Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Delhi: দিল্লিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের বাইরে বজরং দলের চরম বিক্ষোভ, আন্দোলনের চাপে ভাঙলো ব্যারিকেড

    Delhi: দিল্লিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের বাইরে বজরং দলের চরম বিক্ষোভ, আন্দোলনের চাপে ভাঙলো ব্যারিকেড

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত সপ্তাহে দীপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু যুবককে গণপিটুনি দিয়ে প্রথমে খুন এবং এরপর গাছে ঝুলিয়ে আগুন দেওয়া হয়। নির্মম ভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটনার প্রতিবাদে এবার দিল্লিতে (Delhi) বাংলাদেশ হাইকমিশন অফিসের (Bangladesh High Commission) সামনে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ভিএইচপি এবং বজরং দল সহ অন্যান্য হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা বিরাট বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। ক্ষুব্ধ জনতার একটাই প্রশ্ন, কেন মিথ্যা অপবাদ এবং গুজব রটিয়ে হিন্দুপরিবারের ছেলেকে খুন করা হল? তাই অবিলম্বে মহম্মদ ইউনূসকে পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে আন্দোলনরত হিন্দু সংগঠনগুলি।

    দোষীদের চিহ্নিত করে চরম শাস্তির দাবি (Delhi)

    দিল্লিতে (Delhi) বিক্ষোভের আশঙ্কা অবশ্য আগে থেকেই ছিল। তাই আগের দিনই বাংলাদেশ হাইকমিশনের (Bangladesh High Commission) বাইরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপক জোরদার করা হয়েছিল। ত্রি-স্তরের ব্যারিকেড দিয়ে এলাকাটি সুরক্ষিত করা হয়েছিল এবং অতিরিক্ত ১৫,০০০ পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। বিক্ষোভকারীদের এগিয়ে যেতে বাধা দেওয়ার জন্য ডিটিসি বাসগুলিকে রাস্তায় দাঁড় করানো হয়েছিল। একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ অফিসার জানিয়েছেন, হাইকমিশন থেকে প্রায় ৮০০ মিটার দূরে বিক্ষোভকারীদের আটকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া নির্মম হত্যার ঘটনায় জনসাধারণের মনে ক্ষোভের আগুন ব্যাপক ভাবে প্রকাশিত হয়েছে এদিন। এক বিক্ষোভকারী বলেন, “একজন হিন্দু ব্যক্তিকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে তাঁকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা আমাদের সরকারকে এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। আমরা দাবি জানাই যে বাংলাদেশ পুলিশকেও এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। দোষীদের চিহ্নিত করে চরম শাস্তি দিতে হবে।

    ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ঝুলিয়ে রেখে আগুন

    গত ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মিথ্যা রটিয়ে ২৫ বছর বয়সী পোশাক কারখানার কর্মী দীপু চন্দ্র দাসকে প্রথমে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। এরপর তাঁকে উত্তেজিত জনতার হাতে তুলে দেওয়া হয়। পুলিশের কাছে নিয়ে গেলেও পুলিশ পরে জনতার হাতে ছেড়ে দেয়। এরপর তাঁকে প্রথমে পিটিয়ে খুন করা হয় এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ঝুলিয়ে রেখে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরিবারের বড় ছেলে ছিল দিপু।

    দিল্লি-ঢাকার সম্পর্কের অবনতি

    উল্লেখ্য কট্টর ভারত বিরোধী ওসমান হাদির মৃত্যুর পর ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং রাজশাহীর ভারতীয় দূতাবাস এবং উপদূতাবাসে জামাত, এনসিপির নেতার হামলা করেছিল। এরপর বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক তলব করেছিল দিল্লিতে। বর্তমানে বাংলাদেশের সব ভিসা সেন্টারকে বন্ধ করে দিয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। কট্টরপন্থীরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গৃহযুদ্ধ শুরু করেছে। ফলে হাসিনাকে হাতে পেতে বার বার ভারেতের উত্তর-পূর্ব রাজ্যকে বিছিন্ন করার হুমকি দিয়ে চলেছে। একে হিন্দু যুবক হত্যা পরে ভারতে আক্রমণ করার হুমকিতে প্রত্যেক ভারতীয়দের মনেও ইউনূস বাহিনী চরম অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে। দিল্লির পাশাপাশি কলকাতাতেও ইউনূসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। উপহাইকমিশনারের (Bangladesh High Commission) অফিসের বাইরে পোড়ানো হয় মহম্মদ ইউনূসের কুশপুতুল। অপরদিকে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। চারপাশে সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বাংলাদেশি সেনাবাহিনীকে গেটের বাইরে নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

  • BJP: বিদেশে ফের ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ রাহুলের, সাংসদকে ধুয়ে দিল বিজেপি

    BJP: বিদেশে ফের ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ রাহুলের, সাংসদকে ধুয়ে দিল বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাঁচ দিনের সফরে জার্মানিতে রয়েছেন কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি তথা সাংসদ রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। সেখানকার বার্লিনে হার্টি স্কুলে ‘পলিটিক্স ইজ দ্য আর্ট অফ লিসিনিং’ শীর্ষক এক অধিবেশনে ভাষণ দেন রাহুল। সেখানে তিনি আবারও ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তোলেন এবং (BJP) ভারতে সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলির স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

    ভোট চুরির অভিযোগ রাহুলের (BJP)

    রাহুলের দাবি, কংগ্রেস ২০২৪ সালের হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল এবং মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচন ঠিকঠাকভাবে হয়নি। বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে ভারতভূমির মাথা হেঁট করায় রাহুলের ওপর বেজায় ক্ষুব্ধ বিজেপি। যার জেরে লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে পদ্মশিবির। বিজেপির অভিযোগ, বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে রাহুল গান্ধী বারবার ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলছেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন।

    সাংসদকে নিশানা বিজেপির

    বিজেপি সাংসদ মনোজ তিওয়ারি বলেন, “রাহুল গান্ধী ইতিমধ্যেই প্রমাণ করে দিয়েছেন যে ভারতের নেতা হওয়ার প্রতি তাঁর কোনও আগ্রহ নেই। তাঁর চিন্তাধারায় ভারত বিশ্বগুরু হওয়ার কথাও ভাবা উচিত নয়। এতেই বোঝা যায়, এই মানুষগুলি ভারতের কত বড় শত্রু।” ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরে তিওয়ারি বলেন, “আজ বিশ্বের অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ দেশগুলির মধ্যে ভারত চতুর্থ স্থানে রয়েছে। খুব শিগগিরই আমরা তৃতীয় স্থানে পৌঁছে যাব।” একই সুরে রাহুলের সমালোচনা করেন বিহারের মন্ত্রী দিলীপ জয়সওয়ালও। তিনি বলেন, “রাহুল গান্ধী যখনই বিদেশে যান, তখনই ভারতের বিরুদ্ধে কথা বলেন। এজন্য দেশের মানুষ তাঁকে কখনও ক্ষমা করবে না। দেশের বিষয়ে যা বলার, তা দেশের সঙ্গে যুক্ত মঞ্চেই বলা উচিত (BJP)।”

    প্রসঙ্গত, জার্মানির ওই সভায় রাহুল বলেন, “আমরা তেলঙ্গনা ও হিমাচল প্রদেশে নির্বাচন জিতেছি। ভারতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে আমরা উদ্বেগ জানিয়ে আসছি। বিরোধীরা প্রমাণ পেশ করেছেন এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাবও চেয়েছেন।” ভোটার তালিকায় গুরুতর অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, “হরিয়ানায় ভোটার তালিকায় এক ব্রাজিলীয় মহিলার নাম ২২ বার ছিল।” রাহুলের আরও (BJP) অভিযোগ, ভারতের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর পূর্ণমাত্রার আক্রমণ চলছে এবং কেন্দ্রীয় সরকার তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, ব্যবসায়িক মহলকে আর্থিকভাবে বিজেপিকে সমর্থন করতে চাপ দেওয়া হচ্ছে (Rahul Gandhi), যা একটি ‘কুইড প্রো কো’ বা পারস্পরিক সুবিধার বিনিময়মূলক ব্যবস্থার ইঙ্গিত বহন করে।

  • VB-G-RAM-G Bill: মনরেগার নাম পরিবর্তন! লোকসভায় পাশ নতুন ‘ভিবিজিরামজি’ বিল, জানেন নতুন কী রয়েছে এতে?

