Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Agnimitra Paul: শহরের পরিচ্ছন্নতায় ডিজিটাল পদক্ষেপ, অভিযোগ জানাতে নতুন অ্যাপ আনছে রাজ্য সরকার

    Agnimitra Paul: শহরের পরিচ্ছন্নতায় ডিজিটাল পদক্ষেপ, অভিযোগ জানাতে নতুন অ্যাপ আনছে রাজ্য সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গকে নির্মল ও পরিচ্ছন্ন (Instant Garbage Cleaning) করে তুলতে এক অভিনব প্রযুক্তিগত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বর্তমান রাজ্য সরকার (BJP Government)। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) বলেন, “রাস্তায় জমে থাকা আবর্জনা দ্রুত অপসারণে একটি বিশেষ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন (App) চালু করতে চলেছে পূর্ত দফতর।”

    অ্যাপের কার্যকারিতা ও মন্ত্রীর বক্তব্য (Instant Garbage Cleaning)

    মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) বলেন, “সারা পশ্চিমবঙ্গের যেকোনও প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষ এই অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারবেন। দীর্ঘদিনের জঞ্জাল সমস্যার (Instant Garbage Cleaning) স্থায়ী সমাধানে এটি অত্যন্ত কার্যকর হবে।” ইতিমধ্যে সমস্ত কাজকর্মে নজর রাখতে পুরসভা এলাকায় ১২৮টি সিসিক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার।

    • জিয়ো-ট্যাগিং প্রযুক্তি: এই অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা রাস্তায় পড়ে থাকা আবর্জনার ছবি তুলে পাঠাতে পারবেন। জিয়ো-ট্যাগিং ব্যবস্থার মাধ্যমে আবর্জনার সঠিক অবস্থান স্বয়ংক্রিয়ভাবে চিহ্নিত হয়ে যাবে।
    • দ্রুত পরিষেবা: অভিযোগ পাওয়ার ১ থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট পুরসভাকে সেই স্থান পরিষ্কার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    পরিকাঠামো উন্নয়ন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

    পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) পূর্বতন সরকারের শাসনকালের অব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করে বলেন, “ড্রেন পরিষ্কার না হওয়া বা যত্রতত্র আবর্জনা পড়ে থাকার সংস্কৃতি এবার বন্ধ হবে। কলকাতার মতো সুন্দর শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের অঙ্গীকার। নগরোন্নয়ন দফতরের কর্মকর্তাদের সাথে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই অ্যাপটি জনসমক্ষে আনা হবে।”

    অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান

    প্রশাসনিক সংস্কারের পাশাপাশি অবৈধ নির্মাণ উচ্ছেদেও বর্তমানে সরকার অত্যন্ত সক্রিয়। সম্প্রতি কলকাতা পুরসভা গড়িয়া মিতালি সঙ্ঘের নিকটবর্তী একটি অবৈধ ‘ক্লক টাওয়ার’ ভেঙে ফেলার কাজ শুরু করেছে। আদালতের নির্দেশানুসারে মাঠের জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা এই নির্মাণটি অপসারণ করা হচ্ছে। তিলজলার পর গড়িয়ার এই পদক্ষেপ সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করা হচ্ছে।

    প্রযুক্তি এবং কড়া প্রশাসনিক নজরদারির মেলবন্ধনে রাজ্যের পৌর পরিষেবাগুলিতে এক আমূল পরিবর্তন আনতে চাইছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। এই ডিজিটাল উদ্যোগ (Instant Garbage Cleaning) সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমিয়ে নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্য বৃদ্ধি করবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

  • Suvendu Adhikari: ‘তৃণমূলের ঘরছাড়াদের ফেরাবে বিজেপি তবে…’ শোভনদেবকে শর্ত শুভেন্দুর, বিধানসভায় দেশবিরোধী স্লোগান বন্ধের দাবি তাপসের

    Suvendu Adhikari: ‘তৃণমূলের ঘরছাড়াদের ফেরাবে বিজেপি তবে…’ শোভনদেবকে শর্ত শুভেন্দুর, বিধানসভায় দেশবিরোধী স্লোগান বন্ধের দাবি তাপসের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নবগঠিত বিধানসভার প্রথম অধিবেশনে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কক্ষ। ভোট-পরবর্তী অশান্তি এবং কর্মীদের ঘরছাড়া হওয়ার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তবে যদি কোনও তৃণমূল নেতা ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসা মামালায় অভিযুক্ত হন তাহলে পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নেমে। পালটা যুক্তিতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ওপর দিকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নাম না করেই তীব্র আক্রমণ করেন বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় (Tapas Roy)। ‘হাড়গোড় ভাঙা নয়”, রাজনৈতিক শিষ্টাচারের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি। একই ভাবে ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে তৃণমূলকে মনে করিয়েদিলেন দুর্বিষহ সন্ত্রাসের কথা।

    বিরোধী দলনেতার অভিযোগ ও উদ্বেগ (Suvendu Adhikari)

    স্পিকার হিসেবে রথীন্দ্র বসুর বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের পর অধিবেশন শুরু হতেই আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। তিনি বলেন, “বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, রাজ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। ভয় নয়, ভরসা বিজেপির এই স্লোগান অর্থহীন, সাধারণ মানুষের মধ্যে বর্তমানে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বহু তৃণমূল কর্মী বর্তমানে নিজ এলাকা থেকে বিতাড়িত। এই ঘরছাড়া কর্মীরা নিরাপদে নিজ নিজ বাসভবনে ফিরতে পারেন সেই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।”

    মুখ্যমন্ত্রীর প্রত্যয় ও শর্তসাপেক্ষ আশ্বাস

    বিরোধী দলনেতার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) অত্যন্ত ধৈর্যশীল এবং সংসদীয় শিষ্টাচার বজায় রেখে জবাব দেন। তিনি বলেন, ‘‘কোনও ব্যক্তি যদি প্রকৃতই ঘরছাড়া হয়ে থাকেন, তবে বিরোধী দলনেতা যেন সেই তালিকা ডিরেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ (DGP)-কে প্রদান করেন। কোনও নিরপরাধ ব্যক্তি ঘরছাড়া থাকলে স্থানীয় বিধায়ক ও পুলিশ সুপার সসম্মানে তাঁকে বাড়ি ফিরিয়ে দেবেন। তবে একটি শর্তও রয়েছে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যেন ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী কোনও অপরাধমূলক অভিযোগ না থাকে। যদি কোনও অপরাধের অভিযোগ থাকে, তবে তাঁকে অবশ্যই আইনের সম্মুখীন হতে হবে। জেলে যেতে হবে।”

