Category: খেলা

Get updates on Sports News Cricket, Football, Tennis, from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Lionel Messi: অগাস্টে শুরু, অগাস্টেই শেষ! বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে আলবিদা মেসির

    Lionel Messi: অগাস্টে শুরু, অগাস্টেই শেষ! বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে আলবিদা মেসির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক যুগের অবসান! আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন লিওনেল মেসি (Lionel Messi Retirement। ৩১ অগাস্ট, ২০২৬। আর্জেন্টিনার জার্সিতে দীর্ঘ ২১ বছরের বর্ণময় কেরিয়ারে পাকাপাকিভাবে ইতি টানলেন নব্য ফুটবলের জাদুকর। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের কাছে ২০২৬ বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) ফাইনালে ১-০ গোলে পরাজয়ের ঠিক ছ’সপ্তাহ পর এল এই ঘোষণা। আকস্মিক ঠিকই কিন্তু অপ্রত্যাশিত নয়৷ শুরু হয়েছিল ২১ বছর আগের অগাস্ট মাসে। ২০০৫ সালের ১৭ অগাস্ট, হাঙ্গেরির বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার জার্সিতে অভিষেক হয়েছিল আধুনিক ফুটবলের রাজপুত্রের। সেই অগাস্টেই আন্তর্জাতিক ফুটবল যাত্রায় ইতি টানলেন মেসি। আর্জেন্টিনার হয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন মেসি। ২০২২ সালে কাতারে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ২০২৬ সালে সেই সাফল্য ধরে রাখার লক্ষ্য ছিল তাঁর। কিন্তু তা হয়নি। তবে, ২০৩০-আর নয়। থামতেও জানতে হয়। সঠিক সময়েই থামলেন রাজপুত্র।

    কবে নিয়েছিলেন অবসরের সিদ্ধান্ত

    মেসি জানিয়েছেন, স্পেনের কাছে বিশ্বকাপ ফাইনালে হারের মাত্র দু’দিন পরই অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে বেশ কয়েক সপ্তাহ সেই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আনেননি তিনি। সেই সময় তাঁর পরিবারও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিল। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর আগস্টে ৬৮ বছর বয়সে প্রয়াত হন মেসির বাবা হোর্হে মেসি। ইন্টার মায়ামিতে ফিরে ক্লাব ফুটবলে যোগ দেওয়ার পর অবশেষে নিজের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আনেন মেসি। সোমবার, যখন ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দীর্ঘ অবসরের বার্তাটি সামনে আসে, বিশ্বজুড়ে তুমুল আলোড়ন! কিন্তু কেউ জানত না, এই চিঠি লেখা হয়েছিল পাক্কা ৪১ দিন আগে! খোলা চিঠিতে মেসি নিজেই স্বীকার করেছেন, বিশ্বকাপ ফাইনালে পরাস্ত হওয়ার ঠিক দু’দিন পর, অর্থাৎ ২১ জুলাই তিনি এই বয়ান ড্রাফট করেছিলেন। দ্রুতই সেটি পোস্ট করার কথা ছিল। কিন্তু আচমকা নেমে আসে এক ভয়ংকর পারিবারিক বিপর্যয়। গত ৭ অগাস্ট রাতে রোজারিওর এক ক্লিনিকে দীর্ঘ অসুস্থতার পর ৬৮ বছর বয়সে মারা যান বাবা জর্জ মেসি (Jorge Messi Death)। তাঁর শেষ সময়ে পাশে থাকতে মায়ামি থেকে তড়িঘড়ি ছুটে গিয়েছিলেন লিও। জর্জ নিছক বাবা নন, ছিলেন মেসির কেরিয়ারের মূল স্থপতি। ২০০০ সালে গ্রোথ-হরমোনের সমস্যায় ভোগা ১৩ বছরের কিশোরকে রোজারিও থেকে বার্সেলোনায় নিয়ে যাওয়া, ন্যাপকিনে প্রথম চুক্তির সই—সবই তাঁর হাত ধরে। শোকস্তব্ধ লিও (Argentina National Football Team) নিজেকে সব ধরনের জনসমক্ষ থেকে গুটিয়ে নেন। অবশেষে ৩১ অগাস্ট চিঠিটি প্রকাশের সময় নীচে একটি ব্যক্তিগত নোট জুড়ে দেন তিনি। জানান, বাবার মৃত্যু তাঁর সিদ্ধান্ত বদলায়নি, বরং সঠিক সময়ে ১০ নম্বর জার্সি তুলে রাখার বিষয়ে তাঁকে ‘আগের চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসী’ করে তুলেছে। মেসির কথায়, সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত কষ্টের ছিল এবং এখনও সেই কষ্ট রয়েছে। তবে তিনি বুঝতে পেরেছেন, এবার সেই অধ্যায় বন্ধ করার সময় এসেছে।

    অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান

    ৩৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে মেসি রেখে গেলেন এক অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৭টি ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ১২৫। দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোল ও ম্যাচ খেলা ফুটবলার হিসেবে আন্তর্জাতিক অধ্যায় শেষ করলেন তিনি। আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির পথচলা ছিল সাফল্য ও হতাশার এক অনন্য মিশেল। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির কাছে হার, ২০১৫ ও ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে পরাজয়—একসময় জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর ভাগ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। অবশেষে ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জিতে প্রথম বড় আন্তর্জাতিক ট্রফি পান মেসি। এর পরের বছরই আসে তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত। কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে হারিয়ে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেন তিনি। ফাইনালে জোড়া গোলসহ পুরো টুর্নামেন্টে সাতটি গোল করে মেসি জেতেন গোল্ডেন বল। এর আগে ২০১৪ বিশ্বকাপেও তিনি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়েছিলেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসেও মেসির নাম লেখা থাকবে বিশেষ জায়গায়। ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষে তিনি প্রতিযোগিতার ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে আন্তর্জাতিক অধ্যায় শেষ করেছেন। তাঁর আগে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। দু’জনেই ২০২৬ বিশ্বকাপে জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসের পুরনো গোলের রেকর্ড পেরিয়ে যান।

    তুমি ইতিহাসের সেরা ফুটবলার

    মেসির বিদায়ের খবরে চোখে জল বিশ্ব জুড়ে ফুটবল প্রেমিদের। মহাতারকার অবসরে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তাঁর প্রাক্তন ও বর্তমান সতীর্থরাও। কোপা জয় হোক আর বিশ্বকাপ জয়, দেশের জার্সিতে মেসির ট্রফি জয়ের সাফল্যে অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার অবদান কতটা তা সকলের জানা। সেই বয়স ভিত্তিক দল থেকে মেসির সঙ্গে জুটিতে খেলেছেন ডি মারিয়া। মেসির অবসরে আবেগাপ্লুত তিনি। মেসির অবসরের পোস্টে কমেন্টে একদা সতীর্থ অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া লিখেছেন, ‘আর্জেন্টিনাকে বিশ্বের সেরা করার জন্য ধন্যবাদ। তুমি তো অন্য দলকেও বেছে নিতে পারতে। কিন্তু তুমি আর্জেন্টিনাকেই বেছে নিয়েছ। সব কিছুর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ অধিনায়ক। তুমি ইতিহাসের সেরা ফুটবলার।’ তাঁকে বলা হয় মেসির ‘বডিগার্ড’। প্রিয় বন্ধুর অবসরে মেসির সতীর্থ রড্রিগো ডি পল লিখেছেন, ‘তুমি কখনও যুদ্ধ থেকে পালাওনি। তোমার নেতৃত্বের জন্য আমরা এত ভালো খেলতাম। তোমাকে শুধু ধন্যবাদ বলতে চাই। তুমি নিজেও জানো না, কত মানুষের মুখে তুমি হাসি ফুটিয়েছ। তুমি চিরকালীন। সর্বকালের সেরা তুমি। আমাদের এতটা খুশি করার জন্য অনেক ধন্যবাদ। তুমি সর্বসেরা।’

