Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • Jayshree Ullal: সত্য নাদেলা বা সুন্দর পিচাই নন, হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্টের শীর্ষে ভারতীয় বংশোদ্ভূত সিইও জয়শ্রী উল্লাল

    Jayshree Ullal: সত্য নাদেলা বা সুন্দর পিচাই নন, হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্টের শীর্ষে ভারতীয় বংশোদ্ভূত সিইও জয়শ্রী উল্লাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের প্রযুক্তি দুনিয়ায় সবচেয়ে ধনী ভারতীয় বংশোদ্ভূত সত্য নাদেলা ও সুন্দর পিচাইয়ের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী দুই সংস্থার সিইও হওয়া সত্ত্বেও, বর্তমানে তাঁদের কেউই শীর্ষ স্থানে নেই। হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্ট ২০২৫ অনুযায়ী (Hurun India Rich List), এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন অ্যারিস্টা নেটওয়ার্কসের প্রেসিডেন্ট ও সিইও জয়শ্রী উল্লাল (Jayshree Ullal)। তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ৫০,১৭০ কোটি টাকা, যা তাঁকে বিশ্বে সবচেয়ে ধনী ভারতীয় পেশাদার ম্যানেজার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সদ্য প্রকাশিত এই তালিকায় মাইক্রোসফটের সিইও সত্য নাদেলা রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে, তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৯,৭৭০ কোটি টাকা। গুগলের সিইও সুন্দর পিচাই রয়েছেন সপ্তম স্থানে, তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৫,৮১০ কোটি টাকা।

    শিক্ষা ও ব্যক্তিগত জীবন

    জয়শ্রী উল্লাল (Jayshree Ullal) জন্মগ্রহণ করেন ১৯৬১ সালের ২৭ মার্চ, লন্ডনে। তিনি ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক হিন্দু পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। ব্লুমবার্গ-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, পাঁচ বছর বয়সে তিনি ভারতে চলে আসেন। তাঁর বাবা একজন পদার্থবিদ ছিলেন এবং ভারতের শিক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি আইআইটি (Indian Institutes of Technology) প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। নয়াদিল্লির কনভেন্ট অব জেসাস অ্যান্ড মেরি স্কুলে পড়াশোনা করার পর, বাবার পেশাগত কারণে তিনি সান ফ্রান্সিসকোতে চলে যান। লিঙ্কডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি সান ফ্রান্সিসকো স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ১৯৮৬ সালে সান্তা ক্লারা ইউনিভার্সিটি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৫ সালে তাঁকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সম্মানসূচক ডক্টরেট প্রদান করা হয়।

    কর্মজীবনের শুরু ও সাফল্য

    কর্মজীবনের শুরুতে তিনি সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে কাজ করেন এবং এএমডি (Advanced Micro Devices) ও ফেয়ারচাইল্ড সেমিকন্ডাক্টর-এ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলান জয়শ্রী উল্লাল (Jayshree Ullal)। পরে ক্রেসেন্ডো কমিউনিকেশনস-এ ভাইস প্রেসিডেন্ট (মার্কেটিং) পদে থাকাকালীন, ১৯৯৩ সালে সংস্থাটি সিসকোর হাতে অধিগ্রহণ হয়। এরপর তিনি সিসকো সিস্টেমস-এ সংস্থার সুইচিং ডিভিশনকে একটি বড় ব্যবসায়িক ইউনিটে পরিণত করেন। ২০০৮ সালে সিসকো ছেড়ে তিনি অ্যারিস্টা নেটওয়ার্কসে যোগ দেন। সেই সময়ে অ্যারিস্টায় কর্মী সংখ্যা ছিল মাত্র ৩০ জনেরও কম, এবং সংস্থাটি একটি আইন সংস্থার বেসমেন্ট থেকে কাজ করত। জয়শ্রী উল্লালের নেতৃত্বে সেই সংস্থাই আজ বিশ্ব ক্লাউড নেটওয়ার্কিং বাজারের অন্যতম বড় নাম। ২০০৮ সাল থেকে অ্যারিস্টা নেটওয়ার্কসের নেতৃত্বে রয়েছেন জয়শ্রী উল্লাল। তাঁর নেতৃত্বে এই ক্লাউড নেটওয়ার্কিং সংস্থা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ফোর্বস-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে অ্যারিস্টার রাজস্ব দাঁড়ায় ৭ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। বর্তমানে তিনি সান ফ্রান্সিসকোতেই বসবাস করেন।

  • Bacterium Killed Tumors: প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া ক্যানসার কোষ ধ্বংসে সক্ষম! কী বলছে জাপানের নয়া গবেষণা?

    Bacterium Killed Tumors: প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া ক্যানসার কোষ ধ্বংসে সক্ষম! কী বলছে জাপানের নয়া গবেষণা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্যানসার কোষ ধ্বংস করবে ব্যাক্টেরিয়া! কর্কট রোগের চিকিৎসায় বহু পুরনো ব্যাক্টেরিয়া-থেরাপিকে ফিরিয়ে আনছেন বিজ্ঞানীরা। ক্যানসার চিকিৎসা (Cancer Drugs) বলতে এখনও মূলত অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি ও ইমিউনোথেরাপিকেই বোঝানো হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিজ্ঞানীরা মানবদেহের বাইরের জগতের দিকেও নজর দিচ্ছেন—বিশেষ করে প্রাকৃতিক অণুজীব বা ব্যাকটেরিয়ার (Bacterium Killed Tumors) দিকে। সেই গবেষণার ধারাবাহিকতায় জাপানের এক নতুন গবেষণা ক্যানসার চিকিৎসা নিয়ে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে।

    সংক্রামক ব্যাকটেরিয়া দিয়ে ক্যানসার বধ

    ক্যানসার বধের অস্ত্র তৈরি হচ্ছে সংক্রামক ব্যাকটেরিয়াদের দিয়েই। শরীরে জীবাণু ঢুকিয়ে মারণরোগ সারানোর পন্থা আবিষ্কারের দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। জাপান অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (JAIST)-এর অধ্যাপক এইজিরো মিয়াকোর নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাহিত্য গাট মাইক্রোবস-এ। গবেষণায় ব্যাঙ ও সরীসৃপের অন্ত্র থেকে সংগ্রহ করা এক প্রাকৃতিক ব্যাকটেরিয়া ইঁদুরের শরীরে টিউমার সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। গবেষকরা জাপানি ট্রি ফ্রগ, ফায়ার-বেলি নিউট এবং ঘাসে বসবাসকারী টিকটিকির অন্ত্র থেকে মোট ৪৫ ধরনের ব্যাকটেরিয়া আলাদা করে পরীক্ষা করেন। এর মধ্যে ৯টি ব্যাকটেরিয়া পরীক্ষাগারে ক্যানসার কোষের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রমাণিত হয়।

    এক ডোজেই টিউমার সম্পূর্ণ নির্মূল

    সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফল দেখায় ইউনগেলা আমেরিকানা (Ewingella americana) নামের একটি ব্যাকটেরিয়া। যা জাপানি ট্রি ফ্রগের অন্ত্রে স্বাভাবিকভাবেই পাওয়া যায়। এই ব্যাকটেরিয়াটি জেনেটিকভাবে পরিবর্তিত নয়, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক। কোলোরেক্টাল ক্যানসারে আক্রান্ত ইঁদুরের ওপর পরীক্ষায় দেখা যায়, মাত্র একবার শিরায় এই ব্যাকটেরিয়া প্রয়োগ করার পর সব ইঁদুরের টিউমার সম্পূর্ণভাবে অদৃশ্য হয়ে যায়। গবেষকদের মতে, এই ফলাফল প্রচলিত ক্যানসার ওষুধ যেমন ডক্সোরুবিসিন বা অ্যান্টি-পিডি-এল-১ (PD-L1) ইমিউনোথেরাপির চেয়েও বেশি কার্যকর ছিল।

