Blog

  • Chhattisgarh: এনকাউন্টারে খতম শীর্ষ মহিলা মাওবাদী নেত্রী রুপি, অন্যদের হুঁশিয়ারি ‘সময় ফুরিয়ে আসছে’

    Chhattisgarh: এনকাউন্টারে খতম শীর্ষ মহিলা মাওবাদী নেত্রী রুপি, অন্যদের হুঁশিয়ারি ‘সময় ফুরিয়ে আসছে’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছত্তিশগড়ের (Chhattisgarh) বস্তার জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে খতম হয়েছে শীর্ষস্থানীয় মাওবাদী কমান্ডার রুপি (Maoist Commander Rupi)। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাঙ্কের জেলায় ঘন জঙ্গলে আত্মগোপন করে ছিল। এই সাফল্যের পর মাওবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত অন্যদের প্রতি কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে—”হয় আত্মসমর্পণ করো, নয়তো কঠোর পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকো।”

    কীভাবে খতম?

    পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দুর্গম বনভূমি এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। জওয়ানদের উপস্থিতি টের পেয়ে মাওবাদীরা অতর্কিতে গুলি চালাতে শুরু করে। পালটা জবাব দেয় নিরাপত্তা বাহিনীও। বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলা এই এনকাউন্টারে শেষ পর্যন্ত রুপি নামের ওই মহিলা কমান্ডার নিহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু অস্ত্রশস্ত্র ও মাওবাদী নথিপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

    কে এই রুপি (Chhattisgarh)?

    নিহত মাওবাদী নেত্রী রুপি দীর্ঘ দিন ধরে উত্তর (Chhattisgarh)  এলাকায় মাওবাদী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তার মাথার ওপর কয়েক লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। একাধিক হিংসাত্মক ঘটনা, পুলিশের ওপর হামলা এবং নাশকতামূলক কাজে সে সরাসরি জড়িত ছিল বলে দাবি নিরাপত্তা বাহিনীর।

    সরকারের হুঁশিয়ারি

    অভিযান শেষে গডচিরোলির পুলিশ সুপার (Chhattisgarh)  বলেন, “রুপি (Maoist Commander Rupi) খতম হওয়ার ফলে এই অঞ্চলে মাওবাদী সংগঠনের নেটওয়ার্ক বড়সড় ধাক্কা খেল। যারা এখনো বিপথে রয়েছে, তাদের আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই— সময় ফুরিয়ে আসছে। আত্মসমর্পণ করে মূলস্রোতে ফিরে আসার সুযোগ এখনো আছে। তা না হলে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান আরও তীব্র হবে।”

    বর্তমানে ওই এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে এবং পলাতক অন্য মাওবাদীদের সন্ধানে সংলগ্ন জঙ্গলগুলিতে চিরুনি তল্লাশি চলছে।

    খুব কম সংখ্যক মাওবাদীই সক্রিয়

    বস্তার রেঞ্জের পুলিশ মহাপরিদর্শক সুন্দররাজ পাত্তিলিঙ্গম এই সংঘর্ষকে মাওবাদী নেটওয়ার্কগুলোর ওপর ধারাবাহিক চাপের ফল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, “সরকার মাওবাদী ক্যাডারদের আত্মসমর্পণ করে নতুন করে জীবন গড়ার সুযোগ ধারাবাহিকভাবে দিয়ে আসছে। অনেকেই সেই পথ বেছে নিয়েছে। কিন্তু যারা সহিংসতার পথেই চলেছে, তাদের পরিণতিও একই হচ্ছে।” সেইসঙ্গে তিনি অবশিষ্ট ক্যাডারদের সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই অঞ্চলে এখন খুব কম সংখ্যক মাওবাদীই (Maoist Commander Rupi) সক্রিয় আছে। সময় ফুরিয়ে আসছে। শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জন্য তাদের অবশ্যই আত্মসমর্পণ করে মূলধারায় ফিরে আসতে হবে।”

  • SIR: রাজ্যের রাজনীতিতে পরিবর্তন আনছে এসআইআর, ২ কোটি অবৈধ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ উত্তরপ্রদেশে

    SIR: রাজ্যের রাজনীতিতে পরিবর্তন আনছে এসআইআর, ২ কোটি অবৈধ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ উত্তরপ্রদেশে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ভোটার ডাটাবেস পরিচ্ছন্নতার অভিযান চালানো হয়েছে। এই ঘটনা উত্তর প্রদেশের মতো বড় রাজ্যে অত্যন্ত বড় ঘটনা। ভারতের নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ কেবল ভোটার তালিকা ‘আপডেট’ করেনি, বরং রাজ্যের অনেক নির্বাচনী এলাকার সমীকরণ বদলে দিয়েছে, বিশেষ করে লখনউ, কানপুর, বারাণসী এবং পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের মতো শহর ও গ্রাম মিশ্রিত জেলাগুলোতে। উল্লেখযোগ্যভাবে, মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের (Yogi Adityanath) নেতৃত্বাধীন উত্তরপ্রদেশ সরকারের প্রশাসনিক সহায়তায় এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে।

    উত্তরপ্রদেশের তথ্যের তুলনা এসআইআর-এর আগে ও পরে (SIR)

    প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তার দেওয়া সরকারি তথ্য অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় এখন ভোটার (SIR) সংখ্যা প্রায় ১৩.৩৯ কোটি। অক্টোবর ২০২৫-এ সংশোধন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে এই সংখ্যা ছিল ১৫.৪৪ কোটি। অর্থাৎ, ভেরিফিকেশনের পর প্রায় ২.০৪ কোটি (প্রায় ১৩ শতাংশ মৃত) স্থানান্তরিত বা ভুয়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

    • সংশোধনের আগের ভোটার সংখ্যা: ১৫.৪৪ কোটি
    • সংশোধনের পর ভোটার সংখ্যা: ১৩.৩৯ কোটি
    • মোট হ্রাস: ২.০৪ কোটি (প্রায় ১৩ শতাংশ)

    সংশোধন প্রক্রিয়ার সময় প্রায় ২.৯১ কোটি এন্ট্রি সমস্যাযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল:

    • ১.২৭ কোটি মানুষ যারা বাসস্থান পরিবর্তন করেছেন।
    • ৮৪.৭ লক্ষ মানুষ যারা অনুপস্থিত ছিলেন।
    • ৪৬ লক্ষ মৃত ব্যক্তি।
    • ২৩.৭ লক্ষ ডুপ্লিকেট (একই নাম দুবার থাকা) নাম।

    রাজনৈতিক প্রভাব ও গুরুত্ব

    ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন (SIR) একটি বিশেষ নির্বাচনী প্রক্রিয়া। এই কাজের ফলে রাজনৈতিক ভাবে ব্যাপক পরিমাণে সমীকরণ বদলে যাচ্ছে। যার মধ্যে হল—

    স্বচ্ছ নির্বাচন

    নির্বাচন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য হলো ভোটার তালিকা সঠিক করা, যাতে ২০২৭ সালের আসন্ন নির্বাচন আরও স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।

    শহরাঞ্চলে প্রভাব

    লখনউ উত্তর, লখনউ পূর্ব এবং সরোজিনী নগরের মতো শহুরে আসনগুলোতে সবচেয়ে বেশি ভোটার বাদ পড়েছে। লখনউ উত্তরে সর্বোচ্চ ১.৫৪ লক্ষ নাম কাটা গেছে।

    মিরাট, সাহারানপুর এবং বারেরির মতো জেলাগুলোতেও অভিবাসী শ্রমিকের যাতায়াতের কারণে অনেক ভুয়া ভোটার ছিল, যা এখন পরিষ্কার করা হয়েছে। আগ্রায় প্রায় ৬.৩ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

    রাজনৈতিক সমীকরণ

    বিরোধী দলগুলো এই বিপুল পরিমাণ নাম বাদ দেওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে সরকারের দাবি, এটি একটি প্রয়োজনীয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং প্রতিটি নাগরিককে তাদের তথ্য সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

    ২ কোটিরও বেশি সন্দেহজনক নাম বাদ দেওয়ার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষ শাসনব্যবস্থা এবং গণতন্ত্রের একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান করেছে। এই পদক্ষেপের ফলে দলগুলোকে এখন পুরনো তথ্যের ওপর নির্ভর না করে বুথ স্তরে প্রকৃত ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে হবে। এটি দীর্ঘমেয়াদে ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য করে তুলবে। তবে এই কাজের জন্য মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথকে (Yogi Adityanath)  প্রশাসনিক দক্ষতাকেই অভিনন্দন জ্ঞাপন করছেন ওয়াকিবহাল মহলের লোক।

