Tag: বাংলা খবর

  • Suvendu Government Full Cabinet: পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠিত, শপথ নিলেন ৩৫ মন্ত্রী, দেখুন পূর্ণ তালিকা

    Suvendu Government Full Cabinet: পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠিত, শপথ নিলেন ৩৫ মন্ত্রী, দেখুন পূর্ণ তালিকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে প্রথম বিজেপি সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হল সোমবার। কলকাতার লোকভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজ্যপাল আরএন রবি মোট ৩৫ জন বিধায়ককে মন্ত্রী হিসেবে শপথবাক্য পাঠ করান। নতুন মন্ত্রিসভায় ১৩ জন পূর্ণমন্ত্রী, ৩ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁদের মধ্যে দফতর বণ্টনের ঘোষণা করা হয়নি। এর আগে গত ৯ মে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই সময় তাঁর সঙ্গে প্রথম দফায় শপথ গ্রহণ করেন অগ্নিমিত্রা পাল, দিলীপ ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক, অশোক কীর্তনিয়া এবং ক্ষুদিরাম টুডু। ইতিমধ্যেই তাঁদের দফতর নির্ধারণ করা হয়েছে।

    ‘বন্দেমাতরম’, ‘জন গণ মন’-তে অনুষ্ঠানের সূচনা

    সোমবারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয় জাতীয় গান ‘বন্দেমাতরম’ এবং জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-র মাধ্যমে। এরপর মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল একে একে নবনিযুক্ত মন্ত্রীদের নাম ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিধায়করা ছাড়াও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালসহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা। লোকভবনে শপথ নিতে আসা অধিকাংশ নেতাকেই দেখা যায় ধুতি-পাঞ্জাবি বা ঐতিহ্যবাহী বাঙালি পোশাকে। অনেকেই পরিবার-পরিজনকে সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

    পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন—

    • দীপক বর্মন (ফালাকাটা)
    • তাপস রায় (মানিকতলা)
    • মনোজকুমার ওঁরাও (কুমারগ্রাম)
    • শঙ্কর ঘোষ (শিলিগুড়ি)
    • জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় (সিউড়ি)
    • স্বপন দাশগুপ্ত (রাসবিহারী)
    • অর্জুন সিং (নোয়াপাড়া)
    • গৌরীশংকর ঘোষ (মুর্শিদাবাদ)
    • অরূপকুমার দাস (সিঙ্গুর)
    • দুধকুমার মণ্ডল (ময়ূরেশ্বর)
    • শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (বিধাননগর)
    • কল্যাণ চক্রবর্তী (খড়দা)
    • অজয়কুমার পোদ্দার (কুলটি)

    স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন—

    • মালতী রাভা রায় (তুফানগঞ্জ)
    • রাজেশ মাহাতো (গোপীবল্লভপুর)
    • ইন্দ্রনীল খাঁ (বেহালা পশ্চিম)

    প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন—

    • জুয়েল মুর্মু (হবিবপুর)
    • আনন্দময় বর্মন (মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি)
    • অশোক দিন্দা (ময়না)
    • শান্তনু প্রামাণিক
    • উমেশ রাই
    • পূর্ণিমা চক্রবর্তী
    • কৌশিক চৌধুরী
    • দিবাকর ঘরামি
    • কলিতা মাজি
    • গার্গী দাস ঘোষ
    • দীপঙ্কর জানা
    • সুমনা সরকার
    • হরেকৃষ্ণ বেরা (তমলুক)
    • বিশাল লামা (কালচিনি)
    • মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র (বর্ধমান দক্ষিণ)
    • নাদিয়ার চাঁদ বাউরি (পারা)
    • বিরাজ বিশ্বাস (করণদিঘি)
    • ভাস্কর ভট্টাচার্য (শ্রীরামপুর)
    • অমিয় কিস্কু (নয়াগ্রাম)

    এদিকে রাজনৈতিক মহলের নজর এখন নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে দফতর বণ্টনের দিকে। সূত্রের খবর, শপথগ্রহণের পর নবনিযুক্ত মন্ত্রীরা সরাসরি নবান্নে যান এবং সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর দফতর বণ্টন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা হতে পারে। সরকার গঠনের মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন হওয়ায় প্রশাসনিক কাজকর্মে গতি আসবে বলেই মনে করছে শাসক শিবির।

  • Women Free Bus Travel: কথা দিয়েছিলেন শুভেন্দু, আজ থেকে সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য শূন্য ভাড়া, কীভাবে মিলবে সুবিধা?

    Women Free Bus Travel: কথা দিয়েছিলেন শুভেন্দু, আজ থেকে সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য শূন্য ভাড়া, কীভাবে মিলবে সুবিধা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্য জুড়ে মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াত পরিষেবা সোমবার, ১ জুন থেকে কার্যকর হল। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এই প্রকল্প চালুর ঘোষণা করেছিল। সেই ঘোষণামতো আজ থেকে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি পরিবহণ সংস্থার বাসে মহিলাদের আর কোনও ভাড়া দিতে হচ্ছে না।

    কোন কোন বাসে মিলবে এই সুবিধা?

    রাজ্যের সমস্ত সরকারি বাস পরিষেবাতেই এই সুবিধা কার্যকর হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

    • ● এনবিএসটিসি (NBSTC)
    • ● এসবিএসটিসি (SBSTC)
    • ● ডব্লিউবিটিসি (WBTC)
    • ● সিটিসি (CTC)

    শহর ও শহরতলির ছোট রুট থেকে শুরু করে দূরপাল্লার বাস—সব ক্ষেত্রেই মহিলারা বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন। অর্থাৎ হাওড়া-মানিকতলা থেকে দীঘা-দার্জিলিং—সব সরকারি বাস রুটেই এই সুবিধা প্রযোজ্য। বাসে উঠলে মহিলা যাত্রীদের ‘জিরো ভ্যালু টিকিট’ (Zero Value Ticket) দেওয়া হচ্ছে, যা বিনামূল্যে যাত্রার সরকারি নথি হিসেবে কাজ করবে।

    আসছে ‘পিঙ্ক কার্ড’

    প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং অপব্যবহার রুখতে রাজ্য সরকার শীঘ্রই মহিলাদের জন্য বিশেষ ‘পিঙ্ক কার্ড’ (Pink Card) চালু করবে। এই স্মার্ট কার্ডটি মূলত একটি ‘ফ্রি ট্রাভেল পাস’ হিসেবে কাজ করবে। বাসে ওঠার পর কন্ডাক্টরের কাছে থাকা ই-পস (e-POS) মেশিনে কার্ড সোয়াইপ বা QR কোড স্ক্যান করলেই যাত্রী ‘জিরো ভ্যালু টিকিট’ সংগ্রহ করতে পারবেন। সরকারের মতে, মহিলাদের পরিচয়ে অন্য কেউ যাতে বিনা ভাড়ায় যাতায়াত করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতেই এই কার্ড চালু করা হচ্ছে।

    পিঙ্ক কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা

    পিঙ্ক কার্ড পেতে হলে—

    • ● আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
    • ● কোনও নির্দিষ্ট বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়নি।
    • ● কার্ড সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হবে।
    • ● এটি হস্তান্তরযোগ্য নয় (Non-transferable)।
    • ● যাঁর নামে কার্ড ইস্যু হবে, শুধুমাত্র তিনিই তা ব্যবহার করতে পারবেন।

    কীভাবে আবেদন করবেন?

