Category: খেলা

Get updates on Sports News Cricket, Football, Tennis, from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Commonwealth Games 2026: ভারতের হাতে কমনওয়েলথের পতাকা, পদক তালিকায় চতুর্থ স্থানে শেষ গ্লাসগো অভিযান

    Commonwealth Games 2026: ভারতের হাতে কমনওয়েলথের পতাকা, পদক তালিকায় চতুর্থ স্থানে শেষ গ্লাসগো অভিযান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পদক তালিকায় চতুর্থ স্থান দখল করে কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এর (Commonwealth Games 2026) অভিযান শেষ করল ভারত। রবিবার গভীর রাতে দ্য হাইড্রো স্টেডিয়ামে বসেছিল সমাপ্তি অনুষ্ঠানের আসর। সেই মঞ্চেই আনুষ্ঠানিক ভাবে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হলো কমনওয়েলথ গেমসের পতাকা। ২০৩০-এ কমনওয়েলথ গেমস হবে গুজরাটের আমেদাবাদে। সমাপ্তি অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন অলিম্পিক পদকজয়ী নীরজ চোপড়া। ছিলেন ভারতীয় অলিম্পিক সংস্থার (IOA) সভাপতি পিটি ঊষা এবং গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাঙ্ঘভিও। তাঁদের হাতেই কমনওয়েলথ গেমসের পতাকা তুলে দেওয়া হয়।

    সাফল্যের নেপথ্যে সরকার

    গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ভারত ১৩ সোনা, ১৭ রুপো এবং ৯ ব্রোঞ্জ মিলিয়ে মোট ৩৯ পদক জিতে নজর কেড়েছে। বক্সিং, অ্যাথলেটিক্স, প্যারা অ্যাথলেটিক্স এবং জুডো—একাধিক ইভেন্টে পদক জিতে ভারতের ঝুলিতে এল রেকর্ড সাফল্য। এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য দেশের ক্রীড়াবিদদের অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে এই সাফল্য শুধুমাত্র ক্রীড়াবিদদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ফল নয়। এর নেপথ্যে রয়েছে ভারতের গত কয়েক বছরে গড়ে ওঠা সুসংগঠিত হাই-পারফরম্যান্স ক্রীড়া পরিকাঠামো, যেখানে কেন্দ্র সরকার, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রক, স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (SAI), টার্গেট অলিম্পিক পোডিয়াম স্কিম (TOPS), জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশন (NSF) এবং ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (IOA) একসঙ্গে কাজ করেছে।

    পদকজয়ীদের শুভেচ্ছা রাষ্ট্রপতির

    রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ একাধিক পোস্ট করে পদকজয়ী সমস্ত ভারতীয় ক্রীড়াবিদকে শুভেচ্ছা জানান। তাঁর শুভেচ্ছা তালিকায় রয়েছেন বক্সার প্রীতি পাওয়ার, জেসমিন ল্যাম্বোরিয়া, সাক্ষী চৌধুরী, প্রিয়া ঘানঘাস, অরুন্ধতী চৌধুরী, সচিন সিওয়াচ, অঙ্কুশ পাংঘাল, লাভলিনা বরগোহাইন, জাদুমণি সিং ও নরেন্দ্র বেরওয়াল। পাশাপাশি প্যারা অ্যাথলিট সোমন রানা ও শুভম জুয়াল, ট্রিপল জাম্পার প্রবীণ চিত্রাভেল ও সেলভা প্রভু থিরুমারণ, জুডোকা উন্নতি শর্মা এবং দীর্ঘ দূরত্বের দৌড়বিদ গুলবীর সিংকেও অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি।

    পদক প্রাপকদের প্রেরণা প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এক্স-এ পৃথক পোস্ট করে প্রত্যেক পদকজয়ীকে শুভেচ্ছা জানান। বিশেষ করে ভারতের বক্সারদের ঐতিহাসিক সাফল্যের প্রশংসা করেন তিনি। পুরুষদের এফ৫৭ শটপুটে ভারতের প্রথম কমনওয়েলথ গেমস সোনা জয়ী সোমন রানার পারফরম্যান্সকে তিনি “ঐতিহাসিক” বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি প্যারা অ্যাথলেট ও ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের পদকজয়ীদেরও ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানান।

    বিশ্বমানের প্রশিক্ষণেই তৈরি সাফল্যের ভিত

    গ্লাসগো যাওয়ার আগে ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য বিশ্বমানের কোচিং, স্পোর্টস সায়েন্স, ফিজিওথেরাপি, পুষ্টিবিদ এবং আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করেছিল ক্রীড়া মন্ত্রক। সাই-টপস প্রকল্পের আওতায় সম্ভাব্য পদকজয়ীদের ব্যক্তিগত সহায়তা, বিদেশে প্রশিক্ষণ এবং বিশেষজ্ঞ সাপোর্ট স্টাফের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। ফলে বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে সমানে লড়াই করার মতো প্রস্তুতি নিয়েই গ্লাসগোয় পৌঁছেছিলেন ভারতীয় অ্যাথলিটরা।

    বক্সিংয়ে ভারতের সর্বকালের সেরা পারফরম্যান্স

    গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে বক্সিংয়ে। ৭টি সোনা ও ৩টি রুপো জিতে পদক তালিকার শীর্ষে উঠে ইতিহাস গড়েছে ভারতীয় বক্সিং দল। এর আগে কমনওয়েলথ গেমসে এত বড় সাফল্য কখনও আসেনি।

    ভারতের হয়ে সোনা জিতেছেন—

    প্রীতি পাওয়ার (মহিলা ৫৪ কেজি)
    জেসমিন ল্যাম্বোরিয়া (মহিলা ৫৭ কেজি)
    সাক্ষী চৌধুরী (মহিলা ৫১ কেজি)
    প্রিয়া ঘানঘাস (মহিলা ৬০ কেজি)
    অরুন্ধতী চৌধুরী (মহিলা ৭০ কেজি)
    সচিন সিওয়াচ (পুরুষ ৬০ কেজি)
    অঙ্কুশ পাংঘাল (পুরুষ ৮০ কেজি)

    রুপো জিতেছেন—

    লাভলিনা বরগোহাইন (মহিলা ৭৫ কেজি)
    জাদুমণি সিং (পুরুষ ৫৫ কেজি)
    নরেন্দ্র বেরওয়াল (পুরুষ ৯০ কেজির বেশি)
    রোমাঞ্চকর জয় সচিনের, দুরন্ত অঙ্কুশ

    পুরুষদের ৮০ কেজি বিভাগে ইংল্যান্ডের ডিমেজি শিট্টুকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে ভারতের সপ্তম সোনা নিশ্চিত করেন অঙ্কুশ পাংঘাল।

    দিনের অন্যতম সেরা লড়াই উপহার দেন সচিন সিওয়াচ। নামিবিয়ার ট্রাইঅ্যাগেইন মর্নিং এনডেভেলোর বিরুদ্ধে প্রথম দিকে পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেন তিনি।

    অরুন্ধতী চৌধুরী ইংল্যান্ডের শ্যান্টেল রিডকে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জেতেন। একইভাবে প্রীতি পাওয়ার কানাডার স্কারলেট সাভানাহ ডেলগাডোকে ৫-০ ব্যবধানে পরাজিত করেন। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জেসমিন ল্যাম্বোরিয়া উত্তর আয়ারল্যান্ডের মাইকেলা ওয়ালশকে এবং সাক্ষী চৌধুরী ইংল্যান্ডের রুবি হোয়াইটকে একই ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জেতেন। প্রিয়া ঘানঘাসও ফাইনালে কানাডার মেরি-ব্যাথুল আল-আহমাদিয়েহকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে ভারতের সোনার ঝুলি আরও ভারী করেন।

    অন্যদিকে, লাভলিনা বরগোহাইন ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার এমা-সু গ্রিনট্রির কাছে ১-৪ ব্যবধানে হেরে রুপো পান। জাদুমণি সিং ও নরেন্দ্র বেরওয়ালও ফাইনালে পরাজিত হয়ে রুপো জেতেন।

    প্যারা অ্যাথলেটিক্সে ইতিহাস, অ্যাথলেটিক্সেও একাধিক পদক

    পুরুষদের এফ৫৭ শটপুটে সোমন রানা সোনা জিতে ইতিহাস গড়েছেন। এই ইভেন্টে কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের প্রথম সোনাজয়ী তিনি। একই ইভেন্টে শুভম জুয়াল রুপো জিতে ভারতের সাফল্য আরও বাড়ান। অ্যাথলেটিক্সে পুরুষদের ট্রিপল জাম্পে প্রবীণ চিত্রাভেল রুপো এবং সেলভা প্রভু থিরুমারণ ব্রোঞ্জ জিতে ভারতের জন্য ঐতিহাসিক ডাবল পডিয়াম নিশ্চিত করেন। পুরুষদের ৫,০০০ মিটারে গুলবীর সিং ব্রোঞ্জ জিতে এই ইভেন্টে ভারতের প্রথম কমনওয়েলথ পদকজয়ী হন।

    ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর উদযাপন

    কমনওয়েলথ-এর মঞ্চেও বেজে উঠল ‘বন্দে মাতরম’-এর সুর। রবিবার গেমসের সমাপ্তি অনুষ্ঠানের শুরুতে নিজেদের সংস্কৃতি, সঙ্গীত এবং ঐতিহ্যকে তুলে ধরে স্কটল্যান্ড। সেখান থেকে ধীরে ধীরে মঞ্চের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে ভারত। একসঙ্গে গলা মেলান দুই দেশের সঙ্গীতশিল্পীরা। ভারতের অনুষ্ঠানে ছিল মোট তিনটি পর্ব। প্রথম পর্বে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর উদযাপন করা হয়। অভিনেত্রী মানুষী চিল্লারের সঙ্গে ভারতের নানা ভাষা, সংস্কৃতি ও শিল্পকলার বৈচিত্র্য তুলে ধরেন শতাধিক নৃত্যশিল্পী। দেখানো হয় আমেদাবাদকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্রও।

  • India at CWG 26: গ্লাসগোয় ভারতের দাপট! বক্সিংয়ে জোড়া সোনা প্রীতি, জেসমিনের, অ্যাথলেটিক্সে চিত্রাভেল, সেলভার রুপো-ব্রোঞ্জ

    India at CWG 26: গ্লাসগোয় ভারতের দাপট! বক্সিংয়ে জোড়া সোনা প্রীতি, জেসমিনের, অ্যাথলেটিক্সে চিত্রাভেল, সেলভার রুপো-ব্রোঞ্জ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারতীয় বক্সারদের দুরন্ত সাফল্য অব্যাহত। শনিবার (১ আগস্ট) স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে মহিলাদের ৫৪ কেজি বিভাগে দুরন্ত পারফরম্যান্স করে সোনার পদক জিতলেন ভারতের প্রীতি পাওয়ার। ফাইনালে তিনি কানাডার স্কারলেট সাভানা ডেলগাডো-কে ৫-০ ব্যবধানে সর্বসম্মত রায়ে হারিয়ে ভারতের ঝুলিতে ষষ্ঠ সোনা তুলে দেন।এর কিছুক্ষণ পরেই মহিলাদের ৫৭ কেজি বিভাগে জেসমিন ল্যাম্বোরিয়া উত্তর আয়ারল্যান্ডের মাইকেলা ওয়ালশ-কে পরাজিত করে দেশের সপ্তম সোনার পদক নিশ্চিত করেন। একই দিনে অ্যাথলেটিক্সেও ভারতের সাফল্য আসে। পুরুষদের ট্রিপল জাম্পে প্রবীণ চিত্রাভেল রুপো এবং সেলভা প্রভু থিরুমারণ ব্রোঞ্জ জিতে ভারতের পদকসংখ্যা আরও বাড়িয়ে দেন।

    ফাইনালে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একচ্ছত্র প্রীতি

    ২২ বছর বয়সি প্রীতি পাওয়ার গোটা ফাইনালেই ছিলেন সম্পূর্ণ প্রভাবশালী। পাঁচ বিচারকই তিনটি রাউন্ডেই তাঁকে এগিয়ে রাখেন। প্রথম রাউন্ডে ৫-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় রাউন্ডেও একই ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। শেষ রাউন্ডেও আত্মবিশ্বাস, নিখুঁত আক্রমণ এবং দুর্দান্ত রক্ষণ বজায় রেখে আরও একটি ৫-০ স্কোর আদায় করেন প্রীতি। তীক্ষ্ণ কম্বিনেশন, দ্রুত ফুটওয়ার্ক এবং কার্যকর কাউন্টার-পাঞ্চিংয়ের সামনে ডেলগাডো কার্যত অসহায় হয়ে পড়েন। পুরো লড়াই জুড়েই ভারতীয় বক্সারের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট।

    দুরন্ত ফর্মের ধারাবাহিকতা

    ২০২৬ সালটি প্রীতির কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকছে। এর আগেই তিনি ওয়ার্ল্ড বক্সিং কাপ এবং এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ-এর শিরোপা জিতেছিলেন। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই গ্লাসগোয় নেমে টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকে সোনা জয় করলেন তিনি। সেমিফাইনালেও প্রীতি ৫-০ ব্যবধানে জাম্বিয়ার ক্যাথরিন মওয়াপে-কে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিলেন। সেই জয়ের ফলে ভারতের অন্তত রুপো নিশ্চিত হয়েছিল। পরে ফাইনালে একতরফা জয় তুলে নিয়ে সেই পদককে সোনায় রূপান্তরিত করেন তিনি। অন্যদিকে, কানাডার ডেলগাডো সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের লরেন ম্যাকি-কে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছিলেন।

    জেসমিন ল্যাম্বোরিয়ার হাতেও সোনা

    মহিলাদের ৫৭ কেজি বিভাগে জেসমিন ল্যাম্বোরিয়া উত্তর আয়ারল্যান্ডের মাইকেলা ওয়ালশকে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে হারিয়ে ভারতের সপ্তম সোনার পদক জেতেন। লড়াইটি যথেষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হলেও শেষ পর্যন্ত জেসমিনই এগিয়ে থাকেন। ফল ঘোষণার পর দুই বক্সার একে অপরকে আলিঙ্গন করেন। ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার পরিচয় দিয়ে জেসমিন নিজেই ওয়ালশের হাত তুলে দর্শকদের অভিনন্দন গ্রহণের আহ্বান জানান।

    ট্রিপল জাম্পে রুপো ও ব্রোঞ্জ

    অ্যাথলেটিক্সেও ভারতের ঝুলিতে এল আরও দুটি পদক। পুরুষদের ট্রিপল জাম্পে প্রবীণ চিত্রাভেল ১৬.৫৮ মিটার লাফিয়ে রুপোর পদক জেতেন। তিনি এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ জয়ের সাফল্যের পর কমনওয়েলথ গেমসে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন। অন্যদিকে, সেলভা প্রভু থিরুমারণ ১৬.৫২ মিটার লাফিয়ে ব্রোঞ্জ জেতেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এটি তাঁর প্রথম উল্লেখযোগ্য পদক। এই ইভেন্টে ১৬.৭২ মিটার লাফিয়ে সোনার পদক জেতেন জামাইকার জর্ডান স্কট।

  • Commonwealth Games 2026: জোড়া সোনা, কমনওয়েলথ গেমসে জুডোয় ঐতিহাসিক সাফল্য ভারতের! রুপো জিতলেন নীরজ, ডেকাথলনে ব্রোঞ্জ

    Commonwealth Games 2026: জোড়া সোনা, কমনওয়েলথ গেমসে জুডোয় ঐতিহাসিক সাফল্য ভারতের! রুপো জিতলেন নীরজ, ডেকাথলনে ব্রোঞ্জ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রীতিমতো চমক দিয়ে জুডোতে জোড়া সোনা জয় ভারতের। দেশের প্রথম জুডোকা হিসেবে কমনওয়েলথ গেমসে (Commonwealth Games 2026) সেরার মুকুট পরলেন ত্রিপুরার বাঙালি মেয়ে অস্মিতা দে। তার কয়েক মিনিটের মধ্যেই অপর সোনাটি জেতেন হর্ষ সিং। এছাড়াও এই ইভেন্টে মহিলাদের ৫৭ কেজি বিভাগে রুপো জিতলেন যামিনী মৌর্য। শুক্রবার সবার নজর অবশ্য ছিল জ্যাভেলিন থ্রোয়ে নীরজ চোপড়ার দিকে। কিন্তু, আশা জাগিয়েও সোনা হাতছাড়া ভারতীয় তারকার। প্রতিকূল আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ সামলে ৮৫.৮৩ মিটারের থ্রোয়ে রুপো জিতলেন তিনি। এদিন, জ্যাভলিনে ডাবল পোডিয়াম ভাগ করে নিল ভারত। ব্রোঞ্জ জিতে চমক দিলেন ভারতের যশবীর সিং (৮৫.৪১)।

    বাবাকে সোনা উৎসর্গ অস্মিতার

    গ্লাসগোয় জুডোর ম্যাটে এদিন যথার্থ অর্থেই আলো ছড়িয়েছেন ভারতীয়রা। মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগে হাড্ডাহাড্ডি ফাইনালে অস্মিতা হারালেন কানাডার হিডি কোয়াচকে। নির্ধারিত সময়ের লড়াই ১-১ থাকার পর গোল্ডেন স্কোরে বাজিমাত (২-১) করেন তিনি। পুরস্কার প্রদানের সময় জাতীয় সংগীত বেজে উঠতেই আবেগে চোখ ছলছল করল দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার ছোট্ট শহর বিলোনিয়ায় বেড়ে ওঠা জুডোকার। বাবা অর্জুন কুমার ছিলেন সাইকেল মেকানিক। গত ডিসেম্বরেই মারা গিয়েছেন তিনি। গেমসের সোনা তাঁকেই উৎসর্গ করলেন কন্যা। অস্মিতার কথায়, ‘এই দিনটার অপেক্ষাতেই ছিলাম। অবশেষে স্বপ্ন সফল। জুডো থেকে দেশকে প্রথম কমনওয়েলথ গেমস সোনা এনে দিতে পেরে আমি ধন্য। মাত্র ৮ মাস আগে বাবাকে হারিয়েছি। এই সাফল্য তাঁকেই উৎসর্গ করছি।’

