Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • Republic Day Parade 2026: প্রথমবার দিল্লির কর্তব্য পথে বাস্তব যুদ্ধের প্রদর্শন! প্রজাতন্ত্র দিবসের মূল ভাবনা ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর

    Republic Day Parade 2026: প্রথমবার দিল্লির কর্তব্য পথে বাস্তব যুদ্ধের প্রদর্শন! প্রজাতন্ত্র দিবসের মূল ভাবনা ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাল ২০২৬! অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) পর এই প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবস। দিল্লিতে প্রজাতন্ত্র দিবসের (Republic Day Parade 2026) বিশেষ কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হচ্ছে প্রতিবারের মতোই। তবে এই বছর থাকবে বিশেষ অস্ত্র প্রদর্শন। সঙ্গে বাস্তব যুদ্ধের পটভূমি। সঙ্গে বাজবে বন্দে মাতরম-এর সুর। ২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের উদ্‌যাপন ঘিরে বিশেষ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করল প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। আগামী ২৬ জানুয়ারি দিল্লির কর্তব্য পথ (Kartavya Path)-এ অনুষ্ঠিত রিপাবলিক ডে প্যারেডের মূল থিম হবে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি (150 years of Vande Mataram)। সামরিক শক্তি ও ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মেলবন্ধনই থাকবে এবারের কুচকাওয়াজের কেন্দ্রে।

    ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর: মূল থিম

    ‘১৫০ ইয়ার্স অব বন্দে মাতরম’ (150 years of Vande Mataram) থিমটি কুচকাওয়াজের ভিজ্যুয়াল, ট্যাবলো, সঙ্গীত, সাজসজ্জা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় ফুটে উঠবে। ১৯২৩ সালে শিল্পী তেজেন্দ্র কুমার মিত্রের আঁকা ‘বন্দে মাতরম’-এর বিভিন্ন স্তবকভিত্তিক চিত্রকর্ম কর্তব্য পথের পাশে প্রদর্শিত হবে। কুচকাওয়াজের শেষে ‘বন্দে মাতরম’ লেখা একটি বিশাল ব্যানার উন্মোচন করা হবে এবং রবার বেলুন ওড়ানো হবে। ১৯ থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে সেনা, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর উদ্যোগে ‘বন্দে মাতরম’ থিমে ব্যান্ড পারফরম্যান্স অনুষ্ঠিত হবে।

    প্রথমবার ভিভিআইপি তকমার ইতি

    প্রচলিত রীতিনীতি থেকে সরে এসে প্যারেড ভেন্যুর এনক্লোজারগুলির জন্য আগে ব্যবহৃত ‘ভিভিআইপি’ ও অন্যান্য তকমা আর ব্যবহার করা হবে না। তার পরিবর্তে, সব এনক্লোজারের নামকরণ করা হয়েছে ভারতের বিভিন্ন নদীর নামে— প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের শীর্ষ আধিকারিকরা এ কথা জানান। এই নদীগুলির মধ্যে রয়েছে—বিয়াস, ব্রহ্মপুত্র, চম্বল, চেনাব, গান্ডক, গঙ্গা, ঘাঘরা, গোদাবরী, সিন্ধু, ঝিলম, কাবেরী, কোসি, কৃষ্ণা, মহানদী, নর্মদা, পেন্নার, পেরিয়ার, রবি, সোন, সুতলজ, তিস্তা, বৈগাই এবং যমুনা। একইভাবে, ২৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বিটিং রিট্রিট অনুষ্ঠানের জন্য এনক্লোজারগুলির নামকরণ করা হবে ভারতের বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের নামে। এর মধ্যে থাকবে—বাঁশি (বাঁশুরি), ডমরু, একতারা, এসরাজ, মৃদঙ্গম, নাগাড়া, পাখাওয়াজ, সন্তুর, সারঙ্গি, সারিন্দা, সরোদ, শেহনাই, সেতার, সুরবাহার, তবলা ও বীণা।

    অপারেশন সিঁদুর- এর পর প্রথম

    অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) পর এই ২৬ জানুয়ারির (Republic Day Parade 2026) প্যারেডে ভারতের সামরিক শক্তি ধরা দেবে একেবারে বাস্তব যুদ্ধের ছকে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর (Indian Army)–র কুচকাওয়াজে এ বার আর শুধু আলাদা আলাদা বাহিনী নয়—দেখানো হবে কী ভাবে ধাপে ধাপে যুদ্ধক্ষেত্রে এগোয় সেনা। কর্তব্য পথে সেই দৃশ্যই প্রথমবার প্রকাশ্যে দেখতে পাবেন সাধারণ মানুষ। সূত্রের খবর, কুচকাওয়াজ শুরু হবে রেকনেসেন্স বা নজরদারি পর্ব দিয়ে। উচ্চগতির রেকনেসেন্স যান, ড্রোন, অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল—সব মিলিয়ে যুদ্ধ শুরুর মুহূর্তের প্রস্তুতিই তুলে ধরা হবে। এর পর ধাপে ধাপে যুক্ত হবে লজিস্টিকস, সাপোর্ট ইউনিট এবং ব্যাটল গিয়ারে সজ্জিত সেনা। এই প্রথম রিপাবলিক ডে প্যারেডে ভারতীয় সেনা ‘ফেজড ব্যাটল অ্যারে’ ফরম্যাটে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করবে। এর পাশাপাশি থাকবে ৬১ ক্যাভালরির মাউন্টেড কলাম এবং সাতটি মার্চিং কনটিনজেন্ট।

    নজরদারি থেকে বায়ু সেনা—যুদ্ধের পূর্ণ ছবি

    প্রথমেই দেখা যাবে হাই-মোবিলিটি রেকনেসেন্স ভেহিকল, যেগুলিতে থাকবে সার্ভিলেন্স ড্রোন ও ব্যাটলফিল্ড সার্ভিনেন্স রেডার। আকাশে গর্জন তুলবে ‘অ্যাপাচে’ (Apache) এবং লাইট কমব্যাট হেলিকপ্টার ‘প্রচণ্ড’ (Light Combat Helicopter Prachand)। এর পর একে একে নামবে ভারী অস্ত্রশস্ত্র—টি-৯০ ট্যাঙ্ক, অর্জুন মেইন ব্যাটল ট্যাঙ্ক, বিএমপি-২, নাগ মিসাইল সিস্টেম, আর্টিলারি গান, এয়ার ডিফেন্স প্ল্যাটফর্ম ও ক্ষেপণাস্ত্র। থাকবে রোবোটিক ডগ, আনম্যানড গ্রাউন্ড ভেহিক্যল, অল-টেরেন ভেহিক্যল এবং রোবোটিক মিউল। ফ্লাইপাস্টে অংশ নেবে রাফাল (Rafale), সু-৩০ (Su-30), পি-৮১ (P-8I), সি-২৯৫ (C-295), মিগ-২৯ ( MiG-29), ও বিভিন্ন ফর্মেশনে এমআই -১৭ ( Mi-17) কপ্টার।

    নতুন কমান্ডো ইউনিট

    এ বছরের কুচকাওয়াজে বিশেষ আকর্ষণ সেনার প্রাণী বাহিনী—জানস্কার পোনি, ব্যাকট্রিয়ান উট এবং প্রশিক্ষিত কুকুর। ‘উঁচা কদম তাল’-এ পাশাপাশি প্রথমবার আত্মপ্রকাশ করবে নতুন গঠিত ভৈরব লাইট কমান্ডো ব্যাটালিয়ন (Bhairav light commando battalion)। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, মোট ১৮টি মার্চিং কন্টিনজেন্ট ও ১৩টি ব্যান্ড অংশ নেবে। পুরো যুদ্ধছকভিত্তিক প্রদর্শন চলবে প্রায় ১৫ মিনিট।

    মেক-ইন ইন্ডিয়ার অস্ত্র

    ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হবে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’-র যাবতীয় অস্ত্রশস্ত্র। এখানেই শেষ নয়, সৈনিকরা প্রত্যেক বারের মতো বিভিন্ন ফরমেশন তৈরি করে রাজপথে চমক লাগিয়ে দেবে দর্শকদের। সব মিলিয়ে, অপারেশন সিঁদুর–পরবর্তী প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবসে ভারতের বার্তা স্পষ্ট—যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত সেনা শুধু শক্তিশালীই নয়, সম্পূর্ণ আধুনিক।