  • TCS: শেষমেশ মুখ খুলল টিসিএস, ‘দুর্বল বিবৃতি’তে যা জানালেন কর্তৃপক্ষ

    TCS: শেষমেশ মুখ খুলল টিসিএস, ‘দুর্বল বিবৃতি’তে যা জানালেন কর্তৃপক্ষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিন দিন আগে প্রকাশ্যে এসেছিল টিসিএসে (TCS) মুসলমান কর্মীরা হিন্দু মহিলা সহকর্মীদের যৌন হয়রান করেছে। অভিযোগ, তারা জোর করে ইসলাম ধর্মে (Religious Conversion Case) ধর্মান্তরিত করার চেষ্টাও করেছিল। এ ব্যাপারে এই তিনদিন মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন কোম্পানির কর্তাব্যক্তিরা। ঘটনার তিনদিন পর, কোম্পানি শেষমেশ একটি দুর্বল বিবৃতি দিয়েছে, যা মূলত পিআর-সংক্রান্ত শব্দে ভরা।

    ‘জেহাদি নেক্সাস’ (TCS)

    বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষের তরফে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে হিন্দু সহকর্মীদের লক্ষ্য করে তথাকথিত ‘জেহাদি নেক্সাসে’র  কোনও উল্লেখ না করে, টিসিএস জানিয়েছে, “যে কোনও ধরনের হয়রানি ও জোরজবরদস্তির বিরুদ্ধে টিসিএসের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। আমরা সবসময় কর্মক্ষেত্রে আমাদের কর্মীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের সর্বোচ্চ মান বজায় রেখেছি।” নিজেদের দায়মুক্ত করতে এবং বিতর্ক এড়ানোর চেষ্টা করে সংস্থার তরফে দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্ত মুসলিম কর্মীদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। টিসিএস জানিয়েছে, “নাসিকের ঘটনাটি সম্পর্কে জানার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্ত কর্মীদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। আমরা স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করছি। তদন্তের ফলের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

    যৌন হয়রানি ও ধর্মান্তর চক্র

    প্রসঙ্গত, নাসিকে টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসের একটি বিপিও ইউনিটে গত ৪ বছর ধরে একটি বড় যৌন হয়রানি ও ধর্মান্তর চক্র চলছিল। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ জন মুসলিম কর্মী, যারা টিম লিডার হিসেবে কাজ করত, (আসিফ আনসারি, শফি শেখ, শাহরুখ কুরেশি, রজা মেমন, তৌসিফ আত্তার এবং দানিশ শেখ) তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে (TCS)। অভিযোগ, ওই সংস্থায় হিন্দু মহিলাদের জোর করে গরুর মাংস খাওয়ানো হত, বাধ্য করা হত নমাজ আদায় করতে। ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত (Religious Conversion Case) করার জোরদার চেষ্টাও চলত। আরও জানা গিয়েছে, সংস্থার এইচআর ম্যানেজার (যিনি ধর্মে মুসলিম) ভুক্তভোগীদের ‘শান্ত থাকার’ পরামর্শ দেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি তাঁদের এও বোঝানোর চেষ্টা করেন যে বহুজাতিক কোম্পানিতে এটি খুবই স্বাভাবিক একটি ব্যাপার (TCS)।

     

  • Karnataka Congress: কর্নাটকে কংগ্রেসে অসন্তোষ তুঙ্গে, ৩০-র বেশি বিধায়কের দিল্লি অভিযান

    Karnataka Congress: কর্নাটকে কংগ্রেসে অসন্তোষ তুঙ্গে, ৩০-র বেশি বিধায়কের দিল্লি অভিযান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কর্নাটকে ক্ষমতাসীন কংগ্রেসের (Karnataka Congress) অন্দরে ক্রমশই বাড়ছে অসন্তোষ। মন্ত্রিসভায় রদবদল এবং নতুন মুখদের সুযোগ দেওয়ার দাবিতে ৩০ জনেরও বেশি কংগ্রেস বিধায়ক রবিবার দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। তাঁরা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করে এই দাবি জানাবেন বলে জানা গিয়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, দিল্লিতে গিয়ে বিধায়করা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কে.সি. ভেনুগোপাল, কর্নাটক দায়িত্বপ্রাপ্ত রণদীপ সুরজওয়ালা এবং রাহুল গান্ধীর-র সঙ্গে বৈঠক করবেন। সোম ও মঙ্গল এই দু’দিনের মধ্যেই বৈঠকগুলি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    কী নিয়ে বিক্ষোভ কর্নাটক কংগ্রেসে

    বিধায়কদের মূল দাবি, মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া যেন দ্রুত মন্ত্রিসভায় রদবদল করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সুযোগ না পাওয়া সিনিয়র নেতাদের মন্ত্রীত্বে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কংগ্রেস বিধায়ক বেলুর গোপালকৃষ্ণ বলেন, “অনেক নেতাকে তিন, চার, এমনকি পাঁচবার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই যারা এখনও সুযোগ পাননি, তাঁদেরও এবার সুযোগ দেওয়া হোক।” অন্যদিকে, বিধায়ক অশোক পট্টন জানান, “আমাদের একটাই দাবি—যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মন্ত্রিসভা রদবদল করে আমাদের মতো সিনিয়র সদস্যদের সুযোগ দিতে হবে।” উল্লেখ্য, কর্নাটকে কংগ্রেস সরকারের প্রায় তিন বছর পূর্ণ হতে চলেছে। ইতিমধ্যেই মন্ত্রী কে.এন. রাজন্না এবং বি. নাগেন্দ্রের পদত্যাগের ফলে দুটি মন্ত্রিসভার আসন খালি রয়েছে। বিধায়কদের অভিযোগ, বহু বর্তমান মন্ত্রী একাধিকবার দায়িত্ব পেয়েছেন, ফলে অন্যদের জন্য সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে।

    ২৫টি মন্ত্রিত্বে পরিবর্তনের দাবি

    সূত্রের খবর, প্রায় ২৫টি মন্ত্রিত্বে পরিবর্তনের দাবি উঠতে পারে। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য কংগ্রেসে (Karnataka Congress) গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া এবং উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারের শিবিরের মধ্যে মতভেদের ইঙ্গিত মিলছে। যেখানে সিদ্দারামাইয়ার অনুগামীরা রদবদলের পক্ষে, সেখানে শিবকুমার এই প্রস্তাবে অনীহা দেখাচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। এখন কংগ্রেস হাইকম্যান্ড এই বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

  • Nil Puja 2026: গ্রাম বাংলায় সনাতনী হিন্দুদের এক লোক আধার নীল উৎসব! ঘরে ঘরে আরাধনা, তবুও হারাচ্ছে জৌলুস

    Nil Puja 2026: গ্রাম বাংলায় সনাতনী হিন্দুদের এক লোক আধার নীল উৎসব! ঘরে ঘরে আরাধনা, তবুও হারাচ্ছে জৌলুস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ষষ্ঠী তিথি নয়। এই পুজোয় (Nil Puja 2026) মা ষষ্ঠী পূজিতা হন না, পুজো করা হয় দেবাদিদেব মহাদেবকে। তবু বাংলার ঘরে ঘরে এদিন নীলষষ্ঠী। চৈত্র সংক্রান্তির এক দিন আগে হিন্দু বাঙালি মায়েরা উপবাস রেখে সন্তানের মঙ্গলকামনায় যে ব্রত করেন, তা-ই নীলষষ্ঠী বা নীলপুজো হিসেবে পরিচিত। মহাশিবরাত্রির পরে মায়েরা অপেক্ষায় থাকেন নীলষষ্ঠীর (Nil Sasthi)। গোটা এপ্রিল মাস জুড়ে রয়েছে বাঙালির একাধিক পুজো-পার্বণ। যার মধ্যে অন্যতম নীলষষ্ঠী বা নীলপুজো।

    কেন বলা হয় নীল ষষ্ঠী

    ষষ্ঠী তিথি না হলেও একে নীলষষ্ঠী বলা হয়ে থাকে। পুরাণ অনুযায়ী, মহাদেবের অপমান সইতে না পেরে প্রাণত্যাগ করেন দেবী সতী। এর পর তিনি রাজা নীলধ্বজের কন্যা নীলাবতী হিসেবে পুনর্জন্ম গ্রহণ করেন। বিবাহ হয় মহাদেবের সঙ্গে। প্রচলিত বিশ্বাস, দেবী নীলচণ্ডী বা নীলাবতী এবং নীলকণ্ঠ শিবের পরিণয় সম্পন্ন হয়েছিল চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিন। এই বিশেষ তিথিতে নিষ্ঠা করে পুজো করলে নীলকণ্ঠ মহাদেব ও দেবী নীলচণ্ডিকা এবং মা ষষ্ঠীর কৃপা লাভ হয়। তাই এই তিথি নীল ষষ্ঠী। মায়েরা সন্তানের কল্যাণ কিংবা সন্তান লাভের বাধা থেকে মুক্তি পেতে এই ব্রত পালন করেন। এদিন শিব মন্দিরগুলিতে ভিড় জমান ভক্তেরা। যাদের বাড়িতে শিবলিঙ্গ আছে, তারা বাড়িতেই আয়োজন করেন পুজোর।

