Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Mamata Banerjee: শনি সকালে কালীঘাটে পুজো শুভেন্দুর, মুসলিম ভোট পেতে রেড রোডে মমতা

    Mamata Banerjee: শনি সকালে কালীঘাটে পুজো শুভেন্দুর, মুসলিম ভোট পেতে রেড রোডে মমতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির ময়দানে আজ বিশেষ ছবি ধরা পড়ল। একদিকে রেড রোডের নমাজে অংশ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee), অন্যদিকে কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিয়ে দিন শুরু করলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। উৎসবের আবহে ধর্মীয় অনুষঙ্গকে সঙ্গী করেই ২০২৬-এর নির্বাচনী প্রচারের সুর বেঁধে দিলেন রাজ্যের দুই প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। এই নির্বাচনে মুসলিম ভোটই যে মমতার ভোটব্যাঙ্ক, সে বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছে না রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তাই ইদের দিনে সোজা রেড রোড থেকেই নির্বাচনী প্রচার করলেন। বিজেপির অভিযোগ,  তোষণ-নীতিকেই বরাবর অগ্রাধিকার দিয়েছেন মমতা।

    কালীঘাটে শুভেন্দুর পুজো ও প্রচারের শপথ (Mamata Banerjee)

    শনিবার সকাল সকালেই কালীঘাট মন্দিরে পৌঁছান শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। দেবী দর্শনের পর তিনি বলেন, “রাজ্যের মঙ্গল কামনায় এবং আগামীর লড়াইয়ে আশীর্বাদ নিতেই আমার মা কালীর কাছে প্রার্থনা। ধর্মীয় আচার পালনের মাধ্যমেই আমি জনসেবার সংকল্প গ্রহণ করেছি।” ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপি যে কোমর বেঁধে নামছে, সেই ইঙ্গিতও এদিন তিনি দিয়েছেন। কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিয়ে নির্বাচনী প্রচার পর্ব সেরে ফেললেন শুভেন্দু অধিকারী। নকুলেশ্বর শিব মন্দির, জগন্নাথ মন্দিরেও পুজো দিতে দেখা যায়। তবে এদিন কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতে আসাকে কেন্দ্র করে বেনজির নিরাপত্তা ছিল মন্দির চত্বরে। তাঁর আসার ঘন্টাখানেক আগে থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী নিরাপত্তা ছিল মন্দির চত্বরে।

    কেন এই কর্মসূচী তাৎপর্যপূর্ণ?

    রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুই ভিন্নধর্মী কর্মসূচী আসলে প্রতীকী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন তাঁর চিরাচরিত ‘সর্বধর্ম সমন্বয়’ ও ‘সংখ্যালঘু সমর্থন’ অটুট রাখার বার্তায় হিন্দুত্ব এবং হিন্দু ধর্মকে সমালোচনা করেন, তেমনি রেড রোডে নামাজে যোগদান করে মুসলিম প্রীতিকে বেশি করে প্রধান্য দেন। রাজ্যের ৩৫ শতাংশ ভোট নিজের পকেটে পুড়তে সর্বাত্মক চেষ্টা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পাল্টা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) তেমনি ‘হিন্দুত্বের আবেগ’ এবং ‘সনাতনী ভোটব্যাঙ্ক’ সংহত করার কৌশল বজায় রাখলেন। উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি দুই নেতাই পরোক্ষে বুঝিয়ে দিলেন—আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের লড়াই শুরু হয়ে গেছে।

    পরোক্ষ ভাবে অনুপ্রবেশকে সমর্থন মমতার

    আজ সকালে রেড রোডে আয়োজিত নমাজে শামিল হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। প্রতি বছরের মতো এবারও তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে মুসলিম ভাই-বোনদের শুভেচ্ছা জানান। তবে সেখানই মুসলিম সমাজের ভোট পেতে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে অনুপ্রবেশকারী বলে মন্তব্য করেন। পশ্চিমবঙ্গে কোথাও অনুপ্রবেশ নেই বলে ইঙ্গিত দেন।

  • Assembly Elections 2026: প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ সোমবার! তার পর কবে অতিরিক্ত তালিকা, জানাল কমিশন

    Assembly Elections 2026: প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ সোমবার! তার পর কবে অতিরিক্ত তালিকা, জানাল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট কবে বেরোবে, তা জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। সোমবার (Assembly Elections 2026) বিকেলেই প্রথম দফায় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বার করা হবে। কমিশন সূত্রে খবর, বুথভিত্তিক সাপ্লিমেন্টারি তালিকা (Supplementary List) পুরো প্রস্তুত না হওয়ায় শুক্রবার তালিকা প্রকাশ করতে পারেনি কমিশন। শুক্রবার পর্যন্ত জুডিশিয়াল অফিসারদের তরফে ৪০ হাজার বুথের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহেই দুটি সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বার করবে কমিশন।

    প্রতি শুক্রবার সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ

    কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ২৭ লাখ ৩০ হাজার অভিযোগের নিস্পত্তি হয়েছে। রাজ্যের সাত হাজারের বেশি বুথ থেকে নিষ্পত্তি হওয়া নামের তালিকা কমিশনের কাছে পৌঁছেছে। তবে সম্পূর্ণ তালিকা এখনও পাওয়া যায়নি। বাকি বুথ থেকে তালিকা কমিশনে আসার পরেই প্রথম অতিরিক্ত তালিকাটি প্রকাশ করা যাবে। সোমবার বিকেলের পর শুক্রবার ফের তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন। তার পরে প্রতি শুক্রবার সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। তবে তা ছিল অসম্পূর্ণ। ওই তালিকায় ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৬০৯ জনের নাম ‘যোগ্য’ হিসাবে রয়েছে। ‘বিবেচনাধীন’ ভোটার রয়েছেন ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন।

