Blog

  • Jay Prakash Majumdar: এবার পুলিশের জালে জয়প্রকাশ মজুমদার, ১৪ বছর ধরে ফ্ল্যাট জবরদখল ও বৃদ্ধা মালকিনকে হুমকির অভিযোগ

    Jay Prakash Majumdar: এবার পুলিশের জালে জয়প্রকাশ মজুমদার, ১৪ বছর ধরে ফ্ল্যাট জবরদখল ও বৃদ্ধা মালকিনকে হুমকির অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিদায়ী শাসকদলের প্রভাবশালী নেতাদের আইনি বিপাকে পড়ার ধারা অব্যাহত। এবার ফ্ল্যাট জবরদখল, বৃদ্ধা মালকিনকে কটূক্তি ও হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার হলেন তৃণমূল (Tmc Leader) নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার। বুধবার সল্টলেকের বিধাননগর এলাকার একটি আবাসনকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। সেখানে জয়প্রকাশকে (Jay Prakash Majumdar) ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রথমে তাঁকে আটক করে এবং পরে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

    ঘটনার প্রেক্ষাপট ও দীর্ঘস্থায়ী আবাসন বিতর্ক (Jay Prakash Majumdar)

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই আইনি বিরোধের সূত্রপাত প্রায় এক দশক আগে। মামলার বিবরণ নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো-

    • ● ভাড়ার চুক্তি: ২০১২ সালে বিধাননগরের এই-৩৩৭ নম্বর ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন জয়প্রকাশ মজুমদার। ফ্ল্যাটটির মূল মালকিন আরতি রায়চৌধুরী নামের এক বৃদ্ধা।
    • ● চুক্তির মেয়াদোত্তীর্ণ: ২০১৫ সালে ওই ভাড়ার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। অভিযোগ, এরপর দীর্ঘ ৯ বছর কেটে গেলেও জয়প্রকাশ নতুন কোনো চুক্তি করেননি বা পুরনো চুক্তির নবীকরণও করাননি।
    • ● আইনি নোটিস অমান্য: ফ্ল্যাটের মালকিন আরতি রায়চৌধুরী তাঁকে একাধিকবার আইনি নোটিস পাঠিয়ে ফ্ল্যাটটি খালি করে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, বিদায়ী শাসকদলের প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় জয়প্রকাশ সেই নোটিসে কর্ণপাত করেননি; উল্টো বৃদ্ধা মালকিনকে কটূক্তি ও হুমকি দেওয়া হয়।

    রাজনৈতিক পটভূমি

    তৃণমূল কংগ্রেস (Tmc Leader) ক্ষমতায় থাকাকালীন জয়প্রকাশ মজুমদারের রাজনৈতিক দাপটের কারণে আরতি রায়চৌধুরীর পরিবার আইনি পথে লড়াই করেও ফ্ল্যাটটি উদ্ধার করতে পারেনি। তবে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছে এবং বিজেপি প্রথমবার সরকার গঠন করেছে। এই ক্ষমতার পালাবদলের পরেই আরতি রায়চৌধুরীর পরিবার নিজেদের সম্পত্তি ফিরে পেতে নতুন করে সক্রিয় হয়ে ওঠে।

    বুধবারের উত্তেজনা ও গ্রেফতারি

    কয়েক দিন আগেই আরতি রায়চৌধুরী কিছু অনুগামীকে সঙ্গে নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে যান। সে সময় জয়প্রকাশ (Jay Prakash Majumdar) বাড়িতে না থাকায় তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে বচসা হয় এবং আরতিদেবী জয়প্রকাশের স্ত্রীকে চড় মারেন বলেও একটি পাল্টা অভিযোগ ওঠে। এর রেশ ধরে বুধবার পুনরায় ওই ফ্ল্যাটের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে জড়ো হন বেশ কিছু মানুষ। দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, বিক্ষোভকারীদের ওপর জয়প্রকাশ মজুমদার চড়াও হন এবং হাত তোলেন। ঘটনার খবর পেয়েই বিধাননগর উত্তর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী সেখানে পৌঁছায়। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝখান থেকেই জয়প্রকাশকে ধরে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর ফ্ল্যাট জবরদখল ও হুমকির অপরাধে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

  • Suvendu Adhikari: কাকলির পর শুভেন্দুর বৈঠকে ফিরহাদ-কুণাল-নয়না! হাজির ঋতব্রতও, বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন মোড়

    Suvendu Adhikari: কাকলির পর শুভেন্দুর বৈঠকে ফিরহাদ-কুণাল-নয়না! হাজির ঋতব্রতও, বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন মোড়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। এবার সেই বদলের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হল বুধবার নবান্নে আয়োজিত একটি হাইপ্রোফাইল বৈঠককে কেন্দ্র করে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত হলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং তৃণমূলের তিন বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh-Firhad Hakim), জাভেদ খান এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন সরকারের মেয়াদের শুরুতেই এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী শিবিরের দুই নেতার উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই বৈঠকের নেপথ্যে কেবল সৌজন্য বিনিময় নয়, বরং শাসকদলে যোগদানের সুপ্ত ইঙ্গিত বা ‘দলবদল’-এর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

    বৈঠকের প্রেক্ষাপট ও রুদ্ধদ্বার আলোচনা (Suvendu Adhikari)

    গত ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূল শিবিরের একাধিক প্রথম সারির নেতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে দলমত নির্বিশেষে সকলের গঠনমূলক পরামর্শকে স্বাগত জানানো হবে। তবে প্রশাসনিক আলোচনার আড়ালে এই বৈঠকের রাজনৈতিক গুরুত্ব যে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী, তা মানছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

    সৌজন্য সাক্ষাৎ নাকি অন্য কিছু?

