সিঁদুর অভিযানের পরে জইশের নাম বদলে অল-মুরাবিতুন (যার অর্থ, ‘ইসলামের রক্ষাকারী’) রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আপাতত আসগর নতুন পরিচয়ে সক্রিয়।

    হাফিজ় আবদুল শুকুর (জইশ-ই-মহম্মদ): এনআইএ রিপোর্টে ‘ক্বারি জ়ারার’ নামেও চিহ্নিত এই পাক নাগরিক একাধিক বার নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে কাশ্মীরে অনুপ্রবেশ করে সরাসরি সন্ত্রাসবাদী হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০১৬ সালের নাগ্রোটা হামলার আগে স্থানীয় সহায়তাকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন তিনি।

    আবদুল্লাহ জেহাদি (জইশ-ই-মহম্মদ): ২০১৬ সালের নাগ্রোটা হামলার আর এক চক্রী। বর্তমানে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে এবং পাকিস্তানে জইশের সন্ত্রাসবাদী প্রশিক্ষণ শিবিরগুলির দায়িত্বে।ফিরদৌস আহমদ ভাট (লশকর-এ-ত্যায়বা): হাফিজ় সইদের ঘনিষ্ঠ এই নেতা পাক অধিকৃত কাশ্মীর থেকে জঙ্গি অনুপ্রবেশের কাজে ব্যবহৃত ‘লঞ্চিং প্যাড’গুলির প্রধান পরিচালক। কাশ্মীর উপত্যকার লশকরের সন্ত্রাসবাদীদের অনুপ্রবেশ ও লজিস্টিক সহায়তা সংক্রান্ত বিষয়গুলির বন্দোবস্তও তাঁর দায়িত্বে।

    বিলাল আহমদ মির (দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট): লশকরের এই প্রাক্তন কমান্ডার বর্তমানে তাদেরই ছায়া সংগঠন টিআরএফ-এর মূল নেতা। বিলাল মূলত সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ পরিচালনা এবং ভারতে অস্ত্র সরবরাহের সমন্বয় করার ষড়যন্ত্রে জড়িত। পহেলগাঁও সন্ত্রাসেও তাঁর নাম উঠে এসেছিল।

    তালিকায় আরও রয়েছেন ফিরদৌস আহমেদ ভাট, গুলাম ফরিদ, হারুন রশিদ গনাই, মহম্মদ শহিদ ফয়সাল, বিলাল আহমেদ মির, আবিদ কাইয়ুম লোন, নাজির আহমেদ গুজ্জর, আশফাক আহমেদ, মৌলানা ইমদাদ উল্লাহ মাক্কি, মৌলানা সইফুল্লাহ খালিদ, মহম্মদ ইয়াকুব, মৌলানা ইউসুফ তাইবি, ওয়াসিম নূর জাট, ওয়াইস ফারুজ এবং কারি ইয়াকুব শেখের নামও।

    কেন এই পদক্ষেপ

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দাবি, সীমান্তপারের জঙ্গি নেটওয়ার্ক, ড্রোনে অস্ত্র পাচার, এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অনলাইনে জঙ্গি নিয়োগের চক্র ভেঙে দিতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, অতীতে ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুযায়ী কেবল কোনও সংগঠনকে ‘নিষিদ্ধ বা জঙ্গি সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করা যেত। কিন্তু ২০১৯ সালের অগস্ট মাসে মোদী সরকার ইউএপিএ (UAPA) আইনে এক ঐতিহাসিক সংশোধন আনে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকেও ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে চিহ্নিত করার ক্ষমতা পায় কেন্দ্র। এই তকমা পাওয়ার ফলে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) বা অন্যান্য কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলো ওই অপরাধীদের অস্ত্র ও অর্থ জোগানের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা চাপাতে পারে এবং ভারতের মাটিতে থাকা তাদের সমস্ত সম্পত্তি বা অ্যাসেট বাজেয়াপ্ত করতে পারে। শনিবারের এই নতুন ২৩টি নাম যুক্ত হওয়ার পর, ভারতের এই বিশেষ ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় থাকা মোট ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৮০ জনে। এই তালিকায় ইতিমধ্যেই হাফিজ সঈদ, জইশ প্রধান মৌলানা মাসুদ আজহার, ২৬/১১ মুম্বই হামলার অন্যতম মাস্টারমাইন্ড জাকি-উর-রহমান লাখভি, আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিম এবং আমেরিকাতে থাকা খলিস্তানি নেতা গুরপতবন্ত সিং পান্নুনের মতো নামগুলো রয়েছে।

  • Union Govt Summon Meta:  ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নির্যাতন নিয়ে বিজ্ঞাপন! মেটাকে তলব কেন্দ্রের

    Union Govt Summon Meta: ইনস্টাগ্রামে শিশু যৌন নির্যাতন নিয়ে বিজ্ঞাপন! মেটাকে তলব কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিশুদের যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত কনটেন্ট প্রচারের অভিযোগে এবার মার্ক জুকারবার্গের সংস্থা মেটা-র বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিল কেন্দ্রীয় সরকার (Union Govt Summon Meta)। ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রাম। সেখানে দেখানো হচ্ছে শিশুদের যৌন নিগ্রহের বিজ্ঞাপন। অভিযোগ, এই বিজ্ঞাপন থেকে টেলিগ্রামের মাধ্যমে অশ্লীল ভিডিও সংগ্রহ করছেন আগ্রহী ব্যক্তিরা। তার জন্য দিতে হচ্ছে মাত্র ৯৯ টাকা। সম্প্রতি, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘বিবিসি’-র প্রকাশিত এক রিপোর্টে এই বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এসেছে। তারপরই বিষয়টা নিয়ে পদক্ষেপ করে কেন্দ্র। মূল সংস্থা ‘মেটা’-কে জবাবদিহির জন্য তলব করেছে কেন্দ্রের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক।

    ইনস্টার-র বিরুদ্ধে অভিযোগ

    কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বিষয়টাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। সূত্রে খবর, মেটার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে কীভাবে এমন বিজ্ঞাপন ইনস্টাগ্রামে চলতে পারে? কিংবা এই ধরনের কনটেন্ট রুখতে তারা কী ব্যবস্থা নিচ্ছে? ‘বিবিসি’-র রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ভারতে ইনস্টাগ্রামে এমন কিছু বিজ্ঞাপন দেখা গিয়েছে যেখানে শিশুদের যৌন নির্যাতনের ভিডিও প্রচার করা হচ্ছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই বিজ্ঞাপনগুলিতে অত্যন্ত আপত্তিকর শিরোনামও ব্যবহার করা হয়েছিল। যেগুলি টেলিগ্রাম চ্যানেলের সঙ্গে যুক্ত। মাত্র ৯৯ টাকায় ভিডিও কেনার সুযোগও দেওয়া হচ্ছিল। বিবিসি এ বিষয়ে ইনস্টাগ্রামকে জানায়। সংস্থার তরফে জানানো হয়, ওই পোস্টগুলি তাদের ‘কমিউনিটি গাইডলাইন’ লঙ্ঘন করেনি।

