Tag: মাধ্যম

  • High-Protein Diet Risks: অতিরিক্ত প্রোটিন বিপদ বাড়াচ্ছে শহুরে ভারতীয়দের! কোন পথে আটকানো সম্ভব?

    High-Protein Diet Risks: অতিরিক্ত প্রোটিন বিপদ বাড়াচ্ছে শহুরে ভারতীয়দের! কোন পথে আটকানো সম্ভব?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সকালের প্রাতঃরাশে খান কয়েক ডিম। দুপুরে আবার পাতে থাকছে মাছ কিংবা মাংস! সন্ধ্যা হতেই চটজলদি খাবার না পেলে মন ভরে না। কখনও এগ চিকেন রোল, আবার কখনও চিকেন মোমো! বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার সঙ্গী চিকেন পিৎজা কিংবা বার্গার! বিয়ের নেমন্তন্ন কিংবা জন্মদিন উদযাপন, মাছ-মাংস না থাকলে তো ভুরিভোজ অসম্পূর্ণ! আর এতেই বাড়াচ্ছে বিপদ! শহুরে ভারতীয়দের নিয়মিত খাবারের তালিকায় অধিকাংশ সময়েই প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রোটিন খাবার থাকছে। আর তার জেরেই নানান সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

    অতিরিক্ত প্রোটিন কী? শহুরে ভারতীয়দের মধ্যে কি অতিরিক্ত প্রোটিন খাওয়ার অভ্যাস বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরে প্রোটিনের চাহিদা কতখানি, সেটা নির্ভর করে বয়স ও শরীরের ওজনের উপরে। অর্থাৎ, সাধারণত শরীরে প্রতি কেজিতে এক গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ, একজন প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষের ৮০ কেজি ওজন হলে, দিনে তাঁর ৮০ গ্রাম প্রোটিন যথেষ্ট। আবার প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলার ওজন যদি ৫০ কেজি হয়, তাহলে দিনে তাঁর ৫০ গ্রাম প্রোটিন খাওয়া জরুরি। তবে নিয়মিত খেলাধূলা করলে বা অতিরিক্ত জিম করলে, শরীরে প্রোটিনের বাড়তি চাহিদা হয়। অর্থাৎ, কেজি প্রতি ২ গ্রাম প্রোটিন জরুরি হয়। একজন খেলোয়াড়ের ৮০ কেজি ওজন হলে, তার ১৫০-১৬০ গ্রাম প্রোটিন জাতীয় খাবার খাওয়া জরুরি।

    ফাস্ট ফুডে রয়েছে অতিরিক্ত প্রোটিন ও ফ্যাট

    তবে সাধারণ মানুষের প্রোটিন খাওয়ার ক্ষেত্রে পরিমাণের দিকে নজরদারি জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রোটিন নিয়মিত খাচ্ছেন। অর্থাৎ, শরীরে ৮০ গ্রাম প্রোটিন দরকার হলেও দেখা যাচ্ছে, নিয়মিত তাঁরা ১৫০-২০০ গ্রাম প্রোটিন জাতীয় খাবার খাচ্ছেন। যা খুবই বিপজ্জনক। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শহুরে ভারতীয়দের চটজলদি এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার অভ্যাসের জেরেই নিয়মিত অতিরিক্ত প্রোটিন জাতীয় খাবার খাওয়া হচ্ছে। পিৎজা, বার্গার, রোল কিংবা হটডগের মতো খাবারে প্রোটিন থাকে, মাংস, ডিম কিংবা পনির, সোয়াবিন জাতীয় খাবার দিয়েই এগুলো তৈরি হয়। তরুণ প্রজন্মের বহু শহুরে ভারতীয় এই ধরনের খাবার নিয়মিত খান। তার ফলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রোটিন ও ফ্যাট শরীরে যায়। যা সুস্থ থাকার পথে সমস্যা তৈরি করে।

    অতিরিক্ত প্রোটিন খেলে শরীরে কী ক্ষতি হতে পারে?

    কিডনি সমস্যা হতে পারে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত প্রোটিন শরীরে অতিরিক্ত বর্জ্য তৈরি করে। ফলে কিডনির কার্যকারিতা বাড়ে। নিয়মিত অতিরিক্ত পরিমাণে প্রোটিন খেলে কিডনির কাজ বাড়ে। ফলে কিডনির সমস্যা হতে পারে।

    ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ায়!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রোটিন উপাদান শরীরে মিশতে জলের প্রয়োজন হয়। তাই নিয়মিত অতিরিক্ত প্রোটিন খেলে, অতিরিক্ত পরিমাণ জল খাওয়া জরুরি। তবে অনেকেই সেই অনুপাতে জল পান করেন না। ফলে শরীরে জলের ঘাটতি দেখা যায়। তাই অতিরিক্ত গরমে বাড়তি প্রোটিন খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি।

    হজমের সমস্যা হতে পারে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্রোটিন হজম করতে সময় লাগে। তাই নিয়মিত অতিরিক্ত প্রোটিন খেলে হজমের গোলমাল হতে পারে। লিভারের ওপরেও বাড়তি চাপ পড়ে।

    ওজন‌ বাড়তে পারে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে অধিকাংশ সময়েই প্রোটিন জাতীয় খাবার অতিরিক্ত তেল ও মশলা ব্যবহার করে রান্না করা হয়। তাই শরীরে অতিরিক্ত ফ্যাট জমে। অতিরিক্ত প্রোটিন খেলে, পর্যাপ্ত শারীরিক কসরত করা জরুরি। কিন্তু সেটা না হলে স্থূলতার ঝুঁকি বাড়তে থাকবে। তাই চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ, খাবারে প্রোটিন রাখার পাশপাশি কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন, ফাইবার রাখাও জরুরি। অর্থাৎ, পনির, মাছ কিংবা মাংসের সঙ্গে সম পরিমাণে সব্জি, ফল খেতে হবে। তবেই হজম ঠিকমতো হবে। অতিরিক্ত ওজন বাড়বে না।

  • Adult Vaccination: টিকাকরণের হার মাত্র ২ শতাংশ! প্রাপ্ত বয়স্কদের ভ্যাকসিনে কেন বাড়তি গুরুত্ব প্রয়োজন?

    Adult Vaccination: টিকাকরণের হার মাত্র ২ শতাংশ! প্রাপ্ত বয়স্কদের ভ্যাকসিনে কেন বাড়তি গুরুত্ব প্রয়োজন?

     

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বদলে যাচ্ছে পরিবেশ। আর সেই বদলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলে যাচ্ছে রোগের চরিত্র! দাপট বাড়াচ্ছে একাধিক সংক্রামক রোগ। তাই দীর্ঘ সুস্থ জীবন যাপনের জন্য টিকাকরণ (Adult Immunization) জরুরি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একাধিক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষত ৫০ বছরের পরে নানান সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। বায়ুদূষণ, জল দূষণের জেরে ফুসফুস, কিডনি ও রক্তের একাধিক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। তাই সুস্থ দীর্ঘ জীবনের জন্য ভ্যাকসিন (Adult Vaccination) জরুরি। কিন্তু এ দেশের সাম্প্রতিক রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, প্রাপ্ত বয়স্কদের ভ্যাকসিনের পরিসংখ্যান তলানিতে। আর সেটাই বাড়াচ্ছে উদ্বেগ। এমনটাই মনে করছেন চিকিৎসক মহল।

    ভারতে প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকার হার কেমন?

