Category: খেলা

Get updates on Sports News Cricket, Football, Tennis, from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Kylian Mbappe: এমবাপের জোড়া গোলে ইতিহাস, বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে ফরাসি অধিনায়ক

    Kylian Mbappe: এমবাপের জোড়া গোলে ইতিহাস, বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে ফরাসি অধিনায়ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোলের বন্যা বইল। শনিবার অনুষ্ঠিত এই রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল (Kylian Mbappe) থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ডের হয়ে বুকায়ো সাকার হ্যাটট্রিক জয়ের ভিত গড়ে দিলেও, ম্যাচের অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিলেন ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। জোড়া গোল করে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসে পড়লেন (Golden Boot Race)।

    এমবাপে ঝড় (Kylian Mbappe)

    ম্যাচের প্রথমার্ধ তুলনামূলকভাবে শান্ত থাকলেও, বিরতির পর আক্রমণের ঝড় তোলেন এমবাপে। ৪৮তম মিনিটে প্রথম গোল করার পর ৬৬তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। এই দুই গোলের সুবাদে বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২। এর ফলে তিনি ২১ গোল করা লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে উঠেছেন তিনি। তবে মেসির সামনে এখনও রেকর্ড পুনর্দখলের সুযোগ রয়েছে। রবিবার স্পেনের বিরুদ্ধে ফাইনালে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে গোল করতে পারলে এমবাপেকে টপকে আবারও শীর্ষস্থান ফিরে পেতে পারেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

    সোনার বুটের দৌড়েও শীর্ষে

    রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব, বত্রিশ দলের পর্ব, শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এবং ফাইনাল—প্রায় প্রতিটি পর্যায়েই গোল করেছেন। শুধু সেমিফাইনালেই এখনও তাঁর গোলের খাতা খোলা হয়নি। তিনটি সেমিফাইনাল খেলেও, তিনি একবারও জালের দেখা পাননি। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জোড়া গোলের পর চলতি বিশ্বকাপে সোনার বুটের দৌড়েও শীর্ষে উঠে এসেছেন এমবাপে। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ১০ গোল ও ৪টি গোলে সহায়তা করা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মেসির রয়েছে ৮ গোল ও ৪টি গোলে সহায়তা করা। ফাইনালে স্পেনের বিরুদ্ধে অন্তত দুটি গোল করার পাশাপাশি একটি গোলে সহায়তা করতে পারলে সোনার বুট জয়ের দৌড়ে এমবাপেকে (Kylian Mbappe) টপকে যেতে পারবেন মেসি।

    সোনার বুটের তালিকায় যাঁরা

    বর্তমানে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সোনার বুটের তালিকায় যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা হলেন কিলিয়ান এমবাপে (১০ গোল, ৪টি গোলে সহায়তা), লিওনেল মেসি (৮ গোল, ৪টি গোলে সহায়তা), এরলিং হলান্ড, (৭ গোল, কোনও গোলে সহায়তা নেই), জুড বেলিংহ্যাম, (৭ গোল, ১টি গোলে সহায়তা), হ্যারি কেন (৬ গোল, ১টি গোলে সহায়তা), এবং উসমান দেম্বেলে, (৬ গোল, ২টি গোলে সহায়তা)। ফলে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সোনার বুটের লড়াইও জমে উঠেছে। আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত রেকর্ডেও নজর থাকবে ৩৯ বছর বয়সি মেসির। এদিকে, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইতিহাস গড়ে (Golden Boot Race) আপাতত বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসন ও সোনার বুটের দৌড়—দুই ক্ষেত্রেই এগিয়ে রয়েছেন এমবাপে (Kylian Mbappe)।

     

  • Sir Garfield Sobers: প্রয়াত গ্যারি সোবার্স! ছ’বলে ছ’ছক্কা মারা বিশ্বের প্রথম ব্যাটারের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ক্রিকেট মহল

    Sir Garfield Sobers: প্রয়াত গ্যারি সোবার্স! ছ’বলে ছ’ছক্কা মারা বিশ্বের প্রথম ব্যাটারের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ ক্রিকেট মহল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্রিকেটের বাইশ গজে নক্ষত্রপতন। শুক্রবার বার্বাডোজে নিজের বাড়িতে প্রয়াত হলেন সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার স্যর গ্যারফিল্ড সোবার্স (Garry Sobers)। বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। সোবার্স আজীবন স্মৃতিতে থাকবেন ১৯৬৮ সালে গড়া তাঁর একটি কীর্তির জন্য। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম ব্যাটার হিসেবে এক ওভারে ছ’টি ছয় মেরেছিলেন তিনি। তবে গোটা জীবনে এ রকম কীর্তি আরও অনেক রয়েছে। সোবার্স রেখে গেলেন একরাশ স্মৃতি, যার অনেক কিছুই এখনকার প্রজন্ম জানে না। টেস্ট ক্রিকেটে অবিশ্বাস্য ব্যাটিং করেছেন। পাশাপাশি বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিন ও রিস্ট স্পিনও করতেন। সঙ্গে ফিল্ডার হিসাবেও ছিলেন দুর্ধর্ষ। তাঁর ক্লোজ ইন ফিল্ডিং সকলের প্রশংসা আদায় করে নিয়েছিল।

    হৃদয়ে থাকবেন চিরকাল

    ১৯৫৩-এ ১৬ বছর বয়সে বার্বাডোজের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় সোবার্সের (Sir Garfield Sobers)। তিনি এতটাই প্রতিভাবান ছিলেন যে দ্রুত দেশের হয়ে খেলার জন্য তাঁর ডাক পড়ে। পরের বছরই ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে অভিষেক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ৯৩টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন সোবার্স। ১৯৫৪ থেকে ১৯৭৪ সালের মধ্যে। ৫৭.৭৮ ব্য়াটিং গড়ে ৮০৩২ রান করেছিলেন তিনি। সেই সঙ্গে ৩৪.০৩ বোলিং গড়ে নিয়েছিলেন ২৩৫ উইকেট। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব ফর্ম্যাটে ভাল খেলার স্বীকৃতি হিসেবে যে পুরস্কার দেয় আইসিসি, সেই স্মারকেরও নামকরণ করা হয়েছিল তাঁরই নামে -স্যর গ্যারফিল্ড সোবার্স অ্যাওয়ার্ড। তাঁর মৃত্যুর খবর জানিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড এক্স হ্যান্ডলে লিখেছে, ‘দারুণ একটা ইনিংস শেষ হল। স্যর গ্যারফিল্ড সোবার্স আমাদের হৃদয়ে থাকবেন, আজ, চিরকাল।’

    বিশ্ব ক্রিকেটের আইকন

    ১৯৫৮-এ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম শতরান করেন। শেষ পর্যন্ত ৩৬৫ রানে অপরাজিত থাকেন। সেই সময়ে সেটিই ছিল টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। এর পর ১৯৯৪-এ সেটি ভাঙেন ব্রায়ান লারা। সোবার্স ১৯৭৪-এ ৩৮ বছর বয়সে অবসর নিয়েছিলেন। অনেকেই মনে করেন, যে মাপের ক্রিকেটার ছিলেন তাতে অবসর একটু আগেভাগেই নিয়ে ফেলেছিলেন। তাঁর অবসরের পর ‘উইসডেন’ লিখেছিল, “সোবার্স মানসিক এবং শারীরিক ভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। যে ক্রিকেট তাঁর জীবনের সমান ছিল, সেই ক্রিকেট সম্পর্কেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছিলেন। হাঁটুরও চরম ক্ষতি হয়েছিল। নিজের প্রতিভার শিকার হয়েছিলেন সোবার্স। কারণ তিনি অনেক কিছু করতে পারতেন। তাই বার বার সেই কাজ করতেই ডাকা হয়। অনেক ক্রিকেটারের চেয়ে বেশি খেটেছেন তিনি।” তাঁর মৃত্যুতে শোকজ্ঞাপন করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও। ভারতের শেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের সময় বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মাদের সঙ্গে দেখা করতে মাঠে গিয়েছিলেন সোবার্স। সেই ছবি পোস্ট করে বিসিসিআই লিখেছে, “স্যর গ্যারফিল্ড সোবার্সের মৃত্যুতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড মর্মাহত। বিশ্ব ক্রিকেটের আইকন, সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার। অবিশ্বাস্য কীর্তির মালিক। ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটে অপরিসীম অবদান, এমন একটা ছাপ রেখে গেলেন যে, চিরকাল তা অন্যদের অনুপ্রেরণা জোগাবে। ওঁর পরিবার, বন্ধুবর্গ ও বিশ্ব ক্রিকেটের সকলকে সমবেদনা জানাই। ওঁর আত্মা শান্তি পাক।”

