Blog

  • BJP: “আমি দলের কর্মী, নিতিন আমার বস”, বিজেপির নয়া সর্বভারতীয় সভাপতিকে অভিনন্দন মোদির

    BJP: “আমি দলের কর্মী, নিতিন আমার বস”, বিজেপির নয়া সর্বভারতীয় সভাপতিকে অভিনন্দন মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জল্পনা চলছিলই। সোমবার রাতেই তাতে পড়ল সিলমোহর। বিজেপির (BJP) সর্বভারতীয় সভাপতি হলেন নিতিন নবীন (Nitin Nabin)। মাত্র পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সে বিজেপির কনিষ্ঠতম সভাপতি হিসেবে শপথ নিলেন তিনি। তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। জেপি নাড্ডার পর বিজেপির এই পদের দায়িত্ব সামলাবেন নিতিন।

    বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি (BJP)

    সোমবারই বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন নিতিন। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। গত ডিসেম্বর মাস থেকে কার্যনির্বাহী সভাপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন তিনি। নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার কে লক্ষ্মণ জানান, মনোনয়ন প্রত্যাহার করার সময়সীমা পেরনোর পর দেখা যায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন নিতিন।  এদিন নির্বাচিত হওয়ার আগেই বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন নিতিন। সোমবার রাতেই তিনি বৈঠক করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, সাংসদ সুকান্ত মজুমদার, বিজেপি নেতা অমিতাভ চক্রবর্তী, সুনীল বনসল, মঙ্গল পান্ডে এবং অমিত মালব্যর সঙ্গে।

    বাংলায় আসতে পারেন নিতিন

    সূত্রের খবর, সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর চলতি মাসেই বাংলায় আসতে পারেন নিতিন। তখনই তিনি বৈঠক করবেন রাজ্য সংগঠনের সব স্তরের নেতাদের সঙ্গে। সোমবার রাতের বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে খুঁটিনাটি জানতে চান নিতিন। তাঁর বাবা প্রয়াত বিজেপি নেতা নবীন কিশোর সিনহা। এবিভিপির হাত ধরে ছাত্র রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় তাঁর। ২০১০ সালে প্রথমবার বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হন তিনি। জয়ীও হন বিহারের বাঁকিপুর আসনে। তারপর থেকে এই কেন্দ্রেই ধারাবাহিকভাবে জয়ী হয়ে আসছেন নিতিন (Nitin Nabin)।  দেশের রাজনীতিতে নবীন মুখ হলেও, বিহারে নিতিন খুবই পরিচিত। তাঁর জন্ম পাটনায়। বাবা বিজেপি (BJP) নেতা হওয়ায়, শৈশব থেকেই রাজনৈতিক পরিমণ্ডলেই বেড়ে উঠেছেন নিতিন। গত বিহার বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হন নিতিন। প্রত্যাশিতভাবেই তাঁর ঠাঁই হয় নীতীশ কুমারের মন্ত্রিসভায়।

    জেপি নাড্ডার স্থলাভিষিক্ত

    জেপি নাড্ডার স্থলাভিষিক্ত হলেন নিতিন। নাড্ডার জায়গায় নিতিনকে বসানোর মূল কারণ হল বিজেপির পাশাপাশি আরএসএসেরও ভরসা রয়েছে নিতিনের ওপর। নিতিন নির্বাচনটাও বোঝেন ভালো। এই সব কারণেই অনায়াস হয় নিতিনের পদ প্রাপ্তি। শোনা যায়, নিতিন আরএসএস ঘনিষ্ঠ। সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক ভালো। বিহার বিধানসভা নির্বাচনে তিনি সমন্বয় রক্ষা করেছিলেন বিজেপি এবং জেডিইউয়ের। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএকেও বিপুল ভোটে জিতিয়েছেন নিতিন। ছত্তিশগড় বিধানসভায় তিনি কাজ করেছেন বিজেপির ইনচার্জ হিসেবে। ঝুলিতে এতসব অভিজ্ঞতা থাকায় নিতিনকে বেছে নেওয়া হয় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি পদে।

    নিতিন নবীন আমার বস

    বিশ্বের সব চেয়ে বড় রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব গ্রহণ করায় নিতিনকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মুখে শোনা যায় নিতিনের ভূয়সী প্রশংসা। তিনি বলেন, “নিতিন নবীনকে এতদিনে যা যা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাতেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন। নিতিন সেই প্রজন্মের মানুষ, যিনি ছেলেবেলায় রেডিও দেখেছেন, আর বর্তমানে এআই ব্যবহার করছেন।” এর পরেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নরেন্দ্র মোদি দেশের প্রধানমন্ত্রী। তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। পঞ্চাশ বছরের কম বয়সে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন (BJP)। এসব একটা জায়গায় রয়েছে। কিন্তু এর থেকেও বড় পরিচয় হল আমি বিজেপির একজন কর্মী। দলের ক্ষেত্রে আমি কর্মকর্তা, আর নিতিন নবীন আমার বস।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিজেপি (BJP) এক সংস্কার, এক পরিবার। এই দলে মেম্বারশিপের চেয়েও বেশি রিলেশনশিপ রয়েছে। নেতৃত্ব বদলায়, কিন্তু দিশা বদলায় না (Nitin Nabin)।”

     

  • India: “ভারত আজ নিজের শর্তে বৈশ্বিক বাণিজ্য চুক্তি করতে পারছে”, বললেন ডব্লুইএফ প্রধান

    India: “ভারত আজ নিজের শর্তে বৈশ্বিক বাণিজ্য চুক্তি করতে পারছে”, বললেন ডব্লুইএফ প্রধান

     মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারতের (India) ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক শক্তি দেশটিকে এমন জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে যে, যেখানে আজ তারা সম্পূর্ণ নিজেদের শর্তে বৈশ্বিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে পারছে।” এমনই মন্তব্য করলেন বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লুইএফ) সভাপতি বোরগে ব্রেন্ডে (Borge Brende)। দাভোসে অনুষ্ঠিত ফোরামের ৫৬তম বার্ষিক বৈঠকের ফাঁকে সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

    কী বললেন ডব্লুইএফ প্রধান?

    ব্রেন্ডে বলেন, “গত কয়েক বছরে ভারতের উত্থান বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দেশের দরকষাকষির ক্ষমতাকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছে। এর ফলে নয়াদিল্লি এখন অনেক বেশি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে, কখন এবং কার সঙ্গে সে বাণিজ্য চুক্তি করবে।” তাঁর কথায়, “এই আত্মবিশ্বাস কোনও কথার কথা নয়, বরং পরিসংখ্যান দ্বারা সমর্থিত।” তিনি বলেন, “ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। বিশ্বে বৃহৎ অর্থনীতিগুলির মধ্যে ভারতই সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল এবং বৈশ্বিক মোট প্রবৃদ্ধির প্রায় ২০ শতাংশ অবদান রাখছে। এটা সত্যিই অসাধারণ।” এই মাত্রা ও গতি থাকায় ভারতের আর তাড়াহুড়ো করে চুক্তি করার বা প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেই মনে করেন তিনি। ব্রেন্ডের ভাষায়, “ভারত আজ নিজের স্বার্থ দেখে বাণিজ্য চুক্তি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে দেশের উন্নয়নের স্বার্থে যখন প্রয়োজন হবে, তখনই ভারত সেই চুক্তি করবে।” তিনি এও বলেন, “ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের গতি অনেক বৈশ্বিক পর্যবেক্ষককে বিস্মিত করেছে। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই এত ব্যাপক অর্থনৈতিক সংস্কার হয়েছে, যেটা অবিশ্বাস্য।”

