Tag: বাংলা খবর

  • India T20 World Cup Squad: টি২০ বিশ্বকাপের দল ঘোষণা ভারতের, বাদ শুভমান, ফিরলেন রিঙ্কু-ইশান

    India T20 World Cup Squad: টি২০ বিশ্বকাপের দল ঘোষণা ভারতের, বাদ শুভমান, ফিরলেন রিঙ্কু-ইশান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্যটার সূর্যকুমারের ফর্ম নিয়ে চিন্তা থাকলেও, অধিনায়ক সূর্যকুমারের ওপরই ভরসা রাখল ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। আর তাই, আসন্ন টি২০ বিশ্বকাপে, সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বেই খেলবে ভারত।

    শনিবার, টি২০ বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করল বিসিসিআই। তাতে সবচেয়ে বড় চমক, সহ-অধিনায়ক শুভমান গিলের বাদ পড়া। বেশ কিছু দিন ধরেই, ক্রিকেটের কনিষ্ঠ ফর্ম্যাটে রান পাচ্ছিলেন না শুভমান। সদ্যসমাপ্ত দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজেও তেমনভাবে দাগ কাটতে পারেননি টেস্ট দলের অধিনায়ক। যে কারণে, তাঁর বাদ পড়ার একটা সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছিলই। তাতে শিলমোহর দিল টিম ম্যানেজমেন্ট।

    দলে জায়গা পেলেন যাঁরা…

    এদিনের মুম্বইয়ে বোর্ডের সদর দফতরে বৈঠকে বসে অজিত আগরকরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নির্বাচক কমিটি। ছিলেন কোচ গৌতম গম্ভীর এবং অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও। বৈঠকের পর দল ঘোষণা বোর্ড সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া। দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ, তাই দলে চার জন নিয়মিত স্পিনারকে রাখা হয়েছে। স্পিন বোলিং আক্রমণে রাখা হয়েছে দুই লেগ স্পিনার কুলদীপ যাদব ও বরুণ চক্রবর্তীকে। তাঁদের সঙ্গে অলরাউন্ডার কোঠায় আছেন অক্ষর প্যাটেল ও ওয়াশিংটন সুন্দর। ঘোষিত ১৫ জনের দলে ডাক পেয়েছেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার ইশান কিসান। সঞ্জু স্যামসনের বিকল্প ব্যাটার এবং বিকল্প উইকেটরক্ষক হিসেবে দলে নেওয়া হয়েছে তাকে। পেস বোলিং আক্রমণে অবধারিতভাবে আছেন জসপ্রীত বুমরা। তার সঙ্গে অর্শদীপ সিং ও হার্শিত রানাকে নেওয়া হয়েছে। পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে রাখা হয়েছে হার্দিক পান্ডিয়া ও শিভম দুবেকে।

    বিশ্বকাপের ঘোষিত ১৫…

    ভারতের দলটা এরকম: সূর্যকুমার যাদব (অধিনায়ক), অভিষেক শর্মা, তিলক বর্মা, হার্দিক পান্ডিয়া, শিবম দুবে, অক্ষর প্যাটেল (সহ-অধিনায়ক), জশপ্রীত বুমরা, অর্শদীপ সিং, বরুণ চক্রবর্তী, কুলদীপ যাদব, হর্ষিত রানা, সঞ্জু স্যামসন (উইকেটকিপার), ওয়াশিংটন সুন্দর, ইশান কিসান (উইকেটকিপার), রিঙ্কু সিং।

    ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু বিশ্বকাপ

    ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের টি২০ বিশ্বকাপ। যুগ্ম আয়োজক ভারত ও শ্রীলঙ্কা। ফাইনাল ৮ মার্চ। গত বারের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত প্রথম দিনই এই টুর্নামেন্টে তাদের অভিযান শুরু করছে। ৭ ফেব্রুয়ারি আমেরিকার বিরুদ্ধে মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়েতে প্রথম ম্যাচ খেলবে টিম ইন্ডিয়া। বোর্ড জানিয়েছে, বিশ্বকাপের এই দলই নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে জানুয়ারিতে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে।

  • West Bengal SIR: মাইক্রো-অবজার্ভার নিয়োগ কমিশনের, এসআইআর-শুনানিতে তথ্য যাচাইয়ে কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিকরা

    West Bengal SIR: মাইক্রো-অবজার্ভার নিয়োগ কমিশনের, এসআইআর-শুনানিতে তথ্য যাচাইয়ে কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিকরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার (এসআইআর) শুনানি পর্বের তদারকি করবেন কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিকেরা। নির্বাচন কমিশনের নয়া নির্দেশিকা অনুয়ায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারি আধিকারিকদের বিভিন্ন শুনানিকেন্দ্রে মাইক্রো অবজার্ভার হিসাবে নিয়োগ করা হবে। এই দায়িত্ব পাবেন মূলত কেন্দ্রের গ্রুপ বি বা তার ঊর্ধ্বতন আধিকারিকরা।

    সিইও দফতরের আবেদনে মান্যতা

    চলতি মাসের ১২ তারিখ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে মাইক্রো অবজার্ভার চাওয়া হয়েছিল। এসআইআর-এর কাজের জন্য মাইক্রো অবজার্ভার চেয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে (ECI) চিঠি পাঠিয়েছিল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। এবার সেই আবেদনে সম্মতি দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন৷ শুক্রবার সেই আবেদনে সম্মতি দিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশন বিজ্ঞপ্তি জারি করল। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সব জেলার সব বিধানসভার জন্য মাইক্রো অবজার্ভার নিয়োগ করা হবে।

    ৩০ হাজার টাকা সাম্মানিক

    মূলত যতগুলো জায়গার যতগুলো রুমে শুনানি হবে, সেই হিসাবে প্রতি রুম পিছু একজন করে মাইক্রো রোল অবজার্ভার নিয়োগ করতে হবে। শুনানি-পর্বে ইআরও এবং এইআরও-দের সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন মাইক্রো অবজার্ভাররা। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ইআরও এবং এইআরও-দের কাজকে সহজ করে দেবেন মাইক্রো অবজার্ভাররা৷ কমিশন জানিয়েছে, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে আধিকারিক এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের আধিকারিকদের এই কাজের জন্য নিয়োগ করা হবে। শুনানি পর্বে কাজ করার জন্য তাঁরা ৩০ হাজার টাকা সাম্মানিক পাবেন।

    কী দায়িত্ব পালন?

