Blog

  • Nepal Flood: নেপালের বন্যায় মৃত্যু ১১০০ পার, এবার হিমালয়জুড়ে নতুন বিপদের আশঙ্কা! পঞ্চম বিমান পাঠাল ভারত

    Nepal Flood: নেপালের বন্যায় মৃত্যু ১১০০ পার, এবার হিমালয়জুড়ে নতুন বিপদের আশঙ্কা! পঞ্চম বিমান পাঠাল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালের ভয়াবহ ভোটেকোশি বন্যায় মৃত্যুমিছিল আরও দীর্ঘ হচ্ছে। বুধবার পর্যন্ত নেপাল পুলিশের হিসাব অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১১২৭। নিখোঁজ প্রায় ৪ হাজার। ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের পর শুধু নেপাল নয়, গোটা হিমালয়জুড়ে বাড়ছে হিমবাহ-উদ্ভূত বন্যা বা গ্লেসিয়াল ফ্লাডের আশঙ্কা। বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সতর্কবার্তা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে হিমালয়ের হিমবাহ ও হিমবাহ-সংলগ্ন হ্রদগুলির অস্থিতিশীলতা ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

    ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ১৬ লক্ষ!

    প্রায় ১৬ লক্ষ মানুষ নেপালের ভয়াবহ ভোটেকোশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে প্রাথমিক পরিস্থিতি রিপোর্টে জানানো হয়েছে। নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিং, চিতওয়ান, গোরখা, তানাহুন, নাওয়ালপরাসি ইস্ট ও নাওয়ালপরাসি ওয়েস্ট-সহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এমনকী ভারতের মাটিতেও ৯টি দেহ উদ্ধারের খবর মিলেছে। উদ্ধার হওয়া দেহগুলির মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র ৯৫টি দেহ শনাক্ত করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ফলে নিখোঁজদের সন্ধান এবং মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করা—দুই ক্ষেত্রেই বড় চ্যালেঞ্জের মুখে নেপাল প্রশাসন।

    হিমালয়জুড়ে বাড়ছে হিমবাহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

    নেপালের সাম্প্রতিক বিপর্যয় নতুন করে সামনে এনেছে হিমালয়ের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশের ঝুঁকি। রাষ্ট্রপুঞ্জের এক শীর্ষ আধিকারিক সতর্ক করেছেন, হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ হিমবাহ-উদ্ভূত বন্যার ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। এই ধরনের বিপর্যয়ের সম্ভাব্য শিকার হতে পারেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। ২০২০ সালে গবেষকরা নেপাল, চিন ও ভারতের হিমালয় অঞ্চলে ৪৭টি সম্ভাব্য বিপজ্জনক হিমবাহ-হ্রদ চিহ্নিত করেছিলেন। তবে বর্তমানে সেই সংখ্যা আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    হিমবাহ গলে তৈরি হওয়া জলাধার বা হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ জল নেমে আসতে পারে নিচের উপত্যকায়। এর ফলে নদীর জলস্তর দ্রুত বেড়ে গিয়ে ভেসে যেতে পারে সেতু, রাস্তা, বসতি এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতের বড় হিমবাহ-উদ্ভূত বন্যা নেপালের জলবিদ্যুৎ পরিকাঠামোকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং নদীর তীরবর্তী বহু বসতিকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলতে পারে।

    চিনেও নতুন বিপদের সতর্কতা

    এদিকে চিনের তিব্বত অঞ্চলেও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ছোচেন নদীর ক্রেটার সংলগ্ন বরফের গঠনগুলি এখনও ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে চিনা কর্তৃপক্ষ। সেগুলি ভেঙে গেলে ফের বড় ধরনের জলপ্রবাহ বা বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    তবে জিরং বন্দরের কাছে ভূমিধসের জেরে তৈরি হওয়া একটি ব্যারিয়ার লেক আপাতত স্বাভাবিকভাবে জল ছাড়ছে বলে খবর। বাধার বড় অংশ সরে যাওয়ায় হ্রদটির জলস্তর ও আয়তন কমেছে। শনিবার সকালে এর জলাধারের পৃষ্ঠের আয়তন প্রায় ৯৯ হাজার বর্গমিটার-এ নেমে এসেছে বলে জানা গিয়েছে।

    নেপাল থেকে বন্যার জল নেমে আসার পর ভারতের বিহারেও সতর্কতা জারি হয়েছে। বন্যার জলের সঙ্গে অচেনা প্রজাতির মাছ ভেসে আসায় প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

    বিপর্যস্ত নেপালের বিদ্যুৎ পরিকাঠামো

    বন্যার ধাক্কা পড়েছে নেপালের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থাতেও। প্রায় ৪৩১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এর ফলে নেপালের জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিদ্যুৎ রফতানিতেও প্রভাব পড়তে পারে। একইসঙ্গে বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় এখনও বহু মানুষ আটকে রয়েছেন। প্রায় ৩০০ জন শ্রমিককে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে জানা গিয়েছে। পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং নতুন করে বন্যা বা ভূমিধসের আশঙ্কার কারণে উদ্ধার অভিযান আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

    ১০০ কোটি নেপালি টাকা ত্রাণে

    বিপর্যয় মোকাবিলায় নেপাল সরকার ১০০ কোটি নেপালি টাকা ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য বরাদ্দ করেছে। নিখোঁজ ও মৃতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজও চলছে। এই কাজে নেপালকে সাহায্য করছে ভারতের একটি ১৯ সদস্যের ফরেনসিক দল। ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা নেপালি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় করে ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করছেন। বিপুল সংখ্যক দেহ শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

    নেপালে পঞ্চম বিমান পাঠাল ভারত

    এদিকে, নেপালের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা আরও বাড়িয়েছে ভারত। বুধবার নেপালের উদ্দেশে পঞ্চম বিমান পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। এই বিমানে রয়েছে ১১ সদস্যের বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল, উদ্ধারকাজে ব্যবহারের জন্য বিশেষ সরঞ্জাম এবং ৫.৫ টন অত্যাবশ্যক ওষুধ। জয়শঙ্কর জানান, নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা মোকাবিলায় চলমান উদ্ধার ও ত্রাণ অভিযানে এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

    এর আগে ভারত নেপালে ৬৮ টনেরও বেশি জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কম্বল, স্লিপিং ব্যাগ, ভারী ত্রিপল, প্লাস্টিক শিট, স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রী, ওষুধ, খাবারের প্যাকেট, সৌরবিদ্যুৎচালিত বাতি, জল পরিশোধন ট্যাবলেট এবং পোর্টেবল জেনারেটর। এখনও পর্যন্ত ১৬৩ জন ভারতীয়কে নেপাল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    ভারতের নদীতেও মিলছে বন্যার শিকারদের দেহ

    নেপালের বন্যার ভয়াবহতার প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের নদীগুলিতেও দেখা যাচ্ছে। উত্তরপ্রদেশের গণ্ডক নদী থেকে উদ্ধার করা পাঁচ নেপালি বন্যার্তের দেহ নেপাল পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে প্রায় ৭৫ জন মার্কিন নাগরিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এই বিপর্যয়ের প্রভাব ছড়িয়েছে।

    শুধু নেপালের বিপর্যয় নয়, হিমালয়ের জন্য বড় সতর্কবার্তা

    নেপালের বর্তমান পরিস্থিতি তাই শুধুমাত্র একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটা ধরা পড়বে না। হিমবাহের দ্রুত পরিবর্তন, হিমবাহ-হ্রদের জল বৃদ্ধি, বরফ ও পাথরের স্তরের অস্থিতিশীলতা এবং পাহাড়ি নদীগুলির আকস্মিক জলপ্রবাহ—সব মিলিয়ে হিমালয় অঞ্চলে নতুন ধরনের জলবায়ুজনিত ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

    বিশেষ করে ভারত, নেপাল, ভুটান ও চিনের বিস্তীর্ণ হিমালয় অঞ্চলজুড়ে নদীর অববাহিকায় বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা বিপুল। ফলে একটি হিমবাহ-হ্রদের বাঁধ ভেঙে গেলে তার প্রভাব কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে বহু দূরে পৌঁছে যেতে পারে।

    নেপালের সাম্প্রতিক বিপর্যয় সেই সম্ভাব্য ভবিষ্যতেরই একটি ভয়াবহ ছবি দেখাল। এখন নজর তাই শুধু উদ্ধার ও পুনর্বাসনে নয়—হিমবাহ পর্যবেক্ষণ, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং হিমালয়জুড়ে আন্তঃদেশীয় দুর্যোগ মোকাবিলার পরিকাঠামো কত দ্রুত শক্তিশালী করা যায়, সেদিকেও।

  • Municipal Election: পুজোর পরই রাজ্যে পুরভোট, প্রথম পর্যায়ে কোন পুরসভাগুলিতে নির্বাচনের সম্ভাবনা?