    দুইভাবে ক্যানসার আক্রমণ

    গবেষণায় জানা গিয়েছে, এই ব্যাকটেরিয়া (Bacterium Killed Tumors) দুইটি ভিন্ন পথে ক্যানসার কোষ ধ্বংস করে। প্রথমত, টিউমারের ভেতরে অক্সিজেনের মাত্রা কম থাকায় সেখানে ব্যাকটেরিয়াটি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টিউমারের ভেতরে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার গুণ বেড়ে গিয়ে সরাসরি ক্যানসার কোষ ধ্বংস করে। দ্বিতীয়ত, ব্যাকটেরিয়াটি দেহের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে তোলে। টিউমার এলাকায় টি-সেল, বি-সেল ও নিউট্রোফিলের মতো ইমিউন কোষ জমা হয়, যা TNF-α ও IFN-γ নামের গুরুত্বপূর্ণ সংকেত নিঃসরণ করে ক্যানসার কোষের মৃত্যু ঘটায়।

    সুস্থ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ক্ষতি হয়নি

    ব্যাকটেরিয়া (Bacterium Killed Tumors) ব্যবহার করে ক্যানসার চিকিৎসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ নিরাপত্তা। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, এই ব্যাকটেরিয়া ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রক্ত থেকে সরে যায় এবং যকৃত, ফুসফুস, কিডনি বা হৃদ্‌পিণ্ডের মতো সুস্থ অঙ্গে স্থায়ীভাবে জমা হয় না। ইঁদুরের শরীরে যে সামান্য প্রদাহ দেখা গিয়েছে, তা তিন দিনের মধ্যেই সেরে যায়। ৬০ দিন পর্যবেক্ষণের পরও কোনো দীর্ঘমেয়াদি বিষক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    ভবিষ্যতের চিকিৎসায় সম্ভাবনা

    গবেষকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এটি এখনও মানবদেহে প্রয়োগযোগ্য চিকিৎসা নয়। তবে এই গবেষণা প্রমাণ করে যে প্রকৃতিতে থাকা অজানা অণুজীব ভবিষ্যতের ক্যানসার চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আগামী দিনে স্তন ক্যানসার ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারসহ অন্যান্য রোগে এই পদ্ধতি পরীক্ষা করা হবে। সফল হলে, ভবিষ্যতে ব্যাকটেরিয়াভিত্তিক থেরাপি কেমোথেরাপির ওপর নির্ভরতা কমাতে পারে।

  • Electoral Report Card: বিদায় ২০২৫, কারা হাসল, মুখ থুবড়েই বা পড়ল কারা?

    Electoral Report Card: বিদায় ২০২৫, কারা হাসল, মুখ থুবড়েই বা পড়ল কারা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৫ সালে তুলনামূলকভাবে কম নির্বাচন হলেও ভারতের নির্বাচনী রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পুনর্বিন্যাস দেখা (Electoral Report Card) গিয়েছে। এ বছর মাত্র দুটি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে-দিল্লি এবং বিহার। এছাড়াও কয়েকটি স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও, বছরটি দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তিকেন্দ্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রমাণিত হয়েছে – বিজেপি-নেতৃত্বাধীন এনডিএ এবং বিরোধী জোট ‘ইন্ডি’। ২০২৬ সালে নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী লড়াইয়ের আগে, ২০২৫ সালের রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির একটি দ্রুত পর্যালোচনা তুলে ধরছে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের এই রিপোর্ট কার্ড (Winners Losers)।

    এনডিএ কার্যত একক আধিপত্য (Electoral Report Card)

    ২০২৫ সালে বিজেপি এবং তাদের বৃহত্তর জোট এনডিএ কার্যত একক আধিপত্য বজায় রেখে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। বছরের শুরুতেই বিজেপি বড় সাফল্য পেয়েছে। ২৭ বছর পরে দিল্লিতে ফের ক্ষমতায় ফিরেছে দলটি। আম আদমি পার্টিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়ে বিজেপি অবসান ঘটায় অরবিন্দ কেজরিওয়ালের এক দশকের জমানার। ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে বিহারে বিজেপি এবং তাদের শরিক জনতা দল (ইউনাইটেড) অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। ২৪৩ আসনের বিধানসভায় এনডিএ ২০০-র বেশি আসন জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রতিষ্ঠা করেছে। এই নির্বাচনে বিজেপি একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তারা জয়ী হয় ৮৯টি আসনে। শতাংশের বিচারে এর পরিমাণ ৯০ এর কাছাকাছি। বিহারে কোনও শক্তিশালী আঞ্চলিক মুখ না থাকায় বিজেপি মূলত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জাতীয় জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর করে প্রচার চালায়। সেই কৌশলেই হয় বাজিমাত। প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সফল হয় বিজেপি।

    সুদূরপ্রসারী প্রভাব

    ২০২৫ সালে শান্তিতে নির্বাচনী পর্ব মিটলেও, এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। বিজেপি এবং এনডিএ এ বছর নিজেদের রাজনৈতিক আধিপত্য আরও দৃঢ় করেছে। অন্যদিকে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হয়েছে। ২০২৬ সালের আগে এই নির্বাচনী ফল ভারতের রাজনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ (Electoral Report Card) স্পষ্ট করে দিয়েছে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। দলটি চলতি বছরে একাধিক উপনির্বাচন ও স্থানীয় নির্বাচনেও ভালো ফল করেছে। ফেব্রুয়ারিতে বিজেপি গুরুত্বপূর্ণ মিলকিপুর উপনির্বাচনে জয়লাভ করে। এটি মর্যাদাপূর্ণ অযোধ্যা এলাকা হিসেবে পরিচিত। এই জয়ের মাধ্যমে লোকসভা নির্বাচনে ওই অঞ্চলে যে ধাক্কা খেয়েছিল দলটি, তার কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। নভেম্বরের উপনির্বাচনে ওডিশার নুয়াপাড়া আসনটি বিজেডির হাত থেকে ছিনিয়ে নেয় বিজেপি (Winners Losers)।

    স্থানীয় স্বশাসন সংস্থার নির্বাচনে বিজেপি

    ডিসেম্বরে মহারাষ্ট্রের স্থানীয় স্বশাসন সংস্থার নির্বাচনে বিজেপি একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসে—যেখানে তাদের প্রাপ্ত সভাপতি পদ ছিল ১১৭ থেকে ১২৯টি। এর পরেই ছিল একনাথ শিন্ডের শিবসেনা। তারা পেয়েছিল ৫৩–৫৪টি আসন। অজিত পাওয়ারের এনসিপি পেয়েছিল ৩৭টি। কেরালার তিরুবনন্তপুরমে ইতিহাস সৃষ্টি করে বিজেপি। নাগরিক সংস্থার নির্বাচনে রেকর্ড জয়ের পর ভিভি রাজেশ বিজেপির প্রথম নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব (Electoral Report Card) গ্রহণ করেন। এবার দেখা যাক, জয়ের হাসি হাসলেন কারা, মুখ থুবড়েই বা পড়লেন কে কে?

