Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Bangladeshi Detained: নথি যাচাইয়ে বড় সাফল্য! জম্মু-কাশ্মীরে ২১, দিল্লিতে ৬ সন্দেহভাজন বাংলাদেশি আটক

    Bangladeshi Detained: নথি যাচাইয়ে বড় সাফল্য! জম্মু-কাশ্মীরে ২১, দিল্লিতে ৬ সন্দেহভাজন বাংলাদেশি আটক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একদিকে জম্মু-কাশ্মীর (Jammu Kashmir), অন্যদিকে রাজধানী দিল্লি (Delhi)- দুই জায়গাতেই নথি যাচাই অভিযানে ধরা পড়লেন মোট ২৭ জন সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিক (Bangladeshi Detained)। জম্মু-কাশ্মীরের রামবান জেলার বানিহাল এলাকায় কাশ্মীর উপত্যকার উদ্দেশে যাওয়ার পথে ২১ জনকে আটক করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। বৈধ ভ্রমণ বা অভিবাসন সংক্রান্ত নথি দেখাতে না পারায় তাঁদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। একই সময়ে দিল্লির একটি হোটেল থেকে আরও ৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে (Bangladeshi Detained) আটক করা হয়েছে। অভিযোগ, তাঁরা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ভারতে অবস্থান করছিলেন। দুই ঘটনাকেই গুরুত্ব দিয়ে দেখছে প্রশাসন।

    নথি যাচাইয়েই ধরা পড়েন ২১ জন

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রামবান জেলার বানিহাল এলাকায় নিয়মিত নথি যাচাই অভিযানের সময় দুটি গাড়িকে থামানো হয়। গাড়ি দুটি জম্মু থেকে কাশ্মীর (Jammu Kashmir) উপত্যকার দিকে যাচ্ছিল। অভিযোগ, যাত্রীদের পরিচয় ও ভ্রমণ সংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখা যায়, ২১ জনের কেউই ভারতে বৈধভাবে অবস্থানের উপযুক্ত নথি বা অভিবাসন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এরপর তাঁদের সকলকে আটক (Bangladeshi Detained) করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে প্রত্যেকের পরিচয়, যাতায়াতের উদ্দেশ্য এবং ভারতে প্রবেশের পথ সম্পর্কে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

    বাংলাদেশ-যোগ!

    আটক ব্যক্তিরা বাংলাদেশের (Bangladeshi Detained) সিলেট জেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এমনটাই উঠে এসেছে। পাশাপাশি তদন্তকারীদের অনুমান, তাঁরা প্রথমে অসম সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। এরপর রেলপথে জম্মু (Jammu) পৌঁছে সেখান থেকে সড়কপথে কাশ্মীর (Kashmir) উপত্যকার দিকে রওনা দিয়েছিলেন। তবে এই তথ্য এখনও তদন্তাধীন এবং সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেই পুলিশ সূত্রের খবর।

    অনুপ্রবেশে কোনও সক্রিয় চক্র রয়েছে?

    কীভাবে ওই ব্যক্তিরা সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করলেন? তাঁদের যাতায়াতে কোনও দালালচক্র বা আন্তঃরাজ্য নেটওয়ার্ক জড়িত ছিল কি না? এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে তাঁদের চলাচলের জন্য কোনও ব্যক্তি বা সংগঠন সাহায্য করেছে কি না? সমস্তটাই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। প্রয়োজনে বিভিন্ন রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গেও তথ্য আদানপ্রদান করা হবে বলেও জানা গিয়েছে।

    বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করতেই অভিযান!

    গোটা ঘটনায় ইতিমধ্যেই মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর, তদন্তে যা তথ্য উঠে আসবে, তার ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি ও অভিবাসন সংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৈধ নথি ছাড়া ভারতে অবস্থানকারী বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করতে যে বিশেষ যাচাই অভিযান চলছে, এই ঘটনাও তারই অংশ। ভবিষ্যতেও এই ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

    দিল্লির হোটেল থেকেও আটক বাংলাদেশি

    অন্যদিকে, রাজধানী দিল্লিতে (Delhi) মধ্য জেলার বিভিন্ন হোটেল ও অতিথিশালায় পুলিশের বিশেষ নথি যাচাই অভিযান চালানো হয়। সেই সময় নবী করিম এলাকার আরাকাশান রোডের একটি হোটেল থেকে ৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক (Bangladeshi Detained) করা হয়। তদন্তে জানা যায়, তাঁরা দ্বৈত-প্রবেশ ভিসা নিয়ে ভারতে এসেছিলেন। তবে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও তাঁরা দেশে অবস্থান করছিলেন বলে অভিযোগ।

    শুরু বহিষ্কারের প্রক্রিয়া

    আটক ছয়জনকে পরে বিদেশি নাগরিক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের (FRRO) সামনে হাজির করা হয়। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় বিধিনিষেধ জারি করে তাঁদের একটি আটক কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলেই জানিয়েছে প্রশাসন। যদিও আটক ছয়জনের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনও অপরাধমূলক রেকর্ড পাওয়া যায়নি। তবে ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিবাসন সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা বলেই সূত্রের খবর। একইসঙ্গে তাঁদের ভারতে আসার উদ্দেশ্য এবং অবস্থানের সম্পূর্ণ তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • Hemant Soren: চাকরির আন্দোলনে টালমাটাল ঝাড়খণ্ড! জোটের অন্দরে বাড়ছে অস্বস্তি, হেমন্ত সরকারের উপর চাপ বাড়াচ্ছে কংগ্রেস?

    Hemant Soren: চাকরির আন্দোলনে টালমাটাল ঝাড়খণ্ড! জোটের অন্দরে বাড়ছে অস্বস্তি, হেমন্ত সরকারের উপর চাপ বাড়াচ্ছে কংগ্রেস?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকারি চাকরির আশায় দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নেওয়া হাজার হাজার যুবক-যুবতীর ক্ষোভ এখন রাজপথে। যত দিন গড়াচ্ছে রাঁচিতে ততই সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে। ক্রমশ ঝাঁঝ বাড়ছে চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনের (Jharkhand Job Protest)। আর সেই আন্দোলনের রাজনৈতিক অভিঘাত এবার পড়তে শুরু করেছে ঝাড়খণ্ডের শাসক জোটের অন্দরেও। একদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রকে লাগাতার আক্রমণ করছে কংগ্রেস, অন্যদিকে ঝাড়খণ্ডে তাদেরই জোট সরকারের বিরুদ্ধে উঠেছে একই ধরনের অভিযোগ। ফলে অস্বস্তিতে পড়েছে কংগ্রেসও। আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার বার্তা দিতেই এবার মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের (Hemant Soren) সঙ্গে বৈঠকে ঝাড়খণ্ড কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল।

    মুখ্যমন্ত্রী সোরেনের সঙ্গে বৈঠক

    চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনের (Jharkhand Job Protest) ঝাঁঝ বাড়ার সঙ্গেই বেড়েছে দলের অন্দরে ফাটলও। সূত্রের খবর, বুধবার মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের (Hemant Soren) সঙ্গে বৈঠকে অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির ঝাড়খণ্ড দায়িত্বপ্রাপ্ত কে রাজুর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে ঝাড়খণ্ড রাজ্য সরকারের কংগ্রেসের মন্ত্রীরাও। কংগ্রেসের লক্ষ্য এখন আন্দোলনকারীদের ‘যৌক্তিক উদ্বেগ’ দ্রুত সমাধানের জন্য সরকারকে পদক্ষেপ করতে অনুরোধ করা। তাঁরা চাইছে ছাত্র-যুব সমাজের কাছে এই বার্তা পৌঁছাক যে চাকরিপ্রার্থীদের দাবিকে তারা গুরুত্ব দিচ্ছে।

    কী নিয়ে আন্দোলন?