    মাইক্রো অবজার্ভারদের কোন দায়িত্ব পালন করতে হবে? জানা গেছে— ১)এসআইআর শুনানি পর্বে ইআরও এবং এইআরও-র কাজে নজর রাখা। ২) ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা তৈরি এবং সংশোধনে সহযোগিতা করা। ৩) এনুমারেশন ফর্ম, ভোটারদের জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্র এবং শুনানির জন্য আসা ভোটাদের নথি যাচাই করা। ৪) ভোটার তালিকার অসঙ্গতি চিহ্নিত করা এবং পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণও করা। কমিশেনর নির্দেশিকা অনুযায়ী, জেলা নির্বাচনী আধিকারিকরা (DEO) কেন্দ্রের এই আধিকারিকদের নিরাপত্তা ও যাতায়াতের বন্দোবস্ত করবেন।

  • Rajdhani Express Derail: অসমে রাজধানী এক্সপ্রেসের ধাক্কায় ৮ হাতির মৃত্যু, ইঞ্জিন ও ৫ কামরা লাইনচ্যুত

    Rajdhani Express Derail: অসমে রাজধানী এক্সপ্রেসের ধাক্কায় ৮ হাতির মৃত্যু, ইঞ্জিন ও ৫ কামরা লাইনচ্যুত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভয়ঙ্কর ট্রেন দুর্ঘটনা অসমে। সাইরাং–নয়াদিল্লি রাজধানী এক্সপ্রেসের ধাক্কায় নিহত কমপক্ষে আটটি হাতি। অসমের হোজাই জেলায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে গেল শনিবার গভীর রাতে। দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছে একটি হাতির শাবক, যাকে পরে বন দফতরের কর্মীরা উদ্ধার করেন। ধাক্কার তীব্রতা এতটাই ছিল যে, রাজধানী এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন এবং পাঁচটি বগি লাইনচ্যূত হয়েছে। তবে, যাত্রীরা অক্ষত রয়েছেন বলে রেল সূত্রে খবর। এই ঘটনায় রেল চলাচলেও বড়সড় ব্যাঘাত ঘটেছে।

    ঘন কুয়াশার জেরে দুর্ঘটনা!

    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, শনিবার রাত সওয়া ২টো নাগাদ এই দুর্ঘটনা ঘটে। অসমের যমুনামুখ-কামপুর সেকশনে দুর্ঘটনা ঘটে। নর্থ-ইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের লুমডিং ডিভিশনের মধ্যে পড়ছে এই জায়গা। জানা যাচ্ছে, রাজধানী এক্সপ্রেসটি মিজোরামের সাইরাং (আইজলের কাছে) থেকে নয়াদিল্লির আনন্দ বিহার টার্মিনালের দিকে যাচ্ছিল। গুয়াহাটি থেকে ১২৬ কিলোমিটার দূরে হোজাইয়ের কাছে হঠাৎ লাইনের উপর উঠে আসে একটি হাতির দল। লোকো-পাইলট হাতিদের দেখতে পেয়ে জরুরি ব্রেক কষেন, কিন্তু তাতেও সংঘর্ষ এড়ানো যায়নি। ঘন কুয়াশা থাকায় দূর থেকে কিছু দেখা যাচ্ছিল না। সেই কারণেই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    ‘এলিফ্যান্ট করিডর’ নয়

    রেলের একটি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, যে জায়গায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি নির্ধারিত ‘এলিফ্যান্ট করিডর’ (হাতির চলাচলের জন্য যে সমস্ত জায়গায় ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রিত করা হয়) নয়। ধাক্কার প্রতিঘাতে ট্রেনের ইঞ্জিন-সহ পাঁচটি কামরা লাইনচুত্য হয়ে যায়। খবর পেয়ে লামডিং থেকে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান রেলের কর্তা এবং উদ্ধারকারী দল। ক্ষতিগ্রস্ত কামরার যাত্রীদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। এর পরে ভোর ছটা নাগাদ লাইনচ্যুত কামরাগুলো বাদ দিয়ে ট্রেনটি গুয়াহাটির দিকে রওনা দেয়। রেল সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত কোচের যাত্রীদের সাময়িকভাবে ট্রেনের অন্যান্য কোচের ফাঁকা বার্থে স্থান দেওয়া হয়েছে। ট্রেনটি গুয়াহাটিতে পৌঁছনোর পর অতিরিক্ত কোচ জুড়ে সকল যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

    হেল্পলাইন চালু

    উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেল কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই যাত্রীদের সুবিধার্থে গুয়াহাটি স্টেশনে ০৩৬১-২৭৩১৬২১, ০৩৬১-২৭৩১৬২২ এবং ০৩৬১-২৭৩১৬২৩— হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে ওই লাইনে ট্রেন চলাচল সাময়িক ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। অনেক ট্রেনের রুট পরিবর্তন করা হয়েছে। বর্তমানে কেবল আপ লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল করছে। রেলকর্মীরা দ্রুত লাইন মেরামতের কাজ শুরু করছেন। লাইনের উপর থেকে মৃত হাতিদেরও সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

  • Bangladesh Burning: হাতিয়ার হাদি-হত্যা! ভারত-বিরোধী বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ নাকি ভোটের আগে মৌলবাদকে ইন্ধন? নেপথ্যে কারা?

    Bangladesh Burning: হাতিয়ার হাদি-হত্যা! ভারত-বিরোধী বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ নাকি ভোটের আগে মৌলবাদকে ইন্ধন? নেপথ্যে কারা?

    সুশান্ত দাস

     

    ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের আগে ফের অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ। এবার কট্টরপন্থী তরুণ নেতার মৃত্যুকে ঘিরে ভোটের মুখে ফের ভারতের বিরুদ্ধে উস্কানির আগুন জ্বালিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে পদ্মাপারের দেশে। গত ১২ তারিখ খুব কাছ থেকে ভারত-বিরোধী বলে পরিচিত ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদিকে ঢাকায় গুলি করে পালায় দুষ্কৃতীরা। বৃহস্পতিবার, সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে মারা যান হাদি। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত উত্তাল হয়ে ওঠে।

    বৃহস্পতিবার রাতভর সে দেশের একাধিক জায়গায় ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ঢাকার কারওয়ান বাজারে দুই প্রথম সারির সংবাদপত্র ‘প্রথম আলো’ ও ‘দ্য ডেলি স্টার’-এর দফতরে হামলা চালিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। ধানমণ্ডিতে ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের ধ্বংসস্তূপেই ফের চালানো হয় হামলা, ধরানো হয় আগুন। পরে ধানমন্ডিতেই প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী সন্‌জীদা খাতুন প্রতিষ্ঠিত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ‘ছায়ানট’-এ ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। সেখান থেকে হারমোনিয়ান সহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র চুরি করে নিয়ে যায় বিক্ষোভকারীরা। রাজশাহীতে আওয়ামি লিগের পার্টি অফিসে বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে ফেলার ঘটনাও সামনে এসেছে।

    এরই মধ্যে, কট্টরপন্থীরা এই হত্যার ঘটনার নেপথ্যে শেখ হাসিনা ও ভারতের হাত রয়েছে বলে দাবি করে পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ করে তোলে। বাংলাদেশি কট্টরপন্থীদের দাবি, হাদিকে গুলি করা ফয়সল করিম নাকি ভারতে পালিয়ে গিয়েছে। যদিও এর পরিপ্রেক্ষিতে কোনও প্রমাণ নেই। তবে এই সুযোগে ভারত বিদ্বেষের ঝড় উঠেছে সেই দেশে। ফলে, প্রশ্ন উঠছে, ভোটের আগে ভারত-বিরোধী হাওয়া তোলার জন্যই কি হাদিকে হত্যা করা হল? হাদি যে ভারত ও হাসিনা-বিরোধী ছিলেন, তা সর্বজনবিদিত। ফলে, তাঁকে হত্যা করে গোটা দায় শেখ হাসিনা-আওয়ামি লিগ ও ভারতের ওপর চাপিয়ে দিলে কার সবথেকে বেশি লাভবান হবে? তাহলে, হাদির হত্যা কি একটা বৃহৎ ষড়যন্ত্রের অংশ মাত্র? নাকি ভোটে প্রভাব ফেলতে এটা সুপরিকল্পিত জামাতি-কৌশল?

