Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • West Bengal Assembly Polls: “বেড়াতে নয়, দায়িত্ব পালন করতে এসেছেন”, ভোট ঘোষণা হতেই বাহিনীকে স্মরণ করাল কমিশন

    West Bengal Assembly Polls: “বেড়াতে নয়, দায়িত্ব পালন করতে এসেছেন”, ভোট ঘোষণা হতেই বাহিনীকে স্মরণ করাল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কড়া বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনকে ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে উদ্দেশ করে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ কুমার আগরওয়াল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, “এখানে বেড়াতে আসেননি, দায়িত্ব পালন করতে এসেছেন। কাজ ঠিকমতো না হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” একই সঙ্গে রাজ্যের জন্য নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন, “বাংলায় ভোটের যে কালচার ছিল, এবার তার পরিবর্তন হবে।” রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বাংলায় ভোট মানেই হিংসার অভিযোগ—এবার সেই সংস্কৃতি বদলাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ কমিশন।

    দু’দফায় ভোটের সিদ্ধান্ত

    সোমবার সর্বদলীয় বৈঠকের পর সিইও জানান, দীর্ঘদিন পর পশ্চিমবঙ্গে দু’দফায় নির্বাচন হবে। রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    • ● প্রথম দফা: ২৩ এপ্রিল — ১৫২টি আসন
    • ● দ্বিতীয় দফা: ২৯ এপ্রিল — ১৪২টি আসন
    • ● ভোটগণনা: ৪ মে
    • ● সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ: ৬ মে

    আসনসংখ্যা ও সংরক্ষণ

    পশ্চিমবঙ্গে মোট ২৯৪টি বিধানসভা আসন রয়েছে। এর মধ্যে—

    • ● ৬৮টি এসসি (তফশিলি জাতি)
    • ● ১৬টি এসটি (তফশিলি উপজাতি) আসন সংরক্ষিত

    কড়া নজরদারি ও নিরাপত্তা

    কমিশন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই ৫৫টি ক্রিটিক্যাল বুথ চিহ্নিত হয়েছে। স্পর্শকাতর ও অতিস্পর্শকাতর বুথের তালিকা এখনও প্রস্তুত হচ্ছে, ফলে সংখ্যা বাড়তে পারে। সিইও জানান, যদি কোনও বুথের মধ্যে অশান্তি হয়, তবে তার দায় সিআরপিএফের। প্রতি দফায় ভোট করাতে কত করে কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রয়োজন, তারও আভাস দিলেন মনোজ। অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে বদ্ধপরিকর কমিশন। তার জন্য কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা-ও তুলে ধরেন তিনি। সেই বিষয়ে জানাতে গিয়েই কেন্দ্রীয় বাহিনীর বাড়তি গুরুত্বের কথা বলেন মনোজ। তিনি বলেন, ‘‘সিআরপিএফ ঠিক ভাবে কাজ করবে। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলছি।’’ কমিশন জানিয়েছে, বুথের ভিতরে কোনও রকম অনিয়ম হলে কেন্দ্রীয় বাহিনী সেক্টর অফিসে জানাবে। তারা প্রিসাইডিং অফিসারকে ফোন করবে। বুথের মধ্যে যে কোনও ধরনের গন্ডগোলের জন্য দায়ী করা হবে সিআরপিএফ-কেই। সিইও বলেন, ‘‘সুষ্ঠু এবং অবাধ ভোট করাতে হবে সকলকে। দায়িত্বে গাফিলতি হলে পদক্ষেপ করা হবে।’’ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু করতে একাধিক কড়া পদক্ষেপের কথা জানালেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক—

    • ● প্রতিটি দফায় ২২০০–২৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনা
    • ● প্রতি বুথে ৩৬০ ডিগ্রি ওয়েব কাস্টিং
    • ● প্রয়োজনে ড্রোন নজরদারি
    • ● ২৯৪টি আসনে ২৯৪ জন পর্যবেক্ষক
    • ● পুলিশ প্রশাসনের ওপর কড়া নজর

    মনোজ জানান, প্রতিটি বুথে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রতি বুথে ৩৬০ ডিগ্রি ওয়েব কাস্টিং থাকবে, যা তিনটি আলাদা কেন্দ্র থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হবে। কোনও বুথের ভোটগ্রহণ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে, সেই ক্ষেত্রে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে। এছাড়াও জানানো হয়েছে, রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের জন্য ২৯৪ জন জেনারেল অবজারভার নিয়োগ করা হবে। এছাড়া, রাজ্যের ২৮টি পুলিশ জেলা ও ৬টি পুলিশ কমিশনারেটে দুজন করে বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক থাকবেন। কলকাতায় ঝুঁকি বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত পর্যবেক্ষক নিয়োগের সম্ভাবনাও রয়েছে।

    প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ

    থানার ওসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এলাকায় অবৈধ অস্ত্র বা বোমা মজুত থাকলে ১৯ মার্চের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। ভোট চলাকালীন বা ভোট-পরবর্তী হিংসার জন্য পুলিশকেই জবাবদিহি করতে হবে বলে স্পষ্ট করে দিয়েছে কমিশন। সিইও সতর্ক করে বলেন, ইচ্ছাকৃত গাফিলতি ধরা পড়লে সংবিধানের ৩১১ ধারা প্রয়োগ করা হবে।

    ভোট প্রক্রিয়ায় নতুন উদ্যোগ

    স্বচ্ছতা বাড়াতে এবার একাধিক নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—

    • ● প্রতিটি ইভিএমে থাকবে প্রার্থীদের রঙিন ছবি
    • ● ভোটার ইনফরমেশন স্লিপ এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশন দেবে
    • ● বিএলওরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্লিপ পৌঁছে দেবেন
    • ● এই স্লিপে থাকবে ভোটারের নাম, বুথের বিবরণ ও পার্ট নম্বর।

    ভোটার তালিকা ও বিশেষ উদ্যোগ

    ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিচারাধীন ৬০ লক্ষ নামের মধ্যে ইতিমধ্যে প্রায় ২০ লক্ষ নিষ্পত্তি হয়েছে। এই কাজে রাজ্যজুড়ে ৭০৫ জন বিচারপতি নিযুক্ত রয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ১.৫-২ লক্ষ আবেদন নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।

    বয়স্ক ভোটারদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা

    • ● ৮৫ বছরের ঊর্ধ্ব ভোটারদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা (ওলা/উবারের সঙ্গে আলোচনা)
    • ● বাড়িতে ১২ডি ফর্ম পূরণ করে ভোট
    • ● রাজ্যে ১০০ বছরের বেশি ভোটার: ৬,৬৫৩ জন