    ইদের পরেই তালিকা প্রকাশ

    হাইকোর্ট নিযুক্ত ৭০০-র বেশি বিচারবিভাগীয় আধিকারিক এই সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বানানোর কাজ করছেন। সিইও দফতর সূত্র জানা গিয়েছে, এই গতিতে চললে ভোটের আগে সমস্ত বিবেচনাধীন ভোটারের নিষ্পত্তি হয়ে যেতে পারে। সুপ্রিম কোর্ট আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিল, দ্রুত সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করতে হবে। শুক্রবারই প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্দিষ্ট দিন নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। ইদের সময় তালিকা প্রকাশে মত নেই বিচারকদের। তাঁদের আশঙ্কা, ইদের সময় তালিকা বেরোলে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হুমকির মুখে পড়তে হতে পারে তাঁদের। গতকালই দুই দফায় ডিজি ও স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে বৈঠক করেন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। সিইও ও বিশেষ পর্যবেক্ষকের সঙ্গেও বৈঠক করেন। জানা গিয়েছে, বৈঠকে প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের সামনে উদ্বেগ প্রকাশ করেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। ইদের সময় তালিকা প্রকাশে মত ছিল না বিচারকদের। পরবর্তীতে ইদ মেটার পরই সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

  • Weather Update: রাত থেকে বৃষ্টি, সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া! শহরে পারদ নামল ছ’ডিগ্রি, কতদিন চলবে নিমনচাপ?

    Weather Update: রাত থেকে বৃষ্টি, সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া! শহরে পারদ নামল ছ’ডিগ্রি, কতদিন চলবে নিমনচাপ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বসন্তের মাঝেই বৃষ্টির ছোঁয়া। রাতভর বৃষ্টি হল কলকাতায়। শনিবার সকাল থেকেও আকাশের মুখ ভার। রোদ ওঠেনি। উল্টে ঝিরঝির বৃষ্টি হয়ে চলেছে। কয়েকদিন এমন আবহাওয়া (Rain in Bengal) থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। দক্ষিণবঙ্গের জেলায় জেলায় বৃষ্টি চলবে। কোথাও কোথাও দেখা দিতে পারে শিলাবৃষ্টি। সঙ্গে উত্তরবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সমুদ্রও আপাতত দু’দিন উত্তাল থাকবে। ঘূর্ণাবর্তের কারণেই শনিবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আলিপুর (Weather Update)।

    দক্ষিণবঙ্গে ধারাপাত

    শনিবার দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জেলাতেই ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি রয়েছে। বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদের কিছু অঞ্চলে আজ ঝড়ো হাওয়ার গতি আরও বেশি হতে পারে- ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত। সেই সঙ্গে থাকতে পারে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও। কলকাতা ও বাকি দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে (West Bengal Today) দমকা হাওয়ার গতি ৫০-৬০ কিমির মধ্যে ঘোরাফেরা করবে বলে পূর্বাভাস। রবিবারও বৃষ্টি (Rain Forecast) চলবে দক্ষিণবঙ্গে। পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ঝাড়গ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় রবিবার হালকা বৃষ্টিপাত (Weather Update) দেখা যেতে পারে।

    রাজ্য জুড়েই বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি

    হাওয়া অফিস (Weather Update) জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ এবং সংলগ্ন দক্ষিণ উত্তরপ্রদেশের উপর এবং ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। সেখান থেকে একটি অক্ষরেখা মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ হয়ে নাগাল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত। তা গিয়েছে ঝাড়খণ্ড, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং দক্ষিণ অসমের উপর দিয়ে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অক্ষরেখাটির উচ্চতা ০.৯ কিলোমিটার। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে ঢুকছে। তাই রাজ্য জুড়েই বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি রয়েছে।

    ঠান্ডা হাওয়ার দাপট

    ঝড়বৃষ্টির (Rain Forecast) কারণে এক ধাক্কায় কলকাতার পারদ নেমে গিয়েছে ছ’ডিগ্রি। শুক্রবার সকালে শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার সকালে তা হয়েছে ১৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়েও যা ৪.৪ ডিগ্রি কম। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, দু’দিন পারদ নামার পর ফের তিন থেকে পাঁচ ডিগ্রি বাড়বে তাপমাত্রা। উত্তরবঙ্গেও দুর্যোগ চলছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে ভারী বর্ষণের সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস। মালদা, উত্তর দিনাজপুর-সহ উত্তরবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে জারি রয়েছে হলুদ সতর্কতা। আগামী বুধ বা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে ঝড়বৃষ্টি চলবে।

  • West Bengal Elections 2026: সমাজ মাধ্যমেও নজর কমিশনের, প্রার্থীদের দিতে হবে সমস্ত অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য

    West Bengal Elections 2026: সমাজ মাধ্যমেও নজর কমিশনের, প্রার্থীদের দিতে হবে সমস্ত অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নির্বাচনী স্বচ্ছতায় এবার কমিশনের নয়া পদক্ষেপ। প্রার্থীদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল এখন কমিশনের নজরদারিতে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Elections 2026) স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ওপর কড়াকড়ি বাড়ালো ভারতের নির্বাচন কমিশন (Election Commission India)। এখন থেকে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র পেশ করার সময় তাঁদের ব্যবহৃত সমস্ত অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    অ্যাকাউন্টের তথ্য প্রদান (West Bengal Elections 2026)

    নির্বাচন কমিশন (West Bengal Elections 2026) জানিয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থীদের ফেসবুক, টুইটার (এক্স), ইনস্টাগ্রাম বা ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মে প্রার্থীর যদি কোনও স্বীকৃত বা অফিশিয়াল পেজ থাকে, তবে তার লিঙ্ক বা হ্যান্ডেল মনোনয়নপত্রের নির্দিষ্ট কলামে উল্লেখ করতে হবে।