    সোনার ছেলে হর্ষ সিং

    পুরুষদের ৬০ কেজি বিভাগে সোনা জয়ের পথে হর্ষ সিং ১০-০ পয়েন্টে উড়িয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার জোসুয়া কাটজকে। কেরিয়ারে এই প্রথম কমনওয়েলথ গেমসে খেলতে নেমেছিলেন হর্ষ। আর অভিষেকেই বাজিমাত করলেন। অলিম্পিয়ান জোশুয়া কাটজ়কে এই বিভাগের অন্যতম সেরা এবং সোনা জয়ের সবচেয়ে বড় দাবিদার হিসেবে ধরা হচ্ছিল। কিন্তু ঠান্ডা মাথায় ছক কষে লড়াই করে চমক দিলেন হর্ষ। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে দীর্ঘক্ষণ কেউই সে ভাবে সুবিধা পাননি। ম্যাচ শেষ হওয়ার মাত্র ৪১ সেকেন্ড আগে দুর্দান্ত একটি ওয়াজা-আরি (Waza-ari) মুভে এগিয়ে যান হর্ষ। জুডোয় এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোরিং টেকনিক। এর পরে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লিড ধরে রেখে সোনার পদক নিশ্চিত করেন তিনি।

    লড়াই করেও রুপোতেই থামলেন যামিনী

    সোনা জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন অস্মিতা দে। নজর ছিল আর এক মহিলা জুডোকা যামিনী মৌর্যর দিকেও। ৫৭ কেজি বিভাগের ফাইনালে দারুণ লড়াই করেও ইংল্যান্ডের অ্যাসেলিয়া টোপ্রাকের কাছে হেরে যান তিনি। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পরে ম্যাচ গড়ায় গোল্ডেন স্কোরে। অবশেষে পেনাল্টিতে বাজিমাত করে যামিনীকে হারিয়ে সোনা জেতেন টোপ্রাক। রুপো জেতেন যামিনী।

    দুই ভিন্ন ইভেন্টে পদকজয়ী প্রথম ভারতীয় অ্যাথলিট

    ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের অ্যাথলেটিক্সে আরও এক গৌরবময় অধ্যায় যোগ করলেন তেজস্বিন শঙ্কর (Tejaswin Shankar)। শুক্রবার গভীর রাতে (ভারতীয় সময়) পুরুষদের ডেকাথলনে ব্রোঞ্জ পদক জিতে ইতিহাস গড়লেন তিনি। এর ফলে কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে দুই ভিন্ন ইভেন্টে পদকজয়ী প্রথম ভারতীয় অ্যাথলিট হয়ে উঠলেন তেজস্বিন। এর আগে ২০২২ সালের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে পুরুষদের হাই জাম্পে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন তিনি। হাই জাম্পার থেকে ডেকাথলিটে রূপান্তরিত হওয়া তেজস্বিন গ্লাসগোতে ১০টি ইভেন্ট মিলিয়ে মোট ৭,৯৭৬ পয়েন্ট সংগ্রহ করে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। মাত্র ২৪ পয়েন্টের জন্য তিনি ৮,০০০ পয়েন্টের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেননি। সোনা জিতেছেন গ্রেনাডার ভিক্টর লিন্ডন (৮,০৯৬), আর কানাডার ড্যামিয়ান ওয়ার্নার (৮,০৩৬) জিতেছেন রুপো।

    বক্সিং রিংয়ে তেরঙা ঝড়

    বক্সিং রিংয়েও বইল তেরঙা ঝড়। এই ইভেন্ট থেকে সবচেয়ে পদক জিততে চলেছে ভারত। পুরুষ ও মহিলা মিলিয়ে মোট ১০ জন বক্সার সেমি-ফাইনালে পৌঁছে আগেই তা নিশ্চিত করেছিলেন। শুক্রবার তাঁদের প্রত্যেকেই ফাইনালে জায়গা পাকা করলেন। দুরন্ত পারফরম্যান্সে সোনা জয়ের আশা উজ্জ্বল করলেন লভলিনা বড়গোঁহাই, অঙ্কুশ পাঙ্ঘাল, প্রীতি পাওয়ার, জাসমিন লাম্বোরিয়া, অরুন্ধতী চৌধুরি, জাদুমনি সিং, সাক্ষী চৌধুরি, প্রিয়া গাংহাস, শচীন সিওয়াচ ও নরেন্দ্র বেরওয়াল। আর ফাইনালে হারলেও নিদেনপক্ষে রুপো নিশ্চিত তাঁদের। এদিকে, পুরুষদের ১১০ কেজি ভারোত্তোলনে অল্পের জন্য সোনা হাতছাড়া হওয়ার আক্ষেপ ভুলতে পারছেন না লাভপ্রীত সিং। দুরন্ত পারফরম্যান্স করেও রুপোতে সন্তুষ্ট থাকতে হয় নেভি জওয়ানকে। স্ন্যাচ এবং ক্লিন-জার্ক মিলিয়ে লাভপ্রীত তোলেন ৩৮৮ কেজি ওজন।

    জ্যাভলিনে জয়যাত্রা

    নীরজের কমনওয়েলথ যাত্রা বরাবরই বিশেষ। ২০১৮ সালের গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমস (Gold Coast Commonwealth Games)-এ ৮৬.৪৭ মিটার থ্রো করে তিনি সোনা জিতে এই ইভেন্টে প্রথম ভারতীয় হিসেবে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নজির গড়েছিলেন। যদিও ২০২২ সালের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমস (Birmingham Commonwealth Games)-এ চোটের কারণে অংশ নিতে পারেননি। ২০২৬ সালে প্রত্যাবর্তনের মঞ্চে সোনা না এলেও রুপোর পদক জিতে আবারও প্রমাণ করলেন, বিশ্ব অ্যাথলেটিক্সে ভারতের অন্যতম নির্ভরযোগ্য নাম এখনও নীরজ চোপড়াই। আর যশবীরের ব্রোঞ্জ ভারতের ভবিষ্যৎ জ্যাভলিন শক্তির দিকেও স্পষ্ট ইঙ্গিত দিল। এই ফলাফলের মাধ্যমে কমনওয়েলথ গেমসের পুরুষদের জ্যাভলিনে নতুন ইতিহাস গড়ল ভারত। প্রথমবার একই আসরে দুই ভারতীয় অ্যাথলিট পদক জিতে দেশের অ্যাথলেটিক্সে নতুন মাইলফলক তৈরি করলেন।

    পদক তালিকায় কোথায় ভারত

    গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের পদক জয়ের রথ দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলেছে। পুরুষদের জ্যাভেলিন থ্রোতে নীরজ চোপড়ার রুপো এবং যশ বীর সিংয়ের ব্রোঞ্জ জয়ের পর ভারতের মোট পদক সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩। ভারতের ঝুলিতে এখন ৫টি সোনা, ১২টি রুপো এবং ৬টি ব্রোঞ্জ রয়েছে। এই সাফল্যের সুবাদে পদক তালিকায় ভারত দশম স্থানে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

  • Commonwealth Games 2026: লভপ্রীতের রুপো, সীমার ব্রোঞ্জ! পাকিস্তানের আরশাদ নাদিমকে পিছনে ফেলে জ্যাভলিন ফাইনালে নীরজ-সহ ভারতের ৩

    Commonwealth Games 2026: লভপ্রীতের রুপো, সীমার ব্রোঞ্জ! পাকিস্তানের আরশাদ নাদিমকে পিছনে ফেলে জ্যাভলিন ফাইনালে নীরজ-সহ ভারতের ৩

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্লাসগোয় অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এর অষ্টম দিনে বৃহস্পতিবার ভারতের ঝুলিতে যোগ হল আরও দুটি পদক। পুরুষদের ১১০ প্লাস কেজি ভারোত্তোলন ইভেন্টে দুরন্ত পারফরম্যান্স করে লভপ্রীত সিং রৌপ্য পদক জয় করেছেন। অন্যদিকে, মহিলাদের ডিসকাস থ্রো-তে সীমা কালিরামনা ব্রোঞ্জ পদক জিতে ভারতের সাফল্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। এদিকে, কমনওয়েলথ গেমসের (Commonwealth Games 2026) জ্যাভলিন ইভেন্টের ফাইনালে উঠে গেলেন নীরজ চোপড়া (Neeraj Chopra)। তিনটি থ্রোয়ের পর পাঁচ নম্বরে শেষ করলেন তিনি। আরও দুই ভারতীয়, রোহিত যাদব এবং যশবীর সিংও ফাইনালে উঠেছেন। তাঁরা শেষ করেছেন যথাক্রমে নবম এবং দশম স্থানে। জ্যাভলিন ইভেন্টের ফাইনালে ভারতের ৩ প্রতিযোগী জায়গা করে নেওয়ায় পদক জয়ের সম্ভাবনা বাড়ল।

    ভারোত্তোলনে ভারতের দাপট

    ভারোত্তোলনে ভারতের দাপট চলছেই। বৃহস্পতিবার, পুরুষদের ১১০ কেজি বিভাগে রুপোর পদক জিতলেন লভপ্রীত সিং। প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে তিনি মোট ৩৮৮ কেজি (স্ন্যাচে ১৭৬ কেজি + ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ২১২ কেজি) ওজন তোলেন। লভপ্রীত স্ন্যাচ রাউন্ডে ১৭৬ কেজি ওজন তুলে কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে নতুন স্ন্যাচ রেকর্ড গড়েন। নিউজিল্যান্ডের ডেভিড লিটি (David Liti) মোট ৩৮৯ কেজি তুলে মাত্র ১ কেজির ব্যবধানে সোনা জেতায় লভপ্রীতকে রুপো নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। এর আগে ২০২২ বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে লভপ্রীত ১০৯ কেজি বিভাগে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন। এবার তিনি নিজের পদকের রঙ বদলে রুপো করলেন।

