Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Assam Floods: অসমে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১০০, ৭ জেলায় ১.৩৭ লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

    Assam Floods: অসমে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১০০, ৭ জেলায় ১.৩৭ লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত অসম (Assam Floods)। রাজ্যে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০০। এখনও পর্যন্ত সাতটি জেলায় ১ লক্ষ ৩৭ হাজারেরও বেশি মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন। জলের তলায় চলে গিয়েছে শত শত গ্রাম। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ জোরদার করেছে প্রশাসন। অসম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (ASDMA)-র সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, রাজ্যের ৪৫৬টি গ্রাম বর্তমানে প্লাবিত। বন্যার জেরে ১১,৯৩৩.৪৬ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ফসল ও গবাদি পশুরও।

    সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত গোলাঘাট

    বর্তমানে অসমের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলা গোলাঘাট। সেখানে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ বন্যার প্রভাবে পড়েছেন। শিবসাগরে প্রায় ৪০ হাজার এবং জোরহাটে ১৬ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মৃত্যুর সংখ্যার নিরিখে শিবসাগর সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে। সেখানে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। কাছাড়ে ২২ জন, করিমগঞ্জে ৯ জন এবং গোলাঘাটে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও ধেমাজি, নগাঁও, উদালগুড়ি, শোণিতপুর এবং কার্বি আংলংয়েও বন্যাজনিত মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। জেলা প্রশাসনগুলির পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় জলস্তর ও পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। দুর্গতদের কাছে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী ও চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার কাজও চলছে।

    ত্রাণ শিবিরে ৪৯ হাজারের বেশি মানুষ

    বন্যার্তদের জন্য ছয়টি জেলায় মোট ১২৫টি ত্রাণশিবির ও ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র চালু করেছে রাজ্য প্রশাসন। বর্তমানে প্রায় ৪৯,০৬১ জন সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্গত মানুষের কাছে খাবার, পানীয় জল, প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দিতে প্রশাসনের পাশাপাশি উদ্ধারকারী দলগুলিও কাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও সাহায্যের হাত বাড়ানো হয়েছে। ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই রবিবার অসমের বন্যাদুর্গতদের জন্য ৫ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা ঘোষণা করেছেন। তিনি অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সঙ্গে ফোনে কথা বলে বন্যা পরিস্থিতি ও ত্রাণ কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা করেন।

    ব্যাপক ক্ষতি কৃষিকাজে

    বন্যার জেরে অসমের বিভিন্ন জেলায় কৃষিজমি ও গবাদি পশুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। যোরহাটেও বন্যার প্রভাব মারাত্মক। এর আগে সেখানে ৩০৪টি গ্রামের প্রায় ১.৬৬ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন নদীর জলস্তর নিয়ে এখনও উদ্বেগ রয়েছে। নতুন করে বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য এখন উদ্ধার ও ত্রাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং আরও প্রাণহানি রোধ করা। একইসঙ্গে বন্যা দুর্গতদের পুনর্বাসনের প্রস্তুতিও শুরু করেছে প্রশাসন।

  • World Indigenous Day: প্রকৃতিই প্রথম পবিত্র স্থান! বিশ্ব আদিবাসী দিবসে উঠে আসুক জনজাতি ঐতিহ্যের কথা

    World Indigenous Day: প্রকৃতিই প্রথম পবিত্র স্থান! বিশ্ব আদিবাসী দিবসে উঠে আসুক জনজাতি ঐতিহ্যের কথা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতি বছর ৯ অগাস্ট পালিত হয় বিশ্ব আদিবাসী দিবস (World Indigenous Day)। বিশ্বের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও স্বাতন্ত্র্যকে তুলে ধরাই এই দিনের মূল উদ্দেশ্য। ভারতের ক্ষেত্রেও এই দিনটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশের জনজাতি সম্প্রদায়গুলি বহন করে চলেছে বহু প্রাচীন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য। ভারতের জনজাতি বা তফসিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৃহত্তর হিন্দু ঐতিহ্যের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই ইতিহাস, নৃতত্ত্ব ও রাজনীতির আলোচনার বিষয়। এই সম্পর্কের মধ্যে রয়েছে সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান, পারস্পরিক প্রভাব এবং বহু অভিন্ন পবিত্র ঐতিহ্য। মধ্য, পূর্ব, পশ্চিম ও হিমালয়-সংলগ্ন ভারতের বহু জনজাতি ঐতিহাসিকভাবে মহাদেব বা শিব, শক্তির স্থানীয় রূপ, গ্রামদেবতা, পূর্বপুরুষের আত্মা, পাহাড়, বন, নদী ও পবিত্র বনভূমির আরাধনা করে এসেছে।

    প্রকৃতিই প্রথম পবিত্র স্থান

    ভারতের প্রাচীনতম জীবন্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি বড় অংশ জনজাতি সমাজে (Janajatiya Culture) সংরক্ষিত রয়েছে। বন, পাহাড়, নদী উপত্যকা ও মালভূমিতে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বসবাস করতে গিয়ে তাঁরা প্রকৃতি, পূর্বপুরুষ ও স্থানীয় দেবতাকে কেন্দ্র করে নিজস্ব ধর্মীয় পরম্পরা গড়ে তুলেছেন। সংগঠিত মন্দির সংস্কৃতি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার বহু আগে থেকেই পবিত্র বন, পাহাড়, নদী, গুহা ও প্রাচীন গাছ ছিল উপাসনার স্থান। প্রকৃতি তাঁদের কাছে শুধু জীবিকার উৎস নয়, আধ্যাত্মিক বিশ্বাসেরও কেন্দ্র।

    পবিত্র ভূদৃশ্য ও প্রকৃতির প্রতীক

    বিভিন্ন জনজাতি অঞ্চলের পাহাড়, নদী, বন ও উপত্যকার সঙ্গে স্থানীয় দেবতা, পূর্বপুরুষ এবং ধর্মীয় কাহিনি জড়িয়ে রয়েছে। গাছ, পশুপাখি, সূর্য, চাঁদ, মাটি ও নদীর মতো প্রাকৃতিক উপাদানও অনেক সম্প্রদায়ের কাছে পবিত্র প্রতীক। পবিত্র বন বা ‘সেক্রেড গ্রোভ’-কে ঘিরে উপাসনা ও নানা আচার আজও বহু জায়গায় প্রচলিত। একইসঙ্গে এই বনগুলি স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

    জনজাতি ঐতিহ্যে মহাদেব

    শিবকে শুধু মহাজাগতিক দেবতা নয়, বন, পাহাড়, পশু, সাধক, শিকারি ও জনজাতি মানুষের সঙ্গেও যুক্ত দেবতা হিসেবে দেখা হয়। ‘মহাদেব’, ‘পশুপতি’, ‘গিরিশ’, ‘কিরাত’ ও ‘ভূতেশ্বর’-এর মতো উপাধিতে তাঁর সঙ্গে জঙ্গল, পাহাড়, পশুজগৎ ও জনবসতির প্রান্তবর্তী জীবনের সম্পর্কের প্রতিফলন পাওয়া যায়। বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় দেবতা ও প্রকৃতি-কেন্দ্রিক বিশ্বাসের সঙ্গে শিব-আরাধনার সাংস্কৃতিক সংযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এই সম্পর্ক সব সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে একরকম নয়, প্রত্যেকের নিজস্ব ঐতিহ্য রয়েছে।

    শক্তির স্থানীয় রূপ

    শক্তি বা দেবী-উপাসনাতেও জনজাতি সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ ছাপ রয়েছে। বহু স্থানীয় দেবীকে উর্বরতা, কৃষি, বন, নদী, রোগ থেকে সুরক্ষা, মাটি ও জীবনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। কোথাও তাঁরা গ্রামরক্ষাকারী, কোথাও ফসলের রক্ষক, আবার কোথাও পাহাড় বা অরণ্যের অধিষ্ঠাত্রী শক্তি। এই স্থানীয় দেবী-পরম্পরার সঙ্গে বৃহত্তর শক্তি-উপাসনার বিভিন্ন ধারারও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ তৈরি হয়েছে।

    নিজস্ব ঐতিহ্যের স্বাতন্ত্র্য

    তবে জনজাতি সংস্কৃতিকে শুধুমাত্র বৃহত্তর কোনও ধর্মীয় কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ করা যায় না। প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব ভাষা, দেবতা, লোককথা, আচার, উৎসব ও সামাজিক রীতি রয়েছে। কোথাও প্রকৃতি ও পূর্বপুরুষের উপাসনা প্রধান, কোথাও স্থানীয় দেবতার গুরুত্ব বেশি, আবার কোথাও শিব-শক্তির সঙ্গে স্থানীয় বিশ্বাসের মেলবন্ধন ঘটেছে। এই বৈচিত্র্যের মধ্যেই রয়েছে ভারতের জনজাতি সংস্কৃতির নিজস্ব পরিচয়।