    রাজধানী রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান বিক্ষোভ (Jharkhand Job Protest) চালিয়ে যাচ্ছেন চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সরকারি নিয়োগ পরীক্ষাগুলিতে একাধিক অনিয়ম হয়েছে এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রথমে আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, ঘটনার তদন্ত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে দিয়ে করানো হোক। তবে পরে তাঁরা সেই দাবি পরিবর্তন করে ঝাড়খণ্ডের বাইরের অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্টের বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটির মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

    কেন চাপে কংগ্রেস (Congress)?

    এই আন্দোলনের সময়টাই কংগ্রেসের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগকে সামনে রেখে গত কয়েক মাস ধরেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব বিরোধী শিবির। দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্র-যুবদের আন্দোলন, পুলিশের পদক্ষেপ এবং সেই ইস্যুতে সংসদে বিরোধীদের বিক্ষোভ- সব মিলিয়ে বিষয়টি জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যু ছিল। এমন পরিস্থিতিতে ঝাড়খণ্ডে নিজেদের জোট সরকারের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠলেও যদি কংগ্রেস নীরব থাকে, তাহলে রাজনৈতিকভাবে বিরূপ বার্তা যেতে পারে বলে মনে করছে দলের নেতৃত্ব। সেই কারণেই জাতীয় নেতৃত্ব যুব কংগ্রেস ও ছাত্র সংগঠনের নেতাদেরও আন্দোলনস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দেখা করার নির্দেশ দিয়েছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। দলের এক শীর্ষ নেতার বক্তব্য, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী দীর্ঘদিন ধরেই নিয়োগে স্বচ্ছতা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে সরব। আগামী দিনেও তিনি এই ইস্যুতে ছাত্র-যুবদের সঙ্গে কর্মসূচি করবেন। তাই ঝাড়খণ্ডে আন্দোলনকারীদের প্রতি সহানুভূতি না দেখালে দলের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হতে পারে।

    নীরবতা ভেঙে আশ্বাস হেমন্ত সোরেনের (Hemant Soren)

    আন্দোলন শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে মুখ খুললেন সেরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন (Hemant Soren)। তিনি জানান, “আন্দোলনকারীদের সব দাবি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে সব বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং উপযুক্ত সময়ে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে।” সেই সিদ্ধান্তে আন্দোলনকারীরা আশ্বস্ত হবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন (Hemant Soren)।

    আগেও ছিল জোটে টানাপোড়েন

    তবে, জোটের অন্দরে ফাটলের বর্তমান পরিস্থিতি হঠাৎ তৈরি হয়নি। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (JMM) এবং কংগ্রেসের সম্পর্ক গত এক বছর ধরেই নানা কারণে চাপে রয়েছে। বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আগে আসন বণ্টন নিয়ে দুই দলের মধ্যে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসে। পরে ঝাড়খণ্ডের রাজ্যসভা নির্বাচনেও প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। জেএমএম চাইছিল জোটের দুই আসনেই তাদের প্রার্থী লড়ুক। কিন্তু কংগ্রেস আলাদা করে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করে। শেষ পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও ক্রস ভোটিংয়ের কারণে কংগ্রেসের প্রার্থী পরাজিত হন। সেই ঘটনার পর থেকেই দুই শরিকের সম্পর্কে দূরত্ব বেড়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।

    রাজনৈতিক গুরুত্ব 

    ঝাড়খণ্ডে সরকারি চাকরির বিষয়টি বরাবরই সংবেদনশীল। সেরাজ্যে বেকারত্ব, নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিলম্ব এবং পরীক্ষা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। তাই বর্তমান আন্দোলনকে শুধুমাত্র একটি নিয়োগ পরীক্ষার বিতর্ক হিসেবে দেখছে না রাজনৈতিক মহল। অনেকের মতে, এই আন্দোলন সরকারের স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক বিশ্বাসযোগ্যতা এবং শাসক জোটের ঐক্যেরও বড় পরীক্ষা। এখন দেখার, আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়? কারণ, এই ইস্যুতে সরকারের পদক্ষেপ শুধু চাকরিপ্রার্থীদের ভবিষ্যৎ নয়, ঝাড়খণ্ডের রাজনীতির সমীকরণেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

  • Narendra Modi: সময়সীমা ৩ দিন! তার মধ্যে মোদির ভিডিও ডিলিটের জন্য ক্ষমা চাইতেই হবে জুকেরবার্গকে, জানাল সংসদীয় কমিটি

    Narendra Modi: সময়সীমা ৩ দিন! তার মধ্যে মোদির ভিডিও ডিলিটের জন্য ক্ষমা চাইতেই হবে জুকেরবার্গকে, জানাল সংসদীয় কমিটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফেসবুক লাইভ ডিলিট নিয়ে মেটা কর্ণধার মার্ক জুকেরবার্গকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে জানিয়েছে বিশেষ সংসদীয় কমিটি। ক্ষমা চাওয়ার জন্য তিনদিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় মামলা দায়ের হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, যে বা যাঁরা গোটা ঘটনার জন্য দায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। নিশিকান্ত নেতৃত্বাধীন সংসদীয় তথ্যপ্রযুক্তি কমিটি জানিয়েছে, মোদি ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের প্রতিনিধি। তাঁর ভিডিও ডিলিট করে দেওয়ার অর্থ ‘গণতন্ত্রে’র উপর হামলা। জুকেরবার্গকে ক্ষমা চাইতেই হবে। অন্যথায় দায়ের করা হবে মামলা। যে বা যাঁরা দায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না করলে আইনি রক্ষাকবচও মিলবে না।

    ক্ষমা চাইতেই হবে জুকেরবার্গকে

    নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র নেতৃত্বে ছাত্র আন্দোলনের সূচনা ঘটে। সেই আন্দোলনের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে হয় ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। সেই আবহেই গত ২৩ জুলাই দেশের যুবসমাজকে ভিডিও বার্তা দিতে ফেসবুক লাইভ করেন মোদি। কিন্তু সেই ভিডিও আচমকাই গায়েব হয়ে যায় ফেসবুক থেকে। বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা শুরু হলে, মেটা জানায়, ভুলবশত ভিডিওটি ডিলিট হয়ে গিয়েছিল। ভিডিওটি ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে মেটা-র সাফাইয়ে সন্তুষ্ট নয় সংসদীয় তথ্যপ্রযুক্তি কমিটি। সংস্থার প্রতিনিধিদের ডেকে ক্ষোভ জানানো হয়। ক্ষমা চাইতে বলা হয় তাঁদের। মেটা জানায়, তারা আগেই দুঃখপ্রকাশ করেছে। আবারও ক্ষমা চাইতে রাজি। কিন্তু ওই কমিটি জানায়, মেটা নয়, ক্ষমা চাইতে হবে জুকেরবার্গকে। মেটা-র তরফে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কথা বলা হলেও কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের মনঃপুত হয়নি সেই যুক্তি।

    সার্বভৌম ক্ষমতার ওপর হস্তক্ষেপের সমান

    সরকারের অভিযোগ, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মতো একটি সাংবিধানিক পদের শীর্ষ ব্যক্তিত্বের বক্তব্য এভাবে সরিয়ে ফেলা অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং সার্বভৌম ক্ষমতার ওপর হস্তক্ষেপের সমান। মেটা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এখনো এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। তবে আগামী ৩ দিন জুকেরবার্গ কী অবস্থান নেন এবং ভারতীয় সংসদীয় কমিটির কাছে ক্ষমা চান কি না, সেদিকেই নজর রাখছে বিশ্ব রাজনৈতিক ও প্রযুক্তি মহল।

