Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • PM Modi: “প্রশ্ন করলেই হবে না, উত্তরও খুঁজতে হবে”, জেন জি-র উদ্দেশে বললেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: “প্রশ্ন করলেই হবে না, উত্তরও খুঁজতে হবে”, জেন জি-র উদ্দেশে বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “জীবনে কৌতূহলকে কখনও মরে যেতে দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে শেখার প্রবণতাকেও সব সময় জাগ্রত রাখতে হবে।” আইআইটি দিল্লির ৫৭তম সমাবর্তনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এমনই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তাঁর পরামর্শ, প্রচলিত বা বিনা প্রশ্নে মেনে নেওয়া বিষয়গুলিকেও নতুন করে যাচাই করতে হবে, প্রশ্ন করতে হবে এবং তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করার সাহস রাখতে হবে (Gen Z)। শনিবার অনুষ্ঠিত আইআইটি দিল্লির ৫৭তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিন হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী এবং ৫৮৭ জন পিএইচডি গবেষক উপস্থিত ছিলেন। দেশের তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যোগাযোগ স্থাপনের প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের মধ্যেই এই বক্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সমাবর্তনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তাকে ভয় না পেয়ে নিজেদের জ্ঞান, কৌতূহল ও সমস্যা সমাধানের ক্ষমতার ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানান।

    কৌতূহল বাঁচিয়ে রাখুন (PM Modi)

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘জীবনে কৌতূহলকে বাঁচিয়ে রাখুন। শেখার প্রবণতাকে সব সময় জাগ্রত রাখুন।” তাঁর মতে, আগামী কয়েক দশকে প্রযুক্তি, শিল্প, পেশা এমনকি বিশ্বের শক্তির ভারসাম্যও দ্রুত বদলে যাবে। ফলে আজ দাঁড়িয়ে আগামী ২০ বা ৩০ বছর পৃথিবী ঠিক কোন পথে যাবে, তা নির্দিষ্টভাবে অনুমান করা সম্ভব নয়। কিন্তু পরিবর্তনের মধ্যেও একটি দক্ষতার গুরুত্ব কখনও কমবে না, আর তা হল শেখার ক্ষমতা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যারা ক্রমাগত শিখতে থাকবে, তারাই সফল হবে।’’ যে কৌতূহল শিক্ষার্থীদের আইআইটি দিল্লিতে নিয়ে এসেছে, কর্মজীবনে প্রবেশের পরেও সেই কৌতূহল যেন হারিয়ে না যায়, সেই বিষয়ে তিনি বিশেষ জোর দেন তিনি।

    প্রশ্ন করলেই হবে না, উত্তরও খুঁজতে হবে

    শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বার্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল প্রশ্ন করার পাশাপাশি উত্তর অনুসন্ধানের মানসিকতা তৈরি করা। তাঁর বক্তব্য, কোনও বিষয়কে শুধু প্রচলিত বলে মেনে নেওয়া উচিত নয়। বরং সেটিকে পরীক্ষা করে দেখা, প্রশ্ন তোলা এবং প্রয়োজনে নতুন ব্যাখ্যা বা নতুন সমাধান খুঁজে বের করাই প্রকৃত শিক্ষার পরিচয়। তিনি বলেন, ‘‘কোনও বিষয়কে না ভেবে মেনে নেবেন না। প্রশ্ন করুন এবং তার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করার সাহস রাখুন।’’ প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের মনে করিয়ে দেন, তাঁদের প্রত্যেকের মনেই ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা ভাবনা, স্বপ্ন ও পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আপনাদের মনের কোনও এক কোণে হয়তো অন্য কিছু চলতে পারে। আমি বাবা বাগেশ্বর নই, কিন্তু নিশ্চিতভাবেই প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মনে নানা চিন্তা চলছে। আপনাদের প্রত্যেকের কাছেই ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি করে স্বপ্ন রয়েছে।’’

    সমাবর্তন শুধু শেষ নয়, নতুন অধ্যায়ের শুরু

    শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইআইটি দিল্লিতে প্রবেশের সময় থেকে সমাবর্তনের দিন পর্যন্ত তাঁদের যাত্রার প্রতিটি মুহূর্তকে উপভোগ ও স্মরণীয় করে রাখতে হবে। কারণ সমাবর্তনের সঙ্গে একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হলেও, তার পরেই শুরু হবে জীবনের নতুন অধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘পরবর্তী জীবনে দায়িত্ব যত বাড়বে, এই স্মৃতিগুলি ততই আপনাদের কাছে মূল্যবান হয়ে উঠবে। এই স্মৃতিগুলি আপনাদের যাত্রার একটি প্রিয় স্মারক হয়ে অতীতের দিনগুলিতে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে।’’ তাই শিক্ষার্থীদের তিনি বর্তমান সময়কে পূর্ণমাত্রায় বাঁচার পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাটানো সময়ের বন্ধুত্ব, অভিজ্ঞতা, সাফল্য, ব্যর্থতা এবং নানা চ্যালেঞ্জ ভবিষ্যতে প্রত্যেকের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হয়ে থাকবে।

    শিক্ষায় আরও বেশি মেয়ের অংশগ্রহণের আহ্বান

    সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মহিলা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ এবং (PM Modi) প্রতিনিধিত্ব নিয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে আরও বেশি সংখ্যক তরুণী যাতে সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। মোদির বক্তব্য, দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের তালিকায় আরও বেশি মহিলা শিক্ষার্থীর উপস্থিতি দেখা উচিত। শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে মেয়েদের জন্য আরও সুযোগ তৈরি করা এবং তাঁদের প্রতিভার বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। ভারতের সামগ্রিক উন্নয়নে মহিলাদের প্রতিভার পূর্ণ ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও ইঙ্গিত দেন (Gen Z) তিনি।

    ভারতের নতুন উদ্যোগে তরুণদের ভূমিকা

    ভারতের নতুন উদ্যোগ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে দেশের নতুন উদ্যোগ বা স্টার্টআপ-ভিত্তিক অর্থনীতির প্রসঙ্গে তিনি আইআইটি দিল্লির প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আপনাদের মতো এই প্রজন্মের তরুণরাই ভারতের নতুন উদ্যোগের বিপ্লবকে গড়ে তুলেছেন এবং তাকে শক্তিশালী করেছেন।’’ আইআইটি দিল্লি থেকে একাধিক উদ্যোগপতি উঠে এসেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি এত বড় সাফল্য অর্জন করতে পারে, তাহলে গোটা দেশে যে বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, তার পরিমাণ কতটা হতে পারে তা সহজেই অনুমান করা যায়। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘‘একটি প্রতিষ্ঠান যদি এত কিছু অর্জন করতে পারে, তাহলে কল্পনা করুন, গোটা দেশে কী বিপুল শক্তি তৈরি হচ্ছে।’’

    গবেষণাই হতে পারে পরবর্তী বড় সুযোগ

    সমাবর্তনে গবেষণার ওপরও বিশেষ জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার পর গবেষণার জগতে প্রবেশ করা তরুণদের সামনে একটি বড় সুযোগ। নতুন ধারণা, নতুন প্রযুক্তি এবং নতুন সমাধান তৈরির মাধ্যমে ভারতকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ রয়েছে। গবেষণাকে উৎসাহ দিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী গবেষণা ফেলোশিপ, গবেষণা-উন্নয়ন ও উদ্ভাবন প্রকল্প এবং জাতীয় গবেষণা তহবিলের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে গবেষণার পরিকাঠামো ও সুযোগ বাড়ানোর কথা জানান। তিনি বলেন, গবেষণা খাতের জন্য এক লাখ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ‘এক দেশ, এক গ্রাহকত্ব’ উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। এর মাধ্যমে বিশ্বের নামী গবেষণা পত্রিকাগুলি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গবেষক ও শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শুধু বড় শহর নয়, ছোট শহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও যাতে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে জানান প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)।

    চিপ থেকে জাহাজ—দেশেই উৎপাদনের স্বপ্ন

    ভারতের অর্ধপরিবাহী শিল্পের অগ্রগতিকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, কঠিন কোনও সমস্যাকে অসম্ভব মনে না করে তার সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে (Gen Z)। একসময় ভারতে অর্ধপরিবাহী চিপ তৈরি সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু বর্তমানে দেশের প্রথম অর্ধপরিবাহী উৎপাদন ইউনিটে উৎপাদন শুরু হয়েছে বলে জানান তিনি। মোদির বক্তব্য, ‘‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, চিপ থেকে জাহাজ—সব কিছুই একদিন আপনাদের হাত ধরে এখানেই তৈরি হবে।’’ তাঁর এই বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশীয় উৎপাদন, প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা এবং তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী ক্ষমতার ওপর সরকারের আস্থার কথাই তুলে ধরেন।

