Category: বিজ্ঞান

Get updated Science and Research related news from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • ISRO NVS-03: আমজনতা থেকে সেনাবাহিনী, উপকৃত হবে কারা? এনভিএস-০৩ কেন ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?

    ISRO NVS-03: আমজনতা থেকে সেনাবাহিনী, উপকৃত হবে কারা? এনভিএস-০৩ কেন ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?

    সুশান্ত দাস

    মহাকাশ গবেষণায় আরও এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য ভারতের। দীর্ঘদিন ধরে কার্যত অকেজো হয়ে পড়া দেশের নিজস্ব স্যাটেলাইটভিত্তিক নেভিগেশন ব্যবস্থা নেভিগেশন উইথ ইন্ডিয়ান কনস্টেলেশন বা সংক্ষেপে ‘নাবিক’-কে (NavIC) পুনরুজ্জীবিত করার পথে বড় পদক্ষেপ করল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO)। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর রাত ১১টা ৫১ মিনিটে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হল এনভিএস-০৩ (NVS-03) স্যাটেলাইট।

    ইসরোর দ্বিতীয় প্রজন্মের নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিরিজের এই তৃতীয় উপগ্রহের সফল উৎক্ষেপণ দেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট-নির্ভর পজিশনিং, নেভিগেশন এবং টাইমিং (PNT) পরিষেবা— অর্থাৎ ব্যক্তি বা বস্তুর অবস্থান নির্ণয়, নেভিগেশন ও সময় নির্ধারণের পরিষেবা ফের চালু করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    চলতি বছরে এটি ইসরোর তৃতীয় মহাকাশ অভিযান। ইসরোর চেয়ারম্যান ভি নারায়ণন উৎক্ষেপণের পর সাংবাদিক বৈঠকে জানান, বর্তমানে ভারতের কাছে তিনটি কার্যকর নেভিগেশন স্যাটেলাইট রয়েছে। এনভিএস-০৩ সফলভাবে যুক্ত হওয়ায় ‘নাবিক’-এর পজিশনিং, নেভিগেশন এবং টাইমিং পরিষেবা পুনরায় চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সংখ্যক কার্যকর স্যাটেলাইট পাওয়া সম্ভব হবে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ ভারতের নিজস্ব ‘নাবিক’ ব্যবস্থা?

    ভারতের নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থা তৈরির ভাবনার পিছনে রয়েছে ১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধের অভিজ্ঞতা। সেই সময় পাকিস্তানি সেনার গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য পেতে সংঘর্ষপ্রবণ এলাকার মার্কিন জিপিএস (Global Positioning System) তথ্য ব্যবহারের চেষ্টা করেছিল ভারত। কিন্তু আমেরিকা সেই তথ্য দিতে অস্বীকার করে। এর ফলে যুদ্ধের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে বিদেশি নিয়ন্ত্রণাধীন নেভিগেশন ব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল থাকার ঝুঁকি স্পষ্ট হয়ে যায়।

    এই অভিজ্ঞতা থেকেই ভারত নিজস্ব আঞ্চলিক স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থা তৈরির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। ২০০৬ সালে সরকার ইন্ডিয়ান রিজিওনাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম (IRNSS) প্রকল্পে অনুমোদন দেয়। প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল সাতটি স্যাটেলাইট নিয়ে একটি নক্ষত্রমণ্ডল তৈরি করা। এর মধ্যে তিনটি স্যাটেলাইট থাকবে জিওস্টেশনারি অরবিটে এবং চারটি থাকবে ইনক্লাইন্ড জিওস্টেশনারি অরবিটে।

    ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫ হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় পৃথিবীর বিষুবরেখার উপরে স্থির অবস্থানে থাকা কক্ষপথকে বলা হয় জিওস্টেশনারি অরবিট। অন্যদিকে, ইনক্লাইন্ড জিওস্টেশনারি অরবিটে হল এমন একটি কক্ষপথ, যা পৃথিবীর ঘূর্ণনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আবর্তিত হলেও নিরক্ষরেখার তুলনায় কিছুটা হেলানো অবস্থায় থাকে।

    ২০১৩ সালের জুলাই মাসে আইআরএনএসএস-১এ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে এই প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে আরও ছয়টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করে প্রাথমিক সাতটি উপগ্রহের নক্ষত্রমণ্ডল সম্পূর্ণ করে ইসরো। পরবর্তীকালে এই ব্যবস্থারই নামকরণ করা হয় ‘নাবিক’।

    কী কী কাজে ব্যবহার করা যায় ‘নাবিক’?

    ‘নাবিক’ শুধুমাত্র সাধারণ জিপিএস-এর বিকল্প নয়, এর রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অসামরিক ও কৌশলগত ব্যবহার। এর মাধ্যমে যানবাহনের অবস্থান নির্ণয় ও ট্র্যাকিং, সামুদ্রিক নেভিগেশন, বিপর্যয় মোকাবিলা এবং সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।

    এই ব্যবস্থায় মূলত দু’ধরনের পরিষেবা রয়েছে—

    • ● স্ট্যান্ডার্ড পজিশনিং সার্ভিস (এসপিএস): সাধারণ নাগরিক এবং অসামরিক ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত নেভিগেশন পরিষেবা।

    • ● রেসট্রিক্টেড সার্ভিস (আরএস): নির্দিষ্ট অনুমোদিত ব্যবহারকারীদের জন্য এনক্রিপ্টেড পরিষেবা। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী-সহ কৌশলগত ক্ষেত্রে এই পরিষেবা ব্যবহার করা যায়।

    অর্থাৎ, দেশের সাধারণ নাগরিকের দৈনন্দিন নেভিগেশন থেকে শুরু করে সামরিক ক্ষেত্রে নির্ভুল অবস্থান নির্ণয়—দু’ক্ষেত্রেই ‘নাবিক’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    কেন প্রয়োজন হল দ্বিতীয় প্রজন্মের এনভিএস স্যাটেলাইট?

    প্রাথমিক আইআরএনএসএস স্যাটেলাইটগুলির উৎক্ষেপণ ২০১৬ সালের মধ্যেই সম্পূর্ণ হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেগুলির কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করে। মহাকাশে থাকা স্যাটেলাইটগুলির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশে ত্রুটি দেখা দেওয়ার কারণে ‘নাবিক’-এর পরিষেবা ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে।

    এই পরিস্থিতিতে পুরনো স্যাটেলাইটগুলির পরিবর্তে আরও উন্নত উপগ্রহ পাঠানোর পরিকল্পনা নেয় ইসরো। সেই পরিকল্পনার ভিত্তিতেই তৈরি হয় দ্বিতীয় প্রজন্মের নেভিগেশন স্যাটেলাইট বা এনভিএস (NVS) সিরিজ।

    নতুন প্রজন্মের স্যাটেলাইটগুলির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অ্যাটমিক ক্লক। পাশাপাশি, পুরনো এল৫ এবং এস ব্যান্ডের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে এল১ ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড। এই এল১ ব্যান্ডের সংযোজন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, বিশ্বের অধিকাংশ সাধারণ নেভিগেশন ব্যবস্থা এবং স্মার্টফোনে এই ফ্রিকোয়েন্সি বহুল ব্যবহৃত হয়।

    ফলে এল১ সিগন্যাল যুক্ত হওয়ার কারণে ‘নাবিক’-এর সঙ্গে স্মার্টফোন এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক নেভিগেশন ডিভাইসের সামঞ্জস্য বাড়তে পারে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারে দেশের নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থাকে আরও সহজলভ্য করে তোলার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    কেন কার্যত অকেজো হয়ে পড়েছিল ‘নাবিক’?

    দ্বিতীয় প্রজন্মের স্যাটেলাইট পাঠানোর কাজ শুরু হলেও পুরনো স্যাটেলাইটগুলির একের পর এক যান্ত্রিক সমস্যার কারণে ‘নাবিক’-এর স্বাধীন পজিশনিং পরিষেবা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

    ২০১৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে আইআরএনএসএস-১এ স্যাটেলাইটের তিনটি রুবিডিয়াম অ্যাটমিক ক্লক-ই বিকল হয়ে যায়। এর ফলে স্যাটেলাইটটি দিয়ে নির্ভুল অবস্থান নির্ণয়ের কাজ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীকালে সেটিকে মূলত মেসেজিং পরিষেবার জন্য ব্যবহার করা হয়।

    অন্যদিকে, ২০২৬ সালের ১৩ মার্চ ইসরো জানায়, আইআরএনএসএস-১এফ স্যাটেলাইটের অনবোর্ড অ্যাটমিক ক্লক কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, তার মাত্র তিন দিন আগেই স্যাটেলাইটটি তার নির্ধারিত ১০ বছরের কার্যক্ষমতার মেয়াদ সম্পূর্ণ করেছিল।

    একের পর এক স্যাটেলাইটে সমস্যা দেখা দেওয়ায় ‘নাবিক’-এর পিএনটি পরিষেবা দেওয়ার মতো কার্যকর উপগ্রহের সংখ্যা কমে দাঁড়ায় মাত্র তিনটিতে। সেগুলি হল আইআরএনএসএস-১বি, আইআরএনএসএস-১আই এবং এনভিএস-০১।

    কেন চারটি স্যাটেলাইট ছাড়া সম্ভব নয় নির্ভুল অবস্থান নির্ণয়?

    স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থায় কোনও গ্রাহকের ত্রিমাত্রিক অবস্থান অর্থাৎ অক্ষাংশ, দ্রাঘিমাংশ ও উচ্চতা নির্ণয়ের জন্য অন্তত চারটি কার্যকর স্যাটেলাইটের সিগন্যাল প্রয়োজন। এর পাশাপাশি, নেভিগেশন রিসিভারের নিজস্ব ঘড়ির ত্রুটিও সংশোধন করতে হয়।

    সাধারণভাবে চারটি স্যাটেলাইটের সিগন্যাল ব্যবহার করে রিসিভার তার অবস্থান এবং সময় সংক্রান্ত ভুল হিসাব সংশোধন করতে পারে। কিন্তু ‘নাবিক’-এর ক্ষেত্রে পিএনটি পরিষেবা দেওয়ার মতো কার্যকর স্যাটেলাইটের সংখ্যা চারটির নীচে নেমে যাওয়ায় স্বাধীনভাবে অবস্থান নির্ণয়ের পরিষেবা ব্যাহত হয়।

    সেই জায়গাতেই এনভিএস-০৩-এর গুরুত্ব। ৩০ অক্টোবর জিএসএলভি-এফ১৮ (GSLV-F18) রকেটের মাধ্যমে সফল উৎক্ষেপণের পর এই স্যাটেলাইটটি কার্যকর হলে ‘নাবিক’-এর পিএনটি পরিষেবা পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম চারটি কার্যকর স্যাটেলাইটের সংখ্যা পূরণ হতে পারে।

    এরপর কী? প্রস্তুত এনভিএস-০৪ এবং এনভিএস-০৫

    এনভিএস-০৩-এর সফল উৎক্ষেপণই অবশ্য ‘নাবিক’-এর সম্পূর্ণ সক্ষমতা ফিরে পাওয়ার শেষ ধাপ নয়। ইসরোর পরিকল্পনায় রয়েছে আরও দুটি উন্নত নেভিগেশন স্যাটেলাইট—এনভিএস-০৪ এবং এনভিএস-০৫। ইসরো সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দুটি স্যাটেলাইটও উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং শীঘ্রই মহাকাশে পাঠানো হবে। এই স্যাটেলাইটগুলি যুক্ত হলে ‘নাবিক’-এর পরিষেবার নির্ভরযোগ্যতা ও কার্যক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

