Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Chicken’s Neck: মাটির তলা দিয়েই যাবে সেনার রসদ! চিকেন’স নেক রক্ষায় ভূগর্ভস্থ রেলপথ, মাস্টার স্ট্রোক ভারতের

    Chicken’s Neck: মাটির তলা দিয়েই যাবে সেনার রসদ! চিকেন’স নেক রক্ষায় ভূগর্ভস্থ রেলপথ, মাস্টার স্ট্রোক ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের কৌশলগতভাবে সবচেয়ে সংবেদনশীল অঞ্চলগুলোর অন্যতম ‘চিকেন’স নেক’ (Chicken’s Neck) বা শিলিগুড়ি করিডর। দীর্ঘদিন ধরেই এই সংকীর্ণ ভূখণ্ড ভারতের জন্য এক বড় দুর্বলতা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এবার সেই দুর্বলতাকেই শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। শিলিগুড়ি করিডরের প্রায় ৪০ কিলোমিটার অংশে ভূগর্ভস্থ রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। রেলমন্ত্রী জানান, উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ রক্ষায় এই করিডরের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান রেললাইন চার লাইনে উন্নীত করার পাশাপাশি ২০–২৪ মিটার গভীরে ভূগর্ভস্থ রেলপথ বসানোর কাজ চলছে। এই ভূগর্ভস্থ রেললাইনটি পশ্চিমবঙ্গের তিন মাইল হাট থেকে রাঙাপানি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।

    কেন তিন মাইল হাট–রাঙাপানি?

    ভৌগোলিক কারণেই রাঙাপানি ও তিন মাইল হাট এই দুই স্টেশনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। তিন মাইল হাট শিলিগুড়ি থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে এবং বাংলাদেশ সীমান্তের খুব কাছাকাছি। বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলা এখান থেকে প্রায় ৬৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ফলে এই অংশটি কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ। চিকেন নেকের (Chicken’s Neck) সুরক্ষায় বছর দেড়েক আগেই কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রকে ভূগর্ভস্থ রেলপথ (Underground railway) তৈরির প্রস্তাব দিয়েছিল ভারতীয় সেনা। সেই প্রস্তাব মেনে স্পর্শকাতর এলাকায় সমীক্ষাও করে রেল ও প্রতিরক্ষামন্ত্রকের যৌথ দল। মাস ছয়েক আগে সেই সমীক্ষা রিপোর্ট জমা হয় কেন্দ্রের কাছে। সেইমতো উত্তর দিনাজপুরের তিন মাইল হাট থেকে শিলিগুড়ির রাঙাপানি পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ রেলপথ তৈরির কথা ঘোষণা করলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw)। সেনা সূত্রের খবর, ভবিষ্যতে ভূগর্ভস্থ রেলপথ অসম পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হতে পারে। জাতীয় সুরক্ষায় ওই রেলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই জানিয়েছেন সেনাকর্তারা।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেন’স নেক’?

    চিকেন’স নেক হল প্রায় ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি সংকীর্ণ ভূখণ্ড, যা ভারতের মূল অংশকে আটটি উত্তর-পূর্ব রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত করেছে। জাতীয় সড়ক, রেললাইন, জ্বালানি পাইপলাইন এবং সামরিক রসদের প্রধান সরবরাহ পথ এই করিডরের মধ্য দিয়েই যায়। এই করিডরের দক্ষিণে বাংলাদেশ, পশ্চিমে নেপাল এবং উত্তরে চিনের চুম্বি ভ্যালি। চুম্বি ভ্যালিতে চিনের সেনাবাহিনীর কৌশলগত সুবিধা থাকায় সংকটের সময় একাধিক দিক থেকে চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। এই করিডরে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেই উত্তর-পূর্ব ভারত কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে সিকিম ও অরুণাচল প্রদেশে ভারতের সামরিক অবস্থানেও।

    ভূগর্ভস্থ রেল কেন এত জরুরি?

    রেলপথই দ্রুততম পণ্য ও সেনা পরিবহণের মাধ্যম—একটি মালবাহী ট্রেন প্রায় ৩০০টি ট্রাকের সমান বোঝা বহন করতে পারে। বর্তমানে চিকেন’স নেকের বেশিরভাগ পরিকাঠামোই ভূপৃষ্ঠে অবস্থিত, যা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ড্রোন আক্রমণ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ সন্দীপ উন্নিথান জানিয়েছেন, ভূগর্ভস্থ রেলপথ হলে আকাশ, আর্টিলারি বা ড্রোন হামলা থেকে তা অনেকটাই সুরক্ষিত থাকবে। সংঘর্ষের পরিস্থিতিতেও সেনা, জ্বালানি ও জরুরি সামগ্রীর নিরবচ্ছিন্ন পরিবহণ সম্ভব হবে। তাঁর কথায়, “ভূগর্ভস্থ পরিকাঠামো শনাক্ত করা কঠিন এবং প্রথম আঘাত সামলানোর ক্ষেত্রে অনেক বেশি কার্যকর।”

    আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপট

    গত এক দশকে চিন ডোকলাম ও অরুণাচল সীমান্তে ব্যাপক পরিকাঠামো গড়ে তুলেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েনও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের কিছু চরমপন্থী মহল থেকে চিকেন’স নেক বিচ্ছিন্ন করার হুমকিও শোনা গেছে। এর পাশাপাশি, বাংলাদেশের রংপুরের লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ—যা শিলিগুড়ি করিডরের কাছাকাছি—নয়াদিল্লির কৌশলগত মহলে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

    ভারতের পাল্টা প্রস্তুতি

    এই পরিস্থিতিতে ভারতও একাধিক পদক্ষেপ করেছে। পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও ত্রিপুরায় থাকা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটিগুলি ফের চালু করা হচ্ছে। বাংলার চোপড়া, বিহারের কিশানগঞ্জ ও অসমের লাচিত বরফুকনে নতুন সেনাঘাঁটি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি, হলদিয়ায় একটি নতুন নৌঘাঁটি গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। গত বছর রেলভিত্তিক মোবাইল লঞ্চার থেকে ‘অগ্নি প্রাইম’ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে ভারত, যা রেলপথে ক্ষেপণাস্ত্র পরিবহণ ও মোতায়েনের সক্ষমতা বাড়িয়েছে।

    শিলিগুড়ি করিডরের কৌশলগত গুরুত্ব স্পষ্ট

    শিলিগুড়ি করিডরের কৌশলগত গুরুত্ব যে দিল্লির কাছে কতটা, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল। রেলের অন্দরমহলের খবর, ‘আন্ডারগ্রাউন্ড করিডর’-এর সুরক্ষায় বিশেষ পদক্ষেপও করা হবে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীভাবে সুড়ঙ্গপথ তৈরি করা যায়, তার জন্য ইঞ্জিনিয়ারদের বিশেষ দল গড়বে রেল। রেলমন্ত্রী স্পষ্টই জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের জন্য টাকার কোনও অভাব হবে না। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল ইতিমধ্যেই ডিপিআর তৈরির কাজ শুরু করেছে। যেহেতু শিলিগুড়ির মাটি পাথুরে নয় এবং এলাকাটি সমতল, তাই এখানে টানেলের জন্য মাটি কাটা অনেক সহজ হবে। রেলের বাস্তুকারদের দাবি, কাজ শুরু হলে খুব দ্রুতই সুড়ঙ্গ তৈরির কাজ শেষ করা যাবে।

    যুদ্ধের সময় সেনার ‘লাইফলাইন’

    এই প্রেক্ষাপটে শিলিগুড়ি করিডরে ভূগর্ভস্থ রেলপথ নির্মাণ শুধুমাত্র একটি পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প নয় এর গুরুত্ব ব্যাপক। চিন ও বাংলাদেশের দিক থেকে সম্ভাব্য দ্বিমুখী চাপের মুখে দীর্ঘদিনের কৌশলগত দুর্বলতাকে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বলয়ে রূপান্তর করার দিকেই ভারতের এই উদ্যোগ। এক কথায়, ‘চিকেন’স নেক’কে দুর্বল গলা নয়, এবার শক্ত মেরুদণ্ডে পরিণত করার পথে এগোচ্ছে ভারত। যুদ্ধের সময় সেনার ‘লাইফলাইন’ হতে পারে ওই সুড়ঙ্গপথ। প্রাক্তন সেনাকর্তারা মনে করছেন, আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন আর স্যাটেলাইটের মাধ্যমে কত ট্যাঙ্ক বা সেনা পাঠানো হচ্ছে সব ওপর থেকে দেখে নেওয়া সম্ভব। কিন্তু মাটির নীচে রেললাইন থাকলে শত্রুর চোখে ধুলো দেওয়া সহজ হবে। সুড়ঙ্গপথে সেনা আর রসদ সীমান্তে পৌঁছে দেওয়া যাবে। বাগডোগরা বিমানঘাঁটি কাছে থাকলেও খারাপ আবহাওয়ায় আকাশপথ সবসময় নির্ভরযোগ্য নয়। তাই অনেকসময় রেলই হয়ে ওঠে মূল ভরসা।

    চিকেনস নেক ঘিরে নয়া নিরাপত্তা বলয়

    ইতিমধ্যে চিকেনস নেক ঘিরে নয়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। নতুন ডিজাইনের বেড়ায় ঢেকেছে ৭৫ শতাংশ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা। আধুনিক বেড়ার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে শক্তিশালী নজরদারি ক্যামেরা এবং উন্নত এরিয়া ডমিনেশন ব্যবস্থা। সীমান্তে পাতা পড়লেও এখন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) নজরে আসবে। সেই সঙ্গে আত্মরক্ষার জন্য ঢাল করা হয়েছে এস-৪০০ ডিফেন্স সিস্টেম। রাশিয়ার কাছ থেকে কেনা সারফেস-টু-এয়ার মিসাইলও প্রস্তুত রাখা হয়েছে সীমান্তে। এছাড়াও ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত চিকেনস নেক রক্ষায় বাংলাদেশ সীমান্তের পাশে অসমের ধুবড়ি সংলগ্ন বামুনি, বিহারের কিশনগঞ্জ এবং উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া এলাকায় তিনটি সামরিক ঘাঁটি তৈরি করা হয়েছে।