    ‘‘সদনে দেশবিরোধী স্লোগান চলবে না’’

    বিধানসভার প্রথম দিনের অধিবেশনে তৃণমূলের অপকর্মের আয়না দেখালেন মানিকতলার বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় (Tapas Roy)। তিনি বলেন, “তৃণমূল ফের ক্ষমতায় এলে এতদিনে ১৫০ জন বিজেপি কর্মী খুন হতেন। এটা শুধুমাত্র সরকার গড়ার আর নির্বাচিত হয়ে আসার নির্বাচন ছিল না। এটা ছিল ধর্মযুদ্ধ। আর সেই ধর্মযুদ্ধে যাঁরা জিতে এসেছেন, তাঁদের অভিনন্দন জানাই।” এই প্রসঙ্গে তাপস রায় নবনির্বাচিত স্পিকার রথীন্দ্র বসুর উদ্দেশে বলেন, “স্যার, একটা জিনিস করতে হবে। এই সদনে কোনও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান, দেশবিরোধী স্লোগান চলবে না। আইন করে বন্ধ করতে হবে। প্রয়োজনে বিল এনে।”

    “পশ্চিমবঙ্গ শাপমুক্ত, পাপমুক্ত, ভয়মুক্ত হয়েছে”

    ২০২৬ সালের বিধান সভা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল বিধায়ক তাপস রায় (Tapas Roy) বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ শাপমুক্ত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পাপমুক্ত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ভয়মুক্ত হয়েছে।” ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়েছে। গতকাল আদালতে আইনজীবীর পোশাকে হাজির হয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করে তাপস রায় বলেন, “গতকাল কেউ হাইকোর্টে গিয়েছিলেন। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ব্লক অঞ্চল থেকে বিজেপি প্রার্থীদের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। কারও নাম করিনি। সে বলেছিল, হাড়গোড় ভেঙে দেওয়া হবে। আমি বলব, সে যেন এবার বেরোয়। বিজেপি কিছু করবে না। তার ব্যবস্থা জনগণ ও তৃণমূলই করবে।”

    ‘‘বেহায়া না হলে…ভোট পরবর্তী হিংসা এদের মুখে আসে’’

    বিধানসভায় ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে তাপস রায় (Tapas Roy) তৃণমূলকে নির্লজ্জ এবং বেহায়া বলেছেন। যারা ক্ষমতায় আসার আগে প্রকাশ্যে হুমকি দেয় তাঁদের মুখে এই কথা কি শোভা পায়। তাপস রায় বলেন, “নির্লজ্জ, বেহায়া না হলে আজকে ভোট পরবর্তী হিংসা এদের মুখে আসে। এর আগে একটাও রক্তপাতহীন, লাশহীন নির্বাচন হয়েছে? রক্তের উপর দিয়ে ভি সাইন দেখিয়েছে। স্যার, আজকে দেড়শোর উপর লাশ আপনাকে গুনতে হত বিজেপির। যদি এরা ক্ষমতায় ফিরে আসত। বাড়ি জ্বালিয়ে দিত। আর লক্ষ লক্ষ বিজেপি কর্মী সমর্থক বাড়িছাড়া থাকত। আমি যদি ভোট পরবর্তী হিংসায় জড়িত থাকি, আমার নাম থাকে, আমাকে জেলে পাঠাবেন।’’

    ‘‘অকারণে বিরোধিতা করতে চাই না’’

    উল্লেখ্য একসময় তৃণমূলে ছিলেন তাপস রায়। একুশের নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে বরাহনগর থেকে জিতেছিলেন। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের আগে তিনি দলের চরম দুর্নীতি এবং তোষণনীতির কারণে বিজেপিতে যোগদান করেন। এদিকে, ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওসদ সিদ্দিকি বলেন, ‘‘আজ তাপস রায় যা বলেছেন, তা খুব একটা ফেলে দেওয়ার নয়। ২০২১ সালে ভোটের জেতার পর, ৬ মাস এমন দিন পার করেছি, যখন ভেবেছিলাম, আমি ইস্তফা দিয়ে দিই, যাতে আমার ছেলেগুলোর উপর অত্যাচার বন্ধ হয়। ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিধায়ককের বলতেই দেওয়া হয়নি।’’

    পাশাপাশি, মুখ্যমন্ত্রীর লাইভ স্ট্রিমিংয়ের সিদ্ধান্তকেও স্বাগত জানান নওশাদ। তাঁর কথায়, “অতীতে আমাদের বক্তব্য শাসকদলের অপছন্দ হওয়ায় অনেক সময় মাইক বন্ধ করে দেওয়া হত। আশা করছি, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হবে না। সাধারণ মানুষের স্বার্থে আমাদের যে দাবিগুলি রয়েছে, সেগুলি সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে। আমরাও অকারণে বিরোধিতা করতে চাই না।”

  • RG Kar Case: আরজি কর কাণ্ডে সাসপেন্ড তিন আইপিএস বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখার্জি, অভিষেক গুপ্তা

    RG Kar Case: আরজি কর কাণ্ডে সাসপেন্ড তিন আইপিএস বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখার্জি, অভিষেক গুপ্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কথামতোই আবার খুলল আরজি কর ফাইল (RG Kar Case)। কাজ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আরজি কর কাণ্ডে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে সাসপেন্ড হলেন রাজ্যের তিন আইপিএস অফিসার। শুক্রবার নবান্ন থেকে শুভেন্দু জানান, আরজি করের চিকিৎসকের ধর্ষণ এবং খুনের মামলার ফাইল ফের খোলা হবে। ওই সময়ে বিভিন্ন পদে কর্মরত তিন আইপিএস অফিসার বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং অভিষেক গুপ্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হবে। আপাতত তাঁদের সাসপেন্ড করা হচ্ছে। পাশাপাশি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতার ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে জানিয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী।

    মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছ থেকে রিপোর্ট 

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাফ কথা, “মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছ থেকে রিপোর্ট পেয়েছি। পুলিশ অফিসাররা তিলোত্তমার মা-কে টাকা দিতে গিয়েছিলেন। নির্যাতিতার পরিবারকে এইভাবে টাকা দিতে যাওয়ার অভিযোগে আমরা এই তিনজনকে সাসপেন্ড করছি।” শুভেন্দু আরও বলছেন, “যখন বিভাগীয় তদন্ত হবে তখন যাঁদের বিরুদ্ধে আমরা অ্যাকশন নিচ্ছি তাঁদের বক্তব্যও নেব, অন্যদিকে নির্যাতিতার পরিবার যদি চায় তাহলে তাদের বাড়িতে গিয়েও আমাদের অফিসাররা তাদের বক্তব্য নিয়ে আসবে।” এখানেই না থেমে এবার একেবারে সেই সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “ফোন কল রেকর্ড, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট সবই পরে পরে বের করব। দেখা যাবে তখনকার অফিসারদের সঙ্গে সঙ্গে কাদের কাদের কথা হয়েছে। সেই সময়ের কোনও মুখ্যমন্ত্রীর কোনও নির্দেশ ছিল কিনা সেটা দেখা হবে। সব বের করব।”

    যা হয়েছিল তা হওয়ার কথাই ছিল না

    তিলোত্তমার মা রত্না দেবনাথ বলছেন, “আমার মেয়ের সঙ্গে যা হয়েছিল তা হওয়ার কথাই ছিল না। ও একটা সুরক্ষিত জায়গায় ছিল। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর জন্যই আমি আমার মেয়েটাকে হারিয়ে ফেলেছি। নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই এত তাড়াতাড়ি আবার ফাইল খোলার জন্য। বিচার খুব তাড়াতাড়ি আসবে। গোটা বিশ্বের মানুষ এর বিচার চায়। সবার চাওয়া কখনও বিফলে যাবে না। বিচার আসবেই।” মেয়ের স্মৃতিচারণা করতে করতে ফের একবার গলা ধরে আসে তাঁর। বলেন, “যেদিন রাত দখল হয়েছিল সেদিন সব জাতি-ধর্ম-বর্ণের মানুষ শুধু উই ওয়ান্ট জাস্টিস বলেছিল। সেদিন টিভিতে আমাকে দেখানো হয়েছিল আমি তখন মেয়ের ছবিটা জড়িয়ে ধরে বলেছিলাম তোর যে এত শক্তি, যে তুই সারা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়ে গেলি।”

    কে কোন দায়িত্বে ছিল 

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর কথায়, ‘‘অ্যাজ আ হোম মিনিস্টার, আমি চার্জ নেওয়ার পর মাননীয় চিফ সেক্রেটারি এবং মাননীয় হোম সেক্রেটারির কাছে লিখিত চেয়েছিলাম আরজি করের ঘটনা এবং তার পরবর্তী কিছু বিষয় নিয়ে। কীভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিকরা সেটা হ্যান্ডল করেছিলেন, তা জানতে চেয়েছিলাম। তথ্য অনুসন্ধানের পর আপাতত একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিলাম।’’ শুভেন্দুর সংযোজন, ‘‘রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী হিসেবে আমি ঘোষণা করছি, ওই সময়ে যা ঘটেছিল, তা মিসহ্যান্ডেলিং করা, যথাযথ ভাবে এফআইআর করে পদক্ষেপ করার মতো প্রাথমিক যে বিষয়গুলো ছিল, সেখানে সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল দু’জন পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে।’’ ২০২৪ সালের অগাস্টে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার সময় আইপিএস বিনীত ছিলেন কলকাতা পুলিশের কমিশনার। অভিষেক গুপ্ত ছিলেন কলকাতা পুলিশের ডিসি (নর্থ) পদে। আইপিএস ইন্দিরা তখন কলকাতা পুলিশের ডিসি (সেন্ট্রাল) পদে দায়িত্বরত ছিলেন।

  • Janata Darbar: মানুষের মুখোমুখি মুখ্যমন্ত্রী, এরাজ্যে ‘জনতার দরবার’ চালুর ঘোষণা শুভেন্দুর

    Janata Darbar: মানুষের মুখোমুখি মুখ্যমন্ত্রী, এরাজ্যে ‘জনতার দরবার’ চালুর ঘোষণা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাধারণ মানুষের সমস্যা সরাসরি শোনা এবং দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গে এক নতুন প্রশাসনিক উদ্যোগের সূচনা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের প্রশাসনিক মডেলকে অনুসরণ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবার সরাসরি সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হতে চলেছেন। জনমানসে প্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং দায়বদ্ধতা বাড়িয়ে তুলতেই এই ‘জনতার দরবার’-এর (Janata Darbar) পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    জনতার দরবারের উদ্দেশ্য (Janata Darbar)  

    সপ্তাহে একদিন বা দু’দিন এই ‘জনতার দরবার’ (Janata Darbar)  অনুষ্ঠিত হতে পারে। প্রতিদিন প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে চলবে এই কর্মসূচি, যেখানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকবেন এক বা দুই জন শীর্ষ আধিকারিক। সাধারণ মানুষের অভিযোগ সরাসরি শুনে দ্রুত সমাধানের পথ বের করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য

    • ● সরাসরি জনসংযোগ: কোনও মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সাধারণ নাগরিকরা তাঁদের অভাব-অভিযোগ এবং সমস্যার কথা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে (Suvendu Adhikari)  জানানোর সুযোগ পাবেন।
    • ● দ্রুত সমাধান: প্রতিটি সমস্যার গুরুত্ব বিচার করে প্রশাসনিক আধিকারিকদের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
    • ● প্রশাসনিক স্বচ্ছতা: এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি পরিষেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা ও প্রেক্ষাপট

    পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সরাসরি জনসংযোগের ওপর জোর দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকে প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ থাকলে তবেই সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব। এই ‘জনতার দরবার’ কেবল অভিযোগ জানানোর স্থান নয়, বরং জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের একটি বিরাট মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।”

    প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণ

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের সাধারণ মানুষের সমস্যার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং তৃণমূল স্তরে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দিতে এই ‘সরাসরি যোগাযোগ’ (Janata Darbar)  পদ্ধতি অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। আধুনিক প্রশাসন এবং জনগণের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে আনতে এই অভিনব উদ্যোগ রাজ্য রাজনীতিতে এবং প্রশাসনিক স্তরে এক ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • Crackdown on Helmetless Riders: পথ নিরাপত্তায় কঠোর প্রশাসন, কলকাতা জুড়ে হেলমেটবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযান

    Crackdown on Helmetless Riders: পথ নিরাপত্তায় কঠোর প্রশাসন, কলকাতা জুড়ে হেলমেটবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে নতুন সরকারের নির্দেশানুসারে পথ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কলকাতা পুলিশ। হেলমেটবিহীন চালক (Helmetless Riders) এবং যত্রতত্র বেআইনি পার্কিংয়ের (Illegal Parking in Kolkata) বিরুদ্ধে শহরজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক তল্লাশি ও ধরপাকড়। একই ভাবে রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul) বলেছেন, “পথচারীদের স্বাচ্ছন্দ্য এবং শহরের শৃঙ্খলা বজায় রাখা আমাদের অগ্রাধিকার। অবৈধ পার্কিং এবং জাল স্লিপের দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রশাসন কোনও আপস করবে না।”

    অভিযানের পরিসংখ্যান ও পর্যবেক্ষণ (Illegal Parking in Kolkata)

    শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের এই বিশেষ নজরদারি আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে। নিয়মভঙ্গকারীদের (Illegal Parking in Kolkata)  বিরুদ্ধে কোনও প্রকার শিথিলতা প্রদর্শন করা হবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের দায়ে পুলিশ নিম্নলিখিত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে:

    • ● হেলমেটবিহীন চালক: যথাযথ সুরক্ষা সরঞ্জাম (হেলমেট) না থাকায় মোট ৭৭৫ জন বাইক চালকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইস্ট ট্রাফিক গার্ড এলাকায় সর্বাধিক ৯১ জন আইনভঙ্গকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
    • ● বেআইনি পার্কিং: শহরের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১৫২৬টি অবৈধ পার্কিংয়ের ক্ষেত্রে জরিমানা বা মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে সাউথ ট্রাফিক গার্ড এলাকায় সর্বোচ্চ ২ শতাধিক নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা নথিবদ্ধ হয়।
    • ● ভুয়া স্লিপ ও রাজস্ব চুরি রোধ: বিভিন্ন এলাকায় জাল পার্কিং স্লিপ ব্যবহার করে বেআইনিভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। পুরমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ধরনের অসাধু উপায়ে টাকা তোলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, কারণ এই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা পড়ে না।
    • ● নির্দিষ্ট রেট চার্ট: পার্কিং ফি-র ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একটি নির্দিষ্ট মূল্য তালিকা (Rate Chart) তৈরি করা হবে। নির্ধারিত হারের অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা আইনত দণ্ডনীয় হবে।

    মূল সমস্যা ও নজরদারি

    রাজ্যের পুর নগর উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘‘আজই নোটিস দিচ্ছি। রাস্তার দু’পাশে অবৈধভাবে পার্কিং বন্ধ হবে। যেদিকে পার্কিং করার কথা নয়, সেখানে কোনও গাড়ি থাকবে না। মানুষের সুবিধা হবে। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় ফেক পার্কিং স্লিপ দিয়ে টাকা তোলা হয়, যে টাকা রাজস্ব দফতরে আসে না। সেই স্লিপ দিয়ে টাকা তোলা যাবে না।’’

    কোথায় কোথায় বিশেষ অভিযান?

    শহরে রাজাবাজার, ফুলবাগান, ইকবালপুর, মমিনপুর, তপসিয়া, ট্যাংরা, তিলজলা, পার্কসার্কাস সহ একাধিক একালায় ট্রাফিক নিয়ম বলে কিছু নেই। হেলমেট ছাড়া বাইক, ফুটপাতে অবৈধ নির্মাণ, পার্কিংয়ের জন্য জনজীবন ব্যাপক ভাবে সঙ্কটের মুখে। বিগত সরকারের আমলে এই এলাকাগুলিতে আইনের শাসন ছিল না। শহরের পরিচয়কে বস্তুি ঘিঞ্জি করে রেখেছিল। এইবার সকল বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে বিজেপি সরকার কঠোর মনোভাবের পরিচয় দিতে শুরু করেছে।

    শহরের বিশেষ এলাকায় বাড়তি নজরদারি

    শহরের  এই নির্দিষ্ট এলাকাগুলিতে সিগন্যাল অমান্য করা এবং দ্রুতগতিতে বেপরোয়া বাইক চালানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে রাতের দিকে এই প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। জনসুরক্ষার কথা মাথায় রেখে এবার বিশেষ করে খিদিরপুর থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে।নবান্নের সাম্প্রতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, বাইক চালক ও আরোহীর হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক। এই নির্দেশ কার্যকর করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার এডিজি ট্রাফিককে নিয়মিত রিপোর্ট সংগ্রহের দায়িত্ব দিয়েছেন। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য কেবল দণ্ড প্রদান নয়, বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং সড়ক দুর্ঘটনা শূন্যে (Illegal Parking in Kolkata) নামিয়ে আনা।

    কলকাতা ঢেলে সাজাতে উদ্যোগী পুরমন্ত্রী

    কলকাতা শহরের রাজপথ থেকে অলিগলি—সর্বত্রই অনিয়ন্ত্রিত পার্কিংয়ের (Illegal Parking in Kolkata) জেরে যানজট এক দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় পরিণত হয়েছে। রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধ গাড়ির কারণে পথচারীদের চলাচলে বিঘ্নঘটা এবং ভুয়া স্লিপের মাধ্যমে টাকা তোলার অভিযোগও দীর্ঘদিনের। এবার এই বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান নিলেন রাজ্যের নবনিযুক্ত পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)।

    যানজট নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা

    উল্লেখ্য, গত বছর মাত্র ২ ঘণ্টার জন্য রাস্তার ধারের পার্কিং বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। সকাল ৭টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত রাস্তার ধারের পার্কিং বন্ধ করার নির্দেশিকা জারি করেছিল কলকাতা পুরনিগম। আবর্জনা পরিষ্কারের জন্য ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে বর্তমান সরকার (Agnimitra Paul) শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণে আরও দীর্ঘমেয়াদী এবং কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের পথে হাঁটছে। কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ এবং পুরনিগমের যৌথ উদ্যোগে এই নতুন নিয়ম দ্রুত কার্যকর হতে চলেছে, যার মূল লক্ষ্য হল শহরবাসীকে একটি যানজটমুক্ত ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক পরিষেবা উপহার দেওয়া।

  • CM Suvendu Adhikari: ‘তৃণমূল বিধায়কেরা এখন ব্যক্তি স্বাধীনতা পেয়েছেন’, সৌজন্যের আবহে কীসের ইঙ্গিত দিলেন শুভেন্দু?