    বড় সমস্যাকে ছোট ছোট ভাগে ভেঙে সমাধান

    শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর আর একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ছিল—কোনও সমস্যা যত বড়ই মনে হোক, তাতে ভয় পাওয়া যাবে না। সমস্যাটিকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে একে একে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। তিনি বলেন, ‘‘যখনই কোনও চ্যালেঞ্জকে বড় মনে হবে, ভয় পাবেন না। সেটিকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে নিন।’’ আইআইটির শিক্ষার্থীরা কীভাবে অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বা দিনের পর দিন বিভিন্ন অনুকরণভিত্তিক পরীক্ষার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করেন, তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর মতে, বাস্তব জীবনেও একই ধরনের মানসিকতার প্রয়োজন। জীবনে নানা সমস্যা আসবে, কিন্তু সতর্ক এবং নতুন সমাধান খুঁজতে আগ্রহী মানুষের কাছে সেই সমস্যাই আবার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

    বিকশিত ভারতে’র যাত্রায় তরুণদের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ

    প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের মনে করিয়ে দেন, তাঁদের আগামী ৩০ থেকে ৩৫ বছরের কর্মজীবন ভারতের ‘বিকশিত ভারত’ গঠনের যাত্রাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করবে। তাই ভবিষ্যতে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শুধু ব্যক্তিগত লাভ বা সাফল্যের কথা ভাবলে চলবে না। সেই সিদ্ধান্ত দেশের জন্য কী সুফল বয়ে আনবে, সেটিও বিবেচনা করতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের সামনে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রাখেন— ‘‘এতে দেশের কী উপকার হবে? এটি দেশের কোন প্রয়োজন পূরণ করবে?’’ প্রধানমন্ত্রীর মতে, দেশের উন্নয়নের সঙ্গে ব্যক্তিগত সাফল্যকে যুক্ত করতে পারলেই তরুণ প্রজন্মের শক্তি বৃহত্তর জাতীয় লক্ষ্যে কাজে লাগানো সম্ভব হবে (PM Modi)। সমাবর্তনের শেষ বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মূলত শিক্ষার্থীদের মনে করিয়ে দেন, শিক্ষা কোনও নির্দিষ্ট ডিগ্রি অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং শেখার আগ্রহ, প্রশ্ন করার সাহস, নতুন কিছু খুঁজে বের করার মানসিকতা এবং কঠিন সমস্যাকে সমাধানের সুযোগ হিসেবে দেখার ক্ষমতাই ভবিষ্যতের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। আইআইটি দিল্লিতে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের বৃহত্তর স্বপ্ন পূরণে (Gen Z) তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)।

     

  • India: শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতের কোনও ভূমিকা নেই, জানাল বিদেশমন্ত্রক

    India: শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে ভারতের কোনও ভূমিকা নেই, জানাল বিদেশমন্ত্রক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) ৫ অগাস্টের সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ভার্চুয়াল আলাপচারিতায় ভারত সরকারের কোনও ভূমিকা ছিল না বলে সাফ জানিয়ে দিল ভারতের বিদেশমন্ত্রক (India)। একইসঙ্গে ওই অনুষ্ঠানে করা কোনও মন্তব্যকেই ভারত সরকার সমর্থন করে না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।শুক্রবার এ বিষয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “এটি একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যম সংস্থা আয়োজিত অনুষ্ঠান ছিল। এতে সরকারের কোনও ভূমিকা ছিল না। ওই মঞ্চে যা বলা হয়েছে, বিশেষ করে বাংলাদেশের সাংবিধানিকভাবে গঠিত সরকারের বিষয়ে করা মন্তব্যগুলিকে ভারত সরকার সমর্থন করে না।” ৫ আগস্ট হাসিনার ওই ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল এই মন্তব্য করেন। বিদেশমন্ত্রক আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, অনুষ্ঠানটি ভারত সরকার নয়, একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যম সংস্থা আয়োজন করেছিল।

    কী বললেন হাসিনা (India)

    বুধবারের ওই ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে হাসিনা জানান, জেলবন্দি হওয়া কিংবা মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও, তিনি ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফিরতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাঁর কথায়, দেশে ফিরে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশকে সঠিক পথে ফেরানোই তাঁর লক্ষ্য। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ব্যাপক আন্দোলনের মুখে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন হাসিনা। তার পর এটিই ছিল তাঁর প্রথম প্রকাশ্য সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপচারিতা। শুধু অডিওর মাধ্যমে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা তাঁর বক্তব্য শুনতে পান। হাসিনা বলেন, “আমি জানি, তারা আমাকে জেলে পাঠাতে পারে অথবা হত্যা করতে পারে। কিন্তু আমি আমার মানুষের সঙ্গে থাকতে দেশে ফিরব।”

    পর্দার আড়ালের সমঝোতার সম্ভাবনাও নাকচ

    তিনি আরও বলেন, তাঁর দেশে ফেরার উদ্দেশ্য ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা নয়। বরং বাংলাদেশের উন্নয়ন, ধর্মনিরপেক্ষতা, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির পথ পুনরুদ্ধার করাই তাঁর লক্ষ্য (India)। হাসিনার কথায়, “আমার জন্য যে পরিণতিই অপেক্ষা করুক না কেন, আমি আমার মানুষের কাছে ফিরব। আমার প্রিয় দেশবাসী যখন কষ্ট পাচ্ছেন, তখন আমি তাঁদের থেকে দূরে থাকতে পারি না।” বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দলের সরকারের সঙ্গে দেশে ফেরার বিষয়ে কোনও গোপন আলোচনা বা পর্দার আড়ালের সমঝোতার সম্ভাবনাও নাকচ করে দেন শেখ হাসিনা। তিনি আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, বাক্‌স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা পুনর্বহাল এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

    ভারত মহান বন্ধু

    ভারতকে বাংলাদেশের মহান বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে হাসিনা বলেন, “কঠিন সময়ে নয়াদিল্লি সবসময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে।” গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও শান্তির জন্য বাংলাদেশের মানুষের সংগ্রামে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও পাশে থাকার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর দাবি, বাংলাদেশের বর্তমান সঙ্কট আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও উন্নয়নের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। হাসিনার অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের যে আন্দোলনের জেরে তাঁর সরকারের পতন হয়েছিল, সেটি কোনও স্বতঃস্ফূর্ত ছাত্র আন্দোলন ছিল না। তাঁর দাবি, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বাইরে ক্ষমতায় যাওয়ার পথ তৈরি করতে সংগঠিত গোষ্ঠীগুলি ওই আন্দোলনকে পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করেছিল।বাংলাদেশে জাতীয় পুনর্মিলন ও ক্ষত নিরাময়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। তবে তাঁর বক্তব্য, যারা অপরাধের জন্য দায়ী, তাদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

    হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড

    ২০২৪ সালের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনে তাঁর সরকারের দমন-পীড়নের সঙ্গে যুক্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গত নভেম্বর মাসে ঢাকার একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেয়। রায় ঘোষণার পর থেকেই ২০১৩ সালের ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতাখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে ঢাকা। হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ও ওই সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য (Sheikh Hasina) রাখেন। তাঁর অভিযোগ, ২০২৪ সালের অগাস্ট থেকে বাংলাদেশে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে এবং ভারতের (India) পূর্ব সীমান্তে দেশটি আরও একটি পাকিস্তানে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগের একাধিক প্রবীণ নেতাও ওই সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। এই সাংবাদিক সম্মেলন নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক। ঢাকার পক্ষ থেকে নয়াদিল্লিকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কথা জানানো সত্ত্বেও, অনুষ্ঠানটি হতে দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ বলে জানানো হয়েছে।

    বাংলাদেশের বক্তব্য

    বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রকের অভিযোগ, ভারতের মাটি ব্যবহার করে হাসিনা ও তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে বিষাক্ত বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য ছড়িয়েছেন। ঢাকার দাবি, এই অনুষ্ঠান বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অপমান। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক আরও জানিয়েছে, সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় ঢাকা। একই সঙ্গে হাসিনাকে (Sheikh Hasina) প্রত্যর্পণের জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হলেও, নয়াদিল্লির (India) কাছ থেকে এখনও কোনও জবাব না পাওয়ায় দুঃখপ্রকাশও করেছে বাংলাদেশ।

