Blog

  • Makar Sankranti 2026: সনাতন ধর্মে মকর সংক্রান্তি এত গুরুত্বপূর্ণ কেন? জানুন দিনটির মাহাত্ম্য

    Makar Sankranti 2026: সনাতন ধর্মে মকর সংক্রান্তি এত গুরুত্বপূর্ণ কেন? জানুন দিনটির মাহাত্ম্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ মকর সংক্রান্তি (Makar Sankranti 2026)।এই পবিত্র দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা পৌরাণিক কাহিনি (Mythological Stories)। বলা হয়, যেমন জ্যোতিষশাস্ত্রে মকর সংক্রান্তি হল এক বিশেষ দিন যে দিন সূর্য ধনু রাশি থেকে মকর রাশিতে প্রবেশ করে। এদিন থেকেই সূর্য দক্ষিণায়ন থেকে উত্তরায়ণের দিকে ক্রমে ক্রমে সরে যায়। ফলে দিন বড় হতে শুরু করে এবং রাত ছোট হয়। হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন শাস্ত্রে এই দিনটির গুরুত্ব সম্পর্কে লেখা রয়েছে। হিন্দুশাস্ত্র মতে, এইদিনে স্নান করলে সমস্ত দুঃখ-কষ্ট দূর হয়ে যায়। একই ভাবে স্নানের পর জল সূর্য দেবতার উদ্দেশে নিবেদন করলে দুঃখ কষ্ট দূর হয়ে যায়। এ দিনের মাহাত্ম্যকথা সম্পর্কে একাধিক গল্প পাওয়া যায়। এই দিনটি সূর্য উপাসনা, উপবাস, শ্রীকৃষ্ণ ও মাতা যশোদার সঙ্গে জড়িত। সৌর ক্যালেন্ডার অনুসারে, প্রতি বছর ১৪ জানুয়ারি মকর সংক্রান্তি উৎসব পালিত হয়। এদিন বাঙলার ঘরে ঘরে পিঠে পুলি খাওয়ার রীতি রয়েছে। গ্রাম বাংলায় পৌষবুড়িও করে শিশুরা।

    যশোদা শ্রীকৃষ্ণকে পুত্ররূপে পেতে উপবাস করেছিলেন

    মকর সংক্রান্তি (Makar Sankranti 2026) এবং সূর্যদেবের উপাসনার সঙ্গে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এবং যশোদার সঙ্গে জড়িত। পৌরাণিক কাহিনি (Mythological Stories) অনুযায়ী, যশোদা শ্রীকৃষ্ণকে পুত্ররূপে পাওয়ার জন্য মকর সংক্রান্তির দিন উপবাস করেছিলেন। সাধারণত শ্রীরাম ত্রেতাযুগে বনবাস থেকে ফিরে আসার পর, কৈকেয়ী তাঁকে বলেছিলেন যে, পরবর্তী জীবনে আমার গর্ভে যেন জন্মগ্রহণ করেন। আমি যেন আপনার মা হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করতে পারি। সেই সময়ে ভগবান মাতা কৈকেয়ীর সকল মনোবাসনা পূর্ণ করেন। রাণীমার আশীর্বাদে রামচন্দ্র জানিয়েছেন, মা তুমি কষ্ট পেয় না। কৈকেয়ীর অনুরোধে তাঁর গর্ভেই জন্মগ্রহণ করবে। পুত্র হিসেবে তিনি ডাকতে পারবেন। এই কারণেই দ্বাপরে ভগবান রাম, মা দেবকীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু ঘটনাক্রমে দেবকির গর্ভে জন্ম নিলেও যশোদার কাছে মানুষ হন কৃষ্ণ। তাই শ্রীকৃষ্ণকে যশোদা নন্দনও বলা হয়।

    সূর্য পুজোর একটা বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে

    এই মকর সংক্রান্তির (Makar Sankranti 2026) সঙ্গে সূর্য পুজোর একটা বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে সূর্য হল শক্তির প্রতীক। যাদের রাশিতে সূর্যের অবস্থান ঠিক থাকে না তাদের সূর্য নারায়ণকে নমস্কার করে জল তর্পণ করতে হয়। সূর্যের চলনের উপর নির্ভর করে সকল নিয়ম কানুনকে মেনে চলতে হয়। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, সংক্রান্তি মানে সূর্যের রাশি পরিবর্তন। মকর সংক্রান্তিতে, সূর্য দেবতা উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে ধনু রাশি থেকে বের হয়ে মকর রাশিতে প্রবেশ করে। অর্থাৎ, মকর সংক্রান্তিতে সূর্য দক্ষিণায়ন থেকে উত্তরায়ণে যায়। তাই এই দিনটিকে (Makar Sankranti 2026) উত্তরায়ণ বলা হয়। হিন্দু ধর্ম শাস্ত্রে দক্ষিণায়ণ হল দেবতাদের রাত এবং উত্তরায়ণ হল দেবতাদের দিন। শাস্ত্রে উত্তরায়ণের দিনটিকে অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়েছে। এই দিনে পবিত্র নদীতে স্নান, দান ও পুজো করলে শুভ ফল পাওয়া যায়। মনে করা হয় উত্তরায়ণে এদিন প্রাণ উৎসর্গ বা দেহ ত্যাগ করলে সরাসরি মোক্ষ লাভ পাওয়া যায় বলে বিশ্বাস।

    অন্য পৌরাণিক মতে এদিন পুত্র শনির গৃহে প্রবেশ করেন সূর্য

    পৌরাণিক আখ্যান অনুযায়ী, শনিদেব কালো তিল দিয়ে সূর্য পুজো করেন। শনির পুজোয় প্রসন্ন সূর্য আশীর্বাদ করেন তাঁকে। আশীর্বাদে তিনি বলেন, শনির অপর ঘর মকরে যখন তিনি প্রবেশ করবেন সেদিন মর্ত্য লোক ধন-ধান্যে ভরে যাবে।

    এদিনই দেহত্যাগ করেন পিতামহ ভীষ্ম

    পুরাণ মতে, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধকালে নিজের প্রাণত্যাগ করার জন্য মকর সংক্রান্তির (Makar Sankranti 2026) তিথিকেই নির্বাচন করেছিলেন পিতামহ ভীষ্ম।

    কপিল মুনির আশ্রম হয়ে গঙ্গা এদিন সাগরে মিশেছিল

    পুরাণ মতে, এই তিথিতেই ভগীরথের পিছু চলতে চলতে কপিল মুনির আশ্রম হয়ে সাগরে মিশে যান গঙ্গা। তাই এই উপলক্ষে গঙ্গাসাগর মেলার আয়োজন করা হয়। কপিল মুনির আশ্রমে লক্ষ লক্ষ ভক্তদের ভিড় দেখা যায় এদিন। মকর সংক্রান্তির পূণ্য স্নান করেন ভক্তরা।

