Tag: bangla khabar

bangla khabar

  • Saudi Arabia: সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলা, নিরাপত্তার কারণে বন্ধ সরবরাহ পথ

    Saudi Arabia: সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলা, নিরাপত্তার কারণে বন্ধ সরবরাহ পথ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরান যুদ্ধের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ার মধ্যেই সৌদি আরবের (Saudi Arabia) গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটি বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি আরব। বিশ্বের অন্যতম (Red Sea Island) গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথকে ঘিরে এই হামলার ফলে আন্তর্জাতিক তেলবাজারে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

    আরব উপদ্বীপের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহণ করে এই পাইপলাইন। বৃহস্পতিবার রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে পাইপলাইনের বিভিন্ন অংশে ড্রোন হামলা চালানো হয়। হামলায় বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন। পাইপলাইনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা হচ্ছে।

    সৌদি জ্বালানিমন্ত্রকের বক্তব্য (Saudi Arabia)

    সৌদি জ্বালানিমন্ত্রক শুক্রবার জানিয়েছে, একাধিক হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সৌদি বিদেশমন্ত্রকের দাবি, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির সক্রিয়তার জন্য পরিচিত ইরাকের দিক থেকে একাধিক ড্রোন এসে এই হামলা চালায়। হামলার ফলে মানুষ আহত হয়েছেন এবং সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানিয়েছে সৌদি সরকার।

    তবে আপাতত পাল্টা হামলার পথে হাঁটেনি সৌদি আরব। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাগদাদকে কিছুটা সময় দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। সেই কারণে এই মুহূর্তে প্রতিক্রিয়া না জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সৌদি আরব অবশ্য সতর্ক করে বলেছে, নিজেদের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, স্থাপনা এবং নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সৌদি আরবের রয়েছে।

    চাপে রেড-সির পথও

    আটের দশকে নির্মিত প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন ইরান যুদ্ধের আবহে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, এর মাধ্যমে সৌদি আরব হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে তেল রফতানি করতে পারে। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

    পাইপলাইনটি সৌদি আরবের তেল উৎপাদনকারী পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগরের উপকূলে অবস্থিত ইয়ানবু পর্যন্ত বিস্তৃত। ফলে সমুদ্রপথে তেল রফতানির জন্য এটি একটি বিকল্প পথ হিসেবে কাজ করে।

    জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এবং বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলিতে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহণ করা হচ্ছিল। যা বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের ৪ থেকে ৫ শতাংশের সমান।

    জুনের শুরু নাগাদ ইয়ানবু বন্দর থেকে সৌদি আরবের তেল রফতানি দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে প্রতিদিন ৫০ লাখ ব্যারেলের বেশি হয়েছিল।

    মার্কিন আধিকারিকদের প্রাথমিক মূল্যায়নে জানা গিয়েছে, পাইপলাইনের পাশে থাকা তেল পাম্প করার কেন্দ্রগুলিতে হামলা হয়েছে। উপগ্রহচিত্রে অন্তত একটি পাম্পিং কেন্দ্র থেকে আগুন এবং ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গিয়েছে। তবে পাইপলাইনের মূল অংশ কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মেরামতের কাজ শেষ হতে কত সময় লাগবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    ইরাকের মাটি ব্যবহার করে হামলার অভিযোগ

    সৌদি বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধের পর এই পর্যায়ে পাল্টা ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব।

    ইরাক হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। বাগদাদ জানিয়েছে, সৌদি আরব বা প্রতিবেশী দেশগুলির বিরুদ্ধে হামলা চালানোর জন্য ইরাকের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

    ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর দফতর আরও জানিয়েছে, তদন্তে হামলার উৎস ইরাক বলে প্রমাণিত হওয়ার পর এক সামরিক কমান্ডারকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইরাকের নিরাপত্তা সংস্থার দুই আধিকারিকের দাবি, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইরান সীমান্তের শালামচেহ সীমান্তপথও বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাগদাদ। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে বড় আকারের অভিযান শুরু হয়েছে।

