Tag: বাংলা খবর

  • Winter Fatigue: শীত বাড়াচ্ছে ক্লান্তিভাব! এই আবহাওয়ায় কোন পাঁচ খাবার বাড়তি এনার্জি জোগান দেবে?

    Winter Fatigue: শীত বাড়াচ্ছে ক্লান্তিভাব! এই আবহাওয়ায় কোন পাঁচ খাবার বাড়তি এনার্জি জোগান দেবে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    তাপমাত্রার পারদ কমছে। রাজ্য জুড়ে শীতের দাপট। বিশেষত বর্ধমান, মেদিনীপুর, বীরভূম, পুরুলিয়ার মতো রাজ্যের একাধিক জেলার মানুষ শীত আর ঘন কুয়াশার দাপটে নাজেহাল। শীতের এই প্রবল দাপট প্রতিদিনের কাজের গতিও কমিয়ে দিচ্ছে। সকালে ঘুম থেকে ওঠা কিংবা সন্ধ্যার পরে বাইরে যাওয়া এখন রীতিমতো চ্যালেঞ্জ। এমনকি ঘরের ভিতরের নিত্যদিনের কাজ এখন শ্লথ! শীত ক্লান্তি বাড়াচ্ছে। শরীরের এনার্জি কমিয়ে দিচ্ছে। বাড়িয়ে দিচ্ছে জবুথবু ভাব। বয়স্কদের পাশপাশি কম বয়সিদের মধ্যেও শীতের দাপটে জবুথবু ভাব দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই আবহাওয়াতে শরীরে বাড়তি এনার্জির জোগান জরুরি। সেই কাজে কয়েকটি ঘরোয়া খাবারেই ভরসা রাখছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    কোন খাবার এই শীতে ক্লান্তি কাটাবে?

    সবুজ সব্জি এবং মূল জাতীয় সব্জি করবে বাজিমাত!

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতে সুস্থ থাকতে এবং প্রয়োজনীয় এনার্জি সংগ্রহের জন্য সবুজ সব্জি এবং মূল জাতীয় সব্জিতেই তাঁরা ভরসা রাখছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, বিট, গাজর, শাক আলু, মূলোর মতো মূল জাতীয় সব্জি এই আবহাওয়ায় খুব উপকারি। এই ধরনের সব্জিতে প্রচুর পরিমাণে খনিজ পদার্থ এবং ফাইবার থাকে। পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজের মতো খনিজ পদার্থ শরীরের ক্লান্তিকে সহজেই দূর করে। তাই এই ধরনের সব্জি খেলে ক্লান্তি বোধ কমে। তাছাড়া, মটরশুঁটি, পালং শাক, সিম কিংবা বাঁধাকপির মতো সবুজ সব্জি খনিজ পদার্থের পাশপাশি ফাইবার ভরপুর। ফাইবার শরীরে এনার্জির জোগান দেয়। তাই শীতকে কাবু করে স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য সবুজ সব্জি এবং মূল জাতীয় সব্জি নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    নিয়মিত প্রাণীজ প্রোটিন জরুরি!

    প্রাণীজ প্রোটিন শরীর সুস্থ রাখতে বিশেষ সাহায্য করে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রাণীজ প্রোটিন শরীরে এনার্জির চাহিদা সহজেই পূরণ করে। তাই শীতের আবহাওয়ায় নিয়মিত পাতে মাছ, মাংস কিংবা ডিমের মতো প্রাণীজ প্রোটিন রাখলে উপকার হবে। এতে পেশি মজবুত হবে। ক্লান্তি ভাব সহজেই কমবে। তবে তাঁদের পরামর্শ, প্রাণীজ প্রোটিন রান্নার ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। অতিরিক্ত তেল ও মশলা দিয়ে নিয়মিত প্রাণীজ প্রোটিন রান্না করলে হজমের সমস্যা হতে পারে। তাতে ক্ষতি বেশি। তাই কম তেল ও মশলা ব্যবহার করে স্যুপ বা স্ট্রু জাতীয় খাবার খাওয়া দরকার।

    সন্ধ্যায় নিয়মিত বাদাম ও বীজ রাতের ঠান্ডা মোকাবিলা করবে!

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতের আবহাওয়ায় নিয়মিত বাদাম ও বীজ জাতীয় খাবার সন্ধ্যার মেনুতে রাখলে শরীরে বাড়তি উপকার হবে। এই আবহাওয়ায় উপকার পাওয়া যাবে। তাঁরা জানাচ্ছেন, কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, পেস্তার মতো বাদামে খনিজ পদার্থের পাশপাশি উপকারি ফ্যাট থাকে। যা শরীরের ক্লান্তি দূর করে। এনার্জির জোগান দেয়। পাশপাশি তিল, তিসি, কুমরো কিংবা সূর্যমুখী ফুলের বীজ খাওয়ার অভ্যাস থাকলে বাড়তি উপকার পাওয়া যাবে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতে তাপমাত্রার পারদ পতন শুধু কাজের গতি শ্লথ করে না। পাশপাশি এই আবহাওয়ায় হৃদরোগ সহ একাধিক জটিল সমস্যার দাপট বাড়ে। সন্ধ্যায় নানান ধরনের বীজ খেলে শরীরে সোডিয়াম-পটাশিয়ামের ভারসাম্য বজায় থাকে। হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতা স্বাভাবিক থাকে। ফলে শরীর সুস্থ থাকে। স্বাভাবিক কাজ করাও সুবিধা হয়।

    লেবু, আদা এবং রসুন বাড়তি উপকারী!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতে শরীর সুস্থ রাখতে নিয়মিত লেবু খাওয়া জরুরি। কমলালেবু, স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, মাল্টা, কিউই এই জাতীয় যেকোনও ধরনের ফল নিয়মিত খেলে শীতে বাড়তি এনার্জি পাওয়া যায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই ধরনের ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। যা শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়িয়ে দেয়। ফলে সর্দি-কাশির ভোগান্তিও কমে। আর ক্লান্তি বোধ দূর হয়। জবুথবু ভাব কমে। ফলের পাশপাশি আদা ও রসুনের মতো মশলা বিশেষ উপকারি। এই মশলা শরীরের নানান ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া নষ্ট করে। বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি কমায়। শরীরে এনার্জি জোগান করে। তাই রান্নায় এই দুই মশলা ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Haldia Naval Base: বাংলাদেশমুখী সামুদ্রিক নজরদারিতে নতুন ধাপ, হলদিয়ায় নৌঘাঁটি নির্মাণ করছে ভারত

    Haldia Naval Base: বাংলাদেশমুখী সামুদ্রিক নজরদারিতে নতুন ধাপ, হলদিয়ায় নৌঘাঁটি নির্মাণ করছে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ সীমান্তের গা-ঘেঁষে হলদিয়ায় নতুন নৌঘাঁটি (Haldia Naval Base) গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছে ভারতীয় নৌসেনা (Indian Navy)। বাহিনীর শীর্ষ সূত্র জানিয়েছে, এখনও নামকরণ না হওয়া এই ঘাঁটিটি একটি “ডিট্যাচমেন্ট” হিসেবে কাজ করবে এবং এখানে মূলত ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্র্যাফ্ট (FIC) ও নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্র্যাফ্ট (NWJFAC)-এর মতো ছোট যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে জেটি নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরির কাজ চলছে।