    দেবতা-অসুর যুদ্ধের সমাপ্তি

    দেবতাদের সঙ্গে অসুরদের দ্বন্দ্বের পরিসমাপ্তিও হয়েছিল মকর সংক্রান্তির দিনে। এই দিনেই অসুরদেরকে বধ করে শুভ শক্তির বিস্তার ঘটেছিল। তাই যেকোনও শুভ কাজ এই দিনে শুরু করা উচিত বলে মনে করেন অনেকে।

  • Daily Horoscope 14 January 2026: আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন এই রাশির জাতকরা

    Daily Horoscope 14 January 2026: আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন এই রাশির জাতকরা

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ

    ১) মা-বাবার সঙ্গে জরুরি আলোচনা।

    ২) দুপুরের পরে কিছু পাওনা আদায় হতে পারে।

    ৩) পুরনো বন্ধুর সঙ্গে দেখা হতে পারে।

    বৃষ

    ১) বুদ্ধির ভুলে ক্ষতি হতে পারে।

    ২) ব্যবসায় কর্মচারীদের সঙ্গে বিবাদে যাবেন না।

    ৩) ভালো-মন্দ মিশিয়ে কাটবে দিনটি।

    মিথুন

    ১) মনের মতো স্থানে ভ্রমণের জন্য আনন্দ লাভ।

    ২) মিথ্যা বদনাম থেকে সাবধান।

    ৩) সবাই আপনার প্রশংসা করবে।

    কর্কট

    ১) কর্মক্ষেত্রে উন্নতি শেষ মুহূর্তে গিয়ে আটকে যাওয়ায় মানসিক চাপ বৃদ্ধি।

    ২) দাম্পত্য জীবনে বিবাদ হতে পারে।

    ৩) ধৈর্য ধরতে হবে।

    সিংহ

    ১) খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে।

    ২) পারিবারিক ভ্রমণে বাধা।

    ৩) বাণীতে সংযম রাখুন।

    কন্যা

    ১) কোনও নিকটাত্মীয়ের চক্রান্তে সংসারে বিবাদ।

    ২) ব্যবসায় লাভ বাড়তে পারে।

    ৩) দুশ্চিন্তা বাড়বে।

    তুলা

    ১) মনে দুর্বুদ্ধির উদয় হতে পারে।

    ২) ব্যবসায় শত্রুর দ্বারা ক্ষতি হতে পারে।

    ৩) কর্মক্ষেত্রে বাধা।

    বৃশ্চিক

    ১) ব্যবসার ক্ষেত্রে তর্ক-বিতর্ক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

    ২) আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন।

    ৩) সবাইকে বিশ্বাস করবেন না।

    ধনু

    ১) কর্মক্ষেত্র পরিবর্তনের যোগ।

    ২) আর্থিক উন্নতির জন্য খুব ভালো সময়।

    ৩) ডাক্তারের কাছে যেতে হতে পারে।

    মকর

    ১) বিষয়সম্পত্তি কেনাবেচা নিয়ে গুরুজনের সঙ্গে মনোমালিন্য।

    ২) বাড়িতে বিবাদ হতে পারে।

    ৩) আধ্যাত্মিকতায় মনোনিবেশ করুন।

    কুম্ভ

    ১) সকালের দিকে পেটের ব্যথায় কষ্ট ভোগ।

    ২) কিছু কেনার জন্য খরচ বাড়তে পারে।

    ৩) কর্মক্ষেত্রে বাধা।

    মীন

    ১) ভ্রমণে যাওয়ার আলোচনা এখন বন্ধ রাখাই ভালো।

    ২) সম্মান নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ৩) ভেবেচিন্তে কথা বলুন।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • Ramakrishna 557: “ব্যাকুল হয়ে ডাকলে তিনি শুনবেনই শুনবেন, ব্যাকুল হয়ে দোরে ঘা মারো দোর খোলা পাবে”

    Ramakrishna 557: “ব্যাকুল হয়ে ডাকলে তিনি শুনবেনই শুনবেন, ব্যাকুল হয়ে দোরে ঘা মারো দোর খোলা পাবে”

    ৫১ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে

    অষ্টম পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৮শে অগস্ট

    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ও যীশুখ্রীষ্ট (Jesus Christ)

    শ্রীরামকৃষ্ণ (সহাস্যে) — আর কিছু মেলে?

    মণি—আজ্ঞা, আপনি যেমন বলেন—‘ছোকরাদের ভিতর কামিনী-কাঞ্চন ঢুকে নাই; ওরা উপদেশ ধারণা করতে পারবে,—যেমন নূতন হাঁড়িতে দুধ রাখা যায়। দই পাতা হাঁড়িতে রাখলে নষ্ট হতে পারে’; তিনিও সেইরূপ বলতেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ(Ramakrishna)— কি বলতেন?

    মণি—‘পুরানো বোতলে নূতন মদ রাখলে বোতল ফেটে যেতে পারে।’ আর ‘পুরানো কাপড়ে নূতন তালি দিলে শীঘ্র ছিঁড়ে যায়।’

    “আপনি যেমন বলেন(Kathamrita), ‘মা আর আপনি এক’ তিনিও তেমনি বলতেন, ‘বাবা আর আমি এক’।” (I and my father are one.)

    মণি—আপনি যেমন বলেন, ‘ব্যাকুল হয়ে ডাকলে তিনি শুনবেনই শুনবেন (Kathamrita)।” তিনিও বলতেন, ‘ব্যাকুল হয়ে দোরে ঘা মারো দোর খোলা পাবে!’ (Knock and it shall be opened unto you.)

    শ্রীরামকৃষ্ণ — আচ্ছা, অবতার যদি হয়, তা পূর্ণ, না অংশ, না কলা? কেউ কেউ বলে পূর্ণ।

    মণি — আজ্ঞা, পূর্ণ, অংশ, কলা, ও-সব ভাল বুঝতে পারি না। তবে যেমন বলেছিলেন ওইটে বেশ বুঝেছি। পাঁচিলের মধ্যে গোল ফাঁক।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)— কি বল দেখি?