    ঔপনিবেশিক শ্রেণিবিন্যাস ও ভিন্ন বয়ান

    ঔপনিবেশিক আমলে ব্রিটিশ প্রশাসন ভারতের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে সামাজিক ও ধর্মীয় শ্রেণিতে ভাগ করার চেষ্টা করে। বহু জটিল স্থানীয় বিশ্বাসকে তখন নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণির মধ্যে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল। বিভিন্ন ঔপনিবেশিক নথি ও গবেষণায় কখনও জনজাতি সমাজকে মূলধারার ভারতীয় সংস্কৃতি থেকে পৃথক হিসেবে দেখানো হয়েছে, আবার কখনও বৃহত্তর সাংস্কৃতিক পরিসরের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের কথাও উঠে এসেছে। ফলে জনজাতি পরিচয় নিয়ে একাধিক বয়ান তৈরি হয়।

    গবেষণা ও পরিচয়ের প্রশ্ন

    আধুনিক ইতিহাস ও নৃতত্ত্বের গবেষণায় জনজাতি ধর্মীয় ঐতিহ্যকে প্রকৃতি, পূর্বপুরুষ, স্থানীয় দেবতা, সামাজিক কাঠামো এবং বৃহত্তর ভারতীয় সংস্কৃতির পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে দেখার চেষ্টা করা হয়। আধুনিক ভারতেও জনজাতি পরিচয়, ধর্মীয় পরিচয় ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য নিয়ে আলোচনা রয়েছে। নিজস্ব ভাষা, আচার ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের দাবি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই বৃহত্তর ভারতীয় সাংস্কৃতিক পরিসরের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রশ্নও আলোচিত।

    সংবিধানে স্বীকৃতি

    ভারতের সংবিধান তফসিলি উপজাতি (Tribal Culture India) সম্প্রদায়গুলির জন্য বিশেষ সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছে। তাঁদের সামাজিক, শিক্ষাগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে। বিশ্ব আদিবাসী দিবস তাই শুধু অধিকার ও পরিচয়ের কথা বলার দিন নয়; এটি বিশ্বের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রাচীন সংস্কৃতি, প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক এবং পবিত্র ঐতিহ্যকে স্মরণ করারও দিন। ভারতের জনজাতি সমাজের প্রকৃতি-কেন্দ্রিক জীবনদর্শন, পবিত্র বন, স্থানীয় দেবদেবী, পূর্বপুরুষের স্মরণ, লোকাচার ও উৎসব দেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বৃহত্তর ভারতীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক যোগাযোগ যেমন এই ইতিহাসের একটি দিক, তেমনই প্রতিটি জনজাতি সম্প্রদায়ের নিজস্ব পরিচয় ও স্বাতন্ত্র্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অভিন্ন বিশ্বাস ও পবিত্র ঐতিহ্যের এই বহুস্বরই ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

  • ECI: ভোটার তালিকা সংশোধনে বড় পদক্ষেপ, ১২ রাজ্য-কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বাদ ১.৫৮ কোটিরও বেশি নাম

    ECI: ভোটার তালিকা সংশোধনে বড় পদক্ষেপ, ১২ রাজ্য-কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বাদ ১.৫৮ কোটিরও বেশি নাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটার তালিকা আপডেট এবং অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) তৃতীয় পর্যায়ে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা (ECI) থেকে এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৫৮ লক্ষ ৫৯ হাজার ৮৩৪টি নাম বাদ দিয়েছে (SIR) ভারতের নির্বাচন কমিশন। কমিশনের প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই হিসেব সামনে এসেছে। এই ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সংশোধন প্রক্রিয়া শুরুর আগে মোট ভোটার ছিলেন ১৩ কোটি ৭৭ লাখ ২৭ হাজার ৮০৭ জন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে যাচাই এবং অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁদের মধ্যে ১১.৫১ শতাংশের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

    যাঁরা বাদ গেলেন (ECI)

    বাদ পড়া নামগুলির মধ্যে রয়েছেন এমন ভোটার, যাঁদের দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি, অন্যত্র চলে গিয়েছেন, মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে অথবা একাধিক জায়গায় তাঁদের নাম ভোটার তালিকায় ছিল। ভোটার তালিকাকে নির্ভুল ও আপডেট রাখাই এই প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য। তবে এখনও চূড়ান্ত ভোটার সংখ্যা নির্ধারিত হয়নি। খসড়া তালিকায় নাম সংযোজন বা বাদ দেওয়া নিয়ে দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যোগ্য নাগরিকেরা নতুন করে ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার আবেদনও করতে পারবেন। ফলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে সংখ্যায় আরও পরিবর্তন হতে পারে।

    অন্ধ্রপ্রদেশে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ

    পরম সংখ্যার বিচারে অন্ধ্রপ্রদেশে সব চেয়ে বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। সেখানে ৪৪.৮৯ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা সংশোধনের আগে থাকা মোট ভোটারের ১০.৭৮ শতাংশ। এর ফলে খসড়া ভোটার তালিকায় ভোটারের সংখ্যা ৪ কোটি ১৬ লাখ থেকে কমে প্রায় ৩ কোটি ৭১ লাখ হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশে বাদ পড়া ৪৪.৮৯ লাখ নামের মধ্যে ২২.৩০ লাখ ভোটার অন্যত্র চলে গিয়েছেন অথবা তাঁদের ঠিকানায় গিয়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ১৫.২২ লাখ ভোটারের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এছাড়া ৭.৩৭ লাখ ভোটারের নাম একাধিক জায়গার ভোটার তালিকায় ছিল। নাম বাদ পড়ার সংখ্যায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে হরিয়ানা। সেখানে ৩৩.৮৩ লাখ নাম বাদ পড়েছে। ওড়িশায় বাদ পড়েছে ২০.১২ লাখ নাম। এদিকে, সিকিমে সবচেয়ে কম নাম বাদ পড়েছে—৩৭ হাজার ৭২৪টি। মিজোরামে বাদ পড়েছে ৪৬ হাজার ১৬২টি নাম।

    শতাংশের হিসাবে শীর্ষে দাদরা ও নগর হাভেলি

    মোট ভোটারের তুলনায় নাম বাদ পড়ার হারে সব চেয়ে এগিয়ে রয়েছে দাদরা ও নগর হাভেলি এবং দমন ও দিউ। সেখানে ২৯.৬৪ শতাংশ নাম বাদ পড়েছে। এর পরেই রয়েছে অরুণাচল প্রদেশ, যেখানে বাদ পড়ার হার ১৯.০৯ শতাংশ। হরিয়ানায় এই হার ১৬.৩৮ শতাংশ এবং চণ্ডীগড়ে ১২.৮ শতাংশ। মিজোরামে নাম বাদ পড়ার হার সবচেয়ে কম—৫.২ শতাংশ। অন্যান্য রাজ্যের মধ্যে ওড়িশায় ৬.০২ শতাংশ, মণিপুরে ৭.৫ শতাংশ, উত্তরাখণ্ডে ১০.৩৯ শতাংশ, মেঘালয়ে ৭.৬৭ শতাংশ এবং ঝাড়খণ্ডে ১৬.৪৮ শতাংশ নাম বাদ পড়েছে। সিকিমে আগের তালিকার ৮ শতাংশ নাম বাদ গিয়েছে (ECI)।

    ১৬ রাজ্য ও ৩ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চলছে তৃতীয় পর্যায়

    বিশেষ নিবিড় সংশোধনের তৃতীয় পর্যায়ের কাজ চলছে মোট ১৬টি রাজ্য ও ৩টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। এগুলি হল দিল্লি, ওড়িশা, মিজোরাম, সিকিম, মণিপুর, উত্তরাখণ্ড, অন্ধ্রপ্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ, হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, তেলঙ্গনা, পাঞ্জাব, কর্নাটক, মেঘালয়, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড, নাগাল্যান্ড, ত্রিপুরা এবং দাদরা ও নগর হাভেলি ও দমন ও দিউ। এর মধ্যে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। দিল্লি, পাঞ্জাব, তেলঙ্গনা, কর্নাটক ও মহারাষ্ট্রে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের তথ্য যাচাই ও গণনার কাজের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। ফলে ওই রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের খসড়া ভোটার তালিকা এখনও প্রকাশিত হয়নি। ত্রিপুরা ও নাগাল্যান্ডের খসড়া তালিকাও (SIR) এখনও প্রকাশের অপেক্ষায়।