    নিতীশ কুমার

    বন্ধু ও শত্রু দুপক্ষের কাছেই বারবার রাজনৈতিকভাবে শেষ হয়ে গিয়েছেন বলে বিবেচিত হলেও, নিতীশ কুমার আবারও প্রমাণ করলেন যে তিনি ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম বড় ‘সারভাইভার’। ২০২৫ সালে রেকর্ড দশমবারের মতো বিহারের ক্ষমতা ধরে রেখে তিনি সেই নজির গড়েন। জেডি(ইউ) প্রধান হিসেবে তিনি এনডিএকে বিহার বিধানসভা নির্বাচনে জোরালো জয় এনে দেন এবং নেতৃত্বে পরিবর্তনের দাবির অন্তর্নিহিত চাপ ও তরুণ তেজস্বী যাদবের কঠিন চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও রাজ্যে জনপ্রিয় মুখ হিসেবে উঠে আসেন। ২০২৫ সালে জেডি(ইউ)-র আসনসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ৮৫-তে পৌঁছয়, যা নিতীশকে অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত জল্পনা এবং ভোটার ক্লান্তি নিয়ে সব প্রশ্ন উড়িয়ে দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ করে দেয়।

    দেবেন্দ্র ফড়নবিশ

    বিজেপির প্রভাবশালী ব্যাকরুম স্ট্র্যাটেজিস্ট দেবেন্দ্র ফডনবিশ ২০২৫ সালে নীরবে মহারাষ্ট্রে দলের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেন, যদিও উপমুখ্যমন্ত্রী শিন্ডের অসন্তোষ প্রকাশের মধ্যে দলের ভেতরে টানাপোড়েন চলছিল। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি ডিসেম্বরের পুরসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের রূপরেখা তৈরি করেন। এতে বিজেপি ৬,৯৫২টি কাউন্সিলর পদের মধ্যে ৩,৩২৫টি আসন জিতে নেয় এবং ২৮৮টি সংস্থার মধ্যে ১২৯টি সভাপতি পদ দখল করে। সব মিলিয়ে মহাজোট ২০৭টি আসনে জয়ী হয়। শিন্ডে শিবির (Winners Losers) থেকে ভাঙনের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও ফডনবিশ নাগরিক নির্বাচনের আগে মহাজোটকে ঐক্যবদ্ধ (Electoral Report Card) ও শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখতে সক্ষম হন।

    চিরাগ পাসওয়ান

    এলজেপি (আরভি)-র নেতা চিরাগ পাসওয়ান আবারও বিহারে এনডিএর অন্যতম সবচেয়ে ভরসাযোগ্য মুখ হিসেবে উঠে আসেন এবং জোটের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেন। কেন্দ্রীয় খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পমন্ত্রী পাসওয়ানের দল ২৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১৯টিতে জয়ী হয়।

    কেরালায় ইউডিএফ

    কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ কেরালার স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চমকপ্রদ প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছে রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে। ইউডিএফ মোট ভোটের ৩৮.৮ শতাংশ পেয়ে শীর্ষে রয়েছে। এই ঐতিহাসিক সাফল্য ক্ষমতার বাইরে থাকা ইউডিএফের জন্য বড়সড় প্রেরণা এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পিনরাই বিজয়নের নেতৃত্বাধীন এলডিএফের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সির ইঙ্গিত দেয় (Winners Losers)।

    ইন্ডি জোট

    ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি বিরোধী শক্তি হিসেবে গড়ে ওঠা বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ ২০২৫ সালে কার্যত ভেঙে যায়। জাতীয় রাজনীতির বদলে রাজ্যভিত্তিক অগ্রাধিকার সামনে আসতেই জোটের ভিত নড়বড়ে হয়ে যায়। জোট হিসেবে এবং পৃথকভাবেও বিরোধী দলগুলির জন্য ২০২৫ সালটি ছিল হতাশাজনক, কেরল ছাড়া কোথাও উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসেনি।
    চলতি বছরের শুরুতেই আম আদমি পার্টি জানিয়ে দেয়, ইন্ডি জোট শুধুমাত্র লোকসভা নির্বাচনের জন্যই ছিল এবং তারা জোট ছেড়ে বেরিয়ে যায়। পরে বিহার নির্বাচনের আগেই ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা জোট থেকে সরে দাঁড়ায়। জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা সম্প্রতি বিরোধীদের অবস্থান সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করে বলেন, ইন্ডি জোট এখন ‘লাইফ সাপোর্টে’। বিহারে ভরাডুবির পর আবারও কংগ্রেসের নেতৃত্বদানের ক্ষমতা (Electoral Report Card) নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, যা ২০২৬ সালের দিকে কঠিন রাজনৈতিক পথের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    অরবিন্দ কেজরিওয়াল

    আম আদমি পার্টির আহ্বায়কের জন্য ২০২৫ সাল একাধিক দুর্বলতা উন্মোচন করেছে। দীর্ঘ সময় জেলে থাকা, দুর্নীতির অভিযোগ এবং দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নরের সঙ্গে ঘনঘন সংঘাতের জেরে প্রশাসনিক অচলাবস্থা। এর ফলে রাজধানীতে অস্থিরতার একটি ধারণা তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত ভোটারদের ‘রিসেট বাটন’ চাপতে প্ররোচিত করে।
    দিল্লিতে টানা দু’টি ভোটে বিপুল জয়ের পর ২০২৫ সালে বিজেপির কাছে ক্ষমতা হারায় আপ। ২০২০ সালের তুলনায় দলটি প্রায় ৪০টি আসন হারিয়ে ব্যাপক ধাক্কা খায়। রাজধানী হাতছাড়া হওয়ার পর, বছর শেষে পাঞ্জাবই আপের একমাত্র রাজ্য যেখানে তারা ক্ষমতায় রয়েছে। ফলে দলের জাতীয় প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে সঙ্কুচিত হয়েছে (Winners Losers)।

    তেজস্বী যাদব

    ২০২০ সালের বিহার নির্বাচনে শক্তিশালী পারফরম্যান্সের পর আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব নিজের ‘বড় মুহূর্তে’র অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু অক্টোবরের নির্বাচনে এনডিএর জোরালো জয়ে তেজস্বী ও তাঁর দল কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়ে। টানা দু’টি নির্বাচনী পরাজয় এখন তাঁর ঝুলিতে, যার ফলে আরজেডির ভিতরে বড় ধরনের পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। কারণ এই দলটি এখনও লালু-রাবড়ি যুগের অন্ধকার অতীতের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছে (Electoral Report Card)।

    রাহুল গান্ধী

    যদিও চলতি বছরে কংগ্রেস কোনও বড় নির্বাচনে হারেনি, তবুও এককভাবে বা জোটে রাজ্য নির্বাচন জিততে দলের ধারাবাহিক ব্যর্থতাই রাহুল গান্ধীর অধীনে কংগ্রেসের রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণ করে চলেছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আসনসংখ্যা বাড়িয়ে ৯৯-এ পৌঁছে বিরোধী শিবিরে কংগ্রেস একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। এটি দলের জন্য ছিল এক সুবর্ণ সুযোগ। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় কংগ্রেস। ইন্ডি জোট ভেঙে পড়ে, আর বিজেপির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে পারেননি রাহুল।
    রাহুলের ‘ভোট চুরি’ তত্ত্বও জনমানসে বিশেষ সাড়া ফেলতে পারেনি। সেই কারণেই বিহারের ভোটাররা রাজ্য নির্বাচনে কংগ্রেসকে কার্যত প্রত্যাখ্যান করেছে।

    প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তি

    বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ ২০২৫ সালে স্পষ্টভাবেই প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বছরটির শুরু ও শেষ- উভয় ক্ষেত্রেই তারা ছিল সাফল্যের শীর্ষে। দিল্লিতে ফের ক্ষমতায় ফেরা থেকে শুরু করে বিহারে নিরঙ্কুশ জয় এবং মহারাষ্ট্রের স্থানীয় স্বশাসন নির্বাচনে শক্তিশালী ফল, সব মিলিয়ে এনডিএর দাপট স্পষ্ট। এর উল্টো দিকে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডি’ জোট রাজনৈতিক পুঁজি ও জোটগত সমীকরণ—দুই ক্ষেত্রেই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য প্রত্যাবর্তনের পরেও সেই গতি ধরে রাখতে তারা ব্যর্থ হয়েছে (Winners Losers)। ২০২৬ সালে অসম, কেরল, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের আগে স্পষ্টতই রাজনৈতিক গতি এনডিএর দিকেই রয়েছে (Electoral Report Card)।