    Municipal Election: পুজোর পরই রাজ্যে পুরভোট, প্রথম পর্যায়ে কোন পুরসভাগুলিতে নির্বাচনের সম্ভাবনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুজোর পরেই রাজ্যে ফের ভোট (Municipal Election)। রাজ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই হতে চলেছে কলকাতা, হাওড়া-সহ অন্যান্য পুরসভাগুলোর ভোট (State Election Commission)। পুরভোটের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে আজ, বুধবার সমস্ত জেলা শাসকের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণ গুপ্ত। প্রথম পর্যায়ে পুরভোট হবে কলকাতা, হাওড়া, বালি, হলদিয়া, ঝাড়গ্রাম, ধূপগুড়ি, কার্শিয়ং আর কালিম্পং পুরসভায়। রাজ্য় নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পাঠানো ইভিএম-এই হবে পুরভোট। পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে হান্ড্রেড পার্সেন্ট ওয়েব কাস্টিংয়ের।

    পালাবদলের পর প্রথমবার ভোট রাজ্য়ে

    বিধানসভা ভোটে পালাবদলের পর প্রথমবার কোনও ভোট হতে চলেছে রাজ্য়ে। অর্থাৎ শক্তি পরীক্ষায় নামবে সব দল। রাজ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে নভেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই হতে চলেছে কলকাতা, হাওড়া-সহ একাধিক পুরসভার ভোট। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আগামী ৬ মাস অর্থাৎ ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচিত কর্পোরেশনের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়াই আমাদের কাজ। ওয়ার্ড পুর্নবিন্য়াসের ফলে এবার একাধিক পুরসভায় বেশি আসনে ভোট হবে। অর্থাৎ লড়াই আরও টানটান।

    প্রথম পর্যায়ে কোন পুরসভাগুলিতে ভোটের সম্ভাবনা

    রাজ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, প্রথম পর্যায়ে পুরভোট হতে পারে,কলকাতা, হাওড়া, বালি, হলদিয়া, ঝাড়গ্রাম, ধূপগুড়ি, কার্শিয়ং, কালিম্পং পুরসভায়। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট হবে। রেজাল্ট বেরনো সমেত পুরো ভোট পক্রিয়া হয়ে যাবে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহের মধ্য়ে। ১ জুলাই প্রকাশিত ইলেক্টোরাল রোল অনুযায়ী পুরভোট হবে বলে কমিশন সূত্রে খবর। পুজোর পর ভোট উৎসবের কোনও খামতি রাখতে চাইছে না কমিশন। প্রস্তুতি শুরু করতে বুধবার রাজ্যের পুরসভা এবং পুরনিগম নির্বাচন নিয়ে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির জেলাশাসকদের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক করতে চলেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। যেখানে নির্বাচন হবে সেখানে এই মুহূর্তে কী পরিস্থিতি রয়েছে? ইভিএম থেকে শুরু করে সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনের এই বৈঠক বলেই সূত্রের খবর। অন্যদিকে ইভিএম-সহ বেশ কয়েকটি বিষয় নিয়ে দ্রুত শুনানি চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন জানানো হয়েছে।

    ওয়ার্ড বিন্যাসের ভিত্তিতেই ভোট

    বহু পুরসভার নির্বাচনের পাশাপাশি আসন্ন পুরভোটের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার নির্বাচনকে ঘিরে। কারণ, দুই পুর এলাকারই প্রশাসনিক মানচিত্রে বড়সড় পরিবর্তন হয়েছে। ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের পর কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে হয়েছে ২০৯। অর্থাৎ, আগের তুলনায় ৬৫টি নতুন ওয়ার্ড যুক্ত হয়েছে। অন্য দিকে, হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৬৮ করা হয়েছে। অর্থাৎ সেখানে বেড়েছে ১৮টি ওয়ার্ড। ফলে দুই পুর এলাকার আসন্ন নির্বাচন এবার নতুন ওয়ার্ড বিন্যাসের ভিত্তিতেই হওয়ার কথা। ওয়ার্ড সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ভোটারদের বিন্যাস, নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে কলকাতার ক্ষেত্রে পুরসভার নির্বাচনী মানচিত্রে এই পুনর্বিন্যাসকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

    পর্যাপ্ত ইভিএমের অভাব

    ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের ফলে ভোট গ্রহণ কেন্দ্র বাড়বে। কিন্তু পর্যাপ্ত ইভিএমের অভাব রয়েছে। তাই আগেভাগে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে কমিশন। মঙ্গলবার সেই মামলার জরুরি শুনানির আবেদন করা হয়েছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে৷ আগামী সপ্তাহে মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। কমিশনের দাবি, হাইকোর্টে একাধিক ইলেকশন পিটিশন সংক্রান্ত মামলা বিচারাধীন রয়েছে। সেই সমস্ত মামলায় নির্বাচন কমিশনকে বিভিন্ন কেন্দ্রের ইভিএম মেশিন, ভিভিপ্যাট-সহ অন্যান্য সামগ্রী সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ফলে ইভিএমের অভাবে পুরনির্বাচন ঘোষণা করতে দেরি হয়ে যেতে পারে।

    ত্রিস্তরীয় ফর্মুলায় পুরভোটে বিজেপির ছক

    ত্রিস্তরীয় ফর্মুলা মেনেই কলকাতা পুরসভা (কেএমসি) দখলের লক্ষ্যে ঝাঁপাবে বিজেপি— মঙ্গলবার স্পষ্ট করে দিলেন কেএমসি নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, বঙ্গ বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। তিন মাস আগে যে ভাবে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তত্ত্বাবধানে কাজ করে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে জয় ছিনিয়ে নিয়ে এসেছিল বিজেপির প্রদেশ শাখা, ঠিক সেই ভাবেই এ বারও কলকাতা পুরভোটের আগে কাজ শুরু করে দিয়েছে দল, জানান কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত। তাঁর দাবি, ‘আমাদের দলের একটা নির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে ৷ সেই পদ্ধতি অনুসারে আমরা পর পর কাজ করে যাচ্ছি৷ বিজেপির নিয়ম নীতি মেনে প্রথমে কিছু সাংগঠনিক কাজ করা হচ্ছে। তার পরে রাজনৈতিক কিছু কাজ করব। তৃতীয় তথা শেষ পর্যায়ে নির্বাচনে বা ভোটে লড়াই করার মূল কাজের দিকে যাব। ইতিমধ্যেই দফায় দফায় বৈঠক শুরু হয়ে গিয়েছে৷’

    বিজেপির তৃণমূলীকরণ হবে না

    সুকান্তের স্পষ্ট বার্তা, ‘কোনও ভাবেই বিজেপির তৃণমূলীকরণ হবে না। বিজেপি বিজেপিই থাকবে৷’ পুরভোটের আগে বিজেপির তরফে সংকল্প পত্রও প্রকাশ করা হবে যেখানে আগামীর রূপরেখা সবিস্তারে উল্লেখ করা হবে। এই মর্মেই কেএমসি ভোটের ইনচার্জ সুকান্তর দাবি, তৃণমূল সরকারের কার্যকালে যে সব দুর্নীতি হয়েছে, সেগুলি তুলে ধরে একটি চার্জশিটও পেশ করবে রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল। প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র সুমন রায়চৌধুরী বলেন, আগামী পুরসভা নির্বাচনে জাতীয় কংগ্রেস অভাবনীয় ফলাফল করবে।

  • Suvendu Adhikari on Dengue: ‘গেল গেল রব তুলবেন না’, ডেঙ্গি মোকাবিলায়  স্বচ্ছতার বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari on Dengue: ‘গেল গেল রব তুলবেন না’, ডেঙ্গি মোকাবিলায় স্বচ্ছতার বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুজোর মুখে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে থাবা বসিয়েছে ডেঙ্গি। ঘরে ঘরে বাড়ছে জ্বরের প্রকোপ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কড়া পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। তবে এবার রোগের দাপট গতবারের ৫০ শতাংশ বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari on Dengue)। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যভবনে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, ‘গতবারের তুলনায় এবার ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা অর্ধেকেরও কম। হ‌ই হ‌ই, গেল গেল রব তোলার কোন‌ও কারণ নেই’। ডেঙ্গি তো বটেই, মশাবাহিত রোগ আতঙ্ক না ছড়ানো আবেদন জানিয়েছেন তিনি। সূত্রের খবর, দক্ষিণবঙ্গের পাঁচ জেলায় ডেঙ্গি আক্রান্ত ২ হাজার, কলকাতা ৩৫০।

