ABVP: কেরলে এবিভিপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক শুরু, শিক্ষা থেকে জাতীয় স্বার্থ আলোচনায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

abvp-central-working-committee-meet-kerala-anti-paper-leak-act-pharmacy-commission-bill

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেরলের এর্নাকুলামে ১ আগস্ট থেকে শুরু হয়েছে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) দু’দিনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক। বৈঠকের উদ্বোধন করেন এবিভিপির (ABVP) জাতীয় সভাপতি অধ্যাপক রঘুরাজ কিশোর তিওয়ারি, জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বীরেন্দ্র সিং সোলাঙ্কি এবং জাতীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আশিস চৌহান। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এবিভিপির প্রবীণ পদাধিকারী ও প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। কেরলের ঐতিহ্যবাহী পঞ্চবাদ্য বাদ্যযন্ত্রের পরিবেশনা এবং প্রাণবন্ত পুলিকলি লোকনৃত্যের মাধ্যমে প্রতিনিধিদের স্বাগত জানানো হয়।

আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় (ABVP)

কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে শিক্ষা, প্রযুক্তি, পরিবেশ, সেবামূলক কার্যক্রম, খেলাধুলা, শিল্পকলা, সাংগঠনিক বিষয় এবং সমসাময়িক জাতীয় পরিস্থিতি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে ২০২৬ সালের সরকারি পরীক্ষা (অসাধু পদ্ধতি প্রতিরোধ) সংশোধনী আইনে ভারতের রাষ্ট্রপতির সম্মতিকে স্বাগত জানানো হয়। এবিভিপির পক্ষ থেকে একে দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে (Pharmacy Commission Bill)। এছাড়াও ২০২৬ সালের জাতীয় ফার্মেসি কমিশন বিল নিয়েও আলোচনা হয়। এই বিলের বিষয়ে এবিভিপি ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের কাছে বিস্তারিত সুপারিশ জমা দিয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে গুণমানভিত্তিক, শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক এবং কর্মসংস্থানমুখী ফার্মেসি শিক্ষার পক্ষে সওয়াল করা হয়েছে। পাশাপাশি (ABVP) প্রস্তাবিত কমিশনে শিক্ষাক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব রাখার দাবিও জানানো হয়েছে।

জাতীয় সভাপতির বক্তব্য

বৈঠকে এবিভিপির জাতীয় সভাপতি অধ্যাপক তিওয়ারি বলেন, “জগদগুরু আদি শঙ্করাচার্যের জন্মভূমি এবং সামাজিক সম্প্রীতির ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত কেরলে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়া এবিভিপির কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও কেরলের এবিভিপি কর্মীরা জাতীয় স্বার্থ এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। এই বৈঠক সংগঠনের ভবিষ্যৎ দিশা ও কর্মপরিকল্পনাকে আরও শক্তিশালী করবে।” তিনি বলেন, “শিক্ষার্থী ও শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে এবিভিপি (ABVP) সব সময় গঠনমূলক ভূমিকা পালন করেছে। শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সমস্যার অর্থবহ সমাধান প্রয়োজন। কিন্তু শিক্ষার্থীদের সমস্যাকে দেশবিরোধী বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার চেষ্টা কখনও মেনে নেওয়া যায় না। শিক্ষার্থীদের শক্তিকে সব সময় দেশ গঠনের কাজে পরিচালিত করতে হবে। আগামী দু’দিনে শিক্ষা, সাংগঠনিক অগ্রাধিকার, ছাত্র সংসদ নির্বাচন, সদস্যপদ সম্প্রসারণ, জাতীয় কর্মসূচি এবং সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এরপর আগামী কয়েক মাসের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।”

কী বলছেন জাতীয় সাধারণ সম্পাদক?

এবিভিপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বলেন, “এবিভিপি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধান সংলাপ, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং স্বচ্ছ প্রশাসনের মাধ্যমে হওয়া উচিত। হিংসা, ভাঙচুর বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কর্মসূচির মাধ্যমে নয়।” তিনি বলেন, “পরীক্ষায় অনিয়মের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের দাবি এবিভিপি ধারাবাহিকভাবে জানিয়ে এসেছে। পরীক্ষায় অনিয়মের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন নিষ্ঠাবান ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থীরা। তাই পরীক্ষা-চক্রের সঙ্গে যুক্ত দুর্নীতির চক্র নির্মূল করতে কঠোর আইন, কার্যকর শাস্তি, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি অত্যন্ত জরুরি।” রাষ্ট্রপতির সম্মতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “২০২৬ সালের সরকারি পরীক্ষা (অসাধু পদ্ধতি প্রতিরোধ) সংশোধনী আইনে রাষ্ট্রপতির সম্মতি এই লক্ষ্যে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর ফলে সংগঠিত পরীক্ষা-সংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং ভারতের (ABVP) পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে (Pharmacy Commission Bill)।”

জাতীয় ফার্মেসি কমিশন বিল

জাতীয় ফার্মেসি কমিশন বিল প্রসঙ্গে সোলাঙ্কি বলেন, “ফার্মেসি শিক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সংস্কারের ক্ষেত্রে এই বিল একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। আইনটিকে আরও কার্যকর, শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক এবং গুণমাননির্ভর করে তুলতে এবিভিপি বিস্তারিত পরামর্শ দিয়েছে। আমরা আশাবাদী, এই সুপারিশগুলি যথাযথ গুরুত্ব পাবে এবং এর ফলে আরও শক্তিশালী ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী ফার্মেসি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।” তিনি এও বলেন, “২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতির লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখে এবিভিপি (ABVP) মানসম্মত শিক্ষা, স্বচ্ছ পরীক্ষা ব্যবস্থা এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাবে।”

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share