Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Winter Weather Update: মরসুমের শীতলতম দিন! কলকাতার তাপমাত্রা এক রাতেই নামল আড়াই ডিগ্রি, আরও পড়বে পারদ?

    Winter Weather Update: মরসুমের শীতলতম দিন! কলকাতার তাপমাত্রা এক রাতেই নামল আড়াই ডিগ্রি, আরও পড়বে পারদ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডিসেম্বরের শুরুতেই জাঁকিয়ে শীত বঙ্গে। প্রথমবার ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামল কলকাতার পারদ। আজ, শনিবার মরসুমের শীতলতম দিন৷ কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে পারদ নামল ১৪ ডিগ্রির ঘরে৷ আলিপুর আবহাওয়া দফতরের হিসেব অনুযায়ী সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস৷ যা স্বাভাবিকের থেকে ২.১ ডিগ্রি কম। শুক্রবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে, এক রাতেই তাপমাত্রা কমল আড়াই ডিগ্রি! আলিপুরের পূর্বাভাস, এখন সবে শুরু! আরও নামবে পারদ।

    কী বলছে আবহাওয়া দফতর?

    আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরের উপর এই মুহূর্তে আর তেমন কোনও নিম্নচাপ অঞ্চল নেই। আবহাওয়া অফিস বলছে, আগামী সাত দিন শুষ্কই থাকবে আবহাওয়া৷ বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা নেই। ফলে উত্তুরে হাওয়ার পথেও কেউ বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে না। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আগামী কয়েক দিনে শীত আরও বাড়বে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আগামী দু’দিনে দক্ষিণবঙ্গে আরও অন্তত দু’ডিগ্রি কমতে পারে রাতের তাপমাত্রা। সেই সঙ্গে কনকনে শীতের অনুভূতি বজায় থাকবে জেলায় জেলায়।

    দক্ষিণবঙ্গের পূর্বাভাস

    দক্ষিণবঙ্গ জুড়েই শীতের আমেজ। দক্ষিণবঙ্গে পুরুলিয়ায় জাঁকিয়ে ঠান্ডা পড়েছে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০-১১ ডিগ্রিতে পৌঁছেছে। সপ্তাহান্তে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা অনেকটা কমছে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, বীরভূমের মতো জেলাগুলিতে একধাক্কায় তাপমাত্রা পতন হয়েছে। শুক্রবার দক্ষিণবঙ্গে শীতলতম স্থান ছিল শ্রীনিকেতন৷ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনি ও রবিবার রাতের দিকে তাপমাত্রা আরও ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে বলে মনে করছে আবহাওয়া দফতর। দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই কুয়াশা থাকবে ভোরের দিকে।

    উত্তরবঙ্গের পূর্বাভাস

    অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে প্রধানত শুষ্ক আবহাওয়াই থাকছে। পাহাড়েও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। সপ্তাহান্তে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে তাপমাত্রা অনেকটাই নেমে যাবে। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার সহ উত্তরের প্রায় সব জেলাতেই কুয়াশার দাপট থাকবে। ফলে দৃশ্যমানতার অভাব থাকবে। কুয়াশার প্রভাবে সতর্কতা জারি রয়েছে উত্তরে। শুক্রবার উত্তরবঙ্গের সমতল অঞ্চলে শীতলতম স্থান ছিল আলিপুরদুয়ার৷ তাপমাত্রা ছিল ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মালদায় তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রির আশেপাশে। ওপরের পাঁচটি জেলার মধ্যে দার্জিলিংয়ে পারদ নেমেছে ৪.৫ পাঁচ ডিগ্রিতে৷ আগামী সাত দিনে উত্তরবঙ্গে তাপমাত্রার বিশেষ পরিবর্তন নেই৷

  • Murshidabad: “মমতার নির্দেশেই উগ্র রাজনীতি করছেন ভরতপুরের বিধায়ক”, বহিষ্কৃত হুমায়ূনকে তোপ শুভেন্দুর

    Murshidabad: “মমতার নির্দেশেই উগ্র রাজনীতি করছেন ভরতপুরের বিধায়ক”, বহিষ্কৃত হুমায়ূনকে তোপ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ৬ ডিসেম্বরে বাবরি মসজিদের (Babri Masjid) ভিত্তি স্থাপনা ঘোষণা করে দল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন  তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ূন কবীর। একদিকে বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) বহরমপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা, অপর দিকে সভার ময়দানে হাজির হয়ে জানতে পারলেন তিনি তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। ঘটনার দিন ঠিক সভার আগেই কলকাতার তৃণমূল ভবনে যিনি সাংবাদিক সম্মলেন করে এই কথা ঘোষণা করেছেন তিনি আর কেউ নন কলকাতা মেয়র ববি হাকিম। এই ইস্যুতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “তৃণমূলের নির্দেশেই উগ্র রাজনীত করছেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ূন কবীর।” তবে হুমায়ূনের নিশানা ছিল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দিকে। তিনি তোপ দেগে বলেন, “আগামীতে এই আরএসএস মার্কা মুখ্যমন্ত্রীর থেকে সরাসরি বিজেপির কেউ মুখ্যমন্ত্রী হোক আমি স্বাগত জানাব।”

    আলাদা দল হলে তৃণমূলের ভোট কাটবে (Murshidabad)

    ভরতপুরের (Murshidabad) সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ূন কবীর প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “তৃণমূল সুপ্রিমো হুমায়ুন কবীরকে বাবরি মসজিদ (Babri Masjid) নির্মাণের জন্য উস্কানি দিচ্ছেন কিনা কিংবা তাঁর পিছনে রয়েছেন কিনা, সেটাও তো জানতে হবে। আমরা কারোর ভরসায় বিজেপিকে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আনতে চাই না। আমাদের বক্তব্য হচ্ছে জাতীয়তাবাদী, বিকাশবাদী, সুশাসন, সুরক্ষা, পেটে ভাত, হাতে কাজ, মাথায় ছাদ, নারীর সম্মান, নারীর সুরক্ষা। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য একুশটি রাজ্যে বিজেপির সরকার রয়েছে এবং বিহারেও দল বিপুল জয় পেয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপির ক্ষমতায় আসা দরকার।” অপর দিকে মমতা নিজের সভায় নাম না করে হুমায়ূনকে ইঙ্গিত করে বলেন, “ভোটের আগে কেউ কেউ টাকা খেয়ে বিজেপির তাবেদারি করছে।” তবে শুভেন্দু সরাসরি না বললেও ইঙ্গিত দেন, হুমায়ূন যদি আলাদা দল গড়েন তাহলে তৃণমূলের ভোট কাটলে বিজেপির কিছুটা সুবিধা হলেও হতে পারে।

    আইএসআই কী সাহায্য করছে?

