Category: বিজ্ঞান

Get updated Science and Research related news from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Space Habitat BHEEM: ভিনগ্রহে মহাকাশচারীদের ঠিকানা ‘ভীম’! ভারতের স্পেস-বাড়ির নকশা দিলেন শুভাংশু

    Space Habitat BHEEM: ভিনগ্রহে মহাকাশচারীদের ঠিকানা ‘ভীম’! ভারতের স্পেস-বাড়ির নকশা দিলেন শুভাংশু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহাকাশযানে চেপে পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছনোই ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানের শেষ কথা নয়। একদিন চাঁদ, মঙ্গল বা অন্য কোনও মহাজাগতিক গন্তব্যে মানুষকে দীর্ঘ সময় বসবাস করতে হলে প্রয়োজন হবে এমন এক আবাসস্থলের, যা প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও মানুষকে নিরাপদে বাঁচিয়ে রাখতে পারবে। সেই ভবিষ্যতের ‘মহাকাশের বাড়ি’-র (Space Habitat BHEEM) একটি ধারণা সামনে আনলেন ভারতীয় মহাকাশচারী গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা (Shubhanshu Shukla)। ভিনগ্রহে মানুষের বাসযোগ্য ঠিকানার একটি রূপরেখা তৈরি করেছেন তিনি। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ভীম’ বা ‘ভারতীয় হ্যাবিটেবল এক্সপ্যান্ডেবল এক্সট্রাটেরেস্ট্রিয়াল হ্যাবিটেট’ (BHEEM)।

    ‘ভীম’-এর জন্মবৃত্তান্ত

    রাশিয়া থেকে ফিরে ভারতে মহাকাশচারী হিসেবে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন শুভাংশু। তখনই এই গবেষণার সূত্রপাত। বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সের (IISc) অলোক ল্যাবে তৈরি হয়েছে এই ‘ভীম’ কনসেপ্ট। ভারতের রকেট সিস্টেম ও অরবিটাল মডিউলের খুঁটিনাটি শেখার পাশাপাশি শারীরিক কসরতও চলছিল। এর মাঝেই ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযান নিয়ে অ্যাকাডেমিক গবেষণায় উৎসাহিত করা হয় তাঁদের। শুভাংশুর কথায়, ‘যে মহাকাশযানে ওড়ার জন্য আমরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলাম, আমি তার বাইরে গিয়ে ভাবতে চেয়েছিলাম। গন্তব্যে নামার পর মানুষ কোথায় থাকবে, সেটা নিয়েই কাজ শুরু করি।’ পৃথিবীর বাইরে মানুষের বসবাসের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি, বিশেষ করে চাঁদ ও মঙ্গলের মতো গন্তব্যে স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদি আবাসস্থল তৈরির সম্ভাবনাই ছিল গবেষণার মূল বিষয়। এই গবেষণার ফলেই তৈরি হয় ভীম-এর ধারণা। বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স (IISc)-এর অলোক ল্যাব-এ এই প্রকল্পের গবেষণা হয়েছে।

    মহাকাশে থাকার চ্যালেঞ্জ

    ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলির একটি হল পৃথিবীর বাইরে মানুষকে দীর্ঘ সময় নিরাপদে রাখা। রকেটে চেপে ভিনগ্রহে পৌঁছনো এক জিনিস। কিন্তু সেখানে গিয়ে মানুষের বেঁচে থাকা ও কাজ করা সম্পূর্ণ ভিন্ন এক প্রযুক্তিগত লড়াই (Gaganyaan Mission)। শুধু পৌঁছলেই তো হল না! ভবিষ্যতের সেই বাসস্থানে মহাকাশচারীদের চরম মহাজাগতিক বিকিরণ বা রেডিয়েশন থেকে রক্ষা করার বন্দোবস্ত থাকতে হবে। থাকবে তাপমাত্রার বিপুল হেরফের। রুক্ষ ও বিপজ্জনক পরিবেশ। এই সব কিছু সামলে নিরবচ্ছিন্ন জীবনদায়ী ব্যবস্থা বা লাইফ-সাপোর্ট সিস্টেম গড়ে তোলা ভীষণ জরুরি। এই আশ্রয়স্থলে জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, যেমন—শক্তি উৎপাদন, শক্তি সঞ্চয় এবং অক্সিজেনের জন্য বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকতে হবে। প্রয়োজন বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চয়ের নিখুঁত পরিকাঠামো। একইসঙ্গে সেই বাসস্থান নির্মাণ ও সম্প্রসারণের ব্যবহারিক পদ্ধতিও তৈরি রাখতে হবে। শুভাংশুর সোজা কথা, ‘আমরা কোথায় থাকব? এই সহজ প্রশ্নটাই ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।’

    এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করতে হবে

    শুক্লা বলেন, ভবিষ্যতে পৃথিবীর বাইরে মানুষকে বসবাস করাতে চাইলে এখন থেকেই তার প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। তাঁর বক্তব্য, ২০ বছর পরে মানুষকে পৃথিবীর বাইরে বসবাস করাতে হলে সেই কাজ ২০ বছর পরে শুরু করলে চলবে না—শুরু করতে হবে এখন থেকেই। ভারতের মানব মহাকাশযাত্রার উচ্চাকাঙ্ক্ষাও ক্রমশ বাড়ছে। গগনযান কর্মসূচি ভারতীয় মহাকাশচারীদের নিম্ন-পৃথিবী কক্ষপথে পাঠানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতের আরও দূরবর্তী মানব মহাকাশ অভিযানের ভিত্তি তৈরি করছে। সেই বৃহত্তর পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই চাঁদ ও মঙ্গলের মতো গন্তব্যে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভারতের ‘গগনযান’ প্রকল্পের পথ ধরে এই দূরদর্শী গবেষণা দেশের মহাকাশ গবেষণাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ‘ভীম’-এর মূল লক্ষ্য হল, পৃথিবী থেকে ভাঁজ বা কমপ্যাক্ট অবস্থায় বাসস্থানের উপকরণ চাঁদ কিংবা মঙ্গলে নিয়ে গিয়ে সেখানে ধীরে ধীরে তা সম্প্রসারণ করা। ফলে সীমিত পে-লোড-এর মধ্যেই তুলনামূলক বড় থাকার জায়গা তৈরি করা সম্ভব হতে পারে।

    সাহস দেখাতে হবে, ভাবতে হবে

    ভিনগ্রহে মানুষের বসতি গড়ার দৌড়ে ভারতের গবেষণাগারগুলোও যে আগামী দিনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। শুভাংশু শুক্লার মতে, ‘ভিন্ন বিশ্বে বাসস্থান তৈরির প্রথম ধাপটা হয়তো প্রথম ইট গাঁথা নয়। প্রথম ধাপটা হল, সেই বাসস্থান কেমন হতে পারে, তা কল্পনা করার সাহস দেখানো।’ শুক্লার ভীম প্রকল্প তাই শুধু একটি মহাকাশ-আবাসনের নকশা নয়; এটি পৃথিবীর বাইরে মানুষের ভবিষ্যৎ বসবাসের সম্ভাবনা নিয়ে ভারতের গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। শুক্লার ভাষায়, অন্য কোনও গ্রহে বা মহাজাগতিক জগতে মানুষের আবাসস্থল তৈরির প্রথম ধাপ হয়তো তার প্রথম ইটটি বসানো নয়—প্রথম ধাপ হতে পারে সেই বাড়িটিকে কল্পনা করার সাহস দেখানো। চাঁদ ও মঙ্গলে মানুষের ভবিষ্যৎ বসতি তৈরির স্বপ্ন যখন ক্রমশ বাস্তব গবেষণার দিকে এগোচ্ছে, তখন সেই ‘মহাকাশের বাড়ি’-র ভাবনাও যে ভারতের গবেষণাগার থেকেই উঠে আসছে, ভীম তারই ইঙ্গিত।

  • PM Modi: চন্দ্রযান-৩-এর সাফল্য স্মরণে জাতীয় মহাকাশ দিবস, দেশবাসীকে শুভেচ্ছা মোদি-শাহের

    PM Modi: চন্দ্রযান-৩-এর সাফল্য স্মরণে জাতীয় মহাকাশ দিবস, দেশবাসীকে শুভেচ্ছা মোদি-শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় মহাকাশ দিবস উপলক্ষে রবিবার দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ভারতের মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান সাফল্যের কথা তুলে ধরে দেশের বিজ্ঞানী ও তরুণ প্রজন্মকে আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছনোর আহ্বান জানান (National Space Day) তাঁরা। প্রধানমন্ত্রী এক বার্তায় বলেন, “জাতীয় মহাকাশ দিবসের শুভেচ্ছা। আরও বড় স্বপ্ন দেখার, আরও বেশি উদ্ভাবনের এবং নতুন নতুন সীমান্ত অতিক্রম করার প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে চলুন।”