    মার্কিন-ভারত বাণিজ্য চুক্তি

    ব্রেন্ডে মনে করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে একটি বাণিজ্য চুক্তি ভবিষ্যতে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের দিকনির্দেশনা এবং অর্থনৈতিক পরিপূরকতা সেই পথেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে (India)। ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাণিজ্য আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এখনই দু’পক্ষের এগিয়ে যাওয়ার উপযুক্ত সময়। অতীতে কিছু জটিলতা থাকলেও, বর্তমানে ভারত ও ইউরোপ, উভয়েই এই চুক্তি থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হতে পারে।” ব্রেন্ডে বলেন, “আমি মনে করি, এখনই ভারত ও ইউরোপের সময়। ঐতিহাসিকভাবে অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল, কিন্তু এই চুক্তি কার্যকর হলে দু’পক্ষই উপকৃত হবে।” তিনি এও বলেন, ইউরোপ আগের তুলনায় এখন বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনেক বেশি সক্রিয়। তাঁর ভাষায়, “লাতিন আমেরিকার বহু দেশ এখন ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করছে, যা আগে কল্পনাও করা যেত না, বিশেষ করে কৃষির মতো জটিল ইস্যুর কারণে (Borge Brende)।”

    বিশ্ব বাণিজ্য ভেঙে পড়ছে না

    শুল্ক সংক্রান্ত বিরোধ, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের বিভাজনের কারণে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা থাকলেও, ব্রেন্ডে সাফ জানিয়ে দেন, “বিশ্ব বাণিজ্য ভেঙে পড়ছে না। বরং আগের তুলনায় ধীরগতিতে বাড়ছে।” তিনি বলেন, “বৈশ্বিক বাণিজ্যে যে রদবদল চলছে, তার পরেও এ বছর বাণিজ্যে প্রায় ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে বলে আমরা আশা করছি। অর্থাৎ বাণিজ্য সংকুচিত হচ্ছে না, কেবল আগের মতো দ্রুত বাড়ছে না। বাণিজ্য জলের মতো, যে নিজের পথ নিজেই খুঁজে নেয়।” ব্রেন্ডের মতে, ভারতের উত্থান বর্তমান সময়ের বৈশ্বিক বাণিজ্য রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলির একটি। যখন বড় বড় অর্থনীতি অস্থিরতার সঙ্গে লড়াই করছে, তখন ভারতের শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি, ধারাবাহিক সংস্কার এবং বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক প্রভাব দেশটিকে শক্ত অবস্থানে থেকে দরকষাকষির ক্ষমতা দিয়েছে। তাঁর দৃষ্টিতে, ভারত এখন আর শুধু বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রবণতার প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে না, বরং (Borge Brende) সেই প্রবণতাগুলি গঠনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে (India)।

  • S Jaishankar: সন্ত্রাসে মদত নয়! পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি, পোল্যান্ডকে কী বার্তা জয়শঙ্করের?

    S Jaishankar: সন্ত্রাসে মদত নয়! পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি, পোল্যান্ডকে কী বার্তা জয়শঙ্করের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদের মদতদাতা পাকিস্তান। তাদের পাশে না দাঁড়ানোর জন্য পোল্যান্ডকে বিশেষ বার্তা বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের। পাকিস্তানের জঙ্গিনীতি থেকে দূরে থাকাই উচিত ওয়ারশ রাজনীতির। সোমবার পোল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী সিকরস্কিকে এই বার্তায় দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিন দিনের ভারত সফরে এসেছেন পোল্যান্ডের বিদেশমন্ত্রী সিকরস্কি। সোমবার ছিল তার সফরের শেষদিন। আর এই সফর শেষের আগে বিদেশমন্ত্রী এস.জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। সেখানেই পাকিস্তানের পাশে দাঁড়ানো নিয়ে পোল্যান্ডকে সাফ বার্তা ভারতের।

    জম্মু কাশ্মীর প্রসঙ্গ, সন্ত্রাস নিয়ে কড়া বার্তা

    সূত্রের খবর, ভারত ও পোল্যান্ড দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীর বৈঠকে উঠে এসেছে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে জম্মু কাশ্মীর প্রসঙ্গ। আর দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে কাশ্মীরের সমস্যা মেটাতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন বলেও জানায় ভারত। এমনকি সন্ত্রাসবাদে মদত না দেওয়ার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। সরাসরি ইসলামাবাদের নাম না নিলেও পাকিস্তানকে তোপ দেগেছে ভারত। বিদেশমন্ত্রী এস.জয়শঙ্কর বলেন-“আমরা আশাবাদী, পোল্যান্ড সন্ত্রাসবাদে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েই চলবে।” জয়শঙ্করের এই মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ গত বছরের অক্টোবরে পাকিস্তান সফরের সময় পোল্যান্ড কাশ্মীর ইস্যুতে ইসলামাবাদের সঙ্গে একটি যৌথ বিবৃতি দেয়। বৈঠকের শুরুতে জয়শঙ্কর বলেন, পোল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ এশিয়ায় সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদের হুমকির বিষয়টি জানে। তিনি বলেন, “উপপ্রধানমন্ত্রী, আপনি আমাদের অঞ্চল সম্পর্কে অবগত এবং সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদের দীর্ঘদিনের সমস্যার কথা জানেন। পোল্যান্ডের উচিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া এবং আমাদের প্রতিবেশী সন্ত্রাসী পরিকাঠামোকে কোনওভাবেই উৎসাহ না দেওয়া।”

    কূটনৈতিক তৎপরতা ভারতের

    জয়শঙ্করের এই মন্তব্যের পর সিকোরস্কি সম্মতিসূচক মাথা নেড়ে সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একযোগে লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তিনি জানান, পোল্যান্ড নিজেও সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসমূলক হামলার শিকার হয়েছে। সিকোরস্কি বলেন, “সম্প্রতি ইউক্রেনের সঙ্গে সংযোগকারী একটি রেলপথে চলন্ত ট্রেনের নিচে বিস্ফোরণ ঘটে, যা কার্যত রাষ্ট্র-সন্ত্রাসের উদাহরণ।” ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের অক্টোবরে। গত কয়েক বছরে ইউরোপীয় দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলিকে পাকিস্তানের সন্ত্রাসে অর্থ জোগানো এবং জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার ইতিহাস সম্পর্কে সতর্ক করতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে ভারত।

    রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গ

    বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষিতে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে ভারতের উপর শুল্ক চাপানোর বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, “নিউ ইয়র্ক ও প্যারিসে আগেও আমি ইউক্রেন সংঘাত ও তার প্রভাব নিয়ে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি। একই সঙ্গে বলেছি, ভারতের বিরুদ্ধে এই নির্বাচনীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া অন্যায় ও অযৌক্তিক। আজও আমি সেই কথাই পুনরায় বলছি।” জবাবে সিকোরস্কি বলেন, “নির্বাচনী টার্গেটিং শুধু শুল্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর আরও নানা রূপ রয়েছে।”

     

     

     

     

     

  • India UAE MOU: প্রতিরক্ষা, জ্বালানি থেকে এআই, ৩ ঘণ্টার সফরে সই ৫ চুক্তি! আমিরশাহির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মোদির একাধিক সমঝোতা

    India UAE MOU: প্রতিরক্ষা, জ্বালানি থেকে এআই, ৩ ঘণ্টার সফরে সই ৫ চুক্তি! আমিরশাহির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মোদির একাধিক সমঝোতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) সম্পর্কে আরও উষ্ণতা যোগ হল আবু ধাবির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদের (India UAE meeting) ভারত সফরে। মাত্র দুই ঘণ্টার সফরে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সংক্ষিপ্ত সফরেই দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, পারমাণবিক শক্তি, প্রতিরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), বাণিজ্য, সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই-সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বড় সিদ্ধান্ত হয়েছে। বৈঠক শেষে স্পষ্ট, ভারত-আমিরশাহি সম্পর্ক (India UAE relation) এখন শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন উচ্চতায় পৌঁছে গিয়েছে।

    ভারত-আমিরশাহির দৃঢ় বন্ধুত্বের প্রতীক

    সোমবার সুদূর সংযুক্ত আমিরশাহি থেকে ঝটিকা সফরে ভারতে এসেছিলেন প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। তাঁকে স্বাগত জানাতে সেখানে পৌঁছে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও। তারপর প্রধানমন্ত্রী মোদির গাড়িতেই চলে বৈঠক। আমিরশাহির প্রেসিডেন্টের এই ঝটিকা সফরের কিছু মুহূর্ত নিজের সমাজমাধ্যমে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন এক্স হ্য়ান্ডেলে বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করে মোদি লিখেছেন, ‘আমার ভাই, প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদকে স্বাগত জানাতে গিয়েছিলাম। তাঁর এই সফর ভারত-আমিরশাহির দৃঢ় বন্ধুত্বের প্রতীক।’

