Blog

  • Suvendu Adhikari: “ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান আমরাই রূপায়ণ করব”, কোলাঘাটের প্রশাসনিক বৈঠক শেষে ঘোষণা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: “ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান আমরাই রূপায়ণ করব”, কোলাঘাটের প্রশাসনিক বৈঠক শেষে ঘোষণা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান (Ghatal Master Plan) আমরাই বাস্তবায়ন করব”, কোলাঘাটের প্রশাসনিক বৈঠকে এমনই ঘোষণা করলেন রাজ্যের পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার ওই বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের কড়া সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের রূপরেখাও তুলে ধরেন পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পশ্চিমবঙ্গকে ফের সুশাসনের পথে ফিরিয়ে আনাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

    ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান 

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “উন্নয়নের দিক থেকে অনেক পিছিয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। আমরা সামগ্রিকভাবে অনেকটা পিছিয়ে গিয়েছি। এতদিন রাজ্যের থানাগুলি কার্যত পার্টি অফিসে পরিণত হয়েছিল, আর পঞ্চায়েত অফিসগুলি হয়ে উঠেছিল কাটমানি সংগ্রহের কেন্দ্র। এবার থেকে পশ্চিমবঙ্গে আইনের শাসন চলবে, শাসকের আইন নয়।” তিনি জানান, অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবেশে হয়েছে প্রশাসনিক বৈঠক। বৈঠকে ৩৩ জন বিজেপি বিধায়ক, ২ জন বিরোধী দলের বিধায়ক এবং মেদিনীপুর জেলার চার সাংসদ উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “উন্নয়ন নিয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক কথা বলেছেন ঘাটালের সাংসদ দেব। আমি স্পষ্ট জানিয়েছি, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এবার আমরাই রূপায়ণ করব।” মুখ্যমন্ত্রী যোগ করেন, ‘‘একজন বিরোধী সাংসদ তো আজ বলেই ফেললেন যে, ‘আপনি আমাদের মন খুলে কথা বলার স্বাধীনতা দিয়েছেন।’ বিরোধীদের যাঁরাই আজকে ছিলেন, তাঁরা সবাই স্রেফ উন্নয়নের কথাই বলেছেন।’’

    বিদ্রোহ চারিদিকে…

    এদিনের বৈঠকে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন তৃণমূলের তারকা সাংসদ দেব। উপস্থিত হয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিবিরের তৃণমূল সাংসদ -অভিনেত্রী জুন মালিয়া ও কেশপুরের বিধায়িকা শিউলি সাহা। তবে, রুপোলি পর্দার নায়ক-নায়িকার উপস্থিতি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে রাজনীতির কারবারিদের। কারণ, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে গোহারা হেরেছে তৃণমূল। পদ্মময় বাংলায় সরকার গড়েছে বিজেপি, যে সরকারের চালকের আসনে রয়েছেন গৈরিক নেতা শুভেন্দু অধিকারী। ঘাসফুল পার্টি মুখ থুবড়ে পড়তেই বিদ্রোহ শুরু হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূলে। এই বিদ্রোহীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি জিতেছেন ঘাসফুল প্রতীকে। উল্লেখ্য, বাম পার্টি থেকে বহিষ্কৃত হয়ে ঋতব্রত যোগ দেন তৃণমূলের। দ্রুত হয়ে ওঠেন মমতার স্নেহভাজন। দলের পাশাপাশি স্বয়ং দলনেত্রী গাড্ডায় পড়তেই ছত্রখান হয়ে গিয়েছেন কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল গড়ার মূল কারিগর মমতার দলের বিধায়করা। বিধায়কদের সিংহভাগই ঋতব্রতর শিবিরে। রাজ্যের পাশাপাশি তৃণমূলের এই বিদ্রোহের আঁচ লেগেছে দিল্লিতেও। সেখানেও জোট বাঁধার সলতে পাকাচ্ছেন তৃণমূল নেত্রীর হাতে গড়া দলের টিকিটে জয়ী হওয়া সাংসদদের সিংহভাগ। জল্পনা, এই শিবিরেই রয়েছেন দেব। তাঁর গায়ে সেঁটে গিয়েছে ‘বিদ্রোহী’ তকমা। এহেন ‘বিদ্রোহী’ই এদিন হাজির ছিলেন কোলাঘাটের বলাকা মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে। রাজনৈতিক মহলে জল্পনার আবহে আয়োজিত এই বৈঠক ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে চর্চা।

    কী বললেন দেব

    বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকে বিভিন্ন দলের জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি এবং (Ghatal MP) মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে মিলছে আগামী দিনের রাজ্য রাজনীতিতে নয়া সমীকরণের ইঙ্গিত (Suvendu Adhikari)। এদিকে, এদিনের প্রশাসনিক বৈঠক শেষে ঘাটালের সাংসদ তৃণমূলের দেব জানান, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যাতে কাজ শেষ হয়, সেই আবেদনও জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী সেই মর্মে তাঁকে কথাও দিয়েছেন। দেব বলেন, “ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের মাটি কাটা শুরু হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে। কাজটা শুরু হয়েছিল। আমার কোথাও যেন বিশ্বাস, সেই কাজটা শেষ হবে আমাদের এখনকার যিনি মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর হাত ধরে। উনি আমায় কথা দিয়েছেন। সাংসদের থেকে বড় কথা, আমি একজন জনপ্রতিনিধি। ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের সবচেয়ে বড় কষ্ট বন্যা। সেই বন্যার সবচেয়ে বড় সমাধান ছিল ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান। ২০১৪ সাল থেকে লড়াই চলছিল। ২০২৪ সালে আমি যখন দাঁড়াব না, দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) কথা দিয়েছিলেন। কথা দিয়ে কথাও রেখেছেন। অর্থবর্ষে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দও হয়েছিল (Suvendu Adhikari)।” তিনি বলেন, “এবারে ম্যানডেটটা একদম অন্য রকম এসেছে। নতুন মুখ্যমন্ত্রী এসেছেন (Ghatal MP)। আমি জনপ্রতিনিধি হিসেবে ওঁর সঙ্গে কথা বলেছি। আজ প্রশাসনিক বৈঠকে এসেছি এবং উনি সকলের সামনে বলেছেন, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান এই সরকার শেষ করবে, যা শুরু হয়েছিল আগের সরকারের হাত ধরে।”

    ‘সৌজন্যের রাজনীতি করে এসেছি’

    নয়া মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) বৈঠকে যোগ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন করলে তৃণমূলের এই সাংসদ বলেন, ‘‘আমায় তোমরা সাংসদ হিসেবে দেখছ ২০১৪ সাল থেকে। আমি সারা জীবনই সৌজন্যের রাজনীতি করে এসেছি। আজ তো নতুন নয়! আজ লোকে যদি বলে দেব পাল্টে গিয়েছে! দেব পাল্টায়নি। দেব সব সময় একটাই রাজনীতি করেছে, মানুষকে এক রাখার রাজনীতি, মানুষকে ভালোবাসা দেওয়ার রাজনীতি করেছে এবং যিনিই হোন না কেন, যে দলেরই হোন না কেন, আমি সব সময় সম্মান দিয়েছি। আজ পর্যন্ত মঞ্চ থেকে কাউকে আক্রমণ, অপমান করিনি। আমি ভালোবাসার রাজনীতি করে এসেছি। সেই রাজনীতিই আজও করছি। নতুন কিছু নয়। আমায় যখন একজন জয় শ্রীরাম বলেছিল, আমি তাঁকে আলিঙ্গন করেছিলাম। এমন কোনও কাজ করিনি, যাতে দলের নাম খারাপ হয়। আমায় ভোট দিয়ে কারও মনে হয়েছে, ভুল লোককে ভোট দিয়েছি, এমন কাজ করিনি।’’ তিনি বলেন, ‘‘আমায় (Ghatal MP) যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁদের হকের জন্য লড়াই করছি। আজ একটাই প্রতিশ্রুতি নেওয়ার জন্য এসেছিলাম। শুভেন্দুদা (মুখ্যমন্ত্রী) বলেওছেন, এবারের বাজেটে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য টাকা বরাদ্দ করা হবে (Suvendu Adhikari)।’’