    কেন বাড়ছে ডেঙ্গির প্রকোপ

    মঙ্গলবার স্বাস্থ্যভবনে আধিকারিকদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিনের বৈঠকে তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, ডেঙ্গি নিয়ে কোনও তথ্য গোপন করা যাবে না। চিকিৎসকদের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর অভয়বাণী, “ডেঙ্গি হলে লুকোবেন না।” অর্থাৎ, জ্বরের কারণ ডেঙ্গি হলে চিকিৎসকরা যেন নির্ভয়ে তা রিপোর্টে উল্লেখ করেন সেই বার্তা দিয়েছেন বাংলার প্রশাসনিক প্রধান। সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে এসেও রাজ্যে বৃষ্টির বিরাম নেই। আবহাওয়ার এই লাগাতার খামখেয়ালিপনার জেরেই ডেঙ্গি-সহ অন্য সংক্রমণ দ্রুত ছড়াচ্ছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কলকাতা পুরসভা এবং আশপাশের পুসসভাগুলিতে ডেঙ্গি মোকাবিলার কাজ ঠিক ভাবে হচ্ছে না। বলেন, ‘যে পুরসভায় চেয়ারম্যানেরা রয়েছেন, তাঁরা কাজ করছেন না। কর্মরত ডব্লিউবিসিএস অফিসারদের আমরা এগজিকিউটিভ অফিসার করব’। এদিন স্বাস্থ্য়ভবনে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, প্রতিমন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকারও। ডাকা হয়েছিল কলকাতা, হাওড়া পুরসভার পুর কমিশনার এবং ২১টি পুরসভার নির্বাহী আধিকারিকদের ডাকা হয়েছিল। আমন্ত্রিত ছিলেন, পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর, পরিবহণ, সেচ দফতরের সচিব, রেলের আধিকারিকেরাও।

    নভেম্বর পর্যন্ত নজরদারি

    চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গির এই মরশুম সাধারণত দুর্গাপুজোর পর পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হয়। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে নজরদারিতে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী এ দিনের বৈঠকে জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বর মাস পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে কড়া নজরদারি চলবে। স্বাস্থ্যভবনের তথ্য অনুযায়ী, সংক্রমণের নিরিখে কলকাতার চেয়ে বেশি চিন্তায় রাখছে জেলাগুলি। এখন পর্যন্ত কলকাতার মোট ১২টি ওয়ার্ডে ডেঙ্গি আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে। তবে মহানগরের ৬১টি ওয়ার্ড এখনও পুরোপুরি ডেঙ্গি মুক্ত়। রাজ্যের অন্য জেলার মধ্যে মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা সব থেকে বেশি। স্বাস্থ্যভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত রাজ্যে মোট ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় চার হাজার। তবে এই মুহূর্তে রাজ্যে সক্রিয় ডেঙ্গি রোগীর সংখ্যা মাত্র ১৪৮ জন। প্রশাসন জানিয়েছে, জ্বর হলে আর অযথা ফেলে রাখা উচিত নয়। সরকারি উদ্যোগে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ডেঙ্গির পরীক্ষা করা যাচ্ছে।

  • Typhoid Cases Rise: একটানা বৃষ্টিতে এবার টাইফয়েডের চোখরাঙানি! কলকাতা-সহ ৫ জেলায় উদ্বেগ, বেশি ঝুঁকিতে শিশুরা, সতর্কবার্তা স্বাস্থ্য দফতরের

    Typhoid Cases Rise: একটানা বৃষ্টিতে এবার টাইফয়েডের চোখরাঙানি! কলকাতা-সহ ৫ জেলায় উদ্বেগ, বেশি ঝুঁকিতে শিশুরা, সতর্কবার্তা স্বাস্থ্য দফতরের

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বৃষ্টির দাপট অব্যাহত! উত্তর থেকে দক্ষিণ একটানা বৃষ্টি চলছে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, পশ্চিম বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোর পাশাপাশি দার্জিলিং, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার সহ উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতেও একনাগাড়ে বৃষ্টি চলছে। এই পরিস্থিতিতে টাইফয়েডের দাপট বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলেই জনস্বাস্থ্যে বড় সঙ্কট তৈরি হতে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কোথায় টাইফয়েডের দাপট বাড়ছে?

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা, হাওড়া, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলোতে গত এক মাসে টাইফয়েড আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। আক্রান্তের তালিকায় শিশুদের সংখ্যা বেশি। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে প্রশাসন বাড়তি সক্রিয়। এক স্বাস্থ্য কর্তা জানান, আগষ্ট মাসে রাজ্যে ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার দাপট বেড়েছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে টাইফয়েড। আর এই রোগে সবচেয়ে বেশি শিশুরাই আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার পাশাপাশি টাইফয়েড রুখতেও প্রশাসন বাড়তি সতর্ক ও সক্রিয় থাকছে।

    কী বলছে আইসিএমআর?

    দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্‌থ ও ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর) সমীক্ষা বলছে, গত কয়েক বছরে দেশ জুড়ে টাইফয়েডের দাপট অব্যাহত। গত বছরেও দেশে ৪৭ হাজার মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তারমধ্যে সাড়ে সাত হাজার মানুষ এই রোগে মারা যান। তাই টাইফয়েড নিয়ে সচেতনতা জরুরি। দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা প্রয়োজন। তবেই বড় বিপদ আটকানো যাবে।

    কেন টাইফয়েডের দাপট বাড়ছে?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়া নামে এক ব্যাকটেরিয়ার জেরেই টাইফয়েড হয়। এই ব্যাকটেরিয়া বারবার প্রকৃতি বদল করছে। এর ফলে আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে যাচ্ছে। আবার চিকিৎসা করাও বেশ কঠিন হয়ে উঠছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বর্ষার মরশুমে এই ধরনের ব্যাকটেরিয়া বেশি সক্রিয় হয়ে যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, বৃষ্টির জল জমে আবার নিকাশি ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত কাজ করে না। সব মিলিয়ে চারপাশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। আর তার জেরেই টাইফয়েড রোগের প্রকোপ বাড়ছে। টাইফয়েড মূলত জলবাহিত অসুখ। অপরিচ্ছন্ন জল থেকেই এই রোগ শরীরে বাসা বাঁধছে। তারপরে জটিল রোগ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

    কী কী দাওয়াই স্বাস্থ্য দফতরের ?

    স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, টাইফয়েড রুখতে রাজ্য জুড়ে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বর্ষার মরশুমে এ রাজ্যে টাইফয়েডের প্রকোপ বাড়ে। কিন্তু পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাই রাজ্য জুড়ে সচেতনতা কর্মসূচি নেওয়া হবে।

    জনসচেতনতায় বাড়তি গুরুত্ব!

    স্বাস্থ্য কর্তারা জানাচ্ছেন, টাইফয়েডের মতো রোগ রুখতে জনসচেতনতা খুবই জরুরি।‌ পচা ও বাসি খাবার, অপরিশ্রুত জল থেকেই টাইফয়েডের ব্যাকটেরিয়া সক্রিয় হয়। তাই এই মরশুমে খাবার ও জল নিয়ে বাড়তি সচেতনতা প্রয়োজন। প্রত্যেক এলাকায় এই নিয়ে সচেতনতা চালাবেন স্বাস্থ্য কর্মীরা। শিশুদের খাওয়ার আগে হাত পরিষ্কার করা, পরিশ্রুত জল খাওয়ার দিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রয়োজনে জল ফুটিয়ে খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হবে। খাবারের পাশপাশি শৌচালয়ের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও সচেতনতা চলবে। শৌচালয় থেকে একাধিক সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই বাড়ির শৌচালয় যাতে নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়, সে নিয়েও প্রচার কর্মসূচি চলবে। টাইফয়েডের ব্যাকটেরিয়ার দাপট কমানো যায়।

    এলাকা পরিচ্ছন্নতায় বাড়তি নজরদারি!

    বর্ষার মরশুমে যেকোনো রোগ প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার এলাকার পরিচ্ছন্নতা। স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা জানান, ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ হোক কিংবা টাইফয়েডের মতো ব্যাকটেরিয়া ঘটিত অসুখ, যেকোনো রোগের নেপথ্যে থাকছে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ‌। তাই পরিবেশের পরিচ্ছন্নতার দিকে বাড়তি নজর দেওয়া হচ্ছে। পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের সঙ্গে একযোগে সমন্বয় রেখে স্বাস্থ্য দফতর এই কাজ চালিয়ে যাবে। যাতে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের জন্য সংক্রমণের দাপট না বাড়ে, সে দিকে বাড়তি নজরদারি থাকবে।

    স্কুল স্তর থেকেই স্বাস্থ্য বিধি নিয়ে সচেতনতা!

    স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুলস্তর থেকেই এবার স্বাস্থ্য বিধি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে। একাধিক কর্মশালার আয়োজন করা হবে। শৌচালয়ে ঠিকমতো জলের ব্যবহার, খাওয়ার আগে ও পরে হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা, স্বাস্থ্যবিধির নানান দিক সম্পর্কে শিশুরা অবগত হলে টাইফয়েডের দাপট কমানো সহজ হবে‌ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় বাড়তি গুরুত্ব!