    মনোজ বলেন, ‘‘ভোটার ইনফর্মেশন স্লিপে কিউআর কোড থাকবে। এর আগে রাজনৈতিকদল ওই স্লিপ দিত। এ বার বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে দিয়ে আসবেন।’’ ৮৫ বা তার বেশি বয়সি ভোটারেরা বাড়ি থেকে ভোটদান করতে পারবেন। সিইও বলেন, ‘‘ওই ভোটারেরা বাড়িতে ১২ডি ফর্ম পূরণ করে ভোট দিতে পারবেন। বাড়িতে গিয়ে তাঁর ভোট নিয়ে আসা হবে।’’

  • NIA Arrests: ভারতবিরোধী কার্যকলাপে সাহায্য! ইউক্রেনের ৬ ও এক মার্কিন নাগরিককে ধরল এনআইএ

    NIA Arrests: ভারতবিরোধী কার্যকলাপে সাহায্য! ইউক্রেনের ৬ ও এক মার্কিন নাগরিককে ধরল এনআইএ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে সাত বিদেশিকে গ্রেফতার করল এনআইএ (National Investigation Agency)। তাঁদের মধ্যে ছ’জন ইউক্রেনের নাগরিক। এক জন আমেরিকার। সোমবার দিল্লিতে এনআইএ জানিয়েছে, মায়ানমারে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। বেআইনি অনুপ্রবেশ, বেআইনি অস্ত্র রাখা এবং ড্রোন প্রশিক্ষণ দেওয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে ইউরোপ থেকে বেআইনি ভাবে ড্রোন নিয়ে আসারও। আদালত তাঁদের ১১ দিনের জন্য এনআইএ হেফাজতে (NIA Arrests) পাঠিয়েছে।

    ড্রোন পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল মায়ানমারে

    জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, অভিযুক্তেরা সকলেই বৈধ ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু তার পরে কোনও অনুমতি ছাড়াই মিজোরামের দিকে চলে যান তাঁরা। দাবি করা হচ্ছে, তাঁরা লুকিয়ে সীমান্ত পেরিয়ে মায়ানমারেও চলে গিয়েছিলেন। সেখানে ভারতবিদ্বেষী কিছু গোষ্ঠীর সঙ্গে দেখা করেন তাঁরা। তদন্তকারীদের অনুমান, ইউরোপ থেকে নিয়ে আসা ড্রোনও তাঁরা পৌঁছে দিয়েছিলেন মিজোরামে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ইউরোপ থেকে অবৈধ উপায়ে ভারতে নিয়ে আসা হয়েছিল ড্রোনগুলি। তার পরে ভারত থেকেই পাঠানো হয়েছিল মায়ানমারের ওই সশস্ত্র গোষ্ঠীকে। এনআইএ-র বক্তব্য, অভিযুক্তেরা কোন পথে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অপরাধের কোথায় কোথায় টাকা ঘুরেছে, তা নিয়েও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন। এবং এর জন্য অভিযুক্তদের মোবাইল ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখতে চান তদন্তকারীরা। এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা-ও জানার চেষ্টা করছেন এনআইএ আধিকারিকেরা।

    লখনউ-দিল্লি-কলকাতা থেকে গ্রেফতার

    ভারতের নিষিদ্ধ তালিকায় থাকা মায়ানমারের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলিকে সাহায্য করার অভিযোগ রয়েছে ধৃত সাত বিদেশির বিরুদ্ধে। সেই অভিযোগেই সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে হানা দিয়ে পাকড়াও করা হয়। অভিযুক্ত আমেরিকানকে ধরা হয় কলকাতা বিমানবন্দর থেকে। বাকিদের মধ্যে তিন জনকে আটক করা হয় লখনউ বিমানবন্দর থেকে এবং তিন জনকে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে। দিল্লির বাইরে যাঁদের আটক করা হয়েছিল, তাঁদেরও ইতিমধ্যে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করে পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে আদালতে পেশ করা হলে বিচারক অভিযুক্তদের তিন দিনের এনআইএ হেফাজতের নির্দেশ দেন। পরে হেফাজতের মেয়াদ আরও বৃদ্ধি করে ২৭ মার্চ পর্যন্ত করা হয়।

  • Rajya Sabha Results 2026: রাজ্যসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়জয়কার, ১১-র মধ্যে ৯টিতে জয়ী এনডিএ প্রার্থীরা

    Rajya Sabha Results 2026: রাজ্যসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়জয়কার, ১১-র মধ্যে ৯টিতে জয়ী এনডিএ প্রার্থীরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যসভা নির্বাচনে (Rajya Sabha Results 2026) প্রত্যাশামতোই সফল বিজেপি-সহ এনডিএ প্রার্থীরা। ২০২৬ সালের রাজ্যসভা নির্বাচন ভারতীয় রাজনীতিতে এক বড় মোড় এনে দিল। ক্রস-ভোটিং এবং বহু বিধায়কের অনুপস্থিতিও লক্ষ্যনীয়। এনডিএ ১১টির মধ্যে ৯টি আসন জয়লাভ (NDA Wins in Rajya Sabha) করে। অন্যদিকে, ভারতের জাতীয় কংগ্রেস এবং বিজু জনতা দল মাত্র একটি করে আসন জিততে সক্ষম হয়েছে, যা বিরোধী জোটের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশের মোট ১০ টি রাজ্যে রাজ্যসভার ৩৭ টি আসন শূন্য হয়েছে৷ এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ-সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে প্রার্থীর সংখ্যা আসনের সমান থাকায়, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২৬ জন সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন ৷ বাকি যে ১১ জন প্রার্থী রয়েছেন, তাঁদের ভাগ্য নির্ধারণের জন্যই সোমবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয়েছিল ভোটগ্রহণ ৷ বিকেল ৪টে পর্যন্ত ভোটগ্রহণ পর্ব চলে ৷ গণনা শুরু হয় বিকেল ৫টা থেকে ৷ এদিনের প্রার্থীদের মধ্যে ৫ জন বিহারের, ৪ জন ওড়িশার এবং ২ জন হরিয়ানার৷

    রাজ্যভিত্তিক ফলাফল

    বিহার: ৫টির মধ্যে ৫টি আসনই এনডিএর দখলে

    বিহারে নাটকীয় লড়াইয়ে এনডিএ সবকটি ৫টি আসন জিতে নেয়। বিরোধী শিবিরের একাধিক বিধায়কের অনুপস্থিতি এবং কৌশলগত ভোট ব্যবস্থাপনা এই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