    নারীশক্তির জয়

    বৃহস্পতিবার মহিলাদের ডিসকাস থ্রো ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পদক জিতে দেশের ঝুলিতে আরও একটি সাফল্য যোগ করলেন সীমা কালিরামনা। তাঁর সেরা নিক্ষেপ ছিল ৫৮.৬৫ মিটার। প্রতিযোগিতার শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি সীমার। প্রথম প্রচেষ্টায় তিনি ফাউল করেন। তবে দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ৫৭.৩২ মিটার ছুড়ে পদকের লড়াইয়ে ফিরে আসেন। তৃতীয় প্রচেষ্টায় ৫৮.৬৫ মিটার নিক্ষেপ করে তিনি ব্রোঞ্জ পদকের জায়গা কার্যত নিশ্চিত করে ফেলেন। ২০২৫ সালের জাতীয় গেমসে সোনা জয়ের পর জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাও পুনরুদ্ধার করেন। ক্রীড়াজীবনের পাশাপাশি তিনি বর্তমানে পিএইচডি-ও করছেন। আবার সন্তানও সামলাচ্ছেন। নিজের সাফল্যের পিছনে পরিবার এবং সহায়তাকারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা একাধিকবার উল্লেখ করেছেন সীমা।

    ভারতের পদক সংখ্যা

    সীমা ও লভপ্রীতের দুই পদক নিয়ে কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারতের মোট পদকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭। এর মধ্যে রয়েছে ৩টি সোনা, ১০টি রুপো এবং ৪টি ব্রোঞ্জ। বর্তমানে পদক তালিকায় ভারত ১০ম স্থানে রয়েছে। এছাড়া পুরুষদের ডেকাথলনে তেজস্বিন শঙ্কর নিজের সেরা ইভেন্ট হাই জাম্পে ২.১৫ মিটার টপকে ৯৪৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করেন। পাঁচটি ইভেন্ট শেষে তাঁর মোট পয়েন্ট ৪,৩৩৯। তিনি দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন এবং শীর্ষে থাকা কানাডার ড্যামিয়ান ওয়ার্নারের থেকে মাত্র ১৪ পয়েন্ট পিছিয়ে। ফলে ডেকাথলনেও ভারতের পদকের সম্ভাবনা যথেষ্ট উজ্জ্বল।

    পদকের দৌড়ে নীরজ

    গতবার বার্মিংহ্যাম কমনওয়েলথে চোটের জন্য অংশ নেননি ভারতের সোনার ছেলে। তিনি সোনা জিতেছিলেন ২০১৮ গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথে। দ্বিতীয়বার সোনার পদক জেতার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিযোগিতায় নামার আগে নীরজ জানিয়ে দিলেন, তিনি সাফল্য পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। তবে এদিন ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে তাঁকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের কড়া চ্যালেঞ্জের থেকে প্রতিকূল আবহাওয়ার মুখোমুখি হতে হল। বলা ভালো, এলোমেলো হাওয়া যে কোনও থ্রোয়ারের জন্যই পরিস্থিতি কঠিন করে তুলেছিল। উল্লেখ্য, কোয়ালিফায়ারে অংশ নিয়েছিলেন ১৮ অ্যাথলিট। তাঁদের মধ্যে ১২ জন শুক্রবার গভীর রাতে ফাইনাল যুদ্ধে নামবেন। কমনওয়েলথ গেমস ও এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছেন নীরজ। সুইৎজারল্যান্ডে ৪৭ দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন।

  • Brazil India Tour: প্রতিপক্ষ ভারত! পুজোর আগেই শহরে সাম্বার ঝলক, অক্টোবরে কলকাতায় খেলবে ব্রাজিল

    Brazil India Tour: প্রতিপক্ষ ভারত! পুজোর আগেই শহরে সাম্বার ঝলক, অক্টোবরে কলকাতায় খেলবে ব্রাজিল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুজোর আগেই সাম্বার ছন্দে মাতবে কলকাতা। শারদীয়ার মরশুমে ভারতে প্রীতি ম্যাচ খেলতে আসছে ব্রাজিল। একাধিক ব্রাজিলিয়ান মিডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী, আসন্ন ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে আগামী ৩ অক্টোবর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারে ৫ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। প্রতিপক্ষ কে হবে তা নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রতিপক্ষ হিসেবে ভারতের নাম উঠে আসছে। তবে, আরেকটি সূত্রের খবর, বিএফএ প্রাথমিকভাবে মিশরকে চাইছে। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের তরফে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও হয়নি।

    কেন ভারতে ব্রাজিলের ম্যাচ

    ইএসপিএন ব্রাজিলের এক প্রতিবেদনে আগেই উল্লেখ করা হয়েছে বিশ্বকাপের পরে প্রথম আন্তর্জাতিক সূচি চূড়ান্ত করেছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (CBF)। জানা গিয়েছে, সেই সূচিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দু’টি প্রীতি ম্যাচ খেলবেন ভিনিসিয়াসরা। পাশাপাশি ভারতে আরও একটি ম্যাচ হবে। কলকাতাতেই হবে সেই ম্যাচ। ইএসপিএন ব্রাজিল (ESPN Brasil)-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৫ সেপ্টেম্বর টাউন্সভিল এবং ২৯ সেপ্টেম্বর ব্রিসবেনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নির্ধারিত দুটি ম্যাচের পাশাপাশি সিবিএফ (ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন) অক্টোবরের শুরুর দিকে ভারতে তৃতীয় ম্যাচ খেলবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপ চলাকালীনই সিবিএফ এবং আয়োজকদের মধ্যে এই বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। এর মূল কারণ ছিল টুর্নামেন্ট চলাকালে এই অঞ্চলে ব্রাজিলের প্রতি ব্যাপক সমর্থন। প্রতিযোগিতা চলাকালীন সোশ্যাল মিডিয়ায় হাজার হাজার ভক্তকে ব্রাজিলের জার্সি পরিহিত অবস্থায় দেখা গিয়েছিল। চুক্তিটি চূড়ান্ত ও স্বাক্ষরিত হওয়ার আগে এখন কেবল শেষ কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি রয়েছে।

    ফের নজরে কলকাতা

    বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফুটবল দল ব্রাজিলকে কলকাতায় খেলতে দেখার সুযোগ পেলে তা ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম বড় ঘটনা হয়ে উঠতে পারে। ম্যাচটি চূড়ান্ত হলে কলকাতা আবারও আন্তর্জাতিক ফুটবলের এক ঐতিহাসিক সন্ধ্যার সাক্ষী হতে পারে। প্রসঙ্গত আর্জেন্টিনার জার্সিতে অধিনায়ক লিয়োনেল মেসির অভিষেক হয়েছিল কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। তবে গত বছরের ডিসেম্বরে কলকাতায় মেসি আসার পর বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছিল। তার পর আবার আরও একটি বড় ইভেন্ট আয়োজনের দায়িত্ব পেতে পারে কলকাতা। তাই গোটা দেশের ফুটবল মহলের নজর এখন কলকাতার দিকে।

     

     

     

  • Commonwealth Games 2026: কমনওয়েলথে নজির দিলীপের, একদিনেই ভারতের ঝুলিতে সোনা-রুপো সহ একাধিক পদক

    Commonwealth Games 2026: কমনওয়েলথে নজির দিলীপের, একদিনেই ভারতের ঝুলিতে সোনা-রুপো সহ একাধিক পদক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে (Commonwealth Games 2026) ভারতের বিজয়রথ এগিয়ে চলেছে। বুধবার, চলতি গেমসের তৃতীয় সোনা এল ভারতের ঝুলিতে। প্যারা অ্যাথলেটিক্সে নজির গড়ে সোনা জিতলেন দিলীপ মহাদু গাভিত। মহম্মদ বাসিল রুপোর পদক জিতলেন। অন্যদিকে, লং জাম্পে মুরলি শ্রীশঙ্কর টানা দ্বিতীয় কমনওয়েলথ গেমসে রুপোর পদক জিতেছেন। এখানেই শেষ নয়, কমনওয়েলথ গেমসে ভারতীয় বক্সারেরা বুধবার পাঁচটি পদক নিশ্চিত করলেন। সব মিলিয়ে বক্সিংয়ে ভারতের ন’টি পদক নিশ্চিত হল। বুধবার বক্সিংয়ের পাঁচটি কোয়ার্টার ফাইনালেই জয় পেলেন ভারতীয়েরা। পদকজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    গাভিত ও বাসিলের ঐতিহাসিক সাফল্য

    বুধবার প্যারা অ্যাথলেটিক্সে ভারতের অন্যতম সেরা সাফল্য আসে। পুরুষদের ১০০ মিটার টি৪৭ বিভাগে দিলীপ মহাদু গাভিত সোনা জিতে নিয়েছেন। আবার তাঁরই সতীর্থ মহম্মদ বাসিল মোরসিংগানাকাথ রুপোর পদক জিতে ভারতের ঐতিহাসিক ১-২ ফিনিশ নিশ্চিত করেন। গাভিত ১০.৭১ সেকেন্ড সময় নিয়ে নতুন কমনওয়েলথ গেমস রেকর্ড গড়েন। একইসঙ্গে এটি ছিল তাঁর মরসুমের সেরা পারফরম্যান্স। অন্যদিকে বাসিল ১০.৮৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে নিজের মরসুমের সেরা টাইমিং করে রুপো জেতেন। এই সোনার পদকের মাধ্যমে গ্লাসগো গেমসে ভারতের তৃতীয় সোনা এল। এর আগে মহিলাদের ৪৮ কেজি ভারোত্তোলনে মীরাবাই চানু এবং মহিলাদের এফ৫৭ শট পুটে শর্মিলা ধানকর সোনা জিতেছিলেন।