  • FCRA Bill: বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণে প্রস্তাবিত আইন নিয়ে মার্কিন কংগ্রেস সদস্যের সমালোচনা, কড়া জবাব ভারতের

    FCRA Bill: বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণে প্রস্তাবিত আইন নিয়ে মার্কিন কংগ্রেস সদস্যের সমালোচনা, কড়া জবাব ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণে প্রস্তাবিত সংশোধনী আইন (FCRA Bill) নিয়ে মার্কিন কংগ্রেস সদস্য রাইলি মুরের সমালোচনা (US) খারিজ করে দিল ভারত। ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, আইন প্রণয়ন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। একই সঙ্গে মন্ত্রকের বক্তব্য, বিদেশি অর্থায়ন নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের একাধিক দেশের নিজস্ব আইন রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আমেরিকাও। বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “ভারতে আইন প্রণয়নের একটি সুপ্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া রয়েছে। তাই দেশের অভ্যন্তরীণ আইনকে তার যথাযথ সাংবিধানিক ও আইনি প্রেক্ষাপটে বিচার করা উচিত।” তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নিজেদের আইনি কাঠামোর মাধ্যমে বিভিন্ন সংগঠনের কাছে বিদেশি অনুদানের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। আমেরিকায়ও বিদেশি অর্থায়ন নিয়ন্ত্রণের জন্য নিজস্ব আইন রয়েছে।”

    গির্জার নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে যেতে পারে, দাবি মুরের (FCRA Bill)

    গত ৪ অগস্ট এক বিবৃতিতে পশ্চিম ভার্জিনিয়ার রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য রাইলি মুর দাবি করেছিলেন, প্রস্তাবিত সংশোধনী কার্যকর হলে ভারতের সরকার গির্জা এবং ধর্মীয় দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। বিশেষ করে কোনও প্রতিষ্ঠানের বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে নিবন্ধন বাতিল হয়ে গেলে অথবা তার পুনর্নবীকরণ না হলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। মুরের অভিযোগ, এই ধরনের বিধান খ্রিস্টান সংগঠনগুলির ওপর তুলনামূলকভাবে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ভারত সরকারকে প্রস্তাবিত আইনটি পুনর্বিবেচনার আহ্বানও জানান তিনি। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, এই সংশোধনী ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

    কী রয়েছে প্রস্তাবিত সংশোধনীতে?

    প্রস্তাবিত বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী আইন, ২০২৬-এর মাধ্যমে ২০১০ সালের বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইনে পরিবর্তন আনার কথা বলা হয়েছে। ভারতে ব্যক্তি, সংগঠন এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলির বিদেশি অনুদান গ্রহণ ও ব্যবহারের বিষয়টি এই আইনের আওতায় নিয়ন্ত্রিত হয়। বিদেশি অর্থায়নের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা, নিরাপত্তা, জনস্বার্থ বা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান যাতে কোনওভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করাই এই আইনের অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, কোনও প্রতিষ্ঠানের বিদেশি অনুদান গ্রহণের নিবন্ধন বাতিল হলে, প্রতিষ্ঠানটি স্বেচ্ছায় তা সমর্পণ করলে অথবা নিবন্ধনের মেয়াদ পুনর্নবীকরণ না হলে, সরকার মনোনীত কোনও কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে ওই প্রতিষ্ঠানের বিদেশি অনুদান এবং সংশ্লিষ্ট সম্পদ পরিচালনা করতে পারবে (FCRA Bill)। তবে উপাসনাস্থল বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ওই সম্পদ পরিচালনার সময় তাদের ধর্মীয় চরিত্র অক্ষুণ্ণ রাখার কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবিত আইনে।

    সম্পদ সুরক্ষাই উদ্দেশ্য, দাবি কেন্দ্রের

    কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, প্রস্তাবিত সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য হল বিদেশি অনুদানের মাধ্যমে তৈরি জনসম্পদ সুরক্ষিত রাখা এবং বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের চলমান দাতব্য কার্যক্রম যাতে আইন মেনে পরিচালিত হয়, তা নিশ্চিত করা (FCRA Bill)। সরকারের মতে, কোনও প্রতিষ্ঠান বিদেশি অনুদান গ্রহণের যোগ্যতা হারালে তার সম্পদ ও কার্যক্রম যাতে অনিয়মের শিকার না হয়, তা নিশ্চিত করার জন্যই এই পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সুষ্ঠু প্রশাসন নিশ্চিত করাও সংশোধনীর অন্যতম লক্ষ্য (US)। তবে প্রস্তাবিত আইন নিয়ে দেশের রাজনৈতিক মহল এবং আন্তর্জাতিক স্তরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের একাংশের আশঙ্কা, এর ফলে বিদেশি অনুদান গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর সরকারের নজরদারির পরিধি আরও বাড়বে। রাইলি মুরের মন্তব্যের পর বিদেশমন্ত্রকের এই বক্তব্যই বিষয়টি নিয়ে ভারতের প্রথম সরকারি প্রতিক্রিয়া। মন্ত্রক সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আইন প্রণয়ন ভারতের অভ্যন্তরীণ নীতিগত বিষয় (US) এবং প্রস্তাবিত সংশোধনীকে দেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইনি কাঠামোর পরিপ্রেক্ষিতেই বিচার করা উচিত (FCRA Bill)।

     

  • Honey Trap: ‘হানিট্র্যাপ’-এ ফাঁস প্রতিরক্ষা তথ্য! পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের যোগসাজশের অভিযোগ, গ্রেফতার বায়ুসেনার উইং কমান্ডার

    Honey Trap: ‘হানিট্র্যাপ’-এ ফাঁস প্রতিরক্ষা তথ্য! পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের যোগসাজশের অভিযোগ, গ্রেফতার বায়ুসেনার উইং কমান্ডার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘হানিট্র্যাপ’-এর (Honey Trap) ফাঁদে পড়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত তথ্য ফাঁস করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হল ভারতীয় বায়ুসেনায় (Indian Air Force) কর্মরত এক উইং কমান্ডারকে। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল সম্প্রতি তাঁকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে তিনি দিল্লির তিহাড় জেলে বন্দি। তাঁর বিরুদ্ধে অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্ট-এর আওতায় তদন্ত চলছে। পুলিশ ও বায়ুসেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, বায়ুসেনার গোয়েন্দা শাখা প্রথমে ওই অফিসারের গতিবিধি সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য পায়। এরপর তাঁর উপর নজরদারি শুরু করে বায়ুসেনা। পরে সেই তথ্য ও নজরদারির উপর ভিত্তি করে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল তাঁকে গ্রেফতার করে। বায়ুসেনার পক্ষ থেকে এই ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখার কথা জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে অভ্যন্তরীণ নজরদারি ও গোয়েন্দা ব্যবস্থার কার্যকারিতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁদ, পাকিস্তানি হ্যান্ডলারের অভিযোগ

    দিল্লি পুলিশ সূত্রের দাবি, ওই উইং কমান্ডারকে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে হানিট্র্যাপের ফাঁদে ফেলা হয়েছিল। এক মহিলা পরিচয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা ব্যক্তি আসলে ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করছিলেন বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ। ওই ব্যক্তি পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলারদের হয়ে কাজ করছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের মতে, ব্যক্তিগত জীবনের একটি কঠিন সময়কে কাজে লাগিয়েই ওই অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করা হয়। প্রথমে অনলাইন চ্যাট ও ভিডিও কলের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানো হয়। পরে ধীরে ধীরে তাঁর কাছ থেকে সামরিক সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য চাওয়া শুরু হয়। অভিযোগ, ওই অফিসারের কাছ থেকে সামরিক গতিবিধি, সেনা মোতায়েন এবং প্রতিরক্ষা ইউনিট সংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের দাবি, ডিজিটাল মাধ্যমে তিনি গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্যও পাঠিয়েছিলেন।