    ভারত-বিরোধী চক্রান্তের আশঙ্কা যে অমূলক নয়, তার হাতে গরম প্রমাণ মিলেছে বৃহস্পতিবার রাতেই। জুলাই মাসের মতোই, ফের ভারতকে টার্গেট করার অপচেষ্টায় ফের সক্রিয় কট্টরপন্থী আন্দোলনকারীরা। আর তাদের কথায় রাস্তায় নেমে পড়েছে এক শ্রেণি দিকভ্রান্ত, উন্মত্ত বাংলাদেশি জনতা। বিভিন্ন শহরে ভারতীয় উপ দূতাবাসে বিক্ষোভ প্রদর্শন থেকে শুরু করে ইট-পাটকেল ছোড়া হচ্ছে। কোথাও ভারতকে নিশানা করে উস্কানিমূলক স্লোগান দিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। রাজশাহীতে ভারতীয় উপ দূতাবাসের অফিসে হামলার চেষ্টা করে ইসলামি কট্টরপন্থীরা। বিক্ষোভকারীরা ভারতীয় উপ দূতাবাসকে লক্ষ্য করে অশ্লীল শব্দ প্রয়োগ করে। হামলা চালানোর চেষ্টা করে। এমনকী প্রয়োজনে হাতে অস্ত্র তুলে নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেয়। বলে, ‘‘প্রয়োজনে আমরা রক্ত গঙ্গা বইয়ে দেব।’’ চট্টগ্রামেও ভারতীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশনারের বাসভবনের দিকে মিছিল করে যায় কট্টরপন্থীরা। সেখানেও হামলার চেষ্টাও করে তারা।

    শুধু এই নয়। গত কয়েকদিন ধরেই বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী একটা প্রচার চালানো হচ্ছে। উস্কানিমূলক মন্তব্য করা হচ্ছে। ফের, ভারতের উত্তর-পূর্ব অংশকে বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ভারতীয় দূতাবাস ও উপ-দূতাবাসে হামলা চালানোর ডাক দেওয়া হচ্ছে। সব রাগ যেন গিয়ে পড়েছে ভারতের উপরেই। গত বুধবারই ঢাকার গুলশনে ভারতীয় হাই কমিশনের উদ্দেশে মিছিল করে বিক্ষোভকারীরা। এই বিক্ষোভের ঠিক আগে ভারতীয় কূটনীতিবিদদের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে দিল্লিতে তলব করে ভারত। দিল্লিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করেছিল বিদেশমন্ত্রক। সেখানে ভারত-বিরোধী উস্কানিমূলক মন্তব্য নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে ভারত। ইতিমধ্যেই ঢাকা, খুলনা, রাজশাহীতে যে কারণে ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলি (আইভিএসি) বন্ধ করা হয়েছে। বাংলাদেশে পাঁচটি আইভিএসি সেন্টার রয়েছে। ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী ছাড়াও রয়েছে চট্টগ্রাম এবং উত্তর-পূর্ব সিলেটে অবস্থিত। এদের মধ্যে ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত আইভিএসি হল সমস্ত ভারতীয় ভিসা পরিষেবা পাওয়ার প্রধান কেন্দ্র।

    অর্থাৎ, ইঙ্গিত পরিষ্কার। ভারতের ক্ষতিসাধন। ভারতকে বদনাম। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, এই গোটা ঘটনায় কারা সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে? ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অবশ্যই পাকিস্তানের নাম এই তালিকার সবার ওপরে থাকবে। বিশেষ করে, হাসিনার পতনের পর, সেদেশে পাক সেনা ও আইএসআই-এর প্রভাব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের কট্টরপন্থী, মৌলবাদী ও সন্ত্রাসীরাও বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে। উদ্দেশ্য একটাই, কট্টরপন্থী বাংলাদেশিদের আরও উস্কে দিয়ে, তাদের মনে ভারত-বিদ্বেষের বিষ ভরে দিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া। এর জন্য, যদি এক-দুটো প্রাণের বলি চড়াতে হয়, তাতেও আপত্তি নেই। বিশ্লেষকদের মতে, ৭১-এর হার কখনই মেনে নিতে পারেনি পাকিস্তান। বিশেষ করে বাংলাদেশের আলাদা হওয়াটা। তারা দীর্ঘদিন ধরেই এই রাগ পুষে রেখেছে। হাসিনা-পতনের পর, তাদের কাছে নতুন সুযোগ এসেছে অচিরে বাংলাদেশকে পুনরায় পূর্ব-পাকিস্তানে পরিণত করার (যাতে তারা অনেকটাই সফল)। হতে পারে হাদি-হত্যা এই বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ। তালিকায় পিছিয়ে নেই চিন-আমেরিকাও। তাদের উদ্দেশ্য ভারতের উন্নতি রোখা। ভারতের বিরুদ্ধে ‘ডিপ-স্টেট’ কার্যকলাপ করা। এক কথায় বাংলাদেশকে গাজায় পরিণত করে, ভারতকে এই দিকে আটকে রাখা, যাতে ভারত অর্থনৈতিকভাব সুপারপাওয়ার হওয়ার দিকে মনোনিবেশ না করতে পারে।

    এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তীব্র মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা আশির দশক থেকেই বলে আসছি, বিনা যুদ্ধে ভারত দখলের চক্রান্ত চলছে। মৌলবাদ ও চরমপন্থা মানবসভ্যতার জন্য ক্যান্সারের মতো। এই ক্ষত থেকে মুক্তি পেতেই হবে। বাংলাদেশে শুধু মুক্তমনা মানুষ নয়, যাঁরা ধর্মীয় আগ্রাসনে বিশ্বাস করেন না, কাউকে ‘কাফের’ বলে ডাকেন না, তাঁরাও আজ আক্রান্ত। এই ধর্মীয় বিভাজন আরও বাড়বে। ইউরোপেও তা বাড়ছে, কানাডার দিকেই তাকান। এই ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে ভারতবাসী রুখে দাঁড়াবে।”

    তবে, বিশ্লেষকদের আর একটি অংশের মতে, হাদি হত্যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপট বদলের চেষ্টাও হতে পারে। তাঁদের মতে, সামনে নির্বাচন। তাই দেশে মৌলবাদ-ঝড় তুলতে হাদিকে মারার ছক করা হতে পারে। এক্ষেত্রে, সবচেয়ে লাভবান হওয়ার কথা কট্টরপন্থী জামায়তে ইসলামির (বাংলাদেশে যারা জামাত বলেই পরিচিত)। এই বিশ্লেষকদের মতে, এতে এক ঢিলে দুই পাখি মারা হবে। একদিকে, হাদি-হত্যাকে হাতিয়ার করে ভারত-বিরোধী আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া দেশে। আর সেই আগুনের আঁচে আসন্ন ভোটে পদ্মাপারের দেশকে নিজেদের কায়েমে আনা যাবে। ফলে, জামাতের পক্ষে সব সম্ভব, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • Coriander Leaves: শীতের রকমারি রান্নায় ছড়িয়ে দিচ্ছেন ধনেপাতা কুচি! শরীরে এর কী প্রভাব পড়ছে?