    নবান্ন সূত্রে খবর, বৈঠকটি বেশ কিছু সময় ধরে চলে। যদিও বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ফিরহাদ হাকিম এবং কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh-Firhad Hakim) উভয়েই একে একটি ‘প্রশাসনিক সৌজন্য সাক্ষাৎ’ এবং কলকাতার কিছু বকেয়া উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে আলোচনা বলে দাবি করেছেন। ফিরহাদ হাকিম বলেন, “কলকাতার মেয়র হিসেবে শহরের বেশ কিছু জনকল্যাণমুখী কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই আমি মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছিলাম।” অন্যদিকে, কুণাল ঘোষও বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে হালকা করার চেষ্টা করে বলেন, “প্রতিটি বৈঠকের পেছনেই দলবদলের সমীকরণ খোঁজা অর্থহীন।” উল্লেখ্য এদিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খানও।

    জল্পনা বনাম বাস্তবতা

    তৃণমূল রাজত্বে দুই অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও প্রভাবশালী নেতার এভাবে নবান্নে এসে মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে বৈঠক করাকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা কেবল ‘প্রশাসনিক’ বলে মানতে নারাজ। এই বৈঠকের নেপথ্যে মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ উঠে আসছে। এই সমীকরণগুলি হল-

    নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ ও রাজনৈতিক অস্তিত্ব

    রাজ্যে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠার পর তৃণমূলের বহু বিদায়ী মন্ত্রী ও নেতার সরকারি নিরাপত্তা ও ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং এলাকার উন্নয়ন সচল রাখতে নতুন শাসক শিবিরের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা ছাড়া অন্য কোনও বিকল্প নেই বলেই মনে করছেন অনেকে।

    তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভ

    বেশ কিছুদিন ধরেই তৃণমূলের অভ্যন্তরে পুরনো বনাম নতুন নেতৃত্বের কোন্দল প্রকাশ্যে আসছিল। বিশেষ করে কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh-Firhad Hakim) মতো নেতারা অতীতেও দলের একাংশের বিরুদ্ধে একাধিকবার সোচ্চার হয়েছিলেন। ফলে এই বৈঠক দলের অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।

    শুভেন্দুর কৌশলী অবস্থান

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বরাবরই তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতাগুলোকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে দক্ষ। বিরোধী শিবিরের (Kunal Ghosh-Firhad Hakim) হেভিওয়েট নেতাদের নবান্নে ডেকে বৈঠক করার মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন ‘উদার ও সমন্বয়বাদী’ নেতার ভাবমূর্তি তুলে ধরছেন, অন্যদিকে বিদায়ী শাসকদলকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে ব্যাকফুটে ঠেলে দিচ্ছেন।

    রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া

    এই বৈঠককে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতির অন্দরে কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়ে গেছে। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের দাবি, তৃণমূলের বহু নেতাই এখন নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে এবং বর্তমান সরকারের উন্নয়ন যজ্ঞে শামিল হতে যোগাযোগ রাখছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই তালিকা আরও দীর্ঘ হবে।

    ঋতব্রত-সন্দীপনদের সঙ্গেই কুণাল-ববিরা!

    ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বা সন্দীপন সাহার মতো প্রকাশ্য বিদ্রোহীরা যে শুভেন্দুর বৈঠকে আসবেন, তা আগেই নিশ্চিত ছিল। কিন্তু, কুণাল-ববি-নয়নার উপস্থিতি আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। কারণ, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্তও ফিরহাদ হাকিম (কলকাতার মেয়র) এবং কুণাল ঘোষের মতো নেতাদের কোণঠাসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করার বার্তা দিতে দেখা গিয়েছিল। অথচ, বুধবার তাঁদের দেখা গেল নবান্নের কনফারেন্স রুমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঠিক কয়েক আসন দূরে অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে বসে থাকতে।

    ‘সুবিধাবাদী রাজনীতি’

    অন্যদিকে, তৃণমূলের অন্দরে এই বৈঠক নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দলের একাংশ বিষয়টিকে তীব্র সমালোচনা করে একে ‘সুবিধাবাদী রাজনীতি’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁদের মতে, দলের কঠিন সময়ে যাঁরা এভাবে বিরোধী শিবিরের দরজায় কড়া নাড়ছেন, তাঁরা আদতে নিজেদের আখের গোছাতেই ব্যস্ত। তবে অন্য একটি অংশের দাবি, গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোয় একজন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধী দলের নেতারা দেখা করতেই পারেন, একে দলবদল ভাবা অতি রঞ্জিত মানসিকতার পরিচয়। সব মিলিয়ে, শুভেন্দুর সঙ্গে (Suvendu Adhikari) নবান্নের এই বৈঠক যে আগামী দিনে বাংলার রাজনৈতিক চালচিত্রকে অনেকটাই প্রভাবিত করবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, এই সৌজন্য সাক্ষাৎ কেবলই প্রশাসনিক স্তরে সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি অদূর ভবিষ্যতে কোনও বড়সড় রাজনৈতিক দলবদলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে।

  • UK: ‘গ্রুমিং গ্যাং’ যৌন কেলেঙ্কারি নিয়ে ব্রিটেনের পার্লামেন্টে হাঁড়ি ভাঙলেন সাংসদ

    UK: ‘গ্রুমিং গ্যাং’ যৌন কেলেঙ্কারি নিয়ে ব্রিটেনের পার্লামেন্টে হাঁড়ি ভাঙলেন সাংসদ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্রিটেনের পার্লামেন্টে হাঁড়ি ভেঙে দিলেন সে দেশের সাংসদ রুপার্ট লো (Rupert Lowe)। তিনি দেশের বহুল আলোচিত ‘গ্রুমিং গ্যাং’ (Pakistan Grooming Gang) যৌন কেলেঙ্কারির সঙ্গে সম্পর্কিত বেঁচে যাওয়া ভুক্তভোগীদের (survivors) সাক্ষ্য থেকে উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেন। আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে লো বলেন, “শুধু বিতর্ক নয় (UK), এখন এসেছে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার সময়।” পার্লামেন্টে তিনি জানান, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি তদন্তে উপস্থাপিত সাক্ষ্যগুলি ভয়াবহ রকমের পদ্ধতিগত নির্যাতনের তথ্য প্রকাশ করেছে।

    গ্যাংভিত্তিক শিশু যৌন শোষণ (UK)

    তিনি বলেন, তদন্তে জানা গিয়েছে, ব্রিটেনের অন্তত ৮৫টি এলাকায় গ্যাংভিত্তিক শিশু যৌন শোষণের (gang-based child sexual exploitation) প্রমাণ মিলেছে। শুধু তাই নয়, তিনি আরও একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বিতর্কিত দাবিরও ফের উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি,  এই সব গোষ্ঠীর অনেকগুলির সঙ্গেই যুক্ত ছিল পাক বংশোদ্ভূত পুরুষরা। লোর মতে, “প্রধানত পাকিস্তানি পুরুষদের জড়িত থাকার একটি ধারা এবং সরকারি সংস্থাগুলির গুরুতর অবহেলা লক্ষ্য করা গিয়েছে। এই বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষা করা হয়েছে।”

