Tag: বাংলা খবর

  • MEA: রুশ হামলায় বলি ৪ ভারতীয় নাবিক, মস্কোর দূতকে তলব করে ক্ষোভ প্রকাশ দিল্লির

    MEA: রুশ হামলায় বলি ৪ ভারতীয় নাবিক, মস্কোর দূতকে তলব করে ক্ষোভ প্রকাশ দিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউক্রেনে বাণিজ্যিক মালবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত চার ভারতীয় নাবিক। এই ঘটনায় এবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে কড়া কূটনৈতিক পদক্ষেপ ভারতের। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে রাশিয়ার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ভ্লাদিমির লাদানভ-কে তলব (India Summons Russian Envoy) করে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানায় বিদেশ মন্ত্রক (MEA)। একই সঙ্গে হামলার বিষয়ে রাশিয়ার কাছে ব্যাখ্যাও চেয়েছে ভারত।

    ঠিক কী ঘটেছিল?

    ১৯ জুলাই, ইউক্রেনের ওডেসা বন্দর থেকে রওনা দিয়েছিল গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী মালবাহী জাহাজ MV Golden Leo। জাহাজটি ইউক্রেনের উপকূল ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়। ইউক্রেনের অভিযোগ, রাশিয়ার ছোড়া তিনটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র জাহাজটিতে আঘাত হানে। হামলার পরেই জাহাজে আগুন ধরে যায়। জাহাজে মোট ছিলেন ১৭ জন নাবিক। তাঁদের মধ্যে ৫ জন ছিলেন ভারতীয়। ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৪ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। অপর এক ভারতীয় গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

    কী বলেছে বিদেশ মন্ত্রক?

    বিদেশ মন্ত্রক (MEA) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ভারত এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো, নিরীহ নাবিকদের জীবন বিপন্ন করা এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে বাণিজ্য ও নৌ-চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো উচিত বলেও জানিয়েছে কেন্দ্র।

    রাশিয়ার কাছে কী দাবি ভারতের?

    ঘটনার জেরে রাশিয়ার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ভ্লাদিমির লাদানভ-কে তলব (India Summons Russian Envoy)। চার ভারতীয়র মৃত্যুর ঘটনায় কড়া কূটনৈতিক প্রতিবাদ নয়াদিল্লির। হামলার বিষয়ে রাশিয়ার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। ভারতীয় নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার দাবিও তুলেছে ভারত।

    ভারতীয় দূতাবাসের ভূমিকা

    আহত ভারতীয় নাবিকের চিকিৎসা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি নজরে রাখছে ইউক্রেনের ভারতীয় দূতাবাস। পরিস্থিতির উপর কেন্দ্র সরকারও ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছে।

    যুদ্ধের আবহেই নতুন উত্তেজনা

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালীন কৃষিপণ্য বহনকারী বাণিজ্যিক জাহাজে এই হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নিরীহ নাবিকদের প্রাণহানি এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

  • India Gets First Dengue Vaccine: ভারতে প্রথম ডেঙ্গির টিকার অনুমোদন, বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের! কারা নিতে পারবেন?

    India Gets First Dengue Vaccine: ভারতে প্রথম ডেঙ্গির টিকার অনুমোদন, বড় পদক্ষেপ কেন্দ্রের! কারা নিতে পারবেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এবার ডেঙ্গির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বড় পদক্ষেপ ভারতের। প্রথমবারের মতো দেশে ডেঙ্গির টিকা ‘কিউডেঙ্গা’ (QDENGA)-কে অনুমোদন দিল ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (DCGI)। জাপানের ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা তাকেদা বায়োফার্মাসিউটিক্যালস-এর তৈরি এই টিকা ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সি ব্যক্তিদের জন্য অনুমোদিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে ডেঙ্গির বাড়তে থাকা প্রকোপের মধ্যে এই অনুমোদন জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    ভারতে প্রতি বছর বর্ষা এলেই বাড়তে থাকে ডেঙ্গির প্রকোপ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, বিশ্বে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত মোট মানুষের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ভারতের বাসিন্দা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে প্রায় ১ লক্ষ ১৩ হাজার জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। ডেঙ্গির কারণে মৃত্যুর সংখ্যাও উদ্বেগজনক। এতদিন পর্যন্ত ভারতে ডেঙ্গির কোনও অনুমোদিত টিকা ছিল না। ফলে মশা নিয়ন্ত্রণ, জমা জল পরিষ্কার রাখা এবং সচেতনতাই ছিল সংক্রমণ রুখতে প্রধান ভরসা। সেই জায়গায় কিউডেঙ্গার অনুমোদনকে ডেঙ্গির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বড় অগ্রগতি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কী এই কিউডেঙ্গা (QDENGA)?

    কিউডেঙ্গা (QDENGA) একটি টেট্রাভ্যালেন্ট ডেঙ্গির টিকা। অর্থাৎ এটি ডেঙ্গি ভাইরাসের চারটি ধরন- ডেন-১, ডেন-২, ডেন-৩ এবং ডেন-৪ সবকটির বিরুদ্ধেই সুরক্ষা দিতে পারে। এই টিকার আরও একটি বড় সুবিধা হল, টিকা নেওয়ার আগে কোনও ব্যক্তির আগে ডেঙ্গি হয়েছিল কি না? তার পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না।

    কারা তৈরি করেছে?

    কিউডেঙ্গা (QDENGA) তৈরি করেছে জাপানের ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা তাকেদা বায়োফার্মাসিউটিক্যালস। ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে আসার পর থেকে এই টিকা ৪৩টি দেশে অনুমোদন পেয়েছে। সংস্থার দাবি, ইতিমধ্যেই ৩ কোটি ২০ লক্ষেরও বেশি ডোজ বিতরণ করা হয়েছে। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনাসহ একাধিক দেশে সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার মাধ্যমে এই টিকা দেওয়া হচ্ছে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল ভারতও।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কী মত?