    ৩০টি ট্যাবলো

    এবার কর্তব্য পথে শোভাযাত্রায় অংশ নেবে মোট ৩০টি ট্যাবলো—এর মধ্যে ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে এবং ১৩টি বিভিন্ন মন্ত্রক ও দফতরের। স্বাধীনতা, আত্মনির্ভরতা, উদ্ভাবন, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জাতীয় উন্নয়নের নানা দিক তুলে ধরা হবে। এগুলি বিভিন্ন প্রদেশ থেকে দিল্লির রাজপথে চলবে এবং তুলে ধরবে বিভিন্ন প্রদেশের সংস্কৃতিকে। ভারতীয় বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রাক্তন সেনাকর্মীদের অবদান তুলে ধরতে একটি বিশেষ ভেটেরান্স ট্যাবলোও থাকবে। ট্যাবলোগুলির মূল ভাবনা হবে— ‘স্বাধীনতার মন্ত্র – বন্দে মাতরম’ এবং ‘সমৃদ্ধির মন্ত্র – আত্মনির্ভর ভারত’।

    উপস্থিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা

    ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবস (Republic Day Parade 2026) উপলক্ষ্যে ভারতে আসছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা। সংবাদসংস্থা আইএএনএস সূত্রে খবর, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্টোনিও কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লিয়েন (Ursula von der Leyen) ২৫, ২৬, ২৭ জানুয়ারি তিনদিনের সফরে ভারতে আসছেন। ২৬ জানুয়ারি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে তাঁরা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে যে উদযাপন হতে চলেছে, সেই উৎসবে যোগ দিতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে ভারতে আসছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা।

    সমাজের নানা স্তর থেকে বিশেষ অতিথি

    প্রায় ১০,০০০ বিশেষ অতিথি কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করবেন। তাঁদের মধ্যে থাকবেন কৃষক, কারিগর, বিজ্ঞানী, উদ্ভাবক, উদ্যোগপতি, মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য, স্টার্ট-আপ প্রতিষ্ঠাতা, ক্রীড়াবিদ, ছাত্রছাত্রী, আদিবাসী প্রতিনিধি, সাফাইকর্মী এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের উপভোক্তারা। বিদেশি প্রতিনিধি ও যুব বিনিময় কর্মসূচিতেও অংশগ্রহণকারীরা থাকবেন।

    সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

    প্রায় ২,৫০০ শিল্পী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। ‘বন্দে মাতরম’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’—এই দুই থিমকে কেন্দ্র করেই পরিবেশনা সাজানো হবে। সৃজনশীল দলের নেতৃত্বে থাকছেন সঙ্গীত পরিচালক এম.এম. কীরাবানি, গীতিকার সুভাষ সেহগল, কোরিওগ্রাফার সন্তোষ নায়ার। অনুষ্ঠানের পরিচালনায় থাকবেন অনুপম খের। তত্ত্বাবধানে রয়েছেন ড. সন্ধ্যা পুরেচা।

    সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও সুবিধা

    জনসাধারণের জন্য আসনসংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। অনলাইন ও অফলাইনে টিকিট মিলবে। টিকিটধারীদের জন্য বিনামূল্যে মেট্রো যাত্রা ও পার্ক-অ্যান্ড-রাইড সুবিধা থাকবে। সব গ্যালারি থাকবে দিব্যাঙ্গ-বান্ধব। প্যারেডের পরে NCC ক্যাডেট ও স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে স্বচ্ছতা অভিযানও চালানো হবে। প্রজাতন্ত্র দিবসের পর ২৬ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত লালকেল্লায় অনুষ্ঠিত হবে ভারত পর্ব, যেখানে ট্যাবলো, আঞ্চলিক খাবার, হস্তশিল্প ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখা যাবে। ২৮ জানুয়ারি কারিয়াপ্পা প্যারেড গ্রাউন্ডে হবে প্রধানমন্ত্রীর এনসিসি র‍্যালি।

    বাংলার জন্য বিশষ ভাবনা

    এই বছর প্রজাতন্ত্র দিবস (Republic Day Parade 2026) বাংলার কাছেও বিশেষ। বন্দে মাতরম-এর ১৫০ বছর উপলক্ষে (150 years of Vande Mataram) পশ্চিমবঙ্গের বঙ্কিম ভবন—ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পৈতৃক বাড়িতেও বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে। খুশির জোয়ার জঙ্গলমহলের প্রত্যন্ত গ্রামেও। রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত হওয়ার ডাক পেয়েছেন জঙ্গলমহলের বাসিন্দা মৌসুমি ঘোষ। সারা দেশ থেকে মোট ১০০ জনকে ডাকা হয়েছে এই প্যারেডের অনুষ্ঠানে। তাঁদের মধ্যেই রয়েছেন মৌসুমি। জঙ্গলমহলের সিমলাপালের প্রত্যন্ত গ্রাম কড়াকানালী। এই এলাকায় বাস বহু কৃষক পরিবারের। তেমনই এক কৃষক পরিবারের সন্তান মৌসুমি। বাঁকুড়া সম্মিলনী কলেজের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের ছাত্রী তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেকে নিয়োজিত করেছেন সেবার কাজে। জাতীয় সেবা প্রকল্পে অংশ নেন তিনি। সেখানেই বিশেষ কৃতিত্বের জন্য মৌসুমিকে রাষ্ট্রপতি ভবনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

  • Postpartum Depression: দেশের ২২ শতাংশ মা পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের শিকার! কেন এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে?

    Postpartum Depression: দেশের ২২ শতাংশ মা পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের শিকার! কেন এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সন্তানের জন্ম দেওয়ার পরেই নিঃশব্দে হানা দিচ্ছে। চারপাশের আনন্দের মাঝেও মায়ের মনের গভীরে ক্ষত তৈরি করছে। আর বেশিরভাগ সময়েই সেই রোগের টের পাওয়া যাচ্ছে না। অসচেতনতার জেরেই সমস্যা আরও জটিল হচ্ছে। রোগ সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং রোগের চিকিৎসা না করলে পরবর্তীতে মা, সন্তান ও পরিবারের জন্য বড় সঙ্কট হয়ে উঠতে পারে। এমনটাই জানালেন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। দেশজুড়ে পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন (Postpartum Depression) বা প্রসবোত্তর অবসাদ বা মাতৃত্বকালীন বিষণ্ণতায় আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় সেই রকম তথ্য উঠে এসেছে। জানুয়ারি মাসে ম্যাটারনাল মেন্টাল হেলথ অ্যাওয়ারনেস (Maternal Mental Health Awareness) মাস পালন করা হয়। আর চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, মায়েদের এই সমস্যা নিঃশব্দে ‘মহামারি’-র আকার ধারণ করছে‌।

    কী বলছে সাম্প্রতিক তথ্য? কোন রাজ্যে সমস্যা বেশি?

    সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ভারতের ২২ শতাংশ মা পোস্টপার্টাম অবসাদের (Depression in New Mothers) শিকার হন।‌ তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশে, কর্নাটকের মতো রাজ্যে এই অবসাদে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। উত্তর ভারতের তুলনায় দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোতে মাতৃত্বকালীন অবসাদে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেশি। উত্তর ভারতে ১৫ শতাংশ মা পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশনের শিকার হন।‌ দক্ষিণের রাজ্যগুলোতে সেই আক্রান্তের সংখ্যা ২৬ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, আধুনিক শহুরে জীবন, ব্যক্তিকেন্দ্রিক ছোটো পরিবার এবং কাজ-পরিবার ব্যালেন্সের চাপ এই ধরনের অবসাদের অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে। অত্যাধিক সামাজিক প্রত্যাশা মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বাড়তি বিপদ তৈরি করছে।

    কেন পোস্টপার্টাম অবসাদ হয়?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মা হওয়ার পরবর্তী কালে এই অবসাদ খুবই স্বাভাবিক একটি সমস্যা। বহু নতুন মা এই ধরনের সমস্যায় ভোগেন। সন্তানের জন্ম দেওয়ায় পরে মায়ের শরীরে একাধিক হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। এই পরিবর্তন মানসিক স্বাস্থ্যের উপরেও‌ গভীর প্রভাব পড়ে। তাছাড়া সামাজিক পরিবর্তন মায়েদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপরে প্রভাব ফেলে। এই ধরনের অবসাদে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার পিছনে এই সামাজিক কারণকেও দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ মহিলা এখন কর্মজীবী। পরিবার ও কাজের মধ্যে ব্যালেন্স করা অনেক সময়েই কঠিন হয়ে পড়ে। সন্তান জন্মের পরে মায়েদের পরিবারে অনেকটাই দায়িত্ব বেড়ে যায়। অনেক সময়েই সেই দায়িত্ব পালনে নানান ত্রুটি হয়। যা তাকে সামাজিক হেনস্থার শিকার করে। ফলে নতুন মায়ের মধ্যে হতাশা জন্মায়। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, পোর্টপার্টাম অবসাদের নেপথ্যে থাকে ‘ভালো মা’ হয়ে ওঠার প্রতিযোগিতা।