    Coriander Leaves: শীতের রকমারি রান্নায় ছড়িয়ে দিচ্ছেন ধনেপাতা কুচি! শরীরে এর কী প্রভাব পড়ছে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ফুলকপি, সিম দিয়ে বাঙালির শীতকালীন মাছের ঝোল হোক কিংবা মটরশুঁটির কচুরির সঙ্গে যোগ্য সঙ্গী হওয়া আলুর দম! উপকরণ বা পদ যাই হোক না কেন, শীতের মরশুমে যেকোনও রান্নার শেষে কুচি করা ধনেপাতা ছিটিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়াও গরম ভাতের সঙ্গে ধনেপাতা বাটা বা ধনেপাতার চাটনি, বাঙালির অতি প্রিয় শীতকালীন পদ। কিন্তু এই ধনেপাতা শরীরের জন্য কতখানি উপকারি! শীতকালে ধনেপাতা খেলে কি, স্বাস্থ্যের বাড়তি কোনও লাভ হয়! চিকিৎসকদের একাংশ অবশ্য জানাচ্ছেন, ধনেপাতা শরীরের জন্য খুবই উপকারি। নিয়মিত রান্নায় ধনেপাতা ব্যবহার করলে একাধিক উপকার পাওয়া যায়। বিশেষত শীতের নানান স্বাস্থ্য বিপর্যয় সহজেই এড়ানো যায়‌।

    ধনেপাতা খেলে শরীরে কী প্রভাব পড়ে?

     

    ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সাহায্য করে!

    ডায়াবেটিসের বোঝা বাড়ছে। কম বয়সী এমনকি স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যেও ডায়াবেটিস আক্রান্তদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। আর তাই নানান স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি হচ্ছে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ধনেপাতা বিশেষ সাহায্য করে। ধনেপাতা রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে খুব কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। তাই ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জন্য ধনেপাতা খাওয়া বাড়তি লাভজনক।

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতে অনেকেই পিঠে, পায়েস কিংবা কেক জাতীয় নানান মিষ্টির পদ খান। একাধিক উৎসব উদযাপনের ভোজে শেষ পাতে এক টুকরো মিষ্টি মুখে দেওয়া হয়। আর সেটাই বিপদ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষত ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জন্য বাড়তি বিপদ তৈরি করে। এই অবস্থায় রান্নায় নিয়মিত ধনেপাতা ব্যবহার করলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়‌।

    হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, হৃদরোগের প্রকোপ বাড়ছে। তরুণ প্রজন্মের একাংশ হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেকক্ষেত্রেই হৃদরোগ প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। ধনেপাতা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। শীতের মরশুমে অনেকেই চর্বি জাতীয় খাবার অতিরিক্ত পরিমাণে খান। এর ফলে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। যা হৃদরোগের অন্যতম কারণ। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ধনেপাতা শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। আবার ধনেপাতা শরীরের উপকারি কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। তাই হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

    রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে!

    শীতে রক্তচাপের সমস্যা বাড়ে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতে তাপমাত্রা কমে। এর ফলে রক্তনালী সংকুচিত হয়ে যায়। তাই রক্তচাপ ওঠানামা করে। অধিকাংশ মানুষ উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভোগেন। আর তার জেরেই হৃদরোগের ঝুঁকিও এই সময়ে বেড়ে যায়। ধনেপাতা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সাহায্য করে। তাই নিয়মিত ধনেপাতা খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

    রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ধনেপাতায় রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং ভিটামিন কে। এছাড়াও ধনেপাতা আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজের খনিজ পদার্থে ভরপুর। এর ফলে নিয়মিত ধনেপাতা খেলে শরীরে ভিটামিন ও খনিজের চাহিদা পূরণ সহজ হয়। শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ও মিনারেল থাকলে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতে অনেকেই নানান সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হন। জ্বর-সর্দি বা ফুসফুসের সংক্রমক। আর এই সব ভোগান্তির নেপথ্যে থাকে রোগ প্রতিরোধ শক্তির অভাব। সংক্রামক রোগের ভোগান্তি কমাতে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ানো জরুরি। সেই কাজে ধনেপাতা সাহায্য করে।

    শীতে ত্বকের সমস্যা মোকাবিলায় বিশেষ সাহায্য করে!

    ধনেপাতা ভিটামিনে ভরপুর। তাই চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ধনেপাতা খেলে ত্বকের সমস্যা কমে। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ধনেপাতা কোলারেজ তৈরিতে বিশেষ সাহায্য করে। শীতে অনেকেই ত্বকের একাধিক সমস্যায় ভোগেন। ধনেপাতা সেই সমস্যা কমাতে বিশেষ সাহায্য করে।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Vitamin B: শরীরে কতখানি জরুরি ভিটামিন বি? কীভাবে ঘাটতি মেটাবেন?

    Vitamin B: শরীরে কতখানি জরুরি ভিটামিন বি? কীভাবে ঘাটতি মেটাবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    প্রতিদিনের স্বাভাবিক কাজ করার শক্তিও থাকছে না। সামান্য কারণেই মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাচ্ছে। হাত-পা অসাড়‌! মাঝেমধ্যেই পেটের সমস্যা দেখা দেয়। আবার খাবার ইচ্ছেও থাকে না। সবমিলিয়ে বাড়ছে ক্লান্তি বোধ। একধরনের বিষন্নতা গ্রাস করছে। ক্রমশ এই ধরনের সমস্যা বাড়ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই সবকিছুর নেপথ্যে রয়েছে একটি ভিটামিনের ঘাটতি। সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ভিটামিন বি ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। পুষ্টি সম্পর্কে অসচেতনতাই এই ধরনের সমস্যা বাড়িয়ে দিচ্ছে। আর তার ফলে শরীরে গভীর প্রভাব পড়ছে।

    ভিটামিন বি ঘাটতি শরীরে কী সমস্যা তৈরি করে?

    রক্তাল্পতা!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে ভিটামিন বি ঘাটতি হলে রক্তাল্পতার সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভিটামিন বি লোহিত কণিকা তৈরিতে সাহায্য করে। এই লোহিত কোণিকা রক্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সেই উপাদান পর্যাপ্ত তৈরি না হলেই রক্তাল্পতার সমস্যা হয়।

    অন্ত্রের একাধিক রোগ!