     

  • Nivedita Menon: ‘ভারত মনহুস দেশ’! প্রাক্তন জেএনইউ অধ্যাপিকা নিবেদিতা মেননের মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক, দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড়

    Nivedita Menon: ‘ভারত মনহুস দেশ’! প্রাক্তন জেএনইউ অধ্যাপিকা নিবেদিতা মেননের মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক, দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতকে ‘মনহুস দেশ’ বলে উল্লেখ। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপিকা নিবেদিতা মেননের (Nivedita Menon) একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের (India Controversy) সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক আন্দোলনের ফলে দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে কিছুটা স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। গত বারো বছরে তাঁদের মধ্যে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছিল যে তাঁরা সবসময় অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে থাকতেন।” সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহল, শিক্ষাজগত, প্রাক্তন ক্রীড়াবিদ, লেখক, সমাজকর্মী-সহ বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বহু মানুষ সমাজমাধ্যমে তাঁর মন্তব্যের বিরোধিতা করেন। সমালোচকদের একাংশের দাবি, এই ধরনের মন্তব্য দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এবং দেশের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করে।

    অজয় জাদেজার কড়া প্রতিক্রিয়া

    প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার অজয় জাদেজা নিবেদিতা মেননের (Nivedita Menon) মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “ভারতকে ‘মনহুস দেশ’ বলা অত্যন্ত লজ্জাজনক। তাঁর মতে, এমন মন্তব্য দেশের কোটি কোটি মানুষের অনুভূতিতে আঘাত হানে এবং একজন শিক্ষাবিদের কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য প্রত্যাশিত নয়।”

    সুনীল দেওধরের মন্তব্য

    ভারতীয় জনতা পার্টির প্রাক্তন জাতীয় সম্পাদক সুনীল দেওধরও এই ঘটনায় সরব হন। তিনি ভগিনী নিবেদিতার (Nivedita Menon) প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “ভগিনী নিবেদিতা নিজের জন্মভূমি ছেড়ে ভারতকে নিজের দেশ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। ভারতীয় সংস্কৃতি, দর্শন ও আধ্যাত্মিক ভাবধারাকে বিশ্বজুড়ে তুলে ধরেছিলেন। একই নাম বহন করলেও নিবেদিতা মেননের বক্তব্য সম্পূর্ণ বিপরীত। ধরনের মন্তব্য ভগিনী নিবেদিতার আদর্শেরও অবমাননা করে।” পাশাপাশি দেশভাগের ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও তুলে ধরেন বিজেপির প্রাক্তন জাতীয় সম্পাদক।

    নিবেদিতা মেননকে (Nivedita Menon) কটাক্ষ নিরঞ্জন কুমারের

    দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণ অধ্যাপক নিরঞ্জন কুমার বলেন, “নিবেদিতা মেননের (Nivedita Menon) মতো ব্যক্তিরা এই দেশের মাটি, জল, বাতাসে বড় হয়েছেন এবং জনগণের করের অর্থে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন। তাই দেশের প্রতি তাঁদের নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে। নিজের দেশকে ‘অভিশপ্ত’ বলে উল্লেখ করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অনেকেই ভারতকে ছোট করে দেখিয়ে অন্য দেশের প্রশংসা করেন, অথচ ভারতের উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং মানবিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন না।”

    মেননের মন্তব্যের সমালোচনা লেখক রতন শারদারের

    লেখক ও বিশ্লেষক রতন শারদাও সমাজমাধ্যমে নিবেদিতা মেননের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “যখন নিজেদের মতামতের একচেটিয়া প্রভাব থাকে না, তখনই কিছু মানুষ দেশ সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করতে শুরু করেন।”

    সমালোচকেরা মুখে ভারতের সাফল্যের কথা

    নিবেদিতা মেননের (Nivedita Menon) বক্তব্যের বিরোধিতায় অনেকেই ভারতের সাম্প্রতিক বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরেছেন। সমালোচকদের মতে, আন্তর্জাতিক কূটনীতি, অর্থনীতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং ক্রীড়াক্ষেত্রে ভারত গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। তাঁরা স্মরণ করিয়ে দেন, অতিমারির সময় ভারত শুধু নিজেদের নাগরিকদের জন্য নয়, বিশ্বের বহু দেশের কাছেও টিকা পৌঁছে দিয়েছিল। এছাড়াও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত দেশেও ভারত দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে। সমালোচকদের বক্তব্য, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে মানবিক ভূমিকা পালনকারী একটি দেশকে ‘মনহুস’ বলে আখ্যা দেওয়া বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    নতুন করে আলোচনায় অতীতের বিতর্কও

    নিবেদিতা মেননের (Nivedita Menon) অতীতের একাধিক বক্তব্যও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। সমালোচকদের দাবি, কাশ্মীর প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ভারতীয় সেনাবাহিনী সম্পর্কে বক্তব্য এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে তাঁর অবস্থান অতীতেও বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। এছাড়াও একটি আলোচনায় তথাকথিত ‘লাভ জিহাদ’ প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য নিয়েও রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিরোধীদের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে তাঁর বক্তব্য জাতীয়তাবাদী মতের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়েছে।

    তীব্র মতভেদ, জারি বিতর্ক (India Controversy)

    নিবেদিতা মেননের (Nivedita Menon) সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, দেশের ভাবমূর্তি এবং জনবুদ্ধিজীবীদের সামাজিক দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে তাঁর সমর্থকদের দাবি, প্রত্যেক নাগরিকের নিজের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে সমালোচকদের বক্তব্য, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে দেশের সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করা উচিত নয়। সব মিলিয়ে নিবেদিতা মেননের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। সমাজমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও বুদ্ধিজীবী মহলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

  • Jantar Mantar Protest: জন্তর-মন্তর বিক্ষোভে পাক-যোগ! পুলিশের নজরে ৪০০-র বেশি সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট

    Jantar Mantar Protest: জন্তর-মন্তর বিক্ষোভে পাক-যোগ! পুলিশের নজরে ৪০০-র বেশি সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জুলাই মাসে দিল্লির জন্তর-মন্তরে অনুষ্ঠিত ছাত্র বিক্ষোভকে (Jantar Mantar Protest) ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে পরিকল্পিত ডিজিটাল প্রচার চালানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। তদন্তে শুধু সোশাল মিডিয়ার কার্যকলাপই নয়, আর্থিক লেনদেন এবং বিদেশি যোগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রায় ১৮০টি ইনফ্লুয়েন্সার ও ইউটিউব চ্যানেল, তিনটি বেসরকারি ডিজিটাল মার্কেটিং সংস্থা এবং পাকিস্তান-যোগের অভিযোগ থাকা ৪০০-র বেশি সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেল পুলিশের নজরে রয়েছে। পুলিশের সন্দেহ, জন্তর-মন্তরের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সমন্বিতভাবে নির্দিষ্ট কিছু কনটেন্ট ছড়িয়ে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা হয়েছিল, যাতে ঘটনাটি বাস্তবের তুলনায় অনেক বড় জাতীয় সংকট হিসেবে প্রতীয়মান হয়।

    কী খতিয়ে দেখছে পুলিশ?