  • FIFA World Cup: খেলা শেষে স্টেডিয়ামেই মারামারি! ‘ফকল্যান্ড আমাদের’ ব্যানার আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের হাতে, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিতর্কে মেসিরা

    FIFA World Cup: খেলা শেষে স্টেডিয়ামেই মারামারি! ‘ফকল্যান্ড আমাদের’ ব্যানার আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের হাতে, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিতর্কে মেসিরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এই ম্যাচ শুধু ফুটবলের লড়াই ছিল না। এই ম্যাচ ছিল একে অপরকে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ার লড়াই। ৬০ বছর আগে যা শুরু হয়েছিল, সেই লড়াইয়ে এগিয়ে যাওয়ার যুদ্ধ। আর সেই যুদ্ধে বাজিমাত করল আর্জেন্টিনা। দিয়েগো মারাদোনা যা করেছিলেন তা-ই করলেন লিয়োনেল মেসি। খানিকটা অন্য ভাবে। মারাদোনা জোড়া গোল করেছিলেন। মেসি জোড়া অ্যাসিস্ট করলেন। আর তাতেই ৮৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। মাঠের উত্তাপ ছড়াল মাঠের বাইরেও। বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচের পর স্টেডিয়াম ও স্টেডিয়ামের বাইরে মারামারি হয়েছে দু’দলের সমর্থকদের। বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    উত্তেজনা, হাতাহাতি মাঠ ও মাঠের বাইরে

    খেলার মাঝেই উত্তপ্ত হচ্ছিল গ্যালারির পরিস্থিতি। কথা কাটাকাটি চলছিল। শেষ দিকে জোড়া গোল দিয়ে আর্জেন্টিনা জেতার পর সে দেশের সমর্থকেরা উল্লাস শুরু করেন। ইংল্যান্ডের সমর্থকদের তরফে কটূ কথা ভেসে আসে। বিবাদ আরও বাড়ে। তার পরেই শুরু হয় মারামারি। একই পরিস্থিতি স্টেডিয়ামের বাইরেও হয়। নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকা পুলিশকর্মীরা প্রথমে বিবাদ থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে শুরু করলেন পদক্ষেপ করেন তাঁরা। দু’দলের বহু সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুধু আটলান্টা নয়, নিউ ইয়র্ক, নিউ জার্সির মতো আমেরিকার বেশ কিছু শহরে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। এমনকি, বিশ্বকাপের কেন্দ্র থেকে অনেক দূরে ইংল্যান্ডের বার্মিংহ্যামেও হাতাহাতি হয়েছে দু’দলের সমর্থকদের।

    মেসির সতীর্থকে চড় বেলিংহ্যামের

    উত্তেজনা চরমে উঠেছে মাঠের ভিতরেও। ৮৪ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও হেরেছে ইংল্যান্ড। সাত মিনিটের মধ্যে আর্জেন্টিনার জোড়া গোলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের। এগিয়ে গিয়েও এই হার মানতে পারেননি জুড বেলিংহ্যাম। খেলা শেষে আর্জেন্টিনার বেঞ্চে থাকা ভ্যালেন্টিন বার্কোকে চড় মারেন তিনি। খেলা শেষে উল্লাস করছিলেন আর্জেন্টিনার ফুটবলারেরা। সেখানে ছিলেন ভ্যালেন্টিন বার্কোও। কাছেই দাঁড়িয়েছিলেন বেলিংহ্যাম। ঠিক তখনই বেলিংহ্যাম পিছন থেকে এসে বার্কোর ঘাড়ের কাছে চড় মারেন। এই ঘটনা ভাল ভাবে নেননি আর্জেন্টিনার ফুটবলারেরা। শুরু হয় বিবাদ। যদিও রেফারি বেলিংহ্যামকে কার্ড দেখাননি। খেলা শেষে আবার আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয় ইংল্যান্ডের মর্গ্যান রজার্সের। আর্জেন্টিনার ফুটবলারেরা রজার্সের সামনে উল্লাস করছিলেন। সেটা পছন্দ হয়নি তাঁর। তিনি গিয়ে লাউতারোকে ধাক্কা মারেন। তার পর শুরু হয় ঝামেলা।

    মেসির সঙ্গেও বিবাদ বেলিংহ্যামের

    প্রথমার্ধেই অবশ্য লিয়োনেল মেসির সঙ্গে বিবাদ হয় বেলিংহ্যামের। একটি বলের দখল নিতে গিয়ে দুই তারকা পড়ে যান। মেসির মনে হয়েছিল, বেলিংহ্যাম তাঁকে ফাউল করেছেন। তিনি রেফারিকে বলেন। ঠিক তখনই বেলিংহ্যাম তাঁকে পাল্টা কিছু বলেন। মেসিও জবাব দেন। দুই তারকা একে অপরের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। রেফারি তাঁদের সরিয়ে দেন। মেসির মুখ দেখে মনে হচ্ছিল, বেলিংহ্যামের কথায় অবাক হয়েছেন তিনি। অবশ্য সৌহার্দ্যের ছবিও দেখা গিয়েছে মাঠে। খেলা শেষে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন মেসি ও হ্যারি কেন। দুই তারকা একে অপরের সঙ্গে কিছু ক্ষণ কথাও বলেন।

    ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি

    গত ৬০ বছর ধরে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচ মানেই অন্য রকমের উত্তাপ। ফকল্যান্ড যুদ্ধের পর তা আরও বেড়েছে। এই ম্যাচেও ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি উস্কে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার ফুটবলার ও সমর্থকেরা। ফলে লড়াই শুধু ফুটবলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তা ছড়িয়ে পড়েছে মাঠের বাইরেও। আর্জেন্টিনা থেকে ৪৮০ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রের মধ্যে থাকা দ্বীপ ফকল্যান্ড। এই দ্বীপের দখল নেওয়া ঘিরে বার বার বিবাদে জড়িয়েছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। ১৯৮২ সালের ২ জুলাই ইংল্যান্ডের অধিকারে থাকা ফকল্যান্ড দ্বীপ আক্রমণ করে আর্জেন্টিনা। ৭৪ দিন ধরে চলেছিল সেই যুদ্ধ। শেষে আত্মসমর্পণ করে আর্জেন্টিনা। সেই যুদ্ধে আর্জেন্টিনার ৬৪৯ ও ইংল্যান্ডের ২৫৫ সেনা প্রাণ হারান। নিহত হয়েছিলেন ফকল্যান্ড দ্বীপের তিন বাসিন্দা।