    চরম যৌন হিংসা

    পার্লামেন্টে তাঁর পেশ করা সাক্ষ্যগুলিতে উঠে এসেছে চরম যৌন হিংসা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্যাতনের ভয়ঙ্কর বর্ণনা। ভুক্তভোগীরা জানান, অল্প বয়সেই তাঁদের টার্গেট করা হয়েছিল। উপহার, মদ খাওয়ানো বা হুমকি দিয়ে তাদের প্রভাবিত করা হত। কিছু সাক্ষ্যে আবার এমনও দাবি করা হয়েছে যে, ভুক্তভোগীরা বছরের পর বছর ধরে একাধিক অপরাধীর দ্বারা নির্যাতিত হয়েছেন (UK)।আরও কিছু অভিযোগে বলা হয়েছে, জাতি (race) ও ধর্মকে (religion) ব্যবহার করে তাদের অপমান ও নিয়ন্ত্রণ করা হত (Pakistan Grooming Gang)। কয়েকজন ভুক্তভোগী আবার জানান, খ্রিস্টান হওয়ায় তাঁদের উপহাস করা হত অথবা বলা হত তাঁদের “মূল্য কম”।প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার (institutional failure) গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, নির্যাতনের স্পষ্ট লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ, হাসপাতালের কর্মী এবং শিশু সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ যথাযথ হস্তক্ষেপ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

    নির্যাতনে জড়িত পুলিশ কর্তারাও!

    একটি সাক্ষ্যে এমনও অভিযোগ করা হয়েছে, কিছু পুলিশ কর্তাও নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত ছিলেন। তবে এসব অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর, এবং তাই সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজন। ব্রিটেনে ‘গ্রুমিং গ্যাং’ বলতে এমন সংঘবদ্ধ একটি গোষ্ঠীকে বোঝায়, যারা দীর্ঘ সময় ধরে শিশুদের শোষণের পাশাপাশি নির্যাতনও করে (UK)। রদারহ্যাম (Rotherham), রচডেল (Rochdale) এবং ওল্ডহ্যাম (Oldham)-এর মতো শহরগুলিতে মামলাগুলি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে। এসব মামলায় ব্যাপক নির্যাতন এবং কর্তৃপক্ষের বড় ধরনের ব্যর্থতা প্রকাশ পায় (Pakistan Grooming Gang)। জাতিগত পরিচয়, পুলিশি ব্যর্থতা এবং দীর্ঘসূত্রিতার কারণে এই বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল রয়ে গিয়েছে। ২০০০-এর শুরুতে অ্যান ক্রায়ার (Ann Cryer)-এর মতো রাজনীতিবিদরা প্রথম এই বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। লো বলেন, “দেশের নেতাদের উচিত এখনই উপযুক্ত পদক্ষেপ করা। আসন্ন তদন্ত রিপোর্ট ব্রিটেনকে স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করে দেবে (UK)।

     

  • Sourav Ganguly: সৌরভের নিরাপত্তায় কাটছাট, ‘জেড’ থেকে দু’ধাপ নামিয়ে ‘ওয়াই’ ক্যাটাগরি করল শুভেন্দুর সরকার

    Sourav Ganguly: সৌরভের নিরাপত্তায় কাটছাট, ‘জেড’ থেকে দু’ধাপ নামিয়ে ‘ওয়াই’ ক্যাটাগরি করল শুভেন্দুর সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্টজনদের সরকারি নিরাপত্তা খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা বর্তমান সিএবি (CAB) সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম। গত তিন বছর ধরে রাজ্য সরকারের ‘জেড ক্যাটাগরি’ (Z Category)-র নিরাপত্তা পেয়ে আসছিলেন তিনি। তবে নতুন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তাঁর সুরক্ষাবলয় কমিয়ে এবার ‘ওয়াই ক্যাটাগরি’ (Y Category) করা হয়েছে। এই বিষয়ে সৌরভের (Sourav Ganguly) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

    সরকারি নিরাপত্তার বিভিন্ন স্তর (Sourav Ganguly)

    সাধারণত কার জীবনের ঝুঁকি (Threat Perception) কতটা, গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে তা পর্যালোচনা করেই সরকারি নিরাপত্তার স্তর নির্ধারণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী, সাংসদ-বিধায়ক, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতি এবং শীর্ষ আমলাদের পাশাপাশি চলচ্চিত্র তারকা, শিল্পপতি ও খেলোয়াড়দেরও এই নিরাপত্তা দেওয়া হয়ে থাকে। সুরক্ষার এই বিন্যাস মূলত তিনটি স্তরে বিভক্ত—‘এক্স’, ‘ওয়াই’ (Y Category) এবং ‘জেড’। এর মধ্যে ‘ওয়াই’ এবং ‘জেড’ স্তরের ক্ষেত্রে ‘প্লাস’ (Plus) নামক আরও একটি উচ্চতর ক্যাটাগরি থাকে— ‘ওয়াই প্লাস’ এবং ‘জেড প্লাস’। অর্থাৎ, ‘ওয়াই’ এবং ‘জেড’ স্তরের মাঝে থাকে ‘ওয়াই প্লাস’। সেই দিক দিয়ে ‘মহারাজ’-এর নিরাপত্তা দুই ধাপ কমিয়ে দেওয়া হল।

    সৌরভের নিরাপত্তার বিবর্তন

    ২০২৩ সালের মে মাস পর্যন্ত সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় (Sourav Ganguly) ‘ওয়াই ক্যাটাগরি’র (Y Category) নিরাপত্তাই পেতেন। সে সময় কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চের তিনজন কর্মী (যার মধ্যে দুজন সশস্ত্র) তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকতেন। এরপর তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তাঁর নিরাপত্তা বাড়িয়ে ‘জেড’ ক্যাটাগরি করে। এর ফলে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ থেকে ১০ জনে। পাশাপাশি, তাঁর বাড়ি পাহারা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয় এবং রাস্তায় চলাচলের জন্য দেওয়া হয় পাইলট কার। সব মিলিয়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন পুলিশকর্মী তাঁর সুরক্ষায় নিযুক্ত ছিলেন।

