Blog

  • UNICORN Stealth Naval Mast: রেডারে সহজে ধরা পড়বে না যুদ্ধজাহাজ, ভারত-জাপানের প্রথম যৌথ প্রতিরক্ষা প্রকল্প ‘ইউনিকর্ন’! কী এটা?

    UNICORN Stealth Naval Mast: রেডারে সহজে ধরা পড়বে না যুদ্ধজাহাজ, ভারত-জাপানের প্রথম যৌথ প্রতিরক্ষা প্রকল্প ‘ইউনিকর্ন’! কী এটা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও জাপানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। প্রথমবারের মতো যৌথভাবে একটি অত্যাধুনিক নৌ-প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরির প্রকল্পে হাত মিলিয়েছে দুই দেশ। এই প্রকল্পের নাম ইউনিফায়েড কমপ্লেক্স রেডিও অ্যান্টেনা, সংক্ষেপে ‘ইউনিকর্ন’ (UNICORN)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একে ভারত-জাপান প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সহযোগিতার ‘‘নতুন অধ্যায়’’ বলে উল্লেখ করেছেন। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠকের পর এই ঘোষণা করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজকে আরও স্টেলথ বা রেডারে কম দৃশ্যমান করে তুলবে, ফলে শত্রুপক্ষের পক্ষে জাহাজ শনাক্ত ও লক্ষ্যবস্তু করা অনেক বেশি কঠিন হবে।

    কী এই ইউনিকর্ন (UNICORN) প্রযুক্তি?

    বর্তমানের অধিকাংশ যুদ্ধজাহাজে রেডার, যোগাযোগ ব্যবস্থা, নেভিগেশন ও অন্যান্য সেন্সরের জন্য ডেকের উপরে অসংখ্য অ্যান্টেনা বসানো থাকে। এই অ্যান্টেনাগুলিই রেডারে যুদ্ধজাহাজকে সহজে শনাক্ত করার অন্যতম কারণ। ইউনিকর্ন প্রযুক্তিতে সেই একাধিক অ্যান্টেনাকে একটি সমন্বিত রেডোম (Radome)-এর ভিতরে রাখা হয়। ফলে জাহাজের রেডার ক্রস সেকশন (RCS) উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। সহজ কথায়, যুদ্ধজাহাজের ‘রেডার সিগনেচার’ অনেকটাই কমে যাওয়ায় শত্রুপক্ষের রেডারে সেটি ধরা পড়া কঠিন হয়ে ওঠে। এটি শুধু স্টেলথ ক্ষমতাই বাড়ায় না, একই সঙ্গে বিভিন্ন যোগাযোগ ও সেন্সর ব্যবস্থার মধ্যে ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক হস্তক্ষেপও কমায়।

    ইউনিকর্ন মাস্টে কী কী থাকবে?

    ইউনিকর্ন সিস্টেমে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিকে একটি কমপ্যাক্ট মাস্টের মধ্যে একত্রিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

    • ● লিঙ্ক-১৬ ডেটা লিঙ্ক: নিরাপদ ও রিয়েল-টাইম তথ্য আদানপ্রদানের ব্যবস্থা।
    • ● ট্যাকান (ট্যাকটিক্যাল এয়ার নেভিগেশন): জাহাজভিত্তিক হেলিকপ্টারের নেভিগেশন ও অবতরণে সহায়তা করে।
    • ● আইএফএফ (আইডেন্টিফিকেশন ফ্রেন্ড অর ফো): বন্ধু ও শত্রুপক্ষের বিমান বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম শনাক্ত করার ব্যবস্থা।
    • ● ইলেকট্রনিক সাপোর্ট মেজার্স (ইএসএম): শত্রুপক্ষের রেডার ও যোগাযোগ সংকেত শনাক্ত, পর্যবেক্ষণ এবং বিশ্লেষণের প্রযুক্তি।
    • ● ইউএইচএফ/ভিএইচএফ যোগাযোগ ব্যবস্থা: স্বল্প দূরত্বে ভয়েস ও ডেটা যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত হয়।
    • ● অফশোর ওয়্যারলেস রাউটার: বাইস্ট্যাটিক ও মাল্টিস্ট্যাটিক সোনার অভিযানের সময় তথ্য আদানপ্রদানে সহায়তা করে।

    ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউনিকর্ন প্রকল্পের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল স্টেলথ সক্ষমতা বৃদ্ধি। বর্তমানে সমুদ্রপথে নজরদারি ও যুদ্ধজাহাজ শনাক্তকরণে রেডার প্রযুক্তির উপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভর করা হয়। যুদ্ধজাহাজের রেডার সিগনেচার কমিয়ে আনলে প্রতিপক্ষের পক্ষে জাহাজের অবস্থান নির্ণয়, শ্রেণিবিন্যাস এবং লক্ষ্যবস্তু করা অনেক বেশি কঠিন হয়ে যায়। জাপানের মোগামি-শ্রেণির স্টেলথ ফ্রিগেট ইতিমধ্যেই এই ইউনিকর্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের দাবি, এই প্রযুক্তির ফলে ওই শ্রেণির যুদ্ধজাহাজের রেডার প্রতিফলন প্রচলিত যুদ্ধজাহাজের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

    ভারত-জাপানের যৌথ উৎপাদন

    এখানে বলে দেওয়া প্রয়োজন, বেশ কিছুদিন আগেই মোগামি শ্রেণি জাহাজে ব্যবহৃত নকশা ও প্রযুক্তি ভারতকে দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল জাপান। এবার সেই নিয়ে দুদেশের চুক্তি হল। এই প্রকল্পে উন্নত প্রযুক্তিগত নকশা ও ডিজাইন দেবে জাপান, আর ভারতে উৎপাদন ও সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনের দায়িত্বে থাকবে ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL)। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় এই অত্যাধুনিক স্টেলথ মাস্ট ভারতেই যৌথভাবে তৈরি করা হবে। এর ফলে শুধু প্রযুক্তি স্থানান্তরই নয়, ভবিষ্যতে ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। ইউনিকর্ন প্রযুক্তি মূলত জাপানের এনইসি কর্পোরেশন, সাম্পা কোগিও কেকে এবং দ্য ইয়োকোহামা রাবার কোম্পানি লিমিটেড যৌথভাবে তৈরি করেছে।

    আগে থেকেই শুরু হয়েছিল প্রস্তুতি

    এই প্রকল্পের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল ২০২২ সালের ‘ভারত-জাপান ২+২’ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে। পরে ২০২৪ সালের নভেম্বরে টোকিওতে দুই দেশের মধ্যে একটি মেমোরান্ডাম অফ ইমপ্লিমেন্টেশন (MoI) সই হয়। সেই চুক্তির ফলেই এবার আনুষ্ঠানিকভাবে যৌথ উন্নয়ন ও উৎপাদনের ঘোষণা করা হল।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি?

    যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘‘প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত ও জাপানের প্রথম যৌথ কো-ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প হিসেবে নৌবাহিনীর রেডিও অ্যান্টেনা ‘ইউনিকর্ন’-এর চুক্তি হয়েছে। এই প্রকল্প আমাদের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। আমরা যৌথভাবে এমন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরি করব, যা আঞ্চলিক শান্তি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।’’

    ভারতীয় নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণে বড় পদক্ষেপ

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউনিকর্ন প্রকল্প শুধু একটি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং ভারত-জাপান কৌশলগত সম্পর্কেরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত উন্নত স্টেলথ প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আত্মনির্ভরতা, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং নিরাপদ প্রতিরক্ষা সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বড় সুবিধা পাবে। একই সঙ্গে ভারতীয় নৌবাহিনীর ভবিষ্যতের যুদ্ধজাহাজ আরও কম দৃশ্যমান, বেশি নিরাপদ এবং প্রযুক্তিগতভাবে আরও আধুনিক হয়ে উঠবে। বিশেষ করে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা।

  • PM Modi on Amarnath Yatra: অমরনাথ যাত্রার পুণ্যার্থীদের পাঁচ সংকল্প নেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী মোদির, কী কী?

    PM Modi on Amarnath Yatra: অমরনাথ যাত্রার পুণ্যার্থীদের পাঁচ সংকল্প নেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী মোদির, কী কী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অমরনাথ যাত্রার প্রথম দিনেই তীর্থযাত্রীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে চিঠি লিখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi on Amarnath Yatra)। এই যাত্রাকে তিনি এক ‘মহা সৌভাগ্যের বিষয়’ বলে বর্ণনা করেছেন। একইসঙ্গে ভক্তি, শৃঙ্খলা এবং জাতীয়তাবোধ নিয়ে এই পবিত্র যাত্রা সম্পন্ন করার জন্য পুণ্যার্থীদের কাছে আর্জি জানিয়েছেন। অমরনাথ যাত্রায় অংশগ্রহণকারী ভক্তদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সংকল্প গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি (Narendra Modi)। একইসঙ্গে যাত্রাপথে নিরাপত্তা ও পরিষেবা নিশ্চিত করতে নিয়োজিত ভারতীয় সেনা, বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনী, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং প্রশাসনের ভূমিকারও প্রশংসা করেছেন।

    অমরনাথ যাত্রীদের উদ্দেশ্যে মোদির চিঠি

    শিবভক্তদের উদ্দেশে লেখা চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “জম্মু ও কাশ্মীরে পবিত্র অমরনাথ যাত্রায় অংশ নেওয়াটা একটা বিরাট সৌভাগ্যের ব্যাপার। প্রতি বছর বাবা বরফানির সরাসরি দর্শন পাওয়ার এই সুযোগ লক্ষ লক্ষ শিবভক্তের জন্য এক অত্যন্ত শুভ ও অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা। এই বছরের যাত্রার শুরুতে আমি আপনাদের, সকল শিবভক্তদের, আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।” উল্লেখ্য, শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ৫৭ দিনব্যাপী বার্ষিক অমরনাথ যাত্রা। প্রথম দিন প্রায় ১০ হাজার তীর্থযাত্রী পবিত্র অমরনাথ গুহার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন।

    ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের এক চিরন্তন অধ্যায়

    এই তীর্থযাত্রাকে ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের এক চিরন্তন অধ্যায় বলে উল্লেখ করে মোদি বলেন, “বাবা অমরনাথের আশীর্বাদ পাওয়ার এই যাত্রা ভারতের আধ্যাত্মিক যাত্রার ঐতিহ্যে এক চিরন্তন অধ্যায়। প্রতি বছর সনাতন সংস্কৃতি মেনে চলা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্ত এই যাত্রায় অংশ নিতে জম্মু ও কাশ্মীরে পৌঁছন। ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা, ভিন্ন ভাষায় কথা বলা এবং বিভিন্ন রীতিনীতি পালন করা মানুষ মহাদেবের আশীর্বাদ পাওয়ার একই সংকল্প নিয়ে এই যাত্রা সম্পন্ন করেন।” যাত্রা যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় সেনা, সিআরপিএফ, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ, আইটিবিপি, বিএসএফ, এনডিআরএফ-এর জওয়ানদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। একইসঙ্গে স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসনিক আধিকারিক, সাফাইকর্মী এবং স্বেচ্ছাসেবকদেরও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, “এই দু’মাস ধরে বাবা বরফানির পবিত্র ধামে ভারতের ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’-এর এক অসাধারণ ছবি দেখা যায়।”

    ভক্তদের পাঁচটি সংকল্প গ্রহণের আহ্বান

    অমরনাথ যাত্রাকে আরও সুশৃঙ্খল ও অর্থবহ করে তুলতে প্রধানমন্ত্রী ভক্তদের পাঁচটি সংকল্প গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রথমত, যাত্রাপথে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং গোটা তীর্থপথ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। দ্বিতীয়ত, প্রশাসনের সমস্ত নির্দেশ, ট্রাফিক বিধি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ দেন। বর্ষাকালে পিচ্ছিল রাস্তা ও তীব্র ঠান্ডার কারণে বিশেষ সতর্ক থাকার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তৃতীয়ত, ‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর ভাবনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে যাত্রার মোট ব্যয়ের অন্তত ১০ শতাংশ জম্মু ও কাশ্মীরের স্থানীয়ভাবে তৈরি পণ্য কেনার জন্য ব্যয় করার আহ্বান জানান তিনি। এতে স্থানীয় পরিবার ও যুবকদের জীবিকা আরও শক্তিশালী হবে বলে তাঁর মত। চতুর্থত, অমরনাথ যাত্রার সমাপনী দিন, যা এ বছর রাখিবন্ধন উৎসবের সঙ্গে মিলেছে, সেই উপলক্ষে ভাই বা বোনকে একটি গাছের চারা উপহার দেওয়ার এবং ‘এক পেড় মা কে নাম’ অভিযানে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। পঞ্চমত, ‘নেশন ফার্স্ট’-এর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সারা বছর সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন এবং উন্নত ভারত বা ‘বিকশিত ভারত’ গঠনের লক্ষ্যে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    অমরনাথ যাত্রায় কড়া নিরাপত্তা

    অমরনাথ যাত্রার জন্য জম্মু ও কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণরেখা ও আন্তর্জাতিক সীমান্তে নজরদারি বাড়াচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী। সরকারি সূত্রে খবর, উত্তর কাশ্মীরে গুরেজ, কেরান, উরি সহ বিভিন্ন অঞ্চলে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে, জম্মুতে কাঠুয়া, পুঞ্চ-রাজৌরি বেল্ট সহ একাধিক সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি চালানো হচ্ছে। বাহিনীর এক অফিসার বলেন, ‘তীর্থযাত্রার রুটের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মজুত রয়েছে।’ জম্মুর সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলিতে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনী। বাসিন্দাদের প্রতি মুহূর্তে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। গাড়িতে নাকা তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সন্দেহ হলেই পরিচয়পত্র সহ যাবতীয় নথি খতিয়ে দেখছে বাহিনী। জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় হাইওয়েতেও নিয়মিত তল্লাশি অভিযান চলছে।