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ‘হু’ (WHO) কিউডেঙ্গাকে প্রি-কোয়ালিফায়েড ভ্যাকসিন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যেসব দেশে ডেঙ্গির প্রকোপ বেশি বা নিয়মিত সংক্রমণ দেখা যায়, সেখানে এই টিকা ব্যবহারের সুপারিশ করেছে ‘হু’। কিউডেঙ্গার মান, নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতা সন্তোষজনক বলে বিবেচিত হয়েছে। এরপর ২০১৯ সালের নিউ ড্রাগস অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালস রুলস অনুযায়ী টিকাটির ব্যবহারে অনুমোদন দেয় ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিসিজিআই (DCGI)।

    ট্রায়ালে কী ফল মিলেছে?

    টাকেডার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ২৮ হাজারেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবী অংশ নেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ফেজ-৩ ‘টাইডস (DEN-301)’ ট্রায়ালটি আটটি দেশে ২০ হাজারেরও বেশি মানুষের উপর চালানো হয়। ট্রায়ালের ফলাফলে দেখা গিয়েছে- দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার এক বছর পর ডেঙ্গি সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকারিতা ছিল ৮০.২ শতাংশ। টিকা নেওয়ার ১৮ মাস পর ডেঙ্গির কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি কমাতে কার্যকারিতা ছিল ৯০.৪ শতাংশ।

    কীভাবে দেওয়া হবে টিকা?

    কিউডেঙ্গার দুটি ডোজে দেওয়া হবে। প্রতিটি ডোজের পরিমাণ ০.৫ মিলিলিটার। প্রথম ডোজ নেওয়ার তিন মাস পরে দ্বিতীয় ডোজ নিতে হবে।

    ভারতে কবে পাওয়া যাবে?

    অনুমোদন মিললেও এখনই বাজারে পাওয়া যাবে না কিউডেঙ্গা। টাকেডা জানিয়েছে, ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে ভারতের বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার মাধ্যমে টিকাটি বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে উৎপাদনও বাড়ানো হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বছরে ১০ কোটি ডোজ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে সংস্থাটি।

    শুধু টিকা নয়, সচেতনতাও জরুরি

    বিশেষজ্ঞদের মতে, কিউডেঙ্গা ডেঙ্গির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হলেও এটি কোনও একমাত্র সমাধান নয়। টিকাকরণের পাশাপাশি মশার বংশবিস্তার রোধ, জমা জল পরিষ্কার রাখা, মশারি বা রিপেলেন্ট ব্যবহার এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও সমান জরুরি। তবে ভারতের মতো ডেঙ্গি-প্রবণ দেশে এই প্রথম অনুমোদিত টিকা ভবিষ্যতে সংক্রমণ ও গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে পারে বলেই আশাবাদী বিশেষজ্ঞরা।

  • ED Raid: ২১ জুলাই রাজ্যজুড়ে ইডির হানা, সরকারি প্রকল্পে সুবিধা দেওয়ার নামে ১৬৪ কোটির প্রতারণা!

    ED Raid: ২১ জুলাই রাজ্যজুড়ে ইডির হানা, সরকারি প্রকল্পে সুবিধা দেওয়ার নামে ১৬৪ কোটির প্রতারণা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২১ জুলাইয়ের রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই  রাজ্যে বড়সড় অভিযানে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED Raid)। মঙ্গলবার সকালে কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ-সহ মোট ৮টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ (Government Scheme Scam) করা হয়েছে। সেই মামলার তদন্তেই এই অভিযান। ইডি সূত্রের খবর, দীর্ঘদিনের তদন্তে পাওয়া একাধিক তথ্য ও নথির ভিত্তিতেই এদিনের তল্লাশি অভিযান।

    কেন ইডি অভিযান (ED Raid)?

    একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি প্রকল্পে দ্রুত সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলত (Government Scheme Scam)। ইডির প্রাথমিক তদন্তে এমনটাই অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিযোগ- বেশি টাকা দিলে দ্রুত ও বেশি সুবিধা মিলবে বলেও প্রলোভন দেখানো হত। এইভাবে বহু মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। কয়েকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিপুল আর্থিক লেনদেনের তথ্য পেয়েছে ইডি। সেই অর্থ কোথা থেকে এসেছে? কোথায় গিয়েছে? তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    ১৬৪ কোটি টাকার প্রতারণা!

    তদন্তকারীদের দাবি, ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে টাকা তোলা হয়েছে। প্রায় ১৬৪ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ। প্রায় ১৯ হাজার মানুষ প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি। মোটা অঙ্কের সুদের লোভ দেখিয়েও বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা তোলা হয়েছিল। একটি এফইআরের ভিত্তিতেই এই মামলার তদন্ত শুরু হয়। পরে কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন এবং সন্দেহজনক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য সামনে আসায় অর্থ পাচারের দিকটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করে ইডি (ED Raid)।

    কারা তদন্তের নজরে?

    তদন্তে পাওয়া সূত্রের ভিত্তিতে কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বনগাঁর দুই বাসিন্দা অভিজিৎ ও রাহুল। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে- অভিজিৎ গত মাসেই কর্মসূত্রে বেঙ্গালুরু গিয়েছেন। রাহুলের খোঁজ এখনও মেলেনি। মঙ্গলবার সকালে তাঁদের বাড়িতে পৌঁছলেও কাউকে পাওয়া যায়নি। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত? তাও জানার চেষ্টা চলছে।

    রাজনৈতিক আবহে বাড়ল জল্পনা

    উল্লেখযোগ্যভাবে, মঙ্গলবারই ২১ জুলাই। এই দিন রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় ইডির এই অভিযান নতুন করে রাজনৈতিক মহলেও জল্পনা তৈরি করেছে। যদিও তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এটি সম্পূর্ণ তদন্তের সূত্র ধরেই চালানো নিয়মিত অভিযান (ED Raid) এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে এর কোনও সম্পর্ক নেই।

  • Nabanna: মাসে এবার দেড় হাজার টাকা! ভাতা বাড়ছে প্রবীণ, বিধবা ও দিব্যাঙ্গদের, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    Nabanna: মাসে এবার দেড় হাজার টাকা! ভাতা বাড়ছে প্রবীণ, বিধবা ও দিব্যাঙ্গদের, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে সামাজিক সুরক্ষার নতুন অধ্যায়। প্রবীণ, বিধবা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের (দিব্যাঙ্গ) জন্য মাসিক আর্থিক সহায়তার পরিমাণ একধাক্কায় ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করার কথা ঘোষণা রাজ্য সরকারের (Nabanna)। অর্থ দফতরের চূড়ান্ত অনুমোদনের পরেই এই কল্যাণমুখী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সরকারি নির্দেশিকা