    টাইফয়েডে বড় বিপদ রুখতে দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা করানোয় বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে স্বাস্থ্য দফতর।‌ স্বাস্থ্য কর্তারা জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই আক্রান্ত দেরিতে হাসপাতালে পৌঁছয়। ফলে পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হয়ে যায়। তাই টানা তিন‌দিন জ্বর হলেই চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। রোগ নির্ণয় করে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে হবে। রোগীর হয়রানি কমাতে সমস্ত হাসপাতালের মধ্যে সমন্বয়ে আরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

  • Pakistan: পাকিস্তানে শতাব্দীপ্রাচীন হিন্দু মন্দির ভাঙার অভিযোগ, কাঠগড়ায় উগ্রপন্থী, প্রশাসন

    Pakistan: পাকিস্তানে শতাব্দীপ্রাচীন হিন্দু মন্দির ভাঙার অভিযোগ, কাঠগড়ায় উগ্রপন্থী, প্রশাসন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) পাঞ্জাব প্রদেশের নারোয়াল জেলার সিরাজ গ্রামে শতাব্দীপ্রাচীন হিন্দু মন্দির ভেঙে ফেলার অভিযোগকে ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, ২১ অগাস্ট ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের একটি দল মন্দিরটি ভেঙে গুঁড়িয়ে (Hindu Temple Demolished) দেয়। সেই সময় স্থানীয় রাজস্ব দফতরের আধিকারিকদের একাংশ ঘটনাটি বন্ধ করার পরিবর্তে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন বলেও অভিযোগ করেছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার পর মন্দিরটি প্রবল বৃষ্টির কারণে নিজে থেকেই ভেঙে পড়েছে বলে দাবি স্থানীয় রাজস্ব আধিকারিকদের কয়েকজন। যদিও সেই দাবি পত্রপাট খারিজ করে দিয়েছেন স্থানীয় মানুষ, সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষাকারী সংগঠন এবং একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা। তাঁদের দাবি, মন্দিরটির কাঠামো যথেষ্ট মজবুত ছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে আবহাওয়ার নানা প্রতিকূলতা সহ্য করেও সেটি দাঁড়িয়ে ছিল। মন্দিরের চূড়াও অক্ষত অবস্থায় স্পষ্টভাবে দেখা যেত।

    জমি দখলের কারণেই ভাঙা হল মন্দির! (Pakistan)

    অভিযোগ, মন্দিরটি ভেঙে ফেলার পিছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল তার জমি দখল করা। প্রায় এক হাজার বর্গমিটার জমির উপর অবস্থিত এই মন্দিরের জমি পাশের একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ১০০ থেকে ১২৫ বছরের পুরনো এই মন্দিরটি ছিল লাহোর থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে।

    ঘটনার সঙ্গে নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্র ইসলামপন্থী সংগঠন তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তানের সদস্যদের যোগ থাকার অভিযোগও সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্র এবং সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির দাবি, ২১ অগাস্ট একদল উগ্রপন্থী মন্দির চত্বরে পৌঁছে সেটি ভেঙে ফেলে। তাঁদের হাতে বিল্ডিং ভাঙার সরঞ্জাম এবং অন্যান্য উপকরণ ছিল বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। অথচ মন্দির ভাঙার সময় পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার পক্ষ থেকে কোনও কার্যকর হস্তক্ষেপ করা হয়নি বলে অভিযোগ।

    এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, মন্দিরটির সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা রাজস্ব দফতরের আধিকারিকরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কিংবা পুলিশের নজরে না এনে বৃষ্টির কারণে মন্দিরটি ধসে পড়েছে বলে দাবি করেন। অথচ ওই সময় ভারী বৃষ্টির কারণে আশপাশের অন্য কোনও ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। এলাকা জলমগ্ন হয়ে যাওয়া, নিকাশি ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা এমন কোনও পরিস্থিতিরও খবর নেই, যার ফলে মন্দিরের মতো একটি পুরনো অথচ শক্তপোক্ত কাঠামো সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে পারে (Hindu Temple Demolished)।

    দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

    পাকিস্তান মসীহা মিল্লাত পার্টি এই ঘটনায় পাঞ্জাব সরকারের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। দলের চেয়ারম্যান আসলাম পারভেজ সাহোত্রা জানিয়েছেন, তিনি গত ২৮ অগাস্ট পাঞ্জাবের অতিরিক্ত স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে দেখা করে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। সেখানে মন্দির ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মন্দিরটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে মন্দির রক্ষায় ব্যর্থ হওয়া সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করার আবেদন জানানো হয়েছে।

    সাহোত্রার অভিযোগ, মন্দির ভেঙে ফেলার পর তার চূড়ার পিতলের ধাতব অংশ, অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী এবং ইটও ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এর উদ্দেশ্য ছিল মন্দিরটির অস্তিত্বের যতটা সম্ভব চিহ্ন মুছে ফেলা।

    তিনি আরও জানান, মন্দিরের লাগোয়া জমি অতীতে পাকিস্তানের পরিত্যক্ত সম্পত্তি ট্রাস্ট বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বছরের পর বছর ইজারার অর্থ পরিশোধ না করা এবং নির্ধারিত উদ্দেশ্যে জমি ব্যবহার না করার অভিযোগে পরে সেই ইজারা বাতিল করা হয়। এরপর সম্পত্তিটির বিভিন্ন অংশে একাধিক ব্যক্তি বেআইনিভাবে দখল করে বসেন বলে অভিযোগ।

    কী বলছে রাজস্ব দফতরের প্রতিবেদন

    সাহোত্রা রাজস্ব দফতরের একটি প্রতিবেদনের কথাও (Pakistan) উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, ওই প্রতিবেদনে মন্দিরের আবাসিক অংশ এবং সম্পত্তির অন্যান্য অংশে বেআইনি দখলদার হিসেবে বেশ কয়েকজনের নাম চিহ্নিত করা হয়েছিল। তিনি আরও জানান, ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি শিয়ালকোটের পরিত্যক্ত সম্পত্তি ট্রাস্ট বোর্ডের উপ-প্রশাসক একটি নির্দেশ জারি করে ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইজারার অধিকার বাতিল করেন। একই সঙ্গে বেআইনি দখলদারদের উচ্ছেদ এবং সম্পত্তিটি সিল করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই নির্দেশ বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন সাহোত্রা।

    হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা রতন লালও মন্দির ধ্বংসের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, জেলা প্রশাসন এবং পরিত্যক্ত সম্পত্তি ট্রাস্ট বোর্ড মন্দির ও তার জমি রক্ষায় যথেষ্ট পদক্ষেপ করেনি। বেআইনি দখলদারদের সরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এর ফলেই শেষ পর্যন্ত এক শতাব্দীরও বেশি পুরানো ধর্মীয় কাঠামোটি ধ্বংসের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তাঁর দাবি (Hindu Temple Demolished)।

    রতন লাল বলেন, “জেলা প্রশাসন এবং পরিত্যক্ত সম্পত্তি ট্রাস্ট বোর্ড মন্দিরের স্থানটি রক্ষা করতে কিংবা সেখানে থাকা বেআইনি দখলদারদের সরিয়ে দিতে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তাদের ব্যর্থতার সুযোগেই মন্দিরটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করতে হবে।”

    পরিত্যক্ত সম্পত্তি ট্রাস্ট বোর্ডের বক্তব্য

    অন্যদিকে পরিত্যক্ত সম্পত্তি ট্রাস্ট বোর্ডের এক প্রবীণ আধিকারিক রানা ইফতিখারের দাবি, মন্দিরটি প্রবল বৃষ্টির কারণেই ভেঙে পড়ে। তিনি জানান, সরকারি নথিতে মন্দিরটির কোনও নির্দিষ্ট নাম উল্লেখ নেই। যদিও তিনি কবুল করেছেন এটি অত্যন্ত পুরানো এবং আনুমানিক ১০০ থেকে ১২৫ বছরের পুরানো কাঠামো।

    ইফতিখার বলেন, “মন্দিরটির নাম আমাদের নথিতে নেই। তবে এটি খুবই পুরানো একটি স্থাপনা। এর বয়স আনুমানিক ১০০ থেকে ১২৫ বছর। প্রবল বৃষ্টির কারণেই এটি ভেঙে পড়েছে।”

    তবে সরকারি আধিকারিকের এই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা এবং সংখ্যালঘু সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাঁদের দাবি, মন্দিরটি কোনও দুর্যোগে হঠাৎ ধসে পড়েনি, বরং পরিকল্পিতভাবে সেটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। মন্দিরের ইট এবং চূড়ার ধাতব অংশ সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাকেও তাঁরা পরিকল্পিত ধ্বংসের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে দেখছেন (Pakistan)।

