Tag: বাংলা খবর

  • Moringa Health Benefits: বসন্তে ভরসা সজনে! ভোগান্তির দাওয়াই লুকিয়ে শাক থেকে ডাঁটায়

    Moringa Health Benefits: বসন্তে ভরসা সজনে! ভোগান্তির দাওয়াই লুকিয়ে শাক থেকে ডাঁটায়

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বেলা বাড়লেই বাড়ছে তাপমাত্রার পারদ। ঘাম হচ্ছে। আবার রাতের দিকে আবহাওয়া হালকা ঠান্ডা। কখনো কখনো এমন হাওয়ার দাপট, বেশ ঠান্ডা অনুভূতি! তাপমাত্রার এই রকমফের বসন্তের চেনা ছন্দ! কিন্তু আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনা বাড়াচ্ছে বিপদ। শিশু থেকে প্রৌঢ় সকলেই প্রায় সর্দি-কাশিতে ভুগছে। আট থেকে আশি জ্বর, পেটের সমস্যায় কাবু। অনেকেই ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া ঘটিত একাধিক রোগে ভুগছেন। তাই বসন্ত ঋতুতে সুস্থ থাকতে, শরীরের দিকে বাড়তি নজরদারি (Spring Superfood) দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন বাঙালির অতি পরিচিত শাক-সব্জিই বসন্তের ভোগান্তি থেকে রেহাই দেবে। তাই বিশেষজ্ঞদের একাংশের ভরসা, সজনে ডাঁটা এবং সজনে শাক (Moringa Health Benefits)।

    কেন বসন্তে ভরসা জোগাচ্ছে সজনে ডাঁটা এবং শাক?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বসন্তে তাপমাত্রা ক্রমাগত ওঠানামা করে। তাই আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তন হয়। আর তার জেরেই বাতাসে ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসের সক্রিয়তা বেড়ে যায়। যে কেউ তাই নানান সংক্রামক রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। নানান রোগের ঝুঁকিও বাড়ে। সজনে ডাঁটা এবং সজনে শাক (Moringa Health Benefits) রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায়। তাই এই সব্জি খেলে সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমে। রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে। তাছাড়া, সজনে ডাঁটা এবং শাক ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং আয়রন, ক্যালসিয়ামের মতো খনিজ সমৃদ্ধ। তাই এই খাবার সর্দি-কাশির ভোগান্তি কমায়‌। তাই বসন্তের ভোগান্তি কমাতে সজনে ডাঁটা এবং শাক বিশেষ সাহায্য করে। তাছাড়া, চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বসন্ত ঋতুতে হজমের সমস্যা বাড়ে। হঠাৎ গরম পড়ে যাওয়ার জন্য হজমের গোলমাল দেখা যায়। সজনে ডাঁটা এবং শাক ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার। তাই এই খাবার খেলে হজম শক্তি ভালো হয়‌।

    সজনে ডাঁটা এবং শাক শরীরে কী উপকার করে?

    হাড় মজবুত করে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সজনে ডাঁটা এবং শাক (Moringa Health Benefits) ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার। তাই এই সব্জি খেলে হাড় মজবুত হয়। বাঙালিদের মধ্যে হাড়ের সমস্যা বাড়ছে। বিশেষত বাঙালি মহিলাদের হাড় ক্ষয় রোগের প্রকোপ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তাই চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই সব্জি খেলে হাড় মজবুত থাকবে।

    হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বসন্তের ভোগান্তি কমানোর পাশাপাশি সজনে ডাঁটা এবং শাক (Moringa Health Benefits) হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, সজনে ডাঁটা এবং শাক খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সাহায্য করে। তাই এই সব্জি খেলে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে। শীতের শেষে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। কারণ এই আবহাওয়ায় তাপমাত্রার তারতম্য ঘটে। এই পরিস্থিতিতে সজনে ডাঁটা এবং শাক বিশেষ উপকারি।

    ত্বক এবং চুলের জন্য বিশেষ উপকারি!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সজনে ডাঁটা এবং শাক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার। তাই নিয়মিত এই খাবার খেলে চুল পড়ার সমস্যা কমবে। ত্বক মসৃণ থাকবে।

    শরীর টক্সিন মুক্ত করতে বিশেষ সাহায্য করে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরের অতিরিক্ত বর্জ্য মুক্ত করতে সজনে ডাঁটা এবং শাক (Moringa Health Benefits) বিশেষ সাহায্য করে। তাঁরা জানাচ্ছেন, লিভার ও কিডনি সুস্থ রাখতে এবং শরীরের টক্সিন মুক্ত করতে বিশেষ সাহায্য করে।

    কীভাবে এই সব্জি খাবেন?

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুর বয়স বছর দুয়েক হলেই সজনে ডাঁটা দেওয়া যেতে পারে। শিশু হোক বা বয়স্ক, সকলেই এই সব্জি খেতে পারেন। তাঁদের পরামর্শ, ডালে সজনে ডাঁটা দেওয়া যেতে পারে (Spring Superfood)। যে কোনও সব্জি— করলা, বেগুন কিংবা কুমড়োর তরকারির সঙ্গে সজনে ডাঁটা দেওয়া যেতে পারে। সজনে শাক, রসুন দিয়ে হালকা ভেজেও খাওয়া যেতে পারে। মশলা হিসাবে রসুন খুবই উপকারি। আবার মাছের ঝোলেও সজনে ডাঁটা দেওয়া যেতে পারে। যেকোনও তরকারি, ডাল বা ঝোলে সজনে ডাঁটা দিলেই শরীরে উপকার হবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Insomnia Among Indians: ঘুমেই লুকিয়ে রয়েছে ভালো থাকার চাবিকাঠি! কেন ঘুম-সমস্যায় ভুগছেন মানুষ?

    Insomnia Among Indians: ঘুমেই লুকিয়ে রয়েছে ভালো থাকার চাবিকাঠি! কেন ঘুম-সমস্যায় ভুগছেন মানুষ?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ভালো থাকার চাবিকাঠি রয়েছে ঘুমেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, দীর্ঘ সুস্থ জীবন যাপনের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত ঘুম। কিন্তু ভারত সহ বিশ্বের একাধিক দেশে ঘুম নিয়ে জটিলতা বাড়ছে। অর্থাৎ, অধিকাংশ মানুষের (Insomnia Among Indians) পর্যাপ্ত ঘুম হয় না। শরীরে ঘুমের ঘাটতি দেখা যায়। বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দেয়। তাই নানান শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। একাধিক রোগের কারণ হয়ে উঠছে অপর্যাপ্ত ঘুম। তাই বিশ্ব ঘুম দিবসে (World Sleep Day) চিকিৎসকদের পরামর্শ, ভালো থাকতে, সুস্থ জীবন যাপনের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি।

    ভারতে কি বাড়ছে অনিদ্রার সমস্যা? কারা বেশি এই সমস্যায় ভুগছেন?