    এক সর্বভারতীয় সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে প্রাপ্তবয়স্কদের টিকাকরণের (Adult Immunization) হার বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশের তুলনায় অনেকটাই কম। তাই বাড়ছে উদ্বেগ। ওই রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, এদেশের মাত্র ২ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্কের টিকাকরণ (Adult Vaccination) হয়েছে। অর্থাৎ, রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ানো টিকা শুধুই শিশুস্বাস্থ্যের সঙ্গে জড়িত নয়। বরং প্রাপ্তবয়স্কদের একাধিক রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে টিকাকরণ জরুরি। এই সচেতনতা তলানিতে। আর সেই জন্য প্রতি ১০০ জন প্রাপ্তবয়স্ক ভারতীয়দের মধ্যে ৯৮ জন জনের কোনও প্রাপ্তবয়স্ককালে টিকা নেওয়া হয়নি। ওই সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ৮০ শতাংশ ভারতীয় জানেন না, প্রাপ্তবয়স্কদের সুস্থ থাকার জন্য প্রাপ্তবয়স্ককালে টিকাকরণ জরুরি। শহরের তুলনায় গ্রামে টিকা করণের হার আরও কম। ওই সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে প্রাপ্তবয়স্কদের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন দান হয়েছে মাত্র ১.৫ শতাংশ। নিউমোনিয়ার ০.৬ শতাংশ এবং হেপাটাইটিস বি রোগের টিকা নিয়েছেন ১.৯ শতাংশ প্রাপ্ত বয়স্ক ভারতীয়।

    কেন প্রাপ্ত বয়স্ক ভারতীয়দের টিকাকরণের হার কম?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বিশ্ব জুড়ে প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকাকরণের হার কম। বিশ্বের একাধিক উন্নত দেশেও টিকাকরণ শুধুমাত্র শিশু স্বাস্থ্যের সঙ্গেই জড়িত থাকার ধারণা রয়েছে। ভারতেও প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকাকরণ কম হওয়ার অন্যতম কারণ এই সচেতনতার অভাব। শিশু অবস্থায় টিকা করণ হলেও একাধিক রোগের সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে ৪০ বছরের পরে আবার টিকা করণ জরুরি হয়। শিশুদের টিকা করণ এবং বয়স্কদের টিকা করণের ক্ষেত্রে কিছু কিছু রোগে পার্থক্য থাকে। বিশেষজ্ঞদের কাছে সে সম্পর্কে পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কিন্তু চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ প্রাপ্ত বয়স্ক ভারতীয় এই প্রসঙ্গে কথা বলেন না। ফলে তাঁদের মধ্যে সচেতনতাও তৈরি হয় না। অনেকক্ষেত্রে প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকা করণের ক্ষেত্রে খরচ একটি বাধা হয়ে দাঁড়ায়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুদের টিকাকরণে যেভাবে সরকার এবং প্রশাসন তৎপর, যেভাবে প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা পালন করে, প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকাকরণে সেই উদ্যোগের ঘাটতির রয়েছে। তাই টিকাকরণের হার তলানিতে ঠেকেছে।

    সুস্থ থাকতে কোন টিকায় বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    ভারতে নিউমোনিয়ার দাপট বাড়ছে! ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এ দেশে প্রতি বছর ২.৫ থেকে ৩ লাখ প্রাস্ত বয়স্ক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বায়ুদূষণ বাড়ছে। তাই ফুসফুসের রোগ সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে। তাছাড়া, ধূমপান ও তামাক সেবনের অভ্যাস ভারতীয়দের ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম কারণ। তাই পাল্লা দিয়ে নিউমোনিয়ার দাপট বাড়ছে। নিউমোনিয়া রুখতে প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকা করণ জরুরি। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, টিকা নেওয়া থাকলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমবে। মৃত্যুর সংখ্যাও কমবে। তাছাড়া চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অন্য রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে থাকাকালীন, বয়স্কদের একাংশ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন। টিকা নেওয়া থাকলে শারীরিক জটিলতাও কমবে। তাই সুস্থ জীবন যাপনের জন্য প্রাপ্ত বয়স্কদের নিউমোনিয়ার টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, প্রতি বছর ভারতে ৩ লাখের বেশি মানুষ ইনফ্লুয়েঞ্জা আক্রান্ত হন। শুধুমাত্র বর্ষাকালেই আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ছাড়িয়ে যায়। বয়স্কদের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভোগান্তি বাড়ায়। তাই সুস্থ থাকতে প্রাপ্ত বয়স্কদের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    বয়স্কদের হুপিং কাফ, হেপাটাইটিস রোধে টিকা কার্যকর

    এছাড়াও হুপিং কাশি রুখতেও ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এ দেশে বায়ুদূষণ বাড়ছে। দিন দিন বাতাসের গুণমান কমছে। তাই ফুসফুসের সংক্রমণের পাশপাশি শ্বাসনালীর সংক্রামণের ঝুঁকিও বাড়ছে। হুপিং কাশিতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। তাই এই রোগ রুখতে প্রাপ্ত বয়স্কদের টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ প্রতি বছর হেপাটাইটিস বি রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে এই রোগের দাপট উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ভারতীয়দের লিভারের রোগ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশেষত এই হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ বাড়তি দুশ্চিন্তা তৈরি করছে। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই রোগ রুখতে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো টিকাকরণ। প্রাপ্ত বয়স্কদের হেপাটাইটিস বি-র দাপট কমাতে টিকাকরণ জরুরি।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Chaitra Navratri 2026: আজ থেকে শুরু হল চৈত্র নবরাত্রি, ন’দিনে ন’টি রূপে পূজিত হন দেবী দুর্গা

    Chaitra Navratri 2026: আজ থেকে শুরু হল চৈত্র নবরাত্রি, ন’দিনে ন’টি রূপে পূজিত হন দেবী দুর্গা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ (বাংলায় ৪ চৈত্র, ১৪৩২) থেকে শুরু হল চৈত্র নবরাত্রি (Chaitra Navratri 2026)। এদিন থেকে হিন্দু নববর্ষেরও সূচনা হয়। এবছর চৈত্র মাসের নবরাত্রি ১৯ মার্চ থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে ২৭ মার্চ রামনবমীর (Ramnavami) সঙ্গে। এই নয় দিন ধরে মা দুর্গার নয়টি রূপের পুজো করা হয়। শারদীয়া দুর্গোৎসবের জাঁকজমক এখন বিশ্বজনীন হলেও, শাস্ত্র মতে বাঙালির আদি পুজো কিন্তু এই বাসন্তী পুজোই। রাজা সুরথ ও বৈশ্য সমাধি প্রথম চৈত্র মাসেই মৃন্ময়ী রূপে চিন্ময়ীর আরাধনা করেছিলেন। চৈত্র মাসের দুর্গাপুজো বসন্তকালে হয় বলে একে বাসন্তীপুজোও (Basanti Puja) বলা হয়। তবে এই দিনগুলোর মধ্যে মহাঅষ্টমী এবং মহানবমী সবচেয়ে বিশেষ বলে মনে করা হয়। বাংলায় বাসন্তী পুজো তিনদিন ধরে হলেও, মহাষ্টমীর বিশেষ আকর্ষণ অন্নপূর্ণা পুজো (Annapurna Puja)। চৈত্রের এই নবরাত্রির নবম দিনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ভগবান শ্রীরাম। সেই থেকে এই দিনটি রামনবমী হিসেবে খ্যাত। ফলে, নবরাত্রির দিনগুলোতে বাংলা সহ দেশজুড়ে থাকে উৎসবের আসর।

    নবরাত্রির কোন দিনে কী পুজো

    শারদীয়া নবরাত্রিই হোক কিংবা চৈত্র নবরাত্রি এই দুই পর্বেই আদ্যাশক্তির বিভিন্ন রূপের পুজো হয়। হিন্দুদের বিশ্বাস অনুযায়ী, চৈত্র নবরাত্রিতে (Chaitra Navratri 2026) নিয়মনিষ্ঠা মেনে যাঁরা দেবীর ন’টি রূপের পুজো করেন, তাঁরা যা চান, দেবী তাঁদের মনস্কামনা পূরণ করেন।

    প্রতিপদে মাতা শৈলপুত্রীর পুজো – ১৯ মার্চ, বৃহস্পতিবার

    নবরাত্রির প্রথম দিনে মাতা শৈলপুত্রীর পুজো করা হয়। দেবীর নামের অর্থ “পাহাড়ের কন্যা”। তাঁর ভক্তদের বিশ্বাস-মাতা শৈলপুত্রীর আশীর্বাদ স্বরূপ সুস্থ, রোগমুক্ত জীবন পাওয়া যায়। মাতার নৈবেদ্যতে খাঁটি ঘি অর্পণ করা হয়। এই দেবীর আরাধনায় মূলাধার চক্র শুদ্ধ হয়।