    হিন্দু ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

    পাকিস্তানে হিন্দু ধর্মীয় স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে পাঞ্জাবের গ্রামীণ অঞ্চলে বহু পুরনো মন্দির ইতিমধ্যেই অস্তিত্ব হারিয়েছে বলে সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির অভিযোগ। তাঁদের বক্তব্য, ধর্মীয় স্থাপনা সংরক্ষণের পরিবর্তে একের পর এক স্থাপনা অবহেলা, দখল কিংবা ধ্বংসের মুখে পড়ছে। এর ফলে পাকিস্তানের গ্রামীণ এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের একটি বড় অংশ ক্রমশ বিলীন হয়ে যাচ্ছে (Pakistan)।

    সিরাজ গ্রামের এই মন্দিরটি প্রায় এক শতাব্দী বা তারও বেশি সময় ধরে ওই অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে দাঁড়িয়ে ছিল বলে স্থানীয়দের দাবি। মন্দিরটির চূড়া দূর থেকেও দেখা যেত। তাই হঠাৎ প্রবল বৃষ্টিতে সেটি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে—এই সরকারি ব্যাখ্যা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

    প্রশ্ন যেখানে…

    প্রশ্ন হল, মন্দিরটি সত্যিই প্রাকৃতিক কারণে ভেঙে পড়েছিল, নাকি জমি দখলের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে সেটি ধ্বংস করা হয়েছিল। একই সঙ্গে মন্দির ভাঙার সময় প্রশাসন ও পুলিশ কেন কোনও পদক্ষেপ করল না এবং জানুয়ারিতে সম্পত্তি খালি ও সিল করার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তা কেন কার্যকর করা হয়নি, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত (Hindu Temple Demolished) কারণ খুঁজে বের করে দোষীদের শাস্তি দিতে হবে এবং মন্দিরের জমি ও অবশিষ্ট কাঠামো পুনরুদ্ধার করতে হবে (Pakistan)।

     

  • PM Modi on GDP: ৭.৮% জিডিপি বৃদ্ধি, উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী! ‘স্বদেশি’ পণ্যে জোর দেওয়ার আহ্বান, সোশ্যাল মিডিয়ায় কী লিখলেন মোদি?

    PM Modi on GDP: ৭.৮% জিডিপি বৃদ্ধি, উচ্ছ্বসিত প্রধানমন্ত্রী! ‘স্বদেশি’ পণ্যে জোর দেওয়ার আহ্বান, সোশ্যাল মিডিয়ায় কী লিখলেন মোদি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের অর্থনীতির ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধিকে দেশের মানুষের সম্মিলিত শক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের প্রতিফলন বলে প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একইসঙ্গে দেশবাসীকে ‘স্বদেশি’ ও ‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর প্রচার আরও জোরদার করার আহ্বান জানালেন তিনি। অপ্রয়োজনীয় বিদেশি খরচ, বিশেষ করে অবকাশযাপন, বিদেশে ডেস্টিনেশন ওয়েডিং এবং প্রয়োজন না থাকলে সোনা কেনার মতো ব্যয় কমানোর বার্তাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার একটি ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, নানা সংকট এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার মতো কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ভারত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। তাঁর মতে, এই সাফল্য কোনও একজনের নয়, বরং দেশের সাধারণ মানুষের সংকল্প ও পরিশ্রমের ফল।

    সম্মিলিত শক্তির প্রতিফলন

    ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধির প্রসঙ্গে মোদি বলেন, “দেশের মানুষকে অনেক অভিনন্দন। ৭.৮ শতাংশ বৃদ্ধি। দেশ আনন্দে ভরে উঠেছে। তবে দেশের মানুষের সংকল্প ও কঠোর পরিশ্রমের জন্য তাঁদের অভিনন্দন জানাই। এটি সম্মিলিত শক্তির প্রতিফলন।” বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ অতিমারির সময় থেকে এখনও পর্যন্ত বিশ্বে স্থিতিশীলতা পুরোপুরি ফিরে আসেনি। বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধের খবর আসছে, বিশ্ব একাধিক সংকটের মধ্যে রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। মোদি বলেন, “২০২০ সালে কোভিডের সময় থেকে আজ পর্যন্ত কোথাও স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে না। বিশ্ব যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে, চারদিকে সংকট। সরবরাহ শৃঙ্খল সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত। তা সত্ত্বেও ভারত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।”

    ভোকাল ফর লোকাল

    বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল অবস্থা। আমেরিকা ও ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে বিশ্ব বাজারে। তখন সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠছে ভারতীয় অর্থনীতি। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার পূর্বাভাসকে ছাপিয়ে গিয়েছে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের প্রকৃত জিডিপি GDP) বৃদ্ধির হার ৭.৮ শতাংশ। ভারতের অর্থনীতির এই সাফল্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় বড় বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সাধারণ মানুষকে দেশীয় পণ্য ও পরিষেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বার্তা, প্রয়োজনীয় খরচের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে বেশি অর্থপ্রবাহ নিশ্চিত করতে অপ্রয়োজনীয় বিদেশি ব্যয় কমিয়ে ‘স্বদেশি’ ও ‘ভোকাল ফর লোকাল’-কে আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

    মেড ইন ইন্ডিয়া

    ভবিষ্যতেও এই সাফল্যের ধারা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে মোদি বলেন, ভারতকে পুরোপুরি ‘আত্মনির্ভর’ হতে হবে এবং ‘স্বদেশী’ মন্ত্র মেনে কাজ করতে হবে। তিনি দেশবাসীকে অনুরোধ জানান, যেন তারা বিদেশে গিয়ে ধুমধাম করে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত বা অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ বদলে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ মন্ত্রকে জীবনে আপন করে নেন। একই সঙ্গে প্রয়োজন ছাড়া সোনা কেনা বন্ধ করার পরামর্শও দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, আমরা যত বেশি দেশি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল হব, স্বাধীনতার ১০০ বছরে পৌঁছে দেশের যুবসমাজকে তত সুন্দর এক নতুন ভারত উপহার দিতে পারব।

    ভারত আবারও বিকশিত হল

    ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) ভারতের প্রকৃত GDP (মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন) বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৭.৮ শতাংশ। সোমবার কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রক এই তথ্য প্রকাশ করেছে। এই তথ্য সামনে আসার পরই এক্স হ্যান্ডলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের ৭.৮ শতাংশের অসাধারণ জিডিপি বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে এক বিরাট সাফল্য। বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে তেলের দামের ধাক্কা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার নানা সমস্যার মধ্যেও দেশের মানুষের সম্মিলিত শক্তিই ভারতকে এই প্রবৃদ্ধি অর্জনে সাহায্য করেছে।” এরপরই ভারতীয় অর্থনীতির সমালোচকদের নিশানা করে মোদি লেখেন, “হতাশাবাদীদের ভবিষ্যদ্বাণী মুখ থুবড়ে পড়ল, ভারত আবারও বিকশিত হল।” প্রধানমন্ত্রী বুঝিয়ে দিলেন, যাঁরা ভারতের অর্থনীতি নিয়ে হতাশার ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তাঁদের সেই আশঙ্কা ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

    আরবিআই-এর পূর্বাভাস

    প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবর্ষের একই ত্রৈমাসিকে জিডিপি (GDP) বৃদ্ধির হার ছিল ৬.৯ শতাংশ। চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে সেটাই হয়েছে ৭.৮ শতাংশ। চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের প্রকৃত জিডিপি (GDP)-র পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮১.৩৬ লক্ষ কোটি টাকা। গত অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে এই পরিমাণ ছিল ৭৫.৪৬ লক্ষ কোটি টাকা। জিডিপি বৃদ্ধির এই হার রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার (RBI) ৭ শতাংশ পূর্বাভাসকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। জুনে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকের জন্য আরবিআই ৭ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল।

    তরুণ প্রজন্মকে বার্তা

    অর্থনীতির পাশাপাশি দেশের তরুণ প্রজন্ম নিয়েও আশাবাদী বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আজ যে পরিশ্রম করা হচ্ছে, তার সুফল ভবিষ্যতে দেশের যুব সমাজ পাবে। মোদি বলেন, তরুণদের স্বপ্ন পূরণ করাই দেশের অন্যতম বড় লক্ষ্য। আজকের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই আগামী দিনের ভারত তৈরি হবে। তিনি দেশবাসীকে দেশের উন্নয়নে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, সরকারের নীতি সঠিক পথে রয়েছে। উদ্দেশ্যও স্পষ্ট। আর ১৪০ কোটি মানুষের সম্মিলিত শক্তি ভারতকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তার মূল সুর হল—দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। সাধারণ মানুষকেও নিজেদের কেনাকাটা, ভ্রমণ এবং জীবনযাপনের কিছু সিদ্ধান্তে দেশীয় ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