    বার্ধক্য, বিধবা ও দিব্যাঙ্গ ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নবান্নের (Nabanna) তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে সরকারের এই বড় সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী নিজেও তাঁর সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন এবং একটি বিশেষ বিবৃতি প্রকাশ করেন। একই দিনে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে একটি সরকারি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, জাতীয় সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি এবং রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক পেনশন প্রকল্পের আওতায় থাকা উপভোক্তাদের মাসিক আর্থিক ভাতা ১,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করা হল। রাজ্য অর্থ দফতরের সবুজ সঙ্কেত পাওয়ার পরেই এই জনকল্যাণমুখী সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের পথে হাঁটল সরকার।

    প্রধান ৩টি স্কিমেই বর্ধিত টাকা

    বার্ধক্য ভাতা (ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় বার্ধক্য পেনশন স্কিম), বিধবা ভাতা (ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় বিধবা পেনশন স্কিম), প্রতিবন্ধী ভাতা (ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় প্রতিবন্ধী পেনশন স্কিম)

    • কবে থেকে কার্যকর? অগাস্ট মাস থেকেই এই বর্ধিত হার চালু হতে চলেছে।
    • টাকা কীভাবে পাওয়া যাবে? ১ সেপ্টেম্বর থেকে সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT)-এর মাধ্যমে টাকা পৌঁছে যাবে। এর ফলে কোনও দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর ঝামেলা থাকবে না।
    • খরচ সামলানো হবে কীভাবে? ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরের বাজেটে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের বরাদ্দ খাত থেকেই এই বাড়তি খরচ বহন করা হবে।

    কী বলছেন মুখ্যমন্ত্রী?

    সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিবৃতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) জানান, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ যে গভীর আশা, ভরসা ও বিশ্বাস রেখে এক রাষ্ট্রবাদী সরকার প্রতিষ্ঠা করেছেন, তাঁদের সেই প্রত্যাশা পূরণ করাই আমাদের সরকারের প্রধান অঙ্গীকার। সেই লক্ষ্য পূরণেই আজ এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের প্রবীণ নাগরিক, বিধবা ও দিব্যাঙ্গ ভাই-বোনেদের সামাজিক সুরক্ষাকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক করে তুলবে।

    সরকারের বক্তব্য

    মূল্যবৃদ্ধির বাজারে মাত্র এক হাজার টাকায় সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে উঠছিল। প্রান্তিক মানুষদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সহজ করতেই এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শহর থেকে গ্রাম- সব এলাকার যোগ্য মানুষ যাতে সময়মতো টাকা পান, তার জন্য সমস্ত জেলার জেলাশাসক এবং সুডা (SUDA)-কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • School Bullying: হঠাৎ বদলে যাচ্ছে সন্তানের আচরণ! স্কুলে বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে না তো? চিনে নিন লক্ষণগুলি

    School Bullying: হঠাৎ বদলে যাচ্ছে সন্তানের আচরণ! স্কুলে বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে না তো? চিনে নিন লক্ষণগুলি

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সামান্য অবসর পেলেও খেলাধুলাতেই বিশ্রাম খুঁজে পেত! বাড়িতে অতিথি এলে, তার কাছ ছাড়তেই ছাড়তো না। বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করা, সময় কাটানো ছিলো খুবই পছন্দের। কিন্তু হঠাৎ করেই বদলে গেল তার প্রকৃতি! পরিবারের একরত্তির হঠাৎ আচরণ বদলে চিন্তিত অভিভাবকেরা। পড়াশোনার প্রতি অনীহা, অতিরিক্ত জেদ তৈরি হলো! বকাবকির জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠলো। এমন অবস্থার মুখোমুখি বহু বাবা-মা হচ্ছেন। পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেবেন, সেটাও বুঝতে সমস্যা হচ্ছে। অনেকক্ষেত্রেই সমস্যার সমাধান করতে না পারার জন্য সন্তানের জীবনে নানান জটিলতাও তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আগাম সচেতনতা জরুরি। কয়েকটি দিকে খেয়াল রাখলেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে।

    কী বলছে আন্তর্জাতিক গবেষণা?

    সম্প্রতি স্কুল পড়ুয়াদের মানসিক পরিস্থিতি নিয়ে এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় জানা গিয়েছে, বিশ্ব জুড়ে স্কুল পড়ুয়াদের নিগ্রহের ঘটনা বাড়ছে। শারীরিক বা যৌন নির্যাতনের পাশপাশি, তারা নানান রকমের মৌখিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি। তাদের ভবিষ্যতে একাধিক সমস্যার কারণ হচ্ছে, শৈশবের এই মানসিক যন্ত্রণা। শারীরিক নির্যাতনের স্পষ্ট প্রমাণ দ্রুত পাওয়া গেলেও, মানসিক নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া মুশকিল হয়। আর সেখানেই জটিলতা বাড়ছে! তবে কয়েকটি দিকে নজর দিলে এই সমস্যা কিছুটা আয়ত্ত করা যেতে পারে বলেই জানাচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    কীভাবে বুঝবেন সন্তান বুলিং-য়ের শিকার হচ্ছে কি না?

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে কয়েকটি আচরণগত পরিবর্তনে নজর দিলেই সমস্যা রয়েছে কিনা, সে সম্পর্কে জানা সহজ হয়ে যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, প্রত্যেক বাচ্চার যেমন কিছু আলাদা প্রকৃতি থাকে, আবার কিছু কিছু পছন্দ এক রকম হয়। হঠাৎ এমন কিছু স্বভাব পরিবর্তনে নজর দিলেই সমস্যা রয়েছে কিনা আন্দাজ করা যেতে পারে।

    সন্তান হঠাৎ বন্ধুহীন হয়ে পড়েছে!