  • Bangladesh Concert Vandalized: সংস্কৃতির ঠাঁই নেই ইউনূসের বাংলাদেশে! ছায়ানট, উদীচীর পর হামলা জেমসের কনসার্টে

    Bangladesh Concert Vandalized: সংস্কৃতির ঠাঁই নেই ইউনূসের বাংলাদেশে! ছায়ানট, উদীচীর পর হামলা জেমসের কনসার্টে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন বাংলাদেশে শিল্প-সংস্কৃতির কোনও ঠাঁই নেই। চলছে শুধু মৌলবাদীদের তাণ্ডব। শুধু ভারতীয় নয়, এবার বাংলাদেশি শিল্পীরাও হামলার মুখে। ইসলামি কট্টরপন্থীদের কাছে সঙ্গীত নাকি ‘হারাম’। এর আগে তাই বাংলাদেশে ছায়ানট থেকে উদীচীতে হামলা হয়েছে। এবার ফরিদপুরে জনপ্রিয় গায়ক জেমসের কনসার্টে হামলা হল। এই হামলায় অন্তত ৩০ জন জখম হয়েছন বলে জানা গিয়েছে।

    জেমসের অনুষ্ঠানে ইট বৃষ্টি

    পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলা বিদ্যালয়ের ১৮৫ তম বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে গিয়েছিলেন জেমস ও তাঁর ব্যান্ড। সেখানে হঠাৎ হামলা চালায় কিছুজন। ছোড়া হয় পাথর। আহত হয় বেশ কয়েকজন। এরপরই অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, একদল মানুষ জেমসের অনুষ্ঠান দেখার জন্য স্কুলের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করছিল। বাধা দিতেই ইট পাথর ছুঁড়তে শুরু করে। এরপর হামলাকারীরা ঢুকে সোজা জেমসের স্টেজ দখল করার চেষ্টা করে, এমনটাই দাবি আয়োজকদের। ইট বৃষ্টি থেকে কোনওমতে রক্ষা পান জেমস।

    জেমসের কনসার্ট বাতিল

    অনুষ্ঠানের শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য বেনজীর আহমেদ তাবরিজ বলেন, নগর বাউল জেমসের গান শুনতে আসা বহিরাগত দর্শকরা গান শুনতে স্কুল ক্যাম্পাসে ঢুকতে না পারায় তারা বাইরে থেকে ইট ছোড়ায় জেমসের সংগীতানুষ্ঠান স্থগিত করা হয়। এতে কমিটির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শামীমসহ ২৫-৩০ জন আহত হন বলেও জানান তারা। গুরুতর আহত অবস্থায় বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, বহিরাগতদের ঢুকতে না দেওয়ায় হালকা বিশৃঙ্খলা হয়েছে। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শেষ পর্যন্ত জেমসের কনসার্ট বাতিল করা হয়েছে।

    মঞ্চ দখল করে সেখানে ভাঙচুর কেন

    ঘটনাটিকে ‘হালকা’ করে দেখানোর জন্য আয়োজকদের তরফ থেকে পরে গভীর রাতে দাবি করা হয়, অনুষ্ঠানস্থলে না ঢুকতে পেরেই নাকি এই হামলা করে বিক্ষুব্ধ জনতা। যদিও অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে দুটো বড় স্ক্রিনে জেমসের গান দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এদিকে, যদি অনুষ্ঠানস্থলে ঢোকাই উদ্দেশ্য হবে, তাহলে মঞ্চ দখল করে সেখানে ভাঙচুর কেন হয়? এই আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক বাংলাদেশির দাবি, এটা জামাতপন্থীদের হামলা ছিল। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-অগস্টের সেই ‘বিপ্লবে’ জেমস শেখ হাসিনার বিরোধিতায় সুর চড়িয়েছিলেন। তবে ‘স্বাধীন’ বাংলাদেশে এবার তাঁর কনসার্ট পণ্ড হল।

    সাংস্কৃতিক কর্মী থেকে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে আক্রমণ

    ২৬ ডিসেম্বর শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফরিদপুরের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে স্কুলে জেমসের নগর বাউল ব্যান্ডের সংগীত পরিবেশনের কথা ছিল। এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে স্কুল চত্বর ছিল সরগরম। এরই মাঝে ঘটে অপ্রীতিকর ঘটনা যার ফলে বন্ধ হয়ে যায় জেমসের কনসার্ট। বাংলাদেশে বর্তমান পরিস্থিতিতে একের পর সাংস্কৃতিক কর্মী থেকে সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উপর আক্রমণ হওয়ার ঘটনায় চারিদিকে নিন্দার ঝড় উঠেছে। জুলাই আন্দোলনের পরই জলের গানের সঙ্গীত শিল্পী রাহুল আনন্দের বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে কয়েকদিন আগে হাদির হত্যাকাণ্ডের পর ছায়ানট, উদিচীর মত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। আক্রমণের শিকার প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের মত বাংলাদেশের প্রথমসারির সংবাদমাধ্যমও। আর এবার অশান্ত বাংলাদেশের কট্টরপন্থীদের টার্গেটে জেমসের কনসার্ট। কট্টরপন্থিদের নিশানায় এবার বাংলার রকস্টার জেমস। হামলাকারীদের মূল দাবি ছিল কোনও ধরনের সঙ্গীত অনুষ্ঠান বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা যাবে না।

    উদ্বিগ্ন জেমসের ভারতীয় ভক্তরাও

    বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ‘বহিরাগত’ তাণ্ডবে আহত অন্তত ১৫ থেকে ২৫ জন ছাত্র। জানা গিয়েছে, হামলা চালালেও শেষপর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কাছে বাধা পেয়ে অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন ওই আক্রমণকারীরা। শিল্পীর শারীরিক কোনও ক্ষতি হয়নি। অনুষ্ঠানস্থলে আক্রমণের ভিডিও আপলোড করে দীপ হালদার নামের একজন এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, জমায়েত করা ওই ব্যক্তিরা চায় না বাংলাদেশে কোনও সঙ্গীত বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হোক। সমাজমাধ্যমে তিনি আরও লিখেছেন, শিল্পী কোনওমতে ওই অঞ্চল ছেড়ে বেরিয়ে আসতে পেরেছেন। ভারতীয় পরিচালক অনুরাগ বসুর ‘লাইফ ইন আ মেট্রো’ চলচ্চিত্রে ‘আলবিদা’ গান গেয়েছিলেন জেমস। হামলার ঘটনায় উদ্বিগ্ন তাঁর ভারতীয় ভক্তেরাও।

    সমালোচনার ঝড় সাংস্কৃতিক মহলে

    ঘটনাটি সামনে এনে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “ছায়ানটের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সংগীত, নাটক, নৃত্য, আবৃত্তি ও লোকসংস্কৃতির মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল চেতনা গড়ে তোলার জন্য তৈরি উদীচীও ভস্মীভূত হয়েছে। আজ জিহাদিরা প্রখ্যাত শিল্পী জেমসকে মঞ্চে উঠতে দেয়নি।” তসলিমা নাসরিন আরও উল্লেখ করেন, কয়েকদিন আগে আলী আকবর খানের নাতি শিল্পী সিরাজ আলি খান ঢাকায় এসেও কোনও অনুষ্ঠান না করেই ভারতে ফিরে গিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, শিল্পী, সংগীত ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান নিরাপদ না হলে তিনি আর বাংলাদেশে ফিরবেন না। একইভাবে, ওস্তাদ রশিদ খানের পুত্র আরমান খানও সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে অস্বীকার করেছেন বলে জানান তসলিমা। উল্লেখ্য, জেমস বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় গায়ক-গীতিকার ও সুরকার। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। হিন্দি ছবির ‘গ্যাংস্টার’ ‘লাইফ ইন এ মেট্রো’ র মত একাধিক ছবিতে তিনি একের পর এক জনপ্রিয় গান শ্রোতাদের উপহার দিয়েছেন। তাঁর কনসার্টে হামলার ঘটনা বাংলাদেশে মৌলবাদী শক্তির বাড়বাড়ন্তের জলন্ত ইঙ্গিত করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সমালোচকদের অভিযোগ, মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ । তাঁদের মতে, আসন্ন ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো হচ্ছে।