    ভারতে অনিদ্রার সমস্যা (Sleep Crisis in India) বাড়ছে। একাধিক সর্বভারতীয় সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ নিয়মিত ঘুমের সমস্যায় ভোগেন (Insomnia Among Indians)। ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের মধ্যে ঘুমের সমস্যা বাড়ছে। করোনা পরবর্তী কালে অনিদ্রার সমস্যা দেশ জুড়ে বেড়েছে। গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকা। বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যা বাড়ছে। বিশেষত শহুরে ভারতীয়দের মধ্যে অনিদ্রার সমস্যা বেশি দেখা দিচ্ছে।

    কেন ভারতীয়দের মধ্যে অনিদ্রার সমস্যা বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে ষাটোর্ধ্ব মানুষদের মধ্যে অনিদ্রার সমস্যা ছিল (Insomnia Among Indians)। সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুম চক্র বদলে যায়। অর্থাৎ শরীরে একাধিক হরমোনের পরিবর্তন হয়। যার ঘুমের উপরে সরাসরি প্রভাব পড়ে। তাছাড়া বয়স বাড়লে নানান অসুখের কারণেও গভীর ঘুম হয় না। তবে গত কয়েক বছরে কম বয়সীদের মধ্যে অনিদ্রার সমস্যা বেড়েছে। ২০-৪০ বছর বয়সিদের মধ্যে অনিদ্রার সমস্যা বেড়ে যাওয়ার (Sleep Crisis in India) অন্যতম কারণ অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই বয়সিদের রাত জেগে মোবাইল দেখার অভ্যাস বেড়েছে। যার জেরে মস্তিষ্কের স্নায়ু বাড়তি উত্তেজিত হয়ে থাকে। তাই ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। এছাড়া অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ পর্যাপ্ত ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। তাছাড়া বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই বয়সীদের অনেকেরই কাজের সময় গভীর রাত পর্যন্ত থাকে। তাই রাতে জেগে থাকার অভ্যাস তৈরি হয়ে যায়। যা শরীরের জন‌্য ক্ষতিকারক।

    কেন অনিদ্রার সমস্যাকে বাড়তি নজরদারি দেওয়া জরুরি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশু বা প্রাপ্তবয়স্ক, শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। নিয়মিত ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা শরীরের জন্য প্রয়োজন (Insomnia Among Indians)। নিয়মিত অপর্যাপ্ত ঘুম হলে একাধিক রোগের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, স্মৃতিশক্তি ধরে রাখতে, মস্তিষ্ক সক্রিয় রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। ঘুম হলে তবেই শরীরের পর্যাপ্ত হরমোন ক্ষরণ হবে। মস্তিষ্কের প্রয়োজনীয় বিশ্রাম হলে, তবে সমস্ত স্নায়ু সক্রিয় থাকবে। কাজে মনোযোগ বাড়াতে এবং বিরক্তি কমাতে নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি (Sleep Crisis in India)। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অপর্যাপ্ত ঘুমের ফলে মস্তিষ্কের ঠিকমতো বিশ্রাম হয় না। এর জেরেই মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে। কাজে মনোযোগ হয় না। ফলে কর্মজীবনেও তার গভীর প্রভাব পড়ে। তাই ঘুম পর্যাপ্ত জরুরি। এছাড়াও চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অপর্যাপ্ত ঘুমের জেরে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। তাই নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। তবেই দীর্ঘ সুস্থ জীবন সম্ভব।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Typhoid in Kolkata: গ্রীষ্মে কলকাতায় বাড়তে পারে টাইফয়েডের ঝুঁকি! কীভাবে রোগ প্রতিরোধ সম্ভব?

    Typhoid in Kolkata: গ্রীষ্মে কলকাতায় বাড়তে পারে টাইফয়েডের ঝুঁকি! কীভাবে রোগ প্রতিরোধ সম্ভব?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    গরমের আঁচ বাড়ছে! তাপমাত্রার পারদ জানান দিচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই রাজ্যে গরমের প্রকোপ‌ দেখা দেবে। আর এই পরিস্থিতিতে কলকাতা ও তার আশপাশের জেলা নিয়ে বাড়তি উদ্বিগ্ন চিকিৎসক মহল। বিশেষত টাইফয়েড জ্বর নিয়ে আগামী কয়েক মাসে বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    কলকাতায় টাইফয়েডের ঝুঁকি কতটা?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দেশের মধ্যে অন্যতম টাইফয়েড প্রবণ এলাকা হল কলকাতা। তাই কলকাতা ও তার আশপাশের এলাকায় টাইফয়েড নিয়ে বাড়তি সতর্কতা দরকার। তবে চলতি বছরে কলকাতার পাশপাশি উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, হুগলি সহ একাধিক জেলায় টাইফয়েড আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক। গরমের শুরুতেই টাইফয়েডের দাপট জানান দিচ্ছে, আগামী দিনে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ-র তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর প্রায় ৮০ লাখ মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হন। যার একটা বড় অংশ পশ্চিমবঙ্গে থাকেন। তবে টাইফয়েড সাধারণত বর্ষায় প্রকোপ দেখায়। কিন্তু এ বছরে গরমের শুরুতেই টাইফয়েড আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায়, চলতি বছরে এই রোগের প্রকোপ আরও প্রবল হতে পারে বলেই আশঙ্কা চিকিৎসকদের একাংশের।

    কেন গরমে এই রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, টাইফয়েড একটি ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ। মূলত জলের মাধ্যমেই এই রোগ সংক্রমণ ঘটে। তবে খাবারের মাধ্যমেও এই রোগের সংক্রমণ ঘটতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, কলকাতা ও তার আশপাশের এলাকায় একাধিক খাবারের দোকান রয়েছে। নিয়মিত অসংখ্য মানুষ এই সব দোকান থেকে খাবার কিনে খান‌। কিন্তু অধিকাংশ জায়গায় খাবারের মান স্বাস্থ্যবিধির মাপকাঠিতে পাশ করে না। গরমে খাবার অনেক সময়েই নষ্ট হয়ে যায়। ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধে। আর সেই খাবার খাওয়ার ফলে টাইফয়েডের ঝুঁকি বাড়ছে। কলকাতা ও তার আশপাশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় টাইফয়েডের ঝুঁকি বেশি। অধিকাংশ জায়গায় দূষণের মাত্রাও মারাত্মক। ফলে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। আবার এত বেশি মানুষ বাইরের খাবারে অভ্যস্ত, যে গরমেও টাইফয়েডের জীবাণু সক্রিয় থাকছে। রোগ ছড়াতে সক্ষম হচ্ছে।

    কাদের ঝুঁকি বেশি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, যেকোনও মানুষের টাইফয়েড হতে পারে। ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে যেকোনও বয়সেই কেউ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে শিশু ও কৈশোরে এই রোগ সবচেয়ে বেশি দাপট দেখায়। তার অন্যতম কারণ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ শক্তি তুলনামূলকভাবে কম থাকে। তাই সংক্রামক রোগের প্রকোপও বেশি হয়। তাছাড়া অনেক সময়েই শিশু ও কিশোরদের স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা হয় না। হাত ঠিকমতো না ধুয়ে খাবার খাওয়া, যেকোনও রঙিন সরবত খাওয়া এগুলো রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তবে যারা নিয়মিত বাইরে যান, বাইরের খাবার খান, বাইরের জল খান, তাঁদের টাইফয়েডে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

