Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • PM Modi: মোদির সফরে নয়া মাত্রা পাবে ভারত-সেশেলস সম্পর্ক, পর্যটন-সামুদ্রিক নিরাপত্তায় একাধিক চুক্তির সম্ভাবনা

    PM Modi: মোদির সফরে নয়া মাত্রা পাবে ভারত-সেশেলস সম্পর্ক, পর্যটন-সামুদ্রিক নিরাপত্তায় একাধিক চুক্তির সম্ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দু’দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে পূর্ব আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র সেশেলসে গিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তাঁর দুদিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরকে ঘিরে আশাবাদী পূর্ব আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র সেশেলস। দেশটির বিদেশমন্ত্রী ব্যারি ফাউরে (Barry Faure) জানিয়েছেন, এই (Cyber Security Pacts) সফরের মাধ্যমে ভারত ও সেশেলসের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং পর্যটন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, মহাকাশ, সাইবার নিরাপত্তা ও আইনি সহযোগিতা-সহ একাধিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    সেশেলসের বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য (PM Modi)

    ২৭ জুন থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত সেশেলসে রাষ্ট্রীয় সফরে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেশেলসের প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক হারমিনির (Patrick Herminie) আমন্ত্রণে তিনি সে দেশের জাতীয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফাউরে বলেন, “বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলেই আশা। শুধু সামুদ্রিক নিরাপত্তাই নয়, মহাকাশ সহযোগিতা, সাইবার নিরাপত্তা এবং পারস্পরিক আইনি সাহায্যের মতো নতুন ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে।” তিনি জানান, ভারত ও সেশেলসের মধ্যে বাণিজ্য এবং পর্যটনের ক্ষেত্রে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। সেশেলসের প্রাকৃতিক সম্পদ ও রফতানি সক্ষমতা যেমন ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ভারতের বিশাল পর্যটন বাজার ও ভোক্তা অর্থনীতিও সেশেলসের জন্য নয়া সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে (PM Modi)।

    মোদির আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা

    পর্যটনকে সেশেলসের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি উল্লেখ করে ফাউরে জানান, দেশটির মোট ডিডিপির(GDP) প্রায় ৩০ শতাংশই পর্যটন শিল্প থেকে আসে। বর্তমানে ভারতের মুম্বই থেকে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্স সপ্তাহে চারটি ফ্লাইট চালাচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে দিল্লি-সহ ভারতের আরও বিভিন্ন শহর থেকে সরাসরি বিমান পরিষেবা চালুর বিষয়েও আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাবের কারণে তাঁর এই সফর সেশেলসকে বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে আরও বেশি পরিচিত করে তুলবে। আমরা আশা করছি, ভারত থেকে পর্যটকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে (PM Modi)।”

    বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রতিযোগিতার অন্যতম কেন্দ্র

    সেশেলসের বিদেশমন্ত্রী জানান, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহণ চালুর বিষয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক হারমিনির ভারত সফরের সময় এই উদ্যোগের সূচনা হয়েছিল। এই যোগাযোগ চালু হলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও সহজ ও গতিশীল হবে বলেই আশা সংশ্লিষ্টমহলের (Cyber Security Pacts)। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান কৌশলগত পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ফাউরে জানান, এই অঞ্চল এখন বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রতিযোগিতার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। প্রত্যাশিতভাবেই জলদস্যুদের উপদ্রব এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকিও ক্রমশ বাড়ছে।

    জলদস্যুদের উপদ্রব

    তিনি বলেন, “অতীতে আমরা জলদস্যুদের উপদ্রবের জেরে ব্যাপক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি। এখনও হরমুজ প্রণালী, ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরের বিভিন্ন ঘটনাবলি সরাসরি সেশেলসের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলে। তাই ভারত-সেশেলসের মধ্যে সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ভারত (PM Modi) মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে বাণিজ্য, পর্যটন, সংযোগ ব্যবস্থা এবং (Cyber Security Pacts) সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দুই দেশের অংশীদারিত্ব পৌঁছতে পারে নয়া উচ্চতায়।

     

  • Samrajya Diwas: শিবাজির আদর্শেই আধুনিক ভারত গঠনের আহ্বান, সনাতন ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তার রূপরেখা মিলল প্রবন্ধে

    Samrajya Diwas: শিবাজির আদর্শেই আধুনিক ভারত গঠনের আহ্বান, সনাতন ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তার রূপরেখা মিলল প্রবন্ধে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্রপতি শিবাজি মহারাজকে (Shivaji Maharaj) শুধু একজন ঐতিহাসিক যোদ্ধা বা মারাঠা সাম্রাজ্যের (Samrajya Diwas) প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে নয়, বরং ভারতীয় সভ্যতার পুনর্জাগরণের অন্যতম প্রধান প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে এক প্রবন্ধে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, গত তিনশো বছরে ভারত যে কয়েকজন অনন্য সাধারণ শাসক দেখেছে, তাঁদের মধ্যে শিবাজি মহারাজ অন্যতম। লেখাটিতে তাঁর জীবন, প্রশাসন, সামরিক কৌশল, সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ এবং সনাতন ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তাকে বর্তমান সমাজের জন্য অনুসরণীয় মডেল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

    ‘হিন্দবী স্বরাজ্যে’র ধারণা প্রতিষ্ঠা (Samrajya Diwas)

    প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, শিবাজির আবির্ভাবের বহু আগেই মহারাষ্ট্রের বহু সাধু-সন্ত তাঁর আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। লেখকের দাবি, মুঘল শাসনের সময় হিন্দু সমাজ দীর্ঘদিন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় নিপীড়নের মুখোমুখি হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে শিবাজি হিন্দু সমাজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনেন এবং ‘হিন্দবী স্বরাজ্যে’র ধারণা প্রতিষ্ঠা করেন। প্রবন্ধে বলা হয়েছে, শিবাজির সবচেয়ে বড় অবদান ছিল মানুষের মানসিক দাসত্ব ভেঙে দেওয়া। বহু স্থানীয় হিন্দু শাসক বিদেশি সুলতানদের অধীনে ক্ষমতার লড়াইয়ে ব্যস্ত থাকলেও, শিবাজি স্বাধীন ও স্বশাসিত রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখান। তাঁর নেতৃত্বে স্বাধীনতা সংগ্রাম কেবল শাসক পরিবর্তনের আন্দোলন ছিল না, বরং নিজস্ব সংস্কৃতি, ধর্ম ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলনে পরিণত হয়।

    শিবাজি এক দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক

    ওই প্রবন্ধে আরও দাবি করা হয়েছে, মুঘল আমলে নারী নির্যাতন, প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠন এবং একের পর এক হিন্দু মন্দির ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছিল। এই প্রেক্ষাপটে শিবাজির সংগ্রামকে সাংস্কৃতিক আত্মমর্যাদা রক্ষার লড়াই হিসেবেই ব্যাখ্যা করা হয়েছে ওই প্রবন্ধে। সেখানে (Samrajya Diwas) শিবাজিকে একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবেও তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, তিনি ভৌগোলিক বাস্তবতা অনুযায়ী নতুন সামরিক কৌশল প্রয়োগ করেন, দুর্গকেন্দ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলেন এবং ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শক্তির সম্ভাব্য সামুদ্রিক হুমকি উপলব্ধি করে শক্তিশালী নৌবাহিনী তৈরি করেন। লেখকের মতে, ভারতীয় নৌবাহিনীর ভিত্তি নির্মাণেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। প্রশাসনিক সংস্কারের ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। লেখায় বলা হয়েছে, তিনি প্রশাসনে ফার্সির পরিবর্তে সংস্কৃত ব্যবহারের উদ্যোগ নেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন, এবং ন্যায়ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন। নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর অবস্থান এবং রাজধর্ম পালনের নীতিকেও আদর্শ শাসনের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

    সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ

    সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের প্রসঙ্গে প্রবন্ধে বলা হয়েছে, শিবাজির কাছে ভূমি কেবল কর আদায়ের ক্ষেত্র ছিল না, বরং তা ছিল পবিত্র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। তিনি বিভিন্ন মন্দির সংস্কার, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে সাহায্য এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণে উদ্যোগী হয়েছিলেন। গোয়ার সপ্তকোটেশ্বর, অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীশৈলম এবং তামিলনাড়ুর সমুদ্রতীরবর্তী কয়েকটি মন্দির পুনর্নির্মাণে তাঁর ভূমিকা ছিল (Samrajya Diwas) গুরুত্বপূর্ণ। প্রবন্ধে বাবরের সময় অযোধ্যার রামজন্মভূমি, আওরঙ্গজেবের আমলে কাশী বিশ্বনাথ ও মথুরার মন্দির ধ্বংসের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, শিবাজি সাংস্কৃতিক পুনর্গঠনকে রাষ্ট্ররক্ষার অংশ হিসেবে দেখতেন। এই অংশে বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থ ও বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উদ্ধৃতিরও উল্লেখ রয়েছে (Shivaji Maharaj)।

    জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা

    লেখাটিতে সমকালীন সমাজের জন্যও একাধিক সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—নিজস্ব ইতিহাস পুনর্লিখন ও গবেষণার প্রসার, শিক্ষা ব্যবস্থায় ভারতীয় সভ্যতার অবদানকে গুরুত্ব দেওয়া, মন্দির ও ঐতিহ্যবাহী কাঠামো সংরক্ষণ, সামাজিক ঐক্য বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরতা, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং যুবসমাজকে রাজনৈতিক, আইনি ও প্রযুক্তিগত দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করা। প্রবন্ধে বলা হয়েছে, শিবাজির শাসনব্যবস্থা জাতপাতের ঊর্ধ্বে উঠে সমাজের বিভিন্ন সম্প্রদায়কে একত্রিত (Samrajya Diwas) করেছিল। বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলেছিলেন। লেখকের মতে, বর্তমান সমাজেও অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য দূর করে সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

    সনাতন ধর্মের আদর্শে দীক্ষিত শিবাজি

    সবশেষে লেখাটিতে দাবি করা হয়েছে, শিবাজির জীবন ও আদর্শ কেবল ইতিহাসের অংশ নয়, বরং আধুনিক রাষ্ট্র গঠন, সুশাসন, নৈতিক নেতৃত্ব, সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয় এবং সামাজিক সংহতির ক্ষেত্রেও একটি কার্যকর দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। প্রবন্ধের উপসংহারে শিবাজিকে সনাতন ধর্মের আদর্শে পরিচালিত এক দূরদর্শী শাসক হিসেবে (Shivaji Maharaj) উল্লেখ করে তাঁর চিন্তাধারাকে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রাসঙ্গিক বলে (Samrajya Diwas) অভিহিত করা হয়েছে।

     

  • FCRA 2026: বিদেশি অনুদানে ধর্মান্তরণে নিষেধাজ্ঞা, এনজিওগুলির উপর নজরদারি আরও কড়া করল কেন্দ্র

    FCRA 2026: বিদেশি অনুদানে ধর্মান্তরণে নিষেধাজ্ঞা, এনজিওগুলির উপর নজরদারি আরও কড়া করল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিদেশি অনুদানের ব্যবহার নিয়ে নজরদারি আরও কঠোর করতে বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) আইন (FCRA)-এর অধীনে নতুন সংশোধিত বিধি জারি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা এই নতুন নিয়মে প্রথমবার স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, বিদেশি অনুদান কোনওভাবেই ধর্মান্তরণ-সংক্রান্ত কার্যকলাপে ব্যবহার করা যাবে না। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য বিদেশি অনুদানের ব্যবহারে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জাতীয় নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, কিছু বিদেশি অর্থপুষ্ট বেসরকারি সংস্থা (NGO), ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং মিশনারি সংগঠন সমাজসেবা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার আড়ালে ধর্মান্তরণের কাজে বিদেশি অনুদান ব্যবহার করছে। বিভিন্ন তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপের পর কেন্দ্র এফসিআরএ-র নিয়ম আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    এফসিআরএ (FCRA)-র ইতিহাস

    বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) আইন (Foreign Contribution (Regulation) Act) প্রথম চালু হয় ১৯৭৬ সালে। উদ্দেশ্য ছিল, বিদেশি অর্থ যাতে দেশের রাজনীতি, সামাজিক কাঠামো বা জাতীয় স্বার্থকে প্রভাবিত করতে না পারে। ২০১০ সালে আইনটি সংশোধিত হয়। এরপর ২০২০ এবং ২০২৬ সালে আরও গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন আনা হয়েছে। বর্তমানে বিদেশি অনুদান গ্রহণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে নিবন্ধন করতে হয়। এই নিবন্ধনের মেয়াদ পাঁচ বছর এবং পরে তা নবীকরণ করতে হয়।

    নিবন্ধনের সময় জানাতে হবে উদ্দেশ্য ও কাজের ক্ষেত্র

    সেবা ইন্টারন্যাশনালের জাতীয় কোষাধ্যক্ষ রাকেশ মিত্তলের দাবি, নতুন সংশোধনের ফলে বিদেশি অনুদান গ্রহণকারী সংস্থাগুলির কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ হবে। এখন থেকে নিবন্ধন বা নবীকরণের আবেদন করার সময় সংস্থাকে স্পষ্টভাবে জানাতে হবে কোন উদ্দেশ্যে বিদেশি অনুদান নেওয়া হচ্ছে এবং কোন রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সেই অর্থ ব্যয় করা হবে। যেসব সংস্থার ইতিমধ্যেই এফসিআরএ নিবন্ধন রয়েছে, তাদেরও এক বছরের মধ্যে নিজেদের ঘোষিত উদ্দেশ্য নতুন নিয়ম অনুযায়ী হালনাগাদ করে কেন্দ্রকে জানাতে হবে।

    পাঁচটি প্রধান বিভাগে ভাগ করা হয়েছে কার্যক্রম

    সংশোধিত নিয়মে বিদেশি অনুদানে পরিচালিত কার্যক্রমকে পাঁচটি প্রধান বিভাগে ভাগ করা হয়েছে— ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, সামাজিক, শিক্ষামূলক, অর্থনৈতিক। এর অধীনে একাধিক উপ-বিভাগও নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষামূলক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ২২টি উপ-শ্রেণি রাখা হয়েছে। তবে সংবিধান, মৌলিক অধিকার, মৌলিক কর্তব্য ও নাগরিক সচেতনতা সংক্রান্ত কর্মসূচি পরিচালনা করতে হলে তা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক হতে হবে। সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে ১৮টি উপ-শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভারতীয় ঐতিহ্যভিত্তিক সমকালীন শিল্পকলার প্রসারের অনুমতি থাকলেও রাজনৈতিক বা মতাদর্শভিত্তিক বিষয়বস্তু নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

    ধর্মীয় কার্যক্রমে ধর্মান্তরণে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা

    নতুন সংশোধনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ধর্মীয় কার্যক্রমের স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ। ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিক শিক্ষা, সৎসঙ্গ, ধর্মীয় আলোচনা, ধ্যান শিবির, ধর্মীয় সাহিত্য প্রকাশ, উপাসনালয় নির্মাণ এবং তীর্থযাত্রীদের সুবিধা প্রদানের মতো কার্যক্রমের অনুমতি থাকলেও, নিয়মে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে ধর্মান্তরণ-সংক্রান্ত কোনও কার্যকলাপ বিদেশি অনুদানে করা যাবে না।

    বিদেশি নাগরিক থাকলে নিবন্ধনে কড়াকড়ি

    নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনও সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে বিদেশি নাগরিক থাকলে সাধারণভাবে সেই সংস্থাকে এফসিআরএ নিবন্ধন দেওয়া হবে না। এছাড়া বিদেশি অনুদানের পরবর্তী কিস্তি পাওয়ার আগে আগের প্রাপ্ত অর্থের অন্তত ৭৫ শতাংশ নির্ধারিত উদ্দেশ্যে ব্যয় হয়েছে বলে দেখাতে হবে। সংস্থাগুলিকে তাদের ওয়েবসাইট, সামাজিক মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট, প্রকাশনা এবং ট্রাস্টি, পরিচালক, অংশীদার ও অন্যান্য দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের তথ্যও সরকারকে জানাতে হবে। ফলে পরিচালনাকারী ব্যক্তিদের আইনগত জবাবদিহিও বাড়বে।

    সরকারের লক্ষ্য কী?

    সেবা ভারতীর জাতীয় সম্পাদক রমেন্দ্র সিংয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন নিয়মের উদ্দেশ্য বিদেশি অনুদানের ব্যবহারে আরও স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা। সরকারের মতে, বিদেশি অনুদান শুধুমাত্র যে উদ্দেশ্যে অনুমোদিত হয়েছে, সেই কাজেই ব্যবহার করা উচিত।

    কত সংস্থার লাইসেন্স বাতিল হয়েছে?

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সাল থেকে বিভিন্ন নিয়ম লঙ্ঘন এবং বাধ্যতামূলক বার্ষিক রিপোর্ট জমা না দেওয়ার অভিযোগে প্রায় ২১,৯৩৩টি এনজিওর এফসিআরএ লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে অথবা তাদের নবীকরণের আবেদন খারিজ হয়েছে। ফলে এসব সংস্থা আর বিদেশি অনুদান গ্রহণ করতে পারে না।

    একাধিক সংস্থা তদন্তের মুখে

    গত কয়েক বছরে বিদেশি অনুদান ব্যবহারের অভিযোগে একাধিক সংস্থা তদন্তের মুখে পড়েছে। ২০১৬-১৭ সালে মার্কিন সংস্থা কমপ্যাশন ইন্টারন্যাশনাল (Compassion International)-এর সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের এফসিআরএ নবীকরণ আটকে দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এছাড়া ওয়ার্ল্ড ভিসন ইন্ডিয়া (World Vision India) এবং গসপেল ফর এশিয়া (Gospel for Asia)-সহ একাধিক বিদেশি অর্থপুষ্ট সংস্থার আর্থিক লেনদেনও তদন্তের আওতায় আসে। ২০২১ সালে মাদার টেরেসা প্রতিষ্ঠিত Missionaries of Charity-র FCRA নবীকরণও সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। পরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়। সম্প্রতি, ২০২৬ সালের জুনে বেঙ্গালুরু পুলিশ মার্কিন মিশনারি সংস্থা দ্য টিমোথি ইনিসিয়েটিভ (The Timothy Initiative)-র বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, বৈধ এফসিআরএ নিবন্ধন ছাড়াই বিদেশি অনুদান গ্রহণ এবং মিশনারি কার্যক্রমে তা ব্যবহারের অভিযোগে ৯২ কোটিরও বেশি টাকার লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    আরও কঠোর নজরদারির পথে কেন্দ্র

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের সংশোধিত এফসিআরএ বিধি ভারতের বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে চলেছে। প্রথমবার ধর্মান্তরণকে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ কার্যকলাপ হিসেবে চিহ্নিত করার পাশাপাশি বিদেশি অনুদানের উদ্দেশ্য, ব্যবহার, কার্যপরিধি এবং সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জবাবদিহি সম্পর্কেও বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এর ফলে বিদেশি অনুদান গ্রহণকারী সংস্থাগুলিকে ভবিষ্যতে আরও কঠোর নিয়মের আওতায় কাজ করতে হবে।

  • Mahesh Dixit IPS: দেশের নতুন গোয়েন্দা প্রধান মহেশ দীক্ষিত, এই দুঁদে আইপিএসকে কেন বেছে নিল কেন্দ্র?

    Mahesh Dixit IPS: দেশের নতুন গোয়েন্দা প্রধান মহেশ দীক্ষিত, এই দুঁদে আইপিএসকে কেন বেছে নিল কেন্দ্র?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (আইবি)-র পরবর্তী ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ পেলেন প্রবীণ আইপিএস অফিসার মহেশ দীক্ষিত। বর্তমানে আইবির স্পেশাল ডিরেক্টর পদে কর্মরত দীক্ষিত বিদায়ী ডিরেক্টর তপন কুমার ডেকা-র স্থলাভিষিক্ত হবেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্যাবিনেটের অ্যাপয়েন্টমেন্টস কমিটি (ACC) তাঁর নিয়োগে অনুমোদন দিয়েছে।

    কেন্দ্রের নির্দেশে কী বলা হয়েছে?

    কেন্দ্রীয় কর্মীবর্গ ও প্রশিক্ষণ দফতরের (DoPT) জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, মহেশ দীক্ষিতকে পরিষেবার মেয়াদ বাড়িয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে দুই বছরের জন্য, অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই পদে বহাল থাকবেন। সরকারি নির্দেশে জানানো হয়েছে, এফআর ৫৬(ডি) এবং অল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস (ডেথ-কাম-রিটায়ারমেন্ট বেনিফিটস) রুলস, ১৯৫৮-এর রুল ১৬(১এ)-এর বিধান অনুযায়ী তাঁর চাকরির মেয়াদ বাড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি আইবি-র ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন। বর্তমান আইবি প্রধান তপন কুমার ডেকার কার্যকালের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩০ জুন। তাঁর উত্তরসূরি হিসেবেই দীক্ষিতের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।

    কে এই মহেশ দীক্ষিত?

    মহেশ দীক্ষিত ১৯৯৩ ব্যাচের ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস (IPS)-র কর্মকর্তা। তিনি তেলঙ্গানা ক্যাডারের অফিসার হলেও দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। বিশেষ বিষয় হল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পেশায় যোগ দেওয়ার আগে তিনি চিকিৎসক (Medical Doctor) হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। পরে চিকিৎসা পেশা ছেড়ে সিভিল সার্ভিসে যোগ দিয়ে আইপিএস হন।

    দীর্ঘ গোয়েন্দা অভিজ্ঞতা

    তিন দশকেরও বেশি কর্মজীবনে মহেশ দীক্ষিত সন্ত্রাসবাদ দমন, জাতীয় নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ সংক্রান্ত একাধিক সংবেদনশীল দায়িত্ব সামলেছেন। নিরাপত্তা মহলে তাঁকে অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও দক্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিসেবে গণ্য করা হয়। আইবির সদর দফতরে স্পেশাল ডিরেক্টর হওয়ার আগে তিনি জম্মু ও কাশ্মীরে সাবসিডিয়ারি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (SIB)-র প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময় উপত্যকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বলে মনে করা হয়।