    অন্ত্র সুস্থ রাখতে এবং কার্যকারিতা বজায় রাখতে ভিটামিন বি খুব গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভিটামিন বি অভাব ঘটলে অন্ত্রের নানান সমস্যা হয়। তাঁরা জানাচ্ছেন, শরীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা যায়। লাগাতার পেটের সমস্যা হতে থাকে। খাওয়ার ইচ্ছে কমতে থাকে। এর ফলে দূর্বলতা, অপুষ্টি আরও বাড়ে।

    স্নায়ুর রোগের কারণ!

    ভিটামিন বি অভাবে স্নায়ুর একাধিক সমস্যা হয়। এই ভিটামিনের অভাবে ক্লান্তি বোধ বাড়ে। হাত ও পায়ের স্নায়ুর শক্তি কমে। সামান্য হাঁটাহাঁটি করলেই ঝিনঝিন ভাব বাড়ে। অসাড়তা হয়। চলার ভারসাম্য কমে। স্নায়ুর শক্তি কমার জেরেই মস্তিষ্কের ক্ষমতা ও কমে। স্মৃতিশক্তি কমে। ভারসাম্য নষ্ট হয়। জীবনের নানান কাজে এগুলোর দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা তৈরি করে।

    মানসিক স্বাস্থ্যে সমস্যা তৈরি করে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরের পাশপাশি মানসিক স্বাস্থ্যেও এই ভিটামিনের অভাব প্রভাব ফেলে। ভিটামিন বি ঘাটতি হলে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। ক্লান্তি বোধ অতিরিক্ত রাগের কারণ হয়ে ওঠে। অকারণেই রাগ, বিষন্নতা মনকে আচ্ছন্ন করে। যা মানসিক স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক।

    ত্বক ও চুলের একাধিক সমস্যার কারণ!

    ভিটামিন বি অভাব ত্বকের উপরে গভীরভাবে পড়ে। এমনটাই জানাচ্ছেন‌ চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে ত্বক খসখসে হয়ে যায়। ত্বকের উপরে ঘা হয়। ত্বকের পাশপাশি চুলের সমস্যাও দেখা যায়। চুল পড়ার অন্যতম কারণ ভিটামিন বি ঘাটতি।

    গর্ভবতীর জন্য বাড়তি বিপদ!

    স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, গর্ভবতীর জন্য ভিটামিন বি ঘাটতি খুবই বিপজ্জনক। তাঁরা জানাচ্ছেন, মায়ের ভিটামিন বি অভাব হলে শিশুর স্নায়বিক গঠনে ত্রুটি হতে পারে। যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি।

    কীভাবে ভিটামিন বি ঘাটতি মেটাবেন?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভিটামিন বি ঘাটতি পূরণ করবে খাবার। নিয়মিত কিছু ঘরোয়া খাবার মেনুতে রাখলেই এই ধরনের সমস্যা এড়ানো সহজ হয়। কিন্তু পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতার অভাব এ দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই ধরনের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।
    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিয়মিত মেনুতে ডাল থাকা জরুরি। মুগ, মুসুর, মটর কিংবা ছোলা, যেকোনও ডাল নিয়মিত খেলে ভিটামিন বি ঘাটতি মেটানো সহজ হয়। ভাত কিংবা রুটির সঙ্গে ডাল অবশ্যই খাওয়া প্রয়োজন। তাহলে ভিটামিনের ঘাটতি সহজেই পূরণ হয়।

    ডালের পাশপাশি পালং শাক, ব্রোকলির মতো সব্জি নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত সবুজ সব্জি খেলে ভিটামিন বি ঘাটতি সহজেই পূরণ হয়। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের নানান পুষ্টি ঘটিত সমস্যার মূল কারণ পর্যাপ্ত সবুজ সব্জি না খাওয়া। নিয়মিত সবুজ সব্জি খেলে এই ধরনের সমস্যা সহজেই এড়ানো‌ যায়।

    নিয়মিত মাছ, মুরগীর মাংস, ডিম খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই ধরনের প্রাণীজ খাবার প্রোটিনের পাশপাশি ভিটামিন বি চাহিদা সহজেই পূরণ করে। তাছাড়া এই ভিটামিনের ঘাটতি মেটাতে রোজ দুধ খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত দুধ খেলে শরীরে একাধিক ভিটামিনের চাহিদা পূরণ সহজ হয়।

    পুষ্টিবিদদের একাংশের মতে, ঘরের তৈরি রুটি, সব্জি, ডাল কিংবা ডিম সেদ্ধ, চিকেন স্ট্রুর মতো খাবার শরীরের জন্য খুবই উপকারি। এগুলো অতিরিক্ত ওজনের কারণ হয় না। বরং শরীরের প্রয়োজনীয় সমস্ত চাহিদা পূরণ করে। নানান রোগ রুখতেও সাহায্য করে। তাই নিয়মিত এই ধরনের পুষ্টিকর খাবার খেলে একাধিক রোগ মোকাবিলাও সহজ হয়ে যায়।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • West Bengal SIR: এসআইআর হিয়ারিংয়ে আপনাকে ডাকা হয়েছে কীভাবে জানবেন? সঙ্গে কী কী নথি রাখবেন?

    West Bengal SIR: এসআইআর হিয়ারিংয়ে আপনাকে ডাকা হয়েছে কীভাবে জানবেন? সঙ্গে কী কী নথি রাখবেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত হয়েছে খসড়া ভোটার তালিকা। আপাতত সেই তালিকায় রয়েছে ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩১ জনের নাম। একইসঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে রাজ্যজুড়ে বাদের তালিকা। যাতে রয়েছে ৫৮,২০,৮৮৯ নাম। এবার শুরু হতে চলেছে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর দ্বিতীয় ধাপ— হিয়ারিং। এখন প্রশ্ন হল, খসড়া তালিকায় আপনার নাম থাকা মানেই কি চূড়ান্ত তালিকাতেও আপনার নাম থাকবে? একেবারেই তা নয়। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, এখন প্রায় ২ মাস ধরে চলবে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ১৭ ডিসেম্বর থেকে ২২ বা ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে নোটিস পাঠানোর কাজ। তারপরই শুরু হবে হিয়ারিং। অন্যদিকে, যদি আপনার নাম খসড়া ভোটার তালিকায় না থাকে, তাহলে আপনাকে নির্বাচন কমিশনের কাছে নতুন আবেদন করতে হবে। আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে আপনি একজন ভারতীয় নাগরিক এবং যোগ্য ভোটার।