    চিকেনস নেক মাস্টারস্ট্রোক দিল মোদি সরকারের

    গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ভারতকে দুর্বল করতে শিলিগুড়ি করিডরকেই পাখির চোখ করেছে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন। তিনটি দেশের সীমান্ত এক জায়গায় মেশায় এই পথে অস্ত্রশস্ত্র, মাদক ও জাল নোট ভারতে পাচার করার ছক কষেছে জঙ্গিরা! পাশাপাশি সীমান্তের ছিদ্রপথে সন্ত্রাসবাদীদের এদেশে প্রবেশের রাস্তা তৈরি করারও পরিকল্পনা রয়েছে। এই চিকেনস নেক টার্গেট পাকিস্তানেরও। এই অঞ্চলকে ভারতের থেকে আলাদা করে দিতে চায় চিনও। ওই কারণে ভারতীয় বিমান বাহিনীর জরুরি অপারেশনাল সুবিধা বাড়াতে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের পাঁচটি পরিত্যক্ত এয়ারস্ট্রিপ অথবা বিমানঘাঁটি চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে নয়াদিল্লি। এবার মাটির তলায় প্রায় ৪০ কিলোমিটার স্ট্র্যাটেজিক রেল করিডর গড়ার কথা ঘোষণা রেল মন্ত্রকের। বাংলাদেশের ইউনূস সরকারের ‘শকুনের চোখ’ শিলিগুড়ি করিডর বা চিকেন’স নেক-এর দিকে। বার বার উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রসঙ্গ টেনেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস। ভারত তো আর চুপ করে বসে থাকবে না। ইতিমধ্যেই চিকেনস নেক-এ সেনা বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত। এবার রেলপথেও মাস্টার স্ট্রোক দিল মোদি সরকার। যার নির্যাস, শত্রুরা কোনও ভাবে হামলা করলেও রেল যোগাযোগে সেনার কাছে সহজেই রসদ পৌঁছে যাবে। রেলপথে কোনও প্রভাব পড়বে না।

  • RSS: “সংঘকে বুঝতে হলে অনুভব করতে হবে, সকল স্বয়ংসেবকদের স্বতন্ত্রতা দেয় সংঘ”, বার্তা মোহন ভাগবতের

    RSS: “সংঘকে বুঝতে হলে অনুভব করতে হবে, সকল স্বয়ংসেবকদের স্বতন্ত্রতা দেয় সংঘ”, বার্তা মোহন ভাগবতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভাগ্যনগরে (হায়দরাবাদ) ‘সংঘের ১০০ বছরের যাত্রা–নতুন দিগন্ত’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের উদ্দেশে মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘকে (RSS) সঠিকভাবে বোঝার জন্য সংঘের অংশ হয়ে সেই অভিজ্ঞতা অর্জন করা প্রয়োজন। স্বয়ংসেবকদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিয়ন্ত্রণ করে না সংঘ। সম্পূর্ণ স্বায়ত্ত শাসনের দ্বারা সকলে কাজ করেন। সংঘের আদর্শ এবং মূল্যবোধের দ্বারা কাজ করে প্রত্যেক স্বয়ংসেবক।”

    সংঘকে বোঝা সহজ নয় (RSS)

    সংঘের (RSS) কাজ গত ১০-২০ বছরে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ভাগবত সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “সংঘকে বোঝা সহজ কাজ নয় এবং সমাজে সংঘের সমতুল্য অন্য কোনও প্রকার কাজ নেই। ওপর ওপর দেখে বিচার করলে সংঘ (Mohan Bhagwat) সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। তাই সংঘের অংশ হয়েই এর কাজকে প্রকৃতভাবে উপলব্ধি করা সম্ভব। সংঘের শাখায় এসে সংঘের আদর্শকে বুঝতে হবে।”

    ব্যক্তি গঠন ও দেশ গড়া

    ভাগবত জানান, সংঘের (RSS) মূল নীতি হল ব্যক্তির চরিত্র গঠন, যার চূড়ান্ত লক্ষ্য হল, একটি শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্র নির্মাণ করা। সংঘ সম্পূর্ণভাবে এই কাজের ওপরই আলোকপাত করে। ব্যক্তি যে ভাবে নির্মিত হয় তাঁকে সেই ভাবেই জীবন যাপন করতে হয়। এই কাজে অনেক সময় নেয় কিন্তু দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় কাজ করতে পারেন উক্ত ব্যক্তি। সংঘ সব সময় ব্যক্তি নির্মাণের উপর কাজ করে। ব্যক্তি নির্মাণ হলে তবেই সংঘের আদর্শ বাস্তবায়ন হয়।

    সেবামূলক কাজের ধরণ

    সর সংঘ সঙ্ঘ (RSS) চালক মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “বর্তমানে স্বয়ংসেবকরা সারা দেশে ১ লক্ষ ৩০ হাজারেরও বেশি ছোট-বড় সেবা কেন্দ্র পরিচালনা করছেন। সংঘ কেবল একটি সেবা সংস্থা নয়, বরং এটি একটি সুশৃঙ্খল সংগঠন। শাখাগুলোতে লাঠি চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও এটি কোনও সাধারণ আখড়া নয়। একইভাবে সংঘের নিয়ম শৃঙ্খলা সামরিক বাহিনীর মতো হলেও এটি কোনও প্রকার আধাসামরিক বাহিনী নয়।”

    পঞ্চ পরিবর্তন

    জাতির সর্বাঙ্গীণ উন্নতির জন্য মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) পাঁচটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন। যথা-

     ১. কুটুম্ব প্রবোধন: ভজন, ভোজন, ভাষা, ভূষা, ভবন ও ভ্রমণের মাধ্যমে পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষা করা। ২. পরিবেশ সুরক্ষা: পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য কাজ করা। ৩. সামাজিক সমরসতা: জাতিভেদ দূর করে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। ৪. স্বদেশী: দেশীয় পণ্য ব্যবহার ও স্বনির্ভরতা। ৫. নাগরিক কর্তব্য: সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালন করা।

    সাংস্কৃতিক জাগরণ

    আরএসএস (RSS) প্রধান ভাগবত স্পষ্ট করে বলেন, “সংঘ কোনো রাজনৈতিক লাভালাভের জন্য কাজ করে না। এর মূল লক্ষ্য হলো সাংস্কৃতিক জাগরণ এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে সঠিক মানসিকতার মানুষ ও সংগঠনের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করা।”

    আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট

    ভারতের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “প্রতিটি দেশ তার জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী চলে এবং ভারতকেও নিজের স্বার্থে আপষহীন হতে হবে। ভারত অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে শক্তিশালী হলেই বিশ্ব দরবারে প্রভাব ফেলতে পারবে।”

    ভাগবত পরিশেষে বলেন, সংঘের কাজ এখনও অসম্পূর্ণ। সমাজকে জাগ্রত করার এই প্রক্রিয়া জারি থাকবে। যারা সংঘের (RSS) মতো কাজ স্বতন্ত্রভাবে করছেন, তাদের প্রতিও তিনি শ্রদ্ধা জানান। তিনি আহ্বান জানান, সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যেন নিজেদের আচরণের মাধ্যমে উদাহরণ তৈরি করেন, যাতে সমাজ তাদের দেখে অনুপ্রাণিত হতে পারে।

  • US Trade Deal: কৃষি ও দুগ্ধ খাত সুরক্ষিতই থাকবে, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট কেন্দ্রের

    US Trade Deal: কৃষি ও দুগ্ধ খাত সুরক্ষিতই থাকবে, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য আলোচনা (US Trade Deal) ডকুমেন্টেশনের পর্যায়ে এগোচ্ছে। তবে কৃষি ও দুগ্ধ খাতে নিজেদের দীর্ঘদিনের অনড় অবস্থানই বজায় রাখবে ভারত, এমনটাই (Agriculture Dairy) ইঙ্গিত মিলল সরকারের শীর্ষ কর্তাদের তরফে। তাঁদের স্পষ্ট বার্তা, সংবেদনশীল কৃষি খাতগুলিকে বড় ধরনের বাজার উন্মুক্তকরণ সংক্রান্ত কোনও প্রতিশ্রুতির আওতায় আনা হবে না।

    কৃষিপণ্য ও দুগ্ধ খাত (US Trade Deal)

    সংবেদনশীল কৃষিপণ্য ও দুগ্ধ খাতকে চুক্তির আওতার বাইরে রাখার বিষয়ে নয়াদিল্লির অবস্থান অপরিবর্তিতই রয়েছে। এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, “যে অবস্থান ছিল, সেটাই রয়েছে।” তিনি বলেন, “কৃষি ও দুগ্ধ খাতে সংবেদনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে আমাদের প্রচলিত অবস্থানই বজায় থাকবে। আমাদের কৃষকদের স্বার্থ কোনওভাবেই ক্ষুণ্ণ করা হবে না।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে ওই খাতগুলির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংবেদনশীলতার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।