    রাজ্যে প্রশাসনিক সংস্কার এক নজরে নিরাপত্তা কাটছাঁট

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, সুনির্দিষ্ট প্রয়োজন ছাড়া কাউকে অতিরিক্ত সরকারি নিরাপত্তা দেওয়া হবে না। গত ৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই এই পর্যালোচনা শুরু হয়। তৃণমূল জমানায় রাজ্যে সর্বোচ্চ অর্থাৎ ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা পেতেন মূলত তিনজন— রাজ্যপাল, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়া নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন এবং কলকাতার তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিমও উচ্চস্তরের নিরাপত্তা পেতেন। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই চিত্রে বড় বদল এসেছে:

    • ● মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: কালীঘাটের বাড়ি থেকে বাড়তি পুলিশ পাহারা সরানো হয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আইনত তিনি যতটুকু নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারী, তাঁকে ঠিক ততটুকুই দেওয়া হচ্ছে।
    • ● অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়: তাঁর ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। একজন সাধারণ সাংসদ হিসেবে তাঁর প্রাপ্য সুরক্ষাই বহাল রাখা হয়েছে।
    • ● অন্যান্য: একাধিক তৃণমূল নেতা এবং প্রাক্তন শীর্ষ পুলিশ কর্তাদের নিরাপত্তার পরিধিও ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হয়েছে।

    নেপথ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ ও ‘ভারসাম্যের রাজনীতি’

    সৌরভের (Sourav Ganguly) নিরাপত্তা হ্রাসের এই ঘটনাকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বিজেপির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের পারদ ওঠানামার চশমায় দেখছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সৌরভকে ‘মুখ’ করে বাংলায় বৈতরণী পার হতে চেয়েছিল বিজেপি। সেই লক্ষ্যেই ২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সক্রিয় ভূমিকায় সৌরভ বিসিসিআই (BCCI) সভাপতি হন। ২০২০ সালে বিজেপির উদ্যোগে আয়োজিত পুজোয় সৌরভ-পত্নী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের নৃত্য পরিবেশন কিংবা ২০২১-এর নির্বাচনের ঠিক আগে সৌরভের বেহালার বাড়িতে অমিত শাহের নৈশভোজ— এই সমস্ত ঘটনাকে সেই রাজনৈতিক অঙ্কেরই অংশ মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সৌরভ রাজনীতি থেকে দূরত্ব বজায় রাখায় বিজেপি নেতৃত্ব একে একপ্রকার ‘বিশ্বাসভঙ্গ’ হিসেবেই দেখেছিল।

    শালবনী নিয়ে কটাক্ষ শমীকের

    সৌরভ বরাবরই উভয় পক্ষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলার নীতি বা ‘ভারসাম্যের রাজনীতি’ পছন্দ করেছেন। একদিকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যেমন তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল, অন্যদিকে অমিত শাহের সঙ্গেও তিনি সম্পর্ক তিক্ত করতে চাননি। তবে অতি সম্প্রতি শালবনি কারখানার প্রসঙ্গ টেনে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সৌরভকে কটাক্ষ করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বর্তমান শাসক দল সৌরভকে ঠিক কোন নজরে দেখছে, সেই কটাক্ষেই তা স্পষ্ট ছিল। আর এবার নিরাপত্তার বহর কমিয়ে নবান্ন সেই রাজনৈতিক বার্তাই প্রশাসনিকভাবে কার্যকর করল বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Arijit Das Thakur: তোলাবাজির অভিযোগে ফের গ্রেফতার তৃণমূল কাউন্সিলর, তালিকায় এবার অরিজিৎ দাস ঠাকুর

    Arijit Das Thakur: তোলাবাজির অভিযোগে ফের গ্রেফতার তৃণমূল কাউন্সিলর, তালিকায় এবার অরিজিৎ দাস ঠাকুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই একের পর এক শাসকদলের বিদায়ী নেতা ও কাউন্সিলরের গ্রেফতারির পালা চলছে। সুদীপ পোল্লে এবং সচিন সিংয়ের পর এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন কলকাতা পুরনিগমের ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অরিজিৎ দাস ঠাকুর (Arijit Das Thakur)। তোলাবাজিসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে গড়ফা থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। বুধবারই তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে। গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি এবং তোলাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বিজেপি সরকার।

    ব্যবসায়ীদের ভয় দেখিয়ে টাকা তোলার অভিযোগ (Arijit Das Thakur)

    তৃণমূল নেতাদের (TMC Councillor) বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তৎকালীন বিরোধী দল হিসেবে বিজেপি এই নিয়ে বারবার সরব হলেও, শাসকদলের পক্ষ থেকে কোনও সদর্থক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠত। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চিত্রটি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। আইন এখন নিজের পথে চলছে এবং একের পর এক প্রভাবশালী নেতার শ্রীঘরে ঠাঁই হচ্ছে। অরিজিতের বিরুদ্ধে মূলত স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা তোলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতেই এভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ধরপাকড় চলছে।

    অরিজিৎ দাস ঠাকুর (Arijit Das Thakur) তৃণমূলের দীর্ঘদিনের প্রবীণ নেতা দুলাল দাস ঠাকুরের পুত্র। এলাকায় তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কিছুদিন ধরেই ক্ষোভ জমছিল। অথচ, সম্প্রতি দল তাঁকে নিজেদের আইটি (IT) সেলে বড়সড় দায়িত্বও দিয়েছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না; ব্যবসায়ীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে গড়ফা থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।

    এক নজরে সাম্প্রতিক গ্রেফতারি

    কলকাতা পুরনিগমে এই নিয়ে পরপর তিনজন তৃণমূল কাউন্সিলর (TMC Councillor) পুলিশের জালে ধরা পড়েছে। যারা যারা অসৎ উপায় অবলম্বন করে মানুষের জনজীবনকে বিপন্নকে করেছেন তাঁদের আরও কয়েকজন সম্পর্কে অভিযোগগুলি ছিল ভীষণ গুরুতর। সুদীপ পোল্লে, ওয়ার্ড নম্বর ১২৩, কলকাতা পুরনিগমের প্রথম কাউন্সিলর হিসেবে কয়েকদিন আগে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। এরপর সচিন সিং, ওয়ার্ড নম্বর ৩৬, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ভাঙচুর, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে গত ২৭ মে নারকেলডাঙা থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে।

