Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • RG Kar Case: ‘ডাক্তারদের এখন কোনও বদলির নির্দেশ নয়, নিশ্চিত করুক রাজ্য’, বলল শীর্ষ আদালত

    RG Kar Case: ‘ডাক্তারদের এখন কোনও বদলির নির্দেশ নয়, নিশ্চিত করুক রাজ্য’, বলল শীর্ষ আদালত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর (RG Kar Case) হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তারদের মঙ্গলবার বিকেল ৫টার মধ্যে কাজে যোগদানের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। সোমবার নির্যাতিতার মামলার শুনানিতে এমন কথা বললেন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়। উল্লেখ্য গত ৯ অগাস্ট আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণ করে মহিলা চিকিৎসককে হত্যা করার পর থেকেই লাগাতার আন্দোলন করছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। প্রায় এক মাস ধরে ন্যায় বিচারের দাবিতে লালবাজার অভিযান, স্বাস্থ্য ভবন অভিযান, অভয়ার ক্লিনিক, আলো বন্ধ করে প্রদীপ প্রজ্বলন এবং জনতার আদালত সহ একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করতে দেখা গিয়েছিল। তাঁদের সঙ্গে পা মিলিয়েছেন সাধারণ মানুষ।

    রাজ্য কোনও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে না (RG Kar Case)  

    প্রধান বিচারপতি (Supreme Court) ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, সোমবার আরজি কর হত্যাকাণ্ড মামলার শুনানিতে বলেন, “ডাক্তারদের কাজ হল চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া। তাঁদের সুরক্ষার নির্দেশ আমরা দিয়েছি। জুনিয়র ডাক্তারদের কাজে যোগদান করতে হবে, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ হবে না। আমরা আগেই একই কথা ঘোষণা করেছি। আগামিকাল মঙ্গলবার সকলকে কাজে যোগদান করতে হবে। রাজ্য সরকার তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবেন না। এরপর যদি কোনও চিকিৎসক কাজে যোগদান না করেন এবং রাজ্য সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, তাহলে আমরা কোনও বাধা দিতে পারব না। কাজে যোগদান না করলে আমরা প্রত্যকের বিরুদ্ধে নোটিশ ইস্যু করব।’’

    ডাক্তারদের নিরাপত্তায় রাজ্যকে একগুচ্ছ নির্দেশ (Supreme Court)

    একইসঙ্গে ডাক্তারদের (RG Kar Case) নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্দেশে একগুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। বলা বলেছে, আন্দোলনরত চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার কথা জেনে রাজ্যকে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় এদিন রাজ্যকে বলেন, “উপযুক্ত পদক্ষেপ করতে হবে, যাতে চিকিৎসকরা আত্মবিশ্বাস ফিরে পান। ডিস্ট্রিক্ট কালেকটর ও পুলিশ সুপারকে নজর রাখতে হবে হাসপাতালগুলিতে। সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করবে।”  প্রধান বিচারপতি (Supreme Court) নির্দেশ দিয়েছেন, পুরুষ ও মহিলা চিকিৎসকদের জন্য পৃথক ডিউটি রুম রাখতে হবে। আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থা করতে হবে। সিসিটিভি ক্যামেরা বসাতে হবে। প্রধান বিচারপতি রাজ্যকে বলেন, “নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। আমরা জানি, কী হচ্ছে না হচ্ছে। একইসঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে, চিকিৎসকরা কাজে যোগ দিলে, তাঁদের বিরুদ্ধে বদলি বা এমন কোনও ব্যবস্থা যেন না নেওয়া হয়।”

    আরও পড়ুনঃ “চালান কই, চালান ছাড়া ময়নাতদন্ত হল কীভাবে?” প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের

    সুপ্রিম নির্দেশের পর বৈঠকে জুনিয়র ডাক্তাররা (RG Kar Case)

    অপর দিকে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) শুনানির প্রেক্ষিতে এইমসের ডাক্তাররা সাড়া দিয়ে আগেই কাজে ফিরলেও আরজি কর হাসপাতালের ডাক্তাররা (RG Kar Case) ন্যায় বিচারের দাবিতে অনড় ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের মেডিক্যাল কলেজ গুলিতে এখনও আন্দোলন এখনও চলছে। সোমবার ফের একবার জুনিয়র ডাক্তাররা জনিয়েছেন, “আমরা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করিনি। শুনানিতে কিছুটা হতাশ আমরা। তা সত্ত্বেও, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েই বিবেচনা করতে হবে। কী সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়, তা এখনও স্থির হয়নি। আপাতত প্রতিটি কলেজ এবং হাসপাতালের আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তাররা পৃথক পৃথক ভাবে একটি প্রাথমিক বৈঠক করবেন। এর পর বিকাল ৫টা নাগাদ আরজি কর-সহ সমস্ত মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক মিলে একটি সম্মিলিত জেনারেল বডি বৈঠক (জিবি) করা হবে। সেই বৈঠকের পরেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।” আইএমএ-র সভাপতি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে মাথায় রেখে কাজে ফেরার অনুরোধ করেছেন।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RG Kar Case: যুবকের মৃত্যুতে মিথ্যাচার! ‘নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে অভিষেককে’, দাবি ডাক্তারদের

    RG Kar Case: যুবকের মৃত্যুতে মিথ্যাচার! ‘নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে অভিষেককে’, দাবি ডাক্তারদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্ষমা চাইতে হবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee)। তিনি মিথ্যাচার করেছেন। ঠিক এই দাবিতে গর্জে উঠেছেন আন্দোলনরত আরজি করের (RG Kar Case) জুনিয়র ডাক্তাররা। হুগলির কোন্নগরের এক যুবকের আরজি কর হাসপাতালে মৃত্যু হলে, তা নিয়ে সামজিক মাধ্যমে পোস্ট করেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড। তিনি বলেন, যুবক নাকি বিনা চিকিৎসায় মারা গিয়েছেন, আর তাকে ঘিরেই ব্যাপক বিতর্কের দানাবাঁধে।

    অভিষেকের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ (RG Kar Case)