    অনুচ্ছেদ ৩৭০ প্রত্যাহারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

    মহেশ দীক্ষিতের কর্মজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ২০১৯ সালের আগস্টে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ প্রত্যাহারের সময়কার দায়িত্ব। সেই সময় গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সম্ভাব্য অশান্তি মোকাবিলায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। প্রশাসনিক পরিবর্তনের সময় গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে তাঁর অবদান ছিল তাৎপর্যপূর্ণ।

    জি-২০ বৈঠকের নিরাপত্তার দায়িত্বেও ছিলেন

    ২০২৩ সালে শ্রীনগরে অনুষ্ঠিত জি-২০ ট্যুরিজম ওয়ার্কিং গ্রুপ-এর বৈঠক ছিল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষ্ঠান। সেই সম্মেলনকে ঘিরে গোয়েন্দা নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সামলেছিলেন মহেশ দীক্ষিত।

    গত বছর হয়েছিলেন আইবির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদাধিকারী

    ২০২৫ সালে মহেশ দীক্ষিতকে আইবির স্পেশাল ডিরেক্টর পদে উন্নীত করা হয়। এই পদটি সংস্থার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই থেকেই তিনি আইবির শীর্ষ নেতৃত্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন। এবার সংস্থার সর্বোচ্চ পদে বসে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সাইবার হুমকি, আন্তঃসীমান্ত অনুপ্রবেশ এবং অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেবেন তিনি।

    কেন এই নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ?

    ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। সীমান্ত সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ, সাইবার অপরাধ, উগ্রপন্থা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের দায়িত্ব এই সংস্থার উপরেই বর্তায়। এই পরিস্থিতিতে কাশ্মীর-সহ একাধিক সংবেদনশীল এলাকায় দীর্ঘ মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, গোয়েন্দা কার্যক্রমে দক্ষতা এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই মহেশ দীক্ষিতকে আইবির নতুন ডিরেক্টর হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক মহলের ধারণা।

  • UPSC uses AI: প্রথমবার এআই ব্যবহার করে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থীদের যাচাই, প্রিলিমসের আগেই ৫৬৯ অযোগ্য আবেদন বাতিল করল ইউপিএসসি

    UPSC uses AI: প্রথমবার এআই ব্যবহার করে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থীদের যাচাই, প্রিলিমসের আগেই ৫৬৯ অযোগ্য আবেদন বাতিল করল ইউপিএসসি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রীয় লোকসেবা কমিশন (UPSC) প্রথমবারের মতো সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার (CSE) আবেদন যাচাইয়ের পর্যায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে অযোগ্য প্রার্থীদের চিহ্নিত করেছে। এই উদ্যোগের ফলে ২০২৬ সালের সিভিল সার্ভিস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার আগে ৫৬৯টি আবেদন বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া আবেদনগুলির মধ্যে ছিল একাধিকবার জমা দেওয়া আবেদন এবং নির্ধারিত প্রচেষ্টার সীমা অতিক্রম করা প্রার্থীদের আবেদন।

    পূজা খেডকর বিতর্কের পর কঠোর নজরদারি

    ইউপিএসসি-র এই পদক্ষেপ এসেছে প্রাক্তন আইএএস প্রশিক্ষণার্থী পূজা খেড়কর-কে ঘিরে বিতর্কের প্রায় দুই বছর পর। ২০২৪ সালে অভিযোগ ওঠে যে তিনি নিজের ও তাঁর বাবা-মায়ের নাম পরিবর্তন করে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন, যদিও তিনি ইতিমধ্যেই অনুমোদিত প্রচেষ্টার সংখ্যা শেষ করে ফেলেছিলেন। পরে UPSC তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করে এবং তাঁকে পরিষেবা থেকে বরখাস্ত করা হয়। এর আগে সাধারণত এই ধরনের যাচাই-বাছাই সাক্ষাৎকার পর্বে, অর্থাৎ প্রিলিমস ও মেইনস উত্তীর্ণ হওয়ার পর করা হতো। তবে এ বছর কমিশন আবেদন জমার পরপরই যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়।

    এআই ও আধারভিত্তিক যাচাই

    ২০২৬ সালের সিভিল সার্ভিস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য মোট ৮.১৮ লক্ষ প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৫.৪৯ লক্ষ পরীক্ষায় অংশ নেন। গত বছরের ৯.৫ লক্ষ আবেদনকারীর তুলনায় এ বছর সংখ্যা কিছুটা কম। সূত্রের মতে, নতুন যাচাই পদ্ধতি এই হ্রাসের অন্যতম কারণ হতে পারে। কমিশন এ বছর একটি নতুন আবেদন পোর্টাল চালু করে, যেখানে আধার-ভিত্তিক পরিচয় যাচাইয়ের সুযোগ ছিল। প্রায় ৯৪ শতাংশ আবেদনকারী এই সুবিধা গ্রহণ করেন। বাকি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এআই-ভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্মতারিখ এবং ছবি মিলিয়ে ডুপ্লিকেট আবেদন শনাক্ত করা হয়। এরপর গত ১৫ বছরের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয় প্রার্থীরা বয়সসীমা বা প্রচেষ্টার সীমা অতিক্রম করেছেন কি না। এই প্রক্রিয়ায় ৫৬৯ জন সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থী এবং আরও ৬৯ জন ভারতীয় বন পরিষেবা (IFS) পরীক্ষার আবেদনকারীকে অযোগ্য বলে চিহ্নিত করা হয়।

    সংরক্ষণ শ্রেণি পরিবর্তনও খতিয়ে দেখা হয়েছে

    ইউপিএসসিতে এআই-এর সাহায্যে পরীক্ষা করেছে, কোনও প্রার্থী পূর্ববর্তী আবেদনের তুলনায় সামাজিক শ্রেণি (Category) পরিবর্তন করেছেন কি না। তদন্তে দেখা যায়, ৪৩,৪৯৭ জন আবেদনকারী আগেরবারের তুলনায় ভিন্ন ক্যাটাগরি নির্বাচন করেছেন। তাঁদের ই-মেইলের মাধ্যমে নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য যোগাযোগ করা হয়। অনেক প্রার্থী জানান, সময়মতো প্রয়োজনীয় শংসাপত্র না পাওয়ায় তাঁরা আগে সাধারণ (General) শ্রেণিতে আবেদন করেছিলেন। তবে যাচাই শেষে ১৩৩টি আবেদন বাতিল করা হয়, কারণ সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা তাঁদের বর্তমান শ্রেণির নির্ধারিত প্রচেষ্টার সীমা অতিক্রম করেছিলেন।

    প্রযুক্তির লক্ষ্য ন্যায্যতা নিশ্চিত করা

    ইউপিএসসি-র চেয়ারম্যান অজয় কুমার বলেন, “প্রযুক্তির উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ন্যায্যতা নিশ্চিত করা। এ বছর UPSC প্রিলিমসের আবেদন পর্যায়েই ডি-ডুপ্লিকেশন প্রক্রিয়া চালিয়েছে, যাতে প্রকৃত প্রার্থীদের সঠিকভাবে শনাক্ত করা যায় এবং জাল বা একাধিক আবেদন প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।” তিনি আরও বলেন, “প্রতিটি প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে ইউপিএসসি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এবং প্রযুক্তি সেই লক্ষ্য পূরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি।”

  • Emergency History: জরুরি অবস্থা নিয়ে নবম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে অধ্যায়, গণতন্ত্রের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরল এনসিইআরটি