    দ্বিতীয়ায় মাতা ব্রহ্মচারিণীর পুজো – ২০ মার্চ, শুক্রবার

    নবরাত্রির (Chaitra Navratri 2026) দ্বিতীয় দিনে এই দেবীর পুজো হয়। ব্রহ্মচারিণী মাতাকে খুশি করতে ভক্তরা চিনি নিবেদন করে থাকেন। বিশ্বাস মতে, মাতা তাঁর ভক্তদের দীর্ঘায়ু প্রদান করেন। এই দেবীর উপাসনার দ্বারা সাধিস্তান চক্র শুদ্ধ হয় হয় বলে ভক্তরা মনে করে।

    তৃতীয়ায় মাতা চন্দ্রঘণ্টার পুজো – ২১ মার্চ, শনিবার

    তৃতীয় দিনে মাতা চন্দ্রঘণ্টার প্রতি ভক্তি নিবেদন করা হয়। এই দেবীর বাহন বাঘ। উগ্র মূর্তি এই দেবীকে ক্ষীর ভোগ অর্পণ করেন ভক্তরা। ভক্তদের বিশ্বাস, দেবী সমস্ত অশুভ শক্তির বিনাশ করেন এবং যাবতীয় বাধা বিঘ্ন দূর করেন।

    চতুর্থীতে মাতা কুষ্মাণ্ডার পুজো- ২২ মার্চ, রবিবার

    চতুর্থ দিনে মাতা কুষ্মান্ডার প্রতি ভক্তি নিবেদিত হয়‌। শাস্ত্র মতে, এই দেবী মহাবিশ্বের স্রষ্টা। তিনি তাঁর ভক্তদের জ্ঞানদানের দ্বারা বৌদ্ধিক বিকাশ ঘটান এবং কর্মক্ষেত্রে জটিলতা দূর করেন। দেবীকে মালপোয়া ভোগ অর্পণ করা হয়।

    পঞ্চমীতে মাতা স্কন্ধমাতার পুজো- ২৩ মার্চ, সোমবার

    নবরাত্রির (Chaitra Navratri 2026) পঞ্চম দিনে মাতা স্কন্দমাতার আরাধনা করেন ভক্তরা। ভগবান কার্তিককে কোলে নিয়ে উপবিষ্ট এই দেবীর আশীর্বাদ পেতে ভক্তরা কলা নিবেদন করেন। দেবীর আশীর্বাদে ভক্তের জীবনে পরম সুখ ও শান্তি আসে বলে বিশ্বাস।

    ষষ্ঠীতে মাতা কাত্যায়নীর পুজো- ২৪ মার্চ, মঙ্গলবার

    ঋষি কাত্যায়নের কন্যা, শক্তির প্রতীক তথা যোদ্ধা দেবী কাত্যায়নী মাতার পুজো নবরাত্রির ষষ্ঠ দিনে সম্পন্ন হয়। ভক্তদের তিনি শক্তি, ধর্ম ও জাগতিক সুখ প্রদান করেন বলে বিশ্বাস। তাঁকে ভক্তদের মধু নিবেদনের রীতি চালু রয়েছে।

    সপ্তমীতে মাতা কালরাত্রির পুজো- ২৫ মার্চ, বুধবার

    সপ্তমী পুজো হয় মাতা কালরাত্রি দেবীর। দেবী ত্রিশূলধারী। মাতা কালরাত্রির আশীর্বাদে জীবনের সমস্ত কুপ্রভাব বিনষ্ট হয় বলে ভক্তদের ধারণা। মাতাকে গুড় নিবেদন করা হয়।

    অষ্টমীতে মাতা মহাগৌরীর পুজো- ২৬ মার্চ, বৃহস্পতিবার

    উজ্জ্বল সৌন্দর্যের প্রতীক মহাগৌরী দেবী অষ্টমীতে ভক্তদের দ্বারা আরাধিত হন। মাতা মহাগৌরীর একহাতে ত্রিশূল ও অপর হাতে ডমরু থাকে। তাঁর নৈবেদ্যতে নারকেল রাখার রীতি রয়েছে। বিশ্বাস রয়েছে, মাতার আশীর্বাদ স্বরূপ ভক্তদের ভালো বিবাহ হয়।

    নবমীতে মাতা সিদ্ধিদাত্রীর পুজো- ২৭ মার্চ, শুক্রবার

    নবরাত্রির শেষদিনে পুজো হয় এই দেবীর। তিনি ভক্তদের জীবনে সমস্ত অশুভ প্রভাব বিনষ্ট করেন এবং সাফল্য আনেন বলে ভক্তদের ধারণা। মাতা সিদ্ধিদাত্রীকে ভক্তরা তিল নিবেদন করে থাকেন।

    বাসন্তী পুজো কবে পড়ছে

    এদিকে, এই নবরাত্রির (Chaitra Navratri 2026) সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত সময়ে বাংলার বহু এলাকায় বাসন্তী পুজো (Basanti Puja) পালিত হয়। একনজরে দেখে নেওয়া যাক, এই বাসন্তী পুজোর তারিখ ও সময়কাল – বাসন্তীপুজোর ষষ্ঠী ২৪ মার্চ, মঙ্গলবার। বাসন্তীপুজোর নিয়মকানুন সব দুর্গাপুজোর মতো হলেও, এই পুজোয় দেবীর বোধন হয় না। সপ্তমীর পুজো ২৫ মার্চ, বুধবার। অষ্টমীর পুজো ২৬ মার্চ, বৃহস্পতিবার। অষ্টমী তিথি শুরু হচ্ছে ২৫ মার্চ দুপুর ১টা ৫১ মিনিটে এবং শেষ হবে ২৬ মার্চ সকাল ১১টা ৪৯ মিনিটে। বাসন্তী পুজোর নবমী ২৭ মার্চ, শুক্রবার পড়েছে। ২৬ মার্চ সকাল ১১টা ৪৯ মিনিটের পর নবমী তিথি শুরু হয়ে যাবে, যা ২৭ মার্চ সকাল ১০টা ৮ মিনিট পর্যন্ত থাকবে। বাসন্তী বিজয়া দশমী ২৮ মার্চ শনিবার।

    অন্নপূর্ণা পুজো কবে

    চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে বাংলার ঘরে ঘরে পালিত হয় অন্নপূর্ণা পুজো (Annapurna Puja)। এবছর অন্নপূর্ণা পুজো পড়েছে ২৬ মার্চ, বৃহস্পতিবার। বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের মধ্যে এই পুজোটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মা অন্নপূর্ণা হলেন অন্ন ও পুষ্টির অধিষ্ঠাত্রী দেবী। তাঁর কৃপায় সংসারে কোনওদিন খাবারের অভাব হয় না—এমনই বিশ্বাস ভক্তদের হৃদয়ে। দেবী অন্নপূর্ণা হলেন প্রকৃতি মার রূপ যিনি সমস্ত জীবকে লালন-পালন করেন। বিশ্বাস করা হয় যে কাশীতে, ভগবান শিব দেবী পার্বতীর কাছ থেকে ভিক্ষার পাত্রে খাবার গ্রহণ করেছিলেন। দেবী অন্নপূর্ণা আমাদের লালন-পালন করেন এবং আত্ম-উপলব্ধির জন্য প্রস্তুত করেন। অন্নপূর্ণা পুজো সকল জীবের কল্যাণের জন্য করা হয়।

  • West Bengal Elections 2026: ‘টাকার বিনিময়ে আসন বিক্রি’! কোথাও গণইস্তফা, কোথাও জ্বলল আগুন, প্রার্থী ঘোষণা হতেই তৃণমূলে শুরু বিদ্রোহ