    পিঙ্ক কার্ডের জন্য আবেদন করা যাবে অফলাইন ও অনলাইন—দুই পদ্ধতিতেই।

    অফলাইনে

    নিম্নলিখিত সরকারি দফতর থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ করা যাবে—

    • ● বিডিও (BDO) অফিস
    • ● এসডিও (SDO) অফিস
    • ● পুরসভা (Municipality) অফিস

    অনলাইনে

    সরকারের নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে।

    প্রয়োজনীয় নথি

    আবেদনের সময় জমা দিতে হবে—

    • ● আধার কার্ড
    • ● ভোটার কার্ড
    • ● রঙিন পাসপোর্ট সাইজ ছবি
    • ● ঠিকানার প্রমাণপত্র

    পিঙ্ক কার্ড না থাকলেও কি ফ্রি ভ্রমণ করা যাবে?

    হ্যাঁ। বর্তমানে পিঙ্ক কার্ড তৈরি ও বিতরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। তাই কার্ড হাতে না পাওয়া পর্যন্ত মহিলারা পরিচয়পত্র দেখিয়েই বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারবেন। বাসে উঠে কন্ডাক্টরকে বৈধ পরিচয়পত্র দেখালে তিনি একটি ‘জিরো ভ্যালু টিকিট’ প্রদান করবেন। এ বিষয়ে বাসকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি বাসে ইতিমধ্যেই নির্দেশিকা ও তথ্যপত্র টাঙানো হয়েছে।

    কোন পরিচয়পত্র দেখাতে হবে?

    সরকার অনুমোদিত নিম্নলিখিত পরিচয়পত্রগুলির মধ্যে যেকোনও একটি দেখালেই বিনামূল্যে যাতায়াত করা যাবে—

    • ● আধার কার্ড (Aadhaar Card)
    • ● ভোটার পরিচয়পত্র (Voter ID/EPIC)
    • ● প্যান কার্ড (PAN Card)
    • ● ড্রাইভিং লাইসেন্স (Driving Licence)
    • ● পাসপোর্ট (Passport)
    • ● এমজিএনআরইজিএ জব কার্ড (MGNREGA Job Card)
    • ● ছবিসহ যেকোনও সরকারি বা পেনশন সংক্রান্ত পরিচয়পত্র

    আপাতত কী করতে হবে?

    পিঙ্ক কার্ড চালু না হওয়া পর্যন্ত মহিলা যাত্রীদের শুধু বৈধ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখলেই হবে। সরকারি বাসে উঠে পরিচয়পত্র দেখিয়ে ‘জিরো ভ্যালু টিকিট’ সংগ্রহ করেই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যাতায়াত করা যাবে।

  • ABVP: ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে গবেষণা ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পক্ষেত্রের যৌথ অংশীদারিত্বের আহ্বান এবিভিপির

    ABVP: ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে গবেষণা ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পক্ষেত্রের যৌথ অংশীদারিত্বের আহ্বান এবিভিপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের গবেষণা ও উদ্ভাবনী পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করতে এবং ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন পূরণ করতে ভারতের বেসরকারি শিল্পক্ষেত্র ও উদ্যোক্তাদের গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) খাতে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর আহ্বান জানাল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)। ওড়িশার ভুবনেশ্বরে আয়োজিত সংগঠনের তিন দিনব্যাপী জাতীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ (NEC) বৈঠকে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং এ সংক্রান্ত প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। শিক্ষার সঙ্গে শিল্পক্ষেত্রের সমন্বয় না ঘটলে গবেষণার প্রকৃত বিকাশ সম্ভব নয়— এই মূল বার্তাটিই উঠে এসেছে এবিভিপি-র শীর্ষ নেতৃত্বের আলোচনা থেকে।

    জিডিপির ১ শতাংশেরও কম খরচ গবেষণায় (ABVP)

    এবিভিপি-র (ABVP) জাতীয় সাধারণ সম্পাদক ডক্টর বীরেন্দ্র সিং সোলাঙ্কি বৈঠকে ভারতের বর্তমান গবেষণা ব্যবস্থার একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “বর্তমানে ভারত তার মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (GDP) ১ শতাংশেরও কম অংশ গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) খাতে ব্যয় করে। সবচেয়ে বড় বিষয়, এই খরচের প্রায় ৬০ শতাংশই আসে সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান যেমন— ইসরো (ISRO), ডিআরডিও (DRDO) এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় আইআইটি বা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মাধ্যমে। বৈশ্বিক মঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অবস্থানকে ধরে রাখতে হলে এই ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের অবদান বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।”

    উদীয়মান প্রযুক্তিতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের প্রয়োজন

    এবিভিপির (ABVP) পক্ষ থেকে ভারতীয় শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, দেশের তরুণ প্রতিভাদের কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদি যৌথ অংশীদারিত্বের (Industry-Academia Partnership) মডেল তৈরি করতে হবে। বিশেষ করে সমসাময়িক এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়ানোর অনুরোধ করা হয়েছে। এই ক্ষেত্রগুলি হল-

    • ● কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) ও কোয়ান্টাম টেকনোলজি।
    • ● সাইবার নিরাপত্তা (Cybersecurity) এবং বায়োটেকনোলজি।
    • ● পরিবেশবান্ধব বা পরিচ্ছন্ন শক্তি (Clean Energy)।

    এবিভিপি সংগঠনের মতে, এই উদীয়মান খাতগুলিতে বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি কেবল দেশের উদ্ভাবনী ক্ষমতাই বাড়াবে না, বরং গবেষণা খাতে ভারতের সামগ্রিক জাতীয় ব্যয় বৃদ্ধিতেও সাহায্য করবে।

