Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Chingrighata Metro: ‘জেদ করে উন্নয়ন আটকানোর চেষ্টা’! চিংড়িঘাটা মেট্রো নিয়ে রাজ্যকে তুলোধনা সুপ্রিম কোর্টের

    Chingrighata Metro: ‘জেদ করে উন্নয়ন আটকানোর চেষ্টা’! চিংড়িঘাটা মেট্রো নিয়ে রাজ্যকে তুলোধনা সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জনসাধারণের জন্য প্রকল্প নিয়ে রাজনীতি করবেন না। চিংড়িঘাটায় (Chingrighata Metro) দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা মেট্রো প্রকল্প নিয়ে, সোমবার রাজ্য সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। ওই প্রকল্পে ৩৬৬ মিটারের বকেয়া কাজ নিয়ে রাজ্য সরকারের মামলায় হস্তক্ষেপও করল না সুপ্রিম কোর্ট। চিংড়িঘাটা মেট্রোর বকেয়া কাজ শেষ করার বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে গত ১১ ফেব্রুয়ারি কোর্টে যায় রাজ্য। কলকাতা হাইকোর্টের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হয় মামলা। সেই মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালতেও ধাক্কা খেল রাজ্য। রাজ্যের মামলায় হস্তক্ষেপই করল না সুপ্রিম কোর্ট। এই বিষয়ে হাইকোর্টের কথা মেনেই রাজ্য সরকারকে কাজ করার নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত (Supreme Court)।

    চিংড়িঘাটা মেট্রো নিয়ে রাজ্যের গাফিলতি

    রাজ্যের যুক্তি ধোপে টিকল না। ধমক খেয়ে ফিরতে হল সুপ্রিম কোর্ট থেকে। চিংড়িঘাটা মেট্রো লাইন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টালবাহানা চলছে। মাত্র ৩৬৬ মিটার লাইনের কাজ বাকি থাকায় সম্পূর্ণ হচ্ছে না কলকাতা মেট্রোর অরেঞ্জ লাইন। রাজ্য়ের সঙ্গে মেট্রো কর্তৃপক্ষের বারবার সংঘাত তৈরি হয়েছে এই নিয়ে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে বৈঠকে বসেও কোনও লাভ হয়নি। রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবও এই ইস্যুতে মুখ খুলেছিলেন।  আর এবার সেই ইস্যুতেই রাজ্যকে কার্যত ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারেনি মেট্রো। পুলিশের বিরুদ্ধে কাজ করতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কাজ করার ক্ষেত্রে বারবার বিভিন্ন যুক্তি দেখিয়েছে রাজ্য। হাইকোর্টের নির্দেশ মানার বদলে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছে রাজ্য সরকার।

    হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশে কোনও ত্রুটি নেই

    সোমবার সেই মামলাটি ওঠে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিপুল মনুভাই পঞ্চোলীর বেঞ্চে। আদালত মামলায় হস্তক্ষেপ করতে চায়নি। উল্টে রাজ্য সরকারকে মামলা তুলে নিতে বলা হয়। তা না করা হলে মামলাটি সরাসরি খারিজ করে দেওয়া হবে, জানান বিচারপতি। চিংড়িঘাটা মেট্রোর বকেয়া কাজ নিয়ে রাজ্য সরকার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করেছে বলেও মন্তব্য করে আদালত। সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়ের তরফে বলা হয়েছে, এটা কিছু আধিকারিকের একগুঁয়েমিকেই প্রতিফলিত করছে। যারা আদতে কলকাতা শহরে মেট্রো রেল প্রকল্পটিতে আরও দেরি করতে চায় অথবা বন্ধ করিয়ে দিতে চায়। পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশে কোনও ত্রুটি নেই।

    উন্নয়ন অপেক্ষা উৎসব গুরুত্বপূর্ণ!

    রাজ্য সরকারের আইনজীবীকে উদ্দেশ্য বলে সুপ্রিম কোর্টের মন্তব্য,‘‘আমরা প্রথমবার দেখছি, কোনও রাজ‍্য উন্নয়নের বিরোধিতা করছে। এই মামলা এত দূর গড়িয়েছে যে, এখন নির্বাচন বিধির আওতায় পড়ে গিয়েছে। আপনাদের কাছে উৎসব আগে না যোগাযোগ ব‍্যবস্থার উন্নতি করা আগে? আপনারা হাইকোর্টকে জানিয়েছেন যে, আপনাদের উৎসব আয়োজনের কাজ রয়েছে। তাই নির্মাণকাজের জন্য আপনারা পুলিশি সহায়তা দিতে পারবেন না। আপনাদের কাছে উন্নয়ন অপেক্ষা উৎসবই অধিক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে আশা করি না যে, তারা বলবে পরিবহণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা নির্মাণের কাজটি আপাতত উপেক্ষা করা হোক।’’ আদালত আরও বলে, ‘‘একবার বলা হল উৎসব চলছে, একবার বলা হচ্ছে পরীক্ষা চলছে। এখন বলা হচ্ছে নির্বাচন আছে! এটা কী হচ্ছে?’’ শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই কাজ হবে, হাইকোর্টই সময় বেঁধে দিয়ে কাজ করবে। রাজ্যের প্রতি কড়াভাব দেখিয়েই বিচারপতি বলেন,‘‘সুযোগ দিচ্ছি হয় মামলা তুলে নিন, না হলে খারিজ করে দেব।’’

    রাজ্য কী প্রকল্প বন্ধ করিয়ে দিতে চায়?

    সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বললেন, ‘‘রাজ্য নিজের সংবিধানগত দায়িত্ব পালনে গাফিলতি দেখাচ্ছে। উন্নয়ন আটকাতে জেদি মনোভাব দেখানো হচ্ছে।’’ আদালতের বক্তব্য, এত অজুহাত দেখালে চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পের বকেয়া কাজ কবে হবে? বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, ‘‘আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার আগে এই প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছিল। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে আপনারা এটিকে আরেকটি অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাবেন, এমনটা আমরা কিছুতেই হতে দেব না।’’

    সবকিছুর রাজনীতিকরণ করবেন না

    মেট্রো লাইনের কাজে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে, অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছিল মেট্রো কর্তৃপক্ষ। মামলা গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে। কলকাতা হাইকোর্ট বকেয়া কাজ শেষ করার জন্য সময় বেঁধে দিয়েছিল। হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় রাজ্য সরকার। এই মামলা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘সবকিছুর রাজনীতিকরণ করবেন না। এটি একটি উন্নয়নমূলক বিষয়।’’

    মুখ্য সচিব এবং ডিজিপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা!

    এদিন শুনানির সময় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে বলা হয়,‘‘আমাদের মে মাস পর্যন্ত সময় দিন। নির্বাচন চলছে, তাই এই বিলম্ব।’’ এরপর প্রধান বিচারপতি রাজ্য সরকারের উপর আরও ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘‘হাইকোর্ট খুবই নরম মনোভাব দেখিয়েছে। এটি এমন একটি মামলা যেখানে আপনাদের মুখ্যসচিব এবং ডিজিপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। এই ঘটনায় তাঁদের কর্তব্যের প্রতি সম্পূর্ণ অবহেলা প্রকাশ পাচ্ছে। যেখানে আদতে রাজনীতির কোনও জায়গা নেই, সেখানে এটিকে রাজনীতিকরণের চেষ্টা করা হচ্ছে।’’