    আমরা তোমায় ভালোবাসি

    ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসির সঙ্গে খেলা লিসান্দ্রো মার্টিনেজ অধিনায়কের অবসরের লিখেছেন, “সত্যি বলতে, খুব খারাপ লাগছে। কখনও এ রকম মুহূর্তের জন্য আমাদের তৈরি থাকতে বলোনি। হৃদয়ের অন্তঃস্থল থেকে জানাচ্ছি, ধন্যবাদ!! তুমি আমার কাছে এবং গোটা বিশ্বের কাছে একটা উদাহরণ। ফুটবলের বিজয়ী এবং জীবনের বিজয়ী!! ওর বাবা যে অসাধারণ একটা দলের সদস্য ছিল, এটা ভেবে আমার মেয়ে খুব গর্বিত হবে। তুমি বিশ্বের সর্বকালের সেরা ক্রীড়াবিদ। কারণ ফুটবলের তুলনা টানতে গেলে, তোমার মতো কেউ নেই। তোমাকে খুব ভালোবাসি।” বিশ্বকাপ ফাইনালে মারামারি করে ১০ ম্যাচ নির্বাসিত হয়েছেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। মেসির অবসরে তিনিও চুপ থাকেননি। লিখেছেন, “সব কিছুর জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ!!! তুমি ছিলে এবং বরাবরের জন্য সর্বকালের সেরাই থাকবে। অধিনায়ক, আমরা তোমায় ভালোবাসি।” আর্জেন্টিনা ফুটবল সংস্থা। তারা লেখে, “আমাদের জীবনের অন্যতম সুন্দর একটা যাত্রার জন্য তোমায় ধন্যবাদ। তোমার উত্তরাধিকার এবং পেশাদারিত্ব সারাজীবন আমাদের হৃদয়ে থেকে যাবে। ধন্যবাদ অধিনায়ক। আমরা তোমায় ভালোবাসি।” ফিফা থেকেও ধন্যবাদ জানিয়ে লেখা হয়েছে, ‘গ্রাসিয়াস’।

    ফুটবল মাঠে এখনও মেসি ম্যানিয়া

    আর্জেন্টিনার জার্সিতে আর না খেললেও ফুটবলকে এখনই বিদায় বলছেন না আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী মেসি। ইন্টার মায়ামির হয়ে মেজর লিগ সকারে খেলা চালিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। তবে, আর আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সিতে দেখা যাবে না এল এম টেন-কে। বিদায়-বার্তায় মেসি লিখেছেন, “আমাকে আর্জেন্টাইন হিসেবে জন্ম দেওয়ার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। চলো, আর্জেন্টিনা।”

  • Praggnanandhaa: পিছিয়ে পড়েও ইতিহাস! প্রথম ভারতীয় হিসাবে গ্র্যান্ড চেজ ট্যুর খেতাব জয় প্রজ্ঞানন্দের

    Praggnanandhaa: পিছিয়ে পড়েও ইতিহাস! প্রথম ভারতীয় হিসাবে গ্র্যান্ড চেজ ট্যুর খেতাব জয় প্রজ্ঞানন্দের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইতিহাস রমেশবাবু প্রজ্ঞানন্দের (Praggnanandhaa)। প্রথম ভারতীয় দাবাড়ু হিসাবে গ্র্যান্ড চেজ ট্যুর (Grand Chess Tour) খেতাব জিতলেন ২১ বছরের এই তরুণ তুর্কি। পিছিয়ে থেকেও ফাইনালে ফ্যাবিয়ানো কারুয়ানাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হলেন প্রজ্ঞানন্দ। ফাইনালে এক সময় ছ’পয়েন্টে পিছিয়ে ছিলেন তিনি। এরপর কারুয়ানাকে দু’টি র‌্যাপিড গেমে হারিয়ে দেন। তার পর ব্লিৎজ গেমে ১৫-১৩ ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন রমেশবাবু। ফাইনালে কঠিন চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হয়েছে ভারতের গ্র্যান্ডমাস্টারকে। তবে, আগ্রাসী দাবা খেলে ফাইনাল জমিয়ে দেন তিনি।

    ভারতীয় দাবায় ঐতিহাসিক মুহূর্ত

    ভারতীয় দাবাকে আরও একবার নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেলেন প্রজ্ঞানন্দ।এই খেতাব জিতে ২ লক্ষ মার্কিন ডলার পুরস্কার পেলেন প্রজ্ঞানন্দ। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১ কোটি ৯১ লাখ টাকার সমান। প্রজ্ঞানন্দের কেরিয়ারে এটিই এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় শিরোপা। এদিন র‌্যাপিড রাউন্ডে চাপে ছিলেন দুই দাবাড়ুই। কারণ চার গেমের এই রাউন্ডই হয়ে ওঠে আসল ফাইনাল। সেখানেই চাপ সামলে কিস্তিমাত করেছেন প্রজ্ঞানন্দ। প্রথম গেমে কিছুটা চাপে পড়ে যান ভারতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার। জয়ের কাছাকাছি পৌঁছেও সময়ের চাপে ভুল চাল দিয়ে পরিস্থিতি জটিল করে ফেলেন। কারুয়ানাও ভুল করলে ম্যাচ ড্র হয়। পরের ম্যাচগুলি জিতে ১৫-১৩ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন প্রজ্ঞানন্দ।

    পরবর্তী লক্ষ্য দাবা অলিম্পিয়াড

    বছরের শুরুটা প্রজ্ঞানন্দের জন্য ভাল হয়নি। ক্যান্ডিডেটস টুর্নামেন্টে দ্বিতীয়বার নেমেই ব্যর্থ। কিন্তু এরপর স্বপ্নের ফর্মে ফেরেন। নরওয়ে চেসে ম্যাগনাস কার্লসেনকে (Magnus Carlsen) দু’বার হারিয়ে শিরোপা জয়। জেতেন সেন্ট লুইস র‍্যাপিড ও ব্লিটজ খেতাবও। সিঙ্কফিল্ড কাপেও যুগ্মভাবে শীর্ষস্থান দখল করেন। প্রজ্ঞানন্দের কথায়, ‘ক্যান্ডিডেটস জিতলে ভাল লাগত ঠিকই। কিন্তু এই টুর্নামেন্ট জেতাও দারুণ একটা ব্যাপার। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের পরেই এই টুর্নামেন্টের স্থান। এই স্তরের প্রতিযোগিতায় জিততে গেলে অনেক মানসিক দৃঢ়তা লাগে। আমি শেষ পর্যন্ত লড়ে যেতে পেরে খুশি।’টানা একমাস দাবার বোর্ডে মগ্ন থাকার পর প্রজ্ঞার পরবর্তী লক্ষ্য এখন দাবা অলিম্পিয়াড (Chess Olympiad)। আগামী ১৬ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর উজবেকিস্তানের সমরকন্দে খেতাব ধরে রাখার লড়াইয়ে নামবে ভারতীয় দল। সেখানেও অন্যতম প্রধান ভরসা প্রজ্ঞানন্দ।

  • Durand Cup 2026: লাল-হলুদ ঝড়ে ডুবে গেল নৌকা! ২২ বছর পর ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল, হ্যাটট্রিক এডমুন্ডের

    Durand Cup 2026: লাল-হলুদ ঝড়ে ডুবে গেল নৌকা! ২২ বছর পর ডুরান্ড চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গল, হ্যাটট্রিক এডমুন্ডের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  লাল-হলুদের দুরন্ত ঝড়ে কার্যত উড়ে গেল সবুজ-মেরুন নৌকা। ডুরান্ড কাপের (Durand Cup 2026) ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলের কাছে ৪-১ গোলে হারল মোহনবাগান। গোটা ম্যাচেই ইস্টবেঙ্গলের সামনে সেভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি সবুজ-মেরুন। এডমুন্ড লালরিন্দিকার হ্যাটট্রিকই হল ইস্টবেঙ্গলের জয়ের মূল। ২০২৩ সালের পর আবার ৩ বছর পর ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মুখোমুখি ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। ফাইনালে শেষ সাক্ষাতে জিতেছিল মোহনবাগান। গোল করেছিলেন বাগানের দিমিত্রি পেত্রাতোস। এই বছরেও ডুরান্ড কাপ শুরু হয়েছিল ডার্বি ম্যাচ দিয়েই। সেই ম্যাচে ১-০ জিতেছে সবুজ-মেরুন। গোল করেছিলেন সাহাল আব্দুল সামাদ। কিন্তু এই রবিবাসরীয় সন্ধ্যা ছিল লাল হলুদের। গ্যালারি জুড়ে জ্বলছিল মশাল।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর অভিনন্দন-বার্তা