    ভুয়ো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার

    বিবিসির গোপন অনুসন্ধানে আরও উঠে আসে, একটি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে প্রথমে সাধারণ প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্ট দেখানো হলেও ধীরে ধীরে ইনস্টাগ্রামের অ্যালগরিদম শিশুদের জড়িত যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কনটেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞাপন দেখাতে শুরু করে। এমনকি ব্যবহারকারী এ ধরনের কনটেন্ট খুঁজে না দেখলেও প্ল্যাটফর্ম থেকে ক্রমশ আরও আপত্তিকর কনটেন্টের সুপারিশ করা হচ্ছিল। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মোট ৩০টি আলাদা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে শিশু যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্টের প্রচার করা হচ্ছিল। এছাড়া প্রাপ্তবয়স্কদের পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত প্রায় ২০টি বিজ্ঞাপনও শনাক্ত করা হয়েছে। কিছু বিজ্ঞাপনে নাবালক ছেলে ও মেয়েদের যৌন নির্যাতনের দৃশ্য এবং প্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে নাবালিকাদের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিওর ইঙ্গিত ছিল। এসব বিজ্ঞাপন থেকে সরাসরি টেলিগ্রাম চ্যানেলে যাওয়ার লিঙ্কও দেওয়া হয়েছিল।

    অশ্লীল কন্টেন্ট বিক্রি

    রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়, বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য বিবিসি কর্তৃপক্ষ ইনস্টাগ্রাম-এ একটি টেস্ট অ্যাকাউন্ট খোলে। যেখানে কয়েক দিনের মধ্যেই অশ্লীল কন্টেন্ট-এর সাজেশন আসতে শুরু করে। এমনকী অশ্লীল কন্টেন্ট বিক্রি করা হচ্ছে, এমন ধরনের টেলিগ্রাম চ্যানেল-এর লিঙ্ক দিয়েও বিজ্ঞাপন আসে। বিবিসি কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই টেস্ট অ্যাকাউন্ট-এর মাধ্যমে তিরিশের কাছাকাছি অশ্লীল কন্টেন্ট-এর বিজ্ঞাপন শনাক্ত করা গিয়েছে। যেখানে শিশুদের যৌন নিগ্রহমূলক ভিডিও-র প্রচারও করা হয়েছে। যৌন নিগ্রহমূলক কন্টেন্ট-এর বিজ্ঞাপনের অভিযোগ সামনে আসতেই মেটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তাঁরা বেশ কিছু বিজ্ঞাপন বন্ধ করেছেন। যে অ্যাকাউন্টগুলি থেকে এমন ধরনের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল, সেগুলিকেও তাঁরা সাসপেন্ড করেছেন। পাশাপাশি, অতিরিক্ত কিছু বিজ্ঞাপনও সরানো হয়েছে। অশ্লীল বিজ্ঞাপনের ইউআরএল-ও ব্লক করে দেওয়া হয়েছে।

    কনটেন্ট সরাল মেটা!

    এক বিবৃতিতে মেটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, শিশুদের শোষণ একটি জঘন্য অপরাধ। তাঁরা নিজেদের অ্যাপগুলিতে এর বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছেন। তাঁদের সংস্থার মাধ্যমে শিশুদের উপরে নিগ্রহমূলক কন্টেন্ট-এর বিজ্ঞাপন ইচ্ছাকৃত ভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার দাবি ‘সম্পূর্ণ ভুল’। সংস্থার এক আধিকারিকের কথায়, ‘কোনও ব্যবস্থাই নিখঁুত নয়। আমাদের রিভিউ প্রক্রিয়ায় সমস্ত পলিসি লঙ্ঘনের ঘটনা ধরা পড়েনি।’ মেটা কর্তৃপক্ষের দাবি, তাঁরা যত দ্রুত সম্ভব সমস্ত অশ্লীল কন্টেন্ট-এর বিজ্ঞাপন ইনস্টাগ্রাম থেকে সরিয়ে দিতে চলেছেন। যে কাজ জোরকদমে শুরু হয়ে গিয়েছে

    মন্ত্রকের হাতে সব তথ্য

    মেটার এক মুখপাত্র স্বীকার করেছেন, কোনও পর্যালোচনা ব্যবস্থা শতভাগ নিখুঁত নয় এবং কিছু ক্ষেত্রে নিয়মভঙ্গকারী কনটেন্ট নজর এড়িয়ে যেতে পারে। তবে সংস্থার দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং সক্রিয় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এ ধরনের কনটেন্ট চিহ্নিত ও অপসারণের কাজ জোরদার করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিবিসি তাদের অনুসন্ধানে চিহ্নিত সমস্ত বিজ্ঞাপন ও টেলিগ্রাম চ্যানেলের তথ্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিয়েছে। টেলিগ্রামকে দুটি চ্যানেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হলে, তার মধ্যে একটি পরে সরিয়ে দেওয়া হয়।

    ‘অটোমেটেড টুলস’ এর ব্যবহার

    অন্য দিকে, টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তাঁরা শিশুদের উপরে যৌন নিগ্রহমূলক ঘটনার কন্টেন্ট ‘অটোমেটেড টুলস’ ব্যবহার করে নিয়মিত সরিয়ে দেন। ২০২৬ সালেই তাঁরা এমন ধরনের কন্টেন্ট ছড়ানোর অভিযোগে ২.৭৪ লক্ষ গ্রুপ বন্ধ করে দিয়েছেন। আগামী দিনেও তাঁরা এমন ধরনের পদক্ষেপ করতে থাকবেন। উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহে এটি দ্বিতীয়বার মেটাকে তলব করল কেন্দ্র। এর আগে হোয়াটসঅ্যাপে প্রস্তাবিত ‘ইউজারনেম’ ফিচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মেটাকে ডেকেছিল মন্ত্রক। সরকারের আশঙ্কা, এই ফিচারের অপব্যবহার করে পরিচয় জালিয়াতি ও ভুয়ো পরিচয়ে প্রতারণার ঘটনা বাড়তে পারে। সেই কারণে সরকারের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত নতুন ফিচার চালু না করার নির্দেশও দেওয়া হয়।

  • BJP: বাংলায় শিল্প ফেরাতে মুম্বইয়ে শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠক শমীকের, বিনিয়োগে আগ্রহের দাবি

    BJP: বাংলায় শিল্প ফেরাতে মুম্বইয়ে শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠক শমীকের, বিনিয়োগে আগ্রহের দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলা ছেড়ে চলে যাওয়া শিল্পপতিদের ফের রাজ্যে ফিরিয়ে এনে নতুন করে শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যে সক্রিয় হয়েছে রাজ্যের প্রথম বিজেপি (BJP) সরকার। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই মুম্বইয়ে শিল্পপতি ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। বৈঠক শেষে তিনি দাবি করেন, বহু শিল্পপতি পশ্চিমবঙ্গে ফিরে এসে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