    ফলপ্রসূ ও বাস্তবমুখী বৈঠক

    নয়াদিল্লি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ রক্ষায় ভারতে এসেছিলেন আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট। ছিলেন মাত্র তিন ঘণ্টা। এর মধ্য়েই নানা কূটনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা চলেছে দু’পক্ষের মধ্যে। জায়েদের সফর প্রসঙ্গে বিদেশমন্ত্রকের প্রকাশিত তালিকায় দেখা গিয়েছে, বিভিন্ন রাজ্যে বিনিয়োগ থেকে মহাকাশ গবেষণা — নানাবিধ বিষয়ে হাত মেলাতে প্রস্তুত হয়েছে ভারত এবং আরব আমিরশাহি। প্রায় তিন ঘণ্টার এই বৈঠকে দু’দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সীমিত এবং বর্ধিত পরিসরের আলোচনা হয়। বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রের কথায়, বৈঠকের সময় কম হলেও সিদ্ধান্তগুলো অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও বাস্তবমুখী।

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

    প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে একটি লেটার অব ইন্টেন্ট সই হয়, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে যৌথ প্রতিরক্ষা উৎপাদন ও প্রযুক্তি উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। মহাকাশ ক্ষেত্রে দু’টি লঞ্চ সুবিধা এবং স্যাটেলাইট প্রস্তুত কারখানা তৈরির জন্যও চুক্তি হয়েছে, যা দু’দেশের যৌথ মহাকাশ অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে।

    জ্বালানি নিরাপত্তা

    বৈঠকের মূল ফোকাস ছিল জ্বালানি নিরাপত্তা। শক্তি খাতে আমিরাত প্রতি বছর ভারতের জন্য ০.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন এলএনজি সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ফলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তায় ইউএই দ্বিতীয় বৃহত্তম সরবরাহকারী হিসেবে ভূমিকা নেবে। ভারত ও আমিরশাহি স্বাগত জানিয়েছে এইচপিসিএল (HPCL) এবং এডিএনওসি (ADNOC Gas)–এর মধ্যে ১০ বছরের এলএনজি (LNG) সরবরাহ চুক্তি স্বাক্ষরকে (India UAE energy deal)। এই চুক্তি অনুযায়ী ২০২৮ সাল থেকে ভারত বছরে ০.৫ মিলিয়ন টন এলএনজি পাবে। এর ফলে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি চাহিদা আরও স্থিতিশীল হবে।

    পরমাণু শক্তি ব্যবহার

    শান্তিপূর্ণ পরমাণু শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দু’দেশের মধ্যে সহযোগিতার দরজা খোলা হচ্ছে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। প্রথমবারের মতো দুই দেশ বেসামরিক পারমাণবিক শক্তিতে যৌথ উদ্যোগ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পারমাণবিক চুল্লি তৈরিতে সব ক্ষেত্রেই সহযোগিতা বাড়ানো হবে। ভারতের নতুন শান্তি (SHANTI) আইন আন্তর্জাতিক পারমাণবিক সহযোগিতার পথ আরও সহজ করবে বলে দুই পক্ষই মত প্রকাশ করেছে।

    এআই, ডেটা ও ডিজিটাল সহযোগিতা

    অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমিরাতের পক্ষ থেকে গুজরাটের ধোলেরা স্পেশাল ইনভেস্টমেন্ট রিজিয়ন, ডেটা সেন্টার, সুপার কম্পিউটিং এবং এআই সংক্রান্ত প্রকল্পে বিনিয়োগের ঘোষণা এসেছে। ‘ডেটা এম্বাসি’ ধারণা নিয়েও দুই পক্ষ আলোচনা করেছে, যা সার্বভৌম ডেটা ব্যবস্থার নতুন কাঠামো তৈরি করতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদীয়মান প্রযুক্তি ছিল আলোচনার কেন্দ্রে (India UAE AI cooperation)। দুই দেশ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ভারতে একটি সুপারকম্পিউটিং ক্লাস্টার গড়ে তোলা হবে। আমিরশাহি ডেটা সেন্টারে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। ডিজিটাল এমবাসি নির্মাণের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে। শেখ মহম্মদ ২০২৬ সালে ভারতে এআই ইমপ্যাক্ট সামিট (AI Impact Summit) আয়োজনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

    মহাকাশ গবেষণা

    একই ভাবে মহাকাশ গবেষণার স্বার্থেও একটি লেটার অব ইনটেন্ট স্বাক্ষর করেছে ভারত-আরব আমিরশাহি। এর ফলে উপগ্রহ তৈরি থেকে লঞ্চিং- স্পেস সেক্টরে যৌথ উদ্যোগ বাড়বে।

    অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগ

    খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, তা ভারতীয় কৃষক ও আমিরাতের খাদ্য সরবরাহ চাহিদা। উভয় দিকেই সুবিধা দেবে। এই আলোচনায় বিশেষ জায়গা পেয়েছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য। ২০৩২ সালের মধ্য়ে ভারত-আরব আমিরশাহির দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য দ্বিগুণ করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে নয়াদিল্লি-আবু ধাবি। টার্গেট ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গুজরাটে তৈরি হবে আবু ধাবি ব্যাঙ্ক ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের অফিস। বাড়বে কর্মসংস্থান, প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ।

    সন্ত্রাসবাদ নিয়ে একমত

    সন্ত্রাসবাদ নিয়ে দু’দেশই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ-সহ সব ধরনের জঙ্গি কার্যকলাপের নিন্দা করেছেন আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট। দুই দেশ একটি কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে প্রাথমিক চুক্তিপত্র (Letter of Intent) সই করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন শাখার সফর ও যৌথ মহড়া দু’দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। দুই নেতা সীমান্ত-পার সন্ত্রাসবাদ নিয়ে যৌথভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবিও তুলেছেন।

    ‘হাউজ অফ ইন্ডিয়া’ প্রতিষ্ঠা

    আবুধাবিতে ৪৫ লক্ষ ভারতীয় বাসিন্দার জন্য ‘হাউজ অফ ইন্ডিয়া’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হয়েছে, যা সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক সহায়তার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। পাশাপাশি বাণিজ্য বৃদ্ধি, যুব বিনিময় কর্মসূচি, পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠা, এসব বিষয়েও দু’দেশ একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।

    আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়

    ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। দুই দেশের মধ্যে স্থানীয় মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, আর্থিক সহযোগিতা চুক্তি, দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি রয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত একাধিক দীর্ঘস্থায়ী চুক্তিও রয়েছে নয়াদিল্লি-আবু ধাবির। ২০১৯ সালের অগস্টে মোদির আবু ধাবি সফরের সময় তাঁর হাতে সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘অর্ডার অব জায়েদ’ তুলে দিয়ে, নয়াদিল্লির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক মিত্রতা আরও বাড়ানোর স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। আবু ধাবির তৎকালীন শাসক জায়েদ ২০২২ সালে সে দেশের প্রেসিডেন্ট হয়েছেন। দুই নেতা পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। আমিরশাহি ২০২৬ সালে ভারতের ব্রিকস (BRICS) সভাপতিত্বকে সমর্থন করেছে। ভারত সমর্থন করেছে আমিরশাহির জল সম্মেলন (UN Water Conference 2026)-কে।

  • Pakistan: পাকিস্তানে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ কমান্ডারের

    Pakistan: পাকিস্তানে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ কমান্ডারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানে (Pakistan) রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে লস্কর-ই-তৈবার (এলইটি) (Lashkar E Taiba) শীর্ষ কমান্ডার আবদুল গফফারের। এর ফলে পাকিস্তানের মাটিতে একের পর এক জঙ্গির অস্বাভাবিক মৃত্যুর তালিকায় তাঁর নাম যুক্ত হল। জানা গিয়েছে, আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে এই ঘটনা ঘটে। তবে তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে পরিস্থিতি এখনও স্পষ্ট নয়, যা নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা মহলে নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