    ডিগ্রি অর্জনের ঊর্ধ্বে গিয়ে দেশ গঠন

    ডক্টর সোলাঙ্কি তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, “এবিভিপি (ABVP) সব সময়ই বিশ্বাস করে যে শিক্ষা মানে কেবল মাত্র একটি ডিগ্রি অর্জন বা চাকরি পাওয়া নয়; শিক্ষা হল দেশ গঠন এবং নতুন জ্ঞান সৃষ্টির মূল ভিত্তি।” তিনি আরও বলেন, “শিল্পক্ষেত্রের সম্পদ ও পরিকাঠামোর সঙ্গে যদি আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির মেধা ও দক্ষতার সঠিক মেলবন্ধন ঘটানো যায়, তবে তা ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ে তোলার জাতীয় সংকল্পকে এক অভূতপূর্ব গতি প্রদান করবে। গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অনুঘটক নয়, এটি ভারতের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্বের এক অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।”

    জাতীয় নিরাপত্তা ও শিক্ষা সংস্কার নিয়ে ব্যাপক মন্থন

    ভুবনেশ্বরের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এই তিন দিনের জাতীয় বৈঠকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রায় ৫০০ জন ছাত্রনেতা, শিক্ষাবিদ ও প্রতিনিধি অংশ নেন। গবেষণা ও শিল্পক্ষেত্রের অংশীদারিত্ব ছাড়াও এই সম্মেলনে জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP) ২০২০-র বাস্তবায়ন, ত্রি-ভাষা নীতি, ক্যাম্পাস স্তরে ছাত্র সংসদ নির্বাচন পরিচালনা, নারী নিরাপত্তা এবং ‘আর্বান নকশাল’ বা শহুরে মাওবাদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সমসাময়িক বিষয়গুলি নিয়ে গভীর আলোচনা (NEC) হয়। ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির উপস্থিতিতে একটি নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই সম্মেলনের আবহ তৈরি হয়েছিল, যা আগামী দিনে দেশের শিক্ষাঙ্গনে নতুন জাতীয়তাবাদী চিন্তার প্রসার ঘটাতে ছাত্র সমাজকে আরও উদ্বুদ্ধ করবে বলে আশাবাদী এবিভিপি (ABVP) নেতৃত্ব।

  • CDS: দেশের নতুন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব নিলেন জেনারেল এনএস রাজা সুব্রমণি, দেওয়া হলো গার্ড অব অনার

    CDS: দেশের নতুন চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব নিলেন জেনারেল এনএস রাজা সুব্রমণি, দেওয়া হলো গার্ড অব অনার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ সামরিক কর্মকর্তা বা চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (CDS) হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন জেনারেল এনএস রাজা সুব্রমণি (General NS Raja Subramani)। রবিবার, ৩১ মে, রাজধানী দিল্লির সাউথ ব্লকের লনে এক জমকালো ও আনুষ্ঠানিক ‘গার্ড অব অনার’ প্রদানের মাধ্যমে তাঁর এই নতুন কার্যকাল শুরু হয়।

    জেনারেল অনিল চৌহান গত ৩০ মে তাঁর কার্যকাল সম্পন্ন করার পর, জেনারেল রাজা সুব্রমণি দেশের তৃতীয় সিডিএস হিসেবে এই শীর্ষ সামরিক পদের ব্যাটন নিজের হাতে তুলে নিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি জাতীয় যুদ্ধ স্মারকে (National War Memorial) গিয়ে দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গকারী বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

    মোদির জেএআই (JAI) মন্ত্রেই জোর নতুন সিডিএস-এর (CDS)

    সিডিএস (CDS) পদে দায়িত্ব গ্রহণের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জেনারেল রাজা সুব্রমণি (General NS Raja Subramani) দেশের নিরাপত্তা জোরদার এবং সামরিক আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, “চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে পেরে আমি অত্যন্ত সম্মানিত বোধ করছি। সশস্ত্র বাহিনীর ওপর দেশ যে আস্থা রেখেছে, তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। ভারতীয় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এবং সমস্ত কৌশলগত প্রতিষ্ঠান একজোট হয়ে দেশের সুরক্ষাকে আরও মজবুত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

    তিনি আরও উল্লেখ করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া বিশেষ দর্শন জেএআই ‘JAI’ অর্থাৎ Jointness-যৌথতা, Atma Nirbharta-আত্মনির্ভরতা এবং Innovation-উদ্ভাবন-কে বাস্তবায়িত করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য। তিন বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়, একীকরণ এবং সাংগঠনিক সংস্কারের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিয়ে কাজ করবো।

    দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি ও আধুনিকীকরণ

    প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতকে স্বাবলম্বী করার বার্তা দিয়ে নতুন সিডিএস (CDS) বলেন, “আত্মনির্ভরতা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। আমাদের সশস্ত্র বাহিনীতে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের বিকাশ, অন্তর্ভুক্তি এবং ব্যবহারকে আমরা আরও দ্রুত গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাব।” তিনি আরও বলেন, “আধুনিকিকরণের জন্য সেনাবাহিনী, শিল্পক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্টার্ট-আপ এবং গবেষণা সংস্থাগুলির মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো হবে।”

    চার দশকের গৌরবোজ্জ্বল সামরিক ক্যারিয়ার

    চলতি বছরের ৯ মে ভারত সরকার জেনারেল এনএস রাজা সুব্রমণিকে (General NS Raja Subramani) পরবর্তী সিডিএস এবং একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ডিপার্টমেন্ট অফ মিলিটারি অ্যাফেয়ার্স’-এর সচিব হিসেবে নিযুক্ত করার কথা ঘোষণা করেছিল।

    গত চার দশকেরও বেশি সময়ের দীর্ঘ সামরিক জীবনে তিনি বহু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন:

    • ১৯৮৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর তিনি ‘৮ম ব্যাটালিয়ন গড়োয়াল রাইফেলস’-এ কমিশন লাভ করেন।
    • ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ থেকে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ সচিবালয়ের (NSCS) সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
    • এর আগে তিনি ১ জুলাই, ২০২৪ থেকে ৩১ জুলাই, ২০২৫ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর সহ-প্রধান (Vice Chief of the Army Staff) এবং তারও আগে সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান (GOC-in-C) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
    • আসামে ‘অপারেশন রাইনো’ চলাকালীন কাউন্টার-ইনসার্জেন্সি অপারেশন, জম্মু-কাশ্মীরে ১৬৮ ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেড এবং ওয়েস্টার্ন ফ্রন্টে ভারতীয় সেনার অন্যতম প্রধান স্ট্রাইক কোর ‘২ কর্পস’-এর নেতৃত্ব দেওয়ার ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

