Blog

  • Love Jihad: ফের লাভ জিহাদ! মুসলিমে ধর্মান্তরিত করে বিয়ের চাপ, আত্মহত্যা হিন্দু কলেজ ছাত্রীর

    Love Jihad: ফের লাভ জিহাদ! মুসলিমে ধর্মান্তরিত করে বিয়ের চাপ, আত্মহত্যা হিন্দু কলেজ ছাত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লাভ জিহাদের (Love Jihad) ঘটনা ঘটল উত্তরপ্রদেশ। সব কিছু জেনে বুঝেও চোখের সামনে নিজের কন্যা সন্তানকে হারালেন উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) ময়নপুরিতে কুরাভালি থানা এলাকার একটি হিন্দু পরিবার। মুসলিম যুবকের ধর্মান্তরিত করে বিয়ে করার জন্য মুসলিম যুবকের ক্রমাগত চাপ সহ্য করতে না পেরেই গলায় দড়ি দিয়ে ওই হিন্দু যুবতী আত্মহত্যা করেছেন। ওই যুবতী বিএসসি পড়ছিলেন। মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত যুবক মহম্মদ ওয়াসিফ আনসারির নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তার বাড়ি ঘরনাজপুর এলাকায়। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে।

    মুসলিম ধর্মে ধর্মান্তরিত করে বিয়ের চাপ! (Love Jihad)

    পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত কলেজ ছাত্রীর বাড়িতে মা, ছোট ভাই থাকে। আর বাবা দিল্লিতে পুলকার চালান। ওই ছাত্রীর বাড়িতে ওই মুসলিম যুবক প্রায়ই আসত। কোনও এক সময় তাঁর অশ্লীল ছবি তুলে আনসারি তাঁকে ব্ল্যাকমেল করতে থাকে। এরপর তাঁকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়। একইসঙ্গে তাঁকে মুলসিম ধর্ম গ্রহণ করার জন্য চাপ দিতে থাকে। আর সেটা না করলে অশ্লীল ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করার হুমকি দিতে থাকে। এমনকী আর তার কথা মতো মুসলিম ধর্ম গ্রহণ না করলে তাঁকে অ্যাসিড মারার হুমকি দেয় আনসারি। নিহত ছাত্রীর মা বলেন, মেয়ে আমাকে বিষয়টি জানিয়েছিল। আমি ওই যুবকের পরিবারের সঙ্গে কথা বলি। তাঁরা কিছু করেননি। উল্টে আমাকে গালিগালাজ করেছিল। আমি বিষয়টি আমার স্বামীকে জানিয়েছিলাম। এরমধ্যেই সব শেষ হয়ে গেল। এভাবে আমার মেয়ে (Love Jihad) চলে যাবে তা আমরা ভাবতে পারছি না।

    আরও পড়ুন: পরপর মন্দিরে হামলা, নেতাকে হত্যা! বাংলাদেশে ফের টার্গেট হিন্দুরা

    নিহত ছাত্রীর বাবা কী বললেন?

    নিহত ছাত্রীর বাবা বলেন, আমার মেয়ে পড়াশুনায় ভালো ছিল। মেয়ের অশ্লীল ভিডিও তৈরি করে ওই মুসলিম যুবক ব্ল্যাকমেল করত। বিয়ে করতে রাজি না হলে সে আমার ছোট ছেলেকে খুন করার হুমকি দিয়েছিল। আর বার বার মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করতে চাপ দিচ্ছিল। ২৯ জুলাই ওই যুবক বিয়ের করার দিন ঠিক করেছিল, না হলে মেয়ের মুখে অ্যাসিড মারার হুমকি দিয়েছিল। সেটা সহ্য করতে না পেরেই মেয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। আর কোনও হিন্দু মেয়ের (Love Jihad) সঙ্গে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে তা দেখার জন্য প্রশাসনকে বলব। আর অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

    পুলিশ প্রশাসনের কী বক্তব্য?

    ময়নপুরির (Uttar Pradesh) পুলিশ সুপার বিনোদ কুমার বলেন, “কুরভালি এলাকায় একটি মেয়ে তাঁর বাড়িতে আত্মহত্যা করেছেন। ওয়াসিফ নামে এক যুবক উত্ত্যক্ত করে তাঁকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিচ্ছিল বলে অভিযোগ পেয়েছি। মৃত্যুর কারণ শনাক্ত করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Amit Shah: বিচার ব্যবস্থা হবে আরও শক্তিশালী, ৩টি নতুন অ্যাপ চালু অমিত শাহের

    Amit Shah: বিচার ব্যবস্থা হবে আরও শক্তিশালী, ৩টি নতুন অ্যাপ চালু অমিত শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রযুক্তি নির্ভর বিচারব্যবস্থা। ফৌজাদারি বিচার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে নতুন অ্যাপ (New Apps) উদ্বোধন করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। ই-সাক্ষ্য (e-Sakshya), ন্যায় সেতু (Nyaya Setu), ন্যায় শ্রুতি (Nyaya Shruti) ও ই-সমন (e-Summon) ব্যবস্থার উদ্বোধন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। চণ্ডীগড়ে নয়া অ্যাপের উদ্বোধন করে তিনি জানান, নতুন তিনটি ফৌজদারি আইন, ভারতে ব্রিটিশ আমলের আইন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়েছে। জনসাধারণকে দ্রুত ন্যায়বিচার দিতে সাহায্য করবে এই আইনগুলি। এতে দণ্ডের চেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে ন্যায়ের ওপর। অনুষ্ঠানে পাঞ্জাবের রাজ্যপাল এবং চণ্ডীগড়ের প্রশাসক শ্রী গুলাব চাঁদ কাটারিয়া এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিবও উপস্থিত ছিলেন।

    ২১ শতকের সবচেয়ে বড় সংস্কার

    নতুন অ্যাপগুলি বিচারব্যবস্থাকে প্রযুক্তিবান্ধব করে তুলবে। ন্যায় পাবেন সাধারণ মানুষ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) তাঁর ভাষণে বলেন, “আজ আমরা ২১ শতকের সবচেয়ে বড় সংস্কারের সাক্ষী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজির দ্বারা আনা ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), ভারতীয় ন্যায় সুরক্ষা সংহিতা (BNSS), এবং ভারতীয় সাক্ষ্য আইন (BSA) আমাদের ন্যায়বিচারের মূল্যবোধ ও ভারতীয়ত্বের সুগন্ধ বহন করে।” তাঁর কথায়, “১৫০ বছর আগে তৈরি করা আইন আজকের দিনে প্রাসঙ্গিক থাকতে পারে না। বছরের পর বছর মানুষ ন্যায়বিচার পায়নি, বরং বিচার ব্যবস্থায় শুধুমাত্র শুনানির নতুন তারিখ প্রদান করে দোষারোপ করা হয়েছে। মোদি সরকার ভারতীয় দণ্ডবিধির পরিবর্তে নতুন আইন বাস্তবায়ন করেছে।”