    সচিন সিংয়ের গ্রেফতারির নেপথ্যে রয়েছে ২০২১ সালের ৪ মে-র একটি ঘটনা। অভিযোগকারী আদর্শ পাণ্ডে দাবি করেন, ওই দিন বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ সচিন সিংয়ের নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতী তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়। বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর পাশাপাশি তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। সেই পুরনো মামলার তদন্তে নেমেই পুলিশ সচিনকে গ্রেফতার করে। আর তার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের অরিজিৎ দাস ঠাকুর (Arijit Das Thakur)।

  • Kuwait: ইরানের দাবি ওড়াল কুয়েত, স্পষ্ট জানিয়ে দিল ধ্বংস করা হয়েছে শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন

    Kuwait: ইরানের দাবি ওড়াল কুয়েত, স্পষ্ট জানিয়ে দিল ধ্বংস করা হয়েছে শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কুয়েত (Kuwait) ও বাহরিনে থাকা মার্কিন সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে (Missiles Drones) বুধবার দাবি করেছে ইরান। তেহরানের (ইরানের রাজধানী) দাবি, এটি ছিল এর আগে কেশম (Qeshm) দ্বীপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধমূলক জবাব।

    ইরানের দাবি (Kuwait)

    ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তারা মার্কিন পঞ্চম নৌবহর (US Fifth Fleet) এবং একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিকে টার্গেট করেছে। তাদের দাবি, আমেরিকা একটি ইরানি টেলিযোগাযোগ অ্যান্টেনা ও একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছিল। ইরান জানিয়েছে, তারা আগে আমেরিকাকে এই মর্মে সতর্ক করেছিল যে, যে কোনও আগ্রাসনের জবাব হবে আরও কঠোর এবং ভিন্ন ধরনের। এই অভিযান সেই সতর্কতার বাস্তবায়ন।

    কুয়েতের দাবি

    কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার ভোরে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে সক্রিয় ছিল। এই সময় দেশজুড়ে বহু বাসিন্দা জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। বিবৃতিতে কুয়েতি সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলা করছে। জনগণ যে বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছে, তা মূলত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আকাশে টার্গেট ধ্বংস করার। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় কুয়েতি সেনার তরফে দ্বিতীয় সতর্কবার্তা জারি করা হয়। এতে দেশবাসী এবং সে দেশে বসবাসকারী লোকজনকে ধ্বংসাবশেষ, ধাতব টুকরো বা অপরিচিত কোনও বস্তু স্পর্শ না করার আহ্বান জানানো হয়। এসব বস্তু জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকির সৃষ্টি করতে পারে (Kuwait)।

    উপসাগরীয় অঞ্চলে উদ্বেগ

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র কর্নেল সৌদ আবদুলআজিজ আল-ওতাইবি জনগণকে যে কোনও সন্দেহজনক বস্তু দেখতে পেলে জরুরি নম্বর ১১২-এ ফোন করে অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে অনুরোধ করেন। সবাইকে কেবল সরকারি ও অনুমোদিত সূত্রের তথ্যের ওপর নির্ভর করতে হবে, এবং কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশিকা। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সকলের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ সবাইকে সহযোগিতা ও জারি করা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছে (Kuwait)।” প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক আমেরিকা-ইরান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাগুলো ঘটেছে, যা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলে উদ্বেগ।

    ভিডিও ফুটেজ

    এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB)-এর দাবি, পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালী এবং কেশম দ্বীপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুতামূলক আচরণের জবাবে কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে টার্গেট করা হয়েছে। যদিও এই দাবির নিশ্চয়তা মেলেনি (Missiles Drones)। বাহরিনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, বুধবার সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে এবং বাসিন্দাদের শান্ত থাকার পাশাপাশি নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে (Kuwait)। এক্স হ্যান্ডেলে আইআরআইবি একটি ভিডিও-ও প্রকাশ করেছে। তাতে দাবি করা হয়েছে, বাহরিনের আকাশ দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র উড়ে যেতে দেখা যাচ্ছে।

    কেশম দ্বীপে হামলা

    ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ফের জানায়, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেলিযোগাযোগ অ্যান্টেনা ও একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলার পর আমরা মার্কিন পঞ্চম নৌবহর এবং একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিকে টার্গেট করেছি।” এও বলে, “আমরা আগেই সতর্ক করেছিলাম যে আগ্রাসনের জবাব হবে ভিন্ন এবং আরও কঠোর। আজ রাতে আমরা সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছি।” ২ জুন আমেরিকা কেশম দ্বীপে হামলা চালায়। মার্কিন কর্তাদের মতে, টার্গেট ছিল একটি ইরানি সামরিক গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন, যা ড্রোন পরিচালনার কাজে ব্যবহৃত হত। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকম (CENTCOM) জানিয়েছে, এর আগে তারা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছোড়া একাধিক ইরানি ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রুখে দিয়েছিল।

    ফ্যাক্ট-চেক বিবৃতি

    পরে সেন্টকম দ্রুত একটি ফ্যাক্ট-চেক বিবৃতি প্রকাশ করে। তাতে ইরানের দাবি অস্বীকার করা হয়। জানিয়ে দেওয়া হয়, তাদের (ইরানের) আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলিতে সফলভাবে আঘাত করা হয়েছে (Kuwait)। বস্তুত, এই ঘটনা আঞ্চলিক উত্তেজনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৃদ্ধি নির্দেশ করে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে (Missiles Drones) উদ্বেগের পারা আরও চড়িয়ে দিতে পারে।

     

  • Ritabrata Banerjee: সই জালিয়াতি থেকে বিদ্রোহ! বহিষ্কৃত ঋতব্রতর নেতৃত্বে বিধানসভায় ৫৮ বিধায়কের শক্তিপ্রদর্শন, কাঁপছে তৃণমূল

    Ritabrata Banerjee: সই জালিয়াতি থেকে বিদ্রোহ! বহিষ্কৃত ঋতব্রতর নেতৃত্বে বিধানসভায় ৫৮ বিধায়কের শক্তিপ্রদর্শন, কাঁপছে তৃণমূল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শোভনদেব না ঋতব্রত? বিরোধী দলনেতা বিতর্কে নজিরবিহীন বিদ্রোহ তৃণমূলে। যার জেরে ভেঙে দু’টুকরো ঘাসফুল!

