Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • PM Modi in Assam: বিমানবন্দর নয়, হাইওয়ের ওপর অবতরণ করবে প্রধানমন্ত্রীর বিমান, সঙ্গী রাফাল-সুখোই! মোদির অসম সফরে চমক

    PM Modi in Assam: বিমানবন্দর নয়, হাইওয়ের ওপর অবতরণ করবে প্রধানমন্ত্রীর বিমান, সঙ্গী রাফাল-সুখোই! মোদির অসম সফরে চমক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অসম সফর হতে চলেছে একেবারেই ব্যতিক্রমী। এই সফরে তিনি ডিব্রুগড়–মোরান জাতীয় সড়কের উপর নির্মিত উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম হাইওয়ে-ভিত্তিক জরুরি বিমান অবতরণ স্ট্রিপে অবতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। আজারায় বিজেপির ‘বুথ বিজয় অভিযান’ কর্মসূচির সূচনায় উপস্থিত থেকে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এ কথা জানান। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ডিব্রুগড় বিমানবন্দরে নামবেন না। তিনি মোরানের হাইওয়ের উপর অবতরণ করবেন এবং সেখানে কিছু সময় কাটাবেন।” গত ১১ বছরে এটি হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অসমে ৩৮তম সফর।

    বিশেষ বিমান প্রদর্শনীর আয়োজন

    মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে একটি বিশেষ বিমান প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “গুয়াহাটি এয়ার শোতে দেখা রাফাল ও সুখোই যুদ্ধবিমানগুলি সড়কের উপর অবতরণ করবে। এই প্রদর্শনী প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট চলবে।” বর্তমানে ডিব্রুগড়–মোরান সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও, নির্ধারিত রানওয়ে অংশটি সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বিমান চলাচলের সুবিধার্থে সড়কের মাঝের ডিভাইডার সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং মানুষ ও পশুর প্রবেশ ঠেকাতে দু’পাশে বেড়া দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে অস্থায়ী রাস্তার দোকানও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর সফরের একাধিক উদ্দেশ্য

    মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের উন্নয়নমূলক ও সাংগঠনিক একাধিক উদ্দেশ্য রয়েছে। সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী প্রথমে ব্রহ্মপুত্রের উপর গুয়াহাটি ও উত্তর গুয়াহাটিকে সংযুক্তকারী বহু প্রতীক্ষিত কুমার ভাস্কর বর্মা সেতুর উদ্বোধন করবেন। এই সেতু যানজট কমাতে ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। এছাড়াও তিনি পালাশবাড়ি ক্যাম্পাসে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (IIM)-এর অ্যাকাডেমিক ক্লাসের আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন। গুয়াহাটির গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে ১০০টি ইলেকট্রিক বাসের সূচনা করবেন এবং জাতীয় তথ্যকেন্দ্র (NIC)-এর তৈরি একটি নতুন ডেটা সেন্টারের উদ্বোধন করবেন, যা অঞ্চলের ডিজিটাল পরিকাঠামোকে আরও মজবুত করবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী খানাপাড়ায় বিজেপির বুথ সম্মেলনে যোগ দেবেন, যেখানে তিনি দলীয় কর্মী ও তৃণমূল স্তরের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রী আবার অসম সফরে এসে একাধিক পরিকাঠামো ও উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।

  • PM MODI: “৮৩ বছর বয়সী সাংসদ মল্লিকার্জুন বসেই স্লোগান দিন”, কটাক্ষ মোদির

    PM MODI: “৮৩ বছর বয়সী সাংসদ মল্লিকার্জুন বসেই স্লোগান দিন”, কটাক্ষ মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যসভায় (Rajya Sabha) বিরোধী সাংসদদের হট্টগোলের মধ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে কটাক্ষ করে বলেন, “বয়সের কথা বিবেচনা করে বসেই স্লোগান দিতে পারেন।”

    রাজ্যসভায় বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের জবাবী ভাষণ দেন  প্রধানমন্ত্রী (PM MODI)। কিন্তু লোকসভায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছিল বিরোধীরা। বিরোধী দলের সদস্যদের তাঁর চেয়ার ঘিরে থাকার কারণে বক্তব্য রাখতে পারেননি মোদি।

    বয়সের কারণে বসে স্লোগান দিতে পারেন (PM MODI)

    এদিন প্রধানমন্ত্রীর (PM MODI) বক্তব্য শুরু হওয়ার পর বিরোধী দলের সাংসদরা উচ্চস্বরে স্লোগান দিতে শুরু করে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে বক্তব্য রাখার অনুমতি দেওয়ার দাবিতে তুমুল হৈহট্টগোল শুরু হয়। স্লোগান চলার সময়, প্রধানমন্ত্রী মোদি থেমে যান এবং রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা খাড়গে-র কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, “৮৩ বছর বয়সী এই সাংসদ বয়সের কারণে বসে স্লোগান দিতে পারেন।”

    ভাবমূর্তি পরিবর্তন করতে সময় লেগেছে

    প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM MODI) ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির কথা উল্লেখ করেন। এরপর বিরোধীরা আবারও সমালোচনা করে এবং ওয়াকআউট করে। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “কংগ্রেস ২০১৪ সালে একটা জগাখিচুড়ি রেখে গিয়েছিল এবং এখন আমাদের সরকারকে সেটা পরিষ্কার করার জন্য অনেক প্রচেষ্টা করতে হয়েছে। তাদের কারণেই ভারতের একটি অস্বচ্ছ ভাবমূর্তি তৈরি হয়েছিল। আমাকে সেই ভাবমূর্তি পরিবর্তন করতে অনেকটা সময় ব্যয় করতে হয়েছিল। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ ছিল যা বালার বাইরে।”

    বোফর্স কেলেঙ্কারি কংগ্রেসের বড় কেলেঙ্কারি

    রাজ্যসভায় (Rajya Sabha) কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, বামপন্থী এবং ডিএমকে সহ দলগুলিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM MODI) বলেন, “কয়েক দশক ধরে কেন্দ্র এবং রাজ্যে শাসন করেছে কংগ্রেস ও তার সহযোগী দলগুলি কিন্তু মূলত দুর্নীতির জন্যই। এখনও, যখন মানুষ তাদের সম্পর্কে কথা বলে, তারা বাণিজ্য চুক্তির কথা বলে না। তারা বোফর্সের মতো চুক্তির কথা বলে। বোফর্স কেলেঙ্কারি ভারতের স্বার্থের বিপরীতে ছিল। মার্কিন চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছিল কংগ্রেস। যার বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি। বিরোধীরা দাবি করেছে যে চুক্তির কারণে কৃষকদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তবে কেন্দ্র সরকারের সম্পূর্ণ আশ্বাস যে কৃষি এবং দুগ্ধজাত পণ্যের মতো ক্ষেত্রগুলি সুরক্ষিত থাকবে। প্রকল্পগুলি সফলভাবে বাস্তবায়নের উপর আমাদের সরকারের মনোযোগের সঙ্গে জোর দিয়েছে। কংগ্রেস কেবল কল্পনা করে এবং বাস্তবায়নের বিষয়ে কিছুই করে না।”

  • Donald Trump: ট্রাম্পের কড়া ভিসা নীতির জের, ভারতেই বিশাল অফিস খুলছে গুগলের মূল সংস্থা অ্যালফাবেট

