Blog

  • Basanti Puja 2026: শারদীয় নয়, এটাই বাঙালির প্রাচীন দুর্গাপুজো! আজ বাসন্তী সপ্তমীতে দেবী আরাধনা শুরু

    Basanti Puja 2026: শারদীয় নয়, এটাই বাঙালির প্রাচীন দুর্গাপুজো! আজ বাসন্তী সপ্তমীতে দেবী আরাধনা শুরু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এখন চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের তিথি চলছে। প্রতি বছর চৈত্র মাসের শুক্ল তিথিতে আয়োজিত হয় নবরাত্রি উৎসবের। নয় রাত ধরে দেবী দুর্গার নয় রূপের আরাধনা করা হয়। আর এই সময়ে মহাধুমধামের সঙ্গে বাঙালি মেতে ওঠে বাসন্তী পুজোয়। হিন্দুশাস্ত্রমতে বসন্তকালে চৈত্র শুক্লপক্ষে আয়োজিত হয় বাসন্তী পুজো। পুরাণ অনুযায়ী, সমাধি নামক বৈশ্যের সঙ্গে মিলে রাজা সুরথ বসন্তকালে ঋষি মেধসের আশ্রমে দেবী দুর্গার আরাধনা করেন। যা পরে বাসন্তী পুজো (Basanti Puja) নামে প্রসিদ্ধ হয়। দেবী দুর্গার প্রথম পূজারী হিসাবে চণ্ডীতে রাজা সুরথের উল্লেখ রয়েছে। বাসন্তী পুজোই হল বাঙালির আদি দুর্গাপুজো। পরে শরত্‍কালে শারদীয়া নবরাত্রির সময় রামচন্দ্রের অকাল বোধন মেনে দুর্গাপুজোর প্রচলন হয়।

    কবে থেকে পুজো, দেবীর আগমন কিসে

    সপ্তমী থেকে নবমী, তিন দিন ধরে চলে বাসন্তী পুজো। দুর্গাপুজোর মতোই সব নিয়ম আচার মেনে বাসন্তী পুজো করা হয়। চলতি বছরে বাসন্তীপুজোর সপ্তমি পড়েছে আজ, বুধবার ২৫ মার্চ। এই পুজোর ষষ্ঠীই হল অশোক ষষ্ঠী। মূলত, সপ্তমী তিথিতে বাসন্তী পুজো, অষ্টমীতে দেবী অন্নপূর্ণার আরাধনা হয়, নবমী পালিত হয় রামনবমী হিসেবে। দেশের নানান জায়গায় যখন চৈত্র নবরাত্রির পার্বনে অনেকে উৎসবে মেতে রয়েছেন, তখন বাংলা এই চৈত্রের শুক্লপক্ষে দেবী বাসন্তীর আরাধনায় মেতে ওঠে। চলতি বছরের বাসন্তী পুজোয় দেবী দুর্গার আগমন ও গমন শাস্ত্র মতে বিশেষ বার্তাবাহক। পঞ্জিকা অনুসারে, এ বছর দেবী দুর্গার আগমন হবে পালকিতে (মতান্তরে নৌকায়) এবং গমন হবে গজে বা হাতিতে (মতান্তরে ঘোড়ায়)। পালকিতে আগমন অস্থির সময়, মড়ক বা রোগব্যাধির ইঙ্গিত দিলেও গজে গমন অতিবৃষ্টি ও শস্যহানিকর পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

    রাজা সুরথের কাহিনী

    রাজা সুরথকে চিত্রগুপ্তবংশী রাজা (চিত্রগুপ্তের বংশধর) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে দুর্গা সপ্তশতী দেবী মাহাত্ম্য এবং মার্কণ্ডেয় পুরাণে। সুরথ সুশাসক ও যোদ্ধা হিসেবে বেশ খ্যাত ছিলেন। কোনও যুদ্ধে নাকি তিনি কখনও হারেননি। কিন্তু প্রতিবেশী রাজ্য একদিন তাঁকে আক্রমণ করে এবং সুরথ পরাজিত হন। এই সুযোগে তাঁর সভাসদরাও লুটপাট চালায়। কাছের মানুষের এমন আচরণে স্তম্ভিত হয়ে যান সুরথ। বনে ঘুরতে ঘুরতে তিনি মেধাসাশ্রমে পৌঁছোন। ঋষি তাঁকে সেখানেই থাকতে বলেন। কিন্তু রাজা শান্তি পান না।

    বাসন্তী পুজোর সূচনা

    এর মধ্যে একদিন তাঁর সমাধির সঙ্গে দেখা হয়। তিনি জানতে পারেন, সমাধিকেও তাঁর স্ত্রী এবং ছেলে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। তবুও তিনি স্ত্রী-ছেলের ভালোমন্দ এখনও ভেবে চলেছেন। তাঁরা দুজনেই তখন ভাবলেন, যাদের কারণে তাদের সব কিছু হারিয়েছে, তাদের ভালো আজও তাঁরা কামনা করছেন। ঋষিকে একথা বলায়, তিনি বলেন সবই মহামায়ার ইচ্ছা। এরপর ঋষি মহামায়ার কাহিনি বর্ণনা করেন। ঋষির উপদেশেই রাজা কঠিন তপস্যা শুরু করেন। পরে মহামায়ার আশীর্বাদ পেতেই বসন্ত কালের শুক্লপক্ষে রাজা পুজো শুরু করেন। শুরু হয় বাসন্তী পুজো (Basanti Puja)। এই পুজো এখন কয়েকটি বাড়িতেই শুধু হয়।

  • Daily Horoscope 25 March 2026: নতুন প্রকল্প শুরু করতে পারেন এই রাশির জাতকরা

    Daily Horoscope 25 March 2026: নতুন প্রকল্প শুরু করতে পারেন এই রাশির জাতকরা

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ

    ১)  পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করে সময় কাটাবেন।

    ২) বাড়ির বাইরের ব্যক্তিদের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।

    ৩) কর্মক্ষেত্রে বুদ্ধিমানীর সঙ্গে কাজ করুন।

    বৃষ

    ১) পরিবারের কোনও সদস্যের বিবাহে বাধা এলে তার সমাধান হবে, বিবাহ প্রস্তাবে সকলে সহমতি প্রদান করবে।