     

  • Sabyasachi Dutta: হাতে পচা ডিম, টমেটো, গোবর নিয়ে আদালত চত্বরে অপেক্ষা করছিল জনতা, সব্যসাচী হাজির হতেই ছোড়া শুরু

    Sabyasachi Dutta: হাতে পচা ডিম, টমেটো, গোবর নিয়ে আদালত চত্বরে অপেক্ষা করছিল জনতা, সব্যসাচী হাজির হতেই ছোড়া শুরু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০১৮ সালের একটি তোলাবাজির মামলায় সোমবার মধ্যরাতে বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্তকে (Sabyasachi Dutta) গ্রেফতার করেছে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ। ভয় দেখিয়ে প্রায় ১ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও খুনের হুমকি দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে মঙ্গলবার সকালে তাঁকে (TMC Ex MLA) থানা থেকে বের করে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং তিনি তীব্র জনরোষের মুখে পড়েন। পচা ডিম, টমেটো, গোবরে ‘স্বাগত’ জানায় উত্তেজিত জনতা।

    আদালত চত্বরে বিশৃঙ্খলা (Sabyasachi Dutta)

    মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিধাননগর উত্তর থানার সামনে এবং আদালত চত্বরে স্থানীয় বাসিন্দারা ভিড় জমাতে শুরু করেন। সব্যসাচী দত্তকে কড়া পুলিশি পাহারায় থানা থেকে বের করে আনা হলেও উত্তেজিত জনতার বিক্ষোভ আটকানো সম্ভব হয়নি। তাঁকে লক্ষ্য করে পচা ডিম ও টমেটো ছুড়ে মারেন বেশ কিছু বিক্ষোভকারী। এমনকি পুলিশের গাড়ির দরজার ফাঁক দিয়েও তাঁর ওপর ডিম নিক্ষেপ করা হয়। উপস্থিত জনতার একাংশকে “চোর” (TMC Ex MLA) স্লোগান দিতেও শোনা যায়। সেখানে উপস্থিত এক বিক্ষোভকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই নেতা (Sabyasachi Dutta) ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচার চালিয়েছেন। আজ তাঁর উপযুক্ত শাস্তি হচ্ছে।”

    অভিযুক্তের প্রতিক্রিয়া

    যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন সব্যসাচী দত্ত (TMC Ex MLA)। পুলিশের গাড়িতে ওঠার সময় তিনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “২০১৮ সালের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই অভিযোগ আনা হয়েছে। ১ টাকাও নেওয়ার প্রমাণ যদি কেউ দিতে পারেন, তবে আমি যেকোনও শাস্তি মাথা পেতে নেব। যিনি আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছেন, তিনি নিজেই ওই একই বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে বিধাননগর উত্তর থানায় গ্রেফতার হয়েছিলেন। এটি সম্পূর্ণ প্রতিহিংসার রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই নয়।” ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বিধাননগর এবং তৎসংলগ্ন রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। পুলিশ পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে এবং আদালতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

  • India Slams Pakistan: রাষ্ট্রসঙ্ঘে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত, ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ তকমাকে বলল রাষ্ট্রীয় বিভ্রান্তি ছড়ানোর কৌশল

    India Slams Pakistan: রাষ্ট্রসঙ্ঘে পাকিস্তানকে ধুয়ে দিল ভারত, ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ তকমাকে বলল রাষ্ট্রীয় বিভ্রান্তি ছড়ানোর কৌশল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসঙ্ঘে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানোর অভিযোগ তুলল ভারত (India Slams Pakistan)। সোমবার রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে (UN Security Council) আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত হরিশ পার্বতানেনি বলেন, “পাকিস্তান নিজেদের দেশের জঙ্গি সংগঠনগুলিকে ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ নামে অভিহিত করে ভারতের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন প্রচার চালাচ্ছে।”

    পাকিস্তানকে তোপ ভারতের (India Slams Pakistan)

    গত বছর পাকিস্তান নিজেদের ভূখণ্ডে সক্রিয় একাধিক জঙ্গি সংগঠনকে এই নামে চিহ্নিত করে দাবি করেছিল যে, তারা ভারতের মদতপুষ্ট। যদিও এই দাবির স্বপক্ষে ইসলামাবাদ কোনও প্রমাণ দাখিল করেনি। এ প্রসঙ্গে ভারতের প্রতিনিধি বলেন, “ধর্মীয় পরিভাষার আড়ালে এই নামকরণ আসলে পাকিস্তানের সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত বিভ্রান্তি ও অপপ্রচারের অংশ।” তিনি বলেন, “পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী নিজেদের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক মহলকে বিভ্রান্ত করতে এই ধরনের প্রচার চালাচ্ছে।” তাঁর দাবি, ভারতের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ জিইয়ে রেখে পাকিস্তান আসলে নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরানোর চেষ্টা করছে।

    পাকিস্তানের সমালোচনা

    তিনি পাকিস্তানের রাজনৈতিক কাঠামো ও সেনাবাহিনীর ভূমিকার সমালোচনাও করেন। পার্বতানেনির অভিযোগ, সাম্প্রতিক সাংবিধানিক পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশটিতে সামরিক বাহিনীর প্রভাব আরও বেড়েছে। আফগানিস্তানের ভেতরে পাকিস্তানের সামরিক অভিযানেরও তীব্র সমালোচনা করে ভারত। পার্বতানেনি সাফ জানিয়ে দেন, অসামরিক মানুষের মৃত্যু ঘটিয়ে কোনও অভিযানকে সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ বলা যায় না। তিনি এও বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন ও ইসলামি সংহতির কথা বললেও, রমজান মাসে আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালিয়ে পাকিস্তান ভণ্ডামির পরিচয় দিয়েছে।” ভারতের প্রতিনিধি দাবি করেন, প্রতিবেশী দেশগুলির ওপর নিজেদের ব্যর্থতার দায় চাপানোর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে পাকিস্তানের।

    পাক-আফগান সীমান্তে উত্তেজনা

    উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নারী ও শিশু-সহ অন্তত ১৩ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হওয়ার তথ্য সামনে আসে। এরপর দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ ও পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু হয়। মার্চ মাসে রাষ্ট্রসঙ্ঘ জানিয়েছিল, সংঘর্ষে আফগানিস্তানে অন্তত ৪২ জন নিহত ও ১০৪ জন আহত হয়েছেন, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এক লাখেরও বেশি মানুষ (India Slams Pakistan)। এরপর আফগান কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কাবুলের একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে বিমান হামলা চালানোর অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, ওই হামলায় ৪০০-এরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যদিও রাষ্ট্রসঙ্ঘ (UN Security Council) অন্তত ২৬৯ জনের মৃত্যুর খবর যাচাই করেছে। আপাতত উত্তেজনা কিছুটা কমলেও, সীমান্তে এখনও ঘটছে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা (India Slams Pakistan)।