    West Bengal Elections 2026: ‘টাকার বিনিময়ে আসন বিক্রি’! কোথাও গণইস্তফা, কোথাও জ্বলল আগুন, প্রার্থী ঘোষণা হতেই তৃণমূলে শুরু বিদ্রোহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৭ মার্চ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে তৃণমূল। আর এই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন দিকে শাসকদলের অন্দরে শুধু হয়েছে চাপানউতোর। কারও অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে আসন বিক্রি হয়েছে। কেউ বলছেন, দল তাঁকে ব‍্যবহার করে তেজপাতা করে দিয়েছে। কেউ টিকিট না পেয়ে ‘তৃণমূল হারবে’ বলে দলকে হুঁশিয়ারিও দিয়ে রাখলেন। কেউ আবার বিদ্রোহ ঘোষণা করে ছাড়লেন দল! সব মিলিয়ে প্রার্থীতালিকা নিয়ে চরম বিড়ম্বনায় তৃণমূল।

    তমলুকে ইস্তফা সাংগঠনিক জেলা মহিলা সভানেত্রীর

    দলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে পদ ছাড়ার কথা ঘোষণা করলেন পূর্ব মেদিনীপুরের তৃণমূল কংগ্রেসের মহিলা নেত্রী শিবানী দে কুণ্ডু। নন্দকুমার পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিও তিনি। তমলুক সাংগঠনিক জেলা মহিলা সভানেত্রীও তিনি। মঙ্গলবার রাতেই সোশ্যাল মিডিয়াতে পদ ছাড়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। শিবানী দে কুণ্ডুর দাবি, জেলায় মহিলা প্রার্থীদের গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। এই কারণেই পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, মহিলাদের ৫০% আসন সংরক্ষণের কথা দল বললেও কার্যক্ষেত্রে তা দেখা যায়নি। এই কারণেই পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিবানী। বুধবারেই পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পদ থেকে অব্যাহতি নেবেন বলেও সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানিয়েছেন নন্দকুমার পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি।

    আরাবুল-শওকত নিয়ে ভাঙড়-ক্যানিংয়ে অস্বস্তি তৃণমূলে

    আবার ভোটের মুখে গরম ভাঙড়। তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখিয়ে দল ছাড়লেন আরাবুল ইসলাম। তাঁর নিশানায় মমতা, ফিরহাদ, শওকত। দলের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ আরাবুলের। দলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক কাইজার-ও। সব মিলিয়ে ভাঙড়ে তৃণমূলের অস্তিত্বের সঙ্কট! ক্যানিং পূর্বের বদলে ভাঙড় থেকে প্রার্থী করা হয়েছে সওকত মোল্লাকে। যা নিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জীবনতলা চৌমাথা বাজারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান তাঁর অনুগামীরা। ক্যানিং পূর্বের প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ তৃণমূলের। তাঁদের দাবি, ক্যানিং পূর্বে শওকত মোল্লাকে প্রার্থী করতে হবে। টিকিট না পেয়ে বিদ্রোহী আমডাঙার ৩ বারের তৃণমূল বিধায়ক রফিকুর রহমান। আমডাঙা-কাঁকিনাড়া রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ তাঁর অনুগামীদের।

    খণ্ডঘোষে গণ-ইস্তফা, মন্তেশ্বরে বোমাবাজি, মিনাখাঁয় আগুন

    প্রার্থী ঘোষণা হতেই মঙ্গলবার প্রকাশ্যে খণ্ডঘোষ ও মন্তেশ্বরের তৃণমূল নেতৃত্বের ঝামেলা৷ একদিনে মন্তেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্রে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর নাম ঘোষণার পরেই তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর কোন্দলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে চলল বোমাবাজি। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যেতে হয় । ঘটনায় একজন আহত হয়েছেন বলে খবর। অন্যদিকে, খণ্ডঘোষ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী নবীন বাগের নাম ঘোষণার পরেই ক্ষোভ বাড়তে থাকে দলের অন্দরে। নেতা কর্মীদের একাংশ সাফ হুঁশিয়ারি দেন, প্রার্থী বদল না হলে খণ্ডঘোষের ব্লক সভাপতি, একাধিক অঞ্চল সভাপতি, জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ-সহ একাধিক তৃণমূল নেতা দলের পদ ছেড়ে নির্বাচনে নিষ্ক্রিয় থাকবেন৷ যার জেরে এদিন রাত পর্যন্ত সরগরম খণ্ডঘোষ ও মন্তেশ্বর বিধানসভা এলাকা। মিনাখাঁয় ঊষারানি মণ্ডলকে প্রার্থী করেছে দল। প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই সেখানে তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রার্থী বদলের দাবি জানিয়ে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ তৃণমূলের একাংশের। হাড়োয়ায় রোড অবরোধ। বাঁশ-লাঠি দিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ। ঘটনায় জখম তৃণমূলের ২ কর্মী। জখম তৃণমূল কর্মীরা হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি।

    “আমি কি চাকর নাকি”, টিকিট না পেয়ে বিদ্রোহী বিধায়ক

    প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতে না হতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবায় সামনে এল তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীকোন্দল। বিপ্রদাসপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল এলাকা। ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছেন বিপ্রদাসপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান এবং তাঁর অনুগামীরাই। ভোটের মুখে শাসকদলের এই প্রকাশ্য কোন্দল ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। উপপ্রধানের অভিযোগ, বর্তমান বিধায়ক তথা প্রার্থী সুব্রত মণ্ডলের অনুগামীরা এই হামলা চালিয়েছেন। টিকিট না পেয়ে বিক্ষুব্ধ চুঁচুড়ার তিনবারের বিধায়ক অসিত মজুমদার। প্রতিক্রিয়ায় বললেন, ‘আমরা তো চুনোপুটি লোক, তাহলে আমাদের সঙ্গে কেন কথা বলবে?’ ‘আমি মনে করেছি খামতি নেই, ওরা মনে করেছে আমার খামতি আছে। না হলে তিনবার আমাকে দিল এবার দিল না কেন? দলের লোকের আমাকে ভালোবাসে, ওদের মন ভেঙে গেছে। ধন্যবাদ জানালাম দলকে।’ অসিত বলেন, “রাজনীতি আর করব না। রাজনীতি থেকে বিশ্রাম নিলাম।” এরপরেই তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, “দল কাজ করতে বললে কী করবেন?” উত্তরে তিনি বলেন, “দল কাজ করতে বললেই করতে হবে নাকি, আমি কি চাকর নাকি?”

    “এবার তৃণমূল হারবে”, টিকিট না পেয়ে হুঁশিয়ারি বিধায়কের

    জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ আসনে পরপর চারবার জয়ী হওয়ার পরেও বিধায়ক খগেশ্বর রায়কে ছাব্বিশের ভোটে প্রার্থী করেনি তৃণমূল কংগ্রেস। তাঁর জায়গায় প্রার্থী করা হল এশিয়াডে সোনা জয়ী স্বপ্না বর্মনকে৷ সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন খগেশ্বর। জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা করেন তিনি। বিদায়ী বিধায়ক বলেন, “আমার প্রতি যে অবিচার হল, তার জন্য দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিলাম। রাজগঞ্জ আসন এবার তৃণমূল হারবে। এখানে দলের ভিত আমি তৈরি করেছি। অন্য দলে যাব কি না তা এখনও চিন্তা করিনি। তবে দলকে চিঠি পাঠালাম। দেখি দল কী সিদ্ধান্ত জানায়।” তাঁর আক্ষেপ, “টাকার কাছে হেরে গেলাম!” প্রার্থী ঘোষণা হতেই রাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। কিছু জায়গায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পাশাপাশি ‘বহিরাগত’ বা ‘অরাজনৈতিক’ প্রার্থী হঠানোর স্লোগানও ওঠে।

  • West Bengal Assembly Polls: “বেড়াতে নয়, দায়িত্ব পালন করতে এসেছেন”, ভোট ঘোষণা হতেই বাহিনীকে স্মরণ করাল কমিশন