    আবদুল গফফার (Pakistan)

    আবদুল গফফারকে লস্কর-ই-তৈবার একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হত। সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। এর আগে একটি ছবিতে তাঁকে দেখা গিয়েছিল লস্কর প্রতিষ্ঠাতা ও আন্তর্জাতিকভাবে ঘোষিত জঙ্গি হাফিজ সইদের ছেলের সঙ্গে। সেই ছবি গফফারের প্রভাব ও জঙ্গি নেটওয়ার্কের অভ্যন্তরীণ মহলে তাঁর প্রবেশাধিকারকে স্পষ্ট করেছিল।গফফারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর লস্করের শীর্ষ নেতৃত্ব জোর ধাক্কা খেয়েছে বলে সূত্রের দাবি। এমনকি হাফিজ সইদও সম্পূর্ণভাবে হতবাক হয়ে গিয়েছেন। আরও এক শীর্ষ জঙ্গির আকস্মিক মৃত্যু পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে যেসব জঙ্গিগোষ্ঠী লালন-পালন করেছে, সেই গোটা জঙ্গি পরিকাঠামোর মধ্যেই ভয়ের আবহ তৈরি করেছে। গফফারের মৃত্যু একটি সুস্পষ্ট ও ক্রমবর্ধমান ধারার মধ্যেই পড়ছে। ২০২৫ সালের জুন মাসে ‘অর্গানাইজার’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি বিস্তারিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অন্তত ৩২ জন জঙ্গি অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হয়েছে, যাদের বড় অংশই পাকিস্তানের ভেতরে মারা গিয়েছে। এদের মধ্যে লস্কর-ই-তৈবা, জইশ-ই-মহম্মদ এবং পাকিস্তান-সমর্থিত অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের উচ্চমূল্যের অপারেটিভরা রয়েছে, যারা ভারতে জঙ্গি হামলার জন্য দায়ী (Pakistan)।

    একের পর এক খতম

    বিভিন্ন সময় যাঁরা নিহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, সাইফুল্লাহ খালিদ। লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ জঙ্গি, সিন্ধে নিহত হন। বেঙ্গালুরুর আইআইএসসিতে গুলি চালানো এবং রামপুর সিআরপিএফ ক্যাম্পে হামলার মূল চক্রী বলে অভিযুক্ত ছিলেন তিনি (Lashkar E Taiba)। আবু কাতাল। হাফিজ সইদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, ঝিলমে গুলিতে নিহত হন। মুফতি শাহ মীর। পাকিস্তানের আইএসআই-ঘনিষ্ঠ ধর্মীয় নেতা, কুলভূষণ যাদব অপহরণ মামলায় অভিযুক্ত। খুন হয়েছেন বালুচিস্তানে। মাওলানা কাশিফ আলি। লস্করের রাজনৈতিক শাখার প্রধান ও হাফিজ সইদের শ্যালক, অজ্ঞাত হামলাকারীদের হাতে নিহত। মুফতি ফয়্যাজ। জইশ-ই-মহম্মদের রিক্রুটার, অজ্ঞাত হামলাকারীদের হাতে মৃত্যু। আবদুল্লাহ শাহিন। লস্করের সিনিয়র (Pakistan) প্রশিক্ষক, রহস্যজনকভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু। হাজি উমর গুল। লস্করের অর্থদাতা,  সহযোগীদের সঙ্গে গুলিতে নিহত। হাবিবুল্লাহ। কুখ্যাত লস্কর রিক্রুটার,  অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের হাতে নিহত। আদনান আহমেদ। ২০১৬ সালের পাম্পোর সিআরপিএফ গণহত্যার মূল চক্রী, করাচিতে নিহত। ইউনুস খান। জইশ-ই-মহম্মদের রিক্রুটার, বাজৌরে গুলিতে নিহত। মোহাম্মদ মুজাম্মিল ও নঈমুর রহমান। লস্করের ক্যাডার,  সিয়ালকোটে গুলিতে নিহত। মওলানা রহিম উল্লাহ তারিক। জইশ-ই-মহম্মদের নেতা, করাচিতে খতম। আক্রম খান ওরফে আক্রম গাজি। লস্করের প্রাক্তন নিয়োগ প্রধান, বাজৌরে নিহত। খাজা শাহিদ। সুনজওয়ান হামলার সঙ্গে যুক্ত,  নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে শিরঃচ্ছিন্ন অবস্থায় উদ্ধার দেহ। আমির সরফরাজ তাম্বা। সরবজিৎ সিং হত্যাকাণ্ডে যুক্ত, লাহোরে নিহত। আসিম জামিল। উগ্রপন্থী ধর্মপ্রচারকের ছেলে, খানেওয়ালে নিহত। দাউদ মালিক। মওলানা মাসুদ আজহারের সহযোগী, উত্তর ওয়াজিরিস্তানে গুলিতে মৃত্যু (Lashkar E Taiba)।

    বিমান ছিনতাইয়ে যুক্ত

    এছাড়াও আইসি-৮১৪ বিমান (Pakistan) ছিনতাই, হিজবুল মুজাহিদিনের লজিস্টিক সহায়তা এবং পাকিস্তান থেকে পরিচালিত বিভিন্ন চরমপন্থী সেলের সঙ্গে যুক্ত বহু জঙ্গি একইভাবে অজ্ঞাত হামলাকারীদের হাতে নিহত হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডগুলি পাকিস্তানের জঙ্গি পরিকাঠামোর ভঙ্গুর ভিতকে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। কয়েক দশক ধরে রাষ্ট্রীয় আশ্রয়ে দায়মুক্তির সঙ্গে কাজ করা জঙ্গি নেতারা এখন একের পর এক হিংস্র পরিণতির মুখোমুখি হচ্ছেন, যার ব্যাখ্যা বা স্বচ্ছ তদন্ত পাকিস্তান কোনওটিই করছে না। রহস্যজনক সড়ক দুর্ঘটনা, আকস্মিক গুলি চালানো এবং অজানা হামলা এখন যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

    দীর্ঘায়িত হচ্ছে তালিকা

    আবদুল গফফারের মৃত্যু আরও একবার এই ধারণাকে জোরালো করল যে, পাকিস্তান ক্রমশই সেই শক্তিগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে, যাদের একসময় সে নিজেই সৃষ্টি করেছিল ও আশ্রয় দিয়েছিল। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, ক্ষমতার লড়াই বা নীরব ‘ক্লিন-আপ অপারেশন’, কারণ যাই হোক না কেন, ফল একই- শীর্ষ জঙ্গিরা একে একে খতম হচ্ছে (Lashkar E Taiba)। মৃত চরমপন্থীদের তালিকা যত দীর্ঘ হচ্ছে, বার্তাও তত স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পাকিস্তানের পৃষ্ঠপোষকতায় বেড়ে ওঠা সন্ত্রাসের বাস্তুতন্ত্র এখন নিজের দিকেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এতে সংগঠনের কমান্ডাররাই হয়ে উঠছেন সবচেয়ে বেশি অ-সুরক্ষিত। সেই তালিকায়ই সর্বশেষ সংযোজন, আবদুল গফফার (Pakistan)।

     

  • Happy Hormones: ‘সুখ’ হরমোন কমাতে পারে রোগের ঝুঁকি! কীভাবে শরীরে এই হরমোনের ক্ষরণ স্বাভাবিক হবে?

    Happy Hormones: ‘সুখ’ হরমোন কমাতে পারে রোগের ঝুঁকি! কীভাবে শরীরে এই হরমোনের ক্ষরণ স্বাভাবিক হবে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    শরীরে রক্তচাপের ওঠানামা হোক কিংবা অন্ত্রের সমস্যা, মানসিক অবসাদ-বিষন্নতার মতো জটিল সমস্যা, সবটাই নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে একটি হরমোন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে ডোপামিন হরমোন নামে একটি হরমোনের ভারসাম্য ঠিকমতো থাকলে একাধিক শারীরিক ও মানসিক জটিলতা কমানো সহজ হয়। ডোপামিন হরমোনকে ‘সুখ’ হরমোন বা ‘feel good’ হরমোন বা ‘happy’ হরমোন বলা হয়ে থাকে। এই সুখ হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে নানান সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে কয়েকটি বিষয়ে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন।

    কোন কোন রোগ নিয়ন্ত্রণে ডোপামিন হরমোন সাহায্য করে?

