Category: খেলা

Get updates on Sports News Cricket, Football, Tennis, from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • FIFA World Cup 2026: লড়াই করল কাবো ভার্দে! প্রি-কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনার সামনে মিশর, ঘানাকে হারাল কলম্বিয়া

    FIFA World Cup 2026: লড়াই করল কাবো ভার্দে! প্রি-কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনার সামনে মিশর, ঘানাকে হারাল কলম্বিয়া

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাড়ে পাঁচ লক্ষের দেশ কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনাকে লড়াই করতে হল ১২০ মিনিট পর্যন্ত! দু’বার এগিয়ে গিয়েও তা ধরে রাখতে পারেনি গত বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নেরা (FIFA World Cup 2026)। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর গোল জয় নিশ্চিত করে। ৩-২ গোলে জিতেছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু এই জয়ে মেসিদের খুশি হওয়ার কোনও কারণ নেই। প্রি-কোয়ার্টারে তারা খেলবে মিশরের বিরুদ্ধে। এদিনই পেনাল্টি শুটআউটে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে মিশর। শেষ দেশ হিসাবে বিশ্বকাপের প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে কলম্বিয়া। রাউন্ড অফ ৩২-র শেষ ম্যাচে লাতিন আমেরিকার দেশটি ১-০ ব্যবধানে হারাল ঘানাকে।

    ভারতের কাছেও প্রেরণা কাবো ভার্দে

    বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টারে উঠে গেল আর্জেন্টিনা। তবে যে ভাবে তাদের জয় ‘অর্জন’ করে নিতে হল, তা কোনও ভাবেই খুশি করবে না সমর্থক থেকে ফুটবলারদের। এ বারের বিশ্বকাপে উজবেকিস্তান, জর্ডনের মতো দেশের পাশাপাশি অভিষেক হয়েছিল কাবো ভার্দের। বাকি দলগুলি সে ভাবে ছাপ ফেলতে পারেননি। কিন্তু প্রথম বারেই কাবো ভার্দে যা খেলল তা অবাক করার মতোই। গত কয়েক বছরে ফুটবলে প্রভূত উন্নতি করেছে তারা। সে কারণেই বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। তবে আর্জেন্টিনার মতো ধারে-ভারে অনেকটা এগিয়ে থাকা দলের সঙ্গে যে তারা এ ভাবে চোখে চোখ রেখে শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত লড়াই করবে, তা কেউ ভাবতে পারেননি। মায়ামি থেকে মাথা উঁচু করে বিদায় নিচ্ছে কাবো ভার্দে। আগামী দিনে অনেক লড়াইয়ে স্বপ্ন দেখিয়ে গেল তারা। পাশাপাশি, যে সব ছোট দেশ এখনও ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখে, তাদের কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকল কাবো ভার্দের লড়াই। এমনকী ভারতের মতো ফুটবল পাগল দেশের কাছেও। সাড়ে পাঁচ লক্ষের দেশের কাছে বিশ্বকাপ খেলাই অনেক বড় ব্যাপার। কিন্তু বিপক্ষ আর্জেন্টিনা বলে আবেগে ভেসে যাননি কোনও ফুটবলার। বাড়তি কোনও সমীহ দেখাতে চাননি মেসিদের। মাঠেও সেটাই দেখা গেল।

    কাবো ভার্দের ‘টাফ’ ফুটবল

    বিশ্বকাপে আফ্রিকা থেকে ১০টি দেশ খেলেছে। তার মধ্যে ৯টি দেশ উঠেছিল নকআউটে। এখনও পর্যন্ত মরক্কো এবং মিশর বাদে ৬টি দেশ ছিটকে গিয়েছে। তার মধ্যে কঙ্গো, আইভরি কোস্ট, সেনেগাল গোল খেয়েছে একদম শেষের দিকে। কাবো ভার্দে সেখানে এক উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম। শেষ দিকে যেখানে আফ্রিকার বেশির ভাগ দলের দম শেষ হয়ে আসছে, সেখানে কাবো ভার্দে আরও বেশি লড়াই করছে। আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে পিছিয়ে পড়ে দু’বার সমতা ফেরানো সাম্প্রতিক কালে কেউ করতে পারেনি। শারীরিক হোক বা মানসিক, আফ্রিকার দেশগুলির মধ্যে সবচেয়ে ‘টাফ’ ফুটবল খেলেছে কাবো ভার্দেই। তাদের হাল না ছাড়া মনোভাব বাকিদের কাছে নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণা হতে পারে।

    মেসি ম্যাজিক জাল বুনছে

    কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে খেলতে নেমে বেশ কয়েকটি নজির গড়লেন লিয়োনেল মেসি (Lionel Messi)। এ বারের বিশ্বকাপে সাতটি গোল হয়ে গেল মেসির। তাতেই হয়েছে নজির। বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে দু’টি বিশ্বকাপে সাত বা তার বেশি গোল করার নজির গড়লেন। টপকে গেলেন পেলে এবং কিলিয়ান এমবাপেকে। কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে ২৯ মিনিটে মেসির গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। মাঝ মাঠ থেকে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের দেওয়া পাস ধরে গোল করেন। এই গোল এ বারের বিশ্বকাপে তাঁর সাত নম্বর গোল। বিশ্বকাপে ৩৯ বছরের ফুটবলারের মোট গোলের সংখ্যা বেড়ে হল ২০। গত কাতার বিশ্বকাপেও সাতটি গোল করেছিলেন মেসি। এ বারও সাত গোল হয়ে গেল তাঁর। বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে একাধিক বিশ্বকাপে সাতটি বা তার বেশি গোল করার নজির গড়লেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক।

    পেলে-মারাদানার রেকর্ড ভাঙলেন মেসি

    বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মোট ১২টি গোলে অবদান রাখলেন মেসি। নিজে করেছেন ছ’টি গোল। সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ছ’টি গোল। গত ৬০ বছরে বিশ্বের আর কোনও ফুটবলার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এতগুলি গোলের ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারেননি। এ ক্ষেত্রে মেসি টপকে গেলেন পেলে এবং এমবাপেকে। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তাঁদের দু’জনেরই অবদান রয়েছে ১১টি করে গোলে। আর্জেন্টিনার প্রাক্তন বিশ্বজয়ী অধিনায়ক দিয়েগো মারাদোনার একটি নজিরও টপকে গিয়েছেন মেসি। বিশ্বকাপে মারাদোনা সতীর্থদের দিয়ে মোট আটটি গোল করিয়েছিলেন। কাবো ভার্দে ম্যাচের পর মেসি মোট ন’টি গোল করালেন সতীর্থদের দিয়ে। অর্থাৎ এক ম্যাচে পেলে এবং মারাদোনার রেকর্ড ভাঙলেন মেসি।

    গোল-মেশিন মেসি

    আরও একটি নজির গড়েছেন এলএম টেন। বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে টানা আটটি ম্যাচে গোল করার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের টানা পাঁচটি ম্যাচে গোল করলেন মেসি। এ ক্ষেত্রেও তিনি হলেন বিশ্বের প্রথম ফুটবলার। এমন কীর্তি আর কারও নেই। ৩৫ বছর বয়স হওয়ার পর বিশ্বকাপে মেসির গোল সংখ্যা এখন ১৪। আর কোনও ফুটবলার ৩৫ বছর বয়স হয়ে যাওয়ার পর বিশ্বকাপে এত গোল করতে পারেননি। বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসাবেও সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড রয়েছে মেসির দখলে। কাবো ভার্দে ম্যাচের পর অধিনায়ক হিসাবে বিশ্বকাপে মেসির গোল সংখ্যা হল ১৯। বিশ্বকাপে ১৪টি দেশের বিরুদ্ধে গোল করা হয়ে গেল মেসির। বিশ্বের আর কোনও ফুটবলার বিশ্বকাপে এতগুলি দেশের বিরুদ্ধে গদোল করতে পারেননি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন তিন প্রাক্তন ফুটবলার। য়ুরগেন ক্লিন্সম্যান, রোনাল্ডো নাজ়ারিয়ো এবং মিরোস্লাভ ক্লোজ ১০টি দেশের বিরুদ্ধে গোল করেছেন।

    ৯৬ বছরের পুরনো রেকর্ড স্পর্শ!

    কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপের ৩০তম ম্যাচ খেললেন মেসি। আর কোনও ফুটবলারের বিশ্বকাপে এতগুলি ম্যাচ খেলার নজির নেই। আরও একটি নজির গড়ার সুযোগ রয়েছে মেসির সামনে। ১৯৩০ সালের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার গিলেরমো স্ট্যাবিল আট গোল করেছিলেন। কোনও একটি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার পক্ষে সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ড এটিই। এ বারের বিশ্বকাপে মেসি আর একটি গোল করলে স্ট্যাবিলের ৯৬ বছরের পুরনো রেকর্ড স্পর্শ করবেন।

     

     

     

     

  • FIFA World Cup 2026: মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ১৬-য় রোনাল্ডোর পর্তুগাল, একপেশে ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে জয়ী স্পেন

    FIFA World Cup 2026: মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ১৬-য় রোনাল্ডোর পর্তুগাল, একপেশে ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে জয়ী স্পেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্লাব ফুটবলে তাঁরা দীর্ঘদিন সতীর্থ ছিলেন। সবুজ ঘাসে ফুল ফুটিয়েছে তাঁদের যুগলবন্দি। মাঝমাঠে লুকা মদ্রিচ আর আক্রমণে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর সেই বোঝাপড়ার ফসল ছ’বছর তুলেছে রিয়াল মাদ্রিদ। পরে তাঁদের ক্লাব আলাদা হয়ে যায়। তবে এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষবার মুখোমুখি হলেন দুই তারকা। তাদের লড়াই দেখতে শুক্রবার ভোর সাড়ে চারটেয় (ভারতীয় সময়) টিভির পর্দায় চোখ রেখেছিল ফুটবলপ্রেমীরা (FIFA World Cup 2026)। ফুটবল বিশ্বযুদ্ধে টরন্টোয় মুখোমুখি পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া। এই ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছে গেল পর্তুগাল। মদ্রিচের দলকে হারিয়ে শেষ হাসি হাসলেন রোনাল্ডো। অন্যদিকে প্রায় একপেশে ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে স্পেন জিতল ৩-০ গোলে। জোড়া গোল মিকেল ওয়ারজাবালের। একটি গোল পেদ্রো পোরোর।