    বিজ্ঞাপনের খরচ

    সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের জন্য করা সমস্ত আর্থিক খরচের হিসাব প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের (Election Expenditure) অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বুস্ট করা পোস্ট বা ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের খরচ এড়িয়ে যাওয়ার কোনও সুযোগ থাকছে না। নির্বাচনে পদপ্রার্থীদের এবার থেকে এই সব তথ্যের কথাও ঘোষণা করতে হবে। কমিশন (West Bengal Elections 2026) জানিয়েছে, বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য আগে সংশ্লিষ্ট কমিটির কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। অনুমোদন ছাড়া সমাজমাধ্যম বা ইন্টারনেটের কোথাও বিজ্ঞাপন দিলে তা নিয়মভঙ্গ হিসাবে ধরা হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ (Election Commission India) করা হবে।

    আচরণবিধি ও নজরদারি

    ডিজিটাল মাধ্যমে কোনও উসকানিমূলক মন্তব্য, ভুয়ো খবর বা নির্বাচনী বিধিভঙ্গ হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ নজরদারি সেল গঠন করেছে কমিশন। প্রার্থীদের প্রোফাইল থেকে শেয়ার করা তথ্যের সত্যতা যাচাই করা হবে। নির্বাচন কমিশন সামাজিক মাধ্যমে কঠোর নজরদারি চালাবে বলে জানিয়েছে কমিশন। কমিশন (Election Commission India) জানিয়েছে, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত এমসিএমসি-র সিদ্ধান্তে কারও আপত্তি থাকলে ওই কমিটিতে পাল্টা আবেদন করা যাবে। তবে অনুমোদন ছাড়া কোনও ইন্টারনেট মাধ্যম বা ওয়েবসাইটে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন (West Bengal Elections 2026) দেওয়া যাবে না।

    কেন এই সিদ্ধান্ত?

    বর্তমান সময়ে প্রচারের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, মূলধারার প্রচারের খরচের হিসাব থাকলেও ডিজিটাল প্রচারের তথ্য আড়ালে থেকে যায়। এই নতুন নিয়মের ফলে একাধিক সুবিধা মিলবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

    যথা-

    • ১. প্রার্থীর প্রচার কৌশলে আরও স্বচ্ছতা আসবে।
    • ২. ডিজিটাল মাধ্যমে অপপ্রচার বা ‘পেইড নিউজ’ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
    • ৩. প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র কমিশনের হাতে থাকবে।

    কমিশনের (Election Commission India) এই পদক্ষেপ আধুনিক নির্বাচনী (West Bengal Elections 2026) ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ডিজিটাল দুনিয়ায় রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতেই এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।

  • West Bengal Elections 2026: মমতার ‘অপছন্দের’ আইপিএস জয়রামনকে উত্তরবঙ্গে বিশেষ দায়িত্ব দিল নির্বাচন কমিশন!

    West Bengal Elections 2026: মমতার ‘অপছন্দের’ আইপিএস জয়রামনকে উত্তরবঙ্গে বিশেষ দায়িত্ব দিল নির্বাচন কমিশন!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসজেডিএ দুর্নীতি কাণ্ডে কিরণ কুমার গোদালাকে গ্রেফতার করেছিলেন তিনি। সেটা ২০১৩ সাল। ফলস্বরূপ, ‘মমতার রোষে’ ১২ বছর মেলেনি গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিং! এবার, সেই জয়রামনকেই ভোটের আগে ফিরিয়ে এনে উত্তরবঙ্গে বিশেষ দায়িত্ব দিল নির্বাচন কমিশন। বিরোধীদের অভিযোগ, প্রতিহিংসাপরায়ণ মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার রাজ্যের এই উচ্চপদস্থ আইপিএস। তাঁদের দাবি, মমতা একনায়কতান্ত্রিক সিদ্ধান্তে যোগ্য ব্যক্তিকে দীর্ঘদিন কোণায় পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। কাজ এবং সম্মান— দুই থেকে জয়রামনকে বঞ্চিত করেছেন। এবার এই আইপিএসকে বিশেষ দায়িত্ব এবং কাজে যুক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। আসন্ন নির্বাচনকে (West Bengal Elections 2026) সামনে রেখে প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল করছে নির্বাচন কমিশন। উত্তরবঙ্গের এডিজি (ADG) পদে নিয়োগ করা হয়েছে আইপিএস কে জয়রামনকে (K Jayaraman)। বিজেপির অভিযোগ, মমতা সরকারের দুর্নীতিকাণ্ডে শাসক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন জয়রামন। আর তাই রোষানলে পড়ে বঞ্চনার শিকার হন। তবে কমিশনের এই নিয়োগের পরই তাঁর পুরনো একটি বিতর্কিত ঘটনা নিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোলে ফেলে দিয়েছে।

    গোদালা কিরণ কুমারকে গ্রেফতার করেছিলেন (West Bengal Elections 2026)

    সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৩ সালে শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার থাকাকালীন তৎকালীন জেলাশাসক (DM)-কে গ্রেফতার করে দেশজুড়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন জয়রামন। সেই ঘটনার জেরে তাঁকে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকতে হয়েছিল। বিরোধীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত জেলাশাসক বিরাট দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে শাসক দলকে সুবিধা পাইয়ে দিতেন। আর তাই ২০১৩ সালের ৩০ নভেম্বর তৎকালীন শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনারকে জয়রামন এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে আইএএস অফিসার গোদালা কিরণ কুমারকে গ্রেফতার করেন।  উল্লেখ্য, দুর্নীতি যখন সংঘটিত হয়েছিল, তখন গোদালা কিরণ কুমার এসজেডিএ-র গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন। তবে, গ্রেফতারের সময় তিনি মালদার জেলাশাসক (DM) পদে কর্মরত ছিলেন। বিরোধীদের অভিযোগ, প্রশাসক মমতা নিজের অনুগতদের স্বজন পোষণ করেন আর মতের অমিল হলেই খাড়ার কোপ দেন। কে জয়রামন (K Jayaraman) শেষবার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন এই উত্তরবঙ্গেই৷ ২০১৩ সালে তিনি ছিলেন শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার৷ ওই পদে থাকাকালীনই তাঁকে সরিয়ে দিয়ে কম্পালসারি ওয়েটিং পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তার পর দীর্ঘ সাড়ে বছর তাঁকে আইনশৃঙ্খলার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। সময়ের সঙ্গে পদন্নোতি হয়ে বর্তমানে এডিজি পদমর্যাদার অফিসার হলেও, অন্তরালেই থেকে যান জয়রামন। তাঁকে সেখান থেকে বের করে এনে কমিশন এবার নির্বাচনে (West Bengal Elections 2026) গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছে।