    Emergency History: জরুরি অবস্থা নিয়ে নবম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে অধ্যায়, গণতন্ত্রের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরল এনসিইআরটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় পাঁচ দশক আগে ভারতে জারি হওয়া জরুরি অবস্থা নিয়ে প্রথমবারের মতো নবম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে বিস্তারিত আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করল ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (NCERT)। নতুন সোশ্যাল সায়েন্স বই ‘Understanding Society: India and Beyond’-এ জরুরি অবস্থাকে ভারতীয় গণতন্ত্রের সামনে আসা অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বইটিতে উল্লেখ (Emergency History) করা হয়েছে, ওই সময় দেশের অধিকাংশ মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights) স্থগিত করা হয়েছিল এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। এনসিইআরটির এক আধিকারিক জানান, নবম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে এই প্রথম জরুরি অবস্থা নিয়ে আলাদা অংশ যুক্ত করা হয়েছে। ১৯৭৫ সালে জরুরি অবস্থা ঘোষণার ৫০ বছর পূর্তির প্রেক্ষাপটে এই অন্তর্ভুক্তি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধারণা সংশ্লিষ্ট মহলের।

    জরুরি অবস্থা ও গণতন্ত্রের ওপর প্রভাব (Emergency History)

    নতুন পাঠ্যবইয়ের সংশ্লিষ্ট অংশে বলা হয়েছে, “ভারতে গণতন্ত্রের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছিল ১৯৭৫-৭৭ সালের জরুরি অবস্থার সময়। ১৯৭০-এর গোড়ার দিকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর (Indira Gandhi) নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছিল। বেকারত্ব বৃদ্ধি, মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় তুমুল বিক্ষোভ দেখা দেয়।” বইটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৭৫ সালের জুন মাসে ‘অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা’র কারণ দেখিয়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। এই সময় অধিকাংশ মৌলিক অধিকার স্থগিত করা হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের ওপর সেন্সরশিপ আরোপ করা হয় এবং বহু রাজনৈতিক নেতা ও সমাজকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। ফলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলি তীব্র চাপে পড়ে এবং নাগরিক স্বাধীনতা ব্যাপকভাবে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়।

    জয়প্রকাশ নারায়ণের আন্দোলন

    পাঠ্যবইয়ে (NCERT) জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলনে বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেছিলেন জয়প্রকাশ নারায়ণ। তাঁর (Jayaprakash Narayan) ভূমিকাও বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘লোকনায়ক’ নামে পরিচিত এই সমাজতান্ত্রিক চিন্তাবিদ ও রাজনৈতিক নেতা ছাত্র-যুব এবং সাধারণ নাগরিকদের সংগঠিত করেছিলেন। বিশেষ করে বিহার ও গুজরাটে তাঁর নেতৃত্বে গণআন্দোলন গড়ে ওঠে। বইটিতে আরও বলা হয়েছে, ১৯৭৭ সালে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হয় এবং সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পায়। সেই নির্বাচনে তৎকালীন শাসক দলের পরাজয় ভারতীয় গণতন্ত্রের শক্তি ও জনগণের মতামতের গুরুত্বকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে (Emergency History)।

    গণতন্ত্রের সামনে অন্যান্য চ্যালেঞ্জও আলোচনায়

    জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গটি বৃহত্তর একটি অধ্যায়ের অংশ, যেখানে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার শক্তি এবং বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বইটিতে ভুয়ো খবর, বিভ্রান্তিকর তথ্য, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি, জননিয়ম লঙ্ঘন, দারিদ্র্য, আঞ্চলিকতাবাদ, সামাজিক বৈষম্য এবং লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যকে গণতান্ত্রিক চর্চার সামনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    নতুন বিভাগ

    নয়া সংস্করণের বইয়ে প্রথমবারের মতো ‘ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইউ’ (Democracy and You) নামে একটি বিশেষ বিভাগ যুক্ত করা হয়েছে। এনসিইআরটির মতে, এই অংশের লক্ষ্য হল শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের পাঠের সঙ্গে বাস্তব জীবনের নাগরিক দায়িত্ব ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের সম্পর্ক বোঝানো। এর মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের ভূমিকা সম্পর্কে আরও সচেতন হতে পারবে।

    গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের ওপর জোর

    সংশোধিত পাঠ্যবইয়ে ভারতের দীর্ঘ গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রাচীন ভারতীয় সমাজে গণতান্ত্রিক চর্চার উল্লেখ করে দেখানো হয়েছে, কীভাবে সেই ঐতিহ্য বর্তমান শাসনব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত (Emergency History)। এছাড়া গণতন্ত্রে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে একটি পৃথক অধ্যায়ও রাখা হয়েছে। সেখানে সংবাদমাধ্যমকে ‘গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ’ (Fourth Pillar of Democracy) হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। জনসাধারণের সমস্যাকে সামনে আনা, সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে (NCERT)।

    বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে ভারতের পরিসংখ্যান

    ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ব্যাপ্তি বোঝাতে বইটিতে বিভিন্ন তথ্য ও পরিসংখ্যানও দেওয়া হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে দেশে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ছিল ৯৬.৮ কোটিরও বেশি। দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা বিপুল সংখ্যক ভোটকেন্দ্র এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের কাঠামোর কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

    তৃণমূল স্তরের গণতন্ত্র ও নারীদের অংশগ্রহণ

    পাঠ্যবইয়ের এই অধ্যায়ে তৃণমূল স্তরের গণতন্ত্রের বাস্তব উদাহরণ হিসেবেও কয়েকটি কেস স্টাডি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গুজরাটের একটি পঞ্চায়েত এবং ত্রিপুরার মহিলা-বান্ধব পঞ্চায়েতের উদাহরণের মাধ্যমে স্থানীয় শাসন ব্যবস্থায় নাগরিকদের অংশগ্রহণের বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে (Emergency History)। এছাড়া নারীদের ভোটাধিকার, স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থাগুলিতে সংরক্ষণ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ নিয়েও একটি পৃথক অংশ রাখা হয়েছে (NCERT)। এর মাধ্যমে নারী প্রতিনিধিত্ব ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের গুরুত্ব তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে (Emergency History)।

  • Kamakhya Temple Reopens: চারদিন পর শুক্রবার ভোরে খুলল কামাখ্যা মন্দিরের দ্বার, অম্বুবাচী শেষে নীলাচলে লাখো ভক্তের ঢল

    Kamakhya Temple Reopens: চারদিন পর শুক্রবার ভোরে খুলল কামাখ্যা মন্দিরের দ্বার, অম্বুবাচী শেষে নীলাচলে লাখো ভক্তের ঢল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চারদিনের প্রতীক্ষার অবসান। অম্বুবাচী মহাযোগের সমাপ্তির পর শুক্রবার ভোর থেকে পুনরায় ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হল অসমের অন্যতম শক্তিপীঠ কামাখ্যা মন্দিরের দ্বার। এদিন ভোরে দেবীর নিত্যপুজো সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই সাধারণ ভক্তদের দর্শনের জন্য মন্দিরের মূল প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই নীলাচল পাহাড়ে শুরু হয় দেশ-বিদেশ থেকে আগত লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর ভিড়।

    অম্বুবাচী মহাযোগের নিবৃত্তি

    গত ২২ জুন রাত ৯টা ৮ মিনিট ২২ সেকেন্ডে অম্বুবাচী মহাযোগের সূচনা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কামাখ্যা মন্দিরের দ্বার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। প্রাচীন রীতি অনুযায়ী টানা তিন দিন, অর্থাৎ ২৫ জুন পর্যন্ত মন্দিরে সাধারণ দর্শন ও পুজো সম্পূর্ণরূপে বন্ধ ছিল। ২৫ জুন রাতে অম্বুবাচীর নিবৃত্তির পর বিশেষ আচার-অনুষ্ঠান এবং নিত্যপূজা সম্পন্ন করে শুক্রবার সকাল থেকে আবার ভক্তদের জন্য মন্দিরের দরজা খুলে দেওয়া হয়।