  • Suvendu Adhikari: প্রতারণা রুখতে কড়া পদক্ষেপ, ফ্ল্যাট জালিয়াতি থেকে খাবারে ভেজাল—জিরো টলারেন্সের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu Adhikari: প্রতারণা রুখতে কড়া পদক্ষেপ, ফ্ল্যাট জালিয়াতি থেকে খাবারে ভেজাল—জিরো টলারেন্সের বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির জেরে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতা ও বিক্রেতা। এমন অভিযোগ তুলে উপভোক্তা অধিকার রক্ষায় কড়া পদক্ষেপের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সোমবার থেকে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছে ‘ক্রেতা সুরক্ষা সপ্তাহ’। হগ মার্কেট চত্বরে এই কর্মসূচির সূচনা করে রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে, ফ্ল্যাট জালিয়াতি, মাছ-সবজিতে ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার, মাপে কারচুপি কিংবা অন্য কোনও অসাধু কারবার— কোনও ক্ষেত্রেই আপস করা হবে না (Consumer Rights Week)।

    দীর্ঘদিন অবহেলায় ক্রেতা সুরক্ষা দফতর (Suvendu Adhikari)

    অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে আগের সরকারগুলির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। অভিযোগ করা হয়, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ক্রেতা সুরক্ষা দফতর কার্যত অবহেলিত ছিল।

    শাক-সবজি, মাছ-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার সময় দাঁড়িপাল্লা থেকে আধুনিক বৈদ্যুতিন মাপযন্ত্রে কারচুপি, পণ্য কেনার পর রসিদ না দেওয়া— বিভিন্ন উপায়ে ক্রেতাদের প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই ধরনের অনিয়ম বন্ধ করতে নজরদারি আরও জোরদার করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    ফ্ল্যাটের নামে প্রতারণা, বাড়ছে অভিযোগ

    ফ্ল্যাট কেনাবেচার ক্ষেত্রে বিপুল অঙ্কের টাকা প্রতারণা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সল্টলেকে দলীয় কার্যালয়ে ‘জনতার দরবার’ এবং মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ গ্রহণকেন্দ্রে প্রতিদিন এ সংক্রান্ত বহু অভিযোগ জমা পড়ছে বলে জানানো হয়েছে।

    অভিযোগ, ভুয়ো বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে অগ্রিম টাকা নেওয়া হচ্ছে। ফ্ল্যাট বুকিংয়ের নাম করে টাকা নেওয়ার পর বহু ক্ষেত্রে ক্রেতাদের সর্বস্বান্ত হতে হচ্ছে। এই ধরনের প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    অনলাইন প্রতারণা চক্রের হদিস, গ্রেফতার ১২০

    অনলাইন প্রতারণার একটি ঘটনার উল্লেখ করে জানানো হয়েছে, মাত্র ১০ দিন আগে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট নিউ টাউনের একটি ঘরে অভিযান চালিয়ে ১২০ জনকে গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ, একটি চক্র বিভিন্ন পরিচিত খাবার ও পণ্য সরবরাহকারী সংস্থার নাম ব্যবহার করে ভুয়ো বুকিংয়ের মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ করছিল।

    অনলাইন লেনদেনের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক থাকার পাশাপাশি এই ধরনের চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

    আনাজ-মাছে ক্ষতিকর রাসায়নিক, নজরদারিতে প্রশাসন

    খাদ্যে ভেজাল ও কালোবাজারি রুখতে সম্প্রতি নবান্নে বিশেষ প্রশাসনিক বৈঠক হয়। বৈঠকে ক্রেতা সুরক্ষা দফতর, খাদ্য পরিদর্শক, এনফোর্সমেন্ট শাখা, দুর্নীতি দমন শাখা এবং স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

    আনাজ ও চিনির দাম আচমকা বেড়ে যাওয়ার পর প্রশাসনের পদক্ষেপে বাজারদর কিছুটা কমেছে বলে জানানো হয়েছে। চালের দাম অকারণে বাড়ানোর কোনও কারণ নেই বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

    এছাড়াও নামী রেস্তোরাঁ, হোটেল ও মিষ্টির দোকানে খাবারে ক্ষতিকর রাসায়নিক রঙের ব্যবহার বন্ধ করতে কড়া পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। মাছ ও সবজিকে সতেজ দেখাতে বিপজ্জনক রাসায়নিক ব্যবহারের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হবে।

    অভিযোগ, অতিরিক্ত মুনাফার লোভে কিছু ব্যবসায়ী এবং দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থা ও অসাধু আধিকারিকদের একাংশের যোগসাজশে এই ধরনের কারবার চলছিল। এই ধরনের অনিয়ম আর বরদাস্ত করা হবে না বলেই স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    বাউল গান থেকে পথনাটিকা, সচেতনতা প্রচারে নানা উদ্যোগ

    উপভোক্তা সুরক্ষা আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে রাজ্যজুড়ে সপ্তাহব্যাপী প্রচার চালানো হচ্ছে। বাউল গান, পথনাটিকা, লিফলেট বিতরণ, প্রচার-সজ্জিত ট্যাবলো, বাজারে গিয়ে মাপযন্ত্র পরীক্ষা এবং সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার চালানো হবে। বিভিন্ন জায়গায় সচেতনতামূলক শিবির ও স্টলও করা হবে। ক্রেতারা যাতে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে জানতে পারেন এবং প্রতারণার শিকার হলে কোথায় অভিযোগ জানাবেন, সে বিষয়ে তাঁদের সচেতন করাই এই (Suvendu Adhikari) কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

    দফতরকে আরও সক্রিয় করতে একাধিক পদক্ষেপ

    ক্রেতা সুরক্ষা দফতরকে আরও গতিশীল করতে একাধিক প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথাও জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, বাজেটে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ, সরকারি কর্ম কমিশনের মাধ্যমে দ্রুত নতুন আধিকারিক নিয়োগ, গুণমান ও পরিমাপ পরীক্ষার জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে এনফোর্সমেন্ট শাখা ও দুর্নীতি দমন শাখার পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা নিশ্চিত করা।

    প্রশাসনের বার্তা, ক্রেতা প্রতারণা, ভেজাল, মাপে কারচুপি কিংবা অসাধু ব্যবসার বিরুদ্ধে আগামী দিনে আরও কড়া নজরদারি চলবে (Consumer Rights Week)। সাধারণ মানুষের স্বার্থে উপভোক্তা সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর করাই সরকারের লক্ষ্য (Suvendu Adhikari)।

     

  • Kolkata New Civic Rules: থুতু ১০০, প্রস্রাব ২০০,..! রাস্তায় এই ৫ ভুল করলেই গুনতে হবে জরিমানা, চালু হল নতুন নিয়ম, বদলে ফেলুন অভ্যাস

    Kolkata New Civic Rules: থুতু ১০০, প্রস্রাব ২০০,..! রাস্তায় এই ৫ ভুল করলেই গুনতে হবে জরিমানা, চালু হল নতুন নিয়ম, বদলে ফেলুন অভ্যাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা-সহ রাজ্যের শহরাঞ্চলকে আরও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে এবার নাগরিকদের অভ্যাস বদলের উপর জোর দিল রাজ্য সরকার। রাস্তায় যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলা, প্রকাশ্যে থুতু ফেলা কিংবা মল-মূত্র ত্যাগের মতো ঘটনায় এবার আর শুধু সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হবে না। নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে গুনতে হবে জরিমানা। পাশাপাশি নিষিদ্ধ প্লাস্টিকের ব্যবহার এবং বেআইনি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপের বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    ১ সেপ্টেম্বর থেকে বদলাবে অভ্যাস, বদলাবে কলকাতা’—এই বার্তাকে সামনে রেখেই শুরু হয়েছে পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত নতুন উদ্যোগ। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের উদ্যোগে শহর ও নগরাঞ্চলে নিয়ম মেনে চলার বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন করার পাশাপাশি নিয়ম ভাঙলে আর্থিক জরিমানার ব্যবস্থাও কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছে।

    কোন কোন কাজে জরিমানা?