    নবান্নের সঙ্গে প্রকার টানাপোড়েন ছিল

    একজন কর্মরত জেলাশাসককে গ্রেফতার করার এই ঘটনাটি প্রশাসনিক ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল। তবে তৎকালীন সময়ে উচ্চপদস্থ আধিকারিককে গ্রেফতারের পদ্ধতিগত প্রক্রিয়া নিয়ে নবান্নের সঙ্গে পুলিশের এক প্রকার টানাপোড়েন তৈরি হয়। এই পদক্ষেপের পর কে জয়রামনকে তাঁর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘকাল চর্চা চলেছিল। বিগত কয়েক বছর ধরে পুনরায় মূল ধারার পুলিশ বিভাগে ফিরে এসেছেন জয়রামন। নির্বাচন কমিশন তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিবেচনা করেই ভোটের মুখে উত্তরবঙ্গের মতো গুরুত্বপূর্ণ জোনের দায়িত্ব তাঁর কাঁধে তুলে দিয়েছে। নির্বাচনের সময় স্পর্শকাতর উত্তরবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখাই এখন এই পদস্থ কর্মকর্তার প্রধান চ্যালেঞ্জ। তবে হিংসা মুক্ত নির্বাচন করতে কমিশন এই সক্রিয় অফিসারকে ময়দানে (West Bengal Elections 2026) নামিয়েছে।

    কেন এই নিয়োগ তাৎপর্যপূর্ণ?

    বিগত ১২ বছর ধরে তিনি মূলত অপেক্ষাকৃত কম আলোচিত দায়িত্ব সামলেছেন। ফলে ভোটের মতো সংবেদনশীল সময়ে উত্তরবঙ্গের এডিজি (ADG) হিসেবে তাঁর এই নিয়োগ প্রশাসনিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। নির্বাচনে হিংসা এবং অশান্তি প্রতিরোধ এখন বড় চ্যালেঞ্জ কমিশনের কাছে। লোকসভা নির্বাচনের পর উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছিল। ফলে আগামী বিধানসভা নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করা এবং ভোটারদের ভোট নিশ্চিত করাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য। কমিশনের আস্থা দীর্ঘ বিরতি সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন যে তাঁর ওপর এই গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছে, তা জয়রামনের (K Jayaraman) অভিজ্ঞতা ও দৃঢ়তার ওপর আস্থারই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে। একজন আইপিএস অফিসার হিসেবে কে জয়রামন তাঁর সোজাসাপ্টা ও কড়া মেজাজের জন্য পরিচিত। এক সময় রাজ্য সরকারের রোষানলে পড়লেও, কমিশনের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে আসন্ন ভোটের লড়াইয়ে অভিজ্ঞ ও কঠোর কর্মকর্তাদের উপরেই আস্থা রাখতে চাইছে নির্বাচন কমিশন (West Bengal Elections 2026)।

  • West Bengal Elections 2026: বঙ্গজয়ের লক্ষ্যে বিজেপি, প্রচারে ঝড় তুলতে রামনবমীর পরেই রাজ্যে আসছেন মোদি-শাহ

    West Bengal Elections 2026: বঙ্গজয়ের লক্ষ্যে বিজেপি, প্রচারে ঝড় তুলতে রামনবমীর পরেই রাজ্যে আসছেন মোদি-শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে (West Bengal Elections 2026) ব্যাপক প্রচারে নামছে ভারতীয় জনতা পার্টি। দলীয় সূত্রে খবর, রাজ্যে পরিবর্তনের ডাক দিয়ে কোমর বেঁধে ময়দানে নামছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। জানা গিয়েছে, রাম নবমীর পর রাজ্যজুড়ে রোড শো এবং জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে রাজ্যের ভোট প্রচারে শুধু মোদি নন সেই সঙ্গে সভা করবেন অমিত শাহ, নিতিন নবীন, জেপি নাড্ডা এবং যোগী আদিত্যনাথের মতো জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতারা।

    প্রধানমন্ত্রীর মেগা ক্যাম্পেইন (West Bengal Elections 2026)

    ভোটগ্রহণের আগে রাজ্যে মোট ১৪টি জনসভা ও রোড-শো করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (West Bengal Elections 2026)। উত্তর থেকে দক্ষিণ—রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছানোই তাঁর এই ঝটিকা সফরের লক্ষ্য। পশ্চিমবঙ্গে দুই দফায় নির্বাচন হবে। ফলাফল ঘোষণা হবে ৪ মে।

    অমিত শাহের রণকৌশল

    পিছিয়ে নেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও। সাংগঠনিক দক্ষতা ও জনসভায় শান দিতে তিনিও রাজ্যে একাধিক কর্মসূচি পালন করবেন। বুথ স্তরের কর্মীদের চাঙ্গা করতে তাঁর উপস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। প্রবীণ বিজেপি নেতা মোট ৮টি জনসভা করবেন। সেই সঙ্গে ৭টি জনসভা করবেন সর্ব ভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। ভোটের প্রচারে অংশ গ্রহণ করবেন জেপি নাড্ডা। তিনি মোট ৬টি জনসভা করবেন। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ রোড শো করবেন ৪টি। সেই সঙ্গে রাজ্যজুড়ে প্রচার চালাবেন বিশিষ্ট অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। মোট ১০টি জনসভা এবং রোড শো করবেন।  মোদি-শাহ ছাড়াও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে নিয়ে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা দিয়েছে কর্মী সমর্থকদের মধ্যে।