    নীলাচল পাহাড়ে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়

    অম্বুবাচী উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও নীলাচল পাহাড়ে ভক্তদের ঢল নামে। অসমের বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও দেশের নানা রাজ্য এবং বিদেশ থেকেও অসংখ্য সাধু-সন্ন্যাসী, তপস্বী, অঘোরী, সন্ন্যাসী ও সাধারণ ভক্ত মা কামাখ্যার আশীর্বাদ লাভের উদ্দেশ্যে উপস্থিত হন। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই মন্দিরে প্রবেশের জন্য দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় হাজার হাজার পুণ্যার্থীকে। এই সময় নীলাচল পাহাড় কার্যত এক বিশাল আধ্যাত্মিক মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সাধু-সন্ন্যাসীদের বিচিত্র বেশভূষা, ধর্মীয় আচার এবং ভক্তদের ভিড় উৎসবের আবহকে আরও গাঢ় করে তোলে।

    কেন চারদিন বন্ধ থাকে কামাখ্যা মন্দির?

    হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অম্বুবাচীর সময় ধরিত্রী বা বসুমতী রজস্বলা হন। সেই বিশ্বাসের কারণেই এই কয়েকদিন কামাখ্যা মন্দিরের দরজা বন্ধ রাখা হয় এবং দেবীর নিয়মিত পূজাও স্থগিত থাকে। শুধু কামাখ্যা মন্দিরই নয়, অসমের বহু মঠ, মন্দির এবং নামঘরেও এই সময় পূজা-অর্চনা করা হয় না। কৃষিকাজের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিধিনিষেধ। হালচাষ, জমি কোপানো বা মাটি খোঁড়ার মতো কাজ এই কয়েকদিন বন্ধ রাখা হয়। অসমের বহু মানুষ এই সময়কে ‘সাত’ বা ‘আমতি’ হিসেবে পালন করেন। অম্বুবাচীর নিবৃত্তির দিন বাড়িঘর পরিষ্কার করা, কাপড় ধোয়া এবং শুচিতা পালনের পরেই আবার মন্দির ও নামঘরে নিয়মিত পূজা শুরু হয়।

    আধ্যাত্মিক শক্তি লাভের বিশেষ বিশ্বাস

    ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অম্বুবাচী মহাযোগের সময় মা কামাখ্যার আরাধনা করলে বিশেষ আধ্যাত্মিক শক্তি এবং দেবীর আশীর্বাদ লাভ করা যায়। সেই কারণেই প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত এই সময় কামাখ্যা ধামে এসে উপস্থিত হন। শক্তি উপাসকদের কাছে এই উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম।

    রাজ্যপালের শুভেচ্ছা

    কামাখ্যা মন্দির পরিদর্শন করে অসমের রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্য বলেন, “এই শুভ অনুষ্ঠানের উপলক্ষে আমি রাজ্যবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে লক্ষ লক্ষ মানুষ মা কামাখ্যার দর্শনে এসেছেন এবং তাঁর আশীর্বাদ গ্রহণ করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দর্শনার্থীদের জন্য অত্যন্ত সুসংগঠিত ব্যবস্থা করা হয়েছে।”

    মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বার্তা

    অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাও সামাজিক মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখেন, “পবিত্র অম্বুবাচী মহাযোগের সমাপ্তির পর আজ পুনরায় ভক্তদের জন্য খুলে গেল মা কামাখ্যা ধামের পবিত্র দ্বার। নীলাচল পাহাড়ে আবার অনুভূত হল আদ্যাশক্তির অপরিসীম মহিমা ও আধ্যাত্মিক শক্তির স্পন্দন। এই শুভক্ষণে মা কামাখ্যার শ্রীচরণে সকলের সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করছি। কামাখ্যা ধাম অসমের ঐতিহ্যে নারীশক্তির কেন্দ্রীয় প্রতীক। গত কয়েকদিনে ৮ লক্ষেরও বেশি ভক্ত এই অনন্য ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ করেছেন।”

    ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও ভক্তির এক মহামিলন

    অম্বুবাচী মহাযোগ শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি অসমের সংস্কৃতি, শাক্ত উপাসনা এবং নারীশক্তির প্রতীকী উদযাপন হিসেবেও বিবেচিত হয়। প্রতিবছরের মতো এ বছরও লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগমে নীলাচল পাহাড় সাক্ষী থাকল এক অনন্য আধ্যাত্মিক আবহের। মন্দিরের দ্বার পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভক্তদের প্রার্থনা, আরতি এবং ‘জয় মা কামাখ্যা’ ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা কামাখ্যা ধাম।

  • ABHIGYAN App: মাত্র ৩৫ সেকেন্ডে অপরাধী শনাক্তকরণে ভারতের নতুন ডিজিটাল অস্ত্র ‘অভিজ্ঞান’

    ABHIGYAN App: মাত্র ৩৫ সেকেন্ডে অপরাধী শনাক্তকরণে ভারতের নতুন ডিজিটাল অস্ত্র ‘অভিজ্ঞান’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করল ভারত। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) সম্প্রতি চালু করেছেন অভিজ্ঞান (ABHIGYAN App) নামের একটি অত্যাধুনিক মোবাইল অ্যাপ, যা মাত্র ৩৫ সেকেন্ডের মধ্যে আঙুলের ছাপ মিলিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম। এই প্রযুক্তি ভারতের পুলিশি তদন্ত ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত, নির্ভুল এবং আধুনিক করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে খুব অল্প সময়ের মধ্যে অপরাধ-সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য পেতে সাহায্য করবে। এটি শুধু তদন্তের গতিই বাড়াবে না, বরং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে উন্নততর সমন্বয় সাধনেও সাহায্য করবে।

    অভিজ্ঞান অ্যাপ কী?

    অভিজ্ঞা(ABHIGYAN App)  হলো আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে সহায়তা করার জন্য নির্মিত একটি উন্নত ডেটা-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো অপরাধ-সম্পর্কিত তথ্যের একটি একক উৎস প্রদান করা। আগে বিভিন্ন বিভাগ ও ডেটাবেসে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তথ্য খুঁজে বের করতে অনেক সময় লাগত, কিন্তু এখন অভিজ্ঞানের মাধ্যমে এই তথ্য সহজেই এক জায়গা থেকে পাওয়া যাবে। এই প্ল্যাটফর্মটি আঙুলের ছাপের রেকর্ড, অপরাধীদের প্রোফাইল, মানব পাচার নেটওয়ার্ক এবং অপরাধ-সম্পর্কিত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করবে। এই অ্যাপটি তদন্তকারীদের দ্রুত মামলাটি সমাধানে সাহায্য করার জন্য বিপুল পরিমাণ ডেটা বিশ্লেষণও করে। এই অ্যাপটির ডেমোতে দেখানো হয়েছে যে, মাত্র ৩৫ সেকেন্ডের মধ্যে ডাটাবেসের সাথে আঙুলের ছাপ মেলানো যায়।