    বাণিজ্য চুক্তি

    প্রসঙ্গত, এই বক্তব্যটি এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন এর একদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ ঘোষণা করেন, ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তির লক্ষ্য হল, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে কার্যকর হতে চলা পারস্পরিক শুল্ক উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো। ট্রাম্পের দাবি, এই চুক্তির ফলে ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক কমে ১৮ শতাংশে নামবে এবং ভারতের বাজারে প্রবেশকারী মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক শূন্যে নেমে আসবে। তবে নয়াদিল্লির কর্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, উভয় পক্ষের আলোচকরা এখনও চুক্তির সূক্ষ্ম শর্তাবলি ও আনুষ্ঠানিক নথি চূড়ান্ত করার কাজেই ব্যস্ত রয়েছেন (Agriculture Dairy)।

    দেশীয় উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন

    ভারতের বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবিকা কৃষি ও দুগ্ধ খাতের সঙ্গে যুক্ত। লাখ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক এই খাতগুলির ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে দুগ্ধ খাত মূলত ছোট, পারিবারিক স্তরের উৎপাদকদের দখলে—বড় কর্পোরেট খামার নয়। নীতিনির্ধারক ও মুক্ত বাণিজ্যের সমালোচকরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে যে— যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডের মতো দেশগুলির ভর্তুকিপ্রাপ্ত, বৃহৎ আকারের কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার জন্য ভারতীয় বাজার খুলে দিলে দেশীয় উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থানে ধস নামতে পারে (US Trade Deal)। কৃষি খাতে অধিকতর প্রবেশাধিকার দিতে ভারতের অনীহা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় বারবার সংঘাতের কারণ হয়েছে। দুগ্ধ ও সয়াবিনের মতো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল খাত খুলে দিতে নয়াদিল্লি ধারাবাহিকভাবে আপত্তি জানিয়েছে, যদিও অন্যান্য আলোচনায় নির্বাচিত কিছু ক্ষেত্রে বাজারে প্রবেশাধিকার দিয়েছে। সূত্রের খবর, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র কাঠামোর আওতায় কৃষি ও দুগ্ধ খাত সুরক্ষিতই থাকবে (Agriculture Dairy)।

    চুক্তির অংশ

    এই চুক্তির অংশ হিসেবে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সম্ভাব্যভাবে ভেনেজুয়েলা থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করবে—এমন দাবিও করেছেন ট্রাম্প। তবে ভারতীয় সরকারি সূত্র এই দাবি খারিজ করে ‘মানুষ-প্রথম’ এবং বাজারনির্ভর জ্বালানি নিরাপত্তা নীতির কথা আবারও একবার জানিয়ে দিয়েছে মার্কিন কর্তাদের। সরকারি এক শীর্ষ কর্তা বলেন, “যে বাজারে সবচেয়ে ভালো চুক্তি পাওয়া যাবে এবং যেসব সংস্থা নিষেধাজ্ঞার আওতায় নেই, সেখান থেকেই আমরা তেল কিনব। আমাদের কৌশল নির্ধারিত হবে বাজারদরের ভিত্তিতে।” বিশ্বের তৃতীয় (US Trade Deal) বৃহত্তম তেল আমদানিকারী দেশ ভারত বর্তমানে রুশ অপরিশোধিত তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারত দৈনিক প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল রুশ তেল আমদানি করে, যা মোট আমদানির এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি। অন্তত এমনটাই জানিয়েছে বৈশ্বিক বাণিজ্য পর্যবেক্ষক সংস্থা ক্লেপলারের তথ্য।

    ভারতের অবস্থান

    এই অবস্থান ভারতের পরিশোধন শিল্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপেও প্রতিফলিত হয়েছে। ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নিষেধাজ্ঞামুক্ত সরবরাহকারীদের মাধ্যমে ছাড়ে রুশ অপরিশোধিত তেল কেনা আবার শুরু করেছে এবং সেই তেল গুজরাটের জামনগর শোধনাগারে পাঠানো হচ্ছে। দেশের বৃহত্তম রিফাইনারি সংস্থাটি আফ্রাম্যাক্স ট্যাঙ্কার ভাড়া করেছে এবং রুশ এক্সপোর্টের মতো সংস্থা থেকে তেল সংগ্রহ করে দৈনিক ৬ লক্ষ ৬০ হাজার ব্যারেল ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিটে সরবরাহ করছে, যা মূলত অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটায় (Agriculture Dairy)। আধিকারিকরা বলেন, “নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলি থেকে ভারত তেল কিনবে না, তবে ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় সেখান থেকে আমদানি পুনরায় শুরু হবে।” এক আধিকারিক বলেন, “নিষেধাজ্ঞা থাকাকালীন আমরা ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনিনি। এখন নিষেধাজ্ঞা উঠে গিয়েছে, তাই আমরা কিনব (US Trade Deal)।”

    ট্রাম্পের দাবি

    ট্রাম্পের আরও দাবি, ভারত ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে—যার মধ্যে জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষি, কয়লা ও অন্যান্য খাত অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি শুল্ক ও অশুল্ক বাধা তুলে নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। ভারতীয় আধিকারিকদের বক্তব্য, এই বিপুল অঙ্কটি মূলত দীর্ঘমেয়াদি বিমান কেনা এবং সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকে নির্দেশ করে, তাৎক্ষণিক আমদানির বাধ্যবাধকতাকে নয় (Agriculture Dairy)। এর আগে এক আধিকারিক সংবাদ মাধ্যমে বলেছিলেন, “মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি ওষুধ, টেলিকম, প্রতিরক্ষা, পেট্রোলিয়াম ও বিমান খাতের মতো ক্ষেত্রগুলির অন্তর্ভুক্ত। এটি বহু বছরের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে।” সরকারের দাবি, প্রস্তাবিত এই চুক্তি ভারতের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। বাণিজ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে নভেম্বর সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রফতানি বছরে প্রায় ১৬ শতাংশ বেড়ে ৮৫.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতের আমদানি হয়েছে ৪৬.০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (US Trade Deal)।

    তবে আপাতত নয়াদিল্লি স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিচ্ছে, রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে সংবেদনশীল কৃষি খাতগুলিকে আলোচনার টেবিলের বাইরে রাখা হবে। বার্তা পরিষ্কার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়তে ভারত আগ্রহী হলেও, দেশের কৃষকদের জীবিকার (Agriculture Dairy) সঙ্গে কোনওভাবেই আপস করা হবে না।

     

  • DRDO SFDR Test: র‌্যামজেট প্রযুক্তিতে যুগান্তকারী অগ্রগতি, ডিআরডিও-র পরীক্ষায় নতুন মাইলফলক ভারতের

    DRDO SFDR Test: র‌্যামজেট প্রযুক্তিতে যুগান্তকারী অগ্রগতি, ডিআরডিও-র পরীক্ষায় নতুন মাইলফলক ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে ভারত আরও এক ধাপ এগোল। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) সফলভাবে সলিড ফুয়েল ডাক্টেড র‌্যামজেট (SFDR) প্রযুক্তির পরীক্ষা চালিয়েছে। বিশ্বে হাতে গোনা কয়েকটি দেশই এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করেছে। সেই এলিট গ্রুপের নবতম সদস্য হল ভারত।

    ডিআরডিও সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ওড়িশার উপকূলবর্তী চাঁদিপুরে অবস্থিত ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ (ITR)-এ এই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এই সাফল্যের ফলে ভারত সেই বিশেষ দেশগুলির তালিকায় প্রবেশ করল, যারা র‌্যামজেট-চালিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির অধিকারী। এই প্রযুক্তি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দীর্ঘপাল্লার আকাশ-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    র‌্যামজেট প্রযুক্তি ঠিক কী?

    র‌্যামজেট একটি এয়ার-ব্রিদিং জেট ইঞ্জিন, যেখানে প্রচলিত জেট ইঞ্জিনের মতো ঘূর্ণায়মান যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে না। ক্ষেপণাস্ত্রের নিজস্ব উচ্চগতিকে ব্যবহার করে বাতাসকে সংকুচিত (কমপ্রেসড্) করা হয়। সলিড ফুয়েল ডাক্টেড র‌্যামজেটে কঠিন জ্বালানি নিয়ন্ত্রিতভাবে জ্বালানো হয় এবং বাইরের বাতাস ইঞ্জিনের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ গতিতে শক্তিশালী থ্রাস্ট সরবরাহ করে। প্রচলিত রকেট মোটর যেখানে দ্রুত জ্বালানি পুড়িয়ে গতি হারায়, সেখানে র‌্যামজেট-চালিত ক্ষেপণাস্ত্র দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চগতিতে উড়তে পারে— বিশেষ করে শেষ পর্যায়ে। ফলে এগুলি আরও দ্রুত, অধিক কৌশলী এবং শত্রু বিমান দ্বারা এড়ানো কঠিন হয়ে ওঠে।

    কীভাবে পরীক্ষা চালাল ডিআরডিও?