    রোনাল্ডো বনাম মদ্রিচ

    রোনাল্ডো ও মদ্রিচ দু’জনেরই বয়স চল্লিশ পেরিয়েছে। গোলরক্ষকদের বাদ দিলে, এই প্রথম দুই চল্লিশোর্ধ্ব খেলোয়াড় বিশ্বকাপের ম্যাচে মুখোমুখি হলেন। সাফল্যের খতিয়ানে রোনাল্ডো এবং মদ্রিচ পরস্পরকে টেক্কা দিতে পারেন। ২০১২ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি গায়ে খেলেছেন দু’জন। দুই প্রাক্তন সতীর্থের কাঁধেই গুরু দায়িত্ব ছিল। একসঙ্গে ২২২টি ম্যাচে খেলেছেন দু’জন। মাঝমাঠ থেকে মদ্রিচের দেওয়া পাস থেকে রোনাল্ডোর বেশ কিছু গোল রয়েছে রিয়ালের হয়ে। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে অবশ্য সেই বোঝাপড়া দেখার সুযোগ ছিল না। এই ম্যাচ ছিল মুখোমুখি বোঝাপড়ার। সেই লড়াইয়ে প্রথমার্ধে কেউই দলকে সাফল্য এনে দিতে পারেননি। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায় ক্রোয়েশিয়া। ৫৩ মিনিটে ইভান পেসিরিচের গোলে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। ইয়োসিপ স্তানিশিচের কাছ থেকে বক্সের মধ্যে বল পান পেরিচিস। বাঁ পায়ের শটে দলকে এগিয়ে দেন অভিজ্ঞ উইঙ্গার।

    রোনাল্ডোর গোলে সমতা

    পিছিয়ে পড়ার পর সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে পর্তুগাল। চাপ বাড়তে শুরু করে ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্সে। ৫৮ মিনিটে লিয়াওয়ের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ঠিক ২ মিনিট পরেই রোনাল্ডো ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষককে প্রায় একা পেয়ে গোল করেন। কিন্তু অফসাইডের জন্য বাতিল হয়ে যায় তাঁর গোল। গোল বাতিল হলেও পর্তুগালকে আটকে রাখা যায়নি বেশিক্ষণ। রোনাল্ডোদের একের পর এক আক্রমণ চাপে ফেলে দেয় ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণকে। ৬৮ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার এক ডিফেন্ডার বক্সের মধ্যে ফাউল করেন রেনাতো ভেগাকে। পেনাল্টি পায় পর্তুগাল। গোল করতে ভুল করেননি সিআর সেভেন। দলকে সমতায় ফেরালেও রোনাল্ডোর খেলার মধ্যে এ দিন পরিচিত ছন্দ খুঁজে পাওয়া যায়নি। ৮১ মিনিটে তাঁকে তুলে নিয়ে রুবেন নেভেসকে নামান পর্তুগিজ কোচ। যখন মনে হচ্ছে, খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে তখনই পর্তুগালকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন গন্সালো রামোস। সংযুক্ত সময়ে লিয়াওয়ের কাছ থেকে বক্সের মধ্যে বল পান। প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারকে ঘাড়ে নিয়েই জয়সূচক গোল করেন রামোস।

    বিশ্বকাপে একাধিক কীর্তি সি আর সেভেনের

    বিশ্বকাপে একাধিক কীর্তি গড়লেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। রাউন্ড অফ ৩২-র ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে গোল করে একটি বিশ্বরেকর্ডও গড়লেন। টপকে গেলেন লিয়োনেল মেসিকে। ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে রোনাল্ডো খেলতে নেমেছিলেন ৪১ বছর ১৪৭ দিন বয়সে। গোলও করেছেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে নকআউট পর্বের গোলদাতাদের মধ্যে সিআর সেভেনই এখন সবচেয়ে ‘বুড়ো’ ফুটবলার। এত বয়সে আর কেউ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোল করতে পারেননি। মেসির নজির টপকে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়লেন তিনি। গত ২৮ জুন জর্ডনের বিরুদ্ধে ৩৯ বছর ৪ দিন বয়সে গোল করেছিলেন মেসি। বিশ্বকাপ এবং ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ মিলিয়ে ২৫টির বেশি গোল হয়ে গেল রোনাল্ডো। এমন কৃতিত্ব বিশ্বের আর কোনও ফুটবলারের নেই। ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপে নিজের ২৬তম ম্যাচ খেললেন রোনাল্ডো। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার তালিকায় তিনি এখন তৃতীয় স্থানে। এই রেকর্ড মেসির দখলে। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক এখনও পর্যন্ত ২৯টি ম্যাচ খেলেছেন। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন জার্মানির প্রাক্তন অধিনায়ক লোথার ম্যাথিউস। তিনি ২৭টি ম্যাচ খেলেছেন। প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে ম্যাথিউসকে ছুঁয়ে ফেলবেন সিআর সেভেন। এদিন পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ, যাতে এমন তিন জন খেললেন যাঁদের অন্তত ২০টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। রোনাল্ডো খেললেন ২৬তম ম্যাচ। মদ্রিচ খেললেন ২৩তম ম্যাচ। ইভান পেরিসিচ খেললেন ২১তম ম্যাচ।

    একপেশে জয় স্পেনের

    অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে এত সহজ হবে ম্যাচটা, এটা হয়তো ভাবতেও পারেননি স্পেনের ফুটবলারেরা। বৃহস্পতিবার রাউন্ড অফ ৩২-এর ম্যাচে অস্ট্রিয়া লড়াই করল বটে, তবে স্পেনের মতো দলকে আটকানোর জন্য তা কখনওই যথেষ্ট ছিল না। ভাগ্য সহায় হলে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচ গোলে জেতার কথা স্পেনের। বাধা হয়ে দাঁড়ালেন গোলকিপার আলেকজান্ডার শ্লাগার। তিনি অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোল না বাঁচালে ম্যাচ অনেক আগেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। অস্ট্রিয়া যে রক্ষণ জমাট রেখে এগোবে, এ কথা জানতেন স্পেনের কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তে। তাই তিনি মাঝখান দিয়ে আক্রমণ করার বদলে, দুই উইং দিয়ে আক্রমণ চালাতে চেয়েছিলেন। উইং এমনিতে স্পেনের খুব শক্তির জায়গা নয়। তবে এ দিন সাফল্য মিলল। বাঁ দিকে আলেক্স বায়েনা এবং মার্ক কুকুরেয়ার জুটি তো ছিলই। ডান দিক থেকে ক্রমাগত অস্ট্রিয়া রক্ষণকে ব্যস্ত রাখলেন লেমিনে ইয়ামাল। দুই প্রান্ত থেকে একটানা আক্রমণ সামাল দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল অস্ট্রিয়া। এক সময় তা ভেঙে পড়ে। বলের নিয়ন্ত্রণ থেকে শট, সব বিভাগেই স্পেন অনেকটা এগিয়েছিল ম্যাচে।

    বিশ্বকাপের দাবিদার স্পেন

    যে গতিতে স্পেন এগোচ্ছে তাতে ট্রফির দৌড়ে যে তারা ভাল ভাবে রয়েছে তা বলাই যায়। এই স্পেনকে আটকানোর সাধ্য খুব কম দেশের মধ্যেই রয়েছে। বলের নিয়ন্ত্রণ, কৌশল, ব্যক্তিগত দক্ষতা— সব বিভাগেই স্পেন বাকি দলগুলিকে টেক্কা দিতে পারে। এই স্পেন দলে তারকার এতটাই ছড়াছড়ি যে ওয়ারজাবালের মতো ফুটবলারেরা ঢাকাই পড়ে যান। রিয়াল সোসিয়েদাদে খেলা ফুটবলারকে নিয়ে খুব বেশি চর্চাও হয় না। কিন্তু নিজের কাজটা ঠিক করে যান। এদিন জোড়া গোল করে লিয়োনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে এবং আর্লিং হালান্ডের মতো সোনার বুটের দৌড়ে ঢুকে পড়লেন তিনিও। ওয়ারজাবালে গোল করলেও এদিন স্পেনের হয়ে গতিতে মাতালেন ইয়ামাল। এ দিন শুধু তিনি গোলটাই করেননি। বাকি সব কাজ করেছেন। গোলটাও হয়ে যেত অস্ট্রিয়ার গোলকিপার শ্লাগার দু’টি দুর্দান্ত সেভ না করলে। এ দিন নিজেকে শুধু ডান প্রান্তে সীমাবদ্ধ রাখেননি ইয়ামাল। তিনি ফ্রি ফ্লোইং ফুটবল খেলেছেন। অর্থাৎ মাঠের চারদিক জুড়ে খেলতে দেখা গিয়েছে। কখনও ডান দিকে, কখনও বাঁ দিকে, কখনও মাঝে— বিপক্ষের রক্ষণের নজর এড়ানোর জন্য সব ধরনের রাস্তা খুঁজে বার করেছেন তিনি। সব ঠিক থাকলে স্পেন সেমিফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে। দুই দেশই বিশ্বকাপ জেতার ব্যাপারে হট ফেভারিট। ফলে ফাইনালের আগেই ফাইনাল হয়ে যাওয়ার কথা।

     

     

     

     

     