    উল্লেখ্য ২০২৪ সালের যখন রামলালার প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয়, সেই সময় মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ গড়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন হুমায়ূন। তিনি সাফ বলেছিলেন, “আমি হুমায়ূন, বাবরের ছেলে তাই আমাকে এই কাজ করতেই হবে। ৬ ডিসেম্বর, রেজিনগর (Murshidabad) থেকে বেলডাঙ্গা পর্যন্ত রাস্তা অবরোধ করব। লক্ষ লক্ষ মানুষ রাজপথ অবরুদ্ধ করবে। মসজিদ গড়বই।” সম্প্রতি ওয়াকফের নামে সামশেরগঞ্জ, সুতি, ধুলিয়ানে ব্যাপক সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা ঘটেছে। হিন্দুদের বাড়িঘর লুটপাট, অগ্নিসংযোগ হয়েছে। চলেছে খুন-ধর্ষণ। ঘরা ছাড়া হয়েছেন শয়ে শয়ে পরিবার। ঠিক তার পরে পরেই হুমায়ূন ইউনূসের বাংলাদেশ ভ্রমণে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে বাংলাদেশের হিন্দুরা খুব ভালো আছেন বলে মন্তব্যও করেছিলেন। বাংলাদেশ এখন আইএসআই-এর খপ্পড়ে, একথা সবাই জানেন। আর তারপরেই বাবরি মসজিদ নিয়ে তোড়জোড়। রাজনৈতিক একাংশের মত হুমায়ূনকে পাকিস্তান মদত করছে।

    হিন্দুদেরকে কেটে ভাগীরথীতে ভাসিয়ায়ে দেবেন

    ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ূন কবীর বলেছিলেন, “মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) ৩০ শতাংশ সংখ্যালঘু হিন্দুদেরকে কেটে ভাগীরথীতে ভাসিয়ে দেবেন।” তখন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও ব্যবস্থা নেননি। রাজ্যের মন্ত্রী ফিরাদ হাকিম প্রকাশ্যে ‘দাওয়াত-ইসলাম’-এর প্রচার করে বলেছিলেন “যাদের জন্ম মুসলমান ঘরে হয়নি তারা দুর্ভাগা”। আর মুখ্যমন্ত্রী মমতা এক মুসলিম ধর্মের সমাবেশে প্রকাশ্যে বলেছিলেন, “হিন্দু ধর্ম গান্ধা ধর্ম।” কোনও মন্তব্যের জন্য কেউ ক্ষমা চাননি, সাম্প্রদায়িক উস্কানির বিরুদ্ধে কোনও রকম আইনি ব্যবস্থাও গ্রহণ হয়নি।

    বহিষ্কার আইওয়াশ?

    তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটের অঙ্কে মুসলিম ভোট একটি বড় বিষয়। তাই মুসলমানকে খুশি করতে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী তোষণের রাজনীতি করেন। এমনটাই বিজেপি বার বার অভিযোগ করে সরব হয়েছে রাজ্যে। উল্লেখ্য রাজ্যে ৬ ডিসেম্বর রামমন্দিরের ৫০০ বছরের জন-গণ আন্দোলনকে ছোট করতে সংহতি দিবস পালন করে ভোটের অঙ্ককে ঠিক রাখবেন বলে দাবি করেছে বিজেপি। ২০২৪ সালে অযোধ্যায় রামমন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠা এবং উদ্বোধন নিয়ে খুব একটা খুশি ছিলেন না মমতা। নিমন্ত্রণ পর্যন্ত স্বীকারও করেননি। একই ভাবে হিন্দুধর্মের মহাকুম্ভকে ‘মৃত্যু কুম্ভ’ বলে বিরূপ মন্তব্য করেছিলেন। ফলে যে মুখ্যমন্ত্রী ধুলিয়ানে (Murshidabad) মৌলবাদীরা ওয়াকফের নামে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে কোনও অ্যাকশেন নেননি, তিনি হুমায়ূনকে বাবরি ইস্যুতে (Babri Masjid) বহিস্কার করে কি আইওয়াশ করলেন? রাজনীতির একাংশের মানুষ অবশ্য এমনটাই মনে করছেন।

  • SIR: তথ্য যাচাইয়ে ইচ্ছাকৃত ভুল করলে বিএলওদের কড়া শাস্তি! চিঠিতে নির্দেশ সিইও মনোজ আগরওয়ালের

    SIR: তথ্য যাচাইয়ে ইচ্ছাকৃত ভুল করলে বিএলওদের কড়া শাস্তি! চিঠিতে নির্দেশ সিইও মনোজ আগরওয়ালের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর-এর (SIR) কাজে তথ্য যাচাইয়ে ইচ্ছাকৃত ভুল হলে কোনও ভাবেই রেয়াত করা যাবে না। বিএলওদের কড়া বার্তা দিল মুখ্য নির্বাচনী দফতরের আধিকারিক সিইও। রাজ্যের ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনে ভুয়ো ভোটারদের নাম বাতিল প্রসঙ্গে আর কোনও আপস নয়। তাই কমিশনের তরফে তোড়জোড় নির্দেশ। বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর থেকেই ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের কাজ শুরু হয়েছে। ইআরওদের নতুন সফটঅয়্যার দিয়েছে কমিশন (Eelection Commission)। বিএলও উদ্দেশে চিঠি দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল । রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী গত সপ্তাহে কাজের গতিপ্রকৃতি নিয়ে দফতরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।

    মনোজ আগরওয়ালের চিঠি (SIR)  

    রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল সমস্ত বিএলওদের (SIR) স্পষ্ট ভাবে  নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, “এসআইআর-এর দায়িত্ব পুরোপুরি বিএলও-দের। ইচ্ছাকৃত ভুল ধরা পড়লে কমিশন আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না। গণতান্ত্রিক কাঠামোর ভিত্তি হল ভোটার তালিকা। এই তালিকার নিবিড় সংশোধন একান্ত প্রয়োজন। খসড়া এবং চূড়ান্ত তালিকা নির্মাণে একচুল পরিমাণ ঢিলেমি মেনে নেওয়া চলবে না।”

    বিএলও-দের পাঠানো চিঠিতে কমিশনের (Eelection Commission) তরফে বক্তব্য ছিল— কোনও যোগ্য ভোটার যেন বাদ না পড়ে। কোনও অযোগ্য ভোটার যেন তালিকায় না ঢুকে থাকে। আর যদি এ দু’টি কাজ করতে গিয়ে ফাঁক থাকে তার দায় বহন করতে হবে সংশ্লিষ্ট বিএলওকেই। একইসঙ্গে কমিশনের তরফে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন যেসব বিএলওরা। পাশাপাশি স্পষ্ট বার্তা কমিশনের যে কাজের প্রশংসা অবশ্যই থাকবে, কিন্তু অবহেলা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা যাবে না। দেশের সুরক্ষা এই বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত।