    Donald Trump: ট্রাম্পের কড়া ভিসা নীতির জের, ভারতেই বিশাল অফিস খুলছে গুগলের মূল সংস্থা অ্যালফাবেট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোরতর অভিবাসন নীতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে চলেছে অ্যালফাবেট। ট্রাম্পের ভিসা কড়াকড়ির জন্য বিকল্প পথ হিসেবে ভারতে তাদের ব্যবসা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে চলেছে গুগলের মূল সংস্থাটি। ট্রাম্প (Donald Trump) প্রশাসনের সিদ্ধান্তের ফলে বাধ্য হয়েই এই সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাটি। কারণ এই প্রশাসন এইচ-১বি ভিসা (H 1B Visa) কর্মসূচিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলি বিদেশ থেকে বিশেষ করে ভারত ও চিন থেকে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ করে। এর জন্য  এইচ-১বি ভিসার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল তারা। এখন ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন বিধিনিষেধের ফলে অ্যালফাবেটের মতো সংস্থাগুলি প্রতিভার উৎস দেশগুলিতেই তাদের ব্যবসার একটি অংশ সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে।

    অ্যালফাবেটের অফিস (Donald Trump)

    ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বেঙ্গালুরুর হোয়াইটফিল্ড প্রযুক্তি করিডরে অ্যালেম্বিক সিটিতে অ্যালফাবেট মোট ২৪ লক্ষ বর্গফুট অফিস স্পেস নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি অফিস টাওয়ার লিজ নেওয়া, যা আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই কর্মীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি, আরও দুটি টাওয়ার কেনার অপশন নেওয়া হয়েছে, যেগুলির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা আগামী বছর। অ্যালফাবেটের এক মুখপাত্রের মতে, সংস্থাটি ইতিমধ্যেই ৬ লক্ষ ৫০ হাজার বর্গফুট অফিস স্পেস লিজ নিয়েছে (Donald Trump)। ‘কেনার-অপশন’ নেওয়ার অর্থ হল—নির্মাণ শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিগুলি কেনার একচেটিয়া অধিকার থাকবে অ্যালফাবেটের হাতে। তবে সংস্থাটি চাইলে ওই সম্পত্তিগুলি না কেনার সিদ্ধান্তও নিতে পারে (H 1B Visa)।

    কর্মসংস্থানের সুযোগ

    জানা গিয়েছে, সব ক’টি নয়া পরিকাঠামো পুরোপুরি ব্যবহার করা হলে প্রায় ২০ হাজার অতিরিক্ত কর্মী কাজ করতে পারবেন। এর ফলে ভারতে অ্যালফাবেটের কর্মীসংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে যেতে পারে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অ্যালফাবেটের মোট কর্মী সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ ৯০ হাজার, যার মধ্যে ভারতে কর্মরত ১৪ হাজারের কাছাকাছি। ভারতে এই সম্প্রসারণের মূল কারণ হল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে মার্কিন সরকারের এইচ-১বি ভিসার আমূল সংস্কার। গত বছর নতুন এইচ-১বি ভিসার আবেদন ফি বাড়িয়ে ১ লাখ মার্কিন ডলার করা হয়, যা আগে ছিল মাত্র ২ হাজার থেকে ৫ হাজার ডলারের মধ্যে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ছিল মার্কিন কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ট্রাম্পের ভাষায়, বিদেশি আউটসোর্সিং সংস্থাগুলির দ্বারা ‘ব্যবস্থার অপব্যবহার’ রোধ করা।

    বৃহত্তম ক্যাম্পাস ‘অনন্তে’র উদ্বোধন

    এইচ-১বি ভিসার অন্যতম বৃহৎ স্পনসর অ্যালফাবেট দীর্ঘদিন ধরেই ইঞ্জিনিয়ারিং ও এআই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ পদে এই কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল ছিল। এই পদগুলির বড় অংশে ভারতীয় প্রযুক্তিবিদরা কর্মরত। নতুন বিধিনিষেধ, বাড়তি নজরদারি এবং আউটসোর্সড কাজের ওপর সম্ভাব্য কর আরোপ—সব মিলিয়ে উচ্চদক্ষতার কাজ দ্রুত ভারতের মতো দেশে সরে যাচ্ছে, যেখানে দক্ষ জনবলের প্রাচুর্য রয়েছে এবং খরচ তুলনামূলকভাবে কম (Donald Trump)। ভারতে নতুন অফিস স্পেস অধিগ্রহণের এই সিদ্ধান্ত এসেছে এমন একটা সময়ে, যখন মাত্র এক বছর আগেই অ্যালফাবেট বেঙ্গালুরুতে তাদের বৃহত্তম ক্যাম্পাস ‘অনন্ত’ উদ্বোধন করেছে। এই কৌশল গ্রহণে অ্যালফাবেট একা নয় (H 1B Visa)। ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা বিধিনিষেধ মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থা ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রপিক পিবিসি (যারা ‘ক্লদ’ তৈরি করে) সম্প্রতি ভারতে তাদের অফিস খুলেছে। পাশাপাশি মেটা, মাইক্রোসফট, অ্যাপল, অ্যামাজন, নেটফ্লিক্স-সহ অন্য প্রযুক্তি জায়ান্টরাও দ্রুত ভারতে তাদের কার্যকলাপ সম্প্রসারণ করছে (Donald Trump)।

    ভিসা-সংক্রান্ত সমস্যার ঝুঁকি

    ভারতে অ্যালফাবেট-সহ বিভিন্ন সংস্থার এই কৌশল শুধু ভিসা-সংক্রান্ত সমস্যার ঝুঁকি কমাচ্ছে না, বরং বিশ্বের সর্বাধিক জনসংখ্যার দেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অর্থনীতির সুবিধাও নিতে সাহায্য করছে। প্রযুক্তি প্রতিভার বৃহত্তম ভান্ডার হওয়ার পাশাপাশি, ভারতে একশো কোটিরও বেশি মোবাইল ব্যবহারকারী রয়েছেন এবং স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট পরিষেবা সহজলভ্য—যা ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করেছে। গত মাসে প্রকাশিত ব্লুমবার্গের আর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ভিসা বিধিনিষেধের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রচুর প্রযুক্তি প্রতিভা হারাচ্ছে এবং তার সুফল পাচ্ছে ভারত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যদি এই নীতির কারণে ভারতীয় প্রযুক্তি কর্মীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে না যান বা সেখান থেকে ফিরে আসেন, তবে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে ভারত—এবং এই পরিবর্তন ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। লিংকডইনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে ভারতে স্থানান্তরিত হওয়া প্রযুক্তি পেশাদারের  সংখ্যা বেড়েছে ৪০ শতাংশ (H 1B Visa)।

    ফিকি (FICCI) এবং অ্যানারক (ANAROCK)-এর একটি যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে ২,৪০০-রও বেশি গ্লোবাল ক্যাপাবিলিটি সেন্টার (GCC) গড়ে উঠতে পারে, যেখানে কর্মসংস্থান হবে প্রায় ২৮ লক্ষ পেশাদারের। বর্তমানে দেশে প্রায় ১,৭০০টি জিসিসি রয়েছে, যেখানে কর্মরত ১৯ লাখের মতো মানুষ (Donald Trump)।

  • Korean Love Game: ‘কোরিয়ান লাভ গেম’-এর জালে মর্মান্তিক পরিণতি গাজিয়াবাদে! কী এই গেমিং অ্যাপ? কীভাবে সতর্ক হবেন?