    জয়েন্ট প্ল্যাটফর্ম অব ডক্টর্স, ওয়েস্ট বেঙ্গলের পক্ষ থেকে জুনিয়র ডাক্তাররা, তৃণমূল সাংসদ তথা সাধারণ সম্পাদক অভিষেকের (Abhishek Banerjee) বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা বলার অভিযোগ তুলেছেন। একই ভাবে নিঃশর্তে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও করেছেন ডাক্তার সংগঠন। তৃণমূল নেতার বিনা চিকিৎসার তত্ত্বকে অস্বীকার করে বলেছেন, “সকাল ৯টা ১০ মিনিট থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত যুবকের দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যর সময় পর্যন্ত চিকিৎসা চলছিল। কাজেই তৃণমূল নেতার দেওয়া তথ্য ভুল।” অপর দিকে আরজি কর (RG Kar Case) হাসপাতালে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয়নি বলে দাবি করেছেন সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “যুবককে নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় সমস্ত চিকিৎসা করানো হয়েছিল। সমস্ত চিকিৎসার পরিষেবা তাঁকে দেওয়া হয়েছিল। অস্থিবিশারদ ও ট্রমা কেয়ারের টিমের সিনিয়র চিকিৎসকরা যুবকের চিকিৎসা শুরু করেছিলেন৷ বেশ কয়েকটি পরীক্ষাও করা হয়েছিল৷ সেই সংক্রান্ত যাবতীয় নথিও রয়েছে আমাদের কাছে।” জুনিয়র ডাক্তাররা সেইসঙ্গে বলেন, “আমাদের কর্মবিরতি চললেও পরিষেবা কোনও রকম ভাবে বন্ধ নেই।”

    আরও পড়ুনঃ ‘‘মানুষকে কথা দিয়েছি…’’, মমতার অনুরোধ ফেরালেন জহর, জানিয়ে দিলেন কারণও

    অভিষেক কী বলেছিলেন?

    ৬ সেপ্টেম্বর নিজের এক্স হ্যান্ডলে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) বলেন, “৩ ঘণ্টা কোনও চিকিৎসা ছাড়াই আরজি করের রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিলেন দুর্ঘটনায় আহত কোন্নগরের ওই যুবক। জুনিয়র ডাক্তারদের (RG Kar Case) দাবি ন্যায্য হলেও, প্রতিবাদ এমন ভাবে করা উচিত, যাতে জরুরি পরিষেবা ব্যাহত না হয়।” উল্লেখ্য যুবককে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় শ্রীরামপুর হাসপাতালে। সেখানে শ্রীরামপুর ওয়ালশ হাসপাতালের সুপার বলেন, বিক্রম ভট্টাচার্য নামে ওই যুবককে আরজি কর মেডিক্যালে (RG Kar Case) রেফার করাই হয়নি। তাঁকে পাঠানো হয়েছিল কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে।” ফলে অভিষেকের মন্তব্যে ডাক্তার মহলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।  

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Jawhar Sircar: ‘‘মানুষকে কথা দিয়েছি…’’, মমতার অনুরোধ ফেরালেন জহর, জানিয়ে দিলেন কারণও

    Jawhar Sircar: ‘‘মানুষকে কথা দিয়েছি…’’, মমতার অনুরোধ ফেরালেন জহর, জানিয়ে দিলেন কারণও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “মানুষকে কথা দিয়েছি। তাই আর ফেরা সম্ভব নয়।” মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) মুখের ওপর এ কথা বলে দিলেন প্রাক্তন আমলা তথা তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ জহর সরকার (Jawhar Sircar)। রবিবার সাংসদ পদে ইস্তফা ও রাজনৈতিক জীবনে ইতি টানার কথা ঘোষণা করেন জহর। তার পরেই তাঁকে ফোন করেন মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং।

    কী বললেন জহর? (Jawhar Sircar)

    বেশ কিছুক্ষণ কথা হয় দুজনের মধ্যে। তৃণমূল সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে পদত্যাগ না করতে অনুরোধ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধ সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। সাফ জানিয়ে দেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর পক্ষে আর সাংসদ পদে থাকা সম্ভব নয়। তাঁর ফিরতে না পারার কারণও ব্যাখ্য করেন প্রাক্তন আমলা।জানা গিয়েছে, ১১ সেপ্টেম্বর দিল্লি যাবেন তিনি। সেখানে উপরাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে দেখা করে ইস্তফাপত্র তুলে দেবেন জহর। তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে তাঁর কী কথা হয়েছে, সে বিষয়ে মুখ খোলেননি এই প্রাক্তন আমলা। শুধু বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আমায় ফোন করেছিলেন। আমার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছে। কিন্তু তাঁর সঙ্গে আমার এ বিষয়ে কী আলোচনা হয়েছে বা কী কথা হয়েছে, তা আমি প্রকাশ্যে বলব না।”

    সেই মমতা কই?

    দলনেত্রীকে পাঠানো চিঠিতে জহর (Jawhar Sircar) লিখেছেন, “গত এক মাস ধৈর্য ধরে আরজি কর হাসপাতালের ঘৃণ্য ঘটনার বিরুদ্ধে সবার প্রতিক্রিয়া দেখেছি আর ভেবেছি, আপনি কেন সেই পুরানো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে সরাসরি জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলছেন না। এখন সরকার যেসব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা এক কথায় অতি অল্প এবং অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে।” প্রাক্তন এই আমলা লিখেছেন, “আমার বিশ্বাস, এই আন্দোলনে পথে নামা মানুষরা অরাজনৈতিক ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদ করছেন। তাই রাজনৈতিক তকমা লাগিয়ে এই আন্দোলনকে প্রতিরোধ করা সমীচীন হবে না। এঁরা কেউ রাজনীতি পছন্দ করেন না। শুধু এক বাক্যে বিচার ও শাস্তির দাবি তুলেছেন।” জহর (Jawhar Sircar) লিখেছেন, “আমি আমার দায়িত্ব পালন করলাম। তবে আমার রাজ্যে (Mamata Banerjee) দুর্নীতি আর দলীয় নেতাদের একাংশের অন্যায় দাপট দেখে আমি হতাশাগ্রস্ত।”

    আরও পড়ুন: ‘সরকারের সিদ্ধান্তে সম্পূর্ণ সমর্থন’, বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসনের ইঙ্গিত ভাগবতের?

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Mohan Bhagwat: ‘সরকারের সিদ্ধান্তে সম্পূর্ণ সমর্থন’, বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসনের ইঙ্গিত ভাগবতের?