    মহাকাশ দিবসের শুভেচ্ছা (PM Modi)

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও দেশবাসীকে জাতীয় মহাকাশ দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “জাতীয় মহাকাশ দিবসে প্রত্যেক দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা। আজকের দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনেই ভারতের চন্দ্রযান-৩ চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলে সফলভাবে অবতরণ করেছিল। সময়ের বুকে নিজেদের প্রতিভার অমোচনীয় ছাপ রেখে দেওয়া ইসরোর বিজ্ঞানীদেরও আজ আমরা অভিনন্দন জানাই।” ২০২৩ সালের ২৩ অগাস্ট চন্দ্রযান-৩-এর সফল অবতরণের ঐতিহাসিক সাফল্যকে স্মরণ করেই জাতীয় মহাকাশ দিবস পালিত হয়। এই অভিযানের মাধ্যমে ভারত চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলের কাছাকাছি সফলভাবে অবতরণকারী বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ইতিহাস গড়ে।

    চন্দ্রযান-৩ অভিযানের অবতরণযান বিক্রম নিয়ন্ত্রিতভাবে চাঁদের পৃষ্ঠে নরম অবতরণ করে। এরপর তার ভিতরে থাকা প্রজ্ঞান নামের চলমান যানটি চাঁদের মাটিতে নেমে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায়। এই সাফল্যের ফলে চাঁদে সফল অবতরণকারী নির্বাচিত দেশগুলির তালিকায় ভারত আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে।

    গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক

    চন্দ্রযান-৩-এর সাফল্য ভারতের আগের চন্দ্রাভিযানগুলির ধারাবাহিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। একই সঙ্গে এই সাফল্য দেশের মহাকাশ কর্মসূচিকে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও মর্যাদা এনে দেয় (PM Modi)।

    জাতীয় মহাকাশ দিবস পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য হল মহাকাশ বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের বিষয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়ানো। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান গবেষণা, নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেত্রে (National Space Day) এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করাও এই দিবস পালনের অন্যতম লক্ষ্য।

    প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর রবিবারের বার্তায় তরুণ ভারতীয়দের বিজ্ঞান গবেষণা ও উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভারতের মহাকাশ গবেষণার ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল করতে তরুণ প্রজন্মের মেধা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগানোর বার্তাই উঠে এসেছে তাঁদের বক্তব্যে (PM Modi)।

     

  • ISRO Transformation: বড় রদবদল ইসরোর কাজে, রকেট-স্যাটেলাইট তৈরির দায়িত্ব যাচ্ছে বেসরকারি সংস্থার হাতে!

    ISRO Transformation: বড় রদবদল ইসরোর কাজে, রকেট-স্যাটেলাইট তৈরির দায়িত্ব যাচ্ছে বেসরকারি সংস্থার হাতে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে কেন্দ্র। ভবিষ্যতে রকেট ও নিয়মিত ব্যবহারের উপগ্রহ তৈরির মতো রুটিন উৎপাদনমূলক কাজ থেকে ধীরে ধীরে সরে এসে গবেষণা, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক অভিযান এবং বিশেষ পরিকাঠামো তৈরিতে আরও বেশি মন দিতে চলেছে ইসরো (ISRO)। সেই সঙ্গে রকেট ও উপগ্রহের উৎপাদন এবং বাণিজ্যিক পরিচালনার বড় অংশ তুলে দেওয়া হবে বেসরকারি সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট শিল্পক্ষেত্রের হাতে। একটি সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইন-স্পেস-এর চেয়ারম্যান ড. পবন গোয়েঙ্কা এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই রূপান্তর ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে এবং আগামী দিনে ভারতের মহাকাশ শিল্পে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থার ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

    রকেট তৈরির দায়িত্ব আর নেবে না ইসরো

    পবন গোয়েঙ্কার কথায়, ভবিষ্যতে ইসরো নিজে আর কোনও লঞ্চ ভেহিকল তৈরি করবে না। তাঁর বক্তব্য, রকেট নির্মাণের কাজ বেসরকারি সংস্থা অথবা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার হাতে চলে যাবে। এর ফলে কয়েক দশক ধরে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে যে মডেল কার্যকর ছিল, তাতে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। এতদিন গবেষণা থেকে শুরু করে রকেটের নকশা, উৎপাদন এবং উৎক্ষেপণ—প্রায় প্রতিটি স্তরেই ইসরোর কেন্দ্রীয় ভূমিকা ছিল। নতুন ব্যবস্থায় ইসরো মূলত প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।

    এসএসএলভি দিয়ে শুরু হয়েছে পরিবর্তন

    এই প্রক্রিয়ার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উঠে এসেছে স্মল স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিক্যল বা এসএসএলভি (SSLV)। ইতিমধ্যেই এসএসএলভি-র প্রযুক্তি ও উৎপাদনের অধিকার নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এটি ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রে প্রযুক্তি হস্তান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির। ভবিষ্যতে আরও বড় রকেটের ক্ষেত্রেও একই ধরনের মডেল কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    এবার পিএসএলভি ও এলভিএম ৩-র পালা?

    পরবর্তী ধাপে ভারতের দুই গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চ ভেহিকল—পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিক্যল বা পিএসএলভি (PSLV) এবং লঞ্চ ভেহিক্যল মার্ক-৩ বা সংক্ষেপে এলভিএম-৩ (LVM3) —বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া এগোতে পারে। এলভিএম-৩ বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী কার্যকরী রকেট। ভারী উপগ্রহ উৎক্ষেপণের পাশাপাশি ভারতের ভবিষ্যৎ মানব মহাকাশ অভিযানেও এই পরিবারের রকেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে এসএসএলভি-এর মতো এবার রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন গোয়েঙ্কা। অর্থাৎ, এই পর্বে বেসরকারি মহাকাশ সংস্থাগুলিই মূলত উৎপাদনের দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ পাবে।

    গবেষণায় আরও বেশি মন দেবে ইসরো

    এই পরিবর্তনের ফলে ইসরোর চরিত্রও ধীরে ধীরে বদলাবে। শুধু রকেট ও উপগ্রহ তৈরির দায়িত্ব পালনকারী সংস্থা হিসেবে নয়, বরং একটি গবেষণা ও উন্নয়ন বা গবেষণা-কেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসরোকে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন প্রযুক্তি তৈরি, বৈজ্ঞানিক মহাকাশ অভিযান, বিশেষায়িত উপগ্রহ এবং এমন উন্নত পরিকাঠামো নির্মাণে ইসরো গুরুত্ব দেবে, যেগুলি বেসরকারি সংস্থার পক্ষে একা তৈরি করা কঠিন। কোনও প্রযুক্তি পরীক্ষিত ও পরিণত হয়ে গেলে তা বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে। সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেসরকারি শিল্প বাণিজ্যিক পরিষেবা চালাতে পারবে। গোয়েঙ্কা জানান, ইতিমধ্যেই ইসরো ১২০টি প্রযুক্তি বেসরকারি ক্ষেত্রের হাতে হস্তান্তর করেছে।

    নতুন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রও বেসরকারি হাতে যেতে পারে

    শুধু রকেট উৎপাদন নয়, ভারতের একটি নতুন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্বও বেসরকারি শিল্পের হাতে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। গোয়েঙ্কার বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী চার-পাঁচ মাসের মধ্যে এই উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের অপারেটর চূড়ান্ত হতে পারে। এর ফলে ভারতের মহাকাশ পরিকাঠামোতেও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের পরিমাণ বাড়বে।

    ২০৩৩ সালের মধ্যে ৪৪ বিলিয়ন ডলারের মহাকাশ অর্থনীতি

    ভারতের এই নীতির পিছনে রয়েছে আরও বড় অর্থনৈতিক লক্ষ্য। বর্তমানে ভারতের মহাকাশ অর্থনীতির আকার প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার। সরকারের লক্ষ্য, ২০৩৩ সালের মধ্যে সেটিকে ৪৪ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া। এই লক্ষ্য পূরণে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন গোয়েঙ্কা। প্রথমত, মহাকাশ পরিষেবায় সরকারের চাহিদা বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রচলিত মহাকাশ শিল্পের বাইরের ক্ষেত্রগুলিতে মহাকাশ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় মহাকাশ পরিষেবা ও প্রযুক্তির প্রসার ঘটাতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারকে একজন ‘অ্যাঙ্কর কাস্টমার’ বা প্রধান ক্রেতা হিসেবে কাজ করতে হবে বলেও মত দিয়েছেন তিনি।