     

  • Task Force: রাজ্যে রেল প্রকল্পগুলির অগ্রগতি পর্যালোচনায় উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স গঠন করল নবান্ন

    Task Force: রাজ্যে রেল প্রকল্পগুলির অগ্রগতি পর্যালোচনায় উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স গঠন করল নবান্ন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে থমকে থাকা ও প্রস্তাবিত রেল প্রকল্পগুলির কাজে গতি আনতে এবং প্রশাসনিক জটিলতা দূর করতে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্ক ফোর্স (Task Force) গঠন করল রাজ্য সরকার। নবগঠিত এই টাস্ক ফোর্সের চেয়ারম্যান বা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবালকে। মুখ্যসচিব ছাড়া এই কমিটিতে আরও ১৯ জন উচ্চপদস্থ সদস্য রয়েছেন। সম্প্রতি রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কলকাতা সফরের সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (State Government) রেলের সমস্ত প্রকল্পে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। মূলত সেই প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবায়িত করতেই নবান্নর এই তৎপরতা বলে মনে করা হচ্ছে।

    টাস্ক ফোর্সের মূল দায়িত্ব ও কার্যাবলি (Task Force)

    • নিয়মিত পর্যালোচনা: রাজ্যে প্রস্তাবিত ও নির্মাণাধীন রেল প্রকল্পগুলির কাজ কতদূর এগোল, তা নিয়মিত খতিয়ে দেখবে এই কমিটি।
    • জটিলতা নিরসন: জমি অধিগ্রহণ, বিদ্যুৎ সংযোগ কিংবা রাস্তা নির্মাণ সংক্রান্ত যেসব সমস্যার কারণে প্রকল্পগুলি থমকে রয়েছে, তা দ্রুত সমাধান করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
    • সমন্বয় সাধন: রেলের আধিকারিকদের সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন দফতরের কাজের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও প্রশাসনিক অনুমতি মেলার প্রক্রিয়াকে আরও সহজতর করা হবে।

    বৈঠকের সময়সূচি

    প্রকল্পগুলির অগ্রগতি নিশ্চিত করতে প্রতি মাসে অন্তত একবার মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে এই টাস্ক ফোর্সের (Task Force) বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রয়োজনে মাসে একাধিকবারও বৈঠক হতে পারে। এ ছাড়া, কাজের গতি বজায় রাখতে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ প্রতি সপ্তাহে টাস্ক ফোর্সের সদস্যদের নিয়ে একটি পর্যালোচনা বৈঠকে বসবেন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি রেলমন্ত্রীর সঙ্গে নবান্নের বৈঠকের পর মুখ্যসচিব (State Government) জানিয়েছিলেন যে, প্রশাসনিক অনুমতির অভাবে রাজ্যে রেলের প্রায় ৭০টি প্রকল্প থমকে ছিল। রাজ্যে ইতিমধ্যেই প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার রেল প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নতুন এই টাস্ক ফোর্স (Task Force) গঠনের ফলে সেই প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অনেকটাই ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • FIFA World Cup 2026: ভারত না খেললেও, ২৬-এর বিশ্বকাপে ভারতীয় বংশোদ্ভূতের ছোঁয়া! জানেন তাঁরা কারা?

    FIFA World Cup 2026: ভারত না খেললেও, ২৬-এর বিশ্বকাপে ভারতীয় বংশোদ্ভূতের ছোঁয়া! জানেন তাঁরা কারা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আর মাত্র দুই দিনের অপেক্ষা। এরপরই ঢাকে কাঠি পড়ে যাবে বিশ্বকাপ ফুটবলের (Fifa Football World Cup 2026)। কানাডা, মেক্সিকো ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবারের ফুটবল বিশ্বকাপের (Football World Cup 2026) আসর বসতে চলেছে। নিঃসন্দেহে এবারের টুর্নামেন্ট উল্লেখযোগ্য থাকবে বিশ্ব ফুটবলের ২ মহারথী ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ও লিওনেল মেসির জন্য। দু’জনে তাঁদের কেরিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে খেলতে নামছেন। তবে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ ভারতীয় ফুটবল প্রেমীদের জন্য়ও একটি বিশেষ কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ প্রায় ২০ বছর পর অর্থাৎ ২০০৬ বিশ্বকাপের পর এবারই কোনও ভারতীয় বংশোদ্ভুত ফুটবলার বিশ্বকাপের আসরে নামতে চলেছেন। তাও আবার একজন নয়। চার চারজন।

    ২০০৬-এর পর ২০২৬

    ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস গড়লেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত চার ফুটবলার। ভারতীয় ফুটবল দল (Indian Football Team) এবারও বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হলেও, এই প্রথম একসঙ্গে চারজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলার নিজেদের দেশের জার্সিতে বিশ্বকাপ খেলতে চলেছেন। ২০০৬ সালে ফ্রান্সের জার্সিতে বিশ্বকাপ খেলেছিলেন বিকাশ ধোরাসু। তিনি ছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভুত। এরপর ফুটবল বিশ্বকাপের চারটি সংস্করণে কোনও ভারতীয়কে মাঠে দেখা যায়নি। কিন্তু আগামী ১২ জুন থেকে শুরু হতে চলা মেগা টুর্নামেন্টে চারজন ভারতীয় বংশোদ্ভুত চারটি বিভিন্ন দেশের হয়ে খেলতে নামবেন। তাঁরা হলেন তাহসিন মহম্মদ জামশিদ, নিশান ভেলুপিল্লাই, স্যামুয়েল মুতুসামি ও সরপ্রীত সিং।

    তাহসিন মহম্মদ জামশিদ

    সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন কাতারের তরুণ উইঙ্গার তাহসিন মহম্মদ জামশিদ। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই তিনি কাতার স্টার্স লিগে খেলা প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত ফুটবলার হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। দোহায় জন্ম নেওয়া তাহসিনের বাবা-মা কেরলের মালয়ালি পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। তাঁর বাবা কেরলে বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলও খেলেছিলেন। এবার কাতারের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছেন তিনি।

    সরপ্রীত সিং

    নিউজিল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপ খেলতে চলেছেন সরপ্রীত সিং। পাঞ্জাবি পরিবার থেকে উঠে আসা এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার ২০১৮ সাল থেকেই ‘অল হোয়াইটস’ দলে নিয়মিত মুখ। ইউরোপিয় ফুটবলেও তিনি যথেষ্ট পরিচিত নাম। জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখে সই করে একসময় বড় চমক দিয়েছিলেন সরপ্রীত। ২০১৯ সালে বায়ার্ন মিউনিখে কুতিনহোর বদলে মাঠে নেমেছিলেন সরপ্রীত। সে দিন তিনি প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভুত হিসেবে খেলেছিলেন বুন্দেশলিগায়। পাঞ্জাব থেকে সরপ্রীতের বাবা–মা পাড়ি দিয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডে। অকল্যান্ডের দক্ষিণ প্রান্তে পাপাতোয়তোয় অঞ্চলে বাড়ি তাঁদের। সেখানেই শুরু ফুটবল। তার পরে খেলেছেন ওনেহুঙ্গা ক্লাবে। সেখান থেকেই নজরে পড়ে যান ওয়েলিংটন ফিনিক্স যুব টিমের। তার পরে এই টিমের হয়েই খেলেছেন এ লিগে। তার পরে বায়ার্নের দ্বিতীয় ও প্রথম টিম এবং জার্মানির আরও কয়েকটি টিমে খেলে গত মরশুমে খেলেছেন পর্তুগালের ইউনিয়াও দে লেইরিয়াতে। আর ২০১৮ সালে অভিষেকের পরে ধীরে ধীরে নিয়মিত হয়ে উঠেছেন নিউ জিল্যান্ড টিমে।