    কেন‌ পোস্টপার্টাম অবসাদ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে পোস্টপার্টাম অবসাদের চিকিৎসায় সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো এই রোগ সম্পর্কে অবহেলা এবং অসচেতনতা। সন্তানের জন্মের পরে নবজাতকের মতো নতুন মায়ের যত্ন প্রয়োজন। শারীরিক যত্নের পাশপাশি তার মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া জরুরি এই সম্পর্কে সচেতনতা খুব কম। অধিকাংশ ক্ষেত্রে নতুন‌ মা অবসাদের শিকার হলে তাকে নানান কটুক্তির শিকার হতে হয়। যা তার জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক হয়ে ওঠে। পোস্টপার্টাম অবসাদ দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার কারণ হয়ে উঠতে পারে।‌ এর ফলে মায়ের স্নায়ু ও হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতা কমতে পারে। স্মৃতিশক্তি হ্রাসের ঝুঁকি বেড়ে‌ যায়। এমনকি মাতৃত্ব পরবর্তীতে আত্মহত্যার অন্যতম কারণ পোর্স্টপার্টোম অবসাদ‌ বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতের পাশপাশি আমেরিকা সহ বিশ্বের একাধিক উন্নত দেশেও সম্প্রতি এই অবসাদ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। আমেরিকান কলেজ অফ গাইনোকোলজি (ACOG) তরফ থেকে জানানো হয়েছে, পোস্টপার্টাম অবসাদ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ালে নতুন মায়েদের ৬০ শতাংশ মৃত্যু হার কমানো‌ যাবে। তাই ২৩ জানুয়ারি বিশ্ব জুড়ে এই নিয়ে সচেতনতা কর্মসূচি পালনের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।

    কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রোগ সম্পর্কে সচেতন হওয়া গেলে তবেই রোগ নির্ণয় সম্ভব। সন্তান জন্মের পরে সন্তানের দেখভালের সবটুকু মায়ের দায়িত্ব বলে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। তাঁদের পরামর্শ, সন্তানের দায়িত্ব মা ও বাবা ভাগ করে নেওয়া জরুরি। পরিবারের অন্যান্যদের মায়ের যত্ন নেওয়া দরকার। নতুন মায়ের পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। মা ঠিকমতো বিশ্রাম নিতে না পারলে তার মানসিক চাপ তৈরি হবে। তাই নবজাতকের পাশপাশি মায়ের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। তাছাড়া নতুন মা ছোটো ছোটো কারণে অতিরিক্ত রেগে গেলে, বিরক্ত হলে, একা থাকতে চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন বলেই মত বিশেষজ্ঞদের একাংশের। কারণ পোস্টপার্টাম অবসাদের রুখতে প্রয়োজনীয় থেরাপি প্রয়োজন। নির্দিষ্ট সময়ে রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা শুরু করলে সেই অবসাদ দীর্ঘমেয়াদি হবে না।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Modi in Malda: বিজেপি এলেই রাজ্যে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ, মালদা থেকে হুঁশিয়ারি মোদির

    Modi in Malda: বিজেপি এলেই রাজ্যে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ, মালদা থেকে হুঁশিয়ারি মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হল অনুপ্রবেশ। সেই কারণেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত অশান্ত হচ্ছে। আর রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস তাতে মদত দিচ্ছে। শনিবার মালদায় পরিবর্তন সংকল্প সভার মঞ্চ থেকেই অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Modi in Malda)। বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধনের পরপরই দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দেন মোদি। তিনি বলেন, অনুপ্রবেশ বাংলার একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্যার জেরে শুধু সামাজিক অস্থিরতাই নয়, কর্মক্ষেত্র, নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক পরিবেশও বিপর্যস্ত হচ্ছে রাজ্যের একাধিক জেলায়।

    অনুপ্রবেশ সমস্যা তৃণমূলের মদত

    প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, বিশ্বের উন্নত দেশগুলিও অনুপ্রবেশকারীদের নিজেদের দেশ থেকে বের করে দিচ্ছে। অথচ তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকলে বাংলা থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বের করা কার্যত অসম্ভব। মোদি বলেন, ‘‘বাংলার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হল অনুপ্রবেশ। দুনিয়ার সমৃদ্ধ দেশ, যেখানে টাকার অভাব নেই, তারাও অনুপ্রবেশকারীদের বার করে দিচ্ছে। ওদের বাইরে পাঠানো উচিত কি না? কিন্তু তৃণমূল সরকার থাকতে তা কি সম্ভব? ওরা কি করবে? আপনাদের অধিকার কি রক্ষা করবে? আপনাদের জমি, বোন-মেয়েদের কি রক্ষা করবে? অনুপ্রবেশকারীদের কে বার করবে? তৃণমূলের সিন্ডিকেট বহু বছর ধরে অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার করার খেলা করছে। ওরা গরিবদের অধিকার ছিনিয়ে নেয়। যুবকদের কাজ ছিনিয়ে নেয়। বোনদের উপর অত্যাচার করেছে। দেশে সন্ত্রাস, হিংসা আনছে। জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ভাষার ফারাক আসছে কিছু জায়গায়। মালদা, মুর্শিদাবাদের অনেক জায়গায় হিংসা বাড়ছে। অনুপ্রবেশকারী এবং সত্ত্বাধারীদের জোট ভাঙতে হবে। বিজেপি সরকার হলে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ হবে।’’

    মতুয়াদের উদ্দেশে বার্তা

    এ দিনের সভা থেকে মতুয়া সম্প্রদায়কে উদ্দেশ করে আলাদা বার্তা দেন মোদি। তিনি বলেন, ‘‘মোদির গ্যারান্টি, মতুয়া, যাঁরা প্রতিবেশী দেশে ধর্মের কারণে হিংসার শিকার হয়ে এখানে এসেছেন, তাঁরা ভয় পাবেন না। মোদি সিএএ-র মাধ্যমে শরণার্থীদের সুরক্ষা দিয়েছে। এখানে যে বিজেপি সরকার হবে, তারা মতুয়া, নমশূদ্র শরণার্থীদের বিকাশের কাজে গতি আনবে। বাংলায় পরিবর্তন আনার দায়িত্ব রয়েছে মা-বোন, যুবকদের।’’

    নারী নির্যাতন নিত্যদিন

    মোদি (Modi talks on Infiltration) বলেন, ‘‘বাংলায় এখন নারী নির্যাতন রোজ-কার ঘটনা। কাল দেখলাম মহিলা সাংবাদিক নিগৃহীত। কত অভদ্রতা করা হয়েছে। তৃণমূলরাজে স্কুল, কলেজেও মহিলারা সুরক্ষিত নয়। নির্মমতা এতটাই যে মহিলাদের কথা শোনা হয় না। নির্যাতিতাদের কোর্টে যেতে হয়। এই পরিস্থিতি বদলাতে হবে। এই কাজ কে করবে? আপনাদের একটা ভোট করবে। আপনাদের ভোট পশ্চিমবঙ্গের পুরনো গৌরব ফেরাবে। তৃণমূলের গুণ্ডাগিরি বেশিদিন চলবে না। এর শেষ হবে। গরিবদের নিপীড়ন শেষ হবে।’’ বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তিতেই বঙ্গবাসীর কাছে বাংলাকে বিকাশের পথে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান মোদি।

  • Modi in Malda: মালদার আম-অর্থনীতি নিয়ে ভাবেনি তূণমূল! ম্যাঙ্গো ইকোনমিকে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে দেবে বিজেপি, দাবি মোদির

    Modi in Malda: মালদার আম-অর্থনীতি নিয়ে ভাবেনি তূণমূল! ম্যাঙ্গো ইকোনমিকে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে দেবে বিজেপি, দাবি মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মালদা আর আম সমার্থক। গোটা রাজ্যে তো বটেই গোটা দেশেই মালদার আমের আলাদা পরিচিত ও খ্যাতি রয়েছে। মালদার (Modi in Malda) অর্থনীতির একটা বড় স্তম্ভ হল আম। কিন্তু রাজ্যের তৃণমূল সরকার সেদিকে নজরই দেয় না। তাই মালদার আমজনতার মাঝে আম নিয়ে একাধিক বড় ঘোষণা করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে পাটচাষী, রেশম চাষিদের দুর্দশার কথা উঠে এল মোদির কথায়। মোদি বলেন, ‘‘মালদা সেই জায়গা, যেখানে প্রাচীন নিদর্শন রয়েছে। রাজনীতি এবং সাংস্কৃতির চেতনা। মালদা বাংলার সমৃদ্ধির কেন্দ্র। আমি প্রথম বাংলার শিবেন্দুশেখর রায়কে প্রণাম জানাই, যার জন্য মালাহ আজও পরিচিত। আজও নিজের আম, আমসত্ত্ব, রেশম, লোকসঙ্গীত, বৌদ্ধিক চেতনার জন্য পরিচিত।’’