    পশ্চিম ও উত্তর সীমান্ত অঞ্চলের জটিল সামরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান ও রণকৌশলগত দক্ষতার জন্য সেনাবাহিনীতে তাঁর বিশেষ সুনাম রয়েছে। দেশের প্রতিরক্ষায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ইতিমধ্যেই পরম বিশিষ্ট সেবা মেডেল (PVSM), অতি বিশিষ্ট সেবা মেডেল (AVSM), সেনা মেডেল (SM) এবং বিশিষ্ট সেবা মেডেল (VSM)-এ ভূষিত হয়েছেন। পূর্বসূরি প্রয়াত জেনারেল বিপিন রাওয়াত এবং বিদায়ী সিডিএস জেনারেল অনিল চৌহানের দেখানো পথেই তিন বাহিনীর থিয়েটারাইজেশন (যৌথ কম্যান্ড গঠন) প্রক্রিয়াকে তিনি আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

  • Ghaziabad Murder: গাজিয়াবাদে বকরিদ পার্টির নামে ডেকে হিন্দু যুবককে খুনে মূল অভিযুক্ত আসাদ পুলিশি এনকাউন্টারে খতম

    Ghaziabad Murder: গাজিয়াবাদে বকরিদ পার্টির নামে ডেকে হিন্দু যুবককে খুনে মূল অভিযুক্ত আসাদ পুলিশি এনকাউন্টারে খতম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের (Ghaziabad Murder) খোড়া এলাকায় ১৭ বছর বয়সী হিন্দু যুবক সূর্য প্রতাপ চৌহানকে (Surya Pratap Chauhan) নৃশংসভাবে ছুরি মেরে খুনের ঘটনায় এক নাটকীয় মোড় এল। ঘটনার মূল অভিযুক্ত আসাদ শনিবার গভীর রাতে খোড়া এলাকায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশের সঙ্গে এক এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে। তার মাথার উপর ৫০,০০০ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল।

    টাকা সংগ্রহ করে পালানোর ছক বানচাল (Ghaziabad Murder)

    গাজিয়াবাদের (Ghaziabad Murder) ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (ডিপিসি) ধবল জয়সওয়াল জানিয়েছেন, পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পায় যে আসাদ খোড়া থানা এলাকায় তার কিছু সহযোগীদের সঙ্গে দেখা করতে আসছে। সেখান থেকে টাকা সংগ্রহ করে শহর ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার ছক ছিল তার (Surya Pratap Chauhan)।

    পুলিশের ওপর গুলি ও পাল্টা এনকাউন্টার

    সূত্রে আরও জানা গিয়েছে খোড়া ও ইন্দিরাপুরম থানার পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং বিভিন্ন মোড়ে ব্যারিকেড বসিয়ে তল্লাশি শুরু করে। সেই সময় একটি মোটরসাইকেলে চড়ে আসাদকে তার এক সহযোগীর সঙ্গে আসতে দেখে পুলিশ।

    পুলিশের পক্ষ থেকে মোটরসাইকেলটি (Ghaziabad Murder) থামানোর চেষ্টা করা হলে আসাদ আত্মসমর্পণ করার পরিবর্তে পুলিশ বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। দুপক্ষের এই তীব্র গুলি বিনিময়ের মাঝে আসাদ গুরুতরভাবে গুলিবিদ্ধ হয়।

    রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা আসাদকে (Surya Pratap Chauhan) মৃত ঘোষণা করেন। এই গুলি বিনিময়ের সময় উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এক কনস্টেবলও হাতে গুলি লেগে আহত হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছে এবং তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল। ঘটনাস্থল থেকে আসাদের ব্যবহৃত বাইক এবং একটি দেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে, তবে তার সহযোগী অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

    বকরিদের দিন ছাগল কোরবানির উপমা দিয়ে খুনের অভিযোগ

    উল্লেখ্য, গত ২৮ মে খোড়া (Ghaziabad Murder) কলোনিতে একাদশ শ্রেণির ছাত্র সূর্য প্রতাপ চৌহানকে পেটে একাধিকবার ছুরি মেরে খুন করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, অভিযুক্ত আসাদ সূর্যকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসা করেছিল, “তুই কখনো ছাগল কোরবানি হতে দেখেছিস?” সূর্য (Surya Pratap Chauhan) ‘না’ বলে চলে যেতে চাইলে আসাদ বলে, “আয়, তোকে দেখাই”— এবং এরপরই তাকে একের পর এক ছুরির কোপ মারা হয়।

    চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সূর্যের মৃত্যুর পর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা দোষীদের কঠোর শাস্তি ও তাদের বাড়িতে বুলডোজার চালানোর দাবিতে খোড়া থানার বাইরে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

    “বাকিদেরও এনকাউন্টার চাই”, দাবি মৃতের মায়ের

    আসাদের এনকাউন্টারে মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর সূর্যের পরিবার স্বস্তি প্রকাশ করলেও তাদের ক্ষোভ কমেনি। সূর্যের (Surya Pratap Chauhan) মা সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি জানিয়েছেন, তিনি আসাদের মৃতদেহের ছবি দেখতে চান যাতে নিশ্চিত হতে পারেন। তিনি বলেন, “আমার ছেলেকে মোট সাতজন মিলে এই হাল করেছিল। আমি আসাদের ছবি দেখে শান্ত হতে চাই এবং বাকি অপরাধীদেরও একই রকম এনকাউন্টার চাই। সবার ঘরবাড়ির ওপর বুলডোজার চালানো উচিত।”

    পুলিশ (Ghaziabad Murder) জানিয়েছে, এই মামলায় ইতিমধ্যেই ফারহান, আসিফ এবং নবাব-সহ তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

  • Ahilyabai Holkar: পুণ্যশ্লোক অহল্যাবাই হোলকারের জন্মজয়ন্তী, সুশাসন, করুণা ও সাহসের এক ঐতিহাসিক ভারতীয় প্রতীক

    Ahilyabai Holkar: পুণ্যশ্লোক অহল্যাবাই হোলকারের জন্মজয়ন্তী, সুশাসন, করুণা ও সাহসের এক ঐতিহাসিক ভারতীয় প্রতীক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৩১ মে সারা দেশজুড়ে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে উদযাপিত হল পুণ্যশ্লোক অহল্যাবাই হোলকারের (Ahilyabai Holkar) জন্মজয়ন্তী (Birth Anniversary)। তিনি কেবল অষ্টাদশ শতাব্দীর মালব সাম্রাজ্যের এক দূরদর্শী রানিই ছিলেন না, বরং ছিলেন ভারতীয় শাসনব্যবস্থা, সংস্কৃতি সংরক্ষণ এবং জনকল্যাণমূলক রাজনীতির এক শাশ্বত ও কালজয়ী প্রতীক। আজ যখন ভারত নতুন মহাসড়ক, ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং এআই (AI) প্রযুক্তির হাত ধরে এক নতুন যুগের দিকে এগিয়ে চলেছে, তখন অহল্যাবাই হোলকারের শাসন দর্শন আধুনিক ভারতের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

