Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Sahil Wakode Suicide: ‘দাঙ্গা উসকে দিতে ভুয়ো খবর ’, সাহিল ওয়াকোড়ের আত্মহত্যার ঘটনায় আইআইটি বম্বের অধ্যাপকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    Sahil Wakode Suicide: ‘দাঙ্গা উসকে দিতে ভুয়ো খবর ’, সাহিল ওয়াকোড়ের আত্মহত্যার ঘটনায় আইআইটি বম্বের অধ্যাপকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইআইটি বম্বের ছাত্র সাহিল ওয়াকোড়ের আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ছাত্রের বিরুদ্ধে মুম্বই পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ পত্রে, আইআইটি বম্বের হিউম্যানিটিজ বিভাগের অধ্যাপক সূর্যকান্ত ওয়াঘমোরে, প্রবীণ আইনজীবী মিহির দেশাই, আইনজীবী নবনীত, ছাত্রী হুমা নামাল, অমরকান্ত ঠাকুর-সহ আরও কয়েকজনের নাম রয়েছে। অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সামাজিক মাধ্যমে এমন কিছু তথ্য ও পোস্ট ছড়িয়েছেন, যা তাদের দাবি অনুযায়ী ‘ভুয়ো খবর’ ছড়িয়ে জাতপাতের ভিত্তিতে উত্তেজনা ও সংঘর্ষ উসকে দিতে পারে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে প্ররোচনামূলক পোস্টের মাধ্যমে হিংসা, সামাজিক অস্থিরতা এবং জাতপাতের ভিত্তিতে সমাজকে বিভক্ত করার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।

    পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অনুমান

    অভিযোগে আইনজীবী মিহির দেশাইয়ের সঙ্গে এইচআরএলএন-এসএলটিসি নামে একটি সংগঠনের যোগসূত্রের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ওই সংগঠন জার্মান ক্যাথলিক চার্চ-সম্পর্কিত এক এনজিও-র কাছ থেকে অর্থসাহায্য পায়। তবে এই সমস্ত অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। আরও অভিযোগ, নবনীত মিহির দেশাইয়ের চেম্বারে কাজ করেন এমন এক ব্যক্তি সাহিল ওয়াকোড়ের পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে থাকাকালীন তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি পরিবারকে অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লার বিরুদ্ধে তফসিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের অধীনে অভিযোগ দায়ের করার জন্য উৎসাহিত করেন। এদিকে মুম্বই পুলিশের সূত্রের দাবি, সাহিল ওয়াকোড়েকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগের ক্ষেত্রে আইআইটি বম্বের অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লার বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত কোনও শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চ। পুলিশ সূত্র আরও জানিয়েছে, সাহিলের বিরুদ্ধে জাতপাত সংক্রান্ত কটূক্তি করা হয়েছিল—পরিবারের পক্ষ থেকে এমন অভিযোগ করা হলেও, সেই দাবিকে সমর্থন করার মতো কোনও প্রত্যক্ষদর্শী বা নির্দিষ্ট প্রমাণ এখনও তদন্তকারীদের হাতে আসেনি।

    পরীক্ষার হলের সিসিটিভি ফুটেজ

    তদন্তকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়ে অধ্যাপক দুল্লা যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা ক্যাম্পাসের সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ফুটেজে সাহিলকে নিচের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায় বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। এরপর তাঁকে পরীক্ষার ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এরপর অধ্যাপক দুল্লা সাহিলকে একটি আলাদা ঘরে নিয়ে যান। সেখানে আরও এক অধ্যাপক এবং বিভাগের একজন আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় থাকা সিসিটিভি ক্যামেরায় সাহিলকে পরে নিজের হস্টেল কক্ষে যেতে এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতেও দেখা যায় বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। এই ঘটনায় তিন অধ্যাপককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তাঁদের বক্তব্যও রেকর্ড করা হয়েছে। তবে মামলাটি এখনও তদন্তাধীন। অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা দাবিগুলির সত্যতা আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া হয়নি।

  • Forest Operations: ছত্তিশগড়ের বীজাপুর-সুকমায় মাওবাদীদের গোপন ডেরার খোঁজ, বাজেয়াপ্ত বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ

    Forest Operations: ছত্তিশগড়ের বীজাপুর-সুকমায় মাওবাদীদের গোপন ডেরার খোঁজ, বাজেয়াপ্ত বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চলের জঙ্গলগুলিতে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে তল্লাশি, মাইনমুক্তকরণ এবং এলাকায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠার অভিযান আরও (Forest Operations) জোরদার করেছে নিরাপত্তাবাহিনী। এই অভিযানে বীজাপুর ও সুকমা জেলায় একাধিক গোপন মাওবাদী ডেরা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক, যোগাযোগের সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে।

    চলতি মাসেই বীজাপুর জেলায় একাধিক অস্ত্রভাণ্ডারের খোঁজ মিলেছে। এর মধ্যে বেদ্রে থানার অধীন লঙ্কা পাহাড়ি এলাকার জঙ্গলে মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা একটি বড় অস্ত্রভাণ্ডারও রয়েছে। সেখান থেকে একটি এসএলআর/এলএমজি রাইফেল, একটি ইনসাস রাইফেল, একটি ০.৩১৫ বোরের বন্দুক, দুটি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার, বিপুল গোলাবারুদ, ম্যাগাজিন এবং একটি চিনা হ্যান্ড গ্রেনেড উদ্ধার হয়েছে (Maoist)।

    সুকমা জেলার চিন্তলনা থানার অধীন ছোট কাঞ্চলা গ্রামের কাছের জঙ্গল থেকেও কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী একটি গোপন মাওবাদী ডেরার খোঁজ পেয়েছে। সেখান থেকে উদ্ধার হয়েছে একটি একনলা বন্দুক, বেতার যোগাযোগের সরঞ্জাম, হাতে বহনযোগ্য তাপ-অনুসন্ধানী যন্ত্র, বৈদ্যুতিন সামগ্রী, মোবাইল ফোন, অপটিক্যাল সরঞ্জাম, মাওবাদী সাহিত্য এবং অন্যান্য উপকরণ। নিরাপত্তা সংস্থাগুলি জানিয়েছে, মাওবাদী কার্যকলাপের সময় জঙ্গলের প্রত্যন্ত এলাকায় লুকিয়ে রাখা অস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রী খুঁজে বের করতে লাগাতার তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

    চিনা হ্যান্ড গ্রেনেড-সহ অস্ত্র উদ্ধার (Forest Operations)

    বীজাপুরের লঙ্কা পাহাড়ি এলাকার জঙ্গলে বেদ্রে থানার অধীনে সাম্প্রতিক বড়সড় উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। ওই সময় নিরাপত্তাকর্মীরা একটি সন্দেহজনক জায়গা চিহ্নিত করেন। সেখানে তল্লাশি চালাতেই মেলে মাটির নীচে লুকানো অস্ত্রভাণ্ডারের হদিশ।

    পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একটি এসএলআর/এলএমজি, একটি ইনসাস রাইফেল এবং একটি ০.৩১৫ বোরের বন্দুক। দুটি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চারও উদ্ধার করা হয়েছে (Forest Operations)।

    উদ্ধার হওয়া গোলাবারুদের মধ্যে রয়েছে ১৭টি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চারের গোলা, একটি চিনা হ্যান্ড গ্রেনেড, ৪৯টি তাজা এসএলআর গুলি, ০.৩১৫ বোরের ১৫টি গুলি এবং ১৫টি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চারের কার্তুজ। চারটি এসএলআর ম্যাগাজিন এবং একটি ০.৩১৫ বোরের ম্যাগাজিনও বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

    ঘটনাস্থল থেকে আরও বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে। শুরু হয়েছে তদন্ত।

    পুলিশ আধিকারিক সিদ্ধার্থ সিং চৌহান বলেন, “বীজাপুরে লাগাতার তল্লাশি ও মাইনমুক্তকরণ অভিযান চলছে। এই অভিযানেই অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছে। চলতি মাসের বিভিন্ন দিনেও অভিযানের সময় অস্ত্র এবং অন্যান্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।”

    একের পর এক অস্ত্রভাণ্ডারের হদিশ

    লঙ্কা পাহাড়ির উদ্ধার অভিযানটি সেপ্টেম্বর মাসে বীজাপুরে হওয়া একাধিক অভিযানের একটি।

    ২০ সেপ্টেম্বর ভৈরামগড় থানার আদওয়ারা জঙ্গলে তল্লাশি চালিয়ে একটি একে-৪৭, ০.৩১৫ বোরের অস্ত্র, একটি একনলা পিস্তল, গোলাবারুদ এবং ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।

    ১৬ সেপ্টেম্বর বডে আলওয়াড়া জঙ্গল থেকে একটি ০.৩১৫ বোরের রাইফেল, ৪৯টি তাজা গুলি, ২৫টি ০.৩০৩ গুলি, ৪৯টি ১২ বোরের গুলি, জিলেটিন, বেতার যন্ত্র এবং অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার হয়।

    ৫ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর ১৯৯ নম্বর ব্যাটেলিয়ন পিডিয়া-কুপ্পাগুড়া এলাকায় বড়সড় অভিযান চালায়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এদরি, হররা, নয়াপাড়া এবং সরপঞ্চপাড়ার আশপাশের জঙ্গলে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে ১৪টি সন্দেহভাজন মাওবাদী ডেরা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক, ডেটোনেটর, হাতে তৈরি বিস্ফোরক যন্ত্র, যোগাযোগের সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধার করা হয় (Forest Operations)।