    Korean Love Game: ‘কোরিয়ান লাভ গেম’-এর জালে মর্মান্তিক পরিণতি গাজিয়াবাদে! কী এই গেমিং অ্যাপ? কীভাবে সতর্ক হবেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গেম যে প্রাণঘাতী হতে পারে, তা আগেও দেখেছে বিশ্ব। কখনও মোমো চ্যালেঞ্জ, কখনও ব্লু হোয়েল, কখনও আবার লেথাল কোম্পানি, শ্যাজো ফাইট ২, জম্বি কিলারের মতো গেম প্রাণ কেড়েছে। কোনও গেমে কিশোর-কিশোরী স্রেফ নির্দেশকে পালন করতে গিয়ে আত্মহননের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোনও ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে গেম নিয়ে প্রবল মানসিক চাপ থেকে চরম ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেছে নেটিজেনরা। আবারও সেই একই ঘটনার সাক্ষী থাকল উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের একটি শান্ত আবাসিক এলাকা। ভারত সিটি সোসাইটির একটি বহুতল আবাসনের নবম তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে তিন নাবালিকা বোনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। পুলিশ ও তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, এই চরম সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে তথাকথিত একটি অনলাইন গেম—‘কোরিয়ান লাভ গেম’ (Korean Love Game)।

    আত্মহত্যার নোটে ‘কোরিয়ান লাভ গেম’-এর উল্লেখ

    মৃত তিন বোন হলেন—পাখি (১২), প্রাচি (১৪) ও বিশিকা (১৬)। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বুধবার রাত আনুমানিক ২টোর দিকে তিনজন একসঙ্গে ফ্ল্যাটের বারান্দায় যান এবং নিচে ঝাঁপ দেন। তাঁদের চিৎকারে ঘুম ভেঙে যায় প্রতিবেশীদের। সকালে গোটা এলাকা স্তব্ধ হয়ে যায় এই ঘটনায়—কেউই বুঝে উঠতে পারছিলেন না কীভাবে তিন বোন একসঙ্গে এমন চরম পথ বেছে নিল। ঘটনার তদন্তে পুলিশ ফ্ল্যাট থেকে একটি হাতে লেখা সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছে, যেখানে সরাসরি ‘কোরিয়ান লাভ গেম’-এর উল্লেখ রয়েছে। নোটটি বাবা-মায়ের উদ্দেশে লেখা বলে জানা গিয়েছে। সেখানে লেখা ছিল, “মা-বাবা, আমাদের ক্ষমা করো… এখন তোমরা বুঝবে আমরা গেমটাকে কতটা ভালোবাসতাম—কোরিয়ান লাভ গেম।” এই নোট উদ্ধারের পরেই তদন্ত নতুন মোড় নেয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ফ্ল্যাট থেকে আরও ডায়েরি, হাতে লেখা নোট এবং ডিজিটাল তথ্য উদ্ধার হয়েছে, যা ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

    কোভিডের সময় থেকেই আসক্তির শুরু

    পরিবারের সদস্যদের দাবি, তিন বোন অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিল এবং জীবনের প্রায় সবকিছুই একসঙ্গে করত। তবে কোভিড-১৯ অতিমারির সময় থেকেই তাঁদের আচরণে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। লকডাউনের সময় স্কুলে যাওয়া কমে যায়, সামাজিক মেলামেশা বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকতে শুরু করে তারা। মেয়েদের বাবা পুলিশকে জানিয়েছেন, তারা একটি অনলাইন গেমে মারাত্মকভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছিল। এক পুলিশ আধিকারিক জানান, “বাবা ফোন কেড়ে নেওয়া ও গেম ডিলিট করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ততদিনে আসক্তি গভীর হয়ে গিয়েছিল।” মেয়েদের কাছে, “পাপা, আমরা কোরিয়ানকে ছাড়তে পারি না। কোরিয়ানই আমাদের জীবন, কোরিয়ানই সব।”

    কী এই ‘কোরিয়ান লাভ গেম’?

    প্রচলিত মোবাইল গেমগুলোর মতো কোনও একক বা নির্দিষ্ট অ্যাপ নয় ‘কোরিয়ান লাভ গেম’। তদন্তকারীদের মতে, এটি মূলত কোরিয়ান পপ সংস্কৃতি, কে-ড্রামা ও ভার্চুয়াল ডেটিং ধারণা থেকে অনুপ্রাণিত এক ধরনের অনলাইন, টাস্ক-ভিত্তিক রোমান্টিক গেমের শ্রেণি। এই ধরনের গেম সাধারণত মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এখানে ব্যবহারকারীরা ভার্চুয়াল প্রেমিক/প্রেমিকা, অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তি কিংবা স্বয়ংক্রিয় চ্যাটবটের সঙ্গে যোগাযোগে জড়িয়ে পড়ে। কথোপকথনে থাকে কোরিয়ান ধাঁচের রোমান্টিক ভাষা, আবেগঘন বার্তা, ভালোবাসার আশ্বাস এবং একান্ত ব্যক্তিগত সম্পর্কের অনুভূতি।

    কী করতে হয় এই গেমে

    প্রাথমিক পর্যায়ে দেওয়া কাজগুলো তুলনামূলকভাবে নিরীহ—যেমন নিরবচ্ছিন্ন চ্যাট করা, ছবি পাঠানো, বার্তা লেখা বা তথাকথিত ‘সম্পর্ক’ গোপন রাখা। তবে বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই কাজগুলো ক্রমশ আরও ব্যক্তিগত, হস্তক্ষেপমূলক ও চরম আকার ধারণ করতে পারে। একজন শিশু মনোবিদের ভাষায়, “কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের ধীরে ধীরে মানসিকভাবে বিচ্ছিন্ন হতে, নিঃশর্তভাবে নির্দেশ মানতে এবং সবচেয়ে বিপজ্জনক পর্যায়ে গিয়ে আত্মহানির মতো কাজে উৎসাহিত করা হয়।”

    কোরিয়ান কালচারের প্রতি আসক্তি

    সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয়দের মধ্যে কোরিয়ান পপ কালচার, কোরিয়ান ড্রামা বা ওয়েব সিরিজের প্রতি আকর্ষণ বেড়েছে। ‘কোরিয়ান লাভ’ নামে এই গেমে আসলে সেই সেন্টিমেন্টটাই ব্যবহার করা হয়েছে। কোরিয়ান পপ কালচার, কোরিয়ান ড্রামা এবং কোরিয়ান ডেটিং কালচারের আদলে তৈরি এই গেমে ভার্চুয়াল ক্যারেক্টারের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন ব্যবহারকারীরা। ভার্চুয়াল ক্যারেক্টারের সঙ্গে রোম্যান্টিক মেসেজিংয়ের পাশাপাশি চলতে থাকে দৈনিক বিভিন্ন টাস্ক দেওয়া। প্রথম প্রথম সেই টাস্কগুলি শেষ করতে ভালোই লাগে। কিন্তু, যতদিন যায়, গেমের লেভেল যত বাড়ে, ততই কঠিন হয় টাস্ক, বাড়তে থাকে মানসিক চাপও। আর এখানেই সৃষ্টি হয় সমস্যার।

    ‘ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জ’-এর সঙ্গে মিল

    বছর ১৩ আগে ২০১৩ সালে রাশিয়ায় একটি গেম জনপ্রিয় হয়েছিল। তার নাম ব্লু হোয়েল। সেই গেম ছড়িয়ে পড়েছিলে গোটা বিশ্বে। ২০১৬ সালে সংবাদ মাধ্যমের সূত্রে সেই গেমের ক্ষতিকারক দিকগুলি সম্পর্কে জানা গিয়েছিল। গেমের নিয়ম অনুসারে, ৫০ দিন ধরে ৫০টি ‘টাস্ক’ পূর্ণ করতে হতো খেলোয়াড়কে। নিজের উপরে নানা রকমের অত্যাচার করতে হতো সেই গেমের শর্ত মেনে। গেমের অ্যাডমিনকে পাঠাতে হতো তার ছবি, ভিডিও। একদম শেষ দিনে খেলোয়াড়কে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হতো। ‘কোরিয়ান লাভ’ নামের এই গেমটিও একইরকম টাস্কবেসড একটি খেলা। তদন্তকারীদের ধারণা, ‘কোরিয়ান লাভ গেম’-এর কাঠামোর সঙ্গে কুখ্যাত ‘ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জ’-এর বেশ কিছু মিল রয়েছে। ব্লু হোয়েল ছিল ধাপে ধাপে দেওয়া একাধিক বিপজ্জনক কাজের সিরিজ, যার শেষ পরিণতি ছিল আত্মহত্যা। কয়েক বছর আগে এই চ্যালেঞ্জ ঘিরে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল এবং বহু কিশোর-কিশোরীর মৃত্যুর সঙ্গে এর যোগ পাওয়া গিয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা যাচ্ছে, কোরিয়ান লাভ গেমেও একইভাবে বহু ধাপে আবেগী নির্ভরতা তৈরি করা হয় এবং শেষ ধাপে দুর্বল মানসিক অবস্থার ব্যবহারকারীদের মারাত্মক সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেওয়া হতে পারে।