    বিএলওরা বিএলএদের সঙ্গে এলাকায় বৈঠক করবেন

    নির্বাচন কমিশন (Eelection Commission) দফতরে খবর কোনও ভোটার একের বেশি এনুমারেশন ফর্ম (SIR) জমা দিলে এই প্রযুক্তিতে তথ্য ধরা পড়বে। এরপর শুরু হবে চিহ্নিত করণের কাজ। ইআরও-রা বৃহস্পতিবার থেকে এই প্রযুক্তিতে কাজ করবেন। এর পরে জাল ভোটার পাকড়াও করতে ডিইও, সিইও এবং কমিশন এই বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করবে। বিএলওরা নিজ নিজ এলাকায় রাজনৈতিক দলের বুথ স্তরের বিএলএ-দের সঙ্গে বৈঠক করবেন। যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে তা নিয়ে আলোচনা এবং মতামত গ্রহণ করা হবে। তবে কমিশনের সাফ নির্দেশ এলাকা বা বুথের বাইরে কোনও বৈঠক করা যাবে না।

    খসড়ায় নেই ৫২ লক্ষ ৯৯ হাজার ৬৬৩ জন

    কমিশন (Eelection Commission) সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই রাজ্যে এসআইআর-এর (SIR)  কারণে বাদ যেতে চলেছে প্রায় ৫০ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম। আগামী ১৬ ডিসেম্বর এই খসড়া তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন। শেষ পাওয়া তথ্যে জানা গিয়েছে এখনও পর্যন্ত ৫২ লক্ষ ৯৯ হাজার ৬৬৩ জনের নাম খসড়া তালিকায় থাকবে না। তার মধ্যে রয়েছে মৃত ভোটার, একাধিক জায়গায় নাম রয়েছে এমন, ঠিকানা বদল হয়েছে এমন নাম এবং জাল ভোটারদের নাম। তবে এখনও পর্যন্ত মৃত ভোটারের সংখ্যা হল ২৩ লক্ষ ৪৮ হাজার ৯৫ জন, এক ঠিকানা থেকে অন্য ঠিকানায় স্থানান্তরিত হয়েছেন ১৮ লক্ষ ৫৫ হাজার ৩০২ জন। বি এলওরা খুঁজে পাননি এমন সংখ্যাটাও ৯ লক্ষ ৪২ হাজার ১৬২ জন।

    জ্ঞানেশ কুমারকে আসতে হবে

    বিহারের পর বাংলা সহ দেশজুড়ে ১৩ টি রাজ্যে নিবিড় সংশোধনের (Eelection Commission) কাজ চলছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং বিএলওদের মৃত্যু এবং আতঙ্কিত হয়ে মৃত্যুর অজুহাত খাড়া করে বারবার কমিশনকে নিশানা করেছেন। অপর দিকে এসআইআর শুরু হতেই অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিরা নিউটাউন, মধ্যমগ্রামের, গুলশান কলোনীর বস্তিগুলিকে খালি করে সীমান্তের বর্ডারে ভিড় করছে। পাশাপাশি এসআইআর-এর কাজ ফাঁকি দিচ্ছে রাজ্য প্রশাসনের কর্তারা। হিন্দুদের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। আর তাই রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য তালিকার কাজ সরেজমিনে দেখার জন্য মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে খোদ বাংলায় এসে কাজের সমীক্ষা করার দাবি করেছেন। এখন কমিশন কতটা পরিমাণে এসআইআর নির্ভুল করে তাই এখন দেখার।

  • OBC Category in Bengal: মুখোশ খুলল মমতার তোষণ-রাজনীতির, জাতীয় ওবিসি তালিকা থেকে বাদ পড়ছে রাজ্যের ৩৫ মুসলিম জনগোষ্ঠীর নাম

    OBC Category in Bengal: মুখোশ খুলল মমতার তোষণ-রাজনীতির, জাতীয় ওবিসি তালিকা থেকে বাদ পড়ছে রাজ্যের ৩৫ মুসলিম জনগোষ্ঠীর নাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের জন্য নির্দিষ্ট অন্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি)-র কেন্দ্রীয় তালিকা থেকে ৩৫টি জনগোষ্ঠীকে বাদ দিতে বলেছে জাতীয় অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন (NCBC)। এমনটাই জানাল কেন্দ্রীয় সরকার। রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার লোকসভায় এ বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন কেন্দ্রের কাছে। মঙ্গলবার তাঁর প্রশ্নের লিখিত জবাব দিয়েছে সামাজিক ন্যায় এবং ক্ষমতায়ন মন্ত্রক। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত একাধিক মুসলিম সম্প্রদায়কে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে চলতে থাকা শুনানির মধ্যেই এনসিবিসি কেন্দ্রীয় ওবিসি তালিকা থেকে ৩৫টি সম্প্রদায়—যাদের বেশিরভাগই মুসলিম—অপসারণের সুপারিশ করেছে।

    জাতীয় অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন-এর বক্তব্য

    কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যান হানরাজ গঙ্গারাম আহির জানান, পশ্চিমবঙ্গের ওবিসি তালিকায় বিপুল সংখ্যক মুসলিম সম্প্রদায় অন্তর্ভুক্ত থাকার বিষয়টি পর্যালোচনা করেই এ সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “৩৫টি সম্প্রদায়ের বেশিরভাগই মুসলিম, এক-দুটি হয়তো অমুসলিম হতে পারে।” কয়েক মাস পরই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন, এই পরিস্থিতিতে সুপারিশটি রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। সামাজিক ন্যায় মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সম্প্রতি সংসদে জানানো হয়েছে যে, এনসিবিসি ইতোমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের কেন্দ্রীয় ওবিসি তালিকা থেকে ৩৫টি সম্প্রদায় বাদ দেওয়ার সুপারিশ পাঠিয়েছে। তবে কোন কোন সম্প্রদায়ের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা জানাতে রাজি হননি আহির। তাঁর বক্তব্য—এই সিদ্ধান্ত সরকারের ঘোষণা করার বিষয়।

    রানাঘাটের সাংসদের প্রশ্ন

    সংসদে রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার জানতে চান, ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন্দ্রীয় ওবিসি তালিকায় ৪৬টি জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছিল কি না। তার মধ্যে ৩৭টি জনগোষ্ঠীকে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল কি না, তা-ও জানতে চান তিনি। এ প্রসঙ্গে কলকাতা হাইকোর্টের ওবিসি শংসাপত্র মামলার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন তিনি। রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জানতে চান, হাইকোর্টের নির্দেশের পরে কতগুলি জনগোষ্ঠী ওই তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এ অবস্থায় এনসিবিসি কোনও পদক্ষেপ করেছে কি না, কোনও জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্রীয় তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলেছে কি না, সেই তথ্যও জানতে চান সাংসদ।