    Mohan Bhagwat: ‘সরকারের সিদ্ধান্তে সম্পূর্ণ সমর্থন’, বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসনের ইঙ্গিত ভাগবতের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর কাণ্ডে (RG Kar Issue) উত্তাল হয়েছে রাজ্য। প্রশ্নের মুখে পড়েছে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা। এই আবহে কলকাতায় এসে আরজি কর কাণ্ড নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। প্রসঙ্গত, রবিবারই সঙ্ঘ প্রধান হাজির ছিলেন জোড়াসাঁকোর ঠাকুর বাড়ির এক অনুষ্ঠানে সেখানেই তিনি বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে মত বিনিময় করেন। তখনই একজন সঙ্ঘ প্রধানকে প্রশ্ন করেন, ‘‘আরজি কর কাণ্ডে (RG Kar Issue) রাজ্যের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে। চিকিৎসকরা নিরাপত্তার অভাবে ভুগছেন, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে একাধিক দুর্নীতি সামনে আসছে। এনিয়ে কেন্দ্র সরকারের কি করা উচিত?’’ এই প্রশ্নের জবাবে সঙ্ঘ প্রধান (RSS) বলেন, ‘‘আরজি কর নিয়ে অনেকেই রাষ্ট্রপতি শাসনের কথা বলছেন, এবিষয়ে যা সিদ্ধান্ত কেন্দ্র নেবে। কেন্দ্রীয় সরকার যা সিদ্ধান্ত নেবে তাতে সম্পূর্ণ সমর্থন থাকবে সঙ্ঘের।’’ এনিয়েই শুরু হয়েছে জল্পনা, তবে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসনের ইঙ্গিত করলেন মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)? তবে সরাসরি তিনি অবশ্য রাষ্ট্রপতি শাসন নিয়ে কিছু বললেননি। সবটাই ছেড়েছেন কেন্দ্রের ওপর। উল্লেখ্য, আর জি কর হাসপাতালের ঘটনায় উত্তাল গোটা দেশ। নারী সুরক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধীরা পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি তুলেছে। সেই প্রেক্ষিতে, মোহন ভাগবতের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বটে।

    গোটা দেশ এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন (RSS)  

    আরজি কর নিয়ে কড়া পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের করা উচিত বলেও জানিয়েছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। সরসঙ্ঘচালকের বক্তব্য, ‘‘যারা এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব সরকারের।’’ আরএসএস (RSS) প্রধানের আরও দাবি, যে বা যারাই দোষী হোক, তাদের অবিলম্বে খুঁজে বের করে কঠোর সাজা দিতে হবে। মোহন ভাগবত বলেন, ‘‘গোটা দেশ এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন। যারা এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। দোষীদের শাস্তি দিতে সরকার যা পদক্ষেপ করবে, তাতে পূর্ণ সমর্থন থাকবে।’’

    ভারতীয় সংস্কৃতি চিরকাল মাতৃশক্তির বন্দনা করে এসেছে

    সাংগঠনিক কাজে দু’দিনের সফরে শনিবারই কলকাতায় এসেছিলেন মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। বাংলায় এসে তিনি বলেন, ‘‘ভারতীয় সংস্কৃতি চিরকাল মাতৃশক্তির বন্দনা করে এসেছে। যখন সীতাহরণ হয়েছে, তখন রামায়ণ হয়েছে। দ্রৌপদীর বস্ত্রহরণ হওয়ায় মহাভারত হয়েছে। সেই ভারতে কী করে এই ঘটনা ঘটে?’’ সরসঙ্ঘচালকের স্পষ্ট কথা, ‘‘সাধারণ নাগরিকদের আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।’’

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RG Kar Incident: ‘‘বিনীতের অপসারণ নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিন’’, মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে নির্দেশ রাজ্যপালের

    RG Kar Incident: ‘‘বিনীতের অপসারণ নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিন’’, মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে নির্দেশ রাজ্যপালের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকে দ্রুত কলকাতার পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের অপসারণ নিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার সন্ধ্যায় এমনই নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (CV Ananda Bose)। রাজভবন সূত্রে খবর, রাজ্যপাল রবিবার সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তখনই এ কথা বলেছেন। রাজ্যপাল জানিয়েছেন, আরজি করে (RG Kar Incident) মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় প্রথম থেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাই জনগনের দাবি মতো, পুলিশ কমিশনারকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।

    সিদ্ধান্ত নিক নবান্ন

    প্রসঙ্গত, ঘটনার দিন নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। দেরি করে এফআইআর দায়ের করা হয় বলেও অভিযোগ। এর পর প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালীন আরজি করে (RG Kar Incident) যখন ভাঙচুর চালানো হয়, তখনও পুলিশের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে পুলিশ কমিশনারের পদত্যাগের দাবি ক্রমে জোরালো হয়েছে। কিছু দিন আগে আরজি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদে সিপির পদত্যাগ চেয়ে লালবাজার অভিযান করেছিলেন চিকিৎসকেরা। লালবাজারের সামনে ধর্নায় বসেছিলেন তাঁরা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সিপির সঙ্গে তাঁরা দেখা করেন এবং স্মারকলিপি জমা দেন। রবিবার রাজ্যপাল (CV Ananda Bose) সে বিষয়েই সিদ্ধান্ত নিতে বলেছেন রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী মমতাকে। আরজি কর আবহে জনতার দাবি প্রসঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে নবান্নকে। 

    আরও পড়ুন: ‘‘আশা করছি, বিচার পাব’’, সুপ্রিম-শুনানির আগে মন্তব্য নির্যাতিতার মায়ের

    মুখ্যমন্ত্রীকে নির্দেশ

    রাজ্যপাল জানিয়েছেন, আরজি করের (RG Kar Incident) ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারা রাজ্যে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সরকার তাতে চুপ করে থাকতে পারে না। সরকারকে সংবিধান এবং আইনের শাসন মেনেই চলতে হবে। জনগণের দাবি মেনে নিতে হবে। রাজ্যপাল মনে করেন যে রাজ্য সরকার নিজেদের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না। রাজ্যপাল বোস (CV Ananda Bose) বলেন, ‘সংবিধান ও আইনের মধ্যে থেকে রাজ্যের কাজ করা উচিত। সাধারণ মানুষের সমস্যার সমাধান করা উচিত রাজ্য সরকারের।’ মৃত মহিলা চিকিৎসকের বিচারের আশায় সাধারণ মানুষ যে দাবি জানিয়েছেন, সেটা নিয়ে আলোচনা করার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যপাল বোস।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RG Kar Incident: ‘‘আশা করছি, বিচার পাব’’, সুপ্রিম-শুনানির আগে মন্তব্য নির্যাতিতার মায়ের