    কীভাবে রোগ প্রতিরোধ সম্ভব?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, জ্বর, বমি, পেট ব্যথার মতো উপসর্গ টাইফয়েডের জানান দেয়। তাই এই ধরনের সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত রোগ নির্ণয় জরুরি। চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো চললে বড় বিপদ আটকানো সহজ। তবে প্রথম থেকেই সচেতন থাকলে রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমবে। তাই জল পরিশ্রুত কিনা সে দিকে নজর দেওয়া জরুরি। গরমে অপরিচ্ছন্ন এলাকা থেকে খাবার একেবারেই খাওয়া যাবে না। রঙিন সরবত খাওয়া উচিৎ নয়। এছাড়া শৌচালয় ব্যবহারের সময় স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা জরুরি। কারণ অপরিচ্ছন্ন শৌচালয় থেকে টাইফয়েড ছড়ানোর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। এই দিকে খেয়াল রাখলে এই ব্যাকটেরিয়া ঘটিত অসুখের দাপট আটকানো সহজ হবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • World Kidney Day 2026: তিরিশ পেরোলেই চিন্তা বাড়াচ্ছে কিডনি! ভারতে কেন বাড়ছে কিডনির সমস্যায় আক্রান্তের সংখ্যা?

    World Kidney Day 2026: তিরিশ পেরোলেই চিন্তা বাড়াচ্ছে কিডনি! ভারতে কেন বাড়ছে কিডনির সমস্যায় আক্রান্তের সংখ্যা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    রোগ আর বয়সের সীমারেখা মানছে না। তাই প্রৌঢ় কালের একাধিক রোগ এখন কুড়ির চৌকাঠ পেরনোর পরেই জানান দিচ্ছে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের মতোই ভারতে উদ্বেগজনক ভাবে বাড়ছে কিডনির অসুখ। কম বয়সিদের মধ্যেও কিডনির কার্যকারিতা নিয়ে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তিরিশ বছরের পরেই অনেকেই কিডনির নানান সমস্যা নিয়ে ভুগছেন। ১২ মার্চ ওয়ার্ল্ড কিডনি ডে (World Kidney Day 2026)। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, বিশ্ব জুড়ে কিডনির রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। কিডনির অসুখ রুখতে রোগ সম্পর্কে সচেতনতার পাশপাশি পরিবেশ রক্ষা নিয়েও সতর্ক থাকা জরুরি। তবেই সুস্থ জীবন যাপন সম্ভব।

    কিডনি সুস্থ রাখতে কেন পরিবেশ রক্ষার ডাক দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহল?

    ওয়ার্ল্ড কিডনি ডে উপলক্ষে বিশ্ব জুড়ে কিডনির অসুখ সম্পর্কে একাধিক সচেতনতা কর্মসূচি চলছে। অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন কীভাবে কিডনির কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়, সে সম্পর্কে সব মহলে পাঠ দেওয়া হচ্ছে। তবে, তার পাশপাশি কিডনি সুস্থ রাখতে পরিবেশ রক্ষা কতখানি জরুরি, সেটাও বোঝানো হচ্ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, পরিবেশ সুস্থ না থাকলে সুস্থ জীবন যাপন সম্ভব নয়। তাই পরিবেশ দূষণ নিয়ে সব মহলের সচেতনতা জরুরি। মারাত্মক দূষণ যেমন ফুসফুস, শ্বাসনালীর একাধিক রোগের কারণ হয়ে ওঠে, তেমনি দূষণের জেরে কিডনির অসুখের ঝুঁকিও বাড়ে। তাই কিডনি সুস্থ রাখতে পরিবেশ রক্ষা জরুরি। জল দূষণ, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে থাকলে কিডনির অসুখের ঝুঁকি কমবে। দূষিত পরিবেশ কিডনির উপরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাছাড়া চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কিডনির অসুখ নিরাময়ের অন্যতম উপায় হলো ডায়ালিসিস। যার জন্য প্রচুর পরিমাণ জল এবং বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। পরিবেশ থেকেই এই উপাদান পাওয়া যায়। কিডনির অসুখে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লে জল ও বিদ্যুতের চাহিদাও আরও বাড়বে। তাই প্রথম থেকেই জীবন যাপন ও পরিবেশ নিয়ে সচেতন থাকা জরুরি। যাতে রোগের বোঝা না বাড়ে‌।

    ভারতে কিডনির সমস্যা কতখানি উদ্বেগের?

    বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতোই ভারতেও কিডনি আক্রান্ত উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে মোট প্রাপ্ত বয়স্কদের ১৩ শতাংশ কিডনির অসুখে আক্রান্ত। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশের বয়স ৪০ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে। প্রতি বছর ১০ লাখের বেশি মানুষ নতুন করে কিডনির রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে ভারতে ২০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে কিডনি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে তেলেঙ্গানা, গোয়া এবং কেরলে কিডনি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তবে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতিও‌ যথেষ্ট উদ্বেগজনক। তথ্য অনুযায়ী, এ রাজ্যের প্রায় ৫০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কিডনির রোগে আক্রান্ত।

    কেন কিডনির অসুখের দাপট বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কিডনির অসুখের অন্যতম কারণ ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ। এ দেশে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ মারাত্মক হারে বাড়ছে। তাই কিডনির অসুখের ঝুঁকিও বাড়ছে। তাছাড়া, অতিরিক্ত তেল মশলা জাতীয় প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত খাওয়ার ফলে কিডনির কার্যকারিতা কমছে। এ দেশের একাংশের মানুষ পরিশ্রুত পানীয় জল পান না। বিষাক্ত খনিজ সমৃদ্ধ অপরিশ্রুত জল খাওয়ার জেরে কিডনির অসুখের ঝুঁকি বাড়ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, জীবন যাপন স্বাস্থ্যকর করা কতখানি জরুরি, সে সম্পর্কে সচেতনতা বাড়লে কিডনির রোগের বোঝাও কমবে।

  • Harish Rana Case: ১৩ বছর কোমায় থাকা যুবককে নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি, হরিশ রানা মামলায় ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের

    Harish Rana Case: ১৩ বছর কোমায় থাকা যুবককে নিষ্কৃতিমৃত্যুর অনুমতি, হরিশ রানা মামলায় ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া (Passive Euthanasia) বা নিষ্কৃতিমৃত্যু নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। ১৩ বছর ধরে কোমায় থাকা ৩২ বছর বয়সি হরিশ রানাকে (Harish Rana Case) চিকিৎসা প্রত্যাহারের অনুমতি দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এর ফলে কার্যত ‘মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যু’ (Death with Dignity) পাওয়ার পথ খুলে গেল তাঁর সামনে। আদালতের নির্দেশে এটি দেশের প্রথম প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া সংক্রান্ত ঘটনা হিসেবে ধরা হচ্ছে। এই রায় দেন বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথন–এর বেঞ্চ। আবেগঘন পর্যবেক্ষণে আদালত ২০১৮ সালের ঐতিহাসিক রায়ের বিভিন্ন দিক আরও স্পষ্ট করে দেয়, যেখানে প্যাসিভ ইউথেনেশিয়াকে (Supreme Court Passive Euthanasia) আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল।

    ফিডিং টিউবের মাধ্যমে খাবারও চিকিৎসার অংশ: আদালত

    হরিশ রানা মামলায় (Harish Rana Case) একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন ছিল—ফিডিং টিউবের মাধ্যমে দেওয়া খাবার ও পুষ্টি কি চিকিৎসার অংশ হিসেবে ধরা হবে কি না। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে টিউবের মাধ্যমে দেওয়া পুষ্টি ও জলও চিকিৎসারই অংশ। ফলে যদি প্রাথমিক ও দ্বিতীয় মেডিক্যাল বোর্ড মনে করে যে এই চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া রোগীর স্বার্থে নয়, তাহলে তা বন্ধ করা যেতে পারে।

    জীবন ও মৃত্যু নিয়ে আদালতের আবেগঘন পর্যবেক্ষণ

    রায় ঘোষণার (Supreme Court Passive Euthanasia)  সময় বেঞ্চ জীবন ও মৃত্যুর জটিলতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে। আদালত মার্কিন ধর্মপ্রচারক হেনরি ওয়ার্ড বিচারের উক্তি উদ্ধৃত করে জানায়— “ঈশ্বর মানুষকে জিজ্ঞেস করেন না সে জীবন গ্রহণ করবে কি না। জীবন গ্রহণ করতেই হয়, প্রশ্ন হল কীভাবে।” এছাড়া উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের বিখ্যাত ‘To be or not to be’ দ্বিধার কথাও উল্লেখ করেন বিচারপতিরা।

    কী ঘটেছিল হরিশ রানার সঙ্গে

    ২০১৩ সালে একটি বহুতলের চতুর্থ তলা থেকে পড়ে গুরুতরভাবে আহত হন হরিশ রানা (Harish Rana Case)। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর। দুর্ঘটনার পর থেকেই তিনি পারসিস্টেন্ট ভেজিটেটিভ স্টেটে (Persistent Vegetative State) চলে যান এবং সম্পূর্ণ কোয়াড্রিপ্লেজিয়ায় (Quadriplegia) আক্রান্ত হন। মেডিক্যাল রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর ঘুম ও জেগে ওঠার চক্র থাকলেও কোনও অর্থপূর্ণ নড়াচড়া বা প্রতিক্রিয়া নেই। দুর্ঘটনার পর থেকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বসানো ফিডিং টিউবের সাহায্যে তাঁকে খাবার দেওয়া হচ্ছিল।

    আদালতের দ্বারস্থ হন বাবা-মা

    বছরের পর বছর কোনও উন্নতি না হওয়ায় হরিশ রানার (Harish Rana Case) বাবা-মা আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁদের দাবি ছিল, তাঁদের ছেলে কৃত্রিমভাবে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে এবং এই চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার আর কোনও বাস্তব উপকার নেই। সব দিক বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট চিকিৎসা প্রত্যাহারের অনুমতি দেয় (Supreme Court Passive Euthanasia)।

    গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

    রায়ে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এ ধরনের ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন মৃত্যু নয়, বরং চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া রোগীর সর্বোত্তম স্বার্থে কি না। আদালতের মতে, যতক্ষণ চিকিৎসা রোগীর উপকারে আসে ততক্ষণ তা চালিয়ে যাওয়া চিকিৎসকদের দায়িত্ব। কিন্তু যখন চিকিৎসা কেবলমাত্র আরোগ্যের কোনও সম্ভাবনা ছাড়াই জৈবিক জীবন দীর্ঘায়িত করে, তখন সেই চিকিৎসা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় ভবিষ্যতে ভারতে প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া সংক্রান্ত মামলাগুলিতে (Supreme Court Passive Euthanasia)  গুরুত্বপূর্ণ দিশা দেখাবে। বিশেষ করে এমন রোগীদের ক্ষেত্রে, যাঁরা দীর্ঘদিন ভেজিটেটিভ স্টেটে থেকে শুধুমাত্র চিকিৎসা প্রযুক্তির সাহায্যে বেঁচে আছেন, সেখানে এই রায় একটি সুস্পষ্ট আইনি কাঠামো তৈরি করল।

  • Early Diabetes: কৈশোর পেরিয়েই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন ভারতীয় মহিলারা! কীভাবে সুস্থ থাকবেন?

    Early Diabetes: কৈশোর পেরিয়েই ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন ভারতীয় মহিলারা! কীভাবে সুস্থ থাকবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ভারতে বাড়ছে ডায়াবেটিসের বোঝা! আর গত কয়েক বছরে ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়েছে। কৈশোর পার করার পরেই ভারতীয় মেয়েদের শরীরে ডায়াবেটিস হানা দিচ্ছে। আর সে সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত থাকাই, ভারতীয় মহিলাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। আগামী কয়েক বছরে ভারতীয় মহিলাদের সুস্থ জীবন যাপনের পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হয়ে উঠবে ডায়াবেটিস। এমনটাই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    কী বলছে সাম্প্রতিক তথ্য?

    ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ভারতে সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক অসংক্রমিত রোগের তালিকায় প্রথম সারিতেই রয়েছে ডায়াবেটিস। এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ১০ কোটি মানুষ টাইপ টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। ১৫ বছরের উর্ধ্বে ভারতীয় মহিলাদের প্রায় ৫ শতাংশ ডায়াবেটিস আক্রান্ত। ভারতে মোট মহিলা মৃত্যুর ৫ শতাংশ ডায়াবেটিসের কারণে মারা যান। ভারতীয় গর্ভবতী মহিলাদের মধ্যে প্রায় ১৬ শতাংশের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। অর্থাৎ পরিসংখ্যান জানান দিচ্ছে, এ দেশে মহিলাদের মধ্যে ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়ছে। যা আগামী প্রজন্মের জন্যও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই এই রোগে আক্রান্ত হলে পরবর্তী জীবনে একাধিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। সুস্থ জীবন যাপনের পথে অন্তরায় হয়ে ওঠে।

    কেন ভারতীয় মহিলাদের মধ্যে ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয় মহিলাদের জীবন যাপন ও খাদ্যাভ্যাসের ধরনের জেরেই ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়ছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভারতীয় মহিলাদের শারীরিক কার্যকলাপ কমছে। অর্থাৎ নিয়মিত পর্যাপ্ত সময় ব্যায়াম করা, যোগাভ্যাস করা কিংবা নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস থাকছে না। এর ফলে স্থুলতা বাড়ছে। তাছাড়া চটজলদি প্যাকেটজাত খাবারে অনেকেই কম বয়স থেকেই অভ্যস্থ হয়ে উঠছে। এর ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। হরমোন ঘটিত ভারসাম্যের অভাব দেখা দিচ্ছে। এগুলো ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