    প্রযুক্তি-সক্ষম বিচার ব্যবস্থা

    নতুন আইনগুলি পূর্ণ বাস্তবায়নের পরে, ভারত বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক এবং প্রযুক্তি-সক্ষম ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা পাবে, বলে আশা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (Amit Shah)। তিনি জানান, এই আইনগুলির সঠিক প্রয়োগের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফরেন্সিক সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে এবং আটটি রাজ্যে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা কাজ করেছেন। আরও আটটি রাজ্যে ফরেন্সিক সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হবে।

    নতুন অ্যাপগুলির সুবিধা

    ই-সাক্ষ্য (e-Sakshya) অ্যাপের (New Apps) মাধ্যমে সমস্ত ভিডিওগ্রাফি, ফটোগ্রাফি এবং সাক্ষ্যগুলি ই-এভিডেন্স সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে। ই-সমন (e-Summon) অ্যাপের মাধ্যমে সমন ইলেকট্রনিকভাবে পাঠানো হবে। ন্যায় সেতু (Nyaya Setu) ড্যাশবোর্ডে পুলিশ, মেডিক্যাল, ফরেন্সিক, প্রসিকিউশন এবং প্রিজন পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। ন্যায় শ্রুতি (Nyaya Shruti) অ্যাপের মাধ্যমে আদালত ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে সাক্ষীদের শুনতে পারবে।

    চণ্ডীগড়ে সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন

    এই অ্যাপগুলির (New Apps) সঠিক প্রয়োগের জন্য চণ্ডীগড়ে ২২ জন আইটি বিশেষজ্ঞ এবং ১২৫ জন তথ্য বিশ্লেষক নিয়োগ করা হয়েছে। সমস্ত পুলিশ স্টেশনে ১০৭টি নতুন কম্পিউটার, স্পিকার এবং দুটি ওয়েব ক্যামেরা ইনস্টল করা হয়েছে। ১৭০টি ট্যাবলেট, ২৫টি মোবাইল ফোন এবং ১৪৪টি নতুন আইটি কনস্টেবল নিয়োগ করা হয়েছে। চণ্ডীগড় নতুন ফৌজদারি আইনগুলির ১০০ শতাংশ বাস্তবায়নের পথে প্রথম প্রশাসনিক ইউনিট হতে পারে।

    নাগরিক-কেন্দ্রিক আইন

    অমিত শাহ (Amit Shah) বলেন, “মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে আমাদের প্রচার একটি সরকারি প্রচার নয়, বরং এটি আমাদের নতুন প্রজন্মকে মাদকাসক্তির বাইরে নিয়ে আসার প্রচার। নতুন আইনগুলির মাধ্যমে ভারতের ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা একুশ শতকের সবচেয়ে বড় সংস্কারের সাক্ষী হচ্ছে। এই আইনগুলিতে প্রযুক্তি (New Apps) এমনভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যে এটি আগামী ৫০ বছরের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করবে। তিন বছরের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত রায় পাওয়া সম্ভব হবে।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনগণকে আইনগুলি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার কথা বলেন এবং গুজব থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। তিনি নয়া আইন প্রয়োগে নাগরিকদের সক্রিয় এবং গঠনমূলক অবদান রাখার অনুরোধ করেন।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Wayanad Landslide: “আমার কিছুই আর নেই!” ভূমিধসে পরিবারে ১৬ জনকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ মনসুর

    Wayanad Landslide: “আমার কিছুই আর নেই!” ভূমিধসে পরিবারে ১৬ জনকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ মনসুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওয়েনাড়ে (Wayanad Landslide) ভূমিধসে বিপর্যয়ের শিকার হয়ে এক পরিবারের ১৬ জনকে হারিয়ে মর্মান্তিক দুঃখের কথা প্রকাশ করলেন ৪২ বছরের মনসুর। তিনি বলেছেন, “আমার কিছুই নেই, সব হারিয়ে ফেলেছি, নিঃস্ব করেছে আমাকে।” এরপর রীতিমতো কান্নায় তিনি ভেঙে পড়েছেন তিনি। গত ৩০ জুলাই বর্ষার অতিভারী বৃষ্টি এবং ভূমিধস অকল্পনীয় ক্ষতি সাধন করেছে। শতশত মানুষের ধসের নিচে চাপা পরে মৃত্যু হয়েছে। বাড়িঘর, গাছপালা, ফসল এবং সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি (Landslide) হয়েছে। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। উদ্ধারের কাজে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সেনা জওয়ান সহ একাধিক সংস্থা জোর কদমে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

    চোখের জলই এখন সম্বল (Wayanad Landslide)

    শোকস্তব্ধ মনসুর বলেছেন, “এই প্রাকৃতিক ধ্বংসযজ্ঞের কবলে মা, স্ত্রী, দুই সন্তান, বোন এবং এক পিসির পরিবারের ১১ জন সদস্য সহ মোট পরিবারের ১৬ জনকে কেড়ে নিয়েছে। এই ধস এবং বন্যা পরিবারের সকলকে ভাসিয়ে নিয়ে চলে গিয়েছে। আমার তো বেঁচে থাকার কোনও রসদ রইল না। আমার ঘুম আসছে না, শুধু এই চোখের জলই এখন সম্বল। তবে দুর্ঘটনার দিন আমি বাড়িতে ছিলাম না। একটা কাজে বাড়ির বাইরে ছিলাম। আমার মেয়ের মৃতদেহ এখনও পর্যন্ত পাইনি। চারটি মৃতদেহ পেয়েছি, যার মধ্যে রয়েছে আমার স্ত্রী, ছেলে, বোন এবং মায়ের দেহ। আমি এখনও আমার মেয়েকে খুঁজে পাইনি। আপাতত আমি ভাইয়ের সঙ্গে রয়েছি।”

    মায়ের দেহাবশেষ শনাক্ত করলাম

    অপর দিকে মনসুরের ভাই নাসির তাঁদের পরিবারের ওপর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের (Wayanad Landslide) প্রভাব সম্পর্কে বর্ণনা দিয়ে বলেছেন, “আজ সকালেই আমাদের মায়ের দেহাবশেষ শনাক্ত করলাম। মোট চারজনের মরদেহ নিয়ে আসা হয়েছে। পরিবারের এখনও ১২জন সদস্যের কোনও খোঁজ নেই। ঘটনার দিন আমার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী, মা, বোনেরা বাড়িতেই ছিলেন। তবে এমন বিপর্যয় হবে, প্রশাসনের তরফ থেকে আগে কোনও সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়নি। আচমকা জলের স্তর বাড়তে থাকলে কিছুক্ষণের মধ্যেই মর্মান্তিকভাবে বিপর্যয় ঘটে যায়। তাঁদেরকে আমার বাড়িতে আসতে বলেছিলাম, কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে সব শেষ হয়ে গেল। নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে পুরো এলাকা। আমার ভাই ওঁর পরিবারের সবাইকে চিরতরে হারিয়ে ফেলেছেন।”