    তদন্তকারীরা ১৯ ও ২০ জুলাই জন্তর-মন্তরে হওয়া বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে অনলাইনে একই ধরনের বার্তা কীভাবে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল, তা বিশ্লেষণ করছেন। পুলিশের দাবি, বিদেশে পরিচালিত কিছু সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট অতীতেও ‘অপারেশন সিঁদুর’-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সময় সক্রিয় ছিল। সেই একই ধরনের অ্যাকাউন্ট জন্তর-মন্তর বিক্ষোভের সময়ও সক্রিয় হয়ে ওঠায় বিদেশি প্রভাব বা দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত প্রচারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। দিল্লি পুলিশ এখনও পর্যন্ত কোনও ইনফ্লুয়েন্সার, সংস্থা বা সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের নাম প্রকাশ করেনি। তদন্তকারীদের বক্তব্য, আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলি কেবল তদন্তের অংশমাত্র।

    আর্থিক লেনদেনও তদন্তের আওতায়

    ডিজিটাল প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি বা সংস্থাগুলি কোনও গোপন আর্থিক সুবিধা পেয়েছিল কি না, তাও তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা বিশেষভাবে নজর দিচ্ছেন— পিয়ার-টু-পিয়ার ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন, অ্যাফিলিয়েট বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অর্থপ্রাপ্তি, তৃতীয় পক্ষের মার্কেটিং কনসালটেন্সি চুক্তি এবং এমন অন্যান্য ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতি, যেগুলির প্রচলিত ব্যাংকিং নথি থাকে না।

    সোশাল মিডিয়া অ্যালগরিদমের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে

    তদন্তে উঠে এসেছে, বিভ্রান্তিকর দাবি, সম্পাদিত ভিডিও, ডিপফেক বা অতিরঞ্জিত তথ্য প্রথমে অল্প কয়েকটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে লাইক, শেয়ার, কমেন্ট ও ভিউ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদম সেই কনটেন্টকে আরও বৃহৎ পরিসরে পৌঁছে দেয়। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, জন্তর-মন্তরের বিক্ষোভের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রক্রিয়া কাজ করেছিল কি না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে একই ধরনের বার্তার একাধিক সংস্করণ তৈরি করে ইনস্টাগ্রাম, এক্স (সাবেক টুইটার), ইউটিউব-সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অল্প সময়ের ব্যবধানে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দিচ্ছে তদন্তকারীরা।

    তদন্তের মূল লক্ষ্য

    দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, তদন্তের উদ্দেশ্য শুধু ভুয়ো তথ্য শনাক্ত করা নয়। বরং জন্তর-মন্তরের তুলনামূলকভাবে সীমিত পরিসরের বিক্ষোভকে পরিকল্পিতভাবে বৃহত্তর অনলাইন আন্দোলনে রূপ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল কি না এবং তার মাধ্যমে জনমনে উদ্বেগ, বিভ্রান্তি ও সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয়েছিল কি না, সেটাই এখন তদন্তের মূল বিষয়। এখনও পর্যন্ত এই মামলায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি এবং কোনও চার্জশিটও দাখিল হয়নি। ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ, আর্থিক নথি এবং সোশাল মিডিয়ার কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করে দেশীয় বা বিদেশি কোনও সংগঠিত চক্র জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশ।

  • Netanyahu: ইরান সংঘাতের আবহে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন নেতানিয়াহু, মোদিকে বললেন ‘অন্যতম সেরা বন্ধু’

    Netanyahu: ইরান সংঘাতের আবহে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন নেতানিয়াহু, মোদিকে বললেন ‘অন্যতম সেরা বন্ধু’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্তমানে চলা ইরান সংঘাত এবং দ্রুত বদলে যাওয়া ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যেই ভারতের (India) সঙ্গে সম্পর্ককে আরও জোরদার করার বার্তা দিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Netanyahu)। সোমবার ইজরায়েলের বিদেশনীতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইজরায়েল বিপুল গুরুত্ব দিচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তিনি নিজের “অন্যতম সেরা বন্ধু” বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ইজরায়েলের প্রতি ভারতের যে সমর্থন, তারও ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এমন একটা সময়ে সামনে এল, যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং তার প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ইজরায়েল একদিকে যেমন নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ তৈরি করার চেষ্টা করছে, তেমনই পুরানো ও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করার দিকে জোর দিচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপটে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা স্পষ্ট করলেন ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী।

    ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে ইজরায়েল (Netanyahu)

    ইজরায়েলের বিদেশনীতি প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা ইজরায়েলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। তাঁর কথায়, “আমাদের আরও অতিরিক্ত জোট গড়ে তুলতে হবে।” এর পরেই ভারতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “এই কারণেই আমি ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগ করছি। আমার বন্ধু নরেন্দ্রর সঙ্গে এই সম্পর্ককে আমি অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছি। তিনি আমাদের অন্যতম সেরা বন্ধু।” ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে নেতানিয়াহু আরও বলেন, “লোকে বলে ইজরায়েল বিচ্ছিন্ন। কিন্তু ভারতে ইজরায়েল এবং ব্যক্তিগতভাবে আমি যে সমর্থন পাই, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।” নেতানিয়াহুর বক্তব্যে স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইজরায়েলের কূটনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে ভারতকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে ভারতের মতো একটি প্রভাবশালী দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখা ইজরায়েলের কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

    বহু ক্ষেত্রে বাড়ছে ভারত-ইজরায়েল সহযোগিতা

    গত কয়েক বছরে ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্ক একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং বৃহত্তর কৌশলগত সহযোগিতা—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জমানায় এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। নেতানিয়াহুও দুই দেশের সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন কৌশলগত ক্ষেত্রে সহযোগিতার পরিধিও ক্রমশ বিস্তৃত হয়েছে। ২০১৮ সালে নেতানিয়াহুর ভারত সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল। সেই সফরের সময় ভারত ও ইজরায়েল মোট ন’টি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। সেই সময় দুই দেশ তাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে “বিশেষ” অংশীদারত্ব হিসেবে বর্ণনা করেছিল (Netanyahu)। ওই সফরের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রের পাশাপাশি আরও একাধিক ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর পথ প্রশস্ত হয়। পরবর্তী সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের পরিধিও বেড়েছে।

    ২০২৬ সালে নতুন মাত্রা পেল সম্পর্ক

    ২০২৬ সালেও ভারত ও ইজরায়েলের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং নেতানিয়াহু দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উন্নীত করে “শান্তি, উদ্ভাবন ও সমৃদ্ধির জন্য ভারত-ইজরায়েল বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব” হিসেবে তুলে ধরেছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী মোদি ইজরায়েল সফরে গিয়েছিলেন। সেই সফরও দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হয়। সফরের সময় বিভিন্ন কৌশলগত ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। নতুন পর্যায়ের এই অংশীদারিত্বের আওতায় এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা), গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, শ্রমশক্তির চলাচল, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো একাধিক ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ক এখন আর শুধুমাত্র প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। অর্থনীতি, প্রযুক্তি, মানবসম্পদ এবং উদ্ভাবনের মতো ক্ষেত্রেও দুই দেশ পরস্পরের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতা থেকে প্রযুক্তি—বিস্তৃত হচ্ছে পরিধি

    ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্কের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সরঞ্জাম এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরস্পরের সঙ্গে কাজ করছে। সময়ের সঙ্গে এই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হয়েছে (India)। প্রযুক্তি ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ বেড়েছে। এআই, উদ্ভাবন এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তির মতো নতুন ক্ষেত্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও বহুমাত্রিক করে তুলছে (Netanyahu)। গুরুত্বপূর্ণ খনিজের ক্ষেত্রেও সহযোগিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিগত ও শিল্পক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের গুরুত্ব দ্রুত বাড়ছে। ফলে এই ক্ষেত্রে ভারত ও ইজরায়েলের সহযোগিতা ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বাণিজ্য এবং শ্রমশক্তির চলাচলের ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো সামাজিক ক্ষেত্রেও সহযোগিতা সম্প্রসারিত হচ্ছে। এর ফলে ভারত-ইজরায়েল সম্পর্ক ধীরে ধীরে আরও বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক অংশীদারিত্বে পরিণত হচ্ছে।