    CM Suvendu Adhikari: ‘তৃণমূল বিধায়কেরা এখন ব্যক্তি স্বাধীনতা পেয়েছেন’, সৌজন্যের আবহে কীসের ইঙ্গিত দিলেন শুভেন্দু?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল বিধায়কেরা এখন ব্যক্তি স্বাধীনতা পেয়েছেন, এমনই অভিমত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। আত্মবিশ্বাসী মেজাজ রাজনৈতিক মহলে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিলেন শুভেন্দু। সরকার বদালতেই বিধানসভার অন্দরে ফিরে এল ‘সৌজন্যের’ ছবি। নতুন মুখ্যমন্ত্ররী জন্য তৃণমূল বিধায়কদের তরফে শুভেচ্ছার বন্যা। একদিকে কাউকে যেমন অধিবেশনের সময় শুভেচ্ছা জানাতে দেখা গেল, তেমনই কেউ আবার মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে গিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে এলেন। অন্যদিকে দিলীপ ঘোষকে দীর্ঘক্ষণ দেখা গেল তৃণমূল বিধায়কদের সঙ্গে গল্প করতে।

    সৌজন্যের ছবি বিধানসভায়

    সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, তৃণমূল বিধায়কেরা এখন ব্যক্তি স্বাধীনতা পেয়েছেন। সৌজন্য হয়েছে। কিন্তু কার সঙ্গে কী কথা হয়েছে তা এখনই বলতে চাননি তিনি। শুভেন্দুর এ কথাতেই শুরু হয়ে গিয়েছে জোর চাপানউতোর। শুভেন্দুর এই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য থেকেই অনেকে বলতে শুরু করেছেন দলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভয়েই উবে গিয়েছিল সৌজন্যের আবহ। তাঁর অদৃশ্য অঙ্গুলিহেলনেই কী তাহলে স্বাভাবিক ছন্দে কেটেছিল তাল? প্রশ্ন ঘুরছে। সঙ্গে আবার সেই সময় বিধানসভার অন্দরে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি! কিন্তু সেই ছবিতে ইতি! বর্তমানে ছবিটা এক্কেবারে আলাদা।

    শুভেন্দুর জন্য মনোহরা আনলেন হুমায়ুন!

    সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, সিতাইয়ের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক সঙ্গীতা রায় বসুনিয়া শপথগ্রহণের আগে পর্যন্ত বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গেই বসেছিলেন। খোদ নতুন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও বেশ কিছুক্ষণ কথাও বলেন। সুজাপুরের সাবিনা ইয়াসমিনও আবার শুভেন্দুকে শুভেচ্ছা জানান। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের সৌজন্যে তো আবার অন্য মাত্রাই দেখা গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর জন্য তিনি মনোহরা নিয়ে এসেছিলেন বলে খবর। সব মিলিয়ে বিধানসভার অন্দরের সৌজন্যপূর্ণ আবহ নিয়েই এখন জোর চর্চা রাজনৈতিক আঙিনায়।

    প্রধানমন্ত্রী মোদিই অনুপ্রেরণা, বার্তা শুভেন্দুর

    স্বচ্ছ প্রশাসন ও উন্নয়নের বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর গলায় শোনা গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূয়সী প্রশংসা। শুভেন্দু স্পষ্ট জানান, তাঁর সরকার প্রধানমন্ত্রীর দেখানো পথেই পরিচালিত হবে। মোদিকে ‘বিশ্বনেতা’ সম্বোধন করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের পথপ্রদর্শক। স্বচ্ছ ভারত অভিযানের মাধ্যমে তিনি যে নাগরিক সচেতনতা তৈরি করেছেন, আমরা তা এগিয়ে নিয়ে যাব।’’ প্রশাসনে স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং ভিআইপি সংস্কৃতি কালচার বন্ধ করতে কড়া পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘বিধানসভায় কোনও লুকোছাপা থাকবে না। সরকার পুরোপুরি বিধানসভার প্রতি দায়বদ্ধ থাকবে।’’ প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান মেনে বাড়তি নিরাপত্তার বহর ও গাড়ির সংখ্যা কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘অতিরিক্ত গাড়ির প্রয়োজন নেই। জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তায় আমরাও শামিল।’’তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন দাবি করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘অনেকে বলছেন আমরা স্বাধীনতা পেলাম। এবার প্রকৃত অর্থেই জনগণের দ্বারা, জনগণের জন্য সরকার দেখতে পাবেন সবাই।’’

  • CM Suvendu Adhikari: লাইভ দেখানো হবে বিধানসভার সব কাজ! স্পিকার নির্বাচনের দিনেই ঐতিহাসিক ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    CM Suvendu Adhikari: লাইভ দেখানো হবে বিধানসভার সব কাজ! স্পিকার নির্বাচনের দিনেই ঐতিহাসিক ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলার সংসদীয় রাজনীতিতে সূচনা হল এক নতুন অধ্যায়ের। শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নতুন অধ্যক্ষ হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বসু। ১৮তম বিধানসভার প্রথম অধিবেশনে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় সর্বসম্মতিক্রমে ও ধ্বনিভোটে স্পিকার পদে নির্বাচিত হন তিনি। সকালে প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ের তত্ত্বাবধানে নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। মুখ্যমন্ত্রী ও শাসকদলের পরিষদীয় দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী রথীন্দ্রনাথের নাম প্রস্তাব করেন, যা সমর্থন করেন দিলীপ ঘোষ ও অগ্নিমিত্রা পাল। বিধানসভার দীর্ঘদিনের রীতি মেনে বিরোধীরা আলাদা প্রার্থী না দেওয়ায় প্রথমবারের বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেন। পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিকারের আসনে বসান।

    বিধানসভায় লাইভ টেলিকাস্ট

    নতুন স্পিকার নির্বাচনের পর বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। তিনি জানান, সংসদীয় গণতন্ত্রে স্বচ্ছতা বাড়াতে এবার থেকে বিধানসভার সমস্ত কার্যক্রম সাধারণ মানুষের জন্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। ফলে বিধায়করা কীভাবে কাজ করছেন এবং সরকার কীভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা মানুষ সরাসরি দেখতে পারবেন। তাঁর কথায়, বিল, বাজেট, জিরো আওয়ার-সহ সব গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম টেলিকাস্টের আওতায় আসবে। পাশাপাশি, বর্তমান বিধানসভা ভবনের আধুনিকীকরণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। শুভেন্দুর মতে, এখনও ভোটিংয়ের জন্য কাগজে নির্ভর করতে হয়, যা প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত করার সময় এসেছে। ভবিষ্যতে ডিলিমিটেশনের ফলে আসন সংখ্যা বাড়লে নতুন বিধানসভা ভবনের প্রয়োজনও দেখা দিতে পারে।