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও বাড়ছে বেসরকারি মহাকাশ সংস্থার ভূমিকা

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র ইতিমধ্যেই এই পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বেসরকারি সংস্থাগুলির কাছ থেকে ৩১টি উপগ্রহের অর্ডার দিয়েছে। একই বৃহত্তর কর্মসূচির আওতায় আরও ২১টি উপগ্রহ তৈরি করার কথা ইসরোর। অর্থাৎ, ভবিষ্যতে নিরাপত্তা, নজরদারি, যোগাযোগ এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা প্রয়োজনেও বেসরকারি মহাকাশ সংস্থার তৈরি উপগ্রহের ব্যবহার বাড়তে পারে।

    বদলাচ্ছে মহাকাশ ব্যবসার মডেল

    ভারত শুধু বেসরকারি সংস্থাকে রকেট বা উপগ্রহ তৈরির সুযোগ দিতে চাইছে না, বরং মহাকাশ সম্পদের মালিকানা এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নতুন মডেলের দিকে এগোচ্ছে। এই মডেলে বেসরকারি সংস্থাগুলি নিজেরাই উপগ্রহের মালিক হবে। সেই উপগ্রহ থেকে সংগৃহীত তথ্য, ডেটা ও পরিষেবা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করে তারা আয় করতে পারবে। ফলে আগামী দিনে ভারতের মহাকাশ অর্থনীতিতে শুধু উৎক্ষেপণ পরিষেবা নয়, স্যাটেলাইট ডেটা, স্পেস-ভিত্তিক পরিষেবা, যোগাযোগ, নজরদারি এবং বিভিন্ন শিল্পে মহাকাশ প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

    ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে নতুন যুগের সূচনা?

    স্বাধীনতার পর থেকে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির বিকাশে ইসরোর ভূমিকা ছিল কেন্দ্রীয়। সীমিত সম্পদ ও পরিকাঠামোর মধ্যে নিজস্ব প্রযুক্তি তৈরি করে ভারত আজ বিশ্বে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এবার সেই মডেলেই বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। রুটিন উৎপাদন ও বাণিজ্যিক কাজের বড় অংশ শিল্পক্ষেত্রের হাতে তুলে দিয়ে ইসরো যদি গবেষণা ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির দিকে আরও বেশি মন দিতে পারে, তাহলে চাঁদ, মঙ্গল, মানব মহাকাশ অভিযান, গভীর মহাকাশ গবেষণা এবং নতুন প্রজন্মের উৎক্ষেপণ প্রযুক্তিতে ভারতের সক্ষমতা আরও বাড়তে পারে। অর্থাৎ, রকেট তৈরি থেকে প্রযুক্তি তৈরি—ইসরোর ভূমিকার এই পরিবর্তনই ভারতের পরবর্তী মহাকাশ অভিযানের অন্যতম বড় ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

  • Indian Professor Deepak Dhar: হকিংদের পাশে এবার ভারতীয় বিজ্ঞানী, ২০২৬-এর ডিরাক মেডেল পেলেন দীপক ধর

    Indian Professor Deepak Dhar: হকিংদের পাশে এবার ভারতীয় বিজ্ঞানী, ২০২৬-এর ডিরাক মেডেল পেলেন দীপক ধর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে ফের এক বড় স্বীকৃতি ভারতের। বিশিষ্ট ভারতীয় তাত্ত্বিক পদার্থবিদ দীপক ধরকে ২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ ডিরাক মেডেলে সম্মানিত করেছে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরেটিক্যাল ফিজিক্স (ICTP)। পরিসংখ্যানগত বলবিদ্যায় (Statistical Mechanics) তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। ১৯৮৫ সালে চালু হওয়া এই পুরস্কার তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যা ও গণিতে অসামান্য অবদানের জন্য দেওয়া হয়। অতীতে এই সম্মানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বিশ্বখ্যাত বহু বিজ্ঞানী। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন স্টিফেন হকিং-সহ পদার্থবিজ্ঞানের একাধিক কিংবদন্তি। ২০২৬ সালে দীপক ধর-সহ মোট চার জন বিজ্ঞানীকে ডিরাক মেডেলের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। বিপুল সংখ্যক কণার সমন্বয়ে গঠিত জটিল ব্যবস্থাগুলি কীভাবে সম্মিলিতভাবে আচরণ করে, তা নিয়ে গবেষণা করে যে শাখা, সেটিই পরিসংখ্যানগত বলবিদ্যা। আধুনিক বিজ্ঞানে এই ক্ষেত্রের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জটিল নেটওয়ার্ক এমনকি আর্থিক বাজারের মতো বিষয় বুঝতেও এই গবেষণার বিভিন্ন ধারণা কাজে লাগছে।

    ছোট শহর থেকে বিশ্বমঞ্চে

    ১৯৫১ সালে উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড়ে জন্ম দীপক ধরের। হিন্দি-মাধ্যম পরিবেশে বড় হয়ে ওঠা দীপকের মা চাইতেন ছেলে আইএএস অফিসার হোক। কিন্তু তাঁর বাবার উৎসাহেই বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। বাবা নিয়মিত বাড়িতে বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকা নিয়ে আসতেন। তার মধ্যে ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং অফ সায়েন্স’ (Understanding Science) নামের একটি পত্রিকা কিশোর দীপকের মনে বিশেষ প্রভাব ফেলেছিল। সেই কৌতূহলই পরবর্তীতে তাঁকে নিয়ে যায় বিশ্বের অন্যতম সেরা গবেষণা প্রতিষ্ঠানে। ইলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পর তিনি আইআইটি কানপুর থেকে এমএসসি করেন। এরপর পাড়ি দেন আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজিতে (Caltech)। সেখানে তিনি রিচার্ড ফাইনম্যান ফেলোশিপ পান। বিশ্বখ্যাত পদার্থবিদ রিচার্ড ফাইনম্যানের সঙ্গে কাজ করার সুযোগও হয় তাঁর। ফাইনম্যানের সঙ্গে সহকারী হিসেবে পড়াতেন দীপক ধর। ১৯৭৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকেই পিএইচডি সম্পূর্ণ করেন তিনি।

    বিদেশে কেরিয়ার নয়, দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত

    পিএইচডি শেষ করার পর বিদেশে থেকে যাওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু দীপক ধর বেছে নেন অন্য পথ। দেশে ফিরে যোগ দেন টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চে (TIFR)-এ। পরবর্তী কয়েক দশক ধরে ভারতেই গবেষণা চালিয়ে যান তিনি। আইআইএসইআর পুনেতেও (IISER Pune) প্রায় আট বছর অধ্যাপনা করেছেন। এই দীর্ঘ সময়ে অসংখ্য ছাত্রছাত্রীকে পড়ানোর পাশাপাশি ভারতে তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের গবেষণার ক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। টাটা-তে কাজের সময় কোনও আনুষ্ঠানিক গুরুর অধীনে না থেকেও দেশের শক্তিশালী তাত্ত্বিক পদার্থবিদদের একটি গবেষণা-সমাজের অংশ হয়ে ওঠেন তিনি। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিসংখ্যানগত পদার্থবিদ্যার নানা গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধানে কাজ করেছেন।

    ‘দীপক ধরের বার্নিং অ্যালগরিদম’ ও আন্তর্জাতিক সম্মান

    দীপক ধরের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অবদান হল বার্নিং অ্যালগরিদম-এর স্যান্ডপাইল মডেল (Dhar’s burning algorithm। Sandpile model)। জটিল ব্যবস্থার আচরণ বোঝার ক্ষেত্রে তাঁর গবেষণা আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানমহলে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। ডিরাক মেডেলই দীপক ধরের প্রথম বড় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নয়। ২০২২ সালে তিনি বল্টসম্যান মেডেল (Boltzmann Medal) পান এবং এই সম্মান পাওয়া প্রথম ভারতীয় হন। স্ট্যাটিসটিক্যাল পদার্থবিদ্যায় (Statistical Physics) এটি অন্যতম সর্বোচ্চ মর্যাদার পুরস্কার হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই সময় নিজের সাফল্য সম্পর্কে ধর বলেছিলেন, “আমি বল্টসম্যান মেডেল পাওয়া প্রথম ভারতীয়, কিন্তু পরিসংখ্যানগত পদার্থবিদ্যায় ভালো কাজ করা প্রথম ভারতীয় নই।” ২০২৩ সালে ভারত সরকার তাঁকে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান পদ্মভূষণ প্রদান করে।