    মণি—প্রাচীরের ভিতর একটি গোল ফাঁক—সেই ফাঁকের ভিতর দিয়ে প্রাচিরের ওধারের মাঠ খানিকটা দেখা যাচ্ছে। সেইরূপ আপনার ভিতর দিয়ে সেই অনন্ত ঈশ্বর খানিকটা দেখা যায়।

    শ্রীরামকৃষ্ণ—হাঁ, দুই-তিন ক্রোশ একেবারে দেখা যাচ্ছে।

    মণি চাঁদনির ঘাটে গঙ্গাস্নান করিয়া ঠাকুরের কাছে ঘরে উপনীত হইলেন। বেলা আটটা হইয়াছে।

    মণি লাটুর কাছে আটকে চাইছেন—শ্রীশ্রীজগন্নাথদেবের আটকে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) কাছে আসিয়া মণিকে বলিতেছেন, “তুমি ওটা (প্রসাদ খাওয়া) করো—যারা ভক্ত হয়, প্রসাদ না হলে খেতে পারে না।”

    মণি—আজ্ঞা, আমি কাল অবধি বলরামবাবুর বাড়ি থেকে জগন্নাথের আটকে এনেছি — তাই রোজ একটি দুটি খাই।

    মণি ভূমিষ্ঠ হইয়া ঠাকুরকে প্রণাম করিতেছেন (Kathamrita) ও বিদায় গ্রহণ করিতেছেন। ঠাকুর সস্নেহে বলিতেছেন, তবে তুমি সকাল সকাল এসো—আবার ভাদ্র মাসের রৌদ্র—বড় খারাপ।

  • Iran Protests: ইরানে বিক্ষোভে নিহত ২,০০০! সহিংসতা বন্ধের আহ্বান রাষ্ট্রসংঘের

    Iran Protests: ইরানে বিক্ষোভে নিহত ২,০০০! সহিংসতা বন্ধের আহ্বান রাষ্ট্রসংঘের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে (Iran Protests) নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতায় প্রাণহানি ক্রমেই বাড়ছে। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার টুর্ক মঙ্গলবার বলেছেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর ক্রমবর্ধমান সহিংসতায় তিনি “ভীষণভাবে মর্মাহত”। ইরান তার ইতিহাসের অন্যতম গুরুতর সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বিক্ষোভ এখন শুধু মূল্যবৃদ্ধি বা অর্থনৈতিক সমস্যায় সীমাবদ্ধ নেই, এটি সরাসরি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে পরিণত হয়েছে। শত শত মানুষ নিহত হয়েছে।

    ইরানের সরকার-বিরোধী বিক্ষোভ

    ২০২২ সালের পর এটিই ইরানের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ বলে মনে করা হচ্ছে। রবিবার একটি মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছিল, চলমান অস্থিরতায় নিহতের সংখ্যা ৬৪৮। তবে মঙ্গলবার এক ইরানি কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি—প্রায় ২,০০০ জন। রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ভলকার টুর্কের এক বিবৃতি পড়ে শোনান সংস্থাটির মুখপাত্র জেরেমি লরেন্স। সেখানে টুর্ক বলেন, “এই ভয়াবহ সহিংসতার চক্র চলতে পারে না। ন্যায্যতা, সমতা ও বিচারের জন্য ইরানি জনগণের যে দাবি, তা অবশ্যই শোনা উচিত।” নিহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে লরেন্স বলেন, “ইরানে আমাদের সূত্র অনুযায়ী যে সংখ্যা আমরা শুনছি, তা শত শত।” টুর্ক আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেন, গ্রেফতার হওয়া হাজার হাজার বিক্ষোভকারীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগ করা হতে পারে।

    ‘ইনস্ট্রুমেন্টালাইজড’ হওয়া উচিত নয়

    এদিকে এই অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিক্ষোভকারীদের পক্ষে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি আবারও দিয়েছেন। সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে লরেন্স বলেন, “এই বিক্ষোভকে কেউ যেন নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার না করে—এ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। কারও দ্বারাই এটি ‘ইনস্ট্রুমেন্টালাইজড’ হওয়া উচিত নয়।” ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিক্ষোভকারীদের সমর্থনে বিবৃতি দিয়েছে এবং ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ রাষ্ট্রীয় হিংসার নিন্দা করেছেন। অন্যদিকে, রাশিয়া এটিকে বিদেশি হস্তক্ষেপ বলে ইরানের পক্ষ নিয়েছে।

    ইন্টারনেট বন্ধ কেন

    মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো ইরানের ইন্টারনেট শাটডাউন নিয়ে সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। নেটব্লকসের মতে, ইরানে সাড়ে তিন দিনেরও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ। এর উদ্দেশ্য কি হিংসার আসল চিত্র লুকানো? নরওয়ের এনজিও ইরান হিউম্যান রাইটস (IHR) বলেছে, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় মৃত্যু ও গ্রেফতারের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই বিক্ষোভ দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলছে। প্রথমে এটি অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে শুরু হলেও এখন তা ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছে।

  • Shaksgam Valley: শাকসগাম উপত্যকা ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, চিনের দাবি খারিজ করল ভারত

    Shaksgam Valley: শাকসগাম উপত্যকা ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, চিনের দাবি খারিজ করল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের (PoJK) অন্তর্গত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শাকসগাম উপত্যকা নিয়ে ফের উসকানিমূলক দাবি তুলল চিন। ১৯৬৩ সালে বেজিং ও ইসলামাবাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত তথাকথিত সীমান্ত চুক্তির উল্লেখ করে চিন দাবি করেছে যে শাকসগাম উপত্যকা তাদের ভূখণ্ড। তবে ভারত এই দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, শাকসগাম উপত্যকা (Shaksgam Valley) ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে ওই চুক্তি সম্পূর্ণ অবৈধ ও অগ্রহণযোগ্য। দিল্লি স্পষ্ট জানিয়েছে, ভারত পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে ১৯৬৩ সালের চুক্তি মানে না।

    শাকসগাম উপত্যকা কোথায়?

    কারাকোরাম পর্বতমালার উত্তরে, সিয়াচেনের খুব কাছেই অবস্থিত শাকসগাম বা ট্রান্স-কারাকোরাম এলাকা। ৫,১৮০ বর্গকিলোমিটারের এই উপত্যকাটি পাকিস্তান ১৯৬৩ সালে একটি সীমান্ত চুক্তির মাধ্যমে চিনের হাতে তুলে দেয়। সেই চুক্তিতেই লেখা, কাশ্মীর প্রশ্ন মিটলে সীমান্ত আবার নতুন করে নির্ধারণ করা যাবে। কিন্তু ভারতের মতে, ওই চুক্তিটাই শুরু থেকেই অবৈধ। শাকসগাম উপত্যকা পাক অধিকৃত কাশ্মীরের হুনজা-গিলগিট অঞ্চলে অবস্থিত। সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে চিনের পরিকাঠামো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতের সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার ভারতের রয়েছে।