    ফিঙ্গারপ্রিন্ট শনাক্তকরণে বড় অগ্রগতি

    অভিজ্ঞান (ABHIGYAN App) অ্যাপটি দেশের বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে একটি বিশাল জাতীয় বায়োমেট্রিক ডেটাবেসের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বর্তমানে এই ডেটাবেসে ১.২৯ কোটিরও বেশি ব্যক্তির ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংরক্ষিত রয়েছে। এর ফলে আগে যেখানে কোনো সন্দেহভাজনের পরিচয় যাচাই করতে কয়েক দিন সময় লাগত, সেখানে এখন মাত্র ৩৫ সেকেন্ডেই সেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এই অ্যাপটি সরাসরি যুক্ত রয়েছে ন্যাশনাল অটোমেটেড ফিঙ্গারপ্রিন্ট আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেমের (National Automated Fingerprint Identification System বা NAFIS) সঙ্গে। এনএএফআইএস দেশের স্বয়ংক্রিয় ফিঙ্গারপ্রিন্ট শনাক্তকরণ ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। পুলিশ স্টেশন কিংবা প্রথম পর্যায়ে কোনো ব্যক্তির আঙুলের ছাপ স্ক্যান করা হলে, অভিজ্ঞান তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় ডেটাবেসের সঙ্গে মিলিয়ে সম্ভাব্য পরিচয় খুঁজে বের করে। ফলে ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার প্রয়োজন হয় না।

    অ্যাপের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য

    • ● মাত্র কয়েক সেকেন্ডে ফিঙ্গারপ্রিন্ট মিলিয়ে শনাক্তকরণ
    • ● জাতীয় অপরাধ তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ
    • ● নতুন বায়োমেট্রিক তথ্য যুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেটাবেস সম্প্রসারণ
    • ● গ্রাউন্ড লেভেল থেকেই তদন্ত ও পুলিশি কাজে সহায়তা
    • ● ম্যানুয়াল যাচাইয়ের উপর নির্ভরতা কমানো

    তদন্তে গতি ও নির্ভুলতা বাড়বে

    দ্রুতগতিতে বাড়ছে সাইবার অপরাধ। প্রতারকরা মানুষকে টার্গেট করতে নতুন নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করে স্ক্যাম করছে। ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা এবং মানব পাচার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। অনেক ক্ষেত্রে, অপরাধ নথিভুক্ত হওয়ার পর তদন্ত প্রক্রিয়াটি এত দীর্ঘ সময় নেয় যে অপরাধীরা সহজেই পালিয়ে যেতে পারে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য দেশজুড়ে পুলিশ এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলো একটি যুগান্তকারী প্রযুক্তি পেতে চলেছে যা তাদের কাজকে উল্লেখযোগ্যভাবে সহজ করে দেবে। সরকারি সূত্রের দাবি, অভিজ্ঞান (ABHIGYAN App) অ্যাপ চালুর ফলে পুনরাবৃত্ত অপরাধী এবং অজ্ঞাত পরিচয়ের সন্দেহভাজনদের দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এতে তদন্তের গতি যেমন বাড়বে, তেমনি প্রমাণ সংগ্রহ ও মামলার নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে।

    রাস্তায় দাঁড়িয়েই অপরাধী শনাক্তকরণ

    অভিজ্ঞান অ্যাপের (ABHIGYAN App) সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি আগের চেয়ে অনেক দ্রুত তদন্ত প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে। কোনও সন্দেহভাজন তথ্য বা একটি মামলা সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে বের করার জন্য তদন্তকারীদের বিভিন্ন রেকর্ড ঘাঁটতে হবে না, এখান থেকেই সব পাবেন। এই একটিমাত্র প্ল্যাটফর্মে উপলব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে, তাঁরা দ্রুত সেই কেসটি শনাক্ত করতে পারবেন। এছাড়াও, এই প্ল্যাটফর্মটি অপরাধের ধরন বুঝতে সাহায্য করবে। ভবিষ্যতে অপরাধ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে এমন এলাকা বা কার্যকলাপ শনাক্ত করতে সাহায্য করবে। এর ফলে পুলিশ আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। এই অ্যাপটির সাহায্যে পুলিশ রাস্তায়ও যেকোনো সন্দেহভাজনের বায়োমেট্রিক তথ্য যাচাই করতে পারবে, ফলে পলাতক অপরাধীদের ধরতে আরও সহজ হবে।

    প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের দিকে ভারত

    বিশ্বজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলি ক্রমশ বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। সেই ধারায় ভারতও দ্রুত এগিয়ে চলেছে। দীর্ঘদিন ধরে ম্যানুয়াল রেকর্ড ও সময়সাপেক্ষ ফরেনসিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল পুলিশি ব্যবস্থা এখন রিয়েল-টাইম ডিজিটাল শনাক্তকরণের যুগে প্রবেশ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অ্যাপ শুধু তদন্তের সাফল্যের হারই বাড়াবে না, বরং দ্রুত পরিচয় যাচাইয়ের কারণে অপরাধপ্রবণতার বিরুদ্ধেও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট ডেটাবেস, অটোমেশন এবং মোবাইল প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি অভিজ্ঞান ভারতের প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং ব্যবস্থার এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

  • India Reopens Tourist Visas: বাংলাদেশিদের জন্য ফের চালু হচ্ছে ভারতের পর্যটন ভিসা, ২৮ জুন থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু

    India Reopens Tourist Visas: বাংলাদেশিদের জন্য ফের চালু হচ্ছে ভারতের পর্যটন ভিসা, ২৮ জুন থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ফের পর্যটন ভিসা (India Reopens Tourist Visas) চালুর কথা ঘোষণা করল ভারত। বৃহস্পতিবার ঢাকায় ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বাংলাদেশে (Bangladeshi Citizens) ভারতের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী এই খবর জানান। তিনি বলেন, “২৮ জুন, রবিবার থেকে বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া আবারও শুরু হবে।” রাষ্ট্রদূত জানান, ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও স্বাভাবিক ও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বৈধ ভিসাধারী বাংলাদেশিরা আবারও পর্যটনের উদ্দেশ্যে ভারতে ভ্রমণ করতে পারবেন।

    বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা (India Reopens Tourist Visas)

    প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশিদের জন্য পর্যটন ভিসা দেওয়া সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে চিকিৎসা ও বাণিজ্যিক প্রয়োজনের ক্ষেত্রে সীমিত পরিসরে মেডিকেল ও বিজনেস ভিসা দেওয়া হচ্ছিল। এবার সেই বিধিনিষেধ তুলে নিয়ে পূর্ণাঙ্গভাবে পর্যটন ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া ফের চালু করা হচ্ছে।দীনেশ জানান, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী এবং খুলনায় অবস্থিত ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে পর্যটন ভিসার আবেদন নেওয়া হবে। তিনি এও জানান, বাংলাদেশে দায়িত্ব নেওয়ার পর সীমান্ত এলাকায় সফরের সময় ভিসা সংক্রান্ত বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ ও যাতায়াত অনায়াস করতেই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত দীনেশ

    এদিন দুপুরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন দীনেশ। এই সময় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয়পত্র পেশ করে বাংলাদেশে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নেন (India Reopens Tourist Visas)। গত এপ্রিল মাসে ভারত সরকার দীনেশকে বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ করেছিল। তিনি ভারতের প্রথম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, যিনি বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পেয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দীনেশ কংগ্রেস, জনতা দল, তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। চলতি মাসে স্ত্রী মিনাল ত্রিবেদীকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় পৌঁছে নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত বলেছিলেন, “ভারত ও বাংলাদেশ দু’টি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক দেশ। দুই দেশের সহযোগিতা আরও (Bangladeshi Citizens) জোরদার হলে তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।” উল্লেখ্য, প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন (India Reopens Tourist Visas) দীনেশ।

     

  • Narendra Modi Untold Story: জরুরি অবস্থার অন্ধকারে ‘স্বামীজি’ থেকে ‘সর্দারজি’! পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে কীভাবে লড়েছিলেন তরুণ নরেন্দ্র মোদি?