    VB-G-RAM-G Bill: মনরেগার নাম পরিবর্তন! লোকসভায় পাশ নতুন ‘ভিবিজিরামজি’ বিল, জানেন নতুন কী রয়েছে এতে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে জননীতি ও কল্যাণমূলক প্রকল্প মানেই সংক্ষিপ্ত নাম বা অ্যাক্রোনিম। পোষাণ (POSHAN), পিএম-আশা (PM-AASHA)-র মতো প্রকল্পগুলির নামেই সরকারের লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই ধারাবাহিকতাতেই সংসদ সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন (MGNREGA) বাতিল করে পাশ হয়েছে বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার এবং আজীবিকা মিশন গ্রামীণ (VB-G-RAM-G) আইন। এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই প্রতীকের রাজনীতির চোখে দেখলেও, বাস্তবে এটি গ্রামীণ কর্মসংস্থান নীতিতে একটি গুণগত ও কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। নতুন আইন কেবল নাম বদল নয়, বরং কাজের সুযোগ, উৎপাদনশীলতা এবং জবাবদিহির প্রশ্নে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে।

    নতুন আইনের গুরুত্বপূর্ণ দিক

    নতুন আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল— কাজের নিশ্চয়তা ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা। এটি সরাসরি গ্রামীণ পরিবারের আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করে। দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রের একক ১০০ শতাংশ অর্থায়নের বদলে রাজ্যগুলিকেও অর্থনৈতিক দায়িত্বে যুক্ত করা হয়েছে (বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ)। এর ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজ্য সরকারের দায়বদ্ধতা ও নজরদারি দু’টিই বাড়বে। তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হল— বপন ও ফসল কাটার সময়ে ৬০ দিনের কাজ-বিরতি। প্রথম দর্শনে এটি সীমাবদ্ধতা মনে হলেও, বাস্তবে এর লক্ষ্য গ্রামীণ শ্রমকে কৃষি চক্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। এতে শ্রমিকরা কৃষিকাজে বেশি মজুরি আদায়ের সুযোগ পাবে এবং সরকারি প্রকল্পের কাজও কৃষির পরিপূরক হিসেবে পরিকল্পিত হবে। চতুর্থত, ‘ভিবিজিরামজি’( VB-G-RAM-G) চারটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কাজকে কেন্দ্রীভূত করেছে— জল, নিরাপত্তা, পরিকাঠামো ও জলবায়ু সহনশীলতা। মনরেগা-র অধীনে কাজের পরিধি বিস্তৃত হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা উৎপাদনশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ সৃষ্টিতে ব্যর্থ হয়েছিল। নতুন কাঠামোতে থিমভিত্তিক কাজের ফলে গ্রামীণ এলাকায় টেকসই সম্পদ, জল সংরক্ষণ ও অবকাঠামো উন্নয়নের বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হবে।

    দুর্নীতি কমার সম্ভাবনা

    তৃণমূলভিত্তিক বিচ্ছিন্ন কাঠামোর বদলে এই প্রকল্পকে প্রধানমন্ত্রী গতিশক্তি-র সঙ্গে সংযুক্ত করা। এর ফলে কাজের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও নজরদারি হবে কেন্দ্রীয় ডেটা ও প্রযুক্তিনির্ভর। এতে একদিকে যেমন দুর্নীতি কমার সম্ভাবনা বাড়ে, তেমনই প্রকল্পের আউটপুট ও ফলাফল পরিমাপযোগ্য হয়। এখানে স্মরণ করা প্রয়োজন, মনরেগা নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক প্রকল্প ছিল। এটি ৭৪১টি জেলা, ২.৬৯ লক্ষ পঞ্চায়েত এবং ১২.১ কোটি শ্রমিককে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়েছে। সংসদের স্থায়ী কমিটি বারবার জানিয়েছে, শ্রমিকদের গড় মজুরি অনেক ক্ষেত্রে ন্যূনতম মজুরির নিচে ছিল। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হল— বিপুল বকেয়া মজুরি। ২০২৫ সালের অগস্টে দেখা যায়, ১২,২১৯.১৮ কোটি টাকা অবৈতনিক মজুরি পড়ে রয়েছে, যা ওই বছরের বরাদ্দের প্রায় ১৪ শতাংশ।

    বিশ্বের সবচেয়ে বড় গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প

    গত পাঁচ বছরে প্রকৃত কাজের দিন গড়ে ৪৮–৫২ দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। ২০২৪-২৫ সালে কাজ পাওয়া ৫.৭৮ কোটি পরিবারের মধ্যে মাত্র ৪০ লক্ষ পরিবার ১০০ দিনের কাজ সম্পূর্ণ করতে পেরেছে। অর্থাৎ, আইনে অধিকার থাকলেও বাস্তবে সেই সুযোগ পূর্ণমাত্রায় পৌঁছয়নি। বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই সরকার নতুন আইনে কাজের সুযোগের পাশাপাশি জবাবদিহি ও দক্ষতার ওপর জোর দিয়েছে। রাজ্যগুলির আর্থিক অংশগ্রহণ, থিমভিত্তিক কাজ, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং কেন্দ্রীয় সমন্বয়— এই সবকিছু মিলিয়ে নতুন প্রকল্প অধিক ফলপ্রসূ ও স্বচ্ছ কাঠামো গড়ে তুলতে পারে। বর্তমানে ভারত চালাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প, ৮১ কোটি মানুষকে নিয়ে বিনামূল্যের খাদ্য প্রকল্প (ব্যয় ২.১২ লক্ষ কোটি টাকা), স্বাস্থ্য বিমা, কৃষক আয় সহায়তা ও গ্রামীণ আবাসন প্রকল্প। মোট ব্যয় প্রায় ৬ লক্ষ কোটি টাকা। এত বিপুল ব্যয়ের ক্ষেত্রে ফলাফল ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

     

     

  • Bhagavad Gita: “ভগবদগীতা ভারতীয় সভ্যতার অবিচ্ছেদ্য অংশ”, রায় মাদ্রাজ হাইকোর্টের

    Bhagavad Gita: “ভগবদগীতা ভারতীয় সভ্যতার অবিচ্ছেদ্য অংশ”, রায় মাদ্রাজ হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভগবদগীতা (Bhagavad Gita) কোনও ধর্মীয় গ্রন্থ নয়, বরং এটি নৈতিক বিজ্ঞান এবং ভারতীয় সভ্যতার অবিচ্ছেদ্য অংশ।” ঠিক এমনই মন্তব্য করলেন মাদ্রাজ হাইকোর্টের (Madras HC) বিচারপতি জিআর স্বামীনাথন। তাঁর মতে, ভগবদ গীতার শিক্ষা দিলেই কোনও ট্রাস্টকে ধর্মীয় বলা যাবে না এবং সেই কারণে বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন (FCRA), ২০১০–এর অধীনে নিবন্ধন অস্বীকার করাও যায় না। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আদালত ভারতীয় চেতনায় গভীরভাবে প্রোথিত যে সত্যটিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছে, তা হল গীতা কোনও সাম্প্রদায়িক ধর্মগ্রন্থ নয়, এটি একটি সভ্যতাগত জ্ঞানভান্ডার।