    ডিআরডিও জানিয়েছে, পরীক্ষার সময় প্রথমে একটি ভূমিভিত্তিক বুস্টারের সাহায্যে ক্ষেপণাস্ত্রটিকে নির্দিষ্ট গতিতে পৌঁছানো হয়। নির্ধারিত ম্যাক সংখ্যায় পৌঁছানোর পর র‌্যামজেট সিস্টেম সক্রিয় হয়। পরীক্ষার সময় নজেলহীন বুস্টার, সলিড ফুয়েল ডাক্টেড র‌্যামজেট মোটর এবং ফুয়েল ফ্লো কন্ট্রোলার-সহ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সাব-সিস্টেম পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করেছে বলে জানিয়েছে ডিআরডিও। ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ ও কর্মক্ষমতা পর্যবেক্ষণের জন্য বঙ্গোপসাগর উপকূলে একাধিক উন্নত ট্র্যাকিং যন্ত্র মোতায়েন করা হয়েছিল। উড়ানের সময় সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রযুক্তির সাফল্য নিশ্চিত করা হয়েছে এবং প্রোপালশন ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে এই পরীক্ষায়। ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ল্যাবরেটরি (DRDL), হাই এনার্জি ম্যাটেরিয়ালস রিসার্চ ল্যাবরেটরি (HEMRL), রিসার্চ সেন্টার ইমারাত (RCI) এবং ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ (ITR)-সহ ডিআরডিও-র একাধিক ল্যাবের শীর্ষ বিজ্ঞানীরা সরাসরি এই পরীক্ষার তত্ত্বাবধান করেন।

    কেন ভারতের জন্য এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাফল্যের কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বড়। র‌্যামজেট-চালিত আকাশ-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র অনেক দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উচ্চ শক্তি বজায় রাখে। এর ফলে যুদ্ধবিমানগুলি বিয়ন্ড-ভিজ্যুয়াল-রেঞ্জ (BVR) যুদ্ধে আরও বেশি সুবিধা পাবে। যুদ্ধবিমানের পাইলটরা বিয়ন্ড-ভিজ্যুয়াল-রেঞ্জ যুদ্ধে শত্রু বিমানের বিরুদ্ধে আরও আগে এবং আরও নিরাপদ দূরত্ব থেকে আক্রমণ চালাতে পারবেন।

    কঠিন প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ জয়

    বিশ্বজুড়ে খুব কম দেশই এই জটিল প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করতে পেরেছে, কারণ অধিক উচ্চগতিতে ক্ষেপণাস্ত্রে স্থিতিশীল দহন বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন প্রকৌশলগত চ্যালেঞ্জ। ভারতের এই সাফল্য বিদেশি প্রযুক্তির ওপর ভারতের নির্ভরতা কমাবে এবং স্বদেশি প্রতিরক্ষা ক্ষমতাকে আরও মজবুত করবে। ডিআরডিও সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতের একাধিক ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পে ব্যবহৃত হবে, যা ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধক্ষমতা বহুগুণ বাড়াবে এবং উন্নত প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে।

  • Mamata on CEC Impeachment: জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব স্রেফ একটা রাজনৈতিক কৌশল মরিয়া মমতার?

    Mamata on CEC Impeachment: জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব স্রেফ একটা রাজনৈতিক কৌশল মরিয়া মমতার?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংঘাত আরও তীব্র করল তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) টিএমসি ইঙ্গিত দিয়েছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু করার সম্ভাবনা নিয়ে তারা অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করতে পারে। বাংলায় এসআইআর শুরুর পর থেকেই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নানা ইস্যুতে নিশানা করেছেন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata on CEC Impeachment)। মঙ্গলবার বঙ্গ ভবনে সাংবাদিক বৈঠকের সময় তিনি বললেন, তাঁরা চান জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্ট হোক। তবে, এর জন্য যা প্রয়োজন, তা করার ক্ষমতা মমতার নেই, বলেই অভিমত বিশেষজ্ঞদের। এর কোনও রাজনৈতিক ও আইনি ব্যাখ্যাও নেই। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, নির্বাচনের আগে রাজ্যে সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশের মুখে দেশের সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষের উপর চাপ সৃষ্টির জন্য তৃণমূল পরিকল্পনা করে এই মিথ্যা কৌশল দেখাচ্ছে।

    তৃণমূলের অবস্থান

    দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করে তৃণমূলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে সাংবাদিকদের বলেন, “যেভাবে এসআইআর প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভুল। এতে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার বিপন্ন হচ্ছে। আমরা এই বিষয়টি নিয়ে বিরোধী দলগুলির সঙ্গে আলোচনা করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের এমপিচমেন্টের বিষয়টি বিবেচনা করছি।” এর আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে নির্বাচিতভাবে তৃণমূল বিধায়কদের কেন্দ্রগুলিকে নিশানা করা হচ্ছে। মমতার অভিযোগ, বিজেপি-নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রগুলিতে যেখানে মাত্র ৩,০০০–৪,০০০ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, সেখানে তৃণমূল বিধায়কদের আসনে ৪০,০০০ থেকে শুরু করে এক লক্ষ পর্যন্ত নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। নিজের ভবানীপুর কেন্দ্রের উদাহরণ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, খসড়া ভোটার তালিকা থেকেই প্রায় ৪০,০০০ নাম বাদ পড়েছে এবং চূড়ান্ত তালিকায় তা এক লক্ষে পৌঁছতে পারে। তাঁর আরও দাবি, গোটা রাজ্যে প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম কোনও যথাযথ আলোচনা ছাড়াই খসড়া তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

    নির্বাচন কমিশনের অবস্থান

    অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন সব অভিযোগ স্পষ্টভাবে খারিজ করেছে। কমিশনের বক্তব্য, এসআইআর একটি সংবিধানস্বীকৃত ও নিয়মমাফিক প্রক্রিয়া, যার উদ্দেশ্য হল নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি করা। কমিশন দাবি করেছে, এই প্রক্রিয়া সব কেন্দ্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। সোমবারের বৈঠক সম্পর্কে ওয়াকিবহাল সূত্র জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী একাধিকবার পক্ষপাতের অভিযোগ তুললেও কমিশনের শীর্ষ কর্তারা সংযত থেকে আইনি কাঠামোর ব্যাখ্যা দেন। একই সঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে বাধা, অফিস ভাঙচুর বা আধিকারিকদের কাজে হস্তক্ষেপ হলে কঠোর আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

    রাহুলের পাশে মমতা!

    কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বারবার বলছেন, বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে রেট্রোস্পেকটিভ আইন আনা হবে। সেকথা জানিয়ে সাংবাদিকরা মমতার কাছে জানতে চান, আপনি কি তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেন? বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কি ভবিষ্যতে কোনও আইন আনা হতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কোনও কিছু যদি জেনুইন হয়, প্র্যাকটিক্যাল হয় এবং জনতার ভালোর জন্য হয়। আমরাও চাইব তাঁর ইমপিচমেন্ট হোক। আমাদের নম্বর নেই। কিন্তু, ইমপিচমেন্ট তো হতে পারে। ধারা তো রয়েছে। রেকর্ড তো হয়ে যাবে। উনি যদি এমন করেন, তবে আমরা আমাদের সাংসদদের সঙ্গে আলোচনা করে জনগণের স্বার্থে এককাট্টা হয়ে কাজ করি। এতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই।”

    রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা তৃণমূলের

    মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদটি একটি সাংবিধানিক পদ। ফলত, সাংবিধানিক পদে কেউ থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনতে গেলে অন্তত ১০০ জন সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন। তবে, মৌসম নুরের ইস্তফার পর তৃণমূলের সাংসদ সদস্য সংখ্যা ৪১। সেই জায়গা থেকে যদি তৃণমূল এই লক্ষ্যে এগোয়, তাহললে সম্ভবত ইন্ডি ব্লকের অনেক দলকেই কাছে চাইবে তৃণমূল। এক্ষেত্রে অখিলেশের সমাজবাদী পার্টিকে ঘাসফুল শিবির পাশে পাবে বলে মনে করছে তৃণমূল। এই জায়গা থেকে রাজনৈতিক ঘূর্ণিতে দুটি দিক উঠে আসছে। সূত্রের খবর, এই ইম্পিচমেন্টের জন্য তৃণমূলের উদ্যোগ নেওয়ার ব্যাপারটি, বিজেপি বিরোধী শিবির ইন্ডি ব্লকে তৃণমূলকে উজ্জ্বল জায়গায় রাখবে।

    বিরোধী ইন্ডি জোটের অন্দরেও বিতর্ক

    এই ইমপিচমেন্ট-সংক্রান্ত আলোচনা নতুন করে বিরোধী ইন্ডি জোটের অন্দরেও বিতর্ক উস্কে দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, নির্বাচন কমিশনের উপর চাপ বাড়াতেই কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী শরিকদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছে তৃণমূল। তবে সংবিধান অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ করতে হলে সংসদের উভয় কক্ষে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন, যা রাজনৈতিক ও আইনি দিক থেকে অত্যন্ত কঠিন প্রক্রিয়া।

    মমতার নাটক, অভিমত শুভেন্দুর

    এই পরিস্থিতিতে বিজেপি নেতা ও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফর ও ইমপিচমেন্ট প্রসঙ্গকে “নাটক” বলে কটাক্ষ করেন। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘ইমপিচমেন্টের মানে জানেন উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়)? কত সংখ্যা লাগে জানেন? ইমপিচমেন্ট কীভাবে পাশ করাতে হয় জানেন? কত সাংসদের ভোট লাগে জানেন? দুভার্গ্য, ১৫ বছরের মুখ্যমন্ত্রী, সাতবারের সাংসদ ইমপিচমেন্টের পদ্ধতিই জানেন না। সকাল থেকে উনি শুধু মিথ্যাচারের ন্যারেটিভ তৈরি করছেন।’ বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ভোটার তালিকা সংশোধন ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে ইমপিচমেন্টের হুমকি ততই রাজ্য রাজনীতির বড় ফ্ল্যাশপয়েন্ট হয়ে উঠতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

    ইমপিচমেন্ট সম্ভব নয়

    আইনজ্ঞরা বলছেন, সিইসি–কে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। এটা একটা স্বশাসিত সংস্থা। তাঁর অপসারণের জন‍্য সংবিধানের ৩২৪(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পাশ করাতে হবে। এর জন্য সংসদের দুই কক্ষেই দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। যদিও এই সংখ্যা বিরোধীদের কাছে নেই। ফলে জ্ঞানেশকে এখনই সরানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে না। তবে বাংলা–সহ দেশের পাঁচটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা ভোটের আগে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে আর নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে ভুল বার্তা দিতেই মমতার এই পদক্ষেপ। বিজেপির দাবি, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের জন্য একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে তৃণমূল।