    সনাতন বঙ্গীয়দের লোক-উৎসব নীল-পুজো

    নীল পুজো শিবের গাজনেরও অঙ্গ। গ্রাম বাংলায় সনাতনী হিন্দুদের এক লোক আধার নীল উৎসব (Nil Puja 2026)। নিম বা বেল কাঠ থেকে নীলের মূর্তি তৈরি হয়। চৈত্রসংক্রান্তির বেশ আগেই নীলকে মণ্ডপ থেকে নিচে নামানো হয়। নীলপূজার আগের দিন অধিবাস। অনেক রাতে হয় হাজরা পূজো অর্থাৎ বিয়ে উপলক্ষে সকল দেবতাকে আমন্ত্রণ করা হয়। হাজরা পূজায় শিবের চেলা বা ভূত-প্রেতের দেবতাকে পোড়া শোল মাছের ভোগ দেওয়া হয়। পরদিন নীল পূজোর সময় নীলকে গঙ্গাজলে স্নান করিয়ে নতুন লালশালু কাপড় পরিয়ে অন্ততপক্ষে সাতটি বাড়িতে নীলকে ঘোরানো হয়। নীলসন্ন্যাসীরা একইরকম লাল কাপড় পরে পাগড়ি মাথায়, গলায় রুদ্রাক্ষমালা ও হাতে ত্রিশূল নিয়ে নীলকে সঙ্গে করে এই মিছিল করেন। এদের দলপতিকে বলা হয় বালা। সাথে থাকে ঢাক-ঢোল, বাঁশী বাজনদারের দল এবং কাল্পনিক শিব-দুর্গা।

    নীলের গান

    গ্রাম-বাংলায় নীল-সন্ন্যাসীদের দল বাড়িতে এলে গৃহস্থ মহিলারা উঠোনে আলপনা দিয়ে নীলকে আহ্বান করে বরাসনে বসিয়ে তার মাথায় তেল সিঁদুর পরিয়ে দেন। এরপর নীলের গান শুরু হয়:
    “শুন সবে মন দিয়ে হইবে শিবের বিয়ে
    কৈলাসেতে হবে অধিবাস…।”
    বিয়ের পর নীলের গানে থাকে সংসারী হর-পার্বতীর কথা, শিবের কৃষিকাজ, গৌরীর শাঁখা পরা প্রভৃতি এবং ভিখারি শিবের সঙ্গে অন্নপূর্ণা শিবানীর দ্বান্দ্বিক সহাবস্থানের কাহিনি। গানের প্রথম অংশ দলপতি বালারা এবং পরবর্তী অংশ অন্য নীলসন্ন্যাসীরা গেয়ে থাকেন। গানের শেষে গৃহস্থরা সন্ন্যাসীদের চাল-পয়সা, ফল প্রভৃতি ভিক্ষাস্বরূপ দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে গ্রাম বাংলায় সনাতনী এই রীতি প্রায় হারিয়ে যেতে চলেছে।

    নীলষষ্ঠীর ব্রত পালনের শুভ সময়

    সাধারণত চৈত্র সংক্রান্তির আগে অর্থাৎ চড়ক উৎসবের আগের দিন নীলপুজো পালিত হয়। এই বছর ২০২৬ সালে ১৩ এপ্রিল অর্থাৎ ২৯ চৈত্র পড়েছে নীল পুজো। এই পুজোর কোন বিশেষ মুহূর্ত আলাদা করে থাকে না। তবে নীলপুজোর দিন সন্ধ্যেবেলা শিবলিঙ্গে জল ঢেলে, সন্তানের নামে প্রদীপ বা মোম জ্বালানো সবচেয়ে শুভ।

    নীলষষ্ঠীর সঙ্গে জড়িয়ে লোক কথা

    সন্তানের মঙ্গলকামনায় এই বিশেষ তিথিতে পুজো করার কারণ হিসাবে জানা যায় গ্রামবাংলায় প্রচলিত এক লোককাহিনি। এক অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ ব্রাহ্মণ দম্পতির সব সন্তান একে একে মারা যায়। সেই বেদনা সহ্য করতে না পেরে তাঁরা বাড়ি ছেড়ে কাশীতে বাস করা শুরু করেন। একদিন গঙ্গাস্নানের পর ব্রাহ্মণী ঘাটে বসে চোখের জল ফেলছিলেন। এক বৃদ্ধা তাঁকে কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করলে ব্রাহ্মণী সন্তানদের অকালমৃত্যু সম্পর্কে জানান। এত পুজোআচ্চা, বারব্রত পালনের পরেও তাঁর এই দুর্দশা, এ কথা বলে দুঃখ করতে থাকেন। সেই বৃদ্ধা ছিলেন ছদ্মবেশী মা ষষ্ঠী। দেবী তখন তাঁকে চৈত্র সংক্রান্তির আগের দিন উপোস করে শিবপুজো করতে বলেন এবং সে ব্রতের অন্যান্য নিয়মও শিখিয়ে দেন। সেইমতো ব্রতপালনের ফলে ব্রাহ্মণীর কোলে আবার সন্তান আসে এবং সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকে। নীলকণ্ঠ শিবকে পুজো করার কথা বলেন মা ষষ্ঠী, হয়তো সেই কারণেই এই ব্রতের নাম নীলষষ্ঠী (Nil Sasthi)।

    নীলপুজোর রীতি-নীতি

    অভিষেকের নিয়ম: বিশেষ এই দিনে শিবকে কেবল জল দিয়ে অভিষেক করলে চলবে না। বদলে দুধ, দই, ঘি, মধু, চন্দন এবং গঙ্গাজল মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে তা দিয়ে শিবের অভিষেক করুন। মন চাইলে ডাবের জলও দিতে পারেন।

    ঘি-এর প্রদীপ: সন্ধ্যায় শিবের কাছে প্রদীপ জ্বালিয়ে নীলষষ্ঠীর ব্রত সম্পন্ন করার রেওয়াজ রয়েছে। সেই প্রদীপ তেলের বদলে ঘি দিয়ে জ্বালতে পারলে খুব ভাল হয়।

    মরসুমি ফল দান: নৈবেদ্য হিসাবে শিবকে এই দিন অবশ্যই মরসুমি ফল দিন। তরমুজ, কাঁচা আম, বেল, ডাব, শসা প্রভৃতি দিতে পারলে খুব ভাল হয়।

    যে ফুলে তুষ্ট মহাদেব: এই দিন শিবকে বেলপাতা, আকন্দ ফুল, ধুতরা ফুল এবং নীলকণ্ঠ বা নীল অপরাজিতা ফুল অর্পণ করুন। তবে এগুলি সব দিতে না পারলেও বেলপাতার সঙ্গে উল্লিখিত যে কোনও একটি ফুল অবশ্যই দিতে হবে।

    নির্জলা উপবাস: সারা দিন নির্জলা উপবাস যদি না-ও রাখতে পারেন সমস্যা নেই। কিন্তু অন্ন জাতীয় খাবার খাওয়া যাবে না। ভাজাভুজি খাওয়াও এড়িয়ে চলতে হবে। এই দিন যতটা সম্ভব ঠান্ডা খাবার খান। উপোস ভাঙার পরও এদিন ফল,সাবু ইত্যাদি ছাড়া ময়দার তৈরি খাবারই খেতে হয়। এমনকী, সন্দক লবণ দিয়ে খাবার খেতে হয়। মনে করা হয় ব্রতের দিন উপোস করে নিষ্ঠা করে কিছু নিয়ম মানলে ভক্তের মনোবাঞ্ছা পূরণ করেন ভগবান শিব।

  • Daily Horoscope 13 April 2026: পুরনো সমস্যার সমাধান হবে এই রাশির জাতকদের

    Daily Horoscope 13 April 2026: পুরনো সমস্যার সমাধান হবে এই রাশির জাতকদের

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ
    ১) নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে আসতে পারে, সাহস রাখুন।
    ২) অপ্রত্যাশিত খরচ হতে পারে।
    ৩) বন্ধুর সাহায্যে সমস্যা মিটবে।

