Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Russia: রাশিয়ায় জ্বালানি সঙ্কট চরমে, ভারত থেকে পেট্রোল কিনছে পুতিনের দেশ, কেন তাৎপর্যপূর্ণ?

    Russia: রাশিয়ায় জ্বালানি সঙ্কট চরমে, ভারত থেকে পেট্রোল কিনছে পুতিনের দেশ, কেন তাৎপর্যপূর্ণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউক্রেনের ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় বিপর্যস্ত রাশিয়া (Russia)। ভ্লাদিমির পুতিনের দেশের তেল শোধনাগারগুলির উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় রাশিয়ায় দেখা দিয়েছে জ্বালানি সঙ্কট। এই সমস্যা থেকে (Gasoline Supplies) বেরতে ভারত থেকে পেট্রোল আমদানি শুরু করেছে মস্কো। একসময় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য রফতানিকারী দেশ হিসেবে পরিচিত রাশিয়াকে এখন অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শিল্প সূত্রে খবর, সমুদ্রপথে ভারতের পাঠানো পেট্রোলের চালান ইতিমধ্যেই রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। এই পদক্ষেপ একদিকে যেমন দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করছে, তেমনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে রাশিয়ার জ্বালানি পরিকাঠামোর ওপর চাপও স্পষ্ট করে দিয়েছে।

    ইউক্রেনের ড্রোন হামলার জের (Russia)

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত থেকে রাশিয়ার পেট্রোল আমদানির প্রধান কারণ হল ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় একের পর এক তেল শোধনাগারের ক্ষতি। গত কয়েক মাসে ইউক্রেন রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। ফলে একাধিক রিফাইনারির উৎপাদন কমে গিয়েছে। প্রত্যাশিতভাবেই সঙ্কট দেখা দিয়েছে দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি সরবরাহে। এই পরিস্থিতির জেরে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে পেট্রোলের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বহু জায়গায় পেট্রোল পাম্পে ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। জোগানের তুলনায় চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতির সূত্র মেনে বেড়ে গিয়েছে জ্বালানির দাম। পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু এলাকায় রেশনিং ব্যবস্থা চালু হয়েছে। দ্রুত বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের ওপর চাপও দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে (Gasoline Supplies)। হঠাৎ করে সৃষ্টি হওয়া এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় ভারত ছাড়াও প্রতিবেশী বেলারুশ থেকে জ্বালানি জোগাড়ের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে মস্কো।

    ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল শোধন কেন্দ্র

    গত এক দশকে ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল শোধন কেন্দ্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। দেশের আধুনিক রিফাইনারিগুলিতে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণ করা হয়। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে কেনা বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেলও রয়েছে। সেই তেল পরিশোধনের পর তৈরি হওয়া পেট্রোলিয়াম পণ্যই এখন আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি রাশিয়াতেও (Russia) রফতানি হচ্ছে। অর্থাৎ, রাশিয়া থেকে কেনা অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে ফের সেই দেশেই পেট্রোল হিসেবে পাঠাচ্ছে ভারত। শিল্পমহলের তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই অন্তত ৬০ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল ভারতের বন্দর থেকে রাশিয়ার উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে। একাধিক ট্যাঙ্কার বর্তমানে রাশিয়ার বন্দরের পথে রয়েছে। এও জানা গিয়েছে, দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসে কয়েক লাখ টন করে পেট্রোল আমদানির পরিকল্পনাও করছে রাশিয়া।

    ইউক্রেনের সামরিক কৌশল

    সম্প্রতি, ইউক্রেন তাদের সামরিক কৌশলে বড়সড় (Gasoline Supplies) পরিবর্তন এনেছে। যুদ্ধক্ষেত্রে সরাসরি সংঘর্ষের পাশাপাশি রাশিয়ার জ্বালানি পরিকাঠামোকে টার্গেট করে হামলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। সে দেশের তেল শোধনাগার, জ্বালানি সংরক্ষণ কেন্দ্র, ফুয়েল ডিপো এবং পরিবহণ নেটওয়ার্কে ধারাবাহিক ড্রোন হামলার লক্ষ্য রাশিয়ার (Russia) সামরিক ও অসামরিক উভয় ক্ষেত্রেই জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করা। এরই প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে রাশিয়ার জ্বালানি উৎপাদনে। যার জেরে পুতিনের দেশে দেখা গিয়েছে ঘোরতর তেল সঙ্কট। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনও স্বীকার করেছেন, ড্রোন হামলার ফলে দেশের জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছে। যদিও সরকারের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে,  এবং চেষ্টা চলছে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার।

    রাশিয়ার পেট্রোল আমদানির প্রভাব

    বিশ্লেষকদের মতে, ভারত থেকে রাশিয়ার এই পেট্রোল আমদানির প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। ভারতীয় পরিশোধিত জ্বালানির রফতানির চাহিদা বাড়তে পারে, ভারত-রাশিয়া সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল বৃদ্ধি পেতে পারে এবং বিশ্বব্যাপী পেট্রোল বাণিজ্যের রুটেও আসতে পারে বড়সড় পরিবর্তন। ভবিষ্যতে রাশিয়ার শোধন ক্ষমতা আরও কমে গেলে আঞ্চলিক জ্বালানির দামেও তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারতের কৌশলগত গুরুত্ব বাড়তে পারে আগের চেয়ে আরও অনেক বেশি।

    জ্বালানি সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ভারত ও রাশিয়ার (Russia) মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ছাড় মূল্যে অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড আমদানিতে ভারত বর্তমানে রাশিয়ার অন্যতম বড় ক্রেতা। এবার সেই সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেল, কারণ এবার পাল্টা পরিশোধিত পেট্রোল ভারত থেকে রফতানি হচ্ছে রাশিয়ায়। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও কীভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে, এই ঘটনা তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।

    বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য

    বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী দিনে এই আমদানির ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে ইউক্রেনের হামলার তীব্রতা এবং রাশিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত রিফাইনারিগুলি কত দ্রুত মেরামত করা যায়, তার ওপর। যদি হামলা অব্যাহত থাকে, তাহলে রাশিয়াকে আরও দীর্ঘ সময় ভারত-সহ অন্যান্য দেশের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে পরিশোধিত জ্বালানি পেতে। অন্যদিকে, শোধনাগারগুলির উৎপাদন স্বাভাবিক হলে ধীরে ধীরে আমদানি কমে আসতে পারে। তবে আপাতত জ্বালানি সঙ্কটের মোকাবিলায় ভারতের ভূমিকা রাশিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই ধারণা সংশ্লিষ্ট মহলের (Gasoline Supplies)। উল্লেখ্য, রাশিয়ার ১১টি টাইম জোনজুড়েই জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে। সেই কারণেই চালু করতে হয়েছে রেশনিং ব্যবস্থা, ফিলিং স্টেশনগুলিতে দীর্ঘ গাড়ির সারি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় চড়া দরে বিকোচ্ছে গ্যাসোলিন। ক্রেমলিন (Russia) জানিয়েছে, রাশিয়া অন্যান্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, এবং গ্রহণযোগ্য মূল্যে জ্বালানি আমদানি নিয়েও আলোচনা করছে।

     

  • Sanae Takaichi in India: রাষ্ট্রপতি ভবনে জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা, মোদির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক জাপানের প্রধানমন্ত্রীর

    Sanae Takaichi in India: রাষ্ট্রপতি ভবনে জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা, মোদির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক জাপানের প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির ভারত সফর ঘিরে আরও একবার উষ্ণ হল নয়াদিল্লি-টোকিও সম্পর্ক। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজের মন্ত্রিসভার সদস্য ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন। এই সফরকে ভারত-জাপান কৌশলগত সম্পর্কের আরও এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারত সফরে এসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে জাপানও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জাপান সরকারের ক্যাবিনেট পাবলিক রিলেশনস অফিসার লিখেছেন, “উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। ভারত সফর নিয়ে আমরা অত্যন্ত উৎসাহিত।”

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি?

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স-এ সানায়ে তাকাইচিকে স্বাগত জানিয়ে লেখেন, “ভারতে আপনাকে আন্তরিক স্বাগত, প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।” তিনি জানান, এই সফরে দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে এবং ভারত-জাপান ‘স্পেশাল স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড গ্লোবাল পার্টনারশিপ’-কে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাশাপাশি, মুক্ত, উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার বিষয়েও দুই নেতা মতবিনিময় করবেন।

    তিন দিনের সরকারি সফরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী

    বুধবার তিন দিনের সরকারি সফরে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। পালাম বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন তাকাইচি। বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সেমিকন্ডাক্টর, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, উন্নত প্রযুক্তি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় থাকবে বলে জানা গেছে। এছাড়া ভারত-জাপান যৌথ অর্থনৈতিক ফোরামেও অংশ নিচ্ছেন ১০০-রও বেশি জাপানি শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী। এই ফোরামের লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত করা।

    বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও বিনিয়োগে জোর

    দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব চলমান দ্বিপাক্ষিক প্রকল্পগুলির অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন। একই সঙ্গে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হবে। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতাও বৈঠকের অন্যতম প্রধান বিষয়। বিশেষ করে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্থিতিশীলতা, অবকাঠামো উন্নয়ন, সরবরাহ শৃঙ্খলের (Supply Chain) স্থিতিস্থাপকতা, উদীয়মান প্রযুক্তি এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়গুলিও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

    আরও মজবুত হবে ভারত-জাপান সম্পর্ক

    ভারত ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের স্পেশাল স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড গ্লোবাল পার্টনারশিপ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন এবং মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিকের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ভারতের অন্যতম বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশ হিসেবে জাপান ইতিমধ্যেই বুলেট ট্রেন প্রকল্প, অবকাঠামো নির্মাণ, শিল্পোন্নয়ন-সহ একাধিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি যৌথ সামরিক মহড়া এবং নিয়মিত কৌশলগত সংলাপের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির এই সফর ভারত-জাপান সম্পর্ককে নতুন গতি দেবে এবং বাণিজ্য, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও গভীর করবে।

  • Mohan Bhagwat: অগাস্টের শেষে প্রথমবার কানাডা সফরে যাচ্ছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: অগাস্টের শেষে প্রথমবার কানাডা সফরে যাচ্ছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি বছরের অগাস্টের শেষের দিকে প্রথমবারের মতো কানাডা (Canada) সফরে যেতে পারেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। যাঁরা তাঁর সফরের আয়োজন করছেন, তাঁদের একটি সূত্রের খবর ৩১ অগাস্ট এবং ১ সেপ্টেম্বর তাঁর কানাডা সফরের সম্ভাব্য সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। সফরের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। এই সফরে তিনি শুধুমাত্র টরেন্টো সফর করবেন। কানাডা সফরের আগে ভাগবত পাঁচ দিনের জন্য আমেরিকা সফরে যাবেন। সফরের শেষ দিনে নিউ ইয়র্ক সিটিতে একটি জনসভায় অংশ নেবেন তিনি। তার পরেই ভাগবত রওনা দেবেন টরন্টোর উদ্দেশে।

    আরএসএস কর্তার সফরসূচি (Mohan Bhagwat)

    টরন্টোয় প্রবাসী ভারতীয়দের একটি বড় সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন আরএসএস কর্তা। পাশাপাশি একাধিক বৈঠকেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। যদিও সফরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও করা হয়নি, তাই আয়োজকদের তরফে কেউই প্রকাশ্যে পরিচয় দিতে চাননি। কানাডা সফর শেষে ভাগবত যাবেন ব্রিটেন সফরে। আয়োজকদের দাবি, আরএসএসের আন্তর্জাতিক জনসংযোগ ও ভাবমূর্তি তুলে ধরার লক্ষ্যেই ভাগবতের এই সফরের আয়োজন করা হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, পশ্চিমি দেশগুলিতে, বিশেষ করে কানাডায়, আরএসএস সম্পর্কে যে ধারণা প্রচলিত রয়েছে, তা সংশোধন করাই আরএসএস কর্তার এই সফরের অন্যতম উদ্দেশ্য। তাঁর সফরে বিক্ষোভ দেখাতে পারে খালিস্তানপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠী। সেই সম্ভাব্য বিক্ষোভের আশঙ্কায় অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে (Mohan Bhagwat) বলেও জানিয়েছেন আয়োজকরা।