    একাধিক রাজ্যে ইতিমধ্যেই শেষ সংশোধন

    এর আগেই বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, কেরল, পুদুচেরি, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, ছত্তিশগড়, গোয়া, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং লক্ষদ্বীপে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের কাজ শেষ হয়েছে। অসমে অবশ্য নাগরিকদের জাতীয় পঞ্জি সংক্রান্ত আইনি বিষয় বিবেচনা করে পৃথকভাবে বিশেষ সংশোধন করা হয়েছে (ECI)। বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং বিরোধী দলগুলির মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। বিষয়টি আদালতেও চ্যালেঞ্জ করা হয়। চলতি বছরের মার্চে সুপ্রিম কোর্ট সর্বসম্মতভাবে বিশেষ নিবিড় সংশোধন পরিচালনার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের সাংবিধানিক বৈধতা বহাল রাখে।

    তৃতীয় পর্যায়ের কাজ চলাকালীন নির্বাচন কমিশন ভোটারদের তথ্য যাচাই এবং ভোটার তালিকা আপডেটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যোগ্য ভোটারদের নাম যাতে তালিকায় থাকে এবং একই ব্যক্তির একাধিক নাম বা পুরনো ও অযোগ্য নাম যাতে তালিকায় না (SIR) থাকে, তা নিশ্চিত করাই এই প্রক্রিয়ার লক্ষ্য। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে দাবি ও আপত্তি জানানোর সুযোগ থাকায় যোগ্য নাগরিকেরা নিজেদের নাম সংশোধন, সংযোজন বা পুনরায় অন্তর্ভুক্তির (ECI) আবেদন করতে পারবেন।

     

  • LPG e-KYC: ১৬ অগাস্টের মধ্যে এই কাজ না করলেই বড় ধাক্কা! ৯৬৮ টাকার গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে হতে পারে ২ হাজারের বেশি টাকায়?

    LPG e-KYC: ১৬ অগাস্টের মধ্যে এই কাজ না করলেই বড় ধাক্কা! ৯৬৮ টাকার গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে হতে পারে ২ হাজারের বেশি টাকায়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  রান্নার গ্যাসের গ্রাহকদের জন্য বড় সতর্কবার্তা। ১৬ অগাস্টের মধ্যে আধার-ভিত্তিক পরিচয় যাচাই (LPG e-KYC) সম্পূর্ণ না করলে ঘরোয়া দামে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার (LPG Cylinder) কেনার সুযোগ হারাতে পারেন গ্রাহকরা। শুধু তাই নয়, ভর্তুকি পাওয়া গ্রাহকদেরও ভর্তুকি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে কলকাতায় বর্তমানে ৯৬৮ টাকায় পাওয়া ১৪.২ কেজির সিলিন্ডারের জন্য গুনতে হতে পারে অনেক বেশি টাকা।

    ১৬ অগাস্টের মধ্যেই পরিচয় যাচাই বাধ্যতামূলক

    রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই রান্নার গ্যাসের গ্রাহকদের মোবাইলে বার্তা পাঠিয়ে আধার-ভিত্তিক পরিচয় (LPG e-KYC) যাচাই সম্পূর্ণ করার জন্য সতর্ক করছে। জানানো হয়েছে, ১৬ অগাস্টের মধ্যে পরিচয় যাচাই না করলে ঘরোয়া দামে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার পাওয়ার অধিকার থাকবে না। পরিচয় যাচাই সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই সুবিধা বন্ধ থাকতে পারে। বাড়িতে বসেই এই পরিচয় যাচাই করা যাবে। এর জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার মোবাইল পরিষেবা ব্যবহার করা যাবে। এছাড়াও গ্যাস সরবরাহকারীর কাছে গিয়ে অথবা বাড়িতে সিলিন্ডার পৌঁছে দিতে আসা কর্মীর মাধ্যমেও পরিচয় যাচাই করানো যাবে।

    কলকাতায় এখন ৯৬৮ টাকা ১৪.২ কেজির সিলিন্ডার

    বর্তমানে কলকাতায় (Kolkata) ১৪.২ কেজির ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের (LPG Cylinder) দাম ৯৬৮ টাকা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিচয় যাচাই না করলে এই ঘরোয়া দাম আর প্রযোজ্য হবে না বলেই জানানো হয়েছে। গ্যাস সরবরাহকারীদের বক্তব্য, পরিচয় যাচাই না করা গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশি দাম নেওয়া হতে পারে। তবে তাঁদের ক্ষেত্রে সরাসরি বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম নেওয়া হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সর্বভারতীয় রান্নার গ্যাস সরবরাহকারী সংগঠনের সহ-সভাপতি বিজনবিহারী বিশ্বাস জানিয়েছেন, পরিচয় যাচাই না করা গ্রাহকরা নিশ্চিতভাবেই নির্ধারিত ঘরোয়া দামে সিলিন্ডার পাবেন না। ফলে তাঁদের বেশি দাম দিতে হতে পারে।

    ভর্তুকি পাওয়া গ্রাহকদের জন্যও সতর্কবার্তা

    শুধু সিলিন্ডারের দাম নয়, পরিচয় যাচাই না করলে রান্নার গ্যাসের (LPG Cylinder) ভর্তুকিও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা বর্তমানে ভর্তুকি পান, তাঁদের ১৬ অগাস্টের মধ্যে পরিচয় (LPG e-KYC) যাচাই সম্পূর্ণ করা জরুরি। কলকাতায় বর্তমানে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য প্রতি ঘরোয়া সিলিন্ডারে ভর্তুকির পরিমাণ ১৯ টাকা ৫৭ পয়সা। অন্যদিকে, উজ্জ্বলা প্রকল্পের গ্রাহকরা প্রতি সিলিন্ডারে ৩০০ টাকা ভর্তুকি পান। ফলে তাঁদের ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাই না করলে আর্থিক চাপ আরও বেশি হতে পারে।

    কত টাকা লাগতে পারে?

    কলকাতায় বর্তমানে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের (LPG Cylinder) দাম ৩,০৮১ টাকা ৫০ পয়সা। তেল সংস্থাগুলি যদি পরিচয় যাচাই না করা ঘরোয়া গ্রাহকদের কাছ থেকে বাণিজ্যিক হারে দাম নেয়, তাহলে ১৪.২ কেজির একটি সিলিন্ডারের জন্য ২ হাজার টাকারও বেশি খরচ হতে পারে। যদিও পরিচয় যাচাই না করা গ্রাহকদের জন্য ঠিক কত দাম নেওয়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট করে জানানো হয়নি।

    কতজনের পরিচয় যাচাই হয়েছে?

    তেল সংস্থাগুলির তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে কলকাতা-সহ মোট প্রায় ২ কোটি ৭০ লক্ষ ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ গ্রাহক আধার-ভিত্তিক পরিচয় যাচাই সম্পূর্ণ করেছেন। অর্থাৎ, এখনও একটি বড় অংশের গ্রাহকের পরিচয় যাচাই বাকি রয়েছে।

    কীভাবে করবেন পরিচয় যাচাই?

    গ্রাহকরা তিনভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে পারবেন- বাড়িতে বসে সংশ্লিষ্ট সংস্থার মোবাইল পরিষেবার মাধ্যমে। নিজের গ্যাস সরবরাহকারীর কাছে গিয়ে। সিলিন্ডার পৌঁছে দিতে আসা কর্মীর মাধ্যমে। তাই শেষ মুহূর্তের ভিড় বা সমস্যার আশঙ্কা এড়াতে দ্রুত পরিচয় যাচাই সম্পূর্ণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

    শেষ তারিখের আগে কাজ না সারলেই বাড়তে পারে খরচ

    অর্থাৎ, রান্নার গ্যাসের গ্রাহকদের জন্য এখন সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৬ অগাস্টের পর আধার-ভিত্তিক পরিচয় (LPG e-KYC) যাচাই না করা থাকলে ৯৬৮ টাকার ঘরোয়া সিলিন্ডার আর সেই দামে নাও মিলতে পারে। ভর্তুকি পাওয়া গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বন্ধ হয়ে যেতে পারে ভর্তুকিও। বাণিজ্যিক হারে দাম নেওয়া হলে ১৪.২ কেজির সিলিন্ডারের খরচ ২ হাজার টাকার গণ্ডিও পেরিয়ে যেতে পারে। তাই শেষ দিনের অপেক্ষা না করে এখনই আধার-ভিত্তিক পরিচয় যাচাই সম্পূর্ণ করুন, নইলে রান্নার গ্যাসের জন্য বাড়তি টাকা গুনতে হতে পারে।

  • CID: পরীক্ষার আগেই হাতে উত্তর! হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়েছিল জেএসএসসির ১২০ টি প্রশ্নের উত্তর, সিআইডি রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য

    CID: পরীক্ষার আগেই হাতে উত্তর! হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়েছিল জেএসএসসির ১২০ টি প্রশ্নের উত্তর, সিআইডি রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশনের স্নাতক স্তরের পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে (JSSC CGL Paper Leak) সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। রাজ্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত শাখার রিপোর্ট অনুযায়ী, পরীক্ষার ১৫০টি প্রশ্নের মধ্যে ১২০টির উত্তর আগেই ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সেই উত্তর ছড়িয়ে পড়েছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই রিপোর্ট সামনে আসার পর রাজ্য সরকার তা কার্যত সরিয়ে রেখে দ্বিতীয়বার তদন্তের নির্দেশ দেয়। সেই দ্বিতীয় তদন্তে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ খারিজ করে পরীক্ষাকে ক্লিনচিট দেওয়া হয়।

    কীভাবে ছড়িয়েছিল ফাঁস হওয়া প্রশ্নের উত্তর?