    বৃষ
    ১) কাজের জায়গায় দায়িত্ব বাড়বে।
    ২) ধৈর্য রাখলে সাফল্য নিশ্চিত।
    ৩) পরিবারে ছোটখাটো আনন্দের খবর আসবে।

    মিথুন
    ১) সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভালো করে ভাবুন।
    ২) নতুন কোনও সুযোগ হাতছাড়া করবেন না।
    ৩) শরীর একটু দুর্বল লাগতে পারে।

    কর্কট
    ১) আজ ভাগ্য আপনার পক্ষে থাকবে।
    ২) আটকে থাকা কাজ সম্পূর্ণ হবে।
    ৩) প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটবে।

    সিংহ
    ১) কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা বাড়বে।
    ২) নিজের দক্ষতা প্রমাণের সুযোগ পাবেন।
    ৩) আর্থিক দিক স্থির থাকবে।

    কন্যা
    ১) অযথা চিন্তা এড়িয়ে চলুন।
    ২) কাছের মানুষের পরামর্শ কাজে লাগবে।
    ৩) ভ্রমণের সম্ভাবনা আছে।

    তুলা
    ১) নতুন সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে।
    ২) ব্যবসায় লাভের ইঙ্গিত।
    ৩) মানসিক চাপ কমবে।

    বৃশ্চিক
    ১) গোপন পরিকল্পনা সফল হতে পারে।
    ২) হঠাৎ ভালো খবর পেতে পারেন।
    ৩) নিজের উপর ভরসা রাখুন।

    ধনু
    ১) আজ একটু অলসতা আসতে পারে।
    ২) কাজ ফেলে না রেখে সময়মতো করুন।
    ৩) অর্থনৈতিক দিক উন্নত হবে।

    মকর
    ১) বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিন।
    ২) সহকর্মীদের সহযোগিতা পাবেন।
    ৩) পারিবারিক দায়িত্ব বাড়বে।

    কুম্ভ
    ১) সৃজনশীল চিন্তা কাজে লাগান।
    ২) নতুন পরিকল্পনা সফল হবে।
    ৩) বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দের সময় কাটবে।

    মীন
    ১) পুরনো সমস্যার সমাধান হবে।
    ২) আত্মবিশ্বাস বাড়বে।
    ৩) নতুন আয়ের পথ খুলতে পারে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • Ramakrishna 621: “নারদ বললেন, ‘আর কিছুই আমি চাই না, কেবল চাই তোমার পাদপদ্মে শুদ্ধাভক্তি”

    Ramakrishna 621: “নারদ বললেন, ‘আর কিছুই আমি চাই না, কেবল চাই তোমার পাদপদ্মে শুদ্ধাভক্তি”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    চতুর্বিংশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৬শে অক্টোবর

    অহৈতুকী ভক্তি—পূর্বকথা—শ্রীরামকৃষ্ণের দাসভাব

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) — ইনি (ডাক্তার) যা বলছেন, তার নাম অহৈতুকী ভক্তি। মহেন্দ্র সরকারের কাছে আমি কিছু চাই না — কোন প্রয়োজন নাই, মহেন্দ্র সরকারকে দেখতে ভাল লাগে, এরই নাম অহৈতুকী ভক্তি। একটু আনন্দ হয় তা কি করব?

    “অহল্যা বলেছিল (Kathamrita), হে রাম! যদি শূকরযোনিতে জন্ম হয় তাতেও আমার আপত্তি নাই, কিন্তু যেন তোমার পাদপদ্মে শুদ্ধাভক্তি তাকে — আমি আর কিছু চাই না।

    “রাবণ বধের কথা স্মরণ করাবার জন্য নারদ অযোধ্যায় রামচন্দ্রের সঙ্গে দেখা বরতে গিয়েছিলেন। তিনি সীতারাম দর্শন করে স্তব করতে লাগলেন। রামচন্দ্র স্তবে সন্তুষ্ট হয়ে বললেন, ‘নারদ! আমি তোমার স্তবে সন্তুষ্ট হয়েছি, তুমি কিছু বর লও।’ নারদ বললেন, ‘রাম! যদি একান্ত আমায় বর দেবে, তো এই বর দাও যেন তোমার পাদপদ্মে আমার শুদ্ধাভক্তি তাকে, আর এই করো যেন তোমার ভুবনমোহিনী মায়ায় মুগ্ধ না হই!’ রাম বললেন, ‘আরও কিছু বর লও।’ নারদ বললেন, ‘আর কিছুই আমি চাই না, কেবল চাই তোমার পাদপদ্মে শুদ্ধাভক্তি।’

    “এঁর তাই। যেমন ঈশ্বরকে (Ramakrishna) শুধু দেখতে চায়, আর কিছু ধন মান দেহসুখ — কিছুই চায় না। এরই নাম শুদ্ধাভক্তি।

    “আনন্দ একটু হয় বটে, কিন্তু বিষয়ের আনন্দ নয়। ভক্তির, প্রেমের আনন্দ। শম্ভু (মল্লিক) বলেছিল — যখন আমি তার বাড়িতে প্রায় যেতুম – ‘তুমি এখানে এস; অবশ্য আমার সঙ্গে আলাপ করে আনন্দ পাও তাই এস’ — ওইটুকু আনন্দ আছে।

    “তবে ওর উপর আর-একটি অবস্থা আছে (Kathamrita)! বালকের মতো যাচ্ছে — কোনও ঠিক নাই; হয়তো একটা ফড়িং ধরছে।

    (ভক্তদের প্রতি) — “এঁর (ডাক্তারের) মনের ভাব কি বুঝেছ? ঈশ্বরকে প্রার্থনা করা হয়, হে ঈশ্বর, আমায় সৎ ইচ্ছা দাও যেন অসৎ কাজে মতি না হয়।

  • West Bengal 2021 Election: বারবার রক্তাক্ত হয়েছে বাংলা, একুশের ভোটের পরে অত্যাচার চরমে তৃণমূলের  

    West Bengal 2021 Election: বারবার রক্তাক্ত হয়েছে বাংলা, একুশের ভোটের পরে অত্যাচার চরমে তৃণমূলের  

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজত্বে নির্বাচন কেবল একটি গতানুগতিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়, বরং যাঁরা দলের (Post Poll Violence) আদর্শ সমর্থন করেন না, তাঁদের পক্ষে এটি আদতেই অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal 2021 Election) হোক বা স্থানীয় কোনও সংস্থার নির্বাচন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-শাসিত এই রাজ্যে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে নির্বাচনোত্তর হিংসা তৃণমূল জমানায় আক্ষরিক অর্থেই একটি নিয়মে পরিণত হয়েছে। রাজ্যে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করাই যেখানে একটি বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে নির্বাচনের ফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়ে যায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে তৃণমূলের মাস্টারমাইন্ডদের মদতে চালানো গণহত্যার এক নয়া অধ্যায়। ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যজুড়ে ব্যাপক হামলা হয়। খুন এবং ধর্ষণের অসংখ্য ভয়াবহ ঘটনাও সামনে এসেছে। রাজ্যে তৃতীয়বারের মতো টিএমসি সরকার গঠন করার পর, ২০২১ সালের মে থেকে জুলাই মাসের মধ্যে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে ভোট-পরবর্তী হিংসার যে ৪০টি ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে, সেগুলি একবার দেখে নেওয়া যাক।

    বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারকে পিটিয়ে খুন (West Bengal 2021 Election)

    টিএমসি কর্মীরা বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারকে পিটিয়ে খুন করে। ২০২১ সালের ২ মে, ফেসবুকে দুটি ভিডিও আপলোড করার কয়েক ঘণ্টা পরেই তৃণমূলের গুন্ডারা বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারকে পিটিয়ে মারে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, কলকাতার বেলেঘাটা এলাকার ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে টিএমসি কর্মীরা তাঁর বাড়ি এবং এনজিও অফিসে নির্বিচারে ভাঙচুর চালাচ্ছে। সরকার সারমেয়প্রেমী ছিলেন। দত্তক নিয়েছিলেন বেশ কয়েকটি পথকুকুর। যাদের মধ্যে একটি আবার পাঁচটি শাবকের জন্ম দিয়েছিল। টিএমসি সদস্যরা তাঁর কুকুরগুলিকেও রেয়াত করেনি,  নির্মমভাবে পিটিয়েছিল শাবকগুলিকেও। ভারতীয় মজদুর ট্রেড ইউনিয়ন কাউন্সিলের এক পদাধিকারী সরকার দরজায় টোকা দেওয়ার শব্দে সাড়া দিয়েছিলেন। এরপর তাঁকে বাইরে টেনে বের করে আনা হয়, নির্মমভাবে মারধর করা হয় এবং একটি কেবল টিভির তার দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে তাঁর বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে উদ্ধার হয় মৃতদেহ। সরকারের একমাত্র দোষ ছিল যে তিনি বিজেপির সমর্থক ছিলেন (West Bengal 2021 Election)।