    হলদিয়ার অবস্থান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ

    ইতিমধ্যেই পূর্ব উপকূলে ভারতীয় নৌবাহিনীর (Indian Navy) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি রয়েছে। বিশাখাপত্তনমে ইস্টার্ন নেভাল কমান্ডের সদর দফতর এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে কৌশলগত ঘাঁটি রয়েছে। তবে হলদিয়ার জন্য বরাদ্দ জমি দীর্ঘদিন ধরে নানা কারণে আটকে থাকায় কাজ শুরু করা যায়নি। সম্প্রতি সেই বরাদ্দ সংক্রান্ত জট কাটায় নৌবাহিনী দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করেছে। জানা যাচ্ছে, প্রস্তাবিত এই ঘাঁটিতে (Haldia Naval Base) প্রায় একশো অফিসার ও নাবিক মোতায়েন থাকতে পারে। কলকাতা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত হলদিয়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতে হুগলি নদীপথ ধরে দীর্ঘ যাত্রা এড়ানো সম্ভব হবে।

    এফআইসি এবং এনডব্লুজেএফএসি মোতায়েন

    ২০২৪ সালে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল নৌবাহিনীর জন্য ১২০টি এফআইসি এবং ৩১টি এনডব্লুজেএফএসি কেনার প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়। প্রায় ১০০ টন ওজনের এই দ্রুতগতির নৌযানগুলি ঘণ্টায় প্রায় ৪৫ নট (নটিক্যাল মাইল) বা ৮৩ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম। মেশিনগানে সজ্জিত এই নৌযানগুলিতে ১০ থেকে ১২ জন কর্মী বহন করা যায় এবং উপকূলীয় নজরদারি থেকে শুরু করে বিভিন্ন নিরাপত্তা অভিযানে এগুলি ব্যবহার করা হয়।

    বাড়তি নজর বাংলাদেশে!

    নৌবাহিনীর সূত্র জানিয়েছে, হলদিয়ার নতুন ঘাঁটি (Haldia Naval Base) বাংলাদেশের দিকের সামুদ্রিক গতিবিধির ওপর নজরদারি বাড়াতে সাহায্য করবে। গত বছরের নভেম্বর মাসে পাকিস্তান নৌবাহিনী তাদের চিন-নির্মিত গাইডেড মিসাইল ফ্রিগেট পিএনএস সাইফ বাংলাদেশে পাঠায়। প্রায় ৩,০০০ টন ওজনের এবং ১৫ বছরের পুরনো এই যুদ্ধজাহাজের সফরটিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।

    পাক-বাংলাদেশ সামরিক মাখামাখি

    ২০২৪ সালের অগাস্টে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকে ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গত নভেম্বর মাসে দুই দেশের নৌবাহিনীর (Bangladesh Pakistan naval ties) মধ্যে প্রথমবারের মতো ২-স্টার র‌্যাঙ্কের সামরিক কর্তাদের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ভারতীয় মহলের ধারণা, ভবিষ্যতে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারে। এদিকে, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চিনের সঙ্গে বাংলাদেশের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বজায় রয়েছে। চিন ইতিমধ্যেই বাংলাদেশ (China Bangladesh naval cooperation) নৌবাহিনীকে দুটি সাবমেরিন সরবরাহ করেছে এবং চট্টগ্রামের উপকূলে একটি সাবমেরিন ঘাঁটির নির্মাণকাজও শেষের পথে। ওই ঘাঁটির প্রাথমিক নাম ছিল ‘বিএনএস শেখ হাসিনা’, তবে পরবর্তীতে সেই নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।

  • Weight Loss vs Wellness: দ্রুত ওজন কমানো নাকি দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা! কোন পথ বাছতে বলছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    Weight Loss vs Wellness: দ্রুত ওজন কমানো নাকি দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা! কোন পথ বাছতে বলছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বয়স আট হোক কিংবা পঞ্চাশ, শরীর সুস্থ রাখার পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ওজন! কোন খাবার খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে, কেন অতিরিক্ত ওজন বাড়ছে এই নিয়ে এখন স্কুল পড়ুয়া থেকে প্রৌঢ়, সকলেই কমবেশি উদ্বিগ্ন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতের অধিকাংশ মানুষ পুষ্টি সম্পর্কে ঠিকমতো ওয়াকিবহাল নন। আর তাই ওজন নিয়ে এত ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। অতিরিক্ত ওজন, অপুষ্টির মতো সমস্যা এখন নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠছে। তাঁদের পরামর্শ, হেলদি ওয়েট সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। ওজন কীভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকবে সে সম্পর্কে ঠিকমতো ওয়াকিবহাল থাকলেই নানান জটিলতা এড়ানো সহজ হয়‌।

    দ্রুত ওজন কমানো কি দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার পথে বাধা?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ মানুষ অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভোগেন। দেহের অতিরিক্ত ওজন হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা, হাড়ের সমস্যা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতার মতো একাধিক রোগের কারণ হয়ে ওঠে। তাই অনেকেই দ্রুত সমাধানের পথ খোঁজেন। কিন্তু তাতেই বিপদ আরও বাড়ে। তাঁরা জানাচ্ছেন, খুব দ্রুত শরীরের ওজন ঝরানোর জন্য অনেকেই ডায়েট করেন, কিংবা অতিরিক্ত সময় জিমে কাটানো শুরু করেন। এর ফলে দ্রুত ওজন কমে গেলেও নানান দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা তৈরি হয়ে যায়। যা স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি করতে পারে।

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, দ্রুত ওজন কমানোর জন্য অনেকেই নিয়মিত খাবারের তালিকা থেকে প্রোটিন সম্পূর্ণ বাদ দেন। যা শরীরে ভয়ঙ্কর ক্ষতি করে। প্রোটিন শরীরের পেশি মজবুত রাখতে খুব জরুরি। তাছাড়া ক্লান্তি কমিয়ে শরীরে এনার্জি জোগানের জন্য ও প্রোটিনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। প্রোটিন বর্জিত খাবার খেলে পেশি দূর্বল হয়ে যায়। হাত-পায়ে খিঁচ ধরে। ক্লান্তি ভাব বাড়ে। ফলে স্বাভাবিক কাজ করাও মুশকিল হয়ে পড়ে।

    শরীর সুস্থ রাখতে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, মিনারেল, ভিটামিন,ফ্যাট প্রয়োজন। ইচ্ছেমতো যেকোনও উপাদান বাদ দিলেই শরীরে তার গভীর প্রভাব পড়ে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকেই অসচেতন ভাবেই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছাড়াই ডায়েট চার্ট তৈরি করেন। দ্রুত ওজন কমাতে খাবারের তালিকা থেকে বহু উপাদান বাদ পড়ে। আর এর ফলে অপুষ্টির সমস্যা তৈরি হয়। দেহের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

    তাড়াতাড়ি ওজন কমাতে অনেকেই কম খাবার খাওয়া এবং অতিরিক্ত শারীরিক কসরত করার পথ বেছে নেন। যা একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয় বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। তাঁরা জানাচ্ছেন, এর ফলে শরীর থেকে অতিরিক্ত খনিজ এবং জল বেরিয়ে যায়। যার জেরে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    পুষ্টির ঘাটতি এবং পেশির দূর্বলতা শুধু শরীরকে ক্লান্ত করে না, হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, পেশি শিথিল হলে হৃদরোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। অতিরিক্ত ডায়েট মানসিক অবসাদ তৈরি করে। যা একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয় বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    কীভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণ সম্ভব?