    কী বলল সামাজিক ন্যায় মন্ত্রক

    জগন্নাথের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী বিএল বর্মা জানান, পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৪৬টি জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্রীয় ওবিসি তালিকায় যুক্ত করার জন্য সুপারিশ করেছিল রাজ্য সরকার। তবে ২০১১ সালে এনসিবিসি থেকে ৩৭টি জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্রীয় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেছিল। সেই মতো ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। পরে চলতি বছরের জানুয়ারিতে এনসিবিসি পশ্চিমবঙ্গের ৩৫টি জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্রীয় ওবিসি তালিকা থেকে বাদ দিতে বলেছে। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে পশ্চিমবঙ্গের কেন্দ্রীয় ওবিসি তালিকায় যোগ হওয়া ৩৭টি সম্প্রদায় নিয়ে তদন্ত শুরু করে এনসিবিসি। এর মধ্যে ৩৫টিই ছিল মুসলিম সম্প্রদায়।

    ‘অস্বাভাবিকভাবে বেশি’ মুসলিম সম্প্রদায় অন্তর্ভুক্ত

    সংবিধানের ১০২তম সংশোধনী অনুসারে, এনসিবিসি-র মতামত পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় সরকারকে পরিবর্তিত ওবিসি তালিকা সংসদে পেশ করতে হয়, এরপর রাষ্ট্রপতি তা অনুমোদন করলে নতুন তালিকা গেজেট করে প্রকাশিত হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রক জানিয়েছে, বর্তমানে নয়টি রাজ্যের ওবিসি তালিকা সংশোধনের সুপারিশ তাদের কাছে রয়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে দায়িত্ব গ্রহণের পর আহির পশ্চিমবঙ্গ, কর্নাটক ও কেরল-সহ বিভিন্ন রাজ্যের ওবিসি তালিকা নতুন করে খতিয়ে দেখছিলেন। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পশ্চিমবঙ্গে পরিদর্শনের পরই তিনি মন্তব্য করেন যে, রাজ্যের ওবিসি তালিকায় ‘অস্বাভাবিকভাবে বেশি’ মুসলিম সম্প্রদায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

    হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

    প্রসঙ্গত, গত বছরের ২২ মে ওবিসি নিয়ে প্রথম রায় দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। বলা হয়েছিল, ২০১০ সালের পর রাজ্যের তালিকায় যত ওবিসি সম্প্রদায় যুক্ত হয়েছে, তা বাতিল। ২০১০ সালের পর থেকে জারি করা সমস্ত ওবিসি শংসাপত্রও বাতিল করে দেওয়া হয়। তার আগে রাজ্যে ওবিসি হিসাবে ৬৬টি সম্প্রদায় স্বীকৃত ছিল। বলা হয়, সামাজিক, আর্থিক এবং পেশাগত ভাবে সব জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমীক্ষা করে নতুন করে ওবিসি তালিকা প্রকাশ করতে হবে রাজ্যকে। সেই অনুযায়ী রাজ্য একটি সমীক্ষা করে ওবিসি নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। কিন্তু তার বিরুদ্ধেও হাইকোর্টে মামলা হয়। গত ১৭ জুন এই সংক্রান্ত মামলায় রাজ্যের বিজ্ঞপ্তির উপরে স্থগিতাদেশ দেয় হাইকোর্ট। রাজ্য উচ্চ আদালতের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায়।

    তোষণের রাজনীতি তৃণমূলের

    এই তদন্ত ও সুপারিশকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও তীব্র হয়েছে। বিজেপি অভিযোগ করছে—বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলির সরকার ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করতে গিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়কে বেপরোয়া ভাবে ওবিসি তালিকায় যুক্ত করেছে। সম্প্রতি বিজেপি নেতা অমিত মালব্য সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, বাদ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা সবক’টি সম্প্রদায়ই মুসলিম। তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে আক্রমণ করে বলেন, “দশক ধরে চলা তোষণ-নীতির বিকৃতি সংশোধন করছে মোদি সরকার।” তাঁর অভিযোগ—রাজ্য সরকারের ‘প্রগতিহীন ও তোষণ-চালিত’ নীতি সামাজিক ন্যায়ের পরিপন্থী, এবং কেন্দ্র সরকারের লক্ষ্য প্রকৃত পিছিয়ে পড়া শ্রেণির সঠিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

  • SSC Scam: মৃত প্যানেলকে ইঞ্জেকশনে বাঁচানোর চেষ্টা! সুপার নিউমেরারি পদ বাতিল হাইকোর্টের

    SSC Scam: মৃত প্যানেলকে ইঞ্জেকশনে বাঁচানোর চেষ্টা! সুপার নিউমেরারি পদ বাতিল হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উচ্চ প্রাথমিকের নিয়োগে সুপার নিউমেরারি বা অতিরিক্ত শূন্যপদ (SSC Scam) তৈরির সিদ্ধান্ত খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। গতকাল বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে ৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চকারি বহাল রাখার রায়ে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই উচ্চ আদালতের অন্য একটি রায়ে বেজায় ধাক্কা খেল মমতা সরকার। বৃহস্পতিবার বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর বেঞ্চে সুপার নিউমেরারি পদ তৈরি নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে বলেন, রাজ্যের সিদ্ধান্তকে অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। বিচারপতি সাফ জানান, নিয়মিত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনও ভাবেই সুপার নিউমেরারি পদে নিয়োগ করা যায় না।

    ১৬০০ সুপার নিউমেরারি পদ খারিজ (SSC Scam)

    শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে জানা গিয়েছে, উচ্চ প্রাথমিকে শরীরশিক্ষা এবং কর্মশিক্ষা বিষয়ে ওয়েটিং লিস্ট থেকে অতরিক্ত শূন্যপদ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৬০০ সুপার নিউমেরারি পদ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগের জন্য ২০২২ সালের ১৯ মে এবং ১৪ অক্টোবর বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার এই দুই বিজ্ঞপ্তি খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। তিনি রায় দান করার সময় বলেন, “আদালতের (Calcutta High Court) পর্যবেক্ষণে এই অতিরক্ত শুন্যপদগুলি বেআইনি (SSC Scam), মৃত প্যানেলকে ইঞ্জেকশন দয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ওই পদে কোনও নিয়োগ নয়, ২০১৯ সালের প্যানেলের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর তৈরি করা হয়েছে এই শূন্যপদে। কারণ পদগুলি বৈধ নয়। অতিরিক্ত শূন্যপদে নিয়োগ করতে হলে শূন্যপদ ঘোষণা করতে হয়।” তবে উচ্চ মাধ্যমিকের বাকি মামলার বিষয়ে শুনানি হবে আগামী জানুয়ারি মাসে।