    সাধারণত শিশুরা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করে। কিন্তু কোনো স্কুল পড়ুয়া যদি একদম মেলামেশা করতে পছন্দ না করে, তার যদি কোনও বন্ধু না থাকে, খুব গুটিয়ে থাকে তাহলে সেদিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, হয়তো বন্ধুদের সঙ্গে সে নিজের সমস্যা ভাগ করে নিতে পারছে না। আবার হয়তো বন্ধুমহলেই সে মানসিক ভাবে নিগ্রহের শিকার হচ্ছে, তাই তাদের সঙ্গে মেলামেশা করতে চাইছে না। বন্ধুদের কথায় সে নিগ্রহের শিকার হলে, তার মধ্যে একাকিত্বের সমস্যা বাড়বে। তাই সন্তানের বন্ধু না থাকলে, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

    হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগে অনীহা!

    পরিবারে অতিথি আসলে কিংবা কোথাও নেমতন্ন থাকলে, সাধারণত শিশুরা উচ্ছ্বসিত থাকে। অধিকাংশ সময়েই তারা অতিথির সঙ্গে কথা বলতে পছন্দ করে। কিন্তু হঠাৎ যদি সন্তান সম্পূর্ণ নিজেকে গুটিয়ে রাখে, কোনো কারণ ছাড়াই সে নিজের ঘর থেকে বাইরে যাচ্ছে না, মেলামেশা করতে চাইছে না। আবার কোথাও নেমতন্ন থাকলেও যেতে নারাজ, তাহলে বুঝতে হবে, তার সামাজিক যোগাযোগের উপরে অনীহা তৈরি হয়েছে। যা একেবারেই স্বাভাবিক নয়। তাই সেই আচরণে গুরুত্বপূর্ণ দিয়ে, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা জরুরি।

    অতিরিক্ত জেদ ও খিটখিটে মেজাজ!

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সন্তানের যেকোনো বিষয়ে অতিরিক্ত জেদ ও খিটখিটে মেজাজ দেখা দিলে বাড়তি‌ নজরদারি প্রয়োজন। অনেক সময়েই খুব সামান্য বিষয়, যেমন খাবার খাওয়া, ঘুম থেকে ওঠা নিয়েও সন্তান অতিরিক্ত জেদ করতে থাকে। পরিবারের সকলের সঙ্গেই খিটখিটে মেজাজে কথা বলে। এই আচরণে নজর দেওয়া প্রয়োজন।

    পড়াশোনা ও স্কুল যাওয়ার প্রতি অনীহা!

    পড়াশোনার প্রতি অতিরিক্ত অনীহা তৈরি এবং স্কুলের প্রতি অনাগ্রহ তৈরি হলে, অভিভাবকদের উচিত সেদিকে নজর দেওয়া। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, লাগাতার বুলিং-য়ের শিকার হলে সেই জায়গার প্রতি ভয় তৈরি হয়। সেখান থেকেই অনীহার জন্ম হয়। সন্তান যদি হঠাৎ স্কুল যেতে না চায়, কিংবা পড়াশোনার প্রতি একেবারেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলে, তাহলে সেখানে মানসিক নিগ্রহের ঘটনা ঘটছে কিনা, সেটা যাচাই করা জরুরি।

    কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবেন?

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সচেতনতা এবং সতর্কতাকে হাতিয়ার করেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যেতে পারে। অভিভাবকদের পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে হবে, তবেই বড় সঙ্কট আটকানো সহজ হবে। মনোরোগ চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, নিয়মিত কিছুটা সময় সন্তানের সঙ্গে গল্প করে কাটাতে হবে। পরিবারের একজনের সঙ্গে যেকোনো সমস্যার কথা সে প্রকাশ করতে পারে, এই বিশ্বাস শিশুর মনে থাকা জরুরি। যাতে সে যেকোনো সমস্যা সহজেই বলতে পারে। প্রথম থেকেই যেকোনো সমস্যা ভাগ করে নিতে পারলে সমাধান সহজ হয়। বন্ধুরা কী বললো, স্কুলে কী হলো, খেলার মাঠে কেমন সময় কাটলো, এই সবকিছুই ভাগ করে নিতে পারলে বড় বিপদ আটকানো যাবে। প্রথম থেকেই সমস্যা সম্পর্কে বোঝা যাবে। সেই মতো পরিস্থিতি সামলানোর পথ ও খোঁজা সহজ হবে। কিন্তু অধিকাংশ সময়েই ব্যস্ত আধুনিক জীবনে সন্তান একাকিত্বে ভোগে। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ বড্ড কম থাকে। ফলে তারা কোনো রকম সমস্যার মুখোমুখি হলেও কীভাবে সেটা সমাধান করবে, বুঝতে পারে না। অধিকাংশ সময়েই পরিস্থিতি জটিল হয়ে যায়।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • WB Panchayat Recruitment: বদলে যাচ্ছে পঞ্চায়েতে নিয়োগের নিয়ম! ১১ হাজার শূন্যপদ নিয়ে বড় ঘোষণা দিলীপ ঘোষের

    WB Panchayat Recruitment: বদলে যাচ্ছে পঞ্চায়েতে নিয়োগের নিয়ম! ১১ হাজার শূন্যপদ নিয়ে বড় ঘোষণা দিলীপ ঘোষের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কর্মীর অভাব! তাই থমকে পঞ্চায়েতের কাজ? এবার হবে সব সমস্যার সমাধান। এই অচলাবস্থা কাটাতে এবং রাজ্যবাসীর পরিষেবা ত্বরান্বিত করতে এক বড়সড় পদক্ষেপ। আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই রাজ্যের পঞ্চায়েত দফতরে ১১ হাজার কর্মচারী নিয়োগ (WB Panchayat Recruitment) করা হবে। বড় ঘোষণা পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh)। সোমবার বিধানসভার বাদল অধিবেশন শুরুর দিন বিধানসভায় নিজের কক্ষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই বড় সিদ্ধান্তের কথা জানান মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, কর্মীর অভাবে পঞ্চায়েতের দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের উপর।

    নিয়োগ পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন

    এত দিন পর্যন্ত পঞ্চায়েত আইনের অধীনে জেলা স্তর থেকে পৃথকভাবে পঞ্চায়েতের কর্মী নিয়োগ সম্পন্ন হত। তবে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও গতি আনতে বিকেন্দ্রীভূত ব্যবস্থার বদলে কেন্দ্রীয় ভাবে নিয়োগের (WB Panchayat Recruitment) সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবার পিএসসির মাধ্যমে পঞ্চায়েতে নিয়োগের কথাও ঘোষণা করলেন তিনি। তবে, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের হাতে নিয়োগের দায়িত্ব তুলে দিতে হলে রাজ্যকে পঞ্চায়েত আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে। রাজ্য সরকার দ্রুত আইন সংশোধন করে এই দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে পিএসসি-র হাতে সঁপে দিতে প্রস্তুত।

    কী বললেন দিলীপ ঘোষ?