    সব মিলিয়ে, এনভিএস-০৩-এর সফল উৎক্ষেপণ ভারতের মহাকাশ গবেষণার পাশাপাশি দেশের প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত স্বনির্ভরতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কার্গিল যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে যে নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছিল, প্রায় আড়াই দশক পর সেই ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তোলার পথে এগোল ভারত। এবার নজর এনভিএস-০৩-এর কার্যকর হয়ে ওঠা এবং পরবর্তী দুই স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণের দিকে।

  • PM Modi on NVS-03 Launch: সফল উৎক্ষেপণ এনভিএস-০৩ উপগ্রহের! দেশের গর্ব ইসরোর বিজ্ঞানীরা, অভিনন্দন বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi on NVS-03 Launch: সফল উৎক্ষেপণ এনভিএস-০৩ উপগ্রহের! দেশের গর্ব ইসরোর বিজ্ঞানীরা, অভিনন্দন বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের মহাকাশ গবেষণায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। জিএসএলভি এফ-১৮ (GSLV-F18) রকেটের মাধ্যমে সফলভাবে এনভিএস-০৩ (NVS-03) নেভিগেশন উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO)। এই সাফল্যের জন্য ইসরোর বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়ারদের অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশের মহাকাশ বিজ্ঞানীদের নিষ্ঠা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, তাঁদের নিরলস প্রচেষ্টা গোটা দেশকে গর্বিত করে। শনিবার সমাজমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী জানান, এই উৎক্ষেপণ ভারতের নিজস্ব স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থা ‘ন্যাভিক’ (NavIC)-কে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

    প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর ভারত

    বিজ্ঞানীদের মতে, উন্নত প্রযুক্তি ও সক্ষমতাসম্পন্ন এনভিএস-০৩ (NVS-03) উপগ্রহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা অর্জনের প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। পাশাপাশি দেশবাসীর জন্য নেভিগেশন পরিষেবার মান ও কার্যকারিতা উন্নত করতেও সাহায্য করবে এই উপগ্রহ। প্রধানমন্ত্রী মোদি লেখেন, “আমাদের মহাকাশ বিজ্ঞানীদের নিষ্ঠা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা বারবার দেশকে গর্বিত করে।” এই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ইসরোর বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়ার এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দনও জানান তিনি। শুক্রবার রাত ১১টা ৫১ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্রের দ্বিতীয় উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে যাত্রা শুরু করে জিএসএলভি এফ-১৮ (GSLV-F18) রকেট। উৎক্ষেপণের ২০ মিনিটের কিছু বেশি সময় পর নির্দিষ্ট জিওসিনক্রোনাস ট্রান্সফার অরবিটে (GTO) সফলভাবে এনভিএস-০৩ (NVS-03) উপগ্রহকে স্থাপন করে রকেটটি। মিশনের সাফল্য ঘোষণা করেন ইসরোর চেয়ারম্যান ড. ভি নারায়ণন। এই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত শিল্প সংস্থা, বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়ারদের অভিনন্দন জানান তিনি।

    ন্যাভিক পরিষেবার গুরুত্ব

    ভারতের জিওসিনক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল বা জিএসএলভি-এর এটি ছিল ২০তম উড়ান। প্রায় ২,২৫০ কেজি ওজনের এনভিএস-০৩ (NVS-03) হল ইসরোর দ্বিতীয় প্রজন্মের নেভিগেশন উপগ্রহ সিরিজের তৃতীয় উপগ্রহ। ভারতের নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থা নেভিগেশন উইথ ইন্ডিয়ান কনস্টিলেশন (Navigation with Indian Constellation) বা ন্যাভিক (NavIC)-এর পরিষেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং তার কার্যকারিতা ও পরিসর আরও উন্নত করাই এই উপগ্রহের অন্যতম লক্ষ্য। বর্তমানে নাগরিক পরিষেবা থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক ক্ষেত্র এবং দেশের কৌশলগত নিরাপত্তা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট-নির্ভর অবস্থান নির্ণয়, নেভিগেশন ও সময় নির্ধারণের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। সেই প্রেক্ষিতে এনভিএস-০৩ (NVS-03)-এর সফল উৎক্ষেপণ ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার পথে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

  • NVS-03 Launch: ন্যাভিককে পুনরুজ্জীবিত করতে শুক্রে ইসরোর-র এনভিএস-০৩ উৎক্ষেপণ, এবার নতুন কৌশলে নজর মহাকাশ বিজ্ঞানীদের

    NVS-03 Launch: ন্যাভিককে পুনরুজ্জীবিত করতে শুক্রে ইসরোর-র এনভিএস-০৩ উৎক্ষেপণ, এবার নতুন কৌশলে নজর মহাকাশ বিজ্ঞানীদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের নিজস্ব স্যাটেলাইট-ভিত্তিক নেভিগেশন ব্যবস্থা ‘ন্যাভিক’ (NavIC)-কে ফের সক্রিয় ও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO)। আগামী ৩০ অক্টোবর, শুক্রবার রাত ১১টা ৫১ মিনিটে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণ করা হবে নেভিগেশন স্যাটেলাইট এনভিএস-০৩ (NVS-03 Launch)। জিএসএলভি-এফ১৮ (GSLV-F18) রকেটের মাধ্যমে মহাকাশে পাঠানো হবে এই স্যাটেলাইট। ভারতের জিএসএলভি রকেটের এটি ২০তম উড়ান। প্রায় ৫০ মিটার লম্বা এবং উৎক্ষেপণের সময় প্রায় ৪২০ টন ওজনের এই রকেটের মাধ্যমে প্রায় ২,২৫০ কেজি ওজনের এনভিএস-০৩-কে জিওসিঙ্ক্রোনাস ট্রান্সফার অরবিটে স্থাপন করা হবে।

    কেন ভালভ নিয়ে বাড়তি সতর্কতা?

    গত বছর এনভিএস-০২ (NVS-02) স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভালভ না খোলায় স্যাটেলাইটটির (ISRO NVS-03 Satellite) প্রপালশন ব্যবস্থা প্রত্যাশিতভাবে কাজ করতে পারেনি। এর ফলে স্যাটেলাইটটি নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছতে ব্যর্থ হয় এবং কক্ষপথেই আটকে থাকে। এই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই উৎক্ষেপণের আগেই এনভিএস-০৩ (NVS-03)-এর পাইরোটেকনিক ভালভ খুলে রাখার পরিকল্পনা করেছে ইসরো। উৎক্ষেপণের আগেই ভালভ খুলে রাখলে পরবর্তী সময়ে সেই ভালভ খোলার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য যান্ত্রিক সমস্যা এড়ানো যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এর ফলে উৎক্ষেপণের সময় চাপের পরিবর্তন বা জ্বালানি ও গ্যাস লিকের মতো ঝুঁকি তৈরি হতে পারে কি না, তা-ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নতুন পদ্ধতির কার্যকারিতা নির্ভর করবে উৎক্ষেপণের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাগুলি কতটা নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করছে, তার উপর।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এনভিএস-০৩ উৎক্ষেপণ?

    ভারতের নিজস্ব আঞ্চলিক ন্যাভিগেশন ব্যবস্থা (Indian Regional Navigation Satellite System)-এর আধুনিক সংস্করণ হল ন্যাভিঅ্যাক (Navigation with Indian Constellation)। দেশের ভৌগোলিক সীমানার পাশাপাশি তার বাইরে প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় অবস্থান নির্ণয়, দিকনির্দেশ এবং সময় নির্ধারণের পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে আমেরিকার জিপিএস-সহ বিদেশি ন্যাভিগেশন ব্যবস্থার উপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব।

    কী কী বিশেষত্ব রয়েছে এনভিএস-০৩ স্যাটেলাইটে?

    ভারতের নিজস্ব নেভিগেশন ব্যবস্থা ‘ন্যাভিক’-এর পরবর্তী প্রজন্মের স্যাটেলাইট সিরিজের অংশ এনভিএস-০৩। এই সিরিজের মূল লক্ষ্য, দেশের নেভিগেশন পরিষেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ব্যবস্থাটিকে আরও কার্যকর করে তোলা। এনভিএস-০৩-এ থাকছে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি একটি পারমাণবিক ঘড়ি (Atomic Clock), পাশাপাশি সংগ্রহ করা অন্যান্য ঘড়িও। স্যাটেলাইটটিতে আগে ব্যবহৃত এল৫ ও এস ব্যান্ডের সিগন্যালের পাশাপাশি যুক্ত হচ্ছে এল১ সিগন্যাল। এর ফলে আরও বেশি ধরনের ব্যবহারকারীর যন্ত্রের সঙ্গে ন্যাভিকের সামঞ্জস্য বাড়তে পারে। বিশেষ করে সাধারণ নাগরিকদের নেভিগেশন পরিষেবা এবং কৌশলগত ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উৎক্ষেপণ?

    ভারতের নিজস্ব আঞ্চলিক নেভিগেশন ব্যবস্থা ন্যভিঅ্যাক বর্তমানে একাধিক সমস্যার মুখে। পুরনো হয়ে যাওয়া স্যাটেলাইট, পারমাণবিক ঘড়ির ত্রুটি এবং নতুন স্যাটেলাইট পাঠানোর ক্ষেত্রে ব্যর্থতার কারণে এই ব্যবস্থায় কার্যকর স্যাটেলাইটের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কমে গিয়েছে। ফলে পর্যাপ্ত সংখ্যক কার্যকর স্যাটেলাইটের মাধ্যমে স্বতন্ত্র অবস্থান নির্ণয় পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, মৌলিক অবস্থান নির্ণয়ের পরিষেবা দিতে কক্ষপথে অন্তত চারটি সচল উপগ্রহ প্রয়োজন। ২০১৬ সালের মার্চে উৎক্ষেপিত আইআরএনএসএস-১এফ (IRNSS-1F) স্যাটেলাইটের পারমাণবিক ঘড়িতে ত্রুটি দেখা দেওয়াও ন্যাভিকের সমস্যাগুলির অন্যতম কারণ। যদিও বিভিন্ন সামাজিক প্রয়োজনে স্যাটেলাইটটির কক্ষপথে থাকা অবস্থায় পরিষেবা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ইসরো আশ্বাস দিয়েছে।

    কী ঘটেছিল এনভিএস-০২ তে

    এর আগে ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি জিএসএলভি এফ-১৫ (GSLV-F15) রকেটে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল এনভিএস-০২ কে। উপগ্রহটি সফলভাবে রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয় এবং তার সৌরপ্যানেলও খুলে যায়। কিন্তু নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৌঁছনোর জন্য প্রয়োজনীয় অরবিট-রেইজিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ইসরোর বিশেষজ্ঞ কমিটির তদন্তে জানা যায়, উপগ্রহের অরবিট-রেইজিং ইঞ্জিনের অক্সিডাইজার লাইনের পাইরো ভালভে প্রয়োজনীয় ড্রাইভ সিগন্যাল পৌঁছয়নি। ফলে ইঞ্জিন চালু করা যায়নি। মূল ও বিকল্প—দুই সংযোগপথের অন্তত একটি করে কন্ট্যাক্ট বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়াই এর সম্ভাব্য কারণ বলে মনে করা হয়। এই ধরনের ত্রুটি যাতে ভবিষ্যতে না ঘটে, তার জন্য সংযোগ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা ও বিকল্প ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে কমিটি। ইসরোর দাবি, সেই সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংশোধন ইতিমধ্যেই করা হয়েছে।

    এনভিএস-০৩ সফল হলেও এখনই স্বস্তি নয়

    এনভিএস-০৩ সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা গেলে ন্যভিঅ্যাক-এর উপগ্রহভিত্তিক পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে। কিন্তু শুধু উৎক্ষেপণ সফল হলেই যে ন্যাভিগেশন পরিষেবা পুরোপুরি ফিরে আসবে, তা নয়। উপগ্রহটিকে প্রথমে নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছতে হবে, প্রয়োজনীয় কক্ষপথ পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে এবং পরিষেবা দেওয়ার উপযুক্ত কি না, তা যাচাই করতে হবে।

    সামনে কী পরিকল্পনা ইসরোর?