    রোগ নিরাময়ে সরাসরি ভূমিকা না থাকলেও ডোপামিন হরমোন একাধিক রোগ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সাহায্য করে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শরীরে রক্তচাপের ওঠানামা স্বাভাবিক রাখে এই হরমোন। হরমোনের ভারসাম্যের সঙ্গে হৃদপিন্ড, ফুসফুস, অন্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যকারিতা ওতোপ্রতোভাবে জড়িত। ডোপামিন হরমোন স্ট্রেস হরমোনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তাই রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে। উচ্চ রক্তচাপ না থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই জটিল অস্ত্রোপচারের পরে শরীরে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে কৃত্রিম ডোপামিন হরমোন দেওয়া হয়। কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থায় শরীরের নিজস্ব উপায়ে এই হরমোন ক্ষরণ ঠিকমতো হলে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে।

    অন্ত্রের সমস্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য এই হরমোন বিশেষ উপকারি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকেই বারবার মলত্যাগ করার প্রবণতা বা ইরিটেবল বাওয়েল সিন্ড্রোমের মতো উপসর্গ কমাতে এই সুখ হরমোন বিশেষ সাহায্য করে। বিপাক ক্রিয়া যাতে ঠিকমতো হয়, সেই কাজেও এই হরমোন বিশেষ উপকারি। ডোপামিন হরমোন সবচেয়ে বেশি উপকারি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই হরমোনের ভারসাম্য ঠিকমতো থাকলে অবসাদ, বিষন্নতা, উদ্বেগের মতো মানসিক সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

    ডোপামিন হরমোনের স্বাভাবিক ক্ষরণে কোন খাবার সাহায্য করে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীর সুস্থ রাখার চাবিকাঠি খাবারের মধ্যেই রয়েছে। শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং স্বাভাবিক ভাবে হরমোন ক্ষরণ করার জন্য খাবারেই ভরসা রাখছেন তাঁরা।

    • ● পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রাণীজ প্রোটিন ডোপামিন হরমোনের স্বাভাবিক ক্ষরণে সাহায্য করে। তাঁরা জানাচ্ছেন, ডিম, চিকেন, মাছ কিংবা মাংসের পদ খেলে শরীরে এই হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। টাইরোসিন নামে অ‌্যামিনো অ্যাসিড এই হরমোন উৎপাদনে বিশেষ সাহায্য করে। আর প্রাণীজ প্রোটিনে এই অ্যাসিড পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে।
    • ● কলা, অ্যাভোকাডো, ব্রোকলি, পালং শাকের মতো সব্জি ও ফল ডোপামিন হরমোন ক্ষরণে সাহায্য করে‌। খনিজ পদার্থ এবং ভিটামিনে ভরপুর এই সব্জি ও ফল বিশেষ উপকারি।
    • ● কাঠবাদাম ও কুমড়োর বীজ ম্যাগনেশিয়াম ও টাইরোসিন ভরপুর। তাই ডোপামিন হরমোনের ভারসাম্য রাখতে বিশেষ সাহায্য করে।
    • ● টক দই, পনীরেও পর্যাপ্ত পরিমাণে টাইরোসিন থাকে। এই খাবারগুলো ডোপামিন হরমোন ক্ষরণে সাহায্য করে।
    • ● তবে খাবারের পাশপাশি শরীরে ডোপামিন হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে নিয়মিত শারীরিক কসরত করা, ভালো গান শোনার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • EU: ট্রাম্পের নয়া শুল্ক আরোপ, প্রতিশোধ নিতে তৈরি হচ্ছে ইউরোপ!

    EU: ট্রাম্পের নয়া শুল্ক আরোপ, প্রতিশোধ নিতে তৈরি হচ্ছে ইউরোপ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (EU) ঘোষিত নয়া শুল্ক আরোপের পর তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী বাণিজ্যিক প্রতিশোধমূলক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে (US Tariffs) ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। গ্রিনল্যান্ডকে সমর্থন করা ইউরোপীয় দেশগুলির বিরুদ্ধে এই শুল্ক আরোপের ঘোষণার ফলে ২৭ সদস্যের এই জোটের নেতাদের মধ্যে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে এবং এর মধ্যে দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইউরোপ সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

    গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি (EU)

    এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকিকে ঘিরে প্রথমবারের মতো ইইউ তাদের তথাকথিত ‘ট্রেড বাজুকা’ ব্যবহারের কথা ভাববে। শনিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন এবং ব্রিটেন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। তিনি বলেন, “গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে কোনও সমঝোতা না হলে ১ জুন থেকে এই শুল্ক বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে।” ট্রাম্প দাবি করেন, ডেনমার্কের অধীনস্থ এই ভূখণ্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তিনি বলপ্রয়োগের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি। গ্রিনল্যান্ডের পক্ষে এসব ইউরোপীয় দেশের অবস্থানের পরেই এই উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং ওয়াশিংটন ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে বিরোধ তীব্রতর হয়েছে।

    ট্রেড বাজুকা’

    ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার ফলে কূটনৈতিক সম্পর্কে দ্রুত চাপ সৃষ্টি হয় এবং রবিবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় দেশগুলির প্রতিনিধিদের জরুরি বৈঠকে ডাকা হয় (US Tariffs)। বৈঠকে তাৎক্ষণিক পাল্টা পদক্ষেপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইইউ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ বলেন, “ইইউর ‘ট্রেড বাজুকা’ প্রথমবারের মতো ব্যবহারের এখনই সময় (EU)।” ‘ট্রেড বাজুকা’ বলতে বোঝানো হয় অ্যান্টি-কোয়ার্শন ইনস্ট্রুমেন্ট (ACI)—একটি ব্যবস্থা, যার লক্ষ্য ইইউকে অ-ইইউ দেশগুলির অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় আরও সক্ষম করে তোলা। এই ব্যবস্থার আওতায় ইইউ পাল্টা শুল্ক আরোপ করতে পারবে, ইউরোপের একক বাজারে মার্কিন কোম্পানিগুলির প্রবেশ সীমিত করতে পারবে এবং লাভজনক ইইউ চুক্তির দরপত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলির অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করতে পারবে। এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্যই হল স্পষ্ট বার্তা দেওয়া—ইইউ তার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ইইউ কর্তারা জানিয়েছেন, ‘ট্রেড বাজুকা’ কেবল শুল্ক আরোপেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, এর মধ্যে রফতানি নিয়ন্ত্রণ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত বিধিনিষেধও থাকতে পারে (EU)।

    সাময়িক বাণিজ্য সমঝোতা

    জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সাময়িক বাণিজ্য সমঝোতার কারণে যে ৯৩ বিলিয়ন ইউরোর পাল্টা শুল্ক আরোপ স্থগিত (US Tariffs) রাখা হয়েছিল, ইইউ এখন সেগুলি কার্যকর করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে। ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বর্তমান পরিস্থিতিকে নজিরবিহীন বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগের কোনও বিরোধেই এত কঠোর ও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপের কথা ভাবা হয়নি (EU)। পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র–ইইউ আলোচনার ওপর। তবে ইউরোপীয় নেতারা স্পষ্ট করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি শুল্কের হুমকি বহাল রাখে বা আরও বাড়ায়, তাহলে তারা দ্রুত পদক্ষেপ করতে প্রস্তুত। ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির প্রতিক্রিয়ায় রবিবার আটটি ইউরোপীয় দেশ যৌথ বিবৃতি দিয়ে গ্রিনল্যান্ডের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের সঙ্গে সম্পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছি।” এতে আর্কটিক অঞ্চলে যৌথ নিরাপত্তা স্বার্থের কথাও জোর দিয়ে উল্লেখ করা হয়।