    সহকর্মীর ফোনে সন্দেহজনক অ্যাপ ইনস্টলের নির্দেশ

    তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে। পুলিশ সূত্রের দাবি, ওই মহিলার পরিচয়ে থাকা ব্যক্তি ওই উইং কমান্ডারকে তাঁর এক সহকর্মীর ফোনে একটি নির্দিষ্ট অ্যাপ ইনস্টল করতে বলেছিলেন। তদন্তকারীদের সন্দেহ, অ্যাপটি স্পাইওয়্যার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে, যার মাধ্যমে ফোনের তথ্য সংগ্রহ, অবস্থান শনাক্তকরণ অথবা যোগাযোগে নজরদারি চালানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। এই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। দিল্লি পুলিশ মনে করছে, ঘটনাটি শুধুমাত্র একজন বায়ুসেনা অফিসারকে ঘিরে নয়; এর পিছনে আরও বড় একটি গুপ্তচর চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। সোশ্যাল মিডিয়া, ভুয়ো পরিচয়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং ডিজিটাল যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা এখন নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। বায়ুসেনার অভ্যন্তরীণ কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স ব্যবস্থা এবং নিয়মিত সচেতনতা প্রশিক্ষণের গুরুত্বও এই ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে। তদন্ত যত এগোবে, সন্দেহভাজন নেটওয়ার্কের পরিধি এবং দেশের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এর প্রকৃত প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Meta in Crisis: সামাজিক দূষণ ছড়ানোর অভিযোগ! ৮ হাজার কোটি টাকা জরিমানা মার্কিন আদালতের, মেটাকে নোটিস ভারতের মানবাধিকার কমিশনেরও

    Meta in Crisis: সামাজিক দূষণ ছড়ানোর অভিযোগ! ৮ হাজার কোটি টাকা জরিমানা মার্কিন আদালতের, মেটাকে নোটিস ভারতের মানবাধিকার কমিশনেরও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের নিরাপত্তা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপর সোশাল মিডিয়ার প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সেই আবহেই শিশু সুরক্ষায় ব্যর্থতা, প্ল্যাটফর্মকে অতিরিক্ত আসক্তিকর করে তোলা এবং অনলাইন যৌন শোষণ ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগে বড় ধাক্কা খেল মেটা (Meta in Crisis)। বিপুল আর্থিক জরিমানার মুখে পড়তে হল ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপের মালিক সংস্থা মেটাকে (Meta)। সামাজিক দূষণের অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য নিউ মেক্সিকোর একজন বিচারক। ‌ভারতীয় মুদ্রায় ৭৮৬০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে মেটাকে। অন্যদিকে, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে শিশুদের জন্য অনুপযুক্ত বিষয় (কনটেন্ট) ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগে পদক্ষেপ করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)। এই কনটেন্টের মধ্যে চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ মেটেরিয়াল (সিএসএএম) থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কমিশন। অভিযোগের তদন্তে মেটা-সহ আটটি রাজ্যের ডিজিপিকে নোটিস দেওয়া হয়েছে।

    মেটাকে মার্কিন আদালতের নির্দেশ

    শুধু জরিমানাই নয়, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষায় একাধিক মৌলিক পরিবর্তন আনার নির্দেশও দিয়েছে আদালত। নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল টোরেজের দায়ের করা মামলায় বিচারক ব্রায়ান বিডশেইড মেটার প্ল্যাটফর্মকে শিশু ও কিশোরদের জন্য ক্ষতিকর বলে পর্যবেক্ষণ করেছেন। আদালতের মতে, বিষয়টি আর শুধুমাত্র কোনও ব্যক্তির সোশাল মিডিয়া ব্যবহারের সমস্যা নয়। এর প্রভাব শিশুদের পরিবার, স্কুল, হাসপাতাল এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উপরও পড়ছে। তাই মেটার কার্যকলাপকে ‘Public Nuisance’ বা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কার্যকলাপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    কেন ৫৬৭ মিলিয়ন ডলার জরিমানা?

    মামলায় নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেলের অভিযোগ ছিল, তরুণ ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখার জন্য মেটা এমন কিছু ফিচার ও নকশা তৈরি করেছে, যা সোশাল মিডিয়া-নির্ভরতা বাড়িয়ে দিতে পারে। একইসঙ্গে শিশুদের অনলাইন হয়রানি, গ্রুমিং এবং যৌন শোষণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংস্থাটি ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। এই মামলার দ্বিতীয় পর্যায়ের শুনানির পর ৫৬৭ মিলিয়ন ডলারের জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর প্রায় পাঁচ মাস আগে একই মামলার প্রথম পর্যায়ে নিউ মেক্সিকোর একটি জুরি মেটাকে ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। জুরির পর্যবেক্ষণ ছিল, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের নিরাপত্তা নিয়ে বিভ্রান্তিকর বা মিথ্যা দাবি করে মেটা ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘন করেছে।

    মেটার প্ল্যাটফর্মে কী কী পরিবর্তন আনতে হবে?

    আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নিউ মেক্সিকোয় কিশোর-কিশোরীদের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারে মাসিক সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে। একইসঙ্গে বারবার নোটিফিকেশন পাঠানোর ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করতে হবে। এই নির্দেশের মেয়াদ পাঁচ বছর। এছাড়াও— অপরিচিত প্রাপ্তবয়স্কদের অপ্রাপ্তবয়স্কদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ সীমিত করতে হবে। শিশুদের সুরক্ষায় এআই চ্যাটবটের উপর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বসাতে হবে। শিশু যৌন নির্যাতন-সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত পর্যালোচনা করতে হবে।

    সোশাল মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাব পরিবেশ দূষণের সামিল

    মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল—সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম কি জনসাধারণের জন্য ক্ষতিকর কার্যকলাপ তৈরি করতে পারে? বিচারক বিডশেইড তাঁর রায়ে সোশাল মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাবকে শিল্প কারখানার দূষণের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর যুক্তি, কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া যেমন কারখানার সীমানা পেরিয়ে সাধারণ মানুষের উপর প্রভাব ফেলে, তেমনই সোশাল মিডিয়ার ক্ষতিকর প্রভাবও মোবাইলের স্ক্রিনে সীমাবদ্ধ থাকে না। তা বাস্তব জীবনে শিশু, পরিবার, স্কুল, হাসপাতাল এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উপর সামাজিক চাপ তৈরি করতে পারে।

    মেটার বিরুদ্ধে ক্রমাগত মামলা

    মেটা অবশ্য এই অভিযোগগুলি অস্বীকার করেছে। সংস্থার এক পদস্থ কর্তা বলেছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব। ওই কর্তার কথায়, আমাদের সোশাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্মগুলির কনটেন্টগুলির দিকে আমাদের অবিরাম নজর রয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের কন্টেন্টগুলি নিয়ে আমরা বাড়তি সতর্ক। যদিও নানা সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে মেটার বিরুদ্ধে আমেরিকার আদালতগুলিতে প্রতিনিয়ত মামলা হচ্ছে। অভিভাবক, শিক্ষক প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং নানা সামাজিক সংগঠন হিংসা, বিকৃত যৌনতা, ধর্মীয়, জাতিগত, ভাষাগত বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগে মামলা দায়ের করছেন।

    ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের নজরে মেটা

    ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামের মতো জনপ্রিয় সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে পর্নোগ্রাফি, বয়স-অনুপযোগী এবং শিশুদের যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট (CSAM)-র রমরমা প্রচারের অভিযোগে এবার কড়া অবস্থান নিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC)। মেটা (Meta) কর্তৃপক্ষসহ দেশের ৮টি রাজ্যের পুলিশ প্রধানদের (DGP) নোটিস পাঠানো হয়েছে কমিশনের তরফে। এনএইচআরসি সদস্য প্রিয়ঙ্কা কানুনগো জানিয়েছেন, ইনস্টাগ্রামে অর্থের বিনিময়ে পাওয়া কনটেন্টে সিএসএএম থাকলে তা পকসো আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে। তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ৫০টি বিষয় দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, তদন্তে গাফিলতি হলে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মী ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করবে এনএইচআরসি। তিনি স্পষ্ট জানান, কনটেন্টগুলির বিরুদ্ধে অপরাধমূলক তদন্ত প্রয়োজন এবং প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে মেটা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে সরাসরি এফআইআর (FIR) দায়ের করা উচিত।

    কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকেও অবগত করা হয়েছে

    রাজ্যগুলির পুলিশ প্রধানদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের (MeitY) সচিবকেও এই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ করা হয়েছে। মানবাধিকার কমিশনের তরফে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষগুলির হাতে অন্তত ৫০টি নির্দিষ্ট ইউআরএল (URL) বা ওয়েবসাইটের লিঙ্ক তুলে দেওয়া হয়েছে। কানুনগো সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ‘‘প্রমাণ হিসেবে ৫০টি ইউআরএল সরবরাহ করার পরেও যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা রাজ্য পুলিশ তদন্ত শুরু না করে, তবে এনএইচআরসি সরাসরি ভারত সরকারের দ্বারস্থ হবে। পুলিশ আধিকারিক এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের দায়িত্বে থাকা আমলাদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ করতে কেন্দ্রকে সুপারিশ করা হবে।’’

  • Arunachal Pradesh Map Update: অরুণাচল নিয়ে বড় পদক্ষেপ ভারতের! ২৭টি জায়গাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মানচিত্রে জুড়ল মোদি সরকার

    Arunachal Pradesh Map Update: অরুণাচল নিয়ে বড় পদক্ষেপ ভারতের! ২৭টি জায়গাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মানচিত্রে জুড়ল মোদি সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অরুণাচল প্রদেশের (Arunachal Pradesh Map Update) বিভিন্ন এলাকার নাম বারবার বদলে দেওয়ার চিনা (India China) প্রচেষ্টার পাল্টা জবাব দিল ভারত। গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ও মানচিত্র-সংক্রান্ত পদক্ষেপ হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকার অরুণাচল প্রদেশের ২৭টি স্থানকে ভারতের মানচিত্রের সঙ্গে যুক্ত করেছে। শুক্রবার অরুণাচল সরকারের সঙ্গে সরাসরি পরামর্শ করে, সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার মানচিত্রগুলিতে এই ২৭টি স্থান ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করে মানচিত্রে যোগ করা হয়েছে। এই পদ্ধতিগত নামকরণ প্রক্রিয়ার লক্ষ্য হল, ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত বরাবর অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত অঞ্চলগুলোর সঠিক ভৌগোলিক স্বীকৃতিকে উৎসাহিত করা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকে জোরদার করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। এই ২৭টি স্থানের মধ্যে ২১টি স্থলভাগ, ৪টি গিরিপথ, ১টি হ্রদ এবং ১টি স্মৃতিসৌধ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার অরুণাচল প্রদেশের মানচিত্রে স্থানগুলিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করার উদ্দেশ্য হল সেগুলিকে সঠিকভাবে শনাক্ত করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।”

    চিনকে জবাব ভারতের

    অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন স্থানের নাম পরিবর্তন করে দেওয়ার চিনা পদক্ষেপকে দীর্ঘদিন ধরেই প্রত্যাখ্যান করে আসছে ভারত। নয়াদিল্লির বক্তব্য, এ ধরনের নামকরণ “অর্থহীন ও হাস্যকর” এবং এর মাধ্যমে অরুণাচল প্রদেশের ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়ার বাস্তবতা বদলানো সম্ভব নয়। ভারতের অবস্থান স্পষ্ট—অরুণাচল প্রদেশ “ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ থাকবে।” অরুণাচল প্রদেশের ভারতীয় ভূখণ্ডের জন্য চিনের দেওয়া নামকে বরাবরই “কাল্পনিক” ও “ভিত্তিহীন” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের বক্তব্য, এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে মিথ্যা বা ভিত্তিহীন বয়ান তৈরি করা হলেও বাস্তব পরিস্থিতি বদলানো যাবে না। বরং এই ধরনের পদক্ষেপ ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। চিন ২০১৭ সালে অরুণাচল প্রদেশের ছয়টি স্থানের জন্য তথাকথিত ‘মানক’ নামের প্রথম তালিকা প্রকাশ করেছিল। এরপর ২০২১ সালে আরও ১৫টি স্থানের নাম প্রকাশ করা হয়। ২০২৩ সালে আরও ১১টি স্থানের নামের তালিকা প্রকাশ করে বেজিং। চিন অরুণাচল প্রদেশকে ‘জাংনান’ (Zangnan) নামে অভিহিত করে। তবে ভারত বারবার স্পষ্ট করেছে, নাম পরিবর্তন করে কোনওভাবেই অরুণাচল প্রদেশের ভারতের অংশ হওয়ার ঐতিহাসিক ও বাস্তব সত্যকে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

    সার্বভৌম মানচিত্রকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা

    সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার সরকারি মানচিত্রে এই স্থানগুলির আনুষ্ঠানিক নামকরণ, বহুদিন ধরে ঘটে চলা আঞ্চলিক নামকরণ সংক্রান্ত বিতর্কের কড়া জবাব। জাতীয় মানচিত্রের মধ্যে আদিবাসী, ঐতিহাসিক এবং কৌশলগত নামগুলিকে আইনি স্বীকৃতির মাধ্যমে নয়াদিল্লি তার সার্বভৌম মানচিত্রকে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করল। এই উদ্যোগের ফলে শিক্ষামূলক উপকরণ, সরকারি নথি, জনযোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক মানচিত্র সংক্রান্ত তথ্যে সরকারি ভারতীয় নামকরণই উল্লেখিত হবে।

    কোন কোন জায়গা চিহ্নিত

    সরকারি মানচিত্রে চিহ্নিত ২৭টি স্থানের মধ্যে রয়েছে লং জু (Long Ju)। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC)-এর কাছে অবস্থিত এই এলাকা ১৯৫৯ সালে ভারত-চিন উত্তেজনার অন্যতম প্রাথমিক কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। ওই সময় চিনা বাহিনী সেখানে প্রবেশ করেছিল। উপরের সুবনসিরি জেলার লং জু-এর কাছে অবস্থিত মাজা (Maja) গ্রামকেও সরকারি মানচিত্রে চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিসা (Bisa) গ্রাম এবং বেশ কয়েকটি উচ্চ পার্বত্য গিরিপথ—জো লা (Dzo La), রিজা লা (Riza La) এবং পুকুর লা (Pukur La)। সরকারি মানচিত্রে স্থান পেয়েছে উচ্চ পার্বত্য হ্রদ সাম্ভো সরোবর (Sambho Sarovar), পূর্ব অরুণাচল প্রদেশের বড়া কুন্ডুন ও ছোট কুন্ডুন, পাশাপাশি ধানবাড়ি, প্রীতনগর, তেরিতনগর, রামনগর এবং জশবন্ত গড়।

    ১৯৬২ সালে ভারত-চিনের সংঘাতের জায়গার নামও ম্যাপে

    একইভাবে তাওয়াং জেলার নামকা চু উপত্যকার টেগ লা’ও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মানচিত্রে। ১৯৬২ সালে ভারত এবং চিনের যুদ্ধের শুরুটা প্রথম যে জায়গাগুলিতে শুরু হয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিল থাগ লা (Thag La)। আবার পূর্ব সীমান্তের গেটওয়ে হিসেবে পরিচিত জয়রামপুর, বৈশাখী, যশবন্ত গড়ের (১৯৬২ সালের ভারত-চিন যুদ্ধে শহিদ জওয়ান যশবন্ত সিং রাওয়াতের মেমোরিয়াল) মতো জায়গাকে মানচিত্রে চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে জয়রামপুর (Jairampur)-ও। চাংলাং জেলার এই গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিকস কেন্দ্রটি পূর্ব অরুণাচল এবং মায়ানমার সীমান্তের দিকে নিরাপত্তা বাহিনীর চলাচলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পূর্ব সীমান্ত অঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবেও এর কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।

    কৌশলগত ও ভৌগোলিক গুরুত্ব

    জশবন্ত গড়ে ১৯৬২ সালের যুদ্ধে শহিদ ভারতীয় সেনা জওয়ান জশবন্ত সিং রাওয়াতের স্মৃতিসৌধ রয়েছে। তাওয়াং যাওয়ার পথে অবস্থিত এই স্মৃতিসৌধটি ভারতীয় সেনার বীরত্বের অন্যতম প্রতীক। ২৭টি স্থানের তালিকায় আরও রয়েছে সাগর, পদ্মা, জ্যোতিনগর ও বৈশাখী গ্রামের নাম। পাশাপাশি ১৯৬২ সালের যুদ্ধের বীর ত্রিলোক সিং থাপা-র স্মৃতিতে নির্মিত শের-এ-থাপা মেমোরিয়াল-কেও সরকারি মানচিত্রে চিহ্নিত করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে ছোট রোপুক, বড়া রোপুক, শিবাজি নগর, সুনপুরা, কামলাং নগর এবং বুদ্ধমন্দির-ও। কামলাং অভয়ারণ্যের কাছে অবস্থিত কামলাং নগরেরও কৌশলগত ও ভৌগোলিক গুরুত্ব রয়েছে। অরুণাচল প্রদেশের তিনটি দেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। উত্তরে ও উত্তর-পূর্বে তিব্বতের মধ্য দিয়ে চীন, পশ্চিমে ভুটান এবং পূর্বে ও দক্ষিণ-পূর্বে মায়ানমার। তাই এই অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গার নামকরণ করে আন্তর্জাতিক স্তরেও বার্তা দিল ভারত।

  • FCRA Bill: ১২ অগাস্ট সংসদে উঠছে বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল! কী কী প্রস্তাব রয়েছে নয়া বিলে?