    চরম ধাক্কা মমতা সরকারের

    ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে সুপার নিউমেরারি পদ (SSC Scam) তৈরির উপর অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court)। উল্লেখ্য যে ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের মামলায় সুপার নিউমেরারি সিদ্ধান্ত ছিল, সেখানে অবশ্য হস্তক্ষেপ করেনি সুপ্রিম কোর্ট। তবে রাজ্য সরকার গত এপ্রিল মাসে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ দেখিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেছিল। রাজ্য সরকারের বক্তব্য ছিল, উচ্চ প্রাথমিকে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সুপার নিউমেরারি পদে নিয়োগের অনুমতি দিক আদালত। কিন্তু ৭ মে হাইকোর্টে এই পদের উপর স্থগিতাদেশ বহাল রাখেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। এরপর মামলা ডিভিশন বেঞ্চে গেলে ফের বিচারপতি বসুর একক বেঞ্চেই পাঠানো হয় মামলা।

  • SSC scam: “ডিভিশন বেঞ্চের রায় অযোগ্যদের হাতে বড় অস্ত্র”, ৩২ হাজার বহালে প্রতিক্রিয়া শুভেন্দুর

    SSC scam: “ডিভিশন বেঞ্চের রায় অযোগ্যদের হাতে বড় অস্ত্র”, ৩২ হাজার বহালে প্রতিক্রিয়া শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি (SSC scam) মামলায় ৩২০০০ নিয়োগকে মানবিক দৃষ্টিকোণে বহাল রেখেছে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতিদের সাফ কথা, সমস্ত তথ্য এবং প্রমাণের সাপেক্ষে মামলায় ভুক্তভুগিদের পরিবার এবং গত ৯ বছর ধরে চাকরি করার ভিত্তিতে বহাল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই মামলার সিদ্ধান্তকে ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের রায়কে টেনে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এসএসসি নিয়োগ দুর্নিতি মামলায় এক এক বেঞ্চে এক এক বিচারপতির আলাদা আলাদা মত। আমি মনে করি আইন এবং বিচার প্রক্রিয়ায় সব সময় তথ্য এবং নথি দেখে ন্যায় বিচার দেওয়া উচিত।”

    অভিজিৎ বাবু ঠিক জায়গাটা ধরে ছিলেন (SSC scam)

    শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি (SSC scam) মামলা এবং ৩২০০০ চাকরি বহাল প্রসঙ্গে বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করে শুভেন্দু বলেন, “এসএসসি ২৬ হাজার চাকরি বাতিলে বিচারপতিরা (Calcutta High Court) কি মানবিক আচরণ করেননি? প্রাথমিকের ক্ষেত্রে ৯ বছরের চাকরি এবং পরিবারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এক-একটি বেঞ্চে বিচারপতিরা এক-এক রকমের মত প্রকাশ করে থাকেন। সিঙ্গেল বেঞ্চে রায় ছিল তথ্য ভিত্তিক। আর ডিভিশন বেঞ্চের রায় ছিল মানবিক। সরকারের পক্ষ থেকে একাধিকবার হলফনামা দিয়ে স্বীকার করা হয়েছে যে ঠিক ভাবে নিয়ম মেনে নিয়োগ করা হয়নি। ফলে ডিভিশন বেঞ্চের রায় অযোগ্য বা টাকা দিয়ে যে রায় দেওয়া হয়েছে, তা কার্যত তাদের হাতে বড় অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজত্বে কোনও নিয়োগ স্বচ্ছভাবে হয়নি। সম্প্রতি পুলিশের যে নিয়োগ পরীক্ষা হয়েছে সেখানেও কোনও রকম কার্বন কপি দেওয়া হয়নি। আমার মনে হয় প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় যে জায়গাটা ধরে ছিলেন সেখানে সেই জায়গায় কোনও বেঠিক হওয়ার প্রশ্ন নেই। টাকার দিয়ে মমতার সরকার চাকরি বিক্রি যে করেছে সেকথা আদালতেও বার বার প্রমাণিত হয়েছে।”

    সমস্ত বঞ্চিতরা এখনও সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারেন

    শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি (SSC scam) মামলার রায়ে (Calcutta High Court) প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে শুভেন্দু আরও বলেন, “আদালতের দেওয়া রায়ের কপি বিস্তারিত ভাবে হাতে পেলে আরও বিশ্লেষণ করব। তবে এটাও ঠিক সমস্ত বঞ্চিতরা এখনও সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারেন। তবে আজকের রায়ে যারা চাকরি করেছে তাদের উদ্দেশে কিছু বলার নেই। কারণ তারাও পরিস্থিতির স্বীকার। আমার সহানুভূতি তাদের সঙ্গে সবসময় রয়েছে। তবে মানিক ভট্টাচার্য যে কুকর্ম করেছেন তার পিছনে মুখ্যমন্ত্রী নিজে রয়েছেন। পদ্ধতি গত ত্রুটির কথা আদালত স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছে। ৩২ হাজারে কথা ভেবে মানবিক দৃষ্টিকোণে রায় দিয়েছে। তারা এখন কি করবেন এটা সম্পূর্ণ তাদের বিষয়।”

    বঞ্চিত পরিবারের কোনও মূল্য নেই?

    এইমামলার (SSC scam) অপর দিকে বঞ্চিতদের পক্ষে আদালতে লড়াই করেছেন আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তিনি মামলার রায় নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল নামক গ্রহণ যতদিন থাকবে, ততদিন আপনাদের খুব একটা কিছু হবে না। যারা এখন পড়াশোনা করছেন তারাও নিশ্চয়ই দেখছেন রাজ্যে কী চলছে। চুরির সময়কালটা বেশি হয়ে গেলে মনে হয় চুরি মান্যতা পেয়ে যায়।। যারা বঞ্চিত হয়েছে তাদের পরিবারের কোনও মূল্য নেই?”