    ডিরাক মেডেলের বিশেষ মর্যাদা

    প্রখ্যাত পদার্থবিদ পল ডিরাক-এর নামে এই পুরস্কার চালু করে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরেটিক্যাল ফিজিক্স। ১৯৮৫ সাল থেকে প্রতি বছর তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যা ও গণিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই মেডেল দেওয়া হয়। এই পুরস্কারের একটি বিশেষ নিয়ম হল—নোবেল, ফিল্ডস বা উলফ পুরস্কারজয়ীদের ডিরাক মেডেল দেওয়া হয় না। তবে অতীতে বহু ডিরাক মেডেলজয়ী পরবর্তীকালে এই আন্তর্জাতিক পুরস্কারগুলির কোনও না কোনওটি পেয়েছেন। দীপক ধরের সাফল্যের তাৎপর্য তাই শুধু একটি পুরস্কার পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উত্তরপ্রদেশের একটি ছোট শহরে বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকা পড়ে বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ তৈরি হওয়া এক ছাত্র পরবর্তীতে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পদার্থবিদ রিচার্ড ফাইনম্যানের সঙ্গে কাজ করেছেন, বিদেশে উজ্জ্বল কেরিয়ারের সুযোগ পেয়েও দেশে ফিরে এসেছেন এবং ভারতীয় বিজ্ঞানচর্চায় কয়েক দশক ধরে অবদান রেখে চলেছেন। ২০২৬-এর ডিরাক মেডেল সেই দীর্ঘ যাত্রারই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। তাঁর গল্প একই সঙ্গে প্রমাণ করে—কৌতূহল, অধ্যবসায় এবং দেশের মাটিতে থেকে বিজ্ঞানচর্চার প্রতি দায়বদ্ধতা থাকলে ছোট শহর থেকেও বিশ্ববিজ্ঞানের মঞ্চে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব।

  • International Biology Olympiad 2026: বিশ্বমঞ্চে ভারতের তরুণদের দাপট, আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াডে ১ সোনা ও ৩ রুপো জয়, শুভেচ্ছা মোদির

    International Biology Olympiad 2026: বিশ্বমঞ্চে ভারতের তরুণদের দাপট, আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াডে ১ সোনা ও ৩ রুপো জয়, শুভেচ্ছা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানের মঞ্চে আরও এক গর্বের মাইলফলক স্পর্শ করল ভারত। লিথুয়ানিয়ায় অনুষ্ঠিত ৩৭তম আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াড (International Chemistry Olympiad 2026)-এ অসাধারণ পারফরম্যান্সে পদক জয় দেশের চার প্রতিনিধির। বিশ্বের সেরা তরুণ বিজ্ঞানীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমে ভারতীয় দলটি ১টি স্বর্ণপদক এবং ৩টি রৌপ্যপদক অর্জন করেছে। তরুণ শিক্ষার্থীদের এই অভাবনীয় সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বিশেষ অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    বিজয়ীদের তালিকা ও সাফল্য

    লিথুয়ানিয়ার ভিলনিয়াসে আয়োজিত এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতায় ভারতের চার মেধাবী শিক্ষার্থী তাঁদের পারদর্শিতা প্রমাণ করেছেন। স্বর্ণপদক পেয়েছেন ভাব্য গুণওয়াল। রুপোর পদক গিয়েছে সৌমিল মাইতি, নিশীত কালানি ও আনমোল কুমারের ঝুলিতে। হাইস্কুল স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াড (International Chemistry Olympiad 2026) বিশ্বের অন্যতম কঠিন ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা হিসেবে গণ্য হয়। এখানে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক- উভয় পরীক্ষাতেই কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হয় শিক্ষার্থীদের।

    প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

    এই ঐতিহাসিক জয়ে আনন্দ প্রকাশ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi)। তরুণ বিজ্ঞানীদের কঠোর পরিশ্রম, মেধা ও নিষ্ঠার ভূয়সী প্রশংসাও করেন তিনি। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “এই সাফল্য অত্যন্ত আনন্দের। এটি দেশের আরও বহু শিক্ষার্থীকে বিজ্ঞান চর্চা ও গবেষণায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে উৎসাহিত করবে।” প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi) বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, ভারতীয় ছাত্র-ছাত্রীরা জীববিজ্ঞানের একাধিক জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ শাখায় নিজেদের গভীর জ্ঞানের পরিচয় দিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে মলিকিউলার বায়োলজি অ্যান্ড বায়োকেমিস্ট্রি (Molecular Biology and Biochemistry), অ্যানিম্যাল ফিজিওলজি (Animal Physiology), অ্যানিম্যাল মরফোলজি অ্যান্ড সিস্টেমেটিক্স (Animal Morphology and Systematics), প্ল্যান্ট কম্পিউটেশনাল বায়োলজি (Plant Computational Biology)।

    ভারতের কৃতিত্ব

    আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের এই ধারাবাহিক সাফল্য বিশ্বজুড়ে দেশের তরুণ বিজ্ঞান প্রতিভার ক্রমবর্ধমান ক্ষমতারই প্রতিফলন। ৩৭ তম আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াডে চার-এ-চার পদক জয় ভারতের বিজ্ঞান চর্চার ঝুলিতে আরও একটি নতুন ও উজ্জ্বল পালক যুক্ত করল।

  • PM Modi On Vikram-1 Launch: ‘ভারতের তরুণদের উপর ভরসা রাখা যায়’, বিক্রম-১-এর সাফল্যে স্কাইরুটকে অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রী মোদির

    PM Modi On Vikram-1 Launch: ‘ভারতের তরুণদের উপর ভরসা রাখা যায়’, বিক্রম-১-এর সাফল্যে স্কাইরুটকে অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রী মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের তরুণ উদ্ভাবকদের ওপর আস্থা রাখার সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল, তা আরও একবার প্রমাণিত হল। ভারতের প্রথম বেসরকারি কক্ষপথগামী রকেট ‘বিক্রম-১’-এর সফল উৎক্ষেপণের পর এমনই অভিমত ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi On Vikram-1 Launch)। ভারতের মহাকাশ অভিযাত্রা ইতিহাস গড়ল। হায়দরাবাদ-ভিত্তিক স্কাইরুট অ্যারোস্পেস-এর ‘বিক্রম-১’ (Vikram-1) শনিবার যাত্রা শুরু করল। এটি শুধু সংস্থাটির জন্যই নয়, গোটা দেশের জন্যও এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে কক্ষপথে রকেট উৎক্ষেপণে সক্ষম বিশ্বের তৃতীয় দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল ভারত। এরপরই হায়দরাবাদভিত্তিক মহাকাশ স্টার্টআপ স্কাইরুট (Skyroot’s Vikram-1) অ্যারোস্পেস-কে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি এই সাফল্যকে ভারতের বেসরকারি মহাকাশ খাতের জন্য এক অনুপ্রেরণা বলে উল্লেখ করেন।

    ‘বিক্রম-১’ -এর সফল উৎক্ষেপণ

    মহাকাশে পাড়ি দিল দেশের প্রথম অরবিটাল রকেট ‘বিক্রম-১’। শনিবার দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে সেটির উৎক্ষেপণ করা হয়। প্রাথমিক ভাবে শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় বিক্রম-১ লঞ্চ করার কথা ছিল। কিন্তু তার ঠিক ৫ মিনিট আগেই তা স্থগিত করে দেওয়া হয়। ঠিক কী কারণে শেষ মুহূর্তে এই সিদ্ধান্ত, তা স্পষ্ট নয়। তার পরে দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে রকেটটি শেষপর্যন্ত মহাকাশের উদ্দেশে রওনা দেয়। ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির জনক ড. বিক্রম সারাভাই-এর নামে এই রকেটের নামকরণ করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন বার্তা

    শনিবার উৎক্ষেপণ প্রত্যক্ষ করার পর প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পবন চন্দনা, ভারত ডাকাসহ পুরো স্কাইরুট দলকে অভিনন্দন। তোমাদের এই সাফল্য দেশের অসংখ্য তরুণ-তরুণীকে বড় স্বপ্ন দেখতে এবং নতুন কিছু করার অনুপ্রেরণা দেবে। উৎক্ষেপণের পুরো অনুষ্ঠান আমি দেখেছি। তোমাদের দলের অধিকাংশ সদস্যের বয়স ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে—এটাই ভারতের নতুন শক্তি।” মোদি স্মরণ করিয়ে দেন, বেসরকারি সংস্থার জন্য মহাকাশ খাত খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের সময় নানা সংশয় ও আপত্তি উঠেছিল। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যখন মহাকাশ খাতকে বেসরকারি সংস্থার জন্য উন্মুক্ত করার প্রস্তাব আসে, তখন অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। আজ আমার দলকেও স্বীকার করতে হবে যে ভারতের তরুণদের উপর ভরসা রাখা যায়।”