    চিংড়িঘাটা নিয়ে কী জটিলতা

    চিংড়িঘাটায় মাত্র ৩১৬ স্কোয়ার মিটার অংশের জন্য থমকে রয়েছে নিউ গড়িয়া থেকে কলকাতা বিমানবন্দর পর্যন্ত মেট্রোর অরেঞ্জ লাইন সম্প্রসারণের কাজ। এই কাজ সম্পন্ন করতে হলে সাময়িক ভাবে বাইপাসে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। কিন্তু অভিযোগ, রাজ্য সরকার অনুমতি দিচ্ছে না। ফলে কাজও এগোচ্ছে না। কলকাতা হাইকোর্ট এ বিষয়ে রাজ্য, কলকাতার পুলিশ কমিশনার, জয়েন্ট কমিশনার অফ পুলিশ (ট্রাফিক), ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশকে (ট্রাফিক) ছাড়পত্র (এনওসি) দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। জট কাটাতে আদালতের নির্দেশে মেট্রো, রাজ্য এবং নির্মাণকারী সংস্থার একাধিক বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু সমাধানসূত্র বেরোয়নি।

    কাজ শেষ হতে কতদিন

    নির্মাণকারী সংস্থা জানিয়েছিল, সাময়িক যান নিয়ন্ত্রণ করে চিংড়িঘাটায় মেট্রোর বাকি কাজ শেষ করতে ন’মাস লাগবে। কিন্তু হাইকোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও রাজ্য ‘এনওসি’ দেয়নি বলে অভিযোগ। ফলে কাজ শুরু করা যায়নি। বর্ষবরণের অনুষ্ঠান এবং গঙ্গাসাগর মেলার জন্য রাতের ট্রাফিক আটকানো যাবে না বলে আগে জানিয়েছিল সরকার। এবার ভোটের জন্য সমস্যার কথাও বলা হয়েছে। রাজ্যের এই ভূমিকাতেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। বলা হয়েছে, হাইকোর্টের নির্দেশেই কাজ হবে। ইতিমধ্যে গত মাসে মেট্রো রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার শুভ্রাংশু শেখর মিশ্র জানান, চিংড়িঘাটায় জটের কারণে মেট্রোর অরেঞ্জ লাইনের ‘ডেডলাইন’ আরও এক বছর পিছিয়ে যাচ্ছে। ২০২৭ সালের মধ্যে অরেঞ্জ লাইনের (নিউ গড়িয়া থেকে বিমানবন্দর মেট্রো করিডর) কাজ শেষ করার যে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল, সেটা পিছিয়ে ২০২৮ সাল করে দেওয়া হয়েছে।

  • Suvendu Adhikari: রামনবমীর আগেই নন্দীগ্রামে রাম মূর্তি ভাঙচুর! তৃণমূল আশ্রিত জেহাদিদের দিকে তির শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: রামনবমীর আগেই নন্দীগ্রামে রাম মূর্তি ভাঙচুর! তৃণমূল আশ্রিত জেহাদিদের দিকে তির শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে (Nandigram) একটি মন্দিরে রামচন্দ্রের মূর্তি ভাঙচুরকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) সরাসরি শাসক দল এবং প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করেছেন। ঘটনাকে তৃণমূল আশ্রিত জেহাদিদের অপকর্ম বলে উল্লেখ করেছেন। স্থানীয় মন্দিরে রাতের অন্ধকারে দুষ্কৃতীদের আক্রমণে রামচন্দ্রের মূর্তিকে অপমান করা হয়। সকালে বিষয়টি জানাজানি হতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

    শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিক্রিয়া (Suvendu Adhikari)

    মূর্তি ভাঙার ঘটনায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং জনসভায় সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, “রাজ্যের তুষ্টিকরণ রাজনীতির কারণেই দুষ্কৃতীরা এ ধরনের দুঃসাহস দেখাচ্ছে।” আগামী ২৭ মার্চ রাম নবমী তাই এলাকায় হিন্দুদের আতঙ্কিত করার গভীর ষড়যন্ত্র করছে বলে তৃণমূলকে নিশানা করেন শুভেন্দু।

    প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেছেন, “বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও পুলিশ প্রকৃত অপরাধীদের ধরতে গড়িমসি করছে। হুঁশিয়ারি দিচ্ছি  দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে বিজেপি। জেহাদিরা রামের মূর্তি ভেঙেছে, যেটা রাম নবমীর জন্য তৈরি করা হচ্ছিল। রাজ্য সরকার হিন্দুদের বিরুদ্ধে। হিন্দু উৎসবের আগে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে কিছু সমাজবিরোধী সব সময় এই ধরনের কাজ করে। এমনকি মুসলিমরাও আমাদের মিছিলে থাকেন, তাঁরা এসব করেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ভোটব্যাঙ্কের জন্য কিছু গুন্ডা তৈরি করেছেন, তারাই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।”

    শাসক দলের অবস্থান

    নন্দীগ্রামের (Nandigram) তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, এটি একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। সম্প্রীতি নষ্ট করার যেকোনও প্রচেষ্টাকে কঠোরভাবে দমনের কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বর্তমানে এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সিসিটিভি ফুটেজ এবং স্থানীয় সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, নন্দীগ্রামের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক প্রতীকের অবমাননার ঘটনাগুলো রাজনৈতিক মেরুকরণকে আরও তীব্র করে তুলছে।

  • Bengal BJP: বঙ্গজয়ের রণকৌশল স্থির করতে সোমেই শহরে নিতিন নবীন, রামনবমীর পরেই উত্তরবঙ্গে প্রধানমন্ত্রী

    Bengal BJP: বঙ্গজয়ের রণকৌশল স্থির করতে সোমেই শহরে নিতিন নবীন, রামনবমীর পরেই উত্তরবঙ্গে প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-কে পাখির চোখ করে কোমর বেঁধে ময়দানে নামছে ভারতীয় জনতা পার্টির (Bengal BJP) কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। দলীয় সূত্রে খবর, আগামী মাসেই নির্বাচনী প্রচারের শঙ্খনাদ করতে রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। উত্তরবঙ্গে মোট ৪টি সভা করার কথা মোদির। এই সফরকে কেন্দ্র করে বঙ্গ বিজেপির অন্দরে এখন সাজ সাজ রব। এদিকে, সোমবার রাতে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন (PM Modi-Nitin Nabin) আসছেন একাধিক কর্মসূচি নিয়ে।

    প্রধানমন্ত্রীর মেগা র‍্যালি (Bengal BJP)

    নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই বঙ্গ বিজেপির (Bengal BJP) বিশেষ অনুরোধে প্রধানমন্ত্রীর একাধিক জনসভা ও রোড-শোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশেষত কলকাতার ‘বিগ্রেড প্যারেড গ্রাউন্ড’-এ সভার পর থেকে নেতা কর্মীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এবার উত্তরবঙ্গে কৌশলগত এলাকাগুলোতে তাঁর উপস্থিতিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ৭ কিংবা ৮ এপ্রিল উত্তরবঙ্গে বিশেষত শিলিগুড়িতে রোড শো করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi-Nitin Nabin)। ইতিমধ্যে সোমবার উত্তরবঙ্গের বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসল ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব শিলিগুড়িতে বৈঠকে বসেছেন।

    ভোটে মেগা প্রচার

    জানা যাচ্ছে, রামনবমীর পর পশ্চিমবঙ্গে ১৪টি জনসভা ও রোড শো করবেন প্রধানমন্ত্রী (PM modi-Nitin Nabin)। ৮টি রোড শো ও জনসভা করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ৭টি জনসভা করবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। ৬টি জনসভা করবেন জেপি নাড্ডা ও ১০টি রোড শো করবেন মিঠুন চক্রবর্তী। বিজেপির (Bengal BJP) ভোট প্রচার প্রস্তুতি তুঙ্গে। নির্বাচন কমিশনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ার ওপর কড়া নজর রাখছে বিজেপি। ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে দলের আইনি সেল ও কার্যকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

    কেন এই সফর তাৎপর্যপূর্ণ?