    West Bengal Assembly Polls: “বেড়াতে নয়, দায়িত্ব পালন করতে এসেছেন”, ভোট ঘোষণা হতেই বাহিনীকে স্মরণ করাল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কড়া বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনকে ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে উদ্দেশ করে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ কুমার আগরওয়াল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, “এখানে বেড়াতে আসেননি, দায়িত্ব পালন করতে এসেছেন। কাজ ঠিকমতো না হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” একই সঙ্গে রাজ্যের জন্য নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন, “বাংলায় ভোটের যে কালচার ছিল, এবার তার পরিবর্তন হবে।” রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বাংলায় ভোট মানেই হিংসার অভিযোগ—এবার সেই সংস্কৃতি বদলাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ কমিশন।

    দু’দফায় ভোটের সিদ্ধান্ত

    সোমবার সর্বদলীয় বৈঠকের পর সিইও জানান, দীর্ঘদিন পর পশ্চিমবঙ্গে দু’দফায় নির্বাচন হবে। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    • ● প্রথম দফা: ২৩ এপ্রিল — ১৫২টি আসন
    • ● দ্বিতীয় দফা: ২৯ এপ্রিল — ১৪২টি আসন
    • ● ভোটগণনা: ৪ মে
    • ● সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ: ৬ মে

    আসনসংখ্যা ও সংরক্ষণ

    পশ্চিমবঙ্গে মোট ২৯৪টি বিধানসভা আসন রয়েছে। এর মধ্যে—

    • ● ৬৮টি এসসি (তফশিলি জাতি)
    • ● ১৬টি এসটি (তফশিলি উপজাতি) আসন সংরক্ষিত

    কড়া নজরদারি ও নিরাপত্তা

    কমিশন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই ৫৫টি ক্রিটিক্যাল বুথ চিহ্নিত হয়েছে। স্পর্শকাতর ও অতিস্পর্শকাতর বুথের তালিকা এখনও প্রস্তুত হচ্ছে, ফলে সংখ্যা বাড়তে পারে। সিইও জানান, যদি কোনও বুথের মধ্যে অশান্তি হয়, তবে তার দায় সিআরপিএফের। প্রতি দফায় ভোট করাতে কত করে কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রয়োজন, তারও আভাস দিলেন মনোজ। অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে বদ্ধপরিকর কমিশন। তার জন্য কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা-ও তুলে ধরেন তিনি। সেই বিষয়ে জানাতে গিয়েই কেন্দ্রীয় বাহিনীর বাড়তি গুরুত্বের কথা বলেন মনোজ। তিনি বলেন, ‘‘সিআরপিএফ ঠিক ভাবে কাজ করবে। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি।’’ কমিশন জানিয়েছে, বুথের ভিতরে কোনও রকম অনিয়ম হলে কেন্দ্রীয় বাহিনী সেক্টর অফিসে জানাবে। তারা প্রিসাইডিং অফিসারকে ফোন করবে। বুথের মধ্যে যে কোনও ধরনের গন্ডগোলের জন্য দায়ী করা হবে সিআরপিএফ-কেই। সিইও বলেন, ‘‘সুষ্ঠু এবং অবাধ ভোট করাতে হবে সকলকে। দায়িত্বে গাফিলতি হলে পদক্ষেপ করা হবে।’’ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু করতে একাধিক কড়া পদক্ষেপের কথা জানালেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক—

    • ● প্রতিটি দফায় ২২০০–২৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনা
    • ● প্রতি বুথে ৩৬০ ডিগ্রি ওয়েব কাস্টিং
    • ● প্রয়োজনে ড্রোন নজরদারি
    • ● ২৯৪টি আসনে ২৯৪ জন পর্যবেক্ষক
    • ● পুলিশ প্রশাসনের ওপর কড়া নজর

    মনোজ জানান, প্রতিটি বুথে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রতি বুথে ৩৬০ ডিগ্রি ওয়েব কাস্টিং থাকবে, যা তিনটি আলাদা কেন্দ্র থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হবে। কোনও বুথের ভোটগ্রহণ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে, সেই ক্ষেত্রে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে। এছাড়াও জানানো হয়েছে, রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের জন্য ২৯৪ জন জেনারেল অবজারভার নিয়োগ করা হবে। এছাড়া, রাজ্যের ২৮টি পুলিশ জেলা ও ৬টি পুলিশ কমিশনারেটে দুজন করে বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক থাকবেন। কলকাতায় ঝুঁকি বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত পর্যবেক্ষক নিয়োগের সম্ভাবনাও রয়েছে।

    প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ

    থানার ওসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এলাকায় অবৈধ অস্ত্র বা বোমা মজুত থাকলে ১৯ মার্চের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। ভোট চলাকালীন বা ভোট-পরবর্তী হিংসার জন্য পুলিশকেই জবাবদিহি করতে হবে বলে স্পষ্ট করে দিয়েছে কমিশন। সিইও সতর্ক করে বলেন, ইচ্ছাকৃত গাফিলতি ধরা পড়লে সংবিধানের ৩১১ ধারা প্রয়োগ করা হবে।

    ভোট প্রক্রিয়ায় নতুন উদ্যোগ

    স্বচ্ছতা বাড়াতে এবার একাধিক নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—

    • ● প্রতিটি ইভিএমে থাকবে প্রার্থীদের রঙিন ছবি
    • ● ভোটার ইনফরমেশন স্লিপ এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশন দেবে
    • ● বিএলওরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্লিপ পৌঁছে দেবেন
    • ● এই স্লিপে থাকবে ভোটারের নাম, বুথের বিবরণ ও পার্ট নম্বর।

    ভোটার তালিকা ও বিশেষ উদ্যোগ

    ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিচারাধীন ৬০ লক্ষ নামের মধ্যে ইতিমধ্যে প্রায় ২০ লক্ষ নিষ্পত্তি হয়েছে। এই কাজে রাজ্যজুড়ে ৭০৫ জন বিচারপতি নিযুক্ত রয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ১.৫-২ লক্ষ আবেদন নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।

    বয়স্ক ভোটারদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা

    • ● ৮৫ বছরের ঊর্ধ্ব ভোটারদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা (ওলা/উবারের সঙ্গে আলোচনা)
    • ● বাড়িতে ১২ডি ফর্ম পূরণ করে ভোট
    • ● রাজ্যে ১০০ বছরের বেশি ভোটার: ৬,৬৫৩ জন

    মনোজ বলেন, ‘‘ভোটার ইনফর্মেশন স্লিপে কিউআর কোড থাকবে। এর আগে রাজনৈতিকদল ওই স্লিপ দিত। এ বার বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে দিয়ে আসবেন।’’ ৮৫ বা তার বেশি বয়সি ভোটারেরা বাড়ি থেকে ভোটদান করতে পারবেন। সিইও বলেন, ‘‘ওই ভোটারেরা বাড়িতে ১২ডি ফর্ম পূরণ করে ভোট দিতে পারবেন। বাড়িতে গিয়ে তাঁর ভোট নিয়ে আসা হবে।’’

  • Suvendu Slams Mamata: “ভুয়ো, কেউ কোনও অর্থ পাবেন না”, মমতার ডিএ ঘোষণা নিয়ে শুভেন্দু, ‘ভাঁওতা’ দাবি সরকারি কর্মীদের একাংশেরও

    Suvendu Slams Mamata: “ভুয়ো, কেউ কোনও অর্থ পাবেন না”, মমতার ডিএ ঘোষণা নিয়ে শুভেন্দু, ‘ভাঁওতা’ দাবি সরকারি কর্মীদের একাংশেরও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করে। তবে সেই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা (Mamata Banerjee DA Hike) করে জানান, পুরোহিত ও মোয়াজ্জিনদের মাসিক ভাতা ৫০০ টাকা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি, বকেয়া ২৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (DA Hike Announcement) মার্চ মাস থেকেই দেওয়া শুরু করবে রাজ্য সরকার। গত ১৫ বছর ধরে রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। ফলে শাসকদলের বিরুদ্ধে কিছুটা স্বাভাবিক প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আসন্ন নির্বাচনে ভাতা-নির্ভর ভোটব্যাঙ্কের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে শাসকদল, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