    লড়াই চলবে

    আদালতের (Calcutta High Court) মানবিক যুক্তির কথাকে তুলে ধরে তরুণজ্যোতি আরও বলেন, “মানবিকতা আর ন্যায়বিচার (SSC scam) এক জিনিস নয়। সরকার ও মুখ্যমন্ত্রীর সেলিব্রেশন সেই পার্থক্যটাই আড়াল করছে। সুপ্রিম কোর্টে এমন বহু রায় আছে, ত্রিপুরা চাকরি বাতিল মামলা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক এসএসসি মামলার জাজমেন্ট—যেখানে দুর্নীতির চাকরি বাতিলের নীতি স্পষ্ট। আজকের রায়ে বেঞ্চ জানাল, দুর্নীতির তদন্ত আগের মতোই চলবে এবং যাদের বিভিন্ন ইস্যু সহ রিজার্ভেশন নিয়ে যে সিঙ্গেল বেঞ্চে মামলাগুলি চলছে তাদের কেস সিঙ্গেল বেঞ্চে চলবে। আদালতের রায় শিরোধার্য। লড়াই চলবে। এ রায় যেদিকেই যেত, শেষ কথা তো সুপ্রিম কোর্টেই হত—এখনও হবে। এ লড়াই কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে। বঞ্চিত চাকরি প্রার্থীরা আজ সবটাই বুঝতে পারছেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যতদিন তৃণমূল থাকবে ততদিন প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি চলবে।

  • Weather Update: পারদ পড়ল পনেরোতে, হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস মতোই রাজ্যে এল শীত

    Weather Update: পারদ পড়ল পনেরোতে, হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস মতোই রাজ্যে এল শীত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঘূর্ণিঝড়ের মেঘের কাঁটা সরলে শীত পড়বে (Weather Update) বলে আগেই জানিয়েছিল হাওয়া অফিস (West Bengal)। শেষমেশ সরে গেল শীতের পথের কাঁটা। প্রত্যাশিতভাবেই বঙ্গে এল ঠান্ডা। বাক্স থেকে বেরলো লেপ-কম্বল। বের হল মোটা চাদর এবং সোয়েটারও। হাওয়া অফিসের খবর, বুধবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে আলিপুর আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস, এবার ধীরে ধীরে পড়বে ঠান্ডা। নামতে থাকবে পারদ। পূর্বাভাস মতোই মরশুমে প্রথমবার ১৬ ডিগ্রির নীচে নামল কলকাতার পারদ। বুধেও অতটা ঠান্ডা মালুম হয়নি। কারণ সকাল থেকেই আকাশে হালকা মেঘ ছিল। যদিও বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজ্যে দেখা গেল রোদ ঝলমলে আকাশ। তাই জাঁকিয়ে পড়েছে ঠান্ডা।

    সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (Weather Update)

    হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, এদিন আলিপুরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রয়েছে ১৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পশ্চিমের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করছে ১২ থেকে ১৩ ডিগ্রির ঘরে। হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, আপাতত এই ঠান্ডার দাপট চলবে। আগামী দিন কয়েক শহরের তাপমাত্রা আরও খানিকটা নেমে যাবে, কমে যেতে পারে ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্র-শনিবার কলকাতার পারা নেমে হতে পারে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায়ই অবশ্য কমবেশি কুয়াশা হতে পারে। আপাতত বৃষ্টি হওয়ার কোনও সম্ভবনাই নেই। পশ্চিমের জেলায় তাপমাত্রা নেমে যেতে পারে ১১ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ঠান্ডার অনুভূতি সব চেয়ে বেশি রাত্রি এবং সকালবেলায়।

    শীতের আমেজ কতদিন

    আগামী পাঁচ দিন এমন শীতের আমেজই থাকবে। কুয়াশার জেরে কোথাও কোথাও দৃশ্যমানতা ৯০০ মিটার থেকে নেমে হতে পারে ২০০ মিটার পর্যন্তও। রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে কুয়াশার ঘনত্ব তুলনায় বেশি থাকার সম্ভাবনা। হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, আগামী সপ্তাহজুড়ে শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে দক্ষিণবঙ্গে। প্রসঙ্গত, ঘূর্ণঝড় ‘দিতওয়াহ’ শক্তি হারিয়ে নিম্নচাপে পরিণত (Weather Update) হয়েছে। এই নিম্নচাপ থেকে লাক্ষাদ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে একটি অক্ষরেখা। বর্তমানে এটি অতিক্রম করেছে কর্নাটক-কেরল। এর পাশাপাশি উত্তর-পশ্চিম ভারতে একের পর এক পশ্চিমী ঝঞ্ঝা সক্রিয়। পাকিস্তান এবং সংলগ্ন জন্মু-কাশ্মীরে একটি পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ও ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে (West Bengal)। নতুন করে শক্তিশালী পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ঢুকবে ৫ ডিসেম্বরের পর (Weather Update)।

  • Suvendu Adhikari: দিল্লিতে শাহী বৈঠকে শুভেন্দু, কমিশনের দফতরেও গেলেন বিরোধী দলনেতা

    Suvendu Adhikari: দিল্লিতে শাহী বৈঠকে শুভেন্দু, কমিশনের দফতরেও গেলেন বিরোধী দলনেতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই বুধবার দিল্লি গেলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। দেখা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) সঙ্গে। শাহের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি, এদিন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দফতরেও (Election Commission) যান শুভেন্দু। দেখা করেন নির্বাচন কমিশনার বিবেক জোশীর সঙ্গে।

    অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাত

    বুধবার দিল্লি গিয়েছিলেন শুভেন্দু। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীই ডেকে পাঠিয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতাকে। সংসদে অমিত শাহের অফিসে তাঁদের বৈঠক হয়। মিনিট ২৫ কথা হয়। তবে কী কথা হয়েছে, তা নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি শুভেন্দু। সূত্রের খবর, রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে শাহের সঙ্গে কথা হয়েছে শুভেন্দুর।

    নির্বাচন কমিশনের দফতরে শুভেন্দু

    সেইসঙ্গে দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দফতরেও যান শুভেন্দু। দেখা করেন নির্বাচন কমিশনার বিবেক জোশীর সঙ্গে। জানা গিয়েছে, কমিশনে একাধিক অভিযোগ জানান তিনি। দলের নির্দেশে তিনি নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করেন বলে বিরোধী দলনেতা জানান। নির্বাচন কমিশনের দফতর থেকে বেরিয়ে শুভেন্দু বলেন, “২৬, ২৭ ও ২৮ নভেম্বর বিএলও-দের কাছ থেকে ওটিপি নিয়ে যেভাবে ১ কোটি ২৫ লক্ষ নাম ডিজিটাইজড করা হয়েছে, সেটা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক গতিবিধি। অনেক বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর বাবার নাম, মায়ের নাম পাল্টে দিয়ে এটা করা হয়েছে। একাধিক মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় এটা দেখবেন।”