    “হাউজ বিলংস টু অপজিশন”

    বক্তব্যে শুভেন্দু অধিকারী অতীতের বিধানসভা পরিচালনা নিয়ে পরোক্ষভাবে পূর্বতন সরকারের সমালোচনাও করেন। তিনি বলেন, আগে বিরোধী দলের তরফে মন্ত্রীদের কাছে চিঠি পাঠানো হলেও তার উত্তর মিলত না। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই সংস্কৃতি বদলাতে চায়। এখন থেকে শুধু প্রাপ্তিস্বীকার নয়, সমস্যার সমাধানের দিকেও নজর দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। বিরোধীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “হাউজ বিলংস টু অপজিশন”—এই নীতিকে সামনে রেখেই আগামী দিনে বিধানসভার কাজ চলবে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও বিরোধীদের মত প্রকাশের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু আরও বলেন, বিরোধীরা চাইলে মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন এবং তাঁদের সমস্যা বা দাবি নিয়ে সরাসরি আলোচনা করতে পারবেন, যদি দলীয় অনুমতি থাকে। তিনি বিজেপি বিধায়কদেরও নির্দেশ দেন, বিরোধী দলের সদস্যরা দেখা করতে চাইলে তাঁদের সময় দিতে হবে। তাঁর দাবি, দেশের অন্যান্য বিজেপি-শাসিত রাজ্যে যেভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আদর্শে সরকার পরিচালিত হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গেও সেই ধারা বজায় থাকবে।

    বিরোধীদের বড় বার্তা শুভেন্দুর

    বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন বিধানসভায় নিজের নানা অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে শুভেন্দু জানান, অতীতের তিক্ততা ভুলে তিনি নতুনভাবে এগোতে চান। তাঁর বক্তব্য, বিধানসভা বহুদলীয় গণতন্ত্রের মঞ্চ, তাই নিয়ম ও শালীনতা বজায় রেখেই কাজ হওয়া উচিত। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনও বিধায়ক যাতে শারীরিক হেনস্থার শিকার না হন বা অযথা শাস্তির মুখে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, বিধানসভা মারামারির জায়গা নয়, বরং এটি হওয়া উচিত গঠনমূলক বিতর্ক ও জবাবদিহির ক্ষেত্র। সংবিধানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিধানসভার কাজ পরিচালনা হবে বলেও তিনি জানান। নতুন স্পিকার সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে বিধানসভা পরিচালনা করবেন এবং তাঁর নির্দেশ সবাই মেনে চলবেন—এমন আশ্বাসও দেন শুভেন্দু। বিরোধীদের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধ, তাঁরা যেন গঠনমূলক সমালোচনা করেন এবং বিধানসভার নিয়মবিধি মেনে চলেন। একইসঙ্গে বিজেপি বিধায়কদের প্রতি তাঁর নির্দেশ, বিরোধী দলের বিধায়করা দেখা করতে চাইলে যেন তাঁদের সময় (অ্যাপয়েন্টমেন্ট) দেওয়া হয়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নতুন স্পিকারের কার্যকালের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রীর এই আপাত সমঝোতামূলক ও উদার বার্তা ভবিষ্যতে বিধানসভার পরিবেশকে আরও ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ করে তুলতে পারে।

  • Mamata as Lawyer: আদৌ লাইসেন্স আছে তো! ‘আইনজীবী’ মমতার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন, সত্যতা জানতে চেয়ে চিঠি বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার

    Mamata as Lawyer: আদৌ লাইসেন্স আছে তো! ‘আইনজীবী’ মমতার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন, সত্যতা জানতে চেয়ে চিঠি বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata as Lawyer) আদালতে সওয়াল করার পর পশ্চিমবঙ্গের বার কাউন্সিলে চিঠি দিল বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (BCI)। প্র্যাকটিস করার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈধ এনরোলমেন্ট আছে কি না, কবে সাসপেন্ড করা হয়েছে, কবে রিজাম্পসান (পুনর্বহাল) হয়েছে, সেই বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে। দুদিনের মধ্যে সব তথ্য জানাতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী পদ চলে যাওয়ার পর কীভাবে হঠাৎ সওয়াল করলেন, প্রশ্ন উঠেছে আইনজীবীদের একাংশের মধ্যে। এরপরই দু’দিনের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী পরিচয় সবিস্তার জানতে চাইল দেশে আইনজীবীদের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া ৷

    মমতার আইনি পেশার বৈধতা কী

    বৃহস্পতিবার এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থেকেছে কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। আইনজীবীর চিরাচরিত কালো পোশাকে আদালত কক্ষে উপস্থিত হন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রাজ্যে ‘বিজেপি আশ্রিত’ দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব রুখতে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে যে মামলা দায়ের করা হয়েছিল, সেই মামলাতেই এদিন সওয়াল করেন তিনি। তবে এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মমতার আইনি পেশার বৈধতা ও স্টেটাস নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলকে কড়া চিঠি দিয়েছেন ভারতের বার কাউন্সিল-এর (Bar Council Of India) প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি শ্রীমন্ত সেন ৷

    কী জানতে চাইল বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া

    বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া তাদের চিঠিতে পশ্চিমবঙ্গ বার কাউন্সিলের কাছে মমতার ‘লিগ্যাল প্র্যাকটিস স্টেটাস’ সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য জানতে চেয়েছে – ঠিক কবে আইনজীবী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল? আর পেশা স্থগিত রাখা এবং পুনরায় শুরু করার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য ও নথিপত্র চাওয়া হয়েছে। তাঁর আইনি পেশার শংসাপত্র বা ‘সার্টিফিকেট অফ প্র্যাকটিস’ দেখতে চেয়েছে বিসিআই। আগামী দুই দিনের মধ্যে এই সমস্ত তথ্য প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার চিঠিতে জানানো হয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবীর গাউন পরে নিজেকে আইনজীবী দাবি করে ভোট পরবর্তী হিংসার মামলায় সওয়াল করেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ কিন্তু তিনি ২০১১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন ৷ সেই জন্য তাঁর আইনজীবী হিসেবে এনরোলমেন্ট নম্বর যাচাই করা প্রয়োজন ৷ কবে তিনি বার কাউন্সিলে নাম নথিভুক্ত করেছিলেন এবং তাঁর লাইসেন্স বাতিল হয়েছিল কি না, তিনি লাইসেন্স জমা রেখেছিলেন কি না এবং কবেই বা ফেরত পেয়েছেন ৷ এই সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে ৷