    “কেউ কোনও অর্থ পাবেন না” বললেন শুভেন্দু

    মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে তীব্র কটাক্ষ করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Slams Mamata)। তাঁর দাবি, “এই ঘোষণাগুলি সম্পূর্ণ ভুয়ো। কেউ কোনও অর্থ পাবেন না। সবটাই মুখ্যমন্ত্রীর টুইট হিসেবেই থেকে যাবে।” কেন এমন মন্তব্য করছেন, তার ব্যাখ্যাও দেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার পর ভাতা বা সুবিধার পরিমাণ এবং উপভোক্তার সংখ্যা বাড়ানো যায় না। সেই কারণেই এই ঘোষণাগুলি বাস্তবে কার্যকর হবে না বলে দাবি করেন তিনি। এমনকি তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি প্রতারণার সামিল। শুভেন্দু অধিকারীর মূল অভিযোগ দুটি স্তরে— প্রথম, মডেল কোড অব কন্ডাক্ট (MCC) কার্যকর হওয়ার সময়সীমা। দ্বিতীয়, ভোট ঘোষণার পর নতুন আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর বিধিনিষেধ। তাঁর দাবি, নির্বাচন ঘোষণার পর কোনওভাবেই “ভাতার পরিমাণ” বা “সুবিধাভোগীর সংখ্যা” বাড়ানো যায় না। ফলে এই ঘোষণা বাস্তবে কার্যকর হবে না এবং এটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই থেকে যাবে। এমনকি তিনি ইঙ্গিত দেন, সুপ্রিম কোর্ট বা নির্বাচন কমিশনের বিশেষ অনুমতি ছাড়া এই সুবিধা কার্যকর করা সম্ভব নয়।

    ‘ভাঁওতা’ দাবি সরকারি কর্মীদের একাংশেরও

    শুধু বিরোধী দলনেতা নন, মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) ঘোষণাকে ‘আইওয়াশ’ বা ‘ভাঁওতা’ বলে সরব হয়েছেন রাজ্য সরকারি কর্মীদের একাংশও। বিশেষ করে, এই সংক্রান্ত অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তর অস্বচ্ছতা রয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা। অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রথমত, এখনই সমস্ত বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। প্রথম পর্যায়ে জানুয়ারি ২০১৬ থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ মেটানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ মেটানোর বিষয়ে এখনই কোনও দিশা দেখায়নি সরকার। দ্বিতীয়ত, বকেয়া অর্থ দেওয়া হবে দুটি সমান কিস্তিতে। প্রথম কিস্তি মিলবে চলতি বছরের মার্চ মাসে এবং দ্বিতীয় কিস্তি দেওয়া হবে সেপ্টেম্বরে। অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স’ (AICPI Index) অনুযায়ী এই বকেয়া গণনা করা হবে। তৃতীয়ত, চতুর্থ শ্রেণির কর্মী এবং পেনশনভোগীরা তাঁদের বকেয়া টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নগদ হিসেবে পেলেও, গ্রুপ এ, বি এবং সি এই তিন বিভাগের কর্মীদের বকেয়া টাকা সরাসরি তাঁদের জিপিএফ (জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড) অ্যাকাউন্টে জমা হবে। তবে, ওই অর্থ দুই বছর পর্যন্ত তোলা যাবে না বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। যে কারণে, আন্দোলনকারী সরকারি কর্মীরা সরকারের এই ঘোষণাকে ‘ভাঁওতা’ বলে উল্লেখ করছেন।

  • Moringa Health Benefits: বসন্তে ভরসা সজনে! ভোগান্তির দাওয়াই লুকিয়ে শাক থেকে ডাঁটায়

    Moringa Health Benefits: বসন্তে ভরসা সজনে! ভোগান্তির দাওয়াই লুকিয়ে শাক থেকে ডাঁটায়

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বেলা বাড়লেই বাড়ছে তাপমাত্রার পারদ। ঘাম হচ্ছে। আবার রাতের দিকে আবহাওয়া হালকা ঠান্ডা। কখনো কখনো এমন হাওয়ার দাপট, বেশ ঠান্ডা অনুভূতি! তাপমাত্রার এই রকমফের বসন্তের চেনা ছন্দ! কিন্তু আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনা বাড়াচ্ছে বিপদ। শিশু থেকে প্রৌঢ় সকলেই প্রায় সর্দি-কাশিতে ভুগছে। আট থেকে আশি জ্বর, পেটের সমস্যায় কাবু। অনেকেই ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া ঘটিত একাধিক রোগে ভুগছেন। তাই বসন্ত ঋতুতে সুস্থ থাকতে, শরীরের দিকে বাড়তি নজরদারি (Spring Superfood) দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন বাঙালির অতি পরিচিত শাক-সব্জিই বসন্তের ভোগান্তি থেকে রেহাই দেবে। তাই বিশেষজ্ঞদের একাংশের ভরসা, সজনে ডাঁটা এবং সজনে শাক (Moringa Health Benefits)।

    কেন বসন্তে ভরসা জোগাচ্ছে সজনে ডাঁটা এবং শাক?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বসন্তে তাপমাত্রা ক্রমাগত ওঠানামা করে। তাই আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তন হয়। আর তার জেরেই বাতাসে ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসের সক্রিয়তা বেড়ে যায়। যে কেউ তাই নানান সংক্রামক রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। নানান রোগের ঝুঁকিও বাড়ে। সজনে ডাঁটা এবং সজনে শাক (Moringa Health Benefits) রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায়। তাই এই সব্জি খেলে সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমে। রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে। তাছাড়া, সজনে ডাঁটা এবং শাক ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং আয়রন, ক্যালসিয়ামের মতো খনিজ সমৃদ্ধ। তাই এই খাবার সর্দি-কাশির ভোগান্তি কমায়‌। তাই বসন্তের ভোগান্তি কমাতে সজনে ডাঁটা এবং শাক বিশেষ সাহায্য করে। তাছাড়া, চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বসন্ত ঋতুতে হজমের সমস্যা বাড়ে। হঠাৎ গরম পড়ে যাওয়ার জন্য হজমের গোলমাল দেখা যায়। সজনে ডাঁটা এবং শাক ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার। তাই এই খাবার খেলে হজম শক্তি ভালো হয়‌।

    সজনে ডাঁটা এবং শাক শরীরে কী উপকার করে?

    হাড় মজবুত করে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সজনে ডাঁটা এবং শাক (Moringa Health Benefits) ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার। তাই এই সব্জি খেলে হাড় মজবুত হয়। বাঙালিদের মধ্যে হাড়ের সমস্যা বাড়ছে। বিশেষত বাঙালি মহিলাদের হাড় ক্ষয় রোগের প্রকোপ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তাই চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই সব্জি খেলে হাড় মজবুত থাকবে।

    হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বসন্তের ভোগান্তি কমানোর পাশাপাশি সজনে ডাঁটা এবং শাক (Moringa Health Benefits) হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, সজনে ডাঁটা এবং শাক খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সাহায্য করে। তাই এই সব্জি খেলে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে। শীতের শেষে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। কারণ এই আবহাওয়ায় তাপমাত্রার তারতম্য ঘটে। এই পরিস্থিতিতে সজনে ডাঁটা এবং শাক বিশেষ উপকারি।

    ত্বক এবং চুলের জন্য বিশেষ উপকারি!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সজনে ডাঁটা এবং শাক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার। তাই নিয়মিত এই খাবার খেলে চুল পড়ার সমস্যা কমবে। ত্বক মসৃণ থাকবে।

    শরীর টক্সিন মুক্ত করতে বিশেষ সাহায্য করে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরের অতিরিক্ত বর্জ্য মুক্ত করতে সজনে ডাঁটা এবং শাক (Moringa Health Benefits) বিশেষ সাহায্য করে। তাঁরা জানাচ্ছেন, লিভার ও কিডনি সুস্থ রাখতে এবং শরীরের টক্সিন মুক্ত করতে বিশেষ সাহায্য করে।

    কীভাবে এই সব্জি খাবেন?