    ডুরান্ড কাপ ২০২৬ জেতার জন্য ইস্টবেঙ্গলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং কলকাতায় মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ফাইনালে দলটির দৃঢ়সংকল্প, দলগত প্রচেষ্টা ও পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন। সিং বলেন, এই জয় ভারতীয় ফুটবলের প্রকৃত স্পিরিটকে তুলে ধরেছে এবং এতে এডমন্ড লালরিন্দিকার হ্যাটট্রিক ও দলের নিখুঁত নৈপুণ্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যা ইস্ট বেঙ্গলকে ২২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই মর্যাদাপূর্ণ শিরোপা জিততে সাহায্য করেছে। এদিন ডুরান্ড ফাইনাল দেখতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন রাজনাথ। ম্যাচ শেষে তিনি ফুটবলারদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

    প্রথম ২২ মিনিটেই খেলা শেষ

    মোহনবাগানকে ৪-১ ব্যবধানে চূর্ণ করে ২২ বছর পর ডুরান্ড কাপ জিতল ইস্টবেঙ্গল। গ্রুপ পর্বে এই মোহনবাগানের কাছেই হারতে হয়েছিল। তার মধুর প্রতিশোধ নিলেন হাবাস। মোহনবাগানের কোচ হিসাবে অতীতে বহু বার হারিয়েছেন ইস্টবেঙ্গলকে। এ বার লাল-হলুদের কোচ হিসাবে মস্তিষ্কের যুদ্ধে দাপটে জিতে হাবাস বুঝিয়ে দিলেন, আইএসএলের লিগ-শিল্ড জেতার পরেও তাঁকে ছেড়ে কতটা ভুল করেছে মোহনবাগান। প্রতিটি গোলের পর তাঁর উল্লাস বুঝিয়ে দিয়েছে, মোহনবাগানকে মুখের উপর জবাব দিয়েছেন। ফাইনাল ম্যাচ। তার উপর ডার্বি। সেখানে কোনও দল যদি ২২ মিনিটেই ৩-০ গোলে এগিয়ে যায়, তা হলে সেই ম্যাচের আর কী-ই বা পড়ে থাকে! এ দিন ইস্টবেঙ্গল প্রথম ২২ মিনিটেই ম্যাচ শেষ করে দিল। এডমুন্ডের জোড়া গোল, বিপিন সিং-এর গোলে ম্যাচ শুরুতেই পকেটে পুরে নিল তারা। মাঝে মনবীর সিং একক প্রয়াসে একটি গোল শোধ করলেন। তবে প্রথমার্ধের মধ্যেই একক দক্ষতায় গোল করে হ্যাটট্রিক পূরণ করলেন এডমুন্ড।

    এডমুন্ডই সেরার সেরা

    সামনে মোহনবাগানকে দেখলেই জ্বলে ওঠেন তিনি। রবিবারের পর থেকে তিনি যে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের চোখের মণি হয়ে উঠবেন, তা বলাই বাহুল্য। ২৯ বছর পর ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে কোনও ফুটবলার ডার্বিতে হ্যাটট্রিক করলেন। ইস্টবেঙ্গলের প্রথম এবং একমাত্র ফুটবলার হিসাবে এত দিন এই নজির ছিল বাইচুং ভুটিয়ার। ১৯৯৭-এর সেই ঐতিহাসিক ফেডারেশন কাপে হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। তার পর এডমুন্ডই হ্যাটট্রিক করলেন। মিজোরামের লুংলেই গ্রামে জন্ম এডমুন্ডের। ভারতীয় দলের নিয়মিত সদস্য তিনি। ডুরান্ডে দুরন্ত ফুটবল উপহার দিয়ে ৩ লক্ষ টাকার আর্থিক পুরস্কার পেলেন এডমুন্ড। ডুরান্ড কাপ রানার্স হওয়ার ফলে ৬০ লক্ষ টাকা পুরস্কার পেল মোহনবাগান। চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইস্টবেঙ্গল পেল ১ কোটি ২১ লক্ষ টাকা।

    • গোল্ডেন গ্লাভস – বিশাল কাইথ (মোহনবাগান সুপারজায়ান্ট)
    • গোল্ডেন বুট – আলাদিন আজারাই (নর্থইস্ট ইউনাইটেড)। ৯ গোল করেছেন আলাদিন।
    • গোল্ডেন বল – এডমুন্ড (ইস্টবেঙ্গল)
  • Hockey World Cup: পাকিস্তানকে হারিয়ে হকি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ভারত, শাহী অভিনন্দন হরমনপ্রীতদের

    Hockey World Cup: পাকিস্তানকে হারিয়ে হকি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ভারত, শাহী অভিনন্দন হরমনপ্রীতদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্রুপের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে ৫-৩ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ হকির (Hockey World Cup 2026) কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেল ভারত (Indian Hockey Team)। ভারতের এই জয়ের পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) ভারতীয় দলকে অভিনন্দন জানান। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয়ের জন্য টিম ইন্ডিয়াকে অভিনন্দন। দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণ ও অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের মাধ্যমে ভারতীয় দল দেশের দীর্ঘদিনের আধিপত্য বজায় রেখেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এই নিয়ে পাকিস্তানকে ৭০ বার হারাল ভারত। বিশ্বকাপ থেকেও ছিটকে গেল পাকিস্তান।

    হকির টার্ফে ভারতীয়দের দাপট

    ২০১৬ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে শেষ বার পাকিস্তানের (India vs Pakistan) কাছে হেরেছিল ভারতীয় হকি দল। তার পর থেকে হকির টার্ফে ভারতীয়দের দাপট। বিশ্বকাপেও অব্যাহত রইল হরমনপ্রীত সিংদের দাপট। ইংল্যান্ডের কাছে ওয়েলস আগেই হেরে যাওয়ায় ভারতীয় দলের জন্য ড্রই যথেষ্ট ছিল। ভারতীয় দল অবশ্য জয়ের লক্ষ্য নিয়েই খেলতে নেমেছিল। কারণ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই আলাদা উত্তেজনা। ভারতীয় শিবিরও হালকা ভাবে নেয়নি এই ম্যাচ। শুরু থেকেই একের পর এক আক্রমণে পাকিস্তানের রক্ষণকে ব্যস্ত করে রাখে ক্রেগ ফুলটনের দল। ফলও পায় দ্রুত। ৫ মিনিটেই পেনাল্টি কর্ণার থেকে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত। পিছিয়ে পড়ার পর পাকিস্তান পাল্টা আক্রমণে ভারতের উপর চাপ তৈরির চেষ্টা করে। গোটা দুয়েক ভাল আক্রমণও করে। কিন্তু লাভ হয়নি। ১১ মিনিটে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ভারত। অভিষেকের ক্রশ মনদীপ সিং-এর স্টিকে দিক বদলে গোলে চলে যায়।

    কোন গ্রুপে খেলবে ভারত?

    বিশ্বকাপের নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী, প্রথম পর্ব থেকে মোট আটটি দল দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবে। সেই আট দলকে চারটি করে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হবে। এরপর প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল সেমিফাইনালে জায়গা করে নেবে। ফলে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব অনেকটাই বেড়ে যাচ্ছে। পুল-ডি-তে দ্বিতীয় হয়ে শেষ করা ভারত দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলবে পুল-ই-তে। এই গ্রুপে ভারতের সঙ্গে থাকবে পুল-এ-র শীর্ষ দুই দল। অর্থাৎ, ভারতের পরবর্তী ম্যাচগুলিতে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিশালী দলগুলির মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয় পেলেও ভারতের সামনে পরীক্ষা আরও কঠিন হতে চলেছে।

    ভারতের প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস

    পুল-এ-তে রয়েছে নেদারল্যান্ডস, আর্জেন্টিনা, নিউজিল্যান্ড এবং জাপান। এই গ্রুপ থেকে ইতিমধ্যেই দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট নিশ্চিত করেছে নেদারল্যান্ডস। ফলে ভারতীয় দল যে দ্বিতীয় রাউন্ডে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ডাচদের মুখোমুখি হবে, তা নিশ্চিত। টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে ভারতকে এবার নিজেদের সেরা হকি খেলতে হবে। ভারতের দ্বিতীয় রাউন্ডের একটি প্রতিপক্ষ নিশ্চিত—নেদারল্যান্ডস। অন্য দলটি হবে আর্জেন্টিনা অথবা নিউজিল্যান্ড। এরপর পুল-ই-তে ভারতকে শীর্ষ দুইয়ের মধ্যে শেষ করতে হবে সেমিফাইনালে ওঠার জন্য।