  • Adani Defence: মেক ইন ইন্ডিয়া প্রকল্পে গতি, ভারতে হেলিকপ্টার উৎপাদন বাড়াতে আদানি ডিফেন্স–লিওনার্দোর সমঝোতা

    Adani Defence: মেক ইন ইন্ডিয়া প্রকল্পে গতি, ভারতে হেলিকপ্টার উৎপাদন বাড়াতে আদানি ডিফেন্স–লিওনার্দোর সমঝোতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতে বড়সড় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়ে আদানি ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেস ও ইতালির প্রতিরক্ষা সংস্থা লিওনার্দো একটি কৌশলগত অংশীদারিত্বের ঘোষণা করেছে। এই অংশীদারিত্বের আওতায় ভারতে একটি সম্পূর্ণ সমন্বিত হেলিকপ্টার উৎপাদন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। দুই সংস্থার মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (MoU) অনুযায়ী, ভারতে সামরিক হেলিকপ্টারের উন্নয়ন, উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে ভারতকে ভবিষ্যতে রোটরক্রাফ্ট উৎপাদনের একটি বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার কথা ভাবা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ক্রমবর্ধমান অপারেশনাল চাহিদা পূরণ করবে। একই সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ ক্ষেত্রে মোদি সরকারের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করবে।

    সহযোগিতার মূল লক্ষ্য

    সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে এই সহযোগিতার মূল লক্ষ্য হবে লিওনার্দোর উন্নত সামরিক হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ভারতীয় বাহিনীর চাহিদা পূরণ করা। প্রকল্পটির অধীনে ধাপে ধাপে দেশীয়করণ (indigenisation), ভারতে পূর্ণাঙ্গ মেইনটেন্যান্স, রিপেয়ার অ্যান্ড ওভারহল (MRO) সুবিধা স্থাপন এবং পাইলট প্রশিক্ষণ পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। ভবিষ্যতে এই ইকোসিস্টেমটি অসামরিক হেলিকপ্টার বাজারের চাহিদা পূরণ এবং বৈশ্বিক সাপ্লাই চেনের সঙ্গেও যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। লিওনার্দোর হেলিকপ্টার নকশা ও প্রকৌশল দক্ষতার সঙ্গে আদানি ডিফেন্সের উৎপাদন, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রতিরক্ষা শিল্পে অভিজ্ঞতা মিলিয়ে একটি শক্তিশালী, হেলিকপ্টার উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের মতে, এই প্রকল্প প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি বাড়ানোর পাশাপাশি প্রকৌশল, উৎপাদন, লজিস্টিকস ও রক্ষণাবেক্ষণ পরিষেবায় হাজার হাজার উচ্চদক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।

    মেক ইন ইন্ডিয়া প্রকল্পে গতি

    আদানি ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেসের ডিরেক্টর জিত আদানি বলেন, এই অংশীদারিত্ব একটি স্থিতিশীল ও ভবিষ্যতমুখী হেলিকপ্টার ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তাঁর মতে, বিশ্বমানের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং ভারতের শিল্পগত গতি একত্রিত হয়ে দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সংযোজন, দক্ষ কর্মসংস্থান ও কৌশলগত আত্মনির্ভরতা নিশ্চিত করবে। আদানি ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেসের সিইও আশিস রাজবংশী জানান, আগামী এক দশকে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজন হতে পারে ১,০০০টিরও বেশি হেলিকপ্টার। এই অংশীদারিত্ব দেশীয়করণ প্রক্রিয়া দ্রুততর করবে, অভ্যন্তরীণ সাপ্লাই চেনকে শক্তিশালী করবে এবং ভারতকে বিশ্বমানের হেলিকপ্টার উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। লিওনার্দো হেলিকপ্টার্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জিয়ান পিয়েরো কুটিল্লো বলেন, ভারতের রোটরক্রাফ্ট শিল্প শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দেশটির উদ্যোগে সহায়তা করতে পেরে তারা আনন্দিত। তাঁর বক্তব্য, এই সহযোগিতার মাধ্যমে দুই সংস্থার পরিপূরক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ভারত আধুনিক হেলিকপ্টার প্রযুক্তি ও উন্নত অপারেশনাল সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে। এই ঘোষণা ভারতের ক্রমবিকাশমান মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা শিল্পে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি একদিকে প্রতিরক্ষা স্বনির্ভরতা জোরদার করবে, অন্যদিকে ভারতকে বৈশ্বিক স্তরে হেলিকপ্টার উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের একটি বিশ্বাসযোগ্য কেন্দ্রে পরিণত করার ভিত্তি তৈরি করবে।

  • Census 2027: এবার জনগণনা হবে ডিজিটালি, কী সুবিধা হবে জানেন?

    Census 2027: এবার জনগণনা হবে ডিজিটালি, কী সুবিধা হবে জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জনগণনা ২০২৭ (Census 2027) হবে সম্পূর্ণরূপে একটি ডিজিটাল কাঠামোর ওপর, যা ভারতের জনসংখ্যা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ ও নজরদারির পদ্ধতিতে এক বড় (National Coding System) রূপান্তরের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও সেনসাস কমিশনারের তরফে জারি করা সরকারি সার্কুলার অনুযায়ী, এই জনগণনায় মাঠপর্যায়ের কাজ ও তদারকি সহজ করতে মোবাইল প্ল্যাটফর্ম, কেন্দ্রীভূত ওয়েব পোর্টাল এবং রিয়েল-টাইম ডেটা ট্রান্সমিশনের ওপর নির্ভর করা হবে।

    ডিজিটালি পরিচালনার জন্য নকশা (Census 2027)

    নথিগুলিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে জনগণনা ২০২৭, আগের জনগণনাগুলির কেবল ডিজিটাল সংস্করণ নয়, বরং এটি এমন একটি ব্যবস্থা, যা শুরু থেকেই ডিজিটালি পরিচালনার জন্য নকশা করা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় তথ্যসংগ্রহ, প্রশিক্ষণ, ভৌগোলিক তথ্য ও নজরদারিকে একীভূত করে একটি একক জাতীয় কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে। সার্কুলার অনুযায়ী, তথ্য সংগ্রহ করা হবে তথ্যসংগ্রাহকদের ব্যবহৃত মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে। এর পাশাপাশি নাগরিকদের জন্য স্ব-তথ্য প্রদানের ব্যবস্থাও থাকবে। পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হবে সেনসাস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড মনিটরিং সিস্টেম (CMMS) এবং হাউজিং লিস্টিং ব্লক ক্রিয়েশন (HLBC) ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির সাহায্যে রিয়েল-টাইমে তথ্য পাঠানো, মাঠপর্যায়ের অগ্রগতি সরাসরি পর্যবেক্ষণ এবং জেলা, রাজ্য ও জাতীয় স্তরে কেন্দ্রীভূত তদারকি সম্ভব হবে। আধিকারিকদের মতে, এই কাঠামোর লক্ষ্যই হল, কাজের সময় কমানো, ত্রুটি হ্রাস করা এবং পুরো জনগণনা প্রক্রিয়ায় জবাবদিহি বাড়ানো।

    ডিজিটাল রোলআউট

    ডিজিটাল রোলআউটের পাশাপাশি, দেশজুড়ে প্রতিটি প্রশাসনিক ও আবাসিক একককে একরূপভাবে শনাক্ত করার জন্য একটি নতুন জাতীয় অবস্থান-কোডিং কাঠামোও চূড়ান্ত করা হয়েছে (National Coding System)। এই কোডিং ব্যবস্থায় প্রতিটি এলাকাকে একটি সহজ কিন্তু স্বতন্ত্র সংখ্যাসূচক পরিচিতি নম্বর দেওয়া হবে, যা তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও বিশ্লেষণের সময় মূল রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এই কাঠামো অনুযায়ী, শনাক্তকারী কোডগুলি স্তরভিত্তিকভাবে নির্ধারিত হবে—রাজ্য ও জেলা থেকে শুরু করে শহর, গ্রাম, ওয়ার্ড এবং তথ্যসংগ্রহ ব্লক পর্যন্ত—যার ফলে ডিজিটাল ম্যাপিং ও তথ্যের সমন্বয় সহজ হবে (Census 2027)। সার্কুলার অনুযায়ী, শহুরে ওয়ার্ডগুলিকে “০০০১” থেকে ধারাবাহিক নম্বর দেওয়া হবে। আইনসম্মত শহরের সঙ্গে সংযুক্ত আউটগ্রোথ বা সংলগ্ন বসতিগুলিকে তাদের মূল নগর এককের সঙ্গে সংযুক্ত ক্রমান্বিত কোড দেওয়া হবে।