    বিজেপি কর্মীর বাড়িতে হামলা

    ভাঙচুর করা হয়েছে বিজেপি কর্মী বিশ্বনাথ ধরের বাড়ি। নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার আর একটি ঘটনায়, ২০২১ সালের ২ মে বেশ কয়েকজন টিএমসি গুন্ডা সক্রিয় বিজেপি কর্মী বিশ্বনাথ ধরের বাড়িতে হামলা চালায়। ঘটনাটি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার পানিহাটি পুরসভার ঘোলা মল্লিকপাড়ায় ঘটে। টিএমসি গুন্ডারা ধরের বাড়িতে জোর করে ঢুকে তাঁর জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। দুর্বৃত্তরা প্রথমে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলি নষ্ট করে দেয়। পরে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে লুটপাট শুরু করে। তারা আলমারি ভেঙে নগদ টাকা ও গয়না চুরি করে। বেরোনোর ​​পথে তারা তাঁর মারুতি গাড়ি এবং একটি রয়্যাল এনফিল্ড (বুলেট) বাইকও ভাঙচুর করে। নিজের বাড়িতেই এক বিজেপি কর্মীকে নির্মমভাবে মারধর করা হয় (West Bengal 2021 Election)। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা এমনই এক ঘটনায়, শাসক দল টিএমসির কর্মীদের দ্বারা এক বিজেপি কর্মীকে তাঁর নিজের বাড়িতেই নির্মমভাবে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুরের ত্রিমোহিনীর কিশমতদাপাত গ্রামে। এলাকাটি বালুরঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে (Post Poll Violence)। টিএমসির গুন্ডারা ভুক্তভোগীর বাড়িতে ওত পেতে বসে থেকে সুযোগ বুঝে তাঁকে আক্রমণ করে। বিজেপি কর্মীটির মাথায় আঘাত লাগে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। দুষ্কৃতকারীরা তাঁর বাড়িতে ঢুকে জিনিসপত্র ভাঙচুরও করে। অনলাইনে একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে একজন মাতাল ভুক্তভোগী ও তাঁর স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছে। বিজেপি কর্মীটিকে ‘শুয়োরের বাচ্চা’ বলে উল্লেখ করে সে একটি বাঁশের লাঠি দিয়ে তাঁকে মারতে শুরু করে। “বিজেপি দেখাচ্ছিস? তোদের কত ক্ষমতা? তোরা কি ভাবিস যে ক্ষমতায় এসেছিস?” এই সব ভাষায় হুমকি দেয় দুষ্কৃতীটি। বিজেপি প্রার্থী (West Bengal 2021 Election) বিজ্ঞানী গোবর্ধন দাস, টিএমসি গুন্ডাদের হাতে নিজের বাড়িতেই ঘেরাও হয়েছিলেন।

    টিএমসি গুন্ডাদের ‘কীর্তি’

    নির্বাচনের পর, পূর্বস্থলী উত্তর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী গোবর্ধন দাসের গ্রামে টিএমসি গুন্ডারা বিজেপি স্বেচ্ছাসেবকদের বেশ কয়েকজনকে ঘিরে ধরে আক্রমণ করে। দাস একজন বিজ্ঞানী। তিনি দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের মলিকুলার মেডিসিনের অধ্যাপক। ২০২১ সালের ৪ মে, টিএমসি গুন্ডাদের হাতে নিজ বাড়িতে আটকা পড়ার পর দাস এক জীবন-মরণ পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। দুষ্কৃতীরা তাঁর বাসভবনেও অতর্কিতে হামলা চালায়, যার ফলে তিনি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে নিজের বাড়িতে আটকে পড়েন। টিএমসি গুন্ডারা তাঁর বাড়িতে দেশি (Post Poll Violence) বোমা নিক্ষেপ করে। টিএমসি কর্মীরা বিএসএফ কর্মীদের বাড়িতে হামলা চালায়। টিএমসির মদতপুষ্ট গুন্ডারা শুধু বিজেপি কর্মীদেরই টার্গেট করেনি, নিরাপত্তা কর্মীদেরও ছাড়েনি, যাঁরা তাঁদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষই নন। জলপাইগুড়ির রানিপরহাটে টিএমসির গুন্ডারা বিএসএফ জওয়ান কমল সেনের বাড়িতে হামলা চালায়। লুটপাট করার পাশাপাশি ভাঙচুরও করা হয়। ছুটিতে থাকা জওয়ান ও তাঁর পরিবারের ওপর হামলা চালানো হয় এবং তাঁর বাড়ি, ট্রাক্টর ও বাইকে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। কোচবিহারে বিএসএফ জওয়ান সুশান্ত বর্মনের ওপরও একই ধরনের হিংসা চালানো হয়। বর্মনের ভাই বিজেপির সমর্থক হওয়ায় টিএমসি কর্মীরা তাঁর ওপর হামলা চালায় এবং তাঁর বাড়ি লুট করে। তাঁর পরিবারের সদস্যদের জীবন বাঁচাতে বাড়ি ছেড়ে পালাতে হয়েছিল। ২০২১ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal 2021 Election) টিএমসি বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার পর, টিএমসির গুন্ডারা তাদের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে হিসেব মেটাতে নেমে পড়ে। তারা কলকাতায় অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-এর কার্যালয়ে হামলা চালায়। টিএমসির ২০ জনেরও বেশি গুন্ডা এবিভিপি কার্যালয়ে ঢুকে পড়ে এবং এবিভিপির জাতীয় যুগ্ম সচিব-সহ এবিভিপি কর্মীদের ওপর হামলা চালায়।

    নির্বাচন-উত্তর হিংসার

    নির্বাচন-উত্তর হিংসার আর একটি ঘটনায়, ২০২১ সালের জুলাই মাসে বিজেপির বুথ কর্মী সুনীল বক্সির বাড়িতে হামলা চালায় মুসলিম জনতা। তাঁর বাড়িতে ঢুকে আসবাবপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র ভাঙচুর করে, মহিলাদের শ্লীলতাহানি করে, তাঁর স্ত্রীকে ধর্ষণের হুমকিও দেয়। অভিযোগ, প্রায় ১৫টি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর তারা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায় (Post Poll Violence)। বক্সি যখন পুলিশের কাছে যান, তখন তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় যে অভিযোগ দায়ের করলে তার পরিণতি আরও ভয়াবহ হবে। অভিযোগে বলা হয়েছে, পুলিশ তাদের দিয়ে এটাও লেখানোর চেষ্টা করেছিল যে বজ্রপাতের কারণে বাড়িগুলি পুড়ে গিয়েছে। ২০২১ সালের ৩ মে, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত গুন্ডারা বক্সিকে আক্রমণ করে। তিনি জানান, তাঁর মাথায় আঘাত করা হয়েছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁর ভাই তাঁকে বাঁচান। তিনি যখন অভিযোগ করতে পুলিশের কাছে যান, তখন তারা তাঁর অভিযোগ নথিভুক্ত করতে অস্বীকার করে, পরিবর্তে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। সুনীল বক্সি জাতীয় তফশিলি উপজাতি কমিশনেও একটি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন (West Bengal 2021 Election)।

    বোমা হামলায় নিহত বিজেপি কর্মী

    বোমা হামলায় বিজেপি কর্মী জয় প্রকাশ যাদব নিহত হন। টিএমসির মদতে নির্বাচন-পরবর্তী হিংসায় ২০২১ সালের জুলাই মাসে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ভাটপাড়ায় বোমা হামলায় জয় প্রকাশ যাদব নামে ২৮ বছর বয়সী এক বিজেপি কর্মীকে হত্যা করা হয়। মাথায় অপরিশোধিত বোমা লাগার আগে দুই ব্যক্তির সঙ্গে জয় প্রকাশ যাদবের তীব্র বাদানুবাদ হয়। তাঁকে হত্যার আগে, ওই দুই ব্যক্তির একজনকে বলতে শোনা যায়, “পুলিশকে ভুলে যান… আপনারা খুব বেশি বিজেপি, বিজেপি করছেন… ছেড়ে দিন (West Bengal 2021 Election)।” এই ঘটনাটি যাদবের ১৭ বছর বয়সী ভাইঝি স্বপ্না ক্যামেরায় রেকর্ড করে। নিহতের উপর এই মারাত্মক হামলায় তাঁর মা, রাজমতি দেবীও শ্রবণশক্তি হারান। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি কর্মীদের টার্গেট করার আর একটি ঘটনায়, বিজেপিকে সমর্থন করার জন্য দুই নেতাকে ‘শাস্তি’ হিসেবে জোর করে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয়। এরপর, ওই (Post Poll Violence) দুই বিজেপি নেতাই নিখোঁজ হয়ে যান। তাঁদের স্বামীদের খোঁজ জানতে চেয়ে তাঁদের স্ত্রীরা কলকাতা হাইকোর্টে একটি আবেদনও করেন।