    ফকল্যান্ড দ্বীপ তাঁদেরই

    এদিনও খেলার শেষে ফুটবলারদের হাতে ছিল ব্যানার। সেই একই ব্যানার ছিল সমর্থকদের হাতেও। খেলা শেষে বিশেষ ব্যানার নিয়ে উল্লাসে মাতলেন আর্জেন্টিনার ফুটবলার ও সমর্থকেরা। সেমিফাইনাল চলাকালীন আর্জেন্টিনার ফুটবলার জিয়োভানি লো সেলসোর হাতে একটি ব্যানার দেখা যায়। তাতে লেখা, ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস।’ স্প্যানিশে এই কথার বাংলা অর্থ, ‘মালভিনাস আমাদেরই।’ ফকল্যান্ড দ্বীপকে মালভিনাস বলে ডাকেন আর্জেন্টিনার বাসিন্দারা। অর্থাৎ, ম্যাচের মধ্যে তাঁরা স্লোগান তোলেন যে, ফকল্যান্ড দ্বীপ তাঁদেরই। খেলা শেষে নিকোলাস ওটামেন্ডি ও লো সেলসো সেই ব্যানার তুলে ধরেন। আর্জেন্টিনার বাকি ফুটবলারেরাও তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। গ্যালারিতে থাকা আর্জেন্টিনার সমর্থকদের হাতেও ছিল একই ব্যানার। অর্থাৎ, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেই ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি আরও এক বার উস্কে দিলেন আর্জেন্টিনার ফুটবলার ও সমর্থকেরা। সেই ব্যানার হাতেই উল্লাস করলেন তাঁরা। রাজনৈতিক স্লোগান লেখা ব্যানার দেখিয়ে আর্জেন্টিনা নিয়ম ভেঙেছে কি না, তা অবশ্য এখনও জানা যায়নি। এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ফিফা সরকারী ভাবে কিছু বলেনি। তবে খেলা দেখতে মাঠে গিয়েছিলেন ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তাঁর সামনেই পুরো ঘটনা ঘটেছে।

  • FIFA World Cup 2026: ৮৪ মিনিট পিছিয়ে থেকে প্রত্যাবর্তন! আর্জেন্টিনার ৭ মিনিটের ঝড়ে বেসামাল ইংল্যান্ড, বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসিরা

    FIFA World Cup 2026: ৮৪ মিনিট পিছিয়ে থেকে প্রত্যাবর্তন! আর্জেন্টিনার ৭ মিনিটের ঝড়ে বেসামাল ইংল্যান্ড, বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসিরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পিছিয়ে পড়া, হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা, তারপর হঠাৎই প্রত্যাবর্তন। চলতি বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) এক অবিশ্বাস্য মহাকাব্য লিখে চলেছেন মেসিরা। বলা ভাল আর্জেন্টিনা। এই দল দেখিয়ে দিচ্ছে, মেসি (Lionel Messi) গোল না করলেও জিততে পারে তারা। মেসিকে যে প্রতিপক্ষ বোতলবন্দি করার চেষ্টা করবে, এ আর নতুন কী? একমাত্র আলজেরিয়া বাদে বাকি সব ম্যাচে তা দেখা গিয়েছে। ইংল্যান্ডও আটকে রেখেছিল তাঁকে। গোটা ম্যাচে বক্সে বার দু’য়েকের বেশি ঢুকতে পারেননি তিনি। তাতে কী? দলের জয় আটকায়নি। ৮৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। শেষ ৭ মিনিটের আর্জেন্টিনীয় ঝড়েই হারিয়ে গেলেন হ্যারি-কেনরা।

    এই ম্যাচ অন্য সাধারণ ম্যাচের মতো নয়

    এই ম্যাচ অন্য সাধারণ ম্যাচের মতো ছিল না। একে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। তার উপর আবার প্রতিপক্ষের নাম ইংল্যান্ড। যে দেশের বিরুদ্ধে খেলা শুধুমাত্র ফুটবলে সীমাবদ্ধ থাকে না। তা হয়ে ওঠে যুদ্ধ। আর সেই যুদ্ধ জিতেছে আর্জেন্টিনা। ৮৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকে জিতেছে। মেসি-সহ পুরো আর্জেন্টিনা দল এই প্রথম বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলল। কিন্তু ১৯৬৬, ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের লড়াইয়ের কথা তাঁদের জানা। ফকল্যান্ড যুদ্ধ তাঁদের স্মৃতিতে। তাই পিছিয়ে পড়ার পর যে লড়াইটা আর্জেন্টিনা করেছে তা ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে। জয়ের পর মেসি জানালেন, এই জয় আর্জেন্টিনার প্রত্যেকের জয়। খেলা শেষে মেসি বলেন,“এটা বিশ্বকাপের আরও একটা ম্যাচ হলেও বাকি ম্যাচের থেকে আলাদা। সমর্থকেরা এই জয়টা চেয়েছিল। কারণ, ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার মতো আনন্দ আর কিছুতে নেই। সেটা আমরা সমর্থকদের দিতে পেরেছি।”

    পুরোপুরি সফল স্কালোনি

    প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধের খেলায় আকাশ-পাতাল ফারাক। লড়াই শুধু ফুটবলারদের ছিল না, লড়াই ছিল দু’দলের কোচেরও। প্রথমার্ধে লিয়োনেল স্কালোনির পরিকল্পনা দেখে মনে হল, গোল করতে নয়, হ্যারি কেনদের থামাতে নেমেছে আর্জেন্টিনা। রদ্রিগো ডি পলের বদলে জিউলিয়ানো সিমিয়োনেকে নামানোর কারণই ছিল তাই। নিজের কাজ করলেন তিনি। দেখে মনে হচ্ছিল, বাবা দিয়েগো সিমিয়োনের কাছ থেকে ট্রেনিং নিয়ে নেমেছেন। প্রথমার্ধের ফুটবলে মন ভরেনি। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার খেলা দেখে। নিজেদের খেলা না খেলে ইংল্যান্ডের খেলা নষ্ট করতে নেমেছিল তারা। পর পর ফাউল হচ্ছিল। খেলার ছন্দ নষ্ট করছিলেন সিমিয়োনে, লিয়োনার্দো পারেদেসরা। স্কালোনি অবশ্য তাঁর পরিকল্পনায় পুরোপুরি সফল। প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডের ছন্দ নষ্ট করেছেন তাঁর ফুটবলারেরা। ফলে আক্রমণ করলেও গোলের মুখ খুলতে পারেননি কেনেরা। সেটাই পরিকল্পনা ছিল তাঁর।

    নিজের ভুলেই আটকে গেলেন টমাস টুখেল

    প্রথমার্ধে ১৯টি ফাউল হয়। ১২টি করে আর্জেন্টিনা। সাতটি ইংল্যান্ড। মাঝে মাঝেই খেলা থামছিল। ধাক্কাধাক্কি করছিলেন দু’দলের ফুটবলারেরা। সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন রেফারি। তিনিও হয়তো চাইছিলেন তাড়াতাড়ি বিরতি নিতে। তাই এত ফাউলের পরেও মাত্র ৩ মিনিট সংযুক্তি সময় দেওয়া হল। দ্বিতীয়ার্ধে বদলে গেল খেলা। আর্জেন্টিনাকে আক্রমণে উঠতে দেখা গেল। আর তাতে জায়গা পেয়ে গেল ইংল্যান্ড। তাতেই গোল। ৫৫ মিনিটের মাথায় ডান প্রান্ত ধরে উঠে রিস জেমসের ক্রসে গোল করলেন অ্যান্টনি জর্ডন। পিছিয়ে পড়়ে বেরিয়ে এল আর্জেন্টিনার আসল খেলা। খোলস ছেড়ে বেরাল তারা। কারণ, গোল করা ছাড়া আর উপায় ছিল না। সেখানেই দুই কোচের দুই চালে খেলা ঘুরে গেল। যেখানে স্কালোনি একের পর এক আক্রমণ ভাগে ফুটবলার নামালেন, পারেদেস, লিসান্দ্রোদের তুলে ঝুঁকি নিলেন, সেখানেই টমাস টুখেল পার্ক দ্য বাস নীতিতে চলে গেলেন। এতটা রক্ষণাত্মক না হলেই পারতেন তিনি। এক গোলে এগিয়ে থেকে মেসিদের বিপক্ষে এতটা রক্ষণাত্মক হওয়া যায় না।