    শাকসগাম উপত্যকায় চিনের নির্মাণ

    পূর্ব কারাকোরাম পর্বতমালায় সিয়াচেন হিমবাহের কাছে অবস্থিত শাকসগাম উপত্যকা, যা ট্রান্স কারাকোরাম ট্র্যাক্ট নামেও পরিচিত। এর উত্তরে চিনের জিনজিয়াং অঞ্চল এবং দক্ষিণ ও পশ্চিমে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) রয়েছে। যে বিষয়টি ভারতকে সতর্ক করে তুলেছে, তা হল উপত্যকায় চিনের একটি অল-ওয়েদার রাস্তা নির্মাণ। প্রায় ১০ মিটার চওড়া এই সড়কটির প্রায় ৭৫ কিলোমিটার নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে যে এই অঞ্চলটি ভারতীয় ভূখণ্ডের অংশ এবং স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে। মন্ত্রক আরও উল্লেখ করেছে যে, ভারত কখনও ১৯৬৩ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে চিনের স্বাক্ষরিত চুক্তিকে স্বীকৃতি দেয়নি, যে চুক্তির মাধ্যমে ইসলামাবাদ কর্তৃক অবৈধভাবে দখলকৃত এলাকা থেকে শাকসগাম উপত্যকার ৫,১৮০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা বেজিংকে হস্তান্তর করা হয়েছিল।

    চিনের অদ্ভুত দাবি

    চিন ভারতের আপত্তি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে যে, তাদের নির্মাণকাজ ন্যায়সঙ্গত। চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মাও নিং ১২ জানুয়ারি বলেছেন, ওই এলাকাটি চিনের এবং সেখানে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অধিকার বেজিংয়ের রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, নিজের ভূখণ্ডে পরিকাঠামো নির্মাণ করা চিনের অধিকার এবং ১৯৬০-এর দশকে চিন ও পাকিস্তান একটি সীমান্ত চুক্তির মাধ্যমে উভয় দেশের সীমানা নির্ধারণ করেছে। এই ঘটনা ভারত-চিন সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। যদিও ২০২৪ সালে লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (এলএসি)-তে উত্তেজনা কমানোর চুক্তি হয়েছিল, তবুও কাশ্মীর নিয়ে এই ধরনের বিতর্ক বারবার দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাসের জন্ম দেয়। চিনের এই দৃঢ় অবস্থান অনেক বিশ্লেষকের মতে পাকিস্তানের সঙ্গে তার কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়াস। অন্যদিকে ভারতের জন্য এটি জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রশ্ন।

    বিদেশ মন্ত্রক-এর বিরোধিতা

    চিনের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) স্পষ্ট করেছে যে ভারত কখনওই ১৯৬৩ সালের চিন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তিকে স্বীকৃতি দেয়নি। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, “শাকসগাম উপত্যকা ভারতের ভূখণ্ড। আমরা ধারাবাহিকভাবে বলে আসছি যে তথাকথিত চিন-পাকিস্তান সীমান্ত চুক্তি অবৈধ এবং অকার্যকর।” চিনের পাল্টা দাবিকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে ভারত আরও জানিয়েছে যে পাক অধিকৃত কাশ্মীর আসলে পাকিস্তানের অবৈধ দখলে থাকা ভারতীয় ভূখণ্ড। ফলে পাকিস্তানের কোনও অধিকার নেই এই অঞ্চলের কোনও অংশ তৃতীয় কোনও দেশের কাছে হস্তান্তর করার। এই বিষয়টি একাধিকবার পাকিস্তান ও চিন—উভয় দেশকেই জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে নয়া দিল্লি। ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীও এই প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা ১৯৬৩ সালের পাক-চিন সীমান্ত চুক্তিকে স্বীকার করি না। শাকসগাম উপত্যকায় যে কোনও ধরনের কার্যকলাপ আমরা অনুমোদন করি না।”

    শাকসগাম উপত্যকা কেন গুরুত্বপূর্ণ

    ভারতের জন্য শাকসগাম উপত্যকা দুটি কারণে তাৎপর্যপূর্ণ— আঞ্চলিক এবং সামরিক। উপত্যকাটি বিশ্বের সর্বোচ্চ যুদ্ধক্ষেত্র সিয়াচেন হিমবাহের কাছে অবস্থিত। এছাড়াও, এটি কারাকোরাম গিরিপথে সরাসরি প্রবেশের সুযোগ করে দেয়। সিয়াচেন থেকে পাকিস্তানের ওপর সরাসরি নজর রাখতে পারে ভারতীয় সেনা। আবার কারাকোরাম গিরিপথ থেকে চিনা কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করতে পারা যায়। সুতরাং, শাকসগাম উপত্যকায় নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাবের সরাসরি প্রভাব পড়বে চিনের সঙ্গে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) এবং পাকিস্তানের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) বরাবর ভারতের সামরিক অবস্থানের উপর। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে চিন ৪,৮০৫ মিটার উঁচু আগিল গিরিপথ পেরিয়ে নিম্ন শাকসগাম উপত্যকায় একটি রাস্তা তৈরি করেছে। যার ফলে ভারতীয় নিয়ন্ত্রিত সিয়াচেন হিমবাহের ইন্দিরা কলের ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে চলে আসবে চিন সেনা। কল হল একটি পর্বতমালার সর্বনিম্ন বিন্দু। গত কয়েক দশক ধরে ভারত প্রধানত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সিয়াচেন অঞ্চলকে রক্ষা করার উপর মনোযোগ দিয়েছে, যেখানে হুমকিটি মূলত দক্ষিণের দিক থেকে ছিল। এখন এই নতুন রাস্তার কারণে উত্তর দিক থেকে চাপ বাড়াতে পারবে চিন। যা বিশ্বের সর্বোচ্চ যুদ্ধক্ষেত্রে দুই-মুখী সংঘাতের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলছে।

    ভারতের যৌক্তিক দাবি

    উল্লেখ্য, ১৯৬৩ সালের চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তান অবৈধভাবে প্রায় ৫,১৮০ বর্গকিলোমিটার ভারতীয় ভূখণ্ড চিনের হাতে তুলে দেয়। তবে যেহেতু কাশ্মীর ইস্যু এখনও আন্তর্জাতিক স্তরে মীমাংসিত নয় এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীর পাকিস্তানের অংশ হিসেবে কোনও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নেই, তাই এই চুক্তির কোনও আইনগত ভিত্তি নেই বলে ভারতের দাবি। এছাড়াও, ভারত বারবার চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (CPEC) প্রকল্পের বিরোধিতা করে এসেছে, কারণ এই প্রকল্প পাকিস্তানের অবৈধ দখলে থাকা ভারতীয় ভূখণ্ডের উপর দিয়ে গিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক পুনরায় জানিয়েছে, “আমরা চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরকেও স্বীকৃতি দিই না, কারণ এটি ভারতের ভূখণ্ডের উপর দিয়ে অতিক্রম করেছে, যা পাকিস্তানের জোরপূর্বক ও অবৈধ দখলে রয়েছে।” সব মিলিয়ে, শাকসগাম উপত্যকা নিয়ে চিনের সাম্প্রতিক দাবিকে সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে ভারত স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে—এই অঞ্চল ভারতেরই অংশ। এই অঞ্চল সুরক্ষিত রাখতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