    শুধু এনভিএস-০৩ উৎক্ষেপণ করলেই ন্যাভিকের সমস্ত সমস্যা মিটে যাবে না। ব্যবস্থাটিকে আরও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে প্রয়োজন অতিরিক্ত কার্যকর স্যাটেলাইট। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এনভিএস-০৪ ও এনভিএস-০৫ স্যাটেলাইট তৈরির কাজও উন্নত পর্যায়ে রয়েছে। ফলে আগামী দিনে পরবর্তী স্যাটেলাইটগুলির সফল উৎক্ষেপণ এবং কক্ষপথে সেগুলির কার্যকারিতা নিশ্চিত করাই ন্যাভিককে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে। এনভিএস-০৩-এর উৎক্ষেপণ সেই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে চলেছে।

     

     

     

     

  • Nobel Prize: মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে কাজ, পদার্থবিদ্যায় নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন

    Nobel Prize: মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে কাজ, পদার্থবিদ্যায় নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হালজেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাবিশ্বের বিবর্তন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে এমন বিরল এক ধরনের মহাজাগতিক কণা নিউট্রিনোর রহস্য উন্মোচনে অসামান্য অবদানের জন্য পদার্থবিদ্যায় এ বছর নোবেল পুরস্কার (Nobel Prize) পেলেন বেলজিয়ান বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন। মঙ্গলবার তাঁর হাতে এই সম্মান তুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়।

    নিউট্রিনো নিয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশ (Nobel Prize)

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ ৮২ বছরের হালজেন জানান, ২০১৩ সালে মহাজাগতিক নিউট্রিনো নিয়ে গবেষণাপত্র প্রকাশের পর থেকেই তাঁকে নোবেল পুরস্কারের অন্যতম সম্ভাব্য প্রাপক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। প্রতি বছর তাঁর মনে হতো, নোবেল পাওয়ার সম্ভাবনা ২০ ভাগের মধ্যে এক ভাগ।

    সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমাকে শুধু এত দিন বেঁচে থাকতে হতো। আর তাই আমি এখানে।” হালজেন জানান, এই গবেষণা ছিল বিপুল সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টার ফল। নোবেল কমিটির তরফে ফোন আসার সময় তিনি নতুন একটি গবেষণা প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছিলেন। ইতালি থেকে ফোনে নোবেল কমিটির সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, “আমি আশা করি, এই পুরস্কারটি প্রস্তাবটি অনুমোদন পেতে সাহায্য করবে।” পুরস্কার ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে সেই ফোনালাপ সম্প্রচার করা হয়। তাঁর মন্তব্যে উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে হাসির রোল ওঠে।

    নিউট্রিনো গবেষণায় নতুন জ্যোতির্বিজ্ঞানের পথ

    নিউট্রিনো হল অতি ক্ষুদ্র মহাজাগতিক কণা। এদের কোনও বৈদ্যুতিক আধান নেই এবং ভর অত্যন্ত সামান্য। ফলে সরাসরি শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু এই কণা সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছে। সূর্যের মতো নক্ষত্র থেকে নিউট্রিনো নির্গত হয় এবং প্রতি সেকেন্ডে কোটি কোটি নিউট্রিনো আমাদের শরীরের মধ্য দিয়েও চলে যায়।

    বিজ্ঞানীরা সরাসরি এই রহস্যময় কণাগুলিকে দেখতে পারেন না। তাই অন্য পদার্থের কণার সঙ্গে নিউট্রিনোর সংঘর্ষের সময় কী ঘটে, তা পরিমাপ করে তাঁদের অস্তিত্ব শনাক্ত করা হয়। নিউট্রিনো খুব কম ক্ষেত্রেই অন্য কণার সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। তাই সংঘর্ষ শনাক্ত করার সম্ভাবনা বাড়াতে বিজ্ঞানীরা বিশাল আকারের শনাক্তকারী যন্ত্র তৈরি করেন।

    হালজেনের ধারণা ছিল, অ্যান্টার্কটিকার বিস্তীর্ণ বরফকেই এমন একটি শনাক্তকারী হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। নোবেল কমিটির মতে, তাঁর গবেষণা অ্যান্টার্কটিকায় ‘আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি’ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই পর্যবেক্ষণকেন্দ্র থেকেই দূরবর্তী ছায়াপথ থেকে আসা উচ্চ-শক্তির নিউট্রিনোর প্রথম সন্ধান পাওয়া যায়।

    আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব ফিজিক্সের চিফ এক্সিকিউটিভ মাইকেল মোলোনি বলেন, “অ্যান্টার্কটিকার এই পরীক্ষা মহাবিশ্বকে বোঝার এক বিপ্লবী পদ্ধতি, যা এর আগে আমাদের হাতে ছিল না।”

    বরফের নীচে বিশাল পর্যবেক্ষণকেন্দ্র

    পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের বরফের সঙ্গে কোনও নিউট্রিনোর সংঘর্ষ হলে সেখানে আলোর ঝলক তৈরি হয়। বিশেষ সেন্সর সেই আলোর সংকেত ধরে ফেলে। স্বচ্ছ বরফের কারণে অত্যন্ত ক্ষীণ সংকেতও শনাক্ত করা সহজ হয়। মহাজাগতিক রশ্মি ও বিকিরণের হস্তক্ষেপ থেকে যন্ত্রপাতিকে সুরক্ষিত রাখতে সেন্সরগুলি প্রায় ৮,২০০ ফুট বা ২,৫০০ মিটার গভীরে বরফের নীচে স্থাপন করা হয়েছে।

    নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হালজেন বলেন, “মানুষ সব সময় ভাবত, এটি একটি চমৎকার ধারণা, ঠিকই, কিন্তু এটি কখনও কাজ করবে না। সবচেয়ে বড় বিস্ময় হল, আমরা সত্যিই এটিকে কার্যকর করতে পেরেছি।”

    হালজেনের গবেষণা বিজ্ঞানীদের এমন এক রহস্যময় নিউট্রিনো জগতের পর্দা সরাতে সাহায্য করেছে, যা অন্যান্য ছায়াপথ এবং সামগ্রিকভাবে মহাবিশ্বের বিবর্তন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বহন করে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন।

    তবে এই গবেষণার কাজ ছিল অত্যন্ত ধীর ও শ্রমসাপেক্ষ। কারণ গবেষকদের মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা নিউট্রিনো এবং পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল থেকে নির্গত নিউট্রিনোর মধ্যে পার্থক্য করতে হয়েছিল (Nobel Prize)।

    হালজেন বলেন, “আমরা প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩,০০০ আধানযুক্ত কণা শনাক্ত করি। প্রতি সেকেন্ডের সেই ৩,০০০ কণার মধ্যে আমাদের এমন একটি কণা খুঁজে বের করতে হয়, যা প্রতিদিন মাত্র একবার পাওয়া যায়। আর মাসে এমন একটি কণা পাওয়া যায়, যার বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ নিশ্চিত হতে পারি। এটাই সমস্যাটির গাণিতিক বাস্তবতা।”

    তিনি বলেন, “এই গবেষণা দেখিয়েছে যে নিউট্রিনো জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্ভব—এটি বাস্তব এবং এটি করা যায়। এটি আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে, তা আমরা ভবিষ্যতেই দেখতে পাব। তবে মহাবিশ্বের দিকে তাকানোর কোনও নতুন জানালাই কখনও হতাশ করেনি।”

    অ্যান্টার্কটিকার এই পর্যবেক্ষণকেন্দ্রকে তিনি তুলনা করেছেন বরফ দিয়ে তৈরি একটি বিশাল চোখের সঙ্গে, যা আলোর বদলে নিউট্রিনোর মাধ্যমে মহাবিশ্বকে দেখতে পারে।

    ১৪ দেশের ৪০০-রও বেশি বিজ্ঞানীর সম্মিলিত গবেষণা

    আমেরিকার জাতীয় বিজ্ঞান ফাউন্ডেশনের সহায়তায় এবং উইসকনসিন-ম্যাডিসন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনায় আইসকিউব নিউট্রিনো পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের গবেষণায় ১৪টি দেশের ৪০০-রও বেশি বিজ্ঞানী যুক্ত রয়েছেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য এরিকএম উইলকটস এক বিবৃতিতে বলেন, “আইসকিউব বিশ্বের অন্য কোনও দূরবীক্ষণযন্ত্রের মতো নয়। আর ফ্রান্সিস হালজেনের মতো বিজ্ঞানীও আর কেউ নেই। প্রায় এক মাইল বরফের নীচে নিউট্রিনো শনাক্তকারী যন্ত্র তৈরির তাঁর ধারণা এক অসাধারণ আন্তর্জাতিক ও বহু-প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বৈজ্ঞানিক সহযোগিতার জন্ম দিয়েছে এবং মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের চিন্তাভাবনায় মৌলিক পরিবর্তন এনেছে।”

    বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী বার্টডে ভেভার সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, হালজেন হলেন নোবেল পুরস্কারজয়ী ১১তম বেলজিয়ান। তিনি এই পুরস্কারকে মহাবিশ্বের ক্ষুদ্রতম উপাদানগুলির মাধ্যমে তার বৃহত্তম রহস্যগুলির ওপর আলো ফেলার কাজে উৎসর্গ করা একটি জীবনের স্বীকৃতি বলে অভিহিত করেন।

    স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেসের মহাসচিব এলেন মুনস পুরস্কার ঘোষণা করেন। তিনিই এই মর্যাদাপূর্ণ অ্যাকাডেমির নেতৃত্ব দেওয়া এবং নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা প্রথম (Nobel Prize) মহিলা।

    নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য

    এ বছর নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য ১২ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমান। এই অর্থ কোনও একক পুরস্কারপ্রাপক, একাধিক পুরস্কারপ্রাপকের ছোট দল অথবা কোনও প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হতে পারে। গত বছর পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন তিন বিজ্ঞানী। অতিপারমাণবিক কণার অদ্ভুত আচরণ এবং কোয়ান্টাম টানেলিং নিয়ে তাঁদের গবেষণা অত্যন্ত সংবেদনশীল পরিমাপের পথ খুলে দেয়, যা চৌম্বকীয় অনুরণন চিত্রগ্রহণ প্রযুক্তিতে কাজে লাগে। একই গবেষণা উন্নত মোবাইল ফোন এবং আরও দ্রুতগতির কম্পিউটার তৈরির ভিত্তিও তৈরি করে। এ বছরের নোবেল পুরস্কার ঘোষণা শুরু হয় সোমবার চিকিৎসাবিজ্ঞানের পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে। মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করে, তা বোঝার ক্ষেত্রে আলো ব্যবহারকারী একটি প্রযুক্তি তৈরিতে অবদানের জন্য তিন বিজ্ঞানীকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল দেওয়া হয়েছে। বুধবার রসায়ন এবং বৃহস্পতিবার সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হবে। শুক্রবার শান্তিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার পর সোমবার ঘোষণা করা হবে অর্থনীতিতে নোবেল স্মারক পুরস্কার (Nobel Prize) প্রাপকের নাম।

     

  • Nobel Medicine Prize: মস্তিষ্কের রহস্য উন্মোচনে যুগান্তকারী আবিষ্কার, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী

    Nobel Medicine Prize: মস্তিষ্কের রহস্য উন্মোচনে যুগান্তকারী আবিষ্কার, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন তিন বিজ্ঞানী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মস্তিষ্ক কীভাবে স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণ তৈরি করে, সেই রহস্য উদ্‌ঘাটনে যুগান্তকারী অবদানের জন্য ২০২৬ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার (Nobel Medicine Prize) পেলেন কার্ল ডেইসেরথ, পিটার হেগেম্যান এবং জর্জ নাগেল। আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল এবং আলোকজিনতত্ত্ব নিয়ে তাঁদের আবিষ্কার মস্তিষ্ক গবেষণায় নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে বলে জানিয়েছে (Optogenetics Discoveries) স্টকহোমের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নোবেল অ্যাসেম্বলি।

    মস্তিষ্কের আচরণ (Nobel Medicine Prize)

    মস্তিষ্ক কীভাবে স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণ তৈরি করে, তা বোঝা দীর্ঘদিন ধরেই গবেষকদের অন্যতম বড় লক্ষ্য। এই গবেষণায় আলোকজিনতত্ত্ব এমন একটি পদ্ধতি হিসেবে উঠে এসেছে, যার সাহায্যে জীবিত মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট স্নায়ুকোষের কার্যকলাপ আলো ব্যবহার করে চালু বা বন্ধ করা সম্ভব।

    চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল কমিটির সভাপতি পের স্ভেনিংসন বলেন, “আলোকজিনতত্ত্ব এমনভাবে মস্তিষ্কের মানচিত্র তৈরি করার সুযোগ করে দিয়েছে, যা একসময় আমরা কেবল স্বপ্নেই ভাবতে পারতাম।”

    নোবেল কমিটির সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, পিটার হেগেম্যান ও জর্জ নাগেল ‘চ্যানেলরোডপসিন’ নামে একটি বিশেষ প্রোটিন আবিষ্কার করেন। এই প্রোটিনের অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, যে ধরনের কোষেই এই প্রোটিন প্রবেশ করানো হোক না কেন, সেই কোষ আলো-সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।

    পরবর্তী সময়ে কার্ল ডেইসেরথ ইঁদুরের স্নায়ুকোষে ‘চ্যানেলরোডপসিন’-এর জন্য দায়ী জিন প্রবেশ করান। নীল আলো দিয়ে ওই কোষগুলিতে আলোকপাত করে তিনি স্নায়ু সংকেত সৃষ্টি করতে সক্ষম হন। পরে জীবিত ইঁদুরের মস্তিষ্কের মধ্যেও আলো ব্যবহার করে স্নায়ুকোষ নিয়ন্ত্রণের এই পদ্ধতি কার্যকর করে দেখান তিনি।

    আলো দিয়ে স্নায়ু সংকেত নিয়ন্ত্রণের এই পদ্ধতিই পরে ‘আলোকজিনতত্ত্ব’ নামে পরিচিত হয়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এটি বিশ্বজুড়ে স্নায়ুবিজ্ঞান গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে (Nobel Medicine Prize)।

    হেগেম্যানের গবেষণা থেকে জানা যায়, নির্দিষ্ট কিছু অণুজীব কীভাবে বিশেষ ধরনের প্রোটিনের সাহায্যে আলো শনাক্ত করে। পরে নাগেল দেখান, এই প্রোটিনগুলি আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল হিসেবেও কাজ করতে পারে।

    স্নায়বিক সার্কিট

    এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে গবেষকেরা নির্দিষ্ট স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়বিক সার্কিট চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছেন। এর ফলে স্নায়বিক ও মানসিক বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের কার্যপ্রণালী বোঝার নতুন পথ খুলেছে। চিকিৎসাক্ষেত্রেও এই পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা চলছে। দৃষ্টিশক্তির সমস্যায় ভোগা মানুষের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে গবেষকেরা আলোকজিনতত্ত্ব ব্যবহার করছেন।

    কার্ল ডেইসেরথ যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈবপ্রকৌশল, মনোরোগবিদ্যা ও আচরণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক। জার্মান জীবপদার্থবিদ পিটার হেগেম্যান অণুজীবে আলো-সংবেদনশীল প্রোটিন নিয়ে গবেষণা করেছেন (Optogenetics Discoveries)। অন্যদিকে, জার্মান স্নায়ুবিজ্ঞানী জর্জ নাগেল অণুজীবজাত আলোকগ্রাহী প্রোটিনের আবিষ্কার ও বৈশিষ্ট্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এবং সেগুলিকে আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা দেখান (Nobel Medicine Prize)।

     

  • Anthropic CEO: এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান অ্যানথ্রপিক কর্তার

    Anthropic CEO: এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান অ্যানথ্রপিক কর্তার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে (Anthropic CEO) নিরাপত্তাব্যবস্থা এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারেনি। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নের গতি কিছুটা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন এআই সংস্থা অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দারিও আমোদেই। তাঁর (AI Model Development) বক্তব্য, প্রযুক্তির অগ্রগতি থামানো নয়, বরং নিরাপত্তাব্যবস্থাকে আরও প্রস্তুত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সময় দেওয়াই এখন জরুরি।

    একটি ব্লগ পোস্টে আমোদেই জানান, মানুষের জীবনকে আমূল উন্নত করার সম্ভাবনায় বিশ্বাস করেন বলেই গত ১২ বছর ধরে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করছেন। তাঁর মতে, এই প্রযুক্তি রোগ নিরাময়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি এবং মানুষের সুযোগের পরিসর সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

    আমোদেইয়ের বক্তব্য (Anthropic CEO)

    এই বিশ্বাস তাঁর কাছে ব্যক্তিগতভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমোদেই জানান, তাঁর বাবা এমন একটি রোগে মারা গিয়েছিলেন, যার কয়েক বছর পরেই চিকিৎসা সম্ভব হয়েছিল। অন্যদিকে, তিনি নিজেও প্রাথমিক পর্যায়ের ক্যানসার থেকে বেঁচে গিয়েছেন, যে রোগটি ৫০ বছর আগে হলে তাঁর চিকিৎসা করা সম্ভব হত না।

    তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনার পাশাপাশি এর ঝুঁকিও যে অত্যন্ত গুরুতর, তা স্পষ্ট করেছেন আমোদেই। এর মধ্যে রয়েছে এআই ব্যবস্থার ওপর মানুষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা, সাইবার হামলা ও জৈব সন্ত্রাসে প্রযুক্তিটির অপব্যবহার এবং অর্থনীতিতে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা। তাঁর মতে, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা এই ঝুঁকিগুলিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

    আমোদেইয়ের এই সতর্কবার্তা এসেছে অ্যানথ্রপিকের প্রাক্তন গবেষক জ্যাকব কক্সনের একাধিক সতর্কবার্তার কয়েক দিন পর। কক্সন দাবি করেছেন, “এআই সমস্ত মানুষকে হত্যা করতে পারে।” তাঁর আরও বক্তব্য, “বর্তমানের সবচেয়ে উন্নত এআই তৈরি করা মানুষরা বিশ্বাস করেন, এই দশক শেষ হওয়ার আগেই এটি মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে।”

    অ্যানথ্রপিক শুরু থেকেই প্রযুক্তি তৈরি এবং তার ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করেছে বলে জানান আমোদেই। তবে সাম্প্রতিক কয়েক মাসে তাঁর নিজের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন এসেছে। তিনি লিখেছেন, “আমাদের এআই মডেলের সক্ষমতা উন্নত করার গতি কমাতেই হবে।” তাঁর মতে, গতি কমালেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি যথেষ্ট দ্রুতই থাকবে।

    এআইয়ের স্ব-উন্নয়ন নিয়ে উদ্বেগ

    আমোদেইয়ের সতর্কতার পেছনে দু’টি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমটি হল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নের গতি অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া। বর্তমানে এআই ব্যবস্থাগুলিকে ব্যবহার করে পরবর্তী প্রজন্মের এআই মডেল তৈরির প্রবণতা বাড়ছে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় পুনরাবৃত্তিমূলক স্ব-উন্নয়ন।

    আমোদেইয়ের আশঙ্কা, এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে এগোলে গবেষকরা এআই ব্যবস্থার কার্যপ্রণালী বোঝা এবং তার ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার সক্ষমতার চেয়েও দ্রুত প্রযুক্তি এগিয়ে যেতে পারে।

    দ্বিতীয় উদ্বেগের বিষয়টি একটি সাম্প্রতিক ঘটনা, যেখানে অ্যানথ্রপিকের বক্তব্য অনুযায়ী, ওপেন এআই ও হাগিং ফেস-সংক্রান্ত একটি ঘটনায় একদল এআই এজেন্ট এমন কিছু লক্ষ্যের বিরুদ্ধে সাইবার হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিল, যেগুলিতে হামলা করার নির্দেশ তাদের দেওয়া হয়নি। এমনকি নিজেদের কার্যক্ষমতা যাচাই করার জন্য ব্যবহৃত ব্যবস্থাতেও হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জানা যায়।

    আমোদেই জানান, ওই ঘটনায় কেউ আহত হননি এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণও সীমিত ছিল। কিন্তু আরও সক্ষম এআই ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একই ধরনের ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিতে পারে। তাঁর আশঙ্কা, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে মাত্র ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে এমন একটি স্বয়ংক্রিয় এআই বাহিনী তৈরি হতে পারে, যা বিপুল ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে সক্ষম হবে (Anthropic CEO)।

    তিনি বলেন, “এআইয়ের সক্ষমতা যে হারে দ্রুত বাড়ছে, তাতে আমার আশঙ্কা, আগামী ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে এমন একটি বাহিনী স্থায়ী সাইবার-জাল তৈরি করে গোটা ইন্টারনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। এর ফলে কয়েকশো বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হতে পারে। আর প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়া এআই আরও শক্তিশালী হয়ে উঠলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়তে থাকবে।”

    উন্নয়ন থামানো নয়, নিরাপত্তাকে সময় দেওয়ার পরিকল্পনা

    এই ঝুঁকি মোকাবিলায় এআইয়ের উন্নয়নের গতি দায়িত্বশীলভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য তিন দফা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন আমোদেই। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, উন্নয়নের গতি কমানো মানে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি বন্ধ করে দেওয়া নয়। বরং নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য সংস্থাগুলিকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়াই এর উদ্দেশ্য।