    আর্কটিক নিরাপত্তা

    ন্যাটোর সদস্য দেশগুলি জানায়, আর্কটিক নিরাপত্তা জোরদার করাকে তারা একটি অভিন্ন ট্রান্স-আটলান্টিক অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে (EU)। বিবৃতিতে এই বলেও সতর্ক করা হয়, ওয়াশিংটনের শুল্ক হুমকি দীর্ঘদিনের মিত্রতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এবং এর ফলে ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কে একটি বিপজ্জনক নিম্নমুখী চক্র শুরু হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে (US Tariffs)। ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি আন্তোনিও কোস্তা বলেন, “নতুন শুল্ক হুমকির মুখে আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় ইইউ কঠোর অবস্থান নেবে। ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লেয়েনও একই উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “শুল্ক আরোপ ইউরোপ–আমেরিকার সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।” এদিকে, ব্রিটেনে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার রবিবার ফোনে ট্রাম্পের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ন্যাটোভুক্ত মিত্রদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে শুল্ককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা ভুল এবং এটি ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ককে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে (EU)।”

    ডাউনিং স্ট্রিটের বিবৃতি

    ডাউনিং স্ট্রিটের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “উত্তর মেরু অঞ্চলের নিরাপত্তা ইউরো-আটলান্টিক স্বার্থ রক্ষার জন্য সব ন্যাটো মিত্রেরই অগ্রাধিকার।” এতে আরও বলা হয়, যৌথ ন্যাটো নিরাপত্তা জোরদারের চেষ্টা করার জন্য মিত্রদের ওপর শুল্ক চাপানো কোনওভাবেই যুক্তিযুক্তি ন্যায্য নয় (US Tariffs)। ইইউ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কোনও আপসের পথে হাঁটতে রাজি নয় তারা। মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুমকির জবাবে ইইউ নেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা স্থগিত রাখবেন। গত বছরের জুলাই মাসে শুরু হওয়া এই আলোচনা স্থগিত বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে নিশ্চিত করেছেন ইউরোপীয় পিপলস পার্টির সহ-সভাপতি সিগফ্রিড মুরেসেন (EU)। মুরেসেন জানান, ইইউ দ্রুত আমেরিকার সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত ছিল। প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইইউয়ে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক সম্পূর্ণ তুলে নেওয়ার কথা ছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও গভীর করা। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আপাতত ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    বাণিজ্য আলোচনা

    প্রসঙ্গত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা শুরু হয়েছিল গত বছরের জুলাই মাসে। একে ট্রান্সআটলান্টিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থিতিশীল করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপে এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েই গুরুতর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে(EU)। ট্রাম্পের দাবি, আর্কটিক অঞ্চলে চিন ও রাশিয়া তাদের প্রভাব বাড়াচ্ছে। তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের মতে, গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান ও বিপুল খনিজ সম্পদ একে আমেরিকার নিরাপত্তা স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে (US Tariffs)। ডেনমার্ক ও ইইউ ট্রাম্পের এই প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠায় জার্মানি, সুইডেন ও ফ্রান্স গ্রিনল্যান্ডে ছোট আকারের সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে বলেও অসমর্থিত একটি সূত্রের খবর। তাদের আশঙ্কা, ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন পদক্ষেপের মতো ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতেও আরও আক্রমণাত্মক কোনও পদক্ষেপ নিতে পারেন। ডেনমার্কও ওই অঞ্চলে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে।

    উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা

    কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ সতর্ক করে দিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যদি ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপ নেন, তাহলে উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা (ন্যাটো) ভেঙে পড়তে পারে। একই সঙ্গে ইইউ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বিবেচনা করছে বলে জানা গিয়েছে (US Tariffs)। উল্লেখ্য, এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলে গুগল, মেটা এবং এক্সের মতো মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টদের বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। কারণ ইউরোপজুড়ে তাদের বিশাল ব্যবসায়িক স্বার্থ জড়িত। ইউরোপীয় কর্তাদের মতে, ওয়াশিংটনকে আরও উত্তেজনা বাড়ানো থেকে বিরত রাখতে শক্ত অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা জরুরি হতে পারে।

    ক্ষতিগ্রস্ত হবেন মার্কিন ভোক্তারাই

    এদিকে, একাধিক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের ফলে ইউরোপের চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন মার্কিন ভোক্তারাই। কারণ চড়া শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ইউরোপীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। লেগো ও ফেরারির মতো বিলাসবহুল ও জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের দাম ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এই ক্রমবর্ধমান বিরোধ ন্যাটোর ভাঙন ঘটাতে পারে এবং বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকেও আরও দুর্বল করে তুলতে পারে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক দেশই মনে করে আন্তর্জাতিক অংশীদার হিসেবে ট্রাম্পকে বিশ্বাস করা যায় না (US Tariffs)। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর সঙ্গে কোনও চুক্তিতে পৌঁছনো বুদ্ধিমানের কাজ হবে না বলেও অভিমত। কারণ এই ধরনের অবস্থার মধ্যে আলোচনা চালিয়ে গেলে তা মার্কিন প্রশাসনের আরও একতরফা ও অস্থিতিশীল পদক্ষেপকে উৎসাহিত করবে বলেই আশঙ্কা।

     

  • Daily Horoscope 20 January 2026: আর্থিক পরিস্থিতি মজবুত হবে এই রাশির জাতকদের

    Daily Horoscope 20 January 2026: আর্থিক পরিস্থিতি মজবুত হবে এই রাশির জাতকদের

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ

    ১) নানান কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন, তবে ভয় পাবেন না।

    ২) প্রচুর দায়িত্ব থাকবে, সাহসের সঙ্গে নিজের সেই দায়িত্ব পূরণ করতে পারবেন।

    ৩) যে কোনও কাজ সম্পন্ন হতে থাকবে।

    বৃষ

    ১) কোনও নতুন কাজ শুরুর পরিকল্পনা করে থাকলে সময় অনুকূল নয়।

    ২) ভাগ্য আপনার পাশে থাকবে না।

    ৩) সারাদিনের কাজ সম্পন্ন করে সন্ধ্যাবেলা পরিবারের সদস্যের সঙ্গে সময় কাটাবেন।

    মিথুন

    ১) আর্থিক পরিস্থিতি মজবুত হবে।

    ২) ব্যবসায়ীদের জন্য আজকের দিনটি সাধারণ।

    ৩) ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষকদের আশীর্বাদ পাবেন।

    কর্কট

    ১) শুভ কাজে রুচি দেখাবেন।

    ২) আপনার সিদ্ধান্তের দ্বারা ভবিষ্যতে লাভান্বিত হবেন।

    ৩) কোনও সঙ্গী ব্যবসায়ে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, তাই সতর্ক থাকুন।

    সিংহ

    ১) পুরনো বিবাদের সমাধান হবে।

    ২) মনের মধ্যে আনন্দ জাগবে।

    ৩) প্রেমীর কাছ থেকে কোনও উপহার পেতে পারেন।

    কন্যা

    ১) সেবা ও শুভ কাজে অর্থ ব্যয় করবেন।

    ২) মনের মধ্যে আনন্দ অনুভূতি থাকবে।

    ৩) জীবনসঙ্গীর ওপর কোনও কারণে রেগে থাকবেন।

    তুলা

    ১) অপ্রয়োজনীয় দৌড়ঝাপের কারণে পারিবারিক জীবনে অশান্তি থাকবে।

    ২) সন্ধ্যাবেলা স্বস্তি অনুভব করতে পারেন।

    ৩) পরিবারের সদস্যের স্বাস্থ্য সমস্যা থাকবে।

    বৃশ্চিক

    ১) আজকের দিনটি চ্যালেঞ্জে পরিপূর্ণ থাকবে।

    ২) গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা ও চুক্তি আপনার অনুকূলে থাকবে।

    ৩) বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর ভালো সময় কাটাবেন।

    ধনু

    ১) বন্ধুদের কাছ থেকে ধন লাভ।

    ২) সন্ধ্যাবেলা পরিজনদের সঙ্গে শুভ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন।

    ৩) পরিবারের ছোট সদস্যদের সঙ্গে আনন্দে সময় কাটাবেন।

    মকর

    ১) আটকে থাকা টাকা ফিরে পেতে পারেন।

    ২) উচ্চাধিকারিকদের সাহায্যে জমি-সম্পত্তি সংক্রান্ত কোনও বিবাদের সমাধান হবে।

    ৩) ব্যবসায়ে ভালো মুনাফা হবে।

    কুম্ভ

    ১) ব্যবসায়ে কোনও বয়স্ক মহিলার আশীর্বাদ পেতে পারেন।

    ২) আজ উন্নতির বিশেষ সুযোগ পাবেন।

    ৩) ধনলাভের সম্ভাবনা রয়েছে।

    মীন

    ১) আর্থিক পরিস্থিতি মজবুত হবে।

    ২) ভবিষ্যৎ চিন্তা কমবে।

    ৩) ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষায় সাফল্য লাভ করতে পারবেন।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না

  • BJP: বিজেপির জাতীয় সভাপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি তুঙ্গে, কার হাতে যাচ্ছে রশি?