    কমিশনকে চিঠিতে শুভেন্দুর দাবি

    এসআইআর এর প্রথম দফার কাজকর্মে বাংলায় বুথ লেবেল অফিসারদের নানাভাবে তৃণমূল ম্যানেজ করেছে বলে বিজেপির অভিযোগ। এমন পরিস্থিতিতে এসআইআর (SIR) এর দ্বিতীয় দফা প্রক্রিয়া শুরুর আগে কমিশনকে মঙ্গলবার চিঠি দেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী । মঙ্গলবার পাঠানো চিঠিতে কমিশনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করে শুভেন্দু সতর্ক করেছেন, “এই পর্যায়ে কোনও আপস হলে চিরস্থায়ী ক্ষতি হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকার সততায়।” চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-এর দ্বিতীয় ধাপ পুরো প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ, এই ধাপেই দাবি-আপত্তি, নথি জমা ও খতিয়ে দেখার কাজ হয়। সেই কাজেই নাকি ‘অতিমাত্রায় অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব’ খাটানো হচ্ছে বলে “নির্ভরযোগ্য ও ধারাবাহিক রিপোর্ট” পাচ্ছেন তিনি। তাঁর কথায়, এই অভিযোগগুলির কারণেই প্রশ্নের মুখে পড়ছে এসআইআর-এর নিরপেক্ষতা।

    মাইক্রো অবজার্ভারের তত্ত্বাবধানে স্ক্রুটিনি

    শুভেন্দুর দাবি, এসআইআর এর দ্বিতীয় ধাপকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিরাপদ রাখতে নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে দু’টি ব্যবস্থা নিতে হবে। এক, পুরো প্রক্রিয়াই রাখতে হবে মাইক্রো অবজার্ভারের কঠোর তত্ত্বাবধানে। এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এই মাইক্রো অবজার্ভারদের কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী হওয়া জরুরি। দুই, দাবি-আপত্তি শুনানি ও যাচাইয়ের কাজ ১০০ শতাংশ সিসিটিভি–র আওতায় রাখতে হবে। এবং সেই সমস্ত ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে এসআইআর-এর শেষ দিন পর্যন্ত। তাঁর দাবি, এটা না হলে কারচুপি আটকানো অসম্ভব। চিঠিতে আরও লেখা আছে, ভোটার তালিকা দ্রুত ত্রুটি মুক্ত না হলে ভবিষ্যতের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই নির্বাচন কমিশনকে “অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও কঠোর নজরদারি” নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা।

  • Calcutta High Court: ৩২ হাজার শিক্ষকের স্বস্তি, চাকরি বাতিল হচ্ছে না জানাল হাইকোর্ট

    Calcutta High Court: ৩২ হাজার শিক্ষকের স্বস্তি, চাকরি বাতিল হচ্ছে না জানাল হাইকোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চাকরি বহাল থাকছে বত্রিশ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের। হাইকোর্টের বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চের র্যবেক্ষণ, দীর্ঘ ৯ বছর পর চাকরি বাতিল হলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়বে। বিচারপতি বলেন, “যাঁরা ৯ বছর ধরে কাজ করছেন তাঁদের পরিবারের কথাও ভাবতে হবে। যাঁরা সফল হননি তাঁদের জন্য সব ড্যামেজ করা যায় না।”

    ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ

    প্রাথমিক স্কুলের ৩২ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকার চাকরি বাতিল করে দিয়েছিলেন হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। ২০১৪ সালের ‘টেট’-এর ভিত্তিতে ২০১৬ সালে প্রাথমিকে প্রায় ৪২ হাজার ৫০০ শিক্ষক নিয়োগ হয়েছিল। ওই নিয়োগ প্রক্রিয়াতেই বেনিয়মের অভিযোগ ওঠে। পরে ২০২৩ সালের মে মাসের ১২ তারিখ ওই মামলার রায় ঘোষণা করেছিলেন হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর নির্দেশে চাকরিচ্যুত হন প্রশিক্ষণহীন ৩২ হাজার শিক্ষক। মঙ্গলবার ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, কোর্ট যখন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তখন পুরো বিষয়টি বিবেচনা করতে হয়েছে। এখানে প্রসঙ্গ উঠে এসেছে সিবিআই-এরও। বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর বক্তব্য, আদালত কোনও ‘রোমিং এনকোয়ারি’ চালাতে পারে না।

    গোটা প্রক্রিয়াকে নষ্ট করা যায় না

    দ্বিতীয়ত, যাঁরা এতদিন ধরে চাকরি করছিলেন, তাঁদের পড়াশোনা করানোর ধরনের উপর কোনও প্রশ্ন ওঠেনি। তৃতীয়ত, যখন এই সাক্ষাৎকার পর্ব (ইন্টারভিউ প্রসেস) চলছিল, সেই সময় যিনি পরীক্ষক ছিলেন তিনি টাকা নিয়ে অতিরিক্ত নম্বর দিয়েছেন তাঁর কোনও প্রমাণ নেই। যার ফলে গোটা সাক্ষাৎকার পর্বে যে গলদ হয়েছে সেটা একেবারে বলা যাচ্ছে না। এদিন কোর্ট এও বলেছে, মামলা যাঁরা করেছিলেন, তাঁরা কেউ চাকরি করছিলেন না। ফলে যাঁরা পাশ করেননি তাঁদের জন্য গোটা প্রক্রিয়াকে নষ্ট করা যায় না। আর সেই যুক্তিতেই ডিভিশন বেঞ্চ একক বেঞ্চের রায়কে খারিজ করল।

    একগুচ্ছ অভিযোগ

    প্রাথমিকে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে একগুচ্ছ অভিযোগ ওঠে। মামলাকারীদের অভিযোগ, ২০১৬ সালের নিয়োগের আইন মানা হয়নি। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ বিধি মানা হয়নি।নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনও সিলেকশন কমিটি ছিল না। থার্ড পার্টি এজেন্সি প‍্যানেল তৈরি করেছিল। অ‍্যাপটিটিউট টেস্ট নেওয়া হয়নি। অ‍্যাপটিটিউট টেস্টের কোনও গাইডলাইনই ছিল না। অতিরিক্ত নম্বর দিয়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়। ⁠কাট অব মার্কস নিয়ে উপযুক্ত তথ‍্য ছিল না বোর্ডের কাছে। শূন‍্যপদের অতিরিক্ত নিয়োগ হয়। এবং ⁠নূন্যতম যোগ্যতা নেই, এমন প্রার্থীরাও চাকরি পান। তবে এদিন সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ খারিজ করে দিয়ে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রতকুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ জানায় কিছু নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে, কিন্তু তার জন্য সবার চাকরি বাতিল করা উচিত বলে মনে করে না হাইকোর্ট।

     

     

     

  • Suvendu Adhikari: মৃতদের ‘জ্যান্ত’ করে ক্ষমতায় থাকতে চাইছে তৃণমূল! ‘হাতে গরম প্রমাণ’ দিলেন শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: মৃতদের ‘জ্যান্ত’ করে ক্ষমতায় থাকতে চাইছে তৃণমূল! ‘হাতে গরম প্রমাণ’ দিলেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে এসআইআরের (SIR) কথা ঘোষণা হতেই ফুঁসে উঠেছিল পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল। সৌজন্য তো বটেই, হেটো রাজনীতি করতে গিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করে (বিরোধীদের অভিযোগ) এসআইআরের প্রতিবাদে পথে নেমে পড়েছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় বিরোধীরা অভিযোগ করেছিলেন (Suvendu Adhikari), ভুয়ো এবং মৃত ভোটারদের বাঁচিয়ে রেখে দিব্যি গদি আঁকড়ে পড়ে রয়েছে তৃণমূল। এসআইআর হলে বাদ পড়বে এদের নাম। স্বাভাবিকভাবেই গদি খুইয়ে পথে বসতে হবে তৃণমূলেশ্বরীকে। রাজ্যের বিরোধী দল প্রথম থেকেই এই দাবিটাই করে আসছে।