  • FIFA World Cup 2026: টিকে রইল বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড! মেক্সিকো ও কানাডার পর বিশ্বকাপের তৃতীয় আয়োজক দেশ আমেরিকাও প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে

    FIFA World Cup 2026: টিকে রইল বেলজিয়াম, ইংল্যান্ড! মেক্সিকো ও কানাডার পর বিশ্বকাপের তৃতীয় আয়োজক দেশ আমেরিকাও প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জেতা ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) থেকে বিদায় নিল সেনেগাল। ৮৫ মিনিট পর্যন্ত বেলজিয়ামকে দাঁড়াতে দেয়নি তারা। কিন্তু তার পরেই হঠাৎ তিন মিনিটের ঝড়ে ০-২ থেকে ২-২ করল বেলজিয়াম। খেলা গড়াল অতিরিক্ত সময়ে। যখন দেখে মনে হচ্ছে খেলা টাইব্রেকারে যাবে তখনই নাটক। শেষ মিনিটে পেনাল্টি পেল বেলজিয়াম। ঠান্ডা মাথায় গোল করলেন অধিনায়ক ইউরি টিয়েলেম্যানস। ৩-২ গোলে সেনেগালকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় বেলজিয়াম। অন্য ম্যাচে হ্যারি কেনের জোড়া গোলে বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছল ইংল্যান্ড। লস অ্যাঞ্জেলেসের মাঠে দাপট দেখাল আমেরিকাও। গোটা ম্যাচ জুড়ে বসনিয়া ও হারজেগোভিনা তাদের তাড়া করে গেল। এমনকি, ১০ জন হয়ে যাওয়ার পরেও আমেরিকাকে হারাতে পারল না তারা। বসনিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছে গেল ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ। মেক্সিকো ও কানাডার পর বিশ্বকাপের তৃতীয় আয়োজক দেশও উঠল প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে।

    মন জিতলেও স্বপ্নভঙ্গ সেনেগালের

    সাইডলাইনের পাশে বসে থাকা সাদিয়ো মানেকে দেখে বোঝা যাচ্ছিল, তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না আর বিশ্বকাপে নেই তাঁর দেশ। হয়তো শেষ বারের মতো তিনিও বিশ্বকাপ খেলে ফেললেন। বিশ্বাস হচ্ছিল না সিয়াটলের স্টেডিয়ামের ৬৬ হাজার দর্শকের অর্ধেকের। যাঁদের গায়ে ছিল সবুজ জার্সি। হাতে সিংহ। আফ্রিকার এই দেশের ফুটবল দলকে বলা হয় ‘দ্য লায়ন্স’। সেই সিংহ হুঙ্কার দিলেও শিকার করতে পারল না। ৮৫ মিনিটের আগে সেনেগালের সমর্থকদের অনেকেই শেষ ষোলোর ম্যাচের টিকিট কাটতেও হয়তো শুরু করে দিয়েছিলেন। কিন্তু এবার দেশে ফেরার বিমানের টিকিট কাটতে হবে তাঁদের। প্রথম ৮৫ মিনিট বোঝা যায়নি সেনেগালের প্রতিপক্ষ দলের নাম বেলজিয়াম। যে দলটা কয়েক বছর আগেও ফিফা ক্রমতালিকায় এক নম্বরে ছিল। অবশ্য দলটার সোনালি প্রজন্ম প্রায় শেষের পথে। দেখে মনে হচ্ছিল, কেভিন দ্য ব্রুইন, থিবো কুর্তোয়ারা শেষ ম্যাচ খেলে ফেললেন। কিন্তু শেষ বাঁশি বাজা না পর্যন্ত প্রতিপক্ষকে হালকা নিতে নেই। সেই ভুলটাই করল সেনেগাল। ৮৬ মিনিটের মাথায় বক্সের বাইরে থেকে ট্রসার্ডের ক্রস পায়ের টোকায় জালে জড়িয়ে দেন লুকাকু। প্রথম পোস্টেই ছিলেন গোলরক্ষক দিয়াও। গোটা ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেছেন তিনি। কিন্তু সেই শট বাঁচাতে পারলেন না। ৮৯ মিনিটের মাথায় আবার ট্রসার্ডের ক্রস। এ বার বেরিয়ে পাঞ্চ করার চেষ্টা করেন দিয়াও। কিন্তু তিনি হাত লাগানোর আগেই হেড করেন টিয়েলেম্যানস। বল গোলে ঢোকে। দু’টি গোলের ক্ষেত্রেই সেনেগালের রক্ষণ দায়ী। অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষে আরও একটি ভুল করল সেনেগালের রক্ষণ। বল বার করতে গিয়ে টিয়েলেম্যানসকে ফাউল করেন কামারা। ভার রিপ্লে দেখে পেনাল্টি দেন রেফারি। সকলে ভেবেছিলেন লুকাকু শট মারবেন। কিন্তু দায়িত্ব নেন অধিনায়ক। ঠান্ডা মাথায় গোল করে বেলজিয়ামকে পরের রাউন্ডে তোলেন তিনি।

    ভালো খেলেও ইংল্যান্ডের কাছে হার কঙ্গোর

    ফুটবল বিশ্বের সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত হয়ে থাকতে পারে এ বারের বিশ্বকাপ। বুধবারের ইংল্যান্ড-ডিআর কঙ্গো ম্যাচ সেই পরিবর্তনের উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে। ১৯৬৬ সালের চ্যাম্পিয়নদের বাড়তি সমীহ করেনি প্রথম বার বিশ্বকাপ খেলতে আসা কঙ্গো। বরং আগ্রাসী ফুটবল খেলছে। প্রতিযোগিতার অন্যতম সেরা ডিফেন্সকে ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করেছে। আফ্রিকার দেশের রক্ষণও পাল্লা দিয়ে লড়াই করেছে। গোলরক্ষক লিয়োনেল এমপাসি দুরন্ত খেললেন। বেশ কয়েকটা ভাল সেভ করলেন। কঙ্গোর রক্ষণের প্রাচীর ভাঙতে হিমশিম খেলেন জুড বেলিংহ্যাম, মার্কাসরা। ম্যাচের ৭ মিনিটে ব্রায়ান সিপেনগার দুরন্ত গোলে এগিয়ে যায় কঙ্গো। বক্সের মধ্যে অরক্ষিত অবস্থায় বল পান সিপেনগা। তাঁর ডান পায়ের শক্তিশালী শট আটকাতে পারেননি জর্ডন পিকফোর্ড। পিছিয়ে পড়ার পর সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে ইংল্যান্ড। ৪ মিনিট পর্যন্ত ইংল্যান্ডকে আটকে রেখেছিল কঙ্গো। সমতা ফেরান সেই কেন। ৭৫ মিনিটে বক্সের মধ্যে অ্যান্টনি গর্ডনের ভাসিয়ে দেওয়া বলে হেড দিয়ে গোল করেন কেন। এমপাসি চেষ্ট করেও আটকাতে পারেননি। কেনই ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন ৮৬ মিনিটে। সেই গর্ডনের পাস থেকেই বক্সের মধ্যে বল পান ইংল্যান্ড অধিনায়ক। ডান পায়ের জোরাল শটে পরাস্ত করেন কঙ্গোর গোলরক্ষককে।

    শেষ ষোলোয় আয়োজক আমেরিকা

    মেক্সিকো ও কানাডার পর বিশ্বকাপের তৃতীয় আয়োজক দেশ আমেরিকাও পৌঁছল শেষ ষোলোয়। ১০ জনের আমেরিকাকেও হারাতে পারল না বসনিয়া ও হার্জ়েগোভিনা। লস অ্যাঞ্জেলেসের মাঠে বিপুল জনসমর্থন নিয়েই প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালের ছাড়পত্র আদায় করে নিল আমেরিকা। ২০০২-এর পর আবার বিশ্বকাপের নক-আউটে এগোল তারা। প্রথম থেকেই আক্রমণে যাচ্ছিল আমেরিকা। টিলমানের ক্রস ধরে গোল করেও ফেলেছিলেন বালোগুন। কিন্তু অফসাইডের জন্য তা বাতিল হয়। প্রথমার্ধের একেবারে শেষে বসনিয়ার রক্ষণের ভুলে বল পেয়ে গোল করেন বালোগুন। তবে দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই, ৬৪ মিনিটে সেই বালোগুনই লাল কার্ড দেখেন। বিশ্বকাপের নক-আউটে গোল ও লাল কার্ড, এর আগে শুধু ছিল জিনেদিন জিদানের। ২০০৬-এর সালের ফাইনালে ইটালির বিরুদ্ধে। বালোগুন উঠে যাওয়ার পর থেকে ১০ জনে খেলতে হয় আমেরিকাকে। শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপে তাঁর তিনটি গোল হয়ে গেলেও প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে খেলতে পারবেন না তিনি। ১০ জনের আমেরিকাকে বেশ কিছুক্ষণ চাপে রেখেছিল বসনিয়া ও হার্জ়েগোভিনা। কিন্তু দশ জনেও পাল্টা আক্রমণের কৌশল নেয় আমেরিকা। তারা আরও একটি গোল করলেও তা অফসাইডে বাতিল হয়। তবে ৮২ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে গোল করে আমেরিকাকে ২-০ এগিয়ে দেন টিলমান। তখনই আমেরিকার জয় কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায়।

     

     

     

  • FIFA World up 2026: জোড়া গোল রেকর্ড এমবাপের, বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় দুরন্ত ফ্রান্স! জয় পেল নরওয়ে, মেক্সিকো

    FIFA World up 2026: জোড়া গোল রেকর্ড এমবাপের, বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় দুরন্ত ফ্রান্স! জয় পেল নরওয়ে, মেক্সিকো