    নিরাপত্তায় বহু-স্তরীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা

    বার্ষিক অমরনাথ যাত্রার নিরাপত্তায় বহু-স্তরীয় সুরক্ষা ব্যবস্থাও রয়েছে। রয়েছে নো-ফ্লাই জোন (বিমান চলাচলে নিষিদ্ধ এলাকা), পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, ইলেকট্রনিক নজরদারি এবং যানবাহনের চলাচলের ওপর রিয়েল-টাইম পর্যবেক্ষণ। জম্মু ও কাশ্মীরে প্রতি বছর যেসব ব্যাপক কার্যক্রম বা আয়োজন করা হয়ে থাকে, তার মধ্যে অমরনাথ যাত্রা সংক্রান্ত নিরাপত্তা পরিকল্পনা অন্যতম। অমরনাথ যাত্রার সময় উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ ‘পহেচান’ (Pehchaan) নামে একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন চালু করেছে। এর মাধ্যমে তীর্থযাত্রী ও নিরাপত্তা কর্মীরা স্থানীয় পরিষেবা প্রদানকারীদের পরিচয় ও নথিপত্র সঙ্গে সঙ্গে যাচাই করতে পারবেন। এই অমরনাথ যাত্রার সঙ্গে যুক্ত ছোট ঘোড়ার মালিক, কুলি, পরিবহন অপারেটর, গাইড এবং বিক্রেতাদের রেজিস্টার ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে এই অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে। এটি অনুমোদিত কর্মীদের একটি ডিজিটাল ডেটাবেস তৈরি করেছে। যার ফলে পুলিশ তীর্থযাত্রার পথে কর্মরত ব্যক্তিদের ওপর নজর রাখতে পারবে। একইভাবে যাচাই-বাছাইহীন যেসব মানুষ থাকবেন তাঁদের শনাক্ত করতে এবং প্রতারণা রোধ করতে সক্ষম হবে। অমরনাথ যাত্রার সময় যাতে জঙ্গিরা ছোট ঘোড়ার মালিক, পালকি বাহক বা অন্যান্য পরিষেবা প্রদানকারীর ছদ্মবেশ ধারণ করতে না পারে, সেই লক্ষ্যে এই তীর্থযাত্রার সঙ্গে যুক্ত সকল অনুমোদিত কর্মীর জন্য কিউআর কোড-ভিত্তিক ও টেম্পার-প্রুফ (যা সহজে বিকৃত বা পরিবর্তন করা যায় না) পরিচয়পত্র চালু করল জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ।

  • West Bengal Illegal Infiltration: ৭ জুলাই দিল্লিতে বড় বৈঠক, অনুপ্রবেশ রুখতে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা

    West Bengal Illegal Infiltration: ৭ জুলাই দিল্লিতে বড় বৈঠক, অনুপ্রবেশ রুখতে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় জনবিন্যাসের পরিবর্তন নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে চলেছে। আগামী ৭ জুলাই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা। বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও বৈঠকে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ রোধ এবং জনবিন্যাস সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা মেনেই রাজ্য সরকার সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ রুখতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে চলেছে। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে এই প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হবে।

    ৪৫ দিনে ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে ফেরত পাঠানোর দাবি

    মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, গত ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্ত সুরক্ষাবাহিনী (বিএসএফ)-এর প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় ১২টি বিশেষ ‘হোল্ডিং স্টেশন’ চালু করা হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এই হোল্ডিং স্টেশনগুলির মাধ্যমে ইতিমধ্যেই প্রায় ১০ হাজার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে সীমান্ত পার করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আরও প্রায় এক থেকে দেড় হাজার মানুষ ওই কেন্দ্রগুলিতে রয়েছেন বলেও তিনি জানান। সরকারের দাবি, সীমান্তবর্তী থানাগুলি এখন বিএসএফ-এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে। সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি জেলে পাঠানোর পরিবর্তে প্রথমে হোল্ডিং স্টেশনে রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও আন্তর্জাতিক প্রোটোকল অনুসরণ করে পরে তাঁদের নিজ দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সরকার জানিয়েছে।

    ১ অগাস্ট থেকে ডিজিটাল জাতিগত জনগণনার পরিকল্পনা

    মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আগামী ১ অগাস্ট থেকে পশ্চিমবঙ্গে ডিজিটাল পদ্ধতিতে জাতিগত জনগণনা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রথমবারের মতো ‘সেলফ ডিক্লারেশন’ বা স্ব-ঘোষণার সুযোগ রাখা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই জনগণনার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই সমীক্ষার মাধ্যমে রাজ্যের জনবিন্যাসের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে এবং ভবিষ্যতে অনুপ্রবেশ রোধে আরও কার্যকর নীতি গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

    পশ্চিমবঙ্গে আসছে কেন্দ্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল

    এদিকে সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে জনবিন্যাসের পরিবর্তন ও তার প্রভাব খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রের গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি শীঘ্রই বিভিন্ন রাজ্য সফর শুরু করবে। প্রথম পর্যায়েই পশ্চিমবঙ্গ তাদের সফরসূচিতে রয়েছে বলে সূত্রের খবর। বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাসভবনে কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক হয়। জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য কমিটি ইতিমধ্যেই একটি বিস্তারিত প্রশ্নমালা তৈরি করেছে। বিভিন্ন সীমান্ত রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশ, জনবিন্যাসের পরিবর্তন এবং তার সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়নই হবে এই কমিটির মূল লক্ষ্য।

  • Election Commission of India: দল কার, প্রতীক কার? মমতা-ঋতব্রত, তৃণমূলের দুই পক্ষকেই নোটিস ধরাল নির্বাচন কমিশন

    Election Commission of India: দল কার, প্রতীক কার? মমতা-ঋতব্রত, তৃণমূলের দুই পক্ষকেই নোটিস ধরাল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে? তৃণমূলের অধিকার নিয়ে মমতা এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, দুই পক্ষকেই নোটিস দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। কেন প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেসের মান্যতা দেওয়া হবে সেই প্রসঙ্গে নিজেদের সমর্থনে তথ্য দিয়ে নোটিসের জবাব দিতে হবে। ৬ জুলাই, আগামী সোমবার, বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে দুই পক্ষকেই নোটিসের জবাব জমা দিতে হবে এমনই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করে স্বীকৃতি আদায় করতে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই কমিশনের তরফে দুই শিবিরকেই চিঠি দেওয়া হয়।