    জানুয়ারি মাসে হেলদি ওয়েট অ্যাওয়ারনেস পালন হয়। অতিরিক্ত ওজন কতখানি বিপজ্জনক সে সম্পর্কে সতর্ক করার পাশপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণ করে কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার পথ বাছতে হবে সে সম্পর্কেও সচেতনতা চলে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ওজন নিয়ন্ত্রণে রেখে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য প্রয়োজন ঠিকমতো ডায়েট। প্রথম থেকেই বাড়িতে তৈরি, কম তেল মশলার খাবার খাওয়ার অভ্যাস জরুরি। ভাত, রুটির মতো কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার নিয়মিত খেতে হবে। কিন্তু অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে। এমনটাই জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁদের পরামর্শ, সব্জি, ডাল, ভাত কিংবা রুটির সঙ্গে অবশ্যই মাছ-মাংস-ডিম কিংবা পনীর-সোয়াবিনের মতো প্রোটিন জাতীয় খাবার নিয়মিত খাওয়া জরুরি। পরিমিত পরিমাণে নির্দিষ্ট সময় অন্তর খাবার খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ। নিয়মিত ফল ও বাদাম জাতীয় খাবার খাওয়া জরুরি। তাতে শরীর সুস্থ থাকে। আর প্রতিদিন আধ ঘণ্টা হাঁটার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, যোগাভ্যাস এবং হাঁটার অভ্যাস নিয়মিত থাকলে হরমোন ক্ষরণ ও রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই এই পথেই চললে সময়ের সঙ্গে অতিরিক্ত ওজনকে কাবু করে সুস্থ থাকা সম্ভব বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • S-5 SSBN: গোকুলে বাড়ছে ভারতের সমুদ্রতলের দৈত্য! নিঃশব্দে নির্মাণকাজ শুরু বিশালকায় এস-৫ সাবমেরিনের

    S-5 SSBN: গোকুলে বাড়ছে ভারতের সমুদ্রতলের দৈত্য! নিঃশব্দে নির্মাণকাজ শুরু বিশালকায় এস-৫ সাবমেরিনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৫ সালের শেষে নিঃশব্দে নৌ-শক্তি বৃদ্ধিতে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলল ভারত। ইঙ্গিত মিলেছে, কোচিন শিপইয়ার্ডে অত্যন্ত নীরবে ও নিরাপত্তার মোড়কে পরবর্তী প্রজন্মের এস–৫ শ্রেণির বিশালকায় পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সাবমেরিন (S-5 SSBN) নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। এই তথ্য সত্য হলে, আইএনএস অরিহন্তের পর ভারতের সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতায় এটি হবে সবচেয়ে বড় অগ্রগতি। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এস–৫ প্রকল্প ভারতের সমুদ্রতলের রণকৌশলকে আঞ্চলিক সীমা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক পরিসরে পৌঁছে দেবে।

    আকারে আইএনএস অরিহন্তের প্রায় দ্বিগুণ!

    নতুন এস–৫ পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সাবমেরিনের (S-5 SSBN) আকার ও সক্ষমতা বর্তমানে নৌসেনায় অন্তর্ভুক্ত অরিহন্ত শ্রেণির এসএসবিএন সাবমেরিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বড়। অরিহন্ত যেখানে প্রায় ৬,০০০ টন স্থানচ্যুতি করে, সেখানে এস–৫ সাবমেরিনের সম্ভাব্য স্থানচ্যুতি প্রায় ১৩,৫০০ টন। অর্থাৎ, আকারে অরিহন্তের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ হতে চলেছে এস-৫ (S-5 SSBN)। এই বাড়তি আকার সাবমেরিনটির দীর্ঘস্থায়ী অভিযান, উন্নত শব্দনীরবতা, ক্রুদের জন্য ভালো বাসযোগ্যতা এবং অধিক ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতা নিশ্চিত করবে। নৌবাহিনী সূত্রের দাবি, এস–৫ দীর্ঘ সময় ধরে সামুদ্রিক অভিযানে অংশ নিতে পারবে এবং মাসের পর মাস ডুবে থেকেও সম্পূর্ণ সক্ষমতার সঙ্গে সমুদ্রতলে টহল দিতে সক্ষম হবে। এর মাধ্যমে ভারতের সমুদ্রভিত্তিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা (India Nuclear Triad) আরও শক্তিশালী ও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।

    কে–৬ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন!

    এস–৫-এর (S-5 SSBN) প্রধান শক্তি নিহিত রয়েছে এর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায়। জানা গেছে, এই সাবমেরিনে ১২ থেকে ১৬টি ভার্টিক্যাল লঞ্চ টিউব থাকতে পারে, যেখানে সাবমেরিন–নিক্ষেপযোগ্য কে–৬ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (K-6 Missiles) মোতায়েন করা হবে। কে–৬ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৬,০০০ থেকে ৮,০০০ কিলোমিটার বা তারও বেশি হতে পারে এবং এতে এমআইআরভি (একাধিক স্বাধীন ও পৃথক লক্ষ্যভেদ ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক বা প্রথাগত বিস্ফোরক সম্বলিত) ওয়ারহেড থাকবে। এই ক্ষমতা ভারতের দ্বিতীয় আঘাতের কৌশলকে আরও দৃঢ় করবে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকেই এস–৫ সম্ভাব্যভাবে এশিয়া ও তার বাইরের লক্ষ্যবস্তুগুলিকে আঘাত হানার সক্ষমতা রাখবে। এতে করে বিতর্কিত এলাকা বা চোকপয়েন্টের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না, যা সাবমেরিনটির টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়াবে।

    ১৯০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রেসারাইজড ওয়াটার রিঅ্যাক্টর

    এস–৫ সাবমেরিনকে (S-5 SSBN) শক্তি জোগাতে একটি নতুন প্রেসারাইজড ওয়াটার রিঅ্যাক্টর ব্যবহার করা হবে, যার ক্ষমতা ১৯০ মেগাওয়াট বা তারও বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। এই রিঅ্যাক্টর সাবমেরিনটিকে প্রায় নিস্তব্ধতা বজায় রেখে দ্রুতগতিতে ভারত মহাসাগর জুড়ে চলাচলের সক্ষমতা দেবে। নৌবাহিনী সূত্র জানিয়েছে, এই গতি সাবমেরিনটির কৌশলগত টিকে থাকার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। কৌশলগতভাবে, এস–৫ নির্মাণের সময়কালও তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২০-এর দশকের মাঝামাঝি এই প্রকল্প শুরু হওয়া স্পষ্ট বার্তা দেয় যে ভারতের নিরাপত্তা কৌশল কেবল স্থলভাগকেন্দ্রিক নয় এবং ভারত মহাসাগরে নিজের প্রভাব ও স্বার্থ রক্ষায় দেশটি প্রস্তুত।

    এস–৫ সাবমেরিনের এক জোড়া ‘হাল’ একসঙ্গে নির্মাণাধীন!

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্দো–প্যাসিফিক অঞ্চলে বাড়তে থাকা মহাশক্তির প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে এস–৫ ভারতের পারমাণবিক ত্রয়ীর (India Nuclear Triad) তৃতীয় স্তম্ভকে আরও শক্তিশালী করবে। সমুদ্রভিত্তিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সবচেয়ে মজবুত ও স্থিতিশীল উপাদান হিসেবে দেখা হয়, যা সংকটকালে উত্তেজনা বৃদ্ধির ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। খবরে প্রকাশ, বিশাখাপত্তনমে এস–৫ সাবমেরিনের এক জোড়া ‘হাল’ (মূল কাঠামো) একসঙ্গে নির্মাণাধীন। প্রতিরক্ষা মহলের অনুমান, যদি তাই হয়, তাহলে ২০৩০ থেকে ২০৩২ সালের মধ্যে সেগুলি নৌবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। পরবর্তী বছরগুলোতে আরও সাবমেরিন যুক্ত হলে ভারতের পক্ষে ‘কনটিনিউয়াস অ্যাট-সি ডিটারেন্স’ বা জলসীমায় টানা পাহারা বজায় রাখা সম্ভব হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এস–৫ প্রকল্প ভারতের রণনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং নিশ্চিত প্রত্যাঘাতের সক্ষমতা বাড়াবে। নীরবে সমুদ্রের গভীরে অবস্থান নিয়ে এই সাবমেরিন ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে আরও দৃঢ় করবে এবং ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করবে।

    “তোমারে বধিবে যে গোকুলে বাড়িছে সে…”! চিন-পাকিস্তানকে কি এই কথাই স্মরণ করাচ্ছে ভারত?