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী মোদির (PM Modi-Nitin Nabin) এই আগাম সফর আসলে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে এক ইঞ্চি জমিও ছেড়ে না দেওয়ার বার্তা। একদিকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সাফল্য তুলে ধরা, আর অন্যদিকে দুর্নীতির অভিযোগে রাজ্য সরকারকে বিঁধে জনমত গঠন করাই বিজেপির (Bengal BJP) প্রাথমিক লক্ষ্য।

    সোমবার রাতে শহরে নিতিন নবীন

    বাংলায় এসে জোন ভিত্তিক সাংগঠনিক বৈঠক করতে চলেছেন নিতিন নবীন (PM modi-Nitin Nabin)। বিজেপির যে ১০টি বিভাগ রয়েছে, তার প্রত্যেকটি বিভাগের সঙ্গে আলাদা আলাদাভাবে বৈঠকে অংশ গ্রহণ করবেন। দলের সাংগঠনিক হাল হকিকত খতিয়ে দেখবেন। ভোটের সাংগঠনিক কৌশল স্থির করতেই সর্বভারতীয় সভাপতি আগামী সপ্তাহে রাজ্যে আসতে পারেন বলেই বিজেপি সূত্রের দাবি। জানা গিয়েছে, সোমবার রাতেই তাঁর কলকাতা পৌঁছনোর কথা। নিউটাউনের হোটেলে মঙ্গলবার কোর কমিটির বৈঠকে থাকবেন তিনি। জানা যাচ্ছে, দু’দফার প্রার্থী তালিকা নিয়ে পর্যালোচনা হতে পারে। একই সঙ্গে তৃতীয় তালিকা প্রকাশ, প্রচার কৌশল ও ইস্তাহার নিয়েও আলোচনার সম্ভাবনা। নিতিন নবীনের রাজ্যে আসা নিয়ে রাজনৈতিক আগ্রহ তৈরি হয়েছে দলীয় নেতা কর্মীদের মধ্যে। বিজেপি ভোট প্রচারের কৌশল নিয়েও আলোচনা করতে পারেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।  মঙ্গলবারের কোর কমিটির বৈঠকে প্রচার নিয়ে এক রণকৌশল তৈরি করবেন তিনি। বুধবার বৈঠক করবেন দলের নেতাদের সঙ্গে।  সেইসঙ্গে তাঁর কর্মসূচিতে জনসভা থাকবে কি না, তাও স্পষ্ট করতে নারাজ পদ্ম ফুল শিবির।

    আসবেন অমিত শাহ সহ বিজেপির শীর্ষ নেতারা

    একই ভাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং বিজেপির (Bengal BJP) সর্বভারতীয় সভাপতি সহ শীর্ষ স্তরের একঝাঁক নেতা নিয়মিত ব্যবধানে বাংলায় সফর করবেন। প্রতিটি জেলার বুথ স্তরের সাংগঠনিক শক্তি পরখ করতে দিল্লি থেকে বিশেষ পর্যবেক্ষক দল নিয়োগ করা হয়েছে। গত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে বিজেপি নেতৃত্ব এবার বিশেষ কিছু ‘ফোকাস’ সিট বা আসন চিহ্নিত করেছে। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা এবং তফশিলি জাতি-জনজাতি প্রধান অঞ্চলগুলোতে দলের প্রচারের ধরন নিয়ে নতুন দিশা দেখাচ্ছেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিরা।

  • West Bengal Elections 2026: বঙ্গভোটে আরও কড়া নির্বাচন কমিশন, পুলিশকে দেওয়া হল একগুচ্ছ নির্দেশ

    West Bengal Elections 2026: বঙ্গভোটে আরও কড়া নির্বাচন কমিশন, পুলিশকে দেওয়া হল একগুচ্ছ নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসন্ন ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Elections 2026) অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে এখন থেকেই নজিরবিহীন সক্রিয়তা দেখাচ্ছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। সাম্প্রতিক প্রশাসনিক বৈঠক এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কমিশনের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। প্রশাসন ব্যবস্থায় পুলিশকে দেওয়া হয়েছে একগুচ্ছ নির্দেশ। নির্বাচন কমিশনের (Election Commission India) এই “জিরো টলারেন্স” নীতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, ২০২৬-এর নির্বাচনী রণকৌশলে রাজনৈতিক সংঘাতের বদলে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতাই হবে প্রধান অগ্রাধিকার।

    শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের অঙ্গীকার (West Bengal Elections 2026)

    নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আসন্ন নির্বাচনে (West Bengal Elections 2026) কোনও প্রকার হিংসা বা অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। ভোট প্রক্রিয়াকে ভয়ভীতিমুক্ত করতে রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ স্তরকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কমিশনের তরফে পাঁচটি মূল বিষয় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। সেগুলি হল –

    • ১> পুরো ভোট প্রক্রিয়া হিংসামুক্ত রাখতে হবে।
    • ২> কোনওভাবেই ছাপ্পা ভোট চলবে না, স্বচ্ছ ভোটই একমাত্র লক্ষ্য।
    • ৩> সোর্স জ্যামিং বা বুথ জ্যামিং একেবারেই সহ্য করা হবে না।
    • ৪> ভোটারদের জন্য ভয়মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
    • ৫> কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, ভোটের সময় প্রলোভন দেখানো বা প্রভাব খাটানোর চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

    প্রশাসনিক রদবদল ও নজরদারি

    নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে রাজ্য পুলিশ ও আমলাতন্ত্রে বড়সড় রদবদল করা হয়েছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা আনার ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার নির্দেশ (Election Commission India) দেওয়া হয়েছে। যেহেতু ২ দফায় রাজ্যে ভোট হচ্ছে তাই পুলিশকে একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দাগী অপরাধীদের তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। জামিন অযোগ্যধারায় মামলা দায়ের করার কিছু কেস কার্যকর করতে হবে। পুলিশ, সিএপিএফ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী একযোগে সমস্ত পোলিং স্টেশন পরিদর্শন করতে হবে। স্পর্শ কাতর বুথের দিকে নজর বেশি করে দিতে হবে। কর্তব্যে গাফিলতি থাকলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ভোটারদের ভয় দেখালে পুনঃনির্বাচনের (West Bengal Elections 2026) বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে। পুলিশ এবং সিএপিএফ কাজের সমন্বয় রেখে কাজ করবে। দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে তার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ডিইও, এসপি, ডিএফসি-র যৌথ বৈঠকে সকল সমস্যার সমাধান করতে হবে।

    ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা

    ভোটার তালিকায় কোনও ধরনের গরমিল বা অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তিকরণ বা বিয়োজন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশন আপসহীন।

    কেন্দ্রীয় বাহিনীর আগাম মোতায়েন

    স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সাধারণ মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে ভোট ঘোষণার অনেক আগে থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের (Election Commission India)।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ

    নির্বাচনী (West Bengal Elections 2026) প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা নিয়ে উচ্চ আদালতের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণগুলোকেও কমিশন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে, যাতে আইনি জটিলতা এড়িয়ে একটি সফল নির্বাচন সম্পন্ন করা যায়। রবিবার বৈঠকে পুলিশ পর্যবেক্ষকদের স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এবারের নির্বাচনে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নজর দেওয়া নয়, ভোটারদের আত্মবিশ্বাস ফেরানোর কথাও বলা হয়েছে। ওসি-দের সঙ্গে বৈঠকে বিষয়গুলিকে নিয়ে পর্যবেক্ষককে স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিতে হবে। কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারের গাফিলতির ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটারদের ভয় দেখালে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। পুলিশকে এই বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে প্রচার করতে হবে। দুষ্কৃতীদের ভয় দেখানো আটকাতে হবে এবং ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে উৎসাহিত করতে হবে। সেই সঙ্গে এই ধরনের ঘটনা প্রশাসনের নজরে আনার জন্য ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

  • Assembly Elections 2026: বুথের বাইরে স্পষ্ট নির্দেশিকা! ভোট-কেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে নিষিদ্ধ মোবাইল, এবার কী কী নতুন নিয়ম?