    ভারতের সমর্থনের প্রশংসা নেতানিয়াহুর

    নেতানিয়াহু সাম্প্রতিক সময়ে ভারতকে “প্রধান বৈশ্বিক শক্তি” হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে ইজরায়েলের জন্য ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বলে অভিহিত করেছেন তিনি। ইজরায়েলের প্রতি ভারতের সমর্থনের বিষয়টিও একাধিকবার তুলে ধরেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারত ইজরায়েলকে যেভাবে সমর্থন করে আসছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ভারতকে এমন একটি দেশ হিসেবে তুলে ধরেছেন, যে ইজরায়েলকে “বিপুলভাবে সমর্থন” করে চলেছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে এই বক্তব্যের তাৎপর্যও যথেষ্ট। ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি যখন অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে, তখন ইজরায়েল তার আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বকে আরও মজবুত করার চেষ্টা করছে। সেই কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।

    ভারতের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ

    ভারত দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের মতো স্পর্শকাতর অঞ্চলে ভারতের অর্থনৈতিক, কৌশলগত এবং কূটনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। ফলে ইজরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি বৃহত্তর আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়টিও ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ইজরায়েলের সঙ্গে ভারতের প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে ইজরায়েল যে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে, নেতানিয়াহুর বক্তব্য তারই প্রতিফলন।

    “অন্যতম সেরা বন্ধু”

    সব মিলিয়ে, ইরান সংঘাতের আবহে নেতানিয়াহুর ভারত সম্পর্কে সাম্প্রতিক মন্তব্য দুই দেশের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ঘনিষ্ঠতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। নরেন্দ্র মোদিকে “অন্যতম সেরা বন্ধু” হিসেবে উল্লেখ করা এবং ভারত থেকে ইজরায়েলের প্রতি পাওয়া সমর্থনের প্রশংসা করা থেকে এটি স্পষ্ট যে, তেল আভিভের কাছে নয়াদিল্লির গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য, এআই, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং শ্রমশক্তির মতো একাধিক ক্ষেত্রে (India) সহযোগিতা বাড়ায় দুই দেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনাই জোরালো হচ্ছে (Netanyahu)।

     

  • DRDO AI Swarm Drone: যুদ্ধের চেহারা বদলে দেবে ৫০ ড্রোনের ‘ঝাঁক’! এমএসএমই-দের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ‘এআই সোয়ার্ম ড্রোন’ বানাচ্ছে ডিআরডিও

    DRDO AI Swarm Drone: যুদ্ধের চেহারা বদলে দেবে ৫০ ড্রোনের ‘ঝাঁক’! এমএসএমই-দের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ‘এআই সোয়ার্ম ড্রোন’ বানাচ্ছে ডিআরডিও

    সুশান্ত দাস

    ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার (Atmanirbhar Bharat) পথে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO)। আধুনিক যুদ্ধের দ্রুত বদলে যাওয়া চাহিদার কথা মাথায় রেখে এ বার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর সোয়ার্ম ড্রোন (Swarm Drone) তৈরির জন্য দেশীয় বেসরকারি সংস্থা, বিশেষ করে স্টার্ট-আপ এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME)-গুলিকে আহ্বান জানিয়েছে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা ডিআরডিও (DRDO)। এই প্রকল্প সফল হলে ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যেমন বড় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আসবে, তেমনই দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পও নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এমএসএমই-দের জন্য ডিআরডিও-র নতুন প্রকল্প

    ডিআরডিও এই প্রকল্পের নাম দিয়েছে ‘ডেভেলপমেন্ট অফ ক্লোজ ফর্মেশন ফ্লাইং অফ মাল্টিপল ড্রোনস্’ । এটি সংস্থার প্রযুক্তি উন্নয়ন তহবিল (TDF) প্রকল্পের অধীনে বাস্তবায়িত হবে। টিডিএফ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল দেশীয় এমএসএমই ও স্টার্টআপগুলিকে অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরিতে উৎসাহ দেওয়া এবং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে তৃণমূল স্তরের উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের যুদ্ধ ক্রমশ আকাশপথকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে। সেই কারণে স্বল্প খরচে, এআই-নির্ভর এবং সমন্বিতভাবে পরিচালিত সোয়ার্ম ড্রোন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    কী এই সোয়ার্ম ড্রোন?

    সোয়ার্ম ড্রোন হল একসঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা একাধিক মানববিহীন বিমান (UAV)-এর একটি নেটওয়ার্ক। ডিআরডিও-র পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি ‘মাস্টার’ ড্রোন এবং প্রায় ৫০টি ‘স্লেভ’ ড্রোন মিলিয়ে একটি সোয়ার্ম তৈরি হবে। এই ড্রোনগুলি একে অপরের থেকে মাত্র অর্ধ মিটার দূরত্ব বজায় রেখে উড়তে পারবে এবং রিয়েল-টাইমে পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখবে। মাস্টার ড্রোনটি মূল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। এটি স্থলভিত্তিক কন্ট্রোল স্টেশন থেকে নির্দেশ গ্রহণ করে বাকি ড্রোনগুলিকে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করবে। ফলে পুরো ড্রোন নেটওয়ার্কটি একযোগে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ বা আক্রমণ চালাতে সক্ষম হবে।

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রযুক্তি?

    একটি মাত্র ড্রোনকে শত্রুপক্ষ সহজেই শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে সমন্বিতভাবে চলা ৫০টি ড্রোনের একটি সোয়ার্মকে থামানো অনেক বেশি কঠিন। কোনও একটি ড্রোন ধ্বংস হলেও বাকি ড্রোনগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিন্যাস করে মিশন চালিয়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তিই সোয়ার্ম ড্রোনকে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর করে তুলেছে।

    কী কী করতে পারবে ডিআরডিও-র সোয়ার্ম ড্রোন?

    এই সোয়ার্ম ড্রোনগুলির অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল—

    • ● প্রায় ৫,০০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত উড়তে সক্ষম।
    • ● পাহাড়ি এলাকা ও দুর্গম সীমান্ত অঞ্চলেও সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারবে।
    • ● প্রবল বাতাসেও স্থিতিশীলভাবে উড়তে সক্ষম।
    • ● প্রতিটি ড্রোনে ক্যামেরা, নজরদারি ব্যবস্থা বা ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সরঞ্জাম বহন করা যাবে।
    • ● একসঙ্গে ১০০-রও বেশি শত্রু ড্রোন শনাক্ত ও ট্র্যাক করতে পারবে।
    • ● প্রচলিত রেডারের নজর এড়িয়ে রেকি, আর্টিলারি সংশোধন, কামিকাজে হামলা এবং সমন্বিত সোয়ার্ম আক্রমণ চালাতে সক্ষম।
    • ● মাত্র ৫০০ মিলিসেকেন্ডের মধ্যে নিজেদের অবস্থানের ত্রুটি সংশোধন করতে পারবে।
    • ● ৭০ শতাংশেরও বেশি দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্য থাকায় সাইবার নিরাপত্তাও আরও শক্তিশালী হবে।

    ইলেকট্রনিক যুদ্ধেও বড় অস্ত্র

    সোয়ার্ম ড্রোনের আর একটি বড় সুবিধা হল, একসঙ্গে উড়তে গিয়ে এগুলি কার্যত ‘ভার্চুয়াল অ্যান্টেনা’ হিসেবে কাজ করতে পারে। এর মাধ্যমে শক্তিশালী রেডিও সিগন্যাল তৈরি করে শত্রুপক্ষের যোগাযোগ ব্যবস্থা শনাক্ত করা বা জ্যাম করার মতো কাজও করা সম্ভব। ফলে ভবিষ্যতের ইলেকট্রনিক যুদ্ধেও এই প্রযুক্তির গুরুত্ব অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