    গুরু পূর্মিমায় কোচকে পদক উৎসর্গ গাভিতের

    গুরু পূর্ণিমার দিন নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য কোচকে উৎসর্গ করলেন ভারতের প্যারা স্প্রিন্টার দিলীপ মাহাদু গাভিত। কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ পুরুষদের টি৪৭ বিভাগের ১০০ মিটার দৌড়ে সোনা জয়ের পর তিনি এই পদক তাঁর কোচ বৈজনাথ কালের হাতে উৎসর্গ করেন। গ্রামের খামারে কাজ করার সময় তাঁর প্রতিভা চিনে নিয়ে যিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছে দিয়েছেন, সেই গুরুকেই কৃতজ্ঞতা জানালেন গাভিত। সোনা জয়ের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় দিলীপ বলেন, “শুরুরটা একটু ধীর ছিল। পরে গতি বাড়াতে পেরেছি। আগামীবার আরও ভালো করব। সাধারণত আমি ৪০০ মিটার দৌড়াই, সেটাই আমার মূল ইভেন্ট। কিন্তু এখানে শুধু ১০০ মিটার দৌড়ানোর সুযোগ ছিল এবং আমি দারুণ উপভোগ করেছি। আমি নাসিকের তোরণ ডোঙ্গারি গ্রামের ছেলে। আগে গ্রামের খামারে কাজ করতাম। তখনই আমার স্যার বৈজনাথ কালে আমাকে দৌড়তে দেখে নাসিকে প্রশিক্ষণের জন্য ডাকেন। তিনি বলেছিলেন, সমস্ত খরচ তিনিই বহন করবেন। আজ গুরু পূর্ণিমা, তাই এই পদক আমার গুরুকে উৎসর্গ করলাম।”

    গুরু-শিষ্যের প্রেরণার সম্পর্ক

    মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার তোরণ ডোঙ্গারি গ্রামের অত্যন্ত সাধারণ পরিবারে জন্ম দিলীপের। পাঁচ সদস্যের আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারে বড় হওয়া এই অ্যাথলিটের আন্তর্জাতিক ক্রীড়াজগতে পৌঁছনোর স্বপ্ন একসময় ছিল অনেক দূরের। কিন্তু কোচ বৈজনাথ কালের নজরে পড়ার পরই বদলে যায় তাঁর জীবন। প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে সমস্ত খরচের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন কালে। ডান হাতের কনুইয়ের নীচের অংশ হারিয়েও নিজের লড়াই থামাননি দিলীপ। সুরগানা তহসিলের শহিদ ভগৎ সিং স্কুলে পড়াশোনা করার পর সম্পূর্ণভাবে অ্যাথলেটিক্সে মনোনিবেশ করেন তিনি। বর্তমানে অলিম্পিক গোল্ড কোয়েস্টের সহায়তায় ভারতের অন্যতম সফল প্যারা স্প্রিন্টার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। দিলীপের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত কোচ বৈজনাথ কালে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ছিল রেকর্ড গড়া। আবহাওয়ার কারণে শুরুটা পরিকল্পনামতো হয়নি। কিন্তু ঠিক কৌশল মেনে প্রথম ৫০ মিটারের পর দিলীপ দুর্দান্তভাবে গতি বাড়ায়। আসলে ওর মূল ইভেন্ট ৪০০ মিটার। দুর্ভাগ্যবশত, কমনওয়েলথ গেমসে ৪০০ মিটার ছিল না। তাই আমরা ১০০ মিটারে নামার সিদ্ধান্ত নিই। সেই ইভেন্টেই যোগ্যতা অর্জন করে শেষ পর্যন্ত সোনা জিতে নিল।” গুরু পূর্ণিমার দিনে শিষ্যের এই সাফল্য শুধু ভারতের পদক তালিকায় আর একটি সোনা যোগ করেনি, বরং একজন কোচ ও তাঁর ছাত্রের অনন্য সম্পর্কের এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্তও তুলে ধরেছে।

    ভারতীয় বক্সারদের দাপট

    পুরুষ এবং মহিলা বিভাগ মিলিয়ে মোট ১৪ জন বক্সারের দল পাঠিয়েছে ভারত। চার জন হেরে গিয়েছেন কোয়ার্টার ফাইনাল বা তার আগেই। নিজেদের বিভাগের শেষ চারে পৌঁছে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেছেন অঙ্কুশ যাদব, সাক্ষী চৌধরী, অরুন্ধতী চৌধরী, সচিন সিওয়াচ এবং নরেন্দ্র বেরওয়াল। পুরুষদের ৮০ কেজি বিভাগে অঙ্কুশ ৫-০ ব্যবধানে হারিয়েছেন সেশেলসের জেড মিকককে। সেমিফাইনালে তাঁর প্রতিপক্ষ কানাডার জোসুয়া ওফোরি। সচিন ৬০ কেজি বিভাগের সেমিফাইনালে পৌঁছেছেন বতসোয়ানার ট্রেসর মোরেমিকে। সচিনের পক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের ফল ৫-০। শেষ চারের লড়াইয়ে তাঁর প্রতিপক্ষ ওয়েলসের হ্যারিস অ্যালান। নরেন্দ্র ৯০+ কেজি বিভাগের কোয়ার্টার ফাইনালে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছেন সামোয়ার মাইকেল সেকোকে। সেমিফাইনালে তাঁকে লড়াই করতে হবে ত্রিনিদাদ এবং টোবাগোর নিগেল পলের বিরুদ্ধে।

    নারীশক্তির প্রভাব

    মহিলাদের ৫১ কেজি বিভাগের সেমিফাইনালে উঠেছেন সাক্ষী। তিনি ৫-০ ব্যবধানে হারিয়েছেন নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ক্যাটলিন ফ্রায়ার্সকে। সেমিফাইনালে তাঁর প্রতিপক্ষ কানাডার জেন ওয়াল। অরুন্ধতী জয় পেয়েছেন মহিলাদের ৭০ কেজি বিভাগে। তিনি কোয়ার্টার ফাইনালে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছেন নিউ জিল্যান্ডের মরগ্যান হেন্ডারসনকে। সেমিফাইনালে তাঁর লড়াই ওয়েলসের রোজি একসেলের সঙ্গে। সেমিফাইনালে উঠে আগেই পদক নিশ্চিত করেছেন আরও চার জন। তাঁরা হলেন লভলীনা বরগোহাঁই (৭৫ কেজি), প্রিয়া ঘাংহাস (৬০ কেজি), প্রীতি পাওয়ার (৫৪ কেজি) এবং যদুমণি সিং (৫৫ কেজি)।

    ভারতের ঝুলিতে পদকের সম্ভাবনা!

    এছাড়া অ্যাথলেটিক্সে অনিমেষ কুজুর ২০০ মিটারের সেমিফাইনালে উঠেছেন। আর শট পুটে তাজিন্দরপাল সিং তুর ও সমরদীপ সিং গিল ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন। লন বোলসেও ভারত দুরন্ত ছন্দে রয়েছে। নবনীত সিং ও দিনেশ কুমারের জুটি নামিবিয়াকে হারিয়ে এগিয়ে চলেছে। যার ফলে ভারতের মেডেলের ঝুলি আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পুরুষদের ৪০০ মিটার হার্ডলসেও এগিয়ে চলেছে ভারত। এক্ষেত্রে যশস পালক্ষা ও সন্তোষ কে তামিলারাসান ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন। হিট-২-এ সন্তোষ ৪৯.৫১ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় হন। হিট-১-এ যশস ৪৯.৬৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় স্থানে শেষ করেন।

    আজ নামছেন নীরজ

    কমনওয়েলথ গেমসে আজ অভিযান শুরু নীরজ চোপড়ার। জ্যাভলিনের কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে নামছেন ২০২০ সালের অলিম্পিক্স চ্যাম্পিয়ন নীরজ। দু’বছর আগের অলিম্পিক্সে অবশ্য রুপো জিতে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল তাঁকে। ২০১৮ সালের কমনওয়েলথ গেমস চ্যাম্পিয়ন নীরজ এ বার কি পারবেন? যোগ্যতা অর্জন পর্ব দুপুর ২:৫৫ থেকে। সম্প্রচারিত হবে সোনি স্পোর্টস চ্যানেল ও সোনি লিভ অ্যাপে।

  • Commonwealth Games 2026: কমনওয়েলথ গেমসে দশ হাজার মিটারে ভারতের প্রথম পদক, রুপো জিতে ইতিহাস গুলবীরের

    Commonwealth Games 2026: কমনওয়েলথ গেমসে দশ হাজার মিটারে ভারতের প্রথম পদক, রুপো জিতে ইতিহাস গুলবীরের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পঞ্চম দিনের মতো সোনালি সাফল্য না এলেও কমনওয়েলথ গেমসের ষষ্ঠ দিনটা মন্দ গেল না ভারতের। মঙ্গলবার, গ্লাসগোতে কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ গুলবীর সিং পুরুষদের ১০,০০০ মিটারে দেশের হয়ে প্রথম পদক জিতে ইতিহাস তৈরি করেছেন। হরজিন্দর কৌর ভারোত্তোলনে রুপো জিতেছেন। এর পাশাপাশি, তিনজন ভারতীয় বক্সার সেমিফাইনালে উঠে দেশের জন্য অন্তত আরও তিনটি পদক নিশ্চিত করেছেন। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতীয় অ্যাথলিট গুলবীর সিং এবং হরজিন্দর কৌরকে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ রুপোর পদক জেতার জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন (Commonwealth Games 2026)।