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফ্রান্সের নিখুঁত টোটাল ফুটবলের (FIFA World up 2026) সামনে দাঁড়াতে পারল না সুইডেন। এমবাপে, বার্কোলাদের গতি ও স্কিলের সামনে রীতিমতো নাকানিচোবানি খেল সুইডিশরা। যার ফল মিলল খেলার শেষেই। সুইডেনের বিরুদ্ধে ৩-০ ব্যবধানে জিতে টুর্নামেন্টের শেষ ষোলোয় জায়গা পাকা করে নিল দিদিয়ের দেঁশর ছেলেরা। ম্যাচে জোড়া গোল করলেন এমবাপে, একটি গোল করলেন বার্কোলা। শেষ ১৬-তে তাদের প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে। ৫ জুলাই রবিবার রাত আড়াইটের সময়ে মুখোমুখি হবে দুই দল। অন্যদিকে, ১৯৯৮ সালের পর প্রথম বার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছোল নরওয়ে। আর্লিং হালান্ড, মার্টিন ওদেগার্ডদের দাপটে আইভোরি কোস্টের বিরুদ্ধে ২-১ গেলো জয় পেল নরওয়ে। পরের ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ব্রাজিল। রাউন্ড অফ ৩২-এর অপর ম্যাচে মেক্সিকো-ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে দেয়।

    ফ্রান্সের রেকর্ড

    ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপে টাইব্রেকারে ট্রফি হাতছাড়া হয়েছিল ফ্রান্সের। এ বার তারা ট্রফির জয়ের জন্য দুর্দান্ত ছন্দে ছুটে চলেছে। রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে সুইডেনকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শুধু শেষ ষোলোয় ওঠাই নয়, বিশ্বকাপের ইতিহাসেও নতুন এক নজির গড়েছে গতবারের রানার্স আপরা। নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে জোড়া গোল করেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে, আর একটি গোল যোগ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে টানা পাঁচটি ম্যাচে অন্তত তিনটি করে গোল করার কীর্তি গড়েছে ফ্রান্স। ২০২২ সালের ফাইনালে আর্জেন্তিনার বিপক্ষে তিন গোল করার পর চলতি বিশ্বকাপে সেনেগাল, ইরাক ও নরওয়ের বিপক্ষেও তিন বা তার বেশি গোল করে তারা। সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকল সুইডেনের বিপক্ষেও।

    বেগ পেতে হবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকেও

    নকআউট পর্বের ফ্রান্স আলাদা। যে কোনও দলকে হারাতে পারে। বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম প্রধান দাবিদার দিদিয়ের দেশঁর দলকে হারাতে হলে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাকেও নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে হবে। লিয়োনেল মেসি বা ভিনিসিয়াস জুনিয়র একা এই ফ্রান্সকে রুখতে পারবেন না। নিখুঁত, তীক্ষ্ণ, দ্রুত, পরিকল্পিত ফুটবল খেলল ফ্রান্স। দেশঁ যেন কম্পিউটার পোগ্রামিং করে দল নামিয়ে ছিলেন। রক্ষণ, মাঝমাঠ এবং আক্রমণ— ফুটবলের তিন বিভাগেই নিখুঁত ছিল ফ্রান্স। মাঠের সব প্রান্তে দৌড়ে বেড়িয়েছেন ফরাসি ফুটবলারেরা। নিজেদের মধ্যে ছোট-বড় নিখুঁত পাস খেলেছেন। প্রতিপক্ষকে ধোঁকা দিতে নিজেদের মধ্যে জায়গা বদল করেছেন। পায়ে অযথা বল রাখেননি। সবচেয়ে ভাল জায়গায় থাকা সতীর্থকে মুহূর্তে খুঁজে নিয়েছেন। সেরা ফুটবল খেলার জন্য যা যা করা দরকার সব করেছেন।

    জোড়া গোল এম বাপের

    ফ্রান্সের প্রথম গোল সেটপিসের ফসল। ছোট কর্নারের পর দেম্বেলের কাছ থেকে বল পেয়ে বক্সের মধ্যে সুইডেনের দু’জন ফুটবলারকে কাটিয়ে দলকে এগিয়ে দেন এমবাপে। প্রথমার্ধথে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ফ্রান্সকে দ্বিতীয়ার্ধে আরও বিপজ্জনক দেখিয়েছে। ৫৩ মিনিটে ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় ফ্রান্স। ওলিসের পাস থেকে গোল করেন ব্র্যাডলি বার্কোলা। তাঁর দুরন্ত ফিনিশিংও মনে রাখার মতো। ৭৪ মিনিটে ফ্রান্সকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন এমবাপে। এই গোলেও ওলিসের অবদান। তাঁর ডিফেন্স চেরা পাস থেকে গোল না করে উপায় ছিল না এমবাপের! ছ’নম্বর গোল করে এ বারের বিশ্বকাপে সোনার বুটের দৌড়ে ছুঁয়ে ফেললেন মেসিকে। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে তাঁর গোল সংখ্যা হল ১৮। শুধু নকআউটেই রেকর্ড ১০টি।

    নজির ওলিসের

    দিনটা ছিল আসলে ওলিসের। তিনিই সুইডেনকে সবচেয়ে বিব্রত করেন। খেলা তৈরি করলেন, গোলের ঠিকানা লেখা পাস বাড়ালেন, নিজে একাধিক দুরন্ত শট মারলেন। কিন্তু গোল পেলেন না। তবে নজির গড়লেন তিনি। এ বারের বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত পাঁচটি গোল করালেন সতীর্থদের দিয়ে। যা সর্বোচ্চ। ওলিসেই হলেন দেশঁর দলের ব্যান্ড মাস্টার। সম্ভবত জীবনের সেরা ফর্মে রয়েছেন তিনি।

    দাপট দেখিয়েই ব্রাজিলের সামনে নরওয়ে

    এদিন ম্যাচের প্রথম থেকেই দাপট ছিল নরওয়ের। একের পর আক্রম‌ণ তৈরি করেছেন হালান্ডেরা। যত আক্রমণ তৈরি হয়েছে, তত সুযোগও নষ্ট হয়েছে। হালান্ড একাই নষ্ট করেছেন অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ। কখনও বলে পা ছোঁয়াতে পারেননি। কখনও প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের গায়ে শট মেরেছেন। নরওয়ের আগ্রাসী ফুটবলের জবাবে কিছুটা রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়েছিল আইভোরি কোস্ট। প্রতি আক্রম‌ণে উঠে বেশ কয়েক বার বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে আফ্রিকার দেশটিও। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে দৃষ্টিনন্দন ফুটবল উপহার দিয়েছে দু’দলই। খেলায় পরিকল্পনার ছাপ ছিল স্পষ্ট। প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার ক্ষেত্রেই হোক বা আক্রমণ তৈরির ক্ষেত্রে, দু’দল পরস্পরকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবু নরওয়ের আধিপত্য ছিল বেশি। অন্তত আধ ডজন গোলে জেতা উচিত ছিল তাদের। আবার নরওয়ের গোলরক্ষক নিলান্ড কয়েক বার দলের পতন আটকেছেন। বিশেষ করে ম্যাচের শেষ ১০ মিনিট তিনি অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠতে না পারলে ম্যাচের ফল অন্যরকম হতেও পারত।

    শেষ ষোলোয় মেক্সিকো

    প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে মেক্সিকো-ইকুয়েডর ম্যাচ। বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে প্রায় এক ঘণ্টা পরে মেক্সিকোর অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে খেলা বন্ধ থাকে। ইউলিয়ান কুইনোনেনেস-রাউল খিনেমেস যুগলবন্দিতে ৩১ মিনিটের মধ্যেই ২-০ এগিয়ে গেল মেক্সিকো। ২২ মিনিটে গোল করেন। ৩১ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান রাউল। দ্বিতীয়ার্ধে ইকুয়েডর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।

  • Cricket Returns in Olympic: ঐতিহাসিক মুহূর্ত! অলিম্পিক্সে ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তন নিয়ে আবেগ বিহ্বল আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ

    Cricket Returns in Olympic: ঐতিহাসিক মুহূর্ত! অলিম্পিক্সে ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তন নিয়ে আবেগ বিহ্বল আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ১২৮ বছর পর অলিম্পিক্সের মঞ্চে ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তনকে (Cricket Returns in Olympic) এক ঐতিহাসিক “মাইলফলক” বলে মনে করেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)-এর চেয়ারম্যান জয় শাহ। লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্স ২০২৮ (LA28)-এর জন্য ক্রিকেটের যোগ্যতা অর্জনের (Qualification Pathway) আনুষ্ঠানিক কাঠামো ঘোষণা করেছে আইসিসি ও আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (IOC)। একই সঙ্গে প্রথমবারের মতো আইসিসি অলিম্পিক কোয়ালিফায়ার আয়োজনের কথাও জানানো হয়েছে। জয় শাহ বলেন, এই যোগ্যতা অর্জনের পদ্ধতি সদস্য দেশগুলিকে অলিম্পিক্সে খেলার একটি স্পষ্ট ও প্রতিযোগিতামূলক পথ দেখাবে। তাঁর মতে, অলিম্পিক্সে ক্রিকেটের অন্তর্ভুক্তি বিশ্বজুড়ে খেলোয়াড় ও সমর্থকদের অনুপ্রাণিত করবে। নতুন নতুন দেশে ক্রিকেটের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