    ডেটাবেসে শ্রেণিবিন্যাসের স্পষ্টতা ও পুনরাবৃত্তি এড়াতে

    সামঞ্জস্য বজায় রাখতে, ২০১১ সালের জনগণনায় থাকা প্রশাসনিক এককগুলির পূর্ববর্তী শনাক্তকারী কোড অপরিবর্তিত থাকবে। নতুনভাবে গঠিত জেলা, রাজ্য ও স্থানীয় সংস্থাগুলিকে একটি কেন্দ্রীভূত জুরিসডিকশন পোর্টালের মাধ্যমে তৈরি সংক্ষিপ্ত ক্রমান্বিত কোড বরাদ্দ করা হবে। জাতীয় ডেটাবেসে শ্রেণিবিন্যাসের স্পষ্টতা ও পুনরাবৃত্তি এড়াতে গ্রাম, বনগ্রাম, আইনসম্মত শহর ও সেনসাস টাউনের জন্য পৃথক সংখ্যাসূচক পরিসর নির্ধারণ করা হয়েছে (Census 2027)। গণনা সংক্রান্ত সার্কুলারগুলিতে একটি বিস্তৃত ও মানসম্মত প্রশিক্ষণ কাঠামোর কথাও বলা হয়েছে, যার লক্ষ্য একটি ডিজিটালি দক্ষ কর্মীবাহিনী তৈরি করা। এই প্রশিক্ষণ হবে ‘ক্যাসকেড মডেলে’, যেখানে জাতীয় স্তরের প্রশিক্ষকরা মাস্টার ট্রেনারদের প্রশিক্ষণ দেবেন, এবং মাস্টার ট্রেনারেরা মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে তথ্যসংগ্রাহক ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ দেবেন।

    বিশ্বাসযোগ্য জনগণনা

    নির্দেশিকা অনুযায়ী, লক্ষ্য হল এমন একটি উচ্চদক্ষ ও অনুপ্রাণিত কর্মীবাহিনী গড়ে তোলা, যারা নির্বিঘ্ন, নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্য জনগণনা সম্পন্ন করতে পারবে। এতে ডিজিটাল সরঞ্জাম, তথ্যের অখণ্ডতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অনুশীলনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে (Census 2027)। হাউস লিস্টিং ও হাউজিং পর্যায়কে জনগণনা ২০২৭-এর ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সার্কুলারে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, মাঠপর্যায়ের সকল স্তরের কর্মীদের মধ্যে জনগণনার ধারণা, সংজ্ঞা ও প্রশ্নাবলি সম্পর্কে স্পষ্ট ও অভিন্ন বোঝাপড়া থাকা জরুরি।তথ্যসংগ্রাহক ও সুপারভাইজারদের সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য পেশাদারিত্ব ও ‘সেবা ভাব’ নিয়ে পরিচালনা করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এতে নৈতিক আচরণ ও জনআস্থাকে জনগণনার মূল নীতির অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সার্কুলারে বিস্তারিত সময়সূচি ও পরিকাঠামোগত (National Coding System) প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ রয়েছে। দেশজুড়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নির্ধারিত হয়েছে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ এর মধ্যে। মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু হওয়ার অন্তত এক সপ্তাহ আগে সব তথ্যসংগ্রাহক ও সুপারভাইজারের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হবে (Census 2027)।

    প্রশিক্ষণস্থলের সুবিধা

    ব্যাচের আকার, শ্রেণিকক্ষের সময়কাল এবং প্রশিক্ষণস্থলের সুবিধা—যেমন বিদ্যুৎ সরবরাহ, ইন্টারনেট সংযোগ ও অডিও-ভিজুয়াল সরঞ্জাম—সব কিছুই মানসম্মত করা হয়েছে, যাতে সব রাজ্যে প্রশিক্ষণের গুণগত মান একরূপ থাকে। প্রশিক্ষণে উপস্থিতি, অগ্রগতি ও কর্মদক্ষতা ডিজিটালভাবে সিএমএমএস পোর্টালের মাধ্যমে নজরদারি করা হবে। ফলে প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়াটিও জনগণনা ২০২৭-এর রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থার অংশ হয়ে উঠবে (National Coding System)।

     

  • Supreme Court to WhatsApp: “নিয়ম মানতে না পারলে ভারত ছাড়ুন”—হোয়াটসঅ্যাপের প্রাইভেসি নীতিতে মেটাকে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

    Supreme Court to WhatsApp: “নিয়ম মানতে না পারলে ভারত ছাড়ুন”—হোয়াটসঅ্যাপের প্রাইভেসি নীতিতে মেটাকে কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হোয়াটসঅ্যাপের বিতর্কিত প্রাইভেসি নীতি নিয়ে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court to WhatsApp) তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়ল মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থা মেটা। আমেরিকার এই মেসেজিং অ্যাপ সংস্থার গোপনীয়তা সংক্রান্ত নীতি নিয়ে ক্ষোভপ্রকাশ করলেন স্বয়ং দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। সুপ্রিম কোর্টের তরফে মেটা সংস্থাকে কড়া ভাষায় বলা হয়, ব্যবহারকারীদের তথ্য বাণিজ্যিক উদ্দেশে ব্যবহার করা যায় না।এ দিন, (৩ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত মার্কিন সংস্থাকে সতর্ক করে বলেন, “আমাদের দেশের গোপনীয়তা নিয়ে খেলা করতে পারেন না, আমরা নিজেদের তথ্যের একটা ডিজিটও শেয়ার করতে দেব না।”

    গোপনীয়তা সংক্রান্ত নীতির অপব্যবহার হতে পারে

    হোয়াট্‌সঅ্যাপের (WhatsApp Policy) হয়ে সওয়াল করা কৌঁসুলি আদালতে যুক্তি দেন যে, আন্তর্জাতির নিয়মের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই তাঁরা গোপনীয়তার নীতি তৈরি করেছেন। মেটার তরফে জানানো হয়, সংস্থার অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রেই তথ্য আদানপ্রদান করা হয়। তবে এই যুক্তি মানতে চায়নি শীর্ষ আদালত। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় যে, বাণিজ্যিক কাজে তথ্য আদানপ্রদান করাকে মান্যতা দেওয়া হবে না। ভারতের গোপনীয়তার নীতি এবং ইউরোপের এই সংক্রান্ত নিয়ম যে অনেক আলাদা, তা-ও স্মরণ করিয়ে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। হোয়াট্‌সঅ্যাপের ২০২১ সালের গোপনীয়তার নীতি নিয়ে হওয়া একটি মামলার শুনানি ছিল মঙ্গলবার। সরকারের তরফে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা শীর্ষ আদালতে সওয়াল করে জানান, হোয়াট্সঅ্যাপের এই গোপনীয়তা সংক্রান্ত নীতির অপব্যবহার হতে পারে। ব্যবহারকারীদের তথ্য হোয়াট্‌সঅ্যাপ কী ভাবে বাণিজ্যিক লাভের জন্য কাজে লাগাচ্ছে, তাও তুলে ধরেন সলিসিটর জেনারেল।

    সংস্থার গোপনীয়তার নথি সাধারণ মানুষ বুঝবে কীভাবে

    মেটা ও হোয়াটসঅ্যাপের তরফে হাজির আইনজাবী মুকুল রোহতগি ও অখিল সিব্বল বলেন যে হোয়াটসঅ্যাপে সব মেসেজ ‘এন্ড টু এন্ড এনক্রিপ্টেড’ (end-to-end encrypted)। কোম্পানিও এই তথ্য বা মেসেজ দেখতে পায় না। ন্যাশনাল ল ট্রাইবুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন হোয়াট্‌সঅ্যাপ কর্তৃপক্ষও। একই সঙ্গে এদিন সেটিও শোনে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। দু’পক্ষের সওয়াল জবাবের পর মেটা কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, “যদি আপনারা আমাদের সংবিধান মেনে চলতে না-পারেন, তা হলে ভারত ছেড়ে চলে যান। আমরা নাগরিকদের গোপনীয়তার সঙ্গে আপস করতে দেব না।” হোয়াট্‌সঅ্যাপের গোপনীয়তা সংক্রান্ত নীতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, অনেক বিষয়ই স্পষ্ট নয়। সংস্থার গোপনীয়তার নথি এক জন সাধারণ মানুষ—যিনি কোনও আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলেন— তিনি বুঝতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্ন তোলে আদালত। হোয়াটসঅ্যাপ ও মেটা-র নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে শীর্ষ আদালত বলে, “যদি একজন গরিব মহিলা বা রাস্তার ধারের কোনও বিক্রেতা কিংবা এমন একজন ব্যক্তি যিনি শুধু তামিল বোঝেন, তারা কি এই নীতি বুঝতে পারবেন? কখনও কখনও আমাদেরও সমস্যা হয় আপনাদের নীতি বুঝতে… বিহারের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ কীভাবে বুঝবেন? এটা ব্যক্তিগত তথ্য চুরি। আমরা এটা অ্যালাও করব না।”

    মেটাকে কী কী বলল সুপ্রিম কোর্ট

    মঙ্গলবার অন্তর্বর্তী নির্দেশে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, পরবর্তী শুনানির আগে ব্যবহারকারীর কোনও তথ্য মেটার মাধ্যমে প্রকাশ্যে আনতে পারবে না হোয়াট্‌সঅ্যাপ। তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে হোয়াট্‌সঅ্যাপ এবং মেটা কর্তৃপক্ষকে বক্তব্য জানানোরও নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। শীর্ষ আদালতের তরফে এদিন হোয়াটসঅ্যাপ ও মেটা-কে ডেটা প্রাইভেসি, বিহেভিওরাল অ্যানালাইসিস এবং ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্ট নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। অন্তর্বর্তী পদক্ষেপ হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট হোয়াটসঅ্যাপকে ব্যবহারকারীদের কোনও তথ্য মেটার সঙ্গে ভাগ করতে বারণ করেছে। যতক্ষণ পর্যন্ত এই মামলার পুরো শুনানি হচ্ছে না, ততদিন পর্যন্ত তথ্য় শেয়ার করতে পারবে না হোয়াটসঅ্যাপ।

    কেন এই মামলা?