    আরও পড়ুনঃ মদের ‘সারোগেট’ বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করার পথে মোদি সরকার, পার পাবেন না সেলিব্রিটিরাও

    চলছে উদ্ধার কাজ

    ইতিমধ্যে কেরলের টাস্ক ফোর্স ক্ষতিগ্রস্থ (Wayanad Landslide) এলাকা পরিদর্শন করে এখন মোট সাতটি এলাকাকে চিহ্নিত করে দ্রুত উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। মুন্ডক্কাই, পুঞ্চিরিমাত্তম এবং চুরামালায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি (Landslide) হয়েছে। এদিকে, মাটির নিচে ধসে আটকে থাকা লোকজনকে উদ্ধার করতে অত্যন্ত তৎপর হয়ে কাজ করে চলেছে।  

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RSS: অর্থ সংগ্রহ করতে আরএসএসের ভরসা গুরুদক্ষিণা!

    RSS: অর্থ সংগ্রহ করতে আরএসএসের ভরসা গুরুদক্ষিণা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যে কোনও সংগঠন চালাতে গেলে খরচ বিস্তর। অন্যান্য সংগঠন চাঁদা তুলে সংগঠন চালায়। এ পথে হাঁটে না রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ, সংক্ষেপে আরএসএস (RSS)। ১৯২৫ সালে জন্ম ইস্তক আর পাঁচটা সংগঠনের পথে না হেঁটে সম্পূণ ভিন্নভাবে অর্থ সংগ্রহ করে আসছে আরএসএস। সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকদের সাহায্য করতে গুরুদক্ষিণার (Guru Dakshina) মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে আরএসএস।

    আরএসএসে গুরুর স্থান

    সনাতন শাস্ত্রে গুরুর স্থান সবার ওপরে। আরএসএসও গুরুকে ভীষণ গুরুত্ব দেয়। তাই সংগঠনের প্রতিটি শাখা আয়োজন করে ‘গুরুদক্ষিণা’ অনুষ্ঠানের। বছরের একটি বিশেষ দিনে স্বয়ং সেবকদের জন্য আয়োজন করা হয় এই বিশেষ অনুষ্ঠানের। হিন্দুদের গুরুপূর্ণিমার দিন থেকে শুরু করে তিন-চার সপ্তাহের মধ্যেই বিভিন্ন শাখায় আয়োজন করা হয় এই অনুষ্ঠানের। চলতি বছর গুরুদক্ষিণার অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে ২১ জুন। এদিনই ছিল গুরুপূর্ণিমা। এই দিনেই গুরুদক্ষিণার অনুষ্ঠান আয়োজন করার কারণ মূলত দুটি। একটি, সুপ্রাচীন কাল থেকে গুরু-শিষ্যের যে পরম্পরা সনাতন ভারতে চলে আসছে, তা বজায় রাখা। সেই সময় শিষ্যরা থাকতেন গুরুর আশ্রমে। ব্রহ্মচর্য-পর্ব শেষে গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তাঁরা দিতেন গুরুদক্ষিণা। হিন্দু পরম্পরায় শিষ্য গুরুকে কী দিলেন, সেটা বিষয় নয়, যেটা বিষয়, সেটা হল শিষ্য গুরুর কৃপায় যে জ্ঞান অর্জন করেছেন, সেজন্য গুরুর কাছে তিনি কতটা কৃতজ্ঞ, তা যাচাই করা। গুরুদক্ষিণা হিসেবে শিষ্য যা-ই দিতেন, তা-ই সাদরে গ্রহণ করতেন গুরু।

    গুরু পরম্পরা

    সনাতনী এই পরম্পরাই বিভিন্ন শাখায় বাঁচিয়ে রেখেছে আরএসএস (RSS)। আজ্ঞে হ্যাঁ, জন্ম ইস্তক এই পরম্পরাই ধরে রেখেছে আরএসএস। আরএসএসে গুরুদক্ষিণার অনুষ্ঠানটি পালিত হয় নিতান্তই সাদামাটাভাবে। সচরাচর অনুষ্ঠানটি হয় একটি হল ঘরে, যেখানে ৫০-১০০ জনের ব্যবস্থা হয়। অনুষ্ঠান শুরু হয় সকালে। এদিন প্রত্যেকেই ভারতীয় ঐতিহ্য মেনে সাদা পোশাক পরে আসেন। গুরুদক্ষিণার দিন স্বয়ংসেবকরা পাজামা-পাঞ্জাবি কিংবা ধুতি-পাঞ্জাবি পরেন। যে হলঘরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, সেখানে প্রথমে উত্তোলন করা হয় সংগঠনের গৈরিক পতাকা। জ্বালানো হয় মাটির প্রদীপ। আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা তথা প্রথম সরসঙ্ঘচালক কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার এবং দ্বিতীয় সরসঙ্ঘচালক যিনি আরএসএসে গুরুজি নামে খ্যাত তাঁদের বাঁধানো ছবি রাখা হয় অডিটোরিয়ামে।

    গুরুদক্ষিণার অনুষ্ঠান

    শারীরিকভাবে সক্ষম স্বয়ংসেবকরা মেঝেয় বসেন। মেঝেয় পাতা থাকে পাতলা কাপড় দিয়ে তৈরি ‘দড়িস’(আসন)এবং কাপড়ের পাতলা চাদর। তার আগে অবশ্য ঘর পরিষ্কার করা হয়। স্বয়ংসেবকরা খুবই শৃঙ্খলাবদ্ধ। তাই এদিন তাঁরা চলে আসেন অনুষ্ঠান (Guru Dakshina) শুরুর ঢের আগে, নির্দিষ্ট সময়ে। তার পরেই হল ঘরে আগে থেকে বিছানো দরিস (পাটি বিশেষ) পেতে বসেন তাঁরা, সারিবদ্ধভাবে। এই সময় অনুষ্ঠান স্থলে শোনা যায় পিন-পতনের শব্দও। অনুষ্ঠান শুরুর আগে তাদের নাম লেখা একটি করে সাদা খাম দেওয়া হয়। এই কাজটি করেন শাখা প্রধান, সঙ্ঘের(RSS) ভাষায় যিনি মুখ্য শিক্ষক বা শাখাকার্যবাহ নামে পরিচিত। প্রায়ই এই খামগুলো পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাঁদের বাড়িতে। সেই খাম যে গুরুদক্ষিণা দানের জন্য পাঠানো হয়েছে, তাও জানিয়ে দেওয়া হয়। যেসব স্বয়ংসেবক একবার শাখার এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন, তাঁদেরও এ ব্যাপারে জানানো হয়। কর্মক্ষেত্রের দায়বদ্ধতার কারণে যাঁরা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন না কিংবা শাখার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন না, তাঁদেরও গুরুদক্ষিণার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