    নাগরিক স্বেচ্ছাসেবক

    মামলার তদন্তে গুরুতর ত্রুটি ধরা পড়ার পর কলকাতা হাইকোর্ট মামলাটি সিবিআই এবং এনআইএর হাতে তুলে দেয়। আবেদনকারীরা হাইকোর্টকে জানান যে তাঁদের স্বামীরা নিখোঁজ হয়েছেন এবং তাঁদের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর তাঁরা দুটি অভিযোগ দায়ের করেন, প্রথমে মোঠাবাড়ি থানায় এবং পরে কালিয়াচক থানায়। তাঁরা জানান যে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল, যা থানা গ্রহণ করে, কিন্তু একজন ‘নাগরিক স্বেচ্ছাসেবক’ সেটি ছিঁড়ে ফেলেন এবং আবেদনকারীদের জানান যে তাঁদের স্বামীরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন (West Bengal 2021 Election)। ২০২১ সালের ৩০শে মে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার আদাবাড়ির সিতাই গ্রামে এক বিজেপি কর্মীর মৃতদেহ রহস্যজনকভাবে একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর বাড়ির কাছের একটি বাগানে স্থানীয়রা তাঁর মৃতদেহটি দেখতে পান। বিজেপি তাদের দলীয় কর্মীকে হত্যার জন্য শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে অভিযুক্ত করেছে। তারা জানিয়েছে, নির্বাচনের সময় অনিল বর্মন তৃণমূলের হিটলিস্টে ছিলেন। তারা আরও দাবি করেছে যে এর আগে তৃণমূলের গুন্ডারা মৃতের বাড়িতে ভাঙচুর করেছিল।

    বোষ্টম পুকুরের কাছে উদ্ধার দেহ

    ২৬ বছর বয়সী বিজেপি সমর্থক কুশ ক্ষেত্রপাল নিখোঁজ হন ২০২১ সালের ৫ মে। দুই দিন পর, বোষ্টম পুকুরের কাছে একটি গণেশ মূর্তির পেছনে তাঁর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এফআইআর অনুসারে, তাঁর শরীরে একাধিক ছুরির আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁর ভাই, শ্রীকান্ত ক্ষেত্রপাল, জানান, টিএমসির গুন্ডারা তাঁকে হত্যা করেছে। খুন করার আগে তারা তাকে তাদের রায়বাঘিনী পার্টির অফিসে নিয়ে গিয়েছিল। শ্রীকান্ত জানান যে কুশ একটি হোটেলে কাজ করত এবং কাজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে টিএমসি সদস্য কানন ক্ষেত্রপাল, সুকুমার ক্ষেত্রপাল এবং দিলীপ ক্ষেত্রপাল প্রায়শই তাঁর কাছে আসতেন। তাঁরা কুশকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন এই বলে যে, তিনি যদি টিএমসিতে যোগ না দেন, তাহলে পরিণতি হবে মারাত্মক (Post Poll Violence)। টিএমসি গুন্ডারা বিজেপি কর্মী রাজীব পোল্ল্যের বাড়িতেও হামলা চালায় (West Bengal 2021 Election)। রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই, হাওড়ায় বিজেপি কর্মী রাজীব পোল্ল্যের বাড়িতে কিছু টিএমসি গুন্ডা বোমা নিক্ষেপ করে। তারা নির্যাতিতার বাড়ি থেকে নগদ টাকা ও গয়না লুট করে। তারা বাড়ির মহিলা সদস্যদের শ্লীলতাহানিও করে।

    টিএমসি গুন্ডাদের হাতে খুন হন

    ২০২১ সালের ২ জুলাই, পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় টিএমসি গুন্ডাদের হাতে খুন হন বিজেপি কর্মী চন্দনা হালদার। তাঁকে পিটিয়ে মারা হয়। তিনি পশ্চিমবঙ্গের সাতগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাঁর স্বামী গৌতম হালদার জানান, তিনি ও তাঁর স্ত্রী বিজেপি কর্মী ছিলেন। ঘটনার দিন, টিএমসি গুন্ডারা প্রথমে তাঁর চাচাতো ভাই স্বরূপ হালদারকে আক্রমণ করে। যখন তিনি ও তাঁর স্ত্রী তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন, তখন তাঁদেরও নির্মমভাবে মারধর করা হয় এবং এর ফলে তাঁর স্ত্রী মারা যান। টিএমসি-সমর্থিত আর একটি ঘটনায়, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাধুরঘাট গ্রামে বিজেপির বুথ সভাপতি রাজা সমানকে নির্মমভাবে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে।

    ধর্ষণ

    এরকমই আর একটি ঘটনায়, ৬০ বছর বয়সী এক মহিলাকে তাঁর ছয় বছর বয়সী নাতির সামনে নৃশংসভাবে ধর্ষণ করা হয়। ভুক্তভোগী মহিলা জানান, ভোটের ফল ঘোষণার পর টিএমসি কর্মীরা জোর করে তাঁর বাড়িতে ঢুকে পড়ে তাঁকে ধর্ষণ করে। ২০২১ সালের ৪ ও ৫ মে-র মধ্যবর্তী রাতে, নির্বাচনের ফল ঘোষণার মাত্র দুই দিন পর ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, টিএমসি কর্মীরা তাঁর মূল্যবান জিনিসপত্রও লুট করে নিয়ে যায় (West Bengal 2021 Election)। ২০২১ সালের ১৪ মে, বিজেপির হয়ে প্রচার চালানো পূর্ণিমা মণ্ডল এবং তাঁর স্বামী ধর্ম মণ্ডলকে চিহ্নিত করে কুড়াল দিয়ে আক্রমণ করা হয়। পূর্ণিমাকে তাঁর স্বামী ও দেবরের ওপর এই আক্রমণ প্রত্যক্ষ করতে বাধ্য করা হয়। একই সঙ্গে তাঁকে বিবস্ত্র করে জাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। তিনি জানান, এই জনতাকে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন স্থানীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি কালু শেখ। তার স্বামী ২০২১ সালের ১৬ই মে আঘাতজনিত কারণে মারা যান (Post Poll Violence)।

    টিএমসি কর্মীদের গণধর্ষণ

    ২০২১ সালের ৯ই মে, তফশিলি জাতিভুক্ত ১৭ বছর বয়সী এক নাবালিকাকে টিএমসি কর্মীরা গণধর্ষণ করে। অসুস্থ বোধ করায় তাকে জঙ্গলে ফেলে রেখে যায়। পরের দিন, টিএমসি নেতা বাহাদুর এসকে তার বাড়িতে গিয়ে অভিযোগ দায়ের না করার জন্য পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেন। তিনি বলেন, অভিযোগ করলে তিনি তাঁদের বাড়ি পুড়িয়ে দেবেন এবং তাঁদের হত্যা করবেন (West Bengal 2021 Election)। রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফলের পর, পূর্ব বর্ধমান জেলার কেতুগ্রাম তহশিলের শ্রীপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে টিএমসি গুন্ডারা ২২ বছর বয়সী আরএসএস কর্মী বলরাম মাঝিকে নির্মমভাবে মারধর করে। মাঝি সেদিনই আঘাতজনিত কারণে মারা যান। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে টিএমসি বিপুল বিজয় লাভ করায়, টিএমসি কর্মীদের হিংসার ভয়ে বহু বিজেপি কর্মী ও তাঁদের পরিবার পশ্চিমবঙ্গের বাড়িঘর ছেড়ে প্রতিবেশী রাজ্য অসমে চলে যান। ৩০০-৪০০ জন উত্তরবঙ্গ থেকে সীমান্ত পেরিয়ে অসমের ধুবড়ি জেলায় প্রবেশ করেন। বিজেপি সমর্থক ও তাদের পরিবারকে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় দেওয়া হয়। বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতা এই শিবিরগুলিতে গিয়ে ত্রাণ সামগ্রী ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন।