    Assembly Elections 2026: বুথের বাইরে স্পষ্ট নির্দেশিকা! ভোট-কেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে নিষিদ্ধ মোবাইল, এবার কী কী নতুন নিয়ম?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে (Assembly Elections 2026)  ভোটারদের সুবিধার্থে ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াকে আরও সু-শৃঙ্খল করতে একগুচ্ছ পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। বুথে ঢোকার আগে থেকে ভোট দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়ায় কী কী বদল আসছে, তা নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এর ফলে ভোটারদের মধ্যে কোনওরকম ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হবে না। ফলে কথা-কাটাকাটি বা উত্তেজনা ছড়ানো সহজ হবে না। শুধু তাই নয় কমিশন জানিয়েছে, এবার রাজ্যের প্রবীণ নাগরিকরা ঘরে বসেই ভোট দিতে পারবেন। এক্ষেত্রে যাঁদের বয়স ৮৫-এর উপরে, তাঁরাই এই সুবিধা পাবেন। এছাড়া বিশেষভাবে সক্ষমরাও বাড়ি বসেই ভোট দিতে পারবেন বলে জানিয়ে দিয়েছে কমিশন।

    ভোট-কেন্দ্রের বাইরে পোস্টারে নির্দেশিকা

    বিধানসভা নির্বাচনে প্রতি বুথের বাইরেই চার ধরনের পোস্টার টাঙিয়ে দেবে কমিশন। ওই পোস্টারগুলিতে প্রার্থীদের নাম, বুথ সংক্রান্ত তথ্য, ভোট দেওয়ার নিয়ম এবং কোন কাজ করা যাবে না, এসব স্পষ্টভাবে লেখা থাকবে। ভোটার কার্ড ছাড়াও কোন কোন নথি দেখিয়ে ভোট দেওয়া যাবে, সেটাও সেখানে উল্লেখ থাকবে। ভোটারদের বোঝার সুবিধার জন্য নির্দিষ্ট জায়গায় চিহ্নিত করা থাকবে। এগুলি এমন জায়গায় থাকবে, যাতে ভোটারেরা সহজে দেখতে পান।

    ভোটার সহায়তা কেন্দ্র

    বুথের কাছে থাকবে ভোটার সহায়তা কেন্দ্রও। সেখানে বুথ স্তরের আধিকারিকদের (বিএলও) থাকতে বলা হয়েছে। তাঁরা ভোটারদের সঠিক বুথ বা কক্ষ খুঁজে পেতে সাহায্য করবেন এবং ক্রম নম্বর অনুযায়ী নির্দেশনা দেবেন।

    ১০০ মিটারের মধ্যে মোবাইল নিষিদ্ধ

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশের মধ্যে রয়েছে মোবাইল ফোন সংক্রান্ত নিয়ম। কমিশন (Election Commission) স্পষ্ট জানিয়েছে, ভোটকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না। ভোট দিতে যাওয়ার আগে মোবাইল সুইচ অফ বা সাইলেন্ট করে নির্দিষ্ট জায়গায় জমা রাখতে হবে। ভোট দেওয়া হয়ে গেলে পরে তা সংগ্রহ করা যাবে। এই নিয়ম কঠোর ভাবে মানতে বলেছে কমিশন। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। ভোটের ফল জানা যাবে ৪ মে।

    ন্যূনতম পরিষেবায় জোর কমিশনের

    রবিবার সকালে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে একাধিক নিয়মকানুনের কথা জানিয়েছে কমিশন। পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও অসম, তামিলনাড়ু, কেরল এবং পুদুচেরিতে ভোট হচ্ছে। বলা হয়েছে, এই চার রাজ্য এবং এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মোট ২ লক্ষ ১৮ হাজার ৮০৭টি বুথে ভোটারদের জন্য ন্যূনতম পরিষেবা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতি ক্ষেত্রে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের (সিইও) সেই নির্দেশ দেওয়া রয়েছে। এই ন্যূনতম পরিষেবার মধ্যে রয়েছে পানীয় জল, শৌচাগার এবং তাতে পর্যাপ্ত জল, ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত আলোর মতো কয়েকটি বন্দোবস্ত। সব বুথ একতলায় করা হচ্ছে। এই নিয়মের ফলে বয়স্করা সুবিধা পাবেন। ভোট দিতে দাঁড়ানোর জন্য ছায়ার আশ্রয়, প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য উপযুক্ত র‌্যাম্প, বিচ্ছিন্ন ভোটকক্ষ এবং উপযুক্ত চিহ্নিতকরণ নিশ্চিত করতে বলেছে কমিশন।

    ঘরে বসেই ভোট 

    কমিশনের তরফে জানান হয়েছে, কেউ ঘরে বসে ভোট দিতে চাইলে সবার প্রথমে বিএলও-এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। ভোটার বা পরিবারের কাউকেই যোগাযোগ করতে হবে। এরপর ১২ডি ফর্ম ফিলআপ করে আবেদন করে ফেলতে হবে। তাহলেই ভোটারের তরফের কাজ শেষ। এরপর বিএলও সেই ফর্ম গিয়ে জমা দেবেন নির্দিষ্ট জায়গায়। তারপর রিটার্নিং অফিসার কবে ভোটগ্রহণ করা হবে, সেটা ঠিক করবেন। সেই মতো প্রার্থীদের জানান হবে দিন। এমনকী ভোটারদেরও বলে দেওয়া হবে। এরপর নির্দিষ্ট দিনে বাড়ি গিয়ে নেওয়া হবে ভোট। এই হল পুরো প্রক্রিয়া। তবে শুধু বাড়ি বসেই ভোট দেওয়ার সুবিধাই নয়, পোস্টাল ব্যালটেও ভোট দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে কমিশন। এক্ষেত্রে যাঁরা ভোটের কাজের সঙ্গে যুক্ত, সেই সব সরকারি আধিকারিকরা সরাসরি পোস্টল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন। এছাড়া দমকল, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, ট্র্যাফিক, অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা, সাংবাদিক সহ আরও কিছু মানুষকে পোস্টাল ব্যালটের সুবিধা দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে দফতরের জন্য মনোনিত নোডাল অফিসারের কাছে করতে হবে আবেদন। তাহলেই ভোট দেওয়া যাবে।

    অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সবরকম পদক্ষেপ

    বাংলায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সবরকম পদক্ষেপ করা হচ্ছে। গত ১৫ মার্চ ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেই একথা জানিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বাংলার একটি বুথেও নজরদারিতে হালকা মনোভাব দেখাচ্ছে না কমিশন। রাজ্যজুড়ে ৮০ হাজার ৭১৯ বুথের ভিতর ও বাইরে মিলে ২ লাখ সিসিটিভি, ওয়েবক্যাম থাকবে। থাকবেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর দুই লাখের মতো জওয়ান। সিসিটিভি আর কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারিতে এবার ভোট হবে বাংলায়। বিভিন্ন নির্বাচনে বাংলায় বুথ দখল, ছাপ্পার অভিযোগ ওঠে। শাসকদলের বিরুদ্ধে সরব হয় বিরোধীরা। এবারও বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগে থেকেই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য একাধিক দাবি জানাতে থাকে বিরোধীরা। ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগে বাংলা সফরে এসেছিল কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সেখানেও নিজেদের উদ্বেগের কথা জানায় রাজনৈতিক দলগুলি। তাই বাংলায় নির্বিঘ্নে ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সবরকম পদক্ষেপ করা হচ্ছে, বলে জানিয়েছে কমিশন।

  • Assembly Election 2026: ভোটে হাই-ভোল্টেজ ভবানীপুর! বিধানসভা নির্বাচনে মোদির শেষ প্রচার কেন্দ্র স্থির করল বিজেপি