    সিআইডির (CID) প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে বলা হয়েছে, ফাঁস হওয়া প্রশ্নের উত্তর হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। যারা টাকা দিয়ে সেই উত্তর নিয়েছিলেন, তাঁদের বিভিন্ন জায়গায় বসিয়ে উত্তর সরবরাহ করা হয়েছিল। তদন্তে হজারিবাগ, জামশেদপুর, পটনা, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা এবং এমনকী নেপালের নামও উঠে এসেছে। অর্থাৎ, শুধু ঝাড়খণ্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না এই চক্রের কার্যকলাপ- এমনই ইঙ্গিত মিলেছে সিআইডির(CID) রিপোর্টে।

    ইন্টারনেট বন্ধ করেও আটকানো যায়নি ফাঁস

    এর আগে প্রশ্নফাঁসের (JSSC CGL Paper Leak) অভিযোগের জেরে জেএসএসসির পরীক্ষা বাতিল হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালের ২১ ও ২২ সেপ্টেম্বর ফের পরীক্ষা নেওয়া হয়। পুনরায় যাতে প্রশ্নফাঁস না হয়, সেই আশঙ্কায় পরীক্ষার সময় গোটা ঝাড়খণ্ডে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। কিন্তু তাতেও প্রশ্নফাঁস চক্রকে আটকানো যায়নি বলে অভিযোগ। এক পরীক্ষার্থীর দাবি, এবার সরাসরি প্রশ্ন নয়, তাঁদের কাছে উত্তরও পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। ইন্টারনেট না থাকায় ল্যান্ডলাইন ফোন ব্যবহার করেও উত্তর জানানো হয়েছিল। ফোনে উত্তর বলে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল।

    ‘প্রশ্ন নয়, উত্তর পেয়েছিলাম’

    পরীক্ষার্থী জিৎ কুমারের দাবি, তাঁদের কাছে প্রশ্ন পাঠানো হয়নি, পাঠানো হয়েছিল উত্তর। তাঁর কথায়, পরীক্ষার পর তাঁরা জানতে পারেন যে হাতে পাওয়া উত্তরগুলি সঠিক ছিল। এ সংক্রান্ত প্রমাণ আদালতেও জমা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। জিৎ কুমার এবং আরও কয়েকজন পরীক্ষার্থী রাঁচির আদালতে মামলাও করেছেন। তাঁদের কাছে থাকা উত্তরগুলির ফটোকপিও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে উঠে এসেছে। পরীক্ষার্থীদের দাবি, কেউ কেউ উত্তরগুলি লিখে রেখেছিলেন এবং পরে বন্ধুদের সঙ্গে প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করে সেগুলির মিল খুঁজে পান।

    সকাল ৭টা ২৩ মিনিটের ছবি ঘিরে রহস্য

    মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে একটি ছবির কথা উঠে এসেছে। ছবিটিতে সময় দেখা যাচ্ছে সকাল ৭টা ২৩ মিনিট, তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪। অর্থাৎ, পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই ওই ছবি তোলা হয়েছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ছবিটির অবস্থান হিসেবে জামশেদপুরের বিষ্ণুপুর এলাকার লোকেশন পাওয়া গিয়েছে। এই ছবিই প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

    সিআইডির (CID) রিপোর্টে কী বলা হয়েছিল?

    রাজ্য সিআইডি ২০২৫ সালের মার্চে তদন্ত শেষ করে। তাদের প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়, মোট ১৫০টি প্রশ্নের মধ্যে ১২০টির উত্তর ফাঁস হয়েছিল। এই রিপোর্ট সামনে আসার পর বিষয়টি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। কিন্তু এরপরই রাজ্য সরকার সিআইডির রিপোর্টটি কার্যত সরিয়ে রেখে নতুন করে তদন্তের জন্য দ্বিতীয় একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে।

    দ্বিতীয় তদন্তে মিলল না প্রশ্নফাঁসের প্রমাণ!

    দ্বিতীয় বিশেষ তদন্তকারী দলের তদন্তের ফল ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ কার্যত খারিজ করে দেওয়া হয়। পরীক্ষাকেও ক্লিনচিট দেওয়া হয়। এরপর বিষয়টি নিয়ে আর তেমন অগ্রগতি হয়নি। কিন্তু প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে সরব থাকা পড়ুয়াদের ক্ষোভ থামেনি।

    জেএসএসসির পর জেপিএসসি, ফের প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ

    এর মধ্যেই ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায়ও একই ধরনের প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে এসেছে। এরপর রাজ্যজুড়ে পড়ুয়াদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়তে থাকে। নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও সংস্কারের দাবিতে শুরু হয় বড়সড় আন্দোলন।

    ১৬ দিন ধরে আন্দোলনে পড়ুয়ারা

    ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহতোর নেতৃত্বে রাঁচির জয়পাল সিং মুণ্ডা স্টেডিয়ামে আন্দোলন চলছে। ইতিমধ্যেই সেই আন্দোলন ১৬ দিনে পড়েছে। সরকারের সঙ্গে পড়ুয়াদের প্রতিনিধিদের একাধিক দফায় বৈঠক হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সমাধান হয়নি।

    ‘পড়ুয়াদের দাবি যুক্তিসঙ্গত’

    পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনায় থাকা ঝাড়খণ্ডের মন্ত্রী দীপিকা সিং জানিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের উদ্বেগকে সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তাঁর বক্তব্য, পড়ুয়ারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর পরামর্শ দিয়েছেন এবং তাঁদের দাবিগুলিও যুক্তিসঙ্গত। সরকার সেই বিষয়গুলি সমাধানের জন্য প্রস্তুত। তবে এজন্য আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। ফলে ২০২৪ সালের জেএসএসসি প্রশ্নফাঁসের পুরনো অভিযোগ, সিআইডির (CID) বিস্ফোরক রিপোর্ট এবং পরবর্তী সময়ে দেওয়া ক্লিনচিট- সব মিলিয়ে ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে বিতর্ক ফের নতুন করে সামনে এসেছে।

  • Congress: বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী বিলের বিরোধিতা করবে কংগ্রেস, জানালেন খাড়গে

    Congress: বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী বিলের বিরোধিতা করবে কংগ্রেস, জানালেন খাড়গে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনী বিলের তীব্র বিরোধিতা করবে কংগ্রেস (Congress)। সোমবার বিরোধী দলগুলির সংসদীয় দলনেতাদের বৈঠকে বিলটি নিয়ে কৌশল নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। শনিবার উত্তরাখণ্ডের হালদোয়ানির (FCRA Bill) এক জনসভায় বক্তব্য রাখেন তিনি। পরে সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খাড়গে জানান, আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের কর্মীদের চাঙা করতেই তাঁর উত্তরাখণ্ড সফর। রাজ্য সফরের সময় তিনি এদিন রুদ্রপুরে নবনিযুক্ত রাজ্য ও জেলা সভাপতিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।

    বিলের বিরোধিতা করব! (Congress)

    সংসদের বাদল অধিবেশনের শেষ সপ্তাহে লোকসভায় বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনী বিলটি পেশ হতে পারে বলে খবর। রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা খাড়গে বলেন, “আমরা বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংক্রান্ত এই উদ্যোগের বিরোধিতা করব। আগামীকাল সংসদীয় দলনেতাদের বৈঠকের পরে আমরা কৌশল সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেব।” উত্তরাখণ্ডে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে কংগ্রেস কর্মীরা কাজ করছেন বলেও দাবি করেন খাড়গে। দলের কর্মীদের উজ্জীবিত করতে তাঁর নিয়মিত রাজ্য সফরের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির সভাপতি। প্রতিদিন এখানে আসা আমার পক্ষে সম্ভব নয়, কিন্তু আমাদের বাহিনী এখানে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি কি প্রতিদিন এখানে আসেন? অমিত শাহ কি এখানে আসেন? নাড্ডা, যিনি এই অঞ্চল থেকেই এসেছেন, তিনিও কি এখানে আসেন? নতুন বিজেপি সভাপতিও কি এখানে আসেন?”