    লোহিত সাগরের কৌশলগত দ্বীপ দখল হুথিদের

    সৌদি তেল পাইপলাইনে হামলার ঘটনাটি এমন সময় ঘটল, যখন ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করছে (Saudi Arabia)।

    ইয়েমেন সরকারের সূত্রের দাবি, বাব এল-মান্দেব প্রণালীর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপ দখল করেছে হুথিরা। এর আগে তারা গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোচার নিয়ন্ত্রণও নিয়েছিল।

    হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে তেল পরিবহণ ব্যাহত হওয়ার পর বাব এল-মান্দেব প্রণালীর গুরুত্ব অনেক বেড়ে গিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহণ করা হত, যা বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। সেই পথ ব্যাহত হওয়ায় সৌদি আরব তার পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন এবং লোহিত সাগরীয় তেল রফতানির উপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

    অপরিশোধিত তেলের পরিবহণ

    হুথিদের হামলার আশঙ্কার কারণে বাব এল-মান্দেব দিয়ে সৌদি অপরিশোধিত তেলের পরিবহণ আগেই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। এবার আরও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তেলবাহী জাহাজগুলিকে অনেক দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হতে পারে। এর ফলে পরিবহণের খরচ বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানির দামের উপর আরও চাপ তৈরি হবে।

    ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ মার্কিন ডলারের উপরে উঠে গিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণপথগুলিতে একের পর এক অস্থিরতা তৈরি (Red Sea Island) হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ এবং দামের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে (Saudi Arabia) উঠতে পারে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • Suvendu Adhikari: বিতর্কিত সংস্থাকে রাজ্যে বিনিয়োগের ছাড়পত্র নয়, জুনপুটে বড় প্রকল্প করবে ডিআরডিও, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

    Suvendu Adhikari: বিতর্কিত সংস্থাকে রাজ্যে বিনিয়োগের ছাড়পত্র নয়, জুনপুটে বড় প্রকল্প করবে ডিআরডিও, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘রাজ্যে পালাবদলের পর বেসরকারি লগ্নির একাধিক প্রস্তাব এলেও আবেদনকারী সংস্থার বিস্তারিত তথ্য ও অতীত কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখেই বিনিয়োগের ছাড়পত্র দেওয়া হবে। বিতর্কে থাকা কোনও সংস্থাকে কোনওভাবেই ছাড়পত্র দেওয়া হবে না।’ শুক্রবার ফের সরকারের এমন নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

    এদিন সল্টলেকের একটি শপিং মলে বিপণির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্যে বিনিয়োগ সংক্রান্ত সরকারের অবস্থান (DRDO Project) ব্যাখ্যা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বেসরকারি সংস্থার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রকও এ রাজ্যে বিনিয়োগ করতে চলেছে। পূর্ব মেদিনীপুরের জুনপুটে সেই প্রকল্পের জন্য জমি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি। শীঘ্রই প্রকল্পটির বিস্তারিত পরিকল্পনা সরকারের তরফে জানানো হবে।

    মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা (Suvendu Adhikari)

    শুভেন্দু জানান, ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা বা ডিআরডিও রাজ্যে একটি বড় প্রকল্প তৈরি করতে চলেছে। তাঁর কথায়, “ডিআরডিওর তরফে পূর্ব মেদিনীপুর উপকূলের জুনপুটে একটি বড় প্রকল্প করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আমি বিস্তারিত ভাবে পরে জানাব।”

    উল্লেখ্য, বাম আমলে কাঁথি মহকুমার হরিপুরে সমুদ্রসৈকতের কাছে প্রস্তাবিত পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। সেই সময় তৎকালীন বিরোধী তৃণমূলের তরফে প্রকল্পটির বিরোধিতা করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন হরিপুর থেকে অল্প দূরত্বে জুনপুটে ডিআরডিওর ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র তৈরির কাজও ২০২৪ সালে বন্ধ হয়ে যায়।

    এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “প্রতিরক্ষামন্ত্রকের তরফে রাজ্যকে চিঠি পাঠানো হলেও, কোনও জবাব দেওয়া হয়নি। আমি এসে তাদের সেই চিঠির জবাব দিয়েছি। ওখানে বড় প্রকল্প হবে। তাকে ঘিরে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড হবে সেখানে।”

