Tag: বাংলা খবর

  • Sanae Takaichi in India: রাষ্ট্রপতি ভবনে জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা, মোদির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক জাপানের প্রধানমন্ত্রীর

    Sanae Takaichi in India: রাষ্ট্রপতি ভবনে জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা, মোদির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক জাপানের প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির ভারত সফর ঘিরে আরও একবার উষ্ণ হল নয়াদিল্লি-টোকিও সম্পর্ক। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজের মন্ত্রিসভার সদস্য ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে পরিচয় করিয়ে দেন। এই সফরকে ভারত-জাপান কৌশলগত সম্পর্কের আরও এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারত সফরে এসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে জাপানও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জাপান সরকারের ক্যাবিনেট পাবলিক রিলেশনস অফিসার লিখেছেন, “উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। ভারত সফর নিয়ে আমরা অত্যন্ত উৎসাহিত।”

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি?

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স-এ সানায়ে তাকাইচিকে স্বাগত জানিয়ে লেখেন, “ভারতে আপনাকে আন্তরিক স্বাগত, প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।” তিনি জানান, এই সফরে দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে এবং ভারত-জাপান ‘স্পেশাল স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড গ্লোবাল পার্টনারশিপ’-কে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাশাপাশি, মুক্ত, উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার বিষয়েও দুই নেতা মতবিনিময় করবেন।

    তিন দিনের সরকারি সফরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী

    বুধবার তিন দিনের সরকারি সফরে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। পালাম বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। এই সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন তাকাইচি। বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সেমিকন্ডাক্টর, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, উন্নত প্রযুক্তি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় থাকবে বলে জানা গেছে। এছাড়া ভারত-জাপান যৌথ অর্থনৈতিক ফোরামেও অংশ নিচ্ছেন ১০০-রও বেশি জাপানি শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী। এই ফোরামের লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত করা।

    বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও বিনিয়োগে জোর

    দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব চলমান দ্বিপাক্ষিক প্রকল্পগুলির অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন। একই সঙ্গে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হবে। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সহযোগিতাও বৈঠকের অন্যতম প্রধান বিষয়। বিশেষ করে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্থিতিশীলতা, অবকাঠামো উন্নয়ন, সরবরাহ শৃঙ্খলের (Supply Chain) স্থিতিস্থাপকতা, উদীয়মান প্রযুক্তি এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়গুলিও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

    আরও মজবুত হবে ভারত-জাপান সম্পর্ক

    ভারত ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের স্পেশাল স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড গ্লোবাল পার্টনারশিপ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন এবং মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিকের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। ভারতের অন্যতম বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশ হিসেবে জাপান ইতিমধ্যেই বুলেট ট্রেন প্রকল্প, অবকাঠামো নির্মাণ, শিল্পোন্নয়ন-সহ একাধিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি যৌথ সামরিক মহড়া এবং নিয়মিত কৌশলগত সংলাপের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির এই সফর ভারত-জাপান সম্পর্ককে নতুন গতি দেবে এবং বাণিজ্য, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও গভীর করবে।

  • Debraj Chakraborty Arrested: অযোধ্যা পাহাড়ের হোটেলে লুকিয়েও শেষরক্ষা হল না! এসটিএফের জালে দেবরাজ চক্রবর্তী

    Debraj Chakraborty Arrested: অযোধ্যা পাহাড়ের হোটেলে লুকিয়েও শেষরক্ষা হল না! এসটিএফের জালে দেবরাজ চক্রবর্তী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের নজরে ছিলেন তিনি। কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর থেকেই আত্মগোপনে চলে যান বিধাননগর পুরনিগমের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী। শেষ পর্যন্ত সেই লুকিয়ে থাকাও কাজে এল না। রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) এবং বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের যৌথ অভিযানে পুরুলিয়া থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে।

    কীভাবে ধরা হল অভিষেক-ঘনিষ্ঠ দেরবাজকে?

    পুলিশ সূত্রের খবর, উত্তর ২৪ পরগনার রাজারহাট-গোপালপুরের বাসিন্দা দেবরাজ চক্রবর্তী পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় একটি হোটেলে আত্মগোপন করেছিলেন। স্থানীয় রাজনৈতিক যোগাযোগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করে তদন্তকারীরা। এরপর বিশেষ দল গঠন করে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। দেবরাজ চক্রবর্তীকে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই রাজনৈতিক মহলে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে বাগুইআটি থানায় এক প্রোমোটারের অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে সিন্ডিকেট চালানো, তোলাবাজি, জমি দখল, বেআইনি সম্পত্তি লেনদেন এবং ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার সঙ্গে যুক্ত থাকার মতো গুরুতর অভিযোগ।

    আগাম জামিন খারিজ হতেই গা-ঢাকা

    এর আগে হাইকোর্ট থেকে আইনি সুরক্ষা পেলেও দ্বিতীয় দফার শুনানিতে আদালত দেবরাজের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। একই মামলায় তাঁর স্ত্রী তথা গায়িকা ও প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সি আগাম জামিন পেলেও দেবরাজের ক্ষেত্রে আদালত সেই সুবিধা দেয়নি। এরপর থেকেই তাঁর গ্রেফতার প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছিল। এর পরেই, জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর থেকেই আত্মগোপনে চলে যান বিধাননগর পুরনিগমের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী।

    দেবরাজ গ্রেফতার হতেই উচ্ছ্বাস বাগুইআটিতে

    দেবরাজ গ্রেফতার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বাগুইআটি এলাকায় উচ্ছ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বাজি ফাটিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজারহাট-গোপালপুরের বর্তমান বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারিও। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি অভিযোগ করে আসছিলেন যে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দেবরাজ চক্রবর্তী ও তাঁর স্ত্রী বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। তাঁর দাবি, নির্বাচনের আগে প্রায় ১০০ কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মীয়-পরিজন ও বেনামি ব্যক্তিদের নামে হস্তান্তর করা হয়েছিল, যাতে প্রকৃত সম্পদের হিসাব গোপন রাখা যায়।

    ভয় দেখানো, তোলাবাজি, জমি দখলের অভিযোগ

    হাইকোর্টে জামিন শুনানির সময় রাজ্যের পক্ষ থেকেও একাধিক বিস্ফোরক দাবি করা হয়েছিল। সরকারি আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, রাজারহাট-নিউটাউন এবং সংলগ্ন এলাকায় প্রোমোটারদের ভয় দেখানো, তোলাবাজি এবং জোর করে জমি দখলের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের সাম্রাজ্য গড়ে তোলা হয়েছে। আদালতে আরও দাবি করা হয়, ভোটের আগে কালিম্পংয়ের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট-সহ একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছিল।

    জমি কেনাবেচায় ভয়ঙ্কর কারচুপি!

    তদন্তকারীদের দাবি, সম্পত্তি কেনাবেচার ক্ষেত্রেও অত্যন্ত সুপরিকল্পিত আর্থিক কারচুপির প্রমাণ মিলছে। অভিযোগ, বাজারদরের তুলনায় অনেক কম মূল্য দেখিয়ে জমি বা সম্পত্তি হস্তান্তর করা হত। পরে নির্দিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে সেই জমিতে আবাসন প্রকল্প তৈরি করে কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি করা হতো। আদালতে এমনও দাবি করা হয়, প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা বাজারমূল্যের একটি জমি নথিতে মাত্র ১০ লক্ষ টাকায় দেবরাজের নামে হস্তান্তর দেখানো হয়েছিল। এই আর্থিক লেনদেনের নেপথ্যে বৃহত্তর কোনও চক্র সক্রিয় থাকতে পারে বলেও তদন্তকারীদের অনুমান।

    রাজনীতিতে আচমকা উত্থান….