    সরকার বিল চাপিয়ে দিতে পারে না

    তিনি এও বলেন, “দলের কর্মীদের উজ্জীবিত করার প্রয়োজন হলে আমরা তখনই এবং সেখানেই যাই। তার অর্থ এই নয় যে পর্যটকের মতো এসে শুধু চলে যাই।” বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনী বিলের বিরোধিতা ইতিমধ্যেই একাধিক বিরোধী দল করেছে। কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপাল শুক্রবার জানিয়েছিলেন, দল এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করবে। তাঁর কথায়, “সরকার এই ধরনের বিল জোর করে চাপিয়ে দিতে পারে না।” ২০১০ সালের বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের লক্ষ্যে বিলটি আনা হচ্ছে। বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোই এই সংশোধনের ঘোষিত উদ্দেশ্য।

    বিল নিয়ে মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য

    এদিকে, মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করে বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একাধিক সুপারিশ এবং আঞ্চলিক উদ্বেগ তুলে ধরেন। পরে লালদুহোমা জানান, শাহের কাছে তিনি ছ’টি বিষয় উত্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে যে বিষয়টি খুব স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, তা হল এই আইন অতীত থেকে কার্যকর হবে না। আমাদের সেই আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বাকি বিষয়গুলিতে তিনি অনুচ্ছেদ ধরে মন্তব্য করবেন এবং চলতি মাসের ১২ তারিখ থেকে সংসদে আলোচনা শুরু করবেন (Congress)।” বিলের কয়েকটি বিধানের বিরোধিতা করে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্য ও প্রতিনিধিদের সঙ্গেও সংসদে বৈঠক করেছেন অমিত শাহ।

    বিল প্রত্যাহারের দাবি

    তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা দ্রাবিড় মুনেত্র কড়গমের সভাপতি এমকে স্টালিনও শনিবার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনী বিল প্রত্যাহারের দাবি জানান। একই সঙ্গে ২০১০ সালের ওই আইনের ১৫ নম্বর ধারা বাতিলের দাবিও জানান তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় স্টালিন জানান, সংখ্যালঘুদের যৌথ কর্মসূচি মঞ্চের একটি প্রতিনিধিদল ৬ আগস্ট কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করে বিলটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন দ্রাবিড় মুনেত্র কড়গমের রাজ্যসভার সাংসদ পি উইলসন। বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতারাও ওই দলে ছিলেন। শরদ পাওয়ারের নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টিও এই বিলের বিরোধিতা করেছে।

    আত্মবিশ্বাসী খাড়গে

    এদিকে, শনিবার হালদোয়ানির জনসভায় খাড়গে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করে বলেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরাখণ্ডে কংগ্রেস সরকার গঠন করবে (FCRA Bill)। দিল্লিতে প্রতিবাদী পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে পুলিশের দমন-পীড়ন নিয়েও বিজেপি সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। পাশাপাশি উত্তরাখণ্ডে মন্দিরের অনুদান, বেকারত্ব, নিয়োগ পরীক্ষা এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো বিষয় নিয়েও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন খাড়গে (Congress)।

     

  • Hindus Under Attack: দেশে-বিদেশে হিন্দুদের উপর হামলা, ধর্মান্তর ও বৈষম্যের অভিযোগ

    Hindus Under Attack: দেশে-বিদেশে হিন্দুদের উপর হামলা, ধর্মান্তর ও বৈষম্যের অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মের উপর হামলা, ধর্মীয় বিদ্বেষ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, মন্দির ও মূর্তির অবমাননা, উৎসবে বাধা, হিংসা এবং (Hindus Under Attack) প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের অভিযোগ ক্রমেই সামনে আসছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বহু ক্ষেত্রে এই ঘটনাগুলি বিচ্ছিন্ন নয়, বরং হিন্দু পরিচয় ও ধর্মীয় স্বাধীনতার বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি বৈষম্যের বৃহত্তর চিত্রের অংশ (Roundup Week)। ১ থেকে ৮ অগাস্ট ২০২৬ সময়ের ঘটনাগুলির একটি সাপ্তাহিক সংকলনে এমনই কয়েকটি অভিযোগ ও বিতর্কের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

    বিবিসির সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ (Hindus Under Attack)

    বিবিসির সাংবাদিক সৌতিক বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মুঘল শাসকদের অত্যাচারকে আড়াল করা থেকে শুরু করে দোষী সাব্যস্ত তথ্য-জালিয়াতদের পক্ষ নেওয়া পর্যন্ত এমন এক ধরনের বয়ান প্রচার করেছেন, যা ধারাবাহিকভাবে হিন্দুদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে এবং ইসলামপন্থী চরমপন্থাকে আড়াল করে। প্রতিবেদনে তাঁর সাংবাদিকতার ধরনকে হিন্দুবিদ্বেষী মানসিকতার সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়েছে। হায়দরাবাদের দুধবাউলি এলাকার শান্তিনিকেতন হাইস্কুলে একটি অনুষ্ঠানকে ঘিরে গুরুতর বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, বাধ্যতামূলক প্রাতঃকালীন সমাবেশে কয়েকশো অপ্রাপ্তবয়স্ক পড়ুয়ার সামনে একটি বিদেশি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট-সম্পর্কিত বক্তব্য তুলে ধরা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার বহিরাগত অতিথিকে বিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়ে পড়ুয়াদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিয়োকে ঘিরে অভিযোগ ওঠে, পড়ুয়াদের মধ্যে ইরানের জাতীয় পতাকা বিলি করা হয়েছিল এবং বিদ্যালয় চত্বরে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের ছবি-সহ একটি পোস্টার প্রদর্শিত হয়েছিল। স্কুলের পরিবেশে এমন কর্মসূচির যথার্থতা নিয়ে এরপর প্রশ্ন ওঠে।

    ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করার অভিযোগ

    সংসদে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক অধ্যাপক ভি কামাকোটিকে গোমূত্র বিশেষজ্ঞ বলে কটাক্ষ করার ঘটনাও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এটি নিছক একটি রাজনৈতিক কটাক্ষ নয়, বরং ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক পরিসরের একটি অংশে হিন্দু ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতি দীর্ঘদিনের অবজ্ঞার প্রকাশ। তাঁদের আরও অভিযোগ, হিন্দু ঐতিহ্যের বৈচিত্র্যময় বিশ্বাস ও আচারকে বিদ্রূপ করার প্রবণতাও এর মধ্যে প্রতিফলিত হয়েছে। পাঞ্জাবের মোহালি জেলায় দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতন, শারীরিক অত্যাচার এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগকারী মোহালির ধাকোলি এলাকার এক হিন্দু মহিলা। তিনি মোহালির পুলিশ সুপারের দফতরে লিখিত অভিযোগে দাবি করেছেন, বিহারের আরারিয়া জেলার বাসিন্দা মীর আরফাক আলি বিয়ের প্রতিশ্রুতির নামে প্রায় পাঁচ বছর ধরে তাঁকে একটি জবরদস্তিমূলক সম্পর্কে আটকে রাখেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং তড়িঘড়ি বিয়ের পর ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করা হয় (Hindus Under Attack)। অভিযুক্ত যুবক বর্তমানে বিহারের নিজের গ্রামে পালিয়ে গিয়েছেন বলে অভিযোগ।

    শপিং মলে একী কাণ্ড!