    দুই পক্ষের দাবি

    ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরই ঘাসফুল শিবিরে ভাঙন ধরে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ও তাঁর সাংসদ ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির থেকে বেরিয়ে এসে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একটি গোষ্ঠী তৈরি হয়। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর দাবি, দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৫-রও বেশি জনের সমর্থন রয়েছে তাঁদের কাছে। ইতিমধ্যে ঋতব্রত পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচিতও হয়েছেন। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীদের যুক্তি, বিধানসভার সংখ্যার চেয়ে সাংগঠনিক শক্তিই দলের কর্তৃত্ব নির্ধারণ করে। দলের সংবিধান বা নিজস্ব আইন রয়েছে। সেই মোতাবেক সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ এখনও দৃঢ়ভাবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই রয়েছে। তাঁরা সেই সংক্রান্ত নথিও জমা করেছেন কমিশনে।

    কমিশনের বিজ্ঞপ্তি-তে কী বলা হল

    সাম্প্রতিক, কালে তৃণমূলের ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি নিয়েও জট ক্রমেই বেড়েছে। প্রশ্ন উঠেছে বৈধতা নিয়ে। এই আবহে ঋতব্রত শিবিরের বক্তব্য, ২০২৫ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে পুরনো ওয়ার্কিং কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। তারপর আর কোনও অভ্যন্তরীণ নির্বাচন হয়নি। অপরদিকে মমতা শিবিরের বক্তব্য, ২০২৬ এর ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁরা কমিটির তালিকা পাঠিয়ে দিয়েছেন। ফলে বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকার কথা নয়। এখন এর মূলেই যেতে চাইছে কমিশন। নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কারা ‘আসল’ তৃণমূল এবং কাদের হাতে দলের প্রতীক, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী ও অন্য সাংগঠনিক বিষয় পরিচালনার অধিকার থাকবে- তা নিয়ে উভয় পক্ষের দাবির প্রেক্ষিতে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আগামী সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে দুই পক্ষকেই উত্তর দিতে হবে।

  • VB G RAM G: ভারতের গ্রামীণ শ্রমিকদের জন্য বড় ঘোষণা, ১০ শতাংশের বেশি বাড়ল মজুরি, কত হল জানেন?

    VB G RAM G: ভারতের গ্রামীণ শ্রমিকদের জন্য বড় ঘোষণা, ১০ শতাংশের বেশি বাড়ল মজুরি, কত হল জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের গ্রামীণ শ্রমিকদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে ‘বিকশিত ভারত–রোজগার ও আজীবিকা গ্যারান্টি মিশন (গ্রামীণ) আইন, ২০২৫’। নয়া আইনের আওতায় সারা (VB G RAM G) দেশে গ্রামীণ শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে (Minimum Wage)। পাশাপাশি যোগ্য গ্রামীণ পরিবারগুলিকে বছরে ১২৫ দিনের নিশ্চিত মজুরিভিত্তিক কর্মসংস্থানের আইনি অধিকার দেওয়া হয়েছে।

    বাড়ল গড় দৈনিক মজুরি (VB G RAM G)

    নয়া ব্যবস্থায় জাতীয় স্তরে ঘোষিত গড় দৈনিক মজুরি ২৯৮.৮ টাকা থেকে বেড়ে ৩২৭.৪ টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ গড়ে ১০ শতাংশেরও বেশি মজুরি বেড়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, দেশের কোনও এলাকায়ই ঘোষিত ন্যূনতম দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকার নীচে থাকবে না। সমস্ত রাজ্য, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং নির্ধারিত মজুরি অঞ্চলের জন্য সংশোধিত মজুরির হার ইতিমধ্যেই ঘোষণা করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, অসম, অরুণাচল প্রদেশ এবং হিমাচল প্রদেশে দৈনিক মজুরি ১৫ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানানো হয়েছে। নতুন আইনে গ্রামীণ পরিবারগুলির জন্য নিশ্চিত কর্মসংস্থানের সীমা ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে। সরকারের দাবি, এই উদ্যোগের ফলে গ্রামীণ কর্মসংস্থান আরও স্বচ্ছ, কার্যকর এবং ফলপ্রসূ হবে।

    মন্ত্রীর বক্তব্য

    সরকারের মতে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী গ্রামীণ সম্পদ গড়ে তোলা, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, জীবিকার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং গ্রামে মহিলাদের নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করার টার্গেট নেওয়া হয়েছে। নতুন আইন নির্বিঘ্নে কার্যকর করতে কেন্দ্র ইতিমধ্যেই রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য অন্তর্বর্তী বরাদ্দ হিসেবে ৯৫ হাজার ৬৯২ কোটি ৩১ লক্ষ টাকা দিয়ে দিয়েছে। এই অর্থ কর্মসংস্থান অব্যাহত রাখা, সময়মতো মজুরি দেওয়া এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের কাজে ব্যয় করা হবে। কেন্দ্রীয় গ্রামীণ উন্নয়ন এবং কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, “বিকশিত ভারত–রোজগার ও আজীবিকা গ্যারান্টি মিশন (গ্রামীণ) আইন, ২০২৫ গ্রামীণ ভারতের জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এই আইন গ্রামীণ শ্রমিকদের আরও বেশি জীবিকা সুরক্ষা, মর্যাদা এবং আত্মবিশ্বাস জোগাবে (VB G RAM G)।”

    সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন

    তিনি বলেন, “১০০ দিনের পরিবর্তে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থানের আইনি নিশ্চয়তা গ্রামীণ পরিবারের পাশে থাকার সরকারের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন। সরকারের অগ্রাধিকার হল, প্রত্যেক যোগ্য শ্রমিক যাতে প্রয়োজনের সময় কাজ পান, তা নিশ্চিত করা (Minimum Wage)।” মন্ত্রী জানান, নয়া আইন কার্যকর করার জন্য কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার প্রশাসনিক, আর্থিক ও কারিগরি সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। তাঁর আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, দীর্ঘস্থায়ী গ্রামীণ সম্পদ গড়ে উঠবে, মহিলাদের ক্ষমতায়ন আরও জোরদার হবে এবং আত্মনির্ভর ও উন্নত গ্রামীণ ভারত গড়ে তোলার লক্ষ্য পূরণে গতি আসবে। একই সঙ্গে তিনি দেশের নাগরিকদের শক্তিশালী ও আত্মনির্ভর গ্রাম গড়ে তোলার কাজে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান (VB G RAM G)।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন যাঁরা