    ২) পড়াশোনার জন্য বিদেশ যাত্রার পরিকল্পনা করে থাকলে তাঁদের ইচ্ছা পূরণ হবে।

    ৩) কর্মক্ষেত্রে আধিকারিকরা আপনার কাজের প্রশংসা করবেন।

    মিথুন

    ১) সরকারি চাকরিজীবীদের বদলি হতে পারে।

    ২) সাবধানে আর্থিক লেনদেন করুন, তা না-হলে সম্পর্কে বিভেদ দেখা দিতে পারে।

    ৩) মার্কটিংয়ের সঙ্গে জড়িত জাতকরা ভালো কাজ শুরু করতে পারেন।

    কর্কট

    ১) ব্যবসায়ীদের জন্য দিন ঠিকঠাক।

    ২) লক্ষ্য পূরণের জন্য কঠিন পরিশ্রম করবেন।

    ৩) বন্ধু আর্থিক সাহায্য চাইলে তা পূরণ করতে সক্ষম হবেন।

    সিংহ

    ১) প্রেম জীবনে সঙ্গীর সঙ্গে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করবেন।

    ২) গোপন রহস্য পরিবারের সদস্যদের সামনে প্রকট হবে।

    ৩) সন্তান কোনও কারণে জেদ করতে পারে, যা আপনাদের পুরো করতে হবে।

    কন্যা

    ১) পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে হতাশাজনক সংবাদ শুনতে পাবেন।

    ২) ব্যবসায়ে নতুন পরিকল্পনা করে থাকলে তা পূরণ করতে পারেন।

    ৩) ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষায় সাফল্য লাভের জন্য কঠিন পরিশ্রম করতে হবে।

    তুলা

    ১) সকলকে খুশি করার চেষ্টা করবেন এবং এ কারণে সমস্যা হতে পারে।

    ২) জরুরি কাজে যাত্রা করতে পারেন এই রাশির জাতক।

    ৩) সন্তানের কেরিয়ারের কারণে চিন্তিত থাকলে, তা এবার দূর হবে।

    বৃশ্চিক

    ১) সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতার দ্বারা লাভান্বিত হবেন।

    ২) কারও কথায় আসবেন না, সমস্যা হতে পারে।

    ৩) ভালোভাবে ব্যবসা পরিচালনার জন্য কিছু ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা বজায় রাখতে হবে।

    ধনু

    ১) পরিকল্পনা পুরো করার আগে অভিজ্ঞ ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে নিন।

    ২) সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে ধৈর্য ধরে থাকতে হবে।

    ৩) কর্মক্ষেত্রে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য পরিশ্রম করবেন।

    মকর

    ১) কর্মক্ষেত্রে নিজের কাজের জন্য অন্যের কাছ থেকে অধিক প্রত্যাশা করবেন না, প্রতারিত হতে পারেন।

    ২) কর্মকৌশলে বিশ্বাস রাখুন।

    ৩) ব্যবসায়ীরা নতুন প্রকল্প শুরু করতে পারেন।

    কুম্ভ

    ১) লোকদেখানোর জন্য অধিক অর্থ ব্যয় করতে পারেন।

    ২) অর্থকষ্টে কাটবে দিনটি।

    ৩) পরিশ্রম সফল হবে, কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব বাড়বে, ভয় পাবেন না।

    মীন

    ১) ব্যবসায়িক সমস্যার কারণে অবসাদগ্রস্ত হবেন।

    ২) জীবনসঙ্গীর সঙ্গে মিলে ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত পরিকল্পনা করতে পারেন।

    ৩) অহংকার করবেন না।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • Ramakrishna 608: “চিদানন্দ সিন্ধুনীরে প্রেমানন্দের লহরী, মহাভাব রসলীলা কি মাধুরী মরি মরি”

    Ramakrishna 608: “চিদানন্দ সিন্ধুনীরে প্রেমানন্দের লহরী, মহাভাব রসলীলা কি মাধুরী মরি মরি”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    সপ্তদশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৫শে অক্টোবর
    বিজয়াদি ভক্তসঙ্গে প্রেমানন্দে

    এই বলিয়া শ্রীরামকৃষ্ণের (Ramakrishna )পাদমূলে পতিত হইলেন ও নিজের বক্ষে তাঁহার চরণ ধারণ করিলেন। শ্রীরামকৃষ্ণ তখন ঈশ্বরাবেশে বাহ্যশূন্য চিত্রার্পিতের ন্যায় বসিয়া আছেন।

    এই প্রেমাবেশ, এই অদ্ভুত দৃশ্য দেখিয়া উপস্থিত ভক্তেরা কেহ কাঁদিতেছেন, কেহ স্তব করিতেছেন। যাঁহার যে মনের ভাব তিনি সেই ভাবে একদৃষ্টে শ্রীরামকৃষ্ণের দিকে চাহিয়া রহিলেন! কেহ তাঁহাকে পরমভক্ত, কেহ সাধু, কেহ বা সাক্ষাৎ দেহধারী ঈশ্বরাবতার দেখিতেছেন, যাঁহার যেমন ভাব।

    মহিমাচরণ সাশ্রুনয়নে গাহিলেন (Kathamrita) — দেখ দেখ প্রেমমূর্তি — ও মাঝে মাঝে যেন ব্রহ্মদর্শন করিতেছেন, এই ভাবে বলিতেছেন —

    “তুরীয়ং সচ্চিদানন্দম্‌ দ্বৈতাদ্বৈতবিবর্জিতম্‌।”

    নবগোপাল কাঁদিতেছেন। আর একটি ভক্ত ভূপতি গাহিলেন:

    জয় জয় পরব্রহ্ম            অপার তুমি অগম্য
    পারাৎপর তুমি সারাৎসার।
    সত্যের আলোক তুমি    প্রেমের আকর ভূমি,
    মঙ্গলের তুমি মূলাধার।
    নানা রসযুত ভব,           গভীর রচনা তব,
    উচ্ছ্বসিত শোভায় শোভায়,
    মহাকবি আদিকবি,        ছন্দে উঠে শশী রবি,
    ছন্দে পুনঃ অস্তাচলে যায়।
    তারকা কনক কুচি,        জলদ অক্ষর রুচি,
    গীত লেখা নীলাম্বর পাতে।
    ছয় ঋতু সম্বৎসরে,          মহিমা কীর্তন করে,
    সুখপূর্ণ চরাচর সাথে।
    কুসুমে তোমার কান্তি,     সলিলে তোমার শান্তি,
    বজ্ররবে রুদ্র তুমি ভীম;
    তব ভাব গূঢ় অতি,          কি জানিবে মূঢ়মতি,
    ধ্যায় যুগযুগান্ত অসীম।
    আনন্দে সবে আনন্দে,    তোমার চরণ বন্দে,
    কোটি চন্দ্র কোটি সূর্য তারা!
    তোমারি এ রচনারি,        ভাব লয়ে নরনারী,
    হাহাকারে নেত্রে বহে ধারা।
    মিলি সুর, নর, ঋভু,        প্রণমে তোমায় বিভু
    তুমি সর্ব মঙ্গল-আলয়;
    দেও জ্ঞান, দেও প্রেম,    দেও ভক্তি, দেও ক্ষেম,
    দেও দেও ওপদে আশ্রয়।