    মানসিক বিপন্ন কিশোর-কিশোরীরা

    মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অপ্রাপ্তবয়স্করা এই ধরনের রোমান্টিক, আবেগনির্ভর অনলাইন গেমের প্রতি সবচেয়ে বেশি সংবেদনশীল। বাজি বা অর্থভিত্তিক গেমের তুলনায় এই প্ল্যাটফর্মগুলো আরও বিপজ্জনক, কারণ এখানে প্রতিযোগিতা বা অর্থ নয়—ব্যবহারকারীদের ভালোবাসা, অন্তর্ভুক্তির অনুভূতি ও স্বীকৃতির প্রয়োজনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কৈশোরে এই আবেগগুলো স্বাভাবিকভাবেই আরও তীব্র থাকে। পুলিশ সূত্রে খবর, গাজিয়াবাদের তিন বোনের মোবাইল ফোন ঘেঁটে প্রাথমিক ভাবে দেখা গিয়েছে, অতিমারির সময়কালে তারা দীর্ঘ সময় ধরে এই ধরনের কনটেন্টের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিল। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, শেষ ঘটনাটিকে তারা কোনও ‘যৌথ কাজ’ বা গেমের চূড়ান্ত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেছিল কি না। ফোনগুলো বিস্তারিত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। যোগাযোগের সূত্র, ব্যবহৃত প্ল্যাটফর্ম এবং এর পেছনে কোনও মানব নিয়ন্ত্রক ছিল নাকি স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম—সব দিকই তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

    অভিভাবক ও প্রশাসনের জন্য সতর্কবার্তা

    সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে অনলাইন গেমিং-সংক্রান্ত আত্মহত্যার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে, বিশেষ করে বাজি ও চ্যালেঞ্জভিত্তিক গেমে জড়িয়ে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, রোমান্টিক টাস্ক-ভিত্তিক গেমগুলো আরও ভয়ংকর, কারণ এগুলো সরাসরি মানুষের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ ও শোষণ করে। গাজিয়াবাদের তিন বোনের মৃত্যু শিশুদের অনিয়ন্ত্রিত অনলাইন উপস্থিতির ভয়াবহ দিকটি আবারও সামনে এনে দিয়েছে। পুলিশ ও শিশু কল্যাণ দফতর অভিভাবকদের মোবাইল ব্যবহারের ওপর নজরদারি বাড়ানো, স্ক্রিন টাইম সীমিত করা এবং গোপনীয়তা, অতিরিক্ত অনলাইন আসক্তি, মানসিক বিচ্ছিন্নতা বা আচরণগত হঠাৎ পরিবর্তনের মতো সতর্ক সংকেতগুলোর প্রতি সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

     

  • Jammu Kashmir Encounter: জম্মু ও কাশ্মীরে খতম তিন জইশ জঙ্গি, শাহের সফরের আগে উপত্যকায় বড় সাফল্য সেনার

    Jammu Kashmir Encounter: জম্মু ও কাশ্মীরে খতম তিন জইশ জঙ্গি, শাহের সফরের আগে উপত্যকায় বড় সাফল্য সেনার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরে পৃথক দু’টি এনকাউন্টারে (Jammu Kashmir Encounter) নিহত হয়েছে মোট তিনজন জঙ্গি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সফরের আগেই কিশতোয়ার ও উধমপুর জেলায় নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হল তিন জন জইশ-ই-মহম্মদ সদস্যের। যা বড় সাফল্য বলেই মনে করছে বাহিনী। বুধবার সকালে উধমপুর জেলার একটি গুহায় আটকে পড়া দুই জইশ জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে। ওই দিন সন্ধ্যাতেই কিশতোয়ারে বরফে ঢাকা চাতরু অঞ্চলে গুলির লড়াইয়ে এক জইশ সদস্য নিহত হয়।

    পাকিস্তান থেকে আসা জঙ্গি নিহত

    উধমপুরের বসন্তগড় এলাকায় জঙ্গিদের লুকিয়ে থাকার একটি গোপন ডেরার খোঁজ পেয়েছিল নিরাপত্তাবাহিনী। একটি গুহার মধ্যে ছিল জঙ্গিদের গোপন আস্তানা। সেখানে ২ জঙ্গিকে শেষ করতে সফল হয়েছে নিরাপত্তাবাহিনী। সেনা সূত্রে খবর, পাকিস্তান থেকে আসা একজন বেশ পরিচিত কমান্ডার মাভি ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী জুবায়ের গুলির লড়াইয়ে মারা গিয়েছে। বাহিনীর সঙ্গে তাদের প্রায় ২০ ঘণ্টা ধরে গুলির লড়াই চলে। এম৪ রাইফেল, একে ৪৭, প্রচুর পরিমাণে গোলা-বারুদ, বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে ওই ২ জঙ্গির থেকে।

    কীভাবে চলল অভিযান

    ৩ ফেব্রুয়ারি নিরাপত্তাবাহিনী শুরু করেছিল অপারেশন ‘কিয়া’। জম্মু ও কাশ্মীরের পুলিশের থেকে নিরাপত্তাবাহিনী খবর পেয়েছিল এলাকায় লুকিয়ে রয়েছে জইশ-ই-মহম্মদের জঙ্গিরা। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, সিআইএফ, সেনার এবং হোয়াইট নাইট কোর (16 Corps)- ও সিআরপিএফ জওয়ানদের নিয়ে গঠিত একটি যৌথবাহিনীর দল একত্রিত হয়ে ওই জইশ জঙ্গিদের খুঁজে বের করে নিঃশেষ করার কাজ শুরু করে। উধমপুরের বসন্তগড় এলাকায় জোপহার জঙ্গলে শুরু হয় নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযান। ঘন জঙ্গলের মধ্যে ক্যামেরা লাগিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল স্নিফার ডগদের। জঙ্গিদের উপস্থিতি টের পেতেই সাহায্য নেওয়া হয়েছিল এই প্রাণীদের। প্রায় সারারাত ধরে গুলির লড়াই চলেছে ওই জঙ্গলে। একাধিকবার গ্রেনেড ছুড়েছে নিরাপত্তাবাহিনী। যে গুহার মধ্যে জঙ্গিদের লুকিয়ে থাকার খবর পাওয়া গিয়েছিল, সেই গোপোন আস্তানার মুখ লক্ষ্য করেই গ্রেনেড ছোড়া হয়েছিল নিরাপত্তাবাহিনীর তরফে। তারপরই ২ জঙ্গিকে (কমান্ডার) খতম করতে সক্ষম হয়েছেন নিরাপত্তারক্ষীরা।