  • Operation Sindoor: ফের অপারেশন সিঁদুর! সীমান্তে সক্রিয় ১৪০ জঙ্গি, ৬টি শিবির! জবাব দিতে তৈরি ভারত, জানালেন সেনাপ্রধান

    Operation Sindoor: ফের অপারেশন সিঁদুর! সীমান্তে সক্রিয় ১৪০ জঙ্গি, ৬টি শিবির! জবাব দিতে তৈরি ভারত, জানালেন সেনাপ্রধান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘অপারেশন সিঁদুর’ এখনও চলছে বলে ফের বার্তা দিলেন ভারতের সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী। উল্টো দিক থেকে কোনও রকম দুঃসাহসিক পদক্ষেপ করা হলে, তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, চিনের সঙ্গে সীমান্ত-পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল হলেও সেখানেও নিরন্তর সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন সেনাপ্রধান। সিঁদুরের বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করে জেনারেল দ্বিবেদী বলেছেন, “অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে কৌশলগত দিকগুলি নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। ভারতীয় সেনা সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো ধ্বংস করেছে এবং ইসলামাবাদের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক হামলার ভয় দেখানোর কৌশল ভোঁতা করে দিয়েছে।” তাঁর দাবি, সেনা আক্রমণাত্মক অভিযানের জন্য সর্বদা প্রস্তুত।

    তিন সেনার সমন্বয়ের এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ

    গত বছর পহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় সেনা অপারেশন সিঁদুর শুরু করে। আর সেই অপারেশন সিঁদুরের অধীনে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারতীয় সেনাবাহিনী। ভারতের সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী অপারেশন সিঁদুরকে ভারতের তিন সেনার সমন্বয়ের এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। মঙ্গলবার নয়া দিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করেন, অপারেশন সিঁদুর এখনও শেষ হয়নি। শত্রুপক্ষ অর্থাৎ পাকিস্তান যদি আগামীতে যে কোনও দুঃসাহস দেখায় তাহলে আরও কঠোরভাবে তার জবাব দেওয়া হবে। সেনাপ্রধান জানান, পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী আক্রমণের পর সর্বোচ্চ স্তর থেকে কড়া জবাব দেওয়ার দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়।

    পারমাণবিক হামলার ভয় আর নয়

    ভারতের আকাশে পাক ড্রোন! আর তারপরই বার্ষিক সাংবাদিক সম্মেলনে সীমান্ত পরিস্থিতি ও বাহিনীর ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি নিয়ে পাকিস্তানকে স্পষ্ট বার্তা সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। একই সঙ্গে কথায় কথায় পাকিস্তানের যে পারমাণবিক হুমকি, তারও সমূলে আঘাত করা হয়েছে। ৯টি টার্গেটকে লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছিল ভারত। এই প্রসঙ্গে জেনারেল দ্বিবেদীর ব্যাখ্যা, “৭ মে ২২ মিনিটের সূচনায় এবং পরবর্তী ৮৮ ঘণ্টার সুসংহত অভিযানে অপারেশন সিঁদুর কৌশলগত সমীকরণ বদলে দিয়েছে। গভীরে ঢুকে আঘাত হানা হয়েছে, জঙ্গি পরিকাঠামো ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং বহুদিনের পারমাণবিক হুমকির বয়ানকেও প্রশ্নের মুখে ফেলা হয়েছে।”

    ১৪০ জন সক্রিয় জঙ্গি

    জেনারেল দ্বিবেদী জানান, সেনার হিসেব অনুযায়ী, জম্মু–কাশ্মীর ও সংলগ্ন এলাকায় এখনও অন্তত ১৪০ জন সক্রিয় জঙ্গি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০ জন স্থানীয়, বাকিরা পাকিস্তানের নাগরিক। ২০২৫ সালে মোট ১৩৯টি সংঘর্ষবিরতির ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ১২৪টি ঘটেছে অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন। আইবি-র ওপারে দু’টি এবং লাইন অফ কন্ট্রোলের ওপারে ছ’টি জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির এখনও সক্রিয় বলে সেনার দাবি। ওই সব শিবিরে ন্যূনতম ১০০ জন জঙ্গি রয়েছে বলে অনুমান। সেনার তরফে জানানো হয়েছে, শিবিরগুলির উপর সর্বক্ষণ নজর রাখা হচ্ছে।

    নতুন করে সাজছে সেনা

    অপারেশন সিঁদুরের পর সেনার কাঠামোয় বদল আনা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন সেনাপ্রধান। নতুন করে একাধিক ব্রিগেড গঠন করা হচ্ছে। ঘাতক প্ল্যাটুনের আদলে ২৫টি ‘ভৈরব ব্যাটালিয়ন’ তৈরি হচ্ছে। প্রতিটি ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়নে ড্রোন ব্যবহারে দক্ষ ‘অশনী প্ল্যাটুন’ গঠন সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি, তৈরি হচ্ছে ৯টি ‘রুদ্র ব্রিগেড’। আর্টিলারির ক্ষেত্রেও শক্তিবৃদ্ধির কথা জানান সেনাপ্রধান। ১৫টি ‘শক্তিবান রেজিমেন্ট’ গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। সেখানে ১০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার রেঞ্জের পাশাপাশি ভবিষ্যতে ৭৫০ থেকে ১০০০ কিলোমিটার পাল্লার আধুনিক আর্টিলারি গান অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    সক্রিয় স্থানীয় জঙ্গির সংখ্যা কমে গিয়েছে

    সাংবাদিক বৈঠকে পাকিস্তানের দিক থেকে নজরদারির উদ্দেশ্যে কিছু ড্রোন পাঠানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন জেনারেল দ্বিবেদী। ডিজিএমও স্তরের বৈঠকে এই ধরনের তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করার বার্তা পাকিস্তানকে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। সেইসঙ্গে ভবিষ্যৎ যুদ্ধপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে ‘ইন্টিগ্রেটেড ব্যাটেল গ্রুপ’ গঠনের কথাও জানান তিনি। প্রতিটি গ্রুপের নেতৃত্বে থাকবেন মেজর জেনারেল পদমর্যাদার অফিসার। এক একটি গ্রুপে ১৬টি বা তার বেশি ইউনিট একসঙ্গে কাজ করবে। সেনাপ্রধান দ্বিবেদী আরও বলেন, মে মাসের ১০ তারিখের পর থেকে ভারতের পশ্চিম সীমান্ত এবং জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি সংবেদনশীল হলেও পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০২৫ সালে ৩১ জন সন্ত্রাসবাদী নিহত হয়েছে। আর এর মধ্যে ৬৫ শতাংশই পাকিস্তানি। এর ফলে, সক্রিয় স্থানীয় জঙ্গির সংখ্যা কমে গিয়েছে উল্লেখযোগ্য ভাবেই।

    উত্তর দিকের বর্ডারের কী পরিস্থিতি?