    ভূপতি আবার গাহিতেছেন:

    ঝিঁঝিট—খয়রা কীর্তন

    চিদানন্দ সিন্ধুনীরে প্রেমানন্দের লহরী।
    মহাভাব রসলীলা কি মাধুরী মরি মরি
    বিবিধ বিলাস রসপ্রসঙ্গ,                 কত অভিনব ভাবতরঙ্গ,
    ডুবিছে উঠিছে করিছে রঙ্গ,              নবীন নবীন রূপ ধরি,
    (হরি হরি বলে)
    মহাযোগে সমুদয় একাকার হইল,
    দেশ-কাল ব্যবধান ভেদাভেদ ঘুচিল,
    (আশা পুরিল রে, আমার সকল সাধ মিটে গেল!)
    এখন আনন্দে মাতিয়া দুবাহু তুলিয়া, বলরে মন হরি হরি (Kathamrita)।

  • Donald Trump: মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তুঙ্গে, মোদির সঙ্গে ফোনে কথা ট্রাম্পের

    Donald Trump: মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তুঙ্গে, মোদির সঙ্গে ফোনে কথা ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র আকার ধারণ করেছে সংঘাত। এহেন আবহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) সঙ্গে। উভয় নেতাই হরমুজ প্রণালী খোলা রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। এক্স হ্যান্ডেলে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর লিখেছেন, “প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সদ্য প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে কথা বলেছেন।

    কী জানালেন প্রধানমন্ত্রী (Donald Trump)

    এরই কিছুক্ষণ পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও জানান, তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসূ মতবিনিময় করেছেন। এক্স-এ করা পোস্টে তিনি লেখেন, “ভারত উত্তেজনা প্রশমন এবং দ্রুত শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার পক্ষে। হরমুজ প্রণালী খোলা, নিরাপদ ও সবার জন্য সহজলভ্য রাখা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” এই ফোনালাপের সময়ই প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেন, “হরমুজ প্রণালীতে কোনও বিঘ্নই মেনে নেওয়া যায় না।” লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং বৈশ্বিক নৌপথে বিঘ্ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং (PM Modi) হরমুজ প্রণালীর মতো আন্তর্জাতিক জলপথে বিঘ্ন মেনে নেওয়া যায় না। এই যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ভারত কূটনৈতিক উপায়ে ভারতীয় জাহাজগুলির নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।” বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহণে ব্যবহৃত হয় হরমুজ প্রণালী। তাই এটি বৈশ্বিক জ্বালানি স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পথে সাম্প্রতিক বিঘ্ন বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সঙ্কটের সৃষ্টি করেছে (Donald Trump)। মঙ্গলবার রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “এই সঙ্কট বিশ্ব অর্থনীতিকে নড়িয়ে দিয়েছে। স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে অনেক সময় লাগতে পারে।”

    দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির ওপর নজর

    তিনি বলেন, “এই যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট সৃষ্টি করেছে। ভারতের জন্যও এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। যুদ্ধ আমাদের বাণিজ্যিক পথগুলিকে প্রভাবিত করেছে। এর ফলে পেট্রোল, ডিজেল, গ্যাস এবং সারের নিয়মিত সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।” তিনি অবশ্য আশ্বাস দেন, সরকার দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং এর প্রভাব কমাতে ধারাবাহিক পদক্ষেপ করছে। এই পরিস্থিতিটি এমন একটি সময়ে সামনে এল, যার ঠিক একদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের ওপর হামলা স্থগিত করার কথা ঘোষণা করেন (PM Modi)। তিনি জানান, তাঁর সরকার তেহরানের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা করেছে এবং যদি হরমুজ প্রণালী ফের চালু না হয়, তবে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে পরিকল্পিত হামলা পাঁচ দিন পিছিয়ে দেওয়া হবে।

    আমেরিকার দাবি খারিজ

    ইরানি আধিকারিকরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন (Donald Trump)। তাঁদের দাবি, তেহরানের কঠোর সতর্কবার্তার পরেই পিছিয়ে এসেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ইরানের সংসদের স্পিকার মোহম্মদ বাঘের গালিবাফ ট্রাম্পের এই দাবিকে ভুয়ো খবর আখ্যা দেন। তিনি বলেন, “এটি আর্থিক ও তেলবাজারে প্রভাব ফেলতে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের ব্যর্থতা থেকে দৃষ্টি সরাতে করা হয়েছে।”

    এক্স-এ দেওয়া পোস্টে গালিবাফ বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি ()। আর্থিক ও তেলবাজারকে প্রভাবিত করতে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল যে সঙ্কটে পড়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা হিসেবেই ছড়ানো হচ্ছে ভুয়ো খবর (Donald Trump)।”

     

  • I-PAC: “মুখ্যমন্ত্রী তদন্তে হস্তক্ষেপ করলে ইডি কোথায় যাবে?” মমতার আইনজীবীকে তোপ সুপ্রিম কোর্টের

    I-PAC: “মুখ্যমন্ত্রী তদন্তে হস্তক্ষেপ করলে ইডি কোথায় যাবে?” মমতার আইনজীবীকে তোপ সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের শীর্ষ আদালত সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টা সংস্থা আই-প্যাক (I-PAC)-এর আইনি সংঘাত এক নতুন মোড় নিয়েছে। আর্থিক দুর্নীতি মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে কাজ করা এই সংস্থার বিরুদ্ধে ইডির তদন্ত এবং তা নিয়ে রাজ্য ও কেন্দ্রের সওয়াল-জবাব এখন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। মমতার আইনজীবী কপিল সিব্বালের মন্তব্য, “আদালত কি এখনই ধরে নিচ্ছে যে মুখ্যমন্ত্রী অপরাধী।” পাল্টা বিচারপতিদের বক্তব্য, “মুখ্যমন্ত্রী তদন্তে হস্তক্ষেপ করলে ইডি কোথায় যাবে? তীব্র বাক বিতণ্ডায় উত্তাল সুপ্রিমকোর্ট।”

    অনুচ্ছেদ ৩২-এর অপব্যবহারের যৌক্তিকতা (I-PAC)?