    গুলবীর সিং-এর ঐতিহাসিক রুপো

    কমনওয়েলথ গেমসের অ্যাথলেটিক্সে নতুন ইতিহাস লিখলেন ভারতের দীর্ঘদূরত্বের দৌড়বিদ গুলভীর সিং। পুরুষদের ১০,০০০ মিটার দৌড়ে রুপোর পদক জিতে নজির গড়লেন এশিয়ান গেমসের ব্রোঞ্জজয়ী এই অ্যাথলিট। এই ইভেন্টে কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে প্রথমবার কোনও ভারতীয় অ্যাথলিট পদক জিতলেন। বৃষ্টিভেজা ট্র্যাক, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে গুলভীরের এই সাফল্য ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। স্কটল্যান্ডের স্কটস্টাউন স্টেডিয়ামে টানা বৃষ্টির মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতাটি। ভেজা ট্র্যাকে দৌড়ানো সহজ ছিল না। তবুও শুরু থেকেই গুলভীর নিজেকে শীর্ষ প্রতিযোগীদের মধ্যে ধরে রাখেন। শেষ কয়েকটি ল্যাপে অসাধারণ গতি বাড়িয়ে তিনি রুপোর পদক নিশ্চিত করেন। ২৭ মিনিট ৪৯.৭৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন ভারতীয় অ্যাথলিট। সোনা জিতেছেন অস্ট্রেলিয়ার কাই রবিনসন। তাঁর সময় ছিল ২৭ মিনিট ৪৮.৯৩ সেকেন্ড। মাত্র এক সেকেন্ডেরও কম ব্যবধানে সোনার হাতছাড়া হলেও গুলভীরের লড়াই দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। আইল অব ম্যানের ডেভিড মুলার্কি ২৭ মিনিট ৫০.২৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে ব্রোঞ্জ জেতেন।

    হরজিন্দর কৌরের রুপোর পদক

    ষষ্ঠ দিনে ভারতের হয়ে প্রথম পদকটি আনেন হরজিন্দর কৌর। তিনি মহিলাদের ৬৯ কেজি ভারোত্তোলন বিভাগে রুপো জেতেন। পাঞ্জাবের এই লিফটার মোট ২২৭ কেজি ওজন তোলেন, যা তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য সেরা। তার মধ্যে স্ন্যাচে ১০১ কেজি এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১২৬ কেজি। তিনি কানাডার শার্লট সিমোনোর পিছনে থেকে দ্বিতীয় হন। হরজিন্দর এই প্রতিযোগিতায় দু’বার কমনওয়েলথ গেমসের স্ন্যাচ রেকর্ডও ভাঙেন। বার্মিংহাম ২০২২ গেমসে জেতা ব্রোঞ্জ পদকের পর এবার তিনি রুপো জিতে নিজের পারফরম্যান্স আরও উন্নত করলেন। বক্সিং রিংয়ে এদিন মহিলাদের ৫৪ কেজি কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের প্রীতি পাওয়ার সেমিফাইনাল উঠে অন্তত ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করে ফেলেছেন। উত্তর আয়ারল্যান্ডের নিকোল ক্লাইডকে কোয়ার্টার ফাইনালে হারিয়ে সেমির টিকিট নিশ্চিত করেন প্রীতি। যার ফলে প্রীতির ব্রোঞ্জজয় নিশ্চিত। সেমিতে জিতলে বদলাবে পদকের রং। একইভাবে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করে ফেলেছেন ভারতের বক্সার প্রিয়া। কোয়ার্টার ফাইনালে স্কটল্যান্ডের নিমাহ মিচেলকে হারান তিনি। ফলে প্রিয়াও সেমিতে উঠে পদক নিশ্চিত করে ফেলেছেন।

  • Commonwealth Games 2026: সোনার মেয়ে শর্মিলা, চার রুপো-সহ কমনওয়েলথ গেমসের পঞ্চম দিনে ভারতের ঝুলিতে ছয় পদক

    Commonwealth Games 2026: সোনার মেয়ে শর্মিলা, চার রুপো-সহ কমনওয়েলথ গেমসের পঞ্চম দিনে ভারতের ঝুলিতে ছয় পদক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রথম ভারতীয় হিসেবে কমনওয়েলথ গেমসের প্যারা অ্যাথলেটিক্সে সোনা জিতলেন শর্মিলা ধনখড় (Sharmila Dhankar)। মহিলাদের শট পাট এফ৫৭-এ স্বর্ণপদক জিতলেন তিনি। কমনওয়েলথ গেমসের (Commonwealth Games 2026) পঞ্চম দিনে একটি সোনা, একটি ব্রোঞ্জ-সহ মোট ছয়টি পদক জিতল ভারত। পদকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১০। মীরাবাঈ চানুর সোনা জয়ের পর ভারোত্তোলনে ভারতের সাফল্য অব্যাহত। এই ভারোত্তোলনেই সোমবার তিন তিনটি পদক জিতল ভারত। আবারও প্রমাণ হল এই বিভাগে ভারতীয় অ্যাথলিটরা কতটা শক্তিশালী। ভাল্লুরি অজয়া বাবু, জ্ঞানেশ্বরী যাদব এবং বিন্দিয়ারানি দেবী ভারোত্তোলনেই পোডিয়াম ফিনিশ করে দেশকে পদক এনে দিলেন। পদকজয়ীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    শটপুটে সেরার মুকুট শর্মিলার

    প্যারা শটপুটে সোনা জিতেছেন শর্মিলা ধনখড়। একই ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পেয়েছেন ভারতের শিল্পা কে শায়লা। মহিলাদের এফ-৫৭ শটপুট ফাইনালে শুরু থেকেই দাপট দেখান ৪০ বছরের শর্মিলা। ছ’টি থ্রোয়ের সুযোগ ছিল। তার মধ্যে শর্মিলার সেরা থ্রো ছিল ৯.৮১ মিটার। সেই দূরত্ব আর কেউ ছুঁতে পারেননি। ওই ইভেন্টেই ভারতের শিল্পা কে শায়লা ৭.২৬ মিটার থ্রো করে ব্রোঞ্জ জিতে নেন। ফলে একটি ইভেন্ট থেকেই ভারতের ঝুলিতে ঢোকে দু’টি পদক। প্যারা অ্যাথলেটিক্সে দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল পেলেন শর্মিলা। ২০২২-এ বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে জাতীয় রেকর্ড গড়েও অল্পের জন্য পদক হাতছাড়া হয়েছিল। ২০২৫-এর ইন্ডিয়ান ওপেন প্যারা অ্যাথলেটিক্সে অবশ্য সোনা জিতেছিলেন। চলতি বছর দুবাইয়ের ফাজ্জা আন্তর্জাতিক প্যারা অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপেও শটপুটে সোনা ও ডিসকাসে ব্রোঞ্জ জিতে নিজের ফর্মের ইঙ্গিত দেন তিনি। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেই এ বার কমনওয়েলথ গেমসে দেশের হয়ে সোনার পদক জিতে ইতিহাস গড়লেন শর্মিলা।

    খেলো ইন্ডিয়ার পোডিয়াম থেকেই সাফল্য অজয় বাবুর

    পুরুষদের ৭৯ কেজি ভারোত্তোলনে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সোনার দৌড়ে ছিলেন ভল্লুরি অজয় বাবু। স্ন্যাচে ১৪৯ কেজি তুলে এগিয়েও যান। কিন্তু ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১৮১ কেজি তুলেও শেষ পর্যন্ত সোনা হাতছাড়া হয়। মোট ৩৩০ কেজি তুলে রুপো নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় অজয়কে। আর ৩৩১ কেজি তুলে সোনা জিতে নেন মালয়েশিয়ার এরি হিদায়াত মহম্মদ। মাত্র ১ কেজির ব্যবধানই বড় ফারাক গড়ে দেয়। ভল্লুরি অজয় বাবু ভারতীয় ভারোত্তোলনের উদীয়মান মুখ। ২০২৩-এ খেলো ইন্ডিয়া ইয়ুথ গেমসে জাতীয় রেকর্ড গড়ে প্রথম আলোচনায় আসেন তিনি। তার পর থেকে একের পর এক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিজেকে প্রমাণ করেছেন। ২০২৪-এর কমনওয়েলথ ওয়েটলিফটিং চ্যাম্পিয়নশিপে জুনিয়র ও সিনিয়র—দুই বিভাগেই সোনা জিতেছিলেন। ২০২৫-এ আমেদাবাদে কমনওয়েলথ ওয়েটলিফটিং চ্যাম্পিয়নশিপে ৩৩৫ কেজি ওজন তুলে ৭৯ কেজি বিভাগে সোনা লিখে নিয়েছিলেন নিজের নামের পাশে। কিন্তু এ বারে এক কেজির জন্য সোনা হাতছাড়া হলো।