    ভারত-কানাডা সম্পর্ক

    উল্লেখ্য, এটি ভাগবতের প্রথম কানাডা সফর। এর আগে ২০০৫ সালে তৎকালীন আরএসএস প্রধান কেএস সুদর্শন কানাডা সফরে গিয়েছিলেন। তারপর কেটে গিয়েছে দু’দশকেরও বেশি সময়। এবার কানাডা সফরে যাচ্ছেন বর্তমান আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত।আয়োজকদের একাংশের দাবি, কানাডার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর (Justin Trudeau) আমলে অবনতি ঘটেছিল ভারত-কানাডা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে। তাই আরএসএস কর্তার কানাডা সফরের উপযুক্ত পরিবেশ ছিল না। চলতি বছরের মার্চ মাসে ট্রুডোর স্থলাভিষিক্ত হন মার্ক কার্নি। তার (Canada) পরেই উন্নতি হয় ভারত-কানাডা সম্পর্কের। তাই এবার ভাগবতের সফর (Mohan Bhagwat) বাস্তবায়িত হতে চলেছে বলে তাঁদের ধারণা।

     

  • BJP: ‘ককরোচ জনতা পার্টি’কে ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’য়ের অংশ বলে দেগে দিলেন বিজেপির সভাপতি নিতিন নবীন

    BJP: ‘ককরোচ জনতা পার্টি’কে ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’য়ের অংশ বলে দেগে দিলেন বিজেপির সভাপতি নিতিন নবীন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ককরোচ জনতা পার্টি’কে (Cockroach Janta Party) ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’য়ের অংশ বলে দেগে দিলেন বিজেপির (BJP) জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। ২৯ জুন, সোমবার তেলঙ্গনার ওয়ারাঙ্গলে এক জনসভায় এই অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর মতে, এই ধরনের সংগঠন দেশকে দুর্বল ও বিভক্ত করার চেষ্টা করছে। তিনি জানান, এই ধরনের ‘ভাইরাস ও ককরোচসদৃশ’ শক্তির বিরুদ্ধে বিজেপি কঠোর পদক্ষেপ করবে।

    নিতিন নবীনের সাফ কথা (BJP)

    ওয়ারাঙ্গলের জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নিতিন নবীন বলেন, “দেশে ভাইরাস এবং ককরোচের মতো কিছু দল ও গোষ্ঠীর উদ্ভব হচ্ছে। এরা দেশের ভিত ফাঁপা করে দিতে চায়। এই ভাইরাস ও ককরোচসদৃশ মানুষদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এরা ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’য়ের অংশ, যারা দেশকে ভাগ করতে চায়। বিজেপি এদের উপযুক্ত জবাব দেবে, এবং দলের প্রতিটি কর্মী তা নিশ্চিত করবে।” উল্লেখ্য, ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) নামে এই ব্যঙ্গাত্মক প্রচারাভিযানের সূচনা করেন অভিজিৎ দিপকে। চলতি বছরের শুরুতে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এটি প্রথমে অনলাইন ব্যঙ্গ প্রচার হিসেবে শুরু হলেও, পরে তা বিভিন্ন ইস্যুকে সামনে রেখে ফিল্ড পর্যায়ের কর্মসূচির রূপ নেয়। সম্প্রতি নিট ইউজি (NEET UG)-র প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে সংগঠনটি সক্রিয় হয়ে ওঠে। দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত একাধিক বিক্ষোভ সমাবেশে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিও জানানো হয়।

    আড়ালে চলছে রাজনৈতিক প্রচার!

    এদিকে, সমালোচকদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের স্বার্থের প্রশ্নকে ঢাল করে এই আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রচার চালানো হচ্ছে। গত সপ্তাহে যন্তর মন্তরের এক বিক্ষোভে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (JNUSU) যুগ্ম সম্পাদক দানিশ আলি বক্তব্য রাখতে গিয়ে হিন্দু-বিরোধী মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানে ‘আজাদি’ স্লোগানও দেওয়া হয়। এটি পরীক্ষা-সংক্রান্ত দাবির (BJP) আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার অভিযোগ আরও জোরালো করে। এর আগে, গত ৬ জুন যন্তর মন্তরে আয়োজিত আর একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে খবর করতে যাওয়া কয়েকজন মহিলা সাংবাদিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটির একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় (BJP)। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন বিক্ষোভকারী এক মহিলা সাংবাদিককে ঘিরে স্লোগান দিচ্ছেন, এবং তাঁর উদ্দেশে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করছেন। ঘটনায় নিন্দার ঝড় ওঠে সাংবাদিক মহলে, তীব্র প্রতিক্রিয়া (Cockroach Janta Party) দেখা দেয় সোশ্যাল মিডিয়ায়।

     

  • Iron Dome Tamir Missile: আয়রন ডোমের ‘তামির’ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে ভারতের দ্বারস্থ ইজরায়েল, জোর জল্পনা প্রতিরক্ষা মহলে!

    Iron Dome Tamir Missile: আয়রন ডোমের ‘তামির’ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে ভারতের দ্বারস্থ ইজরায়েল, জোর জল্পনা প্রতিরক্ষা মহলে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের মাটিতে তৈরি হতে পারে ইজরায়েলের বহুল আলোচিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’-এর অতি-গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ‘তামির’ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র। সেই লক্ষ্যেই দেশের একাধিক বেসরকারি প্রতিরক্ষা উৎপাদনকারী সংস্থার সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে ইজরায়েলের শীর্ষ প্রতিরক্ষা সংস্থা রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস্। আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা মহলের বিভিন্ন প্রতিবেদনে এমনই দাবি করা হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত চুক্তি বা অংশীদার সংস্থার নাম ঘোষণা করা হয়নি। রাফায়েলের লক্ষ্য, ভারতে ‘তামির’ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে একদিকে ইজরায়েলের বাড়তে থাকা চাহিদা মেটানো, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানির জন্য একটি বিকল্প উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলা। বিশ্বজুড়ে আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চাহিদা বাড়তে থাকায় সংস্থাটি উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর পথ খুঁজছে।

    কেন ভারতের দিকেই ঝুঁকছে রাফায়েল?

    গত কয়েক বছরে প্রতিরক্ষা উৎপাদনে ভারতের অগ্রগতি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির নজর কেড়েছে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির ফলে দেশে প্রতিরক্ষা শিল্পের পরিকাঠামো যেমন শক্তিশালী হয়েছে, তেমনই তৈরি হয়েছে দক্ষ প্রযুক্তিগত কর্মী বাহিনী। তুলনামূলক কম উৎপাদন ব্যয় এবং সরকারি নীতিগত সহায়তাও বিদেশি সংস্থাগুলিকে ভারতে বিনিয়োগে উৎসাহ দিচ্ছে। রাফায়েলের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কও নতুন নয়। ক্ষেপণাস্ত্র, বিমান প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা প্রকল্পে বহু বছর ধরেই ভারতীয় সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে ইজরায়েলি এই সংস্থা। ফলে নতুন উৎপাদন অংশীদারিত্বের সম্ভাবনাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েই দেখা হচ্ছে।

    কী এই ‘তামির’?