    আইপ্যাক মামলায় রাজ্য পুলিশের ডিজিকেও পার্টি বা পক্ষ করেছিল ইডি। তখন রাজ্য পুলিশের ডিজি ছিলেন রাজীব কুমার। তাঁর হয়ে আদালতে সওয়াল করছেন আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। বিচারপতি (Supreme Court) পি কে মিশ্র এবং বিচারপতি এন ভি অঞ্জারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলা চলছে। শুনানিতে একদিকে যেমন ইডির তদন্তকারী আধিকারিকদের মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন উঠেছে, অন্যদিকে রাজ্যের পক্ষ থেকে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল কেন্দ্রের এক্তিয়ার এবং সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২-এর অপব্যবহার নিয়ে জোরালো সওয়াল করেছেন। উভয় পক্ষের বক্তব্যে উত্তাল হয়ে ওঠে আদালত চত্বর।

    তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশলী হিসেবে পরিচিত সংস্থা আই-প্যাকের (I-PAC) বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি। এই তদন্তের আইনি বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলাটি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এবং সংস্থার প্রতিনিধিরা এই তদন্তকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন।

    ইডির কি মৌলিক অধিকার নেই?

    বিচারপতি (Supreme Court) পি কে মিশ্র ইডির আধিকারিকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা ও অধিকারের বিষয়টি শুনানির সময় তুলে ধরেন। রাজ্যের পক্ষ থেকে আইনজীবী বারবার বলছিলেন যে ইডি একটি সরকারি সংস্থা এবং সংস্থার কোনও মৌলিক অধিকার নেই। আর তখন বিচারপতি পাল্টা প্রশ্ন করেন— যারা তদন্ত করতে গিয়ে বাধার (I-PAC) সম্মুখীন হয়েছেন বা আক্রান্ত হয়েছেন, সেই আধিকারিকদের কি কোনও মৌলিক অধিকার নেই? বিচারপতি মিশ্র স্পষ্টভাবে বলেন, “আপনারা শুধু ইডি নিয়ে কথা বলছেন, কিন্তু সেই আধিকারিকদের কথা ভুলে যাচ্ছেন যারা এই ঘটনায় মামলার আবেদন করেছেন। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে কি প্রতিকার চাইতে পারেন না?”

    রাজনৈতিক গুরুত্ব

    এই মামলাটি কেবল একটি আইনি লড়াই নয়, বরং তৃণমূল বনাম বিজেপি-র রাজনৈতিক লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার অভিযোগ করেছেন, আইনি প্রক্রিয়ার আড়ালে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে বিরোধী কণ্ঠরোধে ব্যবহার করা হচ্ছে। আই-প্যাককে (I-PAC) নিশানা করে আসলে বাংলার শাসক দলের নির্বাচনী পরিকাঠামোকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। অপর দিকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষে যুক্তি, মুখ্যমন্ত্রী তদন্তকে প্রভাবিত করছেন। দুর্নীতির তদন্তকে প্রভাবিত করে আসল অপরাধীদের আড়াল করতে চেয়েছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর জন্য ক্ষতিকর

    রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই মামলাকে ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর জন্য ক্ষতিকর বলে অভিহিত করা হয়েছে। সিব্বলের যুক্তি, কোনও অপরাধ যদি রাজ্যের সীমানার মধ্যে ঘটে, তবে তদন্তের (I-PAC) প্রাথমিক দায়িত্ব সেই রাজ্যের পুলিশের। তদন্তে গাফিলতি প্রমাণিত হওয়ার আগেই কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর এভাবে সরাসরি হস্তক্ষেপ রাজ্যের সাংবিধানিক ক্ষমতাকে খর্ব করে।

    অপর দিকে বিচারপতি (Supreme Court) এন ভি অঞ্জারিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পর্যবেক্ষণ দেন। তিনি বলেন, “মৌলিক অধিকার সবসময় কেবল ব্যক্তিকেন্দ্রিক হতে হবে, এমন নয়। আইনের শাসন নিজেই একটি মৌলিক নীতি। যদি সেই নীতি লঙ্ঘিত হয়, তবে আদালত সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারে।”

    সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বেঞ্চ সমস্ত পক্ষের যুক্তি শোনার পর মামলাটি খতিয়ে দেখছেন। তদন্তের ওপর অন্তর্বর্তী কোনো স্থগিতাদেশ দেওয়া হবে কি না, বা ইডির ক্ষমতা কতটুকু কার্যকর থাকবে, তা আদালতের পরবর্তী রায়ের ওপর নির্ভর করছে। আইপ্যাক মামলার শুনানি এদিনের মতো শেষ। পরবর্তী শুনানি ১৪ এপ্রিল।

  • SIR: “একমাত্র পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই সমস্যা হয়েছে”, এসআইআর মামলায় রাজ্যকে নিশানা সুপ্রিম কোর্টের

    SIR: “একমাত্র পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই সমস্যা হয়েছে”, এসআইআর মামলায় রাজ্যকে নিশানা সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে এখনও কাটেনি এসআইআর (SIR) গেরোর জট। সোমবার রাতে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা হয় নির্বাচন কমিশনের তরফে। তবে তাতে কতজনের নাম বাদ গিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এহেন পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের তরফে আবেদন জানানো হল। তাতে বলা হয়েছে, বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ভোটারদের আগের তালিকার নিরিখে ভোট দেওয়ার অধিকার দেওয়া হোক। নির্বাচন কমিশনের দাবি, প্রয়োজনে প্রতিদিন সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ করতে পারে তারা। মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি হয় শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চে (Supreme Court)।

    রাজ্যের আইনজীবীর বক্তব্য (SIR)

    মঙ্গলবার শুনানির শুরুতেই রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান জানান, প্রথম দফার নির্বাচনের ক্ষেত্রে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ৬ এপ্রিল। নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ভোটার তালিকায় নাম তোলা বন্ধ হয়ে যাবে। তাঁর আর্জি, যে বা যাঁরা বিবেচনাধীন তালিকায় রয়েছেন, তাঁদের আগের ভোটার তালিকায় নাম থাকলে, ভোট দেওয়ার অধিকার দেওয়া হোক। এই সময় (SIR) প্রধান বিচারপতি বলেন, “গতকাল সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বের হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আমাদের তথ্য পাঠাতে থাকেন।” শ্যাম বলেন, “আমাদের কয়েকটি সাজেশন রয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় ভোটার তালিকা ফ্রিজ হয়ে যাবে যথাক্রমে ১৬ এবং ২২ এপ্রিল। ১৪ জন এমন প্রার্থী রয়েছেন, যাঁরা বিচারাধীন তালিকায় রয়েছেন। তাঁরা ৬ এপ্রিল মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারবেন না।”

    কী বললেন প্রধান বিচারপতি?