    জনকল্যাণমূলক ট্রাস্টের এফসিআরএ আবেদন (Bhagavad Gita)

    এই মামলার সূত্রপাত একটি জনকল্যাণমূলক ট্রাস্টের এফসিআরএ আবেদন খারিজ হওয়া থেকে। সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টটি বেদান্ত, সংস্কৃত, যোগশাস্ত্র ও ভগবদগীতার শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি প্রাচীন পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণের কাজেও যুক্ত ছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এই আবেদনটি এই অনুমানের ভিত্তিতে খারিজ করে যে, এই কার্যকলাপগুলি ধর্মীয় প্রকৃতির। ঔপনিবেশিক যুগের ভুল ধারণা থেকে উৎসারিত এই আমলাতান্ত্রিক যুক্তিকে সংবিধানসম্মত স্পষ্টতার ভিত্তিতে মাদ্রাজ হাইকোর্ট স্পষ্টভাবে খারিজ করে দেয়।

    ভগবদগীতা কোনও ধর্মীয় গ্রন্থ নয়

    এর পরেই বিচারপতি স্বামীনাথনের মন্তব্য, “ভগবদগীতা কোনও ধর্মীয় গ্রন্থ নয়, বরং এটি নৈতিক বিজ্ঞান এবং ভারতীয় সভ্যতার অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি শুধু একটি আইনি সিদ্ধান্ত নয়, এটি একটি সভ্যতাগত ঘোষণা। গীতা উপাসনা, আচার বা কোনও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্তৃত্বের গ্রন্থ নয়। এটি একটি দার্শনিক সংলাপ, যা কর্তব্য, কর্ম, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, অনাসক্তি এবং জটিল পরিস্থিতিতে ন্যায়সঙ্গতভাবে (Madras HC) কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় অন্তর্নিহিত শৃঙ্খলার কথা বলে। মন্দির নয়, যুদ্ধক্ষেত্রকে পটভূমি হিসেবে বেছে নেওয়াই প্রতীকী, এটি জীবনের নৈতিক দ্বন্দ্বের প্রতিচ্ছবি, ধর্মীয় বিধান নয় (Bhagavad Gita)।”

    নিষ্কাম কর্মের তত্ত্ব

    হাজার হাজার বছর ধরে ভগবদগীতা ভারতের নৈতিক দিশারি হিসেবে কাজ করে এসেছে। নিষ্কাম কর্মের তত্ত্ব নিঃস্বার্থ জনসেবার ভিত্তি রচনা করেছে। স্বধর্মের ধারণা অধিকার নয়, দায়িত্বের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। কর্মের মধ্যেও সমত্ব বজায় রাখার শিক্ষা ভারতীয় শাসনব্যবস্থা, যুদ্ধনীতি, বিচারব্যবস্থা এবং ব্যক্তিগত আচরণের বোধকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। এই কারণেই মহাত্মা গান্ধী থেকে লোকমান্য তিলক, শ্রী অরবিন্দ থেকে আধুনিক ব্যবস্থাপনা চিন্তাবিদরা, সকলেই গীতার ভাবধারা থেকে প্রেরণা গ্রহণ করেছেন।

    সভ্যতাগত পক্ষপাত

    হাইকোর্টের এই রায় ভারতীয় শাসনব্যবস্থার এক দীর্ঘদিনের অন্তর্নিহিত বৈপরীত্যকে উন্মোচিত করেছে। পাশ্চাত্য দার্শনিক ঐতিহ্য, অ্যারিস্টটল, প্লেটো, কান্ট – নির্বিবাদে ধর্মনিরপেক্ষ জ্ঞান হিসেবে স্বীকৃত হলেও ভারতীয় দার্শনিক ধারাগুলিকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ধর্মীয় তকমা দেওয়া হয়। যোগ আজ বিশ্বজুড়ে একটি সুস্থতা ও কল্যাণমূলক অনুশীলন হিসেবে স্বীকৃত। অথচ ভারতের ভেতরেই তা প্রায়ই আদর্শগত সন্দেহের চোখে দেখা হয়। সংস্কৃত বিশ্বের অন্যতম সূক্ষ্ম ও পরিশীলিত ভাষাতাত্ত্বিক ব্যবস্থাগুলির একটি হলেও, তার শিক্ষাদানকে বহু সময় সাম্প্রদায়িক বলে ভুলভাবে চিহ্নিত করা হয়। বেদান্ত চেতনা ও বাস্তবতার ওপর এক গভীর দার্শনিক অনুসন্ধান, তবু ইউরোপীয় দর্শনশাস্ত্রের সমতুল্য দর্শন হিসেবে তাকে খুব কমই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এই বৈষম্য ধর্মনিরপেক্ষতা নয়, এটি এক ধরনের সভ্যতাগত পক্ষপাত(Bhagavad Gita)।

    রায় প্রশ্নাতীত

    সংবিধানের দৃষ্টিতে এই রায় প্রশ্নাতীত। সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ আইনের সামনে সমতার নিশ্চয়তা দেয় এবং খামখেয়ালি শ্রেণিবিভাগ নিষিদ্ধ করে। কেবল সাংস্কৃতিক উৎসের কারণে ভারতীয় দর্শনের পাঠদানকে পাশ্চাত্য দর্শনের পাঠদানের থেকে আলাদা করে দেখা যায় না। ২৫ ও ২৬ নম্বর অনুচ্ছেদ ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, ভারতীয় জ্ঞানের প্রতিটি দিককে ধর্মের সংকীর্ণ সংজ্ঞার মধ্যে আবদ্ধ রাখতে হবে। ভারতের সংবিধান রাষ্ট্রকে সভ্যতার প্রতি বিরূপ হতে বলে না, বরং বলে রাষ্ট্রকে ন্যায্য হতে(Madras HC) ।

    প্রক্রিয়াগত শৃঙ্খলার ওপর আদালতের জোর

    এফসিআরএ ব্যবস্থার অধীনে প্রক্রিয়াগত শৃঙ্খলার ওপর আদালতের জোর দেওয়াটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রত্যাখ্যানের আদেশটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বদলে অনুমাননির্ভর ধারণার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছিল, এবং পূর্ববর্তী কারিগরি ত্রুটিগুলি, যেগুলি ইতিমধ্যেই আইনের আওতায় নিষ্পত্তি হয়েছিল, অযৌক্তিকভাবে আবার অযোগ্যতার কারণ হিসেবে সামনে আনা হয়। বিদেশি তহবিলের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজনীয়, কিন্তু সেই নিয়ন্ত্রণ যেন আদর্শগত প্রহরায় পরিণত হতে না পারে। আদালত যথার্থভাবেই এই নীতিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে যে, জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা ন্যায্যতা, স্পষ্টতা এবং সাংবিধানিক সংযমের সঙ্গে আমাদের সহাবস্থান করতেই হবে (Bhagavad Gita)। ভারত যেভাবে ধর্মনিরপেক্ষতাকে বোঝে, সেই প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ নিজের ঐতিহ্য মুছে ফেলা নয়। এর অর্থ হল, সব পথের প্রতি সম্মান দেখানো, কিন্তু কাউকেই বিশেষ সুবিধা না দেওয়া। এর মানে হল, এই সত্যকে স্বীকৃতি দেওয়া যে সভ্যতাগত গ্রন্থগুলি বিশ্বাস চাপিয়ে না দিয়েই সর্বজনীন নৈতিকতা দান করতে পারে। ভগবদগীতা ঠিক সেটাই করে। গীতা আসক্তিহীন কর্মের শিক্ষা দেয়, অহংকারহীন নেতৃত্বের কথা বলে, এবং বিদ্বেষহীন কর্তব্য পালনের পথ দেখায়। এই মূল্যবোধগুলি সমাজকে শক্তিশালী করে, বিভক্ত করে না(Madras HC) ।

    মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায়

    অতএব, মাদ্রাজ হাইকোর্টের রায়টি শুধু এফসিআরএ নিবন্ধনের তাৎক্ষণিক প্রশ্নেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি ভারতীয় প্রজ্ঞার ভুল ব্যাখ্যার বিরুদ্ধে এক সাংবিধানিক সীমারেখাও টেনে দেয়। এই রায় প্রজাতন্ত্রকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে আধুনিক শাসনব্যবস্থা বৌদ্ধিক বিস্মৃতির ওপর দাঁড়াতে পারে না। গীতাকে সাম্প্রদায়িক ধর্মগ্রন্থ নয়, বরং নৈতিক বিজ্ঞান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আদালত সাংবিধানিক ব্যাখ্যাকে সভ্যতাগত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছে (Bhagavad Gita)। ভগবদগীতার শিক্ষা দেওয়া ধর্মপ্রচার নয়, বরং শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধের সংক্রমণ হিসেবে পুনরায় নিশ্চিত করে মাদ্রাজ হাইকোর্ট ভারত জাতির প্রতি এক নীরব কিন্তু ঐতিহাসিক সেবা দিয়েছে। এই রায় নিশ্চিত করেছে যে ভারতের আত্মাকে কোনও ব্যুরোক্র্যাটিক অসুবিধা হিসেবে নয়, বরং শক্তির উৎস হিসেবে দেখা হবে।

  • Enforcement Directorate: প্রয়াগ গ্রুপ অফ কোম্পানিজের ১১০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল ইডি

    Enforcement Directorate: প্রয়াগ গ্রুপ অফ কোম্পানিজের ১১০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল ইডি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রয়াগ গ্রুপ অফ কোম্পানিজ (Prayag Group of Companies Case) এবং এর পরিচালকদের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি মামলায় মোট ১১০ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট অর্থাৎ ইডি (Enforcement Directorate)। বাজেয়াপ্ত করা এই সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার এবং আসাম জুড়ে প্রয়াগ গ্রুপের একাধিক কোম্পানি। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১০৪ কোটি টাকা। যার মধ্যে রয়েছে ৪৫.৪২ একর জমি, নির্মীয়মাণ বাড়ি, পরিচালক বাসুদেব বাগচী, অভিক বাগচী ও স্বপ্না বাগচীর নামে থাকা ৬ কোটি টাকার সম্পত্তি। ইতিমধ্যে ইডি-এর কলকাতা আঞ্চলিক অফিস প্রিভেনশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA) ২০০২-এর অধীনে এই সম্পত্তিগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

    ২,৮৬৩ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ (Enforcement Directorate)

    প্রয়াগ (Prayag Group of Companies Case) গ্রুপ পদ্ধতিগত আইন না মেনেই স্বল্প সঞ্চয়ে অধিক লাভের প্রকল্প ঘোষণা করে বৃহৎ পরিসরে অবৈধভাবে টাকা তুলেছিল গ্রাহকদের কাছ থেকে। এরপর অভিযোগ পেয়ে সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (CBI) এফআইআর দায়ের করে। বর্তমানে তদন্ত করে চার্জশিট দেওয়ার ভিত্তিতে ইডি (Enforcement Directorate) এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, প্রয়াগ গ্রুপ তাদের একাধিক কোম্পানি যেমন- প্রয়াগ ইনফোটেক হাই-রাইজ লিমিটেড এবং প্রয়াগ ইনফোটেক নেটওয়ার্ক প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) বা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (সেবি)-এর কোনো রকম অনুমোদন ছাড়াই টাকা সংগ্রহ এবং মানি সার্কুলেশন স্কিমের মাধ্যমে বেশি পরিমাণে লাভের টোপ দিয়ে আর্থিক প্রতারণা করেছে। এখনও পর্যন্ত মোট ৩৮,৭১,৬৭৪ জন আমানতকারীর কাছ থেকে ২,৮৬৩ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে।

    ১,৯০৬ কোটি টাকা ফেরত দেয়নি

    আর্থিক দুর্নীতির প্রসঙ্গে ইডি (Enforcement Directorate) সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রয়াগ গ্রুপ (Prayag Group of Companies Case) ২০১৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত আমানতকারীদের বকেয়া সুদের টাকা বাদেও ১,৯০৬ কোটি টাকা অপরিশোধিত রেখেছে। এই গ্রুপটি একটি রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতির দুর্নীতি চক্রের মাধ্যমে কাজ করত। সংগৃহীত অর্থ কোনো বৈধ ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার না করে জমি, হোটেল, ফিল্ম সিটি প্রকল্প নির্মাণ, কোম্পানি তৈরিতে এজেন্টদের কমিশন দেওয়া, বিজ্ঞাপন, সেলিব্রিটি প্রচার-সহ সংস্থার সমৃদ্ধির জন্য ব্যবহার করা হতো। প্রধান অভিযুক্ত বাসুদেব বাগচী এবং অভিক বাগচী বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।

  • Ethiopia: ইথিওপিয়া সফর সেরে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী, বড় লাভ হল ভারতের

    Ethiopia: ইথিওপিয়া সফর সেরে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী, বড় লাভ হল ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এই প্রথমবার ইথিওপিয়া (Ethiopia) সফরে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (India)। আর তাতেই মাত করে ফেলেছেন বাজি। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই ইথিওপিয়া সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুণগত উত্তরণ ঘটিয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করা হয়েছে এবং বাণিজ্য, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও জনকেন্দ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতাকে এক সুতোয় গাঁথা হয়েছে। উভয় সরকারের ঘোষিত ফলগুলি স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে, কীভাবে নয়াদিল্লি ও আদ্দিস আবাবা (ইথিওপিয়ার রাজধানী) কয়েক দশকের রাজনৈতিক সদিচ্ছাকে বাস্তবে অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমূলক সাফল্যে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করছে।

    ভারত ও ইথিওপিয়ার সম্পর্ক (Ethiopia)

    ভারত ও ইথিওপিয়ার মধ্যে ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক বরাবরই ঘনিষ্ঠ ছিল। এই সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিকভাবে কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করা সেই ঐতিহ্যকে সমসাময়িক বাস্তবতায় দৃঢ় ভিত্তি দিচ্ছে। এর মাধ্যমে শীর্ষ নেতৃত্ব পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ, লোহিত সাগর–হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলের আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় এবং আদ্দিস আবাবায় অবস্থিত আফ্রিকান ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক সেতু গড়ে ওঠার সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিলছে। ইথিওপিয়ার জন্যও এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অর্থনৈতিক চাপ ও জটিল আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের এই সময়ে বহির্বিশ্বের সঙ্গে অংশীদারিত্বকে বৈচিত্র্যময় করার একটি কার্যকর পথ হিসেবেও এই উদ্যোগ কাজ করছে (India)।

    প্রধানমন্ত্রীর সফরের গুরুত্বপূর্ণ দিক 

    প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল নিরাপত্তা সহযোগিতা, বিশেষ করে রাষ্ট্রসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে। রাষ্ট্রসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সহযোগিতার জন্য একটি ইমপ্লিমেন্টিং অ্যারেঞ্জমেন্ট স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা শান্তিরক্ষায় অন্যতম বৃহৎ সেনা-অবদানকারী দেশ হিসেবে ভারতের অভিজ্ঞতা এবং আফ্রিকা-কেন্দ্রিক মিশনে সেনাদল মোতায়েনের ক্ষেত্রে ইথিওপিয়ার সুনামের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। যৌথ প্রশিক্ষণকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার মাধ্যমে উভয় দেশই পারস্পরিক কার্যক্ষমতা বাড়াতে পারবে এবং রাষ্ট্রসংঘের সেই সব ফোরামে রাজনৈতিক প্রভাব অর্জন করবে, যেখানে শান্তিরক্ষা সংস্কার ও ম্যান্ডেট নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে।

    সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী লড়াই

    সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী লড়াই এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তাও কৌশলগত আলোচনার অংশ ছিল। এর কারণ হল লোহিত সাগরের (Ethiopia) গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক সংকীর্ণ পথগুলির কাছে ইথিওপিয়ার অবস্থান এবং পশ্চিম ভারত মহাসাগরে ভারতের ক্রমবর্ধমান নৌ উপস্থিতি। আনুষ্ঠানিকভাবে একে কোনও সামরিক জোট বলা না হলেও, এই অংশীদারিত্ব আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলে উগ্রপন্থার বিস্তার এবং বিরাট শক্তিগুলির প্রতিযোগিতার বিরুদ্ধে সূক্ষ্মভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

    অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এই সফরের লক্ষ্য

    অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে এই সফরের লক্ষ্য হল প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তুলনামূলকভাবে সীমিত দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পথে থাকা কিছু বাধা দূর করা। যদিও ভারত ইথিওপিয়ার অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার। শুল্ক বিষয়ে সহযোগিতা ও পারস্পরিক প্রশাসনিক সহায়তা সংক্রান্ত চুক্তির উদ্দেশ্য হল নথিপত্রের জটিলতা কমানো, তথ্য আদান-প্রদান উন্নত করা এবং চোরাচালান বা ভুল ইনভয়েসিংয়ের মতো সমস্যার মোকাবিলা করা, যা উভয় দেশের রাজস্বের ক্ষতি করতে পারে (Ethiopia)।

    ডেটা সেন্টার স্থাপনের জন্য মউ স্বাক্ষরিত

    সমান গুরুত্বপূর্ণ হল ইথিওপিয়ার বিদেশমন্ত্রকে একটি ডেটা সেন্টার স্থাপনের জন্য মউ স্বাক্ষরিত হওয়া। এটি সরাসরি ভারতের ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার রফতানির উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত, যার মধ্যে পরিচয়, লেনদেন (India) ও শাসনব্যবস্থার জন্য নিরাপদ ও স্বল্পব্যয়ী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম অন্তর্ভুক্ত। অনেক আফ্রিকান দেশই এগুলিকে পুরানো ব্যবস্থা এড়িয়ে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার পথ হিসেবে দেখছে। টেলিকম ও আর্থিক খাতের মতো ক্ষেত্রগুলি উদারীকরণে এগিয়ে থাকা ইথিওপিয়ার জন্য, নিরাপদ ডেটা কাঠামো গড়ে তুলতে ভারতের সহায়তা প্রযুক্তিগত সুবিধার পাশাপাশি রাজনৈতিক নিশ্চয়তাও জোগায়।

    জি২০ কমন ফ্রেমওয়ার্কের অধীনে ইথিওপিয়ার ঋণ পুনর্গঠন

    রাজনৈতিক দিক থেকে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ফলগুলির একটি হল জি২০ কমন ফ্রেমওয়ার্কের অধীনে ইথিওপিয়ার ঋণ পুনর্গঠন সংক্রান্ত মউ স্বাক্ষরিত হওয়া। ইথিওপিয়া দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ বৈদেশিক ঋণের চাপ ও বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতির সঙ্গে লড়াই করছে। এই বহুপাক্ষিক প্রক্রিয়ায় ভারতের সমর্থন আদ্দিস আবাবার জন্য বড় ঋণদাতাদের সঙ্গে পুনর্গঠন সংক্রান্ত আলোচনায় একদিকে যেমন নমনীয়তা যোগ করছে, তেমনই আলোচনার বিশ্বাসযোগ্যতাও বাড়াচ্ছে। নয়াদিল্লির দৃষ্টিতে এটি সার্বভৌম ঋণ সংকটে গ্লোবাল সাউথ-বান্ধব একটি দৃষ্টিভঙ্গির উদাহরণ, যা অন্য কিছু বড় শক্তির তথাকথিত অস্বচ্ছ বা নিরাপত্তা-সংযুক্ত ঋণদানের ধারণার স্পষ্ট বিরোধী (Ethiopia)।

    মহাত্মা গান্ধী হাসপাতালের ক্ষমতা বাড়াতে ভারতের প্রতিশ্রুতি

    এই সফরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল ‘জনকেন্দ্রিক’ ফলের ওপর জোর। এই শব্দবন্ধটি প্রধানমন্ত্রী নিজেই তাঁর বক্তব্যে বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন। আদ্দিস আবাবার মহাত্মা গান্ধী হাসপাতালের ক্ষমতা বাড়াতে ভারতের (India) প্রতিশ্রুতি, বিশেষ করে মাতৃ ও নবজাতক পরিচর্যার ক্ষেত্রে, ইথিওপিয়ার জনস্বাস্থ্য অগ্রাধিকারের সঙ্গে সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের একটি দৃশ্যমান ও উচ্চ-প্রভাবযুক্ত প্রকল্প হিসেবেও সামনে আসে। বিশেষায়িত ইউনিট নির্মাণ, চিকিৎসাকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং অত্যাবশ্যক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ – এসব উদ্যোগ শহর ও শহরতলি এলাকার মহিলা ও নবজাতকদের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে (Ethiopia)।

    ইথিওপীয় শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা দ্বিগুণ

    মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে আইসিসিআর কর্মসূচির আওতায় ইথিওপীয় শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা দ্বিগুণ করা এবং আইটিইসি কাঠামোর অধীনে এআই বিষয়ক স্বল্পমেয়াদি বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করা – এই দুই উদ্যোগ ইথিওপিয়ার অভিজাত মহলের ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের দীর্ঘ ঐতিহ্যকে আরও বিস্তৃত করছে। বিশেষত এআই-ভিত্তিক প্রশিক্ষণ কোর্সগুলি আদ্দিস আবাবার প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্ট-আপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি একই সঙ্গে প্রশাসনিক কাঠামোকে উদীয়মান প্রযুক্তি বোঝার ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া থেকে রক্ষা করবে। এসব উদ্যোগ এমন এক প্রজন্মের ইথিওপীয় পেশাজীবী গড়ে তুলছে, যাঁদের ভারত-অভিজ্ঞতা বাস্তব ও প্রত্যক্ষ – যা কোনও একক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমেও অর্জন করা সম্ভব নয়, এবং যা ভারতের সফট পাওয়ারকে দীর্ঘমেয়াদে আরও গভীর ও শক্তিশালী করে তোলে।

    গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরীক্ষাক্ষেত্র

    একটু পিছনের দিকে তাকালে দেখা যায়, এই সফরের ফলগুলি এটা স্পষ্ট করে যে, ভারত আফ্রিকার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততাকে সমমর্যাদার অংশীদারিত্ব হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে, যার মূল লক্ষ্য সক্ষমতা গঠন, স্থিতিশীলতা এবং স্বনির্ভরতা, কোনও শোষণমূলক চুক্তি নয়। আফ্রিকার একটি জনবহুল রাষ্ট্র হিসেবে (India), আফ্রিকান ইউনিয়নের সদর দফতরের আতিথ্যকারী এবং লোহিত সাগর, নীল নদের অববাহিকা ও বিস্তৃত হর্ন অব আফ্রিকার সংযোগস্থলে অবস্থানকারী ইথিওপিয়া এই মডেলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরীক্ষাক্ষেত্র (Ethiopia)। ঋণমকুব, ডিজিটাল পরিকাঠামো, স্বাস্থ্য সহযোগিতা, শিক্ষা এবং নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ – এই সব কিছুকে একত্রিত করে একটি সমন্বিত প্যাকেজে উপস্থাপন করার মাধ্যমে মোদি–আবিই রোডম্যাপ দক্ষিণ–দক্ষিণ সহযোগিতার একটি বিকল্প বয়ান হাজির করছে, এমন একটা সময়ে যখন হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চল এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাপনা উভয়ই চাপের মুখে রয়েছে। যদি এই উদ্যোগগুলির বাস্তব প্রতিফলন ফিল্ড লেভেলে দেখা যায়, যেমন দ্রুততর শুল্ক ছাড়পত্র, কার্যকর একটি ডেটা সেন্টার, আরও ভালোভাবে সজ্জিত সরকারি হাসপাতাল, এবং ভারতীয় সহায়তায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আরও বেশি ইথিওপীয় ছাত্র ও শান্তিরক্ষী, তাহলে ভারত–ইথিওপিয়ার কৌশলগত অংশীদারিত্ব নয়াদিল্লির জন্য মহাদেশের অন্যত্রও অনুসরণযোগ্য একটি মডেলে পরিণত হতে পারে (Ethiopia) ।

  • Bangladesh Violence: ভারতীয় পরিচয় গোপন করে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে আসেন সরোদ বাদক শিরাজ

    Bangladesh Violence: ভারতীয় পরিচয় গোপন করে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে আসেন সরোদ বাদক শিরাজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে (Bangladesh Violence) লাগাতার রাজনৈতিক হিংসার উত্তাপে উত্তাল পরিস্থিতি। ভারত বিরোধী মনোভাব নিয়ে ওই দেশের জামাত ও এনসিপি দলের নেতারা ব্যাপক ভাবে উস্কানি দিচ্ছেন। দেশের মধ্যে এক প্রকার গৃহযুদ্ধ লেগেই গিয়েছে। কট্টর মৌলবাদের সমর্থক এবং ভারত বিরোধী ছাত্রনেতা হাদির মৃত্যুতে বাংলাদেশের প্রধান সাংস্কৃতিক সংস্থা ছায়ানটে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় মৌলবাদীরা। এই আবহে মধ্য কলকাতার সরোদ বাদক শিরাজ আলি খানকে রাতারাতি অনুষ্ঠান ছেড়ে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে আসতে বাধ্য করা হয়। ফিরে শিরাজ (Shiraz Ali Khan) বলেন, “নিরাপদে থাকার জন্য আমকে ভারতীয় পরিচয় গোপন করতে হয়েছিল।”

    নিরাপত্তা জনিত কারণে দ্রুত ভারতে চলে আসেন (Bangladesh Violence)

    বিখ্যাত সরোদ বাদক শিরাজ আলি খান (Shiraz Ali Khan) গত ১৬ ডিসেম্বর থেকে ঢাকায় বেশ কিছু অনুষ্ঠান করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রধান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছায়ানটে ভাঙচুরের পর বাংলাদেশ (Bangladesh Violence) সফর সংক্ষিপ্ত করে ভারতে ফিরে আসতে বাধ্য হন। এই হামলা ভীষণ ভাবে তাঁকে মর্মাহত করেছে। ছায়ানটে জেহাদিদের হামালার আগে তিনি ১৬ এবং ১৭ ডিসেম্বর কয়েকটি অনুষ্ঠান করেছিলেন। ১৯ তারিখ এই হামলা এবং ভাঙচূড়ের ঘটনা ঘটলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তাঁর আরও একটা ধ্রপদী বাজনার অনুষ্ঠান ছিল। কিন্তু নিরাপত্তা জনিত কারণে দ্রুত ভারতে চলে আসেন। আসন্ন নির্বাচন এবং রাজনৈতিক খুনোখুনিতে সেই দেশের আইন শৃঙ্খলা ব্যাপকভাবে ভেঙে পড়েছে।

    বাংলাদেশের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক শিরাজের

    শিরাজের (Shiraz Ali Khan) সঙ্গে বাংলাদেশের (Bangladesh Violence) গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বিখ্যাত সরোদ বাদক ওস্তাদ আলী আকবর খানের নাতি ও ওস্তাদ ধ্যানেশ খানের পুত্র এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাবা আলাউদ্দিন খানের প্রপৌত্র। শিরাজ বলেন, “কয়েক বছর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আমার প্রপিতামহের নামে একটি কলেজে আক্রমণ করেছিল দুষ্কৃতীরা। এবার  সংস্কৃতির মূল কেন্দ্র ছায়ানটে ভাঙচুর অত্যন্ত লাজ্জার। আমি ভীষণ ভাবে মর্মাহত।” তিনি আরও বলেন, “যেহেতু দেশের পরিস্থিতি উত্তাল, তাই একটি মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রে টাকা ভাঙাতে গিয়ে আমি যে ভারতীয় সেই পরিচয়কে গোপন করে রাখতে হয়েছিল। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগের মুহূর্ত পর্যন্ত গাড়ির চালক পাসপোর্ট এবং মোবাইল লুকিয়ে রেখেছিল। আমি স্বপ্নেও ভাবিনি আমাকে এই ভাবে নিজের পরিচয় গোপন করে রাখতে হবে।”

  • Arunachal Pradesh: অরুণাচল প্রদেশের নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়,  প্রধানমন্ত্রী মোদির অভিনন্দন

    Arunachal Pradesh: অরুণাচল প্রদেশের নির্বাচনে বিজেপির বিপুল জয়, প্রধানমন্ত্রী মোদির অভিনন্দন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অরুণাচল প্রদেশের (Arunachal Pradesh) জেলা পরিষদ এবং গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপির জয় জয়কার। রবিবারই প্রকাশিত হয়েছে এই নির্বাচনের ফল। সেখানে জেলা পরিষদ এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের সিংহভাগ আসনই জিতেছে বিজেপি। আর এই নির্বাচনে কার্যত পাত্তা পায়নি কংগ্রেস। মোট আসনের ৯৭ শতাংশেরও বেশি জিতে রাজ্যে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। এই ফলাফল রাজ্যের উন্নয়নে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের ওপর জনগণের আস্থারই প্রতিফলন বলে দাবি বিজেপির। নির্বাচনী জয়কে সুশাসনের প্রতি জনগণের বিশ্বাস হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    বিজেপির জয়-জয়কার

    অরুণাচল প্রদেশের (Arunachal Pradesh) নির্বাচন কমিশনের অফিস সূত্রে খবর, সেখানকার জেলা পরিষদের ২৪৫টি আসনের মধ্যে ১৭০টিতেই জয়ী হয়েছে বিজেপি। এর মধ্যে ৫৯টি আসনে বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেছে বিজেপি। অন্য দিকে, জেলা পরিষদের ২৮টি আসনে জিতেছে পিপলস পার্টি অফ অরুণাচল। সেখানে জেলা পরিষদের মাত্র ৭টি আসন এসেছে কংগ্রেসের দখলে। ন্যাশনাল পিপলস পার্টি ৫টি আসনে এবং নির্দল ও অন্যান্যরা জিতেছে ২৩টি আসনে। একই ভাবে গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনেও বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিজেপি। গ্রাম পঞ্চায়েতের ৮২০৮টি আসনের মধ্যে বিজেপি জিতেছে ৬০৮৫টি আসনে। এর মধ্যে ৫২১১ আসনেই বিনা-প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেছে বিজেপি। অন্য দিকে কংগ্রেস জিতেছে মাত্র ২১৬টি আসনে। এর মধ্যে ১১১টি আসনে কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়া জয় পেয়েছে কংগ্রেস।