    শেষ ৭ মিনিটের ঝড়ে উড়ে গেল ইংল্যান্ড

    ডি পল, লাউতারোরা নামার পর মেসিরও সুবিধা হল। মিশর ম্যাচে যা করেছিলেন, তাই করলেন। সরে গেলেন ডান প্রান্তে। মার্কারকে এড়িয়ে গেলেন। তখন রক্ষণ করতে লোক বাড়াতে গিয়ে মেসিকে নজরে রাখতে পারলেন না স্পেন্স, গেহিরা। ফলে অনেক বেশি বল পেতে শুরু করলেন মেসি। জর্ডন পিকফোর্ড না থাকলে আরও আগেই গোল খেত ইংল্যান্ড। এঞ্জো ফের্নান্দেজের হেড দুর্দান্ত বাঁচান তিনি। ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড পোস্ট লেগে ফেরে। কিন্তু বার বার আক্রমণে শেষ পর্যন্ত ভাঙে তাদের রক্ষণ। ৮৫ মিনিটের মাথায় মেসির পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শটে গোল করেন ফের্নান্দেজ। সমতা ফিরিয়ে আর্জেন্টিনা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। তারা বুঝতে পারছিল, এই ঝড়ে ইংল্যান্ডের রক্ষণ আবার ভেঙে পড়তে পারে। হলও তাই। ম্যাক অ্যালিস্টারের আরও একটি শট পোস্টে লেগে ফেরে। পর পর আক্রমণে খেই হারিয়ে ফেলেছিল ইংল্যান্ড। তাতেই কাল হল। সংযুক্তি সময়ে মেসির ক্রসে হেড করে গোল করলেন লাউতারো। আর ফিরতে পারেনি ইংল্যান্ড।

    এই দলটা কখনও হাল ছাড়ে না

    মেসি জানিয়েছেন, এই ম্যাচে হারার উপায় ছিল না। তাঁদের জিততেই হত। সেটাই করেছেন তাঁরা। মেসি বলেন, “আর্জেন্টিনার কেউ এই ম্যাচটা হারতে চায়নি। এই হার হজম করতে পারতাম না। সেটা সকলেই জানে। তাই হয়তো আনন্দ কিছুটা বেশিই হচ্ছে। আমি জানি, গোটা আর্জেন্টিনা এখন আনন্দে লাফাচ্ছে।” কিন্তু ৮৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকে জয় সহজ কথা নয়। চলতি বিশ্বকাপে বারবার পিছিয়ে পরেই জিতেছে আর্জেন্টিনা। কাবো ভার্দের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সময়ে জিতেছে আর্জেন্টিনা। মিশরের বিরুদ্ধে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ০-২ পিছিয়ে থেকেও ৩ গোল করেছে তারা। কিন্তু সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মতো দলের বিরুদ্ধে পিছিয়ে থেকে জেতা সহজ ছিল না। মেসি বলেন, “এই দলটা কখনও হাল ছাড়ে না। হারার ভয় আমাদের নেই। খালি জানি, শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করতে হবে। এই ম্যাচেও সেটাই করেছি। ওদের অর্ধেই ওদের মাটিতে ফেলে হারিয়েছি। আমরা অতিরিক্ত সময় খেলতে চাইনি। ৯০ মিনিটেই জিততে চেয়েছিলাম। সেটা করে দেখিয়েছি।”

    বিজয়ীর মুকুট কার মাথায়?

    ফাইনালে আর্জেন্টিনার সামনে এবার স্পেন। এক নতুন চ্যালেঞ্জ, এক নতুন পরীক্ষা। ফাইনালের মঞ্চে মুখোমুখি হবে দুই প্রজন্মের দুই প্রতীক। একদিকে ৩৯ বছরের বৃদ্ধ সিংহ লিওনেল মেসি। অন্যদিকে ১৯ বছরের তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল। একজন মহাকাব্যের শেষ অধ্যায় লিখতে চলেছেন। আরেক জন ইতিহাস তৈরি করতে চান। সময় বলবে ইতিহাস কাকে বিজয়ীর মুকুট পরাবে।

  • FIFA World Cup 2026: ষোল বছর পর ফ্রান্সকে একপেশে ম্যাচে হারিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেন, সামনে কে আর্জেন্টিনা না ইংল্যান্ড?

    FIFA World Cup 2026: ষোল বছর পর ফ্রান্সকে একপেশে ম্যাচে হারিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেন, সামনে কে আর্জেন্টিনা না ইংল্যান্ড?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ষোল বছর পর ফের বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) ফাইনালে স্পেন। গতবারের রানার্স ফ্রান্সকে প্রায় একপেশে ম্যাচে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য বিশ্বকাপ ফাইনালে ইয়ামালরা। তাদের সামনে ইউরো জয়ের দু’বছর পরে বিশ্বকাপ জেতার সুযোগ। যে ‘ডাবল’ স্পেন আগেও করেছে ২০০৮ ইউরো ও ২০১০ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে। আবারও বড় মঞ্চে ফ্রান্সের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ান লামিন ইয়ামাল (Lamine Yamal)। আর আবারও শেষ হাসি স্পেনের। ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে কিলিয়ান এমবাপেদের ২-০ গোলে হারিয়ে ২০১০ সালের পর প্রথমবার ফাইনালে উঠল লা রোজা।

    ডিগনে-র ভুলের খেসারত

    বক্সে উড়ে আসা বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ইয়ামালের গায়ে সরাসরি পা চালিয়ে দেন ডিগনে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ম্যাচের ২০ মিনিটে এই ভুলের খেসারত দিতে হল দিদিয়ের দেশঁর দলকে। পেনাল্টি পায় স্পেন। গোল করতে ভুল করেননি মিকেল ওয়ারজাবাল। চলতি মরসুমে দেশের হয়ে ১৪টি গোল হয়ে গেল তাঁর। স্পেনের আর কোনও ফুটবলার এক মরসুমে দেশের জার্সিতে এত গোল করতে পারেননি। চাপে পড়ে যায় ফ্রান্স। পিছিয়ে পড়লেও গুটিয়ে যায়নি ফ্রান্স। ধীরে ধীরে মাঝ মাঠে দাপট বাড়াতে থাকে তারা। আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচ। দলগত কৌশল এবং ব্যক্তিগত দক্ষতার লড়াইয়ে তবু বার বার আটকে গিয়েছে ফ্রান্স

    নজরবন্দি এমবাপে

    পারফরম্যান্সের নিরিখে বিশ্বকাপের সেরা দু’দল মুখোমুখি হয়েছিল প্রথম সেমিফাইনালে। মাঠে ফুটবলারদের লড়াইয়ের পাশাপাশি আগ্রহ ছিল দুই কোচের কৌশলের টক্কর নিয়েও। তাতে দেশঁকে পিছনে ফেলে দিলেন লুই দে লা ফুয়েন্তে। আগ্রাসী মেজাজে শুরু করেছিল স্পেন। পেদ্রো পোরো, পাউ কুবারসি, আয়মেরিক লাপোর্তেরা মাঝ মাঠেই অফসাইডের ফাঁদ পেতে রেখেছিলেন। ফর্মে থাকা এমবাপে এবং উসমান দেম্বেলে জুটিকে এক রকম অকেজো করে দেন অফসাইডের ফাঁদে ফেলে। প্রথমার্ধে একাধিক বার মাঝ মাঠ পেরিয়েই অফসাইডে আটকে যান এমবাপেরা! কুবারসি প্রায় সারাক্ষণ নজরবন্দি করে রাখেন ফরাসি অধিনায়ককে।

    স্পেনের রক্ষণে তাল কাটল ফ্রান্সের

    দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন এমবাপেরা। স্পেনের রক্ষণে চাপ বাড়াতে শুরু করেন। তবে বক্সের মধ্যে তাল কেটে যায় এমবাপেদের। কয়েক বার পরিস্থিতি সামলান সিমন। স্পেন এ সময় খেলছিল প্রতি আক্রমণমূলক ফুটবল। ৫৮ মিনিটে তেমনই একটি আক্রমণে ভুল করে বসে ফরাসি রক্ষণ। বক্সের একদম ফাঁকায় বল পেয়ে যান পেদ্রো পোরো। ডান পায়ের শটে পরাস্ত করেন মাইক মাইগনান। আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি ফ্রান্স। বলটা তো আমার, কাউকে দেব কেন— টিপিক্যাল স্প্যানিশ ফিলসফির এই চেনা ছবিটাই ডালাসের স্টেডিয়ামে প্রকট হয়ে ওঠে। অপ্রতিরোধ্য এমবাপে–ওলিজে–দেম্বেলেরা মঙ্গলবার রাতে স্প্যানিশ ডিফেন্সের সামনে যেন খোলসে ঢুকে পড়লেন।