    আম-অর্থনীতি নিয়ে মোদির ভাবনা

    মালদার সভায় প্রধানমন্ত্রীর (Modi talks on Mango) ভাষণের একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল চাষিদের কথা। আম নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাফ কথা, “মালদা জেলা আম এবং আমসত্ত্বের জেলা। অথচ এই জেলায় আম অর্থনীতি নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করেনি তৃণমূল।” মোদির দাবি, বাংলায় ক্ষমতায় এলে মালদার আম শিল্পকে ১ লক্ষ কোটি টাকার শিল্পক্ষেত্রে পরিণত করবে কেন্দ্রীয় সরকার। এখন কালিয়াচক ও ইংলিশবাজার আমের বাজার। সেটার বিকল্প বাজার তৈরি করবে বিজেপি সরকার। কোল্ড স্টোরেজ আরও বাড়বে, ফুড প্রসেসিং সেক্টরে বিনিয়োগ বাড়বে। আমজনতার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি, “ম্যাঙ্গো ইকোনমিকে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে দেবে বিজেপি সরকার। মালদার পুরনো গৌরব ফেরাব আমরা।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ মালদার নিত্যানন্দপুরে জনসভায় বলেন, “তৃণমূল সরকার দীর্ঘদিন ধরে মালদার আমচাষীদের বঞ্চিত করে রেখেছে। কোল্ড স্টোরেজ নেই, প্রসেসিং ইউনিট নেই, বাজারজাতকরণের সুবিধা নেই। ফলে চাষীরা ন্যায্য দাম পান না, আম নষ্ট হয়ে যায়। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই বঞ্চনার অবসান হবে।আমরা কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণ দেব, নতুন নতুন কোল্ড স্টোরেজ তৈরি করব, আধুনিক প্যাকেজিং ও লজিস্টিক্সের ব্যবস্থা করব যাতে মালদার ল্যাংড়া, লক্ষণভোগ, হিমসাগর, ফজলি এই সব বিখ্যাত আম সারা ভারতে সহজে পৌঁছে যায়।” প্রধানমন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেন, আম চাষকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠবে বৃহৎ ফুড প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি। আমের আচার, জ্যাম, জেলি, পাল্প, ড্রাই ফ্রুটস, আমের রস – এসব তৈরির কারখানা হবে মালদায়।

    বাংলার কৃষকদের সুদিন ফেরানোর আশা

    শুধু আম নয়, মালদা ও মুর্শিদাবাদের কৃষকদের জীবনযাত্রার একটা বড় ভিত রেশম ও পাটচাষ। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, রেশম চাষিদের জন্য কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে মোদি সরকার। মোদির কথায়,“এই তৃণমূলের লোকেরা যখন দিল্লিতে সরকার চালাত তখন পাটের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ছিল ২৪০০ টাকা। আজ সেটা ৫৫০০ টাকা। দ্বিগুণের বেশি হয়ে গিয়েছে। আমাদের সরকার পাটচাষিদের ১৩০০ কোটির বেশি টাকা দিয়েছে।” মোদি বলেন, ‘‘মালদায় আপনাদের দুঃখ কমাতে এসেছি। এখানে কারখানা হচ্ছে না। কৃষকেরা সুবিধা পাচ্ছে না। মালদা, মুর্শিদাবাদ থেকে যুবকেরা রুজির জন্য পালাতে বাধ্য হন। রেশম কৃষক, আম কৃষকদের অবস্থা বেহাল। আমচাষীরা বলছেন, চাষের টাকাও ওঠেনি। কারণ, তৃণমূল সরকার এই নিয়ে উদ্যোগ নেয়নি। প্রক্রিয়াকরণ নিয়ে বড় উদ্যোগ নেয়নি। আপনাদের হকের টাকা দেয়নি।’’

    নদীভাঙন নিয়ে সরব মোদি

    মানিকচক, রতুয়ার দীর্ঘদিনের সমস্যা নদী ভাঙন। এদিন প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে সেই প্রসঙ্গও উঠে এল। প্রধানমন্ত্রী বললেন, “আপনাদের কষ্টের কোনও চিন্তা নেই তৃণমূলের। কেন্দ্র টাকা পাঠায় আর তৃণমূল খেয়ে নেয়। তৃণমূল সরকার নির্মম নির্দয়।” প্রধানমন্ত্রী বললেন, “মালদায় গঙ্গা আর ফুলহারের ভাঙনে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়। প্রতিবছর তৃণমূলের সাহায্য চায় মানুষ, কিন্তু তৃণমূল আপনাদের দুর্দশার মধ্যেই রেখে দিয়েছে।” মোদি বলেন, ‘‘মালদা তৃণমূলের দুর্নীতির কারণে মার খাচ্ছে। প্রতি বছর এখানে অসংখ্য ঘর নদীতে তলিয়ে যায়। লক্ষ মানুষ তৃণমূল সরকারের কাছে আবেদন করছেন, পাড় বাঁধাতে। তৃণমূল ছেড়ে দেয়। বাঁধের নামে কত যে খেলা হয়, আমার থেকে বেশি আপনারা জানেন। সিএজি রিপোর্ট দেখছিলাম বাঁধ নিয়ে। আপনাদের বাঁধের টাকা দেয়নি। কিন্তু তৃণমূলের নিজের লোকদের খাতায় ৪০ বার বাঁধের টাকা পাঠানো হয়েছে। যাঁদের প্রয়োজন নেই, তাঁদের দেওয়া হয়েছে। যাঁরা সঙ্কটে ছিলেন, তাঁদের দেয়নি। তৃণমূলের ঘনিষ্ঠেরা পীড়িতদের টাকা লুটেছে। মালদার মাটিতে বলছি, বাংলায় বিজেপির সরকার হলেই তৃণমূলের এই কালো দুর্নীতি বন্ধ হবে।’’

  • Modi in Malda: ‘‘পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার!’’ বিধানসভা ভোটে বিজেপি-র স্লোগান বেঁধে দিলেন মোদি

    Modi in Malda: ‘‘পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার!’’ বিধানসভা ভোটে বিজেপি-র স্লোগান বেঁধে দিলেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলার চারপাশে সুশাসনের সরকার রয়েছে৷ বিহার, ওড়িশা, অসম, ত্রিপুরার পর এবার বাংলায় সুশাসনের পালা৷ মালদার সভা থেকে শনিবার রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা ভোটের স্লোগান বেঁধে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বললেন, “বাংলা আমায় অনেক ভালোবাসা দিয়েছে। আজ মালদার (PM Modi in Malda) এই জনসাগর দেখে আমি নিশ্চিত, বাংলার সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য মানুষ আসল পরিবর্তনের সঙ্কল্প নিয়েছেন।” বাংলার দ্রুত বিকাশই কেন্দ্রের প্রাথমিক লক্ষ্য। কিন্তু সেই পথ আটকাচ্ছে তৃণমূলের হিংসার রাজনীতি। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বঙ্গবাসী।

    কেন্দ্রের টাকা লুট করে তৃণমূল

    মালদায় রাজনৈতিক জনসভা থেকে এদিন সুর চড়ালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। প্রধানমন্ত্রী এদিন সরাসরি তৃণমূল সরকারকে ‘গরিবদের শত্রু’ বলে আখ্যা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, “কেন্দ্রীয় সরকার গরিবদের জন্য যে টাকা পাঠায়, তা তৃণমূলের লোকজন লুটে নেয়। ওরা নিজেদের সিন্দুক ভরতে ব্যস্ত।” মোদি বলেন, ‘‘দেশ আজ দীক্ষিত ভারত হওয়ার লক্ষ্যে। পূর্ব ভারতের বিকাশ খুব জরুরি। হিংসার রাজনীতি যারা করে, তারা বিকাশ আটকে রেখেছিল। বিজেপি এই রাজ্যগুলিকে হিংসার রাজনীতি করা লোকজনের থেকে মুক্ত করেছে। পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির বিশ্বাস যদি কারও সঙ্গে থাকে, তা হলে তা হল বিজেপি।’’

    পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার

    মোদি বলেন, ‘‘ওড়িশায় বিজেপি সরকার করেছে। ত্রিপুরা, অসম ভরসা রেখেছে বিজেপি-তে। কিছু দিন আগে বিহার আরও এক বার বিজেপি-এনডিএ সরকার গড়েছে। বাংলার চার দিকে বিজেপির সুশাসনের সরকার রয়েছে। এখন বাংলায় সুশাসনের সময় এসেছে। তাই আমি বিহারে জয়ের পর বলেছিলাম, মা গঙ্গা আশীর্বাদে বাংলায় বিকাশের গঙ্গা বইবে। বিজেপি এই কাজ করে ছাড়বে। বাংলায় সুশাসন আনবে। আমার সঙ্গে একটা সঙ্কল্প নিন। আমি বলব, পাল্টানো দরকার। আপনারা বলবেন, চাই বিজেপি সরকার।’’ মুম্বই পুরসভা (BMC) এবং তিরুবনন্তপুরমে বিজেপির সাফল্যের উদাহরণ টেনে মোদি বলেন, দেশের চারদিকে আজ বিজেপির সুশাসনের সরকার। এবার বাংলার সময় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন, যে রাজ্যগুলিতে বিজেপি-র জয় অসম্ভব বলেই মনে করা হত, সেখানেও এখন বিজেপি নির্বাচনে সাফল্য পাচ্ছে৷ উদাহরণ হিসেবে কেরল, মহারাষ্ট্রের কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী৷ তাঁর দাবি, এবার বাংলাতেও পালাবদল হয়ে পদ্ম ফুটবে৷

