Chernobyl: বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক শক্তির ওপর তৈরি হওয়া আস্থার মেরুদণ্ডটাই ভেঙে দিয়েছিল চের্নোবিল বিপর্যয়

Chernobyl to kalpakkam india built a restrained science first nuclear path

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঠিক ৪০ বছর আগে, আজকের দিনেই, ২৬ এপ্রিল ১৯৮৬, চের্নোবিল বিপর্যয় শুধু একটি রিঅ্যাক্টর ধ্বংস করেনি, এটি বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক শক্তির ওপর তৈরি হওয়া আস্থার মেরুদণ্ডটাই ভেঙে দিয়েছিল (Chernobyl)। এটি সেই বিপর্যয় যা বৈশ্বিক পারমাণবিক আলোচনাকে (Nuclear Path) বদলে দেয়। ইউক্রেনের প্রিপিয়াত শহরের চের্নোবিল নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের রিঅ্যাক্টর ৪-এর কন্ট্রোল রুম।

চের্নোবিল বিপর্যয় (Chernobyl)

১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিল রাতে একটি নিরাপত্তা পরীক্ষা মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হয়। অপারেটররা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অনুকরণ করতে গিয়ে অনিয়ন্ত্রিত পরিস্থিতি ও নকশাগত ত্রুটির কারণে বিস্ফোরণ ঘটায়, যা ১,০০০ টনের রিঅ্যাক্টর ঢাকনাকে শূন্যে উড়িয়ে দেয়।কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেজস্ক্রিয় পদার্থ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এই কন্ট্রোল রুমই ছিল সেই ব্যর্থ পরীক্ষার ভরকেন্দ্র। এতে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ঘটনাটি গোপন রাখায় বিশ্ব কিছুটা দেরিতে এই বিপর্যয়ের কথা জানতে পারে। ততক্ষণে বিকিরণ সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে যখন বিজ্ঞানীরা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেন, বিশ্বজুড়ে সরকারগুলির মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়, প্রতিবাদে পথে নেমে পড়েন নাগরিকরা।

পারমাণবিক কর্মসূচি

ভারতের মতো দেশগুলির জন্য, যারা তখন তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তুলছিল, একটি কঠিন প্রশ্ন সামনে আসে:
কীভাবে পারমাণবিক শক্তিকে কাজে লাগানো যাবে, ভয়ের জন্ম না দিয়ে? পরবর্তী দশকগুলিতে বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক আলোচনা প্রায়ই আক্রমণাত্মক অবস্থান ও শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়েছে। এর পরেই ভিন্ন পথ বেছে নেয় ভারত। জুলফিকর আলি ভুট্টোর বিখ্যাত উক্তির বিপরীতে, ভারতের পারমাণবিক যাত্রা ছিল পরিমিত ও পরিকল্পিত (Chernobyl)। ১৯৯৮ সালে পারমাণবিক পরীক্ষা করার পরেও ভারত যে নীতি ঘোষণা করে, তা হল, নো ফার্স্ট ইউজ, ক্রেডিবল মিনিমাম ডেটেরেন্স, নাগরিক নিয়ন্ত্রণে পারমাণবিক সিদ্ধান্ত। এটি শুধু নীতি নয়, একটি বার্তা—ভারত পারমাণবিক ক্ষমতা রাখবে, কিন্তু তা দায়িত্বহীনভাবে প্রদর্শন করবে না।

ভারতের পারমাণবিক প্রতিষ্ঠান

ভারতের পারমাণবিক প্রতিষ্ঠানগুলি মূলত বিজ্ঞানীদের দ্বারা পরিচালিত। যেমন, ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টার, নিউক্লিয়ার পাওয়ার কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড। এরা গুরুত্ব দেয়, রিঅ্যাক্টর নিরাপত্তা, দেশীয় প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসইতা (থোরিয়াম গবেষণা সহ)-র ওপর। ভারতের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলি হল তারাপুর অ্যাটোমিক পাওয়ার স্টেশন, মাদ্রাজ অ্যাটোমিক পাওয়ার স্টেশন, কুডানকুলাম নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট।

চের্নোবিল কাণ্ডের দুর্বলতা

চের্নোবিল দুটি বড় দুর্বলতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল। এগুলি হল ত্রুটিপূর্ণ রিঅ্যাক্টর নকশা, গোপনীয়তা ও নিয়ম ভঙ্গের সংস্কৃতি। ভারত এই দুই ক্ষেত্রেই উন্নতি করে-নিরাপদ রিঅ্যাক্টর নকশা, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা। ভারতের রিঅ্যাক্টরগুলিতে রয়েছে, স্বয়ংক্রিয় স্থিতিশীলতা ব্যবস্থা, একাধিক শাটডাউন সিস্টেম, শক্তিশালী কনটেনমেন্ট, অ্যাটোমিক এনার্জি রেগুলেটরি (Nuclear Path) বোর্ড নিয়মিত নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করে (Chernobyl)।

নিউক্লিয়ার ডিসআস্টার

ফুকুশিমা দেইছি নিউক্লিয়ার ডিসআস্টার দেখিয়ে দেয় যে উন্নত প্রযুক্তিও ব্যর্থ হতে পারে। এর ফলে ভারত উপকূলীয় প্লান্টের নিরাপত্তা বাড়ায়, সুনামি ও ভূমিকম্প ঝুঁকি মূল্যায়ন করে, ব্যাকআপ সিস্টেম উন্নত করে। ভারতে কয়লা দূষণকারী, নবায়নযোগ্য শক্তি অনিয়মিত। চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে পারমাণবিক শক্তি দেয় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, কম কার্বন নিঃসরণ, দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা। মনে রাখতে হবে, চের্নোবিল একটি সতর্কবার্তা। কিন্তু ভারত পথ দেখায়— শৃঙ্খলা, সংযম (Nuclear Path) ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে পারমাণবিক শক্তি ভয়ের নয়, নিয়ন্ত্রণযোগ্য (Chernobyl)।

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share