    ৩ সেপ্টেম্বর নীলামডগু নদীর তীরবর্তী এলাকায়ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। একটি ফাঁপা গাছের ভিতরে লুকিয়ে রাখা একটি দেশি ১২ বোরের বন্দুক, ক্ষতিগ্রস্ত একটি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার রাইফেল, আটটি গ্রেনেড লঞ্চার সেল এবং ১০টি তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

    বীজাপুরের পুলিশ সুপার উমেশ প্রসাদ গুপ্ত জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ জঙ্গল এলাকাগুলিতে তল্লাশি ও মাইনমুক্তকরণ অভিযান অব্যাহত রয়েছে, যাতে মাওবাদীরা অস্ত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম লুকিয়ে রাখতে না পারে (Maoist)।

    সুকমায় মাওবাদী ডেরার খোঁজ

    এদিকে সুকমা জেলার চিন্তলনা থানার ছোট কাঞ্চলা গ্রামের জঙ্গলেও মিলেছে মাও-ডেরার খোঁজ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর ১৫০ নম্বর ব্যাটালিয়ন এই অভিযান চালায়। ২০ সেপ্টেম্বর ইউনিটের গোয়েন্দা শাখা মাটির নীচে লুকোনো আস্তানার খোঁজ পায়। শুরু হয় অভিযান।

    দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং ঘন জঙ্গল পেরিয়ে নিরাপত্তাকর্মীরা সন্দেহভাজন এলাকায় পৌঁছন। সেখানে হাতে তৈরি বিস্ফোরক যন্ত্র থাকার আশঙ্কায় এলাকাটি ঘিরে ফেলা হয়। এরপর প্রশিক্ষিত কুকুরের দল এবং বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের সাহায্যে তল্লাশি চালানো হয়।

    প্রশিক্ষিত কুকুরের দল একটি সন্দেহজনক জায়গা চিহ্নিত করে। সেখান থেকে মাটির নীচে পুঁতে রাখা দুটি লোহার ড্রাম উদ্ধার করা হয়।

    বাজেয়াপ্ত নানা সামগ্রী

    উদ্ধার হওয়া ড্রামের ভিতরে ছিল বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী। এর মধ্যে রয়েছে একটি একনলা বন্দুক, তাপ-অনুসন্ধানী যন্ত্র, ভিএইচএফ বেতার যন্ত্র, বেতার যন্ত্রের ব্যাটারি চার্জার, বিভিন্ন বৈদ্যুতিন বর্তনী, অ্যান্টেনা এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিন সরঞ্জাম (Forest Operations)। দুটি মোবাইল ফোন, দূরবীক্ষণ যন্ত্র, সাইরেনের শব্দ তৈরির যন্ত্র এবং ঢালের কোণ মাপার যন্ত্রও উদ্ধার হয়েছে।

    নিরাপত্তাকর্মীরা মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত একটি লাল পতাকা এবং মাওবাদী সাহিত্যও বাজেয়াপ্ত করেছেন। উদ্ধার হয়েছে একটি পিঠু ব্যাগ, গ্যাস সিলিন্ডার, ওষুধ এবং হেডফোনও।

    তদন্তকারীদের বিশেষ নজরে এসেছে উদ্ধার হওয়া কয়েকটি বেতার যোগাযোগের সরঞ্জামে থাকা চিহ্ন। ওই যন্ত্রগুলিতে “পিএল-০৪” এবং “পামদে ডিভিশনে”র মতো ইউনিট-চিহ্ন রয়েছে।

    এই চিহ্ন এবং বেতার সরঞ্জামগুলি কী কাজে ব্যবহার করা হত এবং মাওবাদী নেটওয়ার্কের সঙ্গে এগুলির কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

    বেতার সরঞ্জামের উৎস খতিয়ে দেখছে পুলিশ

    কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর কর্তা আনন্দ সিং রাজপুত বলেন, “মাওবাদী ডেরা থেকে উদ্ধার হওয়া বেতার যন্ত্রগুলি পরীক্ষা করা হচ্ছে। মাওবাদীরা কোথা থেকে এই বেতার যন্ত্রগুলি লুট করেছিল বা সংগ্রহ করেছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে।”

    উদ্ধার হওয়া সরঞ্জামগুলির উৎস, মাওবাদী সংগঠনের কোন কোন ইউনিট সেগুলি ব্যবহার করত এবং কোন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সেগুলি তাদের হাতে পৌঁছেছিল, তা খতিয়ে দেখছেন (Maoist) তদন্তকারীরা।

    বস্তারজুড়ে তল্লাশি ও নিরাপত্তা অভিযান অব্যাহত

    বীজাপুর ও সুকমায় এই অস্ত্রভাণ্ডারের খোঁজ মেলার পর বস্তারজুড়ে শুরু হয়েছে জোরদার নিরাপত্তা অভিযান। পুলিশের বক্তব্য, ৩১ মার্চ ছত্তিশগড়কে সশস্ত্র মাওবাদী উপস্থিতি থেকে মুক্ত ঘোষণা করার পরেও, জঙ্গলে লুকিয়ে রাখা অস্ত্র, বিস্ফোরক, যোগাযোগের সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সামগ্রী খুঁজে বের করতে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নিরাপত্তাবাহিনী।

    বিস্তীর্ণ জঙ্গল, প্রত্যন্ত বসতি এবং দুর্গম যাতায়াতের পথের কারণে এই অঞ্চলে নিয়মিত নজরদারি ও মাইনমুক্তকরণ অভিযানকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সন্দেহভাজন এলাকাগুলিতে তল্লাশির পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মাটির নীচে লুকিয়ে রাখা অস্ত্রভাণ্ডার ও অন্যান্য সামগ্রীর খোঁজও চালানো হচ্ছে।

    সেপ্টেম্বর মাসে একাধিক এলাকায় অস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনা থেকে স্পষ্ট, তল্লাশি কোনও একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই; বস্তারের বিভিন্ন জঙ্গল এলাকাতেই অভিযান চালানো হচ্ছে।

    বীজাপুরের লঙ্কা পাহাড়ি এলাকায় অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার এবং সুকমার ছোট কাঞ্চলার কাছে মাটির নীচে লুকোনো ডেরার খোঁজ মেলার পর আশপাশের জঙ্গলে নজরদারি ও তল্লাশি আরও বাড়ানো হয়েছে।

    সন্দেহজনক সামগ্রী দেখলে পুলিশকে জানানোর আবেদন

    বীজাপুর পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দা, জঙ্গলে বসবাসকারী মানুষ এবং প্রত্যন্ত এলাকার মধ্যে দিয়ে যাতায়াতকারী ব্যক্তিদের কাছে আবেদন জানিয়েছে, কোনও সন্দেহজনক বস্তু, অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক বা অপরিচিত সামগ্রী চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে খবর দিতে।

    বিশেষ করে নির্জন জঙ্গল এলাকায় কোনও সন্দেহজনক বস্তু দেখা গেলে সেটি স্পর্শ, সরানো বা তার কাছে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। মাটির নীচে বা অন্যত্র লুকিয়ে রাখা সামগ্রী গুরুতর বিপদের কারণ হতে পারে (Forest Operations) বলেও বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে।

     

  • Cross Border Terrorism: সীমান্তপারের সন্ত্রাসে বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ করতে হবে পাকিস্তানকে, সাফ জানাল ভারত

    Cross Border Terrorism: সীমান্তপারের সন্ত্রাসে বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ করতে হবে পাকিস্তানকে, সাফ জানাল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ (Cross Border Terrorism) মোকাবিলায় পাকিস্তানকে (Pakistan) কথার পাশাপাশি বাস্তব ও বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ করতে হবে। পাকিস্তান কী বলছে, তা আন্তর্জাতিক মহল বিশ্বাস করার আগে ইসলামাবাদকে কাজের মাধ্যমে তার প্রতিশ্রুতি পূরণের দাবি প্রমাণ করতে হবে বলে মঙ্গলবার জানাল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।

    মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলনে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান তথা প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। মুনির জানিয়েছিলেন, দেশে জঙ্গি তৎপরতা বাড়তে থাকা হুমকির মধ্যে সন্ত্রাসবাদ পরাস্ত করতে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

    এর জবাবে জয়সওয়াল বলেন, “পাকিস্তানকে পদক্ষেপ এবং দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রমাণ দিতে হবে। সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তাদের বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ নিতে হবে। তারা যা বলছে, তা সত্যিই করবে—বিশ্বকে তা বিশ্বাস করাতে হলে এই পদক্ষেপ জরুরি।”

    গত বছর পহেলগাঁও হামলার পর থেকেই নয়াদিল্লি বলে আসছে, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেওয়া থেকে পাকিস্তানকে বিশ্বাসযোগ্য ও স্থায়ীভাবে সরে আসতে হবে।

    পেশোয়ারে আসিম মুনিরের বার্তা (Cross Border Terrorism)

    এর আগে মঙ্গলবার পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির বলেছিলেন, দেশে জঙ্গি হুমকি বাড়তে থাকলেও, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনী দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

    পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দফতরের তথ্য অনুযায়ী, মুনির পেশোয়ারের সেনা সদর দফতর পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং প্রদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন। সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং সেখানে মোতায়েন বাহিনীর প্রস্তুতি নিয়েও তাঁকে জানানো হয়।

    পাক সেনাবাহিনীর তরফে বলা হয়েছে, মুনির জোর দিয়ে জানান, দেশের জনগণের অবিচল সমর্থন নিয়ে সশস্ত্র বাহিনী সন্ত্রাসবাদ পরাস্ত করতে এবং সারা দেশে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিহতদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি।

    আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলার নিন্দা ভারতের

    এদিকে আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় পাকিস্তানের বিমান হামলারও তীব্র নিন্দা করেছে ভারত। জয়সওয়াল বলেন, সার্বভৌম প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে এই ধরনের আগ্রাসনের ঘটনা আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আফগানিস্তানের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি ভারতের সমর্থনের কথাও জানান তিনি।

    পাকিস্তান সোমবার জানিয়েছিল, আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসবাদীদের শিবির ও গোপন আস্তানায় বিমান হামলা চালিয়েছে তাদের নিরাপত্তা বাহিনী। পাকিস্তানের দাবি, ওই হামলায় আত্মঘাতী হামলাকারী-সহ ২৮ জন সন্ত্রাসবাদী নিহত হয়েছে। পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়।

    তবে আফগানিস্তান পাকিস্তানের এই দাবি ও পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে। কাবুলের তরফে আফগান ভূখণ্ড পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হয়—এমন অভিযোগও অস্বীকার করা হয়েছে।

    পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই কাবুলের তালিবান প্রশাসনের কাছে আফগান ভূখণ্ডে থাকা সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি ভেঙে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত ঘাঁটিগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় ইসলামাবাদ। পাকিস্তানের অভিযোগ, এসব জায়গা থেকে তাদের দেশে হামলা চালানো হয় (Cross Border Terrorism)।

    সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি নিয়েও ভারত-পাকিস্তান মতবিরোধ

    এদিকে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে সালিশি আদালতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তথ্য বিকৃতির অভিযোগ তুলেছে ভারত।

    পাকিস্তান এই সিদ্ধান্তকে স্থায়ী সালিশি আদালতের রায় হিসেবে তুলে ধরছে—এমন প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল বলেন, “প্রথমত, পাকিস্তানের মন্ত্রী যেভাবে বিষয়টি তুলে ধরছেন, তথাকথিত এই সিদ্ধান্ত স্থায়ী সালিশি আদালতের রায় নয়। এটি একটি বেআইনিভাবে গঠিত আদালতের সিদ্ধান্ত। আমরা একে বাস্তবতাকে বিকৃত করার পাকিস্তানের আর একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছি। এই বিষয়ে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট এবং আমরা তা একাধিকবার জানিয়েও দিয়েছি।”

    অগাস্টের শেষের দিকে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্তে সালিশি সংস্থা (Pakistan) জানিয়েছিল, চুক্তিটি কার্যকর রয়েছে এবং ভারত একতরফাভাবে সেটিকে স্থগিত রাখতে পারে না। ভারত অবশ্য ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে স্পষ্ট জানিয়েছিল, তারা ওই সালিশি প্রক্রিয়াকে স্বীকৃতিই দেয় না (Cross Border Terrorism)।

     

  • Hamid Ansari: হিন্দু দক্ষিণপন্থী সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে হামিদ আনসারির মন্তব্যে বিতর্ক, তীব্র আক্রমণ ইমাম ইলিয়াসির

    Hamid Ansari: হিন্দু দক্ষিণপন্থী সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে হামিদ আনসারির মন্তব্যে বিতর্ক, তীব্র আক্রমণ ইমাম ইলিয়াসির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারির (Hamid Ansari) “হিন্দু দক্ষিণপন্থী সাম্প্রদায়িকতা” সংক্রান্ত মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন অল ইন্ডিয়া ইমাম অর্গানাইজেশনের প্রধান ইমাম উমর আহমেদ ইলিয়াসি (Imam Ilyasi)। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের মন্তব্য দেশের সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে।

    গত ১৯ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লির ইন্ডিয়া ইসলামিক কালচারাল সেন্টারে প্রয়াত সংবিধান বিশেষজ্ঞ তথা লেখক এজি নূরানির স্মরণে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন আনসারি। সেখানে তিনি নূরানির ২০১৯ সালের বই ‘দ্য আরএসএস: আ মেনেস টু ইন্ডিয়া’র প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর একটি পুরনো বক্তব্যের উল্লেখ করেন। আনসারি বলেন, নেহরুর মতে ভারতের জন্য প্রকৃত বিপদ সাম্যবাদ নয়, বরং হিন্দু দক্ষিণপন্থী সাম্প্রদায়িকতা। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নাগরিক জাতীয়তাবাদের প্রতিষ্ঠিত ধারণার পরিবর্তে সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই প্রবণতার মাধ্যমে ধর্মীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে নির্বাচনী সংখ্যাগরিষ্ঠতার সঙ্গে এক করে রাজনৈতিক ক্ষমতা একচেটিয়া করার চেষ্টা হতে পারে। আনসারি আরও বলেন, এর ফলে ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিকদের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করা, অসহিষ্ণুতাকে উৎসাহ দেওয়া এবং সমাজে অন্যত্ব, অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    ইমাম ইলিয়াসির আক্রমণ (Hamid Ansari)

    আনসারির বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন ইলিয়াসি। তাঁর অভিযোগ, মুসলিম সমাজের মধ্যে নিজের ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের উদ্দেশ্যেই আনসারি এই ধরনের মন্তব্য করেছেন। ইলিয়াসি বলেন, “আমি এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা করছি। হামিদ আনসারি সাহেব আবার মুসলিমদের কথা মনে করেছেন। তিনি যখন ক্ষমতায় ছিলেন এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন, তখন তিনি ধর্মনিরপেক্ষ ছিলেন। আজ তিনি মুসলিমদের কথা মনে করছেন।” তিনি আরও বলেন, “মুসলিমরা তাঁর সম্পর্কে জানতে চাইছেন না। তাঁদের মধ্যে নিজের ভাবমূর্তি উন্নত করার জন্যই তিনি এই ধরনের মন্তব্য করেছেন।” দেশের পরিবেশ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে ইলিয়াসির মন্তব্য, “আমার মনে হচ্ছে, কোথাও না কোথাও দেশের পরিবেশ নষ্ট করার জন্য এটি একটি বড় ষড়যন্ত্র।”

    ভাগবতের বক্তব্য সমর্থনের পরামর্শ

    ইলিয়াসি বলেন, মুসলিম সমাজ নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবতের কিছু বক্তব্যকেও স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, “মোহন ভাগবতজি যখন বলেছেন যে সব ভারতীয়ের ডিএনএ এক, মসজিদের নীচে শিবলিঙ্গ খোঁজা উচিত নয় এবং সম্প্রতি আমেরিকা সফরের সময় মুসলিমদের অধিকারের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন, তখন সেই বক্তব্যগুলিকেও সমর্থন করা উচিত (Hamid Ansari)।”

    বিজেপি এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদেরও সমালোচনা

    আনসারির মন্তব্যের সমালোচনা করেছে বিজেপি এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদও। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা বিনোদ বনসলের অভিযোগ, উপরাষ্ট্রপতি পদে থাকার সময়ে আনসারি উগ্রপন্থী সংগঠন হিসেবে বর্ণিত পিএফআই এবং এসডিপিআইয়ের আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। বনসল বলেন, “ভারতের সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু সমাজের কাছ থেকে কোনও হুমকি নেই। হুমকি তাদের কাছ থেকে, যারা উগ্র মানসিকতা নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘুর বিভাজনের বিষ ছড়ায় এবং যারা উগ্রপন্থাকে উৎসাহ দেয়, তাদের রক্ষা করার চেষ্টা করে।” বিজেপির অভিযোগ, আনসারির বক্তব্য কংগ্রেসের তথাকথিত হিন্দু-বিরোধী রাজনীতির প্রতিফলন। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় রাহুল গান্ধীর অতীতের হিন্দু সংগঠন ও সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত মন্তব্যের প্রসঙ্গও টেনে আনে পদ্ম শিবির। ঘটনায় (Imam Ilyasi) রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি নাগরিক জাতীয়তাবাদ, সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে (Hamid Ansari) চর্চা।

     

  • Drug Regulator Warning: বারবার ব্যথার ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে কিডনির ঝুঁকি, সতর্ক করল ওষুধ নিয়ন্ত্রক

    Drug Regulator Warning: বারবার ব্যথার ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে কিডনির ঝুঁকি, সতর্ক করল ওষুধ নিয়ন্ত্রক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই বারবার ব্যথার ওষুধ নৈব নৈব চ! সর্দি-কাশি, পেটের কমপ্লেন পটাপট অ্যান্টিবায়োটিক সেবন থেকেও বিরত থাকুন। নইলে ক্ষতি হতে পারে কিডনির। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে তৈরি হতে পারে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স। এই পরিস্থিতিতে ব্যথানাশক ও অ্যান্টিবায়োটিকের নির্বিচার ব্যবহার বন্ধ করার জন্য চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক করল কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (CDSCO)। সিডিএসসিও-এর জারি করা পরামর্শে বলা হয়েছে, ব্যথানাশক হিসেবে ব্যবহৃত ওষুধ (NSAIDs) এবং অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ব্যবহার করা উচিত। ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত, বারবার বা দীর্ঘদিনের ব্যবহার এড়ানোর পরামর্শ (Drug Regulator Warning) দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

    চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক নয়

    সাধারণ মানুষকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (CDSCO)। বিশেষ করে অধিকাংশ সাধারণ ভাইরাল সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না। তাই সর্দি-কাশি বা সাধারণ ভাইরাল অসুস্থতার ক্ষেত্রে নিজের সিদ্ধান্তে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হলে নির্দিষ্ট নিয়ম ও সময় মেনে তা খেতে হবে। অন্যের সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক ভাগ করে নেওয়া বা আগের প্রেসক্রিপশনের অব্যবহৃত ওষুধ পরে নিজে থেকে খাওয়া উচিত নয়।

    কিডনির রোগীদের বিশেষ সতর্কতা

    যাদের আগে থেকেই কিডনির সমস্যা রয়েছে বা কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, তাঁদের এই ধরনের ওষুধ ব্যবহারের আগে চিকিৎসককে বিষয়টি জানাতে বলা হয়েছে। এছাড়াও শরীরে জলশূন্যতা, কিডনির সমস্যা, হৃদ্‌রোগ বা অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ শারীরিক পরিস্থিতি থাকলে ব্যথানাশক ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে সিডিএসসিও। ব্যথা, জ্বর বা অন্য কোনও উপসর্গ বারবার ফিরে এলে নিজের মতো করে ব্যথানাশক বা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার পরিবর্তে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সতর্কতা

    অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ শুধুমাত্র ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সৃষ্ট অসুখের ক্ষেত্রেই কাজ করে ভাইরাস বাহিত অসুখে নয়! অনেক ক্ষেত্রে ভাইরাল ইনফেকশনেও অ্যান্টিবায়োটিক ড্রাগ খেয়ে নেন অনেকে। এর ফলে হিতে বিপরীত হতে পারে। শুধু তাই না বরং অ্যান্টিবায়োটিক অতিরিক্ত সেবনের ফলে শরীরে নানারকম পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। মনে রাখতে হবে, অ্যান্টিবায়োটিক অতিরিক্ত খেলে শরীরে একটি অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়ে যায়, যার ফলে যে অ্যান্টিবায়োটিকগুলি প্রয়োজনেও কাজ করা বন্ধ করে দেয় । অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের ফলে দেখা যায় ওষুধগুলি পাচক ক্রিয়ায় ব্যবহৃত ভালো ব্যাকটেরিয়াগুলিকেও মেরে ফেলছে। বিশেষত ক্ষুদ্রান্ত্রে থাকা ভালো ব্যাকটেরিয়াগুলিও অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক সেবনে নষ্ট হয়ে যায়। অ্যান্টিবায়োটিকের ডোজ ঠিকমতো না নেওয়ার ফলে বা ভুল ভাবে অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের ফলে শরীরে নানা রকমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন ইনফেকশনের পরে পেট ফুলে যাওয়ার মত সমস্যা । বারবার মলত্যাগের বেগ পাওয়ার মত সমস্যা হতে পারে।

    ব্যথার ওষুধে সমস্যা

    অসহ্য ব্যথায় ওষুধ খেতেই হবে। কিন্তু মাথাব্যথা একটু হল কি হল না, তাতে ওষুধ খেয়ে নেওয়ার প্রবণতা থাকে অনেকের। এ কাজ ঠিক নয়। তাতে উল্টে বিপদ ঘটতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথার ওষুধ না খাওয়াই ভাল। খোলা বাজারে যা সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়, তার মধ্যে প্রধান হল এনসেড বা নন-স্টেরয়ডাল অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি গোত্রের ওষুধ৷ যেমন ডাইক্লোফেনাক, অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন, ন্যাপ্রোক্সেন ইত্যাদি৷ ব্যথা কমানোর পাশাপাশি ইনফ্ল্যামেশন বা প্রদাহও কমায় বলে এই সব ওষুধে চটজল্দি কাজ হয়৷ অ্যাসিটামিনোফেন বা প্যারাসিটামল ব্যথা কমালেও, প্রদাহ কমাতে পারে না। তা সবচেয়ে নিরাপদ হলেও কার্যকারিতা এনসেড-এর চেয়ে কম৷ এ বার আসা যাক ক্ষতির কথায়৷ এনসেড গোত্রের ওষুধ পেটের গোলমাল ঘটাতে পারে৷ বদহজম, পেটব্যথার মতো সমস্যা হয়৷ কারও কারও গ্যাসট্রাইটিস হয়৷ আলসার এবং পাকস্থলি ও অন্ত্রে রক্তপাত হয় কিছু ক্ষেত্রে৷ নিয়মিত ডাইক্লোফেনাক খেলে কারও কারও হার্ট ও রক্তনালির অসুখ হতে পারে বলেও জানা গিয়েছে৷ বয়স যাঁদের ৬৫-র বেশি, ব্যথার ওষুধ থেকে তাঁদের সমস্যা হতে পারে।

    চিকিৎসকদের জন্যও নির্দেশিকা

    চিকিৎসকদের শুধুমাত্র চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজন থাকলেই ব্যাথার ওষুধ এবং অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রোগীর বয়স, শারীরিক অবস্থা, অন্যান্য রোগ, চলতি ওষুধ এবং কিডনি-সহ বিভিন্ন ঝুঁকির বিষয় বিবেচনা করে ওষুধ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ব্যথার ওষুধের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম কার্যকর ডোজ এবং প্রয়োজনীয় সর্বনিম্ন সময়ের জন্য ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে যাঁদের কিডনির সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বেশি। অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে সংক্রমণের সম্ভাব্য জীবাণু, সংক্রমণের স্থান ও তীব্রতা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাইক্রোবায়োলজিক্যাল পরীক্ষার ফল বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। অপ্রয়োজনীয়ভাবে একাধিক অ্যান্টিবায়োটিক একসঙ্গে ব্যবহার, ভুল ওষুধ নির্বাচন, ভুল ডোজ এবং প্রয়োজনের তুলনায় দীর্ঘদিন অ্যান্টিবায়োটিক চালিয়ে যাওয়া এড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রিতে সতর্কতা

    ফার্মাসিস্ট, ওষুধের দোকানদার এবং ডিস্ট্রিবিউটরদেরও প্রেসক্রিপশন-নির্ভর ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন ও নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (CDSCO)। বিশেষ করে সিডিউল এইচ এবং এইচ ১-এর অন্তর্ভুক্ত ওষুধ প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি না করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক বা প্রেসক্রিপশন-নির্ভর ওষুধের মাধ্যমে স্ব-চিকিৎসাকে উৎসাহিত বা সহযোগিতা না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    হাসপাতালগুলিতেও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ

    হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলিকে ব্যাথার ওষুধ এবং অ্যান্টিবায়োটিকের যুক্তিসঙ্গত ব্যবহার ও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল স্টুয়ার্ডশিপ, প্রেসক্রিপশন পর্যালোচনা এবং রোগীদের সঠিকভাবে ওষুধ ব্যবহারের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়ার ওপরও জোর দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। পাশাপাশি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে চিকিৎসক, ফার্মাসিস্ট, ওষুধ বিক্রেতা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ওষুধগুলির নির্বিচার ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

     

     

     

     

     

  • KAL Attack Drone: পোখরানে সফল ‘কাল’-এর পরীক্ষা! ১০০০ কিমি পাল্লার দেশীয় কামিকাজে ড্রোনে বড় সাফল্য ভারতের

    KAL Attack Drone: পোখরানে সফল ‘কাল’-এর পরীক্ষা! ১০০০ কিমি পাল্লার দেশীয় কামিকাজে ড্রোনে বড় সাফল্য ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘপাল্লার একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোন (Long-Range One-Way Attack Drone) তৈরির ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগোল ভারত। সম্প্রতি, নয়ডার প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সংস্থা আইজি ডিফেন্স (IG Defence)-এর দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘কাল’ (KAL) ড্রোন রাজস্থানের পোখরান ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে সফলভাবে পরীক্ষামূলক উড়ান সম্পন্ন করেছে। এই পরীক্ষা দীর্ঘপাল্লার স্বয়ংক্রিয় ড্রোন-ভিত্তিক আক্রমণ ক্ষমতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

    ১০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পাল্লা

    সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘কাল’ ড্রোনের সর্বোচ্চ পাল্লা ১০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। এর ফ্লাইট এন্ডিওরেন্স বা একটানা উড়ে থাকার ক্ষমতা ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা। সর্বোচ্চ ৫০ কেজি পেলোড (বিস্ফোরক) বহন করতে পারে এই ড্রোন। অপারেটিং অল্টিটিউড সর্বোচ্চ ৫০০০ মিটার এবং সর্বোচ্চ টেক-অফ ওজন প্রায় ২০০ কেজি। ড্রোনটি ঘণ্টায় প্রায় ১৬০ থেকে ২০০ কিলোমিটার গতিতে ক্রুজ করতে পারে। দীর্ঘপাল্লার নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য এটিকে তৈরি করা হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট অস্ত্র বা মিশন কনফিগারেশন এবং কার্যকরী অনুমোদনের উপর এর ব্যবহার নির্ভর করবে।

    কীভাবে কাজ করবে ‘কাল’?