    রাজ্যে বিনিয়োগের পরিবেশের ভাবমূর্তি বদলাতে সরকার উদ্যোগী হয়েছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। শিল্পায়নের পক্ষে বার্তা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। তবে শিল্প ও বাণিজ্য টানার ক্ষেত্রে অনিয়ম বা দুর্নীতিকে কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে এ দিন স্পষ্ট করে দেন শুভেন্দু।

    তিনি (Suvendu Adhikari) বলেন, “যেসব সংস্থা রাজ্যে বিনিয়োগ করতে আসছে, তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই সংস্থাগুলি দুর্নীতির টাকায় চলছে কি না, তা দেখা হচ্ছে। সংস্থার বিরুদ্ধে কোনও প্রতারণা বা তদন্তকারী সংস্থার কাছে কোনও অভিযোগ রয়েছে কি না, তাও দেখা হচ্ছে।”

    পূর্বতন সরকারের শিল্পনীতি নিয়ে আক্রমণ

    এ দিন পূর্বতন সরকারের শিল্প নিয়ে অনীহার প্রসঙ্গও তোলেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নানা কারণে রাজ্যে বাণিজ্য ও শিল্পবান্ধব পরিবেশ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সেই পরিস্থিতি বদলাতে গত চার মাস ধরে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে একাধিক কর্মসূচি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    শুভেন্দুর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে ঘটা করে শিল্প-বাণিজ্য সম্মেলনের আয়োজন করা হলেও বাস্তবে সেই অনুপাতে বিনিয়োগ আসেনি। তাঁর দাবি, “তখন শুধুমাত্র ছবি তোলার পর্ব চলত।”

    বর্তমান সরকার (DRDO Project) সেই পরিস্থিতি বদলাতে প্রথমে জমির ব্যবস্থা, ব্যাঙ্কের অর্থায়ন এবং পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি খতিয়ে দেখছে। এরপরই শিল্পসংস্থা ও ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানো হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    অনন্ত আম্বানির সঙ্গে লগ্নি নিয়ে কথা

    রাজ্যে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে শিল্পপতি অনন্ত আম্বানি এবং তাঁর বাবা মুকেশ আম্বানির সঙ্গেও কথা হয়েছে বলে জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, “আমার সঙ্গে অনন্ত আম্বানির কথা হয়েছে। অনন্ত এবং ওঁর বাবা মুকেশ আম্বানি এখানে লগ্নি করা নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন। ওঁরা আমাকে মুম্বইয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। গণেশ চতুর্থীর পরেই ওঁদের সঙ্গে দেখা করতে যাব।”

    সরকারের দাবি (Suvendu Adhikari), জমি, অর্থায়ন ও পরিবেশ সংক্রান্ত ছাড়পত্রের মতো বিষয়গুলি আগে নিশ্চিত করে শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরির দিকে জোর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করে তবেই চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার নীতিও বজায় রাখা হবে।

     

  • Migrants Controversy: ইউরোপে প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী নারীদের উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, অভিবাসন নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক

    Migrants Controversy: ইউরোপে প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী নারীদের উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, অভিবাসন নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে প্রবীণ, প্রতিবন্ধী এবং বিশেষভাবে নির্ভরশীল মেয়েদের উপর ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের (Migrants Controversy) একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। কয়েকটি ঘটনায় তদন্ত চলছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে আদালতে বিচারপ্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এসব ঘটনা ঘিরে দুর্বল ও নির্ভরশীল মানুষদের নিরাপত্তা এবং পরিচর্যা ব্যবস্থায় নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

    ফ্রান্সে প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ

    ফ্রান্সের তুলুজের কাছে একটি বিশেষ পরিচর্যা কেন্দ্রে ২৩ বছরের পক্ষাঘাতগ্রস্ত এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ৪০ বছরের এক মরক্কোর নাগরিক পরিচর্যাকারীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তাঁর হয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের ১ আগস্ট তুলুজের সরকারি কৌঁসুলির দফতর মামলাটি খারিজ করে দেয় বলে জানা গিয়েছে। তরুণীর মা নাথালি মুয়ে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার পর তাঁর মেয়ে ওই পরিচর্যা কেন্দ্রে ফিরতে ভয় পাচ্ছিলেন। অভিযুক্ত পরিচর্যাকারীর বিরুদ্ধে একই প্রতিষ্ঠানে আরও দুই তরুণীর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার কথাও স্থানীয় সূত্রে প্রকাশিত হয়েছে। তদন্তের সময় তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।