    এক সাধারণ গ্রাম থেকে লোকমাতা হয়ে ওঠার যাত্রা (Ahilyabai Holkar)

    ১৭২৫ সালে বর্তমান মহারাষ্ট্রের চোন্ডি নামক একটি ছোট গ্রামে অহল্যাবাইয়ের (Ahilyabai Holkar) জন্ম হয় (Birth Anniversary)। তাঁর ক্ষমতার পথ সহজ ছিল না। জীবনজুড়ে ব্যক্তিগত ক্ষতি, অকাল বৈধব্য এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও তিনি অসীম সাহসের সঙ্গে ইন্দোরের হোলকার রাজবংশের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। যে যুগে নারীদের পক্ষে জনসমক্ষে নেতৃত্ব দেওয়া অত্যন্ত বিরল ও কঠিন ছিল, সেখানে তিনি নিজের শৃঙ্খলা এবং সেবামূলক মানসিকতার মাধ্যমে সমাজের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছিলেন। প্রজারা তাঁকে ভালোবেসে ‘লোকমাতা’ বলে ডাকতেন, কারণ তাঁর শাসন ক্ষমতার ভিত্তি ভয় নয়, বরং ছিল জনগণের আস্থা, ন্যায়বিচার ও গভীর করুণা।

    আধুনিক সুশাসনের আদি রূপকার

    আজকে আমরা রাজনীতিতে যে সমস্ত আধুনিক শব্দ বা নীতি যেমন — সুশাসন (Good Governance), নারী নেতৃত্বাধীন উন্নয়ন (Women-led development), এবং ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবন (Heritage Restoration)-এর কথা শুনি, কয়েক শতাব্দী আগে অহল্যাবাই তার বাস্তবে রূপ দিয়ে দেখিয়েছিলেন। অহল্যাবাই (Ahilyabai Holkar) তাঁর রাজধানী মহেশ্বরকে (Maheshwar) কেবল ক্ষমতার কেন্দ্র হিসেবে নয়, বরং শিল্প, সংস্কৃতি ও জীবিকার এক পুণ্যভূমি হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। বিখ্যাত ‘মহেশ্বরী শাড়ি’-র বয়ন ঐতিহ্যকে তিনি রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে স্থানীয় অর্থনীতির এক মজবুত ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।

    সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো ও জাতীয় চেতনা গঠন

    সাম্রাজ্য বিস্তার বা সম্পদ সঞ্চয়ের চেয়েও অহল্যাবাই (Ahilyabai Holkar) বেশি স্মরণীয় হয়ে আছেন ভারতের পবিত্র ভূখণ্ডকে পুনর্গঠন করার জন্য। কাশী (বারাণসী), সোমনাথ, দ্বারকা, গয়া এবং রামেশ্বরম-সহ সমগ্র ভারতের বহু প্রাচীন ও পবিত্র তীর্থক্ষেত্র এবং মন্দিরগুলি তিনি সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করেন। রাস্তাঘাট, ঘাট, কুয়ো ও ধর্মশালা তৈরি করে তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে আধ্যাত্মিক ও মানসিকভাবে এক সুতোয় বেঁধেছিলেন। আজকের পরিভাষায় যাকে ‘সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো’ (Cultural Infrastructure) বলা হয়, অহল্যাবাইয়ের কাছে তা ছিল স্রেফ ‘ধর্ম ও কর্তব্য’।

    নারী ক্ষমতায়নে এক অনন্য মডেল

    আধুনিক ভারতের তরুণী ও নারীদের জন্য অহল্যাবাই হোলকারের (Ahilyabai Holkar) জীবন এক মস্ত বড় অনুপ্রেরণা। তিনি দেখিয়েছিলেন যে, নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য কাউকে নিজের সহজাত মানবিক গুণাবলি বা কোমলতা বিসর্জন দিতে হয় না। তাঁর করুণা তাঁকে দুর্বল করেনি এবং তাঁর আধ্যাত্মিকতা তাঁকে কর্মবিমুখ করেনি। তিনি একই সঙ্গে ছিলেন প্রশাসনিকভাবে আধুনিক, রণকৌশলে পারদর্শী এবং সনাতন ধর্মের প্রতি গভীরভাবে আস্থাশীল। তাঁর শ্বশুর মলহার রাও হোলকার যেভাবে তাঁর ভেতরের প্রতিভাকে চিনে দায়িত্ব দিয়েছিলেন, তা আজকের কর্পোরেট জগত বা পারিবারিক ব্যবস্থার জন্যও একটি বড় শিক্ষা। তাঁর জন্মদিনে (Birth Anniversary) আধুনিক ভারতীয় নারী সমাজকে ভালো করে জানাশোনা দরকার।

    ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে অহল্যাবাইয়ের প্রাসঙ্গিকতা

    আজ ২০৪৬-৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত’ (Viktis Bharat) গড়ে তোলার লক্ষ্যে এগোনোর সময়েও অহল্যাবাইয়ের নীতি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে প্রযুক্তি বা উন্নয়ন যেন মানুষের চেয়ে বড় না হয়ে ওঠে। উন্নয়ন যেন সমাজের শেষ প্রান্তের মানুষটির কাছেও পৌঁছায়।

    যদি অহল্যাবাই (Ahilyabai Holkar) আজ আমাদের মাঝে থাকতেন, তবে তিনি নিশ্চয়ই জানতে চাইতেন— প্রযুক্তি কি মানুষের জীবনের অস্থিরতা বাড়াচ্ছে, নাকি সমাজের সেবা করছে? এআই (AI) কি মানুষের কর্মসংস্থান কেড়ে নিচ্ছে, নাকি নতুন দিগন্তের উন্মোচন করছে?