    কম খরচে বেশি কার্যকর

    ভারী ও ব্যয়বহুল সামরিক প্ল্যাটফর্মের পরিবর্তে তুলনামূলক কম খরচে বহু ড্রোন ব্যবহার করে একই সঙ্গে নজরদারি, বিভ্রান্তিমূলক অভিযান (Decoy Mission), নির্ভুল হামলা (Precision Strike) এবং আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এই সোয়ার্ম ড্রোনে ‘সফট কিল’ এবং ‘হার্ড কিল’— উভয় ধরনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাই থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

    আত্মনির্ভর ভারতের পথে বড় পদক্ষেপ

    প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ডিআরডিও-র এই উদ্যোগ শুধু নতুন প্রজন্মের যুদ্ধ প্রযুক্তি তৈরির দিকেই নয়, দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থায় এমএসএমই-দের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে। এর ফলে একদিকে যেমন ভারতের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের দেশীয় উৎপাদন বাড়বে, তেমনই তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সুযোগ। আধুনিক যুদ্ধের বাস্তবতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর স্বল্প ব্যয়ের সোয়ার্ম ড্রোনই আগামী দিনে ভারতের আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক সক্ষমতার অন্যতম প্রধান শক্তি হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

  • Udhayanidhi Stalin Arrested: অভিনেত্রী তৃষাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, গ্রেফতার উদয়নিধি স্ট্যালিন, নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি বিজেপির

    Udhayanidhi Stalin Arrested: অভিনেত্রী তৃষাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, গ্রেফতার উদয়নিধি স্ট্যালিন, নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার সকালে তুমুল নাটকীয় পরিস্থিতিতে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হল তামিলনাড়ুর বিরোধী দলনেতা উদয়নিধি স্ট্যালিনকে। অভিনেত্রী তৃষা কৃষ্ণণকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে চেন্নাইয়ে স্ট্যালিনকে গ্রেফতার (Udhayanidhi Stalin Arrested) করে তামিলনাড়ু পুলিশ। সোমবার একটি সমাবেশে তৃষাকে নিয়ে উদয়নিধির মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছিল তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। তাঁর (Actor Trisha) মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করে সরব হয়েছিল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগম (TVK)। পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার সময় উদয়নিধিকে হাসতে দেখা যায়। গ্রেফতারি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি বিষয়টিকে “একটা রসিকতা” হিসেবেই দেখছেন এবং এর বিরুদ্ধে “আইনিভাবে লড়াই করবেন”।

    উদয়নিধিকে কটাক্ষ (Udhayanidhi Stalin Arrested)

    উদয়নিধির গ্রেফতারিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে আক্রমণ করেছে তাঁর দল ডিএমকে। দলের নেতা টিকেএস এলাঙ্গোভান বলেন, “কারও বিরুদ্ধে কিছু বলা হয়নি। উদয়নিধি বিজয়ের ব্যর্থতাগুলি তুলে ধরেছিলেন। তাঁর বক্তব্যে অপমানজনক কিছু ছিল না। এমনকি তিনি তৃষার নামও নেননি।” এদিকে, টিভিকে নেতা আমেরিকাই নারায়ণন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ খারিজ করে বলেন, “উদয়নিধি স্ট্যালিনকে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় বা টিভিকে-র বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য গ্রেফতার করা হয়নি, বরং একজন মহিলাকে অপমান করার জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে।” উদয়নিধিকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, তাঁর নাম “উদয়নিধি” না হয়ে “ভালগার-নিধি” হওয়া উচিত।

    আপত্তিকর দ্ব্যর্থবোধক মন্তব্য

    সোমবার তাঞ্জাভুরে কাবেরী জলবণ্টন বিতর্ক নিয়ে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখছিলেন উদয়নিধি। সেখানে তিনি মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয়কে নিশানা করে অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী উদাসীন থাকায় তামিলনাড়ু এক ফোঁটা কাবেরীর জলও পায়নি। এর মধ্যেই সমাবেশে উপস্থিত জনতার একাংশ “তৃষা, তৃষা” বলে স্লোগান দিতে শুরু করেন। বক্তব্য থামিয়ে মুখে বিদ্রূপের হাসি নিয়ে উদয়নিধি তার জবাবে একটি আপত্তিকর দ্ব্যর্থবোধক মন্তব্য করেন। সেই মন্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরেই শুরু হয় তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া। ঘটনার প্রতিবাদে জাতীয় মহিলা কমিশনের কাছে অভিযোগ জানিয়ে উদয়নিধির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে TVK। দলটি পুলিশের কাছেও অভিযোগ দায়ের করেছে। জাতীয় মহিলা কমিশনের কাছে দেওয়া অভিযোগে TVK বলেছে, “দর্শকদের স্লোগানের প্রেক্ষিতে উদয়নিধি স্ট্যালিন একজন বিশিষ্ট মহিলা জনপরিচিত ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর, দ্ব্যর্থবোধক মন্তব্য এবং অশ্লীল ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলেছেন।” অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, “একটি রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে এই ধরনের ভাষা ব্যবহার জনসমক্ষে মহিলাদের পণ্য হিসেবে দেখানো এবং মৌখিকভাবে হেনস্থাকে স্বাভাবিক করে তোলে।”

    বিজেপির বক্তব্য

    উদয়নিধির গ্রেফতারের দাবি আগেই জানিয়েছিল তামিলনাড়ু বিজেপিও। বিজেপির প্রধান মুখপাত্র নারায়ণন তিরুপতি বলেন, “তাঞ্জাভুরে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় এবং তৃষাকে নিয়ে উদয়নিধি স্ট্যালিনের (Udhayanidhi Stalin Arrested) দ্ব্যর্থবোধক মন্তব্য অত্যন্ত ঘৃণ্য, অশ্লীল, কুরুচিকর এবং লজ্জাজনক। সত্যি বলতে কী, একজন মা, স্ত্রী ও কন্যাসন্তান থাকা কোনও দুর্বৃত্ত বা চোরও এভাবে অশ্লীল কথা বলবে না। যে ব্যক্তি এই ধরনের কথা বলেন, কোনও মা, স্ত্রী বা মেয়ে তাঁকে ক্ষমা করবেন না। কিন্তু আরও লজ্জার বিষয় হল, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন নীরবে দেখছেন, যখন নিজেদের ‘দ্রাবিড় মডেল’ বলে দাবি করা এই ব্যক্তিরা প্রকাশ্যেই এই ধরনের কথা বলছেন।” তিনি আরও বলেন, “এই নিম্নমানের বক্তব্যের জন্য উদয়নিধিকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হলে তামিলনাড়ুরই সম্মান বাড়বে।”

    অভিনেত্রীকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য

    তৃষাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। অতীতেও অভিনেত্রীকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা হয়েছে, যার কেন্দ্রে ছিলেন অভিনেতা বিজয়। তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই চলচ্চিত্র জগতের পাশাপাশি রাজনীতির বিভিন্ন ব্যক্তিও তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করে আসছেন (Actor Trisha)। চলতি বছরের শুরুতেও তামিলনাড়ু বিজেপি নেতা নৈনার নাগেন্দ্রন মন্তব্য করেছিলেন, রাজনীতিতে প্রবেশের আগে বিজয়ের “তৃষার বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসা” উচিত। সেই সময় তৃষার আইনজীবীরাও তাঁর হয়ে (Udhayanidhi Stalin Arrested) এর প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।

    নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি

    মঙ্গলবার উদয়নিধির (Udhayanidhi Stalin Arrested) মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিজেপি নেত্রী বনাথি শ্রীনিবাসনও। তাঁর অভিযোগ, উদয়নিধির বক্তব্য ছিল ‘অশালীন’ এবং তাতে দ্ব্যর্থবোধক ইঙ্গিত ছিল। অভিনেত্রী তৃষার কাছে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার এক্স হ্যান্ডেলে করা একটি পোস্টে বনাথি লেখেন, “দ্ব্যর্থবোধক ইঙ্গিতে ভরা বিরোধী দলনেতা উদয়নিধি স্ট্যালিনের অশালীন বক্তব্যের আমি তীব্র নিন্দা জানাই।” ডিএমকের রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়েও সরব হন বিজেপির এই নেত্রী। তিনি বলেন, “ডিএমকের সদস্যরা এই ধরনের অসভ্য ও দায়িত্বজ্ঞানহীন ভাষায় কথা বলেন। তাঁদের এই অসভ্য ও দায়িত্বজ্ঞানহীন রাজনীতির কারণেই মানুষ তাঁদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। তারপরেও ডিএমকের আচরণে কোনও পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যায়নি।”

    নারীদের সম্মান করা দরকার

    উদয়নিধির বক্তব্য নিয়ে সমালোচনায় সরব হয়েছেন বিজেপি নেত্রী তথা প্রাক্তন বিধায়ক খুশবু সুন্দরও। তাঁর অভিযোগ, ওই মন্তব্য (উদয়নিধি স্ট্যালিনের) ছিল “অশালীন, নিম্নরুচির এবং অত্যন্ত অবমাননাকর”। এক্স হ্যান্ডেলে খুশবু লেখেন, “উদয়নিধি স্ট্যালিনের বক্তব্য শুনেছি। তা ছিল অশালীন, নিম্নরুচির এবং অত্যন্ত অবমাননাকর। তাঁর বক্তব্যে সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই প্রতিফলন দেখা যায়, যা তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে গ্রহণ করতে আগ্রহী বলে মনে হয়।” রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জনসমক্ষে বক্তব্য রাখার ক্ষেত্রে একটি সীমারেখা থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন খুশবু। তাঁর কথায়, “রাজনৈতিক মতপার্থক্য যা-ই থাকুক, জনসমক্ষে বক্তব্যের একটি সীমা থাকা উচিত। নারীদের সম্মান করা দরকার, তাঁদের নিজেদের ইচ্ছা ও খেয়াল পূরণের জন্য দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।” তৃষার কাছে উদয়নিধির (Udhayanidhi Stalin Arrested) নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানিয়েছেন খুশবু।

     

  • Mohan Bhagwat: মুম্বইয়ে জেন জি-জেন আলফার সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন মোহন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: মুম্বইয়ে জেন জি-জেন আলফার সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন মোহন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট, জেন জি (Gen Z) এবং জেন আলফা (Gen Alpha)-র তরুণদের সঙ্গে বিশেষ আলোচনায় বসবেন আরএসএসের (RSS) সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। মুম্বইয়ের নীতা মুকেশ আম্বানি কালচারাল সেন্টারে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের তরফে প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, ইন্ডিয়া’স ইন্টারন্যাশনাল মুভমেন্ট টু ইউনাইট নেশনস (IIMUN)-এর ১৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বার্ষিক চ্যাম্পিয়নশিপ কনফারেন্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবেই ভাগবতের এই অধিবেশন হবে। অনুষ্ঠানে ভারতের ১০০টিরও বেশি শহর থেকে ২,০০০-এর বেশি উচ্চমাধ্যমিক স্তরের পড়ুয়া অংশ নেবেন।

    নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ কাজ (RSS)

    অংশগ্রহণকারী পড়ুয়াদের বয়স ১৫ থেকে ১৯ বছরের মধ্যে। দেশের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের প্রতিনিধিত্ব করবেন এই পড়ুয়ারা। এঁরাই ভারতের অন্যতম বৃহৎ যুব-নেতৃত্বাধীন সমাবেশে অংশ নেবেন বলে দাবি আয়োজকদের। অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে আইআইএমইউএন-এর প্রতিষ্ঠাতা ঋষভ শাহ বলেন, ‘‘নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুধু পরবর্তী প্রজন্মকে পথ দেখানো নয়, তাদের কথা শোনাও। ভারতের যাত্রার এই গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এই আলোচনা আগের চেয়েও ঢের বেশি প্রয়োজন। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই সমাবেশে বক্তব্য রাখার আমন্ত্রণ গ্রহণ করায় আমি মোহন ভাগবতজির কাছে কৃতজ্ঞ।’’ ভাগবতের বক্তব্যের মধ্যে দিয়েই আইআইএমইউএন-এর বার্ষিক চ্যাম্পিয়নশিপ কনফারেন্সের সূচনা হবে। এই সম্মেলনে পড়ুয়ারা স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিতর্ক ও মতবিনিময় করবেন। আইআইএমইউএন-এর তরফে জানানো হয়েছে, প্রতি বছর ১০৮টি সম্মেলন এবং হাজার হাজার নাগরিক ও সামাজিক উদ্যোগের আয়োজন করা হয়। ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি তরুণরাই মূলত এই কর্মসূচিগুলির নেতৃত্ব দেন, অংশ নেন ১১ থেকে ১৯ বছর বয়সি (RSS) পড়ুয়ারা। এবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল থিম হল, ‘‘বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করার ক্ষেত্রে যুবসমাজের ভূমিকা—ভারতীয় পথে।’’

    ‘ভারত’-এর ভাবনা ছড়িয়ে দেওয়াই লক্ষ্য

    ২০১১ সালে ঋষভ শাহ আইআইএমইউএন প্রতিষ্ঠা করেন। এটি একটি পাবলিক অ্যাফেয়ার্স প্ল্যাটফর্ম, যার লক্ষ্য ভারত বা ‘ভারত’-এর ভাবনা ছড়িয়ে দিয়ে আগামী দিনের নেতৃত্বকে সচেতন করা এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া। গত ১৫ বছর ধরে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি তরুণদের পরিচালনায় সংগঠনটির বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে। আইআইএমইউএন-এর বহু অংশগ্রহণকারী ও সংগঠক পরবর্তী কালে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, আমলা, লেখক, আইনজীবী, অভিনেতা এবং ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। আইআইএমইউএন-এর উপদেষ্টা পর্ষদেও বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অজয় পিরামল, দীপক পারেখ, নাদির গোদরেজ, শশী তারুর, প্রাক্তন বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, করণ জোহর, প্রাক্তন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানরা এবং পিটি ঊষা-সহ আরও অনেকে। প্রতিষ্ঠার ১৫তম বছরে আইআইএমইউএন-এর কর্মসূচি ভারতের ২৭৫টি শহর এবং বিশ্বের ৪০টি দেশে বিস্তৃত হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, তাদের বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে ৭.৫ কোটিরও বেশি তরুণের কাছে (Mohan Bhagwat) পৌঁছনো সম্ভব (RSS) হয়েছে। পাশাপাশি ১ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি স্কুল-কলেজের সঙ্গেও কাজ করছে আইআইএমইউএন।

     

  • PM Modi Video Row: ‘‘ক্ষমা চাইতে হবে জুকেরবার্গকে’’, মোদির ভিডিও-বিতর্কে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি কেন্দ্রের

    PM Modi Video Row: ‘‘ক্ষমা চাইতে হবে জুকেরবার্গকে’’, মোদির ভিডিও-বিতর্কে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিও (PM Modi Video Row) মুছে ফেলার ঘটনায় সরাসরি মার্ক জুকেরবার্গের ক্ষমাপ্রার্থনা দাবি করল তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় প্যানেল। বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে ওই প্যানেলের মাথায় রয়েছেন। মেটা এ ঘটনায় আগেই ক্ষমা চেয়েছে। কিন্তু প্যানেলের বক্তব্য, সংস্থার তরফে শুধু ক্ষমা চাইলে হবে না। কী ভাবে এটা ঘটল, তার জন্য কী আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে, জানাতে হবে। ক্ষমা চাইতে হবে মেটা-র মালিক স্বয়ং মার্ক জুকেরবার্গকে। জেন-জি পড়ুয়াদের উদ্দেশ্য করে বানানো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাইরাল সেলফি ভিডিও হঠাৎ করেই ফেসবুক থেকে গায়েব হয়ে যায়। এই নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয়।

    শিশু যৌন নিপীড়নমূলক বিষয়বস্তু কেন?