    দেবরাজ চক্রবর্তীর রাজনৈতিক জীবনও যথেষ্ট ঘটনাবহুল। যুব তৃণমূল কর্মী হিসেবে রাজনীতিতে হাতেখড়ি হলেও ২০১৩ ও ২০১৫ সালের পুরসভা নির্বাচনে দলীয় টিকিট না পেয়ে তিনি কংগ্রেসে যোগ দেন। ২০১৫ সালে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে বিধাননগর পুরনিগমের ৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জয়ী হয়ে কাউন্সিলর হন। পরে আবার তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করেন। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী অদিতি মুন্সি ২০২১ সালে রাজারহাট-গোপালপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে বিধায়ক নির্বাচিত হন। তবে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তিনি বিজেপি প্রার্থী তরুণজ্যোতি তিওয়ারির কাছে পরাজিত হন। বর্তমানে দেবরাজ চক্রবর্তী ও অদিতি মুন্সির বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পত্তি এবং অর্থপাচার-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগের তদন্ত চলছে। আদালতের রক্ষাকবচ সরে যাওয়ার পর থেকেই তাঁকে ধরতে তল্লাশি শুরু করেছিল পুলিশ। শেষ পর্যন্ত পুরুলিয়া থেকে তাঁর গ্রেফতার রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।

  • UPI in Greece: বিশ্বজুড়ে বাড়ছে ভারতের ইউপিআই-এর দাপট, এবার গ্রিসেও চালু ডিজিটাল পেমেন্ট পরিষেবা

    UPI in Greece: বিশ্বজুড়ে বাড়ছে ভারতের ইউপিআই-এর দাপট, এবার গ্রিসেও চালু ডিজিটাল পেমেন্ট পরিষেবা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার বিশ্বজোড়া বিস্তার অব্যাহত। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল ইউরোপের জনপ্রিয় পর্যটন দেশ গ্রিস। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হল ভারতের ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা ইউপিআই। ফলে গ্রিসে বেড়াতে বা কাজের সূত্রে যাওয়া ভারতীয়দের জন্য ডিজিটাল পেমেন্ট করা আরও সহজ হবে। ভারতের নিজস্ব ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ইউপিআই-এর আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণে এটি আরও একটি বড় পদক্ষেপ। গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের উপস্থিতিতে ইউরোব্যাঙ্ক এবং এনপিসিআই ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্টস লিমিটেড (এনআইপিএল)-এর অংশীদারিত্বের আনুষ্ঠানিক প্রদর্শন করা হয়। সেই অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই গ্রিসে ইউপিআই পরিষেবা চালুর ঘোষণা আসে।

    কী জানালেন পীযূষ গোয়েল?

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ পীযূষ গোয়েল জানান, ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তাঁর কথায়, এই উদ্যোগের ফলে যোগ্য ব্যবহারকারীরা দ্রুত, নিরাপদ এবং নির্বিঘ্নে অর্থ লেনদেন করতে পারবেন। পাশাপাশি প্রচলিত আন্তর্জাতিক পেমেন্ট পদ্ধতির তুলনায় লেনদেনের খরচও কমবে। এর মাধ্যমে ভারতের প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা যে আন্তর্জাতিক স্তরে ক্রমশ গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে, সেটিও আরও একবার স্পষ্ট হল।

    ইউপিআই কী?

    ইউপিআই বা ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস হল ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (এনপিসিআই)-এর তৈরি একটি রিয়েল-টাইম ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে সরাসরি এক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে মুহূর্তের মধ্যে টাকা পাঠানো বা গ্রহণ করা যায়। কিউআর কোড স্ক্যান করে, মোবাইল নম্বর বা ইউপিআই আইডির মাধ্যমে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই অর্থপ্রদান সম্পন্ন করা সম্ভব। বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাগুলির অন্যতম হল ইউপিআই।

    গ্রিসে ভারতীয়দের কী সুবিধা হবে?

    বিদেশে ভ্রমণের সময় সাধারণত নগদ অর্থ বহন, বিমানবন্দরে মুদ্রা বিনিময়, বিদেশি মুদ্রার বিনিময় হার কিংবা আন্তর্জাতিক ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের অতিরিক্ত খরচের মুখে পড়তে হয়। গ্রিসে ইউপিআই চালু হওয়ায় সেই ঝামেলা অনেকটাই কমবে। যেখানে ইউপিআই গ্রহণ করা হবে, সেখানে যোগ্য ভারতীয় ব্যবহারকারীরা মোবাইল ফোন থেকেই কিউআর কোড স্ক্যান করে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। ফলে নগদ অর্থ বহনের প্রয়োজন কমবে এবং দোকান, ক্যাফে বা রেস্তোরাঁয় বিল মেটানো হবে আরও সহজ।

    বিশ্বের ১০টি দেশে পৌঁছল ইউপিআই

    গত কয়েক বছরে ভারতের ইউপিআই দ্রুত আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে। বিভিন্ন দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এই পরিষেবার পরিধি ক্রমশ বাড়ছে। গ্রিস যুক্ত হওয়ার পর বিভিন্ন ব্যবস্থায় ইউপিআই এখন বিশ্বের মোট ১০টি দেশে উপলব্ধ। এই দেশগুলি হল— সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ফ্রান্স, মরিশাস, নেপাল, ভুটান, কাতার, শ্রীলঙ্কা, কম্বোডিয়া ও (সব শেষে) গ্রিস। ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Iron Dome Tamir Missile: আয়রন ডোমের ‘তামির’ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে ভারতের দ্বারস্থ ইজরায়েল, জোর জল্পনা প্রতিরক্ষা মহলে!

    Iron Dome Tamir Missile: আয়রন ডোমের ‘তামির’ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে ভারতের দ্বারস্থ ইজরায়েল, জোর জল্পনা প্রতিরক্ষা মহলে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের মাটিতে তৈরি হতে পারে ইজরায়েলের বহুল আলোচিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’-এর অতি-গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ‘তামির’ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র। সেই লক্ষ্যেই দেশের একাধিক বেসরকারি প্রতিরক্ষা উৎপাদনকারী সংস্থার সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে ইজরায়েলের শীর্ষ প্রতিরক্ষা সংস্থা রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস্। আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা মহলের বিভিন্ন প্রতিবেদনে এমনই দাবি করা হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত চুক্তি বা অংশীদার সংস্থার নাম ঘোষণা করা হয়নি। রাফায়েলের লক্ষ্য, ভারতে ‘তামির’ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে একদিকে ইজরায়েলের বাড়তে থাকা চাহিদা মেটানো, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানির জন্য একটি বিকল্প উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলা। বিশ্বজুড়ে আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চাহিদা বাড়তে থাকায় সংস্থাটি উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর পথ খুঁজছে।

    কেন ভারতের দিকেই ঝুঁকছে রাফায়েল?