    এই সময় প্রধান বিচারপতি (Supreme Court) বলেন, “এই প্রতিটি প্রশাসনিক ইস্যু কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দেখতে পারেন।” তাঁর পরামর্শ, যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের নাম নিষ্পত্তি হয়নি, তাঁরা অ্যাজুডিকোটিং অফিসারের কাছে গিয়ে এই বিষয়ে আবেদন করতে পারেন। এই সময় নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডিএস নাইডু বলেন, “আমরা কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করেছি। মামলা নিষ্পত্তি হয়ে গেলে আমরা প্রতিদিন সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করতে পারি।” এর পরেই প্রধান বিচারপতি বলেন, “একমাত্র পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই সমস্যা হয়েছে। অন্য (SIR) সব রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া মসৃণভাবে হয়েছে।” তিনি জানান, কোথাও কোথাও এসআইআরের পরে ভোটারের সংখ্যা বেড়েছে।

     

  • Women’s Quota Law: মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করতে নয়া উদ্যোগ কেন্দ্রের, লোকসভায় বাড়তে পারে আসন সংখ্যা

    Women’s Quota Law: মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করতে নয়া উদ্যোগ কেন্দ্রের, লোকসভায় বাড়তে পারে আসন সংখ্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নারী শক্তি বন্ধন অধিনিয়ম তথা মহিলা সংরক্ষণ আইন (Women’s Quota Law) কার্যকর করার পথে কেন্দ্র। সূত্রের খবর, আসন পুনর্বিন্যাসের আগে সংরক্ষণ চালু করতে আইনটির সংশোধনী বিল চলতি সপ্তাহেই সংসদে আনার পরিকল্পনা করছে মোদি সরকার। বর্তমান আইনে লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভা, উভয় ক্ষেত্রেই মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু জনগণনা ও আসন পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়াটি এখনও সম্পূর্ণ না হওয়ায় আইনটি এখনও পর্যন্ত কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। ২০২৩ সালে সংসদে পাশ হওয়া এই আইন নিয়ে চলতি বাজেট অধিবেশনেই দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল আনতে প্রস্তুত। লক্ষ্য—মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ আইনকে (মহিলা সংরক্ষণ) ২০২৯ সালের নির্ধারিত সময়ের আগেই কার্যকর করা।

    সরকারের তরফে আলোচনা শুরু

    সরকারি সূত্রে খবর, এবার সেই প্রক্রিয়াকে দ্রুত কার্যকর করতে নতুন জনগণনার অপেক্ষা না করে ২০১১ সালের জনগণনাকেই সীমা পুনর্নির্ধারণের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। যেহেতু এটি একটি সংবিধান সংশোধনী তাই তা পাস করিয়ে কার্যকর করতে উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন রয়েছে। ফলে বিরোধী দলগুলির সমর্থন ছাড়া তা সম্ভব নয়। আর তা নিশ্চিত করতেই মাঠে নেমেছেন খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সোমবার তিনি নিজে একাধিক বিরোধী নেতার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। সরকারপক্ষের তরফে এ নিয়ে ঐক্যমত্যে পৌঁছানোর জন্য বিরোধী শিবিরের সঙ্গেও আলোচনা শুরু করেছেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজুজুও। খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস-এর সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে।

    কী বলছে প্রস্তাব?

    সূত্র অনুযায়ী, বর্তমানে লোকসভার ৫৪৩টি আসন বাড়িয়ে প্রায় ৮১৬ করা হতে পারে। এর মধ্যে প্রায় ২৭৩টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। পাশাপাশি, তফশিলি জাতি (SC) ও তফশিলি জনজাতি (ST)-দের জন্য সংরক্ষণ বজায় রেখেই “ভার্টিক্যাল বেসিস”-এ এই আসন বণ্টন করা হবে। রাজ্য বিধানসভাগুলিতেও একইভাবে আসন সংখ্যা বাড়িয়ে প্রো-রাটা ভিত্তিতে মহিলা সংরক্ষণ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। মহিলা সংরক্ষণ প্রথমে ১৫ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। ভবিষ্যতে সংসদ চাইলে এই সময়সীমা বাড়াতে পারবে।

    দুই বিলের খসড়া কী?

    সরকার যে দুটি বিল আনতে পারে, সেগুলি হল— একটি সংবিধান সংশোধনী বিল, যার মাধ্যমে নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম-এ পরিবর্তন আনা হবে। আরেকটি সাধারণ বিল, যা ডিলিমিটেশন অ্যাক্ট সংশোধনের জন্য আনা হবে। ২০২৩ সালে পাস হওয়া মহিলা সংরক্ষণ আইন (সংবিধানের ১০৬তম সংশোধনী) অনুযায়ী, পরবর্তী জনগণনা ও ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই এই সংরক্ষণ কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, অর্থাৎ ২০২৯ সালের পর। তবে সরকার চাইছে এই প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে আনতে। ডিলিমিটেশন কমিশন একটি স্বাধীন সংস্থা, যার সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জ করা যায় না। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভারতের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে, বিশেষ করে মহিলা প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Maoist Papa Rao: মাও-মুক্ত ছত্তিশগড়! ১৬ সঙ্গীকে নিয়ে আত্মসমর্পণ শেষ শীর্ষ মাওবাদী কমান্ডার পাপা রাওয়ের

    Maoist Papa Rao: মাও-মুক্ত ছত্তিশগড়! ১৬ সঙ্গীকে নিয়ে আত্মসমর্পণ শেষ শীর্ষ মাওবাদী কমান্ডার পাপা রাওয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৬ জন কমরেডকে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার আত্মসমর্পণ করলেন ছত্তিশগড়ের শেষ শীর্ষ মাওবাদী কমান্ডার পাপা রাও (Maoist Papa Rao)। এমনই খবর জানালেন ছত্তিশগড়ের উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় শর্মা। তাঁদের আত্মসমর্পণ মাওবাদী দমনে রাজ্যের চালানো লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

    মাও-মুক্ত ছত্তিশগড় (Maoist Papa Rao)

    রাও অস্ত্র সমর্পণ করায় প্রযুক্তিগতভাবে ও স্পষ্টভাবে বলা যায়, ওই স্তরের এমনকি তার চেয়েও নিচু স্তরের কোনও নকশাল কর্মী আর সক্রিয় নেই রাজ্যে। অন্তত এমনই জানালেন শর্মা। গত দু’দশকে দক্ষিণ বস্তারে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর একাধিক প্রাণঘাতী হামলার মূলচক্রী ছিলেন এই শীর্ষ মাওবাদী নেতা। ২০১০ সালে তৎকালীন দান্তেওয়াড়া (বর্তমানে সুকমা) জেলার তাদমেতলা হামলারও ষড়যন্ত্রী ছিলেন তিনি। ওই হামলায় শহিদ হয়েছিলেন ৭৬ জন জওয়ান। মাওবাদীদের দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটিতে সক্রিয় রাও বস্তার অঞ্চলে তাঁর এক ডজনের বেশি সদস্য নিয়ে আত্মসমর্পণ করবেন বলে সোমবারই জানিয়েছিলেন শর্মা। উপমুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি তিনি সামলাচ্ছেন স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্বও। মঙ্গলবার পাপা অস্ত্রসমর্পণ করায় ছত্তিশগড়ে আর কোনও নকশাল কর্মী সক্রিয় নেই। শুধু তাই নয়, মাও দমনে ‘শাহি’ ডেডলাইন ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যেই রাজ্য হয়ে গেল সশস্ত্র নকশালবাদমুক্ত (Chhattisgarh)।