    সুর বেঁধে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

    গত কয়েকদিনের ব্যবধানে মোদি (PM Modi)-শাহের এই ঘনঘন সফর স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, বাংলার নির্বাচনে (West Bengal Elections 2026) এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব। বিশেষ করে গত ১৪ মার্চ ব্রিগেডের সমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী যে সুর বেঁধে দিয়েছেন, তাকেই পাথেয় করে আসন্ন নির্বাচনগুলোতে ঝড় তুলতে চাইছে গেরুয়া শিবির। রাজ্যের হাই-ভোল্টেজ এই প্রচারে গত ১৫ বছরের তৃণমূলের দুর্নীতি, নারী নির্যাতন, তোষণের রাজনীতিকেই হাতিয়ার করে ময়দানে জোর কদমে প্রচার চালাচ্ছে বিজেপি। তৃণমূলের কাটমানি বনাম বিজেপির আমজনতার অধিকার রক্ষার লড়াই এখন কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

  • WB Elections 2026: কমিশনের মাস্টারস্ট্রোক! বাংলার অপসারিত আইএএস-আইপিএসদের উপরেই ভিনরাজ্যে ভোটের দায়িত্ব

    WB Elections 2026: কমিশনের মাস্টারস্ট্রোক! বাংলার অপসারিত আইএএস-আইপিএসদের উপরেই ভিনরাজ্যে ভোটের দায়িত্ব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে যে একাধিক আইএএস ও আইপিএস অফিসারকে তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, এবার তাঁদেরই বেশকয়েকজনকে নির্বাচনী (WB Elections 2026) দায়িত্ব সামলাতে ভিনরাজ্যে পাঠানো হল৷ কমিশনের এই সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, তাঁদের অবিলম্বে নতুন দায়িত্বস্থলে যোগ দিতে হবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে। এঁদের প্রত্যেককেই সংশ্লিষ্ট রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা এবং নির্বাচনী বিধি কার্যকর করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ প্রমাণ করছে যে কমিশন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করাতে বদ্ধপরিকর।

    তামিলনাড়ুতে ভোটের কাজে পাঠানো হল

    আসন্ন বিধানসভা ভোটে (West Bengal Election 2026) নির্বাচন কমিশন (ECI Gyanesh Kumar) পুরনো সব ছক ভেঙে দেওয়ার পথে হাঁটছে। প্রশাসনিক রদবদল যে দিকে এগোচ্ছে তাতে এই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হচ্ছে। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে একাধিক রদবদল হয়েছে। শুরুটা হয়েছিল মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে দিয়ে। মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় আনা হয় দুষ্মন্ত নারিয়াল। এর পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মিনাকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় আনা হয় সঙ্ঘমিত্রা ঘোষকে। পুলিশের শীর্ষ স্তরেও একাধিক রদবদল হয়েছে। কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজ্য পুলিশের ডিজি, রাজ্যের এডিজি আইনশৃঙ্খলা-সহ পুলিশের একাধিক শীর্ষকর্তাকেও সরানো হয়েছে ভোটের আগে।

    নবান্নর পোস্টিং খারিজ করে আইএএস-দের ভিনরাজ্যে পর্যবেক্ষক 

    বুধবার অর্ধেকের বেশি জেলার ডিএম বদল করেছিল কমিশন। নিয়ম অনুযায়ী, তাঁদের নতুন পোস্টিং দিয়েছিল নবান্ন। কিন্তু সেই পোস্টিংয়ের পর কমিশন ৬ জন আইএএস অফিসারকে বাইরের রাজ্যে অবজার্ভার হিসেবে পাঠিয়ে দিল। এর আগে আইপিএস-দের ক্ষেত্রে যা হয়েছিল, আইএএস বা ডিইও-দের ক্ষেত্রেও তাই হল। মোট তিন দফায় তামিলনাড়ু যেতে হবে এই আধিকারিকদের। প্রথম দফায় শুক্রবারের মধ্যে, থাকতে হবে অন্তত এক সপ্তাহ, দ্বিতীয় দফায় যেতে হবে ৩০ মার্চ, থাকতে হবে ভোট শেষ হ‌ওয়া পর্যন্ত, তৃতীয় দফায় যেতে হবে কাউন্টিংয়ের দু-দিন আগে।

    রয়েছেন রাজ্য সরকারের দুই সচিবও

    ওই ছ’জন আইএএস অফিসারের মধ্যে রাজ্য সরকারের দু’জন সচিবও রয়েছেন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৩ ব্যাচের আইএএস প্রীতি গোয়েল, ২০১৪ ব্যাচের সিয়াদ এন, ২০১০ ব্যাচের অরবিন্দকুমার মিনা, ২০০৯ ব্যাচের রানি এ আয়েশা, ২০০৬ ব্যাচের পি উলাগানাথন, ২০১৩ সালে আইএএস শামা পরভিনকে তামিলানাড়ুতে পাঠিয়েছে কমিশন। এই ছ’জনকেই তামিলনাড়ুর বিভিন্ন জেলায় ভোট পর্যবেক্ষকের কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আইএএস উলাগানাথন এবং শামা রাজ্য সরকারের সচিব। উলাগানাথন পঞ্চায়েত এবং গ্রামীণ দফতরের সচিব। পাশাপাশি, তিনি তথ্যপ্রযুক্তি এবং ইলেক্ট্রনিক্স বিভাগের অধীনে পশ্চিমবঙ্গ ইলেক্ট্রনিক্স টেস্টিং এবং স্ট্যান্ডার্ড বিভাগের সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। শামা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের সচিব। পাশাপাশি, জিটিএর প্রিন্সিপ্যাল সচিবের অতিরিক্ত দায়িত্ব রয়েছে তাঁর কাঁধে।

    রাজ্যের অপসারিত আইএএস-আইপিএসদের হাতে ভিনরাজ্যের দায়িত্ব!