    বাংলার উন্নয়ন প্রাথমিক লক্ষ্য

    মোদির কথায়, ‘‘বাংলার দ্রুত বিকাশ কেন্দ্রীয় সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য। কিছু ক্ষণ আগে বাংলার বিকাশের সঙ্গে জড়িত বেশ কিছু প্রকল্প উদ্বোধন করেছি। বাংলা আধ ডজন নতুন ট্রেন পেয়েছে। তার মধ্যে একটা বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন। মেড ইন ইন্ডিয়া। সকলের জন্য আনন্দের যে, প্রথম স্লিপার বন্দে ভারত শুরু হচ্ছে বাংলা থেকেই। একটা স্টেশন মালদাও। বাংলার সব মানুষকে শুভেচ্ছা। দেশের তরুণ প্রজন্ম, জেন জি বিজেপি-র উপরে ভরসা রাখছে৷ বিজেপি-কে নিয়ে যে ভুল প্রচার চালানো হত, তা দূর হচ্ছে৷’’ মোদি বলেন, ‘‘বাংলার সব গৃহহীন ঘর পান। নল থেকে সকলে জল পান, মুক্ত রেশন পান, যে যোজনা কেন্দ্র গরিবদের জন্য তালু করেছে, আমি চাই, বাংলার মানুষ তার সুবিধা পাক। আপনাদের সেগুলি পাওয়ার অধিকার রয়েছে। কিন্তু তা হচ্ছে না। তৃণমূল সরকার নির্দয়। নির্মম। কেন্দ্রীয় সরকার গরিবদের জন্য যে টাকা দেয়, তা তৃণমূলের লোকজন লুটে নেয়।’’ বিশেষ করে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ (Ayushman Bharat) প্রকল্পের সুবিধা থেকে বাংলার মানুষকে বঞ্চিত রাখার অভিযোগে তিনি সরব হন। মোদি বলেন, “সারা দেশের গরিবরা ৫ লক্ষ টাকার বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পেলেও বাংলার মানুষ তা পাচ্ছেন না। তৃণমূল সরকার এখানে এই যোজনা চালু করতে দিচ্ছে না।” তাই বাংলার উন্নয়নের স্বার্থে রাজ্যে পরিবর্তনের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

  • PM Modi in Malda: যুক্ত হল কালীঘাট-তারাপীঠ-কামাখ্যা! প্রধানমন্ত্রী মোদির হাত ধরে দেশের প্রথম বন্দেভারত স্লিপার-ট্রেনের সূচনা

    PM Modi in Malda: যুক্ত হল কালীঘাট-তারাপীঠ-কামাখ্যা! প্রধানমন্ত্রী মোদির হাত ধরে দেশের প্রথম বন্দেভারত স্লিপার-ট্রেনের সূচনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গঙ্গায় স্নান সেরে কালীঘাট দর্শন বিকেলে ট্রেনে চেপে আজিমগঞ্জে নেমে তারাপীঠে মা-তারার পুজো। আবার পরের দিন সোজা গুয়াহাটি পৌঁছে মাতা কামাখ্যার প্রার্থনা। দেশের প্রথম হাওড়া-কামাখ্যা বন্দেভারত স্লিপার ট্রেনের (Vande Bharat Sleeper) উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার এর পাশাপাশি চারটি নতুন অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনের ভার্চুয়াল উদ্বোধনও করলেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi in Malda)। রেলমন্ত্রী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গকে এক ডজনের বেশি নতুন ট্রেন উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গে রেলওয়ের উন্নয়নে ১৩ হাজার কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে।” শনিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ মালদা টাউন স্টেশন থেকে হাওড়া-কামাক্ষ্যা পথের এই ট্রেনের উদ্বোধন করেন তিনি ৷ তাঁর সঙ্গে ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস, মালদা উত্তরের সাংসদ খগেন মুর্মু, মালদা দক্ষিণের ঈশা খান চৌধুরি ৷

    বন্দেভারত স্লিপার ট্রেনের ভিতরে মোদি

    গতির সঙ্গে বিলাসিতার মিশেলে শনিবার থেকে হাওড়া-গুয়াহাটির মধ্যে চালু হল দেশের প্রথম ‘বন্দে ভারত স্লিপার’ ট্রেন। দূরপাল্লার যাত্রায় এখন আর ক্লান্তি নয় বরং বিলাসবহুল বিছানায় শুয়েই গন্তব্যে পৌঁছবেন যাত্রীরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরেই অত্যাধুনিক এই ট্রেনের উদ্বোধন হল। এই ট্রেনটি পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, মালদা, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার জেলার পাশাপাশি অসমের বঙ্গাইগাঁও ও কামরূপ মেট্রোপলিটন জেলায় পরিষেবা দেবে। রাতের সফরের কথা মাথায় রেখে বিশেষ ভাবে নকশা করা হয়েছে বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৮০ কিলোমিটার গতিবেগে চলার ক্ষমতা থাকলেও, বাণিজ্যিক ভাবে এই ট্রেন চলবে ঘণ্টায় প্রায় ১৩০ কিলোমিটার বেগে। মোট ১৮টি কামরার এই ট্রেনে একসঙ্গে সফর করতে পারবেন ৮২৩ জন যাত্রী। এদিন বন্দেভারত ট্রেনের ভিতরের কোচও ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। সবুজ পতাকা নাড়িয়ে নতুন ট্রেনের যাত্রা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। কথা বলেন কচিকাঁচাদের সঙ্গে।

    কবে কবে চলবে, কোথায় থামবে

    রেলমন্ত্রকের তরফে দেওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সপ্তাহে ছ’দিন হাওড়া-কামাখ্যা বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস ট্রেনটি চলবে হাওড়া এবং কামাখ্যার মধ্যে। হাওড়া স্টেশন থেকে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে ট্রেনটি ছাড়বে। পরের দিন কামাখ্যা পৌঁছবে সকাল ৮টা ২০ মিনিটে। অন্যদিকে কামাখ্যা থেকে ট্রেনটি ছাড়বে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে। হাওড়া পৌঁছাবে পরের দিন সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে। অন্যান্য ট্রেনের তুলনায় এই ট্রেনের যাত্রার সময় অনেকটাই কম লাগবে বলেই দাবি রেলের। অন্যদিকে দীর্ঘ এই যাত্রাপথে মোট ১৩ টি স্টেশনে দাঁড়াবে হাওড়া-কামাখ্যা বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস ট্রেনটি। রেলের দেওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, হাওড়া থেকে ট্রেনটি ছাড়ার পরেই প্রথমে ট্রেনটি দাঁড়াবে ব্যান্ডেল স্টেশনে। এরপর নবদ্বীপ ধাম, কাটোয়া, আজিমগঞ্জ, নিউ ফারাক্কা জংশম, মালদহ টাউন, আলুবাড়ি রোড, নিউ জলপাইগুড়ি, জলপাইগুড়ি রোড, নিউ কোচবিহার, নিউ আলিপুরদুয়ার, নিউ বঙ্গাইগাঁও, রঙ্গিয়া হয়ে কামাখ্যা পৌঁছাবে। কামাখ্যা থেকে ছাড়ার পর একইভাবে এই স্টেশনগুলিতেই স্টপেজ দেবে দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস ট্রেনটি। তবে কামাখ্যা থেকে বুধবার এবং হাওড়া থেকে বৃহস্পতিবার পাওয়া যাবে না ট্রেনটি। এদিন পতাকা নেড়ে ট্রেন রওনা হওয়ার পর কিছুক্ষণ ট্রেনের ভিতরেই কাটান প্রধানমন্ত্রী। সূত্রের খবর, বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের একাধিক কোচে ঘুরে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। ওই ট্রেনে থাকা স্কুলপড়ুয়া ছেলেমেয়েদের সঙ্গে আলাপচারিতায় মেতে ওঠেন তিনি। পড়াশোনা, যাত্রার অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে শিশুদের সঙ্গে গল্প করতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকে। তারপর প্রশাসনিক সভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। সভা থেকেই একগুচ্ছ রেল ও সড়ক প্রকল্পের শিলান্যাস করেন তিনি।