    কেন নিশানই গুরু

    আরএসএসের গুরুদক্ষিণার (Guru Dakshina) এই অনুষ্ঠানে যাঁরা প্রথমে যোগ দেন, তাঁদের পক্ষে খুবই আনন্দদায়ক। খোলা মনে যাঁরা একবার গুরুদক্ষিণার এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন, তাঁদের মনে এর একটা গভীর ছাপ থেকে যায়, বিশেষত তরুণ মনে। যেহেতু মানুষ মাত্রেই ভুল করে, এবং কোনও মানুষই ত্রুটিহীন নন, তাই আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা ঠিক করেছিলেন, কেউই একা গুরু নন। আরএসএসে সঙ্ঘের পতাকাকেই গুরু মেনে চলা হয়। সেই কারণেই আরএসএসের প্রতিটি শাখায় নিত্য দিনের প্রথম কাজ হল গৈরিক পতাকা উত্তোলন। শাখার স্বেচ্ছাসেবকরা দিন শুরু করেন সঙ্ঘের পতাকার সামনে মাথা নত করে। সূর্য অস্ত গেলেও পালন করা হয় একই প্রথা।

    সোনালি যুগ ফিরিয়ে আনার শপথ

    গুরুদক্ষিণার এই অনুষ্ঠান বছরভর সঙ্ঘের গৈরিক নিশানকে গুরু বলে মনে করায়। মাটির প্রদীপ ও ধূপ জ্বালিয়ে শুরু হয় গুরুদক্ষিণার অনুষ্ঠান। গোটা হলে তখন অদ্ভুত নীরবতা, প্রশান্তি। এই সময় সংস্কৃতে লেখা কিছু গুরু-স্তুতি পাঠ করা হয়। জানানো হয় গুরুর প্রতি কৃতজ্ঞতা। ভারতের সোনালি যুগের কথা স্মরণ (RSS) করায় যেসব গান, সেগুলোও গান স্বয়ংসেবকরা। দেশ গঠনের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে সেই সোনালি যুগ ফিরিয়ে আনার শপথও নেন তাঁরা। এর পরেই একের পর স্বয়ংসেবক যান পতাকা তলে। সেখানে ট্রেতে রাখা ফুলের পাপড়ি তাঁরা ছড়িয়ে দেন পতাকা দণ্ডের পায়ের কাছে। মাথা নতও করেন স্বয়ংসেবকরা। এই সময় ডান হাত আনত থাকে ভূমি বরাবর। সঙ্ঘের গৈরিক নিশানকে এভাবেই নিত্যদিন শ্রদ্ধা জানান স্বয়ংসেবকরা। সঙ্ঘের (RSS) পরিভাষায় একে বলা হয় ‘ধ্বজা প্রণা’ম। বাংলা তর্জমা করলে যার অর্থ দাঁড়ায় গেরুয়া পাতাকাকে শ্রদ্ধা জানানো। এর পরেই স্বয়ংসেবকরা খামে করে কিছু টাকা কিংবা ফুলের পাপড়ি রেখে দেন।

    গুরুদক্ষিণা কত

    গুরুদক্ষিণা হিসেবে কত টাকা দিতে হবে, তার কোনও নির্দিষ্ট অঙ্ক নেই। কেউ কাউকে জিজ্ঞেসও করেন না, গুরুদক্ষিণা বাবদ কে কত দিলেন। যেহেতু খামের মুখ বন্ধ করা থাকে, তাই কেউই জানেন না, খামে কে কত টাকা দিয়েছেন। দক্ষিণান্তে স্বয়ংসেবকরা ফের একবার ধ্বজা প্রণাম করেন। ফিরে আসেন নিজের আসনে। একইভাবে তাঁর পরের স্বয়ংসেবকও পালন করেন গুরুদক্ষিণার পরম্পরা। উপস্থিত প্রত্যেক স্বয়ংসেবকের (RSS) গুরুদক্ষিণা দেওয়া হয়ে গেলে হয় বক্তৃতা পর্ব। ভাষণ দেন হয় আরএসএসের কোনও প্রবীণ কর্মকর্তা কিংবা এমন কোনও ব্যক্তি, যাঁকে ওই দিনের অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কোনও অধ্যাপক, চিকিৎসক, অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী কিংবা এমন কোনও ব্যক্তি যিনি প্রমিনেন্ট, শাখা প্রধানদের তাঁদেরই প্রধান অতিথি করে আনতে বলা হয়। এই অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তাও তিনিই। এটা করা হয়, যাতে যাঁরা আরএসএস-মনস্ক নন, তাঁরাও যাতে সংগঠনের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।

    আরও পড়ুন: পরপর মন্দিরে হামলা, নেতাকে হত্যা! বাংলাদেশে ফের টার্গেট হিন্দুরা

    সঙ্ঘের ভাবাদর্শ প্রচারে সহায়ক

    সাধারণ অভিজ্ঞতা থেকে জানা গিয়েছে, যাঁরা একবার আরএসএসের গুরুদক্ষিণার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন, তাঁরা এমন অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফেরেন, যাতে সারা জীবনের জন্য তাঁরা আরএসএসের সদস্য পদ গ্রহণ করেন কিংবা আরএসএসের বন্ধু বা সমর্থক হয়ে যান। গুরুদক্ষিণার অনুষ্ঠান শেষে হয় আরএসএসের প্রার্থনা। তার পর প্রত্যেককে তাঁদের প্রাপ্য দেওয়া হয়। যাঁরা নতুন করে আরএসএসের প্রোগ্রামে যোগ দেন, তাঁদের জন্য স্বয়ংসেবকরা কখনও কখনও চা কিংবা কফি এবং স্ন্যাক্সের ব্যবস্থা করেন। এটা অবশ্য সব সময় হয় না, হয় মাঝে মধ্যে। যাঁরা আরএসএসের কোনও প্রোগ্রামে আগে যোগ দেননি কিংবা আরএসএসের সঙ্গে সঙ্গ ছিন্ন করেছেন, মূলত তাঁদের জন্যই আয়োজন করা হয় চা কিংবা কফি চক্রের।

    গুরুদক্ষিণা একটা ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্য আরএসএস (RSS) কখনওই ভাঙেনি। তাদের কাছে এটি হল সব চেয়ে শ্রদ্ধার ও পবিত্র একটি অনুষ্ঠান। মৌলিক এই পদ্ধতিতেই অর্থ সংগ্রহ করে আরএসএস। তাই বজায় রাখতে পারে সঙ্ঘের স্বাধীনতা। আরএসএসের প্রসার (Guru Dakshina) ঘটাতেও এটি একটি কার্যকরী মাধ্যম বলে বিবেচিত হয় (RSS)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • India: মদের ‘সারোগেট’ বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করার পথে মোদি সরকার, পার পাবেন না সেলিব্রিটিরাও