  • Trump-Zelensky Meet: রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে আলোচনা, রবিবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন জেলেনস্কি

    Trump-Zelensky Meet: রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে আলোচনা, রবিবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন জেলেনস্কি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নববর্ষের আগেই রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে (Trump-Zelensky Meet) বসতে চলেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি। প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতেই এই বৈঠক হওয়ার কথা। জেলেনস্কি জানান, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার আগ্রাসনের মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধ থামলে কোন কোন এলাকা কার নিয়ন্ত্রণে থাকবে এই বিষয়টিই আলোচনার মূল কেন্দ্র। বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি, এই সংঘর্ষ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ। তবে, রবিবার এই বৈঠকের আগে শনিবার ভোরে কিয়েভে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

    ভূখণ্ডের প্রশ্নই প্রধান

    দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনায় সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভূখণ্ডের প্রশ্ন। জেলেনস্কি কিয়েভে সাংবাদিকদের জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে তৈরি হওয়া ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার খসড়া প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পূর্ণ। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা সংক্রান্ত একটি চুক্তিও প্রায় চূড়ান্ত। অতীতে সোভিয়েত-পরবর্তী সময়ে দেওয়া নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি কার্যত ব্যর্থ হওয়ায় এই বৈঠক কিয়েভের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেলেনস্কি (Trump-Zelensky Meet) জানান, যুক্তরাষ্ট্র ১৫ বছরের জন্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নিশ্চয়তার একটি চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে। যা পুনরায় নবীকরণ করা যাবে। তবে ইউক্রেন আরও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি চায়, যাতে ভবিষ্যতে রুশ আগ্রাসন রোখা যায়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের কথা ঘোষণা করে জেলেনস্কি বলেন, নতুন বছরের আগেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। এক হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে জেলেনস্কি সাংবাদিকদের জানান, “সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। ডনবাস এবং জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র – এই দু’টি বিষয় অবশ্যই আলোচনায় থাকবে। পাশাপাশি আরও অনেক প্রসঙ্গ নিয়েও কথা হবে।”

    ওয়াশিংটনের হাতেই নিয়ন্ত্রণ

    রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে (Russia Ukraine war talks) মার্কিন মধ্যস্থতায় যে শান্তি প্রক্রিয়া চলছে (Ukraine peace plan), তার নিয়ন্ত্রণ যে শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের হাতেই, তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির (Volodymyr Zelensky) সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের ঠিক আগেই (Trump Zelensky meeting) ট্রাম্প জানিয়ে দিলেন, তাঁর অনুমোদন ছাড়া জেলেনস্কির হাতে কার্যত কিছুই নেই। তবে রবিবারের বৈঠক ভাল হবে বলেই আশাবাদী ট্রাম্প। পাশাপাশি তিনি জানান, শীঘ্রই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও কথা বলতে পারেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, “আমি পুতিনের সঙ্গে খুব শিগগিরই কথা বলব, যতবার দরকার পড়বে, কথা হবে।”

    গণভোট করতে রাজি ইউক্রেন

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ইউক্রেনে রাশিয়ার (Russia Ukraine War) পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ থামাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে চেষ্টা চালাচ্ছে, তারই অঙ্গ এই আলোচনা। জেলেনস্কি জানান, ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে গণভোট করতে তিনি রাজি, তবে শর্ত একটাই। রাশিয়াকে অন্তত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে হবে, যাতে ইউক্রেন সেই গণভোটের প্রস্তুতি নিতে এবং তা আয়োজন করতে পারে। বৈঠকের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হল ইউরোপের বৃহত্তম জাপোরিঝঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ। যুদ্ধের শুরুর দিকেই এই কেন্দ্র দখল করে নেয় রাশিয়া। রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ জানান, ইউক্রেনের ২০ দফা পরিকল্পনা মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচিত প্রস্তাবের সঙ্গে মিলছে না। যদিও তিনি ইন্টারফ্যাক্সকে বলেন, শান্তি আলোচনায় একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’-এ পৌঁছনো সম্ভব।

    মস্কোর অবস্থান বেশ কড়া

    অন্যদিকে মস্কোর অবস্থান বেশ কড়া। রাশিয়া চায়, ইউক্রেন পূর্ব ডোনেৎস্ক অঞ্চলের সেই অংশগুলি থেকেও সেনা সরিয়ে নিক, যেগুলি প্রায় চার বছরের যুদ্ধে এখনও পুরোপুরি দখল করতে পারেনি রুশ বাহিনী। রাশিয়ার লক্ষ্য, সম্পূর্ণ ডনবাস অঞ্চল, ডোনেৎস্ক ও লুহানস্ক, নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনা। ইউক্রেনের অবস্থান সম্পূর্ণ উল্টো। কিভ চায়, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতেই সংঘর্ষ বন্ধ হোক। এই টানাপড়েনের মাঝেই আপসের পথ খুঁজতে আমেরিকা প্রস্তাব দিয়েছে, ইউক্রেন যদি ওই এলাকা ছাড়ে, তাহলে সেখানে একটি ‘ফ্রি ইকোনমিক জোন’ গঠন করা হবে। যদিও এই অর্থনৈতিক অঞ্চল কীভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ক্রেমলিন সূত্রে জানানো হয়েছে, পুতিনের বিদেশ মন্ত্রকের উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে মার্কিন প্রস্তাবগুলি নিয়ে মস্কোর অবস্থান কী, তা প্রকাশ করা হয়নি। মস্কো দাবি করেছে, আলোচনায় “ধীর কিন্তু স্থির অগ্রগতি” হচ্ছে। তবে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল ডনবাস থেকে উভয় পক্ষের সেনা প্রত্যাহারের জেলেনস্কির প্রস্তাব নিয়ে রাশিয়া এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

    যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রস্তাব

    হোয়াইট হাউস প্রস্তাব দিয়েছে, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে একটি কার্যত নিরস্ত্রীকৃত অঞ্চল গঠন করা হবে, যেখানে উভয় পক্ষ সেনা মোতায়েন করবে না। এতে বিতর্কিত এলাকার আইনগত মালিকানা প্রশ্নটি আপাতত এড়ানো যাবে। তবে অঞ্চলগত দাবি এবং জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে মতবিরোধ এখনো সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে আছে। রাশিয়া ইতোমধ্যে জানিয়েছে, ডনবাস থেকে ইউক্রেনীয় সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার না হলে তারা অঞ্চলটি দখল করে নেবে। সর্বশেষ প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ ন্যাটোর অনুচ্ছেদ–৫-এর আদলে ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর সদস্যসংখ্যা ৮ লাখে বজায় রাখার কথাও বলা হয়েছে—যা রাশিয়ার আপত্তির অন্যতম কারণ।

  • Kerala: বাম দুর্গে বিজেপির রাজ, তিরুঅনন্তপুরমে মেয়র পদে শপথ নিলেন ভি ভি রাজেশ

    Kerala: বাম দুর্গে বিজেপির রাজ, তিরুঅনন্তপুরমে মেয়র পদে শপথ নিলেন ভি ভি রাজেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেরলের (Kerala) রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় রচনা করল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। তিরুবনন্তপুরম মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে নিজেদের প্রথম মেয়র পেল গেরুয়া শিবির। এই গুরুত্বপূর্ণ পদে শপথ গ্রহণ করেছেন বিজেপি নেতা ভি ভি রাজেশ। বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে রাজ্যের রাজধানী শহরে এই জয় বিজেপির জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