    প্রায় তিন শতাব্দী পরেও পুণ্যশ্লোক অহল্যাবাই হোলকার (Ahilyabai Holkar) আমাদের কাছে দূর অতীতের কোনও চরিত্র নন, বরং এক অত্যন্ত প্রয়োজনীয় আদর্শ। তাঁর দেখানো পথ আমাদের মনে করিয়ে দেয় — ক্ষমতা যখন জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকে এবং উন্নয়ন যখন মানবিক রূপ পায়, একমাত্র তখনই একটি সভ্যতা দীর্ঘকাল টিকে থাকে এবং বিশ্বমঞ্চে স্বমহিমায় মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে।

  • Hindu Youth killed: গাজিয়াবাদে ‘বকরিদ পার্টি’র নামে ডেকে নিয়ে হিন্দু যুবককে ছুরি মেরে খুনের অভিযোগ, এলাকায় তীব্র উত্তেজনা

    Hindu Youth killed: গাজিয়াবাদে ‘বকরিদ পার্টি’র নামে ডেকে নিয়ে হিন্দু যুবককে ছুরি মেরে খুনের অভিযোগ, এলাকায় তীব্র উত্তেজনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) গাজিয়াবাদের খোড়া এলাকায় এক ১৭ বছর বয়সী হিন্দু যুবক (Hindu Youth killed) সূর্য চৌহানকে তাঁর মুসলিম পরিচিতরা বকরিদ উৎসবের কথা বলে ডেকে নিয়ে গিয়ে ছুরি মেরে খুন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ২৮ মে সন্ধ্যার সময় খোড়া থানার অন্তর্গত নবনীত বিহার কলোনিতে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে।

    বকরিদ পার্টির নামে ডেকে নিয়ে হামলা (Hindu Youth killed)

    মৃত যুবকের ভাই যশ চৌহানের (Hindu Youth Surya Chauhan) দায়ের করা পুলিশ অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন সূর্য তাঁর দুই বন্ধু ভিকি ও আয়ুশের সঙ্গে বাড়ির কাছাকাছি হাঁটছিলেন। সেই সময় তাঁর পরিচিত আসাদ নামের এক যুবক ফোন করে সূর্যকে বকরিদ উদযাপনের জন্য ২ নম্বর গলির কাছে আসতে বলে। আসাদের কথামতো সূর্য ও তাঁর বন্ধুরা একটি কলার গুদামের (Uttar Pradesh) কাছে পৌঁছালে, সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত ছিল নবাব, ফারহান, আতিফ এবং সারিক।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী জানা গিয়েছে, হামলার ঠিক আগে অভিযুক্তরা সূর্যকে জিজ্ঞাসা করে, “তুই কখনো ছাগল কোরবানি দিতে দেখেছিস?” সূর্য তাদের সঙ্গে যেতে অস্বীকার করলে দুপক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। তর্কাতর্কির মাঝেই হঠাৎ ধারালো ছুরি নিয়ে সূর্যের ওপর চড়াও হয় অভিযুক্তরা।

    রক্তাক্ত অবস্থাতেই বাঁচার জন্য দৌড়

    পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আক্রমণকারীরা প্রথমে সূর্যের পেটে ছুরি মারে। পেটে ছুরিবিদ্ধ অবস্থাতেই প্রাণ বাঁচাতে প্রায় ২০০ মিটার দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন সূর্য। কিন্তু অভিযুক্তরা তাঁর পিছু ধাওয়া করে তাঁকে মাটিতে ফেলে দেয় এবং শরীর থেকে ছুরিটি টেনে বের করে আরও কয়েকবার কোপ মারে। এরপরই ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয় তারা।

    চিৎকার ও গোলমাল শুনে সূর্যের মা (Hindu Youth killed) এবং ভাই ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাঁকে রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করেন। প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে নয়ডার (Uttar Pradesh) সেক্টর ৬২-র ফোর্টিস হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯ মে দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।

    পুলিশি তৎপরতা ও এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি

    প্রাথমিকভাবে পুলিশ খুনের চেষ্টার (Attempt to murder) মামলা রুজু করলেও, সূর্যের মৃত্যুর পর তা খুনের মামলায় (Murder case) রূপান্তরিত করা হয়েছে। ইন্দিরাপুরমের  (Uttar Pradesh) এসিপি অভিষেক শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে মূল অভিযুক্ত আসাদ এখনও পলাতক এবং তাঁর সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

    এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা খোড়া থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান এবং সমস্ত অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনও রকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই এলাকায় ব্যাপক পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • Amul: পশ্চিমবঙ্গে বিশ্বের বৃহত্তম দই তৈরির কারখানা গড়ছে আমূল, বিনিয়োগ ৬০০ কোটি টাকা

    Amul: পশ্চিমবঙ্গে বিশ্বের বৃহত্তম দই তৈরির কারখানা গড়ছে আমূল, বিনিয়োগ ৬০০ কোটি টাকা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের ডেয়ারি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে এক বড়সড় জোয়ার আসতে চলেছে। রাজ্যে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে বিশ্বের বৃহত্তম দই (Largest Yogurt Plant) উৎপাদনকারী কারখানা স্থাপন করতে চলেছে দেশের অন্যতম শীর্ষ ডেয়ারি সংস্থা ‘আমূল’ (Amul)।

    গুজরাট কো-অপারেটিভ মিল্ক মার্কেটিং ফেডারেশন লিমিটেড (GCMMF) এই খবরটি নিশ্চিত করেছে। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট ২০২৫” (BGBS)-এর মঞ্চেই এই বিপুল বিনিয়োগের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

    কোথায় ও কীভাবে তৈরি হচ্ছে এই কারখানা (Amul)?

    কলকাতার অদূরে হাওড়ার সাঁকরাইল ফুড পার্কে (Sankrail Food Park) এই সমন্বিত ডেয়ারি এবং দই উৎপাদন প্রকল্পটির নির্মাণ কাজ চলছে। বিশ্বমানের এই কারখানাটি গড়ে তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ‘কায়রা ডিস্ট্রিক্ট কো-অপারেটিভ মিল্ক প্রডিউসার্স ইউনিয়ন লিমিটেড’-কে। সম্পূর্ণ প্রকল্পটি দুটি পর্যায়ে বাস্তবায়িত করা হবে।

    আমূল-এর (Amul) প্রধান জয়েন মেহতা জানিয়েছেন, এই অত্যাধুনিক কারখানায় (Largest Yogurt Plant) প্রতিদিন ১০ লক্ষ কেজি অর্থাৎ ১ মিলিয়ন কেজি দই উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এর পাশাপাশি কারখানাটিতে দৈনিক ১৫ লক্ষ লিটার দুধ প্রক্রিয়াকরণের (Processing) ক্ষমতা থাকবে।

    কেন পশ্চিমবঙ্গকে বেছে নেওয়া হলো?