    এই আইনের জাতীয় সূচনা অনুষ্ঠান হয় বৃহস্পতিবার অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুপতি জেলার ওবুলভারিপল্লে মণ্ডলের মুক্কাভারিপল্লে গ্রামে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু, উপমুখ্যমন্ত্রী কোনিদেলা পবন কল্যাণ, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী চন্দ্র শেখর পেম্মাসানি, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী কমলেশ পাসওয়ান-সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি। অনুষ্ঠানে নতুন কর্মসূচির সূচনা, উপভোক্তাদের গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি কার্ড বিতরণ, নতুন সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম চালু, বিভিন্ন (Minimum Wage) প্রকাশনা প্রকাশ, উপভোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং আইন কার্যকর করতে একাধিক উদ্যোগেরও সূচনা করা হয় (VB G RAM G)।

     

  • West Bengal Cabinet: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বড় সিদ্ধান্ত! কাঁটাতার বসানোর কাজে কেন্দ্রকে ৫৪ একর জমি দিল রাজ্য

    West Bengal Cabinet: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বড় সিদ্ধান্ত! কাঁটাতার বসানোর কাজে কেন্দ্রকে ৫৪ একর জমি দিল রাজ্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, নতুন সীমান্ত চৌকি গড়ে তোলা এবং সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা সীমান্তরক্ষী বাহিনীগুলিকে ৫৪.২৪ একর সরকারি খাস জমি স্থায়ীভাবে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভা।

    মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাবে অনুমোদন

    বৃহস্পতিবার নবান্নে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, জমিগুলি মূলত বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ) এবং সশস্ত্র সীমা বল (এসএসবি)-র প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজে ব্যবহার করা হবে।

    ৬ জেলায় জমি হস্তান্তর

    সরকারি সূত্রের খবর, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক সীমান্তবর্তী জেলায় এই জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর এবং মালদা। যেসব এলাকায় এখনও সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া সম্পূর্ণ হয়নি অথবা নতুন বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) তৈরির প্রয়োজন রয়েছে, সেখানে এই জমি কাজে লাগানো হবে। রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, হস্তান্তরিত জমিতে নতুন সীমান্ত চৌকি নির্মাণের পাশাপাশি অসম্পূর্ণ কাঁটাতারের বেড়ার কাজ শেষ করা হবে। একই সঙ্গে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর টহল ও যাতায়াত আরও সহজ করতে নতুন রাস্তা তৈরির কাজও করা হবে।

    জমি-জটে আটকে কাঁটাতারের কাজ

    উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বিভিন্ন অংশে জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ থমকে ছিল। এই ইস্যুতে অতীতে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে একাধিকবার মতবিরোধও সামনে এসেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অভিযোগ ছিল, প্রয়োজনীয় জমি দ্রুত না মেলায় সীমান্ত সুরক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সীমান্তে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং অন্যান্য বেআইনি কার্যকলাপ রুখতে দ্রুত সীমান্ত বেড়া সম্পূর্ণ করার ওপর বরাবরই জোর দিয়ে এসেছে কেন্দ্র।

    বিএসএফ ও এসএসবি-র সুবিধা

    সাম্প্রতিক প্রশাসনিক উদ্যোগের ফলে সেই অচলাবস্থা কাটতে শুরু করেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সীমান্তে নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণের গতি বাড়বে, পাশাপাশি বিএসএফ ও এসএসবি-র কাজ পরিচালনাও আরও সহজ হবে। প্রশাসনিক মহলের মতে, জমি সংক্রান্ত জটিলতা দূর হওয়ায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা একাধিক প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের পথ প্রশস্ত হবে।

  • Juvenile Arthritis: খেলতে গিয়ে হাঁটতে কষ্ট, বারবার জ্বর? অবহেলা করবেন না, শিশুর হাড়েও বাসা বাঁধতে পারে আর্থারাইটিস!

    Juvenile Arthritis: খেলতে গিয়ে হাঁটতে কষ্ট, বারবার জ্বর? অবহেলা করবেন না, শিশুর হাড়েও বাসা বাঁধতে পারে আর্থারাইটিস!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    মাঝেমধ্যেই জ্বর, গায়ে ব্যথা আবার কখনো হাঁটতে বা ছুটতে গেলেই ক্লান্তি গ্রাস করে! পরিবারের একরত্তি সদস্যের এমন সমস্যায় উদ্বেগ বাড়ে অভিভাবকদের! চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সাধারণ এমন উপসর্গ জটিল রোগের জানান দেয়। তাই আগাম সচেতনতা জরুরি। তবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। রোগ সম্পর্কে জানলে তবে রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। জুলাই মাস জুভেনাইল আর্থারাইটিস অ্যাওয়ারনেস মান্থ। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুর হাড়েও সমস্যা হতে পারে। আর্থারাইটিস প্রৌঢ় বয়সে দেখা দেয়। কিন্তু শিশুদের মধ্যেও এই রোগের প্রকোপ বাড়ছে। একাধিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতে প্রত্যেক বছর কয়েক হাজার শিশু এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বর্তমানে কয়েক লাখ শিশু আর্থারাইটিসের মতো রোগে কাবু। সম্প্রতি এই রোগের প্রকোপ আরও বেড়েছে। তাই এই নিয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলেও জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    জুভেনাইল আর্থারাইটিস কী?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ১৬ বছরের কম বয়সি ছেলেমেয়েদের হাড় এবং দেহের একাধিক জয়েন্টে যন্ত্রণা এবং হাড়ের ক্ষমতা কমতে থাকার এক ধরনের অসুখ হলো জুভেনাইল আর্থারাইটিস।

    কেন এই রোগ হয়?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, জুভেনাইল আর্থারাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট একটি কারণ থাকে না। তবে কয়েকটি ঘটনা এই রোগে আক্রান্তের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। পরিবারের কেউ আর্থারাইটিসে আক্রান্ত হলে শিশুর জুভেনাইল আর্থারাইটিস হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়‌। এই রোগ জিনগত। তাই বংশানুক্রমিক ভাবে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে। অর্থাৎ পরিবারের কেউ আর্থারাইটিসে আক্রান্ত থাকলে, পরবর্তী প্রজন্মের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। শিশুর এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। এমনটাই জানাচ্ছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, আর্থারাইটিস অনেক সময়েই অটোইমিউন ডিজিজ হিসাবে দেখা যায়। অর্থাৎ নিজের দেহের রোগ প্রতিরোধ শক্তি, শরীরে সমস্যা সৃষ্টি করছে। শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে এমন জটিলতা থাকলে, এই ধরনের রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। পরিবেশগত কারণেও জুভেনাইল আর্থারাইটিস হতে পারে বলেই জানাচ্ছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞেরা। অর্থাৎ এমন কোনো ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ শিশু দেহে হতে পারে, তার থেকে এই ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়‌।