    ‘কাল’-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল এর স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশন ব্যবস্থা। ম্যানুয়াল পাইলটিংয়ের প্রয়োজন কমাতে এতে মাল্টি-ব্যান্ড জিএনএসএস (GNSS) এবং ইনারশিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম (INS)-এর সমন্বিত নেভিগেশন স্যুট ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে নির্ধারিত মিশন প্রোফাইল অনুযায়ী ড্রোনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে উড়তে এবং নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছতে সক্ষম হওয়ার কথা। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ‘কাল’-কে গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো, রেডার, এয়ার-ডিফেন্স ব্যবস্থা এবং অন্যান্য কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট আঘাতের জন্য কনফিগার করা যেতে পারে।

    ইউক্রেন যুদ্ধের পর বদলেছে ড্রোন যুদ্ধের সমীকরণ

    দীর্ঘপাল্লার ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোনের গুরুত্ব গত কয়েক বছরে দ্রুত বেড়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানি উৎসের শাহেদ-১৩৬ (Shahed-136) এবং রুশ গেরান-২ (Geran-2)-এর ব্যবহার দেখিয়েছে, তুলনামূলক কম খরচের ড্রোন দিয়েও দীর্ঘপাল্লার হামলা চালিয়ে শত্রুর এয়ার-ডিফেন্স ব্যবস্থার উপর দীর্ঘস্থায়ী চাপ তৈরি করা সম্ভব।

    পরবর্তী সময়ে শাহেদ-শ্রেণির ড্রোনের ব্যবহার মধ্যপ্রাচ্য এবং লোহিত সাগরকেন্দ্রিক সামুদ্রিক সংঘাতেও দেখা গিয়েছে। ফলে দীর্ঘপাল্লার স্বয়ংক্রিয় স্ট্রাইক ড্রোন এখন আধুনিক যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হয়ে উঠছে। এই পরিবর্তিত যুদ্ধকৌশলের প্রেক্ষাপটেই দেশীয় প্রযুক্তিতে ‘কাল’-এর মতো প্ল্যাটফর্ম তৈরির গুরুত্ব বাড়ছে।

    ‘গ্রিড স্ট্রাইক’ প্রকল্পের অংশ ‘কাল’

    আইজি ডিফেন্সের ‘গ্রিড স্ট্রাইক’ (GRID STRIKE) দীর্ঘপাল্লার প্রিসিশন-স্ট্রাইক পোর্টফোলিওর অংশ ‘কাল’। সংস্থার গ্রিড ব্যাটল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (GRID Battle Management System) সঙ্গেও এটি সংযুক্ত করা যেতে পারে। এই ব্যবস্থা একটি এআই-চালিত সি৫আইএসআরটি (C5ISRT) আর্কিটেকচার, যার লক্ষ্য যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য এবং বিভিন্ন আনম্যানড প্ল্যাটফর্মকে সমন্বয় করা।

    আইজি ডিফেন্সের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও বোধিসত্ত্ব সংঘপ্রিয় বলেন, পোখরানে ‘কাল’-এর সফল পরীক্ষা সংস্থার পাশাপাশি ভারতের উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরতার যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন। তাঁর বক্তব্য, সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলি দেখিয়েছে যে দীর্ঘপাল্লার ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন আর কোনও প্রান্তিক সক্ষমতা নয়; আধুনিক যুদ্ধে প্রিসিশন স্ট্রাইক, এয়ার-ডিফেন্স এবং কৌশলগত প্রতিরোধের হিসাবেও এগুলির গুরুত্ব বাড়ছে।

    ‘কাল’-এর পোখরান পরীক্ষা তাই শুধু একটি নতুন ড্রোনের ট্রায়াল নয়; দীর্ঘপাল্লার, স্বয়ংক্রিয় এবং দেশীয় মানববিহীন স্ট্রাইক প্রযুক্তি গড়ে তোলার ভারতের বৃহত্তর প্রচেষ্টারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

  • Veg, Non-Veg Markings: সাবান, শ্যাম্পু ও টুথপেস্টের প্যাকেটে এবার ভেজ-ননভেজ চিহ্ন বাধ্যতামূলক! নয়া নিয়ম কেন্দ্রের

    Veg, Non-Veg Markings: সাবান, শ্যাম্পু ও টুথপেস্টের প্যাকেটে এবার ভেজ-ননভেজ চিহ্ন বাধ্যতামূলক! নয়া নিয়ম কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট-সহ বিভিন্ন প্রসাধনী ও টয়লেট্রিজ পণ্যের প্যাকেজিংয়ে এবার থেকে পণ্যের উৎস নিরামিষ (ভেজ) নাকি আমিষ (নন-ভেজ), তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক হল। নতুন নিয়মের ফলে পণ্য কেনার সময় গ্রাহকরা প্যাকেটের গায়ে থাকা নির্দিষ্ট চিহ্ন দেখে সহজেই তা বুঝতে পারবেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নিরামিষ (Veg, Non-Veg Markings) উপাদান থেকে তৈরি পণ্যের ক্ষেত্রে সবুজ রঙের ডট এবং অ-নিরামিষ উপাদান থেকে তৈরি পণ্যের ক্ষেত্রে লাল অথবা বাদামি রঙের ডট ব্যবহার করতে হবে। প্যাকেটের প্রধান প্রদর্শন অংশের (Principal Display Panel) উপরের দিকে এই চিহ্ন রাখতে হবে বলে নিয়মে উল্লেখ করা হয়েছে।

    কোন নিয়ম পরিবর্তন?

    কেন্দ্রীয় উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রক ‘লিগ্যাল মেট্রোলজি (প্যাকেজড কমোডিটিজ) রুলস, ২০১১’ (Legal Metrology Packaged Commodities Rules, 2011) সংশোধন করে এই পরিবর্তন এনেছে। ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সোমবার থেকেই নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। ফলে এবার দোকানে সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট কিংবা অন্যান্য প্রসাধনী ও টয়লেট্রিজ কেনার সময় প্যাকেটের চিহ্ন দেখেই ক্রেতারা বুঝতে পারবেন, সংশ্লিষ্ট পণ্যটি নিরামিষ না আমিষ উৎস থেকে তৈরি। আমিষ ও নিরামিষ বিতর্ক (Veg, Non-Veg Markings) এখন তুঙ্গে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন এই নির্দেশিকায় বিশেষভাবে সাবান, শ্যাম্পু, টুথপেস্ট, প্রসাধনী সামগ্রী এবং টয়লেট সামগ্রীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    কীভাবে জানবেন আমিষ নাকি নিরামিষ?

    ঠিক যেভাবে কোনও খাবারের প্যাকেটে নিরামিষ ও আমিষ বোঝার ক্ষেত্রে চিহ্ন ব্যবহার করা হয়, এবার প্রসাধনী জাতীয় পণ্যেও তা দেখতে পাওয়া যাবে। নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, নিরামিষ উৎস থেকে তৈরি পণ্যের প্যাকেটে থাকবে গ্রিন বা সবুজ মার্ক (Non-Veg Labels)। অন্যদিকে, আমিষ উৎস থেকে তৈরি পণ্যের ক্ষেত্রে লাল অথবা বাদামি চিহ্ন ব্যবহার করতে হবে। প্যাকেটের ‘প্রিন্সিপাল ডিসপ্লে প্যানেল’-এর উপরের দিকে এই চিহ্ন রাখতে হবে, যাতে ক্রেতারা সহজেই তা দেখতে পান।

  • Jaishankar: ‘চাপে বিশ্বব্যবস্থা’, শক্তিশালী বহুপাক্ষিকতার পক্ষে জয়শঙ্কর, রাষ্ট্রসংঘে তুললেন ‘চার এফ’ সঙ্কট

    Jaishankar: ‘চাপে বিশ্বব্যবস্থা’, শক্তিশালী বহুপাক্ষিকতার পক্ষে জয়শঙ্কর, রাষ্ট্রসংঘে তুললেন ‘চার এফ’ সঙ্কট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, সংঘাত এবং বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার মধ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার আহ্বান জানালেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (Jaishankar)। রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে একাধিক কূটনৈতিক বৈঠক ও আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বিশ্বব্যবস্থার উপর ক্রমবর্ধমান চাপ, জ্বালানি-খাদ্য-সার-অর্থের ‘চার এফ’ সঙ্কট এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থার ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন (India)। ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ‘বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক আইন, শান্তি ও সমৃদ্ধির অংশীদার’ শীর্ষ বৈঠকে ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কোস্তার সঙ্গে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন জয়শঙ্কর। রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে আয়োজিত এই প্রথম শীর্ষ বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য ছিল বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও কার্যকর, প্রতিনিধিত্বমূলক ও স্বচ্ছ করে তোলার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা।

    ‘চাপে বিশ্বব্যবস্থা’, বললেন জয়শঙ্কর (Jaishankar)

    বৈঠকে জয়শঙ্কর বলেন, কয়েক দশক ধরে বিশ্বে ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন একটি স্বাভাবিক কাঠামোগত বিবর্তনের অংশ ছিল। কিন্তু বর্তমানে তীব্র প্রতিযোগিতা, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সরাসরি সংঘাত সেই পরিবর্তনকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।তাঁর কথায়, “বিশ্বব্যবস্থা এখন যথেষ্ট চাপের মধ্যে রয়েছে।”