    গত কয়েক বছরে প্রতিরক্ষা উৎপাদনে ভারতের অগ্রগতি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির নজর কেড়েছে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির ফলে দেশে প্রতিরক্ষা শিল্পের পরিকাঠামো যেমন শক্তিশালী হয়েছে, তেমনই তৈরি হয়েছে দক্ষ প্রযুক্তিগত কর্মী বাহিনী। তুলনামূলক কম উৎপাদন ব্যয় এবং সরকারি নীতিগত সহায়তাও বিদেশি সংস্থাগুলিকে ভারতে বিনিয়োগে উৎসাহ দিচ্ছে। রাফায়েলের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কও নতুন নয়। ক্ষেপণাস্ত্র, বিমান প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা প্রকল্পে বহু বছর ধরেই ভারতীয় সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে ইজরায়েলি এই সংস্থা। ফলে নতুন উৎপাদন অংশীদারিত্বের সম্ভাবনাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েই দেখা হচ্ছে।

    কী এই ‘তামির’?

    ‘তামির’ হল আয়রন ডোম বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র। শত্রুপক্ষের ছোড়া স্বল্প-পাল্লার রকেট, মর্টার কিংবা কামানের গোলা লক্ষ্যভ্রষ্ট করার আগেই মাঝ আকাশে ধ্বংস করে দেওয়াই এর কাজ। আয়রন ডোমের রেডার প্রথমে সম্ভাব্য হামলা শনাক্ত করে। এরপর নির্দেশ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে হিসাব করে দেখে রকেটটি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাত হানবে কি না। বিপদের আশঙ্কা থাকলেই উৎক্ষেপণ করা হয় ‘তামির’ ক্ষেপণাস্ত্র। মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়া হয় লক্ষ্যবস্তু।

    ভারতের কী লাভ?

    এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে বড়সড় গতি আসতে পারে। দেশীয় উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলির সামনে খুলে যেতে পারে আন্তর্জাতিক বাজারের দরজা। বাড়তে পারে উচ্চপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানও। একই সঙ্গে বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা সরবরাহ শৃঙ্খলে ভারতের গুরুত্ব আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর পাশাপাশি ইজরায়েলের সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। যদিও প্রযুক্তি হস্তান্তরের পরিমাণ নির্ভর করবে ভবিষ্যতের চুক্তির শর্তের উপর।

    ভারত-ইজরায়েল সম্পর্কে নতুন মাত্রা?

    গত কয়েক বছরে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র, নজরদারি ব্যবস্থা, ড্রোন, বিমান প্রতিরক্ষা এবং অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তিতে দুই দেশের সহযোগিতা ক্রমশ বেড়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে ‘তামির’ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন শুরু হলে তা শুধু একটি শিল্প প্রকল্প হবে না; বরং ভারত-ইজরায়েল কৌশলগত সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের প্রতিরক্ষা সরবরাহ ব্যবস্থাকেও আরও নির্ভরযোগ্য করে তুলবে।

    এখনও চূড়ান্ত নয়

    তবে আপাতত পুরো বিষয়টি আলোচনা ও সম্ভাব্য অংশীদার খোঁজার পর্যায়ে রয়েছে। রাফায়েল বা ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক উৎপাদন চুক্তির ঘোষণা করা হয়নি। বাণিজ্যিক আলোচনা, প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন এবং দুই দেশের সরকারি অনুমোদন মিললেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাই ভারতে ‘তামির’ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সম্ভাবনা জোরালো হলেও, এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে— এমনটা বলা যাবে না।

  • General Dhiraj Seth: ৩১তম সেনাপ্রধান হলেন জেনারেল ধীরজ শেঠ, একসঙ্গে বদল একাধিক শীর্ষ পদে

    General Dhiraj Seth: ৩১তম সেনাপ্রধান হলেন জেনারেল ধীরজ শেঠ, একসঙ্গে বদল একাধিক শীর্ষ পদে

    জেনারেল শঙ্কর রায়চৌধুরীর পর এই প্রথম সেনার কোনও আর্মার্ড কোর অফিসার সেনাপ্রধান হলেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শীর্ষস্তরে বড় রদবদল। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর (Indian Army) ৩১তম সেনাপ্রধান (Chief of the Army Staff) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন জেনারেল ধীরজ শেঠ (General Dhiraj Seth)। তিনি প্রায় তিন দশক পর প্রথম আর্মার্ড কোর (Armoured Corps)-এর অফিসার, যিনি সেনাপ্রধানের পদে অধিষ্ঠিত হলেন। এর আগে ১৯৯৭ সালে জেনারেল শঙ্কর রায়চৌধুরী অবসর নেওয়ার পর আর কোনও আর্মার্ড কোর অফিসার এই দায়িত্ব পাননি। এই নিয়োগের মধ্য দিয়ে শুধু সেনাপ্রধানের পদেই নয়, ভারতীয় সেনাবাহিনীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডেও ব্যাপক রদবদল ঘটল। একইসঙ্গে ভারতীয় বায়ুসেনাতেও শীর্ষ পর্যায়ে নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যা ভবিষ্যতে তিন বাহিনীর যৌথ যুদ্ধ প্রস্তুতি, আধুনিকীকরণ এবং থিয়েটার কমান্ড গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

    দক্ষিণ ব্লকে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব হস্তান্তর

    নয়াদিল্লির দক্ষিণ ব্লকের লনে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব হস্তান্তর সম্পন্ন হয়। বিদায়ী সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী চার দশকেরও বেশি সামরিক জীবনের ইতি টানার আগে গার্ড অফ অনার গ্রহণ করেন। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন জেনারেল ধীরজ শেঠ। এই পরিবর্তন ভারতের প্রতিরক্ষা নেতৃত্বে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় প্রশাসনিক রদবদল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, মাত্র এক মাস আগেই চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জেনারেল এনএস রাজা সুব্রমণি এবং ভারতীয় নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন অ্যাডমিরাল কৃষ্ণ স্বামীনাথন। ফলে তিন বাহিনীর নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মের কর্মকর্তাদের হাতে দায়িত্ব চলে এল।

    কে এই জেনারেল ধীরজ শেঠ?

    জেনারেল ধীরজ শেঠ খড়্গবাসলায় স্থিত ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমির (NDA) প্রাক্তনী। ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি আর্মার্ড কোরে কমিশনপ্রাপ্ত হন। প্রায় চার দশকের দীর্ঘ সামরিক জীবনে তিনি প্রচলিত যুদ্ধ, সীমান্ত নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্টাফ নিয়োগে কাজ করেছেন। তাঁর সামরিক জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হল, পাকিস্তান সীমান্ত সংলগ্ন ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল কমান্ডের নেতৃত্ব দেওয়া। তিনি প্রথমে ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে জয়পুরভিত্তিক সাউথ ওয়েস্টার্ন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ (GOC-in-C) হন। পরে পুনে-ভিত্তিক সাদার্ন কমান্ডের নেতৃত্বও গ্রহণ করেন। ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল তিনি ভাইস চিফ অফ দ্য আর্মি স্টাফ (Vice Chief of the Army Staff) হিসেবে দায়িত্ব নেন। সেখান থেকেই তিনি এবার দেশের সর্বোচ্চ সামরিক পদে উন্নীত হলেন।

    সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে একাধিক পরিবর্তন

    জেনারেল ধীরজ শেঠ সেনাপ্রধান হওয়ার ফলে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও রদবদল হয়েছে। ভাইস চিফ অফ দ্য আর্মি স্টাফ হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল সন্দীপ জৈন। তিনি এতদিন সাদার্ন কমান্ডের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অন্যদিকে, তাঁর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজেশ পুষ্কর। বর্তমানে তিনি আম্বালা-ভিত্তিক দ্বিতীয় স্ট্রাইক কোরের (II Strike Corps) নেতৃত্বে রয়েছেন। ১ জুলাই পুনেতে সাদার্ন আর্মি কমান্ডের নতুন প্রধান হিসেবে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাজেশ পুষ্করও আর্মার্ড কোরের অফিসার। ফলে এই রদবদলে সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ফিল্ড কমান্ডগুলিতে আর্মার্ড কোরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেল।