    নিশান ভেলুপিল্লাই

    অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন নিশান ভেলুপিল্লাই। এই আগুন গতির উইঙ্গারের মা অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান এবং বাবা মালয়েশিয়ান তামিল বংশোদ্ভূত। ইতিমধ্যেই ‘সকারুজ়’ দলে নিজের জায়গা পাকা করতে শুরু করেছেন নিশান।

    স্যামুয়েল মাউতোসামি

    ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোর হয়ে খেলবেন স্যামুয়েল মাউতোসামি। ফ্রান্সের প্যারিসে জন্ম হলেও, মায়ের সূত্রে তিনি কঙ্গোর প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাঁর বাবা ইন্দো-গুয়াডেলুপিয়ান তামিল বংশোদ্ভূত। ফরাসি লিগ ওয়ানে দীর্ঘদিন খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

    কার হাতে উঠবে বিশ্বকাপ

    ভারতীয় ফুটবল দল বিশ্বকাপে না থাকলেও, ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই চার ফুটবলারের উপস্থিতি নিঃসন্দেহে ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের কাছে গর্বের মুহূর্ত হয়ে থাকবে। উল্লেখ্য, এবারের ফুটবল বিশ্বকাপে রেকর্ড ৪৮টি দল অংশ নিতে চলেছে। মোট ১০৪টি ম্য়াচ হবে। ১১ জুন উদ্বোধনী ম্য়াচে আয়োজক দেশ মেক্সিকো মুখোমুখি হতে চলেছে দক্ষিণ আফ্রিকার। আগামী ২০ জুলাই পর্যন্ত চলবে এই ফাইনাল ম্য়াচ। গত বিশ্বকাপ আয়োজিত হয়েছিল কাতারে। সেবার ফাইনালে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল আর্জেন্তিনা। লিওনেল মেসির হাতে উঠেছিল বিশ্বকাপ ট্রফি। ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে দিয়েছিল তারা। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো কি পারবেন নিজের শেষ বিশ্বকাপ স্মরণীয় করে রাখতে?

    ৩৯ দিন ধরে চলবে এই মেগা টুর্নামেন্ট

    মোট ৩৯ দিন ধরে চলবে এই মেগা টুর্নামেন্ট। তিনটি দেশের ১৬টি স্টেডিয়ামে আয়োজন করা হবে মোট ১০৪টি ম্যাচ। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে প্রথমবার ৪৮টি দল অংশ নেবে। এর আগে বিশ্বকাপে ৩২টি দল খেলত। শেষবার ১৯৯৮ সালে দলসংখ্যা বাড়ানো হয়েছিল। দলসংখ্যা বাড়ায় এবার ম্যাচের সংখ্যাও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪-এ, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বাধিক। এই বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নিতে চলেছে কেপ ভার্দে, কুরাকাও, জর্ডন এবং উজবেকিস্তান। ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এই চার দেশের অভিষেক বিশ্বকাপকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ৪৮টি দলের মোট ১,২৪৮ জন ফুটবলার এবারের বিশ্বকাপে অংশ নেবেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এত সংখ্যক ফুটবলার আগে কখনও অংশ নেননি। এই ফুটবলাররা বিশ্বের ৭১টি দেশের ৪৪৯টি ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

  • India-China Relation: ‘ভারত প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, সহযোগী’ বার্তা চিনের! বেজিংয়ের সুরে কি বরফ গলছে?

    India-China Relation: ‘ভারত প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, সহযোগী’ বার্তা চিনের! বেজিংয়ের সুরে কি বরফ গলছে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত, রাশিয়া এবং চিনের (India-China Relation) মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার পক্ষে সওয়াল করল বেজিং। চিনের মতে, ইউরেশিয়ার এই তিন প্রধান শক্তির মধ্যে গঠনমূলক সম্পর্ক শুধু সংশ্লিষ্ট দেশগুলির স্বার্থেই নয়, বিশ্বব্যাপী শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সোমবার নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠকে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লিন জিয়ান জানান, রাশিয়া-ভারত-চিন (RIC) কাঠামোর অধীনে সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে যেতে বেজিং নয়াদিল্লি ও মস্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে প্রস্তুত।

    ভারত-রাশিয়া-চিন সম্পর্কের গুরুত্ব

    সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারত ও চিনের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, দুই নেতা পারস্পরিক সমস্যার সমাধান এবং সংলাপ বজায় রাখার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করছেন। লিন জিয়ান বলেন, “চিন, রাশিয়া এবং ভারত—তিনটিই উদীয়মান অর্থনীতি। এই তিন দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা তাদের নিজস্ব স্বার্থের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির জন্যও সহায়ক।” তিনি আরও বলেন, “তিন দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে রাশিয়া ও ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে চিন প্রস্তুত।”

    আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা

    রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন সম্প্রতি মন্তব্য করেন যে, ভারত ও চিনের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক স্বতন্ত্রভাবে বিকশিত হয়েছে এবং তা কোনও তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়। ভারত-চিন সম্পর্ককে তিনি “জটিল কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ” বলে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলির সমাধানে বাইরের হস্তক্ষেপ বিশেষ সাহায্য করবে না। পুতিন আরও উল্লেখ করেন, সীমান্ত-সহ একাধিক ইস্যুতে নয়াদিল্লি ও বেজিং নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দুই দেশের এই সহনশীল ভূমিকা সারা বিশ্বের কাছে শিক্ষনীয় অভিমত পুতিনের।

    সীমান্ত পরিস্থিতি ‘সাধারণভাবে স্থিতিশীল’

    ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে লিন জিয়ান জানান, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) বরাবর পরিস্থিতি বর্তমানে “সাধারণভাবে স্থিতিশীল” রয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের বিভিন্ন ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে। তিনি বলেন, ভারত ও চিনের উচিত একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না দেখে সহযোগী হিসেবে দেখা। লিন জিয়ান বলেন, “দুই দেশকে সঠিক কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করতে হবে। ভারত ও চিন একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং সহযোগী। উভয় দেশের উন্নয়নের জন্য একে অপর সুযোগ, হুমকি নয়।” লিনের মতে, দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি, বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য দূর করার পথে এগোনো উচিত দুই দেশের।

    ভারত-পাক সম্পর্ক নিয়েও অবস্থান স্পষ্ট 

    ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে চিনের মুখপাত্র জানান, নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে মতপার্থক্য শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান হওয়া উচিত। তিনি বলেন, “আমরা দুই পক্ষকেই সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে মতভেদ মেটানোর এবং যৌথভাবে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানাই।”