    RG Kar Incident: ‘‘আশা করছি, বিচার পাব’’, সুপ্রিম-শুনানির আগে মন্তব্য নির্যাতিতার মায়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি করে (RG Kar Incident) পড়ুয়া চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় এক মাস পার। বিচারের আশায় দিন গুনছেন নির্যাতিতার মা। আজ, সোমবারই সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) আরজি কর মামলার শুনানি। ঠিক তার আগের রাতে কলকাতায় ধর্মতলায় দাঁড়িয়ে কেঁদে ফেললেন ‘তিলোত্তমা’র মা। দাবি করলেন, “এত বড় ক্রাইমের পর পুলিশ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এত মানুষ পাশে দাঁড়ানোয় কিছুটা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।”

    প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা

    ‘তিলোত্তমা’র বিচারের দাবিতে রবিবার ফের রাত জেগেছিল কলকাতা। রাজপথে মানববন্ধনে সামিল হয়েছিলেন লক্ষ মানুষ। রাত যত বেড়েছে, তাপ বেড়েছে প্রতিবাদের। এদিন প্রতিবাদ মঞ্চে দাঁড়িয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হন তিলোত্তমার বাবা, মা, কাকিমা। নির্যাতিতার (RG Kar Incident) মায়ের কথায়, মেয়ের ছোট থেকেই ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা ছিল। সেই ডাক্তার হতেই আরজি করে আসা। কিন্তু সেই ইচ্ছাপূরণ করতে এসে যে প্রাণটাই চলে যাবে, ভাবতে পারেননি পরিবারের কেউ। চোখের জলে ধরে আসা গলায় তাঁর দাবি, “কত কষ্টে আমার মেয়ের প্রাণটা চলে গিয়েছে। পুলিশ প্রথম থেকে অসহযোগিতা করেছে। ওরা একটু সহযোগিতা করলে আশার আলো দেখতে পেতাম। সব প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা হয়েছে।”

    আরও পড়ুনঃ ‘আলো নিভিয়ে’ প্রতিবাদ, কর্মসূচিতে শুধু সিইএসসি এলাকায় সামিল প্রায় ৪৪ লক্ষ মানুষ!

    বিচারের আশায় দিন গোনা

    আরজি করকাণ্ডের প্রতিবাদে রবিবার রাতে আবার ভিড় চোখে পড়ে টালা থেকে টালিগঞ্জ। ধর্মতলার পাশাপাশি এদিন যাদবপুরেও সর্বাত্মক আন্দোলনের (RG Kar Incident) ভিড়ে হাজির হন তিলোত্তমার মা, বাবা। কাঁদতে কাঁদতেই তিলোত্তমার বাবা বলেন, “আমার মেয়েটার কী ক্ষমতা দেখছি! এত লোককে রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছে। আপনাদের গলার স্বর, আমার মনের জোর অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। আমাদের যা শেষ হওয়ার তা হয়ে গিয়েছে।  এখন সিবিআই এবং সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) উপর ভরসা করে আছি। আশায় আছি, বিচার পাব। সেই আশাতেই দিন গুনছি।” নির্যাতিতার কাকিমা বলেন, “আমি জীবনে আর কাকিমা ডাকটা আর শুনতে পাব না। ভাবিনি এই নিষ্ঠুর দিন অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। তাই ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, নয় ‘উই ডিমান্ড জাস্টিস’। আমাদের বিচার দিতেই হবে।” 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RG Kar: আরজি কর মামলায় আজ সুপ্রিম শুনানি, রবিতে রাত জাগল বাংলা

    RG Kar: আরজি কর মামলায় আজ সুপ্রিম শুনানি, রবিতে রাত জাগল বাংলা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, সোমবার ৯ সেপ্টেম্বর, আরজি করের (RG Kar) ঘটনার একমাস পূর্ণ হল। এদিনই এই মামলার শুনানি রয়েছে দেশের শীর্ষ আদালতে। সুপ্রিম শুনানির (Supreme Court) দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ। প্রসঙ্গত, শুনানি হওয়ার কথা ছিল গত ৫ সেপ্টেম্বর। কিন্তু প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় অসুস্থ থাকায় তা পিছিয়ে যায়। ৫ সেপ্টেম্বরের শুনানিকে সামনে রেখে ৪ সেপ্টেম্বর রাত দখলের কর্মসূচি করেন নাগরিকরা।

    রবির রাত জাগল বাংলা

    এদিকে, সোমবার সুপ্রিম শুনানির আগেও বিনিদ্র রাত কাটালেন নাগরিকেরা। যাদবপুর, শ্যামবাজার, গড়িয়া, লেকটাউন, সোদপুর, বারাকপুর থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের রায়গঞ্জ, কোচবিহার সহ সারা রাজ্যে এই একই ছবি দেখা গিয়েছে। অন্যদিকে, সোমবার শিলিগুড়িতে করা হয় ভোর দখল কর্মসূচি। মর্মান্তিক ঘটনার (Supreme Court) একমাস অতিক্রান্ত হলেও জনগণের প্রতিবাদ যে এতটুকু কমেনি তা এই কর্মসূচিগুলিতেই বোঝা যাচ্ছে। কোথাও মশাল, কোথাও মোবাইলে ফ্ল্যাশ লাইট, গানে-কবিতায়-স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে কলকাতা থেকে জেলা। বিকেলে ডাক্তারদের মিছিলে যোগ দেন নির্যাতিতার বাবা-মা। তাঁরা দুজনে বক্তব্য রাখেন। এখানেই নির্যাতিতার বাবা জানান, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ (আমরা বিচার চাই) আর নয়। এ বার স্লোগান হোক ‘উই ডিমান্ড জাস্টিস’ (বিচার আমাদের দাবি)।

    সুপ্রিম শুনানির আগের দিন রবিবারের কর্মসূচিগুলি (RG Kar) এক ঝলকে

    কালো বেলুনে প্রতিবাদ

    এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ থেকে মিছিল হয় ধর্মতলা পর্যন্ত। সেখান থেকে কালো বেলুন উড়িয়ে প্রতিবাদ জানান ডাক্তাররা। এই মিছিলে ছিলেন নির্যাতিতার (RG Kar) বাবা-মা।