    সমন আসলে দিতে হবে হাজিরা

    কমিশন সূত্রে খবর, খসড়া ভোটার তালিকা ম্যাপিং হয়েছে ৩ ভাগে— প্রোজেনি ম্যাপিং, সেল্ফ ম্যাপিং ও নো-ম্যাপিং। কমিশন সূত্রে খবর, প্রোজেনি ম্যাপিং ও সেল্ফ ম্যাপিংয়ে নাম থাকা ভোটারদের হিয়ারিংয়ে ডাকার সম্ভাবনা কম। কিন্তু, যাঁদের নো-ম্যাপিং হয়েছে, তাঁদের ডাক পড়ার সম্ভাবনা বেশি। খসড়া তালিকায় নাম ওঠা ভোটারদের মধ্যে যাঁদের ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে সঠিক ম্যাপিং হয়নি, অথবা যাঁদের তথ্যে গরমিল বা সংশয় রয়েছে, তাঁদের শুনানির জন্য ডাকা হতে পারে। অর্থাৎ, আপনার কোনও তথ্য নিয়ে কমিশনের যদি সন্দেহ হয়, আপনার কাছে চলে আসবে সমন। আপনার দিতে হবে হাজিরা। কমিশন সূত্রে খবর, অসঙ্গতি রয়েছে প্রায় দেড় কোটিরও বেশি মানুষের নামে। হিয়ারিংয়ে ডাকা হতে পারে ফর্মে অসঙ্গতি থাকা ভোটারদের।

    কীভাবে জানা যাবে?

    উল্লেখ্য, আপনাকে নোটিস আকারে সমন পাঠাবে নির্বাচন কমিশন। আর সেই নোটিস নিয়ে আপনার কাছে আসবেন বিএলওরা। অর্থাৎ, আপনার বিএলওই আপনাকে জানাবে আপনাকে কোথায় যেতে হবে হিয়ারিংয়ের জন্য। এ ছাড়াও আপনার মোবাইল নম্বরে মেসেজ করে আপনাকে জানাতে পারে ইলেকশন কমিশন। তবে এই হিয়ারিং কোথায় হবে, তা এখনও নিশ্চিত ভাবে জানা যায়নি। ডিইও-দের থেকে রিপোর্ট চেয়েছে রাজ্যের সিইও দফতর। প্রতিটি বিধানসভার জন্য একজন করে ইআরও, ১০ জন এইআরও রয়েছেন। এই ১১ জন আধিকারিক হিয়ারিং টেবিলে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিক ভাবে জানা যাচ্ছে। প্রতিদিন ১০০ জনকে হিয়ারিংয়ে ডাকা হতে পারে।

    হিয়ারিংয়ের দিন হাজির না হলে…

    এসআইআরে হিয়ারিং পর্ব চলবে আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। এর মধ্যেই সব ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হবে। হিয়ারিংয়ে থাকবেন ইআরও বা এইআরও। শুনানির ক্ষেত্রে ভোটারদের স্বার্থ দেখা হবে বলে জানিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানান, উল্লেখিত দিনে কোনও ভোটার যদি শুনানিতে হাজির হতে না পারেন, তা হলে সঙ্গত কারণ দেখালে তাঁকে পরবর্তীতে ফের সময় দেওয়া হবে। শুনানির দিন পাল্টানোর জন্য ইআরও-র কাছে আবেদন করতে হবে। শারীরিক অসুস্থতা বা অন্য কোনও কারণে শুনানিতে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি না থাকলে প্রয়োজনে ভার্চুয়াল শুনানির ব্য়বস্থাও করতে পারে।

    হিয়ারিংয়ে লাগতে পারে কী কী নথি?

    ১) রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী অথবা পেনশনভোগী হিসেবে পরিচয়পত্র

    ২) ১৯৮৭ সালের আগে পোস্ট অফিস, ব্যাংক, এলআইসি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নথি

    ৩) জন্ম শংসাপত্র

    ৪) পাসপোর্ট

    ৫) মাধ্যমিক বা অন্য যে কোনও শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র

    ৬) রাজ্য সরকারের অধীন কোনও সংস্থার দেওয়া আবাসিক শংসাপত্র

    ৭) ফরেস্ট রাইটসের শংসাপত্র

    ৮) জাতিগত শংসাপত্র বা কাস্ট সার্টিফিকেট

    ৯) ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস (NRC) — শুধুমাত্র আসামের ক্ষেত্রে

    ১০) স্থানীয় প্রশাসনের জারি করা পারিবারিক রেজিস্টার

    ১১) সরকারের দেওয়া জমি লিজ বা বাড়ি লিজ সংক্রান্ত শংসাপত্র

    — উপরে উল্লিখিত নথিগুলির সঙ্গে আধার পরিচয়পত্রও রাখবেন।

     

    খসড়া ভোটার তালিকাতে নেই নাম, ডাকা হয়নি শুনানির জন্যও, কী করবেন?

    এ ক্ষেত্রে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ফর্ম ৬ পূরণ করতে হবে। এর সঙ্গে জমা দিতে হবে অ্যানেক্সচার-৪ এবং অন্যান্য নথিও।

    কেউ যদি ভুয়ো নথি জমা দেন, তাহলে…

    ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ধারা ৩৩৭ অনুযায়ী, কেউ নথি জাল করলে তার সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত জেল এবং জরিমানা হতে পারে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, প্রতিটি ফর্ম কমিশনের নিজস্ব অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে ভোটারের দেওয়া সমস্ত তথ্য খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে তবেই ঠিক করা হবে যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শুনানির জন্য ডাকা হবে কি না। আগে প্রতি বিধানসভা কেন্দ্রে দিনে সর্বোচ্চ ৫০টি শুনানি নির্ধারিত ছিল। কিন্তু এখন কমিশন সূত্রে খবর, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শুনানি শেষ করতে প্রয়োজনে দিনে একশোর বেশিও শুনানি হতে পারে।

  • Constipation Problem: শীত এলেই বেড়ে যায় কোষ্ঠকাঠিন্য! কীভাবে সমস্যা এড়াবেন?

    Constipation Problem: শীত এলেই বেড়ে যায় কোষ্ঠকাঠিন্য! কীভাবে সমস্যা এড়াবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    তাপমাত্রার পারদ কমছে! সকালের কুয়াশা আর সন্ধ্যার ঠান্ডা হাওয়ায় কাবু বঙ্গবাসী। তবে শীতের মরশুমে ভোগান্তি বাড়াচ্ছে কোষ্ঠকাঠিন্য। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীত পড়তেই অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগছেন। বয়স্কদের পাশপাশি শিশুরাও এই সমস্যায় জেরবার। তাঁরা জানাচ্ছেন, শীতে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়ে। তার উপরে সঠিক খাদ্যাভ্যাস না থাকলে সমস্যা আরও জটিল হয়ে যায়। তাই এই সময়ে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা মোকাবিলায় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

    কেন শীতে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়ে?

    জল পর্যাপ্ত পরিমাণে না খাওয়া!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতের মরশুমে জল তেষ্টা কম পায়। তাই অনেকেই ফি-দিনের জল খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দেন। শরীর সুস্থ রাখতে, কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা এড়াতে শরীরে পর্যাপ্ত জল প্রয়োজন। নিয়মিত কমপক্ষে চার লিটার জল খাওয়া দরকার। শিশুদের নিয়মিত দুই থেকে তিন লিটার জল খাওয়া জরুরি। কিন্তু শীতে অনেকেই এই পর্যাপ্ত জল খায় না। তার জেরেই কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা বাড়ে।

    অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় খাবার খাওয়া!