    কমনওয়েলথ গেমসে রুপোর ঝলক

    গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে (Commonwealth Games 2026) ভারতের পদক তালিকায় আরও একটি সাফল্য যোগ করলেন তামিলনাড়ুর ভারোত্তোলক রাজা মুথুপান্ডি। পুরুষদের ৬৫ কেজি বিভাগে মোট ২৮৬ কেজি ওজন তুলে তিনি জিতে নিলেন রুপোর পদক। তবে এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। ২০১৯ সালে গুরুতর কনুইয়ের চোট এবং অস্ত্রোপচারের পর অনেকেই মনে করেছিলেন তাঁর কেরিয়ার শেষ। কিন্তু অদম্য মানসিক শক্তিতে তিনি ফিরলেন এবং কমনওয়েলথ গেমসে দেশের হয়ে পদক জিতে ইতিহাস গড়লেন রাজা। ২০২৫ সালে আমেদাবাদে অনুষ্ঠিত কমনওয়েলথ ওয়েটলিফটিং চ্যাম্পিয়নশিপে রুপোর পদক জিতে প্রত্যাবর্তনের বার্তা দেন রাজা। এরপর ২০২৬ সালে সিনিয়র জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে মোট ৩০২ কেজি ওজন তুলে জাতীয় খেতাব জেতেন। সেই পারফরম্যান্সের জোরেই কমনওয়েলথ গেমসের ভারতীয় দলে সুযোগ পান। ২৭ বছর বয়সি রাজা মুথুপান্ডি গ্লাসগোতে পুরুষদের ৬৫ কেজি বিভাগে স্ন্যাচে ১২৬ কেজি এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১৬০ কেজি তুলে মোট ২৮৬ কেজি ওজন উত্তোলন করেন। এই পারফরম্যান্সই তাঁকে এনে দেয় রুপোর পদক।

    ভারোত্তলনে ভারতের দাপট

    কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে ভারতের ভারোত্তোলনে ১৩৩টি পদক রয়েছে। এবারও সেই দাপটই ধরে রাখলেন ভারতের ছেলে-মেয়েরা। এ দিন সকালে ভারোত্তোলনে জ্ঞানেশ্বরী যাদব রুপো এবং বিন্দিয়ারানি দেবী ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। সব মিলিয়ে ভারতের মোট পদক সংখ্যা পৌঁছেছে ১০-এ। এর মধ্যে ছ’টি এসেছে ভারোত্তোলন থেকে। চোট, বিতর্ক আর ডোপিংয়ের কালো মেঘ। সব অন্ধকারকেই ক্লাইড নদীর জলে বিসর্জন দিলেন ভারতের কন্যারা। রবিবার মীরাবাই চানুর হ্যাটট্রিক সোনার রেশ এখন কাটেনি। তারই মধ্যে সোমবার গ্লাসগোর ভারোত্তোলন মঞ্চ মাতালেন জ্ঞানেশ্বরী যাদব (Gyaneshwari Yadav)। মহিলাদের ৫৩ কেজি বিভাগের রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে নাইজেরিয়ান প্রতিযোগীর সঙ্গে কার্যত ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়াই চালালেন। রুপো ছিনিয়ে আনলেন ২৩ বছরের তনয়া। স্ন্যাচ ও ক্লিন অ্যান্ড জার্ক মিলিয়ে মোট ১৯৯ কেজি (৮৮ কেজি + ১১১ কেজি) ওজন তুললেন জ্ঞানেশ্বরী।

    হাই জাম্পেও রুপো

    পুরুষদের হাই জাম্পের ফাইনালে ২.২৬ মিটার টপকে রুপোর পদক নিশ্চিত করেন সর্বেশ অনিল কুশারে। ধারাবাহিক ভাবে ভালো পারফরম্যান্স ছিল তাঁর। শেষ পর্যন্ত সর্বেশের হাত ধরেই ভারতের পদক তালিকায় আরও একটি রুপো যোগ হলো। কমনওয়েলথ গেমসের অ্যাথলেটিক্সে এক নতুন ইতিহাস লিখলেন ভারতের সর্বেশ কুশারে। গেমসের ইতিহাসে হাই জাম্পে ভারতের এটিই এই বিভাগে প্রথম রুপো অর্জন, যা বিশ্বমঞ্চে ভারতীয় অ্যাথলেটিক্সের উদীয়মান শক্তিকে আবারও তুলে ধরল। মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার এক প্রান্তিক পেঁয়াজ চাষীর সন্তান সর্বেশের এই পথচলা একেবারেই সহজ ছিল না। শৈশবে আধুনিক অনুশীলনের সুযোগসুবিধা না থাকায়, বাবা ও কোচের সহায়তায় ভুট্টা, তুলো এবং খেতের কৃষি বর্জ্য দিয়ে বানানো অস্থায়ী ‘ল্যান্ডিং পিটে’ লাফিয়ে হাই জাম্পের প্রাথমিক পাঠ নিয়েছিলেন তিনি। সেই অনটন আর প্রতিকূলতাকে জয় করেই আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে তেরঙ্গা ওড়ালেন সর্বেশ।

  • Mirabai Chanu: মীরাবাঈ ম্যাজিক! কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জয়ের হ্যাটট্রিক, পদক-লাভে মণিপুরের মেয়ে ও ছেলেকে শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী মোদির

    Mirabai Chanu: মীরাবাঈ ম্যাজিক! কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জয়ের হ্যাটট্রিক, পদক-লাভে মণিপুরের মেয়ে ও ছেলেকে শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কমনওয়েলথ গেমসে ভারতকে প্রথম সোনা এনে দিলেন সোনার মেয়ে মীরাবাঈ চানু (Mirabai Chanu)। ফের দেশের মুখ উজ্জ্বল করলেন ভারতের ভারোত্তোলন তারকা। রবিবার গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত ২০২৬ কমনওয়েলথ গেমসে ম্যাজিক দেখালেন মণিপুরের মেয়ে। এই নিয়ে পরপর তিনবার কমনওয়েলথ গেমসে (Commonwealth Games 2026 Glasgow) সোনা জেতার অনন্য নজির গড়লেন ৩১ বছর বয়সি মীরাবাঈ (India first gold CWG 2026)। অন্যদিকে, মণিপুর থেকে সেনাছাউনি হয়ে গ্লাসগো, ভারতের হয়ে রুপো জিতে আবেগে ভাসলেন ঋষিকান্ত সিং চানামবাম (Rishikant Singh)। নিজের ঐতিহাসিক সাফল্য তিনি উৎসর্গ করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) এবং গোটা দেশকে। একইসঙ্গে ভারতীয় ক্রীড়ার উন্নয়নে সরকারের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন এই ভারতীয় ভারোত্তোলক।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির শুভেচ্ছা-বার্তা

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারতের হয়ে পদকজয়ী ভারোত্তোলক মীরাবাই চানু ও ঋষিকান্ত সিংকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী মোদি লিখেছেন, “ভারতীয় ভারোত্তোলনের ইতিহাসে আরও একটি গৌরবময় অধ্যায় যোগ হল। প্রতিভাবান মীরাবাই চানু আবারও কমনওয়েলথ গেমসে নিজের অসাধারণ দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। ৪৮ কেজি বিভাগে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে তিনি সোনার পদক জিতেছেন। টানা তৃতীয়বার কমনওয়েলথ গেমসে সোনা এবং মোট চতুর্থ কমনওয়েলথ পদক জিতে তিনি প্রতিটি ভারতীয়র কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন। তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন। ভবিষ্যতের জন্য রইল অনেক শুভেচ্ছা।” প্রধানমন্ত্রী ঋষিকান্ত সিংয়ের পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, অভিষেক কমনওয়েলথ গেমসেই রুপোর পদক জিতে ঋষিকান্ত ভারতীয় ভারোত্তোলনের ভবিষ্যতের জন্য নতুন আশা জাগিয়েছেন। তাঁর এই সাফল্য দেশের তরুণ ক্রীড়াবিদদের আরও অনুপ্রাণিত করবে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

    মীরাবাঈ ম্যাজিকে মাত গ্লাসগো

    সোনা জেতার পাশাপাশি রবিবার নিজের পুরনো রেকর্ড ভেঙে নতুন কমনওয়েলথ ও গেমস রেকর্ড গড়লেন মীরাবাঈ চানু। সব মিলিয়ে টুর্নামেন্টে মোট ১৯০ কেজি ওজন তুলে তিনি শীর্ষে। যার মধ্যে স্ন্যাচ বিভাগে ছিল ৮৫ কেজি এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্ক বিভাগে ১০৫ কেজি। প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই জয়ের অন্যতম প্রধান দাবিদার ছিলেন মীরাবাঈ। তবে সতর্কতার সঙ্গে প্রতি পদক্ষেপে এগিয়েছেন তিনি। স্ন্যাচ রাউন্ডের প্রথম চেষ্টা নিখুঁত না হলেও, দ্বিতীয় চেষ্টায় ৮২ কেজি তুলে গেমস রেকর্ড তৈরি করেন। এর পর নিজেরই গড়া গত বছরের ৮৪ কেজির রেকর্ড ভেঙে ৮৫ কেজি ওজন তুলে গড়ে তোলেন নতুন কমনওয়েলথ রেকর্ড। ক্লিন অ্যান্ড জার্ক রাউন্ডেও খানিকটা নাটকীয়তা ছিল। মীরাবাঈয়ের প্রথম প্রচেষ্টাটি বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু মানসিকভাবে শক্ত থেকে দ্বিতীয়বার যখন তিনি মঞ্চে আসেন, তখন তাঁর চোখে ছিল শুধুই জয়ের জেদ। গর্জন করে নিখুঁত ছন্দ বজায় রেখে ১০৫ কেজি ওজন মাথার উপর তুলে ধরেন তিনি। বিচারকদের সংকেত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো স্টেডিয়াম হাততালিতে ফেটে পড়ে এবং মীরাবাঈয়ের মুখে ফিরে আসে তাঁর সেই পরিচিত হাসি।