    এদিন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর আমরা এক লক্ষ কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের প্রথম ও অন্যতম বড় ধাপ হিসেবেই পঞ্চায়েতের এই ১১ হাজার নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে।”

    মন্ত্রীর কড়া বার্তা

    উল্লেখ্য, রাজ্যে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকেই অধিকাংশ পঞ্চায়েতে এক অদ্ভুত প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গায় তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের প্রধান ও নেতারা গা ঢাকা দিয়েছেন বা পদত্যাগ করেছেন। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্রে সই মিলছে না এবং উন্নয়নমূলক কাজ আটকে রয়েছে। এর আগেও এই বিষয়ে কড়া মনোভাব প্রকাশ করেছিলেন দিলীপ ঘোষ। তিনি অবিলম্বে জনপ্রতিনিধিদের কাজে ফেরার নির্দেশ দিয়ে সতর্ক করেছিলেন যে, দায়িত্বে অবহেলা করলে তার ফল ভালো হবে না। এবার সেই অচলাবস্থা কাটাতে একদিকে যেমন উধাও হওয়া প্রধানদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অন্যদিকে প্রশাসনিক কাঠামো সচল করতে দ্রুত ১১ হাজার পদে নতুন রক্ত আনার পথ প্রশস্ত করলেন মন্ত্রী।

  • International Biology Olympiad 2026: বিশ্বমঞ্চে ভারতের তরুণদের দাপট, আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াডে ১ সোনা ও ৩ রুপো জয়, শুভেচ্ছা মোদির

    International Biology Olympiad 2026: বিশ্বমঞ্চে ভারতের তরুণদের দাপট, আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াডে ১ সোনা ও ৩ রুপো জয়, শুভেচ্ছা মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানের মঞ্চে আরও এক গর্বের মাইলফলক স্পর্শ করল ভারত। লিথুয়ানিয়ায় অনুষ্ঠিত ৩৭তম আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াড (International Chemistry Olympiad 2026)-এ অসাধারণ পারফরম্যান্সে পদক জয় দেশের চার প্রতিনিধির। বিশ্বের সেরা তরুণ বিজ্ঞানীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমে ভারতীয় দলটি ১টি স্বর্ণপদক এবং ৩টি রৌপ্যপদক অর্জন করেছে। তরুণ শিক্ষার্থীদের এই অভাবনীয় সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বিশেষ অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    বিজয়ীদের তালিকা ও সাফল্য

    লিথুয়ানিয়ার ভিলনিয়াসে আয়োজিত এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতায় ভারতের চার মেধাবী শিক্ষার্থী তাঁদের পারদর্শিতা প্রমাণ করেছেন। স্বর্ণপদক পেয়েছেন ভাব্য গুণওয়াল। রুপোর পদক গিয়েছে সৌমিল মাইতি, নিশীত কালানি ও আনমোল কুমারের ঝুলিতে। হাইস্কুল স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াড (International Chemistry Olympiad 2026) বিশ্বের অন্যতম কঠিন ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা হিসেবে গণ্য হয়। এখানে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক- উভয় পরীক্ষাতেই কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হয় শিক্ষার্থীদের।

    প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

    এই ঐতিহাসিক জয়ে আনন্দ প্রকাশ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi)। তরুণ বিজ্ঞানীদের কঠোর পরিশ্রম, মেধা ও নিষ্ঠার ভূয়সী প্রশংসাও করেন তিনি। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “এই সাফল্য অত্যন্ত আনন্দের। এটি দেশের আরও বহু শিক্ষার্থীকে বিজ্ঞান চর্চা ও গবেষণায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনে উৎসাহিত করবে।” প্রধানমন্ত্রী (Narendra Modi) বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, ভারতীয় ছাত্র-ছাত্রীরা জীববিজ্ঞানের একাধিক জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ শাখায় নিজেদের গভীর জ্ঞানের পরিচয় দিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে মলিকিউলার বায়োলজি অ্যান্ড বায়োকেমিস্ট্রি (Molecular Biology and Biochemistry), অ্যানিম্যাল ফিজিওলজি (Animal Physiology), অ্যানিম্যাল মরফোলজি অ্যান্ড সিস্টেমেটিক্স (Animal Morphology and Systematics), প্ল্যান্ট কম্পিউটেশনাল বায়োলজি (Plant Computational Biology)।

    ভারতের কৃতিত্ব

    আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের এই ধারাবাহিক সাফল্য বিশ্বজুড়ে দেশের তরুণ বিজ্ঞান প্রতিভার ক্রমবর্ধমান ক্ষমতারই প্রতিফলন। ৩৭ তম আন্তর্জাতিক বায়োলজি অলিম্পিয়াডে চার-এ-চার পদক জয় ভারতের বিজ্ঞান চর্চার ঝুলিতে আরও একটি নতুন ও উজ্জ্বল পালক যুক্ত করল।

  • Bengali Language: সরকারি কাজে এবার বাধ্যতামূলক বাংলা ভাষা! অমিত শাহের চিঠির পর বড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দুর, ১ সেপ্টেম্বর থেকেই কার্যকর