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুর বয়স বছর দুয়েক হলেই সজনে ডাঁটা দেওয়া যেতে পারে। শিশু হোক বা বয়স্ক, সকলেই এই সব্জি খেতে পারেন। তাঁদের পরামর্শ, ডালে সজনে ডাঁটা দেওয়া যেতে পারে (Spring Superfood)। যে কোনও সব্জি— করলা, বেগুন কিংবা কুমড়োর তরকারির সঙ্গে সজনে ডাঁটা দেওয়া যেতে পারে। সজনে শাক, রসুন দিয়ে হালকা ভেজেও খাওয়া যেতে পারে। মশলা হিসাবে রসুন খুবই উপকারি। আবার মাছের ঝোলেও সজনে ডাঁটা দেওয়া যেতে পারে। যেকোনও তরকারি, ডাল বা ঝোলে সজনে ডাঁটা দিলেই শরীরে উপকার হবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Insomnia Among Indians: ঘুমেই লুকিয়ে রয়েছে ভালো থাকার চাবিকাঠি! কেন ঘুম-সমস্যায় ভুগছেন মানুষ?

    Insomnia Among Indians: ঘুমেই লুকিয়ে রয়েছে ভালো থাকার চাবিকাঠি! কেন ঘুম-সমস্যায় ভুগছেন মানুষ?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    ভালো থাকার চাবিকাঠি রয়েছে ঘুমেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, দীর্ঘ সুস্থ জীবন যাপনের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত ঘুম। কিন্তু ভারত সহ বিশ্বের একাধিক দেশে ঘুম নিয়ে জটিলতা বাড়ছে। অর্থাৎ, অধিকাংশ মানুষের (Insomnia Among Indians) পর্যাপ্ত ঘুম হয় না। শরীরে ঘুমের ঘাটতি দেখা যায়। বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দেয়। তাই নানান শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। একাধিক রোগের কারণ হয়ে উঠছে অপর্যাপ্ত ঘুম। তাই বিশ্ব ঘুম দিবসে (World Sleep Day) চিকিৎসকদের পরামর্শ, ভালো থাকতে, সুস্থ জীবন যাপনের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি।

    ভারতে কি বাড়ছে অনিদ্রার সমস্যা? কারা বেশি এই সমস্যায় ভুগছেন?

    ভারতে অনিদ্রার সমস্যা (Sleep Crisis in India) বাড়ছে। একাধিক সর্বভারতীয় সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ভারতে প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ নিয়মিত ঘুমের সমস্যায় ভোগেন (Insomnia Among Indians)। ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের মধ্যে ঘুমের সমস্যা বাড়ছে। করোনা পরবর্তী কালে অনিদ্রার সমস্যা দেশ জুড়ে বেড়েছে। গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকা। বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যা বাড়ছে। বিশেষত শহুরে ভারতীয়দের মধ্যে অনিদ্রার সমস্যা বেশি দেখা দিচ্ছে।

    কেন ভারতীয়দের মধ্যে অনিদ্রার সমস্যা বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে ষাটোর্ধ্ব মানুষদের মধ্যে অনিদ্রার সমস্যা ছিল (Insomnia Among Indians)। সাধারণত বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুম চক্র বদলে যায়। অর্থাৎ শরীরে একাধিক হরমোনের পরিবর্তন হয়। যার ঘুমের উপরে সরাসরি প্রভাব পড়ে। তাছাড়া বয়স বাড়লে নানান অসুখের কারণেও গভীর ঘুম হয় না। তবে গত কয়েক বছরে কম বয়সীদের মধ্যে অনিদ্রার সমস্যা বেড়েছে। ২০-৪০ বছর বয়সিদের মধ্যে অনিদ্রার সমস্যা বেড়ে যাওয়ার (Sleep Crisis in India) অন্যতম কারণ অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই বয়সিদের রাত জেগে মোবাইল দেখার অভ্যাস বেড়েছে। যার জেরে মস্তিষ্কের স্নায়ু বাড়তি উত্তেজিত হয়ে থাকে। তাই ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। এছাড়া অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ পর্যাপ্ত ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। তাছাড়া বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই বয়সীদের অনেকেরই কাজের সময় গভীর রাত পর্যন্ত থাকে। তাই রাতে জেগে থাকার অভ্যাস তৈরি হয়ে যায়। যা শরীরের জন‌্য ক্ষতিকারক।

    কেন অনিদ্রার সমস্যাকে বাড়তি নজরদারি দেওয়া জরুরি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশু বা প্রাপ্তবয়স্ক, শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। নিয়মিত ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা শরীরের জন্য প্রয়োজন (Insomnia Among Indians)। নিয়মিত অপর্যাপ্ত ঘুম হলে একাধিক রোগের ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, স্মৃতিশক্তি ধরে রাখতে, মস্তিষ্ক সক্রিয় রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। ঘুম হলে তবেই শরীরের পর্যাপ্ত হরমোন ক্ষরণ হবে। মস্তিষ্কের প্রয়োজনীয় বিশ্রাম হলে, তবে সমস্ত স্নায়ু সক্রিয় থাকবে। কাজে মনোযোগ বাড়াতে এবং বিরক্তি কমাতে নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি (Sleep Crisis in India)। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অপর্যাপ্ত ঘুমের ফলে মস্তিষ্কের ঠিকমতো বিশ্রাম হয় না। এর জেরেই মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে। কাজে মনোযোগ হয় না। ফলে কর্মজীবনেও তার গভীর প্রভাব পড়ে। তাই ঘুম পর্যাপ্ত জরুরি। এছাড়াও চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অপর্যাপ্ত ঘুমের জেরে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। তাই নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। তবেই দীর্ঘ সুস্থ জীবন সম্ভব।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Typhoid in Kolkata: গ্রীষ্মে কলকাতায় বাড়তে পারে টাইফয়েডের ঝুঁকি! কীভাবে রোগ প্রতিরোধ সম্ভব?

    Typhoid in Kolkata: গ্রীষ্মে কলকাতায় বাড়তে পারে টাইফয়েডের ঝুঁকি! কীভাবে রোগ প্রতিরোধ সম্ভব?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    গরমের আঁচ বাড়ছে! তাপমাত্রার পারদ জানান দিচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই রাজ্যে গরমের প্রকোপ‌ দেখা দেবে। আর এই পরিস্থিতিতে কলকাতা ও তার আশপাশের জেলা নিয়ে বাড়তি উদ্বিগ্ন চিকিৎসক মহল। বিশেষত টাইফয়েড জ্বর নিয়ে আগামী কয়েক মাসে বাড়তি সতর্কতা জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    কলকাতায় টাইফয়েডের ঝুঁকি কতটা?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দেশের মধ্যে অন্যতম টাইফয়েড প্রবণ এলাকা হল কলকাতা। তাই কলকাতা ও তার আশপাশের এলাকায় টাইফয়েড নিয়ে বাড়তি সতর্কতা দরকার। তবে চলতি বছরে কলকাতার পাশপাশি উত্তর চব্বিশ পরগনা, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, হাওড়া, হুগলি সহ একাধিক জেলায় টাইফয়েড আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক। গরমের শুরুতেই টাইফয়েডের দাপট জানান দিচ্ছে, আগামী দিনে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ-র তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর প্রায় ৮০ লাখ মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হন। যার একটা বড় অংশ পশ্চিমবঙ্গে থাকেন। তবে টাইফয়েড সাধারণত বর্ষায় প্রকোপ দেখায়। কিন্তু এ বছরে গরমের শুরুতেই টাইফয়েড আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায়, চলতি বছরে এই রোগের প্রকোপ আরও প্রবল হতে পারে বলেই আশঙ্কা চিকিৎসকদের একাংশের।