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা এড়াতে শরীরে ফাইবারের জোগান ঠিকমতো থাকা জরুরি। কিন্তু শীতের মরশুমে অনেকেই নানান উৎসব উদযাপন করেন। পারিবারিক অনুষ্ঠান হোক কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিক, বিভিন্ন উদযাপনেই থাকে দেদার খানাপিনা। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই ধরনের অনুষ্ঠানের খাবারের মেনুতে পর্যাপ্ত ফাইবার থাকে না। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় শাক-সব্জি থাকে না। শরীর সবুজ শাক-সব্জি থেকেই প্রয়োজনীয় ফাইবার সংগ্রহ করে। এই ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করে। অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় খাবার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।

    শারীরিক কসরতের অভাব!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতের মরশুমে ক্লান্তিভাব বাড়ে। অনেকেই বছরভর শারীরিক কসরত করলেও, শীতে নিয়মিত যোগাভ্যাস কিংবা নিয়ম মাফিক হাঁটাচলা করেন না। এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা বাড়ে। শারীরিক কসরত করলে এই ধরনের সমস্যা এড়ানো সহজ হয়।

    হজমের সমস্যা!

    হজম ঠিকমতো না হলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়বে। শীতের মরশুমে হজমের সমস্যা বাড়ে‌। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতে অনেকেই অতিরিক্ত তেল মশলা জাতীয় খাবার কিংবা তেলেভাজা বেশি খান। আর এর ফলেই হজমের সমস্যা হয়। যার জেরেই এই মরশুমে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বাড়ে‌।

    কীভাবে সমস্যা কমবে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিয়মিত কয়েকটি বিষয়ে নজরদারি করলেই কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ভোগান্তিও কমবে।

    ফাইবার জাতীয় খাবার জরুরি!

    পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ, শীতের মরশুমে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা এড়াতে শিশু থেকে বয়স্ক, সকলের নিয়মিত ফাইবার জাতীয় ফল ও সব্জি খাওয়া জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন পালং শাক, গাজর, ব্রোকলির মতো সব্জি, কলা, কমলালেবুর মতো ফল নিয়মিত খাওয়ার পাশাপাশি ওটস কিংবা বাজরার মতো দানাশস্য নিয়মিত খাবারের তালিকায় রাখলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমবে।

    নিয়মিত অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা জরুরি!

    শরীর সুস্থ থাকলে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। শীতের মরশুমে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতেও সাহায্য করবে এই অভ্যাস। বিশেষত বয়স্কদের জন্য এই অভ্যাস খুব উপকারি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত ৩০ মিনিট হাঁটতে হবে। এর ফলে হজম ভালো হবে। অন্ত্র, পাকস্থলী, লিভারের কার্যক্ষমতা বাড়বে। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমবে। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে শিশুদের নিয়মিত যোগাভ্যাসের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    জল পর্যাপ্ত খাওয়া হচ্ছে কিনা সে দিকে নজর জরুরি!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শীতেও শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত জল খেতে হবে। নিয়ম মাফিক প্রতিদিন প্রয়োজনীয় জল খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমবে।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • ECI ASD List: ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৮! খসড়া তালিকার সঙ্গে বাদ পড়া নামের তালিকা প্রকাশ কমিশনের

    ECI ASD List: ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৮! খসড়া তালিকার সঙ্গে বাদ পড়া নামের তালিকা প্রকাশ কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মঙ্গলবার নির্ধারিত দিনেই খসড়া তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গের কত ভোটারের নাম প্রথম তালিকায় জায়গা পেল না, তা জানাতে খসড়া তালিকার আগে কমিশন নাম বাদের তালিকা প্রকাশ করেছে। কমিশন প্রদত্ত ওয়েবসাইট- ceowestbengal.wb.gov.in/asd_SIR –এ গেলেই দেখা যাচ্ছে নাম বাদের তালিকা। রাজ্যের প্রতিটি বিধানসভা এবং বুথভিত্তিক কত নাম বাদ পড়ল সেই সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে এই ‘বাদের খাতায়’। ওয়েবসাইটে ক্লিক করলেই ডাউনলোড করা যাচ্ছে সেই তালিকা।

    কীভাবে দেখবেন?

    প্রথমেই ক্লিক করে চলে যান এই ওয়েবসাইটে। তারপর আপনার চোখের সামনে ভেসে উঠবে তিনটি অপশন –

    এপিক নম্বর সার্চ

    বিধানসভা ভিত্তিক এএসডি তালিকা

    বিএলও-বিএলএ-র তালিকা

    এপিক নম্বর অপশনে ক্লিক করলে আপনাকে দিতে হবে আপনার ভোটার কার্ডে উল্লেখিত এপিক নম্বর। যদি আপনার নাম বাদ না যায়, তা হলে এই সার্চের পর কোনও কিছু পাবেন না। কিন্তু কোনও নাম বাদ গেলে, তা উঠে আসতে পারে।

    সার্চ বাই এপিক নম্বরের পাশে রয়েছে নাম বাদের তালিকা অর্থাৎ বিধানসভা-ভিত্তিক এএসডি তালিকা। এই অপশনে ক্লিক করার পর ভোটারকে দু’টি তথ্য দিতে হবে। প্রথম জেলা, দ্বিতীয় তাঁর বিধানসভা কেন্দ্র। তারপর সেই অনুযায়ী চলে আসবে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের অধীনস্থ ভোটকেন্দ্রগুলি। তার পাশেই থাকবে ডাউনলোড অপশন। তাতে ক্লিক করলেই ভেসে উঠবে নাম বাদের তালিকা। সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্র থেকে কাদের নাম বাদ গেল, কেন বাদ গেল, সবটাই লেখা রয়েছে এই তালিকায়।

    কতজন বাদ গেলেন?

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুসারে, ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৮ জনের নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে মৃত ভোটারের নাম, ২৪ লক্ষ ১৬ হাজার ৮৫২। নিখোঁজ ভোটার ১২ লক্ষ ২০ হাজার ৩৮ জন। স্থানান্তরিত ভোটার ১৯ লক্ষ ৮৮ হাজার ৭৬ জন। ডুপ্লিকেট ভোটার ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৩২৮। অন্যান্য কারণে ৫৭ হাজার ৬০৪ নাম বাদ গিয়েছে। এছাড়া কমিশন জানাচ্ছে, ৩০ লক্ষ আনম্যাপড- তাদের শুনানিতে ডাকা হবে। এদের ২০০২-এ কারও সঙ্গে কোনও লিঙ্ক হয়নি।