    মতপার্থক্য দূর হওয়ার পথে

    বিশ্ব রাজনীতিতে দ্রুত পরিবর্তন, বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত এবং নতুন অর্থনৈতিক জোটের উত্থানের প্রেক্ষাপটে আরআইসি কাঠামোর গুরুত্ব নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভারত ও চিনের মধ্যে এখনও নানা মতপার্থক্য থাকলেও, বেজিংয়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য তিন দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও কৌশলগত সংলাপ বাড়ানোর প্রতি নতুন আগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক

    জিয়ানের এই মন্তব্য চিন-ভারত সুসম্পর্ক পুনর্নির্মাণের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তুলেছে। কিছুদিন আগেই অরুণাচল প্রদেশকে ‘দক্ষিণ তিব্বত’ হিসেবে দাবি করে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বিকৃত’ মানচিত্র নিয়মিত প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে চিনকে। গালওয়ান ক্ষতের উপর নুন ছিটিয়েছে করাচির সঙ্গে বেজিংয়ের সখ্যতা। চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিরোধ মেটেনি। এই আবহে জিয়ানের এই মত, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ— সেরকমটাই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

    চিনকে বিশ্বাস করা যায়!

    উল্লেখ্য, ১৯৫০ সালের ‘হিন্দি চিনি ভাই ভাই’ স্লোগানকে পদদলিত করে ৬২-তেই যুদ্ধে নেমেছিল চিন। এর পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের গ্রাফ নেমেছে। সীমান্তবর্তী উত্তেজনা ছাড়াও নিউক্লিয়ার সাপ্লাই গ্রুপের সদস্যপদ গ্রহণ, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার — একাধিক বিষয়ে ভারতের সামনে প্রাচীর তুলেছে চিন। ১৯৬২-র যুদ্ধ এবং ১৯৬৭-র সীমান্ত সংঘর্ষের পর প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) তুলনামূলক শান্ত ছিল। ২০১৭ সাল থেকে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হতে শুরু করে। সে বছর ডোকলামে টানা ৭৩ দিন দু’দেশের বাহিনী পরস্পরের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল। পরে কূটনৈতিক পথে সমস্যার সমাধান হয়। এর পর ২০২০ সালে পূর্ব লাদাখের গলওয়ানে সংঘর্ষ হয় ভারতীয় সেনার সঙ্গে চিনের বাহিনীর। তার পরে কূটনৈতিক এবং সামরিক স্তরে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফিরেছে।

    ‘রাশিয়া-ভারত-চিন ত্রিশক্তি জোট’

    ভারত এবং চিনের কূটনৈতিক শৈত্য সম্প্রতি অনেকটাই কেটে গিয়েছে। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা শান্ত। অতিমারিও এখন অতীত। কূটনীতিকদের মতে, সামরিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে এই তিন দেশ পৃথক বলয় তৈরি করলে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ বাড়বে। ‘রাশিয়া-ভারত-চিন ত্রিশক্তি জোট’ বা ‘রিক ট্রয়িকা’ বিশ্বকে চাপে রাখবে।

  • Bengal Liquor Scam: দিল্লির পর বাংলা, কোটি কোটি টাকার মদ দুর্নীতি ফাঁস! আবগারি কেলেঙ্কারিতে কাঠগড়ায় অভিষেক

    Bengal Liquor Scam: দিল্লির পর বাংলা, কোটি কোটি টাকার মদ দুর্নীতি ফাঁস! আবগারি কেলেঙ্কারিতে কাঠগড়ায় অভিষেক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০১৭ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট বেভারেজেস কর্পোরেশন লিমিটেড’ (WBSBCL) বা ‘বেভকো’ গঠনের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নতুন করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। রাজ্য আবগারি দফতরে বড়সড় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির, যা ঘিরে রাজ্যে আবগারি দুর্নীতির (WB-Excise Scam) বিতর্ক ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। বিরোধীদের দাবি, গোটা এই দুর্নীতির মাথায় রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishke Banerjee)। এই ইস্যুতে রাজ্য রাজনীতি এখন ব্যপক তোলপাড়।

    কিছু মহলের স্বার্থসিদ্ধি ও আর্থিক অনিয়ম (WB-Excise Scam)

    ২০১৭ সাল থেকেই শুরু, সেই সময় রাজ্যের আবগারি নীতিতে বদল করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গ আবগারি বোর্ড কর্পোরেশন গড়ে ওঠে। তাঁর ৫ সদস্য ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস গৌতম ঘোষ, তৎকালীন বিশেষ কমিশনার (রাজস্ব) শান্তনু আচার্য, সিনিয়র যুগ্ম রাজস্ব কমিশনার এবং তৎকালীন ম্যানেজার (অপারেশনস) সঞ্চয়ন গঙ্গোপাধ্যায়, ডেপুটি রাজস্ব কমিশনার এবং তৎকালীন ম্যানেজার (সিস্টেমস) রাজর্ষি চক্রবর্তী, অতিরিক্ত রাজস্ব কমিশনার এবং জিএম সিস্টেমস কুনাস বিশ্বাস। নীতিতে বিশেষ বদল আনা হয়। নয়া নীতিতে সিলমোহর দেন কমিটিতে থাকা সকলে। আগে শুধুমাত্র ডিস্ট্রিবিউটারের থেকে রাজস্ব আদায় করত রাজ্য। তবে নয়া নিয়ম অনুযায়ী, ডিস্ট্রিবিউটার এবং পাইকারি বিক্রেতা – দু’পক্ষের কাছ থেকেই রাজস্ব পেত তৎকালীন রাজ্য সরকার। অভিযোগ, কোটি কোটি রাজস্বের একটি বড় অংশই নাকি সরাসরি ঢুকত তৃণমূলের ‘ভাইপো’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাতায়।

    উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগে পশ্চিমবঙ্গে বিদেশি ও দেশি মদের পাইকারি বা থোক বিক্রির (Wholesale) ব্যবসা মূলত বেসরকারি ডিলার ও লাইসেন্সধারীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু রাজ্য সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি এবং মদের কালোবাজারি ও জোগান নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে ২০১৭ সালে সম্পূর্ণ সরকারি মালিকানাধীন এই কর্পোরেশন বা ‘বেভকো’ (WBSBCL) গঠন করা হয়। এরপর থেকে রাজ্যের মদের পাইকারি ব্যবসা এককভাবে এই সরকারি সংস্থার (WB-Excise Scam) হাতে চলে যায়।

    আবগারি কমিশনকে চিঠি

    আইএফবি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড গত ১৮ মে পশ্চিমবঙ্গের আবগারি কমিশনারকে একটি কড়া চিঠি  দিয়েছিল। তাতে বলা হয়, অবিলম্বে এই রাজস্ব আদায় বন্ধের দাবি জানানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘যেহেতু একটি নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে, আমরা মনে করি যে নতুন সরকার এই ধরনের কার্যকলাপ বন্ধ করবে।’ বিজেপির নেতা অমিত মালব্য বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের মদ কেলেঙ্কারি দুর্নীতির সংস্কৃতিরই প্রমাণ। এই দুর্নীতি একটি সিন্ডিকেটের ইঙ্গিত করে যার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সত্যকে আর ধামাচাপা দেওয়া যাবে না। যারা বাংলাকে লুট করেছে তাদের কৃতকর্মের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।” অপরে রাজ্যের মন্ত্রী দীপক বর্মন এবং সুমনা সরকারও এই ঘটনার প্রতিবাদে সরব হন। তদন্ত করে দোষীদের কুকর্ম তুলে ধরার বিষয়ে আশ্বাস দেন।

    কীভাবে চলত দুর্নীতি?