    আমূল (Amul) কর্তাদের মতে, এই বিনিয়োগের পেছনে রয়েছে একটি সুনির্দিষ্ট কৌশলগত লক্ষ্য। বাঙালির খাদ্য সংস্কৃতিতে মিষ্টি দই এবং টক দই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফলে এ রাজ্যে দইয়ের (Largest Yogurt Plant) এক বিশাল এবং স্থায়ী বাজার রয়েছে। উপভোক্তাদের এই বিপুল চাহিদার কথা মাথায় রেখেই কলকাতায় এই কারখানাটি গড়া হচ্ছে।

    এখান থেকে উৎপাদিত পণ্য কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি সমগ্র পূর্ব ভারতে আমূলের ব্যবসাকে আরও শক্তিশালী করবে।

    গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে জোয়ার

    এই প্রকল্পটির ফলে একদিকে যেমন রাজ্যে বড় অঙ্কের শিল্প বিনিয়োগ আসছে, ঠিক তেমনই স্থানীয় স্তরে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি কেন্দ্রীয় সমবায় মন্ত্রকের ‘শ্বেত বিপ্লব ২.০’ (White Revolution 2.0) উদ্যোগের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ, যার মূল লক্ষ্য হল— দেশের ডেয়ারি উৎপাদন বাড়ানো, গ্রামীণ মানুষের জীবিকার মানোন্নয়ন এবং দুধ সংগ্রহের নেটওয়ার্ককে (Largest Yogurt Plant) আরও সুদৃঢ় করা।

    উল্লেখ্য, ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে জিসিএমএমএফ (GCMMF) বা আমুল প্রায় ৫৯,৪৪৫ কোটি টাকার ব্যবসা (Turnover) করেছে। ‘ইন্টারন্যাশনাল ফার্ম কম্প্যারিসন নেটওয়ার্ক’ (IFCN)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, দুধ প্রক্রিয়াকরণের দিক থেকে আমুল বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ডেয়ারি সংস্থা। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশে পণ্য রফতানি করার পাশাপাশি আমেরিকার বাজারেও নিজেদের ব্যবসা বিস্তার করেছে তারা। সেই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে, পশ্চিমবঙ্গে আমূলের এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ রাজ্যের শিল্পায়নের পথে একটি বড় মাইলফলক (Amul) হিসেবে বিবেচিত হতে চলেছে।

  • Vaibhav Sooryavanshi: চোখের জলে শেষ আইপিএল! ডাগআউটে ভেঙে পড়ল বৈভব, কাপ না জিতলেও কিশোর সূর্যবংশী জিতল মন

    Vaibhav Sooryavanshi: চোখের জলে শেষ আইপিএল! ডাগআউটে ভেঙে পড়ল বৈভব, কাপ না জিতলেও কিশোর সূর্যবংশী জিতল মন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বয়স মাত্র ১৫ বছর। কিন্তু ইতিমধ্যেই বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম আলোচিত নাম এই কিশোর। ব্যাট হাতে একের পর এক রেকর্ড ভেঙে আইপিএল ২০২৬-কে নিজের মঞ্চে পরিণত করেছিল বৈভব সূর্যবংশী। তবে ক্রিকেট যে শুধুই পরিসংখ্যানের খেলা নয়, তা আরও একবার প্রমাণ হল শুক্রবার রাতে। ব্যক্তিগতভাবে দুরন্ত ইনিংস খেলেও দলের পরাজয় মেনে নিতে পারল না রাজস্থান রয়্যালসের এই কিশোর তারকা। গুজরাট টাইটান্সের কাছে কোয়ালিফায়ার-২ ম্যাচে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার পর ডাগআউটে বসেই চোখের জল ফেলতে দেখা গেল তাকে।

    পঞ্জাবের মুল্লানপুরে অবস্থিত মহারাজা যাদবিন্দ্র সিং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে টেলিভিশন ক্যামেরায় ধরা পড়ে আবেগঘন সেই দৃশ্য। রাজস্থানের ডাগআউটে চুপচাপ বসে বৈভব। মুখে হতাশার ছাপ, চোখে জল। পরিস্থিতি সামাল দিতে তার পাশে এসে দাঁড়ান সতীর্থরা। অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাডেজাকেও দেখা যায় কিশোর ক্রিকেটারকে সান্ত্বনা দিতে। দলের সাপোর্ট স্টাফ ও ম্যানেজার রোমি ভিন্দরও তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। একসময় ক্যামেরার নজর এড়াতে তোয়ালে দিয়ে মুখ ঢাকতেও দেখা যায় বৈভবকে।

    আবারও ব্যাট হাতে বিস্ফোরণ

    ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে রাজস্থান রয়্যালসকে বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেয় বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ৪৭ বলে ৯৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে সে। শুরুতে মহম্মদ সিরাজ ও কাগিসো রাবাডার বিরুদ্ধে কিছুটা সতর্ক থাকলেও পরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেয়। একসময় মনে হচ্ছিল আরও একটি শতরান অপেক্ষা করছে তার ব্যাটে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ৯৬ রানেই থামতে হয়। ফলে শেষ চার ইনিংসের মধ্যে তৃতীয়বার নব্বইয়ের ঘরে আউট হওয়ার হতাশা সঙ্গী হয় তার। তবে বৈভবের এই ইনিংসের সুবাদেই রাজস্থান রয়্যালস নির্ধারিত ২০ ওভারে ২১৫ রানের বিশাল স্কোর তোলে। সেই মুহূর্তে অনেকেই মনে করেছিলেন, ফাইনালে ওঠার পথে এগিয়ে রয়েছে রাজস্থান।

    গিল-সুধর্শনের ঝড়ে উড়ে গেল রাজস্থান

    কিন্তু রান তাড়ায় নেমে গুজরাট টাইটান্সের দুই ওপেনার শুভমন গিল এবং সাই সুদর্শন ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। দু’জনে মিলে মাত্র ৭৭ বলে ১৬৭ রানের বিধ্বংসী উদ্বোধনী জুটি গড়েন। সাই সুধর্শন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করলেও গিল অত্যন্ত পরিণত ইনিংস খেলেন। মাত্র ৪৭ বলে শতরান পূর্ণ করে গুজরাটকে জয়ের একেবারে কাছে পৌঁছে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সাত উইকেট হাতে রেখেই ২১৫ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে গুজরাট টাইটান্স। এর ফলে টানা দ্বিতীয়বার আইপিএল ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে যায় রাজস্থান রয়্যালসের।

    হারলেও ইতিহাস গড়ল বৈভব

    রাজস্থান ফাইনালে উঠতে না পারলেও বৈভব সূর্যবংশীর আইপিএল ২০২৬ মরশুম ক্রিকেট ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নেবে। ১৬ ম্যাচে সে করেছে ৭৭৬ রান। গড় ৪৮.৫০ এবং অবিশ্বাস্য ২৩৭.৩১ স্ট্রাইক রেট। মরশুম শেষে তার মাথাতেই ওঠে অরেঞ্জ ক্যাপ। কিন্তু শুধু রান নয়, গোটা টুর্নামেন্ট জুড়েই একের পর এক রেকর্ড গড়েছে এই কিশোর বিস্ময়।