    বিজয়ীরা:

    • নিতিন নবীন (বিজেপি)
    • শিভেশ রাম (বিজেপি)
    • নীতিশ কুমার (জনতা দল ইউনাইটেড)
    • রামনাথ ঠাকুর (জনতা দল ইউনাইটেড)
    • উপেন্দ্র কুশওয়াহা (আরএলএসএম)

    আরজেডির প্রার্থী অমরেন্দ্র ধারি সিং প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় পরাজিত হন।

    ওড়িশা: বিজেপির উত্থান, একটি আসন ধরে রাখল বিজেডি

    ৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি ৩টি আসনে জয় পায়, আর বিজেডি একটি আসন ধরে রাখে।

    বিজয়ীরা:

    • মনমোহন সামাল (বিজেপি)
    • সুজিত কুমার (বিজেপি)
    • দিলীপ রায় (স্বতন্ত্র, বিজেপি সমর্থিত)
    • সন্তরুপ্ত মিশ্র (বিজেডি)

    এখানে কংগ্রেস ও বিজেডির বেশ কয়েকজন বিধায়কের ক্রস-ভোটিং বিজেপির পক্ষে ফল ঘুরিয়ে দেয়।

    হরিয়ানা: বিতর্কের মাঝে ভাগাভাগি ফল

    হরিয়ানায় ভোট গণনা নিয়ে বিতর্কের জেরে প্রায় ৬ ঘণ্টা দেরি হয়। শেষ পর্যন্ত একটি আসন বিজেপি এবং একটি কংগ্রেস পায়।

    বিজয়ীরা:

    • সঞ্জয় ভাটিয়া (বিজেপি)
    • করমবীর বৌধ (কংগ্রেস)

    ক্রস-ভোটিং- ওড়িশা, হরিয়ানায় বিতর্ক

    এই নির্বাচনে (Rajya Sabha Results 2026) কয়েকটি বড় বিষয় ফলাফলে নির্ধারক ভূমিকা নিয়েছে— বিহারে কংগ্রেস ও আরজেডির একাধিক বিধায়ক ভোট দেননি। ওডিশায় অন্তত ১১ জন বিধায়ক ক্রস-ভোটিং করেন। হরিয়ানায় ভোটের বৈধতা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। রাজ্যসভা নির্বাচনে এ বার ‘ক্রস ভোটিং’-এর সাক্ষী হয়েছে ওড়িশা। সোমবার পশ্চিমবঙ্গের পড়শি রাজ্যে চারটি আসনে ভোট ছিল। তার মধ্যে তিনটিতে জয়ী হয়েছে বিজেপি। একটিতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েকের দলের প্রার্থী। বিজেডি এবং কংগ্রেসের ১১ জন বিধায়ক বিজেপি প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন বলে অভিযোগ। পরিষদীয় পাটিগণিতের হিসাবে সে রাজ্যের দু’টি রাজ্যসভা আসনে বিজেপি প্রার্থীদের (NDA Wins in Rajya Sabha) জয় নিশ্চিত ছিল। আর একটি আসন থেকে নিজেদের প্রার্থীকে রাজ্যসভায় পাঠানো নিশ্চিত ছিল নবীনের দল বিজেডি-র। গোল বেধেছিল চতুর্থ আসন নিয়ে। এই আসনে বিজেপির জয় আটকাতে কংগ্রেসের সঙ্গে বোঝাপড়া করেছিল বিজেডি। দুই দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই চতুর্থ আসনে প্রার্থী করেছিল ওড়়িশার বিশিষ্ট চিকিৎসক দত্তেশ্বর হোতাকে। অন্য দিকে, চতুর্থ আসনে বিজেপি প্রার্থী করেছিল প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা শিল্পপতি দিলীপ রায়কে। ওই আসনে দ্বিতীয় পছন্দের ভোটে দত্তেশ্বরকে হারিয়ে জিতেছেন দিলীপ। ওড়িশার চারটির পাশাপাশি বিহারের ছ’টি এবং হরিয়ানার দু’টি রাজ্যসভা আসনেও ভোট হয়েছে সোমবার। হরিয়ানায় ভোটপর্ব শেষের পরে অনিয়মের অভিযোগ দুই কংগ্রস বিধায়কের ভোট বাতিলের দাবি তুলেছে বিজেপি। অন্যদিকে, বিজেপির অনিল ভিজের ভোট বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে কংগ্রেসের তরফে।

    বাকি ২৬ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা

    রাজ্যসভার ৩৭ সাংসদের (Rajya Sabha Results 2026) মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী এপ্রিল মাসে৷ এর মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, অসম, বিহার, ছত্তিশগড়, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ, তামিলনাড়ু, তেলঙ্গানা, মহারাষ্ট্র এবং ওড়িশা৷ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যে সাংসদরা নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁরা হলেন বিজেপির সাত সাংসদ, কংগ্রেস পাঁচ, তৃণমূল কংগ্রেসের চার, ডিএমকে তিন এবং শিবসেনা, আরপিআই (এ), এনসিপি, এনসিপি (এসপি), এআইএডিএমকে, পিএমকে, ইউপিপিএল একজন করে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে ৫ আসনের মেয়াদ শেষ হয়েছিল৷ তার মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের চারপ্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন ৷ বিজেপির তরফে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন একজন৷

    বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ীরা: রামদাস আথাওয়ালে, বিনোদ তাওড়ে, শরদ পাওয়ার, রামরাও ওয়াদকুতে, মায়া ইভনাতে, জ্যোতি ওয়াঘমারে, পার্থ পাওয়ার, অভিষেক মনু সিংভি, বাবুল সুপ্রিয়, রাজীব কুমার, মেনকা গুরুস্বামী, কোয়েল মল্লিক, রাহুল সিন‍্‍হা, জোগেন মোহন তেরশ, গোওয়ালা প্রমোদ বরো, ভেম নরেন্দ্র রেড্ডি, এম থাম্বুদাঁস, তিম্বুরা, তিম্বুরা সিনহা, রবীন্দ্রন এম ক্রিস্টোফার তিলক, এল কে সুদেশ, লক্ষ্মী ভার্মা, ফুলো দেবী নেতাম, অনুরাগ শর্মা৷

  • Suvendu Slams Mamata: “ভুয়ো, কেউ কোনও অর্থ পাবেন না”, মমতার ডিএ ঘোষণা নিয়ে শুভেন্দু, ‘ভাঁওতা’ দাবি সরকারি কর্মীদের একাংশেরও