    তাঁর কথায়, “স্পষ্ট করে বলা প্রয়োজন, গতি নিয়ন্ত্রণের অর্থ মডেল প্রশিক্ষণ বা প্রযুক্তিগত অগ্রগতি বন্ধ করে দেওয়া নয়। এর অর্থ হল, সংস্থাগুলি যেন তাদের মডেলগুলিকে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত করার জন্য পর্যাপ্ত সময় নেয় এবং তৃতীয় পক্ষের মূল্যায়নকারীরা যাতে তা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা।”

    প্রথম ধাপে অ্যানথ্রপিক নিজেই বহিরাগত মূল্যায়নকারীদের সংস্থার কর্মীদের মতো নিয়মিত প্রবেশাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। এর ফলে তাঁরা স্বাধীনভাবে সংস্থার নিরাপত্তাব্যবস্থা পরীক্ষা করতে পারবেন।

    দ্বিতীয় ধাপে গণতান্ত্রিক দেশগুলিতে কাজ করা এআই সংস্থাগুলিকে অভিন্ন নিরাপত্তামান তৈরির জন্য পারস্পরিক সমন্বয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে। শিল্প সংস্থাগুলির মাধ্যমে অথবা সরকারের সহায়তায় এই সমন্বয় করা যেতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতা-সংক্রান্ত আইনগত বাধা, যেমন একচেটিয়া ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের বিধিনিষেধ, কীভাবে সামলানো যায়, তাও বিবেচনায় রাখতে হবে।

    তৃতীয় ধাপে রয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বয়। এর আওতায় গণতান্ত্রিক দেশগুলির পাশাপাশি কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলির সঙ্গেও নিরাপত্তা নিয়ে সহযোগিতার কথা বলেছেন আমোদেই।

    সতর্কভাবে তৈরি হলেই এআইয়ের সুফল মিলবে

    সবশেষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা নিয়ে নিজের আশাবাদ পুনর্ব্যক্ত করেছেন আমোদেই। তাঁর মতে, সঠিকভাবে প্রযুক্তিটি তৈরি করা গেলে এটি মানুষের জীবনযাত্রার মান বিপুলভাবে উন্নত করতে পারে।

    তিনি বলেন, “আমি এখনও বিশ্বাস করি, এআই মানুষের জীবনযাত্রার মান বিপুলভাবে উন্নত করতে পারে। এই সুফল অর্জনের আকাঙ্ক্ষা আমার একটুও কমেনি। কিন্তু এই সুফল তখনই পাওয়া যাবে, যখন আমরা প্রযুক্তিটিকে সঠিকভাবে তৈরি করব। আর (AI Model Development) আমরা যে অতিরিক্ত সময় পাচ্ছি, সেটিকে যদি সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারি, তাহলে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রযুক্তিটিকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত (Anthropic CEO)।”

     

  • India France Space Cooperation: ভারত-ফ্রান্স মহাকাশ সহযোগিতা, ৫২ উপগ্রহের নজরদারি কনস্টিলেশন নিয়ে বড় চুক্তি

    India France Space Cooperation: ভারত-ফ্রান্স মহাকাশ সহযোগিতা, ৫২ উপগ্রহের নজরদারি কনস্টিলেশন নিয়ে বড় চুক্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাকাশ ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগোল ভারত-ফ্রান্স সহযোগিতা। উপগ্রহ উৎক্ষেপণ, মহাকাশ নজরদারি এবং মাইক্রোস্যাটেলাইট প্রযুক্তি—এই তিন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নতুন বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর করল দুই দেশের সংস্থাগুলি। প্যারিসে আয়োজিত প্রথম ইন্টারন্যাশনাল স্পেস সামিট-এ এই চুক্তিগুলি ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হল ফ্রান্সের সাফরান স্পেস এবং ভারতের ধ্রুব স্পেস-এর মধ্যে ৫ মিলিয়ন ইউরোর (প্রায় ৫০ কোটি টাকা) বেশি মূল্যের চুক্তি। ভারতের পরিকল্পিত ৫২টি উপগ্রহের স্পেস-সার্ভেইলেন্স কনস্টিলেশন তৈরিতে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

    ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর প্যারিসে আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক মহাকাশ সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের সরকার, মহাকাশ গবেষণা সংস্থা, শিল্পক্ষেত্র এবং বিজ্ঞানীরা অংশ নেন। সম্মেলনে মোট ৫১টি ঘোষণা করা হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ২০ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা)। সেই মঞ্চেই ভারতীয় মহাকাশ সংস্থাগুলির সঙ্গে ফরাসি সংস্থাগুলির একাধিক নতুন অংশীদারিত্ব সামনে এসেছে।

    ৫২ উপগ্রহের নজরদারি ব্যবস্থা

    সাফরান স্পেস এবং ধ্রুব স্পেস-এর চুক্তিটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভারতের এসবিএস-৩ স্পেস-সার্ভেইলেন্স কনস্টিলেশন-এর জন্য। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট ৫২টি উপগ্রহের এই কনস্টিলেশন গড়ে তোলা হবে।

    চুক্তির আওতায় ভারতীয় সংস্থাকে যোগাযোগ ব্যবস্থা, ইনারশিয়াল ন্যাভিগেশন ইউনিট, অপটিক্যাল পেলোড এবং গ্রাউন্ড স্টেশন-সংক্রান্ত প্রযুক্তি সরবরাহ করবে সাফরান স্পেস। এর ফলে কক্ষপথে থাকা বিভিন্ন মহাকাশযান ও অন্যান্য বস্তুর উপর নজরদারি এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে দ্রুত তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়বে ভারতের।

    বিশ্লেষকদের মতে, মহাকাশে উপগ্রহের সংখ্যা দ্রুত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্পেস সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস বা মহাকাশ পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতনতা এখন জাতীয় নিরাপত্তারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। পৃথিবীর কক্ষপথে কোন উপগ্রহ কোথায় রয়েছে, কোনও মহাকাশযানের গতিপথে পরিবর্তন হচ্ছে কি না, কিংবা কোনও বস্তু সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি করছে কি না—এসব বিষয়ে নির্ভুল তথ্য পাওয়ার জন্য শক্তিশালী স্পেস-সার্ভেইলেন্স পরিকাঠামো প্রয়োজন। ৫২টি উপগ্রহের পরিকল্পিত কনস্টিলেশন সেই সক্ষমতা বাড়ানোর দিকেই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

    সরকারি কর্মসূচির বাইরে বেসরকারি মহাকাশ শিল্প

    এই চুক্তির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, ভারত-ফ্রান্স মহাকাশ সহযোগিতা ক্রমশ সরকারি মহাকাশ সংস্থার গণ্ডি ছাড়িয়ে নিউ স্পেস বা বেসরকারি মহাকাশ শিল্পের ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হচ্ছে।

    দীর্ঘদিন ধরে ভারত ও ফ্রান্সের মহাকাশ সহযোগিতার মূল স্তম্ভ ছিল ভারতের ইসরো এবং ফ্রান্সের সিএনইএস। কিন্তু সাম্প্রতিক চুক্তিগুলি দেখাচ্ছে, এখন ভারতীয় বেসরকারি সংস্থাগুলিও আন্তর্জাতিক মহাকাশ সরবরাহ-শৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।

    ধ্রুব স্পেস-এর সঙ্গে সাফরানের চুক্তি সেই পরিবর্তনের অন্যতম উদাহরণ। পাশাপাশি ভারতের মেক ইন ইন্ডিয়া নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদেশি প্রযুক্তি এবং ভারতীয় শিল্প-উৎপাদন সক্ষমতার সমন্বয় ঘটানোর সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

    ভারতীয় সংস্থার সঙ্গে আরও দুই চুক্তি

    প্যারিস সম্মেলনে আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে। ফরাসি লঞ্চ-সার্ভিস সংস্থা রাইড এবং ভারতীয় সংস্থা টেকমিটুস্পেস-এর সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে। এর আওতায় টেকমিটুস্পেস-এর দুটি উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করা হবে। টেকমিটুস্পেস-কে ভারতের প্রথম অরবিটাল ডেটা সেন্টার-এর নকশাকারী সংস্থা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

    এই অংশীদারিত্ব ভারতীয় বেসরকারি মহাকাশ সংস্থাগুলির জন্য আন্তর্জাতিক উৎক্ষেপণ পরিষেবার বাজারে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। এর আগে রাইড এবং ভারতীয় মহাকাশ সংস্থাগুলির মধ্যে সহযোগিতার নজির রয়েছে। সম্প্রতি একটি ইউরোপীয় অ্যাটমস্ফেরিক রি-এন্ট্রি ক্যাপসুল ভারতের পিএসএলভি-র মাধ্যমে উৎক্ষেপণ, কক্ষপথে সংযুক্তি এবং পরে পৃথিবীতে ফেরানোর কাজে দুই পক্ষের সহযোগিতা হয়েছে।

    অন্যদিকে ফরাসি মহাকাশ সংস্থা ইউ-স্পেস এবং ভারতীয় প্রযুক্তি সংস্থা অ্যাক্সিসকেডস একটি বাণিজ্যিক সহযোগিতা চুক্তি করেছে। লক্ষ্য ভারতের দ্রুত বাড়তে থাকা মাইক্রোস্যাটেলাইট মার্কেট-এ একসঙ্গে কাজ করা। পরিকল্পনাটি ধাপে ধাপে এগোনোর কথা, যার অন্যতম ভিত্তি ভারতের মেক ইন ইন্ডিয়া নীতি। ফরাসি মহাকাশ প্রযুক্তির সঙ্গে ভারতীয় শিল্প ও ইঞ্জিনিয়ারিং সক্ষমতাকে যুক্ত করাই এই অংশীদারিত্বের মূল লক্ষ্য।

    পাঁচ দশকেরও বেশি পুরনো সম্পর্ক

    ভারত ও ফ্রান্সের মহাকাশ সহযোগিতা অবশ্য নতুন নয়। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দুই দেশ মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করছে। ইসরো এবং সিএনইএস-এর দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্ব সেই সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি। পৃথিবী পর্যবেক্ষণ, স্পেস জিওডেসি, মানব মহাকাশ অভিযান, পরবর্তী প্রজন্মের লঞ্চ-ভেহিকল প্রযুক্তি এবং গ্রহ অনুসন্ধান—একাধিক ক্ষেত্রে দুই দেশ সহযোগিতা করেছে।

    দুই দেশের মধ্যে স্ট্র্যাটেজিক স্পেস ডায়ালগ বা কৌশলগত মহাকাশ সংলাপও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে অসামরিক এবং প্রতিরক্ষা—দুই ধরনের মহাকাশ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রথম বৈঠক হয় ২০২৩ সালের জুনে প্যারিসে। দ্বিতীয় বৈঠক হয় ২০২৪ সালের মার্চে নয়াদিল্লিতে।

    ইসরো-সিএনইএস সহযোগিতায় ত্রিশনা-সহ একাধিক প্রকল্প

    ইসরো এবং সিএনইএস ইতিমধ্যেই ভবিষ্যৎ লঞ্চ-ভেহিকল প্রযুক্তি, যৌথ ত্রিশনা আর্থ অবজারভেশন মিশন, সামুদ্রিক ক্ষেত্র সম্পর্কে নজরদারি এবং স্পেস সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস-এর মতো বিষয়ে চুক্তি করেছে।