    Bengali Language: সরকারি কাজে এবার বাধ্যতামূলক বাংলা ভাষা! অমিত শাহের চিঠির পর বড় সিদ্ধান্ত শুভেন্দুর, ১ সেপ্টেম্বর থেকেই কার্যকর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইংরেজি নয়, এবার সরকারি কাজে বাংলা ভাষা (Bengali Language)! মাতৃভাষার মর্যাদা বাড়াতে এবং প্রশাসনিক কাজে তার প্রয়োগ বাড়াতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপের সাক্ষী থাকল গোটা রাজ্য। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সরকারি দফতরে প্রশাসনিক কাজের প্রধান ভাষা হবে বাংলা (BengaliLanguage)। সরকারি ফাইল, নোটিস, আদেশ, দফতরের চিঠিপত্র থেকে শুরু করে পুলিশের কাছে FIR দায়ের- সব ক্ষেত্রেই বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। পাশাপাশি, কেন্দ্রের সঙ্গে সরকারি চিঠিপত্র বাংলায় পাঠানো হবে, তবে প্রয়োজনে হিন্দিতেও যোগাযোগ করা যাবে।

    রবিবারের ঘোষণার পর সোমবার বড় সিদ্ধান্ত

    রবিবার কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে ভারতীয় ভাষা বিষয়ক দেশের প্রথম শব্দ জাদুঘর ‘শব্দলোক’ (Museum of Words)-এর উদ্বোধনে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) জানিয়েছিলেন, বাংলা ভাষার মর্যাদা ও প্রশাসনিক ব্যবহারের বিষয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে একটি চিঠি দিয়েছেন। সেখানেই শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, সোমবার সকাল ১১টায় বিধানসভায় সেই চিঠি পড়ে শোনাবেন। সেই প্রতিশ্রুতি মতোই এদিন অধিবেশনের শুরুতে চিঠির মূল বক্তব্য তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপরই তিনি ঘোষণা করেন, ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা (Bengali Language) বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

    কোন কোন ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক?

    রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে-

    • ● ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয়, সচিবালয় এবং প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে ফাইল পরিচালনা, নোটিস, সরকারি আদেশ ও অফিসিয়াল চিঠিপত্র বাংলায় করা হবে।
    • ● আবেদনপত্র, শংসাপত্র, নাগরিক পরিষেবা, ডিজিটাল প্রশাসন, সরকারি পোর্টাল, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, প্রশিক্ষণ সামগ্রী, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এবং সরকারি যোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যমেও বাংলা ভাষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
    • ● পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত পরিষেবায় FIR, অভিযোগ নথিভুক্তকরণ, নাগরিক তথ্য এবং জনসচেতনতামূলক বার্তাও বাংলায় দেওয়া যাবে।
    • ● ভারত সরকারের সঙ্গে সরকারি চিঠিপত্রের ক্ষেত্রেও ইংরেজির পরিবর্তে বাংলাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। প্রয়োজনে হিন্দিতেও চিঠিপত্র আদানপ্রদান করা যাবে।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

    এদিন বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, ‘‘গতকাল অমিত শাহ আমাকে একটি চিঠি দিয়েছেন। তাতে সরকারি কাজকর্মে বাংলা ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে বলেছেন। ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি ক্ষেত্রে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক হবে। আমরা বাংলা ভাষাকে বাধ্যতামূলক কার্যকর করলাম। আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে এই সময়কালে অনুবাদক রাখব। ভারত সরকার ও অন্যান্য রাজ্যের ক্ষেত্রে যে চিঠিপত্র করা হবে, তা বাংলা ভাষাতেই (Bengali Language) করব। উত্তরও দেব। রাজ্যে সমস্ত সরকারি ক্ষেত্রে ১ সেপ্টেম্বর থেকে মাতৃভাষাকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায় মন্ত্রী যে উপদেশ দিয়েছেন, তা গ্রহণ করলাম।’’

    চিঠিতে কী লিখেছিলেন শাহ?

    মুখ্যমন্ত্রীর পড়ে শোনানো চিঠিতে অমিত শাহ উল্লেখ করেন, প্রশাসন, শিক্ষা এবং জনজীবনে ভারতীয় ভাষাগুলির যথাযথ স্থান নিশ্চিত করা উচিত। মানুষের নিজের ভাষায় প্রশাসনিক পরিষেবা পৌঁছে দিলে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা আরও কার্যকর, স্বচ্ছ এবং জনমুখী হবে বলেও তিনি মত প্রকাশ করেছেন। চিঠিতে বাংলা ভাষাকে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে আরও বেশি করে প্রয়োগ এবং উৎসাহিত করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

    বাংলা ভাষার ভূয়সী প্রশংসা শাহের

    অন্যদিকে, রবিবার ন্যাশনাল লাইব্রেরির অনুষ্ঠানে বাংলা ভাষা (Bengali Language) ও সংস্কৃতির ভূয়সী প্রশংসা করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, ‘‘মানুষ ভাষাকে তৈরি করেনি, ভাষাই মানুষকে তৈরি করেছে। কোনও দেশের সংস্কৃতি ভাষা ছাড়া পূর্ণতা পায় না। ভাষাই একটি জাতির ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের বাহক। বাংলা পাঁচ দশক এগিয়ে থেকে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছে।’’ বাংলা সংস্কৃতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঋষি অরবিন্দ এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, ‘‘আজ বাংলা আবার সোনার বাংলা হয়েছে। ভাষার মাধ্যমেই একটি দেশের সংস্কৃতিকে বোঝা যায়। শব্দ ও ভাষা ছাড়া সংস্কৃতি অসম্পূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের যে উদ্যোগ চলছে, এই শব্দ জাদুঘর সেই প্রচেষ্টাকেই আরও শক্তিশালী করবে।’’

    বাংলা ভাষার ঐতিহ্য ও মাধুর্য

    মায়ের মুখে শোনা প্রথম সুর, হৃদয়ে গাঁথা আজীবনের অনুভূতি। বাংলা শুধু একটি ভাষা নয়, এটি বাঙালির সংস্কৃতি, আবেগ, আত্মপরিচয় ও শিকড়ের সবচেয়ে মধুর ঠিকানা। রবীন্দ্রনাথের গান, নজরুলের কবিতা, জীবনানন্দের প্রকৃতিপ্রেম- বাংলার প্রতিটি শব্দে মিশে আছে ইতিহাস, সাহিত্য আর অনুভূতির গভীরতা। প্রায় এক হাজার বছরের ঐতিহ্য বহন করা বাংলা ভাষার (Bengali Language) প্রাচীনতম সাহিত্য নিদর্শন ‘চর্যাপদ’। তবে এই ভাষার ইতিহাস শুধু সাহিত্যচর্চার নয়, আত্মত্যাগেরও। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় বুকের রক্ত ঝরিয়েছিলেন ভাষাসৈনিকরা। সেই ত্যাগের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ ঘোষণা করে। যা ২০০০ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে। আজ ৩০ কোটিরও বেশি মানুষের মুখের ভাষা বাংলা বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ ও বহুল ব্যবহৃত ভাষা। এটি শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বাঙালির গর্ব, ঐতিহ্য, আত্মপরিচয় এবং ভালোবাসার এক অনন্য প্রতীক।

    ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদার পর আরও এক পদক্ষেপ

    সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার বাংলা ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষা (Classical Language)-র মর্যাদা দিয়েছে। সেই ঐতিহাসিক স্বীকৃতির পর এবার প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে বাংলার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল। সরকারের মতে, এর ফলে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা আরও সহজ হবে এবং মাতৃভাষার মর্যাদাও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বাংলা ভাষার ব্যবহার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।

  • Shrabani Mela 2026: ‘জয় বাবা তারকনাথ’! শ্রাবণী মেলায় তারকেশ্বরজুড়ে নিরাপত্তা বলয়, প্রস্তুত বিকল্প রাস্তা

    Shrabani Mela 2026: ‘জয় বাবা তারকনাথ’! শ্রাবণী মেলায় তারকেশ্বরজুড়ে নিরাপত্তা বলয়, প্রস্তুত বিকল্প রাস্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লাখো ভক্তের ঢল ও ৩৭ কিমি হাঁটা পথ- শ্রাবণী মেলায় (Shrabani Mela 2026) বাবা তারকনাথের পুজোয় সেজে উঠছে তারকেশ্বর (Tarakeswar)। পুণ্যার্থীদের সুরক্ষা ও স্বাচ্ছন্দ্যে নজিরবিহীন প্রশাসনিক উদ্যোগ। শ্রাবণ মাসে বাবা তারকনাথের মাথায় জল ঢালতে প্রতি বছর লাখো লাখো ভক্তের সমাগম হয়। এ বছর প্রায় এক কোটি পুণ্যার্থীর ভিড় হতে পারে- এই লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখেই ঢেলে সাজানো হচ্ছে মেলার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সম্প্রতি হরিপাল বিডিও অফিসে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে এই সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা শ্রীরামপুরের বিধায়ক ভাস্কর ভট্টাচার্য, জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি, হুগলি গ্রামীণ পুলিশ সুপার কুনওয়ার ভূষণ সিং এবং পুলিশ কমিশনার সুনীল যাদব। বৈঠক শেষে জানানো হয়, মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশিকা মেনে মেলা প্রাঙ্গণ ও যাত্রাপথের নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়ানো হচ্ছে।

    বিশেষ দিনের সূচি

    জুলাই ও অগাস্ট মাসজুড়ে শ্রাবণী মেলাকে (Shrabani Mela 2026) ছ’টি পর্বে ভাগ করা হয়েছে। ১৪-২০ জুলাই, ২৪-২৭ জুলাই, ৩১ জুলাই-৩ অগাস্ট, ৭-১০ অগাস্ট, ১৪-১৭ অগাস্ট এবং ২২-২৩ অগাস্ট। শনি, রবি ও সোমবার সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়। তাই এই দিনগুলিতে থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা। ছোট গলির আনাজ বিক্রেতাদের সকাল ৯টা পর্যন্ত বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের উদ্যোগে তৈরি করা হবে জলসত্র। এখানে ঠান্ডা গরম দু’রকম জলেরই ব্যবস্থা থাকবে।

    যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও বিকল্প রুট

    মেলা উপলক্ষে উক্ত দিনগুলিতে শ্বেতপুর মোড়, দিল্লি রোড, দীর্ঘাঙ্গী মোড় থেকে ১২ নম্বর রুট, বিঘাটি মোড়, পিয়ারাপুর, চাঁপসরা, বৈদ্যবাটি- তারকেশ্বর রোড, চন্দননগর হাসপাতাল মোড় থেকে বৈদ্যবাটি চৌমাথায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। পাশাপাশি ডালহৌসি জুটমিল, মঞ্জুশ্রী, রিষড়া মৈত্রীপথ ও বাঘখাল পর্যন্ত নো-এন্ট্রি থাকবে। চন্দননগর, ভদ্রেশ্বর, শ্রীরামপুর, রিষড়া এবং উত্তরপাড়া থানা সীমানার প্রধান সড়কগুলিতে অটো, টোটো, ই-রিকশা ও ইঞ্জিন ভ্যান সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে।

    বিকল্প রাস্তার নির্দেশিকা

    • চন্দননগর ও ভদ্রেশ্বর এলাকা: পালপাড়া রোড, বিঘাটি মোড় এবং দিল্লি রোড হয়ে দর্জি মোড় দিয়ে যাতায়াত করা যাবে।
    • শ্রীরামপুর ও রিষড়া এলাকা: অমূল্যকানন, প্রভাসনগর, বটতলা মোড়, জিতেন লাহিড়ী রোড ও ৪ নম্বর রেলগেটের রাস্তা ব্যবহার করা যাবে।
    • উত্তরপাড়া এলাকা: বিশালাক্ষ্মী মোড়, রেললাইনের ধার, সুধীর ঘাট ও ধারসা মোড় দিয়ে বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