    ‘তামির’ হল আয়রন ডোম বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র। শত্রুপক্ষের ছোড়া স্বল্প-পাল্লার রকেট, মর্টার কিংবা কামানের গোলা লক্ষ্যভ্রষ্ট করার আগেই মাঝ আকাশে ধ্বংস করে দেওয়াই এর কাজ। আয়রন ডোমের রেডার প্রথমে সম্ভাব্য হামলা শনাক্ত করে। এরপর নির্দেশ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে হিসাব করে দেখে রকেটটি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানবে কি না। বিপদের আশঙ্কা থাকলেই উৎক্ষেপণ করা হয় ‘তামির’ ক্ষেপণাস্ত্র। মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়া হয় লক্ষ্যবস্তু।

    ভারতের কী লাভ?

    এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে বড়সড় গতি আসতে পারে। দেশীয় উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলির সামনে খুলে যেতে পারে আন্তর্জাতিক বাজারের দরজা। বাড়তে পারে উচ্চপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানও। একই সঙ্গে বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা সরবরাহ শৃঙ্খলে ভারতের গুরুত্ব আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর পাশাপাশি ইজরায়েলের সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। যদিও প্রযুক্তি হস্তান্তরের পরিমাণ নির্ভর করবে ভবিষ্যতের চুক্তির শর্তের উপর।

    ভারত-ইজরায়েল সম্পর্কে নতুন মাত্রা?

    গত কয়েক বছরে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র, নজরদারি ব্যবস্থা, ড্রোন, বিমান প্রতিরক্ষা এবং অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তিতে দুই দেশের সহযোগিতা ক্রমশ বেড়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে ‘তামির’ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন শুরু হলে তা শুধু একটি শিল্প প্রকল্প হবে না; বরং ভারত-ইজরায়েল কৌশলগত সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের প্রতিরক্ষা সরবরাহ ব্যবস্থাকেও আরও নির্ভরযোগ্য করে তুলবে।

    এখনও চূড়ান্ত নয়

    তবে আপাতত পুরো বিষয়টি আলোচনা ও সম্ভাব্য অংশীদার খোঁজার পর্যায়ে রয়েছে। রাফায়েল বা ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক উৎপাদন চুক্তির ঘোষণা করা হয়নি। বাণিজ্যিক আলোচনা, প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন এবং দুই দেশের সরকারি অনুমোদন মিললেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাই ভারতে ‘তামির’ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সম্ভাবনা জোরালো হলেও, এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে— এমনটা বলা যাবে না।

  • General Dhiraj Seth: ৩১তম সেনাপ্রধান হলেন জেনারেল ধীরজ শেঠ, একসঙ্গে বদল একাধিক শীর্ষ পদে

    General Dhiraj Seth: ৩১তম সেনাপ্রধান হলেন জেনারেল ধীরজ শেঠ, একসঙ্গে বদল একাধিক শীর্ষ পদে

    জেনারেল শঙ্কর রায়চৌধুরীর পর এই প্রথম সেনার কোনও আর্মার্ড কোর অফিসার সেনাপ্রধান হলেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শীর্ষস্তরে বড় রদবদল। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর (Indian Army) ৩১তম সেনাপ্রধান (Chief of the Army Staff) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন জেনারেল ধীরজ শেঠ (General Dhiraj Seth)। তিনি প্রায় তিন দশক পর প্রথম আর্মার্ড কোর (Armoured Corps)-এর অফিসার, যিনি সেনাপ্রধানের পদে অধিষ্ঠিত হলেন। এর আগে ১৯৯৭ সালে জেনারেল শঙ্কর রায়চৌধুরী অবসর নেওয়ার পর আর কোনও আর্মার্ড কোর অফিসার এই দায়িত্ব পাননি। এই নিয়োগের মধ্য দিয়ে শুধু সেনাপ্রধানের পদেই নয়, ভারতীয় সেনাবাহিনীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডেও ব্যাপক রদবদল ঘটল। একইসঙ্গে ভারতীয় বায়ুসেনাতেও শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা ভবিষ্যতে তিন বাহিনীর যৌথ যুদ্ধ প্রস্তুতি, আধুনিকীকরণ এবং থিয়েটার কমান্ড গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    দক্ষিণ ব্লকে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব হস্তান্তর

    নয়াদিল্লির দক্ষিণ ব্লকের লনে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব হস্তান্তর সম্পন্ন হয়। বিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী চার দশকেরও বেশি সামরিক জীবনের ইতি টানার আগে গার্ড অফ অনার গ্রহণ করেন। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন জেনারেল ধীরজ শেঠ। এই পরিবর্তন ভারতের প্রতিরক্ষা নেতৃত্বে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় প্রশাসনিক রদবদল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, মাত্র এক মাস আগেই চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জেনারেল এনএস রাজা সুব্রমণি এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথন। ফলে তিন বাহিনীর নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মের কর্মকর্তাদের হাতে দায়িত্ব চলে এল।

    কে এই জেনারেল ধীরজ শেঠ?