    ছয়টি দল খেলবে পুরুষ ও মহিলা বিভাগে

    লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক্সে পুরুষ ও মহিলা—উভয় বিভাগের টি-২০ ক্রিকেটে অংশ নেবে ছয়টি করে দল। আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ এবং ওশেনিয়া—এই চারটি মহাদেশের অন্তত একটি করে দলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিটি বিভাগের পাঁচটি দল নির্ধারিত হবে আইসিসির বিভিন্ন প্রতিযোগিতা এবং টি-২০ আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে। ষষ্ঠ ও শেষ দলটি নির্বাচিত হবে ২০২৭ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম আইসিসি অলিম্পিক্স কোয়ালিফায়ার (ICC Olympics Qualifier) থেকে। ২০২৬ সালের আইসিসি মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপের (ICC Women’s T20 World Cup) ফলাফলের ভিত্তিতে মহিলাদের বিভাগে প্রাথমিকভাবে যোগ্যতা নিশ্চিত করেছে অস্ট্রেলিয়া, গ্রেট ব্রিটেন (ইংল্যান্ডের মাধ্যমে), ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রতিটি মহাদেশ থেকে সর্বোচ্চ একটি দল সুযোগ পাবে। পুরুষদের বাকি দলগুলি নির্ধারিত হবে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর আইসিসি টি-২০ আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী। প্রতিটি মহাদেশের সর্বোচ্চ যোগ্য দল সুযোগ পাবে।

    ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা

    ওয়েস্ট ইন্ডিজ অলিম্পিক্সে সরাসরি অংশ নিতে পারবে না, কারণ তারা একক আইওসি-স্বীকৃত জাতীয় অলিম্পিক্স কমিটির প্রতিনিধিত্ব করে না। তবে ২০২৬ সালের শেষে পুরুষ বা মহিলা দল যদি শীর্ষ আটটি অযোগ্য দলের মধ্যে থাকে, তাহলে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের জন্য আলাদা বাছাই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র পুরুষ ও মহিলা—উভয় বিভাগেই অংশ নিতে পারবে, যদি ২০২৬ সালের জুন থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের দল আইসিসি টি-২০ র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১৫-এর মধ্যে থাকে। এই শর্ত পূরণ না হলে তাদের কোটা পরবর্তী যোগ্য দলের কাছে চলে যাবে।

    প্রতিযোগিতার ফরম্যাট

    প্রতিটি দল ১৫ জনের স্কোয়াড নিয়ে খেলবে। ছয়টি দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করা হবে, প্রতিটি গ্রুপে থাকবে তিনটি দল। গ্রুপ পর্ব শেষে সেরা দুই দল খেলবে স্বর্ণপদকের লড়াইয়ে এবং তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানাধিকারী দল খেলবে ব্রোঞ্জ পদকের জন্য। পুরুষ ও মহিলা মিলিয়ে মোট ২৮টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। সব ম্যাচই ক্যালিফোর্নিয়ার পোমোনা শহরে নির্মিত বিশেষ ক্রিকেট ভেন্যুতে আয়োজিত হবে। আইসিসির সিইও সঞ্জোগ গুপ্ত বলেন, অলিম্পিক্সে ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তন খেলাটিকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রীড়া মঞ্চে তুলে ধরবে। এর ফলে নতুন বাজারে ক্রিকেটের প্রসার ঘটবে এবং বিশ্বের ২০০ কোটিরও বেশি ক্রিকেটপ্রেমীর কাছে অলিম্পিক্সের আবেদন আরও বাড়বে। তিনি জানান, নতুন যোগ্যতা নির্ধারণ পদ্ধতিতে প্রতিযোগিতার মান বজায় রাখার পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।

  • FIFA World Cup 2026: বিদায় জার্মানি, নেদারল্যান্ডসের! নাটকীয় ম্যাচে টাইব্রেকারে জয় প্যারাগুয়ে, মরক্কোর, বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ব্রাজিল

    FIFA World Cup 2026: বিদায় জার্মানি, নেদারল্যান্ডসের! নাটকীয় ম্যাচে টাইব্রেকারে জয় প্যারাগুয়ে, মরক্কোর, বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় ব্রাজিল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি ফুটবল বিশ্বযুদ্ধে (FIFA World Cup 2026) এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় অঘটন। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ে বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে দিল চার বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানকে। নাটকীয় ম্যাচে টাইব্রেকারে হেরে গেলেন জোসুয়া কিমিচেরা। জোড়া শট আটকে প্যারাগুয়ের জয়ের নায়ক গোলকিপার অরল্যান্ডো গিল। অন্যদিকে শুরুতে জাপানের কাছে পিছিয়ে পড়েও দ্বিতীয়ার্ধে দুরন্ত ফুটবল উপহার দিল ব্রাজিল। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছে গেল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা (Brazil vs Japan Match Report)। কার্লো আন্সেলোত্তির দল ছিটকে যাওয়াটা অঘটন। তাই তাদের জয়ের চেয়েও সামুরাই ব্লুর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই যেন বেশি করে মনে রাখবেন দর্শকরা। এদিন জার্মানির পর বিদায় হল বিশ্বফুটবলের আরও এক শক্তির। আরও এক বার টাইব্রেকারে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল নেদারল্যান্ডসও। ২০১৪, ২০২২ সালের পর ২০২৬ সালের বিশ্বকাপেও সেই টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হল কমলাবাহিনীকে। এগিয়ে গিয়েও মরক্কোর কাছে হারতে হল কোডি গাকপো, ভার্জিল ভ্যান ডাইকদের।

    ভালো খেলেও ব্রাজিলের কাছে হার মানতে হল জাপানকে

    ২০২৬ বিশ্বকাপে এশীয় সূর্যের উত্থান মন কেড়েছে ফুটবল দুনিয়ার। গোটা মহাদেশকে বিশ্বমঞ্চে মিরাকলের স্বপ্ন দেখিয়েছে জাপান। নেদারল্যান্ডসের মতো দলকে আটকে দিয়ে পৌঁছে গিয়েছে শেষ ৩২-এ। কিন্তু নকআউটের প্রথম লড়াইটাই ছিল পাহাড় প্রমাণ কঠিন। কিন্তু ম্যাচের প্রথমার্থে খোদ জাপানই ভিনি জুনিয়রদের খেলাটাকে এলোমেলো করে দিল। ২৯ মিনিটে অনবদ্য গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়ে দুনিয়াকে যেন সানো বার্তা দিলেন, হাম ভি কিসিসে কম নহি!তবে জাপানি বোমাকে শক্ত হাতে ব্রাজিল সামাল দিল ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে। জোড়াল হল আক্রমণ। ৫৬ মিনিটে ক্যাসেমিরোর নিখুঁত হেডে সমতায় ফেরে ব্রাজিল। আর ইনজুরি টাইমের শেষ লগ্নে গোটা স্টেডিয়াম যখন ধরেই নিয়েছে ম্যাচ গড়াবে এক্সট্রা টাইম, ঠিক তখন এল জয়সূচক গোল। দলের শেষ ষোলোর টিকিট পাকা করে দিলেন মার্টিনেলি। তবে জাপানি গোলকিপার সুজুকির দুরন্ত সেভ আর ভিনির শট বারে লেগে ফিরে না এলে আরও বড় ব্যবধানে জিততেই পারত ব্রাজিল।

    প্যারাগুয়ের কাছে হেরে  বিদায় জার্মানির

    ব্রাজিল জিতলেও নাটক বাকি ছিল। মঙ্গলবার ভোর রাতে প্যারাগুয়ের কাছে হেরে চলতি বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল জার্মানি। ম্যাচের শুরু থেকে প্রত্যাশা মতোই দাপট ছিল জার্মানির। ফেলিক্স মেচা, কাই হাভার্ৎজ়েরা একের পর আক্রমণ তৈরি করেছিলেন। নিজেদের মধ্যে প্রচুর পাস খেলে কখনও মাঠের মাঝ খান দিয়ে আবার কখনও উইং ব্যবহার করে প্যারাগুয়ের ডিফেন্স ভাঙার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ছ’গজের বক্সের মধ্যে তাঁদের জায়গা দিচ্ছিলেন না প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডারেরা। জার্মানেরা গোলমুখী শট নেওয়ার চেষ্টা করলেই ব্লক করে দিচ্ছিলেন তাঁরা। ৪২ মিনিটে প্যারাগুয়ে এগিয়ে যায়। ৫৪ মিনিটে সমতায় ফেরে জার্মানি। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত সময়। ১২০ মিনিটের খেলা শেষ হয় ১-১ ফলে। এরপর টাইব্রেকার। হাভার্ৎজের প্রথম শট আটকে দিয়ে জার্মানিকে চপে ফেলে দেন গিল। আবার নিক ওল্টেমেডকে রুখে দেন চতুর্থ শটে। সে সময় টানা তিন শটে গোল করে জয়ের অপেক্ষায় প্যারাগুয়ে। কিন্তু চতুর্থ শট নিতে এসে বাইরে মারেন অ্যান্তোনিয়ো সানাব্রিয়া। পঞ্চম শটে গোল করে জার্মানির আশা জিইয়ে রাখেন নাদিম আমিরি। এর পর ফাবিয়ান বালবুয়েনার শট আটকে দিয়ে জার্মানিকে লড়াইয়ে ফেরান নয়ার। তাতেও লাভ হল না। প্রথম পাঁচ শটেল পর ফলাফল ৩-৩ হওয়ার পর তুঙ্গে পৌঁছোয় উত্তেজনা। জার্মানির হয়ে ষষ্ঠ শট নিতে আসা তাহ বল উড়িয়ে দেন বারের উপর দিয়ে। আবার চাপে পড়ে যায় চার বারের চ্যাম্পিয়নেরা। এর পর হোসে ক্যানালে গোল করতেই বিশ্বকাপের শেষ ১৬-য় জায়গা করে নেয় প্যারাগুয়ে।

    বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল নেদারল্যান্ডস-ও

    গত বিশ্বকাপে টাইব্রেকার স্পেনের স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছিলেন। এ বার তাঁর হাতে আটকে গেল ডাচেরা। মরক্কোর রক্ষাকর্তা হয়ে দেখা দিলেন সেই ইয়াসিন বোনো। এদিন টাইব্রেকারে প্রথম শটে নেদারল্যান্ডসকে এগিয়ে দেন টিউন কুপমেইনার্স। মরক্কোর আল আয়নায়োই প্রথম শট বারে মারেন। ডাচদের হয়ে দ্বিতীয় শট পোস্টে মারেন জাস্টিন ক্লুইভার্ট। রহিমি গোল করে সমতা ফেরান। নেদারল্যান্ডসকে আবার এগিয়ে দেন উইট উইঘর্স্ট। গোল করেন মরক্কোর তালবিও। চতুর্থ শট মিস্‌ করেন কুইন্টন টিম্বার। মরক্কোর কাছে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু আশরফ হাকিমিও গোল করতে পারেননি। সামারভিলের পঞ্চম শট আটকে দেন বোনো। শেষ শটে গোল করতে ভুল করেননি সাইবারি। ম্যাচ জিতে পরের রাউন্ডে ওঠে আফ্রিকার দেশ। এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই গুটিয়ে ছিল নেদারল্যান্ডস। পাঁচ ডিফেন্ডারে খেলা শুরু করে ডাচেরা। নেদারল্যান্ডসের রক্ষণাত্মক পরিকল্পনা কাজে লাগায় মরক্কো। হাকিমি, ব্রাহিম দিয়াজ, সাইবারিদের পায়ে আক্রমণে উঠছিল তারা। প্রথমার্ধের গোল পেয়ে যেতে পারত মরক্কো। হাকিমির শট ভাল বাঁচান ভারব্রুগেন। সাইবারির শট অল্পের জন্য গোলের বাইরে যায়। প্রথমার্ধ গোল শূন্য থাকে। দ্বিতীয়ার্ধে নেদারল্যান্ডসকে গোল করে এগিয়ে দেন গাকপো। ৭২ মিনিটের মাথায় গাকপোর সেই গোলের পর মনে হচ্ছিল, নেদারল্যান্ডস জিতে যাবে। কিন্তু সংযুক্তি সময়ে এক ক্রসে হেড করে বল জালে জড়িয়ে দেন দিয়প। সমতা ফেরায় মরক্কো। খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেই স্বপ্ন শেষ ডাচদের।

     

     

     

     

     

  • FIFA World Cup 2026: গ্রুপ পর্ব শেষ, শুরু হয়ে গেল বিশ্বকাপের ‘রাউন্ড অফ ৩২’, জেনে নিন চূড়ান্ত সূচি

    FIFA World Cup 2026: গ্রুপ পর্ব শেষ, শুরু হয়ে গেল বিশ্বকাপের ‘রাউন্ড অফ ৩২’, জেনে নিন চূড়ান্ত সূচি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ফুটবল বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) গ্রুপ পর্বের খেলা শেষ। চূড়ান্ত হয়ে গেল বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের সূচি। গ্রুপ পর্বে ৪৮টি দেশের মধ্যে ৩২টি দল নকআউটে খেলার যোগ্যতা অর্জন করছে। এশিয়ার দু’টি দলকে দেখা যাবে বিশ্বকাপের রাউন্ড অফ ৩২-এ। ৩২ দলের এই পর্বে আর ভুলের কোনও সুযোগ নেই। একটি হার মানেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায়। ২৯ জুন থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে রাউন্ড অব ৩২-এর ১৬টি ম্যাচ। এক নজরে দেখে নিন কোন দল কার বিরুদ্ধে খেলবে, কোথায় হবে ম্যাচ এবং ভারতীয় সময় অনুযায়ী কখন শুরু হবে। এবার থেকে প্রতিটি ম্যাচই ‘ডু অর ডাই’। এক ভুল, এক গোল কিংবা এক মুহূর্তের অসাবধানতাই শেষ করে দিতে পারে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন। তাই রাউন্ড অফ ৩২ থেকেই শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপের আসল লড়াই।

    প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে কানাডা

    বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল কানাডা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোল না পেলেও সংযুক্তি সময়ে অবশেষে দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণ ভাঙতে পারল তারা। সংযুক্তি সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে গোল করেন অধিনায়ক স্টিফেন এস্তাকিয়ো। ১-০ গোলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে প্রথম বার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় উঠল কানাডা।

    নক-আউটে উঠল কারা

    ১২টি গ্রুপ থেকে মোট ৩২টি দল নক আউট পর্বে উঠল। ১২টি গ্রুপ থেকে ২টি করে সেরা দল – সেই হিসাবে মোট ২৪টি দল রাউন্ড অফ থার্টি টু-তে পৌঁছেছে। বাকি ১২টি তৃতীয় স্থানে থাকা দলের মধ্যে থেকে সেরা আটটি দল নক আউটে গিয়েছে।

    • গ্রুপ এ থেকে নক আউটে গিয়েছে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ছিটকে গিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্র।
    • গ্রুপ বি থেকে নক আউটে গিয়েছে সুইৎজারল্যান্ড, কানাডা ও বসনিয়া হার্জেগোভিনা। ছিটকে গিয়েছে কাতার।
    • গ্রুপ সি থেকে নক আউটে গিয়েছে ব্রাজিল ও মরক্কো। ছিটকে গিয়েছে হাইতি ও স্কটল্যান্ড।
    • গ্রুপ ডি থেকে নক আউটে গিয়েছে আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও প্যারাগুয়ে। ছিটকে গিয়েছে তুরস্ক।
    • গ্রুপ ই থেকে নক আউটে গিয়েছে জার্মানি, আইভরি কোস্ট ও ইকুয়েডর। ছিটকে গিয়েছে কুরাসাও।
    • গ্রুপ এফ থেকে নক আউটে গিয়েছে নেদারল্যান্ডস, জাপান ও সুইডেন। ছিটকে গিয়েছে তিউনিশিয়া।
    • গ্রুপ জি থেকে নক আউটে গিয়েছে বেলজিয়াম ও মিশর। ছিটকে গিয়েছে ইরান ও নিউজিল্যান্ড।
    • গ্রুপ এইচ থেকে নক আউটে গিয়েছে স্পেন ও কেপ ভার্দে। ছিটকে গিয়েছে উরুগুয়ে ও সৌদি আরব।
    • গ্রুপ আই থেকে নক আউটে গিয়েছে ফ্রান্স, নরওয়ে ও সেনেগাল। ছিটকে গিয়েছে ইরাক।
    • গ্রুপ জে থেকে নক আউটে গিয়েছে আর্জেন্তিনা, অস্ট্রেলিয়া ও আলজিরিয়া। ছিটকে গিয়েছে জর্ডন।
    • গ্রুপ কে থেকে নক আউটে গিয়েছে কলম্বিয়া, পর্তুগাল ও কঙ্গো। ছিটকে গিয়েছে উজবেকিস্তান।
    • গ্রুপ এল থেকে নক আউটে গিয়েছে ইংল্যান্ড, ঘানা ও ক্রোয়েশিয়া। ছিটকে গিয়েছে পানামা।

    নজরে থাকবে কোন কোন খেলা

    ফ্রান্স, পর্তুগাল, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, স্পেন এবং বেলজিয়াম— ইউরোপের সকলেই একই অর্ধে পড়েছে। ফলে ফাইনালে উঠতে গেলে একে অপরের বিরুদ্ধে খেলতেই হবে। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালেই দেখা হতে পারে জার্মানি এবং ফ্রান্সের। ফলে ট্রফির এক দাবিদার আগেই ছিটকে যাবে। পর্তুগাল এবং স্পেনের ম্যাচও হতে পারে প্রি-কোয়ার্টারে। তাদের মধ্যেও কোনও দেশের যাত্রা আগেই শেষ হয়ে যাবে। আপাতত নক আউটে যে খেলাগুলোর দিকে নজর থাকবে সেগুলি হল-

    ব্রাজিল বনাম জাপান – এশিয়ার অন্যতম সেরা দলের সামনে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।

    ইংল্যান্ড বনাম ডিআর কঙ্গো – আফ্রিকার চমকপ্রদ দলকে থামাতে নামবে ইংল্যান্ড।

    স্পেন বনাম অস্ট্রিয়া – ইউরোপের দুই শক্তিশালী দলের হাইভোল্টেজ লড়াই।

    পর্তুগাল বনাম ক্রোয়েশিয়া – রোনাল্ডোদের সামনে মদরিচদের কঠিন পরীক্ষা।

    আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দে – মেসিদের লক্ষ্য কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট। আর কেপ ভার্দের লক্ষ্য হবে রূপকথা দৌড় অব্যাহত রাখা

    কোন দলের-কখন কার সঙ্গে খেলা

    ২৯ জুন

    প্রথম দিন মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা-কানাডা এবং ব্রাজিল-জাপান। দক্ষিণ আফ্রিকা-কানাডার খেলা ভারতীয় সময় অনুযায়ী ২৯ জুন রাত সাড়ে ১২ টায়। (দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ ১৬-তে পৌঁছে গিয়েছে কানাডা) । ব্রাজিল-জাপান ভারতীয় সময় অনুযায়ী ২৯ জুন রাত ১০.৩০-এ মাঠে নামবে।

    ৩০ জুন

    মোট তিনটি ম্যাচ এ দিন। রাত ২টো (মঙ্গলবার ভোর রাত) জার্মানির লড়াই প্যারাগুয়ের সঙ্গে। সে দিনই সকাল ৬.৩০-এ নেদারল্যান্ডস-মরক্কো ম্যাচ এবং রাত ১০.৩০-এ নরওয়ে-আইভোরি কোস্ট লড়াই।

    ১ জুলাই

    এ দিন রয়েছে তিনটি ম্যাচ। রাত ২.৩০-এ মুখোমুখি হবে ফ্রান্স এবং সুইডেন। সকাল ৬.৩০-এ মেক্সিকোর প্রতিপক্ষ ইকুয়েডর। রাত ৯.৩০— মাঠে নামবে ইংল্যান্ড। হ্যারি কেনদের প্রতিপক্ষ ডিআর কঙ্গো।