    উত্তরপ্রদেশের ইন্দিরাপুরমের একটি শপিং মলে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রায় ২১ সেকেন্ডের ওই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, হাতে বড় একটি ছুরি নিয়ে এক যুবক ক্যালিফোর্নিয়া বুরিটো খাবারের দোকানের এক হিন্দু মহিলা কর্মীকে পরপর চড় মারছেন। এক মহিলা সহকর্মী তাঁকে থামানোর চেষ্টা করলে তাঁকেও ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। রাজস্থান-হরিয়ানা সীমান্তে গবাদি পশু পাচারচক্রের বিরুদ্ধে অভিযানের সময় নুহ পুলিশ ৩০ বছর বয়সি জাবির নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের দাবি, জাবির দীগ জেলার পাহাড়ি থানার ঘাটমিকা গ্রামের বাসিন্দা এবং গরু পাচারের সঙ্গে যুক্ত। পুলিশের পাল্টা গুলিচালনার সময় তাঁর বাঁ হাঁটুতে গুলি লাগে। পরে তাঁকে নালহারের শহিদ হাসান খান মেওয়াতি সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। তাঁর সহযোগী সাহুন পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। তাঁকে ধরতে শুরু হয়েছে (Roundup Week) তল্লাশি। বেঙ্গালুরুর দেবরা জীবনহল্লি এলাকায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকা এক সরকারি আধিকারিক কর্তব্যরত অবস্থায় আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ। ঘটনায় দস্তগীর, ইয়ারব এবং ইকবালের বিরুদ্ধে পুলিশ ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে।

    বিদেশের ছবি

    ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন চিকিৎসক করিশ্মা রেড্ডির অভিযোগ, তাঁর নিজের কপালের টিপ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও প্রকাশ করার পর তিনি বর্ণবিদ্বেষী ও বিদেশিবিদ্বেষী আক্রমণের শিকার হন। পেশায় প্লাস্টিক সার্জন করিশ্মা জানান, ভিডিওটিতে তিনি এক রোগীর সঙ্গে একটি হালকা মেজাজের কথোপকথনের ঘটনা তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু তার পরেই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক বিদ্বেষমূলক মন্তব্য আসতে শুরু করে। কয়েকজন ইউজার তাঁকে ভারতে ফিরে যেতে বলেন। উল্লেখ্য, করিশ্মার জন্ম ও বেড়ে ওঠা (Hindus Under Attack) যুক্তরাষ্ট্রেই।

    হিন্দুবিদ্বেষ নিয়ে উদ্বেগ

    বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শে নিহিত হিন্দুবিদ্বেষ বহু ঘৃণাজনিত অপরাধের অন্যতম চালিকাশক্তি। ইসলামি দেশগুলিতে হিন্দুবিদ্বেষের প্রকাশ তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট হলেও, ধর্মনিরপেক্ষ বলে দাবি করা দেশগুলির প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরেও হিন্দুদের প্রতি অপেক্ষাকৃত সূক্ষ্ম বৈষম্য দেখা যায় বলেই অভিযোগ। এই ধরনের দৈনন্দিন বৈষম্য অনেক সময় সরাসরি চোখে পড়ে না। তাই সংশ্লিষ্ট আইন, সরকারি নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক প্রবণতা বিশ্লেষণ করলে এর প্রকৃতি আরও স্পষ্ট হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে দীপাবলিতে আতশবাজি নিষিদ্ধ বা সীমিত করার প্রবণতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বাইরে থেকে দেখলে এর কারণ পরিবেশদূষণ নিয়ন্ত্রণ বলে মনে হতে পারে। কিন্তু প্রতিবেদনের বক্তব্য, বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে হিন্দু উৎসবগুলির উপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ এবং সেগুলির ক্ষেত্রে নীতির সমতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে বিষয়টি অন্যভাবে দেখা যায় (Hindus Under Attack)।

    মনে রাখতে হবে, ওপরের ঘটনাগুলির বেশিরভাগই অভিযোগ, দাবি কিংবা বিতর্কের ভিত্তিতে উপস্থাপিত, সংশ্লিষ্ট সব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা যায়নি, আদালতেও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়েছে—এমন দাবিও এই প্রতিবেদনে করা হচ্ছে (Roundup Week) না।

     

  • Kanwar Yatra 2026: শুধু তীর্থযাত্রা নয়, সুস্থ-ভারসাম্যপূর্ণ জীবনের শিক্ষাও দেয় কাঁওয়ার যাত্রা

    Kanwar Yatra 2026: শুধু তীর্থযাত্রা নয়, সুস্থ-ভারসাম্যপূর্ণ জীবনের শিক্ষাও দেয় কাঁওয়ার যাত্রা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সনাতন ঐতিহ্যে কাঁওয়ার যাত্রা (Kanwar Yatra 2026) শুধুমাত্র ভগবান শিবের প্রতি ভক্তি ও শ্রদ্ধা নিবেদনের একটি ধর্মীয় আচার নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শৃঙ্খলা, আত্মসংযম, সেবা, সমষ্টিগত চেতনা এবং প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের মতো (Environmental Responsibility) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধও। আধুনিক বিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকেও এই তীর্থযাত্রাকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, মানসিক সুস্থতা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতার একটি জীবন্ত উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়। তাই শ্রাবণ মাসের কয়েক দিনের মধ্যে এই মূল্যবোধ সীমাবদ্ধ না রেখে সেগুলিকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তোলাই সময়ের দাবি।

    কাঁওয়ার যাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক (Kanwar Yatra 2026)

    কাঁওয়ার যাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে অতিক্রম করা। শত শত কিলোমিটার হাঁটার ফলে হৃদ্‌যন্ত্র, ফুসফুস, পেশি এবং শরীরের বিপাকীয় ব্যবস্থা সক্রিয় থাকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানও মনে করে, নিয়মিত হাঁটা ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা এবং হৃদ্‌যন্ত্রের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। তাই কাঁওয়ার যাত্রার বার্তা শুধু তীর্থযাত্রার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর নিয়মিত শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা হওয়া উচিত। মানসিক সুস্থতার ক্ষেত্রেও এই যাত্রা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। সমবেত প্রার্থনা, ভক্তিগীতি, “বোল বম”-এর ধ্বনি এবং একই উদ্দেশ্য নিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে চলার মধ্যে দিয়ে ইতিবাচক আবেগ ও সামাজিক সংযোগের অনুভূতি শক্তিশালী হয়। মনোবিজ্ঞানের মতে, সামাজিক অংশগ্রহণ, ধ্যান, প্রার্থনা এবং যোগাভ্যাস মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ ও আবেগগত সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বর্তমান সময়ে মানসিক চাপ, অবসাদ ও একাকিত্ব যখন ক্রমশ বাড়ছে, তখন দৈনন্দিন জীবনে এই ইতিবাচক অনুশীলনগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।

    সুশৃঙ্খল জীবনযাপনেরও উৎকৃষ্ট উদাহরণ

    কাঁওয়ার যাত্রা একটি সুশৃঙ্খল জীবনযাপনেরও উৎকৃষ্ট উদাহরণ। তীর্থযাত্রীরা নির্দিষ্ট দৈনন্দিন রুটিন মেনে চলেন, সাধারণ নিরামিষ খাবার গ্রহণ করেন, আত্মসংযম অনুশীলন করেন এবং আধ্যাত্মিক লক্ষ্যের প্রতি নিবেদিত থাকেন। এই শৃঙ্খলা, সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত জীবনযাপন এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ যদি স্থায়ীভাবে দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে ওঠে, তাহলে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ও কর্মদক্ষতা—দু’টিই উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হতে পারে। এই তীর্থযাত্রার রয়েছে গভীর সামাজিক তাৎপর্যও। বিভিন্ন জাতি, ভাষা, বয়স ও আর্থিক অবস্থার মানুষ একটি অভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে পাশাপাশি হাঁটেন। যাত্রাপথে বিভিন্ন সেবাশিবিরে কোনও বৈষম্য ছাড়াই সকলের জন্য খাবার, পানীয় জল এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। এই ঐতিহ্য ভারতীয় নিঃস্বার্থ সেবা ও সামাজিক সম্প্রীতির ভাবনাকে তুলে ধরে। একই সহযোগিতা ও স্বেচ্ছাসেবার মানসিকতা যদি সারা বছর হাসপাতাল, বিদ্যালয়, বৃদ্ধাশ্রম, পরিবেশ সংরক্ষণ কর্মসূচি এবং অন্যান্য সামাজিক উদ্যোগে বজায় থাকে, তাহলে সমাজ আরও সহানুভূতিশীল ও সংকট মোকাবিলায় সক্ষম হবে (Kanwar Yatra 2026)।

    জল ও জলসম্পদের প্রতি শ্রদ্ধা

    গঙ্গা বা অন্য কোনও পবিত্র নদীর জল বহন করার ঐতিহ্যের মধ্যেও জল ও জলসম্পদের প্রতি শ্রদ্ধার সাংস্কৃতিক বার্তা রয়েছে। জলসংকট যখন গোটা বিশ্বের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ, তখন এই ঐতিহ্য মানুষকে জলের অপচয় বন্ধ করা, বৃষ্টির জল সংরক্ষণ এবং নদী ও অন্যান্য জলাশয় পরিষ্কার রাখার বিষয়ে সচেতন করতে পারে। বিশ্বাস ও পরিবেশ সংরক্ষণের এই সমন্বয় বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তীর্থযাত্রার সময়ে সীমিত সম্পদের মধ্যে জীবনযাপন, প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটানো এবং অনেক তীর্থযাত্রীর তুলনামূলকভাবে কম বৈদ্যুতিন যন্ত্র ব্যবহারও আধুনিক জীবনযাত্রার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ। বর্তমানে “ডিজিটাল ডিটক্স” (প্রযুক্তিনির্ভরতা থেকে সাময়িক বিরতি)-র ধারণা বিশ্বজুড়ে গুরুত্ব পাচ্ছে। পরিবারগুলি যদি প্রতি সপ্তাহে সচেতনভাবে কিছু সময় মোবাইল ফোন এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থেকে আলোচনা, বই পড়া, প্রকৃতির সান্নিধ্য এবং পরিবারের সঙ্গে বিভিন্ন কাজে সময় কাটায়, তাহলে মানসিক স্বাস্থ্য ও পারিবারিক সম্পর্ক উভয়ই আরও শক্তিশালী হতে পারে (Kanwar Yatra 2026)।