  • Candida Auris: বিশ্বজুড়ে বিপদ বাড়াচ্ছে বিশেষ ছত্রাক! নতুন বছরের শুরুতেই আশঙ্কাবার্তা ‘হু’-র, কতটা ঝুঁকি ভারতে?

    Candida Auris: বিশ্বজুড়ে বিপদ বাড়াচ্ছে বিশেষ ছত্রাক! নতুন বছরের শুরুতেই আশঙ্কাবার্তা ‘হু’-র, কতটা ঝুঁকি ভারতে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    নতুন বছরের শুরুতেই বিপদের জানান দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আবার বড় স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বিশ্বের একাধিক দেশ। ভোগান্তিও বাড়তে পারে। কারণ এত বছরের পরিচিত দাওয়াই আর কাজে আসছে না। তাই বিপদ বাড়ছে। আগাম সতর্কতাকে হাতিয়ার করেই তাই আপাতত লড়াই চলুক বলে জানাচ্ছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

    নতুন বছরে কোন বিপদের আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা?

    নতুন বছরের শুরুতেই বিপদ বাড়াচ্ছে ছত্রাক। ‘ক্যানডিডা অরিয়াস’ নামে এক ছত্রাক বিশ্ব জুড়ে দাপট দেখাতে শুরু করেছে। আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে এই ছত্রাকের সংক্রমণ বাড়ছে। আর তার জেরেই আবার নতুন করে স্বাস্থ্য বিপর্যয় হতে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে ক্যানডিডা অরিয়াস নামে এই ছত্রাককে ‘বিপজ্জনক’ ঘোষণা করা হয়েছে। আমেরিকার একাধিক জায়গায় অসংখ্য মানুষ এই ছত্রাক সংক্রমণের শিকার হয়েছেন। বাদ নেই দক্ষিণ এশিয়ার নানান দেশ। ত্বক ও রক্তের মাধ্যমে একজনের দেহ থেকে এই ছত্রাক আরেকজনের দেহে সংক্রমণ ছড়িয়ে দিচ্ছে। আর তার ফলেই নানান জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এমনকি প্রাণঘাতী পরিস্থিতিও দেখা যাচ্ছে।

    কেন ‘বিপজ্জনক’ এই ছত্রাক?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ক্যানডিডা অরিয়াস নামে এই ছত্রাক ত্বকের স্পর্শে ছড়িয়ে পড়ছে। উচ্চ রক্তচাপ মাপার যন্ত্র কিংবা ক্যাথিটারের মতো চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সরঞ্জামেও এই ছত্রাক বাসা বাঁধছে। ত্বকের থেকেই রক্তে মিশেছে এই ছত্রাক। আর তারপরেই শরীরে নানান জটিলতা তৈরি করছে। এই ছত্রাকে আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষতস্থান স্পর্শ করলেই খুব দ্রুত এই ছত্রাকের সংক্রমণ হচ্ছে।

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস কিংবা কিডনির অসুখে আক্রান্তের এই ছত্রাক সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি। শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি কম থাকলে এই ছত্রাকের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে‌। স্বাস্থ্যকেন্দ্র কিংবা হাসপাতাল থেকেই এই ছত্রাক সংক্রমণ দ্রুত হচ্ছে। বিশেষত, ভেন্টিলেশনে থাকা রোগীদের শরীরে এই সংক্রমণ দ্রুত দেখা দিচ্ছে। আর তার থেকেই অন্যদের মধ্যে এই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এই ছত্রাক ঠেকাতে মূল চ্যালেঞ্জ হল, ওষুধ কাজ করছে না। তাঁরা জানাচ্ছেন, এত বছর ধরে এই ধরনের ছত্রাক সংক্রমণের বিপদ কমাতে যে ধরনের ওষুধ বিশেষত অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হতো, সেগুলো আর এখন কাজ করছে না। আর তার জন্যই এই ছত্রাক বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। ক্যানডিডা অরিয়াস শরীরে বাসা বাঁধলে বারবার জ্বর, শ্বাসনালীর সংক্রামণের মতো উপসর্গ দেখা যায়। রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়া, পুঁজ জমে যাওয়ার মতো জটিলতা তৈরি হয়। শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যশক্তি বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো প্রাণঘাতী সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

    ভারতে কতখানি বিপদের আশঙ্কা রয়েছে?

    ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ-র তরফে জানানো হয়েছে, দেশ জুড়ে ছত্রাক এবং ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ বাড়ছে। নানান ধরনের ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকের ক্ষমতা বেড়ে যাওয়ার কারণে রোগের ভোগান্তিও বাড়ছে। আর এই সবকিছুর নেপথ্যে রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষমতা হ্রাস। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্টেন্টের কারণেই পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। অকারণে অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার জেরে শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী শক্তি তৈরি হয়ে গিয়েছে। তাই ব্যাকটেরিয়া কিংবা ছত্রাককে কাবু করতে পারছে না।‌ তাই শরীরে এই ধরনের সংক্রমণ বিপদ বাড়াচ্ছে।

    অন্যান্য দেশের মতো ক্যানডিডা অরিয়াস ভারতের জন্যও বিপজ্জনক বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। বাড়তি সতর্কতাকে হাতিয়ার করেই এই পরিস্থিতি মোকাবিলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ছত্রাকের সংক্রমণ রুখতে পরিচ্ছন্নতা জরুরি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে শরীর পরিষ্কার রাখা, নিয়মিত পরিচ্ছন্ন জামা কাপড় পরা, হাত ও পা সাবান দিয়ে ধোয়া এবং শুকনো করে মুছে ফেলা জরুরি। অতিরিক্ত সময় ভেজা থাকলে ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে। বাড়িতে শিশু থাকলে পরিচ্ছন্নতায় বাড়তি নজরদারি জরুরি। কারণ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ শক্তি তুলনামূলক ভাবে কম থাকে। তাই ছত্রাকের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়‌। কেউ এই ছত্রাকে আক্রান্ত হলে তাঁকে আলাদা রাখার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি, যে আক্রান্তকে দেখভাল করছেন, তাঁরও আলাদা থাকার ব্যবস্থা থাকা জরুরি। কারণ সংক্রমণ রুখতে এই আলাদা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • India Defence Modernization 2026: ২০২৬ সালে ভারতের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ— নজরে এই ১০ বড় প্রকল্প

    India Defence Modernization 2026: ২০২৬ সালে ভারতের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ— নজরে এই ১০ বড় প্রকল্প

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় প্রতিরক্ষার জন্য যুগান্তকারী হতে চলেছে ২০২৬ সাল। এ বছর, দেশের সামরিক ক্ষেত্রে একাধিক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ ও উল্লেখযোগ্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, যা দেশের প্রতিরক্ষাকে এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। ২০২৬ সালকে ভারতের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর হিসেবে বর্ণনা করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের অনুমান, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা একাধিক বড় সামরিক ক্রয় ও কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্প এই বছর সরকারি অনুমোদন অথবা চুক্তি স্বাক্ষরের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। যা আগামী কয়েক দশকে ভারতীয় স্থলসেনা, বায়ুসেনা, নৌবাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কার্যকরী সক্ষমতা নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি, এগুলি দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প ও বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্বের ভবিষ্যৎ রূপরেখাও গড়ে দেবে। এমনই ১০টি সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে, যা নিয়ে চলতি বছর বড় সিদ্ধান্ত হতে চলেছে বলে আশাপ্রকাশ করা হচ্ছে।

    ১. মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট (MRFA) প্রকল্পে ১১৪টি যুদ্ধবিমান

    ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য ১১৪টি মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট (MRFA) কেনার বিষয়টি ২০২৬ সালে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘ মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ও একাধিক প্রশাসনিক স্থগিতাবস্থার পর, এই প্রকল্প এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে বিক্রেতা নির্বাচন ও বাণিজ্যিক দরকষাকষি চূড়ান্ত হতে পারে। ভারতীয় বায়ুসেনার ক্রমহ্রাসমান স্কোয়াড্রন সংখ্যা মোকাবিলা করা এবং আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে সংখ্যাগত ও গুণগত ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নিতে আগ্রহী।

    ২. বায়ুসেনার মিডিয়াম ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফ্ট (MTA) প্রকল্পে গতি

    মিডিয়াম ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফ্ট (MTA) প্রকল্পটি ২০২৬ সালে আনুষ্ঠানিক গতি পেতে পারে। সামরিক পণ্যবাহী বিমানের সংখ্যা ও কার্যকরী ভূমিকা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হবে। এই প্রকল্পের আওতায় পুরনো অ্যান্টোনভ এএন-৩২ এবং ইলিউশিন আইএল-৭৬ বিমানের বিকল্প হিসেবে নতুন সামরিক পরিবহণ বিমান পেতে চাইছে বায়ুসেনা। এ বছর এক্ষেত্রে রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (RFP) জারি হওয়া এবং বিক্রেতা সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে লকহিড মার্টিন সি-১৩০জে, এমব্রায়ার সি-৩৯০ ও এয়ারবাস এ৪০০এম প্রতিযোগিতায় থাকতে পারে। সামরিক এয়ারলিফ্ট সক্ষমতায় এই চুক্তি ভারতকে কৌশলগত বড় সুবিধা দেবে।

    ৩. প্রজেক্ট ৭৫আই (P-75I) সাবমেরিন প্রকল্প কেন্দ্রের অনুমোদনের পথে

    দীর্ঘ বিলম্বের পর প্রজেক্ট ৭৫আই অবশেষে ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS)-এর অনুমোদনের দিকে এগোচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে এয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রপালশন (AIP) প্রযুক্তিসম্পন্ন ছয়টি আধুনিক প্রচলিত সাবমেরিনের জন্য চুক্তি করা হবে। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের বাড়তে থাকা নৌ-উপস্থিতির মোকাবিলা এবং পুরনো সাবমেরিন অবসর নেওয়ার ফলে সৃষ্ট ঘাটতি পূরণে এই প্রকল্পকে ভারতীয় নৌবাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে। তবে, এক্ষেত্রে ফ্রান্স নির্মিত স্করপিন-সিরিজ নয়, বরং জার্মানি ও স্পেনের সংস্থার নকশা নিয়ে আলোচনাই মূল ফোকাসে রয়েছে।

    ৪. রণতরীতে দেশীয় যুদ্ধবিমান (TEDBF) প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায়

    ভারতীয় নৌসেনার জন্য দেশীয় টুইন ইঞ্জিন ডেক বেসড ফাইটার (TEDBF) প্রকল্পটি ২০২৬ সালে ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটির অনুমোদন পেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারতের বিমানবাহী রণতরী থেকে পরিচালনার জন্য বিশেষভাবে নকশা করা এই যুদ্ধবিমান ভবিষ্যতে মিগ-২৯কে বহরের স্থলাভিষিক্ত হবে এবং নৌবাহিনীর কেরিয়ার এয়ার উইংয়ের মূল স্তম্ভে পরিণত হবে। এই অনুমোদন পূর্ণমাত্রার উন্নয়ন তহবিল ছাড় করবে এবং দেশীয় নৌবিমান নির্মাণে ভারতের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সুদৃঢ় করবে।

    ৫. অ্যামকা (AMCA) জেট ইঞ্জিন উন্নয়নে বিদেশি অংশীদারিত্ব চূড়ান্ত

    ২০২৬ সালের অন্যতম কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হবে অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট (AMCA)-এর ইঞ্জিন উন্নয়ন সংক্রান্ত অনুমোদন। যৌথ-উদ্যোগে ১১০–১৩০ কিলোনিউটন থ্রাস্ট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি ইঞ্জিন উন্নয়নের জন্য ভারত সম্ভবত বিদেশি অংশীদারিত্বের কাঠামো চূড়ান্ত করবে। ফ্রান্সের সাফরান (Safran) প্রধান অংশীদার হিসেবে উঠে আসতে পারে। এই সিদ্ধান্ত পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রে ভারতের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা অর্জনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ৬. অতিরিক্ত এস-৪০০ (S-400) ডেলিভারি ও অর্ডার বাড়ানোর সম্ভাবনা

    ২০২৬ সাল জুড়ে এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার রেজিমেন্ট অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানা গিয়েছে।চূড়ান্ত ইউনিটগুলি পূর্ণাঙ্গ আকাশ প্রতিরক্ষা বলয় সম্পূর্ণ করবে বলে আশা। একইসঙ্গে, মূল চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত এস-৪০০ ইউনিট কেনা নিয়েও আলোচনা চলছে, যা ভারতের দীর্ঘপাল্লার আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপারেশন সিঁদুর থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য হুমকি ও ঝুঁকির মূল্যায়ন ভারতের দীর্ঘপাল্লার আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।

    ৭. মিডিয়াম অল্টিটিউড লং এন্ডুরেন্স ড্রোন (MALE Drone) প্রকল্প চুক্তির পর্যায়ে

    ভারতের দীর্ঘদিন ধরে চলা মিডিয়াম অল্টিটিউড লং এন্ডুরেন্স (MALE) ড্রোন প্রকল্পটি ২০২৬ সালে বাস্তব অগ্রগতি দেখতে পারে। মার্কিন এমকিউ-৯বি রিপার (MQ-9B Reaper) ড্রোন সংগ্রহ এগোলেও, এখন মূল জোর দেওয়া হচ্ছে দেশীয় তাপাস (TAPAS) বা আর্চার-এনজি (Archer-NG) প্ল্যাটফর্মের উপর, যা স্থল ও সমুদ্র উভয় ক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি নিশ্চিত করবে। এই দেশীয় ড্রোনগুলির চুক্তি চূড়ান্ত হলে শত্রু অঞ্চলে গোয়েন্দা, নজরদারি ও রেকি— সংক্ষেপে আইএসআর (ISR) থেকে শুরু করে আঘাত হানার ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

    ৮. প্রজেক্ট-৭৭ (P-77) পারমাণবিক শক্তিচালিত অ্যাটাক সাবমেরিন (SSN)

    ২০২৬ সালে অতিরিক্ত রাজনৈতিক ও আর্থিক অনুমোদন পেতে পারে ভারতের দেশীয় পারমাণবিক শক্তিচালিত ঘাতক সাবমেরিন (SSN) নির্মাণ প্রকল্প— প্রজেক্ট-৭৭। এই সাবমেরিনগুলি বিমানবাহী রণতরীর নিরাপত্তা, শত্রু সাবমেরিন ট্র্যাকিং এবং গভীর সমুদ্রে আধিপত্য বজায় রাখতে অপরিহার্য। এই অনুমোদন ভারতের শক্তিশালী ও ভারসাম্যপূর্ণ ‘ব্লু-ওয়াটার নেভি’ গঠনের সংকল্পকে জোরালোভাবে তুলে ধরবে।

    ৯. কুইক রিঅ্যাকশন সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (QRSAM) চুক্তি

    দীর্ঘ প্রতীক্ষিত কুইক রিঅ্যাকশন সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল (QRSAM) প্রকল্পের চুক্তি ২০২৬ সালে চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ব্যবস্থা স্থলসেনার সাঁজোয়া বাহিনীকে ড্রোন, হেলিকপ্টার ও নিচু দিয়ে উড়ে আসা বিমানের আক্রমণ থেকে রক্ষা করবে। ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড (BEL) এই সিস্টেমের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্ডারের আশা করছে।