    তৃণমূল কংগ্রেসে নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকট

    ভোটের ফল প্রকাশের মাত্র দু’মাসের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসে নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন কার্যত দলীয় ভাঙনের রূপ নিয়েছে। বুধবার বিধানসভার স্পিকারের কাছে ৫৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষর-সহ একটি চিঠি জমা পড়েছে, যেখানে উলুবেড়িয়ার বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার দাবি জানানো হয়েছে। পরে আরও ছ’জন এসে সই করবেন বলে জানানো হল ‘নতুন’ তৃণমূলের তরফে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সংখ্যার বিচারে তৃণমূলের বৃহত্তর অংশ এখন ঋতব্রতর নেতৃত্বে অবস্থান করছে বলে দাবি উঠেছে। যদিও বিদ্রোহী বিধায়করা এখনও নতুন কোনও রাজনৈতিক দল গঠনের পথে হাঁটেননি এবং তাঁরা প্রকাশ্যে জানিয়ে দিয়েছেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তাঁদের সর্বোচ্চ নেত্রী।

    কী রয়েছে স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া চিঠিতে?

    বুধবার সকালে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কয়েকজন তৃণমূল বিধায়ক বিধানসভায় গিয়ে স্পিকার রথীন্দ্র বসুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁদের হাতে ছিল ৫৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষরযুক্ত একটি চিঠি। সেই চিঠিতে শুধু ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করার আবেদনই নয়, বিধানসভার তৃণমূল পরিষদীয় দলের নতুন কাঠামোরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেখানে—

    • ● বিরোধী দলনেতা: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
    • ● উপদলনেতা: সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান ও শিউলি সাহা
    • ● মুখ্য সচেতক: আখরুজ্জামান

    তবে স্পিকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই চিঠি গ্রহণ করেছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী স্পিকার চিঠি গ্রহণ করে স্বীকৃতি দিলেই ঋতব্রত আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলনেতার মর্যাদা পাবেন।

    কোথা থেকে শুরু হল বিতর্ক?

    এই রাজনৈতিক নাটকের সূত্রপাত বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারের কাছে বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব পাঠান। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, সেই প্রস্তাবপত্রে বহু বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এই অভিযোগ সামনে আনেন তৃণমূলেরই দুই বিধায়ক—ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা। তাঁরা স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। পরে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের হয় এবং তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তে সহায়তা করতে নামে সিআইডিও। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই সিআইডি অন্তত ১৩ জন বিধায়কের সঙ্গে কথা বলেছে। স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়তে থাকে।

    বহিষ্কারের পরই বাড়ে বিদ্রোহ

    স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত উল্টো ফল দেয় বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। এরপর একের পর এক বিধায়ক প্রকাশ্যে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অসন্তোষ জানাতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে বিদ্রোহী শিবিরের সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত ৫৮ জন বিধায়ক ঋতব্রতের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে দাবি করা হয়। এর ফলে বিধানসভার অন্দরে কার্যত দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে তৃণমূল।

    ‘আদি’ বনাম ‘নব’ তৃণমূল?

    বুধবারের ঘটনাপ্রবাহের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে—‘আদি তৃণমূল’ ও ‘নব তৃণমূল’। ঋতব্রত শিবিরের দাবি, তাঁরা কোনও নতুন দল গঠন করছেন না। তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসেরই প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখনও দলের সভানেত্রী হিসেবে মানেন। স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া চিঠিতেও মমতার নাম সভানেত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিধানসভার সংখ্যার হিসাব বলছে, বিদ্রোহী শিবিরে ৫৮ জন বিধায়ক রয়েছেন, অন্যদিকে শোভনদেবকে সমর্থনকারী শিবিরে রয়েছেন ২২ জন বিধায়ক। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রশ্নে ঋতব্রত শিবিরের অবস্থান অনেক বেশি শক্তিশালী বলে মনে করা হচ্ছে।

    প্রতীক নিয়ে জল্পনা

    তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংঘাত প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে আরও একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে— দলের নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে কোনও আইনি লড়াই তৈরি হতে পারে কি? যদিও এখনও পর্যন্ত বিদ্রোহী বিধায়করা আলাদা দল গঠনের কোনও ঘোষণা করেননি, তবুও সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কদের সমর্থন তাঁদের দিকে থাকলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।

    কুণাল ঘোষের প্রতিক্রিয়া

    পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বিদ্রোহী বিধায়কদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন।
    তাঁর বক্তব্য, যারা আজ এই পদক্ষেপ করছেন, তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি নিয়ে প্রচার করেছেন এবং তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন। এখন যদি তাঁরা নেত্রীকে উপেক্ষা করে অন্য কোনও স্বার্থে বা প্ররোচনায় কাজ করেন, তাহলে সাধারণ তৃণমূল কর্মী ও মানুষ তার বিচার করবেন। কুণাল আরও বলেন, ‘‘কারা কী জন্য কী করেছেন, তাঁরা চিঠি দিয়েছেন। আইনি পথে যা হওয়ার হবে। কিন্তু এভাবে চোরা-গোপ্তা কাজ করার কোনও প্রয়োজন ছিল না।’’

    এখন নজর স্পিকারের সিদ্ধান্তে

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মুহূর্তে পুরো পরিস্থিতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। ৫৮ বিধায়কের সমর্থনপত্র গ্রহণ করে তিনি যদি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন, তাহলে তা হবে পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় ঘটনা। ২০২২ সালে মহারাষ্ট্রে শিবসেনার মধ্যে এধরনের বিভাজন ঘটেছিল। অন্যদিকে, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো প্রস্তাবও এখনও আলোচনায় রয়েছে। ফলে স্পিকারের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে বিধানসভায় তৃণমূলের আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে। রাজ্যের রাজনীতিতে এই সংঘাত আগামী দিনে আরও বড় সাংগঠনিক ও আইনি লড়াইয়ের রূপ নেয় কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

  • Ritabrata Bandyopadhyay: তৃণমূলে মহাভাঙনের ইঙ্গিত! ৬০ বিধায়কের সমর্থনে নতুন শিবির গড়তে চলেছেন ঋতব্রত?