    India: মদের ‘সারোগেট’ বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করার পথে মোদি সরকার, পার পাবেন না সেলিব্রিটিরাও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘সারোগেট’ বা ঘুরিয়ে মদের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করবে ভারত (India)। এক মাসের মধ্যে নিয়ম চূড়ান্ত হতে পারে। মদের বিজ্ঞাপন নিয়ে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণের পথে মোদি সরকার। সম্প্রতি মদের ব্র্যান্ডগুলির সারোগেট বিজ্ঞাপনের (Liquor ad Rules) বিধি লঙ্ঘনের বেশ কয়েকটি উদাহরণ সামনে এসেছে। এর পরেই সেন্ট্রাল কনজিউমার প্রোটেকশন অথরিটি (CCPA) কোম্পানিগুলিকে অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় হিসাবে একই ব্র্যান্ডের অধীনে বিক্রি হওয়া পণ্যগুলির তালিকা চেয়েছে। অন্যদিকে, কোম্পানিগুলিকে নিশ্চিত করতে বলেছে যে কোনও নিয়ম লঙ্ঘন হচ্ছে না। 

    বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনের জন্য জরিমানা (India)

    নতুন নিয়ম অনুসারে, কার্লসবার্গ, পেরনোড রিকার্ড এবং ডিয়াজিওর মতো কোম্পানিগুলি ভারতে সারোগেট বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাদের মূল পণ্যের প্রচার চালিয়ে গেলে ৫০ লাখ পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। ঘটনাচক্রে, ভারতে অ্যালকোহল নির্মাতাদের সরাসরি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাদের মদের ব্র্যান্ডের প্রচার করা নিষিদ্ধ। তাই, কোম্পানিগুলি “সারোগেট বিজ্ঞাপন” পদ্ধতি বেছে নেয়। ফলে প্রায়শই এ ধরনের বিজ্ঞাপনে জল, মিউজিক সিডি, কাচের পাত্র ইত্যাদির পরিবর্তে কম আকাঙ্খিত জিনিস দেখিয়ে বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়। 

    দায়ী হবে বিজ্ঞাপনের সঙ্গে যুক্ত সেলেব্রিটিরাও 

    উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে, ব্রুয়ার কার্লসবার্গ ভারতে (India) তার টিউবর্গ পানীয়ের প্রচার করে। এই বিজ্ঞাপনে ফিল্ম স্টারদের একটি ছাদের পার্টিতে দেখানো হয়। যেখানে এই বিজ্ঞাপনের স্লোগানই হল “টিল্ট ইয়োর ওয়ার্ল্ড”। অন্যদিকে, আর এক প্রতিযোগী ব্র্যান্ড ডিয়াজিওর ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট জিঞ্জার এলের ইউটিউব বিজ্ঞাপন ইতিমধ্যেই ৬০ মিলিয়ন ভিউ পেয়েছে৷ ফলে, এবার থেকে নিয়ম মেনে বিজ্ঞাপন তৈরি না হলে এই ধরনের বিজ্ঞাপনের সঙ্গে যুক্ত সেলেব্রিটিদেরও দায়ী করা হবে। 

    আরও পড়ুন: ‘লাভ জিহাদ’-এর মামলায় দোষীকে যাবজ্জীবন, এবার নতুন আইন আনছে অসম

    নতুন এই ব্যবস্থাটি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্য হচ্ছে, যাতে শিশু এবং তরুণ প্রজন্ম সারোগেট বিজ্ঞাপন (Liquor ad Rules) দ্বারা প্রভাবিত না হয়। এ প্রসঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে যে, অ্যালকোহল বিজ্ঞাপনের উপর এই নিষেধাজ্ঞা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে “সাশ্রয়ী পদক্ষেপ”।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  WhatsappFacebookTwitterTelegram এবং Google News পেজ।

  • Siliguri: নথি জাল করে রামকৃষ্ণ আশ্রমের ১৪০ কোটির জমি দখল ‘তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ’ জমি মাফিয়াদের

    Siliguri: নথি জাল করে রামকৃষ্ণ আশ্রমের ১৪০ কোটির জমি দখল ‘তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ’ জমি মাফিয়াদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলের একাংশের মদতেই শিলিগুড়িতে (Siliguri) জমি মাফিয়ারা সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সেবক হাউজের পর এবার মাটিগাড়ায় রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ আশ্রমের জমি হাতানোর অভিযোগ উঠেছে জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে। এক বা দুবিঘা নয়, ৯.৯০ একর জমি, যার বাজার মূল্য ১৪০ কোটি টাকা। বিষয়টি সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

    জাল নথি করে মিউটেশন! (Siliguri)

    শিলিগুড়ির (Siliguri) সাহুডাঙ্গি রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ আশ্রমের সন্ন্যাসীদের মাটিগাড়ায় উপনগরীর কাছে মাল্লাগুড়িতে ৯.৯০ একর জমি রয়েছে। তার মধ্যে ১০ বিঘা জমি ১৯৭৬ সালে আশ্রমের কেনা। বাকি জমি দানে পেয়েছিল আশ্রম কর্তৃপক্ষ। ওই জমিতে দাতব্য চিকিৎসালয় এবং স্কুল করার কথা ছিল। কিন্তু, এখন জমির সিংহভাগই দখল হয়ে গিয়েছে। দখলদাররা নিজেদের নামে জমির নথি তৈরি করে নিয়েছে বলে অভিযোগ। ২০২২ সালে জমিটির মিউটেশনের জন্য আবেদন করা হলে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর কোনও পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ। যদিও সম্প্রতি আশ্রমের মহারাজরা জানতে পারেন, এরই মাঝে ওই জমির জাল নথির মাধ্যমে খতিয়ান বদলে অন্য কারও নামে জমির মালিকানা চলে গিয়েছে। জমি জবরদখল করে সেখানে গোডাউন গড়ে উঠেছে। আর এসবই জমি মাফিয়াদের হাতে ধরেই বেদখল হয়েছে বলে অভিযোগ। তৃণমূলের (Trinamool Congress) মদতেই এসব হয়েছে বলে এলাকায় চর্চা রয়েছে। সম্প্রতি, শিলিগুড়ি পুরনিগমে রামকৃষ্ণ মিশনের সেবক হাউজ  ১০০ কোটি টাকার একটি জমি দখলের অভিযোগ ওঠে মাফিয়াদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় পুলিশ তদন্তে নেমে ১২ জনকে গ্রেফতার করে। পরে, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর রাতারাতি জমির মিউটেশনের কাগজ মিশন কর্তৃপক্ষের হাতে গিয়ে তুলে দিয়েছিলেন খোদ মেয়র গৌতম দেব। ফের জমি হাতানোর ঘটনায় চরম বিড়ম্বনা পড়েছে শাসক দল।

    আরও পড়ুন: পরপর মন্দিরে হামলা, নেতাকে হত্যা! বাংলাদেশে ফের টার্গেট হিন্দুরা

    আশ্রমের মহারাজ কী বললেন?