    আইপিএল ২০২৬-এ বৈভব সূর্যবংশীর উল্লেখযোগ্য কীর্তি—

    • ● বলের হিসেবে সবচেয়ে দ্রুত ১,০০০ আইপিএল রান (৪৪০ বল)
    • ● ইনিংসের হিসেবে দ্বিতীয় দ্রুততম ১,০০০ আইপিএল রান (২৩ ইনিংস)
    • ● টি-২০ ইতিহাসে এক মরশুমে প্রথম ব্যাটার হিসেবে ৫০০ পাওয়ারপ্লে রান
    • ● এক টি-২০ প্রতিযোগিতায় সর্বাধিক পাওয়ারপ্লে রানের রেকর্ড
    • ● ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে কিশোর ক্রিকেটার হিসেবে অন্যতম সর্বোচ্চ রান সংগ্রহ
    • ● ৭৭৬ রান, স্ট্রাইক রেট ২৩৭-এরও বেশি
    • ● এক আইপিএল মরশুমে সর্বাধিক ৬৫টি ছক্কা

    সংখ্যার বাইরে এক মানবিক ছবি

    বৈভব সূর্যবংশী নিঃসন্দেহে আইপিএল ২০২৬-এর সবচেয়ে বড় আবিষ্কার। বিশ্বের সেরা বোলারদের বিরুদ্ধে তার নির্ভীক ব্যাটিং, ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা এবং রেকর্ড ভাঙার ধারাবাহিকতা ক্রিকেটপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছে। তবে মরশুমের শেষ রাতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রইল না তার ৭৭৬ রান, ৬৫ ছক্কা কিংবা অরেঞ্জ ক্যাপ। বরং ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে থেকে যাবে ডাগআউটে বসে থাকা এক কিশোরের চোখের জল— যে নিজের সেরাটা দেওয়ার পরও দলকে ফাইনালে তুলতে পারেনি। সম্ভবত এটাই খেলাধুলার সবচেয়ে নির্মম এবং একইসঙ্গে সবচেয়ে সুন্দর দিক। ব্যক্তিগত সাফল্য যত বড়ই হোক, দলের স্বপ্ন ভেঙে গেলে একজন প্রকৃত প্রতিযোগীর কাছে তার মূল্য অনেক কম। আর সেই কারণেই পরাজয়ের রাতে চোখের জলে ভেঙে পড়া বৈভব সূর্যবংশী আরও একবার প্রমাণ করল, সে শুধু এক অসাধারণ প্রতিভাই নয়, দলের জন্য নিবেদিত এক প্রকৃত যোদ্ধাও।

    কাপ হয়ত অধরা থেকে গেল, কিন্তু কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর মন জিতে নিয়েছে ১৫ বছরের কিশোর।

  • Cervical Cancer Vaccine: মেয়ের বয়স ১৪? বিনামূল্যে এইচপিভি টিকা দিচ্ছে রাজ্য সরকার, কোথায় পাওয়া যাবে? জানালেন শুভেন্দু

    Cervical Cancer Vaccine: মেয়ের বয়স ১৪? বিনামূল্যে এইচপিভি টিকা দিচ্ছে রাজ্য সরকার, কোথায় পাওয়া যাবে? জানালেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের মহিলাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। জরায়ুমুখ ক্যানসার (Cervical Cancer) প্রতিরোধে রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল বিনামূল্যে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস বা সংক্ষেপে এইচপিভি (Human Papillomavirus, HPV) টিকাকরণ কর্মসূচি। শনিবার বিধাননগর মহকুমা হাসপাতাল থেকে এই রাজ্যব্যাপী অভিযানের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশজুড়ে জাতীয় এইচপিভি টিকাকরণ কর্মসূচি চালু হয়েছিল। এবার সেই জাতীয় উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হল পশ্চিমবঙ্গও।

    প্রথম পর্যায়ে ২৩৫টি সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকাকরণ

    শুভেন্দু অধিকারী জানান, প্রথম ধাপে রাজ্যের ২৩৫টি সরকারি হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল, মহকুমা হাসপাতাল এবং ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এইচপিভি টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই বাংলায় পৌঁছেছে ৭ লক্ষ ৭২ হাজার ৬৫০ ডোজ টিকা। সরকারের লক্ষ্য, শহর থেকে গ্রাম—রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে এই পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া। সেই কারণে ধাপে ধাপে (Phased Expansion Plan) টিকাকরণ কর্মসূচি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই অনুষ্ঠানে এসএসকেএম হাসপাতালে ১০০টি নতুন শয্যারও উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    কারা এই টিকা পাবে?

    বর্তমান পর্যায়ে এই বিনামূল্যের টিকাকরণ কর্মসূচি শুধুমাত্র ১৪ বছর বয়সি কিশোরীদের জন্য চালু করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, কৈশোরের এই বয়সকে এইচপিভি টিকা নেওয়ার জন্য ‘গোল্ডেন উইন্ডো’ বলা হয়। কারণ ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার আগেই শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করা গেলে ভবিষ্যতে জরায়ুমুখ ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। যেসব পরিবারের কন্যাসন্তানের বয়স ১৪ বছর, তারা নিকটবর্তী সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে যোগাযোগ করে টিকা নেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এইচপিভি টিকা?

    চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী, এইচপিভির কিছু উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ স্ট্রেন জরায়ুমুখ ক্যানসারের প্রধান কারণ। বিশেষ করে এইচপিভি টাইপ ১৬ এবং ১৮ বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭০ শতাংশ জরায়ুমুখ ক্যানসারের জন্য দায়ী। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এইচপিভি ভ্যাকসিন এই ভাইরাসজনিত ক্যানসারের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই টিকা জরায়ুমুখ ক্যানসার ছাড়াও গলা, মলদ্বার এবং অন্যান্য এইচপিভি-সম্পর্কিত ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে সক্ষম।

    বিধাননগরে উদ্বোধন

    শনিবার বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে ভারত সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। শনিবার বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য, স্থানীয় বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং ইন্দ্রনীল খাঁ। অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, মহিলাদের মধ্যে হওয়া বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের মধ্যে জরায়ুমুখ ক্যানসার (সার্ভাইক্যাল ক্যানসার) অন্যতম মারাত্মক, যা প্রতি বছর গড়ে প্রায় দেড় লক্ষ মহিলাকে আক্রান্ত করে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃহৎ পরিসরে এইচপিভি টিকাকরণ চালু হওয়ায় ভবিষ্যতে জরায়ুমুখ ক্যানসারের প্রকোপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে এই উদ্যোগ। এর ফলে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ কিশোরী দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মক রোগের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পাবে।

LinkedIn
Share