    সাউথ-ওয়েস্টার্ন কমান্ডেও নতুন নেতৃত্ব

    জয়পুর-ভিত্তিক সাউথ ওয়েস্টার্ন কমান্ডের নতুন প্রধান হচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহিত মালহোত্রা। বর্তমানে তিনি কলকাতার ইস্টার্ন কমান্ডের চিফ অফ স্টাফ হিসেবে কর্মরত। ১৯৮৯ সালের জুন মাসে ৪৭তম আর্মার্ড রেজিমেন্টে কমিশনপ্রাপ্ত মালহোত্রা এবার এমন একটি কমান্ডের দায়িত্ব নিতে চলেছেন, যা পাকিস্তান সীমান্তে ভারতের অন্যতম সংবেদনশীল সামরিক দায়িত্ব বহন করে। তিনি অবসরগ্রহণকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল মঞ্জিন্দর সিং-এর স্থলাভিষিক্ত হবেন।

    ভারতীয় বায়ুসেনাতেও নেতৃত্বে পরিবর্তন

    শুধু সেনাবাহিনী নয়, ভারতীয় বায়ুসেনাতেও গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব পরিবর্তন হতে চলেছে। এয়ার মার্শাল আশুতোষ দীক্ষিত নতুন ভাইস চিফ অফ দ্য এয়ার স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। সামরিক সিনিয়রিটির নিরিখে তিনি আগামী অক্টোবর মাসে অবসর নিতে চলা বর্তমান বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অমরপ্রীত সিং-এর সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছেন। ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বর মাসে ফাইটার স্ট্রিমে কমিশনপ্রাপ্ত আশুতোষ দীক্ষিত বর্তমানে ইন্টিগ্রেটেড ডিফেন্স স্টাফ (Integrated Defence Staff)-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফের অধীনে থাকা এই ত্রি-সার্ভিস সংস্থায় তিনি তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং ভবিষ্যতের থিয়েটার কমান্ড গঠনের প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এর আগে তিনি বেঙ্গালুরুর এয়ারক্রাফট অ্যান্ড সিস্টেমস টেস্টিং এস্টাবলিশমেন্ট (ASTE)-এর ফ্লাইট টেস্ট স্কোয়াড্রনের কমান্ডিং অফিসার এবং ২০২৩ সালের মে মাস থেকে ডেপুটি চিফ অফ দ্য এয়ার স্টাফ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

    থিয়েটার কমান্ড ও আধুনিকীকরণে নতুন নেতৃত্বের বড় চ্যালেঞ্জ

    ভারতের প্রতিরক্ষা কাঠামো বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিন বাহিনীর যৌথ থিয়েটার কমান্ড গঠন, যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক অস্ত্র ও প্ল্যাটফর্ম অন্তর্ভুক্তি, সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার করা এবং সমন্বিত সামরিক কাঠামো গড়ে তোলাই এখন প্রধান অগ্রাধিকার। গত কয়েক বছরে এই সংস্কার প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে এগোলেও নানা প্রশাসনিক ও কাঠামোগত কারণে তা প্রত্যাশিত গতিতে এগোয়নি। ফলে নতুন সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরজ শেঠ, নতুন সিডিএস, নৌবাহিনী প্রধান এবং বায়ুসেনার নতুন নেতৃত্বের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে এই সংস্কার কর্মসূচিকে কার্যকরভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তে চিন ও পাকিস্তানের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধের পরিবর্তিত বাস্তবতা এবং তিন বাহিনীর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নতুন নেতৃত্বের ভূমিকা আগামী কয়েক বছরে ভারতের সামরিক কৌশল নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

  • Teen Mental Health: প্রতি ৭ জনে ১ জন কিশোর-কিশোরী মানসিক সমস্যায়! ইউনিসেফ রিপোর্টে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে নতুন তথ্য

    Teen Mental Health: প্রতি ৭ জনে ১ জন কিশোর-কিশোরী মানসিক সমস্যায়! ইউনিসেফ রিপোর্টে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে নতুন তথ্য

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    স্কুল থেকে ফিরেই কেউ ঘরের দরজা বন্ধ করে দেয়। আবার কেউ বাড়িতে আত্মীয় আসলে, চলে যায় বন্ধুর বাড়ি।‌‌ আবার কখনও পরীক্ষার আগের রাতে মাথায় যন্ত্রণা কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যায় ভোগে! বয়স তাদের ১২ থেকে ১৭! কয়েক বছর আগেও তাদের দুষ্টুমি আর উচ্ছ্বাসে গোটা বাড়ি নাজেহাল হতো। কিন্তু বয়ঃসন্ধিকালের দোড়গোড়ায় আসতেই বদলে যাচ্ছে আচরণ।‌ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে। এমনকি বাবা-মায়ের সঙ্গেও দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। যার ফলে একাধিক জটিলতা বাড়ছে। সম্প্রতি ইউনিসেফের এক রিপোর্টে বয়ঃসন্ধিকালে থাকা ছেলেমেয়েদের মানসিক জটিলতা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে। যা দেখে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, স্কুল ও পরিবারের মধ্যে আগাম সচেতনতা তৈরি না হলে পরবর্তী প্রজন্মকে আরও বেশি ভুগতে হতে পারে।

    কী বলছে ইউনিসেফের রিপোর্ট?

    সম্প্রতি ইউনিসেফের প্রকাশিত এক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে দেশ জুড়ে একটা সমীক্ষা চালানো হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগের পর্বে অর্থাৎ মূলত বয়ঃসন্ধিকালে থাকা প্রতি ৭ জন ছেলেমেয়ের মধ্যে ১ জন মানসিক জটিলতায় ভুগছে। ওই সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতীয় ছেলেমেয়েদের মধ্যে সামাজিক আচরণে পরিবর্তন হচ্ছে। বিশেষত ব্যবহারের পরিবর্তন উল্লেখযোগ্য ভাবে হচ্ছে। সামাজিক মেলামেশার প্রতি অনীহা বা ভয় দেখা দিচ্ছে। অন্যদের সঙ্গে কথা বলার আত্মবিশ্বাস কমছে। নিজের মত প্রকাশ নিয়ে বাড়তি আড়ষ্টতা তৈরি হচ্ছে। সিদ্ধান্তহীনতায় তারা ভুগছে। আর এই সবকিছুই তাদের মনের উপরে গভীর প্রভাব ফেলছে। যার জেরে একাকিত্ব , উদ্বেগ, মানসিক চাপ এবং অবসাদের মতো মানসিক সমস্যা বাড়ছে। কম বয়সীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ার অন্যতম কারণ এই মানসিক জটিলতা।

    কেন এই সমস্যা হচ্ছে?