  • India Beats Sri Lanka: নবাগত পাড়িক্কাল, সুথারের দাপটে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে ১৬৫ রানে জয় ভারতের

    India Beats Sri Lanka: নবাগত পাড়িক্কাল, সুথারের দাপটে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে ১৬৫ রানে জয় ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের জয়ের জন্যই যেন অপেক্ষা করছিলেন বরুণ দেবতা! শ্রীলঙ্কার শেষ উইকেট পতনের পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ঝেঁপে বৃষ্টি নামল গলে। তার আগে অবশ্য প্রথম টেস্টে ১৬৫ রানে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে দেয় ভারত। ফলে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ এগিয়ে গেল শুভমন গিলরা। জয়ে বড় ভূমিকা রাখলেন তরুণ স্পিনার মানব সুতার। ভারতের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে একাই ৬ উইকেট তুলে নিলেন। ফলে ৩৭২ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ২০৬ রানে গুটিয়ে গেল শ্রীলঙ্কার ইনিংস। দুই ইনিংস মিলিয়ে ম্যাচে মোট ১০ উইকেট নিলেন মানব।

    মানব-ম্যাজিক

    শুরু থেকেই ভাল খেলছিল তারা। প্রত্যাশামতোই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট জিতে নিল ভারত। বুধবার টেস্টের পঞ্চম দিনে শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংসের বাকি ছ’টি উইকেট ফেলে দিল তারা। টেস্ট জিততে শ্রীলঙ্কার দরকার ছিল ৩৭২ রান। তাদের ইনিংস শেষ হয়ে যায় ২০৬ রানেই। ভারত জিতেছে ১৬৫ রানে। মানব সুতার এক ওভারে তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। শ্রীলঙ্কার শেষ চারটি উইকেট ফেলেন তিনিই। সারাংশ জৈন না মানব, কাকে প্রথম টেস্টে খেলানো হবে তা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছিল। শেষমেশ শিকে ছেঁড়ে মানবের। সুযোগ পেয়েই আস্থার দাম রাখলেন এই বাঁহাতি স্পিনার। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট নিলেন তিনি। এক সময় গলে রাজ করেছেন শ্রীলঙ্কার বাঁহাতি স্পিনার রঙ্গনা হেরাথ। সোমবার গল দেখল আর এক বাঁহাতি স্পিনারের দাপট। পঞ্চম দিনে লড়াই করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছে শ্রীলঙ্কা। কিন্তু দু’ওভারে চারটি উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে একাই শেষ করে দেন মানব।

    ভারতের জয়ের কারিগর

    ভারতের জন্য এই টেস্টের জয়ের সবথেকে ইতিবাচক বিষয়টি হল জয়ের কারিগররা। গিল, রাহুল বা জাডেজার মতো প্রতিষ্ঠিত মহাতারকারা নন, বরং এই ম্যাচে ভারতের জয়ের কারিগর দ্বিতীয় টেস্ট খেলা সুথার ও তৃতীয় টেস্টে মাঠে নামা দেবদত্ত পাড়িক্কাল (Devdutt Padikkal)। সুথার বোলিংয়ে ১০ উইকেট নেন, আর পাড়িক্কাল ব্যাট হাতে ম্যাচের দুই ইনিংসে ২০০-র অধিক রান করেন। তবে, টেস্ট জিতলেও ভারতের চিন্তা থাকবে শুভমন গিল এবং যশস্বী জয়সওয়ালের ফর্ম নিয়ে। শুভমন প্রথম ইনিংসে ১৬ করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ রান করেন। যশস্বী দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৩২ এবং ০ রান করেছেন। দু’জনের খারাপ ফর্মের কারণে টপ অর্ডার বেশি অবদান রাখতে পারেননি। দেবদত্ত পডিক্কলের ইনিংসের সৌজন্যে বড় রান তোলা গিয়েছে। দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিংও ভাল হয়নি ভারতের।

  • PM Modi: ভারতের বিকৃত মানচিত্র নিয়ে আপত্তি, লভলিনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: ভারতের বিকৃত মানচিত্র নিয়ে আপত্তি, লভলিনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গ্লাসগোর একটি রেস্তোরাঁয় ভারতের বিকৃত মানচিত্র প্রদর্শনের (Distorted India Map) প্রতিবাদ করায় কমনওয়েলথ গেমসে রুপোজয়ী বক্সার লভলিনা বরগোহাঁইয়ের দেদার প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। ক্রীড়া সাফল্য উদ্‌যাপনের সময়ও দেশের মানচিত্রের গুরুত্বের বিষয়টি নজরে রাখার জন্য লভলিনার এই উদ্যোগ দীর্ঘদিন মানুষের মনে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রবিবার নিজের বাসভবনে কমনওয়েলথ গেমসের পদকজয়ী ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের সঙ্গে এক ঘরোয়া আলাপচারিতায় এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার প্রধানমন্ত্রীর দফতরের তরফে সেই কথোপকথনের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়।

    ভারতের বিকৃত মানচিত্র (PM Modi)

    গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে মহিলাদের ৭৫ কেজি বিভাগে রুপোর পদক জিতেছিলেন অসমের লভলিনা। আলাপচারিতার এক পর্যায়ে মজা করে তাঁকে রেস্তোরাঁর কর্মীদের সঙ্গে তাঁর বচসার বিষয়টি জানতে চান মোদি। তিনি বলেন, “কী হয়েছিল, রেস্তরাঁর লোকজনের সঙ্গে ঝগড়া করছিলেন?” হেসে লভলিনা জানান, গেমসে সাফল্য পাওয়ার পর ভারতীয় ক্রীড়াবিদরা রেস্তোরাঁয় গিয়ে উদ্‌যাপন করছিলেন। সেখানেই তিনি ভারতের একটি বিকৃত মানচিত্র দেখতে পান। তাঁর কথায়, “স্যার, সেটি আনন্দের মুহূর্ত ছিল। আমরা সাফল্য উদ্‌যাপন করছিলাম। কিন্তু ভারতের বিকৃত মানচিত্রটি দেখে আমার ভালো লাগেনি। আমি তাঁদের বিষয়টি বিনয়ের সঙ্গে জানিয়েছিলাম এবং তাঁরা পরে সেটি সংশোধনও করেন।”

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী?

    লভলিনার এই সচেতনতার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা যখন সাফল্য উদ্‌যাপন করছিলেন এবং গেমস শেষ হয়ে গিয়েছিল, সেই সময়ও আপনি ওই মানচিত্রের গুরুত্ব বুঝতে পেরেছিলেন। আমি সত্যি বলছি, ওই ভিডিওটি সাধারণ কোনও ঘটনা ছিল না। বহুদিন ধরে মানুষ একে মনে রাখবে।” ঘটনাটি সামনে আসে গ্লাসগোর ওই রেস্তরাঁয় প্রদর্শিত ভারতের মানচিত্রে উত্তর-পূর্বাঞ্চল অনুপস্থিত থাকার পর। সহ-খেলোয়াড়দের সঙ্গে সাফল্য উদ্‌যাপন করার সময় বিষয়টি লভলিনার নজরে পড়ে। তিনি রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষের কাছে আপত্তি জানান। পরে কর্তৃপক্ষ মানচিত্রটি সংশোধন করতে সম্মত হয় (PM Modi)। গ্লাসগোতেই লভলিনা প্রথম কমনওয়েলথ গেমস পদক অর্জন করেন। প্রতিযোগিতায় তিনি অলিম্পিক পদকজয়ী মীরাবাই চানুর সঙ্গে ভারতের পতাকাবাহকদের অন্যতম ছিলেন।