    বুধবার রাতে নির্দেশিকা প্রকাশ করে রাজ্যের ১৫ জন আইপিএস অফিসারকে তামিলনাড়ু এবং কেরলে ভোটের কাজে পাঠানোর কথা জানিয়েছিল কমিশন। পরে এঁদের মধ্যে পাঁচজনের বদলিতে স্থগিতাদেশ দেয় কমিশন। তবে রাজ্যের বাকি অপসারিত ১০ জন আইপিএস আধিকারিকের জন্য পুরনো নির্দেশই বহাল থাকে। অর্থাৎ, তাঁদের কেরল এবং তামিলনাড়ুতে যেতে হচ্ছে। বুধবার রাজ্যের দুই সচিব প্রিয়ঙ্কা শিঙ্গলা এবং পি মোহনগান্ধীকে ভিন্‌রাজ্যে ভোটের কাজে পাঠানো হয়। প্রিয়ঙ্কা বিপর্যয় মোকাবিলা এবং অসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের সিনিয়র বিশেষ সচিব। মোহনগান্ধী শিল্প, বাণিজ্য এবং উদ্যোগ বিভাগের সচিব তথা পশ্চিমবঙ্গ খনিজ উন্নয়ন এবং বাণিজ্য কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর।

    ভিনরাজ্যে পর্যবেক্ষক আরও ৬ আইপিএস

    মঙ্গলবার পূর্ত দফতরের সচিব অন্তরা আচার্য এবং খাদ্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দফতরের প্রধান সচিব পারভেজ আহমেদ সিদ্দিকিকে অন্য রাজ্যের পর্যবেক্ষক করে পাঠানোর কথা জানায় কমিশন। তার আগে রাজ্যের অপসারিত স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকে অন্য রাজ্যে ভোট-পর্যবেক্ষক করে পাঠানো হয়েছে। এদিকে, আগে স্থগিতাদেশ দেওয়া ৫ সহ ৬ আইপিএসকে বৃহস্পতিবার ভিনরাজ্যে পর্যবেক্ষক করে কমিশন। বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার মুরলীধর শর্মা এবং শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার ওয়াক্কার রাজাকে তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের জন্য পুলিশ অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ধৃতিমান সরকারকে কেরলে, সন্দীপ কাররাকে নাগাল্যান্ডের উপনির্বাচনে এবং আমনদীপকে তামিলনাড়ুতে পাঠানো হয়েছে।

    কেন ভিনরাজ্যে পাঠানোর সিদ্ধান্ত

    কমিশনের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, আসন্ন নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশনের মতে, ভোট যাতে শান্তিপূর্ণ এবং অবাধভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য এই ধরনের পদক্ষেপ জরুরি। রবিবার বাংলার বিধানসভা ভোট ঘোষণার পর থেকে এখনও পর্যন্ত প্রশাসনিক পদে বিস্তর বদল করেছে নির্বাচন কমিশন। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, সিপি, ডিজি, ডিআইজি, ডিএম থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ একাধিক আধিকারিককে বদলে দিয়েছে তাঁরা। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (ECI Gyanesh Kumar) একাধিক চিঠি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাতে কোনও লাভই হয়নি। উল্টে দেখা গেল, চিঠি বা সোশ্যাল পোস্টের পর রাতারাতি আরও বদল করেছে কমিশন।

    সহিংসতা কমার আশা

    পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ঘিরে বার বার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। অসংখ্য প্রাণহানি হয়েছে। শান্তিপূর্ণ, ভয়হীন ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করাই প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত, যাতে সাধারণ মানুষ গণতন্ত্রের এই উৎসবে নির্ভয়ে অংশ নিতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন কমিশন যেভাবে এবার সক্রিয় হয়েছে এবং যে সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে, তাতে পশ্চিমবঙ্গবাসী একটি হিংসামুক্ত নির্বাচন (WB Elections 2026) দেখতে পাবেন বলে আশা করা যায়। তবে এই প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ সাফল্য কেবল প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে না, বরং নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি স্তরের সরকারি আধিকারিক, পুলিশ প্রশাসন এবং সর্বোপরি সাধারণ নাগরিকের আন্তরিক সহযোগিতা ও সৎ ইচ্ছা থাকলে তবেই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব। পশ্চিমবঙ্গের বিগত নির্বাচনগুলিতে ব্যাপক রিগিং, দুর্নীতি এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতি একটি সাধারণ অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে। এটা সাধারণ ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা দেয়। প্রশাসনকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রেখে নির্বাচন করার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা ভাঙতেই হয়তো নির্বাচন কমিশন এবার এত বিপুল সংখ্যায় উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের রদবদলের পদক্ষেপ করছে।

  • West Bengal Assembly Election: দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ বিজেপির: একাধিক হেভিওয়েট মুখে চমক পদ্ম-শিবিরে

    West Bengal Assembly Election: দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ বিজেপির: একাধিক হেভিওয়েট মুখে চমক পদ্ম-শিবিরে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Assembly Election) সামনে রেখে রণকৌশল সাজাতে ব্যস্ত সব পক্ষই। এই আবহে আজ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের জন্য নিজেদের দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল ভারতীয় জনতা পার্টি (Bengal BJP)। প্রথম তালিকায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনের নাম ঘোষণার পর, দ্বিতীয় তালিকায় মূলত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু স্পর্শকাতর ও হেভিওয়েট কেন্দ্রের দিকে নজর দেওয়া হয়েছে। প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন, অর্জুন সিং, নিশীথ প্রামাণিক, রূপা গাঙ্গুলি, পাপিয়া অধিকারী, শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের মতো একাধিক বড় নাম।

    ১১২টি আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা বিজেপি (West Bengal Assembly Election)