    ওই বিপুল পরিমাণ জমি পুনরুদ্ধারের আবেদন জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শিলিগুড়ির (Siliguri) মেয়র গৌতম দেবকে চিঠি দেয় রামকৃষ্ণ আশ্রম কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি পুরনিগম ভবনে রামকৃষ্ণ আশ্রম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন মেয়র গৌতম দেব। জমি জবরদখল প্রসঙ্গে রামকৃষ্ণ আশ্রমের সম্পাদক স্বামী বিনয়ানন্দ মহারাজ বলেন, “আমরা আমাদের জমি উদ্ধারের জন্য মেয়রের কাছে আবেদন করেছিলাম। ওই জমি উদ্ধারে সাহায্য করার তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।”

    মেয়র কী সাফাই দিলেন?

    মেয়র গৌতম দেব তাঁর বক্তব্যের মধ্যে বুঝিয়ে দিলেন, তৃণমূলের আমলে কিছু হয়নি। সবই আগে হয়েছে। তিনি বলেন, “১৯৭৬ সালের জমি। ১৯৯০ সাল থেকে সেখানে স্থায়ী, অস্থায়ী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান তৈরি হতে শুরু করে। অনেকটা জমি। তবে, জমির দলিল রামকৃষ্ণ আশ্রমের নামে রয়েছে। তাই তাঁরা নথি তৈরির জন্য আবেদন করছেন। আমরা সেসব কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেব।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Flood Situation: ঝাড়খণ্ডের একতরফা চাপিয়ে দেওয়া বন্যা নিয়ে মমতা চুপ কেন? প্রশ্ন তুলল বিজেপি

    Flood Situation: ঝাড়খণ্ডের একতরফা চাপিয়ে দেওয়া বন্যা নিয়ে মমতা চুপ কেন? প্রশ্ন তুলল বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বন্যা পরিস্থিতিকে ‘ম্যান মেড’ (Man Made) আখ্যা দিয়েছেন। বাস্তবেও ঘটেছে তাই। রাজ্যকে না জানিয়ে ঝাড়খণ্ডের একতরফা ছাড়া জলে বাংলায় বন্যায় পরিস্থিতির (Flood Situation) তৈরি হয়েছে। একথা ফাঁস করে দিয়েছে বিজেপি। রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় তাঁর সামাজিক মাধ্যমে ঝাড়খণ্ড থেকে জল ছাড়া সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি নির্দেশিকা প্রকাশ্যে এনেছেন।

    ঝাড়খণ্ডের জলে বাংলায় বন্যা (Man Made) 

    ওই নির্দেশিকায় দেখা যাচ্ছে ঝাড়খণ্ড থেকে যে পরিমাণ জল ছাড়া হয়েছে, তাতে হলুদ সতর্কতা (Flood Situation) জারি করা হয়। ঝাড়খণ্ড থেকে ছাড়া জলেই বাংলায় (Man Made) বন্যার পরিস্থিতি তা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। আর তাতেই মুখে কুলুপ এঁটেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই হেমন্ত সোরেনকে ফোন করে মুখ্যমন্ত্রী পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে বলেছেন। কিন্তু যেহেতু জোটসঙ্গী রাজ্য থেকে জল ছাড়া হয়েছে, তাই এনিয়ে বেশি উচ্চবাচ্য করতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রী।

    মুখ্যমন্ত্রীর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন

    এক্ষেত্রে বিজেপির প্রশ্ন, ঝাড়খণ্ডের তরফ থেকে জল ছাড়ার পর রাজ্যে যে (Man Made) বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে মুখ্যমন্ত্রী চুপ কেন? ঝাড়খণ্ডের তেনুঘাট বাঁধ থেকে একতরফা ভাবে ৮টি লকগেট খুলে দেওয়া হয়। ফলে পাঞ্চেত ও মাইথন থেকে ডিভিসি জল ছাড়তে বাধ্য হয়। এক্ষেত্রেও ডিভিসি রাজ্য সরকারের সম্মতি পাওয়ার পরেই জল ছাড়ে। তা সত্ত্বেও জল ছাড়াকে ইস্যু করে নবান্নর তরফে কেন্দ্রের বিরোধ প্রদর্শন হয়েছিল। কিন্তু জোট সঙ্গীর রাজ্যের তরফে জল ছাড়ার পর (Flood Situation) বিষয়টি প্রকশ্যে আসতেই মুখে কুলুপ এঁটেছে মমতার সরকার।

    বিজেপির বক্তব্য

    এ বিষয়ে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী ডিভিসিকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছিলেন। তিনি ঠিকই বলেছিলেন এটা ম্যান মেড (Man Made) বন্যা। কিন্তু বন্যার জন্য দায়ী মানুষটি ইন্ডি জোটের সঙ্গী হেমন্ত সোরেন। ঝাড়খণ্ডের তেনুঘাট বাঁধ থেকে একতরফাভাবে আটটি গেট খুলে রাতে জল ছেড়েছে হেমন্ত সোরেনের সরকার। মাইথন এবং পাঞ্চেতে সেই জল ধরে রাখার ক্ষমতা ছিল না। ফলে ডিভিসিকেও জল ছাড়তে হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বাংলার বন্যা পরিস্থিতির (Flood Situation) জন্য ডিভিসিকে দায়ী করেছেন। কেন তিনি তাঁর ইন্ডি জোটর সঙ্গী হেমন্ত সরকারের ভূমিকা নিয়ে নিরব? সস্তার রাজনীতি কি বাংলা স্বার্থের চেয়ে উপরে।” মমতাকে উদ্দেশ করে গেরুয়া শিবিরের কটাক্ষ, ‘‘ডিভিসির ওপর দায় চাপানো বন্ধ করুন। আপনি যে ‘ম্যান মেড’ বন্যার কথা বলেছেন, সেই ‘ম্যান’ হলেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। এ ব্যাপারে আপনি নীরব কেন? আপনার কাছে বাংলার স্বার্থের চেয়েও কি জোট বড়? আপনাকে না জানিয়ে কেন তিনি জল ছাড়লেন?’’ 