    BJP: বিজেপির জাতীয় সভাপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি তুঙ্গে, কার হাতে যাচ্ছে রশি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে বিজেপির (BJP) সদর দফতরে তৎপরতা তুঙ্গে। দলটি তাদের পরবর্তী জাতীয় সভাপতিকে নির্বাচনের (Election Process) প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই পদে মনোনয়ন জমা পড়বে ১৯ জানুয়ারি, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হবে ২০ জানুয়ারি। দলীয় সূত্রে খবর, বর্তমান কার্যনির্বাহী সভাপতি নীতীন নাবিন কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে চলেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং বিদায়ী সভাপতি জগৎ প্রকাশ নাড্ডা-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতারা তাঁর নাম প্রস্তাব করবেন বলে জানা যাচ্ছে। অন্য কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় ফল কার্যত নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে বিজেপির জাতীয় সভাপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া ঘিরে বরাবরই প্রশ্ন ওঠে, দলের অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রণালী কতটা গণতান্ত্রিক।

    বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল (BJP)

    নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে পরিচালিত ভোটের মতো নয় বিজেপির জাতীয় সভাপতি নির্বাচন। এটি পুরোপুরি দলের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয় এবং এতে ভারতের নির্বাচন কমিশনের কোনও ভূমিকা থাকে না। দল একে একটি বেসরকারি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবেই দেখে, যেমন কোনও সমিতি বা সংগঠন তাদের পদাধিকারী নির্বাচন করে। নিজেদের বিশ্বের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে দাবি করা বিজেপির সদস্যসংখ্যা ১৮ কোটির বেশি হলেও সাধারণ কর্মী বা সমর্থকরা সরাসরি জাতীয় সভাপতির জন্য ভোট দেন না। নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে দলের সাংগঠনিক কাঠামোর মাধ্যমে হয়, যাকে বিজেপি তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি বলেই মনে করে। বিজেপির সংবিধানে নীচ থেকে ওপরের দিকে নির্বাচনের একটি সুস্পষ্ট কাঠামো নির্ধারিত রয়েছে। বুথ বা স্থানীয় স্তর থেকে শুরু করে গ্রাম বা শহর, মণ্ডল, জেলা, রাজ্য এবং শেষে জাতীয় স্তর পর্যন্ত এই সাংগঠনিক নির্বাচন (BJP) সম্পন্ন হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটি দলের অন্দরে “সংগঠন পর্ব” নামে পরিচিত এবং এটি ছ’বছরে একবার অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান সংগঠন পর্ব শুরু হয়েছে ২০২৪–২৫ সালে এবং এখন তা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    প্রক্রিয়া শুরু

    এই প্রক্রিয়া শুরু হয় সদস্য সংগ্রহ অভিযান দিয়ে। ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে যে কোনও ভারতীয় নাগরিক, যিনি দলের মানবতাবাদ এবং আদর্শ মেনে (Election Process) নেন, তিনি প্রাথমিক সদস্য হতে পারেন। সদস্যপদের মেয়াদ ছ’বছর এবং তা নবীকরণযোগ্য।এর মধ্য থেকে ‘সক্রিয় সদস্য’ বাছাই করা হয়। সক্রিয় সদস্য হতে গেলে অন্তত তিন বছর দলীয় কাজ করতে হয়, পার্টি ফান্ডে ১০০ টাকা অনুদান দিতে হয়, আন্দোলন বা কর্মসূচিতে অংশ নিতে হয় এবং দলীয় প্রকাশনার গ্রাহক হতে হয়। শুধুমাত্র সক্রিয় সদস্যরাই সাংগঠনিক নির্বাচনে ভোট দিতে বা উচ্চপদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। বিজেপির সংবিধানের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জাতীয় সভাপতি নির্বাচিত হন একটি বিশেষ ইলেক্টোরাল কলেজের মাধ্যমে। এই কলেজে জাতীয় পরিষদ ও রাজ্য পরিষদের সদস্যরা থাকেন। লোকসভা আসনের সংখ্যার অনুপাতে রাজ্য থেকে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন, পাশাপাশি সাংসদদের মনোনীত প্রতিনিধিরাও থাকেন (BJP)।

    রাজ্য পরিষদের সদস্য

    রাজ্য পরিষদের সদস্যরা জেলা ইউনিট থেকে নির্বাচিত হন এবং বিধায়ক ও সাংসদদের মনোনীত প্রতিনিধিরাও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকেন। এবার ইলেক্টোরাল কলেজে প্রায় ৫,৭০০ জন সদস্য রয়েছেন। দলীয় নিয়ম অনুযায়ী, অন্তত অর্ধেক রাজ্যে (প্রায় ১৯টি রাজ্য) সাংগঠনিক নির্বাচন শেষ না হলে জাতীয় সভাপতি নির্বাচন করা যায় না। সেই শর্ত এবার পূরণ হয়েছে। বিজেপির সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সভাপতি হতে গেলে কঠোর শর্ত পূরণ করতে হয়। প্রার্থীকে অন্তত ১৫ বছর প্রাথমিক সদস্য এবং অন্তত চার মেয়াদ ধরে সক্রিয় সদস্য থাকতে হয়, যা সাধারণত প্রায় ১২ বছরের সাংগঠনিক কাজের সমান। মনোনয়ন জমা দিতে হলে ইলেক্টোরাল কলেজের অন্তত ২০ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন, যাঁরা কমপক্ষে পাঁচটি ভিন্ন রাজ্য থেকে হতে হবে, যেসব রাজ্যে জাতীয় পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। প্রার্থীকে লিখিত সম্মতিও দিতে হয় (Election Process)।

    ইলেক্টোরাল কলেজের তালিকা

    এই নির্বাচনের জন্য ১৬ জানুয়ারি ইলেক্টোরাল কলেজের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ১৯ জানুয়ারি দুপুর ২টা থেকে ৪টার মধ্যে মনোনয়ন জমা নেওয়া হবে এবং সেদিনই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। সন্ধ্যায় মনোনয়ন প্রত্যাহারের সুযোগ থাকবে। যদি একাধিক বৈধ মনোনয়ন থাকে, তবে ২০ জানুয়ারি গোপন ব্যালটে ভোট হবে এবং সেদিনই ফল ঘোষণা করা হবে। তবে যদি একজন প্রার্থীই থাকেন, তবে তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে, এবার যা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি (BJP)।বিজেপির ৪৫ বছরের ইতিহাসে কখনও জাতীয় সভাপতি পদে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচন হয়নি। প্রতিবারই সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সর্বসম্মতি ক্রমে। দলীয় সূত্রের মতে, এটি বিজেপির অভ্যন্তরীণ ঐকমত্য ও সমন্বয়ের সংস্কৃতির ফল।

    আরএসএস

    বিজেপি সংবিধানে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) নাম উল্লেখ না থাকলেও, বাস্তবে এই প্রক্রিয়ায় তাদের গুরুত্বপূর্ণ অনানুষ্ঠানিক ভূমিকা থাকে। আরএসএসের শীর্ষ নেতারা এবং বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, নাম চূড়ান্ত করার আগে আলোচনা করে নেন। সংগঠনের মহাসচিব, যিনি সাধারণত আরএসএস থেকে আসেন, তিনিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এই পদ্ধতিকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করা হয়, কারণ জাতীয় সভাপতি শুধুই প্রতীকী পদ নয়। তিনি দলের সাংগঠনিক দিশা নির্ধারণ করেন, নির্বাচনী কৌশল দেখাশোনা করেন এবং দল ও সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধনের কাজ করেন। প্রকাশ্য লড়াই দলকে দুর্বল করতে পারে, যা বিজেপি এড়িয়ে চলতে চায় (BJP)।