    নজরদারি এখনও চলছে

    বৃহস্পতিবার তিন দিনের সফরে জম্মু-কাশ্মীরে আসছেন শাহ। তার আগে বুধবার বিকেলে কাউন্টার ইনসার্জেন্সি ফোর্স ডেল্টা, সেনার হোয়াইট নাইট কোর, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, সিআরপিএফ যৌথ বাহিনী অভিযান চালায়। জানা গিয়েছে, গোয়েন্দা সূত্রে কিশতোয়ারের দুর্গম দিছড়ে অঞ্চলে ফের জঙ্গি আনাগোনার খবর পেয়েই এই অভিযান চালায় বাহিনীয় আর তাতেই আসে সাফল্য। হোয়াইট নাইট কোর সমাজমাধ্যমে জানিয়েছে, অভিযান এখনও চালানো হচ্ছে। ওই এলাকায় এখনও চলছে নজরদারি। জানা গিয়েছে, প্রায় চারমাস ধরে এই এলাকায় ঘাঁটি গেড়েছিল জঙ্গিরা। এখানে পাকাপাকি ভাবে ঘাঁটি গেড়ে এলাকায় নিজেদের প্রভাব বিস্তারের পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের। অন্যান্য জায়গা থেকে সাহায্য জোগাড় করে শক্তি বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছিল জঙ্গিরা।

  • India US Relation: কোনও চাপের কাছেই নতি স্বীকার করে বাণিজ্য চুক্তি করবে না ভারত, রুবিওকে সাফ বলেছিলেন ডোভাল

    India US Relation: কোনও চাপের কাছেই নতি স্বীকার করে বাণিজ্য চুক্তি করবে না ভারত, রুবিওকে সাফ বলেছিলেন ডোভাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নরেন্দ্র মোদির সরকার (Modi Govt) কোনও চাপের কাছেই নতি স্বীকার করে বাণিজ্য চুক্তিতে যেতে রাজি নয়। ভারত-মার্কিন সম্পর্কের তপ্ত পর্বে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে নীরবে কিন্তু দৃঢ়তার সঙ্গে এ কথা বুঝিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি (India US Relation)। ভারত–আমেরিকার সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তির প্রেক্ষাপটে ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনেই উঠে এসেছে এই তথ্য। ভারত যে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে, তাও বুঝিয়ে দেওয়া হয় ঠারেঠোরে।

    ভারতের বার্তা (India US Relation)

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে জানিয়েছিলেন, হোয়াইট হাউস যদি শত্রুতাপূর্ণ ভাষা ও চাপ প্রয়োগের কৌশল থেকে সরে না আসে, তবে ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি সময়টুকু অপেক্ষা করতে ভারত প্রস্তুত। এই বার্তাটি দেওয়া হয় সেপ্টেম্বরের শুরুতেই, যে সময় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তীব্র চাপের মধ্যে ছিল। একদিকে আমেরিকার আরোপিত দণ্ডমূলক শুল্ক, অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কড়া প্রকাশ্য মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। সেই সময় ট্রাম্প ভারতের অর্থনীতিকে অবজ্ঞাসূচক ভাষায় কটাক্ষ করেছিলেন। অভিযোগ করেছিলেন, রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা অব্যাহত রেখে ভারত পরোক্ষভাবে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে অর্থ জোগাচ্ছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ভারতীয় রফতানির (India US Relation) ওপর চড়া শুল্ক আরোপ করে। ডোভাল সাফ জানিয়ে দেন, ভারত এই তিক্ততা কাটিয়ে আবারও বাণিজ্য আলোচনায় ফিরতে আগ্রহী, তবে তা হতে হবে প্রকাশ্য অপমান ও চাপমুক্ত পরিবেশে। তিনি আরও জানান, অতীতেও ভারত কঠিন মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করেছে এবং প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করার সামর্থ্য তার রয়েছে (Modi Govt)।

    সুর নরম ট্রাম্প প্রশাসনের

    এই আলোচনার অল্প সময়ের মধ্যেই সুর নরম হতে শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসনের। ১৬ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে তাঁকে ফোন করে তাঁর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন—যা আগের বক্তব্যগুলির তুলনায় এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন বলেই ধারণা সংশ্লিষ্টমহলের। পরবর্তীকালে দুই নেতা একাধিকবার কথা বলেন, যার ফলে ধীরে ধীরে নতুন করে সম্পর্ক জোরদারের পথ তৈরি হয়। চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি একটি বাণিজ্য সমঝোতায় পৌঁছেছে, যার ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক কমে ১৮ শতাংশে নেমে আসবে এবং রাশিয়া থেকে তেল কেনার সঙ্গে যুক্ত পৃথক ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করা হবে। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানি বাড়াবে এবং মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক কমাবে। তবে মোদি সরকার এখনও চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি বা কোনও লিখিত (India US Relation) চুক্তি প্রকাশ করেনি।

    একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত

    এই ঘোষণা নয়াদিল্লির কিছু শীর্ষ আধিকারিককেও বিস্মিত করে, যা প্রমাণ করে যে কূটনৈতিক আলোচনা কতটা নীরবে এগিয়েছে (Modi Govt)। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হঠাৎ এই চুক্তি বৃহত্তর কৌশলগত প্রেক্ষাপটের দিকেও ইঙ্গিত করে, যা ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। ২০২৫ সালে ভারত ব্রিটেনের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করে। চলতি বছরের শুরুতে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গেও একাধিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং সর্বশেষ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিও চূড়ান্ত হয়। গত বছর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং চিনের প্রধানমন্ত্রী শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেন। এর পরই ট্রাম্প আক্ষেপের সুরে স্বীকার করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ভারতকে চিনের কাছে হারিয়ে ফেলছে।

    এই সব পদক্ষেপ মিলিয়ে স্পষ্ট হয়, ভারত তার অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বৈচিত্র্যময় করছে এবং কেবল ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরশীল নয়।এই বিস্তৃত কৌশলই সম্ভবত আমেরিকার ওপর সম্পর্ক মেরামতের চাপ বাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতির পরিণতি এই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এই অচলাবস্থা থেকে ভারত আরও (Modi Govt) শক্তিশালী দরকষাকষির অবস্থানে বেরিয়ে এসেছে এবং সম্ভবত (India US Relation) চুক্তির ভালো দিকটিই আদায় করেছে।

     

  • Manipur CM: রাষ্ট্রপতি শাসনের অবসান, নয়া মুখ্যমন্ত্রী পেল মণিপুর

    Manipur CM: রাষ্ট্রপতি শাসনের অবসান, নয়া মুখ্যমন্ত্রী পেল মণিপুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বছরখানেক ধরে রাষ্ট্রপতি শাসনে থাকার পর শেষমেশ মুখ্যমন্ত্রী পেল মণিপুর (Manipur CM)। মঙ্গলবার বিজেপি (BJP) বিধায়ক যুমনাম খেমচন্দ সিংকে বিজেপি বিধানসভা দলের নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিজেপি নেতৃত্ব মণিপুরের বিজেপি বিধায়কদের পাশাপাশি জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট (এনডিএ)-র শরিক দলগুলির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেয়।

    মণিপুরে শপথ নয়া মুখ্যমন্ত্রীর (Manipur CM)

    এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির মণিপুরের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক তরুণ চুঘ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সম্বিত পাত্র। আজ, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ শপথ নেন নয়া মুখ্যমন্ত্রী। লোকভবনে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল অজয় ভাল্লা। জানা গিয়েছে, বিজেপি নেত্রী নেমচা কিপগেন এবং নাগা পিপলস ফ্রন্ট (এনপিএফ)-এর নেতা লোসি ডিখো উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে গোবিন্দাস কন্থৌজামকে। মণিপুর বিধানসভায় মোট সদস্য সংখ্যা ৬০ জন। এর মধ্যে বিজেপির রয়েছেন ৩৭ জন বিধায়ক। ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ছিল ৩২। পরবর্তী কালে জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর পাঁচজন বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দেন। এছাড়াও বিধানসভায় রয়েছেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ৬ বিধায়ক, নাগা পিপলস ফ্রন্টের ৫ বিধায়ক, কংগ্রেসের ৫ জন, কুকি পিপলস অ্যালায়েন্সের ২ জন, জনতা দল (ইউনাইটেড)-এর ১ জন এবং ৩ নির্দল বিধায়ক।