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বয়ঃসন্ধিকালে থাকা ছেলেমেয়েদের মনের পরিবর্তন স্বাভাবিক। শরীরে একাধিক হরমোনের পরিবর্তন হয়। আর সেই পরিবর্তনের সূত্র ধরেই এই বয়সে মনে নানান জটিলতা তৈরি হয়। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগের প্রতি অনীহা, পরিবারের সঙ্গে সমস্যা ভাগ করতে না পারার সমস্যা কিংবা অত্যাধিক দুশ্চিন্তার মতো আচরণ দেখা দিলে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

    অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমে রাশ টানা

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, পরিবারের সদস্য কিংবা আত্মীয়দের সঙ্গে কথা না বলার প্রবণতা তৈরি হয় অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের জন্য। তাঁরা জানাচ্ছেন, ছোটো থেকেই বিনোদনের অর্থ হয়ে উঠেছে মোবাইলের স্ক্রিন। নিজের মতো সময় কাটানোই হলো বিনোদন। এটা জেনেই অনেক শিশু বড় হচ্ছে। ঘরে নিজের মতো ভিডিও গেম খেলা বা মোবাইল দেখা সবচেয়ে আনন্দের, এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি। ছোটো থেকেই দিনের কিছুটা সময় মা-বাবা কিংবা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে কাটানোর অভ্যাস তৈরি জরুরি। পরিবারের সঙ্গে বসে গল্প করা এবং তাঁদের সারাদিন কীভাবে কাটলো, সেই গল্প শোনার অভ্যাস জরুরি। এই ভাবে সময় কাটালে ছোটো থেকেই পরিবারের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তৈরি হবে। যেকোনও কথা পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যায় এই বিশ্বাস গড়ে উঠবে। এরফলে বয়ঃসন্ধিকালে মনের ও শরীরের পরিবর্তনও ছেলেমেয়েরা সহজেই পরিবারের সঙ্গে ভাগ করে নেবে। নিজের সমস্যা ভাগ করতে তখন আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে। এর ফলে যেকোনো সমস্যা জটিল রূপ নেবে না।

    অভিভাবকদের জন্য পরামর্শ

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, কোয়ালিটি টাইমের অভাব বয়ঃসন্ধিকালে এই ধরনের মানসিক জটিলতার জন্ম দিচ্ছে। অভিভাবকদের সপ্তাহের কিছুটা সময় বয়ঃসন্ধিকালে থাকা ছেলেমেয়েদের সঙ্গে বিশেষ ভাবে কাটানো জরুরি। আধুনিক ব্যস্ত জীবনে সেই ঘাটতি প্রবল ভাবে দেখা দিচ্ছে। এমন কিছু কাজ অভিভাবক ও সেই ছেলেমেয়ের একসঙ্গে করতে হবে, যাতে তাদের পরস্পরের সাহায্য প্রয়োজন। তাঁদের পরামর্শ, সপ্তাহে একদিন সঙ্গে রান্না করা কিংবা বাগানে গাছের পরিচর্যা করা বা ঘর গোছানোর মতো এমন কিছু কাজ। এই ধরনের কাজ একসঙ্গে করলে ছেলেমেয়েদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও নিবিড় হবে। বয়ঃসন্ধিকালে থাকা ছেলেমেয়েরা সহজেই পরস্পরের সাহায্য সম্পর্কে বুঝতে পারবে। তখন অনেক কথাই সহজে বলতে পারবে। একাকিত্বের মতো সমস্যা তৈরি হবে না।‌

    অতিরিক্ত উদ্বেগ থেকে মানসিক চাপ

    কেরিয়ার বা পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ বয়ঃসন্ধিকালে থাকা ছেলেমেয়েদের আরও বেশি মানসিক চাপ তৈরি করছে বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এর ফলে স্কুল পড়ুয়ারাও প্যানিক অ্যাটাকের মতো সমস্যায় ভুগছে। অতিরিক্ত চাপ দেওয়া নয়। বরং তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর দিকে স্কুল ও পরিবারের নজর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশপাশি নতুন ধরনের পেশা সম্পর্কে তাদের জানানো এবং তাদের থেকেও জানা জরুরি। তাহলে মানসিক উদ্বেগ কমবে।

    কেন বয়ঃসন্ধিকালের এই সমস্যা ভবিষ্যতে বিপদ তৈরি করতে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়ঃসন্ধিকালে উদ্বেগ, একাকিত্ব এবং বিষন্নতার মতো সমস্যা ভবিষ্যতে আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। সামাজিক যোগাযোগের প্রতি অনীহা তাদের আত্মবিশ্বাসে‌ ঘাটতি তৈরি করতে পারে। যার প্রভাব ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনেও সূদূর প্রসারিত হয়। তাছাড়া বয়ঃসন্ধিকাল থেকে একাকিত্ব গ্রাস করলে একধরণের অবসাদ তৈরি হয়। সিদ্ধান্তহীনতার জন্ম নেয়। যার ফলে যেকোনো কাজের দক্ষতা কমে। পড়াশোনা ও অন্যান্য ক্ষেত্রেও তার প্রভাব পড়ে। তাই বয়ঃসন্ধিকালের সন্তানের কী ধরনের মানসিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে, সেই দিকে নজর রাখা জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    কীভাবে খেয়াল রাখবেন?

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সন্তানের আচরণের পরিবর্তন নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।‌ দিনের অধিকাংশ সময় বন্ধ ঘরে নিজের মতো থাকার অভ্যাস একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয়। সেই নিয়ে আগাম সচেতনতা জরুরি। তাছাড়া তার বন্ধুদের সঙ্গে কেমন সম্পর্ক, সেই সম্পর্কেও ওয়াকিবহাল থাকা প্রয়োজন। তাহলে তার আচরণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা করা যেতে পারে। পরিবারের পাশপাশি বয়ঃসন্ধিকালে থাকা ছেলেমেয়েদের নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের বাড়তি যত্ন জরুরি বলেই মনে করছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই বয়সের ছেলেমেয়েরা দিনের অনেকটা সময় স্কুলে কাটায়। তাই তাদের আচরণ সম্পর্কে স্কুল সবচেয়ে বেশি‌ ওয়াকিবহাল হয়। তাদের আচরণ নিয়ে কোনো বাড়তি সমস্যা তৈরি হলে পরিবারকে জানানো, প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তাহলেই পরিস্থিতি জটিল হবে না।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Europe Record Heatwave: রোদেই রান্না হচ্ছে ডিম! গলছে রাস্তা-ট্রামলাইন, নজিরবিহীন তাপপ্রবাহে ইউরোপে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল

    Europe Record Heatwave: রোদেই রান্না হচ্ছে ডিম! গলছে রাস্তা-ট্রামলাইন, নজিরবিহীন তাপপ্রবাহে ইউরোপে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউরোপজুড়ে চলছে নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ। একাধিক দেশে তাপমাত্রা অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। প্রবল গরমে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা, হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন অসংখ্য মানুষ, চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্যব্যবস্থা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ফ্রান্সে মর্গ ও শ্মশান পরিষেবার উপর তৈরি হয়েছে অতিরিক্ত চাপ, জার্মানিতে গলে যাচ্ছে ট্রামলাইন, আর ইউক্রেনে বিদ্যুৎ গ্রিড বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

    সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল তাপপ্রবাহের চিত্র

    এই তীব্র গরমের একাধিক ছবি ও ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, খোলা রোদে রাখা ফ্রাইং প্যানে কয়েক মিনিটের মধ্যেই ডিম ও বেকন রান্না হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গিয়েছে—

    • ● দোকানের ভিতরেই গলে যাচ্ছে চকোলেট ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য।
    • ● দীর্ঘক্ষণ রোদে পড়ে থাকা শপিং ট্রলির প্লাস্টিকের অংশ বিকৃত হয়ে যাচ্ছে।
    • ● জুতোর সোল গলে যাচ্ছে।
    • ● অতিরিক্ত গরমে কলার খোসা আলাদা হয়ে ফল নিচে পড়ে যাচ্ছে।
    • ● বার্লিনে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে জলকামান থেকে জল ছিটিয়ে দিচ্ছে পুলিশ।