    দ্বিতীয় দফায় আরও ১১২টি আসনের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল বিজেপি (West Bengal Assembly Election)। প্রথম তালিকায় একটি কেন্দ্রের প্রার্থীও বদল করা হয়েছে। হাওড়ার শ্যামপুরে টিকিট পেয়েছেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রে তৃণমূলের লাভলি মৈত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করবেন বিজেপির রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। নোয়াপাড়ায় বিজেপির প্রার্থী ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিংহ। ব্যরাকপুর বিধানসভার প্রার্থী হয়েছেন আইনজীবী কৌস্তভ বাগচী। পানিহাটি কেন্দ্রে প্রার্থীর নাম এখনও ঘোষণা করেনি বিজেপি (Bengal BJP)। তবে জল্পনা শুরু হয়েছে ওই কেন্দ্র থেকে আরজি কর হাসপাতালের ধর্ষণ-খুন কাণ্ডে নিহত চিকিৎসকের মাকে টিকিট দেবে বিজেপি নেতৃত্ব। এখনও পর্যন্ত তেমন কোনও ঘোষণা করা হয়নি।

    উত্তরবঙ্গ ও মতুয়াগড়ে কে কে প্রার্থী?

    উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে বিজেপি বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী স্থানীয় নেতাকে নির্বাচনী ময়দানে নামিয়েছে। আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের মতো জেলাগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা কোচবিহারের প্রাক্তন সাংসদ নিশীথ প্রামাণিককে মাথাভাঙায় প্রার্থী করা হয়েছে। টালিগঞ্জে পাপিয়া অধিকারী লড়বেন। যাদবপুরে টিকিট পেয়েছেন শর্বরী মুখোপাধ্যায়। কৃষ্ণগঞ্জে প্রার্থী করা হয়েছে সুকান্ত বিশ্বাসকে। মতুয়া গড় হিসাবে পরিচিত বনগাঁ উত্তর, বনগাঁ দক্ষিণ এবং গাইঘাটায় বিদায়ী বিধায়কদেরই (West Bengal Assembly Election) প্রার্থী করা হয়েছে। এখানে লড়ছেন যথাক্রমে অশোক কীর্তনিয়া, স্বপন মজুমদার এবং সুব্রত ঠাকুর। স্বরূপনগরে প্রার্থী হলেন তারক সাহা। হাবড়ার প্রার্থী করা হয়েছে বনগাঁ জেলা বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা বনগাঁ পুরসভার কাউন্সিলর দেবদাস মণ্ডলকে। উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলে প্রার্থী করা হয়েছে প্রাক্তন আইপিএস রাজেশ কুমারকে। বিধাননগরে প্রার্থী করা হয়েছে চিকিৎসক শারদ্বৎ মুখোপাধ্যায়কে। রাজারহাট গোপালপুরে প্রার্থী তরুণ আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি।

    দ্বিতীয় দফার তালিকায় দলের অভিজ্ঞ নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ও তারকা প্রার্থীকে জায়গা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, জনভিত্তি মজবুত করতেই এই কৌশল গ্রহণ করেছে বিজেপি।

    কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সিলমোহর

    বেশ কিছু আসনে বর্তমান বিধায়কদের (West Bengal Assembly Election) ওপর পুনরায় আস্থা রাখা হলেও, কিছু ক্ষেত্রে নতুন ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রার্থীদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মহিলা ও যুব প্রার্থীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর চেষ্টা লক্ষণীয়।

    সন্দেশখালিতে বিজেপি (Bengal BJP) প্রার্থী সনৎ সর্দার। হিঙ্গলগঞ্জে প্রার্থী করা হয়েছে সন্দেশখালি আন্দোলনের নেত্রী রেখা পাত্রকে। কলকাতায় বেহালা পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী ডাক্তার ইন্দ্রনীল খাঁ। কাশীপুর বেলগাছিয়ায় প্রার্থী হয়েছেন রিতেশ তিওয়ারি। রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি তাপস রায়কে টিকিট দেওয়া হয়েছে মানিকতলায়। বালিগঞ্জের প্রার্থী বিজেপির জাতীয় পরিষদ সদস্য শতরূপা। পূর্ব মেদিনীপুরের এগরায় প্রার্থী করা হয়েছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারীকে। পুরুলিয়া সদরে সুদীপ মুখোপাধ্যায়, বাঁকুড়া সদরে টিকিট পেয়েছেন নীলাদ্রিশেখর দানা।

    দিল্লিতে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির (CEC) বৈঠকের পরেই এই নামের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে প্রচারের প্রস্তুতি ও দেওয়াল লিখনের কাজ শুরু করে দিয়েছেন বিজেপি কর্মীরা।

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

    দ্বিতীয় দফায় ১১২টি আসনের পর এখন বাকি রইল ৩৮টি আসন। তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই তাদের সিংহভাগ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিয়েছে। পাল্টা হিসেবে বিজেপির (Bengal BJP) এই দ্বিতীয় তালিকা রাজনৈতিকভাবে (West Bengal Assembly Election) অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, এই প্রার্থী নির্বাচন নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে।

  • ECI: সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করতে রাজ্যে ‘কমপ্লেন রিড্রেসাল সেল’ গড়ছে কমিশন

    ECI: সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করতে রাজ্যে ‘কমপ্লেন রিড্রেসাল সেল’ গড়ছে কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন (Bengal Polls 2026) করতে বদ্ধপরিকর জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)। সেই জন্যই কোনওরকম অভাব-অভিযোগ এড়িয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল কমিশন। জমা পড়া প্রতিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। এজন্য তৈরি করা হচ্ছে ‘কমপ্লেন রিড্রেসাল সেল’ (Complaint Redressal Cell)। এই সেল যে খোলা হবে, তা আগেই জানিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল।

    ‘কমপ্লেন রিড্রেসাল সেল’ (ECI)