    মহিলাদের ডায়াবেটিস চিকিৎসায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয় মহিলাদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, রোগ নির্ণয় না হওয়া। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ভারতীয় মহিলার ডায়াবেটিস পরীক্ষা হয় না। ফলে, তিনি আক্রান্ত কিনা সে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকেন না। তাই রোগের চিকিৎসাও হয় না। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয় মহিলাদের একাংশ গর্ভবতী হওয়ার পরে জানতে পারেন, তিনি ডায়াবেটিস আক্রান্ত! এক স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, “অনেকক্ষেত্রে হয়তো মহিলা বয়ঃসন্ধিকাল থেকে ডায়াবেটিস আক্রান্ত। কিন্তু সে রোগ সম্পর্কে জানেন না। কারণ তাঁর কোনো পরীক্ষা হয়নি। গর্ভবতী হওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা হওয়ার জন্য তিনি পরীক্ষা করে রোগ সম্পর্কে জানতে পারলেন। ফলে অনেকটাই দেরি হয়ে যায়। চিকিৎসাও জটিল হয়ে যায়! ” চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়ঃসন্ধিকালে একাধিক লক্ষণ ডায়াবেটিস আক্রান্ত জানান দেয়। কিন্তু সে সম্পর্কে সজাগ না থাকলে বিপদ বাড়ে!

    কীভাবে ডায়াবেটিসের প্রকোপ কমাবেন?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতীয় মহিলাদের দীর্ঘ সুস্থ জীবন‌ যাপনের জন্য নিয়মিত ডায়বেটিস পরীক্ষা করানো জরুরি। তাঁদের পরামর্শ, বয়স ২৫ পার হলেই ভারতীয় মহিলাদের বছরে অন্তত একবার রক্ত পরীক্ষা করানো জরুরি। শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কিনা, সে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকা প্রয়োজন। রোগ নির্ণয় হলে তবেই চিকিৎসা সম্ভব। তাছাড়া প্রথম থেকেই নিয়মিত শারীরিক কসরতের দিকে নজরদারি প্রয়োজন। বিশেষত শহুরে মেয়েদের শারীরিক কসরতের সুযোগ কমছে। তাই প্রতিদিন নিয়ম করে এক ঘণ্টা যোগাভ্যাস কিংবা হাঁটার মতো এমন কিছু কার্যকলাপ করা জরুরি, যাতে ক্যালোরি ক্ষয় হয়। খাদ্যাভাসের ক্ষেত্রেও সুষম আহারের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। পেট ভরানোর জন্য অতিরিক্ত পরিমাণে ভাত বা রুটি খাওয়া নয়। ভাত-রুটির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রেখে সব্জি, ডাল, প্রোটিন জাতীয় খাবার খাওয়া দরকার। বাড়ির তৈরি খাবার খেলে তবেই শরীরের একাধিক রোগের ঝুঁকি কমবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Indian Army: অবসর নিচ্ছেন বর্তমান জিওসি-ইন-সি, এপ্রিল থেকে সেনা ইস্টার্ন কমান্ডের দায়িত্বে লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভিএমবি কৃষ্ণন

    Indian Army: অবসর নিচ্ছেন বর্তমান জিওসি-ইন-সি, এপ্রিল থেকে সেনা ইস্টার্ন কমান্ডের দায়িত্বে লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভিএমবি কৃষ্ণন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। আগামী ১ এপ্রিল থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পরিবর্তন হবে। এই রদবদলের ফলে সেনাবাহিনীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডের নেতৃত্ব বদলাবে এবং নতুন করে নিয়োগ হবে ভাইস চিফ অফ আর্মি স্টাফ পদে।

    সেনা উপ-প্রধান হচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরজ শেঠ

    বর্তমানে পুনে-স্থিত সেনার সাদার্ন কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরজ শেঠ (Lt Gen Dhiraj Seth) আগামী ১ এপ্রিল থেকে নয়াদিল্লিতে ভাইস চিফ অফ আর্মি স্টাফ (VCOAS) হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। এই পদটি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে চিফ অফ আর্মি স্টাফের (সেনাপ্রধান) পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ। ভাইস চিফের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে সেনাবাহিনীর অপারেশনাল পরিকল্পনা, আধুনিকীকরণ, নীতি বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন ফরমেশনের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা। পাশাপাশি সামরিক কমান্ড ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও এই পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    আর্মার্ড কোরের অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরজ শেঠ

    লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেঠ আর্মার্ড কোরের অফিসার এবং তিনি ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বর মাসে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড ও স্টাফ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪-এর জুলাইতে সাদার্ন কমান্ডের প্রধান হওয়ার আগে তিনি মথুরায় অবস্থিত সেনাবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রাইক ফোর্স ২১ স্ট্রাইক কোরের কমান্ডার ছিলেন। এছাড়াও তিনি অতীতে একটি স্বতন্ত্র আর্মার্ড ব্রিগেড, একটি আর্মার্ড ডিভিশন, এবং দিল্লি এরিয়া-র কমান্ডার হিসেবে কাজ করেছেন। কর্মজীবনের শুরুর দিকে তিনি অ্যাঙ্গোলায় রাষ্ট্রসংঘ মিশনে মিলিটারি অবজারভার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরজ শেঠ খড়্গওয়াসলার ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমির প্রাক্তনী। পাশাপাশি তিনি ওয়েলিংটনের ডিফেন্স সার্ভিসেস স্টাফ কলেজ, নয়াদিল্লির ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ এবং অস্ট্রেলিয়ার এআইসিএসসি-তে উচ্চতর সামরিক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

    ওয়েস্টার্ন কমান্ডের নতুন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল পুষ্পেন্দ্র সিং

    এই নেতৃত্ব পরিবর্তনের ফলে সেনাবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ওয়েস্টার্ন কমান্ডেও নতুন কমান্ডার আসছেন। বর্তমান ভাইস চিফ অফ আর্মি স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল পুষ্পেন্দ্র সিং (Lt Gen Pushpendra Singh) আগামী ১ এপ্রিল থেকে ওয়েস্টার্ন আর্মি কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। তিনি এই পদে লেফটেন্যান্ট জেনারেল মনোজ কুমার কাটিয়ারের স্থলাভিষিক্ত হবেন। চণ্ডীমন্দিরে অবস্থিত ওয়েস্টার্ন কমান্ড পাকিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার সামরিক প্রস্তুতি এবং অপারেশন পরিচালনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লেফটেন্যান্ট জেনারেল পুষ্পেন্দ্র সিং এলিট প্যারাশুট রেজিমেন্ট (প্যারা) স্পেশাল ফোর্সেস থেকে উঠে আসা অফিসার। স্পেশাল ফোর্সেস থেকে খুব কম সংখ্যক অফিসারই কখনও একটি আর্মি কমান্ডের নেতৃত্ব পেয়েছেন। ভাইস চিফের পদ থেকে কমান্ডে যাওয়াকে পদাবনতি হিসেবে মনে হলও, আদতে তা নয়। সেনায় বিষয়টি সেভাবে দেখা হয় না। ভারতীয় সেনাবাহিনীর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য অনুযায়ী, শীর্ষ পদে ওঠার আগে সিনিয়র অফিসারদের স্টাফ ও ফিল্ড কমান্ড—দু’ধরনের অভিজ্ঞতা দেওয়া হয়।