    তবে এই সমস্ত ভাইরাল ছবি ও ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি মাধ্যম

    জার্মানিতে গলে গেছে ট্রামলাইন

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, জার্মানির একাধিক এলাকায় অতিরিক্ত তাপের কারণে ট্রামলাইন বিকৃত ও গলে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর জেরে সপ্তাহান্তে লাইপজিগ শহরে ট্রাম পরিষেবা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। পরিবহণ ব্যবস্থায় ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্বেগ

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম ঘেব্রেসুস ইউরোপের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
    তিনি বলেছেন, “ইউরোপ পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হয়ে ওঠা মহাদেশ। এখানে বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হারে তাপমাত্রা বাড়ছে।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে প্রায় ১৫ কোটি মানুষ চরম তাপপ্রবাহের মধ্যে বসবাস করছেন। ২১ জুনের পর থেকে ইউরোপে অতিরিক্ত গরমের কারণে ১,৩০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বহু স্কুল বন্ধ রাখতে হয়েছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়েছে। তেদ্রোস এক্স (প্রাক্তন টুইটার)-এ লিখেছেন, “হিট স্ট্রেসকে প্রায়ই ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয়। ইউরোপের বাড়ি, অফিস বা স্কুল—কোনওটাই এই ধরনের চরম তাপমাত্রার জন্য নির্মিত নয়।”

    কোথায় কত তাপমাত্রা?

    সপ্তাহান্তে ইউরোপের একাধিক দেশে রেকর্ড তাপমাত্রা নথিভুক্ত হয়েছে—

    • ● চেক প্রজাতন্ত্র – ৪১.৯° সেলসিয়াস
    • ● জার্মানি – ৪১.৭° সেলসিয়াস
    • ● পোল্যান্ড – ৪০.৫° সেলসিয়াস

    এই তাপমাত্রা ওই দেশগুলির স্বাভাবিক গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ার তুলনায় অনেক বেশি।

    ফ্রান্সে এক হাজারের বেশি মৃত্যু

    ফ্রান্সের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত সপ্তাহের বুধবার থেকে রবিবার পর্যন্ত এই সময়ে সাধারণ বছরের তুলনায় প্রায় ১,০০০ জন বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ফরাসি ন্যাশনাল ফিউনারেল ফেডারেশনের প্রতিনিধি এলিজাবেথ শারিয়ের জানান—

    • ● সাধারণত গ্রীষ্মকালে ফিউনারেল হোমগুলিতে ৩০ থেকে ৪৫ শতাংশ দখল থাকে।
    • ● বর্তমানে সেই হার বেড়ে ৬০ শতাংশেরও বেশি হয়েছে।

    প্যারিসের অবস্থা শোচনীয়, চাপ বাড়ছে মর্গে…

    সবচেয়ে গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে রাজধানী প্যারিসে। শারিয়ের বলেন, “গত শুক্রবার থেকেই প্যারিসের মাত্র দুটি ফিউনারেল হোম পুরোপুরি ভর্তি। ফলে মৃতদের পরিবারের সদস্যদের শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শহরের বাইরে, উপকণ্ঠ বা আরও দূরের এলাকায় যেতে হচ্ছে।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাঁর মতে—

    • ● দাহ করার জন্য অপেক্ষার সময় বেড়ে যাবে।
    • ● কবরস্থানে সমাধিস্থ করার জায়গা দ্রুত ফুরিয়ে আসবে।
    • ● কবর খোঁড়ার কাজ সীমিত গতিতে হওয়ায় চাপ আরও বাড়বে।
    • ● এর ফলে এক ধরনের ‘ডোমিনো এফেক্ট’ তৈরি হতে পারে।

    ইউক্রেনে বিদ্যুৎ গ্রিডে বাড়তি চাপ

    রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ পরিকাঠামো আগেই ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তার উপর এই তীব্র তাপপ্রবাহ নতুন সংকট তৈরি করেছে। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় রিভনে অঞ্চলে বিদ্যুৎ গ্রিডের উপর চাপ কমাতে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার ইউক্রেনের পাঁচটি অঞ্চলের বাসিন্দা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে মঙ্গলবার ব্ল্যাকআউট হতে পারে। ইউক্রেনের বিদ্যুৎ সংস্থা ইয়াসনো-র সিইও সেরহি কোভালেঙ্কো বলেন, “চার বছরেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে চলা এবং একাধিক হামলা সহ্য করা বিদ্যুৎ সরঞ্জামের জন্য এই তাপপ্রবাহও বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

    কেন এত বিপজ্জনক এই তাপপ্রবাহ?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপের অধিকাংশ দেশ ঐতিহাসিকভাবে তুলনামূলক শীতল আবহাওয়ার জন্য পরিচিত। ফলে—

    • ● বহু বাড়িতে এখনও পর্যাপ্ত এয়ার কন্ডিশনিং নেই।
    • ● হাসপাতাল, স্কুল ও অফিস ভবনের নকশা এত উচ্চ তাপমাত্রার উপযোগী নয়।
    • ● রেললাইন, রাস্তা ও অন্যান্য অবকাঠামোও এত বেশি তাপ সহ্য করার মতো করে নির্মিত নয়।
    • ● বয়স্ক, শিশু ও দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
    • ● বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় গ্রিডের উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

    জলবায়ু পরিবর্তনের বাড়তি সতর্কবার্তা

    আবহাওয়াবিদদের মতে, ইউরোপে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে চরম তাপপ্রবাহের সংখ্যা ও তীব্রতা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে দীর্ঘস্থায়ী ও প্রাণঘাতী হিটওয়েভ এখন আর ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়, বরং ক্রমশ নতুন বাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে, শুধু জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবাই নয়, ভবিষ্যতে ইউরোপকে নগর পরিকল্পনা, বিদ্যুৎ অবকাঠামো, গণপরিবহণ এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তুলতে হবে। না হলে প্রতি বছর গ্রীষ্মেই আরও বড় মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে।

  • West Bengal Public Safety Bill: কে ‘গুন্ডা’, কে ‘সমাজবিরোধী’? পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিলে স্পষ্ট সংজ্ঞা, জেনে নিন সব নিয়ম

    West Bengal Public Safety Bill: কে ‘গুন্ডা’, কে ‘সমাজবিরোধী’? পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিলে স্পষ্ট সংজ্ঞা, জেনে নিন সব নিয়ম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে সংগঠিত অপরাধ, সমাজবিরোধী কার্যকলাপ এবং হিংসাত্মক অশান্তি মোকাবিলায় কড়া অবস্থান নিল সরকার। বিধানসভায় সোমবার পাশ হয়েছে গুন্ডা-দমন সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল— ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিস বিল ২০২৬’ এবং ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেন্টেন্যান্স অফ পাবলিক অর্ডার অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬’। সরকারের দাবি, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার অপেক্ষা না করে সম্ভাব্য বিপদের আগেই ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেবে এই আইন। একইসঙ্গে সমাজ-বিরোধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে কড়া আর্থিক জরিমানার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, সংগঠিত অপরাধ ও জনশৃঙ্খলা ভাঙার প্রবণতা দমনে এই আইন কার্যকর ভূমিকা নেবে। যদিও বিরোধী মহল ও নাগরিক অধিকার কর্মীদের একাংশের আশঙ্কা, বিলের কয়েকটি ধারা প্রশাসনকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেবে, যা ভবিষ্যতে অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

    কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে?