    মাওবাদীদের সবচেয়ে শক্তিশালী ইউনিট

    শর্মা বলেন, “রাওয়ের পুনর্বাসনের মাধ্যমে ছত্তিশগড়ে নকশালের উপস্থিতি কার্যত শেষ হয়ে গেল। ৩১ মার্চের মধ্যেই রাজ্য সশস্ত্র নকশালবাদ থেকে মুক্ত হবে।” তিনি জানান, পাপা রাও প্রায় ২৫ বছর ধরে সক্রিয় ছিলেন এবং বহু সংঘর্ষে জড়িত থাকলেও প্রতিবারই পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। রাজ্য সরকার তাঁর মাথার দাম ঘোষণা করেছিল ২৫ লাখ টাকা। শর্মা বলেন, “রাওয়ের মানসিকতা এখন বদলেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলাম (Maoist Papa Rao)। তখনই তিনি আত্মসমর্পণের ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন।” তিনি জানান, পুনর্বাসন কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহে আরও আত্মসমর্পণের সম্ভাবনা রয়েছে। বস্তার ডিভিশন ও পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলির কিছু অংশে মাওবাদী কার্যকলাপ পরিচালনাকারী দণ্ডকারণ্য স্পেশাল জোনাল কমিটি (DKSZC) মাওবাদীদের সবচেয়ে শক্তিশালী ইউনিট হিসেবে বিবেচিত হত। গত দু’দশকে বহু মারাত্মক হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। শর্মা বলেন, “বর্তমানে পার্টি ও এরিয়া কমিটি স্তরের মাওবাদীরা ছত্তিশগড়ে আর সশস্ত্র কার্যকলাপে যুক্ত নন এবং তাঁরা প্রায় সবাই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন।” তিনি বলেন, “তাঁরা অস্ত্র নামিয়ে রেখেছেন এবং ইউনিফর্ম ছেড়ে দিয়েছেন।” বর্তমানে ছত্তিশগড়ের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন মাও-সদস্য মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলি বা তেলঙ্গনায় সক্রিয় রয়েছে। তাঁদের আত্মসমর্পণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

    মাওবাদ নির্মূলের সময়সীমা

    এদিকে, কেন্দ্রের নির্ধারিত মাওবাদ নির্মূলের সময়সীমা শেষ হতে আর এক সপ্তাহ বাকি। সোমবার ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাজি জানান, বর্তমানে রাজ্যে মাত্র ১৫ জন মাওবাদী সক্রিয় (Chhattisgarh) রয়েছেন এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই এই সমস্যার সমাধান করা হবে। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তারা প্রসাদ বাহিনিপতির এক প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কান্ধামাল-কালাহান্ডি-রায়গড়া জেলার সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় প্রায় ১৫ জন নকশাল সক্রিয় রয়েছে।” কেন্দ্রের সিকিউরিটি-রিলেটেড এক্সপেন্ডিচার প্রকল্প অনুযায়ী, বর্তমানে শুধু কান্ধামাল জেলাকেই মাওবাদী-প্রভাবিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বৌধ, বালাঙ্গির, কালাহান্ডি, বারগড়, মালকানগিরি, নবরঙ্গপুর, নুয়াপাড়া এবং রায়গড়—এই আটটি জেলাকে ‘লেগেসি’ ও ‘থ্রাস্ট’ জেলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি জানান, কান্ধামাল-কালাহান্ডি-রায়গড় সীমান্ত অঞ্চলে একটি ছোট নকশাল গোষ্ঠী সক্রিয় থাকলেও, রাজ্যের অন্যান্য সব জেলা এখন সম্পূর্ণভাবে মাওবাদীমুক্ত। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকারের আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন নীতি অনুযায়ী, যাঁরা অস্ত্র সমর্পণ করছেন, সেই মাওবাদীদের আর্থিক সহায়তা, বাসস্থান, সর্বোচ্চ ৩৬ মাস পর্যন্ত মাসিক ভাতা, কর্মসংস্থানের সুযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং স্বাস্থ্য/রেশন কার্ড দেওয়া হচ্ছে (Maoist Papa Rao)।

    আত্মসমর্পণের বহর

    ২০২৪ সাল থেকে ১৫ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৯৬ জন মাওবাদী ওড়িশা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। রাজ্য পুলিশ সতর্ক করেছে যে, ৩১ মার্চের মধ্যে যাঁরা আত্মসমর্পণ করবেন না, তাঁরা সরকারের পুনর্বাসন নীতির সুবিধাও পাবেন না। পুলিশ সূত্রে খবর, বিশেষ জোনাল কমিটির সদস্য সুক্রু এবং রাজ্যের আরও দুই মাওবাদী এখনও আত্মসমর্পণ করেনি। প্রতিবেশী ছত্তিশগড় থেকে আসা আরও ১২ জন মাওবাদী ওড়িশায় সক্রিয় ছিলেন। তাঁরা বর্তমানে আত্মগোপন করে রয়েছেন। অ্যান্টি-নকশাল অপারেশনের এডিজি সঞ্জীব পান্ডা বলেন, “কিছু নকশাল এখনও আত্মসমর্পণ না করায় অভিযান জোরদার করা হয়েছে। আমরা (Chhattisgarh) ৩১ মার্চের মধ্যেই কেন্দ্রের নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব (Maoist Papa Rao)।”

     

  • Strait of Hormuz: হরমুজ প্রণালীর পূর্বে ভারতীয় নৌসেনার আধ ডজনেরও বেশি রণতরী, কেন গালফ অঞ্চলে মোতায়েন যুদ্ধজাহাজ?