    জমাট রক্ষণে বিশ্বকাপের স্বপ্ন

    গোটা বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের আগে ফ্রান্সের মতো অ্যাটাক সামলাতে হয়নি স্পেনকে। আবার স্পেনের মতো ডিফেন্সের সামনেও পড়েনি ফ্রান্স। শেষ চারের এই টক্করে লুইস দে লা ফুয়েন্তের স্পেনই দেখিয়ে দিল, কী ভাবে এমবাপে–ওলিজদের ডিফেন্ড করতে হয়। ফ্রান্সের ফ্লুইড গতি থামিয়ে দিল স্পেনের মাঝমাঠ ও ডিফেন্সিভ অর্গানাইজেশন। বিশ্বকাপের সেরা সেন্টারব্যাক জুটি কুবার্সি–লাপোর্তে এবং তাঁদের সামনে রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইস বারবার রুখে দিচ্ছিলেন দেম্বেলে–ওলিজেদের। আর বলতেই হবে স্প্যানিশ লেফটব্যাক মার্ক কুকুরেইয়ার কথা। মাঠের প্রায় সব জায়গাতেই যেন হাজির হয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। সে রকমই তৎপর ছিলেন কিপার উনাই সিমোন। কখনও বক্সের ভিতরে লাফিয়ে, কখনও বক্সের বাইরে বেরিয়ে সামাল দিচ্ছিলেন ফরাসি আক্রমণ। সাত ম্যাচে এটি তাঁর ছয় নম্বর ক্লিনশিট। পুরো টুর্নামেন্টে এখনও পর্যন্ত মাত্র একটি গোল হজম করেছে স্পেন (Spain vs France)। ফাইনালে তাদের সামনে মেসিই থাকুন বা কেন-বেলিংহ্যাম বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে স্পেন।

    স্পেনের সামনে কে?

    দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বুধবার রাতে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড। দুটো দেশের অতীত ফুটবল ইতিহাসে গৌরব আর কলঙ্ক হাত ধরাধরি করে থাকলে কী হবে, এই সেমিফাইনালে এখন সেগুলো স্রেফ পুরোনো অলঙ্কার বিশেষ। স্বয়ং মেসি ইতিহাস না টেনে বলছেন, ‘সত্যিটা হলো, এটা স্পেশ্যাল ম্যাচ, কারণ সব টিমের বিরুদ্ধে খেললেও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে আমি কখনও খেলিনি। বিগ টিম, পাওয়ার হাউস। সেটা মাথায় আছে টিমের।’ আবার ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার ওরিলির বক্তব্য, ‘মেসির বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পাওয়াটা জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কিন্তু ইংল্যান্ডকে জেতাতে মাঠে আসুন।’

    ইংল্যান্ডের সামনে মেসি-ফ্যাক্টর

    ২০০২ সালে যখন বেকহ্যামের পেনাল্টিতে ইংল্যান্ড জিতেছিল, জুড বেলিংহ্যাম জন্মাননি, মেসির বয়স ছিল ১৫! মোট ২০৫টা আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১২৫ গোল, কিন্তু আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে কোনওদিন মেসিকে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নামতে হয়নি। বিশ্বকাপে টানা আটটা ম্যাচে গোলের পরে নয় নম্বর ম্যাচে সুইসদের বিরুদ্ধে প্রথমবার গোল আসেনি। মেসিকে সামান্য ক্লান্তও দেখিয়েছে। ওয়েন রুনি মনে করিয়ে দিচ্ছেন সে কথা, ‘মেসি ডিফেন্সকে সাহায্য করতে নীচে নেমে আসে না। মেসি মানে মুহূর্তের মনোসংযোগ ও কমিউনিকেশন। এমন জায়গায় পৌঁছে যাওয়া, যা কেউ ভাববে না। এখানেই সতর্ক থাকতে হবে ইংল্যান্ডকে।’

    দুই কোচের স্বপ্ন

    ফিফার পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এ বার বারবার আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে উঠেছে। কিন্তু সে সব ছাপিয়ে টিম শেষ চারে পৌঁছেছে। বিশ্বকাপে টানা ১২ ম্যাচে অপরাজিত থাকাটা ফ্লুকে অসম্ভব। গোটা টিম মেসিকে কেন্দ্র করে আবর্তিত, গোটা টিম আপ্রাণ চেষ্টা করেছে, যাতে ফুটবল ঈশ্বরের জীবনের শেষ বিশ্বকাপ হঠাৎ যেন শেষ না হয়ে যায়। কোচ স্কালোনি বলছেন, ‘এই টিম কী করে কঠিন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসে, আমি নিজেই বলতে পারব না। একটাই বোধহয় ব্যাখ্যা হয়। এরা জানে, জেতা ছাড়া আর্জেন্তিনার কোনও বিকল্প নেই।’ ১৯৬৬ সালের পরে ৬০ বছর পরে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছে ইংল্যান্ড। সে দেশের মিডিয়াই মেনে নিচ্ছে, জুড বেলিংহ্যাম না থাকলে ইংল্যান্ড মোটেই সেমিফাইনালে যায় না। হ্যারি কেন নন, রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডারই এ বার থ্রি লায়ন্সের আসল নায়ক। মেক্সিকো এবং নরওয়ে, পরপর দুটো ম্যাচে ব্রেস (জোড়া গোল), ১৯৮৬ সালে মারাদোনার পরে একটা বিশ্বকাপে পরপর দুটো নক আউটে জোড়া গোল করার রেকর্ড এখন বেলিংহ্যামের।

     

     

  • India: লর্ডসে ইতিহাস গড়ে ইংল্যান্ডকে ২৭০ রানে উড়িয়ে দিল ভারত, শতরানে উজ্জ্বল যাস্তিকা

    India: লর্ডসে ইতিহাস গড়ে ইংল্যান্ডকে ২৭০ রানে উড়িয়ে দিল ভারত, শতরানে উজ্জ্বল যাস্তিকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লর্ডসের ১৪২ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার অনুষ্ঠিত হওয়া মহিলাদের টেস্ট ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখল ভারত (India)। ঐতিহাসিক এই ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ২৭০ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে একতরফা জয় তুলে নিল হরমনপ্রীত কৌরের দল। ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই (Womens Test) ইংল্যান্ডকে ছাপিয়ে গিয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল ভারতের প্রমীলা বাহিনী।

    টেস্ট ক্রিকেটে অটুট ভারতের দাপট (India)

    এই জয়ের ফলে মহিলাদের টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের সাম্প্রতিক দাপট আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। শেষ ১১টি টেস্টে ভারতের ঝুলিতে রয়েছে সাতটি জয়, তিনটি ড্র এবং মাত্র একটি হার। পাশাপাশি ইংল্যান্ডের মাটিতে খেলা ১১টি মহিলাদের টেস্টেও এখনও অপরাজিত ভারত।ইংল্যান্ডের সামনে জয়ের জন্য ৪৫৭ রানের কঠিন লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছিল নরেন্দ্র মোদির দেশের ‘দুর্গা’রা। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থ দিনের খেলায় মাত্র ১৮৬ রানেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ফলে অনায়াসেই ২৭০ রানের জয় নিশ্চিত করে ভারত। ভারতের এই ঐতিহাসিক জয়ের ভিত গড়ে দেন যাস্তিকা ভাটিয়া। দ্বিতীয় ইনিংসে দুরন্ত শতরান করে তিনি লর্ডসে টেস্টে শতরান করা প্রথম মহিলা ক্রিকেটার হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখান। তাঁর অনবদ্য ইনিংসের সুবাদে ভারত দ্বিতীয় ইনিংসে সাত উইকেটে ৩৪১ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। প্রথম ইনিংসে ১১৫ রানের লিড থাকায় ভারতের মোট লিড দাঁড়ায় ৪৫৬ রান। স্মৃতি মন্ধনা ৭০ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। রিচা ঘোষ অপরাজিত ৫০ রান করে ইংল্যান্ডের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেন।