    প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

    প্রধানমন্ত্রী মোদি বিজেপির এই সাফল্যে বলেন, “অরুণাচল প্রদেশের মানুষ সুশাসনের রাজনীতির প্রতি অটল সমর্থন দেখিয়েছেন। বিজেপির প্রতি যে ভালোবাসা তাঁরা দেখিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। এতে রাজ্যের রূপান্তরের লক্ষ্যে আমাদের সংকল্প আরও দৃঢ় হলো। তৃণমূল স্তরে অক্লান্ত পরিশ্রম করা বিজেপি কার্যকর্তাদেরও সাধুবাদ জানাই।” মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডুও রাজ্যের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “ভারতীয় জনতা পার্টির প্রতি মানুষের অভূতপূর্ব সমর্থন ও বিশ্বাসের জন্য আমি কৃতজ্ঞ।” তিনি দলের কর্মী ও নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাঁদের নিরলস পরিশ্রমেই এই ঐতিহাসিক সাফল্য এসেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্ব ও দিশানির্দেশে অরুণাচলকে আরও শক্তিশালী, সমৃদ্ধ ও আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

    উন্নয়নের পক্ষে স্পষ্ট ম্যান্ডেট

    আর এক দিকে, ইটানগর পুরসভার ২০টি আসনের মধ্যে ১৪টিতে জিতেছে বিজেপি। পাসিঘাট পুরসভার নির্বাচনে পিপলস পার্টি অফ অরুণাচল জিতেছে ৫টি আসনে। সেখানে বিজেপি দু’টি আসনে এবং নির্দল জিতেছে একটি আসনে। এই দু’টি পুরসভাতে খাতাই খুলতে পারেনি কংগ্রেস। বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই রায় উন্নয়নের পক্ষে স্পষ্ট ম্যান্ডেট। দলের কথা, “জেলা পরিষদ থেকে গ্রাম পঞ্চায়েত—সব স্তরেই বার্তা পরিষ্কার: শান্তি, অগ্রগতি ও কর্মদক্ষতার পক্ষে অরুণাচল; নেতৃত্বে এনডিএ।”

  • India-New Zealand: ভারত–নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত, ফোনে ক্রিস্টোফারকে স্বাগত জানালেন মোদি

    India-New Zealand: ভারত–নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত, ফোনে ক্রিস্টোফারকে স্বাগত জানালেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চূড়ান্ত হল ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সোমবার নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। দুই নেতা যৌথভাবে এই যুগান্তকারী ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (FTA) ঘোষণা করেন। নেতারা একমত হন যে এই এফটিএ দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং যৌথ সুযোগ বাড়াতে অনুঘটকের কাজ করবে। নেতারা প্রতিরক্ষা, খেলাধুলা, শিক্ষা এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্কসহ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অন্যান্য ক্ষেত্রে অগ্রগতিকেও স্বাগত জানান।

    ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

    ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী লাক্সনের ভারত সফরের সময় আলোচনা শুরু হয়েছিল। দুই দেশের নেতারা জানান, এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক এফটিএ ভবিষ্যতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উদ্ভাবন এবং যৌথ সুযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এক শক্তিশালী অনুঘটকের ভূমিকা পালন করবে। চুক্তির মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হবে, বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়বে, বিনিয়োগ প্রবাহ জোরদার হবে এবং কৌশলগত সহযোগিতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী লাক্সনের ভারত সফরের সময় এই এফটিএ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। মাত্র ৯ মাসের রেকর্ড সময়ে আলোচনা সম্পন্ন হওয়াকে দুই দেশের পারস্পরিক রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সম্পর্ক গভীর করার অভিন্ন লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন দুই নেতা।

    এফটিএ-র শক্ত ভিত্তি

    এই চুক্তির ফলে দুই দেশের উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা, কৃষক, এমএসএমই, ছাত্র ও যুবসমাজ বিভিন্ন খাতে নতুন সুযোগ পাবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়াও প্রতিরক্ষা, ক্রীড়া, শিক্ষা এবং জনগণ-থেকে-জনগণের সম্পর্কসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতার অগ্রগতিতেও সন্তোষ প্রকাশ করেন নেতারা। এফটিএ-র শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আগামী পাঁচ বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ১৫ বছরে নিউজিল্যান্ড থেকে ভারতে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ আসবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

    দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী বন্ধুত্বের প্রতীক

    ক্রিস্টোফার লাক্সন, এক্স-এ একটি পোস্টে বলেছেন, “আমি এইমাত্র ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথা বলেছি। এই এফটিএ ভারতে আমাদের রফতানির ৯৫% ক্ষেত্রে শুল্ক কমিয়ে দেয় বা সরিয়ে দেয়। পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে যে আগামী দুই দশকে ভারতে নিউজিল্যান্ডের রফতানি বছরে ১.১ বিলিয়ন থেকে ১.৩ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। বাণিজ্য বাড়ানোর অর্থ হলো কিউইদের জন্য আরও চাকরি, বেশি বেতন এবং কঠোর পরিশ্রমী নিউজিল্যান্ডবাসীদের জন্য আরও সুযোগ। এই চুক্তি আমাদের দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী বন্ধুত্বের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতির মধ্যে একটি, এবং এটি কিউই ব্যবসাগুলোকে ১৪০ কোটি ভারতীয় গ্রাহকের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ করে দেয়। আমাদের সরকার মৌলিক বিষয়গুলো ঠিক করতে এবং ভবিষ্যৎ গড়তে অক্লান্তভাবে কাজ করছে – এই ধরনের নতুন বাণিজ্য চুক্তি আমাদের অর্থনীতিকে বাড়াতে সাহায্য করে যাতে সমস্ত কিউই এগিয়ে যেতে পারে।”

    ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি

    এই চুক্তি পরিষেবা, গতিশীলতা, পণ্য, বিনিয়োগ এবং বাণিজ্য সহজীকরণের ক্ষেত্রে সহযোগিতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে গভীর করবে। চুক্তির অংশ হিসেবে, নিউজিল্যান্ড ১৫ বছরের মেয়াদে ভারতে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা মূলত ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সংস্থা (EFTA) মডেলের আদলে তৈরি। এই বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি একটি পুনঃভারসাম্য ব্যবস্থার মাধ্যমে সমর্থিত হবে, যার অধীনে সম্মত বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে বাণিজ্য ছাড় স্থগিত করা হতে পারে। চুক্তির একটি প্রধান আকর্ষণ হলো পরিষেবা এবং গতিশীলতা। নিউজিল্যান্ড ১১৮টি পরিষেবা খাত এবং উপ-খাতে বাজারে প্রবেশের সুযোগ দিয়েছে, সাথে ১৩৯টি পরিষেবা খাতে মোস্ট ফেভারড নেশন (MFN) মর্যাদা দিয়েছে।

    নিউজিল্যান্ডকে ১০৬টি পরিষেবা খাতে সুযোগ

    স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত এবং ঐতিহ্যবাহী ঔষধ পরিষেবাগুলিতে বাণিজ্য সহজ করার জন্য একটি অ্যানেক্সও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা নিউজিল্যান্ডের জন্য প্রথমবার কোনো দেশের সাথে এই ধরনের অ্যানেক্স স্বাক্ষর করার ঘটনা। এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ক্ষুদ্র, ছোট এবং মাঝারি উদ্যোগের (MSMEs) উপর বিশেষ জোর দিয়েছে। চুক্তিটি একটি ভারসাম্যপূর্ণ এবং শক্তিশালী রুলস অফ অরিজিন (ROO) কাঠামোও প্রতিষ্ঠা করে, যেখানে পছন্দের বাজারে প্রবেশের অখণ্ডতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফাঁকি রোধ করার জন্য পণ্য-নির্দিষ্ট নিয়ম এবং সুরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভারত, তার পক্ষ থেকে, নিউজিল্যান্ডকে ১০৬টি পরিষেবা খাতে বাজারে প্রবেশের সুযোগ দিয়েছে।