    কী বললেন শমীক? (BJP)

    শমীক জানান, গত চার দশকে বাম ও তৃণমূল সরকারের আমলে যাঁরা বাংলা ছেড়ে অন্য রাজ্যে গিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন, তাঁদের সঙ্গে তাঁর ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘নতুন শিল্পনীতি ও নতুন জমিনীতি নিয়ে আমাদের সরকার কাজ করছে। যাঁরা বাংলা ছেড়ে চলে গিয়েছেন, কিন্তু যাঁদের সঙ্গে বাংলার নাড়ির যোগ রয়েছে, তাঁরা আবার বাংলায় ফিরে আসতে আগ্রহী। আমি সরকার নই, আমি দলের প্রতিনিধি। আমি তাঁদের জানিয়েছি, সরকার শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরির কাজ করছে। খুব দ্রুত পশ্চিমবঙ্গের মানুষ শিল্পায়নের সুফল দেখতে পাবেন।’’

    শিল্পপতিদের আশ্বাস শমীকের

    মুম্বই সফরে বস্ত্র, ইস্পাত, কাচ, অর্ধপরিবাহী যন্ত্রাংশ-সহ বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রের উদ্যোগপতিদের সঙ্গে বৈঠক করেন শমীক। এর পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমে বিনিয়োগকারী সংস্থা এবং সামাজিক উন্নয়নে কাজ করা একাধিক নয়া উদ্যোগের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলাদা করে আলোচনা করেন তিনি। তাঁদের সামনে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পবান্ধব পরিবেশ, দক্ষ মানবসম্পদ, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন শমীক। বিজেপির রাজ্য সভাপতির দাবি, শিল্পপতিদের আর কোনও রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বাধার মুখে পড়তে হবে না। সরাসরি রাজ্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেই তাঁরা বিনিয়োগের বিষয়ে এগোতে পারবেন। তাঁর কথায়, ‘‘মুম্বইয়ের শিল্পপতিদের বলেছি, পশ্চিমবঙ্গ সরকার শিল্প গড়ে তুলতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। খুব দ্রুত তাঁরা সেই পরিবর্তন অনুভব করবেন।’’ তিনি এও (BJP) বলেন, ‘‘শুধু শিল্পের কথা বললেই শিল্পায়ন হয় না। শিল্প গড়ে তুলতে সুস্পষ্ট শিল্পনীতির প্রয়োজন। আমাদের সরকার সেই নীতির ওপর কাজ করছে।’’

    শিল্পায়ন নিয়ে যা বললেন মুখ্যমন্ত্রী

    শিল্পায়নকে রাজ্য সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। শুক্রবার নিউ টাউনের বিশ্ব বাংলা সম্মেলন কেন্দ্রে নবনির্বাচিত বিধায়কদের ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচির উদ্বোধনের পর তিনি জানান, রাজ্যে একটি হোসিয়ারি কারখানা এবং একটি ইস্পাত কারখানা স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। সরকার দ্রুত সেই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে (Samik Bhattacharya)। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দেন, খুব শিগগিরই পশ্চিমবঙ্গে প্রায় দু’হাজার একশো কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ আসতে চলেছে। সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্যে একটি শিল্প সম্মেলনের আয়োজনেরও পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে দেশ-বিদেশের বহু শিল্পপতি এবং বিনিয়োগকারীর উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

    কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন

    মুম্বই সফর প্রসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় শমীক লেখেন, ‘‘মুম্বইয়ের বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ ও শিল্পোন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত শিল্পপতিরা পশ্চিমবঙ্গে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।’’ তিনি (Samik Bhattacharya) আরও লেখেন, ‘‘শিল্প, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে সরকার, শিল্পমহল ও বিনিয়োগকারীদের পারস্পরিক সহযোগিতাই পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি (BJP)।’’

     

  • Defence Acquisition Council: স্থল, নৌ ও বায়ুসেনার জন্য মেগা ঘোষণা কেন্দ্রের, ৫২ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা কেনাকাটায় সবুজ সংকেত

    Defence Acquisition Council: স্থল, নৌ ও বায়ুসেনার জন্য মেগা ঘোষণা কেন্দ্রের, ৫২ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা কেনাকাটায় সবুজ সংকেত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা এবং অপারেশনাল প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল বা সংক্ষেপে ডিএসি (DAC) প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকার অত্যাধুনিক অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার একাধিক প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এই অনুমোদনের আওতায় ভারতীয় সামরিক বাহিনীর তিন বাহু— স্থল, নৌ এবং বায়ুসেনার জন্য উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি, কামিকাজে ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, নজরদারি প্ল্যাটফর্ম এবং নৌ-যুদ্ধ সক্ষমতা বৃদ্ধির একাধিক প্রকল্প রয়েছে। ডিএসি-র অনুমোদন মূলত ক্রয় প্রক্রিয়ার প্রথম প্রশাসনিক ধাপ। এরপর ধাপে ধাপে টেন্ডার ও চুক্তি সম্পন্ন হবে।

    সেনাবাহিনীর জন্য অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম, ক্ষেপণাস্ত্র ও কামিকাজে ড্রোন

    ভারতীয় সেনার জন্য অনুমোদিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে—

    • ● ‘আকাশ তরঙ্গ’ (Akash Tarang) অ্যান্টি-UAV ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম
    • ● ম্যান-পোর্টেবল অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল (MPATGM)
    • ● মিডিয়াম-রেঞ্জ সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (MRSAM)
    • ● ভেরি শর্ট-রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (V-SHORADS)
    • ● ট্যাঙ্কের জন্য অ্যাক্টিভ প্রোটেকশন সিস্টেম
    • ● জেটচালিত কামিকাজে ড্রোন

    স্থলসেনার শক্তিবৃদ্ধিতে ‘আকাশ তরঙ্গ’

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, ‘আকাশ তরঙ্গ’ শত্রুপক্ষের ড্রোন ও অন্যান্য মানববিহীন আকাশযান মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা নেবে। সাম্প্রতিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ব্যবহার দ্রুত বাড়তে থাকায় এই প্রযুক্তির গুরুত্বও বহুগুণ বেড়েছে। অন্যদিকে, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘ম্যান-পোর্টেবল এটিজিএম’ শত্রুপক্ষের ট্যাঙ্ক ও সাঁজোয়া বাহিনীর বিরুদ্ধে ভারতীয় পদাতিক বাহিনীর আক্রমণক্ষমতা বাড়াবে। ‘এমআরস্যাম’ ভারতের বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং দূরপাল্লার আকাশ হামলা বা স্ট্যান্ড-অফ অস্ত্রের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেবে।