    কর্মীদের অস্থায়ী সহায়তা

    অসম সরকার ধুবড়িতে থাকা দলীয় কর্মীদের অস্থায়ী সহায়তা দেয়। করোনাভাইরাস অতিমারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যে এই দুর্ভাগ্যজনক গণপলায়ন ঘটায় সরকার কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য একটি কেন্দ্রও স্থাপন করে। আর একটি ঘটনায়, ২০২১ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ভাটপাড়ার কাঁকিনাড়া এলাকায় এক বিজেপি কর্মীর বাড়িতে বোমা ছোড়া হয়। বিজেপি কর্মী রাজ বিশ্বাস জানান, তিনজন তাঁর বাড়িতে বোমা ছুড়েছে। আর একটি পৃথক ঘটনায়, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা যাদবপুরের বিজেপি প্রার্থী রিঙ্কু নস্করের বাড়িতে হামলা চালায়। নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের গুন্ডারা বিজেপি প্রার্থীর বাড়িতে ভাঙচুর করতে ঢোকে।

    আর একটি ঘটনায়, পশ্চিমবঙ্গের ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলের পর বিজেপি কর্মী গণেশ ঘোষ রাজ্য ছাড়তে বাধ্য হন। তৃণমূল কংগ্রেসের গুন্ডারা তাঁর রিসর্টে তাণ্ডব চালানোর পর তিনি তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। দুষ্কৃতীরা শান্তিনিকেতনের খোয়াই হাটের শকুন্তলা গ্রামে ঘোষের রিসর্টে হামলা চালায়। রিসর্টটি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাত্র ৫ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত (West Bengal 2021 Election)।

     

  • LPG: এলপিজি সিলিন্ডার নিয়ে শুরু কালোবাজারি! আসছে ভুতুড়ে ডেলিভারির এসএমএসও

    LPG: এলপিজি সিলিন্ডার নিয়ে শুরু কালোবাজারি! আসছে ভুতুড়ে ডেলিভারির এসএমএসও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এলপিজি (LPG) সিলিন্ডার নিয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে কালোবাজারি! ভুতুড়ে ডেলিভারির (Ghost Deliveries) এসএমএসও হচ্ছে। প্রত্যাশিতভাবেই উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন বিভিন্ন রাজ্যের এলপিজি গ্রাহকরা।

    ভুতুড়ে কাণ্ড (LPG)

    দক্ষিণ দিল্লির একটি কলোনিতে একই বাড়ি, একই গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর—কিন্তু দুই তলায় দু’রকম অভিজ্ঞতার সাক্ষী স্থানীয়রা। এক ব্যক্তি মঙ্গলবার রাতে গ্যাস বুক করে, পরের দিন দুপুরের মধ্যেই সিলিন্ডার ডেলিভারিও হয়। অথচ, নীচেরতলায় থাকা বছর বাহাত্তরের এক বৃদ্ধা তখন উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছিলেন। কারণ তাঁর বুকিং ব্লক হয়ে গিয়েছিল। তাঁর নামে একটি ভুয়ো ডেলিভারিও দেখানো হয়েছিল। জানা গিয়েছে, ওই বৃদ্ধা ১২ মার্চ রিফিল বুক করেছিলেন, ডেলিভারি হয় ১৪ মার্চ। কিন্তু ২৩ মার্চ একটি এসএমএস পান তিনি। তাতে লেখা, তাঁর সিলিন্ডার ডেলিভারি হয়ে গিয়েছে। যদিও তিনি নতুন করে বুকিং করেননি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, শেষ ডেলিভারির ২৫ দিনের আগে নতুন বুকিং করা যায় না। ১৪ মার্চের পর ২৫ দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও তিনি সিলিন্ডার বুক করতে পারছেন না, কারণ সিস্টেম তাঁকে ব্লক করছে। তাই মাত্র একটি সিলিন্ডার দিয়ে কোনওক্রমে দিন কাটাতে হচ্ছে তাঁকে।

    সিলিন্ডার নিয়েও কালোবাজারি

    এই সমস্যা শুধু দিল্লির নয়, দেশজুড়ে হাজার হাজার মানুষ একই সমস্যায় ভুগছেন। জানা গিয়েছে, একটি বড় অবৈধ এলপিজি বাজার দীর্ঘদিন ধরে চলছে ভারতে। কম দামে পাওয়া গৃহস্থালির সিলিন্ডার অবৈধভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে রেস্তোরাঁ, রাস্তার দোকান এবং ছোটখাটো ব্যবসায়। ৫ কেজির সিলিন্ডার নিয়েও কালোবাজারি হচ্ছে। প্রসঙ্গত, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং সরবরাহ ঘাটতি এই অবৈধ ব্যবস্থার মুখোশ খুলে দিয়েছে। যার জেরে বাজেয়াপ্ত হয়েছে হাজার হাজার অবৈধ সিলিন্ডার। জানা গিয়েছে, গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর এবং ডেলিভারি এজেন্টরাই সবচেয়ে দুর্বল লিংক। সরকার ডিএসি DAC (Delivery Authentication Code) চালু করলেও, সেটি ওটিপি স্পুফিংয়ের মাধ্যমে পাশ কাটানো হচ্ছে বলে অভিযোগ (LPG)। প্রাক্তন এক কর্মী জানান, অনেক পরিবার তাদের পুরো কোটার এলপিজি ব্যবহার করে না। এই অব্যবহৃত সিলিন্ডারই কালোবাজারে বিক্রি হয় চড়া দরে (Ghost Deliveries)।

    কালোবাজারে সিলিন্ডারের দাম

    বর্তমানে একটি ১৪ কেজি সিলিন্ডার, যার সরকারি দাম ৯১৪ টাকার কাছাকাছি, কালোবাজারে সেটাই বিক্রি হচ্ছে ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ পর্যন্ত টাকায়। ডেলিভারি এজেন্টদের লাভ আগে যেখানে ছিল ২০০ টাকা, সেটাই এখন হচ্ছে সিলিন্ডার প্রতি ৪,০০০ টাকা। ডিস্ট্রিবিউটররা বলছেন, এটি সিস্টেম গ্লিচ। কিন্তু বিভিন্ন রাজ্য থেকে একই ধরনের অভিযোগ প্রমাণ করে, এটি একটি বড় স্ক্যাম। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, বুকিং না করেই ডেলিভারি দেখানো হচ্ছে, সিলিন্ডার না পেয়েও “ডেলিভার্ড” এসএমএস আসছে। অভিযোগ করলে দেরিতে ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছে।ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ডিস্ট্রিবিউটরদের এক সঙ্গে অনেক সিলিন্ডার (যেমন ৩৬০টি) ডেলিভারি দেখাতে হয়। অনেক সময় তাঁরা সিস্টেমে “ডেলিভার্ড” দেখিয়ে সিলিন্ডার পাঠিয়ে দেয় কালোবাজারে। এর ফলেই সৃষ্টি হয়েছে হরেককিসিমের কালোবাজারি। গ্রাহক সিলিন্ডার পান না, যদিও সিস্টেমে ডেলিভারি দেখায়, নয়া বুকিং ব্লক হয়ে যায় (LPG)।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যার সমাধান করতে হলে বাড়াতে হবে সরকারি নজরদারি, ডিস্ট্রিবিউটরদের বিরুদ্ধে নিতে হবে কঠোর ব্যবস্থা, গ্রাহকদের অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা সহজ করা, ছোট ব্যবসা ও শ্রমিকদের বৈধ এলপিজি ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা। তাঁদের মতে, এতেই রোখা যাবে কালোবাজারি (Ghost Deliveries)।

     

  • Nashik: নাসিকের আইটি সংস্থায় কেলেঙ্কারি! ফাঁস হল হিন্দু মহিলা কর্মীদের ধর্মীয় নিপীড়ন ও যৌন হেনস্থার চিত্র

    Nashik: নাসিকের আইটি সংস্থায় কেলেঙ্কারি! ফাঁস হল হিন্দু মহিলা কর্মীদের ধর্মীয় নিপীড়ন ও যৌন হেনস্থার চিত্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের নাসিকে (Nashik) একটি প্রথম সারির আইটি সংস্থায় হিন্দু মহিলা কর্মীদের ওপর ভয়াবহ ধর্মীয় নিপীড়ন এবং যৌন হেনস্থার অভিযোগ প্রকাশ্যে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং অপরাধীদের হাতেনাতে ধরতে সাতজন মহিলা পুলিশ কর্মী ছদ্মবেশে ওই সংস্থায় অভিযান চালান। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যেই সাতজনকে গ্রেফতার করেছে। বেছে বেছে হিন্দু ধর্মের মেয়েদের টার্গেট (Love jihad) করে দুষ্কৃতীরা। তবে অভিযোগ এটাও উঠেছে যে অভিযুক্তরা কট্টর মৌলবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। লাভ জেহাদই  তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য।

    নিয়মিত হেনস্থা করা হত (Nashik)