    জয়শঙ্কর সতর্ক করেন, এই চাপ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিই দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাঁর মতে, বিশ্বব্যাপী সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার জন্য বহুপাক্ষিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার পক্ষে আন্তর্জাতিক প্রচার, নীতি প্রয়োগের কাঠামো এবং প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

    আন্তর্জাতিক আইন, নিয়ম ও বিধি যাতে বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় ভিত্তি হয়ে থাকে, সেই বিষয়েও জোর দেন তিনি। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও বেশি দেশের অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছতা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন জয়শঙ্কর (Jaishankar)। তাঁর মতে, এর ফলে রাষ্ট্রসংঘের ব্যবস্থার উপর দেশগুলির আস্থা আরও দৃঢ় হতে পারে।

    ‘চার এফ’ সঙ্কট

    জয়শঙ্করের বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ‘চার এফ’ সঙ্কট। জ্বালানি, খাদ্য, সার এবং অর্থ—এই চারটি ক্ষেত্রে সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনার সমস্যা কীভাবে এক দেশ বা অঞ্চলের সীমানা পেরিয়ে বৃহত্তর বিশ্বে প্রভাব ফেলতে পারে, তা তুলে ধরেন তিনি। জয়শঙ্কর বলেন, “জ্বালানি, খাদ্য, সার এবং অর্থ—এই চারটি ‘এফ’ সঙ্কটকে নিজের মতো করে চলতে দেওয়া যায় না।” তাঁর মতে, এই সঙ্কটের সঙ্গে শান্তি, নিরাপত্তা এবং উন্নয়নের প্রশ্ন সরাসরি যুক্ত। তাই কেবল কূটনৈতিক ঘোষণার মধ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও জলবায়ু ন্যায়বিচার, নতুন প্রযুক্তি, উন্নয়নমূলক অর্থায়ন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই, স্থিতিস্থাপক সরবরাহ ব্যবস্থা, দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি এবং মহামারি মোকাবিলার মতো ক্ষেত্রেও সম্মিলিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি বলেন, “এখানে যে বিষয়গুলি নিয়ে কথা হচ্ছে, সেগুলি অত্যন্ত বাস্তব সমস্যা—শুধু শব্দ বা অভিব্যক্তি নয়।” তাঁর মতে, এই সমস্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার শেষ পর্যন্ত নির্ভরতা রয়েছে দেশগুলির পারস্পরিক সহযোগিতার সদিচ্ছার উপর (India)।

    ঝুঁকি কমাতে সরবরাহ ব্যবস্থায় বৈচিত্র্যের আহ্বান

    বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার মধ্যে (Jaishankar) নতুন ঝুঁকি মোকাবিলায় বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের কথাও বলেন বিদেশমন্ত্রী। নতুন প্রযুক্তি ও সক্ষমতার সঙ্গে নতুন উদ্বেগ তৈরি হলে তার জন্য উপযুক্ত কাঠামো এবং নিরাপত্তাবিধি থাকা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

    জয়শঙ্করের বক্তব্য, “যেখানে নতুন সক্ষমতা ও নতুন উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে, সেখানে উপযুক্ত কাঠামো ও নিরাপত্তাবিধির প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত স্পষ্ট।”

    একই সঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বিভিন্ন উৎস ও পথ তৈরি করার উপর জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহপথে বাধা, কোনও একটি পক্ষের আধিপত্য অথবা আকস্মিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি থাকলে সেই ঝুঁকি কমাতে সরবরাহ ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনা প্রয়োজন।

    চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের ক্ষেত্রেও বৃহত্তর শান্তি প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সমস্যাগুলির পৃথক সমাধানের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান জয়শঙ্কর। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই অর্জিত সাফল্যগুলি সংরক্ষণ করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন চালিয়ে যাওয়া উচিত।

    ফ্রান্স, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে বৈঠক

    রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে একাধিক দেশের প্রতিনিধির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। ফ্রান্সের বিদেশমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারোর সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেন ও উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্কট এবং রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়। ভারত ও ফ্রান্সের বিশেষ বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও দুই পক্ষ আলোচনা করে। ফরাসি বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, দুই দেশ আন্তর্জাতিক আইন এবং সংস্কারকৃত ও কার্যকর বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

    ইকুয়েডরের বিদেশমন্ত্রী রবার্তো কুরির সঙ্গে বৈঠকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে জ্বালানি ও ওষুধশিল্প, মানুষের যাতায়াত, কর্মী প্রশিক্ষণ, উন্নয়ন অংশীদারিত্ব এবং রাষ্ট্রসংঘ-সহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক মঞ্চে সহযোগিতা নিয়ে কথা হয়।

    স্লোভাকিয়ার বিদেশমন্ত্রী ইউরাজ ব্লানারের সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা আরও (Jaishankar) গভীর করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন জয়শঙ্কর। হাঙ্গেরির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী অনিতা অরবানের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

    সুইজারল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী ইগনাজিও ক্যাসিসের সঙ্গেও বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। ভারত ও ইউরোপীয় মুক্ত বাণিজ্য সংস্থার মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর ভারত-সুইজারল্যান্ড অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

    ভারতীয় বিদেশমন্ত্রী নাউরুর রাষ্ট্রপতি ডেভিড আদেয়াংয়ের সঙ্গেও আলাদা বৈঠক করেন। প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্রটির সঙ্গে ভারতের উন্নয়ন অংশীদারিত্ব এবং দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয় (India)।

    সংস্কার ও সহযোগিতাকে কেন্দ্র করে ভারতের কূটনীতি

    রাষ্ট্রসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘাত, ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, সরবরাহ ব্যবস্থায় বাধা এবং বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথকে ঘিরে কৌশলগত চাপ বাড়ছে। রাষ্ট্রসংঘের এবারের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের মূল ভাবনা—বিশ্বাস পুনর্গঠন এবং পরিবর্তনকে সামলে এমন একটি রাষ্ট্রসংঘে গড়ে তোলা, যা সকলের জন্য কার্যকর।

    এই পরিস্থিতিতে ভারত-সহ বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার, সিদ্ধান্ত গ্রহণে বৃহত্তর অংশগ্রহণ এবং আরও স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিচ্ছে। জয়শঙ্করের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতায়ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ বিতর্কে ২৬ সেপ্টেম্বর জয়শঙ্করের (Jaishankar) বক্তব্য রাখার কথা। সেখানে বিশ্ব পরিচালনা, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে ভারতের অগ্রাধিকার আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হবে বলেই আশা সংশ্লিষ্টমহলের।

     

  • Owned By India: ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পেরিয়ে ‘ওন্ড বাই ইন্ডিয়া’! বদলাচ্ছে ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশল

    Owned By India: ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পেরিয়ে ‘ওন্ড বাই ইন্ডিয়া’! বদলাচ্ছে ভারতের প্রতিরক্ষা কৌশল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পরিবর্তিত ও অস্থির ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতের প্রতিরক্ষা নীতিতে আত্মনির্ভরতা এখন আর শুধুমাত্র ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-র মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। লক্ষ্য ধীরে ধীরে আরও বিস্তৃত—প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ভারতে তৈরি করা থেকে শুরু করে প্রযুক্তি, উৎপাদন, সরবরাহশৃঙ্খল এবং যুদ্ধক্ষমতার নিয়ন্ত্রণও ভারতের হাতে রাখা। গত এক বছরে নীতি সংস্কার, দেশীয় বরাত, বেসরকারি শিল্পের অংশগ্রহণ, স্টার্টআপ এবং তিন বাহিনীর আধুনিকীকরণে একাধিক পদক্ষেপ সেই পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    প্রতিরক্ষা কেনাকাটা নীতিতে বড় বদল

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে আধুনিকীকরণ বাজেটের ৭৫ শতাংশ দেশীয় শিল্প থেকে কেনাকাটার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছিল। এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বেসরকারি ভারতীয় শিল্পের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়। অর্থাৎ, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের বাজারে ভারতীয় সংস্থাগুলিকে দীর্ঘমেয়াদি চাহিদার নিশ্চয়তা দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি সংস্থার বাইরে বেসরকারি শিল্পকেও প্রতিরক্ষা উৎপাদনের মূল পরিকাঠামোর অংশ করে তোলার চেষ্টা হয়েছে।

    ২০২০ সালের ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন প্রসিডিওর বা ডিএপি-র পর্যালোচনাও শুরু হয়েছে। প্রস্তাবিত ডিএপি ২০২৬-এ দ্রুত বদলে যাওয়া প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ‘স্পাইরাল অ্যাকুইজিশন’-এর মাধ্যমে ধাপে ধাপে প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম কেনার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। একইসঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা আরও নিচের স্তরে দেওয়া, অপ্রয়োজনীয় ধাপ কমানো এবং অটোমেশনের মাধ্যমে কেনাকাটার সময় কমানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

    নতুন ‘বাই গ্লোবাল, ম্যানুফ্যাকচার ইন ইন্ডিয়া’ ব্যবস্থার লক্ষ্য বিদেশি অরিজিনাল ইকুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার বা ওইএম-কে ভারতে উৎপাদন পরিকাঠামো তৈরিতে উৎসাহিত করা। ফলে শুধু মূল অস্ত্র নয়, যন্ত্রাংশ ও গুরুত্বপূর্ণ স্পেয়ারও ধীরে ধীরে দেশেই তৈরি করার সুযোগ তৈরি হবে।