    এই প্রশ্নের উত্তরে আশার কথা শোনান জেনারেল দ্বিবেদী। তিনি জানান, ভারতের উত্তর ভাগের চিনের দিকের বর্ডারে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। এক্ষেত্রে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে। তাই পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল। যদিও নিরপত্তা নিয়ে কোনও রকম ঢিলেমি দেওয়া চলবে না। বরং কঠোর নজর থাকবে সব দিকে। মণিপুর ধীরে ধীরে শান্ত হচ্ছে। নিরাপত্তারক্ষী এবং সরকারের চেষ্টায় শান্তি ফিরছে। এছাড়া মায়ানমারে ভোট হয়ে গেলে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে জানা গিয়েছে। এর পাশাপাশি এই সাংবাদিক সম্মেলনে শাক্সগম উপত্যকা সংক্রান্ত পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে ১৯৬৩ সালের চুক্তিকেও অবৈধ বলে অভিহিত করেন তিনি।

    ইয়ার অব নেটওয়ার্কিং অ্যান্ড ডেটা সেনট্রিসিটি

    জেনারেল দ্বিবেদী জানান, ভারতীয় সেনা আধুনিকীকরণে জোর দিচ্ছে। ব্রহ্মোস মিসাইল, উন্নত ড্রোন থেকে শুরু করে একাধিক আপগ্রেডেশন চলছে। পাশাপাশি তিনি এও জানান যে ভারত ৯০ শতাংশ অ্যামুইনেশন দেশেই তৈরি করছে। সেনার পক্ষ থেকে ২০২৬ সালকে ‘ইয়ার অব নেটওয়ার্কিং অ্যান্ড ডেটা সেনট্রিসিটি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েথে। এর ফলে রিয়েল টাইম ডিসিশন নিতে সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • JP Nadda: রাজ্যে নিপা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে বিশেষ কেন্দ্রীয় টিম গঠন নাড্ডার, সবরকম সাহায্যের আশ্বাস

    JP Nadda: রাজ্যে নিপা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে বিশেষ কেন্দ্রীয় টিম গঠন নাড্ডার, সবরকম সাহায্যের আশ্বাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে নিপা ভাইরাসের (Nipah Cases) দুটি সন্দেহভাজন কেস শনাক্ত হয়েছে। ঠিক তারপরেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা (JP Nadda) পশ্চিমবঙ্গকে পূর্ণ কেন্দ্রীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। সেইসঙ্গে দ্রুত সংক্রমণ বিস্তারের রোধে একটি কেন্দ্রীয় পরিদর্শকের টিম গঠন করেছেন। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সব রকম ভাবে প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে একযোগে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন।

    জাতীয় স্তরের জরুরি প্রোটোকল চালু (JP Nadda)

    ১১ জানুয়ারি কল্যাণীর এইমস-এর ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর ভাইরাস রিসার্চ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরিতে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। আর এরপর থেকেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক জাতীয় স্তরের জরুরি প্রোটোকল চালু করেছে। নিপা ভাইরাসের সংক্রমণের (Nipah Cases) তথ্য পাওয়ার পরপরই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী নাড্ডা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যের ঊর্ধ্বতন স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কার্যকারী সমন্বয় কমিটি গঠন করেছেন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব, রাজ্যের মুখ্য সচিব এবং স্বাস্থ্য দফতরের মুখ্য সচিবের সঙ্গে প্রস্তুতি পর্যালোচনা এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ আলোচনাও করেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী (JP Nadda)।

    কোন কোন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়

    রাজ্য সরকারকে সহায়তা করার জন্য পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় ভাইরোলজি ইনস্টিটিউট (পুণে), জাতীয় মহামারীবিদ্যা ইনস্টিটিউট (চেন্নাই), অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ হাইজিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ (কলকাতা), এইমস কল্যাণী এবং পরিবেশ মন্ত্রকের বন্যপ্রাণী বিভাগ সহ শীর্ষস্থানীয় জনস্বাস্থ্য ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় স্তরের সমন্বয় টিম কাজ শুরু করেছে।

    দিল্লির জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের জনস্বাস্থ্য জরুরি অপারেশন সেন্টারকেও সক্রিয় করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা (JP Nadda) ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে পরীক্ষাগার সহায়তা, সংক্রমণে নজরদারি, সংক্রমণ প্রতিরোধ প্রোটোকল এবং কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমগুলিকে সক্রিয় করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দলের পক্ষ থেকে অনুসন্ধান, সন্দেহভাজনদের বিচ্ছিন্নকরণ এবং মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ (Nipah Cases) রোধে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    নিপা ভাইরাস একটি ‘জুনোটিক’ সংক্রমণ যা প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সংক্রমণ দ্রুত মৃত্যুর প্রবণতাকে বাড়িয়ে দেয়। তাই প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রণকে বার বার গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণের কথা বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকে।

  • EU–India Free Trade Deal: জানুয়ারির শেষেই ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত! মোদি-মের্ৎস বৈঠকের পর জল্পনা তুঙ্গে

    EU–India Free Trade Deal: জানুয়ারির শেষেই ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত! মোদি-মের্ৎস বৈঠকের পর জল্পনা তুঙ্গে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চলতি জানুয়ারি মাসের মধ্যেই ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU–India Free Trade Deal) মধ্যে ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরিত হতে পারে। সোমবার গুজরাটের আমেদাবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস এই সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আলোচনা ঠিকঠাক এগোলে জানুয়ারির শেষ দিকে ইইউর শীর্ষ নেতারা চুক্তিটি সই করতে ভারত সফরে আসবেন।

    বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় মোড়

    জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস সোমবার (১২ জানুয়ারি) ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সংক্রান্ত আলোচনা চলতি মাসের শেষের মধ্যেই চূড়ান্ত হতে পারে। বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা সুরক্ষাবাদী নীতির প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি বৈশ্বিক বাণিজ্যে একটি বড় মোড় আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। আমেদাবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মের্ৎস জানান, আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছলে শীর্ষস্থানীয় ইইউ নেতারা চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করতে ভারতে আসতেও প্রস্তুত। চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই মের্ৎসের প্রথম সরকারি ভারত সফর। মের্ৎস বলেন, “যে কোনও অবস্থাতেই এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে বাস্তবায়নের পথে আরও একটি বড় পদক্ষেপ করা হবে।” যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।