    Suvendu Slams Mamata: “ভুয়ো, কেউ কোনও অর্থ পাবেন না”, মমতার ডিএ ঘোষণা নিয়ে শুভেন্দু, ‘ভাঁওতা’ দাবি সরকারি কর্মীদের একাংশেরও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করে। তবে সেই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা (Mamata Banerjee DA Hike) করে জানান, পুরোহিত ও মোয়াজ্জিনদের মাসিক ভাতা ৫০০ টাকা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি, বকেয়া ২৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (DA Hike Announcement) মার্চ মাস থেকেই দেওয়া শুরু করবে রাজ্য সরকার। গত ১৫ বছর ধরে রাজ্যে ক্ষমতায় রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। ফলে শাসকদলের বিরুদ্ধে কিছুটা স্বাভাবিক প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আসন্ন নির্বাচনে ভাতা-নির্ভর ভোটব্যাঙ্কের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে শাসকদল, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

    “কেউ কোনও অর্থ পাবেন না” বললেন শুভেন্দু

    মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণাকে তীব্র কটাক্ষ করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Slams Mamata)। তাঁর দাবি, “এই ঘোষণাগুলি সম্পূর্ণ ভুয়ো। কেউ কোনও অর্থ পাবেন না। সবটাই মুখ্যমন্ত্রীর টুইট হিসেবেই থেকে যাবে।” কেন এমন মন্তব্য করছেন, তার ব্যাখ্যাও দেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার পর ভাতা বা সুবিধার পরিমাণ এবং উপভোক্তার সংখ্যা বাড়ানো যায় না। সেই কারণেই এই ঘোষণাগুলি বাস্তবে কার্যকর হবে না বলে দাবি করেন তিনি। এমনকি তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি প্রতারণার সামিল। শুভেন্দু অধিকারীর মূল অভিযোগ দুটি স্তরে— প্রথম, মডেল কোড অব কন্ডাক্ট (MCC) কার্যকর হওয়ার সময়সীমা। দ্বিতীয়, ভোট ঘোষণার পর নতুন আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর বিধিনিষেধ। তাঁর দাবি, নির্বাচন ঘোষণার পর কোনওভাবেই “ভাতার পরিমাণ” বা “সুবিধাভোগীর সংখ্যা” বাড়ানো যায় না। ফলে এই ঘোষণা বাস্তবে কার্যকর হবে না এবং এটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই থেকে যাবে। এমনকি তিনি ইঙ্গিত দেন, সুপ্রিম কোর্ট বা নির্বাচন কমিশনের বিশেষ অনুমতি ছাড়া এই সুবিধা কার্যকর করা সম্ভব নয়।

    ‘ভাঁওতা’ দাবি সরকারি কর্মীদের একাংশেরও

    শুধু বিরোধী দলনেতা নন, মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) ঘোষণাকে ‘আইওয়াশ’ বা ‘ভাঁওতা’ বলে সরব হয়েছেন রাজ্য সরকারি কর্মীদের একাংশও। বিশেষ করে, এই সংক্রান্ত অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তর অস্বচ্ছতা রয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা। অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রথমত, এখনই সমস্ত বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। প্রথম পর্যায়ে জানুয়ারি ২০১৬ থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ মেটানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ মেটানোর বিষয়ে এখনই কোনও দিশা দেখায়নি সরকার। দ্বিতীয়ত, বকেয়া অর্থ দেওয়া হবে দুটি সমান কিস্তিতে। প্রথম কিস্তি মিলবে চলতি বছরের মার্চ মাসে এবং দ্বিতীয় কিস্তি দেওয়া হবে সেপ্টেম্বরে। অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স’ (AICPI Index) অনুযায়ী এই বকেয়া গণনা করা হবে। তৃতীয়ত, চতুর্থ শ্রেণির কর্মী এবং পেনশনভোগীরা তাঁদের বকেয়া টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নগদ হিসেবে পেলেও, গ্রুপ এ, বি এবং সি এই তিন বিভাগের কর্মীদের বকেয়া টাকা সরাসরি তাঁদের জিপিএফ (জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড) অ্যাকাউন্টে জমা হবে। তবে, ওই অর্থ দুই বছর পর্যন্ত তোলা যাবে না বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। যে কারণে, আন্দোলনকারী সরকারি কর্মীরা সরকারের এই ঘোষণাকে ‘ভাঁওতা’ বলে উল্লেখ করছেন।

  • Pak Airstrike on Kabul: কাবুলের হাসপাতালে বিমান হানা পাকিস্তানের, ঝলসে মৃত্যু ৪০০ জনের, আহত ২৫০-র বেশি

    Pak Airstrike on Kabul: কাবুলের হাসপাতালে বিমান হানা পাকিস্তানের, ঝলসে মৃত্যু ৪০০ জনের, আহত ২৫০-র বেশি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারবার প্রতিবেশী দেশের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে পেরে না উঠে সেই দেশের সাধারণ মানুষকে নিশানা করে পাকিস্তান (Pak Airstrike on Kabul)। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না। কাবুলের হাসপাতালে ভয়ঙ্কর হামলা চালাল ইসলামাবাদ। তালিবান প্রশাসন সূত্রে খবর, মঙ্গলবার ভোররাতে আফগান রাজধানীর উপর ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। অন্তত ৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে এই হামলায়। আহত আড়াইশো জন। যদিও পাকিস্তানের দাবি, আমজনতাকে লক্ষ্য করে হামলা হয়নি। কিন্তু তালিবান প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, পাক হামলায় গুঁড়িয়ে গিয়েছে হাসপাতাল। উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে ঘটনাস্থলে। মৃতদের মধ্যে অধিকাংশই হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগী।

    ধ্বংসস্তূপে পরিণত হাসপাতাল

    গত দুই সপ্তাহ ধরে আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ চলছে। সোমবারও দু’দেশের সীমান্তে গুলির লড়াই হয়েছে। গোলাগুলিতে আফগান তালিবান বাহিনীর চার সৈন্য নিহত হন। ওই গোলাগুলির কয়েক ঘণ্টা পরেই খবর ছড়ায়, আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের এক হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলিতে হাসপাতালের কিছু ভিডিয়োও প্রকাশ করা হয়েছে (ওই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম)। ফুটেজগুলিতে দেখা যাচ্ছে, নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যেরা টর্চের আলো জ্বালিয়ে হাসপাতাল থেকে জখমদের উদ্বার করছেন। হাসপাতাল ভবনটির একটি বড় অংশ দৃশ্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। চারদিকে আগুন জ্বলছে। সেই আগুন নেবানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন একদল দমকলকর্মী।