    আমদানি কমাতে স্থানীয় উৎপাদন, এমএসএমই-তে জোর

    দেশে আগে তৈরি হয়নি, কিন্তু স্থানীয়ভাবে উৎপাদন সম্ভব—এমন গুরুত্বপূর্ণ কম্পোনেন্ট ও সাব-সিস্টেমকে আমদানির বিকল্প হিসেবে তৈরি করতে চালু হয়েছে মেক-৩ ক্যাটেগরি। এদিকে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত মূলধনী প্রতিরক্ষা প্রকল্পে এমএসএমই-দের জন্য বিশেষ সুযোগ রাখা হয়েছে। অন্তত দু’টি যোগ্য এমএসএমই অংশ নিলে এই সীমা ১৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। ফলে ছোট ও মাঝারি ভারতীয় সংস্থাগুলিও বড় প্রতিরক্ষা সরবরাহশৃঙ্খলে ঢোকার সুযোগ পাচ্ছে।

    শুধু গবেষণাগারে প্রযুক্তি তৈরিই নয়, সেটিকে দ্রুত সেনাবাহিনীর হাতে পৌঁছে দেওয়ার উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। আইডেক্স এবং টেকনোলজি ডেভেলপমেন্ট ফান্ড-এর মাধ্যমে তৈরি সফল স্টার্টআপ প্রোটোটাইপকে দ্রুত অ্যাকসেপ্ট্যান্স অব নেসেসিটি বা এওএন-এর পথে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রযুক্তি পরীক্ষায় সফল হলে সংশ্লিষ্ট স্টার্টআপকে পাঁচ বছর পর্যন্ত নিশ্চিত বরাত দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

    মেক-১ ব্যবস্থায় দেশীয় প্রোটোটাইপ তৈরির খরচের ৭০ শতাংশ পর্যন্ত সরকার বহন করছে। একইসঙ্গে আগে সীমিত থাকা সামরিক পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিও বেসরকারি শিল্পের জন্য খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে প্রতিরক্ষা গবেষণায় বেসরকারি সংস্থার আর্থিক ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা হচ্ছে।

    ৬.৭৩ লক্ষ কোটি টাকার ৫৫টি বড় অনুমোদন

    ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল বা ডিএসি প্রায় ৬.৭৩ লক্ষ কোটি টাকার ৫৫টি মূলধনী প্রতিরক্ষা প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। এই অনুমোদনের তালিকায় ছিল দেশীয় কিউআরএসএএম এয়ার-ডিফেন্স সিস্টেম, উন্নত ইন্টিগ্রেটেড ড্রোন ডিটেকশন অ্যান্ড ইন্টারডিকশন সিস্টেম এবং নেট্রা-র উন্নত এইডব্লিউঅ্যান্ডসি এমকে-১এ সংস্করণ।

    তিন বাহিনীর জন্য মিডিয়াম অল্টিটিউড লং এন্ডিউরেন্স বা মেল ড্রোন, আরও ৯৭টি তেজস এমকে-১এ যুদ্ধবিমান এবং নৌবাহিনীর জন্য রাফাল মেরিন-এর মতো বড় প্রকল্পও রয়েছে। অর্থাৎ, আত্মনির্ভরতার লক্ষ্য শুধু ছোট অস্ত্র বা যন্ত্রাংশে সীমাবদ্ধ থাকছে না; যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা, নজরদারি বিমান এবং ড্রোনের মতো উচ্চপ্রযুক্তির ক্ষেত্রেও দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

    ‘রুদ্র’, ‘ভৈরব’, ‘অশ্নি’—বদলাচ্ছে সেনাবাহিনীর কাঠামো

    যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে ভারতীয় সেনাবাহিনীও কাঠামোগত পরিবর্তনের পথে হাঁটছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোনোমাস সিস্টেম, হাইপারসনিক অস্ত্র, ড্রোন এবং ডিরেক্টেড এনার্জি ওয়েপনকে ভবিষ্যতের যুদ্ধের সম্ভাব্য বড় পরিবর্তনকারী প্রযুক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    ইন্ডিপেন্ডেন্ট আর্মার্ড ব্রিগেড এবং মাউন্টেন ব্রিগেডকে পুনর্গঠন করে রুদ্র অল-আর্মস ব্রিগেড তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উদ্দেশ্য হল বিভিন্ন যুদ্ধশাখার ক্ষমতাকে একসঙ্গে কাজে লাগিয়ে দ্রুত ও সমন্বিত অভিযান চালানো।

    এর পাশাপাশি প্রায় ২৬৪ জন সদস্যের ভৈরব লাইট কমান্ডো ব্যাটালিয়ন, শক্তিবাণ আর্টিলারি রেজিমেন্ট এবং দিব্যাস্ত্র ব্যাটারি গঠনের কাজ এগিয়েছে। প্রতিটি ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়নে অশ্নি ড্রোন প্লাতুন তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে ব্যাটালিয়ন স্তরেই ড্রোন-নির্ভর নজরদারি শক্তিশালী করা যায়।

    অপারেশন সিঁদুরের পর ড্রোনে আরও জোর

    ২০২৫ সালের অপারেশন সিঁদুর-এর অভিজ্ঞতা বিশেষ করে আনম্যান্ড এরিয়াল সার্ভেল্যান্স বা ইউএএস, কাউন্টার-ইউএএস এবং লয়টারিং মিউনিশনের ক্ষেত্রে দেশীয় সক্ষমতার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে। সেই অনুযায়ী সেনাবাহিনীতে ইউএএস ও কাউন্টার-ইউএএস ব্যবস্থার জন্য একটি বিশেষ কোর কমিটি তৈরি হয়েছে।

    দ্রুত গবেষণা ও উৎপাদনের জন্য বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন স্পেশাল পারপাস ভেহিকল তৈরির পরিকল্পনা এবং অদিতি ও আইডেক্স-এর অধীনে নয়টি ফাস্ট ট্র্যাক ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট নেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য—যেসব প্রযুক্তির ঘাটতি যুদ্ধক্ষেত্রে স্পষ্ট হয়েছে, সেগুলি দ্রুত দেশীয়ভাবে তৈরি করা।

    নৌবাহিনীতেও একের পর এক দেশীয় যুদ্ধজাহাজ

    আত্মনির্ভরতার সবচেয়ে দৃশ্যমান ছবি পাওয়া যাচ্ছে ভারতীয় নৌবাহিনীতে। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে একের পর এক দেশীয় যুদ্ধজাহাজ কমিশন হয়েছে—আইএনএস অর্নালা, আইএনএস নিস্তার, আইএনএস উদয়গিরি, আইএনএস হিমগিরি, আইএনএস অন্ধ্রোথ, আইএনএস ইক্ষক এবং আইএনএস মাহে।

    ২০২৬ সালে সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে আইএনএস অঞ্জদীপ। এরপর একসঙ্গে আইএনএস অরিধমন ও আইএনএস তারাগিরি নৌবহরে যুক্ত হয়। আইএনএস অরিধমন ভারতের পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন বহরের গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

    এরপর কলকাতায় একদিনে আইএনএস দুনাগিরি, আইএনএস সংশোধক এবং আইএনএস অগ্রয় কমিশন করা হয়। সর্বশেষ তালিকায় যুক্ত হয়েছে আইএনএস নিপুণ। অর্থাৎ, যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের ক্ষেত্রে দেশীয় শিপইয়ার্ডের সক্ষমতা এবং উৎপাদনের গতি—দুই ক্ষেত্রেই বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

    অপারেশন সিঁদুরে তিন বাহিনীর সক্ষমতার পরীক্ষা

    ২০২৫ সালের অপারেশন সিঁদুর ভারতের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণের বাস্তব পরীক্ষাও হয়ে ওঠে। নৌবাহিনী উত্তর আরব সাগরে ক্যারিয়ার ব্যাটল গ্রুপ ও সাবমেরিন-সহ গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম মোতায়েন করে। সারফেস, এয়ার, স্পেস এবং শোর-বেসড সেন্সরের সমন্বয়ে মেরিটাইম ডোমেন অ্যাওয়ারনেস বজায় রাখা হয়।

    বিমানবাহিনীর ক্ষেত্রেও অপারেশন সিঁদুর ছিল গুরুত্বপূর্ণ। দূরপাল্লার প্রিসিশন-গাইডেড ওয়েপন ব্যবহার করে পাকিস্তানের সামরিক ও সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোয় হামলা চালানো হয়। পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময়ে ইন্টিগ্রেটেড এয়ার কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম বা আইএসিসিএস-এর মাধ্যমে বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালিত হয়।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ২০২৫-২৬ সালের বার্ষিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, অপারেশন সিঁদুরের সময়ে একটি ভারতীয় এস-৪০০ ইউনিট ৩১৪ কিলোমিটার দূর থেকে পাকিস্তানের একটি স্পেশাল-মিশন এয়ারক্র্যাফ্ট ধ্বংস করে। রিপোর্টে এটিকে ‘লংগেস্ট সারফেস-টু-এয়ার কিল’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

    লক্ষ্য শুধু অস্ত্র তৈরি নয়, গোটা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেশীয় করা

    গত এক বছরের নীতি ও সামরিক পরিবর্তনকে একসঙ্গে দেখলে একটি বিষয় স্পষ্ট—ভারতের আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা নীতি এখন শুধু বিদেশি অস্ত্রের পরিবর্তে ভারতীয় অস্ত্র কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