    ভারতের মহাকাশ ইতিহাসে নতুন অধ্যায়

    বিক্রম-১-এর সফল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে ভারত প্রথমবারের মতো একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে কক্ষপথে রকেট পাঠানোর সক্ষমতা প্রদর্শন করল। এর ফলে স্কাইরুট বিশ্বের সেই সীমিত সংখ্যক সংস্থার তালিকায় স্থান করে নিল, যারা নিজস্ব প্রযুক্তিতে কক্ষপথগামী রকেট তৈরি ও উৎক্ষেপণ করতে সক্ষম। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পূর্ণমাত্রায় বাণিজ্যিক পরিষেবা শুরু করার আগে আরও এক বা দুটি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ পরিচালনা করা হবে। স্কাইরুট অ্যারোস্পেস জানিয়েছে, বিক্রম-১ টেস্ট ফ্লাইট-১-এর পেলোডগুলির মধ্যে রয়েছে একটি অত্যন্ত বিশেষ স্মারক—প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজের হাতে লেখা একটি পোস্টকার্ড, যাতে লেখা রয়েছে “বন্দে মাতরম”। সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, এই স্মারকটি ‘মিশন আগমন’-এর অংশ। স্কাইরুটের ভাষায়, “মিশন আগমন হলো এমন এক উদযাপন, যা অসংখ্য মানুষের হাত ধরে মহাকাশে পৌঁছেছে এবং যার গর্ব ভাগ করে নিচ্ছে গোটা দেশ।”

    ভারতের বাণিজ্যিক মহাকাশ অভিযানে বড় পদক্ষেপ

    স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের তৈরি বিক্রম-১ একটি ছোট উপগ্রহ উৎক্ষেপণকারী কক্ষপথগামী রকেট। এটি ভবিষ্যতে বৈশ্বিক ক্ষুদ্র উপগ্রহ উৎক্ষেপণ বাজারে ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে। ‘মিশন আগমন’ নামে পরিচিত এই উৎক্ষেপণটি অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার (SDSC-SHAR)-এর প্রথম উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে সম্পন্ন হয়। পরীক্ষামূলক এই অভিযানে দেশি ও বিদেশি গ্রাহকদের একাধিক পেলোড বহন করা হয়েছে।

    ‘প্রথম চেষ্টাতেই কক্ষপথে পৌঁছানো অবিশ্বাস্য’

    সফল উৎক্ষেপণের পর স্কাইরুটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পবন চন্দনা বলেন, “এটি শুধু স্কাইরুটের জন্য নয়, ভারতের এবং বিশ্ব মহাকাশ শিল্পের জন্যও একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। প্রথম প্রচেষ্টাতেই আমরা কক্ষপথে পৌঁছাতে পারব, তা আমি ভাবিনি।” তিনি আরও জানান, “বিশ্বের অনেক দেশ ও সংস্থাকে উৎক্ষেপণের অনুমতির জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে অনুমোদন পেতে কোনও বিলম্ব হয়নি।”

    ইসরোর সাম্রাজ্যে বিক্রম-১-এর থাবা!

    ‘বিক্রম-১’ সফল হলে নতুন ইতিহাস তৈরি করবে ভারত। এর ফলে ভারত প্রথমবার কোনও বেসরকারি সংস্থার তৈরি রকেটের মাধ্যমে মহাকাশে উপগ্রহ পাঠাবে। এতদিন শুধুমাত্র সরকারি সংস্থা ইসরো মহাকাশে রকেট পাঠাত। কিন্তু এ বার সেই ধারায় বদল আসতে চলেছে। তবে এই অভিযানে নানা ভাবে সহযোগিতা করেছে ইসরো (ISRO)। সাততলা ভবনের সমান উচ্চতার বিক্রম-১ রকেটটি পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে ৪৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থিত লো আর্থ অরবিট (Low Earth Orbit)-এর উদ্দেশে যাত্রা করল। আমেরিকা ও চিনের পর ভারতই হল বিশ্বের তৃতীয় দেশ, যেখানে কোনও বেসরকারি সংস্থা কক্ষপথে রকেট উৎক্ষেপণ সম্ভব হল। স্কাইরুটের দাবি, তারা এমন একটি পরিষেবা চালু করতে চায়, যাকে তারা ‘মহাকাশে ক্যাব সার্ভিস’ বলে অভিহিত করছে। অর্থাৎ, ঠিক যেমন সহজে একটি ক্যাব বুক করা যায়, তেমনই ভবিষ্যতে সংস্থাগুলি একটি রকেট ভাড়া করে নির্দিষ্ট কক্ষপথে উপগ্রহ স্থাপন করতে বা মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছতে পারবে।

  • Vikram-1 Launch: ইতিহাস গড়ার পথে স্কাইরুট! ১৮ জুলাই মহাকাশে উড়বে ভারতের প্রথম বেসরকারি অরবিটাল রকেট ‘বিক্রম-১’

    Vikram-1 Launch: ইতিহাস গড়ার পথে স্কাইরুট! ১৮ জুলাই মহাকাশে উড়বে ভারতের প্রথম বেসরকারি অরবিটাল রকেট ‘বিক্রম-১’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচিত হতে চলেছে। দেশের প্রথম বেসরকারি সংস্থার তৈরি অরবিটাল রকেট ‘বিক্রম-১’ (Vikram-1) উৎক্ষেপণ হবে ১৮ জুলাই, শনিবার, সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে। হায়দরাবাদ-ভিত্তিক মহাকাশ প্রযুক্তি সংস্থা স্কাইরুট অ্যারোস্পেস (Skyroot Aerospace) তাদের প্রথম অরবিটাল মিশন ‘আগমন’ (Mission Aagaman)-এর উৎক্ষেপণের দিনক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে। অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টারের (SDSC-SHAR) প্রথম লঞ্চ প্যাড থেকে এই উৎক্ষেপণ হবে। ইতিমধ্যেই ইন স্পেস (IN-SPACe)-এর অনুমোদন মিলেছে।

    আত্মনির্ভর ভারতের প্রমাণ

    ২০১৮ সালে প্রাক্তন ইসরো বিজ্ঞানী পবন কুমার চন্দনা ও নাগা ভারত দাকা স্কাইরুট অ্যারোস্পেস প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২২ সালে সংস্থাটি বিক্রম-এস (Vikram-S) সাবঅরবিটাল রকেটের সফল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দেয়। এবার বিক্রম-১-এর সফল উৎক্ষেপণ ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্পের জন্য এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ইতিমধ্যেই রকেটটি হায়দরাবাদ থেকে বিভিন্ন অংশে শ্রীহরিকোটায় এনে জোড়া লাগিয়ে উৎক্ষেপণ মঞ্চে স্থাপন করা হয়েছে। এই প্রথম কোনও ভারতীয় বেসরকারি সংস্থার নকশা, উন্নয়ন ও উৎপাদিত অরবিটাল রকেট শ্রীহরিকোটার লঞ্চ প্যাডে স্থাপিত হল।

    কী এই ‘বিক্রম-১’?

    হায়দরাবাদ-ভিত্তিক স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের (Skyroot Aerospace) তৈরি চার-ধাপের রকেট ‘বিক্রম–১’-এর (Vikram-I) নাম দেওয়া হয়েছে ভারতের মহাকাশ কর্মসূচির জনক বিক্রম সারাভাই-এর (Vikram Sarabhai) নামে। প্রায় ২০ মিটার লম্বা ও ১.৭ মিটার ব্যাসের এই রকেটটি মূলত ছোট স্যাটেলাইট দ্রুত ও কম খরচে বিভিন্ন কক্ষপথে পাঠানোর লক্ষ্যেই তৈরি হয়েছে। রকেটের ২০ থেকে ২৪ মিটার উচ্চতার কার্বন-কম্পোজিট কাঠামো একদিকে ওজন হালকা করেছে, অন্যদিকে বাড়িয়েছে শক্তি ও স্থায়িত্ব। সংস্থার দাবি, পুরো রকেটটি মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমবেত করে যে কোনও লঞ্চসাইট (Launchsite) থেকে উৎক্ষেপণ সম্ভব। প্রথম তিনটি ধাপে কঠিন জ্বালানির মোটর এবং চূড়ান্ত ধাপে হাইপারগলিক তরল জ্বালানির ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে, যা কক্ষপথে অত্যন্ত সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণ দেয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, রকেটটিতে ব্যবহৃত ৩ডি-প্রিন্টেড ইঞ্জিনগুলি আগের তুলনায় ৫০ শতাংশ হালকা এবং উৎপাদন-সময়ে ৮০ শতাংশ সাশ্রয় করে।

    ক্ষমতা কত?