    রিকশা চালকদের প্রতিবাদ

    আরজি করের (RG Kar) বিচার চেয়ে হেদুয়া থেকে কলেজ স্ট্রিট পর্যন্ত রবিবার মিছিল করেছেন উত্তর কলকাতার টানা রিকশা চালকেরা।

    মৃৎশিল্পীদের প্রতিবাদ

    কুমোরটুলিতে মৃৎশিল্পীরাও রঙ তুলি হাতে রবিবার প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন। হাতে প্ল্যাকার্ড, ব্যানার নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে তাঁরা হেঁটেছেন উত্তর কলকাতার রাস্তায়।

    ১৫ কিমির মানববন্ধন

    সোদপুর থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত দীর্ঘ ১৫ কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে রবিবার রাতে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছিল। হাজার হাজার মানুষ তাতে অংশ নিয়েছেন।

    ফুটবলপ্রেমীদের মিছিল

    ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগানের সমর্থকেরা উত্তর কলকাতার সিমলা পল্লিতে স্বামী বিবেকানন্দের বাড়ির সামনে থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত মিছিল করেছেন।

    রাস্তায় রঙের মেলা

    নানা রঙে রাস্তায় নানা ছবি এঁকেছেন চিত্রকরেরা। তাঁদের কর্মসূচিতে সামিল হয়েছিলেন সাধারণ মানুষও। এই কর্মসূচি ছিল মূলত দক্ষিণ কলকাতায়।

    রাত ‘দখল’

    রবিবার রাত ১১টার পর থেকে রাতদখল কর্মসূচির আহ্বান জানানো হয়েছিল। তাতেও বহু সাধারণ মানুষ শামিল হয়েছেন। রাত যত বেড়েছে, প্রতিবাদ তত জোরালো হয়েছে।

    বিদেশেও প্রতিবাদ

    আমেরিকার আটলান্টা, সান দিয়েগো, বস্টন, হিউস্টন, আইওয়া, মিনেয়াপোলিস, নিউ ইয়র্ক, সিয়াটল, ট্যাম্পা, ভার্জিনিয়া-সহ নানা শহরে প্রতিবাদ হয়েছে। ব্রিটেনের বেলফাস্ট, বার্মিংহাম, কার্ডিফ কেমব্রিজ, এডিনবরা, লিডস, লেস্টার, ম্যানচেস্টার-সহ নানা শহর ছাড়াও আয়ারল্যান্ড, কানাডা, দক্ষিণ আফ্রিকা, জার্মানি, জাম্বিয়া, নেদারল্যান্ডস, সুইৎজারল্যান্ড, সুইডেন, চেক প্রজাতন্ত্র, স্পেন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া নিউজিল্যান্ডেও পালিত হয়েছে কর্মসূচি।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Kalighat Temple: সারদাদেবী কালীঘাটে মা কালীর সাক্ষাৎ দর্শন পেয়েছিলেন! জানেন সেই ঘটনা?

    Kalighat Temple: সারদাদেবী কালীঘাটে মা কালীর সাক্ষাৎ দর্শন পেয়েছিলেন! জানেন সেই ঘটনা?

    হরিহর ঘোষাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতায় আসবেন আর কালীঘাট মন্দির (Kalighat Temple) দেখবেন না, এটা যেন অনেকের কাছেই অকল্পনীয়। এই মন্দিরে মা কালীর জগৎজোড়া খ্যাতি। বর্তমান মন্দিরের বয়স প্রায় ২০০ বছরের আশপাশে। কিন্তু, তার আগেও এখানে মায়ের নিত্য পুজো হত। বহু ভক্তের সমাগম হত। মন্দিরের পাশ দিয়ে তখন আদি গঙ্গায় টলটল করত জল। নৌকা পথে বহু ভক্ত এই মন্দিরে আসতেন। আর এখন মাকে দর্শন করতে দেশ-বিদেশের ভক্তরা মন্দিরে ভিড় করেন।

    কালীঘাটের আদি কথা (Kalighat Temple)

    কথিত আছে, কালীঘাটে (Kalighat Temple) দেবী সতীর পায়ের চারটে আঙুল পড়েছিল। এই মন্দিরে দেবীর পদতলে রয়েছে রুপোর তৈরি মহাদেব। দেবী কালী ডানহাতে অভয় আর বর দেন। তাঁর ডানদিকের দুটি হাতের একটিতে রয়েছে অভয় মুদ্রা। অন্যটি বরমুদ্রা। দেবীর বামহাতে আবার রয়েছে খড়্গ এবং বামদিকের নীচের হাতে ঝোলানো রয়েছে মুণ্ড। এই দেবী হলেন চামুণ্ডা। তাঁর হাতে যে খড়্গ রয়েছে, সেটা হল জ্ঞানখা। তিনি সেই খড়্গ দিয়ে অজ্ঞানতা নাশ করেন। কালীক্ষেত্র দীপিকা অনুযায়ী, ষোড়শ শতকের মধ্যভাগে ভুবনেশ্বর ব্রহ্মচারী নামে এক সাধক দেবী কালীর পুজো করতেন। তিনি তাঁর জামাই আগমাচার্য ভবানীদাস চক্রবর্তীকে কালীঘাটের মন্দির হস্তান্তরিত করেছিলেন। যশোরের রাজা প্রতাপাদিত্যর কাকা রাজা বসন্ত রায় এখানে মন্দির তৈরি করে দিয়েছিলেন। পরে, দেবীর মন্দির জীর্ণ হয়ে যাওয়ায় ১৮০৯ সালে সাবর্ণ রায়চৌধুরীরা এখানে মন্দির তৈরি করে দেন। এমনটাই দাবি, এই মন্দিরের সেবায়েত হালদার পরিবারের। কালীঘাটে দেবীর মন্দিরের পাশাপাশি এখানে রয়েছে শ্যামরায়ের মন্দির। যা তৈরিতে সহায়তা করেছিলেন বাওয়ালি রাজবাড়ির সদস্যরা। দেবীর মন্দিরের সামনের নাটমন্দির ১৮৩৫ সালে  তৈরি করেছিলেন আন্দুলের মহারাজ কাশীনাথ রায়। পঞ্জাবের তারা সিং এসে আবার গঠন করেছিলেন কালীঘাটের দেবী কালীর ভৈরব নকুলেশ্বরের মন্দির। এছাড়াও অন্যান্য জমিদার এবং ব্যবসায়ীরাও এই মন্দিরের চারপাশ তৈরিতে সহায়তা করেছিলেন। বিহারের মুঙ্গেরের ব্যবসায়ী গোবর্ধন দাস যেমন বানিয়ে দিয়েছিলেন কালীঘাট মন্দিরের আশপাশের রাস্তা। ১৮৪৩ সালে বৈষ্ণব উদয় নারায়ণ মণ্ডল কালীঘাট মন্দির চত্বরে বর্তমান শ্যামরাই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৫৮ সালে মদন গোপাল কোলে শ্যামরাই মন্দিরের জন্য একটি দোল মঞ্চ স্থাপন করেছিলেন।

    পুকুর থেকে উঠেছিল কালীর মূর্তি!