    ইস্টার্ন কমান্ডে নতুন প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভিএমবি কৃষ্ণন

    আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে ইস্টার্ন কমান্ডে। বর্তমানে সেনা সদর দফতরে কোয়ার্টারমাস্টার জেনারেল হিসেবে কর্মরত লেফটেন্যান্ট জেনারেল ভিএমবি কৃষ্ণন (Lt Gen VMB Krishnan) আগামী ১ এপ্রিল থেকে ইস্টার্ন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ (জিওসি-ইন-সি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। কলকাতায় সদর দফতর থাকা ইস্টার্ন কমান্ড চিনের সঙ্গে লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল (LAC)-এর পূর্বাঞ্চলীয় অংশ— বিশেষ করে অরুণাচল প্রদেশ ও সিকিমের সামরিক পরিস্থিতি সামলায়। পাশাপাশি এই কমান্ড মিয়ানমার ও বাংলাদেশের সীমান্ত এবং গোটা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা ও অপারেশন তদারকি করে। লেফটেন্যান্ট জেনারেল কৃষ্ণন এর আগে ১৭ কোরের কমান্ডার ছিলেন, যা চিন সীমান্তে অপারেশনের জন্য গঠিত সেনাবাহিনীর মাউন্টেন স্ট্রাইক ফরমেশন। এছাড়া তিনি সেনা সদর দফতরে ডিরেক্টর জেনারেল অব ইনফরমেশন টেকনোলজি হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাম চন্দর তিওয়ারির স্থলাভিষিক্ত হবেন, যিনি জানুয়ারি ২০২৪ থেকে ইস্টার্ন কমান্ডের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং চলতি মাসেই অবসর নিতে চলেছেন।

    সাদার্ন কমান্ডে নতুন প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সন্দীপ জৈন

    লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরজ সেঠ দিল্লিতে যাওয়ায় সাদার্ন কমান্ডের নতুন প্রধান হচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল সন্দীপ জৈন (Lt Gen Sandeep jain)। বর্তমানে তিনি সাদার্ন কমান্ডের চিফ অব স্টাফ হিসেবে কর্মরত। লেফটেন্যান্ট জেনারেল জৈন এতদিন পর্যন্ত কমান্ডের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদে ছিলেন এবং অপারেশনাল ও প্রশাসনিক কাজকর্মে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁকে আর্মি কমান্ডার পদে উন্নীত করা ভারতীয় সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব কাঠামোর স্বাভাবিক অগ্রগতিরই প্রতিফলন। এর আগে তিনি অম্বালায় অবস্থিত ২ কোর, যা খড়্গ কোর নামেও পরিচিত, তার কমান্ডার ছিলেন। এটি পশ্চিম সীমান্তে সেনাবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রাইক ফরমেশন। পুনে-ভিত্তিক সাদার্ন কমান্ড উপদ্বীপীয় ভারতের বিভিন্ন সামরিক গঠন ও ইউনিটের তত্ত্বাবধান করে। উত্তরাঞ্চলের কমান্ডগুলির তুলনায় এই অঞ্চলে সরাসরি সীমান্ত উত্তেজনা তুলনামূলকভাবে কম হলেও, প্রশিক্ষণ, লজিস্টিক অবকাঠামো, অপারেশনাল প্রস্তুতি এবং কৌশলগত রিজার্ভ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সাদার্ন কমান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই পরিবর্তন

    ভারতীয় সেনাবাহিনীর এই নেতৃত্ব পরিবর্তন কেবল প্রশাসনিক রদবদল নয়। এর মাধ্যমে সেনাবাহিনীর কৌশলগত পরিকল্পনা, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সামরিক প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চিন ও পাকিস্তান সীমান্তে বাড়তে থাকা নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে এই নতুন নেতৃত্ব সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ সামরিক কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

  • India T20 World Cup 2026 Champions: টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ ফাইনালে ইতিহাস গড়ে চ্যাম্পিয়ন ভারত, রেকর্ডের বন্যা মেন ইন ব্লু-র

    India T20 World Cup 2026 Champions: টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬ ফাইনালে ইতিহাস গড়ে চ্যাম্পিয়ন ভারত, রেকর্ডের বন্যা মেন ইন ব্লু-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখল ভারত। আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জিতে নিল ভারতীয় দল। এর ফলে টি-২০ বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করল ভারত। এই জয়ের নেপথ্যে ছিল ভারতের টপ অর্ডারের বিস্ফোরক ব্যাটিং এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিং। ওপেনার সঞ্জু স্যামসন, অভিষেক শর্মা এবং ইশান কিশানের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৫৫ রানের বিশাল স্কোর দাঁড় করায় ভারত। টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে এটি অন্যতম সর্বোচ্চ দলগত সংগ্রহ।

    টপ অর্ডারের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ম্যাচের মোড়

    ভারতের ইনিংসের ভিত গড়ে দেন সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই দ্রুত রান তুলে নিউ জিল্যান্ডের বোলিং আক্রমণকে চাপে ফেলে দেন তাঁরা। পরে ইশান কিশান দ্রুতগতির ইনিংস খেলে স্কোরবোর্ডকে বিশাল উচ্চতায় পৌঁছে দেন। তিন ব্যাটারের সম্মিলিত আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ফলে ফাইনালে ভারত রেকর্ড গড়া রান তোলে।

    বুমরার আগুনে বোলিংয়ে ভেঙে পড়ে কিউই ব্যাটিং

    ২৫৬ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। ভারতের পেস আক্রমণের নেতৃত্ব দেন জসপ্রীত বুমরা। তাঁর বিধ্বংসী স্পেলে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নেন তিনি। বুমরার ধারালো বোলিং এবং অন্যান্য বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে নিউ জিল্যান্ড কখনও ম্যাচে ফিরতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় বোলিং আক্রমণের সামনে কিউই ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়ে এবং ৯৬ রানের বড় ব্যবধানে জয় পায় ভারত।

    ফাইনালে ভারতের একাধিক ঐতিহাসিক রেকর্ড

    এই ম্যাচে একাধিক নজির গড়েছে ভারতীয় দল। ফাইনালে ভারতের গড়া উল্লেখযোগ্য রেকর্ডগুলির তালিকা নিচে দেওয়া হল—