    জীবনের ভারসাম্যের প্রতীক

    দুই কাঁধে সমানভাবে ভারসাম্য রেখে কাঁওয়ার বহন করাও শুধু শারীরিক ভারসাম্যের বিষয় নয়, এটি জীবনের ভারসাম্যের একটি প্রতীক হিসেবেও দেখা যায়। কাঁওয়ারের ভার যেমন দুই দিকে সমানভাবে বণ্টিত হওয়া প্রয়োজন, তেমনই জীবনে কাজ ও বিশ্রাম, অধিকার ও দায়িত্ব, বস্তুগত অগ্রগতি ও আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাও জরুরি। সব মিলিয়ে কাঁওয়ার যাত্রাকে শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবে না দেখে বছরে একবারের জীবন-পরিচালনার প্রশিক্ষণ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। তীর্থযাত্রার সময়ে যে স্বাস্থ্যকর অভ্যাসগুলি অনুসরণ করা হয়—নিয়মিত হাঁটা, যোগ ও ধ্যান, সুশৃঙ্খল জীবনযাপন, নিঃস্বার্থ সেবা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ—সেগুলি যদি প্রতিদিনের জীবনের অংশ হয়ে ওঠে, তাহলে এই ঐতিহ্যের প্রভাব আরও ব্যাপক, দীর্ঘস্থায়ী ও অর্থবহ হবে।

    কাঁওয়ার যাত্রার প্রকৃত বার্তা

    কাঁওয়ার যাত্রার প্রকৃত বার্তা হল, ধর্ম শুধু উপাসনার আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মানুষকে সহনাগরিক, সমাজ এবং প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীল জীবনযাপনের অনুপ্রেরণাও দেয়। যখন শৃঙ্খলা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠবে, সেবা হয়ে উঠবে স্বাভাবিক প্রবৃত্তি, পরিবেশ রক্ষা হবে দায়িত্ব এবং স্বাস্থ্য পাবে অগ্রাধিকার—তখনই কাঁওয়ার যাত্রার প্রকৃত উদ্দেশ্য পূর্ণতা পাবে। তখন এটি আর শুধু শ্রাবণ মাসের একটি ধর্মীয় তীর্থযাত্রা হয়ে (Environmental Responsibility) থাকবে না, বরং আরও সুস্থ, ভারসাম্যপূর্ণ, সহানুভূতিশীল ও দায়িত্বশীল ভারত গড়ার ধারাবাহিক অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠবে (Kanwar Yatra 2026)।

     

  • SDPI Riyaz: গরু জবাই নিয়ে মন্তব্য করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগে এসডিপিআই নেতার জেল

    SDPI Riyaz: গরু জবাই নিয়ে মন্তব্য করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগে এসডিপিআই নেতার জেল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কর্নাটকের বেলথাঙ্গাডির একটি আদালত ২০১৫ সালের একটি সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষমূলক বক্তৃতা মামলায় সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অব ইন্ডিয়ার (SDPI Riyaz) জাতীয় সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ ফারাঙ্গিপেটেকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। আদালত তাঁকে ছ’মাসের কারাদণ্ডের (Cow Slaughter Beef Case) পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। মামলাটি ২০১৫ সালের ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩এ ধারায় দায়ের হয়েছিল। ওই ধারায় বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা বা বিদ্বেষ উসকে দেওয়া এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিঘ্নিত করার মতো কার্যকলাপকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। রায়ের পর ম্যাজিস্ট্রেট রামালিঙ্গাপ্পা রিয়াজকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, তাঁর বক্তৃতা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছিল।

    ২০১৫ সালের বিক্ষোভ থেকে মামলার সূত্রপাত (SDPI Riyaz)

    পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের জুলাই মাসে পপুলার ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়ার এক বিক্ষোভ সভায় রিয়াজ বক্তব্য রাখেন। গোরক্ষার নামে মুসলিমদের উপর হামলা অব্যাহত থাকলে প্রকাশ্যে গরু জবাই করে গরুর মাংস বিক্রির হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। তদন্তকারী সংস্থার নথি অনুযায়ী, বকরি ইদ উপলক্ষে বেলথাঙ্গাডি বাসস্ট্যান্ডের সামনে প্রকাশ্যে গরুর মাংস বিতরণ করা হবে বলেও তিনি দাবি করেছিলেন। সেই কর্মসূচি আটকানোর চেষ্টা হলে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। ২০১৫ সালের ওই মামলায় ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩এ এবং ২৯৫এ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছিল। বিচারের সময় পুলিশ নথিপত্র ও সাক্ষ্যপ্রমাণ আদালতে পেশ করে। তদন্তকারী আধিকারিক রবি বিএস মামলার তদন্ত চালিয়ে রিপোর্ট জমা দেন। আদালতে সরকারি আইনজীবী আশিথার সওয়াল, উপস্থাপিত প্রমাণ থেকে স্পষ্ট যে ওই বক্তব্য সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা উসকে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছিল এবং তা সংশ্লিষ্ট দণ্ডবিধির আওতায় অপরাধ।দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত জানায়, রিয়াজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রসিকিউশন বা সরকারি পক্ষ সফলভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে। এরপরই তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে ছ’মাসের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

    পিএফআইয়ের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক

    কর্নাটকের দক্ষিণ কন্নড় জেলার রাজনৈতিক নেতা রিয়াজ বর্তমানে এসডিপিআইয়ের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক। এসডিপিআই নিজেকে একটি স্বাধীন রাজনৈতিক দল হিসেবে দাবি করে এবং দলটি নিষিদ্ধ নয়। তবে বিভিন্ন তদন্তে এসডিপিআইয়ের মাধ্যমে পিএফআইয়ের প্রাক্তন সদস্যদের রাজনৈতিক কার্যকলাপ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।পিএফআইকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের অধীনে কেন্দ্রীয় সরকার নিষিদ্ধ করে। সরকারি নথিতেও বেলথাঙ্গাডির ২০১৫ সালের মামলায় পিএফআইয়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্তের উল্লেখ রয়েছে।

    আরও কয়েকটি মামলায় নাম জড়িয়েছিল রিয়াজের

    ২০১৯ সালে মেঙ্গালুরুতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ও জাতীয় নাগরিকপঞ্জির বিরুদ্ধে হিংসাত্মক বিক্ষোভের সময় হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে লোকজনকে সংগঠিত করার অভিযোগও রিয়াজের বিরুদ্ধে ওঠে। সেই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিহারে একটি জনসভা বানচাল করার কথিত ষড়যন্ত্রের তদন্তের অংশ হিসেবে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা রিয়াজের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। তবে রিয়াজ ওই অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন (SDPI Riyaz)।

    গরু জবাইয়ের হুমকি নিয়ে বিতর্ক

    প্রকাশ্যে গরু জবাই ও গরুর মাংস বিক্রির হুমকির অভিযোগ ঘিরে রিয়াজের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানপন্থী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত এসডিপিআই সদস্যদের পক্ষ নেওয়ার কারণেও তিনি রাজনৈতিক বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন। দলটির দাবি ছিল, ওই ঘটনায় উপস্থাপিত প্রমাণ বিকৃত করা হয়েছিল। সম্প্রতি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়েও রিয়াজের বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, তিনি এই প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য করেছেন। তবে ২০১৫ সালের বক্তৃতা মামলায় আদালতের রায়টি নির্দিষ্ট অভিযোগ, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও সেই সময়কার ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারার ভিত্তিতেই দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ঘটনায় বর্তমান ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা প্রয়োগের প্রশ্ন (Cow Slaughter Beef Case) ওঠে না, মামলাটি ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩এ ধারায়ই হয়েছিল। পরবর্তীকালে কার্যকর হয়েছে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (SDPI Riyaz)।

     

  • Jharkhand: ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে ঘিরে অব্যাহত জট, রবিবার ফের আলোচনায় সরকার