     

     

    আরও পড়ুন: ডিভিসির জল ছাড়া নিয়ে রাজ্য সরকারের ‘মিথ্যাচার’ ফাঁস করে দিল বিজেপি

    প্রসঙ্গত ঝাড়খণ্ডের তরফ থেকে ছাড়া জলের জন্য দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় বন্যার মত (Flood Situation) পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নদীর তীরের বহু বাড়ি ভেঙে নদী গর্ভে তলিয়ে গিয়েছে।। এ পরিস্থিতিতেও রাজ্য সরকারের তরফ থেকে কোনও ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়নি।  বাঁধ মেরামতির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি সরকারের তরফে। ভারী বৃষ্টির আগাম সর্তকতা দিয়েছিল আবহাওয়া দফতর। তা সত্ত্বেও রাজ্যের সেচ দফতরের তরফে কোনও হেলদোল দেখা যায়নি।

     

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Firhad Hakim: হাকিমের ‘দাওয়াত-এ-ইসলাম’ মন্তব্যের প্রতিবাদে ২৩ অগাস্ট কলকাতায় সমাবেশ সাধুদের

    Firhad Hakim: হাকিমের ‘দাওয়াত-এ-ইসলাম’ মন্তব্যের প্রতিবাদে ২৩ অগাস্ট কলকাতায় সমাবেশ সাধুদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) বিতর্কিত ‘দাওয়াত-এ-ইসলাম’ মন্তব্যের প্রতিবাদে এবার রাস্তায় নামছেন সাধু-সন্তরা (Hindu Saints)। ২৩ অগাস্ট শ্যামবাজার ক্রসিংয়ে হিন্দু সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, ওই দিন বেলা দু’টো থেকে শুরু হবে এই প্রতিবাদ সভা। প্রসঙ্গত, ববি হাকিমের (Firhad Hakim) বিতর্কিত মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিধানসভায় তাঁকে বয়কট করতে শুরু করেন বিজেপি বিধায়করা। এরপরেই সাধু-সন্তদের পথে নামা যথেষ্ঠ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সাম্প্রতিককালে দেশের কোনও রাজ্যে হিন্দু ধর্মের মর্যাদা রক্ষায় সাধুদের এভাবে রাস্তায় নামতে হয়েছে-এমন নজির নেই। সেদিক থেকে পশ্চিমবঙ্গই প্রথম রাজ্য হতে চলেছে যেখানে মমতা সরকারের মন্ত্রীর ইসলামিকরণ মন্তব্যের কারণে রাস্তায় নামতে চলেছেন সাধুরা। প্রসঙ্গত, ২৩ অগাস্ট হতে চলা ওই সমাবেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কার্তিক মহারাজ, নির্গুনানন্দ মহারাজরা।

    সমাবেশ নিয়ে কী বলছেন কার্তিক মহারাজ?  

    সমাবেশ নিয়ে কার্তিক মহারাজ (Hindu Saints) ‘মাধ্যম’-কে ফোনে বলেন, ‘‘অপরাধ করেছেন ববি হাকিম। তিনি সংবিধানকে ছুঁয়ে শপথ নিয়েছেন, তারপরে এমন মন্তব্য করতে পারেন না। শাসক দলের হিন্দু নেতারাই বা কী করছেন? তাঁরা সত্যিকারের হিন্দু হলে এমন মন্তব্যের বিরুদ্ধে অবশ্যই প্রতিবাদ করতেন।’’ কার্তিক মহারাজ জানিয়েছেন, কলকাতা সংলগ্ন জেলাগুলি থেকেই মানুষজন আসবেন। সাধু-সন্তদের পাশাপাশি ওই সমাবেশে হাজির থাকতে দেখা যাবে সমাজের বিশিষ্টজনদেরও। সমাবেশের প্রচার কি চলছে? কার্তিক মহারাজের উত্তর, ‘‘ইতিমধ্যে বেশ কয়েক হাজার লিফলেট আমরা ছাপাতে দিয়েছি। এভাবেই চলছে প্রচার।’’ কার্তিক মহারাজের আরও সংযোজন, ‘‘ববি হাকিমের এমন মন্তব্য অবশ্য একদিক থেকে ভালো, এতে যদি হিন্দু সমাজ জাগ্রত হয়!’’

    ২০১৬ সালেও ফিরহাদের (Firhad Hakim) ‘মিনি পাকিস্তান’ মন্তব্যে শুরু হয় বিতর্ক

    প্রসঙ্গত, ববি হাকিমের এমন মন্তব্য নতুন বা প্রথম কিছু নয়, এর আগেও পাকিস্তানের ‘ডন’ পত্রিকার সাংবাদিককে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে ২০১৬ সালে গার্ডেনরিচকে দেখিয়ে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, ‘‘দিস ইজ মিনি পাকিস্তান।’’ ফিরহাদ হাকিমের (Firhad Hakim) এমন মন্তব্যে বিতর্ক দানা বেঁধেছিল সেসময়ও। ইসলামিকরণ ধারণায় তাঁর যে এতটুকু বদল হয়নি, তা বোঝা গেল ২০২৪ সালেও। সম্প্রতি এক ধর্মীয় সমাবেশে যোগ দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, ‘‘মুসলিম হয়ে যাঁরা জন্মগ্রহণ করে না তাঁরা হতভাগ্য। এরকম প্রত্যেককে ইসলামে ধর্মান্তরিত করতে হবে।’’

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Empty Stomach: সকালে খালি পেটে কী খাবেন? কোন ঘরোয়া উপাদানে রয়েছে সুস্থ শরীরের চাবিকাঠি? 

    Empty Stomach: সকালে খালি পেটে কী খাবেন? কোন ঘরোয়া উপাদানে রয়েছে সুস্থ শরীরের চাবিকাঠি? 

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সকালে ঘুম থেকে উঠেই সরাসরি ভারী খাবার নয় (Empty Stomach)। বরং কিছু ঘরোয়া খাবারই করবে বাজিমাত। শরীর রাখবে সুস্থ। তা একাধিক জটিল রোগ মোকাবিলায় সাহায্য করবে‌। এমনই জানাচ্ছে বিশেষজ্ঞ মহল। তারা জানাচ্ছে, কম বয়স থেকেই এখন নানান জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। একদিকে স্থূলতার মতো সমস্যা, আরেকদিকে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ। এসব রোগে এখন তরুণ প্রজন্ম নাজেহাল।‌ তাই দিনের শুরু থেকেই জরুরি রোগ প্রতিরোধ শক্তি নিয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। ঘরোয়া কিছু উপাদানের নিয়মিত ব্যবহার হৃদরোগ থেকে কিডনির জটিল অসুখ, কিংবা মহিলাদের ওভারি, জরায়ুর জটিল সমস্যা দূর করতে পারে। এমনই পরামর্শ দিচ্ছে বিশেষজ্ঞদের একাংশ। এবার দেখে নেওয়া যাক, কোন ঘরোয়া উপাদান (Household Ingredients) কতখানি উপকারী?