    বেভকো’ গঠনের পর থেকে চালু বহুমুখী ব্যবস্থা ভেঙে একটি একচেটিয়া ব্যবসায়িক কাঠামো তৈরি হয়েছিল। নতুন ব্যবস্থায় কিছু ডিস্ট্রিবিউটরকে যুক্ত করা হয়, যারা মদ প্রস্তুতকারী এবং বোতলজাতকারী সংস্থাগুলির কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করত বলে অভিযোগ। প্রতি ক্রেটে ৪ টাকা গুদাম ভাড়া এবং ৩ টাকা পরিবহণ খরচ বাবদ নেওয়া হত। অর্থাৎ, প্রতি ক্রেটে ৭ টাকা দিতে হত সংস্থাগুলিকে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই অর্থের একটি অংশ সরকারি কোষাগারে না গিয়ে ‘অন্যত্র’ পৌঁছত।

    বিরোধীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, এই ব্যবস্থা চালুর নেপথ্যে সরকারের রাজস্ব বাড়ানোর সদিচ্ছার চেয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু মহলের স্বার্থসিদ্ধি ও আর্থিক অনিয়মের উদ্দেশ্যই কাজ করেছিল। একই ভাবে আরও বলা হয়, মদের বরাত বণ্টন (Allocation), ব্র্যান্ডের নথিভুক্তি (Brand Registration) এবং বেসরকারি ডিস্ট্রিবিউটরদের একচেটিয়া সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে কোটি কোটি টাকার আর্থিক অসঙ্গতি হয়েছে। বিজেপির অবশ্য অভিযোগ কয়লা, গরু, বালি, পাথার পাচারের মতো এবার এই আবগারি দুর্নীতির টাকা সরাসরি চলে যেতো তৃণমূলের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

    বড়সড় কেলেঙ্কারির তদন্ত

    রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাজ্যে রেশন দুর্নীতি এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতির মতো বড়সড় কেলেঙ্কারির (WB-Excise Scam) তদন্ত যখন কেন্দ্রীয় এজেন্সির মাধ্যমে গতি পেয়েছে, ঠিক সেই আবহেই আবগারি দফতরের এই পুরনো সিদ্ধান্ত ও বেভকো-র কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে বিস্ফোরক সব তথ্য ও অভিযোগ সামনে আসছে।

    নতুন নীতির ফলে রাজস্ব আদায়ের পুরনো এককালীন পদ্ধতি বাতিল করে দুই স্তরের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। এর ফলে আবগারি রাজস্ব আদায়ে বিলম্ব এবং বিতরণ ব্যবস্থায় একাধিক সমস্যার সৃষ্টি হয় বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, আগে উৎপাদন বা বোতলজাতকরণের উৎসস্থলেই সম্পূর্ণ শুল্ক আদায় করা হত। কিন্তু নতুন ব্যবস্থায় দুই ধাপে শুল্ক আদায়ের ব্যবস্থা চালু করা হয়।

    তবে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, মদের চোরাচালান রুখতে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে রাজ্য কোষাগারে স্বচ্ছ উপায়ে শতভাগ রাজস্ব নিশ্চিত করতেই বেভকো (WBSBCL) গঠন করা হয়েছিল, যা অত্যন্ত সফলভাবে কাজ করছে। সব মিলিয়ে, ২০১৭ সালের এই সরকারি পদক্ষেপকে ঘিরে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে দুর্নীতির উত্তাপ (WB-Excise Scam) এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে গেছে।

  • PoK Violence: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সুর, গণ-আন্দোলনে কাঁপছে ইসলামাবাদ

    PoK Violence: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের সুর, গণ-আন্দোলনে কাঁপছে ইসলামাবাদ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক অধিকৃত কাশ্মীর (PoK)-এ ফের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা, রাজনৈতিক অধিকার হরণ এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ক্ষোভকে কেন্দ্র করে চলা আন্দোলনের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে ব্যাপক রক্তপাতের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় অধিকারকর্মী ও জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি — সংক্ষেপে জেএএসি বা ‘জাক’ (JAAC)— সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেছেন, রাওয়ালাকোটে একটি শোকসভা ও ‘জনাজা’র জমায়েতে পাকিস্তানি সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনী নির্মম দমন-পীড়ন চালিয়েছে।

    কীভাবে শুরু হয় সংঘর্ষ?

    ঘটনাটি ঘটে ৭ জুন, যখন জেএএসি ৯ জুন সমগ্র পাক অধিকৃত কাশ্মীর জুড়ে ধর্মঘট ও গণআন্দোলনের ডাক দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সংঘর্ষের জেরে অন্তত ২০০ জন আহত এবং কমপক্ষে ১১ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। নিহতদের মধ্যে চারজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাওয়ালকোটের বারমাং ব্রিজ এলাকায় নতুন করে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। ওই সময় স্থানীয় অধিকারকর্মী সর্দার উমর নাজির কাশ্মীরিকে বহনকারী একটি গাড়ি নিরাপত্তা বাহিনী আটকায়। অভিযোগ, পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। সর্দার উমর নাজির অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী শাহজেব হাবিব গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এই ঘটনার পর হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁদের অভিযোগ, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলের সম্পদ শোষণ করছে, জনগণের রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করছে এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়িয়ে তুলছে।

    জনাজার জমায়েতে গুলি চালানোর অভিযোগ

    জেএএসি-র দাবি, শাহজেব হাবিবের জনাজার নামাজ উপলক্ষে কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতালের (CMH) বাইরে জড়ো হওয়া শোকাহত মানুষ ও আন্দোলনকারীদের উপর নিরাপত্তা বাহিনী গুলি ও শেল নিক্ষেপ করে। সংগঠনের অভিযোগ, পাকিস্তানি রেঞ্জার্সের গুলিতেই হাবিব নিহত হন। জেএএসি আরও দাবি করেছে যে সাম্প্রতিক দমন-পীড়নের ঘটনায় প্রকৃত মৃতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি এবং অন্তত ২৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সংখ্যা স্বীকার করা হয়নি। অন্যদিকে সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে তিনজন সাধারণ নাগরিক নিহত এবং প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, চারজন নিরাপত্তাকর্মীও নিহত হয়েছেন এবং ২৩ জন আহত হয়েছেন।

    ‘সন্ত্রাসবাদ’ অভিযোগে জেএএসি-র বিরুদ্ধে পদক্ষেপ

    ক্রমবর্ধমান আন্দোলনের মুখে পাকিস্তান সরকার জেএএসি-কে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় এনেছে। সংগঠনের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপ’ এবং ‘অরাজকতা সৃষ্টি’-র অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে জেএএসি নেতাদের দাবি, তাঁদের আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং জনস্বার্থে পরিচালিত। সংগঠনের সদস্য শওকত নওয়াজ মির বলেন, “আমরা কোনও দেশ, প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে নই। আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত করা অত্যন্ত অন্যায়। ৯ জুন থেকে একটি ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ লং মার্চ শুরু হবে।” তিনি সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

    ৩৮ দফা দাবিপত্রে কী রয়েছে?