    রোজা ভাঙার সময় আক্রমণ

    সোমবার রাতে ২০০০ শয্যার এই হাসপাতালে পাকিস্তান আকাশপথে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, কাবুলের ওই হাসপাতালটি মূলত নেশামুক্তি কেন্দ্র। বরাবরই সেখানে রোগীদের ভিড় থাকে। ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন আফগান সরকারের উপমুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত। তিনি জানান, স্থানীয় সময় রাত ৯টা নাগাদ হাসপাতালটিতে হামলা হয়েছে। আরও জানা গিয়েছে, অনেকেই ওই সময় রোজা ভাঙার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেসময়েই হামলা করেছে পাকিস্তান। হামলার জেরে হাসপাতালের একটি বড় অংশ সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ৪০০ জনের মৃত্যু এবং প্রায় ২৫০ জন জখম হওয়ার খবর মিলেছে বলেও প্রাথমিক ভাবে জানান ফিতরাত। আকাশপথে হাসপাতালে হামলার ঘটনায় সরাসরি পাকিস্তানের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছে আফগানিস্তান।

    ‘নীতিবিরুদ্ধ’ এবং ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’

    হাসপাতালে হামলার কথা অস্বীকার করেছে ইসলামাবাদ। তাদের দাবি, হাসপাতাল নয়, সামরিক ঘাঁটি, যাকে তারা জঙ্গি ঘাঁটি বলে উল্লেখ করেছে, সেখানেই চালানো হয়েছে এই হামলা। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশারফ জাইদি কাবুলের দাবি নস্যাৎ করে দিয়েছেন। এর আগে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান কান্দাহার বিমানবন্দর, পাক্তিয়ার সামরিক ঘাঁটি এবং রাজধানী কাবুলের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে। হামলা চালানো হয়েছে কান্দাহার শহরের তালিবানের আল-বদর কর্পসের সদর দফতরেও। তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ কাবুলের হাসপাতালে হামলার নিন্দা করে পোস্ট করেছেন সমাজমাধ্যমে। তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তান নিজেদের ‘নৃশংস কর্মকাণ্ড’ চালিয়ে যাওয়ার জন্যই হাসপাতাল এবং অসামরিক ভবনগুলিকে নিশানা করছে। এই হামলা ‘নীতিবিরুদ্ধ’ এবং ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ বলেও মন্তব্য করেছেন তালিবান সরকারের মুখপাত্র।

  • Moringa Health Benefits: বসন্তে ভরসা সজনে! ভোগান্তির দাওয়াই লুকিয়ে শাক থেকে ডাঁটায়

    Moringa Health Benefits: বসন্তে ভরসা সজনে! ভোগান্তির দাওয়াই লুকিয়ে শাক থেকে ডাঁটায়

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    বেলা বাড়লেই বাড়ছে তাপমাত্রার পারদ। ঘাম হচ্ছে। আবার রাতের দিকে আবহাওয়া হালকা ঠান্ডা। কখনো কখনো এমন হাওয়ার দাপট, বেশ ঠান্ডা অনুভূতি! তাপমাত্রার এই রকমফের বসন্তের চেনা ছন্দ! কিন্তু আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনা বাড়াচ্ছে বিপদ। শিশু থেকে প্রৌঢ় সকলেই প্রায় সর্দি-কাশিতে ভুগছে। আট থেকে আশি জ্বর, পেটের সমস্যায় কাবু। অনেকেই ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া ঘটিত একাধিক রোগে ভুগছেন। তাই বসন্ত ঋতুতে সুস্থ থাকতে, শরীরের দিকে বাড়তি নজরদারি (Spring Superfood) দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন বাঙালির অতি পরিচিত শাক-সব্জিই বসন্তের ভোগান্তি থেকে রেহাই দেবে। তাই বিশেষজ্ঞদের একাংশের ভরসা, সজনে ডাঁটা এবং সজনে শাক (Moringa Health Benefits)।

    কেন বসন্তে ভরসা জোগাচ্ছে সজনে ডাঁটা এবং শাক?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বসন্তে তাপমাত্রা ক্রমাগত ওঠানামা করে। তাই আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তন হয়। আর তার জেরেই বাতাসে ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাসের সক্রিয়তা বেড়ে যায়। যে কেউ তাই নানান সংক্রামক রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। নানান রোগের ঝুঁকিও বাড়ে। সজনে ডাঁটা এবং সজনে শাক (Moringa Health Benefits) রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায়। তাই এই সব্জি খেলে সংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমে। রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে। তাছাড়া, সজনে ডাঁটা এবং শাক ভিটামিন এ, ভিটামিন সি এবং আয়রন, ক্যালসিয়ামের মতো খনিজ সমৃদ্ধ। তাই এই খাবার সর্দি-কাশির ভোগান্তি কমায়‌। তাই বসন্তের ভোগান্তি কমাতে সজনে ডাঁটা এবং শাক বিশেষ সাহায্য করে। তাছাড়া, চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বসন্ত ঋতুতে হজমের সমস্যা বাড়ে। হঠাৎ গরম পড়ে যাওয়ার জন্য হজমের গোলমাল দেখা যায়। সজনে ডাঁটা এবং শাক ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার। তাই এই খাবার খেলে হজম শক্তি ভালো হয়‌।

    সজনে ডাঁটা এবং শাক শরীরে কী উপকার করে?

    হাড় মজবুত করে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সজনে ডাঁটা এবং শাক (Moringa Health Benefits) ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার। তাই এই সব্জি খেলে হাড় মজবুত হয়। বাঙালিদের মধ্যে হাড়ের সমস্যা বাড়ছে। বিশেষত বাঙালি মহিলাদের হাড় ক্ষয় রোগের প্রকোপ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তাই চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই সব্জি খেলে হাড় মজবুত থাকবে।

    হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বসন্তের ভোগান্তি কমানোর পাশাপাশি সজনে ডাঁটা এবং শাক (Moringa Health Benefits) হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, সজনে ডাঁটা এবং শাক খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সাহায্য করে। তাই এই সব্জি খেলে হৃদরোগের ঝুঁকিও কমে। শীতের শেষে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। কারণ এই আবহাওয়ায় তাপমাত্রার তারতম্য ঘটে। এই পরিস্থিতিতে সজনে ডাঁটা এবং শাক বিশেষ উপকারি।

    ত্বক এবং চুলের জন্য বিশেষ উপকারি!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সজনে ডাঁটা এবং শাক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার। তাই নিয়মিত এই খাবার খেলে চুল পড়ার সমস্যা কমবে। ত্বক মসৃণ থাকবে।

    শরীর টক্সিন মুক্ত করতে বিশেষ সাহায্য করে!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরের অতিরিক্ত বর্জ্য মুক্ত করতে সজনে ডাঁটা এবং শাক (Moringa Health Benefits) বিশেষ সাহায্য করে। তাঁরা জানাচ্ছেন, লিভার ও কিডনি সুস্থ রাখতে এবং শরীরের টক্সিন মুক্ত করতে বিশেষ সাহায্য করে।

    কীভাবে এই সব্জি খাবেন?