    সোমবার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় কমিটির বৈঠকের পর কমিটি প্রধান নিশীকান্ত দুবের সাফ কথা, এমন ঘটনায় ‘মেটা’র ক্ষমা প্রার্থনা যথেষ্ট নয়, এই ঘটনার দায় নিতে হবে তাদের। সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়াও প্রয়োজন। সোশাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনার জন্য তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সোমবার গুগল, মেটা ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলির প্রতিনিধি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ও ‘মেইটি’ শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে শিশু যৌন নিপীড়নমূলক বিষয়বস্তু কেন রয়েছে? এই সংক্রান্ত প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় মেটার কর্তাদের।

    ভারতকে অশান্ত করার চেষ্টা

    এমন ঘটনায় মেটার ক্ষমা প্রার্থনা যথেষ্ট নয়, বলে দাবি করে নিশিকান্ত জানান, গত বছরের (২০২৫) জানুয়ারিতে জুকেরবার্গ দাবি করেছিলেন, কোভিডের পরে বিভিন্ন দেশের দেওয়া সরকারি তথ্যের উপরে মানুষ আস্থা হারিয়েছে। তাঁর আরও দাবি ছিল, সেই কারণেই ২০২৪-এ যে সব দেশে নির্বাচন হয়েছে, সেখানে অনেক ক্ষমতাসীন সরকারই ভোটে ধাক্কা খেয়েছে। এই প্রসঙ্গে ভারতের নামও নিয়েছিলেন তিনি। সেই নিয়ে বিপুল শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ক্ষমাও চেয়েছিল মেটা। এ দিন সেই প্রসঙ্গও টেনে নিশিকান্ত বলেন, ‘‘জুকেরবার্গ দীর্ঘদিন ধরেই ভারতকে অশান্ত করার চেষ্টা করছেন।’’ নিশিকান্ত জানিয়ে দেন, জুকেরবার্গকেই ক্ষমা চাইতে হবে। তিনি বলেন, ‘‘জুকেরবার্গ ক্ষমা না চাইলে মেটার জন্য তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৭৯ নম্বর ধারায় যে আইনি সুরক্ষা (Safe Harbour Protection) রয়েছে, তা তুলে নেওয়া উচিত।’’

    মেটাকে ‘সেফ হারবার’ নয়

    তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০-এর ৭৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, এক্স-এর মতো সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে কোনও ব্যবহারকারী বেআইনি বা আপত্তিকর কিছু পোস্ট করলে, শুধুমাত্র সেই পোস্টের জন্য প্ল্যাটফর্মকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দায়ী করা যায় না। এই আইনি সুরক্ষাকেই বলা হয় ‘সেফ হারবার’। ফলে, মেটার এই রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করা হলে, ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের বিতর্কিত বা বেআইনি কনটেন্টের জন্য মেটাকেও সরাসরি আইনি জবাবদিহি করতে হতে পারে।

    ‘প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও পাঁচ ঘণ্টা সরিয়ে রাখা অপরাধ’

    প্রসঙ্গত, নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে এবং তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার দাবিতে গত একমাস ধরে যন্তর মন্তরে আন্দোলন করেছে সিজেপি। এর আঁচ ছড়িয়ে পড়ে গোটা দেশে। এরমধ্যেই গত ২৩ জুলাই, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একটি ৩ মিনিটের একটি ভিডিও বার্তা পোস্ট করেন প্রধানমন্ত্রী। ভিডিওতে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘‘প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনও সাধারণ ঘটনা নয়। এটা লাখ লাখ ছাত্রছাত্রী ও তাঁদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর।’’ তিনি জানান, দোষীদের ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং সাড়ে ২২ লাখ পরীক্ষার্থীর এক বছর যাতে নষ্ট না হয়, তার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে ডিজিটাল মাধ্যমে যুক্ত হওয়ার প্রধানমন্ত্রীর এই প্রয়াস নিমেষেই রেকর্ড গড়ে ফেলে। ইনস্টাগ্রামে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিডিওটির ভিউ সংখ্যা ৩০৩ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যায়, যা এক নতুন বিশ্বরেকর্ড! এই আবহে সেই ভিডিও পাঁচ ঘণ্টা সরিয়ে রাখা গুরুতর অপরাধ, বলে দাবি করে সংসদীয় প্যানেল।

    প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও সরিয়ে ফেলার দায় কে নেবে!

    বৈঠকে বিজেপির এক প্রবীণ সাংসদ মেটার কাছে জানতে চান প্রধানমন্ত্রীর ভিডিওটি সরিয়ে ফেলার দায় কে নেবে! সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে বিজেপি সাংসদ মেটা কর্তাদের প্রশ্ন করেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিও ডিলিট করা হল কেন? ফেসবুক অন্য আপত্তিকর কনটেন্ট যেখানে সরায় না, সেক্ষেত্রে ওই ভিডিওটিই কেন সরানো হল প্ল্যাটফর্ম থেকে? এর দায় কে নেবে?” মেটার তরফে জানানো হয়, ওই ভুলের জন্য ইতিমধ্যেই দুঃখ প্রকাশ করেছে তারা। ক্ষমাও চাওয়া হয়েছে। কিন্তু বিজেপি সাংসদ দাবি করেন, শুধু দুঃখপ্রকাশ বা ক্ষমা চাইলেই হল না। দায় নিতে হবে। করতে হবে আইনি পদক্ষেপ। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও এভাবে সরানো গেলে, সাধারণ নেটিজেনদের সুরক্ষা কোথায়, জানতে চান ওই বিজেপি সাংসদ।

    মেটার অ্যালগরিদম নিয়েও প্রশ্ন

    মেটার অ্যালগরিদম নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নিশিকান্ত দুবে। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক দলগুলির কনটেন্টের ভিউয়ারশিপ প্রায় ২.৩ কোটি হলেও, কোনও রাজনৈতিক দল বা নথিভুক্ত সংগঠন নয়— এমন সংস্থাগুলির ভিউয়ারশিপ প্রায় ২.৭ কোটি। তিনি বলেন, ‘‘বিজেপি, কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, আম আদমি পার্টির মতো দলগুলির মোট ভিউয়ারশিপ ২.৩ থেকে ২.৪ কোটির মধ্যে। কিন্তু রাজনৈতিক দল বা এনজিও নয়, এমন অ্যাকাউন্টের ভিউয়ারশিপ ২.৭ কোটি।’’ নিশিকান্তের অভিযোগ, নতুন বা অচেনা অ্যাকাউন্টকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার নীতির কারণেই এমন হচ্ছে। তিনি জানান, কয়েক দিন আগে তৈরি একটি সংরক্ষণ বিরোধী ফোরামের ভিউয়ারশিপও প্রায় ৭০ লক্ষে পৌঁছে গিয়েছে।

LinkedIn
Share