    Assembly Election 2026: ভোটে হাই-ভোল্টেজ ভবানীপুর! বিধানসভা নির্বাচনে মোদির শেষ প্রচার কেন্দ্র স্থির করল বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে ভোটের বাদ্যি বেজে গিয়েছে। ঘোষণা হয়েছে নির্বাচনের দিন। ভোটের (Assembly Election 2026) দিনক্ষণ ঘোষণার পর এখনও বাংলায় প্রচারে আসেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Modi in Bengal)। তিনি বাংলায় কবে প্রথম প্রচার শুরু করবেন, তা এখনও নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি। তবে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে মোদির শেষ কর্মসূচি কোথায় হতে চলেছে, তার আঁচ পাওয়া গেল। হাইভোল্টেজ ভবানীপুরে তাঁর নির্বাচনী প্রচার শেষ করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। এবার ভোটে রাজ্যে সবচেয়ে হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুর। এই আসনে তৃণমূলের প্রার্থী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর বিজেপির টিকিটে প্রার্থী হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। একুশের নির্বাচনে যে দ্বৈরথ পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে দেখা গিয়েছিল, সেটাই এবার হচ্ছে ভবানীপুরে। গতবার নন্দীগ্রামে এই দ্বৈরথে মমতাকে টেক্কা দিয়েছিলেন শুভেন্দু।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কর্মসূচি

    রাজ্য বিজেপি সূত্রে খবর,পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে (Assembly Election 2026)  প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কী কী কর্মসূচি থাকবে, তার রূপরেখা চূড়ান্ত করার আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে সে আলোচনার শুরুতেই নির্ধারিত হয়েছে শেষ কর্মসূচিটি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্বিতীয় বা শেষ দফার নির্বাচনী প্রচারে শেষ রোড শো কোথায় করবেন, স্থির করে ফেলেছে বিজেপি। এ যাত্রায় প্রধানমন্ত্রী মোদির অন্তিম রোড শো-টি ভবানীপুর ছুঁয়ে যাবে। ২৩ এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। সে দফায় কলকাতায় ভোট হচ্ছে না। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের ১৪২টি আসনে ভোট হবে দ্বিতীয় দফায় অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল। তাই ২৪ থেকে ২৭ এপ্রিলের মধ্যেই এই অঞ্চলে ভোটের প্রচার তুঙ্গে উঠবে। ওই সময়েই প্রধানমন্ত্রী মোদি কলকাতায় রোড শো করবেন। সেটিই হবে পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচনে তাঁর শেষ রোড শো। কোন পথ দিয়ে বা কলকাতার কোন কোন অ়ঞ্চল হয়ে প্রধানমন্ত্রীর রোড শো এগোবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সে কর্মসূচি যে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রকে অবশ্যই ছুঁয়ে যাবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে।

    ভবানীপুরে শেষ রোড-শো!

    বিজেপি সূত্রে খবর, বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রচার মোদি শেষ করতে পারেন ভবানীপুরে। এই নিয়ে জোর আলোচনা চলছে পদ্মশিবিরে। কলকাতার দুই প্রান্তে দুটি রোড শো করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী (Modi in Bengal)। তবে, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা, প্রধানমন্ত্রীর দফতরের অনুমোদন, এসপিজি-র ছাড়পত্র— এমন অনেকগুলি বিষয়ের উপরে যাত্রাপথ চূড়ান্ত হওয়া নির্ভর করছে। সূত্রের খবর, উত্তর এবং দক্ষিণ কলকাতায় মোদি রোড শো, মিছিল করবেন। তবে এখনও দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি। মোদির ভোট প্রচারের শেষ কর্মসূচির আভাস পাওয়া গেলেও প্রথম কর্মসূচি সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি। বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব চাইছেন, আগামী ২৬ মার্চ বঙ্গে ভোট প্রচার শুরু করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। যদিও প্রধামন্ত্রীর দফতর থেকে এখনও কিছু জানানো হয়নি। শোনা যাচ্ছে, এপ্রিলের শুরুতেই উত্তরবঙ্গে আসবেন মোদি। শিলিগুড়িতে করতে পারেন রোড শো।

     

     

     

     

     

  • West Bengal Elections 2026: লক্ষ্য হিংসামুক্ত-শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, রাজ্যে আসছে আরও ১৯২০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী

    West Bengal Elections 2026: লক্ষ্য হিংসামুক্ত-শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, রাজ্যে আসছে আরও ১৯২০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Elections 2026) কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র করতে বড়সড় পদক্ষেপ করছে নির্বাচন কমিশন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচন অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ করতে ২৪০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের লক্ষ্যে অতিরিক্ত আরও ১৯২০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Armed Police Forces) মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যে নিরাপত্তার এমন ব্যাপক প্রস্তুতি নজিরবিহীন।

    কত কত বাহিনী আসবে (West Bengal Elections 2026)?

    নিরাপত্তা প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে কমিশন এবার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। হিংসামুক্ত এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন (West Bengal Elections 2026) করতে কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ ও লক্ষ্য রয়েছে। ইতিমধ্যেই মার্চে রাজ্যে মোতায়েন হয়ে গিয়েছে ৪২০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। আরও অতিরিক্ত ১৯২০ কোম্পানি বাহিনী পাঁচটি ধাপে আসবে রাজ্যে। প্রথম দফায় ৩১ মার্চ রাজ্যে আসছে মোট ৩০০ কোম্পানি। এর মধ্যে সিআরপিএফ ১২৫ কোম্পানি, বিএসএফ ১০০ কোম্পানি, সিআইএসএফ ২৫ কোম্পানি। আইটিবিপি এবং এসএসবি ২৫ কোম্পানি করে। দ্বিতীয় দফায় ৭ এপ্রিল রাজ্যে আসছে আরও ৩০০ কোম্পানি বাহিনী। এর মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীর এবং ত্রিপুরা থেকে কিছু বাহিনী পাঠানো হচ্ছে। তৃতীয় ধাপে ১০ এপ্রিল আসবে আরও ৩০০ কোম্পানি। এই ধাপে জম্মু-কাশ্মীরের পাশাপাশি মণিপুর থেকেও আসছে বাহিনী । চতুর্থ ধাপে ১৩ এপ্রিল ২৭৭ কোম্পানি বাহিনী আসবে। অসম, হরিয়ানা ও উত্তরাখণ্ড থেকে আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ানরা বাংলায় আসবেন। পঞ্চম ধাপে ১৭ এপ্রিল আসবে সর্বোচ্চ ৭৪৩ কোম্পানি বাহিনী। অসম থেকে আসবে ৪৪৩ কোম্পানি সিএপিএফ। কেরল, নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, ত্রিপুরা, অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয়, সিকিম, বিহার, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, গোয়া, চণ্ডীগড়, পাঞ্জাব এবং রাজস্থান-সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে মোট ৩০০ কোম্পানি বাহিনী (Central Armed Police Forces) আসবে।

    কীভাবে নির্বাচনে কাজ করবে বাহিনী?

    বাহিনীর প্রত্যেক দিনের কাজের বিবরণ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের দফতরে রিপোর্ট আকারে পাঠাতে হবে। বিধানসভা ভোটের (West Bengal Elections 2026) কথা মাথায় রেখে কমিশন পশ্চিমবঙ্গে সিআরপিএফের সেক্টরের আইজি শলভ মাথুরকে বাহিনী মোতায়েনের জন্য ‘স্টেট ফোর্স কোঅর্ডিনেটর’ হিসেবে নিযুক্ত করেছে। প্রতিটি কোম্পানিতে (Central Armed Police Forces) অন্তত ৭২ জন করে জওয়ান থাকবেন। ৯টি সেকশনের মধ্যে ৮টি পোলিং স্টেশনে ব্যবহার করা হবে এবং ১টি সেকশন কুইক রেসপন্স টিম হিসেব কাজ করবে ৷ ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার পর বাহিনীর একটি বড় অংশ রাজ্য থেকে চলে যাবে। তবে ২০০ কোম্পানিকে রাজ্যে রাখা হবে যারা ইভিএম, স্ট্রং রুম এবং কাউন্টিং সেন্টারের নিরাপত্তা দেবে। ভোটের পর গণনা পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ৫০০ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন থাকবে রাজ্যে। বাকি কোম্পানি ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরেই ফিরে যাবে।

    শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতকরণ

    ভোটাররা যাতে ভয়ভীতি বা চাপের ঊর্ধ্বে উঠে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই বাহিনীর মূল লক্ষ্য। নিজের ভোট নিজে দেওয়া এবং প্রার্থী চয়নে কোনও চাপের মুখে না পড়াই কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাজ।

    স্পর্শকাতর বুথে নজরদারি

    রাজ্যের যে সব এলাকা বা বুথকে ‘স্পর্শকাতর’ চিহ্নিত করা হয়েছে, সেখানে আগেভাগেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে এরিয়া ডোমিনেশন (Area Domination) বা রুট মার্চ শুরু করা হবে। ২০২১ সালের নির্বাচনের পর ভোটে মনোনয়ন থেকে ফল ঘোষণা পর্যন্ত ব্যাপকভাবে হিংসার শিকার হয়েছেন রাজ্যবাসী। তাই কমিশন নিরাপত্তা নিয়ে ভীষণ তৎপর।

    আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা

    ভোটের দিন তো বটেই, নির্বাচনের আগের ও পরের দিনগুলিতেও যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তাই এই বিশাল বাহিনীকে (Central Armed Police Forces) কৌশলগতভাবে ব্যবহার করা হবে।

    বাহিনী মোতায়েনের পরিসংখ্যান এক নজরে

    বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের এই সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। একদিকে বিরোধী দলগুলি এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলছে যে, এতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বাড়বে। শাসক শিবিরের বক্তব্য, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের ওপর আস্থা রাখা প্রয়োজন ছিল। তবে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

    ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Elections 2026) ঘিরে বাংলার রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। ১৯২০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর আগমন এই ইঙ্গিতই দিচ্ছে যে, নির্বাচন কমিশন এবার কোনও প্রকার আপোশ করবে না। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই বাহিনী (Central Armed Police Forces) ধাপে ধাপে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাবে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবে।

  • West Bengal Assembly Election: রাজকোষ শূন্য, অথচ তৃণমূলের ইস্তাহারে প্রতিশ্রুতির বন্যা

    West Bengal Assembly Election: রাজকোষ শূন্য, অথচ তৃণমূলের ইস্তাহারে প্রতিশ্রুতির বন্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নবান্নের গদি ধরে রাখতে বাংলায় খয়রাতির রাজনীতি আমদানি করেছেন রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তার জেরে (West Bengal Assembly Election) রাজকোষ শূন্য। তা সত্ত্বেও ফের নবান্নের দখল নিতে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ওড়ালেন তৃণমূল সুপ্রিমো। নির্বাচনের আগে তিনি ১০টি প্রতিজ্ঞার কথা জানিয়েছেন ইস্তাহারে। বিরোধীদের মতে, এই প্রতিশ্রুতি নিছকই ভাঁওতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

    বেহাল দশাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা (West Bengal Assembly Election)

    ভোটারদের বিভ্রান্ত করাতেই এই ‘বেওসা’। এই প্রতিশ্রুতিগুলি আসলে তৃণমূলের পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতি থেকে জনগণের নজর ঘোরানোর মরিয়া চেষ্টা। এটি বাংলার ভবিষ্যতের কোনও রোডম্যাপ নয়, বরং গত এক দশকে বাংলার বেহাল দশাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা মাত্র। তৃণমূলের ইস্তাহারে যা বলা হয়েছে, তা আক্ষরিক অর্থেই ‘ঢপের চপ’। রাজ্যের ঘাড়ে রয়েছে বিপুল পরিমাণ দেনার বোঝা। বর্তমানে জিএসডিপি (GSDP) ৩৮.৪ শতাংশের এক ভয়াবহ স্তরে পৌঁছেছে। ২০২৬ সালের মধ্যে এটি ৮.১৫ লাখ কোটি টাকার গণ্ডি ছাড়াবে বলেই ধারণা অর্থনীতিবিদদের একাংশের। তাঁদের মতে, বাংলার খরচ করা প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে ৩৮ টাকা চলে যায় ঋণ বাবদ নেওয়া টাকার সুদ দিতে। বর্তমানে বাংলায় জন্ম নেওয়া প্রতিটি শিশুর ঘাড়ে ৮১ হাজার ১৬৫ টাকারও বেশি ঋণের বোঝা।

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডার মূল্যহীন!

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে বাড়ানো হয়েছে ৫০০ টাকা করে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূল “প্রতি পরিবারকে ন্যূনতম মাসিক আয়ের” প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। যদিও সামান্য কিছু সরকারি অনুদানকে পরিবারের মাসিক আয় নাম দিয়ে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের হাতে কাজ নেই, তার ওপর জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া। চালের মতো অতি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ওপর সিন্ডিকেটের তোলাবাজি কিংবা “তৃণমূল ট্যাক্সে”র কারণে বাজারে জিনিসের দাম বর্তমানে ৭.০৯ শতাংশ হারে বাড়ছে। অঙ্কের হিসেবে জিনিসপত্রের এই মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ওই বাড়তি ৫০০ টাকাকে কার্যত মূল্যহীন করে দিচ্ছে, বাংলার মুদ্রাস্ফীতিকে রাখছে জাতীয় গড়ের চেয়ে ঢের বেশি ওপরে।   রাজ্যের মানুষের গড় বার্ষিক আয় ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে কমে দাঁড়িয়েছে ১.৭১ লাখ টাকা। ২০১১ সালে দেশের গড় আয় ছিল ৯২ শতাংশ। সেটাই এখন কমে হয়েছে ৮৬.৮ শতাংশ। ওড়িশা এবং ছত্তিশগড়ের মতো বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিও এখন আয়ের দৌড়ে বাংলাকে  পেছনে ফেলে দিয়েছে। রাজ্যের ভেতরেও আয়ের পার্থক্য চোখ টাটাবে। উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলাগুলিতে মাথাপিছু আয় মাত্র ৮০,১৫২ টাকা, যা রাজ্যের গড়ের অর্ধেকও (৪৬.৮%) নয়। এটি প্রমাণ করে যে, তৃণমূল জমানায় উত্তরবঙ্গ কতটা অবহেলিত হয়েছে (West Bengal Assembly Election)।

    দুয়ারে চিকিৎসা”র আশ্বাসও অন্তঃসার শূন্য

    ইস্তাহারে দেওয়া হয়েছে “দুয়ারে চিকিৎসা”র আশ্বাসও। ২০২১-এ তৃণমূলের “সুস্থ বাংলা”র প্রতিশ্রুতি আজ প্রশাসনিক ব্যর্থতায় কার্যত ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। এমতাবস্থায় ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য শিবিরের প্রতিশ্রুতি (Mamata Banerjee) দেওয়া বাতুলতার শামিল মাত্র। ২০২৪-এর সমীক্ষায় বাংলার ‘মহিলাদের ঝুঁকি সূচক’ ৮.২/১০—যা পূর্ব ভারতে সর্বোচ্চ। নারীর শারীরিক ও চিকিৎসা নিরাপত্তা আজ কেবলই ‘গালগল্প’। গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে  ৩৪৯ জন সার্জেন, ৩২০ জন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও ২৯৭ জন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পদ শূন্য। ফলে গরিব রোগীদের চিকিৎসার জন্য খসাতে হচ্ছে মোট আয়ের ৬২ শতাংশ। নিজের চালু করা ‘স্বাস্থ্যসাথী’র ঢাক পেটাতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যবাসীকে বঞ্চিত করেছেন কেন্দ্রের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প থেকে। হিসেব বলছে, রাজ্যের প্রায় ৩.৫ কোটি মানুষকে ৫ লাখ টাকার ওই বিমার সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছেন তিনি।