    জেনারেল ধীরজ শেঠ খড়্গবাসলায় স্থিত ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমির (NDA) প্রাক্তনী। ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি আর্মার্ড কোরে কমিশনপ্রাপ্ত হন। প্রায় চার দশকের দীর্ঘ সামরিক জীবনে তিনি প্রচলিত যুদ্ধ, সীমান্ত নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টাফ নিয়োগে কাজ করেছেন। তাঁর সামরিক জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হল, পাকিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল কমান্ডের নেতৃত্ব দেওয়া। তিনি প্রথমে ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে জয়পুরভিত্তিক সাউথ ওয়েস্টার্ন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ (GOC-in-C) হন। পরে পুনে-ভিত্তিক সাদার্ন কমান্ডের নেতৃত্বও গ্রহণ করেন। ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল তিনি ভাইস চিফ অফ দ্য আর্মি স্টাফ (Vice Chief of the Army Staff) হিসেবে দায়িত্ব নেন। সেখান থেকেই তিনি এবার দেশের সর্বোচ্চ সামরিক পদে উন্নীত হলেন।

    সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে একাধিক পরিবর্তন

    জেনারেল ধীরজ শেঠ সেনাপ্রধান হওয়ার ফলে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও রদবদল হয়েছে। ভাইস চিফ অফ দ্য আর্মি স্টাফ হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল সন্দীপ জৈন। তিনি এতদিন সাদার্ন কমান্ডের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অন্যদিকে, তাঁর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজেশ পুষ্কর। বর্তমানে তিনি আম্বালা-ভিত্তিক দ্বিতীয় স্ট্রাইক কোরের (II Strike Corps) নেতৃত্বে রয়েছেন। ১ জুলাই পুনেতে সাদার্ন আর্মি কমান্ডের নতুন প্রধান হিসেবে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাজেশ পুষ্করও আর্মার্ড কোরের অফিসার। ফলে এই রদবদলে সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ফিল্ড কমান্ডগুলিতে আর্মার্ড কোরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেল।

    সাউথ-ওয়েস্টার্ন কমান্ডেও নতুন নেতৃত্ব

    জয়পুর-ভিত্তিক সাউথ ওয়েস্টার্ন কমান্ডের নতুন প্রধান হচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহিত মালহোত্রা। বর্তমানে তিনি কলকাতার ইস্টার্ন কমান্ডের চিফ অফ স্টাফ হিসেবে কর্মরত। ১৯৮৯ সালের জুন মাসে ৪৭তম আর্মার্ড রেজিমেন্টে কমিশনপ্রাপ্ত মালহোত্রা এবার এমন একটি কমান্ডের দায়িত্ব নিতে চলেছেন, যা পাকিস্তান সীমান্তে ভারতের অন্যতম সংবেদনশীল সামরিক দায়িত্ব বহন করে। তিনি অবসরগ্রহণকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল মঞ্জিন্দর সিং-এর স্থলাভিষিক্ত হবেন।

    ভারতীয় বায়ুসেনাতেও নেতৃত্বে পরিবর্তন

    শুধু সেনাবাহিনী নয়, ভারতীয় বায়ুসেনাতেও গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব পরিবর্তন হতে চলেছে। এয়ার মার্শাল আশুতোষ দীক্ষিত নতুন ভাইস চিফ অফ দ্য এয়ার স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। সামরিক সিনিয়রিটির নিরিখে তিনি আগামী অক্টোবর মাসে অবসর নিতে চলা বর্তমান বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অমরপ্রীত সিং-এর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছেন। ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বর মাসে ফাইটার স্ট্রিমে কমিশনপ্রাপ্ত আশুতোষ দীক্ষিত বর্তমানে ইন্টিগ্রেটেড ডিফেন্স স্টাফ (Integrated Defence Staff)-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফের অধীনে থাকা এই ত্রি-সার্ভিস সংস্থায় তিনি তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং ভবিষ্যতের থিয়েটার কমান্ড গঠনের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এর আগে তিনি বেঙ্গালুরুর এয়ারক্রাফট অ্যান্ড সিস্টেমস টেস্টিং এস্টাবলিশমেন্ট (ASTE)-এর ফ্লাইট টেস্ট স্কোয়াড্রনের কমান্ডিং অফিসার এবং ২০২৩ সালের মে মাস থেকে ডেপুটি চিফ অফ দ্য এয়ার স্টাফ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

    থিয়েটার কমান্ড ও আধুনিকীকরণে নতুন নেতৃত্বের বড় চ্যালেঞ্জ

    ভারতের প্রতিরক্ষা কাঠামো বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিন বাহিনীর যৌথ থিয়েটার কমান্ড গঠন, যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক অস্ত্র ও প্ল্যাটফর্ম অন্তর্ভুক্তি, সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করা এবং সমন্বিত সামরিক কাঠামো গড়ে তোলাই এখন প্রধান অগ্রাধিকার। গত কয়েক বছরে এই সংস্কার প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে এগোলেও নানা প্রশাসনিক ও কাঠামোগত কারণে তা প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি। ফলে নতুন সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরজ শেঠ, নতুন সিডিএস, নৌবাহিনী প্রধান এবং বায়ুসেনার নতুন নেতৃত্বের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এই সংস্কার কর্মসূচিকে কার্যকরভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তে চিন ও পাকিস্তানের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধের পরিবর্তিত বাস্তবতা এবং তিন বাহিনীর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নতুন নেতৃত্বের ভূমিকা আগামী কয়েক বছরে ভারতের সামরিক কৌশল নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

  • PM Modi: খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন বিহারের রাজ্যপাল-কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, কী বার্তা দিতে চায় কেন্দ্র?

    PM Modi: খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন বিহারের রাজ্যপাল-কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, কী বার্তা দিতে চায় কেন্দ্র?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা সৈয়দ আলি খামেনেইয়ের রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য এবং দাফন অনুষ্ঠানে (Khamenei State Funeral) উপস্থিত থাকতে পারবেন না ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। পূর্বনির্ধারিত আন্তর্জাতিক সফরের কারণে ওই শোকের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েও যেতে পারছেন না তিনি। তাই ভারতের পক্ষ থেকে ওই অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন বিহারের রাজ্যপাল লেফটেন্যান্ট জেনারেল সৈয়দ আতা হাসনাইন এবং বিদেশমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্ঘেরিটা। সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে এঁদের।

    খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে প্রতিনিধি দল (PM Modi)

    ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তবে সরকারি সূত্রের খবর, ওই সময় প্রধানমন্ত্রী ইন্দোনেশিয়া, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া সফরে থাকবেন। আগে থেকেই নির্ধারিত এই বিদেশ সফরের সূচির কারণে তাঁর পক্ষে ইরান সফর সম্ভব হচ্ছে না। এরপরই নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে বিহারের রাজ্যপাল এবং বিদেশমন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রীকে ভারতের প্রতিনিধি মনোনীত করা হয়েছে। তাঁরাই যাবেন। প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় খামেনেই নিহত হন বলে খবর। প্রথমে মার্চ মাসে তাঁর শেষকৃত্যের আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও, পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তা স্থগিত করা হয়। পরে ইরান সরকার জুলাই মাসে নতুন করে অনুষ্ঠানের দিনক্ষণ নির্ধারণ করে (PM Modi)।