    Ritabrata Bandyopadhyay: তৃণমূলে মহাভাঙনের ইঙ্গিত! ৬০ বিধায়কের সমর্থনে নতুন শিবির গড়তে চলেছেন ঋতব্রত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার জল্পনা তুঙ্গে। বুধবার সকালেই বিধানসভায় পৌঁছে যান তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে একাধিক তৃণমূল বিধায়কও বিধানসভায় উপস্থিত হতে শুরু করেন। সূত্রের খবর, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সংখ্যাগরিষ্ঠ তৃণমূল বিধায়কদের সমর্থনপত্র নিয়ে বিধানসভার স্পিকারের কাছে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। সেই চিঠিতে প্রায় ৬০ জন বিধায়কের স্বাক্ষর রয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। যদিও এই দাবির কোনও সরকারি বা আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ এখনও হয়নি। এর পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন—তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙন কি এবার প্রকাশ্যে আসতে চলেছে? নতুন কোনও গোষ্ঠী কি আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে বিধানসভার অন্দরে?

    সাসপেনশনের পর থেকেই জল্পনার সূত্রপাত

    সম্প্রতি ‘সই জাল’ কাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পর তৃণমূল কংগ্রেস ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে দল থেকে সাসপেন্ড করে। তারপর থেকেই দলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের নানা খবর সামনে আসতে থাকে। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, সাসপেনশনের পর থেকেই ঋতব্রত নিজের রাজনৈতিক অবস্থান মজবুত করার চেষ্টা শুরু করেন। তাঁর সঙ্গে একাংশ তৃণমূল বিধায়কের যোগাযোগও তৈরি হয়েছে বলে খবর। সেই প্রক্রিয়ারই পরিণতি হিসেবে নতুন একটি গোষ্ঠী গঠনের পরিকল্পনা সামনে এসেছে বলে জল্পনা।

    বিরোধী দলের মর্যাদা পাওয়ার অঙ্ক

    এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ৮০টি আসন পেয়েছিল। তবে সাসপেনশনের কারণে ঋতব্রত ও সন্দীপন কার্যত দলের মূল শিবিরের বাইরে অবস্থান করছেন। সূত্রের দাবি, প্রায় ৬০ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে যদি নতুন গোষ্ঠী স্পিকারের কাছে নিজেদের দাবি পেশ করে, তাহলে বিধানসভায় বিরোধী দলের স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে তারা। সেই কারণেই এই চিঠিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, স্পিকারের কাছে জমা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা চিঠিতে শুধু সমর্থনকারী বিধায়কদের নামই নয়, সম্ভাব্য বিরোধী দলনেতা এবং মুখ্য সচেতকের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

    সিদ্ধান্ত স্পিকারের

    বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী, কোন দল বা গোষ্ঠী বিরোধী দলের মর্যাদা পাবে এবং কে বিরোধী দলনেতা হবেন, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা স্পিকারের হাতেই থাকে। ফলে চিঠি জমা পড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনও রাজনৈতিক স্বীকৃতি মিলবে কি না, তা নির্ভর করবে অধ্যক্ষের পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্তের উপর। বিধানসভা বিশেষজ্ঞদের মতে, সংখ্যার অঙ্কের পাশাপাশি দলত্যাগ বিরোধী আইন, বিধানসভার বিধি এবং সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক প্রশ্নগুলিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    বাংলার রাজনীতিতে নজিরবিহীন পরিস্থিতি

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে শাসক দলের ভাঙন বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের নজির থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার ভিতরে এই মাত্রার সমীকরণ পরিবর্তনের ঘটনা কার্যত অভূতপূর্ব। যদি সত্যিই বিপুল সংখ্যক বিধায়ক নতুন গোষ্ঠীর পক্ষে অবস্থান নেন, তাহলে তা শুধু তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য নয়, গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণের ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

    তাপস রায়ের মন্তব্যে বেড়েছে জল্পনা

    এরই মধ্যে মঙ্গলবার বিধানসভায় ঢোকার পথে বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং দলের ভিতরে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এখন প্রকাশ্যে আসছে। তাপস রায়ের কথায়, “দলীয় ফলাফল প্রকাশের অল্প সময়ের মধ্যেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অনেকেই অসন্তোষ চেপে রেখেছিলেন। এখন সেই ক্ষোভ সামনে আসছে।” তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো এবং বিভিন্ন স্তরে অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের গুরুত্ব দেওয়া নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অসন্তোষই বর্তমান পরিস্থিতির অন্যতম কারণ।

    নজর আজ স্পিকারের দফতরে

    সব মিলিয়ে বুধবারের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ঘিরে নজর এখন বিধানসভা এবং স্পিকারের দফতরের দিকে। সত্যিই কি ৬০ বিধায়কের সমর্থনপত্র জমা পড়বে? নতুন কোনও গোষ্ঠী কি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করবে? নাকি সবটাই রাজনৈতিক জল্পনা? এই প্রশ্নগুলির উত্তর মিলতে পারে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। তবে এতটুকু স্পষ্ট, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সম্ভাবনা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে।

  • Praggnanandhaa Defeats Carlsen: ইতিহাস গড়লেন প্রজ্ঞানন্দ! একই টুর্নামেন্টে দু’বার হারালেন ম্যাগনাস কার্লসেনকে, ছুঁলেন আনন্দকে

    Praggnanandhaa Defeats Carlsen: ইতিহাস গড়লেন প্রজ্ঞানন্দ! একই টুর্নামেন্টে দু’বার হারালেন ম্যাগনাস কার্লসেনকে, ছুঁলেন আনন্দকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের তরুণ গ্র্যান্ডমাস্টার আর প্রজ্ঞানন্দ (R Praggnanandhaa) আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাঁকে বিশ্বের অন্যতম প্রতিভাবান দাবাড়ু হিসেবে ধরা হয়। নরওয়ে চেস ২০২৬-এর অষ্টম রাউন্ডে কিংবদন্তি ম্যাগনাস কার্লসেনকে (Magnus Carlsen) হারিয়ে এক বিরল কৃতিত্বের মালিক হলেন ২০ বছরের এই ভারতীয়।

    একই প্রতিযোগিতায় কার্লসেনকে দুবার মাত!