    বিক্রম–১ (Vikram-I) সর্বোচ্চ ৩৫০ কিলোগ্রাম পে-লোড নিম্ন কক্ষপথে (Low Earth Orbit) এবং ২৬০ কিলোগ্রাম সান-সিঙ্ক্রোনাস অরবিটে তুলতে সক্ষম। নির্দিষ্ট মিশন অনুযায়ী এই ক্ষমতা বদলে যেতে পারে। সে কারণে একাধিক স্যাটেলাইট একসঙ্গে বহন করা বা আলাদা কক্ষপথে পৌঁছে দেওয়াও সম্ভব।প্রথম পরীক্ষামূলক উড়ানে রকেটটি প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার উচ্চতায় এবং ৬০ ডিগ্রি ইনক্লিনেশন-এ কক্ষপথে প্রবেশ করবে। বিক্রম-১-এর প্রথম তিনটি ধাপে ব্যবহার করা হয়েছে সলিড ফুয়েল ইঞ্জিন, আর সর্বোচ্চ ধাপে রয়েছে লিকুইড-ফুয়েল ‘অরবিট অ্যাডজাস্টমেন্ট মডিউল’, যা একাধিকবার পুনরায় চালু করা যায়। ফলে ভবিষ্যতে একাধিক উপগ্রহকে ভিন্ন ভিন্ন কক্ষপথে নির্ভুলভাবে স্থাপন করা সম্ভব হবে।

    ‘বিক্রম–১’-এর পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ

    বিক্রম–১ (Vikram-I)-এর এই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের মূল লক্ষ্য হল রকেটের প্রপালশন সিস্টেম, স্টেজ সেপারেশন, গাইডেন্স, ন্যাভিগেশন ও কন্ট্রোল সিস্টেমের কার্যকারিতা যাচাই করা। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে দ্রুত ও নিয়মিত বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উড়ান-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহও এই মিশনের অন্যতম উদ্দেশ্য। এই অভিযান সফল হলে স্কাইরুট অ্যারোস্পেসই হবে ভারতের প্রথম বেসরকারি সংস্থা, যারা নিজস্ব অরবিটাল রকেট সফলভাবে উৎক্ষেপণ করবে। স্কাইরুট অ্যারোস্পেস জানিয়েছে, উৎক্ষেপণের আগে সমস্ত প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়েছে। বিমান চলাচল এবং সমুদ্রপথে নিরাপত্তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট কিছু এলাকাকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে, যাতে উৎক্ষেপণের সময় কোনও সমস্যা না হয়।

    ‘বিক্রম–১’-এর নানান কাজ

    বিক্রম-১ রকেটে একাধিক পেলোড বা বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম পাঠানো হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে ‘মিশন এমব্রেস’ নামে একটি বিশেষ প্রযুক্তি। এটি তৈরি করেছে হায়দরাবাদের আর একটি মহাকাশ সংস্থা কসমোসার্ভ স্পেস। এই প্রযুক্তির লক্ষ্য মহাকাশে ঘুরে বেড়ানো অকেজো উপগ্রহ এবং মহাকাশের আবর্জনা বা স্পেস ডেব্রিস নিরাপদে ধরার ব্যবস্থা তৈরি করা। এর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ ধরনের নরম ও নমনীয় রোবোটিক বাহু। এই বাহুগুলি ক্ষতিগ্রস্ত বা অকেজো উপগ্রহকে আলতোভাবে ধরে ভবিষ্যতে নিরাপদে সরিয়ে দেওয়ার প্রযুক্তি পরীক্ষা করবে। বর্তমানে মহাকাশে হাজার হাজার অকেজো উপগ্রহ ও ধ্বংসাবশেষ ঘুরে বেড়াচ্ছে। এগুলি ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযান এবং সক্রিয় উপগ্রহগুলির জন্য বড় বিপদ হয়ে উঠেছে। তাই এই সমস্যা সমাধানে নতুন প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে। কসমোসার্ভের এই উদ্যোগ সেই দিকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    একাধিক প্রযুক্তি প্রদর্শনী

    মিশনে একাধিক প্রযুক্তি প্রদর্শনী ও বাণিজ্যিক পেলোডও রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল স্কাইরুটের স্কোপ (SCOPE) উপগ্রহ, জার্মানির ডিসিইউ-বেড (DCUBED)-এর প্রযুক্তি প্রদর্শনী, গ্রাহা স্পেস (Grahaa Space)-এর সোলারাস এস-৩ (SOLARAS S3), এবং কসমোসার্ভ স্পেস (Cosmoserve Space)-এর মহাকাশের আবর্জনা সংগ্রহের জন্য তৈরি এমব্রেস (Embrace) রোবোটিক বাহু। এছাড়াও প্রতীকী পেলোড হিসেবে থাকছে বেঙ্গালুরুতে তৈরি ল্যাব-গ্রোন ডায়মন্ডের শিল্পকর্ম ‘Cosmic Bloom’ এবং শিল্পী অজয় কুমার ম্যাট্টেওয়াডার তৈরি ১৮ ক্যারেট সোনার ক্ষুদ্র রকেট, যা ভারতীয় মহাকাশ বিজ্ঞানের পথিকৃৎ বিক্রম সারাভাই, সি. ভি. রমন এবং ড. এ. পি. জে. আব্দুল কালাম-কে উৎসর্গ করা হয়েছে।

    ঐতিহাসিক উৎক্ষেপণ সরাসরি পর্যবেক্ষণ

    ছোট স্যাটেলাইটের বাজার বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়ছে, আর ভারতীয় মহাকাশ শিল্প ২০৩০ সালে ৭৭ বিলিয়ন ডলারের আকারে পৌঁছবে বলে অনুমান। সেই বাজারে নিজেদের জায়গা পাকা করতেই স্কাইরুটের এই নতুন উদ্যোগ। শ্রীহরিকোটা থেকে এই ঐতিহাসিক উৎক্ষেপণ সরাসরি দেখার জন্য এসডিএসসি-এসএইচএআর (SDSC-SHAR)-এর পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের জন্যও নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভারতের বেসরকারি মহাকাশ শিল্পে এই মিশনকে ইতিমধ্যেই এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফল হলে ছোট উপগ্রহ উৎক্ষেপণের ক্ষেত্রে ভারতের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ বাজারে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

  • Palakkad To Space: ‘গডস ওন কান্ট্রি’ থেকে মহাকাশ জয়! কেরালার এক জেলা থেকেই বিশ্ব কাঁপানো ৩ নভোচারী

    Palakkad To Space: ‘গডস ওন কান্ট্রি’ থেকে মহাকাশ জয়! কেরালার এক জেলা থেকেই বিশ্ব কাঁপানো ৩ নভোচারী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের মহাকাশ মানচিত্রে আজ অনন্য উচ্চতায় ভারত। তবে এবারের গৌরবগাথা কোনও একক রকেটের উৎক্ষেপণ বা উপগ্রহের কক্ষপথ জয়ের নয়; এবারের ইতিহাস তৈরি হয়েছে মানুষের মেধা, গভীর পারিবারিক ও আঞ্চলিক শিকড়ের মেলবন্ধনে। কেরালার ‘গডস ওন কান্ট্রি’ খ্যাত পালাক্কাদ (Palakkad) জেলা আজ বিশ্বমঞ্চে এক অবিশ্বাস্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে। একটিমাত্র জেলার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তিনজন বিখ্যাত মহাকাশচারীর নাম, যা আমেরিকা বা রাশিয়ার মতো পরাশক্তি বাদ দিলে পৃথিবীর আর কোনও অঞ্চলের ক্ষেত্রে ভাবাই যায় না। পাশাপাশি, আগামী ১৫ জুলাই ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাসা (NASA) নভোচারী ড. অনিল মেনন রাশিয়ার ‘সয়ূজ এমএস-২৯’ (Soyuz MS-29) মহাকাশযানে চেপে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (ISS) উদ্দেশ্যে তাঁর প্রথম মহাকাশ যাত্রা শুরু করতে চলেছেন।

    পালাক্কাদের সেই তিন ‘মহাকাশ বীর’ (Palakkad To Space)