  • Indian Automobile: ‘মেড-ইন-ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের হাত ধরে অটোমোবাইল রফতানির ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক উত্থান ভারতের

    Indian Automobile: ‘মেড-ইন-ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের হাত ধরে অটোমোবাইল রফতানির ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক উত্থান ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত তিন-চার বছরে ভারতীয় অটোমোবাইল (Indian Automobile) শিল্প এক ঐতিহাসিক রূপান্তরের সাক্ষী হয়েছে। ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের শুরুতে অভ্যন্তরীণ বাজারনির্ভর একটি শিল্প থেকে ভারতীয় অটোমোবাইল বর্তমান বিশ্বের অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক যানবাহন উৎপাদন ও রফতানি কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। উন্নত ইঞ্জিনিয়ারিং দক্ষতা, ব্যয়-সাশ্রয়ী উৎপাদন ব্যবস্থা এবং বৈদ্যুতিক যান (EV) ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মডেলের দিকে কৌশলগত ঝোঁকের ফলে “মেড-ইন-ইন্ডিয়া” যানবাহন বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক বাজারেও নিজেদের জায়গা করে নিয়েছে।

    অটোমোবাইল শিল্পে ভারতের নয়া মানদণ্ড

    উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন যাত্রীবাহী গাড়ি, বৈদ্যুতিক যান, শক্তপোক্ত দুই-চাকার যান থেকে শুরু করে ভারী কৃষিযন্ত্র—সব ক্ষেত্রেই ভারতীয় শিল্প রেকর্ড ভেঙে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এই সময়কাল ভারতীয় উৎপাদন ক্ষমতার এমন এক মাইলফলক, যেখানে গুণমান, নির্ভরযোগ্যতা ও উদ্ভাবনে ভারত শুধু বিশ্বমান ছুঁয়েই দেখেনি, বরং নতুন মানদণ্ডও স্থাপন করেছে।

    ২০২৩–২০২৬: ভারতীয় অটোমোবাইল শিল্পের ঐতিহাসিক মোড়

    ২০২৩ সালের মার্চ থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়কে ভারতীয় অটোমোবাইল শিল্পের জন্য একটি যুগান্তকারী অধ্যায় বলা যায়। উৎপাদন-সংযুক্ত প্রণোদনা (PLI) প্রকল্প, শক্তিশালী ইঞ্জিনিয়ারিং ভিত্তি এবং এসইউভি ও বৈদ্যুতিক যানের দিকে ঝোঁকের ফলে রফতানিতে নজিরবিহীন দ্বি-অঙ্কের বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। চেন্নাই, পুণে ও সানন্দের মতো শিল্পাঞ্চলগুলি আজ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক রফতানি কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এই সাফল্য ভারতীয় উৎপাদনের পরিপক্বতা ও আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় মানের প্রতি আস্থার প্রতিফলন।

    ২০২৫-এ রেকর্ড: যাত্রীবাহী গাড়ি রফতানি ১৫ শতাংশ বৃদ্ধি

    ২০২৫ সাল ভারতীয় অটোমোবাইল শিল্পের ইতিহাসে এক স্বর্ণালি অধ্যায়। এই বছরে যাত্রীবাহী গাড়ি রফতানি ৮.৫৮ লক্ষ ইউনিট অতিক্রম করে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি। মারুতি সুজুকি, হুন্ডাই মোটর ইন্ডিয়া, টাটা মোটরস, হোন্ডা ও নিসান এই বৃদ্ধির নেতৃত্ব দেয়। আফ্রিকা, পশ্চিম এশিয়া ও লাতিন আমেরিকায় নির্ভরযোগ্য ও উচ্চমানের ভারতীয় গাড়ির চাহিদা দ্রুত বেড়েছে, যার পেছনে রয়েছে ভারতের কম খরচের উৎপাদন ব্যবস্থা ও শক্তিশালী সরবরাহ শৃঙ্খল।

    দক্ষিণ আফ্রিকায় আধিপত্য: প্রধান গাড়ি সরবরাহকারী ভারত

    দক্ষিণ আফ্রিকার যাত্রীবাহী গাড়ির বাজারে ভারত এখন শীর্ষ রফতানিকারক দেশ। ২০২৫ সালের শেষে দেশটির মোট লাইট ভেহিকল আমদানির ৫৩.২ শতাংশই এসেছে ভারত থেকে—সংখ্যায় প্রায় ১,৫৭,৬১২ ইউনিট। এই তালিকায় রয়েছে ভারতীয় ব্র্যান্ডের পাশাপাশি ভারতীয় কারখানায় নির্মিত জাপানি ও কোরিয়ান মডেলও।

    ইউরোপে কৌশলগত অগ্রগতি

    বিশ্বব্যাপী চাহিদা কিছুটা কমলেও ইউরোপে ভারতীয় অটোমোবাইল রফতানি ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষের প্রথম সাত মাসে ২০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। রফতানির মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬.২৩ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাজ্য ও স্পেনে বৈদ্যুতিক গাড়ির রফতানি প্রায় চার গুণ বেড়েছে, যা ইউরোপের কঠোর পরিবেশ ও নিরাপত্তা মান পূরণে ভারতের সক্ষমতা প্রমাণ করে। জার্মানির অটোমোবাইল শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠেছে ভারত। নীতি আয়োগের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের মোট অটো কম্পোনেন্ট রফতানির প্রায় ৭ শতাংশ যায় জার্মানিতে। ইঞ্জিন পার্টস, ট্রান্সমিশন সিস্টেম ও আধুনিক ইলেকট্রনিক উপাদান সরবরাহে ভারত ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

    দুই-চাকার যানে সাফল্য

    ২০২৫ অর্থবর্ষে ভারতীয় দুই-চাকার যান রপ্তানি ২১.৪ শতাংশ বেড়ে ৪.২ মিলিয়ন ইউনিটে পৌঁছেছে। লাতিন আমেরিকায় বাজাজ অটো, টিভিএস, হিরো মোটোকর্প, রয়্যাল এনফিল্ড ও হোন্ডার যান ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। জাপানের মতো উন্নত ও প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ভারত বড় সাফল্য অর্জন করেছে। ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষের প্রথম নয় মাসে জাপানে গাড়ি রফতানির মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১৬.৪৫ মিলিয়ন ডলার। মারুতি সুজুকির জিমনি ও হোন্ডার এলিভেট (জাপানে WR-V নামে পরিচিত) এই বৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: ভারতীয় কম্পোনেন্ট রফতানির প্রধান বাজার

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় অটো কম্পোনেন্ট রফতানি ২০২১ অর্থবর্ষ থেকে ২০২৪-অর্থবর্ষের মধ্যে ৭৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১২.৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। মোট রফতানির ২৮ শতাংশই যায় আমেরিকায়। ভারতীয় মোটরসাইকেল রফতানির মূল্য লাতিন আমেরিকায় এক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এক বছরে ৫০–২৫০ সিসি রেঞ্জের ৫০ লক্ষেরও বেশি ইউনিট রপ্তানি হয়েছে মেক্সিকো, কলম্বিয়া, পেরু ও গুয়াতেমালায়। জন ডিয়ারের উন্নত ৫এম ট্র্যাক্টর সিরিজ ভারতেই তৈরি হয়ে আমেরিকা, ইউরোপ ও জাপানে রফতানি হচ্ছে। মোট উৎপাদনের প্রায় ৩৫ শতাংশই রফতানি করা হচ্ছে। এই অভূতপূর্ব রফতানি বৃদ্ধি শুধু সংখ্যার সাফল্য নয়, বরং বিশ্ববাজারে ভারতীয় শিল্পের প্রতি আস্থার প্রতিফলন। উন্নত দেশ থেকে শুরু করে উদীয়মান অর্থনীতি—সবখানেই ভারত আজ বৈশ্বিক অটোমোবাইল সরবরাহ শৃঙ্খলের একটি অপরিহার্য কেন্দ্র। ভবিষ্যতের বৈশ্বিক মোবিলিটি রূপান্তরে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ভারত এখন দৃঢ় ভিতের উপর দাঁড়িয়ে।

  • Chabahar Port Project: চাবাহার বন্দর প্রকল্প থেকে সরে যাচ্ছে ভারত! এমন খবর নাকচ করল বিদেশ মন্ত্রক