    উপযুক্ত পদক্ষেপ করার আহ্বান

    আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘তিনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন তাঁর লাইসেন্সটি সাসপেন্ড ছিল ৷ রিজাম্পশন সার্টিফিকেট না-পেয়ে এভাবে আইনজীবী হিসেবে আদালতে কি হাজির হতে পারেন ?’’ এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী বিল্বদল হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর উদাহরণ দেন ৷ আইনজীবী জানান, প্রাক্তন বিচারপতি কয়েক মাস আগে বিচারপতি হিসেবে অবসর নিয়েছেন ৷ বিচারপতি থাকাকালীন তাঁর লাইসেন্স সাসপেন্ডেড ছিল ৷ চলতি বছরের জানুয়ারিতে তিনি অবসর নেন ৷ এই চার মাসেও সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করার রিজাম্পশন সার্টিফিকেট পাননি ৷ বার কাউন্সিল এখনও দেয়নি ৷ এই অবস্থায় বিল্বদল ভট্টাচার্য প্রশ্ন করেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সদ্য নির্বাচনে পরাজিত হয়ে এখনই হঠাৎ বার কাউন্সিলের কাছ থেকে তিনি রিজাম্পশন সার্টিফিকেট পেতে পারেন না ৷ যদি এই সার্টিফিকেট ছাড়া তিনি আইনজীবী হিসেবে এসে থাকেন, তাহলে বার কাউন্সিলের কাছে আমরা অনুরোধ করব, উপযুক্ত পদক্ষেপ করার ৷’’

    বার কাউন্সিলের নিয়ম

    কোনও আইনজীবী আইনি পেশায় থাকাকালীন তিনি যদি মন্ত্রিত্বের পদ, চাকরি, বিচারক বা বিচারপতি হিসাবে কাজ করেন তাহলে তাঁকে চিঠি দিয়ে বার কাউন্সিলকে জানাতে হয় তিনি আইনি পেশা থেকে কার্যকালের মেয়াদ পর্যন্ত অব্যাহতি নিচ্ছেন। যদি ওই আইনজীবী বার কাউন্সিলকে চিঠি দিয়ে না জানান তাহলে বার কাউন্সিলের পক্ষ থেকে তাকে আইনি পেশা সাসপেনশন করা হয়। পরবর্তীকালে ওই আইনজীবী যখন মন্ত্রিত্বের পদ থেকে সরে যান, চাকরি থেকে অবসর, বিচারক বা বিচারপতির পথ থেকে অবসর নেন, তখন যদি তিনি পুনরায় আইনি পেশায় ফেরত আসতে চান তখন তাকে বার কাউন্সিলে পুনর্নবীকরণের জন্য আবেদন জানাতে হয় এবং নির্দিষ্ট ফি জমা দিতে হয়। তবে শুধুমাত্র বিধায়ক বা সাংসদ পদে থাকাকালীন আইনজীবীরা আইনি পেশায় নিযুক্ত থাকতে পারেন।

    আইনজীবী মমতাকে নিয়ে প্রশ্ন কেন

    ২০২৬ সালের নির্বাচনে গেরুয়া ঝড়ে উড়ে গিয়েছে তৃণমূল ৷ মাত্র ৮০টি আসনে জয়ী হয়েছে ঘাসফুল শিবির ৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ৷ গত বছর সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর (SIR) নিয়ে সওয়াল করেছেন তিনি, তাও আম জনতা হিসাবে, আইনজীবীর কালো গাউন তাঁর গায়ে ছিল না ৷ এরপর ভোট মিটতে এদিন আইনজীবী অবতারে অবতীর্ণ হন তৃণমূল সুপ্রিমো ৷ তিনি আইনজীবীর ডিগ্রি অর্জন করলেও মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন দীর্ঘ সময় তাঁকে হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে দেখা যায়নি ৷ ৪ মে ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর কীভাবে তিনি আইনজীবী হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করলেন, এনিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আইনজীবীদের একাংশও ৷ বৃহস্পতিবার সকালেই রাজ্যের ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় সওয়াল করতে কলকাতা হাইকোর্টে আসেন রাজ্যের সদ্য-প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ কোর্ট গাউন পরে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে তিনি প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে সওয়াল করেন ৷ এই ঘটনার পরই সরব তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বিল্বদল ভট্টাচার্য, সূর্যনীল দাস-সহ বিজেপি লিগাল সেলের একাধিক আইনজীবী ৷

  • Jyotipriya Mallick: পদত্যাগে নারাজ! উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব পদ থেকে সরানো হল জ্যোতিপ্রিয়ের কন্যাকে

    Jyotipriya Mallick: পদত্যাগে নারাজ! উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব পদ থেকে সরানো হল জ্যোতিপ্রিয়ের কন্যাকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পর এবার পদ গেল বালু-কন্যার। তৃণমূল আমলে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদ সামলেছেন প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কন্যা প্রিয়দর্শিনী। বৃহস্পতিবার উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব পদ থেকে সরানো হল প্রিয়দর্শিনী মল্লিককে। স্কুল শিক্ষা দফতরের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অবিলম্বে কার্যকরী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে ওয়েস্ট বেঙ্গল কাউন্সিল অফ হায়ার সেকেন্ডারি এডুকেশনের সচিব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে।

    কী বলা হল সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে

    সূত্রের খবর, সাম্প্রতিক প্রশাসনিক রদবদলের পর তাঁকে পদত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হলেও তিনি তাতে রাজি হননি। এরপরই শিক্ষা দফতর সরাসরি তাঁকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বলে প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের প্রশাসনিক পুনর্গঠন সংক্রান্ত নির্দেশিকার ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রিয়দর্শিনীকে তাঁর মূল পদ অর্থাৎ কলকাতার আশুতোষ কলেজের সহকারী অধ্যাপক পদে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা দফতরের ডেপুটি সেক্রেটারির স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন রয়েছে। পাশাপাশি কমিশনার অফ স্কুল এডুকেশন, ডিপিআই এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতিকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।