    ‘ভি-শোরাডস্’-এর প্রয়োজনীয়তা

    এছাড়া ‘ভি-শোরাডস্’-এ মাল্টি-স্পেকট্রাল সেন্সিং প্রযুক্তি থাকায় এটি শত্রুর ইলেকট্রনিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকেও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে পারবে। ট্যাঙ্কের জন্য অনুমোদিত অ্যাক্টিভ প্রোটেকশন সিস্টেম শত্রুর অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্যান্য আক্রমণকারী অস্ত্রকে লক্ষ্যভেদ করার আগেই শনাক্ত করে ধ্বংস করার সক্ষমতা দেবে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংযোজন হিসেবে রয়েছে জেটচালিত কামিকাজে ড্রোন, যা নির্ভুল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। একই সঙ্গে উন্নত ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ক্ষমতা, বেশি টিকে থাকার সক্ষমতা এবং তুলনামূলক কম খরচে আক্রমণ পরিচালনার সুবিধাও মিলবে।

    নৌবাহিনীর নজরদারি ও মাইন ওয়ারফেয়ার আরও শক্তিশালী

    • ● ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ডিএসি অনুমোদন দিয়েছে—
    • ● মাল্টি-ইনফ্লুয়েন্স গ্রাউন্ড মাইন (MIGM)
    • ● নেভাল শিপবোর্ন আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম (NSUAS)
    • ● ইলেকট্রিক প্রোপালশন প্রযুক্তির জন্য ল্যান্ড-বেসড টেস্টিং ফ্যাসিলিটি (LBTF)

    সামুদ্রিক নজরদারি বৃদ্ধি

    এমআইজিএম ব্যবস্থার মাধ্যমে কৌশলগত সমুদ্র অঞ্চলে শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজের চলাচল ও মোতায়েন সীমিত করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, অত্যাধুনিক সেন্সরযুক্ত ‘নেভাল ইউএএস’ নৌবাহিনীর সামুদ্রিক নজরদারি ও মেরিটাইম ডোমেন অ্যাওয়ারনেস আরও বাড়াবে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে রিয়েল-টাইম নজরদারি সহজ হবে। নতুন ল্যান্ড-বেসড টেস্টিং ফ্যাসিলিটি ভবিষ্যতের বৈদ্যুতিক প্রপালশন প্রযুক্তি পরীক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধজাহাজ তৈরিতে সহায়ক হবে।

    বায়ুসেনার জন্য উচ্চ-উচ্চতায় দীর্ঘক্ষণ নজরদারি প্ল্যাটফর্ম

    ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য অনুমোদিত হয়েছে ‘ফিক্সড-উইং হাই অল্টিটিউড পসুডো স্যাটেলাইট’ (FW-HAPS)। এই প্ল্যাটফর্ম দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত উচ্চতায় অবস্থান করে ইন্টেলিজেন্স, সার্ভেল্যান্স এবং রিকনাইস্যান্স (ISR) পরিচালনা করতে সক্ষম। পাশাপাশি টেলিকমিউনিকেশন ও রিমোট সেন্সিংয়ের কাজেও এটি ব্যবহার করা যাবে। ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

    আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যেই জোর আধুনিকীকরণে

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দ্রুত বদলে যাওয়া যুদ্ধ প্রযুক্তির প্রেক্ষাপটে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে আরও আধুনিক করে তোলাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য। ড্রোন, স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধ ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির আওতায় দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদনকে উৎসাহ দেওয়া এবং বিদেশি আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর দিকেও জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। ডিএসি-র নীতিগত অনুমোদনের পর এবার এই সমস্ত প্রকল্প ক্রয় প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপে যাবে। প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন ও টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করা হবে।

  • Gujarat ATS: জইশ-ই-মহম্মদের ৮ সন্দেহভাজন সদস্য গ্রেফতার, রথযাত্রার আগে বড় সাফল্য গুজরাট এটিএস-এর

    Gujarat ATS: জইশ-ই-মহম্মদের ৮ সন্দেহভাজন সদস্য গ্রেফতার, রথযাত্রার আগে বড় সাফল্য গুজরাট এটিএস-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গুজরাটের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার মাত্র ১৩ দিন আগে বড়সড় সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেল গুজরাট পুলিশের অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (ATS)। ৩ জুলাই পরিচালিত এক অভিযানে গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশ থেকে পাকিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (JeM)-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা গত প্রায় ছয় মাস ধরে সক্রিয় ছিল। গুজরাটে জইশ-ই-মহম্মদের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল তারা। নিরাপত্তা সংস্থার দাবি, সময়মতো অভিযান চালিয়ে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী কার্যকলাপের পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়া হয়েছে।

    এটিএস-এর হাতে ধৃতদের পরিচয়

    এটিএস সূত্রে জানা গেছে, নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একাধিক বিশেষ দল গঠন করে গুজরাট ও মধ্যপ্রদেশে একযোগে অভিযান চালানো হয়। বর্তমানে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তাদের যোগাযোগ, সম্ভাব্য সহযোগী, সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, অর্থের উৎস এবং দেশবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে গুজরাটের বানাসকাঁঠা জেলা থেকে তিনজন, পাটন জেলা থেকে তিনজন, নওসারি জেলা থেকে একজন এবং মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস জেলা থেকে একজনকে আটক করা হয়েছে। ধৃতদের নাম হল— আহমেদ আবদুল্লা গাজিওয়ালা ওরফে আবু উবাইদা (১৯), ইব্রাহিম মহম্মদ হুসেন ঘাঘা ওরফে আবু হামজা (৩০), মুদাস্সির আবদুল্লা গাজিওয়ালা ওরফে আবু আয়া (২২), জাকারিয়া দুরানি মহম্মদ আম্মার ঘাঘা ওরফে ইবনে আম্মার ওরফে জাকারিয়া পালানপুরি (২১), মুফতি ফওজান ইসমাইল দাউয়া ওরফে মুফতি সাহেব (৪০), মহম্মদ আমিন শেরা ওরফে আমিন পালানপুরি (২১), মহম্মদ আবদুল রহমান সাভদি ওরফে মহম্মদ পালানপুরি ওরফে আবু ইউনাইসা (২২) এবং বিলাল দুরানি মহম্মদ আম্মার ঘাঘা ওরফে আবু দুজানা, আবু সুফিয়ান, আবু জুন্দাল, উমর বিন খাত্তাব (১৮)।

    সক্রিয় জঙ্গি মডিউল ভেস্তে গেল

    প্রাথমিক তদন্তে নিরাপত্তা সংস্থার ধারণা, অভিযুক্তরা গুজরাট-সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ পরিচালনার জন্য একটি সক্রিয় মডিউল গড়ে তোলার চেষ্টা করছিল। সময়মতো পদক্ষেপ করায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই তা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে বলে তদন্তকারীদের দাবি। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (UAPA)-এর ১৩ (বেআইনি কার্যকলাপ), ১৭ (সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অর্থ সংগ্রহ), ১৮ (ষড়যন্ত্র), ৩৮ (সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যপদ) এবং ৩৯ (সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়াও ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১৪৮ এবং ৬১ ধারায়ও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। ATS-এর বক্তব্য অনুযায়ী, ৬১ ধারা অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র সংক্রান্ত এবং ১৪৮ ধারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা, যুদ্ধের চেষ্টা বা সেই ধরনের কর্মকাণ্ডে সহায়তার উদ্দেশ্যে ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, গুজরাটের বিখ্যাত রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। সেই প্রেক্ষাপটে রথযাত্রার মাত্র ১৩ দিন আগে এই অভিযানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

  • UNICORN Stealth Naval Mast: রেডারে সহজে ধরা পড়বে না যুদ্ধজাহাজ, ভারত-জাপানের প্রথম যৌথ প্রতিরক্ষা প্রকল্প ‘ইউনিকর্ন’! কী এটা?