    কীভাবে বুঝবেন সন্তানের সমস্যা রয়েছে কিনা?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কয়েকটি উপসর্গ সম্পর্কে সচেতন থাকলেই এই রোগ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকা যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশু অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পড়লে অভিভাবকদের নজর দেওয়া জরুরি। বারবার জ্বর হওয়া, ত্বকে নানান রকম দাগ দেখা দেওয়া, হাঁটাচলা বা খেলার সময়ে হঠাৎ করেই পায়ে অসুবিধা হয়ে যাওয়া, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরে হাঁটতে অসুবিধা হওয়া কিংবা পায়ের জয়েন্ট ফুলে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, শিশুর বিকাশ ঠিকমতো হচ্ছে কিনা সেদিকে নজর দেওয়া। অর্থাৎ ওজন ঠিকমতো বাড়ছে কিনা, উচ্চতাও ঠিকমতো বাড়ছে কিনা এগুলো নজর দেওয়া প্রয়োজন। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ১ থেকে ৫ বছর বয়সের মধ্যে শিশুদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি‌ থাকে। আবার ১২-১৬ বছর বয়সিদের মধ্যেও এই রোগের প্রকোপ নতুন করে বেশি দেখা দিতে পারে। তাই এই বয়সে বাড়তি নজরদারি জরুরি।

    সন্তানকে সুস্থ রাখতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, রোগের ঝুঁকি কমানো জরুরি। কিন্তু পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয়‌। এই রোগে আক্রান্ত হলে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠাও সম্ভব হয় না।‌ এই রোগে আক্রান্তের দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন। তবে সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য কয়েকটি দিকে বাড়তি নজরদারি জরুরি। শিশুর প্রত্যেক দিন সুষম খাবার প্রয়োজন বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুর হাড় মজবুত করতে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া দরকার। তাছাড়া এই রোগে শিশুর শরীরে ক্লান্তিবোধ আরও তৈরি হয়। তাই প্রোটিন ও ভিটামিন জাতীয় খাবার খাওয়া প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, নিয়মিত শিশুকে দুধ, ডিম, মাছ এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে সব্জি খাওয়াতে হবে। যাতে শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেলের চাহিদা পূরণ হয়। শিশুর নিয়মিত শারীরিক কসরত করা জরুরি। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, শারীরিক কসরত করলে তবেই হাড়, পেশি, স্নায়ু সচল থাকে। জুভেনাইল আর্থারাইটিসের মতো রোগের মোকাবিলায় শারীরিক সক্রিয়তা অত্যন্ত জরুরি। দিনে নূন্যতম তিরিশ মিনিট যাতে শিশু শারীরিক কসরত করে, সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। শিশুকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম হলে তবেই শরীর প্রয়োজনীয় বিশ্রাম পাবে। ক্লান্তি দূর হবে। আবার পেশি ও স্নায়ুর উপরেও চাপ কমবে। ফলে শিশু স্বাভাবিক কাজ সহজেই করতে পারবে। এছাড়াও নিয়মিত চিকিৎসার ফলোআপ করানো জরুরি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • FIFA World Cup 2026: মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ১৬-য় রোনাল্ডোর পর্তুগাল, একপেশে ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে জয়ী স্পেন

    FIFA World Cup 2026: মদ্রিচের ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ১৬-য় রোনাল্ডোর পর্তুগাল, একপেশে ম্যাচে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে জয়ী স্পেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্লাব ফুটবলে তাঁরা দীর্ঘদিন সতীর্থ ছিলেন। সবুজ ঘাসে ফুল ফুটিয়েছে তাঁদের যুগলবন্দি। মাঝমাঠে লুকা মদ্রিচ আর আক্রমণে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর সেই বোঝাপড়ার ফসল ছ’বছর তুলেছে রিয়াল মাদ্রিদ। পরে তাঁদের ক্লাব আলাদা হয়ে যায়। তবে এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষবার মুখোমুখি হলেন দুই তারকা। তাদের লড়াই দেখতে শুক্রবার ভোর সাড়ে চারটেয় (ভারতীয় সময়) টিভির পর্দায় চোখ রেখেছিল ফুটবলপ্রেমীরা (FIFA World Cup 2026)। ফুটবল বিশ্বযুদ্ধে টরন্টোয় মুখোমুখি পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া। এই ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছে গেল পর্তুগাল। মদ্রিচের দলকে হারিয়ে শেষ হাসি হাসলেন রোনাল্ডো। অন্যদিকে প্রায় একপেশে ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে স্পেন জিতল ৩-০ গোলে। জোড়া গোল মিকেল ওয়ারজাবালের। একটি গোল পেদ্রো পোরোর।

    রোনাল্ডো বনাম মদ্রিচ

    রোনাল্ডো ও মদ্রিচ দু’জনেরই বয়স চল্লিশ পেরিয়েছে। গোলরক্ষকদের বাদ দিলে, এই প্রথম দুই চল্লিশোর্ধ্ব খেলোয়াড় বিশ্বকাপের ম্যাচে মুখোমুখি হলেন। সাফল্যের খতিয়ানে রোনাল্ডো এবং মদ্রিচ পরস্পরকে টেক্কা দিতে পারেন। ২০১২ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি গায়ে খেলেছেন দু’জন। দুই প্রাক্তন সতীর্থের কাঁধেই গুরু দায়িত্ব ছিল। একসঙ্গে ২২২টি ম্যাচে খেলেছেন দু’জন। মাঝমাঠ থেকে মদ্রিচের দেওয়া পাস থেকে রোনাল্ডোর বেশ কিছু গোল রয়েছে রিয়ালের হয়ে। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে অবশ্য সেই বোঝাপড়া দেখার সুযোগ ছিল না। এই ম্যাচ ছিল মুখোমুখি বোঝাপড়ার। সেই লড়াইয়ে প্রথমার্ধে কেউই দলকে সাফল্য এনে দিতে পারেননি। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ঝাঁজ বাড়ায় ক্রোয়েশিয়া। ৫৩ মিনিটে ইভান পেসিরিচের গোলে এগিয়ে যায় ক্রোয়েশিয়া। ইয়োসিপ স্তানিশিচের কাছ থেকে বক্সের মধ্যে বল পান পেরিচিস। বাঁ পায়ের শটে দলকে এগিয়ে দেন অভিজ্ঞ উইঙ্গার।