    কেন এই চুক্তির তাড়াহুড়ো

    ইইউ এখন ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার (২০২৪ সালে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১২০ বিলিয়ন ইউরো)। চিনের ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ইউরোপ এখন ভারতকে সবচেয়ে ‘পছন্দের অংশীদার’ হিসেবে দেখছে। ইইউ অটোমোবাইল, ওয়াইন ও চিকিৎসা সরঞ্জামে শুল্ক কমাতে চায়, বিপরীতে ভারত চায় পোশাক ও চামড়াজাত পণ্যে সহজ প্রবেশাধিকার। বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান সুরক্ষাবাদ ও ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক নীতির কারণে সৃষ্ট অস্থিরতার মধ্যে জার্মান চ্যান্সেলরের ভারত সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর চ্যান্সেলর মের্ৎস বলেন, বিশ্ব এখন সুরক্ষাবাদের পুনর্জাগরণ দেখছে। কিন্তু এটি জার্মানি ও ভারত—উভয় দেশের জন্যই ক্ষতিকর। তিনি কোনো দেশের নাম না নিলেও তাঁর ইঙ্গিত ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান শুল্ক নীতির দিকে। বর্তমানে সমরাস্ত্রের জন্য ভারত অনেকাংশে রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল।

    প্রজাতন্ত্র দিবসের পরেই চুক্তি স্বাক্ষর!

    ২৬ জানুয়ারি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে ইইউর শীর্ষ নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এরপরই ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় ভারত-ইইউ সম্মেলনে এই মেগা বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন যে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। জার্মান কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, মের্ৎস ও মোদির মধ্যে বৈঠক ছিল “অত্যন্ত নিবিড়”, যা সম্ভাব্য অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই চুক্তির আওতায় ইইউ গাড়ি, চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওয়াইন ও মদের উপর শুল্ক হ্রাস এবং মেধাস্বত্ব সুরক্ষার দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে ভারত শ্রমনির্ভর পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার এবং অটোমোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স খাতে দ্রুত স্বীকৃতির ওপর জোর দিচ্ছে।

    ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার

    বহু বছর ধরে আলোচনাধীন এই চুক্তিকে উভয় পক্ষই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে। বিশেষত চিন ও রাশিয়ার উপর নির্ভরতা কমিয়ে সরবরাহ শৃঙ্খল বৈচিত্র্যময় করার লক্ষ্যে ইইউ ও ভারত একে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। ২০২৪ সালে ভারত ও ইইউ-র মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১২০ বিলিয়ন ইউরো, যার ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে উঠে এসেছে। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক বাড়ানো এবং রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমানোর জন্য নয়াদিল্লির উপর চাপ সৃষ্টি করায় এই আলোচনা আরও গতি পেয়েছে। গত বছর ভারত–মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা ভেঙে যাওয়ায়, ইইউ ভারতের কাছে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হিসেবে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

    মের্ৎসের ভূমিকা

    ভূরাজনৈতিক প্রসঙ্গে মের্ৎস বলেন, ইউক্রেন ইস্যুতে জার্মানি ও ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি অভিন্ন। তিনি বলেন, “রাশিয়ার ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন সম্পর্কে আমাদের মূল্যায়নে আমরা সম্পূর্ণ একমত।” যদিও ভারতের জ্বালানি নির্ভরতার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। এছাড়াও মের্ৎস বিশ্বজুড়ে “দুর্ভাগ্যজনক সুরক্ষাবাদের পুনরুত্থান” নিয়ে সতর্ক করে বলেন, এর সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে। জার্মানি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের আলোচনা চলছে। মের্ৎসের এই সফর এই আলোচনাকে ত্বরান্বিত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে ফেব্রুয়ারি মাসে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ ভারতে আসার আগেই এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়ে যেতে পারে।

    মোদি-মের্ৎসে সম্পর্ক

    জার্মানির চ্যান্সেলর হিসেবে ভারতে তো বটেই, এই প্রথম এশিয়ার কোনও দেশে এলেন মের্ৎস। গান্ধীনগরে মোদির সঙ্গে বৈঠকে বসার আগে আমেদাবাদের সবরমতী আশ্রমে গিয়েছিলেন জার্মানির চ্যান্সেলর। তার পর তিনি সবরমতী নদীর ধারে আন্তর্জাতিক ঘুড়ি উৎসবে যোগ দেন। মোদির সঙ্গে ঘুড়ি ওড়়াতেও দেখা যায় মের্ৎসেকে। মোদি- মের্ৎস বৈঠকের পর প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে বোঝাপড়া আরও জোরদার করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে নয়াদিল্লি এবং বার্লিন। পুনর্ব্যবহারযোগ্য শক্তির ব্যবহার নিয়েও বোঝাপড়া আরও বৃদ্ধির কথা বলেছেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ভারতীয়দের জার্মানিতে থাকার ক্ষেত্রে ভিসা (যা ট্রানজ়িট ভিসা) লাগবে না বলে জানানো হয়েছে। জার্মানির স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে উন্নত করতে ভারতের চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিবাসনকে বৈধতা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর। দুই দেশের মধ্যে তথ্য এবং মেধার আদানপ্রদান বাড়ানোর বিষয়েও সম্মত হয়েছেন মোদি এবং মের্ৎস।

  • Enforcement Directorate: প্রতীক জৈনের বাড়িতে জোর করে ঢুকেছিলেন মমতা! সুপ্রিম কোর্টে কী কী জানাল ইডি?