    জাতীয় সভাপতির মেয়াদ

    বিজেপির সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জাতীয় সভাপতি টানা দুই মেয়াদ, অর্থাৎ মোট ছ’বছর দায়িত্বে থাকতে পারেন। এরপর বিরতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। যদিও বাস্তবে মেয়াদ বাড়ানোর ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে (Election Process)। জেপি নাড্ডা ২০২০ সালের জানুয়ারিতে সভাপতি হন। তাঁর প্রথম মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালে, কিন্তু মেয়াদ বাড়িয়ে তাঁকে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত দায়িত্বে রাখা হয়। বর্তমান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অবশেষে ২০২৬ সালে নতুন সভাপতির দিকে এগোচ্ছে বিজেপি। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হবে ২০ জানুয়ারি। ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিজেপির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন বহু গুরুত্বপূর্ণ নেতা। এঁরা হলেন, অটল বিহারী বাজপেয়ী (১৯৮০–১৯৮৬), লালকৃষ্ণ আডবানি (১৯৮৬–১৯৯১), মুরলী মনোহর যোশী (১৯৯১–১৯৯৩), লালকৃষ্ণ আডবানি (১৯৯৩–১৯৯৮), কুশাভাউ ঠাকরে (১৯৯৮–২০০০),

    বাঙ্গারু লক্ষ্মণ (২০০০–২০০১), কে জনা কৃষ্ণমূর্তি (২০০১–২০০২), এম বেঙ্কাইয়া নাইডু (২০০২–২০০৪), লালকৃষ্ণ আডবানি (২০০৪–২০০৫), রাজনাথ সিং (২০০৬–২০০৯), নীতীন গডকরি (২০০৯–২০১৩), রাজনাথ সিং (২০১৩–২০১৪), অমিত শাহ (২০১৪–২০২০), জগৎ প্রকাশ নাড্ডা (২০২০–২০২৬)।

    অমিত শাহের মেয়াদ

    এর মধ্যে ২০১৪ থেকে ২০২০ পর্যন্ত অমিত শাহের মেয়াদ ছিল দীর্ঘতম ও সবচেয়ে নির্বাচনী সাফল্যপূর্ণ, যখন বিজেপি লোকসভায় ৩০০-এরও বেশি আসন পায়। জেপি নাড্ডার মেয়াদে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং সাংগঠনিক সংহতি বজায় রাখা হয়। বিজেপির জাতীয় সভাপতি নির্বাচনের পদ্ধতি দলটির কেন্দ্রীভূত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ চরিত্র স্পষ্ট করে। সিদ্ধান্ত শীর্ষস্তরে নেওয়া হয় এবং তা নির্বিঘ্নে সংগঠনের সর্বস্তরে বাস্তবায়িত হয়। এতে অভ্যন্তরীণ সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয় এবং ঐক্যের বার্তা দেওয়া যায় (Election Process)। তবে একই সঙ্গে একটি বড় প্রশ্নও থেকে যায়, দল যত বড় হচ্ছে, ভবিষ্যতে কি কখনও শীর্ষ সাংগঠনিক পদে প্রকাশ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাবে? আপাতত বিজেপি তাদের ঐতিহ্যগত সর্বসম্মতির পথেই অবিচল, এবং আসন্ন জাতীয় সভাপতি (BJP) নির্বাচনও সেই পরিচিত পথেই এগোচ্ছে।

     

  • Pak Forces: ৪০টি মসজিদ ধ্বংস করেছে পাকিস্তান, বিস্ফোরক বালোচ নেতা

    Pak Forces: ৪০টি মসজিদ ধ্বংস করেছে পাকিস্তান, বিস্ফোরক বালোচ নেতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pak Forces) বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন বালোচ (Balochistan) জাতির শীর্ষ নেতা তথা মানবাধিকারকর্মী মীর ইয়ার বালোচ। ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশে একের পর এক মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছে। মীর বলেন, “ইসলামাবাদ যখন পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর (পিওজেকে)-তে মসজিদ ‘প্রোফাইলিং’-এর অভিযোগ তুলে ভারতের সমালোচনা করছে, তখন একই সময়ে পাক সেনাবাহিনী বালুচিস্তানে প্রায় ৪০টি মসজিদ ধ্বংস করেছে।”

    পাকিস্তানকে তোপ (Pak Forces)

    কাশ্মীর জুড়ে মসজিদ, ইমাম এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটিগুলির তথ্য সংগ্রহ বা প্রোফাইলিং করার ভারত সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনার প্রেক্ষিতেই মীর এই মন্তব্য করেন। পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ ধর্ম ও বিশ্বাসের স্বাধীনতার মৌলিক অধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন। ইসলামাবাদের ভিত্তিহীন ক্ষোভের তীব্র নিন্দা করে এই বালোচ নেতা বলেন, “পাকিস্তান একটি সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র এবং দেশটি হিন্দু, শিখ, খ্রিস্টান ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের নিপীড়নে জড়িত”। এক্স হ্যান্ডেলে করা এক পোস্টে তিনি বলেন, “রিপাবলিক অব বালুচিস্তান পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ভারতের নীতিগত অবস্থানের পাশে সম্পূর্ণভাবে রয়েছে। যখন পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ধর্মীয় ও জেহাদি উগ্রপন্থীদের ব্যবহার করে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের দমন ও ভীতিপ্রদর্শনের হাতিয়ার বানায়, তখন পাকিস্তানের কোনও নৈতিক অধিকার নেই ভারত, বালুচিস্তান, আফগানিস্তান বা অন্য কাউকে সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে উপদেশ দেওয়ার।”

    কী বললেন বালোচ নেতা

    মীর এও বলেন, “পাকিস্তানের বহিরাগত শক্তি বালুচিস্তান প্রজাতন্ত্রে প্রায় ৪০টি মসজিদ ধ্বংস করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সরাসরি মসজিদে বোমা হামলা, কোরআন পোড়ানো এবং মসজিদের ইমাম বা প্রধানদের অপহরণ (Pak Forces)।” তিনি জানান, প্রথম শিকার হয়েছিল বালুচিস্তান প্রজাতন্ত্রের শাসকের মসজিদ, কালাতের খানের মসজিদ। প্রতিবেশী পাকিস্তানের আক্রমণকারী সেনাবাহিনী ট্যাঙ্ক নিয়ে ঢুকে সাধারণ মানুষের ওপর গোলাবর্ষণ ও কামানের শেল নিক্ষেপ করেছিল। আজও কালাতের খানের মসজিদে মর্টার শেলের চিহ্ন দেখা যায়, যা পাকিস্তানের নিষ্ঠুরতা, দখলদারিত্ব এবং অ-ইসলামিক আচরণের প্রমাণ।

    বালুচিস্তান পাকিস্তানের খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ হলেও অনুন্নত একটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ, যার সীমানা ইরানের সঙ্গে যুক্ত। বালোচ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সূচনা কয়েক দশক আগে, যেখানে বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন, প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং সম্পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি জানানো হয়। এই বিদ্রোহ কখনও তীব্র হয়েছে, কখনও কিছুটা কমেছে, তবে ইসলামাবাদের জন্য এটি দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গিয়েছে।

    ২০২৫ সালের মে মাসে বালোচ জাতীয়তাবাদী নেতারা পাকিস্তান থেকে বালুচিস্তানের (Balochistan) স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তবে অঞ্চলটি এখনও অস্থির। পাকিস্তানি সেনা ও বিদেশি প্রকল্পগুলিকে লক্ষ্য করে বিদ্রোহ অব্যাহত রয়েছে, যার মধ্যে চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (Pak Forces) (সিপিইসি)-এর প্রকল্পগুলিও রয়েছে।

LinkedIn
Share