    কাঁচামাল, কম্পোনেন্ট, ডিজাইন, গবেষণা ও উন্নয়ন, প্রোটোটাইপ, পরীক্ষা, উৎপাদন, সরবরাহশৃঙ্খল, রক্ষণাবেক্ষণ এবং শেষ পর্যন্ত যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার—পুরো ব্যবস্থাটিকেই দেশীয় করার দিকে এগোচ্ছে ভারত।

    এই প্রক্রিয়ায় সরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারি শিল্প, এমএসএমই এবং স্টার্টআপকে আরও বেশি করে যুক্ত করা হচ্ছে। দেশীয় শিল্প থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার জন্য মূলধনী বাজেটের ৭৫ শতাংশ নির্দিষ্ট রাখার নীতি এই দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।

    ফলে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ এখন ধীরে ধীরে আরও বিস্তৃত ‘ওন্ড বাই ইন্ডিয়া’ ধারণার দিকে এগোচ্ছে—যেখানে শুধু অস্ত্রের গায়ে ভারতের নাম থাকাই নয়, সেই অস্ত্রের প্রযুক্তি, উৎপাদন ক্ষমতা, সরবরাহশৃঙ্খল এবং কৌশলগত নিয়ন্ত্রণও দেশের হাতে রাখাই হয়ে উঠছে মূল লক্ষ্য।

  • Pakistan: পাক-যোগ জাল নোট চক্রের পর্দাফাঁস, উত্তরপ্রদেশ ভোটের আগে ৮০ কোটি টাকার লেনদেনের পরিকল্পনা!

    Pakistan: পাক-যোগ জাল নোট চক্রের পর্দাফাঁস, উত্তরপ্রদেশ ভোটের আগে ৮০ কোটি টাকার লেনদেনের পরিকল্পনা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপাল, বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও অসমকে ঘিরে জাল ভারতীয় নোটের একটি সন্দেহভাজন চক্র (Pakistan) সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি করেছে সংবাদ মাধ্যমের একটি তদন্ত প্রতিবেদন। তদন্তে উঠে এসেছে, নেপালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ার পর সন্দেহভাজন চক্রটির একটি অংশ গুয়াহাটিতে চলে আসে। তদন্তকারী দলের দাবি, গুয়াহাটি থেকে উত্তরপ্রদেশ-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জাল নোট সরবরাহের পরিকল্পনা নিয়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয় (UP Polls)।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপালের পারসা জেলার ইনরওয়া থেকে তদন্তের সূত্রপাত হয়। সেখানে বিহার ও উত্তরপ্রদেশের মধ্যে জাল নোটের লেনদেনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মায়া পৌডেল নামে এক মহিলার কথা উঠে আসে। তদন্তে দাবি করা হয়েছে, নেপালে নজরদারি ও ধরপাকড় বাড়ার পর জাল নোটের সন্দেহভাজন কারবারের একটি অংশ গুয়াহাটিতে সরিয়ে নেওয়া হয়।

    এরপর তদন্তকারীরা রাতুল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে। রাতুল নিজেকে গুয়াহাটি থেকে জাল নোটের একটি চক্র পরিচালনাকারী হিসেবে দাবি করেন। তদন্তকারী প্রতিবেদক সম্ভাব্য ক্রেতার পরিচয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রায় ৮০ কোটি টাকার জাল নোট সরবরাহ নিয়ে কথাবার্তা হয়।

    ১ কোটি টাকায় ৩ কোটি টাকার জাল নোট! (Pakistan)

    তদন্তে প্রকাশিত কথোপকথন অনুযায়ী, রাতুল দাবি করেন, ১ কোটি টাকার বিনিময়ে ৩ কোটি টাকার জাল নোট দেওয়া সম্ভব। তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাতুলের দাবি ছিল, উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রে জাল নোট পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা যাবে। বিভিন্ন জেলায় সমন্বয়কারী রাখা হবে এবং তাঁদের কাছে চালান পৌঁছে দেওয়ার পর ক্রেতার লোকজন তা আরও বিতরণ করবে।

    রাতুল আরও দাবি করেন, আগের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনেও তাঁর চক্র জাল নোট সরবরাহ করেছিল এবং প্রায় ৬৫ কোটি টাকার জাল নোট বাজারে ছড়ানো হয়েছিল। তবে তদন্তে প্রকাশিত উপাদান দিয়ে এই দাবির স্বাধীন সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

    চিন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের যোগসূত্রের দাবি

    তদন্তকারী প্রতিবেদকের সঙ্গে কথোপকথনে রাতুল দাবি করেন, জাল নোটের উৎস চিন ও পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ হয়ে তা ভারতে ঢোকে। তাঁর দাবি, গুয়াহাটিতে একটি ‘জাল নোটের ভাণ্ডার’ রয়েছে, যেখান থেকে উত্তরপ্রদেশ-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে নোট পাঠানো হয়।

    তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, দিল্লি, রাজস্থান ও হরিয়ানায়ও এই সন্দেহভাজন চক্রের যোগাযোগ রয়েছে।

    তবে চিন, পাকিস্তান বা বাংলাদেশ থেকে জাল নোট আসার দাবি শুধুমাত্র ওই ব্যক্তির বক্তব্যের ভিত্তিতে উঠে এসেছে। এই বক্তব্য থেকেই জাল নোটের প্রকৃত উৎস বা পরিবহণের পথ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয় না (Pakistan)।

    গুয়াহাটিতে তদন্তকারী প্রতিবেদক

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরে সম্ভাব্য ক্রেতার পরিচয়ে তদন্তকারী প্রতিবেদক গুয়াহাটিতে যান। রাতুল তাঁকে রাজীব নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন। রাজীব লখরা উড়ালপুলের কাছে প্রতিবেদকের সঙ্গে দেখা করে তাঁকে একটি কথিত মজুতকেন্দ্রের দিকে নিয়ে যান।

    রাজীবের দাবি ছিল, বাংলাদেশ থেকে আসা একটি বড় চালান থেকে প্রতিবেদকের জন্য অপেক্ষাকৃত ছোট একটি চালান তৈরি করা হচ্ছে। এরপর প্রতিবেদককে একটি পাহাড়ি এলাকার কাছে নিয়ে যাওয়া হয় এবং একটি পুরনো দোতলা ভবনের বাইরে থামানো হয়।

    রাজীব দাবি করেন, ভবনের ভিতরে বাইরের লোকজন রয়েছে, তাই প্রতিবেদককে ভিতরে নেওয়া সম্ভব নয়। পরিবর্তে তিনি জাল নোট প্যাকেটজাত করার দৃশ্য রয়েছে বলে দাবি করা একটি ভিডিও দেখান (UP Polls)।

    ভিডিওতে নোটের বান্ডিল দেখানোর দাবি

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ভিডিওতে কয়েকজনকে প্লাস্টিকের মোড়কে নোটের বান্ডিল ভরতে দেখা যায়। সেখানে ৫০০ টাকার নোটের মতো দেখতে বান্ডিলও ছিল।

    তদন্তকারী দলের দাবি, একটি বাক্সে প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের জাল নোট রয়েছে বলে মনে হয়েছিল। তবে ভিডিওতে দেখা সামগ্রীর সত্যতা এবং প্রকৃত মূল্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

    রাজীবের দাবি ছিল, ওই নোট বিহারে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছিল এবং নির্বাচন না থাকলেও সেখানে জাল নোটের চাহিদা রয়েছে (Pakistan)।

    দুই ধরনের জাল নোট দেখানোর দাবি

    তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, প্রতিবেদককে দু’ধরনের সন্দেহভাজন জাল নোট দেখানো হয়। একটি ছিল কালো আবরণে ঢাকা এবং অন্যটি আসল নোটের মতো দেখতে।

    রাজীবের দাবি, কালো আবরণে ঢাকা নোট চিন ও পাকিস্তান থেকে আসে এবং নোট পরীক্ষার যন্ত্রের পরীক্ষায়ও বিষয়টি ধরা পড়েনি। তাঁর আরও দাবি, নতুন ধরনের নোটে উন্নত মানের কাগজ ও ছাপার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় এবং সেগুলি আগের চালানের তুলনায় দীর্ঘদিন ব্যবহারযোগ্য থাকে।

    ৮০ কোটি টাকার তথাকথিত নির্বাচনী চুক্তি

    তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরে প্রতিবেদক রাতুলের সঙ্গে ৮০ কোটি টাকার একটি তথাকথিত চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন। রাতুল দাবি করেন, আগে তাঁদের কার্যকলাপ নেপালকেন্দ্রিক ছিল। সেখানে কড়াকড়ি বাড়ার পর জাল নোটের ভাণ্ডার গুয়াহাটিতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

    গুয়াহাটির অবস্থান বাংলাদেশ ও ভারতের অন্যান্য অংশের সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধা দেয় বলেও রাতুল দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, এই অবস্থান থেকে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে চালান পাঠানো সহজ।

    তদন্তে আরও বলা হয়েছে, গুয়াহাটি থেকে বিহার ও উত্তরপ্রদেশে জাল নোট কীভাবে পৌঁছতে পারে (UP Polls), কারা সেগুলি গ্রহণ করে এবং কোন পথ ব্যবহার করা (Pakistan) হয়—এখন সেগুলিই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

     

LinkedIn
Share