    ড. অনিল মেনন (নাসা নভোচারী ও গবেষক)- আমেরিকায় বেড়ে উঠলেও ড. অনিল মেননের শিকড় কেরালার পালাক্কাদেই (Palakkad)। তাঁর বাবা ভারতীয় এবং মা ইউক্রেনীয়। অনিল একাধারে একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এবং মার্কিন স্পেস ফোর্সের কর্নেল। মহাকাশে যাওয়ার আগে তিনি ভারতের পোলিও নির্মূল অভিযানেও মাঠপর্যায়ে কাজ করেছিলেন। আগামী ১৫ জুলাই কাজাখস্তানের বাইকোনুর কসমোড্রোম থেকে দীর্ঘ ৮ মাসের এক বৈজ্ঞানিক মিশনের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন।

    আন্না মেনন (ইতিহাস সৃষ্টিকারী বাণিজ্যিক মহাকাশচারী)- ড. অনিল মেননের স্ত্রী আন্না মেনন ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে স্পেসএক্সের (SpaceX) ঐতিহাসিক ‘পোলারিস ডাউন’ মিশনের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই ইতিহাস গড়েছেন। বিশ্বের প্রথম বাণিজ্যিক স্পেসওয়াক (spacewalk) এবং পৃথিবী থেকে রেকর্ড দূরত্বে পাড়ি দেওয়া নারীদের মধ্যে তিনি অন্যতম। বর্তমানে তিনি নাসার মহাকাশচারী হিসেবে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। অনিল ও আন্না বর্তমান বিশ্বের অন্যতম এক বিরল এবং সফল ‘মহাকাশচারী দম্পতি’।

    এয়ার কমোডোর প্রশান্ত বালকৃষ্ণ নায়ার (ভারতের গগনযান বীর)- গৌরবের মুকুটে সবচেয়ে বড় পালকটি হলেন ভারতের নিজস্ব ‘গগনযান’ মিশনের অন্যতম প্রধান মহাকাশচারী এয়ার কমোডোর প্রশান্ত বালকৃষ্ণ নায়ার। তিনিও পালাক্কাদেরই সন্তান। ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে মহাকাশে মানুষ পাঠানোর স্বপ্নের অন্যতম প্রধান মুখ তিনি।

    হিউস্টন থেকে পালাক্কাদ

    আমেরিকার হিউস্টনে প্রশিক্ষণের সময় অনিল মেনন এবং প্রশান্ত নায়ারের মধ্যে এক চমৎকার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। অনিলের এই ঐতিহাসিক যাত্রার প্রাক্কালে প্রশান্ত নায়ার ও তাঁর স্ত্রী (অভিনেত্রী লেনা) একটি অত্যন্ত আবেগঘন শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন। প্রশান্ত লিখেছেন, “ভাই অনিল এবং প্রিয় আন্না… এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে পারা অত্যন্ত আবেগপূর্ণ একটি বিষয়। ভারত এবং কেরালার মাটির সঙ্গে তোমাদের এই টান আমরা সবসময় মনে রাখব। তোমরা দুজনে মিলে সত্যিই একটি সম্পূর্ণ মহাকাশচারী পরিবার”।

    ভারতের মহাকাশ যাত্রার এক প্রতীকী বৃত্ত পূরণ

    মালয়ালি তথা সমগ্র ভারতবাসীর জন্য এই উদযাপনের আনন্দ আরও দ্বিগুণ। কারণ, ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ‘ইসরো’ (ISRO)-এর জন্ম হয়েছিল কেরালারই এক প্রত্যন্ত মাছ ধরার গ্রাম ‘থুম্বা’ (Thumba)-তে। আর আজ কেরালারই এক জেলা থেকে উঠে আসা তিন ব্যক্তিত্ব বৈশ্বিক মহাকাশ গবেষণার মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছেন। আমেরিকার নাসা, রাশিয়ার রশকমস কিংবা ভারতের ইসরো- সংস্থা যাই হোক না কেন, পালাক্কাদের এই তিন নক্ষত্র প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণার ভবিষ্যৎ রূপায়ণে ভারতের ভূমিকা এখন আর শুধু প্রযুক্তি সরবরাহে সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানব অভিযানের নেতৃত্বেও ভারত আজ প্রথম সারিতে।

  • 700-Year Old Banyan Tree: বিজ্ঞানের হাত ধরে ইতিহাসের হদিশ, মুঙ্গেরে মিলল ৭০০ বছরের পুরানো বটগাছ!

    700-Year Old Banyan Tree: বিজ্ঞানের হাত ধরে ইতিহাসের হদিশ, মুঙ্গেরে মিলল ৭০০ বছরের পুরানো বটগাছ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিহারের মুঙ্গেরে খোঁজ মিলল বুড়ো বটের! গাছটির বয়স ৭০০ বছর। লোককথা নয়, সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বয়স নির্ধারণ করা হল ওই অতিকায় বট গাছের। এই আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বের সবচেয়ে সঠিকভাবে বয়স নির্ণয় করা প্রাচীনতম বট গাছ (World’s Oldest Accurately Dated Banyan Tree) হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল মুঙ্গেরের ওই গাছ।

    কীভাবে জানা গেল আসল বয়স? (700-Year Old Banyan Tree) 

    আমাদের মতো গরম ও আর্দ্র অঞ্চলের (Tropical region) গাছের গুঁড়িতে সাধারণত স্পষ্ট গোল গোল বৃদ্ধির বলয় বা ‘গ্রোথ রিংস’ (Growth Rings) তৈরি হয় না। আর এই বলয় দেখেই যেহেতু সাধারণ পদ্ধতিতে গাছের বয়স মাপা হয়, তাই এই ধরনের গাছের সঠিক বয়স জানা বিজ্ঞানীদের কাছে বেশ কঠিন ছিল। কিন্তু লখনউয়ের Birbal Sahni Institute of Palaeosciences-এর বিজ্ঞানী তৃণা বোস, ময়াঙ্ক শেখর এবং অখিলেশ কে যাদব সেই কঠিন কাজটাও সহজ করে দিলেন। বিজ্ঞানীরা প্রথমে গাছটির ঝুরি থেকে তৈরি হওয়া একটা মোটা গুঁড়ি এবং একটি পুরানো ডাল থেকে সামান্য কাঠ কেটে নেন। এরপর ল্যাবরেটরিতে সেই কাঠের সবচেয়ে শক্ত অংশটুকু আলাদা করা হয়। সবশেষে, ‘রেডিওকার্বন ডেটিং’ (Radiocarbon dating) নামের এক আধুনিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং বিশেষ কম্পিউটারের সফটওয়্যারের সাহায্যে নিখুঁতভাবে মেপে দেখা যায় যে, গাছটির বয়স প্রায় ৭০০ বছর (700-Year Old Banyan Tree)! স্থানীয়রা জানতেন, মুঙ্গেরের ঐতিহাসিক ‘বড় বাংলোর’ পাশে ৩০০-৩৫০ বছর আগে কেউ হয়তো এই গাছটি (Banyan Tree) রোপণ করেছিলেন। কিন্তু বিজ্ঞানীদের এই নতুন গবেষণা সব হিসেব ওলটপালট করে দিল! আসলে, ওই বাংলো তৈরি হওয়ারও বহু বছর আগে থেকেই বটগাছটি সেখানে রয়েছে।

    সাফল্যের মুকুটে আরও এক পালক(India’s Milestones)

    তবে এই প্রথম নয়, বিশ্বমঞ্চে এর আগেও একাধিকবার পরিবেশ ও বিজ্ঞানভিত্তিক মাইলফলক (Milestones) স্পর্শ করেছে ভারত। মুঙ্গেরের এই আবিষ্কার ভারতের সেই গৌরবময় তালিকায় আরও একটি অনন্য অধ্যায় হয়ে উঠল। চন্দ্রযান-৩ (Chandrayaan-3)-এর সফলভাবে চাঁদে অবতরণ থেকে শুরু করে মঙ্গলাকাশে ভারতের কৃতিত্ব বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। ‘Project Tiger’ এবং ‘Project Elephant’-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে ভারত আজ বিশ্বের দরবারে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে অন্যতম পথপ্রদর্শক। এর আগে ভারতের প্রাচীন জলবায়ু (Past climates) এবং সিন্ধু সভ্যতার সমসাময়িক পরিবেশ গবেষণায়ও ভারতীয় বিজ্ঞানীরা আন্তর্জাতিক স্তরে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