    এই মন্দিরের পূর্বদিকে একটি পুকুর আছে। এই পুকুর কুণ্ডপুকুর নামে পরিচিত। জনশ্রুতি আছে, সেই পুকুর থেকেই উঠে এসেছিল কালীঘাটের দেবী কালীর মূর্তি। রানি রাসমণিও নিত্যদিন কালীঘাটের এই মন্দিরে যাতায়াত করতেন। এখানে দেবীর মুখমণ্ডল একটি কষ্টিপাথরের শিলাখণ্ড। পাইকপাড়ার রাজা ইন্দ্র চন্দ্রসিং বাহাদুর দেবীর প্রতিদিনের ভোগের খরচ বহন করতেন। নেপালের জং বাহাদুর দেবীকে রুপোর ছাতা দিয়েছিলেন। প্রথমে দেবীর ছিল রুপোর হাত। পরে, বানানো হয় সোনার হাত। সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের রাজা সন্তোষ রায়ের থেকে প্রতিদিন কালীঘাট মন্দিরে ভোগের জিনিসপত্র আসত।  বর্তমানে পালাদার বা দেবীর সেবার ভার যাঁর ওপর পড়ে, তিনিই ভোগের খরচা বহন করেন। কোনও প্রাচীন তন্ত্রেও কালীঘাটের উল্লেখ নেই। কেবল মহানীল তন্ত্রে “কালীঘাটে গুহ্যকালী” বলে উল্লেখ রয়েছে। প্রত্নতত্ত্ববিদ বাবু গৌরদাস বসাক বলেছেন, পঞ্চদশ শতাব্দীতে কালীঘাটের কোনও উল্লেখ দেখা যায় না। কবিকঙ্কণ মুকুন্দরাম চক্রবর্তী ১৫৪৪ সালে যে চণ্ডীকাব্যে গঙ্গাতীরের বর্ণনা করেছেন, সেখানে কালীঘাটের বর্ণনা দেখতে পাওয়া যায়।

    কালীঘাটে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র ও আলীবর্দী

    ইতিহাসের একটি সূত্র থেকে জানা যায়, নবদ্বীপপতি রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় নবাব সরকারের কাছে ১২ লক্ষ টাকা খাজানার দায়ে ঋণী হওয়ায় মুর্শিদাবাদে কারারুদ্ধ হন। নবাব আলীবর্দী খাঁ রাজার গুণগরিমা জানতেন। তাই, অন্যদের মতো তাঁকে কারাগারে না রেখে নিজের সভায় রাখতেন। একবার কৃষ্ণচন্দ্রকে সঙ্গে নিয়ে নবাব আলিবর্দী নৌকা বিহারে যান। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র নবাব বাহাদুরকে নিজের জমিদার দেখানোর জন্য কলকাতা (Kolkata) পর্যন্ত নিয়ে যান। সেখানে আদিগঙ্গায় নৌকা রেখে তাঁরা জঙ্গলে কিছুটা পথ হেঁটে একটি ছোট্ট কুটিরে এই কালী মূর্তি ও তাঁর উপাসককে দেখতে পান। রাজা সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করে ব্রাহ্মণের সঙ্গে কথাবার্তায় জানতে পারেন, এটা সতী দেবীর অংশপীঠ। এই কালীর নামানুসারে স্থানের নাম কালীঘাট (Kalighat Temple)। ব্রাহ্মণ নিতান্ত নির্লোভী, কিছুমাত্র কাহারও সাহায্য প্রার্থী নন। কিন্তু, রাজা কৃষ্ণচন্দ্র নবাবকে অনুরোধ করে কালীর জন্য কিছু দেবোত্তর মঞ্জুর করতে বলেন। নবাব ব্রাহ্মণের নির্ভীকতা ও একাকী এই জঙ্গলে নিষ্ঠার সঙ্গে সাধনা করতে দেখে আশ্চর্য হন। তিনি রাজার অনুরোধ মাত্র উক্ত প্রদেশ কালীর দেব সেবার জন্য প্রদান করিলেন। আর রাজাকেও তাঁর সমস্ত ঋণ থেকে মুক্ত করে দেন। তবে, অনেকে এই তথ্য মানতে চান না। অনেকে আবার বলেন, মহারাজা বসন্ত রায় নিজের গুরু ভুবনেশ্বর ব্রহ্মচারীকে ১৬ শতাব্দীতে কালীঘাটের ছয় শত বিঘা ভূমি দেবোত্তর দান করিয়াছিলেন, ইহাই যুক্তিসঙ্গত। কারণ, উক্ত প্রদেশ সে সময় যশোহর-পতিদিগেরই দখলে ছিল। সাবর্ণ চৌধুরী কেশব রায়ের পুত্র সন্তোষ রায় কালীর বর্তমান মন্দির তৈরি করেছিলেন।

    কালীঘাট মন্দিরে মা সারদা

    জানা যায়, শ্রীমা সারদাদেবীও কালীঘাটে (Kalighat Temple) মা কালীকে দর্শন করতে এসেছিলেন। সে সময় তাঁরও অদ্ভুত দর্শন হয়েছিল। মন্দিরে সিঁদুর-আলতা দিয়ে পুজো দেওয়ার পর মন্দির থেকে বেরিয়ে যখন এয়ো স্ত্রীদের মাথায় তিনি সিঁদুর দিয়ে দিচ্ছেন, পাশে দাঁড়ানো এক অপরিচিত কালো মেয়ের কপালেও তিনি সিঁদুরের ফোঁটা এঁকে দিলেন। মেয়েটির কপালে হাত দিতেই সে ব্যথায় কুঁকড়ে গেল। সারদা মা বলে উঠলেন, কী মা ব্যথা পেলে? এই বলে মেয়েটির মুখের দিকে ভালো করে তাকাতেই দেখলেন মেয়েটির কপালের ত্রিনয়নে কিছুটা সিঁদুর পড়েছে। কিছুক্ষণের জন্য জ্ঞান হারালেন শ্রীমা। পরে মেয়েটিকে খোঁজ করেও আর পাওয়া গেল না। পরে, শ্রীমা নিজের ঘনিষ্ঠজনের কাছে সে কথা বলেছিলেন।