    ১০. আকাশ-এনজি (Akash-NG) চুক্তিতে পরবর্তী প্রজন্মের আকাশ প্রতিরক্ষা

    দেশীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সর্বশেষ সংস্করণ আকাশ-এনজি (নিউ জেনারেশন) প্রকল্পও ২০২৬ সালে বড় উৎপাদন চুক্তি পেতে পারে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে সফল পরীক্ষার পর উন্নত রেঞ্জ, নির্ভুল লক্ষ্যভেদ ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন এই ব্যবস্থা বর্তমান আকাশ প্রতিরক্ষা স্তরকে আরও শক্তিশালী করবে।

    সব মিলিয়ে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সামনে থাকা এই সিদ্ধান্তগুলি ২০২৬ সালকে ভারতের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক বছর করে তুলতে চলেছে। এই সময়ে নেওয়া পদক্ষেপগুলি শুধুমাত্র তাৎক্ষণিক সক্ষমতার ঘাটতি পূরণ করবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে ভারতের সামরিক কাঠামো, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং কৌশলগত স্বনির্ভরতাকে নতুন দিশা দেবে।

  • Indian Air Force: বায়ুসেনার আধুনিকীকরণে সবুজ সংকেত কেন্দ্রের, আসছে রিফুয়েলার ও অ্যাওয়াক্স

    Indian Air Force: বায়ুসেনার আধুনিকীকরণে সবুজ সংকেত কেন্দ্রের, আসছে রিফুয়েলার ও অ্যাওয়াক্স

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) যুদ্ধক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা কেনাকাটায় অনুমোদন দিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এই সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৬ সালের মধ্যেই বায়ুসেনা আরও শক্তিশালী ও আধুনিক বাহিনীতে রূপান্তরিত হবে বলে মনে করছে মন্ত্রক ও প্রতিরক্ষা মহল। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্য-আকাশে জ্বালানি ভরার বিমান, আকাশপথে আগাম সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের প্রস্তাবে ছাড়পত্র দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। এর পাশাপাশি, “মেক ইন ইন্ডিয়া” উদ্যোগের আওতায় ফ্রান্স থেকে ১১৪টি মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট (MRFA) কেনার প্রক্রিয়াও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

    ছয়টি বোয়িং ৭৬৭ মিড-এয়ার রিফুয়েলার

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC) বা প্রতিরক্ষা ক্রয় পরিষদের নেওয়া প্রধান সিদ্ধান্তগুলির মধ্যে রয়েছে ইজরায়েল থেকে ছয়টি বোয়িং ৭৬৭-ভিত্তিক মিড-এয়ার রিফুয়েলার কেনার পরিকল্পনা। ইজরায়েল থেকে ছয়টি রিফুয়েলার কেনার জন্য মূল্য চূড়ান্ত করতে একটি কমিটি গঠন করছে মন্ত্রক। এই প্রকল্পের আনুমানিক খরচ প্রায় ১০,০০০ কোটি টাকা। একমাত্র দরদাতা হিসেবে ইজরায়েল এরোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ-এর (IAI) সঙ্গে আলোচনা চলছে। দাম নির্ধারণ শেষ হলে প্রস্তাবটি ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS)-এর কাছে পাঠানো হবে। বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার কাছে ২০০৩ সালে অন্তর্ভুক্ত ছয়টি রাশিয়ান আইএল-৭৬এম রিফুয়েলার রয়েছে। তবে রক্ষণাবেক্ষণ ও দ্রুত প্রস্তুতির সমস্যায় এই বহর কার্যকারিতা হারাচ্ছে বলে জানিয়েছে বায়ুসেনা।

    ১২টি এমব্রেয়ারে বসবে এইডব্লু অ্যান্ড সি

    একই সঙ্গে ব্রাজিল ও ফ্রান্সের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ১২টি এইডব্লু অ্যান্ড সি (AEW&C) সিস্টেম সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বৈঠকে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক শীঘ্রই ব্রাজিল থেকে ছয়টি এমব্রেয়ার বিমান কেনার জন্য রিকোয়েস্ট ফর প্রোপোজাল (RFP) জারি করতে চলেছে। এই বিমানগুলিতে বসানো হবে ডিআরডিও-উন্নত নেত্রা মার্ক-২ এইএসএ রেডার, যা ২৭০ ডিগ্রি নজরদারি এবং উন্নত ইলেকট্রনিক ও নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধে সক্ষমতা বাড়াবে।

    ৬টি এয়ারবাস হয়ে উঠবে অ্যাওয়াক্স

    একইসঙ্গে, ফ্রান্স থেকে কেনা ছয়টি এয়ারবাস এ৩১৯ বিমানে ৩৬০ ডিগ্রি রোটোডোম রেডার বসিয়ে সেগুলিকে পূর্ণাঙ্গ অ্যাওয়াক্স (AWACS) প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করছে মন্ত্রক। মিড-এয়ার রিফুয়েলার ও অ্যাওয়াক্স-এর ঘাটতির বিষয়টি অপারেশন সিন্দুর চলাকালীন স্পষ্টভাবে সামনে আসে, যখন পাকিস্তানের তুলনায় এই ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার অভিজ্ঞতা হয় বায়ুসেনার। পাশাপাশি,  ফ্রান্স থেকে রাফাল যুদ্ধবিমানের জন্য ৩৬টি অতিরিক্ত মিটিওর এয়ার-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র কেনার অনুমোদন দিয়েছে। কয়েকদিন আগেই, রুশ নির্মিত এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য ২৮০টি দীর্ঘ ও স্বল্প-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কেনার ছাড়পত্র দিয়েছিল ডিএসি।

    নজরে ১১৪টি এমআরএফএ

    এছাড়া ১১৪টি এমআরএফএ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুতিমূলক কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। দেশীয় উপাদানের ব্যবহার বাড়ানোর দিকেও জোর দিচ্ছে সরকার। ভারতে রাফাল বিমানের রক্ষণাবেক্ষণের (MRO) পরিকাঠামো আগে থেকেই থাকায়, নতুন কোনও যুদ্ধবিমান ধারা চালুর বদলে বিদ্যমান ব্যবস্থাকে আরও সম্প্রসারিত করার পক্ষে মত দিয়েছেন আধিকারিকরা। সবশেষে, আকাশপথে বিভিন্ন ধরনের হুমকি মোকাবিলায় ভারত ও রাশিয়া গভর্নমেন্ট-টু-গভর্নমেন্ট পথে আরও পাঁচটি এস-৪০০ ব্যবস্থা এবং প্যান্টসির মাঝারি পাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

  • Kolkata Air Pollution: বছরের শুরুতেই লাগামহীন বায়ুদূষণ! কলকাতার বাতাস কি বিপদ বাড়াচ্ছে?

    Kolkata Air Pollution: বছরের শুরুতেই লাগামহীন বায়ুদূষণ! কলকাতার বাতাস কি বিপদ বাড়াচ্ছে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    নতুন বছরের প্রথম দিনেই লাগামহীন দূষণ! আর তার জেরেই কলকাতাবাসীর জন্য কয়েক গুণ বিপদ বাড়ল। এমনটাই আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।‌ নতুন বছরের শুরুতে উদযাপনে গা ভাসিয়েছেন আট থেকে আশি, সব বয়সের মানুষ! কিন্তু এই উৎসব-উদযাপনের মরশুমেই কলকাতার বায়ুদূষণ (Kolkata Air Pollution) টেক্কা দিচ্ছে দেশের অন্যান্য শহরকেও! তাই নতুন বছরে স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    কেন কলকাতার ‘বাতাস’ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে?

    পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম দিন কলকাতা শহরে বায়ুদূষণের মাত্রা ছিল বেশ উদ্বেগজনক। বাতাসের মান তলানিতে। এই পরিস্থিতিতে শিশু ও বয়স্কদের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেই আশঙ্কা চিকিৎসকদের একাংশের।

    তথ্য অনুযায়ী, নতুন বছরের প্রথম দিনে কলকাতার অধিকাংশ জায়গায় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (Kolkata AQI Level) ৩০০ ছাড়িয়েছে। বিধাননগরে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ছিলো ৩৫৩, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে ৩৪৩, বালিগঞ্জে ৩৬১। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই তথ্য যথেষ্ট উদ্বেগজনক। এআইকিউ ৫০ মধ্যে থাকলে তবেই সেই বাতাস শরীরের জন্য ভালো। কিন্তু কলকাতা ও তার আশপাশের এলাকায় বায়ুর মান মারাত্মক খারাপ। তার ফলে নানান সমস্যা তৈরি হতে পারে।

    কোন বিপদের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    ফুসফুসের একাধিক রোগের কারণ!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই মারাত্মক বায়ুদূষণের জেরে শরীরে গভীর প্রভাব পড়তে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, বায়ুদূষণের জেরে ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে গেল। তাঁরা জানাচ্ছেন, শীতে অনেকেই আবহাওয়ার জেরে ফুসফুসের সংক্রমণে আক্রান্ত হন। বিশেষত শিশু ও বয়স্কদের কাশি-সর্দির মতো নানান ভোগান্তি বাড়ে। আবার অনেকের শ্বাসকষ্ট হয়। তার উপরে এই মারাত্মক বায়ুদূষণ সমস্যা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। বক্ষঃরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাতাসে ধুলিকণার পরিমাণ বেড়ে গেলে, দূষিত উপাদানের মাত্রা বাড়লে ফুসফুসের উপরে চাপ বাড়ে। দূষিত উপাদান ফুসফুসের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তাছাড়াও হাঁপানি, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (COPD), নিউমোনিয়ার মতো নানান রোগের দাপট বাড়াতে পারে। তাই বায়ুদূষণ স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হতে পারে।

    হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে!

    ফুসফুসের পাশপাশি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় বায়ুদূষণ। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, বায়ুদূষণের জেরে রক্তপ্রবাহেও দূষিত উপাদান প্রবেশ করে। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।

    মস্তিষ্কের বিকাশের পথে বাধা!

    বায়ুদূষণের জেরে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র। এমনটাই জানাচ্ছেন স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন দূষিত বাতাসের জেরে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ হয় না। স্নায়ুর সক্রিয়তা বজায় রাখতে বিশেষত স্মৃতিশক্তি ধরে রাখার জন্য দূষণহীন আবহাওয়া জরুরি। কিন্তু কলকাতা ও তার আশপাশের পরিবেশ শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য উপযুক্ত নয়। এই বাতাসে নানান স্নায়বিক সমস্যা তৈরি হতে পারে। শিশুদের পাশপাশি দূষিত বাতাস বড়দের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও বিপজ্জনক। তাঁরা জানাচ্ছেন, বায়ুদূষণের জেরে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, অবসাদের মতো নানান সমস্যা তৈরি হয়।

    ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ায়!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, দূষিত পরিবেশ ক্যান্সারের ঝুঁকি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। তাঁরা জানাচ্ছেন, বাতাসের এই খারাপ গুণমান ফুসফুস, হৃদপিন্ড, বক্ষঃনালীর জন্য বিপজ্জনক। এই ক্ষতিকারক উপাদান নিঃশ্বাসের সঙ্গে প্রতি মুহূর্তে শরীরে প্রবেশ করছে। আর পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক করে তুলছে। লাগাতার দূষিত উপাদান শরীরে প্রবেশের জেরে ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বায়ুদূষণ সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে শিশু, কিশোর এবং বয়স্কদের। তাঁরা সবচেয়ে বেশি এর ফলে স্বাস্থ্য সঙ্কটের সম্মুখীন হন। তাই বিশেষজ্ঞদের একাংশের পরামর্শ, বায়ুদূষণ রুখতে প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের একযোগে সচেতনতা ও সক্রিয়তা জরুরি। তবেই এই ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা সম্ভব হবে।

  • India Defence Deals: সামরিক আধুনিকীকরণে বড় পদক্ষেপ, নতুন কার্বাইন ও হেভিওয়েট টর্পিডো কিনছে ভারত

    India Defence Deals: সামরিক আধুনিকীকরণে বড় পদক্ষেপ, নতুন কার্বাইন ও হেভিওয়েট টর্পিডো কিনছে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের সামরিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে ৪,৬৬৬ কোটি টাকা মূল্যের প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করল কেন্দ্রের মোদি সরকার। এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় সেনা ও নৌবাহিনীর জন্য ক্লোজ কোয়ার্টার ব্যাটল (CQB) কার্বাইন এবং হেভিওয়েট টর্পিডো কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

    ৪.২৫ লক্ষ সিকিউবি কার্বাইন

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতীয় সেনা ও নৌবাহিনীর জন্য ৪.২৫ লক্ষের বেশি সিকিউবি কার্বাইন ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম সরবরাহ করতে সরকার প্রায় ২,৭৭০ কোটি টাকার চুক্তি করেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ভারত ফোর্জ লিমিটেড ও পিএলআর সিস্টেমস প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। আধুনিক এই কার্বাইনগুলি পুরনো অস্ত্রের জায়গা নেবে এবং সীমিত পরিসরের যুদ্ধ ও শহুরে সংঘর্ষে সেনাদের কার্যক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে।

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, বহু প্রতিক্ষিত সিকিউবি কার্বাইন প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের স্থলবাহিনী আধুনিক ও বিশ্বমানের অস্ত্রে সজ্জিত হবে এবং খুব কাছে থেকে সরাসরি মুখোমুখি সংঘাতে সেনার কার্যকারিতা বাড়বে। একইসঙ্গে, ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে সরকার এই প্রকল্পে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক মনে করছে, এই চুক্তির ফলে দেশীয় উৎপাদন বাড়বে এবং প্রতিরক্ষা খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

    ৪৮ হেভিওয়েট টর্পিডো

    অন্যদিকে, ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবমেরিন শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক প্রায় ১,৮৯৬ কোটি টাকার পৃথক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ইটালির ওয়াস সাবমেরিন সিস্টেম সংস্থার সঙ্গে। এই চুক্তির আওতায় নৌবাহিনী ৪৮টি হেভিওয়েট টর্পিডো পাবে, যা কালভারি শ্রেণির (প্রজেক্ট–৭৫) সাবমেরিনে সংযুক্ত করা হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ২০২৮ সালের এপ্রিল থেকে টর্পিডোর সরবরাহ শুরু হবে এবং ২০৩০ সালের শুরুর দিকে তা সম্পূর্ণ হবে। নতুন টর্পিডো যুক্ত হলে জলের নিচে ভারতীয় নৌবাহিনীর আক্রমণ সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে বলে মন্ত্রকের দাবি।

    প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এখনও পর্যন্ত ১,৮২,৪৯২ কোটি টাকার মূলধনী প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। মোদি সরকার জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও সেনা ও নৌবাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক অস্ত্র ও প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

  • Kalpataru Utsav: আজ ‘কল্পতরু উৎসব’, আজকের দিনেই ঠাকুর রামকৃষ্ণ বলেছিলেন, ‘‘তোমাদের চৈতন্য হোক’’