    ভারতের বার্তা

    আগামী ৪ জুলাই তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য শুরু হবে। সেখানে সাধারণ মানুষের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাখা হবে খামেনেইয়ের দেহ। এরপর তেহরান ও পবিত্র শহর কোমে শোকযাত্রার আয়োজন করা হবে। ইরাকের নাজাফ ও কারবালা শহরেও বিশেষ প্রার্থনা সভার আয়োজনের কথা জানানো হয়েছে। শিয়া মুসলিমদের কাছে এই দু’টি শহরের বিশেষ ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে। ৯ জুলাই খামেনেইয়ের নিজের শহর মাশহাদের ইমাম রেজা মাজার প্রাঙ্গণে তাঁর দাফনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে শেষকৃত্য পর্ব। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতেও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত ভারতের সঙ্গে (Khamenei State Funeral) ইরানের কূটনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্বকেই তুলে ধরে। যদিও, সরকারি সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতির একমাত্র কারণ পূর্বনির্ধারিত বিদেশ সফরের সূচি (PM Modi)।

     

  • gadchiroli: জঙ্গলের মাটির নীচে লুকিয়ে ছিল মাওবাদীদের গোপন অস্ত্র কারখানা! বিশাল অভিযানে বড় সাফল্য পুলিশ-সিআরপিএফের

    gadchiroli: জঙ্গলের মাটির নীচে লুকিয়ে ছিল মাওবাদীদের গোপন অস্ত্র কারখানা! বিশাল অভিযানে বড় সাফল্য পুলিশ-সিআরপিএফের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাওবাদী দমনে আরও একটি বড় সাফল্য পেল মহারাষ্ট্র পুলিশ ও সিআরপিএফের যৌথ বাহিনী। মহারাষ্ট্র-ছত্তিশগড় সীমান্তবর্তী গড়চিরোলির ঘন জঙ্গলে অভিযান চালিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী একটি গোপন মাওবাদী অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে। শুধু তাই নয়, মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম ও যুদ্ধসামগ্রী উদ্ধার করে ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, এই অভিযানের ফলে মাওবাদীদের সংগঠন ও লজিস্টিক নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা লেগেছে।

    গোপন সূত্রের ভিত্তিতে শুরু অভিযান

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৭ জুনের অভিযান ছিল সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় মাওবাদী-বিরোধী অপারেশন। গোপন সূত্রে খবর মিলেছিল, মহারাষ্ট্র-ছত্তিশগড় সীমান্তের বালবেদা জঙ্গল এলাকায় মাওবাদীরা একটি ভূগর্ভস্থ অস্ত্র উৎপাদন ও সংরক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলেছে। সেখানে আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি ও মজুত করা হচ্ছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে ২৬ জুন গড়চিরোলি জেলার পুলিশ সুপার এম রমেশের নেতৃত্বে যৌথ অভিযান শুরু হয়। অভিযানে অংশ নেয় গড়চিরোলি ও প্রণহিতা স্পেশাল অপারেশন ইউনিটের ছয়টি দল, একটি বম্ব ডিটেকশন অ্যান্ড ডিসপোজাল স্কোয়াড (বিডিডিএস) এবং সিআরপিএফ-এর একটি বিশেষ দল।

    জঙ্গলের মাটির নীচে লুকিয়ে ছিল অস্ত্র কারখানা

    ২৬ জুন থেকে শুরু হওয়া তল্লাশি অভিযান ২৭ জুন আরও জোরদার করা হয়। বিডিডিএস-এর সদস্যরা সন্দেহজনক এলাকাগুলি ঘিরে তল্লাশি চালিয়ে জঙ্গলের মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির যন্ত্রপাতি এবং সামগ্রী উদ্ধার করেন।

    উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—

    • ● প্রায় ৫ থেকে ৬ টন ওজনের একটি ভারী লেদ মেশিন
    • ● ১৫০টি ক্লেমোর মাইন ও ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চারের (BGL) পাইপ
    • ● ২২০টি ১২-বোর বন্দুকের ব্যারেল বা পাইপ
    • ● ২০টি রাইফেলের রড ও ধাতব স্ট্রিপ
    • ● অস্ত্র ও বিস্ফোরক তৈরিতে ব্যবহৃত আরও বহু ধরনের যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল

    তদন্তকারী আধিকারিকদের অনুমান, এই কারখানায় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি, মেরামত এবং বিস্ফোরক প্রস্তুতের কাজ চলত। উদ্ধার হওয়া সরঞ্জামগুলি ভবিষ্যতে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনার জন্য ব্যবহার করা হতে পারত।

    ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করা হল সব সামগ্রী

    উদ্ধারের পরই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সমস্ত অস্ত্র, যন্ত্রপাতি এবং কারখানার অবকাঠামো ঘটনাস্থলেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়। বিডিডিএস ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে বিস্ফোরণের মাধ্যমে ভারী লেদ মেশিনসহ সমস্ত সরঞ্জাম নষ্ট করেন, যাতে ভবিষ্যতে মাওবাদীরা সেগুলি পুনরায় ব্যবহার করতে না পারে। পুলিশের মতে, শুধু অস্ত্র উদ্ধার করাই নয়, অস্ত্র তৈরির পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া আরও বড় সাফল্য। এর ফলে মাওবাদীদের পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে।

    আগের অভিযানগুলির ধারাবাহিক সাফল্য

    এটি গত কয়েক মাসে গড়চিরোলিতে নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক সফল অভিযানেরই অংশ। এর আগে ২৩ মে এবং ২৭ মে পরিচালিত পৃথক অভিযানে মাওবাদীদের আরও বেশ কিছু অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই অভিযানের সূত্র ধরেই নতুন গোয়েন্দা তথ্য হাতে আসে এবং বালবেদা জঙ্গলে এই বৃহৎ অপারেশন চালানো সম্ভব হয়।

    মাওবাদী নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা

    পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মহারাষ্ট্র ও ছত্তিশগড়ের সীমান্তবর্তী দুর্গম বনাঞ্চলকে কাজে লাগিয়ে মাওবাদীরা অস্ত্র তৈরি, বিস্ফোরক মজুত এবং যুদ্ধসামগ্রী লুকিয়ে রাখত। নির্বাচনের সময়, তথাকথিত ‘মাওবাদী পর্যবেক্ষণ সপ্তাহ’ কিংবা নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলার আগে এই গোপন ভাণ্ডারগুলি থেকে অস্ত্র বের করে ব্যবহার করা হত। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মতে, এই ধরনের গোপন অস্ত্রভাণ্ডার ও উৎপাদন কেন্দ্র চিহ্নিত করে ধ্বংস করা গেলে ভবিষ্যতে মাওবাদী কার্যকলাপ পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে।