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুর বয়স বছর দুয়েক হলেই সজনে ডাঁটা দেওয়া যেতে পারে। শিশু হোক বা বয়স্ক, সকলেই এই সব্জি খেতে পারেন। তাঁদের পরামর্শ, ডালে সজনে ডাঁটা দেওয়া যেতে পারে (Spring Superfood)। যে কোনও সব্জি— করলা, বেগুন কিংবা কুমড়োর তরকারির সঙ্গে সজনে ডাঁটা দেওয়া যেতে পারে। সজনে শাক, রসুন দিয়ে হালকা ভেজেও খাওয়া যেতে পারে। মশলা হিসাবে রসুন খুবই উপকারি। আবার মাছের ঝোলেও সজনে ডাঁটা দেওয়া যেতে পারে। যেকোনও তরকারি, ডাল বা ঝোলে সজনে ডাঁটা দিলেই শরীরে উপকার হবে।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
  • Vande Mataram:  তেলঙ্গানা বিধানসভায় ‘বন্দে মাতরম্’ চলাকালীন এআইএমআইএম বিধায়কদের ওয়াকআউট

    Vande Mataram: তেলঙ্গানা বিধানসভায় ‘বন্দে মাতরম্’ চলাকালীন এআইএমআইএম বিধায়কদের ওয়াকআউট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তেলঙ্গানার বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার বিধানসভার অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম্’ বাজানোর সময় অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইতেহাদুল মুসলিমিন (All India Majlis-e-Ittehadul Muslimeen বা AIMIM)-এর বিধায়করা ওয়াকআউট করেন।

    জাতীয় গানের প্রতি সরাসরি অসম্মান

    ১৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া তেলঙ্গানা বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের সূচনায় ‘বন্দে মাতরম্’ বাজানো হয়। সেই সময় কংগ্রেস, ভারত রাষ্ট্রীয় সমিতি (BRS) এবং ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)-র বিধায়করা দাঁড়িয়ে জাতীয় গানের প্রতি সম্মান জানান। তবে অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইতেহাদুল মুসলিমিন-এর বিধায়করা সেই সময় বিধানসভা কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সঞ্জয় কুমার। তিনি সামাজিক মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “বন্দে মাতরম্ গাওয়ার সময় অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইতেহাদুল মুসলিমিন-এর বিধায়কদের বিধানসভা থেকে বেরিয়ে যাওয়া লজ্জাজনক। এটি শুধু প্রতিবাদ নয়, জাতীয় গান ও দেশের আত্মার প্রতি সরাসরি অসম্মান। কেন তারা ভারতের প্রতীকগুলির প্রতি অ্যালার্জিক—আজ তা স্পষ্ট হয়ে গেল।”

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা

    এর একদিন আগেই তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ রেবানাথ রেড্ডি হায়দ্রাবাদে এক অনুষ্ঠানে সংখ্যালঘু কল্যাণ দফতরের আয়োজিত রমজানের ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ওই অনুষ্ঠানে এআইএমআইএম সভাপতি ও হায়দ্রাবাদের সাংসদ আসাউদ্দিন ওয়েসি-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এবং সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, গত ২৮ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি নির্দেশিকা জারি করে। সেই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম্’-এর ছয় স্তবকের ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ডের সংস্করণ বাজানো বা গাওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি ‘বন্দে মাতরম্’ এবং জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ একসঙ্গে পরিবেশিত হলে আগে ‘বন্দে মাতরম্’ বাজাতে হবে এবং সেই সময় উপস্থিত সবাইকে সম্মানের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে।

     

     

     

     

  • Shivalik LPG Tanker: কূটনৈতিক জয় ভারতের! হরমুজ পেরিয়ে গুজরাটে পৌঁছল ‘শিবালিক’, আসছে ‘নন্দা দেবী’

    Shivalik LPG Tanker: কূটনৈতিক জয় ভারতের! হরমুজ পেরিয়ে গুজরাটে পৌঁছল ‘শিবালিক’, আসছে ‘নন্দা দেবী’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ আবহে সোমবার এলপিজি বোঝাই ট্যাঙ্কার ‘শিবালিক’ (Shivalik LPG Tanker) পৌঁছে গেল গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরে (Mundra Port LPG Tanker)। পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার হয়ে দু’দিন আগেই ভারতের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল এই ট্যাঙ্কারটি। দীর্ঘ টানাপড়েনের পরে গত শুক্রবার হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) পেরিয়েছিল ওই জাহাজ। হরমুজ পেরিয়ে এলপিজি নিয়ে আরও একটি জাহাজ ‘নন্দাদেবী’ও এগিয়ে আসছে ভারতের দিকে। মঙ্গলবার ওই জাহাজটির মুম্বইয়ে পৌঁছোনোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে খবর। এর ফলে দেশে এলপিজি নিয়ে যে উদ্বেগ (India LPG Supply)তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই মিটবে, বলে অনুমান। গোটা বিষয়টিকে নয়াদিল্লির কূটনৈতিক জয় হিসাবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

    ভারতের জাহাজই হরমুজ পেরোল

    পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল ইরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত হরমুজ দিয়ে মাত্র তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ যাতায়াত করেছে। তিনটি-ই ভারতের পথে। তার মধ্যে শিবালিক এবং নন্দাদেবী হল যথাক্রমে দ্বিতীয় এবং তৃতীয়। প্রথমটি ছিল লাইবেরিয়ার পতাকাধারী একটি ট্যাঙ্কার। সৌদি আরব থেকে অপরিশোধিত তেল নিয়ে সেটি রওনা হয়েছিল। শিবালিক এবং নন্দাদেবী শিপিং কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (এসসিআই)-এর জাহাজ। সূত্রের খবর, শিবালিকে রয়েছে প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি। নন্দাদেবীতেও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এলপিজি।