    কমিশন সূত্রে খবর, সেল তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। সেলে প্রয়োজন ৯জন আধিকারিকের। যদিও আপাতত কমিশনের তিন আধিকারিক এবং ছ’জন মাইক্রো অবজারভার এই কাজ করবেন। কিন্তু কমিশনের বক্তব্য, এই ধরনের নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রায় কয়েক লাখ অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে হয়। সেই জন্যই নবান্নের কাছে প্রয়োজনে অতিরিক্ত আধিকারিক চেয়ে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছে কমিশন। আপাতত অভিযোগ জানানো যাবে ১৯৫০-এই টোল ফ্রি নম্বরে। অভিযোগ জানানোর আট ঘণ্টার মধ্যেই তার নিষ্পত্তি করা হবে। এই নম্বরের পাশাপাশি কমিশনের ই-মেইল আইডি-ও জানিয়ে দেওয়া হবে আমজনতাকে। কোনও বুথ এলাকার কোথাও যদি কোনও ভোটারকে ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয় কিংবা ভয় দেখানো হয়, তাহলে সেই বুথে পুনর্নির্বাচন হবে বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিল কমিশন।

    সাপ্লিমেন্টারি তালিকা

    এদিকে, যে ৬০ লাখ ভোটারের নাম বিচারাধীন ছিল, তার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ২৩ লাখ ৩০ হাজারের। নয়া যে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বের হবে, সেখানে থাকবে অ্যাডিশন এবং ডিলিশন। অ্যাডিশনে থাকবে যাঁদের নাম উঠবে, আর ডিলিশনে থাকবে তাঁদের নাম, যাঁদের নাম বাদ পড়েছে (ECI)। এদিকে, বুধবারের মধ্যে রাজ্যে পৌঁছে গিয়েছেন সব অবজারভার। এঁদের মধ্যে সাধারণ অবজারভার ২৯৪ জন, পুলিশ অবজারভার ৮৪ জন, এক্সপেন্ডিচার অবজারভার ১০০ জন। নির্ধারিত এলাকায় কাজও শুরু করে দিয়েছেন তাঁরা। প্রসঙ্গত, বঙ্গে দু’দফায় হবে বিধানসভার ২৯৪টি আসনে ভোট গ্রহণ। প্রথম দফার নির্বাচন হবে ২৩ এপ্রিল, সেদিন ভোট হবে রাজ্যের ১৬টি জেলায়। শীঘ্রই ওই জেলাগুলি সফর করবেন (Free and Fare Polls) মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। জেলাওয়াড়ি ভোটের প্রস্তুতি কোন পর্যায়ে, সেটাই খতিয়ে দেখবেন তিনি (ECI)।

     

  • Suvendu Adhikari: ভবানীপুরে প্রচারে নেমেই মমতাকে ২৫ হাজার ভোটে পরাজিত করার হুঙ্কার শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ভবানীপুরে প্রচারে নেমেই মমতাকে ২৫ হাজার ভোটে পরাজিত করার হুঙ্কার শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভবানীপুর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ এখন মধ্যগগনে। একদিকে যেমন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের জয়ের ব্যবধান বাড়াতে বদ্ধপরিকর, অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী হয়ে সরাসরি ময়দানে নেমেছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। উল্লেখ্য মমতাকে (Mamata Banerjee) এবার ২৫ হাজার ভোটে পরাজয়ের কথা ঘোষণা করেছেন। ২০২১ সালে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে আগেও একবার নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছিল বিজেপির কাছেই। এইবার ফের একবার সম্মুখ সমরে মমতা-শুভেন্দু।

    তৃণমূলের রণকৌশল (Suvendu Adhikari)

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নিজে এলাকার ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ওপর জোর দিচ্ছেন। তৃণমূল শিবিরের লক্ষ্য কেবল জয় নয়, বরং রেকর্ড ব্যবধানে জয়ী হয়ে বিরোধীদের বার্তা দেওয়া। দলের হেভিওয়েট নেতারা পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরছেন। পাল্টা বিজেপি নির্বাচনের আড়াই মাস আগে থেকেই ওয়াররুম তৈরি এবং সংগঠনকে মজবুত করতে প্রস্তুতি নিয়েছে বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এই লড়াইকে মর্যাদার লড়াই হিসেবে দেখছেন। তিনি প্রতিটি কর্মিসভায় এবং পদযাত্রায় আক্রমণাত্মক মেজাজে শাসক দলকে বিঁধছেন। তাঁর দাবি, ভবানীপুরের মানুষ এবার পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেবেন।

    কর্মসূচির বৈচিত্র্য

    বড় বড় জনসভার বদলে দুই পক্ষই এখন ছোট ছোট বৈঠক এবং ‘ডোর-টু-ডোর’ বা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ভোটারদের ব্যক্তিগতভাবে প্রভাবিত করাই এখন এই কেন্দ্রের বিজেপির মূল লক্ষ্য। শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিটি পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে যেমন গেরুয়া শিবিরের উন্মাদনা দেখা যাচ্ছে, তেমনি মমতার সমর্থনে স্লোগানে মুখর হয়ে থাকছে ভবানীপুরের অলিগলি। ভবানীপুরের এই নির্বাচন এখন আর কেবল একটি সাধারণ আসন দখলের লড়াই নেই; এটি কার্যত দুই বিবদমান রাজনৈতিক আদর্শের প্রেস্টিজ ফাইটে পরিণত হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বনাম তৃণমূলের এই দ্বৈরথ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।

    সংঘাতের আবহ

    ভোটের প্রচারে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) যখন ভবানীপুরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে দলের প্রার্থীর সমর্থনে পদযাত্রা বা সভা করছেন, তখন বারবারই তাঁকে তৃণমূল সমর্থকদের (Mamata Banerjee) বিক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। প্রচার চলাকালীন দুই শিবিরের কর্মীদের মধ্যে মাঝেমধ্যেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে। পুলিশ ও প্রশাসন কড়া নজরদারি চালাচ্ছে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। সব মিলিয়ে, ভবানীপুরের এই নির্বাচন কেবল একটি আসন জয়ের লড়াই নয়, বরং রাজ্যের দুই শীর্ষ নেতার ব্যক্তিত্ব ও জনপ্রিয়তার এক অগ্নিপরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

LinkedIn
Share