    কমনওয়েলথ গেমসে ঐতিহাসিক সাফল্য

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপচারিতায় ক্রীড়াবিদরা গেমসের আগে ও গেমস চলাকালীন (Distorted India Map) তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা জানান। পাশাপাশি পদকজয়ীদের সঙ্গে বিভিন্ন হালকা মুহূর্তও ভাগ করে নেন প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস ২৩ জুলাই থেকে ২ অগাস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়। পদক তালিকায় ভারত ছিল চতুর্থ স্থানে (PM Modi)। এদিকে, গ্লাসগোয় অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে ঐতিহাসিক সাফল্যের জন্য ভারতের পদকজয়ী ক্রীড়াবিদদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের কৃতিত্বের প্রশংসাও করেন তিনি। একই সঙ্গে দেশের তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাওয়ার জন্য ক্রীড়াবিদদের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) লেখেন, “যাঁরা খেলবেন, তাঁরাই এগিয়ে যাবেন। সব সময় ভারতের জন্য গলা মেলান। ভারত মাতা কি জয়!” ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমসে ভারত মোট ৩৯টি পদক জিতেছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৩টি সোনা, ১৭টি রুপো এবং ৯টি ব্রোঞ্জ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এবারের প্রতিযোগিতায় ভারতের অংশগ্রহণ ছিল তুলনামূলকভাবে সীমিত। কুস্তি, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, হকি এবং শুটিংয়ের মতো ভারতের পদকসমৃদ্ধ বেশ কয়েকটি খেলা এবারের সূচিতে ছিল না।

    বক্সিংয়ে দুর্দান্ত সাফল্য ভারতের

    গ্লাসগো থেকে ভারতের বক্সিং দল ফিরেছে মোট ১০টি পদক নিয়ে। এর মধ্যে রয়েছে (Distorted India Map) ৭টি সোনা এবং ৩টি রুপো। সোনাজয়ীদের মধ্যে রয়েছেন প্রীতি পাওয়ার (৫৪ কেজি), জ্যাসমিন লাম্বোরিয়া (৫৭ কেজি), সাক্ষী চৌধুরী (৫১ কেজি), প্রিয়া ঘাংহাস (৬০ কেজি), অরুন্ধতী চৌধুরী (৭০ কেজি), সচিন সিওয়াচ (৬০ কেজি) এবং অঙ্কুশ পাংঘাল (৮০ কেজি)। রুপো জিতেছেন যদুমণি সিং (৫৫ কেজি), অলিম্পিক পদকজয়ী লভলিনা বরগোঁহাই (৭৫ কেজি) এবং নরেন্দর বেরওয়াল (৯০ কেজির বেশি)। ভারতের বক্সিং দলের সোনাজয়ী সাক্ষী চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “কমনওয়েলথ গেমসের সমস্ত পদকজয়ীকে আমাদের সম্মানীয় প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আমরা অত্যন্ত গর্বিত। তাঁর সঙ্গে দেখা করার অভিজ্ঞতা ছিল অসাধারণ। তিনি অত্যন্ত বিনয়ী। তাঁর সঙ্গে দেখা করে আমরা খুবই আনন্দিত।” এবারের সাতটি সোনা কমনওয়েলথ গেমসে ভারতীয় মহিলা বক্সারদের সর্বকালের সেরা সাফল্যও এনে দিয়েছে।

    জুডোতেও ভারতের নজির

    জুডোতেও নিজেদের সেরা কমনওয়েলথ গেমস সাফল্য অর্জন করেছে ভারত। গ্লাসগোয় ভারত ১২টি জুডো ইভেন্টে অংশ নিয়ে মোট চারটি পদক জিতেছে—দুটি সোনা, একটি রুপো এবং একটি ব্রোঞ্জ। ২০২২ সালের প্রতিযোগিতায় তিনটি পদক পেলেও, সেবার একটিও সোনা জিততে পারেনি ভারত। ভারতের জুডো সাফল্যের অন্যতম প্রধান মুখ খেলো ইন্ডিয়ার ক্রীড়াবিদ অস্মিতা দে এবং হর্ষ সিং। তাঁরা জুডোয় কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের প্রথম সোনা জিতে ইতিহাস তৈরি করেছেন। অস্মিতা প্রথম ভারতীয় মহিলা জুডোকা হিসেবে কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জেতেন। আর হর্ষ সিং প্রথম ভারতীয় পুরুষ জুডোকা হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন। অ্যাথলেটিক্স থেকে ভারত (PM Modi) পেয়েছে ১০টি পদক। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি রুপো এবং পাঁচটি ব্রোঞ্জ। ভারতের গুলভীর সিং কমনওয়েলথ গেমসের এক আসরে ব্যক্তিগতভাবে দু’টি পদকজয়ী প্রথম ভারতীয় ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড ক্রীড়াবিদ হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। পুরুষদের ১০ হাজার মিটার দৌড়ে তিনি রুপো এবং ৫ হাজার মিটারে ব্রোঞ্জ জিতেছেন (Distorted India Map)।গ্লাসগোর এই সাফল্যকে দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সীমিত সংখ্যক খেলায় অংশ নিয়েও ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের এমন সাফল্য আগামী দিনে দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে আরও বড় প্রত্যাশা তৈরি করেছে।

     

  • Auqib Nabi: স্কুল শিক্ষকের ছেলে থেকে টিম ইন্ডিয়ায়! ইতিহাস গড়লেন কাশ্মীরের আকিব নবি

    Auqib Nabi: স্কুল শিক্ষকের ছেলে থেকে টিম ইন্ডিয়ায়! ইতিহাস গড়লেন কাশ্মীরের আকিব নবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক সময় ক্রিকেট খেলাকে ভবিষ্যৎহীন পেশা মনে করতেন বাবা। ছেলেকে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু সেই ছেলের জেদ, পরিশ্রম আর প্রতিভাই আজ তাঁকে এনে দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ ক্রিকেটের দরজায়। জম্মু-কাশ্মীরের বারামুল্লার আকিব নবি গড়লেন ইতিহাস। ছোটবেলায় ক্রিকেট তারকা আকিব নবিকে (Auqib Nabi) তাঁর ভাইপো বিলাল আহমদ দার একদিন প্রশ্ন করেছিলেন, ‘‘এত ক্রিকেট তারকার সঙ্গে খেলো, তাঁদের সঙ্গে সেলফি তোলো না কেন?’’ আকিবের উত্তর ছিল, ‘‘একদিন এমন জায়গায় পৌঁছব, যখন ওরাই আমার সঙ্গে সেলফি তুলতে চাইবে।’’ বছর কয়েক পর সেই কথাই সত্যি হয়েছে।

    কাশ্মীর থেকে প্রথম টেস্টে ডাক (India Test Team)

    বছর ঊনত্রিশের অলরাউন্ডার আকিব নবি (Auqib Nabi) হলেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রথম ক্রিকেটার, যিনি ভারতীয় টেস্ট দলে (India Test Team) ডাক পেলেন। জসপ্রীত বুমরাহর পরিবর্তে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দলে জায়গা পেয়েছেন তিনি। সিরিজ শুরু ১৫ অগাস্ট। সংঘাত, দীর্ঘ শীত, তুষারপাত এবং সীমিত পরিকাঠামোর কারণে জম্মু-কাশ্মীরে ক্রিকেটের পথ বরাবরই কঠিন। ১৯৫৭ সালে BCCI-র সঙ্গে যুক্ত হলেও বর্তমানে গোটা অঞ্চলে মাত্র দু’টি বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম রয়েছে, দুটিরই সুযোগ-সুবিধা সীমিত।

    ডাক্তার বানাতে চেয়েছিলেন বাবা

    বারামুল্লা জেলার একটি ছোট গ্রামে বড় হয়েছেন আকিব (Auqib Nabi)। তাঁর বাবা গুলাম নবি দার পেশায় স্কুল শিক্ষক। শুরুতে তিনি ক্রিকেটকে ভবিষ্যৎহীন মনে করতেন এবং ছেলেকে পড়াশোনা করে ডাক্তার হতে বলতেন। কিন্তু ক্রিকেটের প্রতি আকিবের অদম্য আগ্রহ দেখে শেষ পর্যন্ত বাবা মত বদলান। তিনি বুঝতে পারেন, নিজের পছন্দের পথে ছেলেকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।