    জেএএসি দীর্ঘদিন ধরে অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। সংগঠনটি ৩৮ দফা দাবিপত্র জমা দিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দাবি হল—

    • ● বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য হ্রাস
    • ● ভর্তুকিযুক্ত আটা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ
    • ● স্থানীয় সম্পদের উপর জনগণের অধিকারের স্বীকৃতি
    • ● রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন বৃদ্ধি
    • ● বহিরাগতদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি বিধানসভা আসন বাতিল

    জেএএসি-র অভিযোগ, এই সংরক্ষিত আসনগুলির মাধ্যমে পাকিস্তানের বড় রাজনৈতিক দলগুলি স্থানীয় রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের সুযোগ পায় এবং প্রকৃত জনপ্রতিনিধিত্ব ক্ষুণ্ণ হয়।

    যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ, বাড়ছে ক্ষোভ

    অঞ্চলে একাধিক জেএএসি নেতার গ্রেফতারি, যোগাযোগ ব্যবস্থা আংশিক বন্ধ করে দেওয়া এবং বিভিন্ন এলাকায় অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবার উপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি পাক অধিকৃত কাশ্মীরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুরুতর অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। একইসঙ্গে পাকিস্তান বর্তমানে একাধিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।

    আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ

    পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্রিটেনের একদল সাংসদও। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের কাশ্মীর বিষয়ক সর্বদলীয় গোষ্ঠীর (APPG on Kashmir) চেয়ারম্যান এবং ব্র্যাডফোর্ড ইস্টের সাংসদ ইমরান হুসেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দফতরের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছেন। প্রায় ৩০ জন সাংসদের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে অঞ্চলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা, গ্রেফতারি অভিযান, উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং জেএএসি প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ ভেঙে পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং যোগাযোগের অধিকার গণতান্ত্রিক সমাজের মৌলিক ভিত্তি। তাই পরিস্থিতি শান্ত করতে সংলাপ, সংযম এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

    দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বিস্ফোরণ

    বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘর্ষ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত কয়েক বছর ধরে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বিদ্যুতের উচ্চ মূল্য, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব, স্থানীয় সম্পদের উপর নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলন চলেছে। বিশেষত গত বছর থেকে একাধিকবার বৃহৎ বিক্ষোভ, ধর্মঘট এবং প্রশাসনের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় জনগণের একাংশের অভিযোগ, ইসলামাবাদ অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করলেও তার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না। বর্তমান সংঘর্ষ সেই দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভেরই নতুন বিস্ফোরণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। আগামী দিনে জেএএসি-র ঘোষিত লং মার্চ এবং পাকিস্তান সরকারের প্রতিক্রিয়ার উপর নির্ভর করবে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।

  • Kolkata Municipal Corporation: কলকাতা পুরনিগমের বোর্ড বিলুপ্ত, প্রশাসক পদে নিযুক্ত হলেন পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে

    Kolkata Municipal Corporation: কলকাতা পুরনিগমের বোর্ড বিলুপ্ত, প্রশাসক পদে নিযুক্ত হলেন পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চন্দননগর ও বিধাননগরের পর এবার কলকাতা পুরনিগমেও (Kolkata Municipal Corporation) প্রশাসক বসাল রাজ্য সরকার। পুর বিষয়ক দফতরের এক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, বর্তমান পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে (Smita Pandey) কলকাতার নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তিনিই এই পদে বহাল থাকবেন।

    পদত্যাগ করেন ফিরহাদ হাকিম

    সম্প্রতি রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের জেরে বিভিন্ন পুরনিগম (Kolkata Municipal Corporation) ও পুরসভার কাউন্সিলররা পদত্যাগ করতে শুরু করেন, যার ফলে একের পর এক নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে যায়। সেই রাজনৈতিক ডামাডোলের আঁচ এসে পড়ে কলকাতা পুরনিগমেও। গত ৫ জুন কলকাতার মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করেন ফিরহাদ হাকিম। মেয়রের ইস্তফার পর বর্তমান বোর্ডের অস্তিত্ব ও বৈধতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দেখা দেয়।

    মেয়রের পদত্যাগের দিনই পুর দফতর থেকে একটি নির্দেশিকা জারি করে পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের (Smita Pandey) কাছে জানতে চাওয়া হয়— কেন বর্তমান বোর্ড ভেঙে দেওয়া হবে না? এই বিষয়ে জবাব দেওয়ার জন্য তাঁকে তিন দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়, এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন মেয়র নির্বাচনের জন্য কোনও আবেদন জমা না পড়লে বোর্ড বিলুপ্ত করে প্রশাসক নিয়োগ করা হবে।

    ১৯৮০-র ১১৭ ধারার উপধারা (১) প্রয়োগ

    সোমবার পুর কমিশনারের (Kolkata Municipal Commissioner) কাছে জানতে চাওয়া হয়, মেয়র নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও চিঠি বা প্রস্তাব তাঁর কাছে এসেছে কি না। জবাবে স্মিতা পাণ্ডে জানান, কোনও পক্ষ থেকেই এমন কোনও আবেদন তিনি পাননি। পাশাপাশি, সরকারের নির্দেশ অনুসারে তিনি যথাসময়ে তাঁর উত্তর জমা দিয়েছেন। এর পরেই সোমবার সন্ধ্যায় পুর বিষয়ক দফতরের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বোর্ড বিলুপ্তির চূড়ান্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়।

    সরকারি চিঠিতে জানানো হয়েছে, কলকাতা পুরনিগম আইন, ১৯৮০-র ১১৭ ধারার উপধারা (১) প্রয়োগ করে এই নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দেওয়া হলো। এর ফলে মেয়রের পাশাপাশি ‘মেয়র-ইন-কাউন্সিল’ এবং উক্ত আইনের অধীনে গঠিত পুরনিগমের সমস্ত কমিটি ও চেয়ারম্যান পদের অবলুপ্তি ঘটল। এখন থেকে পুর আইনের ১১৮ ধারার উপধারা (১)-এর দফা (খ) অনুযায়ী রাজ্য সরকার নিযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমেই পরিচালিত হবে পুরনিগমের সমস্ত কাজ।

    এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়াররাই তদারকি করবেন

    রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বর্তমানে এমআইসি (MIC)-রা পুরনিগমে আসছেন না। তবে এই পরিস্থিতিতে নাগরিক পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন নবনিযুক্ত প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে। তিনি জানান, উচ্চপদস্থ এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়াররাই মূলত সমস্ত প্রশাসনিক কাজ তদারকি করেন এবং আগামীদিনেও তাঁরা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবেন। এটি একটি সরকারি দফতরের নিয়ম মেনেই এখানে কাজ সচল রয়েছে।

    সামনে বর্ষাকাল হওয়ায় কলকাতা পুর-এলাকায় (Kolkata Municipal Corporation) জল জমার (ওয়াটার লগিং) দীর্ঘদিনের সমস্যা রয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী ১০ জুন উচ্চপদস্থ ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছেন প্রশাসক। তিনি জানান, শহরের নিকাশি নালাগুলি পরিষ্কারের ওপর এখন থেকেই বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে এবং যেখানেই সমস্যার খবর মিলছে, সেখানেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

  • Agnimitra Paul: ‘১৬ বোর্ডের টাকার হিসাব না দিলে রেহাই নেই’! পাহাড়ে ঘুরে কড়া বার্তা অগ্নিমিত্রার