    ভারতের কৃটনৈতিক জয়

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় ইজরায়েল এবং আমেরিকা। প্রত্যাঘাত করে তেহরানও। তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজের যাতায়াত বন্ধ করে দেয়। এর ফলে পশ্চিম এশিয়া থেকে তেল, এলপিজি আমদানি প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কারণ পশ্চিম এশিয়া থেকে পূর্ব দিকে আসতে হলে হরমুজ পেরোনো বাধ্যতামূলক। এই পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়ে ভারত-সহ বেশ কয়েকটি দেশ। তেহরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে নয়াদিল্লি। সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে চার বার জয়শঙ্কর কথা বলেন বলে খবর। গত মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তার পরেই ভারতে ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাথালি আশ্বাস দেন, হরমুজ দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করবে ভারতের বাণিজ্যিক জাহাজ। ফাথালির কথায়, ‘‘ভারত এবং ইরান বন্ধু। আমরা তাতে বিশ্বাস করি।’’ তার পরেই হরমুজ পেরিয়ে এল ভারতীয় জাহাজ।

    হরমুজের উভয় প্রান্তে রয়েছে ভারতের আরও জাহাজ

    সূত্রের খবর, হরমুজের উভয় প্রান্তে এখনও দু’ডজনেরও বেশি ভারতীয় পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজের আটকে রয়েছে। সেগুলি যাতে নিরাপদে হরমুজ পেরোতে পারে তার জন্য ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “ভারতীয় পতাকাবাহী পেট্রোল ট্যাঙ্কার ‘জগপ্রকাশ’ ইতিমধ্যেই হরমুজের পূর্ব দিক থেকে যাত্রা শুরু করেছে।” রাজেশ কুমার জানান, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত সকল ভারতীয় নাবিক নিরাপদে আছেন।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী?

    হরমুজ প্রণালী কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। ইরান অনানুষ্ঠানিকভাবে এই পথে অবরোধ তৈরি করার পর থেকেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। এর ফলে এই সরু জলপথ দিয়ে ক্রুড অয়েলের স্বাভাবিক প্রবাহে বড়সড় বিঘ্ন ঘটে। সাধারণ পরিস্থিতিতে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস বাণিজ্য এই পথ দিয়েই হয়। ইরানের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের হামলার পর ইরান পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ করে। তার মধ্যে হরমুজ প্রণালী এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলিকেও লক্ষ্য করা হয়। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ পথে জ্বালানি জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এর জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, তাও দু’বার।

    গ্যাস নিয়ে উদ্বেগ অনেকটাই কমবে

    ভারত প্রতি দিনের ১৯.১ কোটি আদর্শ ঘনমিটার (স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক মিটার) গ্যাস ব্যবহারের প্রায় অর্ধেকই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পশ্চিম এশিয়া থেকে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নির্দেশিকা জারি করে কেন্দ্রীয় সরকার। মনে করা হচ্ছে, এলপিজি বোঝাই জাহাজ এসে পৌঁছোনোয় সেই উদ্বেগ অনেকটাই কমবে। প্রসঙ্গত, দেশে গ্যাসের সংকটের মধ্যে ‘শিবালিক’ এবং ‘নন্দা দেবী’তে রয়েছে আনুমানিক ৯২ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন গ্যাস। বর্তমান পরিস্থিতিতে এগুলি অমূল্য বললে ভুল বলা হয় না। জাহাজ মন্ত্রক সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই আনলোডিংয়ের কাজ শুরু হবে। আনলোডিং শেষ হলেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এলপিজি সিলিন্ডার পাঠানো হবে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এলপিজি সঙ্কট অনেকটাই দূর করা যাবে বলে মনে করছে পেট্রলিয়াম মন্ত্রক। অন্য দিক, পেট্রল-ডিজেলের কোনও খামতি নেই বলে এ দিন জানিয়েছেন পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের স্পেশাল সেক্রেটারি সুজাতা শর্মা। সোমবার তিনি বলেন, ‘দেশে অপরিশোধিত তেল পর্যাপ্ত পরিমাণে সহজলভ্য। সমস্ত শোধনাগার তাদের সর্বোচ্চ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। আমাদের পেট্রল পাম্পগুলো স্বাভাবিক ভাবে চলছে। কোথাও তেলের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার কোনও খবর পাওয়া যায়নি।’

     

     

     

     

  • London: লন্ডনের হোটেলে আমিষ খাবারে ঝটকা বনাম হালাল বিতর্ক! গ্রেফতার শিখ রেস্তোরাঁর মালিক

    London: লন্ডনের হোটেলে আমিষ খাবারে ঝটকা বনাম হালাল বিতর্ক! গ্রেফতার শিখ রেস্তোরাঁর মালিক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লন্ডনের (London) পশ্চিমাঞ্চলের একটি ভারতীয় রেস্তোরাঁকে ঘিরে হঠাৎ করেই রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। হ্যামারস্মিথ এলাকার ফুলহ্যাম প্যালেস রোডে অবস্থিত ‘রঙ্গরেজ’ নামে একটি রেস্তোরাঁর সামনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সম্প্রতি রেস্তোরাঁর মালিক জানান যে সেখানে শুধুমাত্র ঝটকা পদ্ধতিতে প্রস্তুত করা মাংস পরিবেশন করা হবে, হালাল নয়। প্রায় ১৬ বছর ধরে পরিচালিত এই রেস্তোরাঁটি শীঘ্রই বন্ধ হয়ে যাবে বলে আগে থেকেই ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে মালিক হরমান সিং কাপুর প্রকাশ্যে জানান যে তার রেস্তোরাঁয় শুধুমাত্র ঝটকা মাংসই পরিবেশন করা হবে। এই ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয় এবং বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক বাড়তে থাকে।

    হোটেলের সামনে বিক্ষোভ

    গত ১৪ মার্চ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বহু মানুষ রেস্তোরাঁর সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন এবং কিছু সময়ের জন্য প্রবেশপথও অবরুদ্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। এর আগে একই দিনে হরমান সিং কাপুর সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করে সমর্থকদের বিকেল ২টায় রেস্তোরাঁয় উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান। তিনি এটিকে “নন-হালাল মিটআপ” বলে উল্লেখ করেন এবং সম্ভাব্য সংঘর্ষের ঘটনা রেকর্ড করার জন্য ক্যামেরা বা ফোন সঙ্গে আনতে বলেন।