    Jharkhand: ঝাড়খণ্ডে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে ঘিরে অব্যাহত জট, রবিবার ফের আলোচনায় সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিয়োগ পরীক্ষায় একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ঝাড়খণ্ডে (Jharkhand) পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন শনিবার পড়ল ১৫ দিনে। দিনভর বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠকের পর আন্দোলনরত প্রার্থীদের সঙ্গে রবিবার ফের আলোচনায় বসার (Reforms Protest) সিদ্ধান্ত নিল হেমন্ত সোরেন সরকার। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মঞ্চ ঝাড়খণ্ড লোকসেবা কমিশন-ঝাড়খণ্ড কর্মী নির্বাচন কমিশন সংস্কার মঞ্চ সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কৌশল নেওয়ার অভিযোগ তুলেছে।

    অচলাবস্থা কাটেনি (Jharkhand)

    শনিবার সরকার চার দফায় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করে। আলোচনায় অংশ নেয় কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্র ইউনিয়ন, ঝাড়খণ্ড ছাত্র মঞ্চ এবং আদিবাসী ছাত্র সংঘ। এর আগে শুক্রবার ঝাড়খণ্ড লোকসেবা কমিশন-ঝাড়খণ্ড কর্মী নির্বাচন কমিশন সংস্কার মঞ্চের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেছিল সরকার। পাঁচ দফা আলোচনার পরেও অচলাবস্থা কাটেনি। এরপর রবিবার দুপুর ১২টায় ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে ষষ্ঠ দফায় আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শনিবার সন্ধ্যায় প্রায় চার ঘণ্টা ধরে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে সরকারি প্রতিনিধিদলের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    সরকারের নতুন করে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে ঝাড়খণ্ড লোকসেবা কমিশন-ঝাড়খণ্ড কর্মী নির্বাচন কমিশন সংস্কার মঞ্চ। তাদের অভিযোগ, আন্দোলনরত পড়ুয়াদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করা এবং মূল দাবিগুলি থেকে সাধারণ মানুষের নজর ঘুরিয়ে দেওয়াই সরকারের উদ্দেশ্য। সংস্কার মঞ্চের নেতা রবীন্দ্র পাসওয়ান বলেন, “এটি সরকারের রাজনৈতিক কৌশল। সরকার ছাত্রদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে আন্দোলনের দিক থেকে মানুষের নজর সরিয়ে দিতে চাইছে। কিন্তু সরকারের জানা উচিত, সমস্ত ছাত্র একজোট।” শনিবার জয়পাল সিং মুণ্ডা স্টেডিয়ামে সাংবাদিক বৈঠকে পাসওয়ান আরও দাবি করেন, শুক্রবার রাতে পাঁচ সদস্যের সরকারি কমিটির সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকে সংস্কার মঞ্চ তাদের সমস্ত দাবি তুলে ধরেছে। তাঁর অভিযোগ, চলমান আন্দোলনে কোনও ভূমিকা না থাকা সংগঠনগুলির সঙ্গে আলাদা করে আলোচনা করে সরকার আন্দোলনকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।

    বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে আলাদা বৈঠক

    শনিবার সরকারি কমিটি প্রথমে ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চার নেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতোর নেতৃত্বাধীন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করে। নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে মাহাতোর অনশন এদিন সপ্তম দিনে পড়ে (Reforms Protest)। এর পর জাতীয় ছাত্র ইউনিয়ন, আদিবাসী ছাত্র সংঘ এবং ঝাড়খণ্ড ছাত্র মঞ্চের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করে সরকারি কমিটি। বৈঠকে প্রত্যেক সংগঠনের কাছ থেকে তাদের দাবিপত্র চাওয়া হয়। সরকারের দাবি, আলোচনার পরিবেশ ইতিবাচক ছিল। আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীরা যে সমস্ত উদ্বেগ ও দাবি তুলে ধরেছেন, সেগুলি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দীপিকা পাণ্ডে সিং জানান, আলোচনায় ছাত্র প্রতিনিধিদের উত্থাপিত দাবি ও উদ্বেগ সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে আন্দোলনরত ছাত্রদের সঙ্গে রবিবার দুপুর ১২টায় চূড়ান্ত দফার আলোচনা হবে।” মন্ত্রী সঞ্জয় প্রসাদ যাদব জানান, ঝাড়খণ্ড লোকসেবা কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড কর্মী নির্বাচন কমিশনে ব্যাপক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকার আলোচনা চালিয়ে যাবে।

    ছাত্র সংগঠনগুলির দাবি

    ঝাড়খণ্ড ছাত্র মঞ্চের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি পেশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চতুর্দশ ঝাড়খণ্ড লোকসেবা কমিশন সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা বাতিলের দাবি (Jharkhand)। জাতীয় ছাত্র ইউনিয়ন ছ’দফা দাবি পেশ করেছে। তাদের অন্যতম দাবি, সন্দেহের আওতায় থাকা ঝাড়খণ্ড লোকসেবা কমিশন এবং ঝাড়খণ্ড কর্মী নির্বাচন কমিশনের সমস্ত পরীক্ষা ৯০ দিনের মধ্যে অপরাধ তদন্ত দফতরের মাধ্যমে তদন্ত করা। পাশাপাশি জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার আদলে ঝাড়খণ্ডে একটি পৃথক পরীক্ষা সংস্থা গঠনের দাবিও জানিয়েছে তারা। আদিবাসী ছাত্র সংঘের নেতা কার্তিক ওরাঁও নিয়োগ পরীক্ষায় আদিবাসী ও আঞ্চলিক ভাষাগুলিকে যোগ্যতামূলক বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। যেসব পরীক্ষায় অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে, সেগুলি বাতিল করার দাবিও তুলেছে সংগঠনটি। সংস্কারের বিষয়ে চাকরিপ্রার্থীদের মতামত জানতে একটি বৈদ্যুতিন ডাকের ঠিকানাও চালু করেছে সরকার। উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষামন্ত্রী সুদিব্য কুমার জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংস্কারের জন্য প্রার্থীদের কাছ থেকে পরামর্শ চাওয়া হচ্ছে (Reforms Protest)।

    বিধানসভা অভিযানের হুঁশিয়ারি

    সরকারের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠক হলেও আন্দোলন প্রত্যাহারের কোনও ইঙ্গিত দেননি পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, সমস্ত দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। রবিবারের মধ্যে সরকার দাবি না মানলে ১০ অগস্ট বিধানসভা অভিযানের ডাকও দিয়েছেন তাঁরা। শনিবার আন্দোলনস্থলে আলাদা মঞ্চ তৈরি করে সর্বভারতীয় ছাত্র সমিতি। তবে সংগঠনের নেতারা স্পষ্ট করেছেন, একে পৃথক কোনও আন্দোলন হিসেবে দেখা উচিত নয়। শুক্রবার বিরসা চকে বিধানসভা অভিযানের সময় কালি ছোড়ার ঘটনায় আক্রান্ত হওয়া সংগঠনের সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরাও শনিবার কিছু সময়ের জন্য আন্দোলনে যোগ দেন। তিনি চতুর্দশ লোকসেবা কমিশন পরীক্ষা এবং কর্মী নির্বাচন কমিশনের সম্মিলিত স্নাতক স্তরের পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে স্লোগান দেন। সংগঠনের রাঁচি শাখার প্রধান বিজয় কুমার বলেন, “বৃহত্তর আন্দোলনের যে দাবিগুলি রয়েছে, আমাদেরও একই দাবি। ১০ অগাস্টের মিছিলে আমাদের সদস্যরা অংশ নেবেন, তবে সংগঠনের পতাকা নিয়ে নয়।”

    বিধানসভা অভিযানের ডাক এবিভিপির

    এদিকে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদও আন্দোলনে সক্রিয় রয়েছে। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে ব্যারিকেড ভেঙে এগোনোর চেষ্টা করলে তাদের সদস্যদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি হয়। পুলিশ কর্তা অজয় আর্যন জানান, ওই মিছিল থেকে প্রায় ৮ থেকে ১০ জনকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় (Jharkhand)। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের তরফে  ১১ অগাস্ট বিধানসভা অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে। এদিকে, আন্দোলনের মধ্যেই শহিদ নির্মল মাহাতোর মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেন পড়ুয়া ও চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁরা আন্দোলনস্থল থেকে আলবার্ট এক্কা চকের দিকে মিছিল করেন। নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে নিজেদের দাবিও ফের তুলে ধরেন। এদিকে ঝাড়খণ্ড লোকসেবা কমিশনের পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাক্তন কমিটি-প্রধান এল (Reforms Protest) খিয়াংতেকে ২৮ জুলাই থেকে এখনও পর্যন্ত চার দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে (Jharkhand)।

     

LinkedIn
Share