    UNICORN Stealth Naval Mast: রেডারে সহজে ধরা পড়বে না যুদ্ধজাহাজ, ভারত-জাপানের প্রথম যৌথ প্রতিরক্ষা প্রকল্প ‘ইউনিকর্ন’! কী এটা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও জাপানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। প্রথমবারের মতো যৌথভাবে একটি অত্যাধুনিক নৌ-প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরির প্রকল্পে হাত মিলিয়েছে দুই দেশ। এই প্রকল্পের নাম ইউনিফায়েড কমপ্লেক্স রেডিও অ্যান্টেনা, সংক্ষেপে ‘ইউনিকর্ন’ (UNICORN)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একে ভারত-জাপান প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সহযোগিতার ‘‘নতুন অধ্যায়’’ বলে উল্লেখ করেছেন। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকের পর এই ঘোষণা করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজকে আরও স্টেলথ বা রেডারে কম দৃশ্যমান করে তুলবে, ফলে শত্রুপক্ষের পক্ষে জাহাজ শনাক্ত ও লক্ষ্যবস্তু করা অনেক বেশি কঠিন হবে।

    কী এই ইউনিকর্ন (UNICORN) প্রযুক্তি?

    বর্তমানের অধিকাংশ যুদ্ধজাহাজে রেডার, যোগাযোগ ব্যবস্থা, নেভিগেশন ও অন্যান্য সেন্সরের জন্য ডেকের উপরে অসংখ্য অ্যান্টেনা বসানো থাকে। এই অ্যান্টেনাগুলিই রেডারে যুদ্ধজাহাজকে সহজে শনাক্ত করার অন্যতম কারণ। ইউনিকর্ন প্রযুক্তিতে সেই একাধিক অ্যান্টেনাকে একটি সমন্বিত রেডোম (Radome)-এর ভিতরে রাখা হয়। ফলে জাহাজের রেডার ক্রস সেকশন (RCS) উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। সহজ কথায়, যুদ্ধজাহাজের ‘রেডার সিগনেচার’ অনেকটাই কমে যাওয়ায় শত্রুপক্ষের রেডারে সেটি ধরা পড়া কঠিন হয়ে ওঠে। এটি শুধু স্টেলথ ক্ষমতাই বাড়ায় না, একই সঙ্গে বিভিন্ন যোগাযোগ ও সেন্সর ব্যবস্থার মধ্যে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক হস্তক্ষেপও কমায়।

    ইউনিকর্ন মাস্টে কী কী থাকবে?

    ইউনিকর্ন সিস্টেমে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিকে একটি কমপ্যাক্ট মাস্টের মধ্যে একত্রিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

    • ● লিঙ্ক-১৬ ডেটা লিঙ্ক: নিরাপদ ও রিয়েল-টাইম তথ্য আদানপ্রদানের ব্যবস্থা।
    • ● ট্যাকান (ট্যাকটিক্যাল এয়ার নেভিগেশন): জাহাজভিত্তিক হেলিকপ্টারের নেভিগেশন ও অবতরণে সহায়তা করে।
    • ● আইএফএফ (আইডেন্টিফিকেশন ফ্রেন্ড অর ফো): বন্ধু ও শত্রুপক্ষের বিমান বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম শনাক্ত করার ব্যবস্থা।
    • ● ইলেকট্রনিক সাপোর্ট মেজার্স (ইএসএম): শত্রুপক্ষের রেডার ও যোগাযোগ সংকেত শনাক্ত, পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্লেষণের প্রযুক্তি।
    • ● ইউএইচএফ/ভিএইচএফ যোগাযোগ ব্যবস্থা: স্বল্প দূরত্বে ভয়েস ও ডেটা যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়।
    • ● অফশোর ওয়্যারলেস রাউটার: বাইস্ট্যাটিক ও মাল্টিস্ট্যাটিক সোনার অভিযানের সময় তথ্য আদানপ্রদানে সহায়তা করে।

    ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউনিকর্ন প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল স্টেলথ সক্ষমতা বৃদ্ধি। বর্তমানে সমুদ্রপথে নজরদারি ও যুদ্ধজাহাজ শনাক্তকরণে রেডার প্রযুক্তির উপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভর করা হয়। যুদ্ধজাহাজের রেডার সিগনেচার কমিয়ে আনলে প্রতিপক্ষের পক্ষে জাহাজের অবস্থান নির্ণয়, শ্রেণিবিন্যাস এবং লক্ষ্যবস্তু করা অনেক বেশি কঠিন হয়ে যায়। জাপানের মোগামি-শ্রেণির স্টেলথ ফ্রিগেট ইতিমধ্যেই এই ইউনিকর্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের দাবি, এই প্রযুক্তির ফলে ওই শ্রেণির যুদ্ধজাহাজের রেডার প্রতিফলন প্রচলিত যুদ্ধজাহাজের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

    ভারত-জাপানের যৌথ উৎপাদন

    এখানে বলে দেওয়া প্রয়োজন, বেশ কিছুদিন আগেই মোগামি শ্রেণি জাহাজে ব্যবহৃত নকশা ও প্রযুক্তি ভারতকে দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল জাপান। এবার সেই নিয়ে দুদেশের চুক্তি হল। এই প্রকল্পে উন্নত প্রযুক্তিগত নকশা ও ডিজাইন দেবে জাপান, আর ভারতে উৎপাদন ও সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনের দায়িত্বে থাকবে ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL)। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় এই অত্যাধুনিক স্টেলথ মাস্ট ভারতেই যৌথভাবে তৈরি করা হবে। এর ফলে শুধু প্রযুক্তি স্থানান্তরই নয়, ভবিষ্যতে ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। ইউনিকর্ন প্রযুক্তি মূলত জাপানের এনইসি কর্পোরেশন, সাম্পা কোগিও কেকে এবং দ্য ইয়োকোহামা রাবার কোম্পানি লিমিটেড যৌথভাবে তৈরি করেছে।

    আগে থেকেই শুরু হয়েছিল প্রস্তুতি

    এই প্রকল্পের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল ২০২২ সালের ‘ভারত-জাপান ২+২’ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে। পরে ২০২৪ সালের নভেম্বরে টোকিওতে দুই দেশের মধ্যে একটি মেমোরান্ডাম অফ ইমপ্লিমেন্টেশন (MoI) সই হয়। সেই চুক্তির ফলেই এবার আনুষ্ঠানিকভাবে যৌথ উন্নয়ন ও উৎপাদনের ঘোষণা করা হল।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি?

    যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘‘প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত ও জাপানের প্রথম যৌথ কো-ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প হিসেবে নৌবাহিনীর রেডিও অ্যান্টেনা ‘ইউনিকর্ন’-এর চুক্তি হয়েছে। এই প্রকল্প আমাদের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। আমরা যৌথভাবে এমন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরি করব, যা আঞ্চলিক শান্তি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।’’

    ভারতীয় নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণে বড় পদক্ষেপ

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউনিকর্ন প্রকল্প শুধু একটি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং ভারত-জাপান কৌশলগত সম্পর্কেরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত উন্নত স্টেলথ প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আত্মনির্ভরতা, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং নিরাপদ প্রতিরক্ষা সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বড় সুবিধা পাবে। একই সঙ্গে ভারতীয় নৌবাহিনীর ভবিষ্যতের যুদ্ধজাহাজ আরও কম দৃশ্যমান, বেশি নিরাপদ এবং প্রযুক্তিগতভাবে আরও আধুনিক হয়ে উঠবে। বিশেষ করে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।

  • PM Modi on Amarnath Yatra: অমরনাথ যাত্রার পুণ্যার্থীদের পাঁচ সংকল্প নেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী মোদির, কী কী?

    PM Modi on Amarnath Yatra: অমরনাথ যাত্রার পুণ্যার্থীদের পাঁচ সংকল্প নেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী মোদির, কী কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অমরনাথ যাত্রার প্রথম দিনেই তীর্থযাত্রীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে চিঠি লিখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi on Amarnath Yatra)। এই যাত্রাকে তিনি এক ‘মহা সৌভাগ্যের বিষয়’ বলে বর্ণনা করেছেন। একইসঙ্গে ভক্তি, শৃঙ্খলা এবং জাতীয়তাবোধ নিয়ে এই পবিত্র যাত্রা সম্পন্ন করার জন্য পুণ্যার্থীদের কাছে আর্জি জানিয়েছেন। অমরনাথ যাত্রায় অংশগ্রহণকারী ভক্তদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সংকল্প গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি (Narendra Modi)। একইসঙ্গে যাত্রাপথে নিরাপত্তা ও পরিষেবা নিশ্চিত করতে নিয়োজিত ভারতীয় সেনা, বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনী, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং প্রশাসনের ভূমিকারও প্রশংসা করেছেন।

    অমরনাথ যাত্রীদের উদ্দেশ্যে মোদির চিঠি

    শিবভক্তদের উদ্দেশে লেখা চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “জম্মু ও কাশ্মীরে পবিত্র অমরনাথ যাত্রায় অংশ নেওয়াটা একটা বিরাট সৌভাগ্যের ব্যাপার। প্রতি বছর বাবা বরফানির সরাসরি দর্শন পাওয়ার এই সুযোগ লক্ষ লক্ষ শিবভক্তের জন্য এক অত্যন্ত শুভ ও অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা। এই বছরের যাত্রার শুরুতে আমি আপনাদের, সকল শিবভক্তদের, আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।” উল্লেখ্য, শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ৫৭ দিনব্যাপী বার্ষিক অমরনাথ যাত্রা। প্রথম দিন প্রায় ১০ হাজার তীর্থযাত্রী পবিত্র অমরনাথ গুহার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন।

    ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের এক চিরন্তন অধ্যায়

    এই তীর্থযাত্রাকে ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের এক চিরন্তন অধ্যায় বলে উল্লেখ করে মোদি বলেন, “বাবা অমরনাথের আশীর্বাদ পাওয়ার এই যাত্রা ভারতের আধ্যাত্মিক যাত্রার ঐতিহ্যে এক চিরন্তন অধ্যায়। প্রতি বছর সনাতন সংস্কৃতি মেনে চলা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্ত এই যাত্রায় অংশ নিতে জম্মু ও কাশ্মীরে পৌঁছন। ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা, ভিন্ন ভাষায় কথা বলা এবং বিভিন্ন রীতিনীতি পালন করা মানুষ মহাদেবের আশীর্বাদ পাওয়ার একই সংকল্প নিয়ে এই যাত্রা সম্পন্ন করেন।” যাত্রা যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় সেনা, সিআরপিএফ, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, আইটিবিপি, বিএসএফ, এনডিআরএফ-এর জওয়ানদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। একইসঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসনিক আধিকারিক, সাফাইকর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবকদেরও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, “এই দু’মাস ধরে বাবা বরফানির পবিত্র ধামে ভারতের ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’-এর এক অসাধারণ ছবি দেখা যায়।”

    ভক্তদের পাঁচটি সংকল্প গ্রহণের আহ্বান

    অমরনাথ যাত্রাকে আরও সুশৃঙ্খল ও অর্থবহ করে তুলতে প্রধানমন্ত্রী ভক্তদের পাঁচটি সংকল্প গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রথমত, যাত্রাপথে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং গোটা তীর্থপথ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। দ্বিতীয়ত, প্রশাসনের সমস্ত নির্দেশ, ট্রাফিক বিধি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ দেন। বর্ষাকালে পিচ্ছিল রাস্তা ও তীব্র ঠান্ডার কারণে বিশেষ সতর্ক থাকার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তৃতীয়ত, ‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর ভাবনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে যাত্রার মোট ব্যয়ের অন্তত ১০ শতাংশ জম্মু ও কাশ্মীরের স্থানীয়ভাবে তৈরি পণ্য কেনার জন্য ব্যয় করার আহ্বান জানান তিনি। এতে স্থানীয় পরিবার ও যুবকদের জীবিকা আরও শক্তিশালী হবে বলে তাঁর মত। চতুর্থত, অমরনাথ যাত্রার সমাপনী দিন, যা এ বছর রাখিবন্ধন উৎসবের সঙ্গে মিলেছে, সেই উপলক্ষে ভাই বা বোনকে একটি গাছের চারা উপহার দেওয়ার এবং ‘এক পেড় মা কে নাম’ অভিযানে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। পঞ্চমত, ‘নেশন ফার্স্ট’-এর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সারা বছর সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন এবং উন্নত ভারত বা ‘বিকশিত ভারত’ গঠনের লক্ষ্যে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    অমরনাথ যাত্রায় কড়া নিরাপত্তা