    FCRA Bill: ১২ অগাস্ট সংসদে উঠছে বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল! কী কী প্রস্তাব রয়েছে নয়া বিলে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বহুল আলোচিত বিদেশি অনুদান (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধনী বিল, ২০২৬ (FCRA Amendment Bill, 2026) আগামী ১২ অগাস্ট সংসদে আলোচনা ও পাসের জন্য তোলা হবে। তবে বিলটি পূর্ববর্তী সময় (Retrospective Effect) থেকে কার্যকর করা হবে না বলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আশ্বাস দিয়েছেন। সংসদ ভবনে সাংবাদিকদের এ কথা জানান মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা। মিজোরামের বিভিন্ন চার্চ সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা। বৈঠকে তাঁরা প্রস্তাবিত এফসিআরএ সংশোধনী বিল নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। লালদুহোমা বলেন, “আমরা নতুন এফসিআরএ বিল নিয়ে আমাদের আশঙ্কার কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছি। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, এই বিল অতীত থেকে কার্যকর হবে না।” তিনি আরও জানান, অমিত শাহ তাঁদের বলেছেন যে ১২ অগাস্ট সংসদে বিলটি নিয়ে আলোচনা হবে। উল্লেখ্য, বিলটি চলতি বছরের ২৫ মার্চ লোকসভায় উত্থাপিত হয়েছিল।

    বিলে কী কী প্রস্তাব রয়েছে

    প্রস্তাবিত সংশোধনী বিলে বিদেশি অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থাগুলির ওপর নজরদারি আরও কঠোর করার প্রস্তাব রয়েছে। বিল অনুযায়ী, যে সংস্থার এফসিআরএ লাইসেন্স বাতিল হবে, স্বেচ্ছায় জমা দেবে বা মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে, তাদের বিদেশি অনুদান এবং সেই অর্থে তৈরি সম্পদ প্রথমে একটি ‘ডিজাইনেটেড অথরিটি’-র অধীনে অস্থায়ীভাবে ন্যস্ত হবে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থা নতুন লাইসেন্স না পায় বা লাইসেন্স পুনর্বহাল না হয়, তাহলে সেই সম্পদ ও বিদেশি অনুদান স্থায়ীভাবে ওই কর্তৃপক্ষের অধীনে চলে যাবে।

    প্রতি বছর হিসেব জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক

    বিদেশি অনুদান (এফসিআরএ) সংক্রান্ত নিয়ম আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে নতুন সংশোধনী এনেছে কেন্দ্র। প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি)-র প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি অনুদান গ্রহণে কোনও নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং সেই অর্থ কোথা থেকে এল, কীভাবে খরচ হল এবং তার হিসেব যাতে স্পষ্ট থাকে, সেটাই এই আইনের মূল উদ্দেশ্য। কেন্দ্রের দাবি, বিদেশি অনুদান গ্রহণ করতে হলে সংস্থাগুলিকে এফসিআরএ-র অধীনে নিবন্ধন করতে হবে এবং নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অনুদান নিতে হবে। প্রতি বছর নিরীক্ষিত হিসেব জমা দেওয়াও বাধ্যতামূলক।

    বিস্তারিত তথ্য, ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে

    ২০২৬ সালের সংশোধনীতে বলা হয়েছে, কোনও সংস্থা কোন ধরনের কাজ করবে এবং কোন রাজ্যে কাজ করবে, তা আগে থেকেই জানাতে হবে। নিবন্ধন নবীকরণের জন্য গত দুই বছরে অন্তত ১০ লক্ষ টাকা প্রকল্পে খরচের প্রমাণ দেখাতে হবে। পাশাপাশি, প্রকল্পভিত্তিক ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য, ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যও প্রকাশ করতে হবে। কেন্দ্রের বক্তব্য, এই সংশোধনের লক্ষ্য বিদেশি অনুদানের অপব্যবহার রোধ করা, জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখা এবং প্রকৃত জনকল্যাণমূলক কাজকে আরও স্বচ্ছভাবে পরিচালনা করা। সরকারের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন-সহ বহু দেশেও বিদেশি অর্থায়নের ক্ষেত্রে একই ধরনের নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা রয়েছে।

  • PM Modi’s Foreign Tours: মোদির বিদেশ সফরে প্রতি এক টাকা খরচের বিনিময়ে ৬৬ হাজার টাকা এফডিআই এসেছে ভারতে, রাজ্যসভায় হিসেব দিল কেন্দ্র

    PM Modi’s Foreign Tours: মোদির বিদেশ সফরে প্রতি এক টাকা খরচের বিনিময়ে ৬৬ হাজার টাকা এফডিআই এসেছে ভারতে, রাজ্যসভায় হিসেব দিল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশ সফর নিয়ে সংসদে বড় তথ্য দিল কেন্দ্রীয় সরকার। গত পাঁচ বছরে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের খরচের তুলনায় বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে অনেক বেশি। কেন্দ্রের দাবি, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশ সফরে কেন্দ্রের মোট ব্যয় হয়েছে ৪৮২.৯২ কোটি। একই সময়ে, অর্থাৎ এপ্রিল ২০২১ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ভারতে এসেছে ৩৮১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩১.৬৯ লক্ষ কোটি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI)। চলতি বছরে একাধিক দেশে সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সফরে কত টাকা খরচ হয়েছে, তা রাজ্যসভায় স্পষ্ট করেছে কেন্দ্র। ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বিদেশ সফরে খরচ হয়েছে প্রায় ৭৪.৫ কোটি।

    কোথায় কত টাকা থরচ হয়েছে

    বিদেশ মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও চিন-সহ মোট ২৩টি দেশ সফরে ১৮০ কোটিরও বেশি টাকা খরচ হয়েছে। ২০২১ সাল থেকে মোট ৭৪টি বিদেশ সফরে খরচ হয়েছে ৫৫০ কোটি টাকা। ২০১৪ থেকে ২০১৮ এই চার বছরে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশযাত্রায় খরচ হয়েছিল প্রায় ২ হাজার কোটি। ২০২০ থেকে ২০২৫-এই পাঁচ বছরে খরচ কমে দাঁড়ায় ২৫৮ কোটি। সে তুলনায় ২০২১ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের খরচ কমেছে। ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিদেশ সফরের খরচ এবং এই সফরগুলির জেরে দেশে আসা প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় এক লিখিত উত্তরে বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্ঘেরিটা জানান, চলতি বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মোট ৬টি সরকারি বিদেশ সফরে গিয়েছেন। এই সফরগুলিতে তিনি ১৩টি দেশে সফর করেছেন এবং তাতে সরকারি কোষাগার থেকে খরচ হয়েছে ৭৪.৫ কোটি টাকা।

    কত টাকা এফডিআই এসেছে

    কেন্দ্রের তরফে যে হিসেব দেওয়া হয়েছে তাতে বলা হয়, ডলার প্রতি ৮৩ টাকা বিনিময় হার ধরে হিসেব করলে দেখা যায়, বিদেশ সফরে প্রতি ১ টাকা খরচের বিপরীতে গড়ে প্রায় ৬৫,৬২০, অর্থাৎ প্রায় ৬৬ হাজার টাকা এফডিআই এসেছে। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩১.৬৯ লক্ষ কোটি। তবে এটি শুধুমাত্র একটি গাণিতিক তুলনা। সরকারের পক্ষ থেকে কোথাও দাবি করা হয়নি যে, প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের ফলেই এই বিনিয়োগ এসেছে বা দুইয়ের মধ্যে সরাসরি কোনও কারণ-ফল সম্পর্ক রয়েছে।