    • ● ১ – নিজেদের মাটিতে টি২০ বিশ্বকাপ জয়ী প্রথম দল হল ভারত।
    • ● ১ – টি২০ বিশ্বকাপের শিরোপা সফলভাবে রক্ষা করার নজিরও প্রথমবার গড়ল একটি দল।
    • ● ২ – ২০২১ সালের পর দ্বিতীয়বার টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে হারল নিউজিল্যান্ড। পাকিস্তান (২০০৭, ২০২২) ও শ্রীলঙ্কার (২০০৯, ২০১২) সঙ্গে যৌথভাবে এটি সর্বাধিক ফাইনাল হারার রেকর্ড।
    • ● ৩ – টি২০ বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে তিনটি শিরোপা জিতল ভারত। ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের রয়েছে দুটি করে।
    • ● ৩ – টি২০ বিশ্বকাপে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হওয়া তৃতীয় ভারতীয় হলেন সঞ্জু স্যামসন। এর আগে এই সম্মান পেয়েছিলেন বিরাট কোহলি (২০১৪, ২০১৬) ও জসপ্রীত বুমরাহ (২০২৪)।
    • ● ৪ – জসপ্রীত বুমরার ৪/১৫ টি২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে কোনো পেসারের সেরা বোলিং এবং সামগ্রিকভাবে দ্বিতীয় সেরা।
    • ● ৭ – টি২০ বিশ্বকাপে টানা তিনটি ম্যাচে ৫০ বা তার বেশি রান করা সপ্তম ব্যাটার হলেন সঞ্জু স্যামসন।
    • ● ১৪ – ২০২৬ টি২০ বিশ্বকাপে সর্বাধিক উইকেট নেওয়ার তালিকায় শীর্ষে ছিলেন জসপ্রীত বুমরা ও বরুণ চক্রবর্তী।
    • ● ৮৯ – ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সঞ্জু স্যামসনের ৮৯ রান টি২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে কোনও ব্যাটারের সর্বোচ্চ স্কোর।
    • ● ৯২ – পাওয়ারপ্লেতে ভারতের ৯২ রান টি২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতের সর্বোচ্চ।
    • ● ৯৬ – নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৯৬ রানের জয় টি২০ বিশ্বকাপে ভারতের সবচেয়ে বড় জয়।
    • ● ৯৮ – সঞ্জু স্যামসন ও ঈশান কিষানের ৯৮ রানের ওপেনিং জুটি টি২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে সর্বোচ্চ।
    • ● ২৫৫ – টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে ৫ উইকেটে ভারতের ২৫৫ রান সর্বোচ্চ দলগত স্কোর এবং পুরো টুর্নামেন্টের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ।
    • ● ৩২১ – মাত্র পাঁচ ম্যাচে সঞ্জু স্যামসনের ৩২১ রান টি২০ বিশ্বকাপের এক সংস্করণে কোনো ভারতীয় ব্যাটারের সর্বাধিক রান।

    ভারতের আধিপত্যের নতুন যুগ

    ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জয় শুধু একটি ট্রফি জয় নয়, বরং আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটে ভারতের ধারাবাহিক আধিপত্যের প্রতীক। তরুণ ও অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সমন্বয়ে তৈরি এই দল ভবিষ্যতের বিশ্ব ক্রিকেটেও বড় শক্তি হয়ে উঠতে পারে। টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এর এই ঐতিহাসিক জয় ভারতীয় ক্রিকেটকে আরও এক ধাপ উঁচুতে নিয়ে গেল।

  • Mojtaba Khamenei: ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই, ‘‘বেশি দিন টিকতে পারবে না’’ প্রতিক্রিয়া ট্রাম্পের

    Mojtaba Khamenei: ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই, ‘‘বেশি দিন টিকতে পারবে না’’ প্রতিক্রিয়া ট্রাম্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হলেন মোজতবা খামেনেই (Mojtaba Khamenei)। রবিবার গভীর রাতে ইরানের অ্যাসেম্বলি অফ এক্সপার্টস (Assembly of Experts) আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে যে নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ্ আলি খামেনেই (Ayatollah Ali Khamenei)-র উত্তরসূরি হিসেবে তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনেই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

    সুপ্রিম লিডার মোজতবা…

    আয়াতোল্লার মেজো ছেলে ৫৬ বছর বয়সি কট্টরপন্থী ধর্মগুরু মোজতবাই যে ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর পদে বসতে চলেছেন, তেমন একটা আভাস আগেই মিলেছিল। দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের ক্ষমতাকেন্দ্রের একাংশ তাঁকে আয়াতোল্লাহ্ আলি খামেনেইয়ের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখছিল। মোজতবা খামেনেই একজন মধ্যমস্তরের শিয়া ধর্মগুরু এবং ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (Islamic Revolutionary Guard Corps)-এর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। উল্লেখ্য, যৌথ মার্কিন–ইজরায়েলি হামলায় নিহত হন আলি খামেনেই। সেই ঘটনার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনেই এখন ইরানের রাষ্ট্রনীতি, সামরিক সিদ্ধান্ত এবং কূটনীতির ওপর চূড়ান্ত কর্তৃত্ব পাবেন।

    হুঁশিয়ারি আমেরিকা-ইজরায়েলের

    এদিকে এই নিয়োগ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তিনি বলেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের মতামতও গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, “যদি সে আমাদের অনুমোদন না পায়, তাহলে বেশি দিন টিকতে পারবে না।” ঘোষণার আগেই ইজরায়েল হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা যেই হোক না কেন, তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। যদিও ইরানের রাজনৈতিক মতাদর্শে পারিবারিক উত্তরাধিকারের ধারণা নিরুৎসাহিত করা হয়, তবুও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস এবং প্রয়াত খামেনেইয়ের দফতরের একটি শক্তিশালী অংশ মোজতবার পক্ষে ছিল। অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস এক বিবৃতিতে জানায়, “নির্ণায়ক ভোটের মাধ্যমে আয়াতোল্লাহ্ সঈদ মোজতবা হোসেইনি খামেনেইকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।” ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে পরিষদের সদস্য আয়াতোল্লাহ্ মোহসেন হায়দারি আলেকাসির বলেন, প্রয়াত আলি খামেনেইয়ের নির্দেশ ছিল এমন একজন নেতাকে বেছে নেওয়া, যাকে শত্রুরা ঘৃণা করে। তাঁর কথায়, “মহাশয়তান (যুক্তরাষ্ট্র) পর্যন্ত তাঁর নাম উল্লেখ করেছে,”— ইঙ্গিত ছিল ট্রাম্পের সমালোচনার দিকে।

    কে এই মোজতবা খামেনেই?