    রাজ্য সরকারের নির্দেশিকায় একাধিক নাগরিক আচরণকে জরিমানার আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

    • প্রকাশ্যে থুতু ফেলা: রাস্তায় বা জনসমক্ষে থুতু ফেললে ১০০ টাকা জরিমানা দিতে হবে।
    • প্রকাশ্যে প্রস্রাব বা মলত্যাগ: যত্রতত্র প্রস্রাব বা মলত্যাগ করে পরিবেশ নোংরা করলে ২০০ টাকা জরিমানা করা হবে।
    • যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা: রাস্তায় বা নির্দিষ্ট জায়গা ছাড়া অন্যত্র আবর্জনা ফেললেও জরিমানার মুখে পড়তে হবে। আবর্জনা ফেলার ক্ষেত্রে ২০০ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
    • নিষিদ্ধ প্লাস্টিকের ব্যবহার: নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার করলেও ২০০ টাকা জরিমানা দিতে হতে পারে। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধ করতেই এই পদক্ষেপ।

    এছাড়াও নির্দিষ্ট পার্কিং জোন ছাড়া যেখানে-সেখানে গাড়ি দাঁড় করানো বা বেআইনি পার্কিংয়ের বিরুদ্ধেও জরিমানার ব্যবস্থা করার কথা জানানো হয়েছে।

    কোথায় কার্যকর হচ্ছে নতুন নিয়ম?

    ১ সেপ্টেম্বর থেকেই রাজ্যের পুরসভা, পুরনিগম এবং নোটিফায়েড এরিয়া-গুলিতে এই নিয়ম কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকদের কাছে নির্দেশিকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।শহরাঞ্চলের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন করতে প্রচার চালানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ শুধুমাত্র জরিমানা করাই নয়, কোন কোন কাজ করলে জরিমানা হতে পারে, তা সাধারণ মানুষকে জানানোও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

    কোথায় নজরদারি বেশি?

    সরকারের নজরদারির আওতায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে জনসমাগম বেশি হয় এমন এলাকা। এর মধ্যে রয়েছে বাজার, হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ, ধর্মীয় স্থান এবং সরকারি অফিসের আশপাশের রাস্তা ও নর্দমা। এই এলাকাগুলিতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

    নগদে নয়, অনলাইনে জমা দিতে হবে জরিমানা

    নতুন ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, জরিমানার টাকা নগদে নেওয়া হবে না। নির্ধারিত নিয়ম মেনে অনলাইনে জরিমানা জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

    শুধু প্রশাসন নয়, দায়িত্ব নাগরিকদেরও

    পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তুলতে শুধু পুরসভা বা প্রশাসনের উপর নির্ভর না করে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। সরকারের প্রচারে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, পরিষ্কার শহর শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, প্রত্যেক নাগরিকেরও দায়িত্ব। রাস্তা পরিষ্কার রাখা, নির্দিষ্ট জায়গায় আবর্জনা ফেলা, নিষিদ্ধ প্লাস্টিক এড়িয়ে চলা এবং প্রকাশ্যে থুতু বা মল-মূত্র ত্যাগ না করার মতো দৈনন্দিন অভ্যাস বদলের উপরই জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের আশা, নিয়মের পাশাপাশি সচেতনতা বাড়লে কলকাতা-সহ রাজ্যের শহরাঞ্চল আরও পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হবে।

    নাগরিক সমস্যায় টোল-ফ্রি হেল্পলাইন

    এদিকে নাগরিক সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৮০০-৩৪৫-০৯৩৮ চালুর কথাও জানানো হয়েছে। আপাতত সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এই পরিষেবা চালু থাকার কথা। পরবর্তী সময়ে পরিষেবাটি ২৪ ঘণ্টা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এই নম্বরে ফোন করে নাগরিক সমস্যার কথা জানাতে পারবেন।

    সব মিলিয়ে ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে একদিকে যেমন শহর ও নগরাঞ্চলে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে নিয়মকানুন আরও কড়া করা হচ্ছে, তেমনই সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফলে বাইরে বেরিয়ে দৈনন্দিন জীবনে কিছু অভ্যাস বদলানোই এখন নাগরিকদের জন্য সবচেয়ে বড় বার্তা।

  • PM Modi at SCO Summit: ‘সন্ত্রাসের পুরো ইকোসিস্টেম ভাঙতেই হবে, কোনও দুমুখো নীতি চলবে না’ এসসিও সম্মেলনে শেহবাজের সামনেই মোদির কড়া বার্তা

    PM Modi at SCO Summit: ‘সন্ত্রাসের পুরো ইকোসিস্টেম ভাঙতেই হবে, কোনও দুমুখো নীতি চলবে না’ এসসিও সম্মেলনে শেহবাজের সামনেই মোদির কড়া বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর শীর্ষ সম্মেলনে সন্ত্রাসবাদ, যুদ্ধ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi at SCO Summit)। মঙ্গলবার কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে এসসিও-র রাষ্ট্রপ্রধানদের পরিষদের বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সব দেশকে একসঙ্গে, একই সুরে কথা বলতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের সমাধান যুদ্ধের ময়দানে নয়, আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমেই করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এসসিও-র (SCO) ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ-সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা।

    সন্ত্রাসবাদের ইকোসিস্টেম ভাঙতে হবে

    সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যুদ্ধ ও সংঘাতের প্রসঙ্গের পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ নিয়েও অত্যন্ত কড়া অবস্থান নেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে একসঙ্গে এবং এক ভাষায় কথা বলতে হবে। সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের ‘দুমুখো নীতি’ মেনে নেওয়া যায় না। শুধু সন্ত্রাসবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেই হবে না, তাদের সম্পূর্ণ পরিকাঠামো ভেঙে দিতে হবে—সন্ত্রাসে অর্থ জোগান, নিয়োগ, উগ্রপন্থায় প্ররোচনা এবং নিরাপদ আশ্রয়—সবকিছুর বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এককথায়, পাক প্রধানমন্ত্রীর সামনে বসে সন্ত্রাসবাদের ইকোসিস্টেম ভাঙার কথা বলেন মোদি। তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে কোনও দ্বিচারিতার জায়গা থাকা উচিত নয়। সন্ত্রাসের গোটা পরিকাঠামো—অর্থ জোগান, নিয়োগ, উগ্রপন্থায় প্ররোচনা এবং নিরাপদ আশ্রয়—ধ্বংস করতে হবে।”

    ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ চলতে পারে না

    মোদির বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ। ভারত দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের মাটিতে সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠী ও তাদের প্রতি সমর্থনের অভিযোগ তুলে এসেছে। এসসিও-র মঞ্চে তাই ‘দুমুখো নীতি’র বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর বার্তাকে পাকিস্তানের উদ্দেশে কূটনৈতিক চাপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। শেহবাজ শরিফ যখন একই হলে উপস্থিত, তখন এই বক্তব্যের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। পাকিস্তানের সরকারি তথ্যও নিশ্চিত করে যে শেহবাজ শরিফ এসসিও-র রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানের পটভূমিতে রয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলা-সহ সীমান্তপারের জঙ্গি হামলার অভিজ্ঞতা। ২০২৫ সালের পহেলগাঁও হামলার পর ভারত আন্তর্জাতিক মঞ্চে সন্ত্রাসবাদ ও তাকে মদত দেওয়া শক্তির বিরুদ্ধে আরও জোরালো অবস্থান নেয়। এসসিও-র আগের সম্মেলনেও মোদি স্পষ্ট করে বলেছিলেন, সন্ত্রাসবাদকে আশ্রয় দেওয়া বা সমর্থন করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর বিরুদ্ধে ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ চলতে পারে না। মোদির কথায়, যে দেশগুলি রাষ্ট্রীয় নীতির হাতিয়ার হিসেবে সন্ত্রাসবাদকে ব্যবহার করে এবং সন্ত্রাসীদের আশ্রয় ও সহযোগিতা দেয়, তাদের কাছে স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। “সন্ত্রাসবাদ কখনও কারও কৌশলগত সম্পদ হতে পারে না,” বলেন প্রধানমন্ত্রী।

    যুদ্ধ নয়, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান

    আন্তর্জাতিক সংঘাত প্রসঙ্গে মোদির বক্তব্য, যুদ্ধের ময়দানে কোনও সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সমস্ত যুদ্ধ ও সংঘাত আলোচনার টেবিল এবং কূটনীতির মাধ্যমে সমাধান করতে হবে বলে জানান তিনি। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বে কোনও একটি অঞ্চলের সংঘাত আর সেই অঞ্চলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। তার প্রভাব পড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা, সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার উপর। এই ধরনের অস্থিরতার সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করতে হয় গ্লোবাল সাউথের দেশগুলিকে। সম্মেলনের মঞ্চ থেকে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, যুদ্ধক্ষেত্রের মাধ্যমে কোনও সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। সমস্ত যুদ্ধ ও দ্বন্দ্বের অবসান ঘটাতে হবে একমাত্র আলোচনা এবং কূটনীতির মাধ্যমেই।

    মাদক পাচার নিয়েও উদ্বেগ

    মাদক পাচারকে শুধুমাত্র অপরাধ হিসেবে দেখলে হবে না বলেও সতর্ক করেন মোদি। তাঁর মতে, মাদক পাচার তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি এবং একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও তা গুরুতর সমস্যা তৈরি করছে।