    মন্দিরে সোনার চূড়া

    দুশো বছরের প্রাচীন মন্দির। ধীরে ধীরে নতুন রূপে সেজে উঠছে সেই প্রাচীন মন্দির (Kalighat Temple)। রিলায়েন্স গোষ্ঠী এই মন্দির সংস্কারের দায়িত্ব পেয়েছে। মন্দিরের অন্দরসজ্জার জন্য সব মিলিয়ে ৩৫ কোটি টাকা ব্যয় করছে রিলায়েন্স গোষ্ঠী। এবার সেই কালীঘাট মন্দির একেবারে নতুন সাজে সাজানো হচ্ছে। ২৪ ক্যারেট গোল্ড দিয়ে তৈরি তিনটি সোনার চূড়া তৈরি করা হয়েছে। একেবারে নিখাদ সোনার চূড়া। সেই সোনার চূড়া একেবারে ঝলমল করছে মন্দিরের মাথায়। বর্তমানে এই মন্দিরটি ৬টি ভাগে বিভক্ত-ষষ্ঠী তলা, নাট মন্দির, জোড় বাংলা, হারকাঠ তলা, রাধা কৃষ্ণ মন্দির এবং কুন্ড পুকুর। বর্তমানে যে মূর্তিটিকে পুজো করা হয় সেটি কষ্টি পাথরের তৈরি, যা সোনা ও রূপ দিয়ে কাজ করা। বর্তমান জিভটি প্রায় ২ কিলো ১৯১ গ্রাম রুপোর উপর ৫৫৮ গ্রাম সোনা দিয়ে মোড়া। মাকে দর্শন করতে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্তের লাইন পড়়ে এই মন্দিরে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Murshidabad: ডাক্তারের পর নার্স, নার্সিংহোমে কাজে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার চারদিন পর দেহ উদ্ধার!

    Murshidabad: ডাক্তারের পর নার্স, নার্সিংহোমে কাজে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার চারদিন পর দেহ উদ্ধার!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাড়ি থেকে হাসপাতালে ডিউটি করতে গিয়ে খুন হন চিকিৎসক পড়ুয়া। হাসপাতালের মধ্যে ধর্ষণ করে তাঁকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। আরজি করের সেই ঘটনা নিয়ে রাজ্যজুড়ে তোলপাড় চলছে। এই আবহের মধ্যে এক নার্স (Nurse) হস্টেল থেকে বেসরকারি নার্সিংহোমে কাজে গিয়ে রহস্যজনভাবে নিখোঁজ হয়ে যান। চারদিন পর গঙ্গা থেকে তাঁর পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) বহরমপুর এলাকায়। মৃতার বয়স ২৩ বছর। তাঁর বাড়ি বহরমপুর থানার কোদলা গ্রামে।

    ঠিক কী ঘটনা ঘটেছে? (Murshidabad)

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বহরমপুর (Murshidabad) স্টেশন সংলগ্ন শিল্পতালুকের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে কর্মরত ছিলেন ওই নার্স। গত বুধবার তিনি হস্টেল থেকে নার্সিংহোমে ডিউটি করতে যান। রাত সাড়ে আটটা নাগাদ তাঁর হস্টেলে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু, তিনি আর হস্টেলে ফেরেননি। অপহরণ হওয়ার দাবিও বাসা বেঁধেছিল নিকটজনের মনে। শনিবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ গঙ্গার ধারে কোদলা ঘাটে একটি মৃতদেহ ভেসে উঠতে দেখেন এলাকাবাসী। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। বহরমপুর থানার পুলিশ এসে পচাগলা সেই মৃতদেহ উদ্ধার করে। বাড়ির লোককে খবর দেওয়া হলে তাঁরা এসে মৃতদেহ শনাক্ত করেন।

    জানা গিয়েছে, কর্মসূত্রে বহরমপুরের একটি হস্টেলে থাকতেন ওই নার্স। বুধবার রাত আটটার সময় ডিউটি শেষ করে তাঁর হস্টেলে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু, সেখানে তিনি সেদিন ফেরেননি। মেয়ের খোঁজ না পাওয়ায় অপহরণের দাবিও করেন মৃতের পরিবার। যদিও বহরমপুর থানার পুলিশ তদন্তে নেমে রামেন্দ্র সুন্দর ত্রিবেদী সেতুতে একজোড়া জুতো দেখতে পায়। রাতে ওই এলাকায় গঙ্গায় ঝাঁপ দেওয়ার শব্দও শুনতে পান স্থানীয় গান্ধী কলোনির বাসিন্দারা। জুতো ও এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুলিশ রাত দেড়টা নাগাদ কোদলা থেকে মৃতদেহ মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখানে নিয়মমাফিক চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করার পর রাতেই হাসপাতালের মর্গে দেহ রাখা হয়। রবিবার মৃতদেহ ময়না তদন্ত করা হয়।  

    আরও পড়ুন: চিনা রাষ্ট্রদূতের মুখে জামাত প্রশস্তি, বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা বেজিংয়ের!

    মৃতার পরিবারের লোকজন কী বললেন?