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুসারে, ১ কোটি ৬৭ লক্ষের মতো এরকম ভোটার ছিল, যাদের তথ্যগত কিছু অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছিল। নাম, বয়স, মা-বাবার সঙ্গে বয়সের ফারাক, একাধিক জনের সঙ্গে ম্যাপিং, এরকম নানা অসঙ্গতি পাওয়া গিয়েছিল। এদের হিয়ারিংয়ে ডাকা হতে পারে। সেক্ষেত্রে কাকে শুনানিতে ডাকা হবে, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন ইআরও। মঙ্গলবার থেকেই বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি যাবেন। ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত শুনানি চলবে। সে সব পর্যালোচনা করা হবে। ১৪ ফেব্রুয়ারি তারিখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এছাড়া, আর যে ৩০ লক্ষের মতো ব্যক্তি আনম্যাপড, তাঁদেরও ইআরও, এইআরও হিয়ারিং পর্বে ডাকবেন।

    শুনানির প্রস্তুতি শুরু কমিশনের

    খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর এবার শুনানির প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে কমিশন। শুনানির জন্য বুথে বাধ্যতামূলকভাবে বসতে হবে বিএলও-দের। মঙ্গলবার থেকে ১৫ জানুয়ারি এক মাস বিএলও-দের বসতে হবে সংশ্লিষ্ট বুথে। জেলায় জেলায় স্কুলের রুম চেয়ে চিঠি জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের চিঠি দিচ্ছে কমিশন। সেইসব স্কুলের রুমেই অভিযোগ বা আপত্তি বিএলও-কে জানাতে পারবেন ভোটাররা।

    কমিশনের তরফে বলা হয়েছে, নাম না থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এবার ডাকা হবে শুনানিতে। ফর্ম ৬ পূরণ করতে হবে। অনলাইনেই ওই ফর্ম পূরণ করতে পারবেন। অফলাইনেও জেলাশাসকের দফতর থেকেও সংগ্রহ করা যাবে ফর্ম ৬। খসড়া তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর ৪ থেকে ৭ দিনের মধ্যে নোটিস যাবে নাম না থাকা ভোটারের কাছে। একদিনে অন্তত ১০০ জনের শুনানি হবে। প্রয়োজনে বাড়ানো হতে পারে সংখ্যাটা।

  • Pahalgam Attack: পহেলগাঁওকাণ্ডে স্পষ্ট পাক-যোগ, হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ লস্কর কমান্ডার সাজিদ জাট, বলল এনআইএ

    Pahalgam Attack: পহেলগাঁওকাণ্ডে স্পষ্ট পাক-যোগ, হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ লস্কর কমান্ডার সাজিদ জাট, বলল এনআইএ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পহেলগাঁও হত্যালীলার ঘটনায় মূল ষড়যন্ত্রকারী পাকিস্তানের নাগরিক সাজিদ জাট ওরফে সাজিদ সইফুল্লা। পহেলগাঁও কাণ্ডের চার্জশিট জমা দিয়ে এমনটাই জানাল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ।

    চার্জশিট পেশ এনআইএ-র

    গত ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের কাছে বৈসারন উপত্যকায় পর্যটকদের ধর্ম জিজ্ঞেস করে হত্যা করেছিল জঙ্গিরা। কাপুরুষোচিত হামলায় মৃত্যু হয় ২৫ জন নিরীহ পর্যটক এবং স্থানীয় এক টাট্টুঘোড়া চালকের। এই প্রাণঘাতী জঙ্গি হামলার প্রায় আট মাস পর ভালভাবে তদন্ত করে চার্জশিট পেশ করল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। চার্জশিটে এনআইএ দাবি করেছে, জঙ্গি হামলায় সাত অভিযুক্তের মধ্যে লস্কর-ই-তৈবার একজন শীর্ষ কমান্ডারও রয়েছে। চার্জশিটে পাঁচজন সন্দেহভাজন এবং দু’টি জঙ্গি সংগঠন— লস্কর-ই-তৈবা (এলইটি) এবং দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ওই জঙ্গি হামলার দায় স্বীকার করেছিল ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’। যদিও পরে তারা তা অস্বীকার করে।

    এনআইএ যা বলেছে 

    এনআইএ-র চার্জশিটে পাকিস্তানের ষড়যন্ত্র, অভিযুক্তদের ভূমিকা এবং হামলার প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে। পহেলগাঁও হামলার পরিকল্পনা, সহায়তা ও বাস্তবায়নে ভূমিকার জন্য লস্কর-ই-তৈবা এবং টিআরএফ-কে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ১৫৯৭ পাতার চার্জশিটে এনআইএ দাবি করেছে, লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ কমান্ডার সাজিদ জাট ছিল পহেলগাঁও হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’। তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি, সাজিদ শুধু টিআরএফ-এর অপারেশনাল প্রধানই নয়, বরং কাশ্মীর উপত্যকায় কর্মী নিয়োগ, অর্থ জোগানো এবং অনুপ্রবেশের জন্যও দায়ী সাজিদ। জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগরের দাচিগাম জঙ্গলে ‘অপারেশন মহাদেব’ চালিয়ে পহেলগাঁও হামলাকারী সুলেমান ওরফে হাসিম মুসা, হাবিব তাহির ওরফে জিবরান এবং হামজা আফগানি নামের ৩ জঙ্গিকে খতম করেছিল ভারতীয় সেনা। এনআইএ-র চার্জশিটে সেই তিন পাকিস্তানি জঙ্গির নামও রয়েছে। তবে সাজিদ জাট এখনও অধরা। চার্জশিটে সেই বিষয়টি উল্লেখ করে এনআইএ জানিয়েছে, তার মাথার দাম ১০ লক্ষ। তাকে ধরার ব্যাপারে তথ্য দিতে পারলে মিলবে এই আর্থিক পুরস্কার। এর পাশাপাশি, ইউএপিএ অ্যাক্ট অনুসারে এই সাজিদ সইফুল্লা জাটকে নিষিদ্ধ জঙ্গি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

    সহযোগীদের নামও চার্জশিটে

    জঙ্গিদের সহযোগী হিসাবে বশির আহমেদ পারভেজ জোঠর, বশির আহমেদ জোঠর, মহম্মদ ইউসূফ কাটারি-সহ আরও ছ’জনের নাম চার্জশিটে দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। এনআইএ-র দাবি, জঙ্গিদের খাবার এবং রসদ সরবরাহ করেছিল তারাই। পারভেজ পহেলগাঁওয়ের বাটকোটের বাসিন্দা। বশিরের বাড়ি হিল পার্কে। এনআইএ-র দাবি, পহেলগাঁও হানায় জড়িত জঙ্গিদের খাওয়া-দাওয়া, যাতায়াত এবং থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল এরা। আর ইউসুফ পথ চিনিয়ে জঙ্গিদের ঘন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দিয়েছিল। লস্কর/টিআরএফ এবং অভিযুক্ত চারজনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩, অস্ত্র আইন, ১৯৫৯ এবং বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (ইউএপিএ), ১৯৬৭-এর প্রাসঙ্গিক ধারার অধীনে অভিযোগ আনা হয়েছে। এনআইএ চার্জশিটে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার জন্য দণ্ডবিধির ধারাও প্রয়োগ করেছে।

LinkedIn
Share