    কেন এই সিদ্ধান্ত

    পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর কাপুর নিজেই ভিডিও পোস্ট করে জানান যে তিনি নিজের পরিবারকে রক্ষা করতে শিখ ধর্মে বহন করা ঐতিহ্যবাহী অস্ত্র ‘কিরপান’ সঙ্গে নিয়েছেন। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে তাকে গ্রেফতার করে। তবে ঠিক কী অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি। গ্রেফতারের পর ঘটনাটি আরও বিতর্কের জন্ম দেয়। কাপুরের সমর্থকদের দাবি, নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস ও পরিবারের সুরক্ষার জন্য দাঁড়ানো সত্ত্বেও তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, তার কিছু সামাজিক মাধ্যমের মন্তব্য পরিস্থিতি আরও উত্তেজিত করেছে। অভিযোগ রয়েছে, অতীতে তিনি মুসলিমদের নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছিলেন এবং মুসলিম গ্রাহকদের খাবার পরিবেশন না করার কথাও বলেছিলেন।

     বিতর্কের কেন্দ্রে কী

    এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে হালাল ও ঝটকা পদ্ধতির পার্থক্য। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, হালাল মাংস প্রস্তুত করতে ‘জবিহা’ পদ্ধতিতে পশু জবাই করা হয় এবং আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়। মুসলিমদের জন্য এটি ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যবিধি। অন্যদিকে ঝটকা পদ্ধতিতে এক আঘাতে পশুকে দ্রুত হত্যা করা হয়। শিখ ধর্মে অনেক অনুসারী ‘কুঠা’ বা ধর্মীয় আচার মেনে জবাই করা মাংস এড়িয়ে চলেন, যার মধ্যে হালালও অন্তর্ভুক্ত বলে অনেকে মনে করেন। ঘটনাটি ব্রিটেনের বহুসাংস্কৃতিক সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন প্রবাসী সম্প্রদায়ের সম্পর্কের জটিলতাকেও সামনে এনে দিয়েছে। যুক্তরাজ্যে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আগত বড় বড় প্রবাসী সম্প্রদায় রয়েছে, যাদের অনেকেই উপমহাদেশের বিভাজনের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত।

    লন্ডনে গোষ্ঠী সংঘর্ষ

    ২০২২ সালে লেস্টার শহরে ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচকে ঘিরে হিন্দু ও মুসলিম গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছিল। সেই সময়েও সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে দ্রুত উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল। রঙ্গরেজ রেস্তোরাঁকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাও একইভাবে সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মী ও বিশ্লেষক নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ঘটনাটিকে ব্যাখ্যা করছেন। তদন্ত চলতে থাকায় পুরো ঘটনার সব দিক এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এই ঘটনাটি দেখিয়ে দিয়েছে, স্থানীয় একটি বিরোধও কীভাবে সামাজিক মাধ্যমের যুগে দ্রুত আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হতে পারে।

  • Strait of Hormuz: অবরুদ্ধ হরমুজে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে ট্রাম্পের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ব্রিটেনের

    Strait of Hormuz: অবরুদ্ধ হরমুজে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে ট্রাম্পের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও ব্রিটেনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হরমুজ প্রণালীকে (Hormuz Strait) নিরাপদ রাখতে অন্যান্য দেশকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে, আমেরিকা ইরানযুদ্ধের আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধ একের পর এক দেশ প্রত্যাখ্যান করছে। জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার পর এবার ইউকে-ও এই বিষয়ে পিছিয়ে এসেছে।

    ট্রাম্পের অনুরোধ মিত্র দেশগুলিকে

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি চিন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রিটেন-সহ একাধিক দেশকে অনুরোধ করেছিল যাতে তারা স্ট্রেইট অব হরমুজে ইরানের অবরোধ ভাঙতে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে। তবে সেই অনুরোধে সাড়া দিতে অনীহা দেখিয়েছে বেশ কয়েকটি দেশ। ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, মার্কিন নৌবাহিনী শীঘ্রই হরমুজ প্রণালীর (Hormuz Strait) মধ্য দিয়ে ট্যাঙ্কারগুলোকে নিরাপদে পার করার কাজ শুরু করবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, “অনেক দেশ, বিশেষ করে যারা ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করায় প্রভাবিত হচ্ছে, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে যাতে প্রণালী খোলা ও নিরাপদ থাকে।”

    কী বলল অস্ট্রেলিয়া-জাপান

    এর পরেই অস্ট্রেলিয়ার পরিবহণমন্ত্রী ক্যাথরিন কিং এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি যে আমাদের অবদান কী হবে। আপাতত সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রতিরক্ষা সহায়তার জন্য বিমান পাঠানো হচ্ছে, বিশেষ করে সেখানে থাকা অস্ট্রেলিয়ানদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে। কিন্তু আমরা স্ট্রেইট অব হরমুজে কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠাব না।” এদিকে জাপানের শাসক দল এলডিপির শীর্ষ নীতিনির্ধারক তাকায়ুকি কোবায়াশি জানিয়েছেন, সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে সেলফ-ডিফেন্স ফোর্স মোতায়েন করার সীমা “অত্যন্ত উচ্চ”। উল্লেখ্য, জাপানের প্রায় ৭০ শতাংশ তেল আমদানি স্ট্রেইট অব হরমুজের উপর নির্ভরশীল।

    সাড়া দিল না ব্রিটেনও

    অন্যদিকে যুক্তরাজ্যও শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে রয়্যাল নেভির ডেস্ট্রয়ার পাঠাতে যুক্তরাজ্য প্রস্তুত নয়। যুক্তরাজ্যের জ্বালানি সচিব এড মিলিব্যান্ড বলেন, “আমরা অন্যভাবে সাহায্য করতে পারি, যেমন মাইন শনাক্ত করার ড্রোন ব্যবহার করে। তবে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যাতে এই সংকট আরও না বাড়ে।” বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতিতে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক দেশই সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে।

    হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েল, আমেরিকা যৌথভাবে ইরানে হামলা (Israel, US strikes on Iran) চালায়, নিহত হন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (Ayatollah Ali Khamenei Death)। পাল্টা জবাব দেয় তেহরান। উত্তেজনা বাড়তে থাকে আরব দুনিয়ায় (Middle East tension)। এরপরই মার্চের শুরুর দিকেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় ইরান। হরমুজ বিশ্বব্যাপী তেলের গুরুত্বপূর্ণ রফতানি পথ, প্রতিদিন প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল এবং প্রায় ২০ শতাংশ বৈশ্বিক এলএনজি লেনদেনে ব্যবহৃত হয়। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই তাঁর প্রথম ভাষণে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই প্রণালী বন্ধ রাখতে হবে আমেরিকার উপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর উপর আক্রমণ হতে পারে।

     

     

     

     

     

LinkedIn
Share