    যুমনাম খেমচন্দ সিং

    এক বিধায়কের মৃত্যুতে বর্তমানে একটি আসন শূন্য রয়েছে (Manipur CM)। গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি জাতিগত হিংসার প্রেক্ষিতে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংয়ের পদত্যাগের পর থেকেই মণিপুরে জারি করা হয় রাষ্ট্রপতি শাসন। প্রশ্ন হল, কে এই যুমনাম খেমচন্দ সিং? মেইতেই সম্প্রদায়ের সদস্য যুমনাম খেমচন্দ সিং মণিপুরের সিঞ্জামেই বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক। ২০১৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি মণিপুর বিধানসভার স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিনি গ্রামীণ উন্নয়ন, পঞ্চায়েতি রাজ এবং শিক্ষা দফতরেরও মন্ত্রী ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি খেলাধুলোর সঙ্গেও যুক্ত খেমচন্দ সিং। মার্শাল আর্ট তায়কোয়ান্দোর প্রসারেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে তাঁর। ২০২৫ সালে তিনি প্রথম ভারতীয় হিসেবে (BJP) ঐতিহ্যবাহী তায়কোয়ান্দোয় পঞ্চম ড্যান ব্ল্যাক বেল্ট অর্জন করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার সিওলে অবস্থিত গ্লোবাল ট্র্যাডিশনাল তায়কোয়ান্দো ফেডারেশন তাঁকে এই সম্মান দেয় (Manipur CM)।

     

     

  • BJP: সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করতে গিয়ে হোঁচট খেলেন মমতা, কী বলল বিজেপি?

    BJP: সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করতে গিয়ে হোঁচট খেলেন মমতা, কী বলল বিজেপি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবারের বারবেলায় সুপ্রিম কোর্টে নয়া ‘অবতারে’ হাজির পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রীতিমতো আইনজীবীর পোশাক কালো গাউন পরে দেশের শীর্ষ আদালতে হাজির হয়ে যান তিনি। আদালতে তাঁর (BJP) প্রথম বক্তব্য, “বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে। অসমে এসআইআর নয় কেন?”

    মমতাকে কটাক্ষ ‘জায়ান্ট কিলারে’র (BJP)

    তৃণমূল নেত্রীর এই ‘নব কলেবর’কে কটাক্ষ করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক জায়ান্ট কিলার শুভেন্দু অধিকারী। এদিন আদালতে নির্বাচন কমিশনকে হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন বলেও কটাক্ষ করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে আসলে ভোটারদের বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। এ নিয়েই মমতাকে নিশানা করেন শুভেন্দু। বলেন, “গত ২-৩ দিন ধরে এসআইআর নিয়ে নাটক ও মিথ্যে প্রচার চালানোর চেষ্টা চলছে। প্রথম দিন কমিশনকে নিশানা, দিল্লি পুলিশকেও আক্রমণ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। উল্টে দিল্লি পুলিশ ওঁর মিথ্যাচার ফাঁস করেছেন। উনি ইসিআইকে নিশানা করেছিলেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অহংকারী এবং মিথ্যেবাদীও বলেছিলেন। গতকাল সাংবাদিক সম্মেলনে থেকেও উনি এসআইআরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন।”

    কী বললেন শুভেন্দু?

    রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, “গতকাল থেকে সুপ্রিম কোর্টে মমতার সওয়াল নিয়ে প্রচারের ঝড় চলছে সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে। যেন বড় বিস্ফোরণের অপেক্ষায় ছিল ভারত। কিন্তু আজ কোর্টে মমতা পেলেন রসগোল্লা। আইন বা রাজনীতির খোঁজ যাঁরা রাখেন, তাঁরা সকলেই জেনেছেন আজ শুনানি পর্বে ঠিক কী কী হয়েছে।” তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী নিজে এদিন সওয়াল করেননি। তিনি কোর্টে হাজির ছিলেন পিটিশনার হিসেবে (Mamata Banerjee)। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা ঘুরিয়ে তাঁকে থামানোর চেষ্টা করেছেন। তার পরেও স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে উনি ওঁর কাজ করেছেন। ওঁর উচিত ছিল অনুবাদক নিয়ে যাওয়া। সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি ওঁকে সংশোধন করে দিচ্ছিলেন। যেভাবে ভুল (BJP) ইংরেজি বলছিলেন, তা রাজ্যের পক্ষে লজ্জার!”

    শুভেন্দুর তোপ

    শুভেন্দু বলেন, “মূলত উনি বা ওঁরা প্রথম দিন থেকেই দুটো কাজ করার মরিয়া চেষ্টা করে চলেছেন। এক, এসআইআর ভন্ডুল করা। আর দ্বিতীয়ত, ২০২৪ সালে বাংলাদেশি ও মৃত ভোটার তালিকায় নির্বাচন করতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। যা ইতিমধ্যেই ওঁর বিএলওরাই বাদ দিয়েছেন। তাঁদের সুপারিশেরই পরিচ্ছন্নতার সঙ্গেই ৫৮ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।” শুভেন্দু বলেন, “এসআইআরের বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন মমতা। উনি আজ যেগুলি চেয়েছেন শূন্য হাতে ফিরেছেন।” তিনি বলেন, “সব পক্ষকে হলফনামা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূল টার্গেট যেটা ছিল, সেটা হল মাইক্রো অবজারভারদের আটকানো। মাইক্রো অবজারভার নিয়োগে অসুবিধেটা কোথায়? ভারতের ১২টি রাজ্যে এসআইআর হচ্ছে, কেন বাংলায় মাইক্রো অবজারভার (Mamata Banerjee)? কারণ কমিশনের নির্দেশ মেনে এসডিও র‍্যাঙ্কের ইআরও নিয়োগ করেনি রাজ্য। ২২৫ জন্য যাঁরা ইআরও হতে পারেন না, তাঁদের নিযুক্ত করেছেন মমতা প্রশাসন। কানাগলিতে ঢুকেছেন মমতা ও তাঁর প্রশাসন”। তিনি বলেন, “আপনি নিয়ম ভেঙেছেন। কমিশনকে সহযোগিতা করেননি (BJP)।”

    আবেগপ্রবণ মমতা

    এদিন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি বিপুল পঞ্চোলির বেঞ্চে শুনানি চলাকালীন আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মমতা। মুখ্যমন্ত্রীর হয়ে প্রবীণ আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান সওয়াল করলেও, মমতা নিজে আদালতের কাছে কিছু বলার অনুমতি চান। তিনি বলেন, “সমস্যা হল, আমাদের আইনজীবীরা লড়ছেন, আমরা শুরু থেকেই লড়ছি। কিন্তু সব শেষ হওয়ার পরেও যখন আমরা বিচার পাচ্ছি না, যখন বিচার দরজার আড়ালে কাঁদছে, তখন বাধ্য হয়েই আমায় আসতে হল। আমি সাধারণ পরিবারের মেয়ে, আমি আমার দলের জন্য লড়ছি না, লড়ছি সাধারণ মানুষের জন্য (Mamata Banerjee)।”