    দুই দেশের লঞ্চ-সার্ভিস সংস্থাগুলির মধ্যেও বহু বছরের সহযোগিতা রয়েছে। ভারতীয় পিএসএলভি বাণিজ্যিকভাবে ফরাসি উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেছে। আবার ফ্রান্সের এরিয়ানস্পেস ভারতীয় জিওস্টেশনারি উপগ্রহ উৎক্ষেপণে পরিষেবা দিয়েছে।

    ফলে মহাকাশ ক্ষেত্রে ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ক শুধু গবেষণা বা সরকারি প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। উৎক্ষেপণ, উপগ্রহ নির্মাণ, পৃথিবী পর্যবেক্ষণ, মহাকাশ নজরদারি এবং বেসরকারি মহাকাশ ব্যবসা—প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেই সহযোগিতার পরিধি বাড়ছে।

    চন্দ্রযান-৩ থেকে নতুন প্রজন্মের মহাকাশ সহযোগিতা

    ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে ফরাসি শিল্পের অংশগ্রহণও দীর্ঘদিনের। সাফরানের ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে যুক্ত থাকার পাশাপাশি চন্দ্রযান-৩ চন্দ্র অভিযানে তাদের অবদান ছিল। একই সঙ্গে ভারতে তাদের শিল্প পরিকাঠামোও সম্প্রসারিত হয়েছে।

    ফলে সাফরান-ধ্রুব স্পেস-এর নতুন চুক্তিকে বিচ্ছিন্ন কোনও বাণিজ্যিক চুক্তি হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটি ধরা পড়বে না। বরং এটি ভারতীয় মহাকাশ পরিকাঠামো এবং ফরাসি মহাকাশ প্রযুক্তির মধ্যে ক্রমশ গভীরতর শিল্প-সহযোগিতার পরবর্তী ধাপ।

    প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত ক্ষেত্রেও কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    মহাকাশ এখন আর শুধুমাত্র বিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্র নয়। যোগাযোগ, ন্যাভিগেশন, আবহাওয়া, গোয়েন্দা তথ্য, সীমান্ত নজরদারি, ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কীকরণ এবং সামরিক যোগাযোগ—আধুনিক রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোর সঙ্গে মহাকাশ পরিকাঠামো সরাসরি যুক্ত।

    এই কারণেই ভারতের জন্য স্পেস সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস এবং মহাকাশে নিজস্ব নজরদারি সক্ষমতা বৃদ্ধি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশি প্রযুক্তির সঙ্গে ভারতীয় সংস্থার দক্ষতার সমন্বয়ে ৫২টি উপগ্রহের পরিকল্পিত কনস্টিলেশন সেই সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

    একই সঙ্গে বেসরকারি সংস্থাগুলিকে এই ধরনের প্রকল্পে যুক্ত করার ফলে ভারতের মহাকাশ শিল্পে প্রযুক্তি, উৎপাদন এবং গবেষণার পরিসরও বাড়বে। আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ভারতীয় নিউ স্পেস সংস্থাগুলি বিশ্ববাজারে প্রবেশের আরও সুযোগ পাবে।

    মাক্রঁর ভারত সফরের পর আরও গতি

    ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর ফেব্রুয়ারি মাসে ভারত সফরের সময়ও দুই দেশ অসামরিক উপগ্রহ নির্মাণ এবং মানব মহাকাশ অভিযান-সহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার পক্ষে সওয়াল করেছিল। তার পরেই প্যারিসের আন্তর্জাতিক মহাকাশ সম্মেলনে একসঙ্গে তিনটি নতুন বাণিজ্যিক চুক্তি সামনে আসা দুই দেশের মহাকাশ অংশীদারিত্বে নতুন গতি নির্দেশ করছে।

    সব মিলিয়ে, ভারত-ফ্রান্সের মহাকাশ সম্পর্ক এখন ইসরো-সিএনইএস-এর ঐতিহ্যবাহী সহযোগিতা থেকে বেরিয়ে সরকারি কর্মসূচি + প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত মহাকাশ সক্ষমতা + বেসরকারি শিল্প + আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণ—এই চারটি স্তম্ভের উপর দাঁড়াচ্ছে। ২০২৭ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ৫২টি উপগ্রহের পরিকল্পিত নজরদারি কনস্টিলেশন এবং নতুন বেসরকারি অংশীদারিত্বগুলি সেই পরিবর্তনেরই গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

  • EOS-05: জিস্যাট-১ ব্যর্থতার ৫ বছর পর বড় কামব্যাক! ইসরোর ইওএস-০৫ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

    EOS-05: জিস্যাট-১ ব্যর্থতার ৫ বছর পর বড় কামব্যাক! ইসরোর ইওএস-০৫ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাকাশ থেকে পৃথিবীর উপর নজরদারির ক্ষেত্রে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ এগিয়ে গেল ভারত। শুক্রবার ভোরে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হল ভারতের নতুন প্রজন্মের আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট বা ইওএস-০৫। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো-র জিএসএলভি-এফ১৭ রকেটে চেপে শ্রীহরিকোটা থেকে মহাকাশে পাড়ি দিল প্রায় ২,৩৬৭ কেজি ওজনের এই উপগ্রহ। সবচেয়ে বড় বিষয়, ইওএস-০৫-কে সাধারণ নিম্ন কক্ষপথে নয়, সাব-জিটিও বা সাব-জিওসিনক্রোনাস ট্রান্সফার অরবিটে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী ধাপে নিজস্ব প্রপালশন সিস্টেম ব্যবহার করে নির্দিষ্ট জিওসিনক্রোনাস কক্ষপথে পৌঁছবে উপগ্রহটি।

    ভোররাতে শ্রীহরিকোটা থেকে সফল উৎক্ষেপণ

    শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ভোর ২টা ৫৫ মিনিটে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারের সেকেন্ড লঞ্চ প্যাড থেকে জিএসএলভি-এফ১৭-এর সফল উৎক্ষেপণ হয়। প্রায় ৫১.৭ মিটার লম্বা রকেটটি নির্ধারিত সময়েই আকাশে উড়ে যায়। উৎক্ষেপণের প্রায় ১৮-১৯ মিনিট পর রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হয় ইওএস-০৫। এরপর উপগ্রহটিকে নির্ধারিত সাব-জিটিও-তে স্থাপন করা হয়। অর্থাৎ, এই মুহূর্তে ইওএস-০৫ এখনও তার চূড়ান্ত ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতার অপারেশনাল জিওসিনক্রোনাস অবস্থানে পৌঁছয়নি। সেটি হবে পরবর্তী অরবিট-রেইজিং ম্যানুভারের মাধ্যমে। এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উপগ্রহটি সফলভাবে মহাকাশে পৌঁছে গেলেও তার পূর্ণাঙ্গ অপারেশনাল মিশন শুরু হতে এখনও কয়েকটি ধাপ বাকি।

    ইওএস-০৫ কেন অন্য আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইটের থেকে আলাদা?

    ইওএস-০৫-এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল জিওসিনক্রোনাস অরবিট থেকে ইমেজিং করার ক্ষমতা। সাধারণ আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইটের বড় অংশই লো আর্থ অরবিট (এলইও) বা সান-সিনক্রোনাস অরবিটে (এসএসও) কাজ করে। এই উপগ্রহগুলি পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করার সময় বিভিন্ন অঞ্চলের ছবি তোলে। ফলে কোনও নির্দিষ্ট এলাকার ছবি পাওয়ার জন্য পরবর্তী অরবিটাল পাসের অপেক্ষা করতে হয়।

    ইওএস-০৫-এর ধারণাটি সম্পূর্ণ আলাদা। প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় জিওসিনক্রোনাস অরবিটে অবস্থান করলে উপগ্রহটি পৃথিবীর ঘূর্ণনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রদক্ষিণ করবে। ফলে ভারতের মতো একটি বড় ভৌগোলিক অঞ্চলের দিকে প্রায় একই অবস্থান থেকে ক্রমাগত নজর রাখা সম্ভব হবে। অর্থাৎ, ইওএস-০৫-এর মূল শক্তি শুধু অত্যন্ত উচ্চ রেজোলিউশনের ছবি তোলা নয়। এর আসল সুবিধা হল একই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ঘন ঘন আপডেটেড ছবি পাওয়া।

    ৩৬ হাজার কিলোমিটার দূরে গিয়েও কেন সুবিধা?

    সাধারণভাবে মনে হতে পারে, পৃথিবীর যত কাছাকাছি থাকা যায়, তত বেশি স্পষ্ট ছবি তোলা সম্ভব। সেই যুক্তিতে লো আর্থ অরবিটের উপগ্রহ অনেক ক্ষেত্রে উচ্চ রেজোলিউশনের ছবি তুলতে সুবিধাজনক। কিন্তু ইওএস-০৫-এর লক্ষ্য আলাদা। ধরা যাক, বঙ্গোপসাগরে দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে একটি ঘূর্ণিঝড়। লো আর্থ অরবিটের কোনও স্যাটেলাইট সেই সময় অন্য জায়গার উপর দিয়ে উড়ে গেলে, নির্দিষ্ট অঞ্চলের পরবর্তী ছবি পেতে পরবর্তী পাসের অপেক্ষা করতে হতে পারে।

    ইওএস-০৫ অপারেশনাল হলে একই বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে অনেক বেশি ঘন ঘন পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।ফলে ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ, মেঘের গঠন, বন্যার বিস্তার কিংবা আগুনের মতো দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির উপর নজরদারিতে এই ব্যবস্থা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। আগের জিস্যাট কর্মসূচি সংক্রান্ত সরকারি তথ্যেও নির্দিষ্ট সেক্টরের ছবি ঘন ঘন সংগ্রহ এবং উপযুক্ত পরিস্থিতিতে প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে সমগ্র ভারতীয় ভূখণ্ডের ছবি পাওয়ার লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

    দুর্যোগ মোকাবিলায় বড় হাতিয়ার হতে পারে ইওএস-০৫

    ইওএস-০৫-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারগুলির মধ্যে অন্যতম হতে পারে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা। ভারতের মতো দেশে প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, ভূমিধস, দাবানল-সহ একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা যায়। এই ধরনের পরিস্থিতিতে কয়েক ঘণ্টা আগের তথ্য অনেক সময় যথেষ্ট হয় না। কোথায় জল ঢুকছে, কোন এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি বেশি, ঘূর্ণিঝড়ের মেঘ কোথায় তৈরি হচ্ছে—এসব তথ্য যত দ্রুত পাওয়া যায়, প্রশাসনের পক্ষে তত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। জিওসিনক্রোনাস ইমেজিং স্যাটেলাইট সেই জায়গাতেই বড় সুবিধা দিতে পারে।

    উপগ্রহের ছবি ব্যবহার করে—

    • ● ঘূর্ণিঝড়ের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ,
    • ● মেঘের বিকাশ ও আবহাওয়ার পরিবর্তন শনাক্ত,
    • ● বন্যাকবলিত এলাকা চিহ্নিত,
    • ● বনাঞ্চলে আগুনের বিস্তার পর্যবেক্ষণ,
    • ● দুর্যোগের পর ভূমি ও উদ্ভিদের পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা সম্ভব হতে পারে।