    Chabahar Port Project: চাবাহার বন্দর প্রকল্প থেকে সরে যাচ্ছে ভারত! এমন খবর নাকচ করল বিদেশ মন্ত্রক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের চাবাহার বন্দর প্রকল্প (Chabahar Port Project) থেকে ভারত সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন খবরকে শুক্রবার খারিজ করে দিল বিদেশ মন্ত্রক (MEA)। সাপ্তাহিক সাংবাদিক সম্মেলনে এই প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, চাবাহার প্রকল্পে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় (স্যানশনস ওয়েভার) বাড়ানোর বিষয়ে ভারত সরকার এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁর কথায়, যুক্তরাষ্ট্র আগে চাবাহার বন্দর প্রকল্পে ভারতের অংশগ্রহণের জন্য ছয় মাসের শর্তসাপেক্ষ স্যানশনস ওয়েভার দিয়েছিল, যার মেয়াদ চলতি বছরের এপ্রিল মাসে শেষ হচ্ছে। এই ছাড় যদি বাড়ানো না হয়, তাহলে ভারতকে হয় প্রকল্প থেকে সরে যেতে হবে, নয়তো মার্কিন নিষেধাজ্ঞাজনিত পদক্ষেপের ঝুঁকি নিতে হবে।

    আমেরিকার সঙ্গে কথা চলছে

    ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ইরানের চাবাহার বন্দরের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তবে তার পর ভারত ছয় মাসের জন্য একটি ছাড় আদায় করতে সক্ষম হয়। এই ছাড়ের ফলে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড (IPGL) ২৬ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত চাবাহারের (Chabahar Port Project) শহিদ বেহেশতি টার্মিনাল পরিচালনা চালিয়ে যেতে পারে। এ প্রসঙ্গে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন,“চাবাহার প্রসঙ্গে বলতে গেলে, ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর মার্কিন ট্রেজারি দফতর একটি চিঠি জারি করে শর্তসাপেক্ষ স্যানশনস ওয়েভারের নির্দেশনা দেয়, যার মেয়াদ ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত বৈধ। এই ব্যবস্থাটি নিয়ে আমরা মার্কিন পক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।”

    চাবাহার প্রকল্প নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়

    এই বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে, যখন ‘ইকোনমিক টাইমস’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে চাবাহার প্রকল্প (Chabahar Port Project) কার্যত ভেঙে পড়েছে। ওই প্রতিবেদনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের উল্লেখ করা হয়, যেখানে তিনি বলেন—ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। সরকারি সূত্রের রিপোর্টে দাবি করা হয়, এই পরিস্থিতিতে ভারতের সামনে প্রকল্প থেকে সরে যাওয়া ছাড়া আর কোনও বিকল্প নেই। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নিষেধাজ্ঞা আরোপের আগেই ভারত চাবাহার বন্দরের জন্য প্রায় ১২ কোটি ডলার প্রতিশ্রুত অর্থ ইরানে স্থানান্তর করেছিল। ফলে ভারত সরে গেলেও ইরান সেই অর্থ ব্যবহার করে বন্দরের উন্নয়ন চালিয়ে যেতে পারবে। পাশাপাশি দাবি করা হয়, নিষেধাজ্ঞার পর আইপিজিএল-এর বোর্ডে থাকা সরকারি মনোনীত ডিরেক্টররা একযোগে পদত্যাগ করেন এবং সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা থেকে সংশ্লিষ্টদের রক্ষা করতে সংস্থার ওয়েবসাইটও বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে শুক্রবার বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এই ধরনের কোনও সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, চাবাহার প্রকল্প নিয়ে ভারত এখনও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছে এবং প্রকল্প থেকে সরে যাওয়ার বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

  • PM Modi in Bengal: বঙ্গ সফরের আগে বিশেষ বার্তা! রাজ্যে দু’দিন কোথায়, কখন থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি?

    PM Modi in Bengal: বঙ্গ সফরের আগে বিশেষ বার্তা! রাজ্যে দু’দিন কোথায়, কখন থাকবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দু’দিনের বঙ্গ সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১৭ তারিখ মালদহ ও ১৮ তারিখ হুগলির সিঙ্গুরে একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi in Bengal)। কোটি কোটি টাকার রেল প্রকল্পের সূচনা করবেন মোদি। যা ভারত তথা বাংলার রেল মানচিত্রে নিয়ে আসবে বড় বদল। নিজের সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে বাংলায় আসা নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। জানিয়েছেন, কেবল মালদায় ৩,২৫০ কোটিরও বেশি টাকার উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন কিংবা শিলান্যাস হবে। হাওড়া ও গুয়াহাটির মধ্যে প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের শুভ সূচনা করা হবে।

    বঙ্গ সফরের আগে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

    নিজের পোস্টে প্রধানমন্ত্রী (PM Modi in Bengal) লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গে রেল পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই আগামীকালের অনুষ্ঠানে বালুরঘাট–হিলি নতুন রেললাইন, নিউ জলপাইগুড়িতে অত্যাধুনিক মালবাহী ট্রেনের রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, শিলিগুড়ির লোকো শেডের উন্নয়ন এবং জলপাইগুড়িতে বন্দে ভারত ট্রেনের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলির শিলান্যাস করা হবে।” পাশাপাশি, ৪টি নতুন অমৃত ভারত ট্রেনেরও শুভ সূচনা করা হবে বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ মালদা স্টেশনে দেশের প্রথম হাওড়া-কামাখ্যা বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধন করবেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি ভার্চুয়ালি গুয়াহাটি (কামাখ্যা)–হাওড়া বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটিরও উদ্বোধন করবেন। এর পর পৌনে ২টো নাগাদ সাহাপুর মালদা বাইপাস সংলগ্ন মাঠে মোদির সভা রয়েছে। সেখানে ৩,২৫০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একাধিক রেল ও সড়ক পরিকাঠামো প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন তিনি। ধূপগুড়ি-ফালাকাটা (৩১ডি) জাতীয় সড়কের কিছু অংশের সংস্কার ও চার লেনের শিলান্যাস করবেন মোদি। যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের যাতায়াত আরও সহজ করে তুলবে এই সংস্কার এবং নতুন চার লেনের রাস্তা।

    সিঙ্গুরে রবিবার

    রবিবার ১৮ তারিখ প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi in Bengal) সরকারি সভা রয়েছে হুগলির সিঙ্গুরে। সেখান থেকে ৮৩০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। বালাগড়ে বর্ধিত বন্দর গেট সিস্টেমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে রোড ওভার ব্রিজও। বিজেপি নেতৃত্বের কথায় ১৭ জানুয়ারি উত্তরবঙ্গের রেল মানচিত্রে ঐতিহাসিক দিন হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর আসন্ন রাজ্য সফর সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলার উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রেখেছেন এবং রেখে চলেছেন। তাঁর এই সফর এই উন্নয়নের যাত্রায় আরও একটি সংযোজন। বাংলার জনগণের উপকারের জন্য তিনি ধারাবাহিক অবদান রেখে চলেছেন।”

    প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বার্তা

    শুধু প্রকল্প উদ্বোধনই আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইতেও অংশ নেবেন বলে হুঙ্কার দিয়ে রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তাঁর মতে, রাজ্যের সাধারণ মানুষ তৃণমূলকে নিয়ে তিতিবিরক্ত। তাঁরা চায় উন্নয়নমুখী বিজেপি সরকার। নিজের পোস্টে এই বিষয়টা স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi in Bengal)। তিনি লেখেন, ‘আগামীকাল বিজেপির সমাবেশে আমি মালদা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের কাছে যাওয়ার সুযোগের অপেক্ষায় আছি। প্রতিদিনই তৃণমূলের অপশাসনের কোনও না কোনও নতুন উদাহরণ সামনে আসছে। তৃণমূলের শাসনে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তিতিবিরক্ত এবং এই সরকারকে প্রত্যাখ্যান করতে তাঁরা প্রস্তুত। মানুষ চায় উন্নয়নমুখী বিজেপি সরকার।’

  • 114 Rafale Jets: ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকার রাফাল চুক্তিতে সম্মতি প্রতিরক্ষা ক্রয় বোর্ডের, আগামী মাসে মাক্রঁর ভারত সফরে সই?

    114 Rafale Jets: ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকার রাফাল চুক্তিতে সম্মতি প্রতিরক্ষা ক্রয় বোর্ডের, আগামী মাসে মাক্রঁর ভারত সফরে সই?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফ্রান্স থেকে ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার প্রকল্প বাস্তবায়ন করার বিষয়ে একধাপ এগলো ভারত। শুক্রবার এই প্রস্তাবে ছাড়পত্র দিয়েছে প্রতিরক্ষা ক্রয় বোর্ড (ডিফেন্স প্রোকিউরমেন্ট বোর্ড বা ডিপিবি)। এখন প্রস্তাবটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে থাকা ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিলের (ডিএসি) সামনে অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। এরপর খরচ সংক্রান্ত দরকষাকষি সম্পন্ন করা হবে এবং শেষপর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটির (সিসিএস) চূড়ান্ত অনুমোদন নেওয়া হবে। প্রস্তাবিত এই চুক্তির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে এটি হবে ভারতের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ প্রতিরক্ষা চুক্তি। এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় সামরিক বাহিনীতে রাফাল যুদ্ধবিমানের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১৭৫। বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার কাছে ৩৫টি রাফাল রয়েছে এবং নৌবাহিনী ইতিমধ্যেই ২৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার অর্ডার দিয়েছে।

    ফেব্রুয়ারিতে মাক্রঁর সফরে চুক্তি স্বাক্ষর?