    Kalpataru Utsav: আজ ‘কল্পতরু উৎসব’, আজকের দিনেই ঠাকুর রামকৃষ্ণ বলেছিলেন, ‘‘তোমাদের চৈতন্য হোক’’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইংরেজি নতুন বছরের পয়লা দিন বলে কথা। বাঙালি মেতেছে বর্ষবরণের আনন্দে। এ আর নতুন কী! তবে ফি বছর ১ জানুয়ারির গুরুত্ব বাঙালির কাছে অন্যভাবেও রয়েছে, এদিন কল্পতর উৎসব (Kalpataru Utsav)। এদিনই বিশ্ববন্দিত হিন্দু ধর্মের প্রচারক স্বামী বিবেকানন্দের গুরু, ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব তাঁর শিষ্যদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘‘তোমাদের চৈতন্য হোক’’। সকাল থেকেই দক্ষিণেশ্বর মন্দির থেকে শুরু করে রাজ্যের সর্বত্র ভক্তরা পালন করছেন কল্পতরু দিবস। ভোর থেকেই ভক্তদের ঢল দক্ষিণেশ্বর-কাশীপুর উদ্যানবাটিতে। এই দিনটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেবের (Sri Ramakrishna) স্মৃতি। ১৮৮৬ সালের ১ জানুয়ারি কল্পতরু রূপে ভক্তদের আশীর্বাদ করেছিলেন ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ।

    ঠাকুরের সংক্ষিপ্ত জীবনী

    পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার আরামবাগ মহকুমার কামারপুকুর গ্রামে ১৮৩৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি এক দরিদ্র বৈষ্ণব ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায় এবং চন্দ্রমণি দেবীর সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। কথিত আছে, সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগে গয়া তীর্থ ভ্রমণে গিয়ে ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায়, গদাধর বিষ্ণুকে স্বপ্নে দর্শন করেন। তাই নিজের চতুর্থ সন্তানের নাম তিনি রাখলেন গদাধর চট্টোপাধ্যায়। দাদা রামকুমার চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে ১৮৫৫ সালে গদাধর চট্টোপাধ্যায়ের কলকাতায় আগমন ঘটে। কারণ মাহিষ্য সমাজের জমিদার পত্নী রানি রাসমণি দক্ষিণেশ্বরে কালীমন্দির প্রতিষ্ঠা করেছেন। রানিমা প্রধান পুরোহিতের দায়িত্বভার অর্পণ করেছেন কামারপুকুরের রামকুমারের হাতে। তরুণ গদাধর দাদাকে পুজোতে সাহায্য করবেন। ১ বছরের মধ্যে ছন্দপতন। আকস্মিকভাবেই ১৮৫৬ সালে মৃত্যু হল রামকুমার চট্টোপাধ্যায়ের। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হলেন গদাধর চট্টোপাধ্যায়।

    দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরের প্রধান পুরোহিতের দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন তিনি। মন্দিরের ঠিক উত্তর-পশ্চিম কোনে তরুণ পুরোহিতের জন্য একটি ছোট্ট ঘর বরাদ্দ করা হল। শোনা যায়, এরপরেই রানি রাসমনির জামাতা মথুরামোহন গদাধর চট্টোপাধ্যায়ের নামকরণ রামকৃষ্ণ (Sri Ramakrishna) করেন, তবে এ নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে, কেউ কেউ বলেন যে তাঁর এই নামকরণ করেন ঠাকুরের অন্যতম গুরু তোতাপুরী। প্রথাগত শিক্ষা তাঁর কিছুই ছিল না সেভাবে। কিন্তু মুখে মুখে বলে দিতেন হিন্দু শাস্ত্রের সমস্ত গূঢ়তত্ত্ব, অতি সরলভাষায়, একেবারে গল্পের ছলে। এজন্য তাঁকে গল্পের রাজাও বলা হয়। পরবর্তীকালে তাঁর এই বাণী সংকলিত হয় কথামৃত নামক গ্রন্থে। এরমধ্যে ঠাকুরের (Kalpataru Utsav) বিবাহ সম্পন্ন হয় কামারপুকুরের তিন মাইল উত্তর-পশ্চিমে জয়রামবাটী গ্রামের রামচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের কন্যা সারদাদেবীর সঙ্গে। সেটা ১৮৫৯ সালে। এতদিনে বঙ্গীয় শিক্ষিত সমাজ তাঁকে গুরুর আসনে বসিয়ে ফেলেছে। শিষ্য তালিকায় স্থান পেয়েছেন কেশবচন্দ্র সেন সমেত অন্যান্য গন্যমান্যরা।

    ১ জানুয়ারী ১৮৮৬

    শরীরে মারণ রোগ বাসা বাঁধলে, ডাক্তার মহেন্দ্রলাল সরকারের নির্দেশে তিনি নিজেকে গৃহবন্দি রাখেন প্রায় এক মাস। ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দের ১ জানুয়ারি কাশীপুর উদ্যানবাটিতে উপস্থিত রয়েছেন প্রায় ৩০জন মতো গৃহী ভক্ত। সকলে হাতে ফুল নিয়ে উপস্থিত। আজ ঠাকুরের দর্শন পাওয়া যাবে। ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক দুপুর তিনটে। দোতলা ঘর থেকে তিনি নেমে এলেন বাগানে। পরনে সেই চিরাচরিত পোশাক। লাল পেড়ে ধুতি। উপস্থিত গৃহী ভক্তরা তাঁদের হাতে রাখা ফুল ঠাকুরের চরণে অঞ্জলি দিতে থাকেন। কথিত আছে, ঠাকুর তখন নাট্যকার গিরিশ ঘোষকে বলেন, ‘‘হ্যাঁ গো, তুমি যে আমার নামে এত কিছু চারিদিকে বলো, তো আমি আসলে কী?’’ গিরিশ ঘোষ উত্তর দিলেন, ‘‘তুমিই নররূপ ধারী পূর্ণব্রহ্ম ভগবান, আমার মত পাপী-তাপীদের মুক্তির জন্যই তোমার মর্ত্যে আগমন।’’ সবাই তখন ঠাকুরের চরণ স্পর্শ করলেন এবং ঠাকুর (Sri Ramakrishna) বললেন, ‘‘তোমাদের চৈতন্য হোক’’।

    এদিনের উৎসবকে কল্পতরু (Kalpataru Utsav) কেন বলা হয়?

    হরিবংশ ইত্যাদি পুরাণে ‘কল্পতরু’র উল্লেখ রয়েছে। দেবতা এবং অসুরদের মধ্যে সমুদ্র মন্থন হয়েছিল, পুরাণ অনুযায়ী সমুদ্র মন্থনকালে অমৃত, লক্ষ্মীদেবী, ঐরাবত ইত্যাদির সঙ্গে উঠে আসে একটি বৃক্ষ-ও। যাকে পারিজাত বৃক্ষ বলা হত। পরবর্তীতে দেবরাজ ইন্দ্রের বিখ্যাত নন্দনকাননের স্থান পায় এই পারিজাত বৃক্ষ এবং সেখান থেকে স্ত্রী সত্যভামার আবদারে শ্রীকৃষ্ণ (Sri Ramakrishna) পৃথিবীতে নিয়ে আসেন এই বৃক্ষ। এই পারিজাত বৃক্ষকে-ই ‘কল্পতরু’ বলা হয়েছে। অর্থাৎ সেই বৃক্ষ, যার কাছে যা চাওয়া হয় তাই পাওয়া যায়। কল্পতরু উৎসবের (Kalpataru Utsav) দিন ঠাকুরের ভক্তরা তাঁকে অবতার রূপে মেনে নেন। কথিত আছে, সেদিন উপস্থিত সকল ভক্তের মনোবাঞ্ছা ঠাকুরের কৃপায় পূরণ হয়েছিল। ভক্তদের বিশ্বাস রয়েছে, এই দিন ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব সকলের মনের ইচ্ছা পূরণ করেন।

LinkedIn
Share