    হোয়াটসঅ্যাপ ২০২১ (WhatsApp Policy) সালে একটি প্রাইভেসি পলিসি এনেছিল যেখানে বলা হয়, হয় “মেনে নাও নয়তো বিদায় হও”। সেই সময় হোয়াটসঅ্যাপ তার গ্রাহকদের বাধ্য করেছিল তাদের নতুন শর্তাবলী মেনে নিতে, নয়তো অ্যাপ ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলেছিল। মেটার ওই পলিসির কারণে তাদের উপরে ২১৩.১৪ কোটি টাকা জরিমানা করেছিল ভারতের ‘কম্পিটিশন কমিশন’ (CCI)। কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনাল (NCLAT) সেই জরিমানার আদেশটিকেই বহাল রাখে। ট্রাইব্যুনালের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই মেটা ও হোয়াটসঅ্যাপ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়।

    মেটাকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ

    ওই মামলায় আদালত হোয়াটসঅ্যাপের মাদার কোম্পানি মেটাকে একটি হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। যেখানে স্পষ্ট করে বলতে হবে তারা বিজ্ঞাপনের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের কোনো তথ্য শেয়ার করবে না। অন্যথায় তাদের মামলাটি খারিজ করে দেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে তথ্য শেয়ার করা নিয়ে সিসিআই একটি পাল্টা আপিল করেছিল, যা ট্রাইব্যুনাল গ্রহণ করেছে। যদিও এর আগে ট্রাইব্যুনাল রায় দিয়েছিল যে কোম্পানিটি তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করেনি।

    সাংবিধানিক ব্যবস্থা নিয়ে ছেলেখেলা

    মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court to WhatsApp) এই বিষয়টিকে “সাংবিধানিক ব্যবস্থা নিয়ে ছেলেখেলা বলে বর্ণনা করেছে। আদালতের প্রশ্ন, যখন কোনো নীতি ‘মানলে মানো নাহলে যাও’—এভাবে জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়, তখন তাকে ব্যবহারকারীদের’স্বেচ্ছায় দেওয়া সম্মতি’ হিসেবে কীভাবে ধরা যায়? বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, এই কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে মূল সমস্যাটি হল তারা যে সম্মতি আদায় করেছে তা আসলে “তৈরি করা বা কৃত্রিম সম্মতি”। প্রধান বিচারপতি এই বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতাও ভাগ করেন। বলেন, “যদি হোয়াটসঅ্যাপে একজন চিকিৎসককে মেসেজ পাঠানো হয় যে আপনার সর্দি-কাশি হয়েছে এবং চিকিৎসক আপনাকে কিছু ওষুধ প্রেসক্রাইব করেন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আপনি ওই ওষুধের বিজ্ঞাপন দেখতে শুরু করেন।” সরকারের তরফে হাজির সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা হোয়াটসঅ্যাপের এই নীতিকে শোষণমূলক (exploitative) বলেই উল্লেখ করেন। এরপরই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “যদি আমাদের সংবিধান অনুসরণ করতে না পারেন, তাহলে ভারত ছেড়ে চলে যান। আমাদের নাগরিকদের গোপনীয়তা কোনওভাবে আপোস করতে পারব না।”

     

     

     

  • BJP: “সিপিআইএম নীতিকথা শোনায়, অথচ আমায় পঙ্গু করে দিয়েছে”, বললেন সদানন্দ মাস্টার

    BJP: “সিপিআইএম নীতিকথা শোনায়, অথচ আমায় পঙ্গু করে দিয়েছে”, বললেন সদানন্দ মাস্টার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলি (CPIM) গণতন্ত্র, বাক্‌স্বাধীনতা ও সহনশীলতা নিয়ে তাদের আদর্শগত প্রতিপক্ষদের প্রায়ই নীতিকথা শোনায়। কিন্তু বাস্তবে তারা নিজেরা যে কথা বলে, তা খুব কম ক্ষেত্রেই পালন করে। ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রাজ্যসভায় দেওয়া এক ভাষণে বিজেপি (BJP) সাংসদ সদানন্দন মাস্টার বর্ণনা করেন, কীভাবে গণতন্ত্র ও সহনশীলতার বুলি আওড়ানো সেই কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া (মার্ক্সবাদী)—সিপিআই(এম)—তাঁর রাজনৈতিক আদর্শের কারণেই তিন দশক আগে তাঁর দুই পা কেটে নিয়েছিল।

    সংসদের ভেতরে নিজের কৃত্রিম পা (BJP)

    সংসদের ভেতরে নিজের কৃত্রিম পা দেখিয়ে সাংসদ সদানন্দন মাস্টার বলেন, “এই দুটোই আমার পা। একসময় আমার শক্ত দুটি স্বাভাবিক পা ছিল। কিন্তু এখন হাঁটুর নীচে আমি কৃত্রিম পা ব্যবহার করি। কেন? কারণ আমি বারবার এই সংসদে গণতন্ত্রের কথা শুনি—গণতন্ত্র, গণতন্ত্র, গণতন্ত্র। কিন্তু যারা সবচেয়ে বেশি গণতন্ত্রের কথা বলে, তারাই ৩১ বছর আগে আমার ওপর হামলা চালিয়েছিল।” তিনি আরও বলেন, “কেরালায় সিপিআই(এম)-এর নেতাদের নির্দেশ অনুযায়ী তাঁদের কর্মীরা আমার বোনের বিয়ে ঠিক হওয়ার পর আমি যখন বাড়ি ফিরছিলাম, তখনই আক্রমণ করে। বোনের বিয়ে নিয়ে আলোচনা করে ফেরার পথে, একটি বাজারে বাস থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই দুষ্কৃতীরা আমায় ধরে ফেলে। তারা পেছন থেকে ধরে আমায় রাস্তায় ফেলে দেয় এবং আমার দু’পা কেটে নেয়। তারা তখন ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিচ্ছিল। তারা গণতন্ত্রের কথাই চিৎকার করছিল।”

    সিপিআই(এম)-এর ভন্ডামি

    সিপিআই(এম)-এর ভন্ডামি তুলে ধরে রাজ্যসভার ওই সাংসদ বলেন, “আমি এখানে এগুলো (কৃত্রিম পা) দেখাচ্ছি কারণ আপনাদের অসহিষ্ণুতাকে জাতির সামনে তুলে ধরতে চাই। আমি দেশবাসীকে দেখাতে চাই, সংসদ সদস্যদের দেখাতে চাই, গণতন্ত্র আসলে কী। আপনারা (সিপিআইএম) সব সময় গণতন্ত্রের কথা বলেন, সহনশীলতার কথা বলেন, মানবতার কথা বলেন, অথচ আপনাদের রাজনীতি দাঁড়িয়ে আছে রাজনৈতিক হিংসার ওপর। রাজনৈতিক হিংসা গণতন্ত্রের পক্ষে কখনওই ভালো নয়।” সদানন্দন মাস্টারের এই কৃত্রিম পা প্রদর্শনে ক্ষুব্ধ হয়ে সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিটাস সংসদের বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ তোলেন। তবে চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণন তাঁকে জানান, তাঁর দলের সাংসদরা যখন সংসদে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন, তখনও একই ধরনের কড়াকড়ি প্রয়োগ করা উচিত (BJP)।

    জীবনে মোড় ঘোরানো ঘটনা

    ১৯৯৪ সালে সি সদানন্দন মাস্টারের বয়স ছিল ৩০ বছর। তিনি তখন কেরালার মাট্টানুর পুরসভার পেরিঞ্চেরিতে অবস্থিত সরকার-অনুদানপ্রাপ্ত কুঝিক্কাল লোয়ার প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। ‘মাশ’ নামে পরিচিত সদানন্দন কমিউনিস্ট পরিবার থেকেই উঠে এসেছিলেন। তাঁর বাবা সিপিএমের  সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং তাঁর দাদা জেলা স্তরে ছাত্র সংগঠনের দায়িত্বে ছিলেন। সদানন্দন নিজেও ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত এসএফআইয়ের সক্রিয় সদস্য ছিলেন, যদিও স্কুলজীবন (CPIM) থেকেই তিনি সংঘ-সংক্রান্ত কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্নাতক পর্যায়ে তিনি কমিউনিস্ট মতাদর্শের প্রতি ঝুঁকলেও, আরএসএসের সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের ধারণা তাঁর মধ্যে রয়ে গিয়েছে। মালয়ালম কবি আক্কিথামের লেখা ‘ভারত দর্শনঙ্গল’ প্রবন্ধই তাঁর জীবনে মোড় ঘোরানো ঘটনা হয়ে ওঠে। ১৯৮৪ সালেই সদানন্দন মাস্টার আরএসএসে যোগ দেন। কমিউনিস্ট আদর্শ ছেড়ে সংঘের দিকে ঝোঁক নেওয়াটা বামপন্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। প্রথমে সিপিআই(এম) কর্মীরা তাঁকে সংঘ ছেড়ে কমিউনিস্ট দলে ফেরার জন্য চাপ দিতে থাকে। তিনি অস্বীকার করলে তারা বেছে নেয় হিংসার পথ (BJP)।

    বোনের বিয়ের প্রস্তুতি

    ১৯৯৪ সালের ২৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায়, তাঁর বোনের বিয়ের প্রস্তুতি নিয়ে কাকার বাড়ি থেকে ফেরার সময় বাস থেকে নামতেই কয়েকজন তাঁকে পেছন থেকে ধরে মাটিতে ফেলে দেয় এবং নির্মমভাবে মারধর করে। তারা ছিল সিপিআই(এম)-এর দুষ্কৃতী। তারা শুধু মারধর করেই থামেনি, নৃশংসভাবে তাঁর দুই পা কেটে নেয়। এই বর্বরতা চালানো হয়েছিল তাঁকে ‘শাস্তি’ দেওয়ার পাশাপাশি অন্যদের ভয় দেখাতে, যাতে কেউ কমিউনিস্ট শিবির ছাড়ার সাহস না পায়। কিন্তু সদানন্দন মাস্টার ভেঙে পড়েননি। বরং আরএসএস ছাড়ার বা কমিউনিস্ট দলে ফেরার বদলে তিনি জাতীয় সেবায় নিজেকে সম্পূর্ণভাবে উৎসর্গ করেছিলেন। ২০১৬ সালে তিনি বিজেপির টিকিটে কুথুপারাম্বা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর সাহস ও আদর্শিক দৃঢ়তার জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানান (CPIM)।