    পুণ্যার্থীদের জন্য বিশেষ পরিষেবা ও স্বাস্থ্য অবকাঠামো

    নিমাইতীর্থ ঘাট থেকে গঙ্গার জল তুলে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে তারকেশ্বর মন্দিরে যান ভক্তরা। দীর্ঘ এই যাত্রাপথকে সুগম করতে প্রশাসন একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    • স্বাস্থ্যসেবা- ওয়াটার অ্যাম্বুল্যান্স: শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর (Tarakeswar) পর্যন্ত প্রতি ৫ কিলোমিটার অন্তর ২৪ ঘণ্টার চিকিৎসা কেন্দ্র ও ওষুধ মজুত থাকবে। দ্রুত চিকিৎসার জন্য মণিকমল হাসপাতালেও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গঙ্গায় স্নান ও জল তোলার নিরাপত্তার জন্য ১৪টি ঘাটে নজরদারি চলবে এবং যেকোনও জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকছে ‘ওয়াটার অ্যাম্বুল্যান্স’।
    • পানীয় জল ও পরিচ্ছন্নতা: পঞ্চায়েতগুলির উদ্যোগে সমগ্র যাত্রাপথে আলোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের তরফ থেকে ঠান্ডা ও গরম পানীয় জলের সুব্যবস্থা (জলসত্র) থাকবে। পাশাপাশি পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে বৈদ্যবাটি থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত ১৫০ মিটার অন্তর প্রায় শতাধিক অস্থায়ী ডাস্টবিন বসানো হচ্ছে।
    • সহায়তা ও নজরদারি: প্রতিটি মোড়ে কড়া পুলিশি নজরদারির পাশাপাশি উঁচুতে ওয়াশ টাওয়ার থেকে নজর রাখবে পুলিশ ও কমিশনারেট। পথচলতি পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য বিতরণ করা হবে বিশেষ ‘গাইড ম্যাপ’, যাতে পানীয় জল, শৌচালয় ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অবস্থান স্পষ্ট চিহ্নিত থাকবে। রেলগেটে দুর্ঘটনা এড়াতে জিআরপি ও অতিরিক্ত পুলিশকর্মী রাখা হচ্ছে। সুবিধার জন্য অতিরিক্ত ট্রেন চালাবে পূর্ব রেলও।

    ঐতিহ্যের তারকেশ্বর

    কলিকাতা থেকে মাত্র ৫৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত প্রাচীন এই শৈবতীর্থ। হাওড়া থেকে দেড় ঘণ্টার ট্রেনযাত্রায় পৌঁছানো যায় তারকেশ্বর (Tarakeswar) স্টেশনে। আটচালা স্থাপত্যের ঐতিহ্যমণ্ডিত এই মন্দিরে গর্ভগৃহে বিরাজ করছেন স্বয়ং বাবা তারকনাথ। মন্দিরের পশ্চিমে রয়েছে ঐতিহাসিক ‘দুধ পুকুর’ বা শিবগঙ্গা। ভক্তদের বিশ্বাস, শ্রাবণ মাসে বৈদ্যবাটির নিমাইতীর্থ ঘাট থেকে গঙ্গার জল এনে শ্রাবণে বাবা তারকনাথকে স্নান করালে সকল মনোবাসনা পূর্ণ হয়। প্রশাসনের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ প্রসঙ্গে মন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য জানান, “মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে শ্রাবণী মেলাকে (Shrabani Mela 2026) এবার এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পুণ্যার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার ও প্রশাসন পুরোপুরি বদ্ধপরিকর।”

  • High Court: হাইকোর্টে ধাক্কা কালীঘাট তৃণমূলের! আপাতত ফ্রিজই থাকবে তিন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট

    High Court: হাইকোর্টে ধাক্কা কালীঘাট তৃণমূলের! আপাতত ফ্রিজই থাকবে তিন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা হাইকোর্টে (High Court) বড় ধাক্কা খেল কালীঘাট তৃণমূল শিবির। ইডির ফ্রিজ করা তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। কিন্তু সোমবার সেই আবেদন খারিজ করে দিল বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এই মুহূর্তে ইডির সিদ্ধান্তে কোনও হস্তক্ষেপ করা হবে না। ফলে তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট (TMC Bank Account) আপাতত ফ্রিজ অবস্থাতেই থাকবে।

    ৪৪০ কোটি টাকার তিন অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ

    ইডি (ED) তৃণমূলের যে তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট (TMC Bank Account) ফ্রিজ করেছে, ওই তিনটি অ্যাকাউন্টে মোট প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা রয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়েছে। এই অর্থ দলীয় সাংগঠনিক কাজ এবং দৈনন্দিন খরচে ব্যবহার করার অনুমতি চেয়ে আদালতের (High Court) দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট শিবির। পাশাপাশি, ইডির সিদ্ধান্তের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশের আবেদনও জানানো হয়। তবে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি।

    আগের নির্দেশই বহাল

    ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, আপাতত আগের নির্দেশই কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ, ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্টগুলির অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী আদালতের নির্দেশ মেনেই চলতে হবে। ইডির সিদ্ধান্তে এই মুহূর্তে কোনও পরিবর্তন আনা হচ্ছে না।

    স্পেশ্যাল অফিসারের তত্ত্বাবধানে চলবে অ্যাকাউন্ট

    এর আগে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ শর্তসাপেক্ষে ফ্রিজ হওয়া অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। আদালত একজন স্পেশ্যাল অফিসার নিয়োগ করে জানায়, তাঁর তত্ত্বাবধানেই অ্যাকাউন্টগুলি পরিচালিত হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে যে কোনও দু’জনের স্বাক্ষর করা চেকে স্পেশ্যাল অফিসারের পাল্টা স্বাক্ষর থাকলেই ব্যাঙ্ক থেকে অর্থ তোলা যাবে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্পেশ্যাল অফিসার অ্যাকাউন্টগুলির দায়িত্বে থাকবেন।

    ভেঙে খান-খান তৃণমূল

    বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন তীব্র হয়েছে। দলের একাধিক বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে অনাস্থা জানিয়ে পৃথক শিবিরে যোগ দিয়েছেন। আলাদা হয়েছে কালীঘাট তৃণমূল ও ঋতব্রত তৃণমূল। পাশাপাশি, তৃণমূলের ২০ জন সাংসদও এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ায় দলীয় নেতৃত্ব, তহবিল এবং নির্বাচনী প্রতীকের ব্যবহার নিয়ে বিরোধ আরও প্রকট হয়েছে। দলীয় নেতৃত্ব, তহবিল এবং সংগঠন নিয়ে চলা রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহেই এই মামলার শুনানি ঘিরে নজর ছিল রাজনৈতিক মহলের। সোমবারের নির্দেশে স্পষ্ট, আপাতত ইডির ফ্রিজ করার সিদ্ধান্তই বহাল থাকছে। মামলার পরবর্তী শুনানিতে এই বিষয়ে নতুন কোনও নির্দেশ আসে কি না, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্ট মহলের।

LinkedIn
Share