    বিল অনুযায়ী, কোনও জেলাশাসক (ডিএম), পুলিশ কমিশনার (সিপি) অথবা রাজ্য সরকারের মনোনীত ডিআইজি পদমর্যাদার কোনও পুলিশ আধিকারিক যদি মনে করেন, কোনও ব্যক্তি সমাজবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত অথবা ভবিষ্যতে তেমন কাজে জড়াতে পারেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া যাবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট এলাকা বা জেলা থেকে সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য বহিষ্কার (Externment) করার ক্ষমতা থাকবে প্রশাসনের হাতে। ওই সময় তিনি সেই এলাকায় প্রবেশ করতে পারবেন না। পাশাপাশি তাঁকে নিয়মিত থানায় হাজিরা দেওয়া অথবা নিজের গতিবিধি সম্পর্কে পুলিশকে জানাতেও হতে পারে।

    এক বছর পর্যন্ত প্রতিরোধমূলক আটক

    বিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং বিতর্কিত অংশ হল প্রতিরোধমূলক আটক (Preventive Detention)-এর বিধান। জনসুরক্ষার স্বার্থে কোনও ব্যক্তিকে বিচার শুরু হওয়ার আগেই সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত আটক রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এই আটক অনির্দিষ্টকালের জন্য হবে না। আটক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার জন্য একটি অ্যাডভাইজরি বোর্ড বা পরামর্শদাতা বোর্ড গঠনের কথাও খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে। এই বিধান জাতীয় নিরাপত্তা আইন (NSA)-এর কাঠামোর সঙ্গে অনেকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    জামিন অযোগ্য অপরাধ, তল্লাশি ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত

    নতুন আইনের আওতায় নির্দিষ্ট কিছু অপরাধকে ‘কগনিজেবল’ এবং ‘নন-বেলেবল’ বা জামিন অযোগ্য করার প্রস্তাব রয়েছে। ফলে পুলিশ প্রয়োজনে ওয়ারেন্ট ছাড়াই তল্লাশি চালাতে, গ্রেফতার করতে এবং অপরাধের সঙ্গে যুক্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারবে।

    অভিযুক্তকে আশ্রয় দিলেও শাস্তি

    শুধু অভিযুক্ত ব্যক্তিই নন, তাঁর বিরুদ্ধে বহিষ্কার বা আটকাদেশ জারি থাকার পরও যদি কেউ তাঁকে আশ্রয় দেন বা কোনওভাবে সাহায্য করেন, তবে সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

    সমাজবিরোধী বলতে কাদের বলা হয়েছে?

    বিলে সমাজবিরোধী কার্যকলাপের একটি নির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—

    • ● সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় বা নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি করা।
    • ● ব্যক্তি বা সম্পত্তির নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা।
    • ● জনশৃঙ্খলা ও সামাজিক শান্তি নষ্ট করা।
    • ● বৈধ ব্যবসা, বাণিজ্য বা পেশায় বাধা সৃষ্টি করা।
    • ● বেআইনিভাবে কাউকে সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করা।
    • ● সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা।
    • ● খনি, বালিখাদান, বনজ সম্পদ বা বন্যপ্রাণী পাচারের মতো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকারি রাজস্বের ক্ষতি করা।

    আইনের চোখে ‘গুন্ডা’ কারা?

    বিলে ‘গুন্ডা’ শব্দটিরও নির্দিষ্ট আইনি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় পড়বেন—

    • ● যাঁরা একা বা কোনও গোষ্ঠী, সিন্ডিকেট কিংবা চক্রের সদস্য হিসেবে নিয়মিত সমাজবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত অথবা তাতে অর্থ ও সহায়তা জোগান।
    • ● ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১১১ বা ১১২ ধারায় যাঁদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল হয়েছে।
    • ● অস্ত্র আইন, এনডিপিএস আইন, বিস্ফোরক পদার্থ আইন বা অনৈতিক পাচার প্রতিরোধ আইনের অধীনে অভিযুক্ত ব্যক্তি।
    • ● যাঁদের সাধারণ মানুষ বিপজ্জনক বা বেপরোয়া বলে মনে করেন এবং যাঁদের কর্মকাণ্ড জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়।

    সরকার বনাম সমালোচনা

    সরকারের দাবি, সংগঠিত অপরাধ, দখলদারি, সিন্ডিকেটরাজ ও হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড রুখতেই এই আইন আনা হয়েছে। অপরাধ ঘটার আগেই প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দেবে এই বিল। অন্যদিকে সমালোচকদের বক্তব্য, প্রতিরোধমূলক আটক, ওয়ারেন্ট ছাড়া তল্লাশি এবং প্রশাসনের বিস্তৃত ক্ষমতা নাগরিক স্বাধীনতার প্রশ্নে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। ফলে বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পর বাস্তবে তার প্রয়োগ কীভাবে হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে আইন বিশেষজ্ঞ— সব পক্ষের।

  • Suvendu Adhikari Warning: মুখ্যমন্ত্রীর ‘এনাফ ইজ এনাফ’ বলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাকশন! হুমায়ুনের সভা নিয়ে বড় পদক্ষেপ পুলিশের

    Suvendu Adhikari Warning: মুখ্যমন্ত্রীর ‘এনাফ ইজ এনাফ’ বলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাকশন! হুমায়ুনের সভা নিয়ে বড় পদক্ষেপ পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তার এক দিনের মধ্যেই হুমায়ুন কবীরের বিতর্কিত জনসভার তিন আয়োজককে গ্রেফতার করল পুলিশ। সোমবার গভীর রাতে দুই পৃথক অভিযানে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর ও শক্তিপুর থানার পুলিশ গোলাম মোস্তাফা, মহম্মদ আমিনুল (আমিনুক) হক এবং আনিসুর রহমানকে আটক করে।

    রেজিনগর, শক্তিপুর থানায় অভিযোগ…

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রেজিনগর থানায় দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন গোলাম মোস্তাফা ও মহম্মদ আমিনুল হক। গোলাম আমজনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি)-র কাশীপুর-২ অঞ্চলের সভাপতি। অন্যদিকে, শক্তিপুর থানার মামলায় ধরা পড়েছেন আনিসুর রহমান, যিনি এজেইউপির বেলডাঙা-২ ব্লকের আহ্বায়ক। সম্প্রতি রেজিনগর ও শক্তিপুরে আয়োজিত দুটি জনসভায় এজেইউপির বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। অভিযোগ, তাঁর ভাষণে উস্কানিমূলক মন্তব্য ছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই রেজিনগর ও শক্তিপুর থানায় পৃথক এফআইআর দায়ের করা হয়।

    সোমবারই বিধানসভায় হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    এই ইস্যু সোমবার বিধানসভাতেও ওঠে। অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হুমায়ুনের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন এবং স্পষ্ট জানান, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, যাঁরা ওই সভার আয়োজন করেছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধেই আগে পদক্ষেপ করা হবে, তারপর প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘‘এনাফ ইজ এনাফ। এ ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে এবার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সময় এসেছে।’’ পাশাপাশি হুমায়ুন কবীরকে ভবিষ্যতে সংযত ভাষা ব্যবহারেরও পরামর্শ দেন তিনি।

    ‘স্যাঁটা’ শব্দটি নিয়েও আলোচনা শুরু

    বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী রেজিনগরের সভায় হুমায়ুনের বক্তব্যের একটি অংশও পড়ে শোনান। তাঁর অভিযোগ, ওই ভাষণে রাজনৈতিক বিরোধীদের উদ্দেশে হুমকি ও সংঘাতমূলক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছিল, যা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এমন বক্তব্য দেওয়ার অধিকার কাউকেই দেওয়া হয়নি এবং রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সরকার কোনও রকম আপস করবে না। এদিকে, বিতর্কিত মন্তব্যে ব্যবহৃত ‘স্যাঁটা’ শব্দটি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। ভাষাতত্ত্ববিদদের মতে, শব্দটির অর্থ অঞ্চলভেদে ভিন্ন। কোথাও এটি শিরদাঁড়া বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, কোথাও আবার অবমাননাকর বা ঘৃণাসূচক অর্থে প্রচলিত। ফলে বক্তব্যের ব্যাখ্যা নিয়েও নানা মত উঠে এসেছে।

    কী প্রতিক্রিয়া হুমায়ুনের?

    অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে কোনও মন্তব্য করেননি। হুমায়ুন জানান, এই বক্তব্যের জন্য যদি তাঁকে গ্রেফতারও করা হয়, তাতেও তিনি বিচলিত নন। তাঁর দাবি, মানুষের স্বার্থে লড়াই করেই তিনি নতুন রাজনৈতিক দল গড়েছেন এবং নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, দুই থানায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত চলছে। তদন্তে উঠে আসা তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে।

  • Suvendu Adhikari: ‘দাঙ্গাবাজদের ভিটেমাটি বিক্রি করে টাকা তোলা হবে’— বিধানসভায় বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ‘দাঙ্গাবাজদের ভিটেমাটি বিক্রি করে টাকা তোলা হবে’— বিধানসভায় বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে দাঙ্গা, সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং আইন অমান্যের প্রবণতা রুখতে বিধানসভায় সোমবার দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী বিল পেশ করল নতুন সরকার। বিলের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিগত তৃণমূল সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি এবং প্রশাসনিক ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। বিরোধীদের হইচইয়ের মধ্যেই তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন— দাঙ্গা বা ভাঙচুরে জড়িতদের বিরুদ্ধে শুধু ফৌজদারি ব্যবস্থাই নয়, প্রয়োজনে তাদের সম্পত্তি বিক্রি করেও ক্ষতিপূরণ আদায় করবে সরকার।

    গ্যালারিতে উপস্থিত হরগোবিন্দ দাসের পরিবার

    বক্তব্যের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভার দর্শক গ্যালারির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, রাজনৈতিক হিংসার একাধিক নিহত ও আক্রান্ত পরিবারের সদস্যরা এ দিন হাউসে উপস্থিত রয়েছেন। ডায়মন্ড হারবারে নিহত রাজু সামন্ত, মুর্শিদাবাদের হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাস এবং নন্দীগ্রামের আক্রান্ত দেবব্রত মাইতির পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, অতীতে প্রশাসন সময়মতো কঠোর পদক্ষেপ নিলে এই পরিস্থিতি তৈরি হত না।

    তৃণমূল সরকারকে তুলোধনা শুভেন্দুর

    বিগত সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, সাধারণ অপরাধ ও ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির মধ্যে সীমারেখা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছিল তৎকালীন সরকার। তাঁর কথায়, সেই কারণেই আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছিল এবং সাধারণ মানুষ শেষ পর্যন্ত ভোটের মাধ্যমে সেই সরকারের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। নিজেদের নির্বাচনী সাফল্যের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের একাধিক কেন্দ্রে বিজেপি বিপুল ভোটে জয় পেয়েছে। পাশাপাশি ভবানীপুর কেন্দ্রের ফলাফল নিয়েও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেন তিনি।

    শুভেন্দুর ভাষণে ‘হার্মাদ রাজনীতি’র উল্লেখ

    বর্তমান বিরোধী শিবিরের অবস্থান নিয়েও কটাক্ষ শোনা যায় মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে। তাঁর দাবি, বিধানসভায় এখন কার্যকর বিরোধী শক্তির অভাব রয়েছে। কেউ ওয়াকআউট করছেন, কেউ আবার নিজেদের মধ্যেই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছেন। একই সঙ্গে বাম আমলের ‘হার্মাদ রাজনীতি’র প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক সন্ত্রাসের সংস্কৃতির সূচনা হয়েছিল সেই সময়েই।

    এনআরসি বিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গে শুভেন্দু

    ২০১৯ সালের সিএএ ও এনআরসি বিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আন্দোলনের নামে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ হয়েছিল। তাঁর দাবি, সামশিতে রেললাইন উপড়ে ফেলা, রেজিনগর স্টেশনে অগ্নিসংযোগ এবং সাঁতরাগাছিতে একাধিক বাসে আগুন লাগানোর মতো ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। সেই সময় তিনি পরিবহণমন্ত্রী হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলেও দাবি করেন।

    শুভেন্দুর বক্তব্যে মোথাবাড়ি, ধুলিয়ান

    পরবর্তীকালে নুপূর শর্মার মন্তব্যকে কেন্দ্র করে হাওড়ায় অশান্তির ঘটনাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছিলেন এবং প্রশাসন পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছিল। মোথাবাড়ি, ধুলিয়ান-সহ একাধিক এলাকার সাম্প্রতিক অশান্তির প্রসঙ্গও এ দিন তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, ওয়াকফ্ সংশোধনী বিলের বিরোধিতার নামে বিভিন্ন এলাকায় ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছিল। ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির কারণেই তৎকালীন সরকার যথাসময়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

    ‘‘যাঁরা সম্পত্তি ধ্বংস করবেন…’’! চরম হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

    নতুন আইনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই আইন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জন্য নয়, বরং দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ এবং সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি নষ্টের মতো অপরাধ রোধ করতেই আনা হচ্ছে। তাঁর কথায়, ‘‘যাঁরা সম্পত্তি ধ্বংস করবেন, তাঁদের থেকেই ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। প্রয়োজন হলে তাঁদের ভিটেমাটি বিক্রি করেও সেই টাকা উদ্ধার করবে সরকার। আগের আইনে ফাঁক ফোকর ছিল। বর্তমান আইনে ফাঁক-ফোকড় রাখা হল না। এই আইন গুণ্ডা দের জন্য প্রযোজ্য।’’ তিনি আরও জানান, অতীতে আসানসোলে দাঙ্গার ঘটনায় ক্ষতিপূরণ আদায়ের নজির তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতেও একই নীতি অনুসরণ করা হবে। পুলিশের উপর হামলা বা আইনশৃঙ্খলা ভাঙার চেষ্টা করলে কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

    ভাঙড় নিয়ে নওশাদকে কটাক্ষ শুভেন্দুর

    বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ভাঙড়ের নির্বাচন প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, এবারের নির্বাচনে সেখানে কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। পাশাপাশি বিরোধী বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিকে উদ্দেশ্য করে রাজনৈতিক মন্তব্যও করেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, ‘‘ভাঙড়ে তো কোনও মৃত্যু নেই। বিজেপির ওইখানে ৭০ হাজার ভোট আছে। আমরা ভাঙড়টাকে ছেড়ে দিতে পারতাম। ছেড়ে দিলে যিনি জেলে ছিলেন তিনি এখানে আসতেন। আর বিলের যিনি বিরোধিতা করেছেন তিনি এখানে আসতে পারতেন না।’’ মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য চলাকালীন বিরোধী সদস্যরা একাধিকবার প্রতিবাদ ও স্লোগান তোলেন। হইচইয়ের মধ্যেই সরকার সংশোধনী বিল দুটির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে কঠোর আইন প্রয়োগের বার্তা দেয়।

LinkedIn
Share