    ‘অপরাজিতা’…

    এর আগে প্রথম ইনিংসে ভারত ২৮৫ রান তোলে। স্মৃতি মন্ধনা ৮৩, অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর ৫৮ এবং দীপ্তি শর্মা ৫৭ রানের মূল্যবান ইনিংস খেলেন। জবাবে ইংল্যান্ড মাত্র ১৭০ রানেই অলআউট হয়ে যায়। অভিষেক ম্যাচেই পেসার ক্রান্তি গাউড পাঁচ উইকেট নিয়ে ভারতের প্রথম ইনিংসের লিড নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা নেন (India)। ৪৫৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। ট্যামি বিউমন্ট শূন্য রানে প্রথম বলেই আউট হন। অভিজ্ঞ হেদার নাইটও অল্প রান করে ফিরে যান (Womens Test)। এরপর অ্যামি জোনস ও সোফি একলস্টোন কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। একলস্টোন ভারতের দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতেও লড়াই করেন। তবে ভারতের বোলিং আক্রমণের সামনে সেই প্রতিরোধ টেকেনি। শেষ দিনে দীপ্তি শর্মা চার উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের ইনিংস গুটিয়ে দেন এবং ভারতের স্মরণীয় জয় নিশ্চিত করেন। এই জয়ের মাধ্যমে মহিলাদের টেস্ট ক্রিকেটে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করল ভারত। যাস্তিকার ঐতিহাসিক শতরান এবং ক্রান্তির অভিষেকেই পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব যেমন ভারতের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি (Womens Test) হয়ে রইল, তেমনই অভিজ্ঞ হেদার নাইট ও ট্যামি বিউমন্টের বিদায়ী টেস্ট ইংল্যান্ডের কাছে (India) হতাশার স্মৃতি হয়ে রইল।

     

  • FIFA World Cup 2026: ইউরোপীয় মহারণ! বিশ্বকাপের শেষ চারে মুখোমুখি ফ্রান্স ও স্পেন, এগিয়ে কারা?

    FIFA World Cup 2026: ইউরোপীয় মহারণ! বিশ্বকাপের শেষ চারে মুখোমুখি ফ্রান্স ও স্পেন, এগিয়ে কারা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) মঞ্চে আবারও মুখোমুখি হতে চলেছে ইউরোপীয় ফুটবলের প্রথম দুই দেশ। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে নামবে ফ্রান্স ও স্পেন (France vs Spain)। ইতিহাস বলছে, বিশ্বকাপে এটাই হবে দুই দলের দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। প্রথমটি হয়েছিল ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে। শেষ ষোলোর সেই ম্যাচে ফ্রান্স ৩-১ গোলে হারায় স্পেনকে। তবে, আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফ্রান্স ও স্পেন ৩৮ বার মুখোমুখি হয়েছে। লা রোহা ব্রিগেডের জয় ১৮টি। ফরাসিরা জিতেছে ১৩ বার। ড্র ৭টি। ২০২৫ নেশনস লিগের সেমি-ফাইনালে দু’দলের শেষ সাক্ষাতে ইয়ামালের জোড়া গোলে ৫-৪ জয় স্পেনের।

    দুই দলের কে কোথায় এগিয়ে-পিছিয়ে

    এমবাপেই ফ্রান্সের সবচেয়ে বিধ্বংসী অস্ত্র। ৮টি গোল ও ৩টি অ্যাসিস্টের সুবাদে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার সামনে তিনি। এছাড়া আক্রমণভাগে ডেম্বেলে (৫টি গোল) এবং মাইকেল ওলিসেও (৫টি অ্যাসিস্ট) দুর্দান্ত ফর্মে। অন্যদিকে, মাঠমাঝে রড্রি ও অ্যাটাকিং থার্ডে ড্যানি ওলমো স্পেনকে পরিচালনা করছেন। ওয়ারজাবালের নামের পাশে ৪টি গোল। কোচের আস্থার মর্যাদা রাখছেন সুপার-সাব মিকেল মেরিনো। সেরা তারকা লামিনে ইয়ামালও ক্রমশ ছন্দে ফিরছেন। অত্যন্ত শক্তিশালী ও ঈর্ষণীয় আক্রমণভাগ ফ্রান্সের। ডেম্বেলের সঙ্গে এমবাপের যুগলবন্দি দুর্দান্ত জমেছে। মাঝমাঠে খেলা তৈরি করছেন ওলিসে ও ডুয়ে। তবে, গ্রুপ পর্বে ফরাসিদের রক্ষণভাগে দুর্বলতা দেখা গিয়েছিল। নক-আউটে গত তিনটি ম্যাচে গোল হজম না করলেও ছোটোখাটো ভুল চোখে পড়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত এমবাপে নির্ভরতা কাটাতে হবে। শক্তিশালী মাঝমাঠ স্পেনের ভরসা। সঙ্গে সুদৃঢ় রক্ষণভাগ। ছয় ম্যাচে স্পেন মাত্র একটি গোল খেয়েছে। বল দখলে রেখে খেলার দক্ষতায়ও লা রোহা ব্রিগেড প্রতিপক্ষের থেকে অনেকটাই এগিয়ে। যদিও আক্রমণভাগে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় থাকা সত্ত্বেও ভেদশক্তির অভাবে ভুগছে স্প্যানিয়ার্ডরা। ইয়ামালকেও আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে।

    সাম্প্রতিক দ্বৈরথে স্পেনের দাপট

    বিশ্বকাপে না হলেও দুই দলের সাক্ষাতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্পেনই বেশি সফল। ২০২৫ সালের উয়েফা নেশনস লিগের সেমিফাইনালে নয় গোলের এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে স্পেন ৫-৪ ব্যবধানে ফ্রান্সকে হারায়। সেই ম্যাচে লামিনে ইয়ামাল জোড়া গোল করে ম্যাচের নায়ক হন। এরও এক বছর আগে, ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে স্পেন ২-১ ব্যবধানে ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। ওই ম্যাচে গোল করেন লামিনে ইয়ামাল ও দানি ওলমো। তবে ২০২১ সালের উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালে ফ্রান্স ২-১ ব্যবধানে স্পেনকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল। এবার দুই দলই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। একদিকে কিলিয়ান এমবাপের নেতৃত্বে ফ্রান্স, অন্যদিকে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন। তাই ডালাসের সেমিফাইনালটি হতে পারে পুরো বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা লড়াই। ভারতীয় সময় আজ ১২:৩০ টায় শুরু হওয়া এই লড়াই ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা তুঙ্গে।

  • FIFA World Cup 2026: ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম! ফিফা তালিকায় শীর্ষ চার দল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে

    FIFA World Cup 2026: ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম! ফিফা তালিকায় শীর্ষ চার দল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার ফিফা (FIFA) র‌্যাঙ্কিংয়ের প্রথম চারটি দল একসঙ্গে সেমিফাইনালে উঠল। ৪৮ দলের লড়াই, একাধিক আনকোরা দলের সঙ্গে ছিল রাউন্ড অফ ৩২-এর চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এই চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে কোনও অঘটন ঘটল না বিশ্বকাপে। সেমি ফাইনালে প্রবেশ করল ফিফা (FIFA World Cup 2026) র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দল—আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন এবং ইংল্যান্ড। সেমি ফাইনালে ওঠা চার দলই অতীতে অন্তত একবার করে বিশ্বকাপ জিতেছে। অর্থাৎ, এ বারও কোনও নতুন দল চ্যাম্পিয়ন হচ্ছে না। চারটি প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল এবার শেষ চারে লড়বে শিরোপার জন্য। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি মাত্র তৃতীয়বার, যখন সেমি ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে চারটি বিশ্বকাপজয়ী দেশ। এর আগে ১৯৭০ এবং ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপেও একই ঘটনা ঘটেছিল।

    সেমিফাইনালের সূচি (ভারতীয় সময়)

    প্রথম সেমিফাইনাল:

    ফ্রান্স বনাম স্পেন

    তারিখ : ১৫ জুলাই (বুধবার)
    সময়: রাত ১২:৩০টা
    ভেন্যু: ডালাস স্টেডিয়াম

    দ্বিতীয় সেমিফাইনাল:

    ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা

    তারিখ : ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার)
    সময়: রাত ১২:৩০টা
    ভেন্যু: আটলান্টা স্টেডিয়াম

    বিশ্বজয়ের স্বপ্ন

    ৬০ বছর পর কেন, বেলিংহ্যামদের পায়ে আবার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে ইংল্যান্ড। কোয়ার্টার ফাইনালে ২-১ ব্যবধানে নরওয়েকে হারায় ইংল্যান্ড। অন্যদিকে, সুইৎজারল্যান্ডকে ১২০ মিনিটের লড়াইয়ে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছেন লিয়োনেল মেসিরা। আর্জেন্টিনার অধিনায়কের কথায়, “জয়ের পর সত্যিই খুব ভাল লাগছে। পরিশ্রম করে জিততে হয়েছে। আমরা জানতাম খুব কঠিন ম্যাচ হবে। কিন্তু এই ম্যাচ জেতার দরকার ছিল। আরও এক বার আমাদের অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু এই দলটা কখনও বিশ্বাস করা থামায় না। আরও এক বার আমরা বিশ্বের সেরা চার দলের একজন।” মেসির সংযোজন, “জানি না আবার বিশ্বকাপ জিতব কি না। হওয়ার থাকলে নিশ্চয়ই হবে। গত বার জেতার আগে অনেক দিন বিশ্বকাপ পাইনি। তাই এখনকার প্রতিটা মুহূর্তকে উপভোগ করা দরকার।”

    বিশেষ নজরে কারা

    সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা খেলবে ইংল্যান্ডের সঙ্গে। দুই দেশের নকআউট ম্যাচের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এই ম্যাচেই ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল রয়েছে দিয়েগো মারাদোনার। পরবর্তী প্রতিপক্ষকে নিয়ে মেসি বলেছেন, “ওই গোলের (মারাদোনা) সম্পর্ক যা কিছু জেনেছি তা সবই ভিডিয়ো বা ছবি দেখে। আর্জেন্টিনীয়রা নিয়মিত সেই ছবি দেখেন। তবে এই দলটা প্রতিপক্ষের কথা না ভেবেই ফুটবল খেলে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলা সব সময়েই আনন্দের। কারণ ওরা ফুটবলের মহাশক্তি। সেই রকম দলের বিরুদ্ধে খেলা সব সময়েই আনন্দের। প্রথম বার ওদের বিরুদ্ধে খেলব। ইংল্যান্ড ছাড়া সব দেশের বিরুদ্ধে খেলেছি। সেরা ছন্দে থেকে খেলার চেষ্টা করব।” বিশেষ নজর থাকবে লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে, জুড বেলিংহ্যাম এবং লামিনে ইয়ামাল-এর মতো তারকাদের ওপর। বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে চার দলই নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে প্রস্তুত।

  • FIFA World Cup 2026: শেষবেলায় সুপার সাবের গোল! ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেন, বেলজিয়ামকে হারিয়ে সামনে এবার ফ্রান্স

    FIFA World Cup 2026: শেষবেলায় সুপার সাবের গোল! ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেন, বেলজিয়ামকে হারিয়ে সামনে এবার ফ্রান্স

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দাপট বজায় রেখেই কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে (FIFA World Cup 2026) স্পেন। আরও এক বার দেশকে জেতালেন ‘সুপার সাব’ মিকেল মেরিনো। সংযুক্তি সময়ে গোল করে দলকে জেতালেন তিনি। সেমিফাইনালে স্পেনের সামনে ফ্রান্স (Spain vs France)। ফ্রান্স এবং স্পেন দুই দেশই যে এ বার বিশ্বকাপ জয়ের দাবিদার, তা প্রতিযোগিতা শুরুর আগে থেকেই বলছিলেন বিশেষজ্ঞেরা। তবে ইউরোপের দুই শক্তিধর দেশের দেখা ফাইনালে নয়, হচ্ছে সেমিফাইনালেই। মঙ্গলবার রাত ১২.৩০টা থেকে শুরু ম্যাচ।

    ফ্রান্সকে হুঁশিয়ারি ইয়ামালের

    বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে ফ্রান্সকে হুঁশিয়ারি লামিনে ইয়ামালের। তাঁর দাবি, কিলিয়ান এমবাপেদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বরং ফ্রান্সেরই উচিত তাঁদের সমীহ করা। ফ্রান্সের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক জয়গুলির কথা উল্লেখ করে ইয়ামালের দাবি, প্রতিযোগিতার দুই সেরা দলের লড়াই হবে। ইয়ামাল মনে করছেন সেমিফাইনালে চাপে থাকবে দিদিয়ের দেশঁর দলই। ১৮ বছরের স্ট্রাইকার বলেছেন, ‘‘আমরা সত্যিই খুব উত্তেজিত। বিশ্বকাপ শুরুর সময়েই আমরা এই ম্যাচটা খেলার আশায় ছিলাম। স্পেন-ফ্রান্স ম্যাচের প্রত্যাশা ছিল। আমার মতে, প্রতিযোগিতার সেরা দুটো দল মুখোমুখি হতে চলেছে।’’ বিশ্বকাপে বেশ ভাল খেলছে ফ্রান্স। এমন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে স্পেন কি খেলার ধরন বদল করবে? ইয়ামাল মনে করেন না, এমন কিছুর প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘‘এমন একটা দলের বিরুদ্ধে খেলা পড়েছে, যারা নিশ্চিত ভাবে আমাদের উপর চাপ তৈরির চেষ্টা করবে। তবে গোটা ম্যাচ চাপে রাখতে পারবে না। আমরা আমাদের মতোই খেলব। ফ্রান্স যদি কোনও দলকে সমীহ করে, সেটা আমরাই। কারণ আমরাই ওদের আগের প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে দিয়েছিলাম।’’

    সেমিফাইনালে চাপে ফ্রান্স!

    ২০২৪ সালের ইউরোর সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিরুদ্ধে তাঁদের ২-১ ব্যবধানে জয়ের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন ইয়ামাল। যখন তাঁর বয়স ছিল ১৬। ইয়ামালের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে দু’দলের ম্যাচের ফলাফলগুলিই ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে চাপে রাখবে। বিশ্বকাপে এখনও পর্যন্ত একটি গোল করেছেন ইয়ামাল। তবে সবচেয়ে বেশি ১৭টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন। শেষ দু’টি ম্যাচে গোলে ন’টি শট মেরেছেন বার্সেলোনার স্ট্রাইকার। ইয়ামাল অবশ্য ব্যক্তিগত সাফল্যকে গুরুত্ব দিতে চাইছেন না। তিনি বলেছেন, ‘‘এটা হতাশার কোনও কারণ নয়। আমি তো ইউরো কাপেও একটা গোল করেছিলাম। দল যতক্ষণ এগিয়ে চলেছে, ততক্ষণ ভাবার বা হতাশার কোনও কারণ নেই। দলই আমার কাছে আগে। আশা করছি, আমরা আরও একটা ভাল জয় পাব।’’ ফ্রান্সে এমবাপের মতো ফুটবলার রয়েছেন। তাও সেমিফাইনাল নিয়ে দৃঢ়চেতা ইয়ামাল বলেছেন, ‘‘আমরা আত্মবিশ্বাসী। ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। আরে শেষ দুটো ম্যাচে আমরাই জিতেছি। ওদেরই বরং আমাদের ভয় পাওয়া উচিত। সেমিফাইনালে উঠে আমরা খুশি। আমরা বেশ ভাল খেলছি। অন্য দলগুলো আমাদের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। আমরা এখানে এসেছি ট্রফি জিততে। সেটাই আসল।’’