    Agnimitra Paul: ‘১৬ বোর্ডের টাকার হিসাব না দিলে রেহাই নেই’! পাহাড়ে ঘুরে কড়া বার্তা অগ্নিমিত্রার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাহাড়ের উন্নয়ন প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে লেপচা, ভুটিয়া-সহ বিভিন্ন জনজাতির জন্য গঠিত ১৬টি উন্নয়ন বোর্ডের বিরুদ্ধে তদন্তের ঘোষণা করলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। একইসঙ্গে পাহাড়ের স্বশাসিত প্রশাসনিক সংস্থা জিটিএ (গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন)-কেও তদন্তের আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

    উত্তরবঙ্গ সফরের দ্বিতীয় দিনে সোমবার দার্জিলিং, মিরিক ও দুধিয়া এলাকা পরিদর্শনের সময় অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আগের সরকার পাহাড়ে বারবার এলেও প্রকৃত উন্নয়ন হয়নি। ১৬টি বোর্ডে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল। সেই অর্থ কীভাবে খরচ হয়েছে তার পূর্ণ হিসাব দিতে হবে। প্রতিটি বোর্ডের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। জিটিএ-ও কোনও ছাড় পাবে না।”

    পাহাড় চষে বেড়ালেন মন্ত্রী

    সোমবার সকালেই দার্জিলিংয়ের মহাকাল মন্দিরে পুজো দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু করেন অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা। এরপর পাহাড়ের একাধিক এলাকা ঘুরে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ খতিয়ে দেখেন মন্ত্রী। তিনি প্রথমে যান শহরের প্রধান পানীয় জলের উৎস সিনচেল এলাকায়। সেখানে চলমান জল প্রকল্পের অগ্রগতি, প্রযুক্তিগত সমস্যা এবং কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাব্য সময়সীমা নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পরে হ্যাপি ভ্যালির একটি আইসিডিএস কেন্দ্র পরিদর্শন করে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরিষেবার বাস্তব চিত্র সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

    মিরিককে আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরার পরিকল্পনা

    পরিদর্শনের পর মন্ত্রী মিরিক লেকে যান এবং পর্যটন সম্ভাবনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক পরিকল্পনার কথা জানান অগ্নিমিত্রা। তাঁর বক্তব্য, মিরিককে আরও আধুনিক ও আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তিনি জানান, মিরিক লেক সংলগ্ন পার্ক ও পর্যটন অবকাঠামোকে নতুনভাবে সাজানো হবে। পর্যটকদের সুবিধার জন্য ওয়াই-ফাই পরিষেবা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। পরে ইন্দো-নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন পশুপতিনাথ মন্দিরেও যান মন্ত্রী।

    দুধিয়া সেতুর কাজ শেষ হবে ২০২৭ সালের মধ্যে

    দিনের শেষ কর্মসূচি ছিল দুধিয়া এলাকায়। সেখানে গত বছরের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর বর্তমান অবস্থা পরিদর্শন করেন অগ্নিমিত্রা। সেতুটি এখনও সম্পূর্ণ না হওয়ায় স্থানীয়দের ভোগান্তির বিষয়টিও খতিয়ে দেখেন তিনি। মন্ত্রী জানান, “দুধিয়া সেতুর নির্মাণকাজ ২০২৭ সালের মধ্যেই শেষ করা হবে। আমাদের সরকার উন্নয়ন করতে এসেছে, শুধুমাত্র সফর করতে নয়।” একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, গত বর্ষায় যাঁদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তাঁদের জন্য আগের সরকার প্রতিশ্রুত ক্ষতিপূরণের সম্পূর্ণ অর্থ দেয়নি। অবশিষ্ট অর্থ দ্রুত প্রদান করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

    ‘হিমালয়ান হিল সিটি’ গঠনের ঘোষণা

    এর আগে রবিবার উত্তরকন্যায় অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন, সাংসদ রাজু বিস্তা, জয়ন্ত রায়-সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার জনপ্রতিনিধি, জেলাশাসক ও পুলিশ আধিকারিকরা। বৈঠকের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘোষণা ছিল ‘হিমালয়ান হিল সিটি’ প্রকল্প। শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, কার্শিয়াং, কালিম্পং এবং মিরিক— এই পাঁচটি শহরকে একত্রে পরিকল্পিত উন্নয়নের আওতায় আনা হবে। রাজ্য সরকারের দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে পর্যটন, পানীয় জল, পরিবহণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নগর পরিকাঠামো এবং নাগরিক পরিষেবার ব্যাপক আধুনিকীকরণ করা হবে। প্রতিটি বাড়িতে কিউআর কোড সংযুক্তকরণ, সরকারি জমিতে আবাসন নির্মাণ এবং আধুনিক জনশৌচাগার তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

    নারী ও শিশু পাচার রোধে বিশেষ টাস্ক ফোর্স

    সীমান্তবর্তী উত্তরবঙ্গে নারী ও শিশু পাচার দীর্ঘদিনের সমস্যা। সেই প্রেক্ষিতে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের ঘোষণা করেছে।
    প্রশাসন, পুলিশ এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিকে নিয়ে একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হবে। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ, কিশোরী গর্ভধারণ এবং মানবপাচার রোধে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিযায়ী শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

    পরিচ্ছন্নতা ও প্লাস্টিক বিরোধী কঠোর অভিযান

    শহরাঞ্চলে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে ১ সেপ্টেম্বর থেকে উন্মুক্ত স্থানে আবর্জনা ফেলা এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহারের উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি হবে। নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের জরিমানা ধার্য করা হবে। পাশাপাশি যত্রতত্র থুতু ফেলা, অবৈধ পার্কিং এবং রাস্তা দখলের বিরুদ্ধেও কঠোর আইন প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী আরও জানান, ১ জুলাই থেকে পার্কিং ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অটোমেটেড করা হবে। নির্মল বন্ধু কর্মীদের উপস্থিতিও বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হবে।

    মাদকচক্র ও বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান

    উত্তরবঙ্গ জুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গাঁজা, ব্রাউন সুগার এবং অন্যান্য মাদক চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনের জন্য পৃথক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। বেআইনি নির্মাণ এবং সরকারি জমি দখলের অভিযোগ তদন্তে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি বেআইনি মাদ্রাসাগুলির উপর নজরদারি এবং তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈধ মাদ্রাসাগুলির ক্ষেত্রেও শিক্ষা ও পরিকাঠামোর মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

    ধর্মীয় পর্যটন ও ক্ষুদ্র শিল্পে জোর

    উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরগুলির তালিকা আগামী ২০ জুনের মধ্যে প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব মন্দিরে সারা বছর বিপুল সংখ্যক ভক্ত সমাগম হয়, সেই এলাকাগুলিকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় পর্যটন এবং সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও মন্দিরকেন্দ্রিক ধূপকাঠি শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

    রাজনৈতিক জল্পনা

    উল্লেখযোগ্যভাবে, উত্তরকন্যার গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না রাজ্যের মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। যদিও তিনি সেদিন শিলিগুড়িতেই ছিলেন বলে জানা যায়। তাঁর অনুপস্থিতিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার জলপাইগুড়িতে প্রশাসনিক বৈঠক করার সম্ভাবনা রয়েছে অগ্নিমিত্রা পালের। সেখানে উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন সংক্রান্ত আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।

LinkedIn
Share