    তবে ইওএস-০৫ ভারতের অন্যান্য আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইটকে প্রতিস্থাপন করবে না। বরং এটি দেশের বর্তমান উপগ্রহ ব্যবস্থার সঙ্গে একটি সম্পূর্ণ নতুন ধরনের অবজারভেশন সক্ষমতা যোগ করবে।

    কৃষি থেকে পরিবেশ—বহু ক্ষেত্রে ব্যবহার

    ইওএস-০৫-এর গুরুত্ব শুধু দুর্যোগ মোকাবিলাতেই সীমাবদ্ধ নয়। আর্থ অবজারভেশন ডেটা কৃষি, বন, পরিবেশ এবং ভূমি ব্যবস্থাপনাতেও গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন স্পেকট্রাল ব্যান্ডে ইমেজিংয়ের মাধ্যমে শুধুমাত্র কোনও এলাকার ছবি নয়, সেই এলাকার উদ্ভিদ, ফসল, মাটি এবং পরিবেশের পরিবর্তন সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া যায়। ভিজিবল ও নিয়ার-ইনফ্রারেডের মতো বিভিন্ন স্পেকট্রাল ব্যান্ড ব্যবহার করে কোনও অঞ্চলের উদ্ভিদের স্বাস্থ্য বা পরিবেশগত পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা সম্ভব।

    অর্থাৎ প্রশ্নটা শুধু নয় যে—“এই জায়গাটা দেখতে কেমন?” বরং স্যাটেলাইট ডেটা থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়—“এই জায়গায় কী পরিবর্তন হচ্ছে?” কৃষিক্ষেত্রে ফসলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, পরিবেশগত পরিবর্তন বিশ্লেষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি ল্যান্ড-ইউজ মনিটরিংয়ের ক্ষেত্রে এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ইওএস-০৫

    ইওএস-০৫-কে সরাসরি কোনও ডেডিকেটেড মিলিটারি স্পাই স্যাটেলাইট হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না। এটি মূলত একটি আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট, যার অসামরিক এবং কৌশলগত—দুই ধরনের ব্যবহারই থাকতে পারে।  তবে জিওসিনক্রোনাস অরবিট থেকে ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ও আশপাশের জলভাগকে ঘন ঘন পর্যবেক্ষণের সক্ষমতা কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।

    বিশেষ করে দেশের সংবেদনশীল সীমান্ত অঞ্চল, উপকূলীয় এলাকা এবং সামুদ্রিক অঞ্চলের উপর নিয়মিত নজরদারির ক্ষেত্রে এই ধরনের হাই-ফ্রিকোয়েন্সি স্যাটেলাইট ইমেজারি সহায়ক হতে পারে। এখানেই ইওএস-০৫-এর কৌশলগত গুরুত্ব। এটি কোনও একটি সামরিক লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে তৈরি নয়, বরং একটি বিস্তীর্ণ অঞ্চলের উপর নিয়মিত ও দ্রুত আপডেটেড নজরদারি সক্ষমতা তৈরি করছে।

    জিস্যাট-১ ব্যর্থতার পাঁচ বছর পর নতুন সাফল্য

    ইওএস-০৫-এর এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ অতীত। উপগ্রহটির সঙ্গে জিস্যাট কর্মসূচির সরাসরি যোগ রয়েছে। মূল পরিকল্পনায় জিওস্টেশনারি অরবিটে ইমেজিং স্যাটেলাইট পাঠিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশের উপর প্রায় রিয়েল-টাইম অবজারভেশন সক্ষমতা তৈরি করার লক্ষ্য ছিল।

    কিন্তু ২০২১ সালের অগাস্টে জিএসএলভি-এফ১০ মিশন ব্যর্থ হয়। সেই মিশনে জিস্যাট-১-কে কক্ষপথে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ক্রায়োজেনিক আপার স্টেজের অপারেশনের সময় সমস্যার কারণে উপগ্রহটি নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছতে পারেনি। প্রায় পাঁচ বছর পর ইওএস-০৫-এর সফল উৎক্ষেপণ সেই বৃহত্তর পরিকল্পনাকেই নতুন করে এগিয়ে দিল।

    জিএসএলভি-এফ১৭-এর সফল মিশন শুধু একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ নয়; এটি জিওসিনক্রোনাস ইমেজিং সক্ষমতা তৈরির ক্ষেত্রে ইসরো-র জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাবর্তনও।

    জিএসএলভি-এফ১৭-ও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়

    এই মিশনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল জিএসএলভি-এফ১৭। এটি ভারতের জিওসিনক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকলের ১৯তম উড়ান। রকেটটিতে রয়েছে সলিড কোর, চারটি লিকুইড স্ট্র্যাপ-অন মোটর, লিকুইড সেকেন্ড স্টেজ এবং ভারতের নিজস্ব ক্রায়োজেনিক আপার স্টেজ। তুলনামূলকভাবে ভারী স্পেসক্রাফ্টকে জিওসিনক্রোনাস অরবিটের দিকে পাঠানোর ক্ষেত্রে জিএসএলভি ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চ ভেহিকল। ইওএস-০৫-কে সাব-জিটিও-তে সফলভাবে স্থাপন করে জিএসএলভি-এফ১৭ সেই সক্ষমতারই আরও একটি প্রমাণ দিল।

    এখন কী হবে ইওএস-০৫-এর?

    এখনও ইওএস-০৫-এর কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি। সাব-জিটিও-তে পৌঁছনোর পর উপগ্রহটি নিজস্ব অনবোর্ড প্রপালশন সিস্টেম ব্যবহার করে ধাপে ধাপে কক্ষপথের উচ্চতা বাড়াবে। একাধিক অরবিট-রেইজিং ম্যানুভার-এর পর সেটি তার নির্দিষ্ট জিওসিনক্রোনাস অবস্থানে পৌঁছবে। এরপর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, ক্যালিব্রেশন এবং কমিশনিং সম্পন্ন হলে শুরু হবে অপারেশনাল ইমেজিং। তাই ইওএস-০৫ ইতিমধ্যেই ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতার ফাইনাল জিওসিনক্রোনাস অরবিটে পৌঁছে গিয়েছে—এমন দাবি করা প্রযুক্তিগতভাবে সঠিক হবে না। লঞ্চ এবং অরবিটাল ইনজেকশন সফল হয়েছে; ফাইনাল অপারেশনাল অরবিটে পৌঁছনোর যাত্রা এখনও বাকি।

    ভারতের স্পেস অবজারভেশনে নতুন যুগের সূচনা?

    ভারতের আর্থ অবজারভেশন কর্মসূচি ইতিমধ্যেই যথেষ্ট শক্তিশালী। বিভিন্ন রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইট পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের উচ্চমানের ছবি এবং তথ্য সংগ্রহ করছে। কিন্তু ইওএস-০৫ সেই ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। লো আর্থ অরবিট স্যাটেলাইটের বড় সুবিধা হল ডিটেল বা স্পেশিয়াল রেজোলিউশন। অন্যদিকে জিওসিনক্রোনাস ইমেজিং প্ল্যাটফর্মের বড় শক্তি হল ফ্রিকোয়েন্সি এবং পারসিস্টেন্স—একই বিস্তীর্ণ অঞ্চলের পরিবর্তনকে আরও ঘন ঘন পর্যবেক্ষণ করা।

    দুর্যোগের সময় এই পার্থক্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। একটি ঘূর্ণিঝড়, বন্যা কিংবা দাবানলের ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টা আগের ছবি এবং সদ্য পাওয়া ছবির মধ্যে ব্যবধানই কখনও কখনও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য তৈরি করে। সেই জায়গায় ইওএস-০৫ ভারতের জন্য শুধুমাত্র আরও একটি স্যাটেলাইট নয়। এটি বড় অঞ্চলের উপর দ্রুত, ঘন ঘন এবং ধারাবাহিক আর্থ অবজারভেশনের নতুন সক্ষমতা তৈরি করতে পারে।

    মহাকাশে ভারতের নতুন চোখ

    জিএসএলভি-এফ১৭-এর সফল উৎক্ষেপণ এবং ইওএস-০৫-এর সাব-জিটিও-তে সঠিকভাবে পৌঁছে যাওয়া ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির জন্য নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। এখন নজর থাকবে উপগ্রহটির অরবিট-রেইজিং, কমিশনিং এবং অপারেশনাল ইমেজিংয়ের দিকে। চূড়ান্তভাবে কাজ শুরু করলে ইওএস-০৫-এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যেতে পারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, কৃষি, পরিবেশ এবং কৌশলগত নজরদারি—এই একাধিক ক্ষেত্রে। অর্থাৎ, মহাকাশ থেকে ভারতকে দেখার ক্ষমতা শুধু আরও শক্তিশালী হচ্ছে তাই নয়—কত দ্রুত সেই ছবি পাওয়া যাচ্ছে, সেই ক্ষমতাতেও বড় পরিবর্তন আনতে পারে ইওএস-০৫।

  • ISRO Satellite Launch: মহাকাশে আবার সফল ভারত! প্রথম ইমেজিং স্যাটেলাইট ‘ইওএস-০৫’ -কে নিয়ে উড়ল জিএসএলভি-এফ১৭

    ISRO Satellite Launch: মহাকাশে আবার সফল ভারত! প্রথম ইমেজিং স্যাটেলাইট ‘ইওএস-০৫’ -কে নিয়ে উড়ল জিএসএলভি-এফ১৭

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন ইতিহাস রচনা করল ভারত। অন্ধকারের বুক চিরে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার স্পেসপোর্ট থেকে মহাকাশের উদ্দেশে রওনা দিল ইসরোর (ISRO Satellite Launch) আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট (পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী উপগ্রহ) ইওএস-০৫ বহনকারী জিএসএলভি-এফ১৭ রকেট। রকেটটি ভারতীয় সময় রাত ২.৫৫ মিনিটে সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে আকাশে পাড়ি দেয়। রকেটের উৎক্ষেপণের পরপরই ইওএস-০৫ স্যাটেলাইটটিকে সফলভাবে তার নির্ধারিত ‘সাব-জিওসিনক্রোনাস ট্রান্সফার অরবিট’-এ স্থাপন করা হয়।

    সবচেয়ে ভারী স্যাটেলাইট

    ইসরো প্রধান ড. ভি. নারায়ণন বলেন, “আমি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, জিএসএলভি-এফ১৭ রকেটটি অত্যাধুনিক আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট বা জিও-ইমেজিং স্যাটেলাইট ‘ইওএস-০৫’-কে সফল ও নিখুঁতভাবে তার কাঙ্ক্ষিত কক্ষপথে স্থাপন করেছে।” জিএসএলভি-এফ১৫ রকেট মিশনের ডিরেক্টর থমাস কুরিয়ান জানান, জিএসএলভি-র মাধ্যমে জিটিও বা সাব-জিটিও কক্ষপথে উৎক্ষেপণ করা এটিই এযাবৎকালের সবচেয়ে ভারী স্যাটেলাইট। থমাস কুরিয়ান বলেন, “এটি আমাদের সবার জন্যই অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের মুহূর্ত। জিএসএলভি তার ১৯তম মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করল। এই মিশনে বহন করা হয়েছিল ইওএস-০৫ স্যাটেলাইটটিকে, যা একটি অনন্য গঠনের আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট এবং এটি প্রায় ‘রিয়েল-টাইম’ বা তাৎক্ষণিক ছবি তোলার ক্ষমতাসম্পন্ন। জিএসএলভি-র মাধ্যমে জিটিও বা সাব-জিটিও কক্ষপথে পাঠানো এটিই সবচেয়ে ভারী স্যাটেলাইট। উৎক্ষেপণের প্রক্রিয়াটি মাত্র কয়েক মিনিটের হলেও, এর পেছনে রয়েছে মাসের পর মাস ও বছরের পর বছর ধরে করা কঠোর পরিশ্রম।”