    রেশন দুর্নীতিতেও জড়িয়েছিল প্রিয়দর্শিনীর নাম

    বৃহস্পতিবার সকালে উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের সময়ও তাঁকে স্বমহিমায় দেখা গিয়েছে সাংবাদিক বৈঠকে। আর এদিন বিকেলেই উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব পদ থেকে সরানো হল প্রিয়দর্শিনীকে। জানা গিয়েছে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ টের সময় তাঁকে তলব করা হয়েছিল বিকাশ ভবনে। সেখানেই তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয়। ২০২৩ সালে রেশন দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। সেই সময় বাবার সঙ্গে দেখা করতে যেতেন প্রিয়দর্শিনী। পরে ইডি-র তদন্তে প্রিয়দর্শিনীর নামও সামনে আসতে শুরু করে। ইডি দাবি করে, যে সব ভুয়ো সংস্থায় লেনদেন হয়েছে বলে প্রমাণ মিলেছে, তার মধ্যে বেশ কয়েকটিতে ডিরেক্টর হিসেবে নাম ছিল প্রিয়দর্শিনীর। যদিও তল্লাশি চালানোর সময় ওই বিষয়ে কিছু জানেন না বলেই উল্লেখ করেছিলেন তিনি। রেশন দুর্নীতিতে ইডি যে তদন্ত শুরু করে, তার সূত্র ধরেই বিরোধীরা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছিল, টিউশন পড়িয়ে কীভাবে ৩.৩৭ কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক হলেন প্রিয়দর্শিনী। তাঁকে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদে সচিব পদে বসানো নিয়েও প্রশ্ন ওঠে সেই সময়ও। আর এবার পদ থেকে সরানো হল তাঁকে।

  • BJP Government: বাঙালির পাতে পাঁচ টাকায় মাছ-ভাত, নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে মাস্টারস্ট্রোক রাজ্য বিজেপির

    BJP Government: বাঙালির পাতে পাঁচ টাকায় মাছ-ভাত, নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে মাস্টারস্ট্রোক রাজ্য বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছিল বাঙালির চিরন্তন ‘মাছ-ভাত’ (Fish and Rice Meal)। তৃণমূলের মতো বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে বিজেপি-কে ‘বাঙালি সংস্কৃতি বিরোধী’ এবং ‘নিরামিষাশী দল’ হিসেবে চিহ্নিত করার যে চেষ্টা চালানো হয়েছিল, ক্ষমতায় আসার পর এক অভাবনীয় প্রকল্পের মাধ্যমে তার যোগ্য জবাব দিল বর্তমান রাজ্য সরকার (BJP Government)। অবিশ্বাস্য শোনালেও সত্যি, এবার মাত্র ৫ টাকায় সাধারণ মানুষের থালায় মিলবে মাছ-ভাত। সরকারের এই ঘোষণায় খুশির হাওয়া রাজ্যের সাধারণ মানুষের মধ্যে।

    অপপ্রচারের অবসান ও পাল্টা কৌশল (BJP Government)

    রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, “মা ক্যান্টিন প্রকল্পেও বড় বদল ঘটবে। এখন যেখানে ডিম-ভাত দেওয়া হয়, সেখানে ভবিষ্যতে মাছ-ভাতও দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ৫ টাকায় খাবারের সুবিধা আগের মতোই থাকবে।”

    নির্বাচনী প্রচারে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়েছিল যে, বিজেপি (BJP Government) ক্ষমতায় এলে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে (Fish and Rice Meal) হস্তক্ষেপ করা হবে এবং মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমনকি ‘বহিরাগত’ তত্ত্বকে হাতিয়ার করে বাংলার কৃষ্টি ও সংস্কৃতি না বোঝার অভিযোগও তোলা হয়েছিল। তবে বিজেপি নেতৃত্ব প্রথম থেকেই এই অভিযোগকে খণ্ডন করে আসছিল। নির্বাচনী লড়াই চলাকালীন অনুরাগ ঠাকুর থেকে শুরু করে হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বা ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চম্পাই সোরেনের মতো নেতাদের মাছ-ভাত খাওয়ার ছবি ও ভিডিও জনমানসে একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছিল।

    মাছ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা ও তাপস রায়ের দাবি

    খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (BJP Government) নির্বাচনী জনসভায় দাঁড়িয়ে সরব হয়েছিলেন রাজ্যের মৎস্য (Fish and Rice Meal) সংকটের বিষয়ে। তিনি অভিযোগ তুলেছিলেন যে, দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকেও তৃণমূল সরকার মাছের মতো একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ হয়েছে এবং বাংলাকে ভিনরাজ্যের মাছের ওপর নির্ভরশীল করে তুলেছে। অন্যদিকে, তাপস রায়ের মতো নেতারা দাবি করেছিলেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে সাধারণ মানুষের পাতের মাছ ক্রমশ দুর্লভ হয়ে উঠেছিল।

    ৫ টাকায় মাছ-ভাত: অবিশ্বাস্য বাস্তবায়ন

    সাধারণত বাজারে এক থালা মাছ-ভাতের (Fish and Rice Meal) দাম যেখানে ৩৫ থেকে ৪০ টাকার নিচে নয়, সেখানে মাত্র ৫ টাকায় এই আহার পরিবেশন করার সিদ্ধান্তকে একটি বড় ধরনের জনকল্যাণমূলক বিপ্লব হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্যও একাধিকবার তাঁর বক্তব্যে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসের অধিকারকে সুরক্ষিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সরকারের (BJP Government) এই নয়া পরিকল্পনা সেই প্রতিশ্রুতি পালনেরই এক বাস্তব প্রতিফলন।

    রাজনৈতিক গুরুত্ব

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫ টাকায় মাছ-ভাত দেওয়ার এই পদক্ষেপ কেবল একটি কল্যাণমূলক প্রকল্প নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তাও। এর মাধ্যমে বিজেপি (BJP Government) প্রমাণ করতে চাইছে যে, তারা বাঙালির ঐতিহ্যবাহী জীবনযাত্রাকে আরও সহজলভ্য করতে বদ্ধপরিকর। মাছ-মাংস (Fish and Rice Meal) বন্ধ হয়ে যাবে—এমন ভ্রান্ত ধারণাকে সমূলে বিনাশ করে এই প্রকল্প এখন রাজ্যবাসীর মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

    বাঙালির রসনাতৃপ্তির এই নজিরবিহীন উদ্যোগ আগামী দিনে রাজ্যের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক মানচিত্রে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।

LinkedIn
Share