    স্পেনে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ

    স্পেনের মানাকোরে ২০২০ সালের একটি ঘটনায় ৪০ বছরের এক সেনেগালের নাগরিকের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। প্রসিকিউশনের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে ওই কিশোরীর সঙ্গে পরিচিত হন এবং তাঁর প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি জানতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি কিশোরীকে একটি গ্যারাজে ঢুকিয়ে বের হওয়ার পথ আটকে দেন এবং তাঁকে ও তাঁর বোনকে হুমকি দেন। এরপর ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন, তিনি কখনও ওই গ্যারাজে ঢোকেননি। তাঁর বিরুদ্ধে নয় বছরের কারাদণ্ড এবং সাজা শেষে দেশ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

    স্ট্রাসবুর্গে ১৫ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ

    ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ২০২৩ সালে ১৫ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ২৬ বছরের এক আফগান নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে কিশোরীকে সামান্য প্রতিবন্ধী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি একটি সুইমিং পুলে ঘটেছিল বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আরও দুই কিশোরী এবং চল্লিশের কোঠার এক মহিলাকে যৌন হেনস্থার অভিযোগও রয়েছে। একজন কিশোরী লাইফগার্ডকে বিষয়টি জানানোর পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্বল ব্যক্তিকে ধর্ষণ এবং একাধিক যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়।

    ভিয়েনায় ৮২ বছরের বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগ

    অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ৮২ বছরের এক মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে ২৬ বছরের এক আফগান পরিচর্যাকারীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ওই বৃদ্ধার বাড়িতে ঘটেছিল বলে অভিযোগ। পরিবারের তরফে নজরদারি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। পরিবারের এক সদস্য মোবাইল ফোনে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগ স্বীকার করেছিলেন বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তদন্ত চলাকালীন অভিযোগ ও প্রমাণের আইনি মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ।

    ফ্রান্সে ৮০ বছরের বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনা

    ফ্রান্সের নিয়োরে ৮০ বছরের এক মহিলাকে ধর্ষণের পর তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনাটি ২০২৫ সালের ৫ থেকে ৬ জুলাইয়ের মধ্যবর্তী রাতে ঘটে। প্রায় দুই মাস পরে, ২৭ সেপ্টেম্বর পুলিশ এক আফগান নাগরিককে গ্রেফতার করে। পোয়াতিয়ের সরকারি কৌঁসুলির দফতর জানিয়েছিল, অভিযুক্ত আফগানিস্তানে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং ২০০৫ সালে ফ্রান্সে এসেছিলেন। তাঁকে বিচার-পূর্ব হেফাজতে রাখা হয়। প্রবীণ এক মহিলার উপর যৌন সহিংসতার অভিযোগ এবং পরবর্তী মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয় স্তরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করে।

    জার্মানিতে ৯০ বছরের প্রতিবন্ধী মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ

    জার্মানির ড্রেসডেনে ৩৩ বছরের এক ইরাকি নাগরিকের বিরুদ্ধে ৯০ বছরের এক প্রতিবন্ধী মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ওই মহিলা একটি হুইলচেয়ারে ছিলেন এবং পড়ে যাওয়ার পর তাঁকে এক্স-রে করাতে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের একটি শৌচাগারে ওই মহিলার উপর যৌন হামলা চালানো হয়। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং ইচ্ছাকৃতভাবে শারীরিক ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়।

    ফরাসি হাসপাতালে দুই প্রবীণ রোগীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