    ‘গড়চিরোলিতে মাওবাদী প্রভাব প্রায় শেষ’

    পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের বক্তব্য, গড়চিরোলি জেলায় মাওবাদী কার্যকলাপ এখন কার্যত নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে এবং জেলায় চরমপন্থী সংগঠনের প্রভাব শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত কয়েক বছরে ধারাবাহিক গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান, রাজ্য পুলিশের বিশেষ বাহিনী এবং সিআরপিএফ-এর সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে একসময়ের অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই জেলায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। অধিকর্তাদের মতে, ভূগর্ভস্থ অস্ত্র কারখানা ধ্বংস এবং বিপুল অস্ত্রভাণ্ডার নষ্ট করার এই অভিযান শুধু গড়চিরোলির জন্য নয়, সমগ্র মহারাষ্ট্র-ছত্তিশগড় সীমান্তে মাওবাদী কার্যকলাপ নির্মূলের লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে। নিরাপত্তা বাহিনী ভবিষ্যতেও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একই ধরনের অভিযান চালিয়ে মাওবাদীদের অবশিষ্ট নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাবে।

  • Rath Yatra 2026: আজ মহাপ্রভুর স্নানযাত্রা! ১০৮ কলসে মহাস্নান, তারপরই জ্বর— জগন্নাথদেবকে ঘিরে এই রহস্য জানেন?

    Rath Yatra 2026: আজ মহাপ্রভুর স্নানযাত্রা! ১০৮ কলসে মহাস্নান, তারপরই জ্বর— জগন্নাথদেবকে ঘিরে এই রহস্য জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, সোমবার (২৯ জুন), শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের পবিত্র স্নানযাত্রা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই উৎসবকে দেবস্নান পূর্ণিমা বা স্নান পূর্ণিমা নামেও অভিহিত করা হয়। প্রতিবছর জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই উৎসব পালিত হলেও, এ বছর জ্যৈষ্ঠ মাসে মলমাস (অধিক মাস) পড়ায় আষাঢ় মাসের পূর্ণিমাতেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে মহাপ্রভুর স্নানযাত্রা। ওড়িশার পুরী জগন্নাথধাম থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের মাহেশ-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আজ ভক্তিভরে পালিত হচ্ছে এই বিশেষ উৎসব। তবে ঐতিহ্য, আচার এবং জাঁকজমকের নিরিখে সবচেয়ে বড় আয়োজন হয় পুরীর শ্রীজগন্নাথ মন্দিরে। ফলে সারা বিশ্বের জগন্নাথভক্তদের নজর এখন পুরীতেই।

    স্নান পূর্ণিমার তিথি

    বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, পূর্ণিমা তিথি শুরু হয়েছে সোমবার ভোর-রাত ৩টা ৮ মিনিটে এবং শেষ হবে মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২৭ মিনিটে। অন্যদিকে, গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা অনুসারে পূর্ণিমা তিথি শুরু হয়েছে সোমবার ভোর-রাত ২টো ৪৬ মিনিট ৪ সেকেন্ডে এবং শেষ হবে মঙ্গলবার ভোর ৪টে ৪৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই তিথি অত্যন্ত পবিত্র। তাই এদিন বহু মানুষ পূজা-পাঠ, দান-ধ্যান, ব্রত পালন এবং বিভিন্ন শুভ কাজ সম্পন্ন করেন।

    স্নানযাত্রা থেকেই শুরু রথযাত্রার প্রস্তুতি

    জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রাকে রথযাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা বলেই মনে করা হয়। যদিও তারও আগে চন্দনযাত্রার মাধ্যমে শুরু হয় প্রস্তুতি পর্ব, তবুও স্নানযাত্রার পর থেকেই কার্যত শুরু হয়ে যায় রথযাত্রার কাউন্টডাউন। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে মানুষের মতোই কষ্ট পান মহাপ্রভু জগন্নাথ। তাই গরমের সময় তাঁর কপালে চন্দনের প্রলেপ দেওয়া হয়, যা চন্দনযাত্রা নামে পরিচিত। বর্ষার সূচনালগ্নে সেই পর্ব শেষ করে পালিত হয় স্নানযাত্রা।

    ১০৮ কলস সুগন্ধি জলে মহাপ্রভুর মহাস্নান

    স্নানযাত্রার দিন শ্রীমন্দিরের স্নানবেদীতে বিশেষ বৈদিক আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শ্রীজগন্নাথ, বলভদ্র এবং দেবী সুভদ্রাকে ১০৮টি পবিত্র কলসে ভরা সুগন্ধি জল দিয়ে স্নান করানো হয়। প্রথমে শ্রীজগন্নাথ, তারপর বলভদ্র এবং সবশেষে দেবী সুভদ্রার পূজা সম্পন্ন করে তাঁদের মহাস্নানের আয়োজন করা হয়। স্নান সম্পন্ন হওয়ার পর তিন দেবদেবীকে বিশেষ গজবেশে সজ্জিত করা হয়, যা ভক্তদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং তাৎপর্যপূর্ণ। স্কন্দপুরাণের বর্ণনা অনুযায়ী, পুরীর শ্রীজগন্নাথ মন্দির প্রতিষ্ঠার পর রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নই এই স্নানযাত্রা উৎসবের প্রচলন করেন।

    কেন জ্বরে আক্রান্ত হন জগন্নাথদেব?