    বিদেশ সফরে কত খরচ হয়েছে

    করোনা মহামারির পর ভারতের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের ব্যয়ও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    ২০২১: ৩টি বিদেশ সফর, ব্যয় ৩৬.১২ কোটি
    ২০২২: ৭টি সফর, ব্যয় ৫৫.৮৩ কোটি
    ২০২৩: ৬টি সফর, ব্যয় ৯৩.৬৩ কোটি
    ২০২৪: ১১টি সফর, ব্যয় ১০৯.৫১ কোটি
    ২০২৫: ১১টি সফর, ব্যয় ১৮৭.৮৩ কোটি

    সব মিলিয়ে ২০২১ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত ৩৮টি বিদেশ সফরে মোট ব্যয় হয়েছে ৪৮২.৯২ কোটি। এছাড়া ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত বিদেশ সফরে ৭৪.৫৯ কোটি ব্যয়ের তথ্য প্রকাশ করেছে সরকার। তবে এই অঙ্ক চূড়ান্ত নয়। জুন মাসের ফ্রান্স সফরের ব্যয় এখনও সংকলনের পর্যায়ে রয়েছে এবং কয়েকটি দেশের সফরের বিল নিষ্পত্তির কাজ বাকি রয়েছে।

    বিদেশ সফরের গুরুত্ব নিয়ে সরকারের বক্তব্য

    বিদেশ মন্ত্রক (MEA) রাজ্যসভায় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর উচ্চপর্যায়ের বিদেশ সফর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার একটি প্রতিষ্ঠিত কূটনৈতিক মাধ্যম। সরকারের মতে, এসব সফরের সময় স্বাক্ষরিত বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (MoU) বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, উদ্ভাবন এবং স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    একাধিক ক্ষেত্রে মউ স্বাক্ষর

    সংসদে জানানো হয়েছে, ২০২১ সালের পর থেকে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরগুলিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ডিজিটাল প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য শক্তি, প্রতিরক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, মহাকাশ, দক্ষতা উন্নয়ন, সেমিকন্ডাক্টর, টেলিযোগাযোগ, সমালোচনামূলক খনিজ, গ্রিন হাইড্রোজেন, স্টার্টআপ সহযোগিতা, পারমাণবিক শক্তি এবংইউপিআই-সহ ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার সংক্রান্ত একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, ভুটান, সাইপ্রাস, ইথিওপিয়া ও গায়ানাসহ একাধিক দেশের সঙ্গে এই চুক্তিগুলি হয়েছে। সরকারের দাবি, এসব উদ্যোগ ভারতের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।

    ২০২৫ সালের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সফর

    সরকার জানিয়েছে, ২০২৫ সালে প্রধানমন্ত্রী মোদির আমেরিকা সফর ছিল সবচেয়ে ব্যয়বহুল। ওই সফরে ২৫.৫ কোটিরও বেশি সরকারি টাকা খরচ হয়েছিল। আর ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ব্যয় হয়েছে নরওয়ে সফরে। যেখানে মোট খরচের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় ১৭ কোটি। প্রধানমন্ত্রী মোদির বিদেশ সফরের ব্যয় এবং তার বিনিময়ে দেশের অর্থনীতি কতটা লাভবান হয়েছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, এই সফরগুলির মাধ্যমে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য এবং বিদেশি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

  • CBI: চিরকুটে প্রশ্ন, টেলিগ্রামে আদান-প্রদান! নিট প্রশ্নফাঁস মামলায় এনটিএ-র ৩ বিশেষজ্ঞ-সহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট সিবিআই-এর

    CBI: চিরকুটে প্রশ্ন, টেলিগ্রামে আদান-প্রদান! নিট প্রশ্নফাঁস মামলায় এনটিএ-র ৩ বিশেষজ্ঞ-সহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট সিবিআই-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রশ্নপত্র পরীক্ষার হলের বাইরে এল কীভাবে? কার হাত ঘুরে পৌঁছেছিল পরীক্ষার্থীদের কাছে? নিট-ইউজি (NEET-UG) ২০২৬ প্রশ্নফাঁস মামলায় সেই রহস্যের জট খুলতে শুরু করেছে সিবিআই (CBI)। যে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র উপর সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা নেওয়ার গুরুদায়িত্ব ছিল, সেই সংস্থারই অন্দরে থাকা তিন মহারথী বিষবৃক্ষ হয়ে চেপে বসেছিলেন। দিল্লির রাউজ অ্যাভিনিউয়ের বিশেষ সিবিআই (CBI) আদালতে ৯৪ পাতার চার্জশিট দাখিল করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। কীভাবে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (NTA) সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকেরা দিনের পর দিন প্রশ্ন ফাঁস করেছেন? কী পদ্ধতিতে তাঁরা কাজ করতেন? চার্জশিটে বিশদে উল্লেখ। মোট ১৩ জনের নাম চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসাবে তুলে ধরেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাঁদের প্রত্যেককেই গ্রেফতারও করা হয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে অফলাইন নেটওয়ার্ক- তদন্তে উঠে এসেছে প্রশ্নফাঁসের একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

    কারা চার্জশিটে?

    সিবিআইয়ের (CBI) চার্জশিটে মোট ১৩ জনের নাম রয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজন এনটিএ (NTA)-র প্রশ্নপ্রণয়নকারী বিশেষজ্ঞ। মনীষা গুরুনাথ মান্ধারে (উদ্ভিদবিদ্যা বিশেষজ্ঞ), প্রহ্লাদ কুলকার্নি (রসায়ন বিশেষজ্ঞ) ও মনীষা সঞ্জয় হাভালদার (পদার্থবিদ্যা বিশেষজ্ঞ)। এছাড়াও আরও ১০ জন মধ্যস্থতাকারী ও দালালের নাম রয়েছে- তেজস শাহ, শিবরাজ মোটেগাঁওকর, ডা. মনোজ শিরুরে, মনীষা সঞ্জয় ওয়াঘমারে, ধনঞ্জয় লোখান্ডে, শুভম খৈরনার, যশ যাদব, মাঙ্গিলাল বিওয়াল, দিনেশ বিওয়াল ও বিকাশ বিওয়াল। সিবিআই জানিয়েছে, চার্জশিটে নাম থাকা ১৩ জনকেই ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    ঠিক কী অভিযোগ?

    চার্জশিটে এনটিএ-র তিন আধিকারিকের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছে সিবিআই (CBI)। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, পরীক্ষার গোপনীয়তা রক্ষার দায়িত্বে থেকেও তাঁরা প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    ● মনীষা গুরুনাথ মান্ধারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি পরীক্ষার গোপন নথি বেআইনিভাবে বাইরে নিয়ে যান এবং অন্য অভিযুক্তদের মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিলেন। আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে গোপন তথ্যের অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

    ● প্রহ্লাদ কুলকার্নি, যিনি রসায়নের প্রশ্নপত্রের অনুবাদের দায়িত্বে ছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্রশ্নসংক্রান্ত নোট ও খসড়া নষ্ট করে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করেন। পাশাপাশি, গোপন নথি বাইরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

    ● মনীষা সঞ্জয় হাভালদারের বিরুদ্ধেও প্রমাণ নষ্ট, গোপন নথি সরানো এবং আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে সেই তথ্যের অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। চার্জশিটে আরও দাবি করা হয়েছে, এই তিন বিশেষজ্ঞ অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগসাজশ করে পরীক্ষার আগে নির্দিষ্ট কয়েকজন পরীক্ষার্থীর জন্য অফলাইন রিভিশন ক্লাস ও বিশেষ কোচিংয়ের ব্যবস্থাও করেছিলেন।

    কীভাবে ফাঁস হত প্রশ্ন?