    Strait of Hormuz: হরমুজ প্রণালীর পূর্বে ভারতীয় নৌসেনার আধ ডজনেরও বেশি রণতরী, কেন গালফ অঞ্চলে মোতায়েন যুদ্ধজাহাজ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গালফ অঞ্চলের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ভারতীয় পতাকাবাহী তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় পদক্ষেপ করেছেছে ভারতীয় নৌবাহিনী (Indian Navy)। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় ট্যাঙ্কার ও কার্গোগুলিকে এসকর্ট করার জন্য আধ ডজনেরও বেশি যুদ্ধজাহাজ ওই অঞ্চলের কাছাকাছি মোতায়েন করা হয়েছে। সূত্রের খবর, পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই নৌবাহিনীর টাস্ক ফোর্সের শক্তি বাড়ানো বা কমানো হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ার ইজরায়েল আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের ফলে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz)। তাই এই পদক্ষেপ।

    আসছে আরও দুই জাহাজ

    ভারতীয় নৌবাহিনী দুটি ভারতীয় পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাঙ্কার—‘শিবালিক’ এবং ‘নন্দা দেবী’—কে নিরাপদে এসকর্ট করে। সোমবার আরও দুটি ট্যাঙ্কার—‘পাইন গ্যাস’ এবং ‘জগ বসন্ত’—কে এসকর্ট করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। শিপ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, এই জাহাজ দুটি সোমবার দুপুর পর্যন্ত ইরানের লারাক ও কেশম দ্বীপের মধ্যবর্তী জলসীমার কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট প্রয়োজন অনুযায়ী কাছাকাছি অবস্থানরত যুদ্ধজাহাজগুলিকেই সংশ্লিষ্ট ট্যাঙ্কারকে এসকর্ট করার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, কুয়েত থেকে কোনও জাহাজ রওনা দিলে প্রায় দেড় দিন সময় লাগে হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি পৌঁছাতে, তারপর থেকেই নৌবাহিনীর এসকর্ট শুরু হয়।

    ভারতের জাহাজকে যেতে দেওয়ার অনুমতি

    ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজগুলি নৌবাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং তাদের গতিবিধি সর্বক্ষণ নজরে রাখা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, ‘জগ বসন্ত’ ও ‘পাইন গ্যাস’ হরমুজ প্রণালী পার হয়ে গেলে পারস্য উপসাগরে এখনও প্রায় ২০টি ভারতীয় জাহাজ অবস্থান করবে। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে সামরিক উত্তেজনার কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী। এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই ভারতের কয়েকটি জাহাজ দেশে আসতে সক্ষম হয়েছে। বাকি প্রায় সব দেশের জাহাজকে হরমুজ পার না করার হুমকি দিলেও ভারতের জাহাজকে যেতে দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরান। এই আবহে ভারত ওমান উপসাগরে আরও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে।

    ইরানের সঙ্গে সরাসরি কূটনীতি

    ইরানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা কাজ হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে কথা হয়েছে। আলোচ্য বিষয় ছিল জলপথের সুরক্ষা এবং হরমুজ প্রণালীতে জ্বালানি জাহাজের সুরক্ষা। এরপরেই ভারতের পতাকাবাহী জাহাজকে সুরক্ষিত ভাবে হরমুজ পার করতে দিয়েছে ইরান। এমনকী ইরানের নৌবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ (Strait of Hormuz) অতিক্রম করেছে ভারতের একটি এলপিজি ট্যাঙ্কার (Indian LPG Tanker)। দীর্ঘ ১০ দিন পারস্য উপসাগরে আটকে থাকার পর ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের হস্তক্ষেপে সম্প্রতি এই নিরাপদ যাতায়াত সম্ভব হয়েছে।

    বিশ্বশক্তির সঙ্গে বহুপাক্ষিক যোগাযোগ

    ভারত শুধু দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির উপর নির্ভর না করে অন্যান্য দেশের সঙ্গেও কথা বলেছে। রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ, ফরাসি বিদেশমন্ত্রী জঁ নোয়েল ব্যারো এবং অন্যান্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের আধিকারিকরা। লক্ষ্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচলের রুটগুলিকে সক্রিয় রাখা এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি প্রবাহ যাতে ব্যর্থ না হয় সেই দিকে নজর রাখা।

    অপারেশন সংকল্পের অধীনে নৌবাহিনী মোতায়েন

    ভারতীয় নৌবাহিনী অপারেশন সংকল্প-এর অধীনে আরব সাগর এবং ওমান উপসাগরে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে। এই মিশনের লক্ষ্য ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কাছাকাছি জলসীমায় যে কোনও হুমকির প্রতিরোধ করা। বাণিজ্যিক জাহাজকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য এই মুহূর্তে হরমুজের আশে পাশে ৬টি ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। নিয়মিত টহল ছাড়াও ভারত গাইডেড-ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী জাহাজ এবং ফ্রিগেট মোতায়েন করেছে। এই যুদ্ধজাহাজগুলি আরব সাগর এবং ওমান উপসাগরে প্রস্তুত রয়েছে। উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলির মধ্য দিয়ে চলাচলের সময় ভারতীয় জাহাজগুলি হুমকির সম্মুখীন হলে হস্তক্ষেপ করতে প্রস্তুত।

    ভারতীয় জাহাজ এবং নাবিকদের উপর নজরদারি

    আরও একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হল এই অঞ্চলে ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা। সরকারি তথ্য অনুসারে, পারস্য উপসাগর এবং আশেপাশের জলসীমায় বর্তমানে কয়েক ডজন ভারতীয় জাহাজ এবং শত শত ভারতীয় নাবিক আটকে রয়েছেন। কর্তৃপক্ষ এবং ভারতীয় দূতাবাসগুলি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

    সঙ্কট ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা প্রোটোকল

    ভারতীয় জাহাজ কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি মোকাবfলায় জরুরি সমন্বয় ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। জাহাজের গতিবিধি ট্র্যাক করার জন্য এবং ভারতীয় ক্রু বা পণ্যবাহী জাহাজের সঙ্গে জড়িত জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য উন্নত সুরক্ষা প্রোটোকল, নিয়মিত রিপোর্ট ব্যবস্থা এবং একটি বিশেষ দল স্থাপন করেছে।