    Narendra Modi Untold Story: জরুরি অবস্থার অন্ধকারে ‘স্বামীজি’ থেকে ‘সর্দারজি’! পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে কীভাবে লড়েছিলেন তরুণ নরেন্দ্র মোদি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের গণতন্ত্রের অন্ধকারতম সময়! ২৫ জুন, সালটা ১৯৭৫। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী (Indira Gandhi) ঘোষণা করলেন জরুরি অবস্থার (Emergency Period)। ১৯৭৭ সাল অবধি, ২১ মাস জারি থাকে এই জরুরি অবস্থা। সাংবিধানিক মূল্য়বোধের সম্পূর্ণ বিপরীতে গিয়ে দেশে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল এই সময়। সরকারের বিরোধিতা, মানেই আশ্রয় হত অন্ধ কারাগার। সেই সময় সবচেয়ে সক্রিয় ও দক্ষ কর্মীদের জেলের বাইরে রেখে আন্দোলনের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের নীতি। আরএসএস-এর সেই পরিকল্পনার অন্যতম মুখ ছিলেন তরুণ নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। গুজরাটের বিভিন্ন প্রান্তে—বরোদা, আমেদাবাদ, রাজকোটে ঘুরে ঘুরে তিনি মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করছিলেন জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে। পুলিশের চোখ এড়িয়ে আরএসএস-এর বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি নানা রূপে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন—কখনও ‘সর্দারজি’, কখনও ‘বটুকভাই’, তো কখনও ‘স্বামীজি’।

    ‘বটুকভাই’ থেকে ‘স্বামীজি’ – ছদ্মবেশের কাহিনী

    ১৯৭৫ সালের ২৫শে জুন থেকে ২১ মাসব্যাপী দেশে জারি হওয়া জরুরি অবস্থার সময়, সরকারের কড়া দমননীতি থেকে বাঁচতে নানা ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন আজকের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সময় তাঁকে ‘বেশভূষার মাস্টার’ বলেও ডাকা হতো। জরুরি অবস্থার সময় আরএসএস-এর নীতি ছিল যে কোনও মূল্যে জেলের বাইরে থেকে অস্থির সময়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আরএসএস তখন কার্যত আন্ডারগ্রাউন্ডে। সেই সময় তৈরি করা হয়েছিল গুজরাট লোক সংঘর্ষ সমিতি। সেই সময় মাত্র ২৫ বছর বয়সে আরএসএসের সাধারণ সম্পাদক পদে উঠে এসেছিলেন মোদি। সেই সময় নানা লেখালেখি করতেন মোদি। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তাঁর সেই লেখা ক্রমেই ছড়িয়ে পড়তে থাকে। সেই সময় যাতে চিহ্নিত না হয়ে যান সেকারণে নরেন্দ্র মোদি কখনও স্বামীজি, কখনও শিখের ছদ্মবেশ ধরতেন। তখনই গুজরাট ভ্রমণের সময় মোদি ‘বটুকভাই’ নাম নিয়ে ছদ্মবেশ ধারণ করেন। পরে এক পর্যায়ে, তিনি সন্ন্যাসীর বেশ নেন—গায়ে গেরুয়া বসন, মুখে ধর্মীয় ভাষ্য। একদিন, তিনি যে বাড়িতে ছিলেন, সেখানে স্বামীনারায়ণ সম্প্রদায়ের একজন আচার্য উপস্থিত হন। তখন পরিবারের লোকেরা তাঁকে ‘উদয়পুর থেকে আগত স্বামীজি’ বলে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর আচার্য ও ছদ্মবেশী ‘স্বামীজি’-র মধ্যে ধর্মীয় বিতর্কও শুরু হয়!

    ভবনগর জেলে ‘সৎসঙ্গ’ করে বার্তা পৌঁছানো

    জরুরি অবস্থা জারির পরেই মোদি তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সেই সময় তিনি ও তাঁর সতীর্থরা নানা ধরনের মিটিং করতেন কিছুটা আড়ালে। সিনিয়র আরএসএস নেতা নাথ জাগড়া, বসন্ত গজেন্দ্রগড়করের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি তথ্য় ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কিছুটা অভিনব পথ নিয়েছিলেন। সাবধানে পরিকল্পনা করে, ১৯৭৬ সালের সেপ্টেম্বরে মোদি ‘স্বামীজি’ ছদ্মবেশে ভবনগর জেলে পৌঁছান। সেখানে আটক আরএসএস নেতা বিশ্নুভাই পাণ্ড্যাদের সঙ্গে যোগাযোগ করাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। একটি ‘সৎসঙ্গ’-এর অজুহাতে তিনি জেলের ভিতরে প্রবেশ করেন এবং এক ঘণ্টা ধরে গোপনে আলোচনা করেন। পুলিশের চোখ এড়িয়ে নির্বিঘ্নে বেরিয়েও আসেন।

    ‘সর্দারজি’ সেজে কলেজ ছাত্রদের মাঝে

    কংগ্রেসের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সেই সময় গুজরাটে ছাত্রদের নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হয়েছিল। ১৯৭৪ সালে গুজরাটে শুরু হয়েছিল নবনির্মাণ আন্দোলন। সেই সময় দেখা গিয়েছিল পড়ুয়াদের শক্তি। সেই সময় আরএসএসের যুব প্রচারক ছিলেন মোদি। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের আওতায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। সেই সময় তিনি ছাত্রদের আন্দোলনকে সমর্থন করেন। তখন তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ছদ্মবেশ ছিল ‘সর্দারজি’। মাথায় পাগড়ি পরে, শিখ বেশে তিনি ঘোরাফেরা করতেন। এমনকি কলেজপড়ুয়া ছাত্ররা তাঁর উপস্থিতিতে উচ্চস্বরে সর্দারজি-র কৌতুক বলতেও কুণ্ঠাবোধ করত না। পরিচিত পরিবারের শিশু ও তাদের বন্ধুরাও এসে তাঁকে এই নতুন রূপে দেখতে পেত।

    রহস্যময় এবং কৌশলী অধ্যায়

    এই সব ছদ্মবেশ ও বুদ্ধিদীপ্ত চালচলনের জোরেই প্রশাসন তাঁর অবস্থান কখনও নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে পারেনি। প্রায়ই দেখা যেত, পুলিশ এসে পৌঁছানোর আগেই অন্য জায়গায় সরে গিয়েছেন মোদি। ১৯৭৭ সালে জরুরী অবস্থা উঠে যাওয়ার পরে নরেন্দ্র মোদি ক্রমেই জাতীয় ক্ষেত্রে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ছড়িয়ে দিতে থাকেন। আরএসএস-এর হাত ধরে ১৯৮৫ সালে বিজেপিতে যোগদান। তারপর ২০০১ সালে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীত্ব গ্রহণ। ২০১৪ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হন মোদি। তারপর ভারতে আচ্ছে দিন-এর শুরু। কিন্তু আজও জরুরি অবস্থার অন্ধকার দিনে মোদির এই নানা ছদ্মবেশী কাহিনী তাঁর রাজনৈতিক জীবনের এক রহস্যময় এবং কৌশলী অধ্যায় হয়ে রয়ে গিয়েছে।

LinkedIn
Share