    অনুশীলনের জন্য পাড়ি ৭০ কিমি

    ছোটবেলায় ভালো ক্রিকেট পরিকাঠামোর অভাবে আকিবকে (Auqib Nabi) প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে শ্রীনগরে নিয়মিত অনুশীলন করতে যেতে হতো। প্রথম ক্রিকেট ট্রায়ালে যাওয়ার সময় তাঁর নিজের একজোড়া স্পাইক জুতোটুকুও ছিল না। শৈশবের বন্ধু জুনেইদ দার জানান, তাঁদের এলাকায় পেশাদার ক্রিকেটের ধারণাই প্রায় ছিল না। পরিকাঠামোও ছিল অপ্রতুল। কিন্তু আকিব ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেট নিয়ে ভীষণ একাগ্র ছিলেন। ভাইপো বিলালের কথায়, আকিব প্রতিদিন ভোরে জিমে যেতেন এবং তারপর সারাদিন অনুশীলন করতেন। প্রায় ১০ বছর ধরে এই রুটিন বজায় রেখেছিলেন তিনি।

    রঞ্জিতে শুরু সাফল্য

    ২০২০ সালে জম্মু-কাশ্মীরের (Jammu Kashmir) হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে অভিষেক হয় আকিবের। অভিষেকেই ঝাড়খণ্ডের বিরুদ্ধে ৫ উইকেট নিয়ে নজর কাড়েন তিনি। ২০২৪-২৫ মরশুমে ৪৪টি উইকেট নিয়ে প্রতিযোগিতার সেরা পেসার হন। তবে এত সাফল্যের পরেও জাতীয় স্তরে তাঁর পরিচিতি সেভাবে তৈরি হয়নি। বাবা গুলাম নবি বলেন, ভালো খেলেও স্বীকৃতি না পাওয়াটা কষ্টের ছিল। তবুও তিনি ছেলের সময় আসবে বলেই বিশ্বাস রেখেছিলেন।

    ৬০ উইকেটে বদলে গেল ভাগ্য

    পরের মরশুমে আকিব (Auqib Nabi) করেন তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স। মাত্র ১০ ম্যাচে ৬০টি উইকেট নিয়ে রঞ্জি ট্রফির সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হন। তাঁর এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে জম্মু-কাশ্মীর ৬৭ বছর পরে প্রথমবার রঞ্জি ট্রফি জেতে। এই পারফরম্যান্সের পর ৮.৪ কোটি টাকার আইপিএল চুক্তি পান দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে। আইপিএলে সুযোগ খুব বেশি না পেলেও, লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর ধারাবাহিকতা জাতীয় নির্বাচকদের নজরে আসে।

    পারভেজের গর্ব

    জম্মু-কাশ্মীরের প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার তথা আকিবের (Auqib Nabi) দীর্ঘদিনের অধিনায়ক পারভেজ রসুল বলেন, আকিবের সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও ধারাবাহিকতা। রসুলের নিজেরও টেস্ট খেলার স্বপ্ন ছিল। তাই আকিবের টেস্ট ডাককে তিনি শুধু একজন ক্রিকেটারের সাফল্য হিসেবে দেখছেন না। তাঁর মতে, জম্মু-কাশ্মীরের বহু ক্রিকেটারের যে স্বপ্ন ছিল, নবির হাত ধরে তা বাস্তব হয়েছে।

    নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা

    রসুলের কথায়, অন্য জায়গার তুলনায় জম্মু-কাশ্মীর থেকে ভারতীয় দলে পৌঁছনোর চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি। সীমিত পরিকাঠামো, কম সুযোগ, দীর্ঘ শীত ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও আকিব নিজের উপর বিশ্বাস রেখেছেন। তাঁর এই সাফল্য কাশ্মীরের নতুন প্রজন্মকে বড় স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করবে বলেই মনে করেন রসুল। তাঁর মতে, কোথা থেকে এসেছেন বা কী বাধার মুখে পড়েছেন, তা নয়- পরিশ্রম, মানসিক শক্তি ও অধ্যবসায় থাকলে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছনো সম্ভব।

    বাবার গর্ব

    আজ বারামুল্লায় গুলাম নবি যেখানেই যান, মানুষ তাঁকে চিনে ফেলেন। অনেকে কাছে এসে জড়িয়ে ধরে বলেন, ‘‘ইনি আকিবের বাবা।’’ যে বাবা একসময় ক্রিকেটকে ভবিষ্যৎহীন মনে করে ছেলেকে ডাক্তার বানাতে চেয়েছিলেন, আজ সেই ছেলের ইতিহাস গড়ার সাক্ষী হয়ে তাঁর একটাই অনুভূতি- অপরিসীম গর্ব।

  • FIFA World Cup 2026: বিশ্বকাপে বোমা-হামলার লক্ষ্য ছিলেন মেসি! নিশানায় রোনাল্ডোও, সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

    FIFA World Cup 2026: বিশ্বকাপে বোমা-হামলার লক্ষ্য ছিলেন মেসি! নিশানায় রোনাল্ডোও, সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্ব ফুটবলের লড়াই চলছিল মাঠে। গ্যালারিতে উন্মাদনা, মাঠে তারকাদের ভিড়। কিন্তু সেই উৎসবের আবহেই ২০২৬ বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) সময় বোমা বিস্ফোরণের হুমকি দেওয়া হয়েছিল আমেরিকায়। যার প্রধান লক্ষ্য ছিলেন লিয়োনেল মেসি। বিশ্বকাপ জুড়ে মেসিকে লক্ষ্য করে একাধিক ভয়ঙ্কর হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে বারবার তৎপর হতে হয়েছিল নিরাপত্তা বাহিনীকে। মেসি ছাড়াও অন্য ফুটবলার, কর্মকর্তা ও রেফারিরাও লক্ষ্য ছিল বোমা হামলার। পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোও নজরে ছিলেন। ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপেকেও অনলাইনে বর্ণবিদ্বেষমূলক আক্রমণের মুখে পড়তে হয়। এমনকী প্যারাগুয়েতে তাঁর প্রতিকৃতি-সহ একটি পুতুল পুড়িয়ে সেই ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বলেও রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।

    মেসিকে ঘিরে একের পর এক ভয়ঙ্কর হুমকি

    পুলিশি নথির ভিত্তিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি ঘটনায় এক ব্যক্তি কর্তৃপক্ষকে ফোন করে দাবি করেছিলেন যে তিনি আরও দু’জনকে নিয়ে ডালাসের স্টেডিয়ামের দিকে যাচ্ছেন। তাঁদের কাছে নাকি ঘরে তৈরি বোমা এবং একটি রাইফেল ছিল। ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তাঁদের লক্ষ্য ছিল পুলিশকর্মী এবং দুই দলের ফুটবলাররা। সেই তালিকায় বিশেষ ভাবে মেসির নামও উল্লেখ করা হয়েছিল। আরও একটি ঘটনা ঘটে ৭ জুলাই আর্জেন্টিনা (Argentina) ও মিশরের (Egypt) ম্যাচের আগে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে এক ব্যক্তি দাবি করে, চারটি বোমা নিয়ে আটলান্টার স্টেডিয়ামে ঢুকে মেসিকে মেরে ফেলবেন। সেই পোস্টে লেখা হয়েছিল, ‘আমি স্টেডিয়ামে ঢুকব এবং শরীরে বাঁধা চারটি বোমা দিয়ে মেসিকে উড়িয়ে দেব।’

    কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ

    এই ধরনের হুমকির পর নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। আটলান্টার স্টেডিয়ামে বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ, প্রশিক্ষিত কুকুর এবং বিশেষ অনুসন্ধানকারী দল মোতায়েন করা হয়। আরও একটি ফোনে দাবি করা হয়েছিল যে, স্টেডিয়ামের ভিতরে আবর্জনার পাত্রে তিনটি বোমা রাখা হয়েছে। সেই অভিযোগের পর গোটা এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। বিশ্বকাপ চলাকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্বে ছিল এফবিআই (FBI) এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সহযোগিতা কেন্দ্রের যৌথ নেটওয়ার্ক। সন্ত্রাসবাদী হামলার আশঙ্কা, কাউকে অনুসরণ করার ঘটনা, বিভিন্ন হুমকি এবং যে কোনও বিপদের সম্ভাবনা— সব কিছুতেই নজর রাখছিল নিরাপত্তা বাহিনী।