    ভারত সরকারের সক্রিয় পদক্ষেপ

    ভারত সরকারের সক্রিয় প্রচেষ্টায় দেশের নৌবাহিনীর ‘মিশন-বেসড ডিপ্লয়মেন্ট’ বর্তমানে বিশ্বের ছ’টি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে বিস্তৃত। ২০১৭ সাল থেকে এই উপস্থিতি বজায় রয়েছে। ওমান ও এডেন উপসাগরের পাশাপাশি সেশেলস, মালদ্বীপ, আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং বঙ্গোপসাগরের মায়ানমার-বাংলাদেশ উপকূল সংলগ্ন এলাকাতেও নজরদারি চলছে। এই মোতায়েনের মাধ্যমে একদিকে যেমন এসকর্ট অপারেশন চালানো হচ্ছে, তেমনই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলির সঙ্গে যৌথ মহড়া এবং জলদস্যুতা বা সামুদ্রিক জরুরি পরিস্থিতিতেও দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ভারতীয় নৌবাহিনী পশ্চিম এশিয়া সংলগ্ন সমুদ্রাঞ্চলে নজরদারি ও উপস্থিতি বাড়িয়েছে। আরব সাগর এবং ওমান উপসাগরে অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। সূত্রের খবর, সহায়ক জাহাজ-সহ মোট সাতটি জাহাজ এখন মোতায়েন রয়েছে। এর আগে উত্তর আরব সাগর থেকে ভারতীয় বন্দরে জাহাজ নিরাপদে পৌঁছে দিতে দু’টি টাস্ক ফোর্স পাঠানো হয়েছিল। এই পদক্ষেপ আসলে ২০১৯ সাল থেকে চালু থাকা ‘অপারেশন সংকল্প’-এরই সম্প্রসারণ। এই অভিযানের অধীনে ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ নিয়মিতভাবে ওমান উপসাগর ও এডেন উপসাগরে মোতায়েন থাকে। লক্ষ্য একটাই, এলপিজি ও জ্বালানি বহনকারী জাহাজগুলির নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা, এবং পারস্য উপসাগরের আশপাশে পরিস্থিতি খারাপ হলে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা।

     

  • PM Modi: “পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কটে নড়ে গিয়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতি”, দেশবাসীকে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী

    PM Modi: “পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কটে নড়ে গিয়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতি”, দেশবাসীকে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “পশ্চিম এশিয়ার সঙ্কট নাড়িয়ে দিয়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে।” ঠিক এই ভাষায়ই দেশবাসীকে সতর্ক করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তিনি এও বলেন, “দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত (West Asia Crisis) বিশ্বজুড়ে গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে।” মঙ্গলবার রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ ইতিমধ্যেই বড় ধরনের জ্বালানি সঙ্কট সৃষ্টি করেছে, ব্যাহত করেছে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথগুলিতে চলাচল। তিনি বলেন, “এই যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানির একটি গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করেছে। ভারতের জন্যও এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। আমাদের বাণিজ্য পথগুলি প্রভাবিত হয়েছে। এর ফলে পেট্রোল, ডিজেল, গ্যাস এবং সার সরবরাহের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে।”

    প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস (PM Modi)

    প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস, সরকার দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। ভারতের ওপর এর প্রভাব কমাতে ধারাবাহিক পদক্ষেপও করছে। তিনি বলেন, “আমাদের অর্থনীতির মৌলিক ভিত্তি শক্তিশালী। সরকার প্রতিটি পরিবর্তিত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।” তিনি বলেন, “এই সঙ্কট ভিন্ন ধরনের এবং এর সমাধানও ভিন্নভাবে খোঁজা হচ্ছে। আমাদের প্রতিটি চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে ধৈর্য, সংযম এবং শান্তভাবে।” এর পরেই দেশবাসীকে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে থাকতে পারে। তবে সরকার এ ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজও করছে।” প্রধানমন্ত্রী রাজ্যগুলিকে কালোবাজারি ও প্রয়োজনীয় পণ্যের মজুতদারির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। দরিদ্র এবং অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য আগাম উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেন।

    কোভিড পরিস্থিতির পদক্ষেপের কথা স্মরণ করালেন প্রধানমন্ত্রী

    কোভিড পরিস্থিতির পদক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বর্তমান সঙ্কটেও একই ধরনের ‘টিম ইন্ডিয়া পদ্ধতি’ অবলম্বন করার আহ্বান জানান (West Asia Crisis)। তিনি বলেন, “প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত (PM Modi)।” প্রধানমন্ত্রী হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতিকে বড় উদ্বেগ হিসেবে তুলে ধরেন। এই প্রণালীতে আটকে রয়েছে বহু আন্তর্জাতিক জাহাজ, সেগুলিতে রয়েছেন ভারতীয় নাবিকরাও। তিনি বলেন, “বিশ্বের অনেক জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে আটকে রয়েছে এবং সেগুলিতে বিপুল সংখ্যক ভারতীয় ক্রু সদস্য রয়েছেন।” তিনি জানান, ভারত কূটনৈতিকভাবে কাজ করছে যাতে জাহাজগুলি নিরাপদে চলাচল করতে পারে এবং অঞ্চলে উত্তেজনা কমানো যায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হল উত্তেজনা কমানো এবং হরমুজ প্রণালী চালু করা (West Asia Crisis)।” উপসাগরীয় দেশগুলিতে প্রায় এক কোটি ভারতীয় বসবাস ও কাজ করেন। সে প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সঙ্কটের সময় দেশে ও বিদেশে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।”

    আত্মনির্ভর হওয়ার ডাক

    তিনি জানান, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৩,৭৫,০০০-এর বেশি ভারতীয় নিরাপদে দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ইরান থেকে ১,০০০-এরও বেশি জন। তাঁদের মধ্যে ৭০০ জন মেডিক্যাল পড়ুয়া। প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারত ইরান, ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য কাজ করছে (PM Modi)। তিনি বলেন, “এই যুদ্ধে মানবজীবনের কোনও হুমকি মানবতার স্বার্থে নয়। ভারত সব পক্ষকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে এগিয়ে নিতে ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।” তিনি জানান, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে তিনি বিভিন্ন বিশ্বনেতার সঙ্গে এই সঙ্কট নিয়ে আলোচনা করেছেন। সরকার জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উৎস থেকে তেল ও গ্যাস সংগ্রহের চেষ্টা করছে (West Asia Crisis)। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা সম্ভাব্য সব উৎস থেকে গ্যাস ও অপরিশোধিত তেল জোগাড়ের চেষ্টা করছি। এই প্রচেষ্টা আগামী দিনগুলিতেও চলবে।” তিনি জানান, গত ১১ বছরে ভারত ৫৩ লাখ মেট্রিক টন কৌশলগত তেল মজুত করেছে।  আরও ৬৫ লাখ মেট্রিক টন সংরক্ষণ ক্ষমতার ভাণ্ডার তৈরি করার কাজ চলছে। আগে ২৭টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করা হত। এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৪১ করা হয়েছে। তিনি ৭০,০০০ কোটি টাকার জাহাজ নির্মাণ প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন এবং আত্মনির্ভরতার ওপর জোর দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আত্মনির্ভর হওয়া ছাড়া ভারতের সামনে আর কোনও বিকল্প নেই (PM Modi)।”

LinkedIn
Share