    ১৯৬৯ সালে ইরানের শিয়া ধর্মীয় শহর মশদ-এ জন্মগ্রহণ করেন মোজতবা খামেনেই। তিনি এমন এক সময়ে বড় হন, যখন তাঁর বাবা শাহ-বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তরুণ বয়সে তিনি ইরান-ইরাক যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ইরানের শিয়া ধর্মতত্ত্বের প্রধান কেন্দ্র ‘কওম’-এ ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করেন। মোজতবা কখনও ইরানের সরকারি ব্যবস্থায় কোনো নির্বাচিত পদে ছিলেন না। তবে মার্কিন অর্থ দফতর ২০১৯ সালে তাঁর উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তাদের অভিযোগ ছিল, কোনও সরকারি পদে না থেকেও তিনি তাঁর বাবার প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করতেন। এছাড়াও ২০০৫ সালে ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে কট্টরপন্থী নেতা মাহমুদ আহমেদিনেজাদ-এর উত্থানের নেপথ্যে মোজতবা খামেনেইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হয়ে আসছে।

     

  • Childhood Obesity: আমেরিকাকে টপকে ভারত! শৈশবের স্থূলতার বোঝা বাড়ছে দেশে, নেপথ্যে খাবার নাকি মোবাইল আসক্তি?

    Childhood Obesity: আমেরিকাকে টপকে ভারত! শৈশবের স্থূলতার বোঝা বাড়ছে দেশে, নেপথ্যে খাবার নাকি মোবাইল আসক্তি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ওজন! অতিরিক্ত ওজন! যা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সময় মতো নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে স্বাভাবিক জীবন যাপনের পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হয়ে উঠবে। ভারতীয় শিশুদের স্থূলতার সমস্যা আমেরিকাকেও টপকে গিয়েছে। চিনের পরেই অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় থাকা দেশের তালিকায় ভারত। বিশ্বে ভারতের স্থান দ্বিতীয়। সাম্প্রতিক তথ্য আগামী প্রজন্মের সুস্থ জীবন‌ যাপন নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    কী বলছে সাম্প্রতিক তথ্য?

    সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে এক তথ্যে জানানো হয়েছে, ভারতীয় শিশুদের মধ্যে মারাত্মক ভাবে অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা বাড়ছে। স্থূলতায় আক্রান্ত শিশুদের নিরিখে ভারত বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। ওই তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ৫ থেকে ৯ বছর বয়সী প্রায় ১৫ মিলিয়ন শিশু অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগছে। আবার ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের মধ্যে ২৬ মিলিয়ন অতিরিক্ত ওজন বা ওবেসিটির সমস্যায় আক্রান্ত। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ২০ মিলিয়ন ভারতীয় শিশু স্থূলতার শিকার হবে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক।

    কেন ভারতীয় শিশুদের মধ্যে স্থূলতার সমস্যা বাড়ছে?

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ভারতীয় শিশুদের অতিরিক্ত ওজনের নেপথ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত শারীরিক কসরতের অভাব। ৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী ভারতীয় ছেলেমেয়েদের মধ্যে ৭৪ শতাংশ প্রয়োজনীয় শারীরিক কসরত করে না। এর ফলে তাদের শরীরে ক্যালোরি ক্ষয় হয় না। যা অতিরিক্ত ওজনের অন্যতম কারণ।

    ওবেসিটির নেপথ্যে খাদ্যাভাস নাকি মোবাইল আসক্তি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ওবেসিটির নেপথ্যে প্রথম কারণ অবশ্যই খাদ্যাভাস থাকে। তবে ভারতীয় শিশুদের অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার সমস্যার অন্যতম কারণ হলো অতিরিক্ত মোবাইল আসক্তি। শিশু রোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, একাধিক সমীক্ষায় উঠে আসছে ভারতীয় শিশুদের প্রয়োজনীয় শারীরিক সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে না। অর্থাৎ ৫ বছর বা ১০ বছর বয়সে শিশুর যেমন খাবারের পরিমাণে পরিবর্তন হয়, তেমনি শারীরিক কার্যকলাপেও পরিবর্তন হওয়া উচিত। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খেলাধুলা করা, যোগাভ্যাস করা প্রয়োজন। কিন্তু অধিকাংশ ভারতীয় শিশুর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টো। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে খাবারের পরিমাণ বাড়ছে, আর শারীরিক কার্যকলাপ কমছে। অবসর যাপন মানেই মোবাইলের পর্দায় চোখ আটকে থাকছে। ক্রিকেট, ফুটবল হোক কিংবা কাবাডির মতো মাঠে নেমে দৌড়াদৌড়ি করে খেলার পরিবর্তে বিভিন্ন ভিডিও গেমে আসক্তি বাড়ছে। যা শরীরের জন্য বিপজ্জনক। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ছোটোদের পাশপাশি বড়দের স্থূলতার অন্যতম কারণ খাবার। পিৎজা, বার্গার কিংবা অতিরিক্ত তেল মশলা দেওয়া চটজলদি খাবার খাওয়ার অভ্যাস শরীরে মেদ বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু তারমধ্যে এক জায়গায় দীর্ঘ সময় বসে থাকা, ছোটাছুটি না করার জেরে সেই মেদ ঝরানোর সুযোগ ও থাকছে না। ফলে ওজন মারাত্মক বাড়ছে‌।

    কেন ওবেসিটি উদ্বেগজনক সমস্যা?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরের অতিরিক্ত ওজন একাধিক রোগের কারণ হয়ে ওঠে। শৈশব থেকেই এই অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা থাকলে সুস্থ দীর্ঘ জীবন কার্যত মুশকিল। কারণ, স্থূলতা হৃদরোগ, কিডনি, লিভারের অসুখের কারণ হয়ে ওঠে। আবার হরমোনের ভারসাম্য ও নষ্ট করে। ফলে বড় হয়ে ওঠার পর্বে নানান জটিলতা তৈরি হয়।

    কীভাবে স্থূলতা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সচেতনতা থাকলেই শিশুদের স্থূলতা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। তাঁদের পরামর্শ, নিয়মিত শিশুকে খেলায় অংশগ্রহণে আগ্রহ দিতে হবে। দিনের অন্তত ৩০-৪০ মিনিট শারীরিক পরিশ্রম হয় এমন খেলায় অংশগ্রহণ করাতে হবে। সাঁতার হোক কিংবা মার্শাল আর্ট কিংবা ক্রিকেট-ফুটবল-হকির মতো যেকোনো ধরনের খেলায় অংশগ্রহণ করতে হবে। নিয়মিত খেললে শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরবে। চর্বি জমবে না। অতিরিক্ত ওজন বাড়বে না। অবসর যাপনে মোবাইলের গেম নয়। বন্ধুদের সঙ্গে মাঠে খেলা জরুরি। এতে শারীরিক ও মানসিক গঠন ঠিক হয়। তাছাড়া খাবারের দিকেও নজরদারি প্রয়োজন বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত পরিমাণ খাবার খাওয়ানো একেবারেই উচিত নয়। অভিভাবকদের প্রথম থেকেই খাবারের পরিমাণ নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। তাছাড়া ঘরের তৈরি খাবার খাওয়া দরকার। চটজলদি প্যাকেটজাত খাবার নিয়মিত খেলে অতিরিক্ত ওজনের ঝুঁকি বাড়বে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

LinkedIn
Share