    নজরে রোনাল্ডো

    শুধু মেসিই নন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে লক্ষ্য করেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ আছে পুলিশ নথিতে। ১৪ জুন ফিফার এক কর্মী পুলিশকে সতর্ক করে দেয় এই বলে যে এক ব্যক্তি রোনাল্ডো কোথায় উঠেছেন তার বিশদ জানতে চাইছেন। হিউস্টন পুলিশ সেই ব্যক্তিকে ১৬ জুন গ্রেফতার করে রোনাল্ডো যে হোটেলে ছিলেন সেই হোটেল থেকে। টরন্টোতেও আর এক ব্যক্তি রোনাল্ডোর সঙ্গে একই লিফটে ওঠার চেষ্টা করায় তাঁকে আটক করা হয়। যদিও ওই ব্যক্তি পুলিশের কাছে জানান, তাঁর উদ্দেশ্য ছিল শুধুমাত্র ফুটবল তারকার সঙ্গে একটি সেলফি তোলা।

  • Commonwealth Games 2026: ভারতের হাতে কমনওয়েলথের পতাকা, পদক তালিকায় চতুর্থ স্থানে শেষ গ্লাসগো অভিযান

    Commonwealth Games 2026: ভারতের হাতে কমনওয়েলথের পতাকা, পদক তালিকায় চতুর্থ স্থানে শেষ গ্লাসগো অভিযান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পদক তালিকায় চতুর্থ স্থান দখল করে কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এর (Commonwealth Games 2026) অভিযান শেষ করল ভারত। রবিবার গভীর রাতে দ্য হাইড্রো স্টেডিয়ামে বসেছিল সমাপ্তি অনুষ্ঠানের আসর। সেই মঞ্চেই আনুষ্ঠানিক ভাবে ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হলো কমনওয়েলথ গেমসের পতাকা। ২০৩০-এ কমনওয়েলথ গেমস হবে গুজরাটের আমেদাবাদে। সমাপ্তি অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন অলিম্পিক পদকজয়ী নীরজ চোপড়া। ছিলেন ভারতীয় অলিম্পিক সংস্থার (IOA) সভাপতি পিটি ঊষা এবং গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাঙ্ঘভিও। তাঁদের হাতেই কমনওয়েলথ গেমসের পতাকা তুলে দেওয়া হয়।

    সাফল্যের নেপথ্যে সরকার

    গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ভারত ১৩ সোনা, ১৭ রুপো এবং ৯ ব্রোঞ্জ মিলিয়ে মোট ৩৯ পদক জিতে নজর কেড়েছে। বক্সিং, অ্যাথলেটিক্স, প্যারা অ্যাথলেটিক্স এবং জুডো—একাধিক ইভেন্টে পদক জিতে ভারতের ঝুলিতে এল রেকর্ড সাফল্য। এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য দেশের ক্রীড়াবিদদের অভিনন্দন জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে এই সাফল্য শুধুমাত্র ক্রীড়াবিদদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ফল নয়। এর নেপথ্যে রয়েছে ভারতের গত কয়েক বছরে গড়ে ওঠা সুসংগঠিত হাই-পারফরম্যান্স ক্রীড়া পরিকাঠামো, যেখানে কেন্দ্র সরকার, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রক, স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (SAI), টার্গেট অলিম্পিক পোডিয়াম স্কিম (TOPS), জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশন (NSF) এবং ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (IOA) একসঙ্গে কাজ করেছে।

    পদকজয়ীদের শুভেচ্ছা রাষ্ট্রপতির

    রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ একাধিক পোস্ট করে পদকজয়ী সমস্ত ভারতীয় ক্রীড়াবিদকে শুভেচ্ছা জানান। তাঁর শুভেচ্ছা তালিকায় রয়েছেন বক্সার প্রীতি পাওয়ার, জেসমিন ল্যাম্বোরিয়া, সাক্ষী চৌধুরী, প্রিয়া ঘানঘাস, অরুন্ধতী চৌধুরী, সচিন সিওয়াচ, অঙ্কুশ পাংঘাল, লাভলিনা বরগোহাইন, জাদুমণি সিং ও নরেন্দ্র বেরওয়াল। পাশাপাশি প্যারা অ্যাথলিট সোমন রানা ও শুভম জুয়াল, ট্রিপল জাম্পার প্রবীণ চিত্রাভেল ও সেলভা প্রভু থিরুমারণ, জুডোকা উন্নতি শর্মা এবং দীর্ঘ দূরত্বের দৌড়বিদ গুলবীর সিংকেও অভিনন্দন জানান রাষ্ট্রপতি।

    পদক প্রাপকদের প্রেরণা প্রধানমন্ত্রীর

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এক্স-এ পৃথক পোস্ট করে প্রত্যেক পদকজয়ীকে শুভেচ্ছা জানান। বিশেষ করে ভারতের বক্সারদের ঐতিহাসিক সাফল্যের প্রশংসা করেন তিনি। পুরুষদের এফ৫৭ শটপুটে ভারতের প্রথম কমনওয়েলথ গেমস সোনা জয়ী সোমন রানার পারফরম্যান্সকে তিনি “ঐতিহাসিক” বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি প্যারা অ্যাথলেট ও ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের পদকজয়ীদেরও ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানান।

    বিশ্বমানের প্রশিক্ষণেই তৈরি সাফল্যের ভিত

    গ্লাসগো যাওয়ার আগে ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য বিশ্বমানের কোচিং, স্পোর্টস সায়েন্স, ফিজিওথেরাপি, পুষ্টিবিদ এবং আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করেছিল ক্রীড়া মন্ত্রক। সাই-টপস প্রকল্পের আওতায় সম্ভাব্য পদকজয়ীদের ব্যক্তিগত সহায়তা, বিদেশে প্রশিক্ষণ এবং বিশেষজ্ঞ সাপোর্ট স্টাফের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। ফলে বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে সমানে লড়াই করার মতো প্রস্তুতি নিয়েই গ্লাসগোয় পৌঁছেছিলেন ভারতীয় অ্যাথলিটরা।

    বক্সিংয়ে ভারতের সর্বকালের সেরা পারফরম্যান্স

    গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে বক্সিংয়ে। ৭টি সোনা ও ৩টি রুপো জিতে পদক তালিকার শীর্ষে উঠে ইতিহাস গড়েছে ভারতীয় বক্সিং দল। এর আগে কমনওয়েলথ গেমসে এত বড় সাফল্য কখনও আসেনি।

    ভারতের হয়ে সোনা জিতেছেন—

    প্রীতি পাওয়ার (মহিলা ৫৪ কেজি)
    জেসমিন ল্যাম্বোরিয়া (মহিলা ৫৭ কেজি)
    সাক্ষী চৌধুরী (মহিলা ৫১ কেজি)
    প্রিয়া ঘানঘাস (মহিলা ৬০ কেজি)
    অরুন্ধতী চৌধুরী (মহিলা ৭০ কেজি)
    সচিন সিওয়াচ (পুরুষ ৬০ কেজি)
    অঙ্কুশ পাংঘাল (পুরুষ ৮০ কেজি)

    রুপো জিতেছেন—

    লাভলিনা বরগোহাইন (মহিলা ৭৫ কেজি)
    জাদুমণি সিং (পুরুষ ৫৫ কেজি)
    নরেন্দ্র বেরওয়াল (পুরুষ ৯০ কেজির বেশি)
    রোমাঞ্চকর জয় সচিনের, দুরন্ত অঙ্কুশ

    পুরুষদের ৮০ কেজি বিভাগে ইংল্যান্ডের ডিমেজি শিট্টুকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে ভারতের সপ্তম সোনা নিশ্চিত করেন অঙ্কুশ পাংঘাল।

    দিনের অন্যতম সেরা লড়াই উপহার দেন সচিন সিওয়াচ। নামিবিয়ার ট্রাইঅ্যাগেইন মর্নিং এনডেভেলোর বিরুদ্ধে প্রথম দিকে পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করে ৩-২ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেন তিনি।