    চার্জশিটে প্রশ্নফাঁসের যে পদ্ধতির উল্লেখ রয়েছে, তা অত্যন্ত পরিকল্পিত বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, প্রশ্নপত্র তৈরির কাজে যুক্ত কয়েকজন বিশেষজ্ঞ প্রথমে সহজ প্রশ্নগুলো মুখস্থ করে নিতেন। পরে সেগুলি ছোট ছোট চিরকুটে লিখে রাখতেন। শুধু তাই নয়, এনসিইআরটি-র যে বইয়ের অংশে ওই প্রশ্নগুলির উত্তর রয়েছে, সেই পাতাগুলিও দাগ কেটে চিহ্নিত করে দেওয়া হত। এরপর চিরকুট এবং চিহ্নিত বই মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পরীক্ষার্থী ও কয়েকটি কোচিং সেন্টারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হত বলে চার্জশিটে উল্লেখ।

    অফলাইনেই চলত গোটা কারবার

    সিবিআইয়ের (CBI) দাবি, ডিজিটাল প্রমাণ এড়ানোর জন্য গোটা প্রক্রিয়ার বড় অংশই অফলাইনে, হাতে হাতে সম্পন্ন করা হত। প্রশ্ন মুখস্থ করে পরে কাগজে লেখা হত, যাতে সরাসরি ডিজিটাল ডিভাইসে কোনও তথ্য না থাকে। তবে তদন্তে বাজেয়াপ্ত মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ফরেন্সিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের পিডিএফ ও ছবিও উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, পরীক্ষার আগে টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও প্রশ্ন আদান-প্রদান করা হয়েছিল।

    মোটা অঙ্কের টাকার লেনদেন!

    তদন্তে উদ্ধার হওয়া একটি মোবাইলে ‘NEET 2026’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সন্ধান মিলেছে। সিবিআইয়ের (CBI) দাবি, এই গ্রুপের মাধ্যমেই চক্রের সদস্যরা যোগাযোগ রাখতেন। চার্জশিট অনুযায়ী, যশ যাদবের কাছ থেকে টেলিগ্রামের মাধ্যমে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পান মাঙ্গিলাল বিওয়াল। তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, শুভম খৈরনার ২৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ধনঞ্জয় লোখান্ডেকে প্রশ্ন সরবরাহ করেন। পরে সেই প্রশ্ন একাধিক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছায়।

    কোচিং সেন্টার-যোগ?

    চার্জশিটে নির্দিষ্ট কয়েকটি কোচিং সেন্টারের সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগাযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, শুধু আর্থিক লাভ নয়, কিছু কোচিং সেন্টারের সাফল্যের হার বাড়ানোর লক্ষ্যেও প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হত। এছাড়াও এক পরীক্ষার্থী ও তাঁর বাবাকে ৪ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র, বিশেষ কোচিং এবং অফলাইন রিভিশন ক্লাসের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও চার্জশিটে উল্লেখ রয়েছে।

    নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির অভিযোগ

    চার্জশিটে এনটিএ (NTA)-র প্রশ্ন সংরক্ষণ ও পরিচালনা সংক্রান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার কিছু ঘাটতির কথাও উল্লেখ করেছে সিবিআই। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, প্রশ্নপত্র সংরক্ষিত এলাকায় প্রবেশ ও বেরোনোর সময় পর্যাপ্ত তল্লাশির ব্যবস্থা না থাকায় গোপন তথ্য বাইরে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এছাড়াও সিবিআই জানিয়েছে, অভিযুক্ত প্রহ্লাদ কুলকার্নি ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত টানা তিন দিন তিনটি পৃথক প্রশ্নপত্রের অনুবাদের কাজে যুক্ত ছিলেন।

    কঠোর ধারায় মামলা

    অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন এবং পাবলিক এক্সামিনেশনস অ্যাক্ট, ২০২৪ (Prevention of Unfair Means)-এর একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ৯৪ পাতার চার্জশিটে ৩৬০ জন সাক্ষীর বয়ান, ৪২২টি নথি, ফরেন্সিক রিপোর্ট, ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্য এবং বিভিন্ন রাজ্য থেকে সংগ্রহ করা প্রমাণের উল্লেখ রয়েছে বলে সিবিআই জানিয়েছে। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষাকে ঘিরে ওঠা এই প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। সিবিআইয়ের (CBI) চার্জশিটে তদন্তের নানা দিক উঠে এলেও, অভিযোগগুলির চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারপ্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে। এখন এই বহুচর্চিত মামলার পরবর্তী শুনানি এবং আদালতের রায়ের দিকেই নজর শিক্ষা মহল, পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।

  • Bhawana Kanth: ভারতের প্রথম মহিলা ‘টপ গান’ ফাইটার পাইলট! ইতিহাস গড়লন বায়ুসেনার স্কোয়াড্রন লিডার ভাবনা কান্ত

    Bhawana Kanth: ভারতের প্রথম মহিলা ‘টপ গান’ ফাইটার পাইলট! ইতিহাস গড়লন বায়ুসেনার স্কোয়াড্রন লিডার ভাবনা কান্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) স্কোয়াড্রন লিডার ভাবনা কান্ত আবারও ইতিহাস গড়লেন। ভারতীয় বায়ুসেনার প্রথম মহিলা ফাইটার পাইলট হিসেবে ‘ফাইটার কমব্যাট লিডার (Fighter Combat Leader – FCL) কোর্স’ সফলভাবে সম্পন্ন করলেন ভাবনা। মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে অবস্থিত ট্যাকটিক্স অ্যান্ড এয়ার কমব্যাট ডেভেলপমেন্ট এস্টাবলিশমেন্ট (TACDE)-এ অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণকে আইএএফ-এর অন্যতম কঠিন ও মর্যাদাপূর্ণ উন্নত যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০ সপ্তাহব্যাপী এই কোর্সে শুধুমাত্র নির্বাচিত ফাইটার পাইলটদের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে। সফলভাবে এই প্রশিক্ষণ শেষ করলে সংশ্লিষ্ট পাইলটরা আকাশপথে কঠিন যুদ্ধাভিযানে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন।

    শীর্ষ যুদ্ধকৌশল বিশেষজ্ঞদের তালিকায় ভাবনা

    ট্যাকটিক্স অ্যান্ড এয়ার কমব্যাট ডেভেলপমেন্ট এস্টাবলিশমেন্টকে ভারতীয় বায়ুসেনার প্রধান ফাইটার ট্যাকটিক্স প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গণ্য করা হয়। এর মর্যাদা অনেকটা মার্কিন নৌবাহিনীর বিখ্যাত ‘টপ গান’ (Strike Fighter Tactics Instructor Programme)-এর সমতুল্য। এখানে উন্নত যুদ্ধকৌশল, মিশন পরিকল্পনা, আকাশ থেকে আকাশ এবং আকাশ থেকে ভূমিতে হামলার কৌশল, পাশাপাশি উচ্চ-তীব্রতার সামরিক অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষক হিসেবে থাকেন ভারতীয় বায়ুসেনার সবচেয়ে অভিজ্ঞ ফাইটার পাইলট ও এয়ার কন্ট্রোলাররা। এই প্রশিক্ষণ পেয়ে ভারতীয় বায়ুসেনার শীর্ষ যুদ্ধকৌশল বিশেষজ্ঞদের তালিকায় স্থান করে নিলেন ভাবনা।

    কে এই স্কোয়াড্রন লিডার ভাবনা কান্ত?

    বিহারের দারভাঙার বাসিন্দা ভাবনা কান্ত একজন ইঞ্জিনিয়ারিং স্নাতক। ২০১৬ সালের জুন মাসে তিনি ভারতের প্রথম মহিলা ফাইটার পাইলটদের ব্যাচের সদস্য হিসেবে ভারতীয় বায়ুসেনায় কমিশনপ্রাপ্ত হন। তাঁর সঙ্গে একই ব্যাচে ছিলেন অবনী চতুর্বেদী এবং মোহনা সিং। সামরিক বিমানচালনায় নারীদের অগ্রযাত্রায় ভাবনা কান্ত একাধিক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্থাপন করেছেন। ২০১৯ সালে তিনি প্রথম ভারতীয় মহিলা ফাইটার পাইলট হিসেবে দিনের বেলায় যুদ্ধবিমান পরিচালনার অনুমোদন পান। প্রথমে তিনি মিগ ২১ বাইসন উড়িয়েছেন, পরে এসইউ-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান ওড়ান। ২০২১ সালে তিনি প্রথম মহিলা ফাইটার পাইলট হিসেবে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে অংশ নেন। এরপর ২০২৪ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের ফ্লাইপাস্টেও তিনি অংশগ্রহণ করেন। আর এবার ফাইটার কমব্যাট লিডার কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করে ভারতীয় বায়ুসেনায় নারীদের নেতৃত্ব ও যুদ্ধক্ষমতার ইতিহাসে আরও একটি নতুন অধ্যায় যোগ করলেন। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাবনা কান্তের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নয়, বরং ভারতীয় বায়ুসেনায় নারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ, দক্ষতা এবং নেতৃত্বের সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।

LinkedIn
Share