    কেরলে দীর্ঘদিন ধরে সিপিআইএম নেতৃত্বাধীন বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (LDF) এবং কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ)-এর মধ্যে ক্ষমতার পালাবদল দেখে আসছে। সেখানে বিজেপির এই উত্থান রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তিরুবনন্তপুরম কর্পোরেশনে বিজেপির এই সাফল্য আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে দলের কর্মী-সমর্থকদের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্ব। দলের সাধারণ সম্পাদক এবং কেরলের ভারপ্রাপ্ত নেতা শিবরাজ সিং চৌহান সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ লিখেছেন, “কেরল বিজেপির জন্য এক গৌরবোজ্জ্বল দিন। তিরুবনন্তপুরম কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় শ্রী ভি ভি রাজেশকে আন্তরিক অভিনন্দন।”

    বিকল্প খুঁজছে মানুষ

    বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডাও এই জয়কে দলের প্রতি মানুষের ক্রমবর্ধমান আস্থার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই জয় প্রমাণ করে যে কেরলের মানুষ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিশ্বাস রাখছেন এবং রাজ্যের উন্নয়নের জন্য বিজেপির বিকল্প খুঁজছেন। এই জয় কেবল একটি কর্পোরেশনের ক্ষমতা দখল নয়, এটি কেরলের রাজনীতিতে বিজেপির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের স্পষ্ট ইঙ্গিত। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজধানীর মেয়র পদ দখল করা দলের জন্য এক বড় মাইলফলক। ভিভি রাজেশকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখের, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুরেশ গোপী, প্রাক্তন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সিকে পদ্মনাভন, ভি মুরলীধরন, কুম্মানাম রাজাশেখরন, কে সুরেন্দ্রন এবং যুব মোর্চা রাজ্য সভাপতি ৷ পুরনিগমের মেয়র নির্বাচনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীব চন্দ্রশেখর ৷ তিনি জানান, এই দিনটি কেরল বিজেপির জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন ৷ ভিভি রাজেশ জানিয়েছেন, তিনি তিরুঅনন্তপুরম পুরনিগমের ১০১টি ওয়ার্ডকে একটি ইউনিট হিসেবেই দেখবেন ৷ তাঁর কথায়, “আমাদের লক্ষ্য, উন্নয়নের দিক দিয়ে তিরুঅনন্তপুরম যেন দেশের প্রথম তিনটি শহরের মধ্যে থাকে ৷ এর জন্য সকলের সহযোগিতা দরকার ৷”

  • Ghar Wapsi in Bihar: বড়দিনে বিহারের পূর্ণিয়ায় ঘর ওয়াপসি, শতাধিক মানুষের সনাতন ধর্মে প্রত্যাবর্তন

    Ghar Wapsi in Bihar: বড়দিনে বিহারের পূর্ণিয়ায় ঘর ওয়াপসি, শতাধিক মানুষের সনাতন ধর্মে প্রত্যাবর্তন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিহারের পূর্ণিয়া জেলার বনমনখিতে বড়দিনে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও বজরং দল-এর উদ্যোগে একটি ঘর ওয়াপসি (Ghar Wapsi in Bihar) অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে শতাধিক মানুষ সনাতন ধর্মে ফিরে আসেন বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা হোম-যজ্ঞ, হাভন এবং তিলক গ্রহণসহ বিভিন্ন শুদ্ধিকরণ আচার সম্পন্ন করেন। এরপর প্রকাশ্যে তাঁরা জানান, তাঁরা আর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী নন। অংশগ্রহণকারীরা বনমনখি ও বাইসি ব্লকের অধীন একাধিক গ্রামের বাসিন্দা।

    আর্থিক সাহায্য ও সামাজিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি

    ভিএইচপি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই এর আগে আর্থিক প্রলোভন ও চাপের মাধ্যমে সনাতন ধর্ম থেকে বিচ্যুত হয়েছিলেন। ভিএইচপি’র বিহার-ঝাড়খণ্ড ধর্ম প্রসার প্রধান উপেন্দ্র কুশওয়াহা অভিযোগ করেন, খ্রিস্টান মিশনারিরা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলিকে আর্থিক সাহায্য ও সামাজিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্মান্তরে প্রলুব্ধ করেছিলেন। তাঁর কথায়, “এরা নিজেদের শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছিলেন। সত্য বুঝতে পেরে তাঁরা স্বেচ্ছায় সনাতন ধর্মে ফিরে এসেছেন।” অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে হরিনটোড় গ্রামের সুরেন্দ্র রাই, তাঁর স্ত্রী মীনা দেবী ও কালু হারিজন তাঁদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন। মীনা দেবী জানান, ধর্মান্তরের পর তাঁদের হিন্দু দেব-দেবীর উপাসনা করতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছিল এবং তাঁদের সংস্কৃতি ও জীবনধারা থেকে বিচ্ছিন্ন বোধ হচ্ছিল। তিনি বলেন, “আমাদের ঐতিহ্য মানতে দেওয়া হত না। সব কিছু জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছিল।” পরে তিনি বাইসি থানায় যান এবং ভিএইচপি’র সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে জানান।

    ধর্মান্তরিত হওয়ার পরে আর প্রতিশ্রুতি পূরণ হয় না

    সুরেন্দ্র রাই বলেন, লোভ বা প্রলোভনের কারণে নিজের ধর্ম ত্যাগ না করার জন্য অন্যদের সতর্ক থাকা উচিত। তিনি বলেন, “আমরা ভুল করেছিলাম, আজ সেই ভুল সংশোধন করলাম”। কালু হারিজনও একই আবেদন জানিয়ে বলেন,“কেউ যেন আর্থিক প্রলোভন বা চাপে পড়ে নিজের বিশ্বাস ত্যাগ না করেন।” তাঁদের কথায়, ধর্মান্তরণের জন্য নিজেদের সমাজ ও আত্মীয়-স্বজন থেকেও দূরে সরে যাচ্ছিলেন তাঁরা। তাই এরা সকলেই হিন্দু ধর্মে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এখন তাঁরা হিন্দু রীতি অনুযায়ী ঘরে ফিরেছেন। এই এলাকার গ্রামবাসীদের মতে, ধর্মপ্রচারকারীরা ষড়যন্ত্র করে গ্রামীণ এলাকার দরিদ্র ও অভাবী লোকদের ধর্মান্তরিত করতে প্ররোচিত করে। মানুষকে ধর্মান্তরিত করার জন্য বাড়ি, টাকা, চাকরি এবং চিকিৎসার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। এভাবেই গ্রামের একাধিক পরিবার খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারকদের এই ষড়যন্ত্রে আটকে পড়ে বলে অভিযোগ। যাঁরা ধর্মান্তরিত হয়েছেন তাঁরা গ্রামবাসীদের দ্বারাও সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন। গ্রামবাসীরা তাঁদের কোনও কর্মসূচিতেই অংশ নেয় না, এমনকী বিয়েতেও এসব লোকের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে না বলে অভিযোগ। ধর্মপ্রচারকরা এই নিরীহ লোকদের যে প্রতিশ্রুতি দেয় তা ধর্মান্তরিত হওয়ার পরে আর পূরণ হয় না। ভিএইচপি নেতৃত্বের মতে, এই ঘর ওয়াপসি অনুষ্ঠান অঞ্চলটিতে তথাকথিত প্রতারণামূলক ধর্মান্তরের বিরুদ্ধে একটি বার্তা দিয়েছে।