    আফগানিস্তানের শান্তি ও স্থিতিশীলতার উপর জোর

    শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ ইউরেশিয়ার লক্ষ্যের সঙ্গে আফগানিস্তানের শান্তি ও স্থিতিশীলতা সরাসরি যুক্ত বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আফগানিস্তানের মানুষের উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তায় ভারত ধারাবাহিকভাবে কাজ করে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও সেই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

    যোগাযোগ ব্যবস্থায় সার্বভৌমত্বের গুরুত্ব

    আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বাণিজ্য প্রসঙ্গে মোদি বলেন, বাজারকে সংযুক্ত করা, বাণিজ্য সহজ করা এবং উন্নয়নের নতুন পথ তৈরি করার সমস্ত উদ্যোগকে ভারত সমর্থন করে। তবে একই সঙ্গে প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, এসসিও-র সনদেরও এটাই মৌলিক চেতনা। আগামী দিনে যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিধি আরও বাড়বে। শুধু সড়ক, রেল ও বিমানপথ নয়, শুল্ক প্রক্রিয়া সরল করা, ডিজিটাল নথিপত্রের ব্যবহার বাড়ানো এবং লজিস্টিক ব্যবস্থা আরও দক্ষ করার উপরও জোর দিতে হবে।

    বিশ্ব-শান্তি ও উন্নয়নই ভারতের লক্ষ্য

    অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান জানিয়ে পরিকাঠামো প্রকল্পগুলোতে সহযোগিতার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। চিনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ বা পাকিস্তানের দখল করা কাশ্মীরের উপর দিয়ে যাওয়া ‘চিন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর’ (সিপিইসি)-এর মতো স্পর্শকাতর ইস্যুগুলোর ক্ষেত্রে ভারতের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এই মঞ্চ থেকেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ২০০১ সালে গঠিত ১০ সদস্যের এসসিও জোটে ২০১৭ সালে ভারত ও পাকিস্তান পূর্ণ সদস্য হিসেবে যোগ দেয়। চলতি বছরের এই শীর্ষ সম্মেলনটি সম্প্রসারিত ‘এসসিও-প্লাস’ ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে তুরস্ক, আজারবাইজান, আর্মেনিয়া, মঙ্গোলিয়া সহ এক ডজনেরও বেশি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা অংশ নিয়েছেন। এসসিও (SCO) সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদির বক্তব্যে একদিকে যেমন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের আহ্বান উঠে এসেছে, অন্যদিকে যুদ্ধ ও সংঘাতের পরিবর্তে কূটনীতি, আঞ্চলিক শান্তি এবং অর্থনৈতিক যোগাযোগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তাও স্পষ্ট হয়েছে।

  • Journalist Welfare Scheme: সবার জন্য মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা, বাড়ল পুজো-অনুদানও, অবসরপ্রাপ্তদের মাসে ৫ হাজার টাকা পেনশন! সাংবাদিকদের জন্য বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

    Journalist Welfare Scheme: সবার জন্য মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা, বাড়ল পুজো-অনুদানও, অবসরপ্রাপ্তদের মাসে ৫ হাজার টাকা পেনশন! সাংবাদিকদের জন্য বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের জন্য বড় ঘোষণা রাজ্য সরকারের। সাংবাদিকদের সামাজিক সুরক্ষা পেনশন দ্বিগুণ করার কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এতদিন মাসে ২,৫০০ টাকা করে যে পেনশন দেওয়া হত, তা বাড়িয়ে ৫,০০০ টাকা করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকেই বর্ধিত হারে পেনশন কার্যকর হবে।

    মঙ্গলবার প্রেস ক্লাবের প্রতিনিধি এবং প্রবীণ সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক বিশেষ কর্মসূচিতে এই ঘোষণা করা হয়। শুধু পেনশন বৃদ্ধিই নয়, সাংবাদিক এবং তাঁদের পরিবারের জন্য দেশজুড়ে বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধাও চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    সাংবাদিকদের জন্য ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা সুবিধা

    নতুন ব্যবস্থায় সাংবাদিক ও তাঁদের পরিবারকে ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা’-র আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই প্রকল্পের অধীনে সর্বভারতীয় স্তরে পরিবারপিছু ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাওয়া যাবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে আগের ‘স্বাস্থ্য সাথী’ ব্যবস্থায় চিকিৎসার সুযোগ মূলত রাজ্যের হাসপাতালগুলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। নতুন আয়ুষ্মান ভারত ও মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনার আওতায় সেই পরিধি অনেকটাই বাড়ছে।

    রাজ্যের প্রায় ১,৯০০টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ৩৮,০০০ হাসপাতালে এই চিকিৎসা সুবিধা মিলবে বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দিল্লি ও অন্যান্য রাজ্যের এআইআইএমএস, ভেলোরের সিএমসি, মুম্বইয়ের টাটা ক্যানসার হাসপাতাল, চণ্ডীগড়ের পিজিআই এবং হায়দরাবাদের ড. রেড্ডির মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান।

    আয়ুষ্মান ভারত না থাকলেও মিলবে সুবিধা

    নির্দিষ্ট শর্ত, বয়স বা অন্য কোনও কারণে কোনও সাংবাদিক কিংবা তাঁর পরিবারের সদস্য আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় না এলে তাঁদের সরাসরি ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা’-য় অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়া তদারকির দায়িত্বে থাকবেন তথ্য ও সংস্কৃতি সচিব ড. সৌমিত্র মোহন এবং স্বাস্থ্য সচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই সুবিধা পেতে কোনও রাজনৈতিক বা মন্ত্রী পর্যায়ের সুপারিশের প্রয়োজন হবে না।

    ১৫০-১৫৪ জনের সীমা পেরিয়ে আরও সাংবাদিককে পেনশন

    রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, আগের সরকারের সময়ে মাত্র ১৫০-১৫৪ জন অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিক মাসিক ২,৫০০ টাকা করে সামাজিক সুরক্ষা ভাতা পেতেন। এবার সেই সীমাবদ্ধতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুধু অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড থাকা সাংবাদিকরাই নন, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে নিউজ ডেস্কে কর্মরত, অসংগঠিত মাধ্যমে কাজ করা এবং অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডহীন অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদেরও পেনশন প্রকল্পের আওতায় আনার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

    রাজ্য বাজেটে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের ঘোষণার পাশাপাশি রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের আগের প্রস্তাবনার কথাও এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের লক্ষ্য, যোগ্য সাংবাদিকদের সংখ্যা সীমিত না রেখে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সর্বাধিক সংখ্যক যোগ্য ব্যক্তিকে এই সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় আনা।

    রাজনৈতিক কারণে বঞ্চিত করা যাবে না, বার্তা সরকারের

    পেনশন প্রকল্পের ক্ষেত্রে যোগ্য কোনও সাংবাদিক যাতে রাজনৈতিক বা অন্য কোনও কারণে সুবিধা থেকে বাদ না পড়েন, সেই বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে। যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে সুবিধাভোগী বাছাইয়ের কথা জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, নতুন ব্যবস্থায় পেনশনের অঙ্ক বৃদ্ধির পাশাপাশি যোগ্য সাংবাদিকদের অন্তর্ভুক্তির পরিধি বাড়ানোর উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    পুজোর অনুদানেও আর কলকাতা-জেলা বৈষম্য নয়

    সাংবাদিকদের জন্য আর একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দুর্গাপুজোর সরকারি আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে। এতদিন কলকাতার সাংবাদিকরা ২,০০০ টাকা এবং জেলার সাংবাদিকরা ১,০০০ টাকা করে পেতেন। এবার সেই বৈষম্য তুলে দেওয়া হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আবেদনকারী সমস্ত যোগ্য সাংবাদিককে ৩,০০০ টাকা করে পুজোর আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

    ‘নেশন ফার্স্ট’ নীতি নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে বার্তা

    অনুষ্ঠানে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সংবাদমাধ্যমকে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করার আহ্বান জানান তিনি। সরকার কিংবা রাজনৈতিক দলের সমালোচনা মেনে নেওয়ার কথা জানালেও জাতীয় স্বার্থ ও দেশপ্রেমের প্রশ্নে সংবাদমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।

    মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “সংবিধানে বাকস্বাধীনতা থাকলেও নেশন ফার্স্ট নীতি আমাদের বজায় রাখতে হবে। দেশ দুর্বল হয় বা ধর্মীয় আস্থায় আঘাত লাগে, এমন শব্দ বা ভাষা প্রয়োগ এড়িয়ে চলা উচিত।” সব মিলিয়ে অবসরপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের পেনশন বৃদ্ধি, পেনশন প্রকল্পের আওতা সম্প্রসারণ, দেশজুড়ে চিকিৎসা সুবিধা এবং পুজোর অনুদানে বৈষম্য দূর করার ঘোষণাকে সাংবাদিক মহলের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

LinkedIn
Share