    বেশ কিছুদিন ধরে অভিযোগ আসছিল যে, নাসিকের (Nashik) এই আইটি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্তারা মহিলা কর্মীদের ওপর ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য চাপ দিচ্ছেন। কেবলমাত্র টার্গেট করে হিন্দু মহিলা কর্মীদের নিয়মিত হেনস্থা করা হত এবং তাঁদের সিঁদুর পরা বা ধর্মীয় রীতি পালনে বাধা দেওয়া হত। এছাড়াও অনেককে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টাও হয়েছে। অভিযুক্তরা অনেকেই নিজের ধর্মীয় পরিচয় গোপন করে লাভ জেহাদের মাধ্যমে প্রতারণা করেছে। বেশ কিছু দিন ধরে এভাবে ধর্মান্তকরণ (Love jihad) করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সকলেই মুখ খুলেছেন। এরপর প্রশাসন তড়িঘড়ি করে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

    পুলিশি অভিযান ও গ্রেফতার

    অভিযোগের গুরুত্ব বুঝে নাসিক পুলিশ একটি বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করে। সাত মহিলা পুলিশ কর্মী চাকরিপ্রার্থী (Nashik) সেজে ওই সংস্থায় ছদ্মবেশে প্রবেশ করেন। সেখানে কাজ করার সময় তাঁরা দেখেন, কীভাবে মহিলা কর্মীদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করা হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট ধর্মীয় (Love jihad) আচরণ পালনে বাধ্য করা হচ্ছে। এই ঘটনায় যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা হল, আসিফ আনসারি, শফি শেখ, শাহরুখ কুরেশি, রাজা মেমন, তৌসিফ আত্তার (সবাই টিম লিডার হিসেবে কর্মরত ছিলেন) এবং পুনে-ভিত্তিক এক নারী এইচআর কর্মকর্তা (যিনি এই অপরাধে সহায়তা করতেন বলে অভিযোগ)।

    ৯টি পৃথক এফআইআর-এ (FIR) যা উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলি হল–

    ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা

    মহিলা কর্মীদের হিন্দু ধর্মীয় (Love jihad)  চিহ্ন বর্জন করতে এবং ইসলামিক রীতিনীতি মেনে চলতে বাধ্য করা হত।

    যৌন হেনস্থা

    মহিলা কর্মীদের অনুপযুক্তভাবে স্পর্শ করা এবং অফিসের বাইরেও তাদের পিছু নেওয়ার (stalking) অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক চাপের মাধ্যমে কর্মীদের দুর্বল করা এবং একঘরে করে রাখার অভিযোগও মিলেছে।

    পুরুষ কর্মীর ধর্মান্তর

    কেবল মহিলারাই নন, একজন পুরুষ কর্মীও অভিযোগ করেছেন যে গত দু’বছর ধরে তাঁকে জোর করে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা চালানো হয়েছে।

    পুলিশের বক্তব্য

    মহারাষ্ট্র (Nashik) পুলিশ এই ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে। পুলিশের ধারণা, তদন্ত এগোলে আরও অনেক ভুক্তভোগী সামনে আসতে পারেন। কেন্দ্রীয় বিভিন্ন সংস্থাও এই ঘটনার ওপর নজর রাখছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহের জন্য পুলিশ ৪০টি সিসিটিভি ক্যামেরার রেকর্ডিং খতিয়ে দেখছে।

    পুলিশ জানিয়েছে, “কোম্পানির প্রধান কর্মকর্তার নিষ্ক্রিয়তার কারণে ভুক্তভোগীদের প্রতি অভিযুক্তের অপরাধমূলক আচরণ নির্লজ্জভাবে চলতে থাকে। ভুক্তভোগীরা অভিযুক্তের অশোভন আচরণের বিষয়ে প্রধান কর্মকর্তার কাছে একাধিকবার মৌখিকভাবে অভিযোগ দায়ের করলেও, তিনি কোনও পদক্ষেপ নেননি  নিতে ব্যর্থ হন। তাই নির্যাতন চলতেই থাকে। অভিযোগকারী যখন এই ঘটনাগুলি সম্পর্কে কোম্পানির প্রধান কর্মকর্তার কাছে বারবার অভিযোগ করেন, তখন তিনি শ্লীলতাহানির বিষয়ে তাঁর অভিযোগ জানালেও কোনওরকম সক্রিয়তা দেখা যায়নি।”

    ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে যৌন হয়রানি ও ধর্মীয় নিপীড়নের সঙ্গে জড়িত ন’টি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

    জুলাই ২০২২–ফেব্রুয়ারি ২০২৬

    অভিযুক্ত দানিশ শেখ, তৌসিফ আত্তার এবং নিদা খান হিন্দু দেব-দেবী সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করে এক মহিলা কর্মীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন। অভিযোগ, অভিযুক্ত তৌসিফ আত্তার ওই ভুক্তভোগীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। দানিশ অফিসের লবিতে ওই একই নির্যাতিতার সঙ্গে অশ্লীল কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়ে তাঁর শ্লীলতাহানি করে।

    মে ২০২৩–১৯ মার্চ ২০২৬

    রাজা মেমন ও শাহরুখ কুরেশির বিরুদ্ধে এক মহিলা কর্মচারীর দিকে কুদৃষ্টি দেওয়া, তাঁকে অশালীনভাবে স্পর্শ করা এবং তাঁর দাম্পত্য জীবন নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ আনা হয়েছে। নির্যাতিতা প্রধান কর্মকর্তার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করলেও, তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেননি।

    ২০২২–ফেব্রুয়ারি ২০২৬

    অভিযুক্ত শফি শেখ দফতরে বৈঠকে নির্যাতিতার দিকে কামনার দৃষ্টিতে তাকাত এবং তাঁকে উপহাস করত। অভিযুক্ত তৌসিফ বিবাহিত। ভুক্তভোগীর সন্তান না থাকায় তাঁকে বিদ্রূপ করতেন এবং লজ্জাজনক মন্তব্য করত। সেই সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টাও করে।

    ৪ মে, ২০২৫–ডিসেম্বর ২০২৫

    অভিযুক্ত তৌসিফ আত্তার এক ভুক্তভোগীকে তার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে অশ্লীল প্রশ্ন করেন এবং অশালীন অঙ্গভঙ্গি করেন। তিনি হিন্দু মহিলা কর্মচারীদের সামনে হিন্দু দেব-দেবী সম্পর্কেও অবমাননাকর মন্তব্য করেন।

    ২০২২–২৩শে মার্চ, ২০২৬

    অভিযুক্ত তৌসিফ আত্তার, দানিশ, শাহরুখ শেখ এবং রাজা মেমন ভুক্তভোগীর ধর্ম নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করে এবং তাঁকে নমাজ আদায় করতে বাধ্য করে। তারা তাকে ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্য চাপ দেয়, আমিষ খাবার খেতে বাধ্য করা হয়। অভিযুক্তরা হিন্দু মহিলা কর্মীদের বিরুদ্ধে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেন।

    ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪–ফেব্রুয়ারি ২০২৬

    অভিযুক্ত আসিফ আনসারি ও শফি শেখ এক মহিলা কর্মীর শরীর নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁকে অশালীনভাবে স্পর্শ করে। অভিযুক্ত তৌসিফ আত্তার হিন্দু দেব-দেবীগণের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ভাষাও ব্যবহার করে।

    ২০২৫–মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত

    অভিযুক্ত আসিফ আনসারি, শাহরুখ কুরেশি, রাজা মেমন, তৌসিফ আত্তার এবং শফি শেখ নির্যাতিতাকে অপমান করে, তাঁর সম্পর্কে অশ্লীল মন্তব্যও করে। অশালীনভাবে স্পর্শও করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ভুক্তভোগীর ধর্মের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করে সম্মিলিতভাবে কলুষিত করার জন্য নানা অপকর্ম করে।

    জানুয়ারি ২০২৫–বর্তমান

    অভিযুক্ত রাজা মেমন এবং শফি শেখ নির্যাতিতার ইচ্ছের বিরুদ্ধে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেছিল। অভিযুক্ত শফি যেমন প্রস্তাব দেয়, অন্যদিকে রাজা মেমন তার শরীর নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করে এবং অশালীনভাবে স্পর্শ করার চেষ্টাও করে।

    জানুয়ারি ২০২৬–১ এপ্রিল, ২০২৬ পর্যন্ত

    অভিযুক্ত রাজা মেমন এবং শাহরুখ কুরেশি ভুক্তভোগীর সঙ্গে অশ্লীল কথাবার্তা ও অশ্লীল কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। ভুক্তভোগীর আপত্তি সত্ত্বেও, ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করা, তাঁর ওপর নজর রাখা এবং তাঁর শরীর নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে তাঁকে মানসিক ও শারীরিকভাবে হয়রান করতে থাকে।

LinkedIn
Share