    আমলকি ভেজানো জল (Empty Stomach)

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছে, ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে জল খাওয়ার অভ্যাস একাধিক রোগ‌ মোকাবিলায় সাহায্য করে। তারা জানাচ্ছে, আমলকি শরীরের জন্য খুবই উপকারী। তাই আমলকি ভেজানো জল খালি পেটে খেলে, তা যথেষ্ট উপকারে আসে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছে, আমলকিতে রয়েছে একাধিক খনিজ পদার্থ এবং ভিটামিন ই। তাই খালি পেটে আমলকি ভেজানো জল খেলে একদিকে হজমের সমস্যা কমে, শরীরে প্রতিরোধ শক্তিও বাড়ে। আবার ত্বক এবং চুলের সমস্যাও কমে। ত্বক উজ্জ্বল হয়।

    গরম জলে মধু মিশিয়ে খাওয়া

    সকালে ঘুম থেকে উঠে সপ্তাহে অন্তত তিন‌ দিন গরম জলে মধু মিশিয়ে খেলে (Empty Stomach) শরীর সুস্থ থাকবে বলেই জানাচ্ছে বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তারা জানাচ্ছে, এই পানীয় শরীরের টক্সিন বের করতে বিশেষ ভাবে সাহায্য করে। এর জেরে একদিকে সহজেই স্থূলতার সমস্যার মোকাবিলা করা যায়। এই পানীয় মেদ দ্রুত ঝরায়।‌ আরেকদিকে কিডনি ভালো থাকে। মহিলাদের ওভারি সুস্থ রাখতে এই পানীয় বিশেষ সাহায্য করে। আবার ত্বকও ভালো‌ থাকে।

    ভেজানো কাঠবাদাম (Empty Stomach)

    সকালে খালি পেটে ভেজানো কাঠবাদাম অন্তত পাঁচটা খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে বিশেষজ্ঞদের একাংশ।‌ তারা জানাচ্ছে, কাঠবাদাম মস্তিষ্কের বিকাশে বিশেষ সাহায্য করে‌। তাই শিশুদের খালি পেটে ভেজানো কাঠবাদাম খাওয়ানোয় অভ্যস্ত করার পরামর্শ দিচ্ছে পুষ্টিবিদদের একাংশ। তারা জানাচ্ছে, কাঠবাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খনিজ পদার্থ। পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজের মতো উপাদান।‌ তাই এই উপাদান শরীরে এনার্জি জোগায়। আবার স্নায়ু সুস্থ রাখে। পাশাপাশি এই ধরনের উপাদানগুলো মস্তিষ্ক সক্রিয় রাখতে বিশেষ সাহায্য করে। তাই সকালে উঠে নিয়মিত ভেজানো কাঠবাদাম খেলে বাড়তি উপকার পাওয়া যায়।

    খালি পেটে খেজুর কমাবে একাধিক সমস্যা

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছে, বহু মানুষ কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভোগেন। খালি পেটে (Household Ingredients) একটা খেজুর খেলে এই সমস্যা সহজেই মোকাবিলা সম্ভব। তারা জানাচ্ছে, খেজুরে রয়েছে একাধিক ভিটামিন এবং ফাইবার। তাই এই ফল একদিকে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাকে সহজেই কাবু করে, আবার দ্রুত শক্তি জোগায়‌।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Love Jihad: ‘লাভ জিহাদ’-এর মামলায় দোষীকে যাবজ্জীবন, এবার নতুন আইন আনছে অসম

    Love Jihad: ‘লাভ জিহাদ’-এর মামলায় দোষীকে যাবজ্জীবন, এবার নতুন আইন আনছে অসম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত সপ্তাহেই ‘লাভ জিহাদ’ রোধে কঠোর আইন আনার ঘোষণা করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। এবার ‘লাভ জিহাদ’-এর (Love Jihad) মামলায় আরও কড়া অসম সরকার। দোষীকে দেওয়া হবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা। নয়া আইন আনছে অসমের বিজেপি সরকার। জানালেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। এদিন তিনি বলেন, “আমরা নির্বাচনের সময় ‘লাভ জিহাদ’-এর কথা বলেছিলাম। শীঘ্রই সেই আইন আনা হচ্ছে, যাতে এই মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় দোষীর।” একই সঙ্গে এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, অসমে ‘জমি জেহাদ’ রুখতে আরও কঠোর হচ্ছে সরকার। এবার থেকে রাজ্যে হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে জমি কেনা বেচা আর সহজ হবে না।

    ঠিক কী জানিয়েছেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা? (Himanta Biswa Sarma) 

    রবিবার গুয়াহাটিতে ছিল রাজ্য বিজেপির বৈঠক। সেখানেই নিজের বক্তৃতায় ‘লাভ জিহাদ’ (Love Jihad) নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি। লাভ জিহাদ ছাড়াও অসম সরকার আরও বেশ কিছু বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করছে বলেও এদিন জানান তিনি। এরমধ্যে অন্যতম হল হিন্দু এবং মুসলিমদের মধ্যে সম্পত্তি বিক্রি। এবার থেকে রাজ্যে হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে জমি কেনাবেচা করতে গেলে সরকারের কাছ থেকে আগে অনুমোদন নিতে হবে। 

    হিমন্ত বলেন, ”সরকার এই ধরনের লেনদেনে বাধা দিতে পারে না। তবে সরকার ঠিক করেছে এই ধরনের লেনদেনের আগে সরকারি অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হবে।” অর্থাৎ সরকার অনুমতি দিলে তবেই একজন হিন্দু তাঁর জমি একজন মুসলিমকে অথবা একজন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ তাঁর জমি হিন্দু ধর্মাবলম্বীকে বিক্রি করতে পারবেন। এছাড়াও অসমের সরকারি চাকরি কারা পাবেন তা নিয়েও সরকার একটি নতুন নীতি (Assam law) প্রণয়নের পরিকল্পনা করছে বলে জানান হিমন্ত।

    আরও পড়ুন: বিধ্বস্ত ওয়েনাড়ে সেবাভারতীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ চার্চের পুরোহিতরা 

    প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা  

    এদিন এই বক্তৃতার মাঝেই হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ”প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে অসমের মানুষ সুসংবাদ পাচ্ছে। কংগ্রেসের কাছে ছাড়াইদেও মৈদামকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সুযোগ ছিল, কিন্তু তারা তা করেনি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) নেতৃত্বে ছাড়াইদেও মৈদাম বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। অসম নতুন ইতিহাস গড়তে সক্ষম হয়েছে।” এছাড়াও তিনি বলেন, ”বিজেপি রাজ্যের মানুষের হৃদয়ে রয়েছে। আমরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই, তিনি সবসময় অসমের উন্নতির চিন্তা করেন। সামনেই পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমি আশা করি যে আমরা ৫টি আসনের মধ্যে অন্তত ৪টিতে জিতব। গত ৩ বছর ধরে আমরা অসমের উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ২০২৬ সালে অসমে বিজেপি (BJP) ক্ষমতায় আসবেই, কেউ এটা আটকাতে পারবে না।”    

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share