    “বাংলার যুবসাথী”র আসল পরিচয়

    ইস্তাহারে ঘোষণা করা হয়েছে “বাংলার যুবসাথী”র কথাও। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল সুপ্রিমো গ্যারান্টি দিয়েছিলেন ২৫ লাখ বেকারের চাকরির। পূরণ হয়নি সেই প্রতিশ্রুতিও। তার বদলে বেকারদের হাতে গুঁজে দেওয়া হচ্ছে মাসিক খয়রাতির ১৫০০ টাকা। যার অর্থ হল, একজন শিক্ষিত বেকারকে ফি দিন মাত্র ৫০ টাকা করে দেওয়া। “যুবসাথী” প্রকল্প আসলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তৃণমূলের চরম ব্যর্থতারই কবুলনামা। ২০১৫ থেকে ’২৩ সালের মধ্যে এ রাজ্যে বন্ধ হয়েছে ১৮,৪৫০টি ক্ষুদ্র শিল্প। কাজ হারিয়েছেন ৩০.০৪ লাখ মানুষ। সিন্ডিকেটের জুলুমে ৬,৬৮৮টি কোম্পানি রাজ্য ছেড়েছে। বড় কোনও আইটি (IT) বিনিয়োগ নেই। তাই ২৩ লাখ নথিভুক্ত চাকরিপ্রার্থী আজ দিশেহারা। ৫ লাখ সরকারি পদ শূন্য পড়ে রয়েছে। ৪০,০০০ কোটি টাকার বকেয়া ডিএ (DA) মামলা গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট অবধি। আরজি করের ভাঙা লিফটে রোগীর মৃত্যু এবং মেদিনীপুরে রাজনৈতিক প্রভাবে কেনা মেয়াদ-উত্তীর্ণ স্যালাইনে কয়েকজন অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যু এ রাজ্যে ঘুন ধরা স্বাস্থ্য ব্যবস্থারই প্রমাণ (West Bengal Assembly Election)।

    “বাংলার শিক্ষায়তন”

    ইস্তাহারের ৪ নম্বরে রয়েছে “বাংলার শিক্ষায়তন” (Mamata Banerjee)। একুশের “শিক্ষিত বাংলা”র স্লোগান দেওয়া সরকার যখন শিক্ষক পদকে নিলামে তোলে, তখন পরিকাঠামো নিয়ে কথা বলা তার সাজে না। এসএসসি (SSC) কেলেঙ্কারিতে বিক্রি হয়েছে ২৬,০০০ চাকরি। ৩,৮০০টি স্কুলে কোনও পড়ুয়া নেই, সেখানে বেতন দেওয়া হচ্ছে ১৮,০০০ ভুতুড়ে শিক্ষককে। বিদেশি ছাত্রদের কাছে বাংলা এখন আর গন্তব্য নয়। ২০২৬-এর ইকনোমিক সার্ভে অনুযায়ী, রাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কার ও গুণমানের অভাব স্পষ্ট। স্কুলে ইন্টারনেট সংযোগের হার মাত্র ১৬ শতাংশ, যেখানে জাতীয় গড় ৬৩.৫ শতাংশ। ২০২৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৮,২০৭টি স্কুল বন্ধ হওয়ায় বেসরকারি স্কুলে যেতে বাধ্য করা হয়েছে রাজ্যের ৯ লাখ পড়ুয়াকে।

    সিন্ডিকেট আর ফড়েদের কবল

    একুশের “সুখী কৃষক” প্রতিশ্রুতিও আজ সিন্ডিকেট আর ফড়েদের কবলে। ১০,০০০ কোটি টাকার পিডিএস (PDS) কেলেঙ্কারির জেরে কালোবাজারে পাচার হয়েছে ২০-৪০ শতাংশ শস্য। ইলিশের উৎপাদন ১৬,৫০০ টন থেকে কমে হয়েছে ৬,৮০০ টন। আলুর উৎপাদন খরচ বিঘা প্রতি ২৫,০০০ টাকা হলেও, চাষিরা পাচ্ছেন মাত্র ৫৪০ টাকা। রাজনৈতিক অহংকারের জেরে ‘পিএম-কিষান’ প্রকল্প থেকে  বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে রাজ্যের ৪২ লাখ চাষিকে। ৪০ শতাংশ ভাগচাষি ও ভূমিহীন কৃষক কিষান ক্রেডিট কার্ড পাননি। তাই মহাজনদের ৬০ শতাংশ সুদের ঋণে ডুবছেন তাঁরা (West Bengal Assembly Election)। শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসারও তলানিতে। এমএসএমই (MSME) রফতানিতে বাংলার অবদান মাত্রই ৪ শতাংশ (Mamata Banerjee)। বিনিয়োগকারীরা যেখানে রাজ্য ছাড়ছেন, সেখানে ‘ইস্টার্ন গেটওয়ে’র দাবি আদতেই  একটি প্রহসন। ইজ অফ ডুইং বিজনেসে বাংলা ১৪তম। জমি বিবাদের জেরে দেউচা-পাঁচামির মতো বড় প্রকল্প রয়েছে থমকে। সরাসরি বিদেশি লগ্নির পরিমাণ কমেছে ৩০ শতাংশ। ভারতের নয়া বিনিয়োগের মাত্রই ৩ শতাংশ আসে বাংলায়।

    তৃণমূল ক্যাডারদের পকেট ভরার মাধ্যম

    সকলের জন্য আবাসনের কথাও বলা হয়েছে তৃণমূলেরইস্তাহারে। এই আবাসন প্রকল্পই এখন তৃণমূল ক্যাডারদের পকেট ভরার মাধ্যম। সুন্দরবন-সহ বিভিন্ন জেলায় গ্রামীণ আবাসন থেকে ৯,৪০০ কোটি টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। পিএম আবাস যোজনায় ১৭ লাখ ভুয়ো নাম ঢুকিয়ে নেতাদের অট্টালিকা বানাতে ১.২ লাখ টাকা করে পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০২৪-এর স্কিমে ২৮ লাখ যোগ্য পরিবার ঘর পায়নি। দরিদ্ররা আজও ঘুমোন প্লাস্টিকের নীচে (West Bengal Assembly Election)। বার্ধক্যভাতা এবং নিরাপত্তার আশ্বাসও ফাঁপা। বস্তুত, দেউলিয়া রাজকোষ নিয়ে বর্ধিত ভাতার প্রতিশ্রুতি আসলে রাজ্যের চরম আর্থিক সঙ্কট লুকোনোর চেষ্টা। দলিত ও আদিবাসীদের ওপর অত্যাচারের ক্ষেত্রে সাজা দেওয়ার হার জাতীয় গড়ের তুলনায় অতি নগণ্য (Mamata Banerjee)। ইমাম-মোয়াজ্জেনদের ভাতা দিলেও, হিন্দু পুরোহিতদের এক দশক ধরে এ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ক্রমবর্ধমান রাজস্ব ঘাটতির ফলে বাজার থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এই অনুদান দেওয়া কার্যত অসম্ভব।

    পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও পরিহাস!

    পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও নিছকই পরিহাস। গ্রামীণ বাংলার মানুষের কাছে এই প্রতিশ্রুতি আজও অধরা মাধুরী। জল জীবন মিশনে ২৪,৬৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলেও, রাজ্য সরকারের অপদার্থতার দরুন খরচ হয়েছে মাত্রই ১৩,০২৭ কোটি টাকা। ফলে ১১,৬১৭ কোটি টাকার এক বিশাল ঘাটতি তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, ১৭০ কোটি টাকার জল প্রকল্পের কাজ করা বেসরকারি সংস্থাগুলি প্রকৃত পরিকাঠামো তৈরি না করে ১২ থেকে ১৬ কোটি টাকা সরাসরি পাঠিয়ে দিয়েছে তৃণমূল ঘনিষ্ঠদের ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে (West Bengal Assembly Election)। প্রশাসনিক সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে রাজ্যের শাসক দল। ২০২১ সালে তৃণমূল ঢালাও “সুশাসনের” প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এই সরকারের আমলে ভৌগোলিক পুনর্গঠন আসলে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ নয়, বরং এটি তোলাবাজি সিন্ডিকেটকে ছড়িয়ে দেওয়া এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে জনবিন্যাস পরিবর্তনের এক সুপরিকল্পিত কৌশল। আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে জনবিন্যাসের আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের প্রতি সরকারের নরম মনোভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে (Mamata Banerjee)। ২০২৩ সালের পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতিতে ১৫টি পুরসভায় ১,৫০০টি অবৈধ নিয়োগ হয়েছে। ওই চাকরি বিক্রি হয়েছে ৩ থেকে ১০ লক্ষ টাকায়। এটি প্রমাণ করে যে, নতুন নতুন পুরসভা বা প্রশাসনিক এলাকা তৈরি করা আসলে দুর্নীতির নতুন রাস্তা তৈরি করা ছাড়া আর কিছুই নয়।