  • US Strike on ISIS: খ্রিস্টানদের ওপর আক্রমণের জের! নাইজেরিয়ায় আইএস জঙ্গিঘাঁটিতে বিমান হামলা আমেরিকার

    US Strike on ISIS: খ্রিস্টানদের ওপর আক্রমণের জের! নাইজেরিয়ায় আইএস জঙ্গিঘাঁটিতে বিমান হামলা আমেরিকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: খ্রিস্টানদের ওপর ধারাবাহিক হামলার প্রতিবাদে নাইজেরিয়ায় (Nigeria) আইএস জঙ্গিদের ঘাঁটির (ISIS Camp) উপর মার্কিন সেনাবাহিনী (US Army) একাধিক ‘প্রাণঘাতী’ বিমান হামলা (Airstrike) চালাল। বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে একথা জানান আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump)। তিনি জানান, তাঁর নির্দেশেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ায় (North-West Nigeria) সক্রিয় আইএস জঙ্গিদের লক্ষ্য করে এই হামলা হয়।

    একাধিক নিখুঁত হামলা আমেরিকার

    ট্রাম্পের অভিযোগ, এই ইসলামি জঙ্গিরা মূলত খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নিরীহ মানুষদের নিশানা করে হত্যা করছিল। হোয়াইট হাউসের (White House) দাবি অনুযায়ী, নাইজেরিয়ায় সাম্প্রতিক হিংসা এমন মাত্রায় পৌঁছেছিল, যা বহু দশক এমনকী শতাব্দী ধরে দেখা যায়নি। ট্রাম্প আরও বলেন, আগেই তিনি এই জঙ্গি গোষ্ঠীকে সতর্ক করেছিলেন। তাঁর কথায়, “আমি তাদের জানিয়েছিলাম, খ্রিস্টানদের হত্যাকাণ্ড বন্ধ না হলে তার ভয়াবহ পরিণতি হবে – আর সেটাই হয়েছে।” প্রেসিডেন্টের দাবি, অভিযানে ‘একাধিক নিখুঁত হামলা’ চালানো হয়েছে, যা মার্কিন সেনার (US Army) ক্ষমতার পরিচয় বহন করে। পেন্টাগনকে ‘ডিপার্টমেন্ট অফ ওয়ার’ (Dept of War) বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমেরিকার সেনাবাহিনীই কেবল এমন নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম। এই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনের সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানও স্পষ্ট করেন। তিনি লেখেন, “আমার নেতৃত্বে আমেরিকা কখনওই উগ্র ইসলামিক সন্ত্রাসবাদকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেবে না।” পোস্টের শেষে তিনি মার্কিন সেনাদের শুভেচ্ছা জানান এবং বড়দিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখেন, “ঈশ্বর আমাদের সেনাবাহিনীকে আশীর্বাদ করুন-মেরি ক্রিসমাস।”

    নাইজেরিয়ান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে হামলা

    বহু বছর ধরে আইএসআইএস গোষ্ঠী এবং বোকো হারাম-সহ চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর হিংসার কবলে নাইজেরিয়া। বিশেষ করে দেশটির উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জঙ্গিদের প্রভাব খুব বেশি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা আইনের অধীনে নাইজেরিয়াকে “বিশেষ উদ্বেগের দেশ” হিসেবে মনোনীত করেছে। নভেম্বরে ট্রাম্প বলেছিলেন, খ্রিস্টানদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগের পর তিনি পেন্টাগনকে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে, স্টেট ডিপার্টমেন্টও খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত নাইজেরীয় এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকা কমান্ড (AFRICOM) হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ২৫ ডিসেম্বর নাইজেরিয়ার সোকোতো রাজ্যে এই হামলা চালানো হয় এবং তা নাইজেরিয়ান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ নাইজেরিয়ার সরকারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও সামরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে অভিযানটি সম্ভব হয়েছে।

    ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার অঙ্গীকার

    নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু বড়দিনের দিন সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত একটি বিবৃতি ও চিঠিতে ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার অঙ্গীকার করেছেন। টিনুবু তাঁর বিবৃতির সঙ্গে সংযুক্ত একটি চিঠিতে বলেছেন, “আপনাদের রাষ্ট্রপতি হিসেবে, আমি নাইজেরিয়ায় ধর্মীয় স্বাধীনতাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে এবং বিভিন্ন ধর্মের সকল মানুষকে হিংসা থেকে রক্ষা করার জন্য আমার ক্ষমতার মধ্যে সবকিছু করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” নাইজেরিয়ার বিদেশ মন্ত্রকও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার কথা স্বীকার করেছে। তারা জানায়, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান রেখেই এই সমন্বয় করা হয়েছে।

     

     

     

     

  • Dhruv Criticize Janhvi: বাংলাদেশে হিন্দু যুবক হত্যা, জানভি কাপুরের পোস্টের পর ধ্রুব রাঠির প্রতিক্রিয়া ঘিরে বিতর্ক

    Dhruv Criticize Janhvi: বাংলাদেশে হিন্দু যুবক হত্যা, জানভি কাপুরের পোস্টের পর ধ্রুব রাঠির প্রতিক্রিয়া ঘিরে বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ইনস্টাগ্রাম পোস্ট করেছেন বলিউড অভিনেত্রী জানভি কাপুর (Dhruv Criticize Janhvi)। তাঁর ইনস্টাগ্রাম পোস্টের পরপরই ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির একটি পাল্টা পোস্ট করেন। তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে জানভি কাপুর একটি ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে বাংলাদেশে সংঘটিত ওই হত্যাকাণ্ডকে “নৃশংস” বলে উল্লেখ করেন। তিনি সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান। হিংসার ঘটনায় বেছে বেছে প্রতিবাদ করার প্রবণতার সমালোচনা করেন জানভি।

    অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হিন্দুরা

    সম্প্রতি বাংলাদেশে প্রতিদিনই অত্যাচার ও নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে হিন্দুদের। গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলায় দীপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়। নীয় পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে উত্তেজিত জনতা তাঁকে আক্রমণ করে। পরে তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। এই ঘটনাকে নিষ্ঠুর, নৃশংস এবং অমানবিক অ্যাখ্যা দেন জানভি। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কথা বলেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত ছিল যে ভৌগোলিক অবস্থান বা মতাদর্শ নির্বিশেষে সব ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধেই সমানভাবে প্রতিবাদ হওয়া উচিত।

    জানভি কাপুরকে নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট

    এই ঘটনার দিকে জানভি কাপুর দৃষ্টি আকর্ষণ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ধ্রুব রাঠি তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে “ডার্ক সাইড অফ বিউটি” শিরোনামের একটি ইউটিউব ভিডিও প্রচার করেন। যার থাম্বনেইলে জানভি কাপুরের ছবি ব্যবহার করা হয়। পোস্টের সময় নির্বাচন নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন ওঠে। নেটিজেনদের একাংশের অভিযোগ, জানভি কাপুরের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার নিন্দাকে আড়াল করতেই ধ্রুব রাঠি ওই ভিডিওটি প্রচার করেছেন। যদিও ধ্রুব রাঠি নিজে এই হত্যাকাণ্ড বা বিতর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার খবর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। বিভিন্ন মহল পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছে।

  • Bharat Taxi: আসছে দেশের প্রথম সমবায় ট্যাক্সি পরিষেবা ‘ভারত ট্যাক্সি’! যাত্রী সুবিধা, চালকদের আয় বৃদ্ধিই লক্ষ্য দাবি শাহের