    মৃতার মা বলেন, মেয়ের সঙ্গে বুধবার রাত সাড়ে আটটা নাগাদ শেষবার কথা হয়েছিল। পরে, হস্টেলে (Murshidabad) ফিরে ফোন করার কথা বলা হলেও মেয়ে আর ফোন করেনি। এরপর রাত ১০ টা নাগাদ মেয়েকে ফোন করলে মোবাইল সুইচড অফ পাই। থানায় অপহরণের অভিযোগ করি। চারদিন পর মেয়ের দেহ মিলল। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ আমাদের কিছুই জানায়নি। এই ঘটনার পিছনে তাদেরও গাফিলতি রয়েছে। আমরা ঘটনার উপযুক্ত তদন্ত দাবি করছি।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RG Kar Protest: জহর-জ্বালা! আরজি করকাণ্ডের প্রতিবাদে পদত্যাগ করতে চেয়ে মমতাকে চিঠি সাংসদের

    RG Kar Protest: জহর-জ্বালা! আরজি করকাণ্ডের প্রতিবাদে পদত্যাগ করতে চেয়ে মমতাকে চিঠি সাংসদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি করকাণ্ডে লাগামছা়ড়া আন্দোলনের জেরে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছে শাসকদল। এই ঘটনার প্রতিবাদে এর আগে সুর চড়িয়েছেন সাংসদ শান্তনু সেন, সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়। তাঁদের বক্তব্য শাসক শিবিরের অস্বস্তি আরও বাড়িয়েছিল। আরজি করের ঘটনার প্রতিবাদে (RG Kar Protest) এবার রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন জহর সরকার (Jahar Sarkar)। বিশিষ্ট এই আমলা তিন বছর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ হয়েছিলেন। এবার এই প্রথম শাসকদলের কোনও সাংসদ ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। শুধু তা-ই নয়, রাজনীতি থেকেও সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এই ঘটনা রাজ্যের শাসকদলকে জোর ধাক্কা দিয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।

    আরজি কর নিয়ে মমতাকে তোপ (RG Kar Protest)

    মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে লেখা চিঠিতে জহর লিখেছেন, “আমি গত এক মাস ধৈর্য ধরে আরজি কর (RG Kar Protest) হাসপাতালের ঘৃণ্য ঘটনার বিরুদ্ধে সবার প্রতিক্রিয়া দেখেছি আর ভেবেছি, আপনি কেন সেই পুরনো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে সরাসরি জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলছেন না। এখন সরকার যে সব শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে, তা এককথায় অতি অল্প এবং অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে।” আন্দোলনে রাজনৈতিক রং লাগানো নিয়ে সরব হয়েছেন জহর। তিনি লিখেছেন, “আমার বিশ্বাস, এই আন্দোলনে পথে নামা মানুষেরা অরাজনৈতিক এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রতিবাদ করছেন। তাই, রাজনৈতিক তকমা লাগিয়ে এই আন্দোলনকে প্রতিরোধ করা সমীচীন হবে না। এঁরা কেউ রাজনীতি পছন্দ করেন না। শুধু একবাক্যে বিচার ও শাস্তির দাবি তুলেছেন।”

    আরও পড়ুন: চিনা রাষ্ট্রদূতের মুখে জামাত প্রশস্তি, বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা বেজিংয়ের!

    সরকারের প্রতি অনাস্থা আগে কখনও দেখিনি

    এর আগে তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি নিয়ে মুখ খোলার জন্য দলের অনেক নেতা তাঁকে হেনস্থা করেছিলেন বলেও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন জহর। তিনি লিখেছেন, “আমি আমার দায়িত্ব পালন করলাম। কিন্তু আমার রাজ্যে দুর্নীতি আর দলের একাংশের নেতাদের অন্যায় দাপট দেখে আমি হতাশাগ্রস্ত হলাম।” এরপর রাজ্যের দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গ চিঠিতে টেনে এনেছেন তিনি। লিখেছেন, “মাননীয়া মহোদয়া, বিশ্বাস করুন এই মুহূর্তে রাজ্যের সাধারণ মানুষের যে স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন ও রাগের বহিঃপ্রকাশ আমরা সবাই দেখছি, এর মূল কারণ কতিপয় পছন্দের আমলা ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পেশিশক্তির আস্ফালন। আমার এত বছরের জীবনে এমন ক্ষোভ ও সরকারের (RG Kar Protest) প্রতি সম্পূর্ণ অনাস্থা আগে কখনও দেখিনি।”রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন,”পশ্চিমবঙ্গে সাংসদ নির্বাচিত করে আপনি আমাকে প্রভূত সম্মানীত করেছেন। বিভিন্ন সমস্যা সরকারের দৃষ্টিগোচর করবার সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আমি অনেক চিন্তা করে দেখেছি, সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করব। রাজনীতি থেকে সম্পূর্ণভাবে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করব।”

    পদত্যাগ করা নিয়ে কী বললেন সুখেন্দু?

    আরজি কর কাণ্ডে (RG Kar Protest) প্রথমে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় সোচ্চার হয়েছিলেন। তিনি ধর্নাতেও বসেছিলেন। এবার প্রশ্ন উঠছে, আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদেই দলের একজন সিনিয়র সাংসদ সদস্যপদ ছাড়ছেন, এবার কি সুখেন্দু সেই পথে হাঁটবেন? এই প্রসঙ্গে সুখেন্দু বলেন, “জহর সরকারের খবর পেয়েছি। কিন্তু, আমি সে বিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না। আমি এর বিরোধিতাও করছি না। সমর্থনও নয়। আর আমি কখনও কোনও সিদ্ধান্ত নিলে সকলেই জানতে পারবেন। যেমন প্রতিবাদ করেছিলাম বিবেকের ডাকে। আমি নাগরিক আন্দোলনের সঙ্গে আছি। আমি নিজের ঢাক কখনও পেটাইনি। পেটাই না।” আরজি কর- কাণ্ডে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে সুখেন্দুর সংযোজন, “আমি আমার মতো করে নাগরিক আন্দোলনের সঙ্গে আছি। একটা বিন্দু হিসেবে। একজন নাগরিক হিসেবে আমার সামান্য যা করণীয় করছি। সাংসদের কাছে মানুষের একটা প্রত্যাশা থাকে, যে তিনি কোনও অন্যায়ের সঙ্গে থাকবেন না।”

    বিজেপি নেতৃত্বের কী বক্তব্য?

    বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “ম্যাডাম চেয়ারপার্সন তো তাঁর ইস্তফাপত্র গ্রহণ করার জন্য নন। তাঁকে রাজ্যসভার চেয়ারম্যান উপ-রাষ্ট্রপতির কাছে দিতে হবে। তবে বিনীত গোয়েলকে জুনিয়র ডাক্তাররা শিরদাঁড়া উপহার দিয়েছেন। জহর সরকারের মধ্যে আমরা যে মানসিকতা দেখলাম তাতে ভালো লাগল। তিনি প্রাক্তন আমলা। স্পষ্টবাদী।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share