    ২ জুলাই

    দু’টি ম্যাচ। রাত ১.৩০-এ বেলজিয়াম-সেনেগাল খেলা। ভোর ৫.৩০-এ আমেরিকার মুখোমুখি হবে বসনিয়া এবং হারজ়েগোভিনা।

    ৩ জুলাই

    বিশ্বকাপের চারটি ম্যাচ। রাত ১২.৩০-এ অস্ট্রিয়া-স্পেন। ভোর ৪.৩০-এ পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া এবং সকাল ৮.৩০-এ সুইৎজ়ারল্যান্ড-আলজেরিয়া। এ দিনই রাত ১১.৩০-এ মুখোমুখি হবে অস্ট্রেলিয়া এবং মিশর।

    ৪ জুলাই

    রাউন্ড অফ ৩২-র শেষ দু’টি ম্যাচ। রাত ৩.৩০-এ এ বারের বিশ্বকাপের চমক কেপ ভার্দের চ্যালেঞ্জ সামলাবে লিয়োনেল মেসির আর্জেন্টিনা। সকাল ৭টায় কলম্বিয়া-ঘানা লড়াই।

  • Asian Relay Championship: চিনের মাটিতে চিনকে হারিয়ে সোনা জিতল ভারতের মহিলা ৪x১০০ মিটার রিলে দল

    Asian Relay Championship: চিনের মাটিতে চিনকে হারিয়ে সোনা জিতল ভারতের মহিলা ৪x১০০ মিটার রিলে দল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এশিয়ান রিলে চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬-এ দুরন্ত সাফল্য পেল ভারত। চিনের ঘরের মাঠে চিনকে হারিয়ে মহিলাদের ৪x১০০ মিটার রিলেতে সোনার পদক জিতে নিল ভারতীয় দল। রবিবার প্রতিযোগিতার শেষ দিনে এসএস স্নেহা, সুদেষ্ণা শিভাঙ্কর, তামান্না এবং অভিজ্ঞ অ্যাঙ্কর শ্রাবণী নন্দা এই সাফল্য ছিনেয়ে আনেন। ভারতীয় কোয়ার্টেট ৪৩.৮৫ সেকেন্ড সময় নিয়ে মরশুমের সেরা পারফরম্যান্স উপহার দেয়। ভারতের ঠিক পিছনেই ৪৪.০৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে রুপো জেতে চিন। মাত্র দুই শতাংশ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৪৪.১১ সেকেন্ড সময় করে ব্রোঞ্জ পায় থাইল্যান্ড। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ের পর ফটো ফিনিশে নির্ধারিত হয় পদকজয়ীদের স্থান।

    তামান্না ও স্নেহার জোড়া সাফল্য

    রিলে দৌড়ে গতি যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে কম নয় ব্যাটন বিনিময়ের নিখুঁততা। রিলায়েন্স ফাউন্ডেশনের কোচ মার্টিন ওয়েন্সের তত্ত্বাবধানে ভারতীয় দল একাধিক নিখুঁত ব্যাটন এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে চিনের শক্তিশালী দলকে পিছনে ফেলে দেয়। এই জয়ের ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। চ্যাম্পিয়নশিপে তামান্না এবং স্নেহা দু’জনেই দুটি করে পদক জিতেছেন। এর আগে তাঁরা পুরুষদের ২০০ মিটার জাতীয় রেকর্ডধারী অনিমেষ কুজুর এবং প্রণব গুরাভের সঙ্গে মিশ্র ৪x১০০ মিটার রিলেতে ৪১.২৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন। ভারতের তৃতীয় পদক আসে মিশ্র ৪x৪০০ মিটার রিলেতে। তীর্থেশ পি শেট্টি, এমআর পুভাম্মা, ভারত শ্রীধর এবং নীরু পাঠকের দল ৩:১৭.০৬ মিনিট সময় নিয়ে রুপো জয় করে। তবে ৪x৪০০ মিটার বিভাগে মহিলা দল ৩:৩৪.৮৮ মিনিট সময় নিয়ে চতুর্থ এবং পুরুষ দল ৩:০৫.৩৩ মিনিট সময় নিয়ে পঞ্চম স্থানে শেষ করে। এই দুই বিভাগেই সোনা জেতে ভিয়েতনাম।

    ‘লক্ষ্য এশিয়ান গেমস’

    চলতি বছরের শেষদিকে জাপানে অনুষ্ঠিত হতে চলা এশিয়ান গেমসকে সামনে রেখেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন ভারতীয় অ্যাথলিটরা। ৩৫ বছর বয়সি শ্রাবণী নন্দা মনে করেন, এই সোনাজয় দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে। তিনি বলেন, “পরিষ্কার ও ডোপমুক্ত থেকে প্রতিযোগিতা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং পুরো মনোযোগ প্রতিযোগিতায় রাখা যায়। আমাদের মানসিকতা বদলাতে হবে। ‘ড্রাগ ছাড়া সম্ভব নয়’—এই ধারণার বদলে ‘ড্রাগ ছাড়াই সফল হওয়া যায়’—এই বিশ্বাস গড়ে তুলতে হবে।”শ্রাবণী বলেন, “এই মরশুমে আমার প্রধান লক্ষ্য এশিয়ান গেমস। আমি সেরাটা দেওয়ার আশায় আছি।” উল্লেখ্য, ২০২৭ সালের এশিয়ান রিলে চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজক হিসেবে চণ্ডীগড়ের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তার আগে চিনের মাটিতে সোনা জিতে ভারতীয় স্প্রিন্টাররা মহাদেশীয় অ্যাথলেটিক্সে নিজেদের শক্তির পরিচয় আরও একবার তুলে ধরলেন।

  • Cristiano Ronaldo: জোড়া গোলে বাজিমাত! উজবেকদের ৫ গোলে ওড়াল পর্তুগাল, কোন কোন রেকর্ড রোনাল্ডোর?

    Cristiano Ronaldo: জোড়া গোলে বাজিমাত! উজবেকদের ৫ গোলে ওড়াল পর্তুগাল, কোন কোন রেকর্ড রোনাল্ডোর?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সব সমালোচনা উড়িয়ে স্বপ্নের প্রত্যাবর্তন ঘটালেন সি আর সেভেন। উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে পর্তুগাল। সেই ম্যাচে জোড়া গোল করে নায়ক রোনাল্ডো। মুগ্ধ ফুটবলপ্রেমীরা। এবার এমন এক কীর্তি গড়লেন রোনাল্ডো, যে রেকর্ড ভাঙা এক প্রকার অসম্ভব। এবারের বিশ্বকাপে মেসি আর রোনাল্ডো এমন দু’জন খেলোয়াড় যাঁরা এই প্রথমবারের জন্য নিজেদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ (Fifa World Cup 2026) খেলছেন। কিন্তু এর পাশাপাশি রোনাল্ডো প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই ৬ বিশ্বকাপের প্রতিটাতেই গোল করেছেন। এবারের বিশ্বকাপের উজবেকিস্তান ম্যাচ পর্যন্ত ধরলে বিশ্বকাপে মোট ১০ টি গোল করেছেন রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo)।

    নকআউটের দৌড়ে ভাল ভাবে রইল পর্তুগাল

    লিয়োনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে, আর্লিং হালান্ড— বিশ্বকাপে দাপট দেখানোর প্রতিযোগিতায় কেউ বাকি ছিলেন না। পড়ে ছিলেন শুধু তিনিই। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। প্রথম ম্যাচে হতশ্রী পারফরম্যান্সের জন্য সমালোচিত হয়েছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচে জোড়া গোল করে রোনাল্ডো বুঝিয়ে দিলেন, ‘ফর্ম ইজ টেম্পোরারি, ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট’। মঙ্গলবার হিউস্টনে উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে নকআউটের দৌড়ে ভাল ভাবে টিকে থাকল পর্তুগাল। শেষ ম্যাচে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ড্র করলেই নকআউট নিশ্চিত হয়ে যাবে। কঙ্গোর বিরুদ্ধে খারাপ খেলার পর কেন তাঁকে পর্তুগালের প্রথম একাদশে রাখা হবে, সেটা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছিল। তবে কোচ থেকে ফুটবলার, সকলেই ছিলেন রোনাল্ডোর পাশে। কোচ রবার্তো মার্তিনেজ উজবেকিস্তান ম্যাচেও প্রথম একাদশে রেখেছিলেন রোনাল্ডোকে। কোচের বিশ্বাস রাখলেন সি আর সেভেন।

    রোনাল্ডোর রেকর্ড ভাঙা এক প্রকার অসম্ভব

    ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে ইরানের বিরুদ্ধে নিজের প্রথম গোল করেন তিনি। এরপর ২০১০ সালের বিশ্বকাপে তিনি উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে একটি গোল করেন। সেই ম্যাচে ৭-০ জিতেছিল পর্তুগাল। এরপর ২০১৪ বিশ্বকাপে ঘানার বিরুদ্ধে একমাত্র গোলটি করেন ক্রিশ্চিয়ানো। ২০১৮ বিশ্বকাপে হ্যাটট্রিক করেন তিনি স্পেনের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, একটি গোল করেন মরোক্কোর বিরুদ্ধেও। সব মিলিয়ে ওই বছর বিশ্বকাপে মোট ৪ টি গোল করেন তিনি। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে তাঁর একমাত্র গোলটি আসে ঘানার বিরুদ্ধেই। আর তারপর চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচে জোড়া গোল করে ৬ বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ড গড়লেন রোনাল্ডো। তাঁর এই রেকর্ড ভাঙা এক প্রকার অসম্ভব। কারণ, ফুটবলে ৬ টা বিশ্বকাপ খেলা যে কোনও খেলোয়াড়ের পক্ষে খুবই কঠিন কাজ। এ ছাড়াও ৬ টা বিশ্বকাপ খেললেও প্রতিটা বিশ্বকাপে গোল করা আরও কঠিন। উজবেকিস্তান ম্যাচে আরও একটি রেকর্ড করেচেন ক্রিশ্চিয়ানো। ফুটবল বিশ্বকাপে নিজের দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি গোল করা খেলোয়াড় হয়ে গিয়েছেন তিনি। এতদিন বিশ্বকাপে পর্তুগালের হয়ে সর্বোচ্চ গোল ছিল ইউসেবিওর। ৯ টা গোল করেছিলেন তিনি। আর উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচে জোড়া গোল করে রোনাল্ডো করে ফেললেন মোট ১০ টি গোল। এর ফলে, পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ স্কোরারের নাম এখনও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।