    Enforcement Directorate: প্রতীক জৈনের বাড়িতে জোর করে ঢুকেছিলেন মমতা! সুপ্রিম কোর্টে কী কী জানাল ইডি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের আই প্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে জোর করে ঢুকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক কী কী করেছিলেন? সুপ্রিমকোর্টে বিশেষ অভিযোগ করে একাধিক দাবি করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (Enforcement Directorate)। জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার নগরপাল মনোজ ভার্মার বিরুদ্ধে ১৭ ধারায় মামলা দায়ের করেছে ইডি। আর্থিক দুর্নীতি মামলার তদন্তে জোর করে ঢুকে পরা এবং নথি, তথ্য-প্রমাণকে ছিনতাই করার অভিযোগ তুলেছে। একই ভাবে মামলার তদন্ত রিপোর্ট তৈরিতেও বাধা দেওয়া হয়েছে।

    ৩০৫ নম্বর ধারায় মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ (Enforcement Directorate)

    কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (Enforcement Directorate) নিজেদের পিটিশনে বলেছেন, “কোনও রকম অনুমতি ছাড়াই প্রতীক জৈনের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী-পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা জোর করে ঢুকে তদন্তের আওতায় থাকা নথি এবং ডিজিটাল ইনফরমেশন ছিনতাই করে নিয়ে গিয়েছে।” এই সব কিছুর সঙ্গে সম্পূর্ণ ঘটনার ভিডিও এবং ছবি পিটিশনের সঙ্গে পাঠানো হয়েছে। সেইসঙ্গে তদন্তকারী আধকারিকদেরকে ভয় দেখানো হয়েছিল। ফলে পঞ্চনামা করাও সম্ভব হয়নি। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩০৫ নম্বর ধারায় মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগও আনা হয়। প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে তথ্য নিয়ে চলে যাওয়ার মানেই হল চুরি করা। রাজ্যের ডিজি এবং সিপির বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ রয়েছে।

    খরচ দেবেন রাজীব-মমতা দাবি ইডির

    মামলার গুরুত্বের কথা তুলে ধরে ইডি (Enforcement Directorate) দাবি করেছে, তদন্তে বাধা এবং অভিযান নিয়ে শেক্সপিয়ার সরণী এবং ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায় ইডির অফিসারদের বিরুদ্ধে যে এফআইআর করা হয়েছে তা যেন সিবিআইয়ের হাতে হস্তান্তর করা হয়। একই ভাবে প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং অফিসের সমস্ত ফুটেজ যা পুলিশের কাছে রয়েছে তার সবটাই যেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী অফিসার ইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়। মামলার যাবতীয় খরচ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজীব কুমারের ঘাড়ে যেন চাপানো দাবিও তোলা হয়। এই সমস্ত বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট কী সিদ্ধান্ত নেয় তাই এখন দেখার।

    জোড়া মামলায় প্রথমেই মমতার নাম

    মমতার সবুজ ফাইল, ল্যাপটপ এবং নথি ছিনতাইকে ডাকাতির সঙ্গে তুলনা করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ২টি মামলাও দায়ের করেছে। একটি মামলা করেছে ইডি (Enforcement Directorate) এবং অপর আরেকটি মামলা দায়ের করেছে ইডির তিন অফিসার নিশান্ত কুমার, বিক্রম অহলাওয়াত এবং প্রশান্ত চাণ্ডিলা। সুপ্রিম কোর্টে জোড়া মামলার প্রথমটি রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নামে। মামলায় দুই নম্বর পক্ষের নাম রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তারপরেই নাম রয়েছে রাজীব কুমারের।

    রাজীব কুমার ব্যাগটা গোছান

    ইডির (Enforcement Directorate) তদন্তে বাধা দেওয়ার ঘটনায় রাজ্যের তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি বলেন, “কলকাতা পুলিশ নিজেই ফেঁসে বসে আছে। একটু আগেই আমি পেয়েছি, ইডি সুপ্রিম কোর্টে কেস ফাইল করেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং স্বরাষ্ট্র দফতর, পুলিশ দফতরের বিরুদ্ধে। মনোজ ভার্মা, রাজীব কুমার ব্যাগটা গোছান।”

  • Mohan Bhagwat: “সংঘের উদ্দেশ্য ভারতকে বিশ্বের আধ্যাত্মিক কেন্দ্রে পরিণত করা”, বললেন মোহন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: “সংঘের উদ্দেশ্য ভারতকে বিশ্বের আধ্যাত্মিক কেন্দ্রে পরিণত করা”, বললেন মোহন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক কৃষ্ণচেতন সমাজ সংগঠন ইসকনের (ISKCON) প্রবক্তা শীল প্রভুপাদের ভক্তিবেদান্ত সমগ্র জীবন মানবজাতির জন্য অনুপ্রেরণার উৎস এবং তিনি ভারতীয় সংস্কৃতি, সনাতনী মূল্যবোধ ও ভগবত গীতার সার্বজনীন বার্তা বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছেন। ইসকন সমগ্র মানব সমাজকে নতুন দিক দেখিয়েছে— এভাবেই মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS) এর সরসংঘ চালক মোহন ভগবত। সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে সরসংঘ চালক মোহন ভগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, সংঘের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র ধর্মীয় কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ভারতকে বিশ্বের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

    বিশ্বের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র ভারত(Mohan Bhagwat)

    গত ১০ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে চন্দ্রোদয় মন্দিরে যান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। এরপর সংঘের কাজ সম্পর্কে বলেন, “সংঘ এবং চন্দ্রোদয় মন্দিরের (ISKCON) সঙ্গে যুক্ত ভক্তদের উদ্দেশ্য শুধু ধর্মীয় কাজকর্মেই সীমাবদ্ধ নয় বরং ব্যক্তিত্ব উন্নয়ন, মানশীল শিক্ষাদান, সমাজসেবার মাধ্যমে ও সামাজিক সামঞ্জস্য রক্ষা করে ভারতকে বিশ্বের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা। সমাজ, দেশ এবং রাষ্ট্রের জন্য সম্পূর্ণ সমর্পণ ভাব হল ধর্মীয় উপলব্ধির প্রধান উদ্দেশ্যে। তাই ধর্মের সঙ্গে রাষ্ট্রভক্তি একান্ত অপরিহার্য।”

    মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটি বার্তালাপে পড়ুয়াদের শিক্ষা, মূল্যবোধ ও সেবার গুরুত্ব উপলব্ধির বিষয়কে বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দিয়েছে আলোচনা করেছে। পড়ুয়াদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য সরসংঘ চালক বিশেষ ভাবে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি মন্দিরে শ্রী রাধা বৃন্দাবন চন্দ্রের দর্শনও করেছেন এবং সমাজের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেছেন।

    ভগবতগীতা অ্যাজ ইট ইজ- গ্রন্থ পরিদর্শন

    চন্দ্রোদয় (ISKCON) মন্দিরের জনসংযোগ প্রধান ভারতারিষভ দাস জানিয়েছেন, মন্দির পরিদর্শনের পর মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) শ্রীল প্রভুপাদকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। “ভগবতগীতা অ্যাজ ইট ইজ”- গ্রন্থের বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশিত সংস্করণগুলো পরিদর্শন করে দেখেছেন। একাধিক নির্মাণাধীন মন্দির ভবনের মডেলও দর্শন করেছেন। সেই সঙ্গে মন্দিরের আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্যও ব্যাখ্যা করেছেন। এদিন মোহন ভাগবতের সঙ্গে সংঘের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্বরাও উপস্থিত ছিলেন।

LinkedIn
Share