    পরবর্তী লক্ষ্য এশিয়ান গেমস

    এই সাফল্যের পরও পা মাটিতেই রাখছেন মণিপুরের এই ভারোত্তোলক। মীরাবাঈ জানান, তাঁর মূল লক্ষ্য এখন আগামী সেপ্টেম্বর মাসের এশিয়ান গেমস। এশিয়ান গেমসে পদক জয়ই তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় স্বপ্ন। গ্লাসগো গেমসে নিজেকে খুব একটা চাপ না দিয়ে, এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখেই পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। তবে মীরাবাঈয়ের রবিবারের এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখে ক্রীড়াপ্রেমীদের বিশ্বাস, আসন্ন এশিয়ান গেমসেও তাঁর গলায় সোনার পদক দেখা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। এদিন সোনা জয়ের পরে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন ৩১ বছরের তারকা। মা এবং কোচকে ধন্যবাদ জানিয়ে কেঁদে ফেলেন মণিপুরের মেয়ে। ২০১৪ সালে ২০ বছরের এক তরুণী প্রতিভা গ্লাসগো থেকে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন, সেই মেয়েই ১২ বছর পরে ওই শহর ছাড়লেন কমনওয়েলথ গেমসের টানা চতুর্থ পদক নিয়ে। তার মধ্যে তিনটিই সোনার পদক। আর সেই রেকর্ড সোনা জয়ের পরে নিজের প্রজন্মের ভারতের সেরা ভারোত্তোলক বলেন, ‘গত তিনদিন ধরে আমি খাইনি। আমার ওজন বজায় রাখার কাজটা অত্যন্ত কঠিন ছিল। আমি পরিবারকে এই সোনার পদককে উৎসর্গ করতে চাই।’

    প্রধানমন্ত্রী মোদিকে পদক উৎসর্গ

    মীরাবাঈ চানুর পদক জয়ের ঠিক আগে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে পুরুষদের ৬০ কেজি ভারোত্তোলনে রুপোর পদক জেতেন মণিপুরেরই ছেলে ঋষিকান্ত। জয়ের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই রুপোর পদক শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি গোটা দেশের। তিনি বলেন, “আমি এই রুপোর পদক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং সমগ্র দেশকে উৎসর্গ করছি। আজকের এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে আমার কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি ভারত সরকার, ইন্ডিয়ান ওয়েটলিফটিং ফেডারেশন, সাপোর্ট স্টাফ এবং আমার বন্ধুদের অবদান।” ২০২২ সালে বার্মিংহাম গেমসে প্রথমবার কমনওয়েলথ মঞ্চে অভিষেক হয় ঋষিকান্তের। সে বার ৫৫ কেজি বিভাগে নেমেছিলেন। কিন্তু পদক আসেনি। খালি হাতেই ফিরতে হয়। এরপর হতাশায় না ভুগে নিজেকে আরও ধারালো করেন। ওজন বাড়িয়ে লুফে নেন নতুন চ্যালেঞ্জ। ৫৫ কেজি থেকে উঠে আসেন সদ্য চালু হওয়া ৬০ কেজি বিভাগে। আর এখানেই লুকিয়ে সাফল্যের আসল চাবিকাঠি। ২০২৫ সালে আমেদাবাদে আয়োজিত কমনওয়েলথ ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপে (Commonwealth Weightlifting Championships) অনায়াসে সোনা জয়।

    সরকারের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা

    ঋষিকান্তের মতে, ভারতীয় ক্রীড়ার বিকাশে কেন্দ্রীয় সরকারের ধারাবাহিক সমর্থন বড় ভূমিকা পালন করেছে। তিনি জানান, খেলাধুলাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারের উদ্যোগই তাঁকে আরও ভালো করার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। তাই নিজের এই সাফল্য প্রধানমন্ত্রী মোদিকে উৎসর্গ করাই তাঁর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মণিপুরের ইম্ফলের ছেলে ঋষিকান্ত। তাঁর এই সাফল্যের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় অবদান ভারতীয় সেনার (Indian Army)। স্পোর্টস সিস্টেম বা নির্দিষ্ট ক্রীড়া কর্মসূচির হাত ধরেই আসল প্রতিভার বিকাশ। সঠিক প্রশিক্ষণ, নিখুঁত গাইডেন্স এবং লাগাতার সমর্থন—সবটাই পেয়েছিলেন সেনাশিবির থেকে। বর্তমানে তিনি ভারতীয় সেনার হয়েই প্রতিনিধিত্ব করেন। হালকা ওজনের ক্যাটেগরিতে দেশের অন্যতম সেরা ভারোত্তোলক হিসেবে নিজেকে ইতিমধ্যে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন (Indian Weightlifter)।

    গেমসে পদক তালিকায় ভারত

    চানুর সোনা এবং ঋষিকান্তের রুপো জয়ের সুবাদে গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসের পদক তালিকায় সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে ভারত। একটি সোনা, একটি রুপো এবং একটি ব্রোঞ্জ জিতেছে। ১২টি সোনা, পাঁচটি রুপো এবং সাতটি ব্রোঞ্জ নিয়ে শীর্ষে আছে অস্ট্রেলিয়া।

     

     

     

  • PM Modi hails Jhandu Kumar: কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের প্রথম পদক, প্যারা-পাওয়ারলিফটিংয়ে ব্রোঞ্জজয়ী ঝান্ডু কুমারকে শুভেচ্ছা মোদির

    PM Modi hails Jhandu Kumar: কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের প্রথম পদক, প্যারা-পাওয়ারলিফটিংয়ে ব্রোঞ্জজয়ী ঝান্ডু কুমারকে শুভেচ্ছা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এই সাফল্য শুধু একটি পদক জয়ের গল্প নয়, বরং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে অদম্য লড়াই, আত্মবিশ্বাস এবং কঠোর পরিশ্রমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে (Commonwealth Games) ভারতের পদক অভিযান শুরু হলো এক অনুপ্রেরণার গল্প দিয়ে। পুরুষদের হেভিওয়েট প্যারা পাওয়ারলিফটিংয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতে দেশের ঝুলিতে প্রথম পদক যোগ করলেন বিহারের নালন্দার ২৯ বছরের ঝান্ডু কুমার। মোট ১৯০ কেজি ওয়েট তুলে তিনি পোডিয়ামে জায়গা করে নিয়েছেন। গ্লাসগো গেমসে প্রথম পদক জয়ের জন্য তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির শুভেচ্ছা

    সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লিখেছেন, ঝান্ডু কুমারের এই সাফল্য শুধু একটি পদক জয় নয়, বরং তাঁর অদম্য মানসিক শক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং বছরের পর বছর ধরে নিয়মিত অনুশীলনের ফল। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় বলেন, “পুরুষদের হেভিওয়েট প্যারা পাওয়ারলিফটিং ইভেন্টে ব্রোঞ্জ জিতে ঝান্ডু কুমার কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারতের পদক তালিকার সূচনা করেছেন। তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন। প্রতিকূলতাকে জয় করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের সম্মান বাড়িয়েছেন এবং অসংখ্য ভারতীয়কে অনুপ্রাণিত করেছেন।”

    এক অনুপ্রেরণার গল্প

    বিহারের একটি সাধারণ পরিবারে জন্ম ঝান্ডু কুমারের। মাত্র ৫ বছর বয়সেই পোলিও আক্রান্ত হন তিনি। ছোটবেলা থেকে শারীরিক ও আর্থিক – দুই ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাঁকে। তাঁর বাবা রাস্তার ধরে সবজি বিক্রি করেন। এমনকি, পরিবার চালাতে কোভিড ও কোভিড পরবর্তী সময়ে ই-রিক্সা চালিয়েছেন তিনি। আবার ভারতের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখে দীর্ঘ সময় কাজ করার পরেও নিয়মিত জিমে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম করতেন। সেই লড়াইয়ের ফল এই সাফল্য। তাঁর এই কঠোর পরিশ্রম অবশেষে সফল হয়। তাঁর প্রতিভা নজরে আসে জাতীয় কোচ রাজিন্দর সিং রাহেলুর। এরপর তিনি ঝান্ডুকে গান্ধীনগরের সাইয়ের ন্যাশনাল সেন্টার অফ এক্সেলেন্স অনুশীলনের সুযোগ করে দেন। এই সুযোগই তাঁর জীবনের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায়। সেখানে ভাল ফল পেয়ে তিনি আরও উন্নতি করতে থাকেন। এরপর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় একের পর এক ভাল ফল করতে থাকেন ঝন্ডু।পদক জয়ের পর তিনি বললেন,”আমার মনে হচ্ছে আমি আকাশে উড়ছি। আমার মাথায় খালি একটাই কথা ঘুরছিল – যেভাবেই হোক আমাকে পদক জিততেই হবে। আমি খুব কৃতজ্ঞ সবার কাছে। সবাই আমাকে এত অনুশীলনের সুযোগ দিয়েছে ও ভালবাসা দিয়েছে ফলে আমি অভিভূত। ভবিষ্যতে আরও ভাল করার চেষ্টা করব। আমাকে সাইয়ের মতো জায়গায় অনুশীলন করতে দেওয়ার জন্য আমি ওদের কাছেও কৃতজ্ঞ। এই পদকটা শুধু আমার নয়, ওদেরও।”

LinkedIn
Share