  • Fifa World Cup 2026: বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের নজির মেসির, জোড়া গোল এমবাপের, নকআউটে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স

    Fifa World Cup 2026: বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের নজির মেসির, জোড়া গোল এমবাপের, নকআউটে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মিরোস্লাভ ক্লোজেকে টপকে বিশ্বকাপের (Fifa World Cup 2026) সর্বোচ্চ গোলদাতা লিওনেল মেসি। তবুও নিরুত্তাপ-শান্ত। নিজের রেকর্ড নিয়ে খুব একটা হেলদোল নেই মেসির। তিনি বেশি খুশি হয়েছেন আর্জেন্টিনাকে নকআউটে তুলতে পেরে। তাঁর জোড়া গোলে জিতেছে আর্জেন্টিনা-এটা উপরি পাওনা। অস্ট্রিয়া ম্যাচের পর এমনই অভিমত লিও-র। আর্জেন্টিনা ছাড়া সোমবার নকআউটে গেল ফ্রান্সও। মেসির মতোই জোড়া গোল এমবাপের। ২৬-এর বিশ্বকাপে লিয়োনেল মেসিকে তাড়া করছেন কিলিয়ান এমবাপে। মঙ্গলবার ভারতীয় সময় রাতে ক্লোজেকে টপকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক গোলের মালিক হয়েছেন মেসি। কয়েক ঘণ্টা পর ক্লোজেকে ছুঁয়ে ফেললেন এমবাপে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে তিনিও করে ফেললেন ১৬ গোল। ছাপিয়ে গেলেন ব্রাজিলের রোনাল্ডোকে।

    আর্জেন্টিনার কাছে ২২ জুন ইতিহাস

    জোড়া গোলে আবার নায়ক লিয়োনেল মেসি। ঠিক ৪০ বছর আগে এই ২২ জুন দিনটিকে দিয়েগো মারাদোনা ফুটবল ইতিহাসের পাতায় তুলে দিয়েছিলেন ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল করে। একই দিনে মেসি রচনা করলেন অন্য এক কীর্তি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার জন্য এদিন একটি গোল দরকার ছিল লিয়োর। সহজতম সুযোগ এসে গিয়েছিল ৯ মিনিটে। বক্সের মধ্যে লাউতারো মার্তিনেজকে একসঙ্গে ট্যাকল করেন অস্ট্রিয়ার দুই ফুটবলার। ভার-এর সাহায্য নিয়ে পেনাল্টি দেন রেফারি। পিছন থেকে ট্যাকল করাতেই সম্ভবত পেনাল্টি দেন তিনি। যদিও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল বিশেষজ্ঞদের একাংশ সন্তুষ্ট নন। তবে নজর ছিল মেসির দিকে। আর্জেন্টিনার অধিনায়কই পেনাল্টি মারতে এগিয়ে যান। গোটা স্টেডিয়াম তখন বিষ্ফোরণের অপেক্ষায়। কিন্তু গোল করতে পারলেন না মেসি! ডান পোস্টে শট মারেন। কিন্তু শটে তেমন জোর ছিল না! আটকে দিলেন অস্ট্রিয়ার গোলরক্ষক আলেকজান্ডার শ্লেগার। মেসি গোলের সুযোগ নষ্ট করলেন ১৯ মিনিটেও। এ বার শ্লেগারকে প্রায় একা পেয়েও তাঁর গায়ে মারেন! মেসি-ভক্তেরা যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। মাহেন্দ্রক্ষণ এল ৩৮ মিনিটে। গোল করলেন মেসি। এ বারের বিশ্বকাপে চতুর্থ। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে ১৭তম গোল এলএম টেনের।

     দলকে জিতিয়েই খুশি

    অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে দলকে জিতিয়ে মেসি বলেন, “দল জেতায় সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছি। খুব দরকার ছিল এই জয়টা। কঠিন পরিশ্রম করতে হয়েছে। দল নকআউটে ওঠায় মানসিক শান্তি পেয়েছি, যা ভবিষ্যতে আমাদের সাহায্যে করবে। এই বিশ্বকাপে সব ম্যাচই টান টান হবে। কঠোর পরিশ্রম করতে হবে ম্যাচ জিততে গেলে। আমি প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করছি। সতীর্থদের সঙ্গে আনন্দ করার জন্য তর সইছে না।” দু’গোলে জিতলেও অস্ট্রিয়া যথেষ্ট লড়াই করেছে বলে মনে করেন মেসি। জয় যে সহজে আসবে না, এটাও তিনি জানতেন। মেসি বলেন, “জিততে পেরে খুশি হয়েছি। কিন্তু কতটা কষ্ট করে জয় পেতে হয়েছে সেটা সকলেই দেখেছেন। ছ’পয়েন্ট পাওয়া খুব দরকার ছিল। আমরা জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নেমেছিলাম। তবে এটা জানতাম জয় সহজে আসবে না। এখনকার ফুটবলে কোনও দলই সহজে হাল ছেড়ে দেয় না। প্রতিটা ম্যাচই মনোযোগ দিয়ে খেলতে হয়।”

    সব ম্যাচ জেতাই লক্ষ্য 

    মেসির সংযোজন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল যোগ্যতা অর্জন করা। সব ম্যাচ জেতার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে হবে। দলের প্রত্যেকে খুশি। আসলে আমরা একসঙ্গে হলে খুব মজা করতে ভালবাসি। অনুশীলনেও রোজ হাসিঠাট্টার মধ্যে দিয়েই কেটে যায়। সে কারণেই মাঠে নেমে এত ভাল খেলি। আমরা ইতিমধ্যেই অনেককে আনন্দ দিয়েছি। আরও আনন্দ দিতে চাই। পেনাল্টি নষ্ট করার পর নিজের উপরেই খুব রেগে গিয়েছিলাম। দিনের শেষে সেটা অবশ্য মাথায় নেই।” অস্ট্রিয়া ম্যাচেই বিশ্বকাপের নকআউট নিশ্চিত করে নিতে চেয়েছিলেন লিয়োনেল স্কালোনি। যে কোনও পেশাদার কোচ তাই চাইবেন। আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ী কোচও ব্যতিক্রম নন। সোমবার দলকে শুরু থেকেই আগ্রাসী ফুটবল খেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। সেইমতো খেলে নীল-সাদা। এদিন বিশ্বকাপে মেসির ১৮তম গোলও করেন মেসি। এ বারেই দু’ম্যাচে পাঁচটি।

    দেড় ঘণ্টার ম্যাচ চলল ৪ ঘণ্টা

    অন্যদিকে, প্রত্যাশা মতোই ইরাককে ৩-০ গোলে হারাল ফ্রান্স। আরও এক বার জোড়া গোল করলেন এমবাপে। কিন্তু এই ম্যাচে সবকিছুকে ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে আমেরিকার আবহাওয়া। দেড় ঘণ্টার ম্যাচ চলল ৪ ঘণ্টা ধরে। ১৫ মিনিটের বিরতি বেড়ে হল ১৩১ মিনিটের। ফলে যে খেলা ভারতীয় সময় ভোর সাড়ে ৪টে নাগাদ শেষ হয়ে যাওয়া উচিত তা শেষ হল প্রায় সাড়ে ৬টায়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি দীর্ঘতম ম্যাচ। ফিলাডেলফিয়াতে যে ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে তা আগেই জানা গিয়েছিল। বিরতির সময়েই জানা যায়, স্টেডিয়ামের কাছাকাছি ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে। ধীরে ধীরে স্টেডিয়ামেও তা শুরু হয়। দর্শকেরা গ্যালারির ভিতরের দিকে আশ্রয় নেন। প্রবল বৃষ্টি দেখে এক এক সময় মনে হচ্ছিল, আদৌ খেলা শুরু করা যাবে তো। আমেরিকায় এই দৃশ্য মাঝেমাঝেই দেখা যায়। ফলে সেখানকার ফুটবল স্টেডিয়ামের নিকাশি ব্যবস্থা সে ভাবেই করা। বৃষ্টি থামলে দ্রুত খেলা শুরু করা যায়।

    এমবাপের ঝড়

    ঝড়বৃষ্টির আগে ও পরে দু’বার ঝড় তুললেন এমবাপেও। ১৪ মিনিটের মাথায় বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের জোরাল শটে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপে। তাঁর শটের কোনও জবাব গোলরক্ষকের কাছে ছিল না। দ্বিতীয়ার্ধে খেলা শুরু হওয়ার পর আবার গোল করেন এমবাপে। সেই সঙ্গে ব্রাজিলের রোনাল্ডোকে টপকে তিনি ছুঁয়ে ফেলেন ক্লোজ়েকে। পরের ম্যাচে একটি গোল করলে মেসির পর দ্বিতীয় ফুটবলার হিসাবে একই বিশ্বকাপে ক্লোজ়েকে ছাপিয়ে যাবেন তিনি। ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে হবেন দ্বিতীয় সর্বাধিক গোলদাতা। ফ্রান্সের হয়ে ৬৬ মিনিটে দলের তৃতীয় গোল করেন উসমান দেম্বেলে। এই জয়ের পর ফ্রান্সের পয়েন্ট দুই ম্যাচ ৬।

LinkedIn
Share