    প্রতিরক্ষা সূত্র জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর ভারত সফরের সময় ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে রাফাল চুক্তিতে সই হতে পারে। ১৬ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে অংশ নেবেন মাক্রঁ। একইসঙ্গে, প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে তাঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা। এই সময়কালেই দুই দেশের মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চুক্তিটি যদি ২০২৭ সালের শুরুতে স্বাক্ষরিত হয়, তবে ২০৩০ সাল থেকে প্রথম ১৮টি রাফাল যুদ্ধবিমান ‘ফ্লাই-অ্যাওয়ে’ অবস্থায় ভারতকে সরবরাহ করবে ফ্রান্স। প্রস্তাবে ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য ১২ থেকে ১৮টি প্রস্তুত রাফাল সরাসরি কেনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বাকি বিমানগুলি ভারতে নির্মাণ করা হবে, যেখানে প্রায় ৩০ শতাংশ দেশীয় উপাদান ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

    ‘নন-নেগোশিয়েবল ক্লজ’ ভারতের

    ফরাসি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বড় চুক্তির কথ মাথায় রেখে ভারত ফরাসি বিমান নির্মাতা সংস্থা দাসো অ্যাভিয়েশনের জন্য বেশ কয়েকটি ‘নন-নেগোশিয়েবল ক্লজ’ বা আপসহীন শর্ত নির্ধারণ করেছে। শর্তগুলির মধ্যে রয়েছে—১১৪টি যুদ্ধবিমানের প্রতিটিতে ভারতীয় অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদের সংযোজন; পাশাপাশি বিমান প্রস্তুতকারক সংস্থাকে এমন সুরক্ষিত ডেটা লিঙ্ক সরবরাহ করতে হবে, যার মাধ্যমে ভারতীয় রেডার ও সেন্সরের সঙ্গে ডিজিটালভাবে যুদ্ধবিমানগুলিকে সংযুক্ত করা যাবে এবং সেই তথ্য ও ছবি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল সেন্টারগুলিতে পাঠানো সম্ভব হবে। এর ফলে, রাফাল যুদ্ধবিমানের এভিওনিক্স ও রেডার এবং উইপন সিস্টেমে একাধিক বদল করতে হবে বিমান নির্মাণকারী ফরাসি সংস্থাকে। তবে বিমানের সোর্স কোড ফরাসি পক্ষের কাছেই থাকবে বলে সূত্রের দাবি। এছাড়াও দাসো এভিয়েশন এয়ারফ্রেম নির্মাণের জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর করবে। এই প্রযুক্তি হস্তান্তর প্রক্রিয়ার জন্য ইঞ্জিন নির্মাতা সাফরান এবং অ্যাভিওনিক্স সরবরাহকারী থ্যালেসের মতো সংস্থাগুলিও রাফাল-চুক্তিতে অংশ নেবে।

    ৯০টি রাফাল এফ-৪, ২৪টি এফ-৫ সংস্করণ!

    জানা যাচ্ছে, চুক্তির প্রথম পর্যায়ে ভারত স্বল্প ও মধ্যমেয়াদে ৯০টি নতুন রাফালের আপগ্রেডেড এফ-৪ সংস্করণ যুদ্ধবিমান পাবে। একইসঙ্গে ভারতীয় বায়ুসেনার বহরে থাকা এফ-৩আর সংস্করণের ৩৫টি রাফালকে এফ-৪ সংস্করণের মানে উন্নীত করবে ফ্রান্স। এই আপগ্রেডের মধ্যে রয়েছে পরবর্তী প্রজন্মের অ্যাক্টিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে (AESA) রেডার, যা আরও দীর্ঘ দূরত্বে লক্ষ্য শনাক্ত করতে সক্ষম এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধের বিরুদ্ধে বেশি প্রতিরোধশক্তি দেবে। এতে নতুন বিপদ শনাক্ত ও প্রতিহত করার জন্য উন্নত আত্মসুরক্ষা ব্যবস্থা থাকবে। এই আপগ্রেড ফরাসি বায়ুসেনা ও নৌবাহিনীর রাফাল বিমানের আপগ্রেডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। এই সক্ষমতার আওতায় থাকবে আরও উন্নত দীর্ঘ-পাল্লার সনাক্তকরণ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে অনেক দূর থেকেই শত্রুকে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে এবং তাকে ধ্বংস করতে অধিক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি এই যুদ্ধবিমানে উন্নত স্যাটেলাইট লিঙ্ক যুক্ত করা হবে এবং পাইলটের সামনে আরও ভালোভাবে পরিস্থিতি তুলে ধরা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অ্যালগরিদমও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে ২৪টি রাফাল (সর্বাধুনিক) এফ-৫ সংস্করণ যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা রয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে দাসো অ্যাভিয়েশন তৈরি করবে ফ্রান্সেই।

    রাফাল ও সু-৫৭ ভিন্ন প্রকল্পের আওতায়!

    প্রতিবেদন বলছে, সাধারণত ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পে এই হার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ হয়ে থাকে। কিন্তু, এই চুক্তিতে দেশীয় উপাদানের পরিমাণ প্রায় ৩০ শতাংশতেই সীমাবদ্ধ থাকবে। তা সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া ভারতকে যথাক্রমে তাদের পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ এবং সু-৫৭ যুদ্ধবিমান দেওয়ার প্রস্তাব করলেও ভারত রাফাল চুক্তির দিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, সু-৫৭ প্রস্তাবের সঙ্গে এই রাফাল চুক্তি গুলিয়ে ফেললে চলবে না। কারণ, দুটি ভিন্ন।একটি অন্যটির বিকল্প নয়।
    তাঁদের মতে, মাল্টি-রোল ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট (MRFA) কর্মসূচির অধীনে ভারতীয় বায়ুসেনা চতুর্থ প্রজন্মের অতিরিক্ত রাফাল যুদ্ধবিমান সংগ্রহের প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে, দেশীয় পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট (AMCA)-এর অন্তত একটি স্কোয়াড্রন অন্তর্ভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কার্যকরী ঘাটতি পূরণে সরকারকে দুই থেকে তিনটি স্কোয়াড্রন পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান সংগ্রহের প্রস্তাবও দিয়েছে বায়ুসেনা। সেখানে বিবেচনার মধ্যে রয়েছে রুশ সু-৫৭।

    সিসিএস-এর ছাড়পত্র মিললেই সবুজ সঙ্কেত

    প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি সূত্র জানিয়েছে, “ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার স্টেটমেন্ট অফ কেস (SoC) কয়েক মাস আগেই মন্ত্রকের কাছে জমা দিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অনুমোদনের পর প্রস্তাবটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি (CCS)-এর কাছে পাঠানো হবে।” রাফালের সাম্প্রতিক কার্যকারিতা এই প্রস্তাবকে এগিয়ে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। ‘অপারেশন সিন্দুর’-এ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযানে রাফাল যুদ্ধবিমান স্পেকট্রা ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্যুটের মাধ্যমে চিনা পিএল-১৫ আকাশ-থেকে-আকাশ ক্ষেপণাস্ত্রের সফলভাবে মোকাবিলা করেছে।

    এদিকে, ফরাসি পক্ষ হায়দরাবাদে রাফাল বিমানে ব্যবহৃত এম-৮৮ ইঞ্জিনের জন্য একটি মেইনটেন্যান্স, রিপেয়ার ও ওভারহল (MRO) কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। দাসো অ্যাভিয়েশন ইতিমধ্যেই যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি সংস্থা গঠন করেছে। টাটা-সহ একাধিক ভারতীয় এয়ারোস্পেস সংস্থাও এই প্রকল্পে যুক্ত হতে পারে। ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ভারতীয় বায়ুসেনা দ্রুত নতুন যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন অনুভব করছে। ভবিষ্যতে বায়ুসেনার ফাইটার ফোর্স স্ট্রাকচার মূলত সুখোই-৩০এমকেআই, রাফাল এবং দেশীয় যুদ্ধবিমান প্রকল্পের উপর নির্ভর করবে। ভারত ইতিমধ্যেই ১৮০টি এলসিএ তেজস মার্ক ১এ যুদ্ধবিমানের অর্ডার দিয়েছে এবং ২০৩৫ সালের পর বড় সংখ্যায় দেশীয় পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান অ্যামকাও অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

LinkedIn
Share