    অরুন্ধতী চৌধুরী ইংল্যান্ডের শ্যান্টেল রিডকে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জেতেন। একইভাবে প্রীতি পাওয়ার কানাডার স্কারলেট সাভানাহ ডেলগাডোকে ৫-০ ব্যবধানে পরাজিত করেন। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জেসমিন ল্যাম্বোরিয়া উত্তর আয়ারল্যান্ডের মাইকেলা ওয়ালশকে এবং সাক্ষী চৌধুরী ইংল্যান্ডের রুবি হোয়াইটকে একই ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জেতেন। প্রিয়া ঘানঘাসও ফাইনালে কানাডার মেরি-ব্যাথুল আল-আহমাদিয়েহকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে ভারতের সোনার ঝুলি আরও ভারী করেন।

    অন্যদিকে, লাভলিনা বরগোহাইন ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার এমা-সু গ্রিনট্রির কাছে ১-৪ ব্যবধানে হেরে রুপো পান। জাদুমণি সিং ও নরেন্দ্র বেরওয়ালও ফাইনালে পরাজিত হয়ে রুপো জেতেন।

    প্যারা অ্যাথলেটিক্সে ইতিহাস, অ্যাথলেটিক্সেও একাধিক পদক

    পুরুষদের এফ৫৭ শটপুটে সোমন রানা সোনা জিতে ইতিহাস গড়েছেন। এই ইভেন্টে কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের প্রথম সোনাজয়ী তিনি। একই ইভেন্টে শুভম জুয়াল রুপো জিতে ভারতের সাফল্য আরও বাড়ান। অ্যাথলেটিক্সে পুরুষদের ট্রিপল জাম্পে প্রবীণ চিত্রাভেল রুপো এবং সেলভা প্রভু থিরুমারণ ব্রোঞ্জ জিতে ভারতের জন্য ঐতিহাসিক ডাবল পডিয়াম নিশ্চিত করেন। পুরুষদের ৫,০০০ মিটারে গুলবীর সিং ব্রোঞ্জ জিতে এই ইভেন্টে ভারতের প্রথম কমনওয়েলথ পদকজয়ী হন।

    ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর উদযাপন

    কমনওয়েলথ-এর মঞ্চেও বেজে উঠল ‘বন্দে মাতরম’-এর সুর। রবিবার গেমসের সমাপ্তি অনুষ্ঠানের শুরুতে নিজেদের সংস্কৃতি, সঙ্গীত এবং ঐতিহ্যকে তুলে ধরে স্কটল্যান্ড। সেখান থেকে ধীরে ধীরে মঞ্চের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে ভারত। একসঙ্গে গলা মেলান দুই দেশের সঙ্গীতশিল্পীরা। ভারতের অনুষ্ঠানে ছিল মোট তিনটি পর্ব। প্রথম পর্বে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর উদযাপন করা হয়। অভিনেত্রী মানুষী চিল্লারের সঙ্গে ভারতের নানা ভাষা, সংস্কৃতি ও শিল্পকলার বৈচিত্র্য তুলে ধরেন শতাধিক নৃত্যশিল্পী। দেখানো হয় আমেদাবাদকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্রও।

  • India at CWG 26: গ্লাসগোয় ভারতের দাপট! বক্সিংয়ে জোড়া সোনা প্রীতি, জেসমিনের, অ্যাথলেটিক্সে চিত্রাভেল, সেলভার রুপো-ব্রোঞ্জ

    India at CWG 26: গ্লাসগোয় ভারতের দাপট! বক্সিংয়ে জোড়া সোনা প্রীতি, জেসমিনের, অ্যাথলেটিক্সে চিত্রাভেল, সেলভার রুপো-ব্রোঞ্জ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারতীয় বক্সারদের দুরন্ত সাফল্য অব্যাহত। শনিবার (১ আগস্ট) স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে মহিলাদের ৫৪ কেজি বিভাগে দুরন্ত পারফরম্যান্স করে সোনার পদক জিতলেন ভারতের প্রীতি পাওয়ার। ফাইনালে তিনি কানাডার স্কারলেট সাভানা ডেলগাডো-কে ৫-০ ব্যবধানে সর্বসম্মত রায়ে হারিয়ে ভারতের ঝুলিতে ষষ্ঠ সোনা তুলে দেন।এর কিছুক্ষণ পরেই মহিলাদের ৫৭ কেজি বিভাগে জেসমিন ল্যাম্বোরিয়া উত্তর আয়ারল্যান্ডের মাইকেলা ওয়ালশ-কে পরাজিত করে দেশের সপ্তম সোনার পদক নিশ্চিত করেন। একই দিনে অ্যাথলেটিক্সেও ভারতের সাফল্য আসে। পুরুষদের ট্রিপল জাম্পে প্রবীণ চিত্রাভেল রুপো এবং সেলভা প্রভু থিরুমারণ ব্রোঞ্জ জিতে ভারতের পদকসংখ্যা আরও বাড়িয়ে দেন।

    ফাইনালে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একচ্ছত্র প্রীতি

    ২২ বছর বয়সি প্রীতি পাওয়ার গোটা ফাইনালেই ছিলেন সম্পূর্ণ প্রভাবশালী। পাঁচ বিচারকই তিনটি রাউন্ডেই তাঁকে এগিয়ে রাখেন। প্রথম রাউন্ডে ৫-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় রাউন্ডেও একই ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। শেষ রাউন্ডেও আত্মবিশ্বাস, নিখুঁত আক্রমণ এবং দুর্দান্ত রক্ষণ বজায় রেখে আরও একটি ৫-০ স্কোর আদায় করেন প্রীতি। তীক্ষ্ণ কম্বিনেশন, দ্রুত ফুটওয়ার্ক এবং কার্যকর কাউন্টার-পাঞ্চিংয়ের সামনে ডেলগাডো কার্যত অসহায় হয়ে পড়েন। পুরো লড়াই জুড়েই ভারতীয় বক্সারের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট।

    দুরন্ত ফর্মের ধারাবাহিকতা

    ২০২৬ সালটি প্রীতির কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকছে। এর আগেই তিনি ওয়ার্ল্ড বক্সিং কাপ এবং এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ-এর শিরোপা জিতেছিলেন। সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই গ্লাসগোয় নেমে টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকে সোনা জয় করলেন তিনি। সেমিফাইনালেও প্রীতি ৫-০ ব্যবধানে জাম্বিয়ার ক্যাথরিন মওয়াপে-কে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিলেন। সেই জয়ের ফলে ভারতের অন্তত রুপো নিশ্চিত হয়েছিল। পরে ফাইনালে একতরফা জয় তুলে নিয়ে সেই পদককে সোনায় রূপান্তরিত করেন তিনি। অন্যদিকে, কানাডার ডেলগাডো সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের লরেন ম্যাকি-কে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছিলেন।

    জেসমিন ল্যাম্বোরিয়ার হাতেও সোনা

    মহিলাদের ৫৭ কেজি বিভাগে জেসমিন ল্যাম্বোরিয়া উত্তর আয়ারল্যান্ডের মাইকেলা ওয়ালশকে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে হারিয়ে ভারতের সপ্তম সোনার পদক জেতেন। লড়াইটি যথেষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হলেও শেষ পর্যন্ত জেসমিনই এগিয়ে থাকেন। ফল ঘোষণার পর দুই বক্সার একে অপরকে আলিঙ্গন করেন। ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার পরিচয় দিয়ে জেসমিন নিজেই ওয়ালশের হাত তুলে দর্শকদের অভিনন্দন গ্রহণের আহ্বান জানান।

    ট্রিপল জাম্পে রুপো ও ব্রোঞ্জ

    অ্যাথলেটিক্সেও ভারতের ঝুলিতে এল আরও দুটি পদক। পুরুষদের ট্রিপল জাম্পে প্রবীণ চিত্রাভেল ১৬.৫৮ মিটার লাফিয়ে রুপোর পদক জেতেন। তিনি এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ জয়ের সাফল্যের পর কমনওয়েলথ গেমসে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন। অন্যদিকে, সেলভা প্রভু থিরুমারণ ১৬.৫২ মিটার লাফিয়ে ব্রোঞ্জ জেতেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এটি তাঁর প্রথম উল্লেখযোগ্য পদক। এই ইভেন্টে ১৬.৭২ মিটার লাফিয়ে সোনার পদক জেতেন জামাইকার জর্ডান স্কট।

LinkedIn
Share