    বিরোধীদের মতে, তৃণমূলের এই ‘১০ প্রতিজ্ঞা’ আসলে কোনও উন্নয়নের নীল নকশা নয়, বরং ব্যর্থতা ঢাকার এক রঙিন প্রলেপ মাত্র (West Bengal Assembly Election)।

     

  • West Bengal Elections 2026: অবশিষ্ট ৩৯ আসনের প্রার্থী জট কাটাতে তৎপর বিজেপি: রবিবার অমিত শাহের বাসভবনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

    West Bengal Elections 2026: অবশিষ্ট ৩৯ আসনের প্রার্থী জট কাটাতে তৎপর বিজেপি: রবিবার অমিত শাহের বাসভবনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Elections 2026) রণকৌশল চূড়ান্ত করতে কোমর বেঁধে নেমেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party)। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের অবশিষ্ট ৩৯টি আসনে কাদের প্রার্থী করা হবে, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া বাকি। এই জট কাটাতেই আগামী রবিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাসভবনে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছে।

    বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়সমূহ

    বিজেপির (Bharatiya Janata Party) রবিবারের এই বৈঠকে মূলত তিনটি প্রধান দিক নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে:

    • প্রার্থী বাছাইয়ের মাপকাঠি: যে ৩৯টি আসনে এখনও প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি, সেখানে জয়ের সম্ভাবনা বা ‘উইনেবিলিটি’ (Winability)-কেই প্রধান অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
    • আঞ্চলিক সমীকরণ: সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর জনবিন্যাস এবং স্থানীয় নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা বিচার করে তবেই চূড়ান্ত তালিকায় সিলমোহর দেওয়া হবে।
    • অভ্যন্তরীণ সমন্বয়: দলের পুরনো কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমন এবং নবাগতদের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে একটি শক্তিশালী তালিকা প্রস্তুত করাই এখন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ।

    কেন এই ৩৯টি আসন তাৎপর্যপূর্ণ?

    বিজেপি (Bharatiya Janata Party) সূত্রের খবর, এই আসনগুলোর মধ্যে এমন কিছু কেন্দ্র রয়েছে যেখানে গত নির্বাচনে লড়াই অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি হয়েছিল। তাই এবার কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে দীর্ঘ বিচার-বিবেচনার পর প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করতে চাইছে দিল্লি।

    রবিবারের এই বৈঠকের পর যে তালিকা তৈরি হবে, তা অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় সংসদীয় বোর্ডের কাছে পাঠানো হবে। আশা করা যাচ্ছে, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই অবশিষ্ট ৩৯টি আসনের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ্যে আসতে পারে। উৎসবের আমেজ কাটতে না কাটতেই এই তৎপরতা প্রমাণ করছে যে, বিজেপি হাইকম্যান্ড পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনকে (West Bengal Elections 2026) কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে।

    প্রথম দফার প্রার্থী তালিকায় ১৪২ জনের নাম প্রকাশ করেছে বিজেপি। পরের দফায় ১৩৯ জনের নাম প্রকাশ করা হয় দলের তরফে। যদিও একাধিক আসনে প্রার্থী তালিকায় রদবদল হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে দু’ফায় হচ্ছে বিধানসভা নির্বাচন। প্রথম দফার ভোট হবে ২৩ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। ফলাফল ঘোষণা হবে ৪ মে।

  • West Bengal Assembly Election: ‘দ্রুত দায়িত্ব বুঝে নিন’, বৈঠকে নবনিযুক্ত আধিকারিকদের বলল কমিশন

    West Bengal Assembly Election: ‘দ্রুত দায়িত্ব বুঝে নিন’, বৈঠকে নবনিযুক্ত আধিকারিকদের বলল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দু’দফায় বঙ্গে হবে বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election)। এই নির্বাচন যাতে ‘ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার’ হয়, তাই চেষ্টার ত্রুটি রাখছে না নির্বাচন কমিশন (ECI)। শুক্রবার রাজ্যের সদ্য নিয়োজিত ডিএম, এসপি, ডিজি এবং সিপির সঙ্গে বৈঠক করে কমিশন। এই বৈঠকে তাঁদের দ্রুত দায়িত্বভার গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যাঁদের বদলি করা হয়েছে, তাঁদের অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট জেলায় গিয়ে দায়িত্ব বুঝে নিতে হবে। কেবল প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, ডিএম-এসপিদের বাংলো এবং সংশ্লিষ্ট লজিস্টিক ব্যবস্থাও যথা শীঘ্র সম্ভব নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে বলা হয়েছে।

    বাংলোর দখল নিন (West Bengal Assembly Election)

    জানা গিয়েছে, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় বিদায়ী আধিকারিকরা বাংলো ছাড়তে দেরি করে, কোনও কোনও ক্ষেত্রে আবার প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ঠিকঠাক হস্তান্তর করেন না। কখনও কখনও এই প্রক্রিয়ায় ইচ্ছে করে দেরি করার অভিযোগও ওঠে। এই পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়, সেই জন্যই কড়া নির্দেশ দিয়েছেন কমিশনের আধিকারিকরা। বৈঠকে কমিশনের তরফে নবনিযুক্ত আধিকারিকদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনায় তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই দায়িত্বভার গ্রহণ থেকে শুরু করে ফিল্ড পর্যায়ের কাজ, সব ক্ষেত্রেই দ্রুত এবং স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ করতে হবে। কমিশন জানিয়েছে, সদ্য বদলি হওয়া ডিএম এবং এসপিরা যাতে নির্বিঘ্নে কাজ শুরু করতে পারেন, সেজন্য সংশ্লিষ্ট বাংলোগুলি তাড়াতাড়ি খালি করে দিতে হবে। প্রশাসনিক বৈঠক, সমন্বয় এবং অন্যান্য সরকারি কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সব পরিকাঠামোও প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। এজন্য ২২ মার্চের মধ্যেই আবিশ্যকভাবে বাংলোগুলি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত, রাজ্যের কয়েকটি জেলায় বদলি হওয়ার পরেও বাংলো আটকে রেখেছেন জেলাশাসকরা। তাঁদের দ্রুত বাংলো খালি করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কোনওভাবেই দখল করে রাখা যাবে না বাংলো।

    ৬টি মূল লক্ষ্য স্থির করে দিল কমিশন

    আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে ৬টি মূল লক্ষ্যও স্থির করেছে কমিশন (West Bengal Assembly Election)। এগুলি হল বুথ দখল রোধ করা, ভুয়ো ভোট প্রতিরোধ করা, অশান্তিমুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করা, কোনও প্রভাব ছাড়াই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা, ভোটারদের জন্য ভয়মুক্ত পরিবেশ তৈরি করা এবং রাস্তা আটকানো, ভোটারদের বেরতে বাধা বা ভয় দেখিয়ে বুথে যাওয়া থেকে আটকানো রোধ করা। এদিকে, এদিনই জানা গিয়েছে, দিন কয়েকের মধ্যেই দু’দিনের বঙ্গ সফরে আসছেন ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী। নির্বাচন (ECI) সংক্রান্ত প্রস্তুতি নিয়ে একাধিক বৈঠক করবেন তিনি। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (West Bengal Assembly Election) মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গেও কথা বলবেন তিনি।

LinkedIn
Share