    আমাদের সংস্কৃতিতে বট গাছের গুরুত্ব অপরিসীম। মুঙ্গেরের এই ৭০০ বছরের বুড়ো গাছটি (700-Year Old Banyan Tree) কেবল একটি উদ্ভিদ নয়, এটি নিজেই বাস্তুতন্ত্র। শত শত বছর ধরে অসংখ্য পাখি, কীটপতঙ্গ এবং বন্যপ্রাণের আশ্রয়স্থল এই বটগাছ। যুগ যুগ ধরে মানুষের সামাজিক মেলবন্ধন ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে এই মহীরুহ। মুঙ্গেরের এই বট গাছের বয়স আবিষ্কার কেবল একটি সংখ্যা নয়, এটি ভারতের বিজ্ঞান সাধনার এক ঐতিহাসিক জয়। ৭০০ বছর ধরে ঝড়-ঝাপটা সহ্য করে দাঁড়িয়ে থাকা এই বটবৃক্ষ যেমন আমাদের অতীতের কথা মনে করায়, তেমনই বিজ্ঞানীদের এই সাফল্য আমাদের এক গর্বিত ভারতের ছবিও ফুটিয়ে তোলে।

  • El Nino: তৈরি ‘এল নিনো’, শক্তিশালী হয়ে উঠছে উষ্ণ বায়ুর প্রভাব! ভারতের বর্ষা মঙ্গলে অশনি সংকেত

    El Nino: তৈরি ‘এল নিনো’, শক্তিশালী হয়ে উঠছে উষ্ণ বায়ুর প্রভাব! ভারতের বর্ষা মঙ্গলে অশনি সংকেত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সামনেই বর্ষা। তার আগে এক বড় আশঙ্কার কথা শোনাল ভারতের আবহাওয়া দফতর (IMD)। প্রশান্ত মহাসাগরে ‘এল নিনো’ (El Nino) পরিস্থিতি সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে নিশ্চিত করেছেন আবহাওয়াবিদরা। শুধু তাই নয়, সতর্কবার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে যে, চলতি বছর বর্ষার মরশুম (Weather Update) যত এগোবে, এটি আরও বেশি শক্তিশালী ও দাপুটে হয়ে ওঠার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এই আবহাওয়া পরিস্থিতির জেরে ভারতে বর্ষার মানচিত্র পুরো বদলে যেতে পারে। এর জেরে বিলম্বিত বর্ষা থেকে, কম বৃষ্টিপাত ও অসময়ে অতিবৃষ্টির সঙ্কট তৈরি হতে পারে। সেই সঙ্গে প্রাণান্তকর গরমে ছটফট করতে পারে মানুষ।

    ভারতে বর্ষার উপর এল-নিনো-র প্রভাব

    দেশে বর্ষার উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ আবহাওয়াগত পরিবর্তনের কথা জানাল ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)। আইএমডি-র বুলেটিন অনুযায়ী, মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের জলপৃষ্ঠের তাপমাত্রা (Sea Surface Temperatures) স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ‘এল নিনো’ সক্রিয় হওয়ার নির্দিষ্ট সীমারেখা অতিক্রম করে গিয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, সমুদ্রপৃষ্ঠের এই উষ্ণায়নের সঙ্গে সঙ্গে বায়ুমণ্ডলও সমান্তরালভাবে সাড়া দিতে শুরু করেছে। এর অর্থ, সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলের এই যৌথ বা কাপল্ড সিস্টেমটি এখন সম্পূর্ণভাবে ‘এল নিনো’র গ্রাসে চলে গিয়েছে। বুলেটিন অনুযায়ী, নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে আনুষ্ঠানিকভাবে এল নিনো (El Nino) পরিস্থিতির সূচনা হয়েছে। শুধু তাই নয়, চলতি দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর মরশুমে এই এল নিনো আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

    আরও শক্তিশালী হবে ‘এল নিনো’

    মৌসম ভবনের বুলেটিনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বর্তমানে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরে ‘এল নিনো’ পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর মরশুমে এটি আরও শক্তিশালী রূপ ধারণ করতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী মাসগুলিতে ‘এল নিনো’র তীব্রতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, জুন ২০২৬-এ মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা ‘এল নিনো’র জন্য নির্ধারিত মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতি পরিমাপের অন্যতম প্রধান সূচক তথা ‘নিনো ৩.৪ ইনডেক্স’ (Niño 3.4 index)-এর গত তিন মাসের গড় তাপমাত্রা +০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে চলে গিয়েছে, যা ‘এল নিনো’র আনুষ্ঠানিক আগমনকে সিলমোহর দেয়। এ ছাড়াও, প্রশান্ত মহাসাগরের তলদেশেও তাপমাত্রার ব্যাপক অসঙ্গতি বা উষ্ণতা লক্ষ্য করা গেছে, যার অর্থ গভীরের এই গরম জল আগামী দিনগুলিতে অনবরত সমুদ্রপৃষ্ঠে উঠে এসে ‘এল নিনো’কে আরও বেশি শক্তিশালী করে তুলবে।

    দেশে বর্ষার উপর কী প্রভাব?

    সাধারণত ‘এল নিনো’ হল একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা প্রশান্ত মহাসাগরের জলপৃষ্ঠের অতিরিক্ত উষ্ণায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। ভারতের আবহাওয়ার ইতিহাসে এই ‘এল নিনো’র রেকর্ড মোটেও ভাল নয়। ঐতিহাসিকভাবে, ‘এল নিনো’ সক্রিয় থাকলে ভারতে বর্ষার বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই কমে যায়। এর ফলে দেশের একাধিক রাজ্যে তীব্র দাবদাহ, দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক মরশুম এবং ক্ষেত্রবিশেষে ভয়াবহ খরার (Drought) ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। তবে আইএমডি জোর দিয়ে বলেছে যে, ভারতের বর্ষা কেবল ‘এল নিনো’র ওপর নির্ভর করে না, অন্যান্য অনেক আঞ্চলিক উপাদানও এর সঙ্গে জড়িত।

    ‘এল নিনো’ কী?

    সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব থেকে পশ্চিমে বয়ে চলা হাওয়া গরম জলকে ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার দিকে ঠেলে দেয়। কিন্তু কয়েক বছর পরপর এই হাওয়া দুর্বল হয়ে পড়লে গরম জল উল্টো অভিমুখে, অর্থাৎ দক্ষিণ আমেরিকার উপকূলের দিকে চলে যায়। প্রশান্ত মহাসাগরের এই অস্বাভাবিক উষ্ণ হয়ে ওঠার চেনা নামই হল ‘এল নিনো’। গ্রীষ্মকালে ভারতের ভূখণ্ড প্রচণ্ড উত্তপ্ত হলে ভারত মহাসাগর থেকে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস দেশের দিকে ছুটে আসে, যা বর্ষা ডেকে আনে। কিন্তু এল নিনো এই বাতাসের গতিপথকে ভারত থেকে দূরে, প্রশান্ত মহাসাগরের দিকে ঘুরিয়ে দেয়। ফলে মেঘ ও বৃষ্টির চাকা থমকে যায়। তথ্য বলছে, ১৯৫১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে হওয়া প্রায় ৬০ শতাংশ এল নিনোর বছরগুলিতেই ভারতে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশ কমে গিয়েছিল।

    ভারতের নিজস্ব ‘রক্ষাকবচ’

    এল নিনো এলেই যে খরা হবে, তা নয়। অনেক সময় ভারতের ত্রাতা হয়ে ওঠে ভারত মহাসাগর নিজেই। একে বলা হয় ‘ইন্ডিয়ান ওশেন ডাইপোল’ বা আইওডি (IOD)।

    • পজিটিভ আইওডি : যখন পূর্ব আফ্রিকার উপকূলবর্তী পশ্চিম ভারত মহাসাগর উত্তপ্ত হয় এবং ইন্দোনেশিয়ার দিকের পূর্ব অংশ শীতল থাকে। এই পরিস্থিতি এল নিনোর নেতিবাচক প্রভাবকে রুখে দিয়ে ভারতে বাড়তি বৃষ্টির জোগান দেয়।
    • নেগেটিভ আইওডি: এর উল্টো পরিস্থিতি বর্ষাকে আরও দুর্বল করে। ২০০২ এবং ২০১৫ সালের মতো এল নিনো ও নেগেটিভ আইওডির যুগলবন্দি ভারতের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ খরা ডেকে এনেছিল।
    • নিরপেক্ষ আইওডি: আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে ভারত মহাসাগরে ‘ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল’ বা আইওডি (IOD) পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ‘নিরপেক্ষ’ বা নিউট্রাল অবস্থায় রয়েছে। বর্ষা জুড়েই এই পরিস্থিতি বজায় থাকার সম্ভাবনা। নিরপেক্ষ আইওডি থাকার অর্থ হল – এটি এবার ‘এল নিনো’র ক্ষতিকারক প্রভাবকে কমাতেও পারবে না, আবার বাড়িয়ে তুলতেও ভূমিকা নেবে না।
LinkedIn
Share