    স্নানযাত্রার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এক বিশেষ ধর্মীয় বিশ্বাস। প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, বছরে একবার ১০৮ কলস জল দিয়ে মহাস্নানের পর মহাপ্রভুর জ্বর আসে। সেই কারণেই স্নানযাত্রার পর শুরু হয় ‘অনসর’ বা ‘অনবাসর’ পর্ব। এই সময় প্রায় ১৫ দিন ধরে জগন্নাথদেব, বলভদ্র এবং সুভদ্রা ভক্তদের দর্শনের বাইরে থাকেন। শ্রীমন্দিরের দরজা সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ রাখা হয় এবং দেবদেবীদের গোপন কক্ষে বিশ্রাম ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, রাজবৈদ্য আয়ুর্বেদিক ওষুধ ও পাঁচন দিয়ে মহাপ্রভুর চিকিৎসা করেন। এই সময় দেবতাদের বিশেষ খাদ্যও নিবেদন করা হয়।

    ১৫ দিন পর নবযৌবন দর্শন

    অনসর পর্ব শেষ হলে সুস্থ হয়ে ওঠেন মহাপ্রভু। এরপর নতুন রূপে, নতুন সাজে তিনি ভক্তদের দর্শন দেন। এই বিশেষ অনুষ্ঠানকে বলা হয় নেত্রোৎসব বা নবযৌবন দর্শন। এই দিনই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটে লক্ষ লক্ষ ভক্তের। নতুন সাজে মহাপ্রভুর প্রথম দর্শনকে অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।

    এরপর মহাপ্রভুর রথযাত্রা

    নবযৌবন দর্শনের পরই শুরু হয় রথযাত্রার চূড়ান্ত প্রস্তুতি। রাজবেশে সজ্জিত হয়ে শ্রীজগন্নাথ, বলভদ্র এবং সুভদ্রা তিনটি পৃথক রথে চেপে মাসির বাড়ি— গুণ্ডিচা মন্দিরের উদ্দেশে যাত্রা করেন। বিশ্বাস অনুযায়ী, এই যাত্রা কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং ভগবানের ভক্তদের কাছে স্বয়ং এসে আশীর্বাদ করার প্রতীক। তাই স্নানযাত্রা থেকেই শুরু হয়ে যায় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব রথযাত্রার আবহ। এবছর রথযাত্রা ১৬ জুলাই, বৃহস্পতিবার। উল্টোরথ (পুনর্যাত্রা) ২৪ জুলাই, শুক্রবার।

    ধর্মীয় গুরুত্ব

    স্নানযাত্রা শুধু একটি আচার নয়, এটি ভক্তি, বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের এক অনন্য সংমিশ্রণ। দেবতার মানবিক রূপ—গরমে কষ্ট পাওয়া, স্নানের পর অসুস্থ হওয়া, চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা—এই সমস্ত বিশ্বাস জগন্নাথ সংস্কৃতিকে অন্য সব ধর্মীয় পরম্পরা থেকে আলাদা করে তুলেছে। এই কারণেই স্নানযাত্রা থেকে রথযাত্রা পর্যন্ত প্রতিটি পর্বকে ঘিরে লক্ষ লক্ষ ভক্তের আবেগ, অপেক্ষা এবং উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। পুরী হোক বা মাহেশ—আজ দেবস্নান পূর্ণিমার এই পবিত্র দিনে সর্বত্রই ধ্বনিত হচ্ছে, ‘‘জয় জগন্নাথ’’।

  • MEA: কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় সতর্কবার্তা, প্রয়োজনীয় নথি ছাড়া ভারত না ছাড়ার পরামর্শ বিদেশমন্ত্রকের

    MEA: কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় সতর্কবার্তা, প্রয়োজনীয় নথি ছাড়া ভারত না ছাড়ার পরামর্শ বিদেশমন্ত্রকের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন এমন ভারতীয় নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা জারি করল   ভারতের বিদেশমন্ত্রক (MEA)। বেসরকারি ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে যাত্রা করলে প্রয়োজনীয় সমস্ত ভ্রমণ সংক্রান্ত নথি হাতে পাওয়ার আগে যেন কেউ ভারত না ছাড়েন, সেই পরামর্শও দিয়েছে মন্ত্রক।

    নেপালে পৌঁছে সমস্যায় (MEA)

    বিদেশমন্ত্রকের দাবি, সম্প্রতি একাধিক ভারতীয় তীর্থযাত্রী নেপালে পৌঁছে সমস্যায় পড়েছেন। তাঁদের কাছে চিনে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় চাইনিজ ভিসা এবং এন্ট্রি পারমিট না থাকায় তাঁরা কাঠমান্ডুতেই আটকে পড়েছেন। ইতিমধ্যেই প্রায় ৫২ জন ভারতীয় তীর্থযাত্রী কাঠমান্ডুতে আটকে রয়েছেন। নিরাপদে তাঁরা যাতে যাত্রা করতে পারেন, সেজন্য সাহায্য চেয়েছেন ভারত সরকারের। বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় অনুমতি পরে পাওয়া যাবে—এই আশায় যাত্রা শুরু করলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। ফলে তীর্থযাত্রীরা মাঝপথে আটকে পড়ার ঝুঁকিতে থাকেন। বিদেশমন্ত্রক আরও জানিয়েছে, যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট ট্যুর অপারেটর সরকারিভাবে নিবন্ধিত ও অনুমোদিত কি না, তা অবশ্যই যাচাই করা উচিত। পাশাপাশি চিনে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ভিসা, এন্ট্রি পারমিট-সহ সব ধরনের নথিপত্র সম্পূর্ণ হওয়ার পরেই যাত্রা শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    এই তীর্থযাত্রা অত্যন্ত সংবেদনশীল

    মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এই তীর্থযাত্রা অত্যন্ত সংবেদনশীল আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে সম্পন্ন হয়। ফলে বৈধ ভিসা, প্রয়োজনীয় পারমিট এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি অনুমোদন ছাড়া যাত্রা শুরু করলে শুধু ব্যক্তিগত ভোগান্তিই নয়, কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক জটিলতাও তৈরি হতে পারে (MEA)। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার প্রেক্ষিতে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যাত্রাপথে কোনও ধরনের সমস্যায় পড়া এড়াতে তীর্থযাত্রীদের আগে থেকেই সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রকের তরফে আরও বলা হয়েছে, কৈলাস মানসসরোবর যাত্রায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত ট্যুর অপারেটরের পরিষেবা গ্রহণ করা উচিত। অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে যাত্রা করলে প্রয়োজনীয় নথিপত্র, ভ্রমণ-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলি সঠিকভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

    সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কারণ

    সরকারের বক্তব্য, বিদেশে কোনও ভারতীয় তীর্থযাত্রী যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি না হন বা আটকে না পড়েন, সেই লক্ষ্যেই এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা সম্প্রতি নাথু লা পাস রুট দিয়ে পুনরায় শুরু হয়েছে। গত ২০ জুন প্রথম ব্যাচের তীর্থযাত্রীরা এই পথ দিয়ে চিনে প্রবেশ করেন (MEA)।

     

LinkedIn
Share