    কেন গরমে এই রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, টাইফয়েড একটি ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগ। মূলত জলের মাধ্যমেই এই রোগ সংক্রমণ ঘটে। তবে খাবারের মাধ্যমেও এই রোগের সংক্রমণ ঘটতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, কলকাতা ও তার আশপাশের এলাকায় একাধিক খাবারের দোকান রয়েছে। নিয়মিত অসংখ্য মানুষ এই সব দোকান থেকে খাবার কিনে খান‌। কিন্তু অধিকাংশ জায়গায় খাবারের মান স্বাস্থ্যবিধির মাপকাঠিতে পাশ করে না। গরমে খাবার অনেক সময়েই নষ্ট হয়ে যায়। ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধে। আর সেই খাবার খাওয়ার ফলে টাইফয়েডের ঝুঁকি বাড়ছে। কলকাতা ও তার আশপাশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় টাইফয়েডের ঝুঁকি বেশি। অধিকাংশ জায়গায় দূষণের মাত্রাও মারাত্মক। ফলে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। আবার এত বেশি মানুষ বাইরের খাবারে অভ্যস্ত, যে গরমেও টাইফয়েডের জীবাণু সক্রিয় থাকছে। রোগ ছড়াতে সক্ষম হচ্ছে।

    কাদের ঝুঁকি বেশি?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, যেকোনও মানুষের টাইফয়েড হতে পারে। ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে যেকোনও বয়সেই কেউ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে শিশু ও কৈশোরে এই রোগ সবচেয়ে বেশি দাপট দেখায়। তার অন্যতম কারণ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ শক্তি তুলনামূলকভাবে কম থাকে। তাই সংক্রামক রোগের প্রকোপও বেশি হয়। তাছাড়া অনেক সময়েই শিশু ও কিশোরদের স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা হয় না। হাত ঠিকমতো না ধুয়ে খাবার খাওয়া, যেকোনও রঙিন সরবত খাওয়া এগুলো রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তবে যারা নিয়মিত বাইরে যান, বাইরের খাবার খান, বাইরের জল খান, তাঁদের টাইফয়েডে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

    কীভাবে রোগ প্রতিরোধ সম্ভব?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, জ্বর, বমি, পেট ব্যথার মতো উপসর্গ টাইফয়েডের জানান দেয়। তাই এই ধরনের সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত রোগ নির্ণয় জরুরি। চিকিৎসকদের পরামর্শ মতো চললে বড় বিপদ আটকানো সহজ। তবে প্রথম থেকেই সচেতন থাকলে রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমবে। তাই জল পরিশ্রুত কিনা সে দিকে নজর দেওয়া জরুরি। গরমে অপরিচ্ছন্ন এলাকা থেকে খাবার একেবারেই খাওয়া যাবে না। রঙিন সরবত খাওয়া উচিৎ নয়। এছাড়া শৌচালয় ব্যবহারের সময় স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলা জরুরি। কারণ অপরিচ্ছন্ন শৌচালয় থেকে টাইফয়েড ছড়ানোর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। এই দিকে খেয়াল রাখলে এই ব্যাকটেরিয়া ঘটিত অসুখের দাপট আটকানো সহজ হবে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • World Kidney Day 2026: তিরিশ পেরোলেই চিন্তা বাড়াচ্ছে কিডনি! ভারতে কেন বাড়ছে কিডনির সমস্যায় আক্রান্তের সংখ্যা?

    World Kidney Day 2026: তিরিশ পেরোলেই চিন্তা বাড়াচ্ছে কিডনি! ভারতে কেন বাড়ছে কিডনির সমস্যায় আক্রান্তের সংখ্যা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    রোগ আর বয়সের সীমারেখা মানছে না। তাই প্রৌঢ় কালের একাধিক রোগ এখন কুড়ির চৌকাঠ পেরনোর পরেই জানান দিচ্ছে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের মতোই ভারতে উদ্বেগজনক ভাবে বাড়ছে কিডনির অসুখ। কম বয়সিদের মধ্যেও কিডনির কার্যকারিতা নিয়ে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তিরিশ বছরের পরেই অনেকেই কিডনির নানান সমস্যা নিয়ে ভুগছেন। ১২ মার্চ ওয়ার্ল্ড কিডনি ডে (World Kidney Day 2026)। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, বিশ্ব জুড়ে কিডনির রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। কিডনির অসুখ রুখতে রোগ সম্পর্কে সচেতনতার পাশপাশি পরিবেশ রক্ষা নিয়েও সতর্ক থাকা জরুরি। তবেই সুস্থ জীবন যাপন সম্ভব।

    কিডনি সুস্থ রাখতে কেন পরিবেশ রক্ষার ডাক দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহল?

    ওয়ার্ল্ড কিডনি ডে উপলক্ষে বিশ্ব জুড়ে কিডনির অসুখ সম্পর্কে একাধিক সচেতনতা কর্মসূচি চলছে। অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন কীভাবে কিডনির কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়, সে সম্পর্কে সব মহলে পাঠ দেওয়া হচ্ছে। তবে, তার পাশপাশি কিডনি সুস্থ রাখতে পরিবেশ রক্ষা কতখানি জরুরি, সেটাও বোঝানো হচ্ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, পরিবেশ সুস্থ না থাকলে সুস্থ জীবন যাপন সম্ভব নয়। তাই পরিবেশ দূষণ নিয়ে সব মহলের সচেতনতা জরুরি। মারাত্মক দূষণ যেমন ফুসফুস, শ্বাসনালীর একাধিক রোগের কারণ হয়ে ওঠে, তেমনি দূষণের জেরে কিডনির অসুখের ঝুঁকিও বাড়ে। তাই কিডনি সুস্থ রাখতে পরিবেশ রক্ষা জরুরি। জল দূষণ, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে থাকলে কিডনির অসুখের ঝুঁকি কমবে। দূষিত পরিবেশ কিডনির উপরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাছাড়া চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কিডনির অসুখ নিরাময়ের অন্যতম উপায় হলো ডায়ালিসিস। যার জন্য প্রচুর পরিমাণ জল এবং বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। পরিবেশ থেকেই এই উপাদান পাওয়া যায়। কিডনির অসুখে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লে জল ও বিদ্যুতের চাহিদাও আরও বাড়বে। তাই প্রথম থেকেই জীবন যাপন ও পরিবেশ নিয়ে সচেতন থাকা জরুরি। যাতে রোগের বোঝা না বাড়ে‌।

    ভারতে কিডনির সমস্যা কতখানি উদ্বেগের?

    বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতোই ভারতেও কিডনি আক্রান্ত উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে মোট প্রাপ্ত বয়স্কদের ১৩ শতাংশ কিডনির অসুখে আক্রান্ত। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশের বয়স ৪০ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে। প্রতি বছর ১০ লাখের বেশি মানুষ নতুন করে কিডনির রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে ভারতে ২০ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে কিডনি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে তেলেঙ্গানা, গোয়া এবং কেরলে কিডনি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। তবে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতিও‌ যথেষ্ট উদ্বেগজনক। তথ্য অনুযায়ী, এ রাজ্যের প্রায় ৫০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কিডনির রোগে আক্রান্ত।

    কেন কিডনির অসুখের দাপট বাড়ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কিডনির অসুখের অন্যতম কারণ ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ। এ দেশে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ মারাত্মক হারে বাড়ছে। তাই কিডনির অসুখের ঝুঁকিও বাড়ছে। তাছাড়া, অতিরিক্ত তেল মশলা জাতীয় প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত খাওয়ার ফলে কিডনির কার্যকারিতা কমছে। এ দেশের একাংশের মানুষ পরিশ্রুত পানীয় জল পান না। বিষাক্ত খনিজ সমৃদ্ধ অপরিশ্রুত জল খাওয়ার জেরে কিডনির অসুখের ঝুঁকি বাড়ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, জীবন যাপন স্বাস্থ্যকর করা কতখানি জরুরি, সে সম্পর্কে সচেতনতা বাড়লে কিডনির রোগের বোঝাও কমবে।

LinkedIn
Share