    ২০২৩ সালের অক্টোবরে ফ্রান্সের আর্জঁতুইয়ের ভিক্টর দুপুই হাসপাতালের জেরিয়াট্রিক বিভাগে ৯৩ এবং ৯৫ বছরের দুই রোগীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ৪৪ বছরের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশকে খবর দেওয়া হয়, অভিযুক্তকে ৯৩ বছরের এক মহিলার ঘর থেকে বের হতে দেখা যাওয়ার পর। তদন্তকারীরা তাঁর বিছানার চাদরে বীর্যের নমুনা পেয়েছিলেন বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়, যদিও সেটি অভিযুক্তেরই ছিল কি না তখনও নিশ্চিত হয়নি। পরে ৯৫ বছরের ওই রোগীও একই দিনে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেন। ৯৩ বছরের মহিলা পরে জ্ঞান হারিয়ে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর কারণ এবং যৌন নির্যাতনের সঙ্গে মৃত্যুর কোনও সম্পর্ক ছিল কি না, তা পৃথক তদন্ত ও ময়নাতদন্তের বিষয় হয়ে ওঠে।

    অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক

    এই ঘটনাগুলি ইউরোপে প্রবীণ, প্রতিবন্ধী এবং পরিচর্যার উপর নির্ভরশীল মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে অভিবাসন, একীকরণ, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং বিদেশি নাগরিকদের দ্বারা সংঘটিত গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। জার্মানির অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (AfD)-সহ অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলি এই ধরনের ঘটনাকে কঠোর অভিবাসন নীতি (Migrants Controversy) এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার পক্ষে যুক্তি হিসেবে তুলে ধরছে। বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশে অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভও বেড়েছে। তবে কোনও ব্যক্তির অপরাধের অভিযোগের ভিত্তিতে গোটা কোনও ধর্মীয়, জাতীয় বা অভিবাসী সম্প্রদায়কে দায়ী করা যায় না। প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, তদন্তের ফল এবং আদালতের চূড়ান্ত রায়ই বিচার্য। একই সঙ্গে পরিচর্যা কেন্দ্র, হাসপাতাল ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে দুর্বল মানুষদের সুরক্ষায় কার্যকর নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে।

     

     

     

     

     

  • BRICS Membership: বছর তিন আগে আবেদন, এখনও ব্রিকসে জায়গা হয়নি পাকিস্তানের

    BRICS Membership: বছর তিন আগে আবেদন, এখনও ব্রিকসে জায়গা হয়নি পাকিস্তানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্রিকসের সদস্যপদের (BRICS Membership) জন্য ২০২৩ সালেই আবেদন করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু আবেদন করার প্রায় তিন বছর পরেও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান অর্থনীতির এই জোটে জায়গা হয়নি ইসলামাবাদের। মূলত ভারতের আপত্তিই পাকিস্তানের ব্রিকস-এ প্রবেশের পথে সবচেয়ে বড় বাধা বলে মনে করা হচ্ছে। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত ব্রিকস পরবর্তী সময়ে আরও সম্প্রসারিত হয়েছে। গত বছর মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীকে অন্তর্ভুক্ত করার ফলে জোটটি ‘ব্রিকস+’-এ পরিণত হয়েছে। বর্তমানে আরও ২৯টি দেশ ব্রিকসের সদস্যপদের জন্য আবেদন করেছে। সেই তালিকায় রয়েছে পাকিস্তানও।

    কেন ব্রিকসে যোগ দিতে চাইছে পাকিস্তান

    পাকিস্তানের ব্রিকসে যোগ দেওয়ার আগ্রহের পিছনে অন্যতম কারণ দেশের অর্থনৈতিক সংকট। পাকিস্তান ইকনমিক সার্ভে অনুযায়ী, দেশটির জিডিপি বৃদ্ধির হার ৩.৭০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাঙ্ক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভান্ডার বা আইএমএফ-এর উপর নির্ভরতা কমানো এবং বিকল্প অর্থের উৎস তৈরি করাও ইসলামাবাদের অন্যতম লক্ষ্য। পাকিস্তান ব্রিকস-সমর্থিত নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কে ৫৮ কোটি ডলারের অংশীদারিত্ব কিনেছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে নিজেদের বিকল্প বাড়াতে চাইছে ইসলামাবাদ।