    সর্বক্ষণের নজরদারি

    এই মিশনে ইওএস-০৫ স্যাটেলাইটটি পাঠানো হয়েছে, যা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে এটি পৃথিবী থেকে প্রায় ৩৬,০০০ কিলোমিটার উচ্চতা থেকে পুরো ভারতের ওপর সর্বক্ষণ নজর রাখতে পারে। ৫১.৭ মিটার উচ্চতা এবং ৪২০.৫ টন ওজনের জিএসএলভি-এফ১৭ উৎক্ষেপণ যানটি ভারতের বৃহত্তম কার্যকর উৎক্ষেপণ যানগুলোর মধ্যে অন্যতম। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ইসরোর জিএসএলভি-এফ-১৭ রকেট মিশনের সফল উৎক্ষেপণের প্রশংসা করে জানান, ভারতের মহাকাশ সক্ষমতা ক্রমাগত নতুন উচ্চতা স্পর্শ করছে এবং বিশ্বমঞ্চে মহাকাশ শক্তি হিসেবে দেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করছে। জিতেন্দ্র সিং ‘এক্স’-এ লিখেছেন, “ইওএস-০৫ হল একটি অত্যাধুনিক আর্থ অবজারভেশন (পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী) উপগ্রহ এবং ভূ-স্থির কক্ষপথ থেকে ভারতের প্রথম ইমেজিং উপগ্রহ। এটি দৃশ্যমান, ইনফ্রারেড, মাল্টিস্পেকট্রাল এবং হাইপারস্পেকট্রাল ব্যান্ডের মাধ্যমে উন্নত মানের ছবি তুলতে পারে।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের প্রশংসা করে ইসরো প্রধান নারায়ণন জানান, নেভিগেশন স্যাটেলাইট ‘এনভিএস-০৩’-সহ আরও ছয়’টি উৎক্ষেপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এই অর্থবছরের জন্য।

  • ISRO Satellite Launch: সাফল্যের আশায় ইসরো! উৎক্ষেপণের প্রস্তুতিতে জিএসএলভি-এফ১৭, শুক্র ভোর-রাতে মহাকাশে পাড়ি দেবে ইওএস-০৫

    ISRO Satellite Launch: সাফল্যের আশায় ইসরো! উৎক্ষেপণের প্রস্তুতিতে জিএসএলভি-এফ১৭, শুক্র ভোর-রাতে মহাকাশে পাড়ি দেবে ইওএস-০৫

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ প্রায় আট মাসের উৎক্ষেপণ-খরা কাটিয়ে ফের মহাকাশ অভিযানে ফিরতে চলেছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO Satellite Launch)। শুক্রবার ভোরে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে জিএসএলভি-এফ১৭ (GSLV-F17) রকেটের মাধ্যমে উৎক্ষেপণ করা হবে পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ ইওএস-০৫ (EOS-05)। এই উপগ্রহটি জিস্যাট-১এ (GISAT-1A) নামেও পরিচিত। ইসরো সূত্রে জানা গিয়েছে, ৪ সেপ্টেম্বর রাত পেরিয়ে ভোর ২টা ৫৫ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার দ্বিতীয় লঞ্চ প্যাড থেকে জিএসএলভি-এফ১৭ (GSLV-F17)-এর উৎক্ষেপণের সময় নির্ধারিত হয়েছে। এটি ভারতের জিওসিঙ্ক্রোনাস স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকলের ১৯তম উড়ান। সফল উৎক্ষেপণ হলে দীর্ঘ বিরতির পর ফের ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে গতি ফিরবে।

    ‘নটি বয়’-কে নিয়ে প্রত্যাশা

    জিএসএলভি-এফ১৭ (GSLV-F17)-কে ইসরোর অন্দরে অনেক সময় ‘নটি বয়’ বা ‘দুষ্টু ছেলে’ বলেও ডাকা হয়। কারণ, রকেটটির প্রাথমিক উড়ানগুলিতে একাধিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। প্রথম ১৮টি উড়ানের মধ্যে ছ’টি পূর্ণাঙ্গ সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। ফলে এবারের অভিযান নিয়ে বিজ্ঞানী ও মহাকাশপ্রেমীদের আগ্রহ যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে বাড়তি প্রত্যাশা। ৪ সেপ্টেম্বর রাত ঠিক ২টো ৫৫ মিনিটে যখন প্রায় গোটা দেশ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকবে, তখন শ্রীহরিকোটার দ্বিতীয় লঞ্চ প্যাড থেকে তৈরি হবে এক নতুন ইতিহাস (ISRO launch tonight)। অন্ধকারের বুক চিরে মহাকাশের উদ্দেশে রওনা দেবে ভারতের ভূ-সমলয় উপগ্রহ উৎক্ষেপণ যান ‘জিএসএলভি-এফ১৭’ (GSLV-F17)। সঙ্গে নিয়ে যাবে ৩৬ হাজার কিলোমিটার উঁচুতে অবস্থানকারী ভারতের প্রথম ইমেজিং স্যাটেলাইট ‘ইওএস-০৫’ (EOS-5)। পরপর কয়েকটি ব্যর্থতার পর ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর (ISRO) জন্য এই মিশন স্রেফ একটি উৎক্ষেপণ নয়, বরং হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাস ও মর্যাদা পুনরুদ্ধারের এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা।

    জিওসিঙ্ক্রোনাস কক্ষপথে নতুন সক্ষমতা

    ইওএস-০৫ (EOS-05)-এর এই অভিযান ভারতের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সফল হলে এটি হবে ভারতের প্রথম এমন ইমেজিং উপগ্রহ, যা জিওসিঙ্ক্রোনাস কক্ষপথ থেকে পৃথিবী পর্যবেক্ষণ করবে। সাধারণত পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী উপগ্রহগুলি লো আর্থ অরবিটে অবস্থান করে এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর কোনও অঞ্চলের উপর দিয়ে যাওয়ার সময় ছবি সংগ্রহ করে। কিন্তু ইওএস-০৫ প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় জিওসিঙ্ক্রোনাস কক্ষপথে কাজ করবে। ফলে ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ও আশপাশের এলাকার উপর দীর্ঘ সময় ধরে বারবার নজর রাখা সম্ভব হবে। তবে জিএসএলভি-এফ১৭ সরাসরি ইওএস-০৫-কে তার চূড়ান্ত জিওসিঙ্ক্রোনাস কক্ষপথে পৌঁছে দেবে না। রকেটটি প্রথমে উপগ্রহটিকে একটি সাব জিওসিঙ্ক্রোনাস কক্ষপথে স্থাপন করবে। এরপর উপগ্রহটির নিজস্ব অনবোর্ড প্রপালশন ব্যবস্থা ব্যবহার করে ধীরে ধীরে কক্ষপথের উচ্চতা বাড়িয়ে নির্ধারিত অবস্থানে পৌঁছবে।

    ২০২১-এর ব্যর্থতার পর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা

    ভারতের জিওসিঙ্ক্রোনাস ইমেজিং সক্ষমতা তৈরির ক্ষেত্রে এই অভিযান কার্যত দ্বিতীয় বড় প্রচেষ্টা। এর আগে ২০২১ সালের আগস্টে জিএসএলভি-এফ১০ (GSLV-F10) রকেটের মাধ্যমে জিআইস্যাট (GISAT) উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু রকেটের ক্রায়োজেনিক আপার স্টেজে সমস্যার কারণে উপগ্রহটি নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছতে পারেনি। সেই ব্যর্থতার পর ইওএস-০৫-এর অভিযান তাই ইসরোর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এমনিও সাম্প্রতিক সময়ে ইসরোর দিনগুলো খুব একটা ভাল কাটেনি। বিগত বছরগুলোতে ইসরোর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ‘ওয়ার্কহর্স’ রকেট পিএসএলভি (PSLV) পর পর কয়েকটি অভিযানে চরম ব্যর্থতার মুখে পড়ে। ফলে সরকারের নির্দেশে সেটিকে আপাতত বসিয়ে রেখে শুরু হয়েছে তদন্ত। এই কঠিন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে জিএসএলভি-র এই যাত্রা ইসরোর আত্মবিশ্বাস ফেরানোর অন্যতম বড় সুযোগ। অবশ্য প্রযুক্তিগত দিক থেকে পিএসএলভি এবং জিএসএলভি সম্পূর্ণ আলাদা গোত্রের। ইঞ্জিনের গঠন বা চালিকাশক্তির ক্ষেত্রে এদের মধ্যে কোনও সরাসরি যোগাযোগ নেই। ফলে পিএসএলভির সমস্যা জিএসএলভির উপর প্রভাব ফেলবে না- এই ভাবনাই এখন ইসরোর বিজ্ঞানীদের একমাত্র ভরসা।

    কী কী কাজ করবে এই স্যাটেলাইট

    আবহাওয়া থেকে দুর্যোগ মোকাবিলা, সীমান্তে পাহারা—একাধিক ক্ষেত্রে নজরদারি চালাবে ইওএস-০৫। এটি সফলভাবে কার্যকর হলে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, কৃষি, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও জঙ্গল-আগুনের মতো বিপর্যয় নজরদারিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। একই বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে বারবার পর্যবেক্ষণ করার ক্ষমতার ফলে দ্রুত পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার পরিস্থিতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পর্কে আরও কার্যকর তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশের উপর ধারাবাহিক নজরদারি দেশের পৃথিবী পর্যবেক্ষণ পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। তবে, এর গুরুত্ব শুধু সাধারণ পর্যবেক্ষণেই সীমাবদ্ধ নয়। সীমান্ত এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং কৌশলগত জায়গার উপর নিয়মিত নজর রাখার ক্ষেত্রেও এর তথ্য কাজে লাগতে পারে। বিশেষ করে কোনও এলাকায় হঠাৎ কোনও পরিবর্তন হলে তা দ্রুত নজরে আসার সম্ভাবনা বাড়বে। তবে এটিকে সরাসরি ‘গুপ্তচর উপগ্রহ’ বলা ঠিক হবে না। এটি মূলত পৃথিবী পর্যবেক্ষণের উপগ্রহ, যার তথ্যের বেসামরিক এবং কৌশলগত—দুই ধরনের ব্যবহার হতে পারে।

    নয়া অধ্যায়ের সূচনা

    কাউন্টডাউন এগিয়ে চলেছে। এখন সকলের নজর শ্রীহরিকোটার দিকে। সফল উৎক্ষেপণ শুধু ইসরোর দীর্ঘ উৎক্ষেপণ-বিরতির অবসান ঘটাবে না, একইসঙ্গে ভারতের মহাকাশভিত্তিক পৃথিবী পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

LinkedIn
Share