    ভারতীয় বিচার কেন্দ্রম

    তিনি কেরালায় ন্যাশনাল টিচার্স ইউনিয়নের রাজ্য সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি ‘দেশীয় অধ্যাপক বার্তা’ পত্রিকার সম্পাদক এবং আরএসএস-ঘনিষ্ঠ চিন্তাচর্চা প্রতিষ্ঠান ভারতীয় বিচার কেন্দ্রমের সঙ্গে যুক্ত। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁকে রাজ্যসভায় মনোনীত করেন। কেরালার ত্রিশূর থেকে রাজ্যসভা পর্যন্ত তাঁর যাত্রাপথ সাহসের প্রতীক। তিনি আজও জীবন্ত উদাহরণ, কীভাবে বাম-কমিউনিস্ট অসহিষ্ণুতা কেবল রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকেই নয়, গণতন্ত্রকেও পঙ্গু করে দেয়। কমিউনিস্টরা শুধু রাজনৈতিক হিংসায়ই লিপ্ত নয়, বরং সেই অপরাধীদের ‘নায়ক’ হিসেবেও তুলে ধরে। ২০২৫ সালের অগাস্টে সদানন্দন মাস্টারের ওপর হামলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত আটজন সিপিআই(এম) কর্মীর জন্য দলটি আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার আয়োজন করে। থালাসেরি সেশন আদালতের বাইরে এবং পরে মাট্টানুরে দোষীদের মালা পরানো, স্লোগান তোলা ও উল্লাসের দৃশ্য ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে। এই নৈতিক অধঃপতনের দৃশ্য ঘটেছিল মাট্টানুরের বিধায়ক ও প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী কে কে শৈলজার উপস্থিতিতে (BJP)। যদিও সদানন্দন মাস্টার কমিউনিস্ট হিংসার শিকার হয়ে বেঁচে আছেন, সিপিআই(এম)-এর ইতিহাস রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও দলত্যাগীদের নৃশংসভাবে দমন করার। গত কয়েক দশকে কেরালায় কমিউনিস্ট ক্যাডারদের হাতে বহু বিজেপি-আরএসএস নেতা-কর্মী খুন হয়েছেন (CPIM)।

     

  • Family Over Individual: ব্যক্তি নয়, পরিবারই কেন্দ্রে! মোদি-সরকারের কল্যাণমূলক কাঠামোর আদর্শিক ভিত্তি সমাজ

    Family Over Individual: ব্যক্তি নয়, পরিবারই কেন্দ্রে! মোদি-সরকারের কল্যাণমূলক কাঠামোর আদর্শিক ভিত্তি সমাজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিজেপি সরকারের কল্যাণমূলক কাঠামোর আদর্শিক ভিত্তি হল পরিবার, ব্যক্তি নয় (Family Over Individual)। একাকী বাঁচা যায় না, সবাইকে নিয়েই চলতে হয়। নরেন্দ্র মোদি সরকারের কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির নকশা ও বাস্তবায়ন এই নীতির উপরই গঠিত। প্রকল্পগুলির দিকে নজর রাখলে স্পষ্ট হয় যে বিজেপি সরকারের সামাজিক কল্যাণ দর্শন পশ্চিমি উদারবাদী ও সমাজতান্ত্রিক মডেলের ব্যক্তি-কেন্দ্রিক চিন্তাধারা থেকে একটি সচেতন আদর্শিক বিচ্যুতি ঘটিয়েছে। এই কাঠামোর কেন্দ্রে রয়েছে পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের দর্শন—যেখানে ব্যক্তি নয়, পরিবারকেই সমাজ, সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রের মৌলিক একক হিসেবে দেখা হয়।

    সরকারি প্রকল্পগুলির পরিকল্পনায় পরিবার

    বিজেপি সরকারের কল্যাণমূলক পরিকল্পনাগুলিতে এই আদর্শের প্রতিফলন স্পষ্ট। উদাহরণস্বরূপ, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (PMAY 2.0)-এর আওতায় যোগ্য পরিবারগুলিকে আর্থিক সহায়তা বা গৃহঋণের উপর সুদের ছাড় দেওয়া হয়। এখানে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় মহিলা, প্রবীণ নাগরিক এবং অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণির পরিবারগুলিকে। প্রকল্পটি ব্যক্তিকে নয়, সম্পূর্ণ পরিবারকে কেন্দ্র করেই পরিকল্পিত। একইভাবে জল জীবন মিশন, উজ্জ্বলা যোজনা এবং স্বচ্ছ ভারত মিশনের মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলিতেও পরিবারকেই মূল ফোকাস হিসেবে ধরা হয়েছে। পানীয় জল সরবরাহ করা হয় বাড়িতে, কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে নয়। পরিষ্কার রান্নার গ্যাস পুরো পরিবারের স্বাস্থ্য ও মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত। স্যানিটেশনকেও ব্যক্তিগত অধিকার নয়, বরং পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। স্বচ্ছ ভারত মিশনে গৃহস্থালির স্তরে শৌচালয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার উপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা দৈনন্দিন অভ্যাস, সামাজিক আচরণ এবং সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। এই সমস্ত উদ্যোগ মিলিয়ে একটি স্পষ্ট নীতিগত দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে ওঠে—যেখানে পরিবারকে সামাজিক পরিবর্তনের প্রধান একক হিসেবে দেখা হয়।

    আদর্শিক স্পষ্টতা, কাকতালীয় নকশা নয়

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবার-কেন্দ্রিক কল্যাণনীতি কোনও আকস্মিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং আদর্শিক স্পষ্টতার ফল। পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের ‘ইন্টিগ্রাল হিউম্যানিজম’ দর্শনে পরিবারকে সেই স্থান হিসেবে দেখা হয়েছে, যেখানে ব্যক্তি প্রথম সামাজিক মূল্যবোধ—দায়িত্ব, সহযোগিতা এবং প্রজন্মগত সম্মান—শেখে। এই দর্শন অনুযায়ী, কল্যাণমূলক নীতি মানুষের আত্মমর্যাদা ও স্বনির্ভরতাকে সমর্থন করবে, কিন্তু পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের বিকল্প হয়ে উঠবে না। সমালোচকদের উদ্দেশ্যে বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, এই দর্শন ব্যক্তি স্বাধীনতার বিরোধী নয়; বরং স্বাধীনতাকে দায়িত্ব ও ধর্মের সঙ্গে যুক্ত করে।

    কেন পরিবারকেই গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি সরকার?

    পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় পশ্চিমি সমাজে চরম ব্যক্তি-স্বাধীনতার ধারণার সমালোচনা করেছিলেন। তাঁর মতে, অতিরিক্ত ব্যক্তি-কেন্দ্রিকতা পারিবারিক বন্ধন দুর্বল করে এবং পারস্পরিক দায়িত্ববোধ ক্ষয় করে। এর ফলে পরিবার তার কার্যকর ভূমিকা হারায় এবং যত্ন ও দায়িত্বের ভার রাষ্ট্রের উপর পড়ে। এর বিপরীতে, ‘ধর্ম’-ভিত্তিক জীবনদর্শনের মাধ্যমে পরিবারকে সামাজিক ও জাতীয় দায়িত্ববোধের প্রশিক্ষণক্ষেত্র হিসেবে দেখা হয়েছে। এই দৃষ্টিভঙ্গিতে কল্যাণ কোনও বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিকে দেওয়া দান নয়, বরং সেই পরিবারগুলিকে সহায়তা করা, যারা সামাজিক সামঞ্জস্য ও সহযোগিতার ভিত্তি গড়ে তোলে। বিজেপির মতে, পরিবার-কেন্দ্রিক কল্যাণনীতির মাধ্যমে সরকার একটি গভীর সভ্যতাগত বার্তা দিচ্ছে—উন্নয়ন কেবল অর্থনৈতিক উন্নতি নয়, বরং শক্তিশালী পরিবারের মাধ্যমে সামাজিক সামঞ্জস্য পুনর্গঠন।

    বসুধৈব কুটুম্বকম ও একীভূত ভারত ভাবনা

    বিজেপি সরকারের পরিবার-কেন্দ্রিক (Family Over Individual) দৃষ্টিভঙ্গির পেছনে রয়েছে ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’—বিশ্ব এক পরিবার—এই ধারণা। এই ভাবনায় পরিবারই সামাজিক জীবনের কেন্দ্র, যেখানে মূল্যবোধ, দায়িত্ব ও অন্যের প্রতি যত্নের শিক্ষা শুরু হয়। পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় ভারতকে একটি সমন্বিত পরিবার হিসেবে দেখার কথা বলেছিলেন, যেখানে বৈচিত্র্যের মধ্যেও ঐক্য বজায় থাকে। ১৯৫১ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত ভারতীয় জনসংঘের নেতৃত্বে থাকা এই চিন্তাবিদ তাঁর দার্শনিক ও রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের মাধ্যমে বিজেপির আদর্শিক দিশা নির্ধারণ করে গিয়েছেন। বর্তমানে বিজেপি সরকারের কল্যাণমূলক কাঠামো সেই দর্শনেরই আধুনিক রূপ—যেখানে নীতি শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি স্বতন্ত্র ভারতীয় সামাজিক দর্শনের প্রতিফলন।

LinkedIn
Share