    হাতে গরম প্রমাণ (Suvendu Adhikari)

    তাঁদের অভিযোগ, ভুয়ো এবং মৃত ভোটারদের কার্ড কাজে লাগিয়ে ভোটব্যাঙ্ক বাঁচাতে চাইছে তৃণমূল। তাই এই বিরোধিতা। বিরোধীদের এহেন দাবি যে নিছক গল্পগাছা নয়, তার ‘হাতে গরম প্রমাণ’ দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলির উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের একটি ছবিও দিয়েছেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। তাঁর দাবি, বিভিন্ন জায়গায় বিডিওদের দিয়ে অপকর্ম করানো হচ্ছে। প্রশাসনকে অপব্যবহার করে প্রভাবিত করা হচ্ছে এসআইআর প্রক্রিয়াকে। শুভেন্দুর দাবি, “কুলতলি, জয়নগর বিধানসভা-সহ বিভিন্ন জায়গায় বিএলওদের চাপ দেওয়া হচ্ছে, যাতে মৃত ব্যক্তিদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়ে।”

    কথোপকথনের নমুনা

    কুলতলির বিডিও যে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে রয়েছেন তার কথোপকথন নমুনা হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, “মৃত ব্যক্তিদের নাম যাতে তালিকা থেকে বাদ না পড়ে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নিধেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে। যে ভোটাররা ঠিকানা পরিবর্তন করেছেন, তাঁদের তথ্যও অপরিবর্তিত রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে (SIR)।” বিধায়কের (Suvendu Adhikari) প্রশ্ন, “নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অমান্য করে প্রশাসন আদৌ কি এই রকম নির্দেশ দিতে পারে?” এই ইস্যুটি খতিয়ে দেখে নির্বাচন কমিশনকে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জিও জানিয়েছিলেন তিনি। নন্দীগ্রামের বিধায়কের পোস্টের পর এ বিষয়ে রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন।

    আইপ্যাককে নিয়ে প্রশ্ন

    সোমবারই সিইও অফিসে গিয়ে মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন শুভেন্দু। সিইও-র সঙ্গে বৈঠকের সময় আইপ্যাককে নিশানা করেছিলেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “আইপ্যাকের সাহস হয় কীভাবে, ডেটা এন্ট্রিতে ঢুকছে?” এজন্য সিবিআই তদন্তও দাবি করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা (Suvendu Adhikari)। আইপ্যাককে নিয়ে আগেও বোমা ফাটিয়েছিলেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ ছিল, তৃণমূল আইপ্যাকের সাহায্য নিয়ে ভোটার তালিকায় ভুয়ো এবং মৃত ভোটারদের নাম রাখছে (SIR)। তাঁর প্রশ্ন, “নির্বাচন কমিশন কি এই প্রশাসনিক অন্তর্ঘাত উপলব্ধি করতে পারছে না?”

    দলদাস প্রশাসনের কীর্তি

    রাজ্যের বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, “দলদাস প্রশাসনের কীর্তি দেখুন। এই ভয়েস ক্লিপিং ফলতারই একজন বিএলওর যিনি পরিষ্কার অভিযোগ করেছেন, ফলতার বিডিও এবং এআরও গতকাল বিকেল তিনটের পর সব বিএলওদের ফোন করে নির্দেশ দেন, ডেথ সার্টিফিকেট ছাড়া কোনও মৃত ব্যক্তির নাম কাটা যাবে না। অথচ পরিবারের লোক মৃতদের এনুমারেশন ফর্মে ডিক্লিয়ারেশন স্বাক্ষর করেছেন (Suvendu Adhikari)। বিএলওদের বলা হচ্ছে, ফর্মগুলি আপলোড না করে, অ্যানিম্যাপিং করে ছেড়ে দিতে, কেন যাতে পরে জোচ্চুরি করা যায়!” শুভেন্দু বলেন, “ফলতা নিয়ে অডিও ট্যুইট করেছি। তার পরে কুলতলিতে স্ক্রিনশট দিয়েছি। বলছে, ডেথ সার্টিফিকেট ছাড়া মৃত ভোটারের নাম কাটা যাবে না। অথচ তাঁর বাড়ির লোক লিখে দিচ্ছেন ডেড। তবুও রাখতে হবে। এরা হাইকোর্ট, কাউকে মানে না। এদের কপালে অনেক দুঃখ আছে (SIR)।”

    অডিও ক্লিপ জমা দিয়েছিল সিপিএমও

    এদিকে, মৃত ভোটারদের নাম তালিকায় রেখে দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা করছে তৃণমূল। এমন মারাত্মক অভিযোগ করে নির্বাচন কমিশনে অডিও ক্লিপ জমা দিয়েছিল সিপিএমও (Suvendu Adhikari)। এর প্রায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এক্স হ্যান্ডেলে একটি অডিও ক্লিপ পোস্ট করে কার্যত একই অভিযোগ তুললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি, এই অডিও ক্লিপে একটি কণ্ঠস্বর এক বিএলওর। যিনি ফলতার বিডিও এবং এআরওর নামে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করছেন। সোমবার সিইওর দফতরে সিপিএমের তরফে যে অডিও ক্লিপ জমা দেওয়া হয়েছে, সেখানেও শোনা গিয়েছে, মৃতদের নাম ভোটার লিস্টে রেখে দিতে, ডেথ সার্টিফিকেট না দেওয়ার প্রসঙ্গ।

    এদিকে, নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে, রাজ্যে ২ হাজার ২০৮টি পোলিং স্টেশনে ১০০ শতাংশ পূরণ করা এনুমারেশন ফর্ম ফেরত এসেছে। অর্থাৎ এই পোলিং স্টেশনগুলিতে না কোনও মৃত ভোটার আছে, না কোনও স্থানান্তরিত ভোটার। এমনটা কি আদৌ সম্ভব? এই পরিসংখ্যান নিয়ে হইচইয়ের মধ্যেই বারংবার প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি ভোটার তালিকায় মৃতদের ‘জ্যান্ত’ করে রাখার মরিয়া (SIR) চেষ্টা চালাচ্ছে রাজ্যের শাসক দল (Suvendu Adhikari)?

LinkedIn
Share