    এর আগে, ২৭ মে টুর্নামেন্টের তৃতীয় রাউন্ডে সাদা ঘুঁটি নিয়ে কার্লসেনকে পরাজিত করেছিলেন প্রজ্ঞানন্দ। বুধবার অষ্টম রাউন্ডে কালো ঘুঁটি নিয়েও একই কীর্তি গড়ে তিনি কার্যত ইতিহাস সৃষ্টি করেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৪ সালের নরওয়ে চেসেও তিনি কার্লসেনকে হারিয়েছিলেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, গত ১৯ বছরে ক্লাসিক্যাল দাবায় কোনও খেলোয়াড় একই টুর্নামেন্টে কার্লসেনকে দু’বার হারাতে পারেননি। সর্বশেষ এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন ভারতেরই কিংবদন্তি বিশ্বনাথন আনন্দ (Viswanathan Anand), যিনি ২০০৭ সালের লিনারেস আন্তর্জাতিক দাবা প্রতিযোগিতায় নরওয়েজিয়ান মহাতারকাকে দু’বার পরাজিত করেছিলেন।

    ‘কার্লসেনকে হারানো নয়, ম্যাচ জেতাটাই গুরুত্বপূর্ণ’

    বিশ্ব দাবা মহলে এই জয় নিয়ে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা গেলেও প্রজ্ঞানন্দ নিজে কিন্তু অত্যন্ত সংযত। ম্যাচ শেষে তিনি জানান, তাঁর কাছে কার্লসেনকে হারানোর চেয়ে টুর্নামেন্টে জয় পাওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রজ্ঞানন্দ বলেন, “ম্যাগনাসকে হারানোর চেয়ে এই টুর্নামেন্টে একটি ম্যাচ জেতা এই মুহূর্তে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমি খুশি যে সেটা করতে পেরেছি।” এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে সামগ্রিক টুর্নামেন্ট ফলাফল নিয়েই বেশি ভাবছেন ভারতের এই তরুণ তারকা।

    শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছেন কার্লসেন

    জয়ের পরেও প্রতিপক্ষের প্রশংসা করতে ভোলেননি প্রজ্ঞানন্দ। তাঁর মতে, পুরো ম্যাচজুড়েই অসাধারণ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন কার্লসেন। ভারতীয় গ্র্যান্ডমাস্টার বলেন, “কার্লসেন অত্যন্ত ভালো খেলছিলেন এবং অসাধারণভাবে ডিফেন্ড করছিলেন। অনেক খেলোয়াড় এই ধরনের চাপে ছোটখাটো পজিশনাল ভুল করে বসতেন। কিন্তু তিনি বারবার সঠিক চাল খুঁজে বের করছিলেন।” তিনি আরও যোগ করেন, “একটা সময় আমি সত্যিই ভেবেছিলাম ম্যাচটা ড্র হতে চলেছে। এত ভালোভাবে রক্ষণ করার পর শেষ পর্যন্ত ওর এমন ভুল করা কিছুটা বিস্ময়কর ছিল।” বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মন্তব্য থেকেই বোঝা যায় যে ম্যাচের ফলাফল যতটা না একতরফা ছিল, তার চেয়ে অনেক বেশি ছিল মানসিক ও কৌশলগত লড়াইয়ের ফল।

    টাইম স্ক্র্যাম্বলই এখন প্রধান চিন্তা

    বর্তমান ফর্ম নিয়ে সন্তুষ্ট প্রজ্ঞানন্দ। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে সময় ব্যবস্থাপনা এখনও তাঁর দুর্বলতার জায়গা। তিনি বলেন, “সামগ্রিকভাবে আমি ভালো খেলছি। কিন্তু টাইম স্ক্র্যাম্বল পরিস্থিতিগুলো আমার পক্ষে যাচ্ছে না। তাই ঘড়িতে আরও সময় বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করব এবং গত কয়েক রাউন্ডে যেভাবে খেলেছি, সেভাবেই খেলতে চাই।” টুর্নামেন্টের বাকি অংশের আগে বিশ্রাম নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

    শেষ দুই রাউন্ডে কঠিন চ্যালেঞ্জ

    বিশ্রাম দিবসের পর টুর্নামেন্টের শেষ দুই রাউন্ডে নামবেন প্রজ্ঞানন্দ। নবম রাউন্ডে তাঁর প্রতিপক্ষ বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ডি গুকেশ (D Gukesh)। যদিও চলতি সপ্তাহে গুকেশ নিজের সেরা ছন্দে নেই, তবুও দুই ভারতীয় তারকার এই লড়াই ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অন্তিম রাউন্ডে প্রজ্ঞানন্দের প্রতিপক্ষ জার্মানির ভিনসেন্ট কাইমার (Vincent Keymer)।

    শিরোপার দৌড়ে এখনও জোরালোভাবে রয়েছেন

    অষ্টম রাউন্ডের শেষে পয়েন্ট তালিকায় ১২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন প্রজ্ঞানন্দ। তাঁর সামনে রয়েছেন মার্কিন গ্র্যান্ডমাস্টার ওয়েসলি সো (Wesley So), যার সংগ্রহ ১৪ পয়েন্ট এবং দ্বিতীয় স্থানে থাকা আলিরেজা ফিরুজা (Alireza Firouzja), যার ঝুলিতে ১৩ পয়েন্ট। শেষ দুই রাউন্ডে সর্বোচ্চ পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পারলে এখনও শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে ভারতীয় তারকার সামনে। অন্তত পডিয়াম ফিনিশ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই তিনি শেষ লড়াইয়ে নামবেন।

    ভারতীয় দাবার নতুন সোনালি অধ্যায়

    গত কয়েক বছরে বিশ্ব দাবায় ভারতের উত্থান অভূতপূর্ব। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন গুকেশ, প্রজ্ঞানন্দ, অর্জুন এরিগাইসি, অরবিন্দ চিদম্বরমদের মতো তরুণরা আন্তর্জাতিক মঞ্চে একের পর এক সাফল্য এনে দিচ্ছেন। তারই মধ্যে নরওয়ে চেসে ম্যাগনাস কার্লসেনকে একই টুর্নামেন্টে দু’বার হারিয়ে প্রজ্ঞানন্দ যে নজির গড়লেন, তা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, ভারতীয় দাবার ক্রমবর্ধমান শক্তিরও এক উজ্জ্বল প্রতীক। ১৯ বছর আগে বিশ্বনাথন আনন্দ যে কীর্তি গড়েছিলেন, আজ সেই ইতিহাসের পাতায় নিজের নামও লিখিয়ে ফেললেন চেন্নাইয়ের এই বিস্ময়বালক।

LinkedIn
Share