    Bharat Taxi: আসছে দেশের প্রথম সমবায় ট্যাক্সি পরিষেবা ‘ভারত ট্যাক্সি’! যাত্রী সুবিধা, চালকদের আয় বৃদ্ধিই লক্ষ্য দাবি শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের প্রথম সমবায় ট্যাক্সি পরিষেবা ‘ভারত ট্যাক্সি’ (Bharat Taxi) চালু হতে চলেছে দিল্লিতে। চালকদের আয় বাড়ানো এবং যাত্রী পরিষেবা উন্নত করার লক্ষ্যে কেন্দ্র সরকার শীঘ্রই ‘ভারত ট্যাক্সি’ পরিষেবা চালু করতে চলেছে। সম্প্রতি এই ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সমবায়মন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় সরকার এই পরিষেবা চালু করতে চলেছে। ট্যাক্সি পরিষেবার জন্য সমস্ত প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। সূত্রের খবর, চালকরা ভাড়ার লভ্যাংশ থেকে অনেক বেশি আয় করতে পারবেন। যার জন্য একটি মাসিক ক্রেডিট সিস্টেম তৈরি করা হয়েছে।

    যাত্রী সুবিধা, চালকদের আয় বৃদ্ধিই লক্ষ্য

    হরিয়ানার পঞ্চকুলায় অনুষ্ঠিত সহকারী সম্মেলনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায়মন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) বলেন, সমবায় মন্ত্রকের উদ্যোগে চালু হতে যাওয়া এই পরিষেবায় অর্জিত সমস্ত লাভই চালকদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। অমিত শাহের কথায়, “আমরা খুব শীঘ্রই ‘ভারত ট্যাক্সি’ (Bharat Taxi) পরিষেবা চালু করব, যার প্রতিটি টাকার লাভ যাবে আমাদের চালক ভাইদের কাছে। এতে যাত্রীদের সুবিধা বাড়বে এবং একই সঙ্গে চালকদের আয়ও বৃদ্ধি পাবে।” দেশের অ্যাপ ক্যাব বাজারে বড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে চলেছে নতুন এই প্ল্যাটফর্ম ‘ভারত ট্যাক্সি’। সূত্রের খবর, নতুন এই পরিষেবাটি জানুয়ারি মাসে নয়াদিল্লিতে পূর্ণাঙ্গ ভাবে চালু হতে চলেছে। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে দিল্লি এবং গুজরাটের বেশ কিছু অংশে পরীক্ষামূলক ভাবে পরিষেবা শুরু হয়েছিল ভারত ট্যাক্সির। এই নতুন পরিষেবা ওলা, উবর এবং র‌্যাপিডোর মতো প্রতিষ্ঠিত সংস্থাগুলিকে টক্কর জোর টক্কর দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    ভারত ট্যাক্সি কী?

    ভারত ট্যাক্সি (Bharat Taxi) পরিচালনা করছে সহকার ট্যাক্সি কো-অপারেটিভ লিমিটেড। এই প্ল্যাটফর্মকে চালক-মালিকানাধীন দেশীয় মোবিলিটি পরিষেবা হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। সংস্থার দাবি এটি বিশ্বের বৃহত্তম ড্রাইভার-ওনড মোবিলিটি নেটওয়ার্ক। বর্তমানে দিল্লি এবং গুজরাটের সৌরাষ্ট্র অঞ্চলে গাড়ি, অটো-রিকশা ও বাইক ট্যাক্সি মিলিয়ে এক লক্ষের বেশি চালক এই প্ল্যাটফর্মে নথিভুক্ত রয়েছেন। ভারত ট্যাক্সি অ্যাপে স্বচ্ছ ভাড়া কাঠামো, একাধিক ভাষা, রিয়েল-টাইম গাড়ি ট্র্যাকিং এবং ২৪ ঘণ্টার গ্রাহক সহায়তার সুবিধা রয়েছে। যাত্রী ও চালক—দু’পক্ষের নিরাপত্তার জন্য যাচাই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এ ছাড়াও দিল্লি পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সংযোগ রেখে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।

    জিরো কমিশন মডেল

    ভারত ট্যাক্সির (Bharat Taxi) সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল জিরো-কমিশন মডেল। এই ব্যবস্থায় চালকরা ভাড়ার পুরো অর্থ নিজেরাই রাখতে পারবেন। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নথিভুক্ত চালকদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ক্যাব অপারেটর। এ ছাড়াও রয়েছেন অটো-রিকশা এবং বাইক ট্যাক্সির চালকেরা। সহকার ট্যাক্সি কো-অপারেটিভ ইতিমধ্যেই ভারত ট্যাক্সির মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে। এই অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস— দুই প্ল্যাটফর্মেই পাওয়া যাচ্ছে। সংস্থার দাবি অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত অ্যাপটি ৭৫ হাজারের বেশি বার ডাউনলোড করা হয়েছে।

    ভাড়ার হার ও পরিষেবা

    এই প্ল্যাটফর্মে এসি, প্রিমিয়াম, নন-এসি এবং এক্সএল ক্যাবের অপশন মিলবে। সংস্থার দাবি, দু’মিনিটের মধ্যেই গাড়ি পাওয়া যাবে। ভাড়ার হারও তুলনামূলকভাবে অন্য সংস্থার থেকে কম থাকবে। এই অ্যাপে প্রথম ৪ কিলোমিটার পর্যন্ত ন্যূনতম ভাড়া ৩০ টাকা। ৪ থেকে ১২ কিলোমিটারের জন্য প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ২৩ টাকা এবং ১২ কিলোমিটারের বেশি হলে প্রতি কিলোমিটারে ১৮ টাকা ধার্য করা হবে। অন্যান্য অ্যাগ্রিগেটরদের মতোই ভারত ট্যাক্সি অ্যাপটি মেট্রোর মতো পাবলিক ট্রান্সপোর্ট পরিষেবার সঙ্গেও যুক্ত। ফলে ব্যবহারকারীরা একটি মাত্র অ্যাপের মাধ্যমেই যাতায়াতের একাধিক মাধ্যম ব্যবহার করে পুরো যাত্রার পরিকল্পনা করতে পারবেন। বর্তমানে দিল্লি ও গুজরাটে পরীক্ষামূলক পরিষেবা চালু রয়েছে। ব্যবহারকারীরা মোবাইল নম্বর দিয়ে সাইন আপ করতে পারবেন। পিক-আপ ও ড্রপ লোকেশন নির্বাচন করে পছন্দের রাইড বেছে নেওয়া যাবে। যাত্রার পুরো সময় রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং করা যাবে। ব্যবহার প্রক্রিয়া অন্যান্য বেসরকারি সংস্থার অ্যাপের মতোই সহজ।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির বিভিন্ন জনমুখী নীতি

    হরিয়ানার ওই অনুষ্ঠানে অমিত শাহ দেশের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিভিন্ন জনমুখী নীতি নিয়ে কথা বলেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাজেট বৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে ধরে অমিত শাহ জানান, ২০১৪ সালে যেখানে কৃষি বাজেট ছিল ২২ হাজার কোটি টাকা, সেখানে বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ১.২৭ লক্ষ কোটি টাকা। একইভাবে, গ্রামীণ উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ ৮০ হাজার কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১.৮৭ লক্ষ কোটি টাকা। দেশের উন্নয়নে হরিয়ানার অবদানের কথাও বিশেষভাবে তুলে ধরেন শাহ। তিনি বলেন, “হরিয়ানা রাজ্যের কৃষকরা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও দুগ্ধ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং ক্রীড়াক্ষেত্রে অসংখ্য পদক এনে জাতীয় পতাকাকে গর্বিত করেছেন।” পাশাপাশি, হরিয়ানা ও পাঞ্জাবকে দেশের খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বনির্ভর করার ক্ষেত্রে কৃতিত্ব দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। জাতীয় নিরাপত্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনসংখ্যার তুলনায় হরিয়ানা থেকেই সর্বাধিক সংখ্যক সেনা ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য দেশকে রক্ষা করছেন।

     

     

     

     

     

LinkedIn
Share