    সুপার-সাবের গোলেই বাজিমাত

    পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে যেখানে শেষ করেছিলেন, বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে সেখান থেকেই যেন শুরু করলেন মিকেল মেরিনো। শেষ মুহূর্তে বদলি হিসেবে নেমে গোল করে আগের ম্যাচে স্পেনকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। এবার একই নাটকের পুনরাবৃত্তি করে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তুললেন লা রোজাদের। শুক্রবার রাতে লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের হয়ে গোল করেন ফাবিয়ান রুইজ ও মিকেল মেরিনো। বেলজিয়ামের একমাত্র গোলটি করেন চার্লস ডি কেটেলেয়েরে।

    গোলকিপারদের লড়াই, চোট কুর্তোয়ার

    ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল এবং আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে স্পেন। লামিন ইয়ামাল, দানি ওলমো, ফেরান তোরেসরা একের পর এক আক্রমণ শানালেও বেলজিয়ামের গোলপোস্টের নিচে যেন প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন থিবাউট কুর্তোয়া। ৩০ মিনিটে অবশেষে গোলের দেখা পায় স্পেন। ইয়ামালের সঙ্গে দারুণ ওয়ান-টু খেলে পেদ্রো পোরো বল বাড়ান দানি ওলমোকে। ওলমোর নিচু শট প্রথমে ঠেকিয়ে দেন কুর্তোয়া। কিন্তু ফিরতি বলে সুযোগ নষ্ট করেননি ফাবিয়ান রুইজ। পাঁচ মিনিট পর আবারও ইয়ামালের দারুণ ফ্রি-কিক অসাধারণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন কর্তোয়া। স্পেনের একের পর এক আক্রমণের মাঝেও সুযোগের অপেক্ষায় ছিল বেলজিয়াম। ৪১ মিনিটে সেই সুযোগ কাজে লাগান চার্লস ডি কেটেলেয়েরে। কেভিন ডি ব্রুইনের নিখুঁত ক্রসে গোলমুখে হেড করে উনাই সিমনকে পরাস্ত করেন তিনি। ১-১ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ। এই গোলটা খেয়ে সিমন ৬৪৯ মিনিট পর গোল খেলেন। দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার কমায়নি স্পেন। ৫৮ মিনিটে দূরপাল্লার শটে ইয়ামালকে হতাশ করেন কুর্তোয়া। এরপর ৬১ মিনিটে ফের একক প্রচেষ্টায় গোলের সুযোগ তৈরি করলেও বেলজিয়ান গোলরক্ষক দুর্দান্ত সেভ করেন। অন্যদিকে, ডি ব্রুইনের শট দারুণভাবে আটকে দেন স্পেন গোলকিপার উনাই সিমন। দুই গোলকিপারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ম্যাচের উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। ৭১ মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন থিবাউট কুর্তোয়া। চোখে জল নিয়েই মাঠ ছাড়েন তিনি। তাঁর পরিবর্তে মাঠে নামেন সেনে লামেন্স। কর্তোয়ার বিদায়ের পরও বেশ কিছুক্ষণ বেলজিয়ামের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি স্পেন।

    মিকেল মেরিনোর ম্যাজিক

    ৮৪ মিনিটে দানি ওলমোর বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মিকেল মেরিনো। মাঠে নামার মাত্র ১১৫ সেকেন্ড পরই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন তিনি। ৮৮ মিনিটে পাউ কুবার্সির দূরপাল্লার শট প্রথমে ঠেকালেও বল পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেননি লামেন্স। সেই সুযোগ লুফে নিয়ে গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন মেরিনো। এই গোলেই ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্পেন। শেষ ষোলোর ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষেও বদলি নেমে জয়সূচক গোল করেছিলেন মেরিনো। এবার কোয়ার্টার ফাইনালেও একই কীর্তি গড়লেন তিনি। এর ফলে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা দুই ম্যাচে ৮০ মিনিটের পর জয়সূচক গোল করা প্রথম ফুটবলার হিসেবে ইতিহাস গড়লেন স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার। এছাড়া মাঠে নামার ১১৫ সেকেন্ডের মধ্যে গোলটি বিশ্বকাপে স্পেনের কোনও বদলি ফুটবলারের দ্রুততম গোল। এতদিন এই রেকর্ড ছিল ১৯৮২ সালে যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে এনরিকে সাউরার (১৫৯ সেকেন্ড)।

     

     

     

  • BBL Opening Match in India: ক্রিকেটেও ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের নয়া অধ্যায়! বিগ ব্যাশ লিগের উদ্বোধনী ম্যাচ চেন্নাইয়ে, মেলবোর্নে ঘোষণা মোদির

    BBL Opening Match in India: ক্রিকেটেও ভারত-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের নয়া অধ্যায়! বিগ ব্যাশ লিগের উদ্বোধনী ম্যাচ চেন্নাইয়ে, মেলবোর্নে ঘোষণা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-অস্ট্রেলিয়া কৌশলগত সম্পর্কের পাশাপাশি এবার ক্রিকেটেও নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা বিগ ব্যাশ লিগ (BBL Opening Match in India)-এর উদ্বোধনী ম্যাচ। ইতিহাসে এই প্রথম কোনও বিদেশি ক্রিকেট লিগ ভারতের মাটিতে ম্যাচ আয়োজন করতে চলেছে। মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে বৈঠকের পর এই ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুই দেশের মধ্যে ক্রীড়া সহযোগিতা আরও গভীর করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মোদি এবং আলবানিজ। ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে এটি যেমন বড় খবর, তেমনই দুই দেশের ক্রীড়া ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এটি এক নতুন মাইলফলক বলে মনে করা হচ্ছে।

    কবে হবে বিগ ব্যাশ লিগ (BBL)-এর ম্যাচ

    ঘোষণা অনুযায়ী, বিগ ব্যাশ লিগ (BBL)-এর ১৬তম মরসুমের উদ্বোধনী ম্যাচ ১২ ডিসেম্বর চেন্নাইয়ের এম এ চিদাম্বরম (চিপক) স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে মেলবোর্ন রেনেগেডস এবং পার্থ স্কর্চার্স। এটি হবে বিগ ব্যাশ লিগের ইতিহাসে বিদেশের মাটিতে আয়োজিত প্রথম ম্যাচ। ম্যাচটি ভারতীয় সময় দুপুর ২:৪০ মিনিটে শুরু হবে। এই বিশেষ আয়োজনের জন্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)-এর পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি ১০ জুলাই মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (MCG) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ যৌথভাবে ঘোষণা করেন। দুই দেশের সরকারই ক্রীড়াক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগকে সমর্থন করেছে।

    এমসিজিতে অন্য অনুভূতি

    প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi in Australia) বলেন, “এমসিজিতে প্রবেশ করলে একজন ভারতীয়ের মনে একসঙ্গে দুটি অনুভূতি জাগে। প্রথমত, ভারত-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের উত্তেজনা এবং দ্বিতীয়ত, এই উপলব্ধি যে আমাদের দুই দেশেই ক্রিকেট শুধু একটি খেলা নয়, এটি এক অভিন্ন আবেগ। তবে আজ শেষ ওভারের চাপ নেই, রয়েছে শুধুই খেলার আনন্দ, আমাদের বন্ধুত্বের উষ্ণতা এবং ভবিষ্যতের চ্যাম্পিয়নদের অনুপ্রেরণা।” বিগ ব্যাশ লিগের জেনারেল ম্যানেজার অ্যালিস্টেয়ার ডবসন জানান, বিদেশে বিগ ব্যাশের ম্যাচ আয়োজন লিগের দীর্ঘমেয়াদি সম্প্রসারণের কৌশলের অংশ। ডবসনের কথায়, “বিগ ব্যাশের জনপ্রিয়তা অস্ট্রেলিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে বহু দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। নতুন বাজারে পৌঁছে আরও বেশি দর্শকের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা আমাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য। এর ফলে সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ এবং খেলোয়াড় ও ক্লাবগুলির জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে।” ভারতে বিগ ব্যাশের উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজনকে ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রীড়া সম্পর্ককে আরও গভীর করার পাশাপাশি এটি বিশ্বজুড়ে বিগ ব্যাশ লিগের জনপ্রিয়তা বাড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

LinkedIn
Share