    অমরনাথ যাত্রার জন্য জম্মু ও কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণরেখা ও আন্তর্জাতিক সীমান্তে নজরদারি বাড়াচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। সরকারি সূত্রে খবর, উত্তর কাশ্মীরে গুরেজ, কেরান, উরি সহ বিভিন্ন অঞ্চলে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে, জম্মুতে কাঠুয়া, পুঞ্চ-রাজৌরি বেল্ট সহ একাধিক সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি চালানো হচ্ছে। বাহিনীর এক অফিসার বলেন, ‘তীর্থযাত্রার রুটের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মজুত রয়েছে।’ জম্মুর সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলিতে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনী। বাসিন্দাদের প্রতি মুহূর্তে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। গাড়িতে নাকা তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সন্দেহ হলেই পরিচয়পত্র সহ যাবতীয় নথি খতিয়ে দেখছে বাহিনী। জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় হাইওয়েতেও নিয়মিত তল্লাশি অভিযান চলছে।

    নিরাপত্তায় বহু-স্তরীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা

    বার্ষিক অমরনাথ যাত্রার নিরাপত্তায় বহু-স্তরীয় সুরক্ষা ব্যবস্থাও রয়েছে। রয়েছে নো-ফ্লাই জোন (বিমান চলাচলে নিষিদ্ধ এলাকা), পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, ইলেকট্রনিক নজরদারি এবং যানবাহনের চলাচলের ওপর রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ। জম্মু ও কাশ্মীরে প্রতি বছর যেসব ব্যাপক কার্যক্রম বা আয়োজন করা হয়ে থাকে, তার মধ্যে অমরনাথ যাত্রা সংক্রান্ত নিরাপত্তা পরিকল্পনা অন্যতম। অমরনাথ যাত্রার সময় উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ ‘পহেচান’ (Pehchaan) নামে একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন চালু করেছে। এর মাধ্যমে তীর্থযাত্রী ও নিরাপত্তা কর্মীরা স্থানীয় পরিষেবা প্রদানকারীদের পরিচয় ও নথিপত্র সঙ্গে সঙ্গে যাচাই করতে পারবেন। এই অমরনাথ যাত্রার সঙ্গে যুক্ত ছোট ঘোড়ার মালিক, কুলি, পরিবহন অপারেটর, গাইড এবং বিক্রেতাদের রেজিস্টার ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে এই অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে। এটি অনুমোদিত কর্মীদের একটি ডিজিটাল ডেটাবেস তৈরি করেছে। যার ফলে পুলিশ তীর্থযাত্রার পথে কর্মরত ব্যক্তিদের ওপর নজর রাখতে পারবে। একইভাবে যাচাই-বাছাইহীন যেসব মানুষ থাকবেন তাঁদের শনাক্ত করতে এবং প্রতারণা রোধ করতে সক্ষম হবে। অমরনাথ যাত্রার সময় যাতে জঙ্গিরা ছোট ঘোড়ার মালিক, পালকি বাহক বা অন্যান্য পরিষেবা প্রদানকারীর ছদ্মবেশ ধারণ করতে না পারে, সেই লক্ষ্যে এই তীর্থযাত্রার সঙ্গে যুক্ত সকল অনুমোদিত কর্মীর জন্য কিউআর কোড-ভিত্তিক ও টেম্পার-প্রুফ (যা সহজে বিকৃত বা পরিবর্তন করা যায় না) পরিচয়পত্র চালু করল জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ।

  • VB G RAM G: ভারতের গ্রামীণ শ্রমিকদের জন্য বড় ঘোষণা, ১০ শতাংশের বেশি বাড়ল মজুরি, কত হল জানেন?

    VB G RAM G: ভারতের গ্রামীণ শ্রমিকদের জন্য বড় ঘোষণা, ১০ শতাংশের বেশি বাড়ল মজুরি, কত হল জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের গ্রামীণ শ্রমিকদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে ‘বিকশিত ভারত–রোজগার ও আজীবিকা গ্যারান্টি মিশন (গ্রামীণ) আইন, ২০২৫’। নয়া আইনের আওতায় সারা (VB G RAM G) দেশে গ্রামীণ শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে (Minimum Wage)। পাশাপাশি যোগ্য গ্রামীণ পরিবারগুলিকে বছরে ১২৫ দিনের নিশ্চিত মজুরিভিত্তিক কর্মসংস্থানের আইনি অধিকার দেওয়া হয়েছে।

    বাড়ল গড় দৈনিক মজুরি (VB G RAM G)

    নয়া ব্যবস্থায় জাতীয় স্তরে ঘোষিত গড় দৈনিক মজুরি ২৯৮.৮ টাকা থেকে বেড়ে ৩২৭.৪ টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ গড়ে ১০ শতাংশেরও বেশি মজুরি বেড়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, দেশের কোনও এলাকায়ই ঘোষিত ন্যূনতম দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকার নীচে থাকবে না। সমস্ত রাজ্য, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং নির্ধারিত মজুরি অঞ্চলের জন্য সংশোধিত মজুরির হার ইতিমধ্যেই ঘোষণা করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, অসম, অরুণাচল প্রদেশ এবং হিমাচল প্রদেশে দৈনিক মজুরি ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নতুন আইনে গ্রামীণ পরিবারগুলির জন্য নিশ্চিত কর্মসংস্থানের সীমা ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের ফলে গ্রামীণ কর্মসংস্থান আরও স্বচ্ছ, কার্যকর এবং ফলপ্রসূ হবে।

    মন্ত্রীর বক্তব্য

    সরকারের মতে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী গ্রামীণ সম্পদ গড়ে তোলা, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, জীবিকার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং গ্রামে মহিলাদের নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করার টার্গেট নেওয়া হয়েছে। নতুন আইন নির্বিঘ্নে কার্যকর করতে কেন্দ্র ইতিমধ্যেই রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য অন্তর্বর্তী বরাদ্দ হিসেবে ৯৫ হাজার ৬৯২ কোটি ৩১ লক্ষ টাকা দিয়ে দিয়েছে। এই অর্থ কর্মসংস্থান অব্যাহত রাখা, সময়মতো মজুরি দেওয়া এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের কাজে ব্যয় করা হবে। কেন্দ্রীয় গ্রামীণ উন্নয়ন এবং কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, “বিকশিত ভারত–রোজগার ও আজীবিকা গ্যারান্টি মিশন (গ্রামীণ) আইন, ২০২৫ গ্রামীণ ভারতের জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এই আইন গ্রামীণ শ্রমিকদের আরও বেশি জীবিকা সুরক্ষা, মর্যাদা এবং আত্মবিশ্বাস জোগাবে (VB G RAM G)।”

    সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন

    তিনি বলেন, “১০০ দিনের পরিবর্তে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থানের আইনি নিশ্চয়তা গ্রামীণ পরিবারের পাশে থাকার সরকারের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। সরকারের অগ্রাধিকার হল, প্রত্যেক যোগ্য শ্রমিক যাতে প্রয়োজনের সময় কাজ পান, তা নিশ্চিত করা (Minimum Wage)।” মন্ত্রী জানান, নয়া আইন কার্যকর করার জন্য কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার প্রশাসনিক, আর্থিক ও কারিগরি সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। তাঁর আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, দীর্ঘস্থায়ী গ্রামীণ সম্পদ গড়ে উঠবে, মহিলাদের ক্ষমতায়ন আরও জোরদার হবে এবং আত্মনির্ভর ও উন্নত গ্রামীণ ভারত গড়ে তোলার লক্ষ্য পূরণে গতি আসবে। একই সঙ্গে তিনি দেশের নাগরিকদের শক্তিশালী ও আত্মনির্ভর গ্রাম গড়ে তোলার কাজে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান (VB G RAM G)।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন যাঁরা

    এই আইনের জাতীয় সূচনা অনুষ্ঠান হয় বৃহস্পতিবার অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুপতি জেলার ওবুলভারিপল্লে মণ্ডলের মুক্কাভারিপল্লে গ্রামে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু, উপমুখ্যমন্ত্রী কোনিদেলা পবন কল্যাণ, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী চন্দ্র শেখর পেম্মাসানি, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী কমলেশ পাসওয়ান-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। অনুষ্ঠানে নতুন কর্মসূচির সূচনা, উপভোক্তাদের গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি কার্ড বিতরণ, নতুন সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম চালু, বিভিন্ন (Minimum Wage) প্রকাশনা প্রকাশ, উপভোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং আইন কার্যকর করতে একাধিক উদ্যোগেরও সূচনা করা হয় (VB G RAM G)।

     

  • Modi Takaichi Meet: ঐতিহাসিক চুক্তি ভারত-জাপানের! এআই থেকে প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি, একসঙ্গে বড় বাজি মোদি-তাকাইচির

    Modi Takaichi Meet: ঐতিহাসিক চুক্তি ভারত-জাপানের! এআই থেকে প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি, একসঙ্গে বড় বাজি মোদি-তাকাইচির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সূর্যোদয়ের দেশের হাত ধরে ভারতে বিনিয়োগের নতুন সকাল! ভারত-জাপান সম্পর্ককে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। আগামী ১০ বছরে ভারতের জন্য ১০ লক্ষ কোটি ইয়েন বিনিয়োগ করতে সম্মত হল দুই দেশ।

    হাজার বছরের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক দুই দেশের

    বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৬তম ভারত-জাপান বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, জ্বালানি এবং উন্নত প্রযুক্তি-সহ একাধিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও সমঝোতার ঘোষণা করেছে দুই দেশ। ভারত সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকে যোগ দেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। রাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠকের পর যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে মোদি বলেন, ভারত ও জাপানের সম্পর্কের ভিত্তি শুধু কৌশলগত নয়, দুই দেশের হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ও বৌদ্ধ ঐতিহ্যের সঙ্গেও তা গভীরভাবে যুক্ত।

    এআই ও প্রযুক্তি সহযোগিতায় বড় জোর

    এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ক্ষেত্রে সহযোগিতা। দুই দেশ যৌথ বিবৃতি প্রকাশের পাশাপাশি ভারত ও জাপানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এআই সংস্থার মধ্যে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। মোদির কথায়, প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বই আগামী দিনে ভারত-জাপান সম্পর্কের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি হয়ে উঠবে। তাঁর দাবি, জাপানের নিখুঁত প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং ভারতের সফটওয়্যার সক্ষমতার সমন্বয় বিশ্বব্যাপী এআই উন্নয়নে নতুন গতি আনবে।
    এছাড়াও সেমিকন্ডাক্টর, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা (Advanced Manufacturing) এবং পরবর্তী প্রজন্মের পরিবহণ প্রযুক্তি নিয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও স্থিতিশীল ও নিরাপদ করতেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

    প্রতিরক্ষায় নতুন অধ্যায়

    শীর্ষ বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাতেও বড় অগ্রগতি হয়েছে। ভারত ও জাপান প্রথমবারের মতো যৌথভাবে একটি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়ন প্রকল্পে হাত মিলিয়েছে। ‘নেভাল রেডিও অ্যান্টেনা ইউনিকর্ন’ (Naval Radio Antenna ‘Unicorn’) প্রকল্পের মাধ্যমে দুই দেশ যৌথভাবে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরি করবে। মোদির বক্তব্য, এই প্রকল্প শুধু দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককেই নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে না, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।

    স্বাস্থ্য ও বায়োটেক ক্ষেত্রেও জোর

    ওষুধ শিল্প, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং বায়োটেকনোলজি ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির মতে, ভারতের উৎপাদন ক্ষমতা এবং জাপানের উচ্চমানের প্রযুক্তির সমন্বয়ে বিশ্বের জন্য আরও সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা তৈরি করা সম্ভব হবে।

    বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে দুই দেশ

    অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করার লক্ষ্যও স্পষ্ট করেছে ভারত ও জাপান। আগামী এক দশকে ভারতে ১০ ট্রিলিয়ন (১০ লক্ষ কোটি) ইয়েন বিনিয়োগের লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেছে দুই দেশ। পাশাপাশি ভারতে জাপানি সংস্থার সংখ্যা দ্বিগুণ করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। মোদি জানান, গত এক বছরে ভারত ও জাপানের মধ্যে প্রায় ১২০টি নতুন ব্যবসায়িক চুক্তি হয়েছে, যার মাধ্যমে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি জাপানি বিনিয়োগ ভারতে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন উদ্যোগ

    দুই দেশ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা সহযোগিতার একটি নতুন রোডম্যাপ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি ‘ইন্ডিয়া-জাপান বায়োগ্যাস ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে এক হাজার বায়োগ্যাস ও জৈব সার উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। এই উদ্যোগ দেশের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি এবং জ্বালানি নিরাপত্তাকেও নতুন গতি দেবে বলে মনে করছে দুই দেশ।

    ইন্দো-প্যাসিফিকে যৌথ কৌশল

    শীর্ষ বৈঠকের শেষে নরেন্দ্র মোদি বলেন, বর্তমানে ভারত ও জাপান বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতি। তাই একটি মুক্ত, সমৃদ্ধ ও নিয়মভিত্তিক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলাই দুই দেশের যৌথ অগ্রাধিকার। তাঁর কথায়, বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক ও বাজারভিত্তিক অর্থনীতির মধ্যে অন্যতম ভারত ও জাপান। এদিন ঘোষিত বিভিন্ন উদ্যোগ শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককেই শক্তিশালী করবে না, বরং গোটা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের নতুন পথ তৈরি করবে। একসময় যে ভারত-জাপান সম্পর্ক মূলত অবকাঠামো উন্নয়ন ও উন্নয়ন সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল, তা এখন প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক কৌশলগত সহযোগিতার বিস্তৃত অংশীদারিত্বে পরিণত হয়েছে। এবারের শীর্ষ বৈঠকের একাধিক চুক্তি সেই পরিবর্তনেরই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিল।

LinkedIn
Share