    রোনাল্ডোর গোলে সমতা

    পিছিয়ে পড়ার পর সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে পর্তুগাল। চাপ বাড়তে শুরু করে ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্সে। ৫৮ মিনিটে লিয়াওয়ের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ঠিক ২ মিনিট পরেই রোনাল্ডো ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষককে প্রায় একা পেয়ে গোল করেন। কিন্তু অফসাইডের জন্য বাতিল হয়ে যায় তাঁর গোল। গোল বাতিল হলেও পর্তুগালকে আটকে রাখা যায়নি বেশিক্ষণ। রোনাল্ডোদের একের পর এক আক্রমণ চাপে ফেলে দেয় ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণকে। ৬৮ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার এক ডিফেন্ডার বক্সের মধ্যে ফাউল করেন রেনাতো ভেগাকে। পেনাল্টি পায় পর্তুগাল। গোল করতে ভুল করেননি সিআর সেভেন। দলকে সমতায় ফেরালেও রোনাল্ডোর খেলার মধ্যে এ দিন পরিচিত ছন্দ খুঁজে পাওয়া যায়নি। ৮১ মিনিটে তাঁকে তুলে নিয়ে রুবেন নেভেসকে নামান পর্তুগিজ কোচ। যখন মনে হচ্ছে, খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে তখনই পর্তুগালকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন গন্সালো রামোস। সংযুক্ত সময়ে লিয়াওয়ের কাছ থেকে বক্সের মধ্যে বল পান। প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারকে ঘাড়ে নিয়েই জয়সূচক গোল করেন রামোস।

    বিশ্বকাপে একাধিক কীর্তি সি আর সেভেনের

    বিশ্বকাপে একাধিক কীর্তি গড়লেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। রাউন্ড অফ ৩২-র ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে গোল করে একটি বিশ্বরেকর্ডও গড়লেন। টপকে গেলেন লিয়োনেল মেসিকে। ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে রোনাল্ডো খেলতে নেমেছিলেন ৪১ বছর ১৪৭ দিন বয়সে। গোলও করেছেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে নকআউট পর্বের গোলদাতাদের মধ্যে সিআর সেভেনই এখন সবচেয়ে ‘বুড়ো’ ফুটবলার। এত বয়সে আর কেউ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোল করতে পারেননি। মেসির নজির টপকে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়লেন তিনি। গত ২৮ জুন জর্ডনের বিরুদ্ধে ৩৯ বছর ৪ দিন বয়সে গোল করেছিলেন মেসি। বিশ্বকাপ এবং ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ মিলিয়ে ২৫টির বেশি গোল হয়ে গেল রোনাল্ডো। এমন কৃতিত্ব বিশ্বের আর কোনও ফুটবলারের নেই। ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্বকাপে নিজের ২৬তম ম্যাচ খেললেন রোনাল্ডো। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার তালিকায় তিনি এখন তৃতীয় স্থানে। এই রেকর্ড মেসির দখলে। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক এখনও পর্যন্ত ২৯টি ম্যাচ খেলেছেন। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন জার্মানির প্রাক্তন অধিনায়ক লোথার ম্যাথিউস। তিনি ২৭টি ম্যাচ খেলেছেন। প্রিকোয়ার্টার ফাইনালে ম্যাথিউসকে ছুঁয়ে ফেলবেন সিআর সেভেন। এদিন পর্তুগাল-ক্রোয়েশিয়া ম্যাচ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ, যাতে এমন তিন জন খেললেন যাঁদের অন্তত ২০টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। রোনাল্ডো খেললেন ২৬তম ম্যাচ। মদ্রিচ খেললেন ২৩তম ম্যাচ। ইভান পেরিসিচ খেললেন ২১তম ম্যাচ।

    একপেশে জয় স্পেনের

    অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে এত সহজ হবে ম্যাচটা, এটা হয়তো ভাবতেও পারেননি স্পেনের ফুটবলারেরা। বৃহস্পতিবার রাউন্ড অফ ৩২-এর ম্যাচে অস্ট্রিয়া লড়াই করল বটে, তবে স্পেনের মতো দলকে আটকানোর জন্য তা কখনওই যথেষ্ট ছিল না। ভাগ্য সহায় হলে অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচ গোলে জেতার কথা স্পেনের। বাধা হয়ে দাঁড়ালেন গোলকিপার আলেকজান্ডার শ্লাগার। তিনি অন্তত তিনটি নিশ্চিত গোল না বাঁচালে ম্যাচ অনেক আগেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। অস্ট্রিয়া যে রক্ষণ জমাট রেখে এগোবে, এ কথা জানতেন স্পেনের কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তে। তাই তিনি মাঝখান দিয়ে আক্রমণ করার বদলে, দুই উইং দিয়ে আক্রমণ চালাতে চেয়েছিলেন। উইং এমনিতে স্পেনের খুব শক্তির জায়গা নয়। তবে এ দিন সাফল্য মিলল। বাঁ দিকে আলেক্স বায়েনা এবং মার্ক কুকুরেয়ার জুটি তো ছিলই। ডান দিক থেকে ক্রমাগত অস্ট্রিয়া রক্ষণকে ব্যস্ত রাখলেন লেমিনে ইয়ামাল। দুই প্রান্ত থেকে একটানা আক্রমণ সামাল দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল অস্ট্রিয়া। এক সময় তা ভেঙে পড়ে। বলের নিয়ন্ত্রণ থেকে শট, সব বিভাগেই স্পেন অনেকটা এগিয়েছিল ম্যাচে।

    বিশ্বকাপের দাবিদার স্পেন

    যে গতিতে স্পেন এগোচ্ছে তাতে ট্রফির দৌড়ে যে তারা ভাল ভাবে রয়েছে তা বলাই যায়। এই স্পেনকে আটকানোর সাধ্য খুব কম দেশের মধ্যেই রয়েছে। বলের নিয়ন্ত্রণ, কৌশল, ব্যক্তিগত দক্ষতা— সব বিভাগেই স্পেন বাকি দলগুলিকে টেক্কা দিতে পারে। এই স্পেন দলে তারকার এতটাই ছড়াছড়ি যে ওয়ারজাবালের মতো ফুটবলারেরা ঢাকাই পড়ে যান। রিয়াল সোসিয়েদাদে খেলা ফুটবলারকে নিয়ে খুব বেশি চর্চাও হয় না। কিন্তু নিজের কাজটা ঠিক করে যান। এদিন জোড়া গোল করে লিয়োনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপে এবং আর্লিং হালান্ডের মতো সোনার বুটের দৌড়ে ঢুকে পড়লেন তিনিও। ওয়ারজাবালে গোল করলেও এদিন স্পেনের হয়ে গতিতে মাতালেন ইয়ামাল। এ দিন শুধু তিনি গোলটাই করেননি। বাকি সব কাজ করেছেন। গোলটাও হয়ে যেত অস্ট্রিয়ার গোলকিপার শ্লাগার দু’টি দুর্দান্ত সেভ না করলে। এ দিন নিজেকে শুধু ডান প্রান্তে সীমাবদ্ধ রাখেননি ইয়ামাল। তিনি ফ্রি ফ্লোইং ফুটবল খেলেছেন। অর্থাৎ মাঠের চারদিক জুড়ে খেলতে দেখা গিয়েছে। কখনও ডান দিকে, কখনও বাঁ দিকে, কখনও মাঝে— বিপক্ষের রক্ষণের নজর এড়ানোর জন্য সব ধরনের রাস্তা খুঁজে বার করেছেন তিনি। সব ঠিক থাকলে স্পেন সেমিফাইনালে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে। দুই দেশই বিশ্বকাপ জেতার ব্যাপারে হট ফেভারিট। ফলে ফাইনালের আগেই ফাইনাল হয়ে যাওয়ার কথা।