    ভারতীয় ছাত্রদের সুবিধা

    নিউজিল্যান্ড প্রথমবারের মতো কোনো দেশের সাথে স্টুডেন্ট মোবিলিটি এবং পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার উপর একটি অ্যানেক্স স্বাক্ষর করেছে। এই ব্যবস্থায় কোনো সংখ্যাগত সীমা নেই এবং ভারতীয় ছাত্রদের জন্য প্রতি সপ্তাহে ২০ ঘন্টা কাজের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিত (STEM) বিষয়ে স্নাতক স্নাতকদের জন্য তিন বছর পর্যন্ত, স্নাতকোত্তর স্নাতকদের জন্য তিন বছর পর্যন্ত এবং ডক্টরেট ডিগ্রিধারীদের জন্য চার বছর পর্যন্ত পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এছাড়াও, একটি নতুন টেম্পোরারি এমপ্লয়মেন্ট এন্ট্রি ভিসা পথ তৈরি করা হয়েছে, যা যেকোনো সময়ে ৫,০০০ পর্যন্ত দক্ষ ভারতীয় পেশাজীবীকে নিউজিল্যান্ডে তিন বছর পর্যন্ত থাকার অনুমতি দেবে।

  • Gujarat: গরু জবাই করতে অস্বীকার! কুপিয়ে হত্যা আদিবাসী হিন্দু যুবককে

    Gujarat: গরু জবাই করতে অস্বীকার! কুপিয়ে হত্যা আদিবাসী হিন্দু যুবককে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গরু জবাই করতে অস্বীকার! এরপর উত্তেজিত মুসলিম জনতা আদিবাসী হিন্দু যুবককে নির্মম ভাবে খুন করেছে। ঘটনা ঘটেছে গুজরাটের (Gujarat) নভসারির দাভেলে। মৃতের নাম দীপক কালিদাস রাঠোড়, ইতিমধ্যে পুলিশ একটি মামলা দায়ের করেছে। তাতেই স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে এলাকার মুসলিম যুবকেরা ব্যাপক ভাবে ওই আদিবাসী যুবককে মারধর করে এবং এরপর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। এই ঘটনাই প্রমাণ করে ভারতের বাইরে শুধু নয়, ভারতের অভ্যন্তরেও হিন্দু (Hindu Tribal Youth Kill) নির্যাতন লাগাতার চলছে।

    দীপকের প্রতি চরম অসন্তোষ (Gujarat)

    স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় দীপক যখন কাজ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন, তখনই রাস্তায় এই ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ শুরু করেছে। তবে এই মৃত্যুর মামলায় খুনের ধারা যুক্ত করা হয়েছে। দীপক প্রায় একবছর আগে দাভেল (Gujarat) গ্রামের বাসিন্দা শওকত উসমান একলওয়ায়ার বাড়িতে কাজ করতেন। কাজের জন্য ঠিকঠাক বেতন দেওয়া হতো না এবং বারবার গরু জবাই করার জন্য চাপ দেওয়া হতো দীপককে। তবে তিনি তা করতে অস্বীকৃতি জানান এবং চাকরিও ছেড়ে দেন। চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর, তিনি গরু-মহিষ লালন-পালন করে জীবিকা নির্বাহের কাজ শুরু করেন। তবে পরিবারের দাবি, কাজ না করার বিষয়ে শওকত উসমান ভীষণ ভাবে ক্ষুব্ধ ছিলেন। দীপকের প্রতি চরম অসন্তোষ ছিল এবং শেষে তাঁকে হত্যা (Hindu Tribal Youth Kill) করে।

    কুড়াল বের করে তাঁর উপর আঘাত

    মৃত্যুর আগে, দীপকের একটি ভিডিও বিবৃতি রেকর্ড করা। সেখানে স্পষ্ট ভাবে দীপক বলেন, “গরু জবাই করার কাজ না করায়, আমাকে দীর্ঘ দিন ধরে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এরপর আমার সঙ্গে শত্রুতা শুরু হয়। একাধিকবার আক্রমণও করা হয়।” তবে খুনের দিন ১৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬:৩০ টার দিকে দীপক কাজ শেষ করে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন, ঠিক সেই সময় রাস্তার ধারে একটি কবরস্থানের কাছে তাঁকে ঘিরে ধরে কিছু মুসলিম যুবক। এরপর তাঁর পথ আটকে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে চলে গালিগালাজ। মৃত্যুর হুমকিও বারবার দেওয়া হয়েছিল। নিচু জাতের মানুষ উল্লেখ করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজও দেওয়া হয়। পুলিশের (Gujarat) এফআইআরে হাসান শওকত একলওয়ায়া এবং হুসেন মোহাম্মদ একলওয়ায়া সহ বেশ কয়েকজন অজ্ঞাত মুসলিম যুবকের নাম আক্রমণকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমে হুসেন এবং অন্যান্যরা দীপককে চেপে ধরে, এরপর অপর দিকে হাসান সাইকেল থেকে একটি কুড়াল বের করে তাঁর উপর আঘাত করে। কুড়ালের আঘাতে দীপকের বুকে এবং পায়ে গুরুতর ক্ষত হয়ে যায়। ব্যাপক পরিমাণে রক্তক্ষরণও (Hindu Tribal Youth Kill) হয়।

    ৩০২ ধারায় মামলা দায়ের

    দীপক সাহায্যের জন্য চিৎকার করলে তাঁর স্ত্রী, বাবা এবং অন্যান্য গ্রামবাসী ঘটনাস্থলে (Gujarat) ছুটে আসেন । এরপর স্থানীয়দের জড়ো হতে দেখে আক্রমণকারীরা পালিয়ে যায়। শেষে একটি অ্যাম্বুল্যান্স ডাকা হয় এবং দীপককে গুরুতর অবস্থায় নভসারী সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ কিছুক্ষণ পরেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দীপকের (Hindu Tribal Youth Kill) জবানবন্দি রেকর্ড করে। চিকিৎসা চলাকালীন অবস্থার অবনতি ঘটে এবং পরে তিনি হাসপাতালেই মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর, পুলিশ এফআইআর-এ ৩০২ (হত্যা) ধারা যুক্ত করে।

    আগেও গরুর মাংস নিয়ে বিতর্ক

    দাভেল (Gujarat) এর আগে ২০২৩ সালে গরুর মাংস নিয়ে ব্যাপক আলোচনায় আসে। মারোলি পুলিশ আহমেদ মোহাম্মদ সুজানের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছিলেন। সেখানে গ্রামে একটি স্ন্যাকস্‌ সেন্টার চালাতেন অভিযুক্ত। অভিযানে জানা গিয়েছে মুরগি ও খাসির মাংসের সিঙ্গারার আড়ালে গরুর মাংস ভর্তি করে বিক্রি করতেন। খোদ পুলিশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জানিয়েছে, এই সুজান প্রায় চার বছর ধরে গরুর মাংসের সিঙ্গারা বিক্রি করছিলেন। গ্রামের মুসলিম এবং আশেপাশের এলাকার হিন্দু উভয়ই গরুর মাংসের সিঙ্গারা খেয়েছিল। না জানিয়ে জোর করে গরুর মাংস খাওয়ানো এবং ধর্ম ভ্রষ্টের কুচক্রান্তের দায়ে আহমেদ মোহাম্মদ সুজানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এলাকার হিন্দু জনমানসের মনে প্রবল পরিমাণে অসন্তোষ এবং ক্ষোভের সঞ্চার হয়। এরপর ব্যাপক সংঘর্ষ হয়।

LinkedIn
Share