    সুকান্তর নিশানায় মমতা

    মমতার এদিনের সওয়ালকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অধ্যাপক সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “দিল্লিতে ড্রামা করলেন মমতা ব্যানার্জি। প্রথমে বঙ্গভবনের সামনে ড্রামা করলেন, তারপর তার নাটক চলল নির্বাচন কমিশনে ও একেবারে শেষে সুপ্রিম কোর্টে। মমতা ব্যানার্জি সুপ্রিম কোর্টের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নির্বাচন কমিশনকে হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন বলে দিলেন। বিচারপতির অনুমতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে রাজনৈতিক ভাষণ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে বলেছিল আপনার আইনজীবী অত্যন্ত দক্ষ, আমরা তাঁদের কথাই শুনব। এর থেকে (BJP) খারাপ শব্দে সুপ্রিম কোর্ট একজন মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে পারেন না যে আপনি চুপ থাকুন, আপনার কথা আমরা শুনতে চাইছি না।” মমতার এদিনের আচরণকে নাটক বলে কটাক্ষ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং-ও।

    আক্রমণ শানালেন শমীকও

    বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “পদবি বদল হয়ে গিয়েছে বলে মিথ্যে দাবি করা হয়েছে। জেনেবুঝে পরিকল্পনা করে নামের গন্ডগোল করছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর তাই বয়স্ক, অসুস্থ মানুষদের এসআইআরের লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। এসব পরিকল্পনা করে এসআইআর বন্ধ করতে চাইছে।” তিনি বলেন, “পুরো প্রশাসনকে এই এসআইআর বন্ধ করতে লাগিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কোনওভাবেই যেন এসআইআর চলতে না পারে, সেই চেষ্টাই চলছে। মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টে শুধু এসআইআরের জন্য যাননি। আনন্দপুরের ভয়ানক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা থেকে রাজ্যবাসীর নজর ঘোরাতেই গিয়েছেন। সেখানে ২৫ জন মারা গিয়েছেন, এখনও ৩০ জন নিখোঁজ। মাত্র ১০ কিমি দূরে দুর্ঘটনা ঘটল, এখনও তিনি সেখানে যাওয়ার সময় পেলেন না, অথচ ১৫০০ কিমি পথ পেরিয়ে দিল্লি পৌঁছে গেলেন (Mamata Banerjee)! যে মুখ্যমন্ত্রী ইডির তল্লাশিতে চলে যান, পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে এই রকম পরিস্থিতি তৈরি করে রেখেছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের জনতা বুঝে গিয়েছেন এই সরকার চলতে দেওয়া যাবে না।”

    শমীক বলেন, “ভোটার লিস্ট শুদ্ধিকরণে ভারতের কোনও জায়গা থেকে এত অশান্তি হয়নি। তাহলে শুধু পশ্চিমবঙ্গে কেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ২০০৫ সালের অগাস্টে ভোটার কার্ডের দাবি করেছিলেন? যিনি ৪ অগাস্ট ২০০৫-এ সব পেপার স্পিকারের টেবিলের ওপর ছুড়ে ফেলে দিয়ে সেই সময় বলেছিলেন, ওই ভোটার তালিকা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীতে ভরা (BJP)। ২০০৫-এর যে নেত্রী এর বিরোধিতা করতেন আজ তিনিই এসআইআরের বিরুদ্ধে ধর্না দিতে দিল্লি পৌঁছে গেলেন। বিএলএদের কীভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে? তৃণমূলের অ্যাজেন্ডা পরিষ্কার যে, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, রোহিঙ্গা, ভুয়ো ভোটাররা (Mamata Banerjee) ভোটার তালিকায় থাকুক। এটা কী করে চলতে পারে? সব বিএলওদের ভয় দেখাচ্ছেন, হুমকি দিচ্ছেন উনি (BJP)।”

     

  • Rahul Gandhi: কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে “বিশ্বাসঘাতক” কটাক্ষ রাহুলের, পাল্টা পেলেন “দেশ কে দুশমন” তকমা

    Rahul Gandhi: কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে “বিশ্বাসঘাতক” কটাক্ষ রাহুলের, পাল্টা পেলেন “দেশ কে দুশমন” তকমা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার সংসদের সিঁড়িতে এক উত্তপ্ত রাজনৈতিক মুখোমুখি সংঘর্ষ শুরু হয়। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবনীত সিং বিট্টু (Ravneet Singh Bittu) জনসমক্ষে একে অপরের বিরুদ্ধে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন। ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে এই ভিডিও ব্যাপক ভাবে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম।)

    “দেশ কে দুশমন” (Rahul Gandhi)

    সংসদে নিয়ম ভঙ্গের অপরাধে আটজন সাংসদকে বরখাস্ত করার ঘটনায় লোকসভা মুলতবি করার পর এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। কংগ্রেস নেতারা এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে সংসদের মকরা দ্বারের কাছে জড়ো হয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিট্টু (Ravneet Singh Bittu), সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন সেই সময় তাঁকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে আক্রমণ করেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। বলেন, “এই যে একজন বিশ্বাসঘাতক ঠিক পাশ দিয়ে হেঁটে আসছে। মুখের দিকে তাকান…”। তারপর, ঠাট্টা-বিদ্রুপের মিশ্রণে তিনি বিট্টুর দিকে হাত বাড়িয়ে বলেন, “হ্যালো ভাই, আমার বিশ্বাসঘাতক বন্ধু। চিন্তা করো না, তুমি কংগ্রেস ফিরে আসবে।” সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিট্টু রাহুলের করমর্দন প্রত্যাখ্যান করেন। বরং, তিনি তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, “দেশ কে দুশমন, গান্ধীকে জাতির শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে।” ক্যামেরায় ধারণকৃত এই কথোপকথন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দেয়।

    বার বার অসংসদীয় আচরণ

    সংসদে উত্তেজনা বৃদ্ধির পটভূমিতে এই ঝগড়া শুরু হয়। মঙ্গলবার, লোকসভায় রাহুল গান্ধী বক্তৃতা দেওয়ার সময় সংসদীয় নিয়ম ভঙ্গ করেন। সংসদের কাজে বার বার বাধা প্রদান করেন। শুধু তাই নয়, অধ্যক্ষের চেয়ারের দিকে কাগজপত্র ছোড়ার অভিযোগে বাজেট অধিবেশনের বাকি সময় আটজন সাংসদকে বরখাস্ত করা হয়। বিরোধী সদস্যদের তীব্র স্লোগানের মধ্যে বুধবার দুপুর পর্যন্ত সংসদের অধিবেশন মুলতবি করা হয়।

    আট সাংসদ বরখাস্ত

    বরখাস্ত হওয়া সাংসদরা হলেন কংগ্রেস নেতা হিবি ইডেন, অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং, মানিকম ঠাকুর, গুরজিৎ সিং আউজলা, প্রশান্ত ইয়াদোরাও পাডোলে, চামালা কিরণ কুমার রেড্ডি, ডিন কুরিয়াকোস এবং সিপিআই(এম) সাংসদ এস ভেঙ্কটেসন। সকলেই পরে সংসদের বাইরে বিক্ষোভ করেন।

    রাহুলের (Rahul Gandhi) পক্ষে দাঁড়িয়ে সমাজবাদী পার্টির সাংসদ আনন্দ ভাদৌরিয়া অভিযোগ করে বলেন, “শাসক দল বিরোধীদের মুখ বন্ধ করার চেষ্টা করছে। বিরোধী দলনেতা তাঁদের প্রতিনিধিত্ব করেন যাঁরা বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন এবং মতবিরোধ দমনের ষড়যন্ত্র চলছে। যুক্তি দিয়ে কথা বলতে সরকার জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়গুলিতে কথা বলতে ভয় পায়।”

    ম্যাগাজিন নিবন্ধ বা অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা উদ্ধৃত করা যায় না

    রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের বিতর্কের সময় পূর্ব লাদাখে ২০২০ সালে চিনের সঙ্গে সংঘর্ষের উল্লেখ উত্থাপনের জন্য রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) বিকৃত তথ্য উত্থাপনই হল বিশৃঙ্খলার মূল কারণ। কোনও ম্যাগাজিন নিবন্ধ বা অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা উদ্ধৃত করা যায় না। কিন্তু রাহুল তাতে অনড় ছিলেন। সরকার তীব্র আপত্তি জানিয়ে বলে, অপ্রকাশিত উপাদানের উল্লেখ অনুমোদিত নয়। নির্ধারিত নিয়মের মধ্যে  বক্তৃতা দিতে হবে। এরপর নিয়ম ভঙ্গ করায় কড়া অবস্থান নেন লোকসভার অধ্যক্ষ।

  • EU Trade Agreement: ইইউ-ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, মোদির চালে কুপোকাত তিন দেশ

    EU Trade Agreement: ইইউ-ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, মোদির চালে কুপোকাত তিন দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য চুক্তি (EU Trade Agreement) শুধু প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যেই নয়, খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ভারত–ইইউয়ের (India) এই ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব শুধু বাংলাদেশ বা পাকিস্তানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, আমেরিকা এবং তুরস্কের গায়েও লাগবে এর আঁচ।

    ৯০ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে শুল্ক প্রত্যাহার (EU Trade Agreement)

    এই চুক্তির আওতায় ইইউ থেকে ভারতে রফতানি হওয়া পণ্যের ৯০ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে শুল্ক সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার বা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হবে। এর মধ্যে রয়েছে যন্ত্রপাতির ওপর সর্বোচ্চ ৪৪ শতাংশ, রাসায়নিক পণ্যে ২২ শতাংশ এবং ওষুধে ১১ শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ শুল্ক—যেগুলি ধাপে ধাপে প্রায় পুরোপুরিই তুলে নেওয়া হবে। ইউরোপীয় বিয়ারের ওপর শুল্ক কমিয়ে ৫০ শতাংশ করা হবে। পাশাপাশি রাসায়নিক দ্রব্য, বিমান ও মহাকাশযানের ক্ষেত্রে প্রায় সব পণ্যের ওপর শুল্ক সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হবে। ইইউয়ের হিসাব অনুযায়ী, এই চুক্তির ফলে ২০৩২ সালের মধ্যে ভারতে ইইউয়ের রফতানি দ্বিগুণ হতে পারে এবং ইউরোপীয় পণ্যের ক্ষেত্রে বছরে সর্বোচ্চ ৪ বিলিয়ন ইউরো শুল্ক সাশ্রয় হবে। অবশ্য এই চুক্তি ভারতের প্রতিপক্ষ দেশগুলির জন্য নেতিবাচক প্রভাবও বয়ে আনবে।

    তুরস্কে তোলপাড়

    অপারেশন ‘সিঁদুরে’র পর ভারত ও তুরস্কের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ওই অভিযানের সময় আঙ্কারা পাকিস্তানকে ড্রোন ও লয়টারিং অ্যামুনিশন সরবরাহ করেছিল। এরপর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভারত–ইইউ বাণিজ্য চুক্তি তুরস্কের জন্যও ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। উল্লেখ্য, ইইউ–তুরস্ক কাস্টমস ইউনিয়নের চুক্তি অনুযায়ী, ইইউ যে কোনও অংশীদার দেশের সঙ্গে যে অভিন্ন বহির্শুল্ক নির্ধারণ করে, তা অনুসরণ করতে হয় তুরস্ককে। এ নিয়ে তুরস্ক আগে থেকেই ইইউর কাছে আপত্তি জানিয়ে আসছে। যদিও এখনও কোনও রফাসূত্র বের হয়নি। তাই সমাধান হয়নি সমস্যারও। ইইউ যখন কোনও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) অংশীদার—যেমন ভারতের—জন্য শুল্ক কমায়, তখন তুরস্ককেও সেই দেশের জন্য একই শুল্কছাড় দিতে বাধ্য হতে হয়। কিন্তু ভারত তুরস্কের ক্ষেত্রে পাল্টা কোনও শুল্কছাড় দিতে বাধ্য নয়। এই পরিস্থিতিতে তুরস্ক কী প্রতিক্রিয়া দেখায়, সেটিই দেখার (EU Trade Agreement)।

    বিপাকে বাংলাদেশ

    তুরস্কের পাশাপাশি এর প্রভাব পড়বে ভারতের পড়শি বাংলাদেশের ওপরও। কয়েক মাস আগে এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভারতের ওপর বেশি এবং বাংলাদেশের ওপর কম শুল্ক আরোপের কারণে ভারতীয় কোম্পানিগুলি তাদের উৎপাদন ঘাঁটি বাংলাদেশে স্থানান্তর করতে পারে। পাশাপাশি স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) হওয়ায় বাংলাদেশ ইইউতে রফতানির ক্ষেত্রে শূন্য শুল্ক সুবিধা পায়, যেখানে ভারতকে তুলনামূলকভাবে বেশি শুল্ক দিতে হত (India)। এর ফলে ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল (EU Trade Agreement)। ইইউয়ের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেন, “ভারত খুব দ্রুত ইউরোপে বস্ত্র রফতানি ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ৩০–৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে পারে। আমাদের সবসময় প্রশ্ন করা হত, বাংলাদেশ কীভাবে ইউরোপে এত বেশি রফতানি করে। তারা শূন্য-শুল্ক সুবিধা পেয়েছে এবং ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজার দখল করেছে।” ইইউয়ের বাজারে ভারতীয় পোশাক রফতানি যখন বাংলাদেশের পণ্যের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামবে, তখন মূল্য ও মানের দিক থেকে বাংলাদেশের বাজারের অংশীদারিত্ব যে কমবে, তা এক প্রকার নিশ্চিত (EU Trade Agreement)।

     পাকিস্তান কুপোকাত

    টিকে থাকার লড়াইয়ে থাকা দুর্বল অর্থনীতির পাকিস্তানও ইইউয়ের সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক নিয়ে ক্ষুব্ধ। ভারত–ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি পাকিস্তান-সমর্থিত খালিস্তানপন্থী গোষ্ঠীগুলোকেও অস্বস্তিতে ফেলেছে। তাদের আশঙ্কা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দিল্লিকে খালিস্তানি তৎপরতার বিরুদ্ধে আরও শক্ত অবস্থান নেওয়ার সুযোগ করে দেবে (India)। কানাডা, জার্মানি ও ব্রিটেনের মতো দেশগুলিকে ঘাঁটি করে গড়ে ওঠা খালিস্তানি গোষ্ঠীগুলির ধারণা, ইইউ এবং ভারতের এই ঘনিষ্ঠতা তাদের আন্দোলনের জন্য ক্ষতিকর হবে। ভারত–ইইউ প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের আওতায় সন্ত্রাসবাদবিরোধী সহযোগিতাও রয়েছে, যা খালিস্তানি সন্ত্রাসীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে (EU Trade Agreement)।

    এদিকে, এই চুক্তি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও অসন্তুষ্ট। ওয়াশিংটনের চাপ সত্ত্বেও ভারত নতি স্বীকার না করায় ভারত–মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি এখনও অচলাবস্থায় রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য সত্ত্বেও নয়াদিল্লি তার অবস্থান বদলায়নি। এখন ভারত–ইইউ বাণিজ্য চুক্তি ট্রাম্পের ওপর তার সমর্থক ও রাজনৈতিক নেতাদের চাপ আরও বাড়াবে। কারণ আমেরিকা একটি গুরুত্বপূর্ণ (India) কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি হাতছাড়া করছে (EU Trade Agreement)।

     

LinkedIn
Share