     

     

     

     

     

  • Daily Horoscope 03 July 2026: শরীরে ব্যথা-বেদনা বৃদ্ধি পাবে এই রাশির জাতকদের

    Daily Horoscope 03 July 2026: শরীরে ব্যথা-বেদনা বৃদ্ধি পাবে এই রাশির জাতকদের

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

     

     

    মেষ

    ১) স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতান্তর সৃষ্টি হতে পারে।

    ২) কাজের জায়গায় কথার উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পারলে ক্ষতি হতে পারে।

    ৩) ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিন।

    বৃষ

    ১) দূরে ভ্রমণের জন্য বাড়িতে আলোচনা হতে পারে।

    ২) একাধিক পথে আয় বাড়তে পারে।

    ৩) ভালো-মন্দ মিশিয়ে কাটবে দিনটি।

    মিথুন

    ১) আগুন থেকে বিপদের আশঙ্কা।

    ২) সংসারের জন্য অনেক করেও বদনাম হবে।

    ৩) প্রতিকূল কাটবে দিনটি।

     

    কর্কট

     

    ১) ব্যবসায় বাড়তি লাভ হতে পারে।

    ২) প্রিয়জনের কাছ থেকে আঘাত পেতে পারেন।

    ৩) নিজেকে সময় দিন।

    সিংহ

    ১) ব্যবসায় দায়িত্ব বাড়তে পারে।

    ২) নেশার প্রতি আসক্তি বৃদ্ধি পেতে পারে।

    ৩) প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটান।

     

    কন্যা

     

    ১) বন্ধুদের দিক থেকে খারাপ কিছু ঘটতে পারে।

    ২) প্রেমে বিবাদ বাধতে পারে।

    ৩) ধৈর্য ধরুন।

    তুলা

    ১) ব্যবসায় চাপ বাড়লেও আয় বৃদ্ধি পাবে।

    ২) বুদ্ধির দোষে কোনও কাজ পণ্ড হতে পারে।

    ৩) আধ্যাত্মিকতায় মনোনিবেশ করবেন।

    বৃশ্চিক

    ১) কর্মক্ষেত্রে সুনাম বাড়তে পারে।

    ২) ব্যবসায় নিজের বুদ্ধিতেই আয় বাড়বে।

    ৩) গুরুজনের পরামর্শ মেনে চলুন।

    ধনু

     

    ১) চাকরির স্থানে উন্নতির সুযোগ পেতে পারেন।

     

    ২) ব্যবসায় মহাজনের সঙ্গে তর্ক বাধতে পারে।

    ৩) দিনটি অনুকূল।

    মকর

    ১) দাম্পত্য সম্পর্কে উন্নতির সময়।

    ২) ব্যবসায় বিবাদ থেকে সাবধান থাকা দরকার।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    কুম্ভ

     

    ১) বন্ধুদের সঙ্গে বিবাদের যোগ রয়েছে।

     

    ২) কর্মস্থানে সম্মানহানির সম্ভাবনা।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    মীন

    ১) খেলাধুলায় নাম করার ভালো সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে।

    ২) পেটের ব্যথায় কষ্ট পেতে পারেন।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • RG Kar: আরজি করকাণ্ডে বদলে ফেলা হয়েছিল তিলোত্তমার সংরক্ষিত ভিসেরা নমুনা!

    RG Kar: আরজি করকাণ্ডে বদলে ফেলা হয়েছিল তিলোত্তমার সংরক্ষিত ভিসেরা নমুনা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের নয়া বিতর্ক তিলোত্তমা ধর্ষণ ও খুন মামলায়। রাজ্য ফরেনসিক পরীক্ষাগারে সংরক্ষিত ভিসেরা নমুনা ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট বা বদলে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে আরজি করকাণ্ডে (RG Kar) নির্যাতিতার পরিবার। প্রাক্তন এক ফরেনসিক আধিকারিকের পাঠানো চিঠির ভিত্তিতেই এই অভিযোগ (Rape Murder Case) প্রকাশ্যে এসেছে। পরিবারের দাবি, চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে, রাজ্য ফরেনসিক বিভাগের তিন আধিকারিক গুরুত্বপূর্ণ নমুনা পরিবর্তন বা নষ্ট করার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এই ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

    বদলে ফেলা হয়েছিল ভিসেরা নমুনা! (RG Kar)

    পরিবারের বক্তব্য, কয়েক দিন আগে নির্যাতিতার বাবার নামে ওই চিঠি পৌঁছয়। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ময়নাতদন্তের সময় সংগ্রহ করা লিভার, কিডনি ও পাকস্থলীর ভিসেরা নমুনা পরে বদলে ফেলা হয়। সাধারণত মৃত্যুর আগে কোনও বিষাক্ত পদার্থ বা ঘুমের ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না, তা জানতে এই নমুনাগুলি পরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করা হয়। অভিযোগ, সেই গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রমাণই পরে বদলে দেওয়া হয়েছে। পরিবারের আরও অভিযোগ, শুধু রাজ্য ফরেনসিক পরীক্ষাগারেই নয়, সেন্ট্রাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর সময়ও নমুনা বদল করা হয়েছে। তাই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক প্রমাণের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন। যদিও এই অভিযোগের সমর্থনে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি নথি বা স্বাধীন তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসেনি।

    সিবিআই তদন্তের দাবি

    এই পরিস্থিতিতে প্রাপ্ত চিঠিটি শিয়ালদহ আদালতে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তিলোত্তমার পরিবার। আদালতের কাছে তাদের আবেদন, অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে পৃথক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হোক। পরিবারের দাবি, “এত গুরুতর অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া প্রকৃত সত্য সামনে আসবে না এবং (RG Kar) বিচারপ্রক্রিয়াও প্রশ্নের মুখে পড়বে।” চিঠিতে আরও দাবি করা হয়েছে, তৃণমূল সরকারের আমলে রাজনৈতিক হিংসায় নিহত বিজেপি এবং সিপিএম কর্মীদের একাধিক মামলায়ও ওই তিন ফরেনসিক কর্মী ভিসেরা নমুনা নষ্ট করেছিলেন। যদিও এই দাবির পক্ষেও এখনও পর্যন্ত কোনও প্রমাণ পেশ করা হয়নি। এদিকে, তিলোত্তমার পরিবারের করা অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধীরা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুললেও, সংশ্লিষ্ট ফরেনসিক বিভাগ বা রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এ (Rape Murder Case) বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। এখন রাজ্যবাসী তাকিয়ে আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে (RG Kar)।

     

LinkedIn
Share