    ব্রিকস-এ ভারতের বাণিজ্যও বেড়েছে

    ব্রিকসের সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে জোটটির বৈশ্বিক গুরুত্বও বেড়েছে। সম্প্রসারিত ব্রিকস বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৪৯ শতাংশ জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করে। ক্রয়ক্ষমতার সমতা বা PPP-এর ভিত্তিতে বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় ৪০ শতাংশের অংশীদার এই গোষ্ঠী। ব্রিকস দেশগুলির সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যও উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। জোটের সদস্য দেশগুলিতে ভারতের রফতানি ৪৮.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ৬৪.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে তা বেড়ে হয়েছে ৯৫.৭ বিলিয়ন ডলার।

    ২০২৩ সালেই সদস্যপদের আবেদন

    ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, ইসলামাবাদ ব্রিকসে যোগ দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক ভাবে আবেদন করেছে। সে সময় তিনি দাবি করেছিলেন, ব্রিকসের অধিকাংশ সদস্য দেশের সঙ্গেই পাকিস্তানের উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মুমতাজ জাহরা বালোচ ব্রিকসকে ‘উন্নয়নশীল দেশগুলির একটি গুরুত্বপূর্ণ গোষ্ঠী’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছিলেন, ব্রিকসে যোগ দিতে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে। তিনি জানিয়েছিলেন, ব্রিকসে যোগ দিলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ব্রিকস পাকিস্তানের আবেদনকে তাদের ‘ইনক্লুসিভ মাল্টিল্যাটারালিজম’-এর নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিবেচনা করবে বলেও আশা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

    রাশিয়া-চিনের সমর্থন, তবুও থমকে পাকিস্তানের সদস্যপদ

    পাকিস্তানের রাশিয়ায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মহম্মদ খালিদ জামালি রুশ সংবাদ সংস্থা তাস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, পাকিস্তান ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির সমর্থন আদায়ের জন্য যোগাযোগ করছে। বিশেষ করে রাশিয়ার সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে ইসলামাবাদ। রাশিয়া ও চিনের সমর্থন পাকিস্তানের পক্ষে থাকলেও এখনও সদস্যপদ মেলেনি। কারণ ব্রিকসে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে সর্বসম্মতির নীতি কার্যকর। অর্থাৎ নতুন কোনও দেশকে সদস্য করতে হলে সমস্ত পূর্ণ সদস্যের সম্মতি প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে ভারতের বিরোধিতাই পাকিস্তানের ব্রিকস-এ প্রবেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যতদিন নয়াদিল্লি পাকিস্তানের সদস্যপদের বিরোধিতা করবে, ততদিন সর্বসম্মতির নিয়মে ইসলামাবাদের আবেদন কার্যত আটকে থাকবে। ফলে রাশিয়া ও চিনের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানের ব্রিকস-এ প্রবেশের সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত। ভারতের আপত্তি কাটিয়ে ইসলামাবাদ শেষ পর্যন্ত এই জোটে জায়গা করে নিতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার।

     

     

     

     

  • Modi Pezeshkian Meet: পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি, নাবিকদের সুরক্ষায় জোর মোদির! ব্রিকসের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক

    Modi Pezeshkian Meet: পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি, নাবিকদের সুরক্ষায় জোর মোদির! ব্রিকসের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের অবসানে ফের সংলাপ ও কূটনীতির উপর জোর দিল ভারত। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের (BRICS Summit New Delhi) ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান (Masoud Pezeshkian)-এর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানেই তিনি বলেন, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সব সমস্যার সমাধান আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমেই করতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপদ নৌ চলাচল, বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ এবং সমুদ্রযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। দিল্লিতে পেজেশকিয়ান (Modi Pezeshkian Meet) পৌঁছনোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে এই বৈঠক হয়। প্রেসিডেন্ট হিসেবে এটাই তাঁর প্রথম ভারত সফর। মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যে মোদি ও পেজেশকিয়ানের এটি দ্বিতীয় বৈঠক।

    পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

    বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই নেতা (India Iran Relations)। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) তরফে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ফের ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছেন—পশ্চিম এশিয়ার সমস্ত সমস্যার সমাধান সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে করতে হবে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ‘‘অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য ধারাবাহিক প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’’ পাশাপাশি নৌ চলাচল ও বাণিজ্যের স্বাধীনতা বজায় রাখা এবং সমুদ্রযাত্রীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন। শুক্রবারের বৈঠকেও ভারতীয় পক্ষের তরফে জাহাজ চলাচল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ বজায় রাখার গুরুত্ব ফের তুলে ধরা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে কথা

    আলোচনায় আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ রক্ষা, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং সাগরে থাকা নাবিকদের নিরাপত্তার উপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য নিরবচ্ছিন্ন আন্তর্জাতিক প্রয়াসের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচল, আন্তর্জাতিক সমুদ্র বাণিজ্য রক্ষা এবং জাহাজে কর্মরত নাবিকদের জীবন ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।” উল্লেখ্য, লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে বহু ভারতীয় নাবিক এবং বাণিজ্যিক জাহাজ আন্তর্জাতিক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ইরানের হরমুজ প্রণালী অবরোধের জেরে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত তৈরি হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট পেট্রোলিয়াম সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ যাতায়াত করে। ফলে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যের উপরও গভীর প্রভাব ফেলছে।

    ভারত-ইরান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক

    বৈঠকে ভারত-ইরান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ব্রিকসের বিভিন্ন বৈঠকে ইরানের নিয়মিত ও উচ্চপর্যায়ের অংশগ্রহণের জন্য পেজেশকিয়ানকে ধন্যবাদ জানান মোদি। তিনি ব্রিকস বিজনেস ফোরামের ‘লিডার্স সেশন’-এ অংশগ্রহণের জন্যও পেজেশকিয়ানকে ধন্যবাদ জানান। গ্লোবাল সাউথের (Global South) দেশগুলির মধ্যে সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও স্থায়িত্বের মানসিকতা গড়ে তুলতে ব্রিকস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বহুপাক্ষিক বিভিন্ন সংগঠনে, বিশেষ করে ব্রিকসের মতো মঞ্চে, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভারত ও ইরানের মধ্যে চলমান সহযোগিতারও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

    ভারতকে বিশেষ আহ্বান পেজেশকিয়ানের 

    দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে মোদি এবং পেজেশকিয়ানের মধ্যে এটি ছিল দ্বিতীয় শীর্ষ বৈঠক। এর আগে গত ৩১ আগস্ট বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনের ফাঁকে পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন মোদি। সেই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের অবসানে সমস্ত প্রচেষ্টাকে ভারত সমর্থন করে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও বহুপাক্ষিক মঞ্চে ভারত ও ইরানের যৌথ স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে পেজেশকিয়ান ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন পক্ষের বিস্তৃত যোগাযোগের কথা উল্লেখ করে মোদিকে যুদ্ধ ও রক্তপাতের পথ থেকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকে সরিয়ে সংলাপ ও সমঝোতার পথে ফেরাতে ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

    শান্তি ও কূটনীতির অনন্য ছবি

    নয়াদিল্লির ব্রিকস বিজনেস সামিট থেকে সামনে আসা একটি অনন্য ছবি এখন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ফ্রেমে দেখা গেছে, বিভক্ত ও সংঘাতপূর্ণ বিশ্বের মাঝে দাঁড়িয়ে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থানের প্রতীক হয়ে উঠেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেখানে দেখা যায়, তিনি একহাতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের হাত ধরে আছেন, আর তাঁদের পাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। ছবিটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ একদিকে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্য বিঘ্নিত হচ্ছে, আর অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পশ্চিমা বিশ্বের একের পর এক নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে রাশিয়া। কিন্তু ভারত অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে যেমন ইরান ও রাশিয়ার সঙ্গে তাদের ঐতিহাসিক ও কৌশলগত মিত্রতা বজায় রেখেছে, তেমনই অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ পশ্চিমা শক্তিগুলির সঙ্গে নিজেদের সুদৃঢ় স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ অক্ষুণ্ণ রেখেছে।

    সমস্ত বিরোধী মেরুর দেশের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা

    নয়াদিল্লি বারবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্পষ্ট করে দিয়েছে যে – ভারত বিশ্বের কোনও ভূরাজনৈতিক সংঘাতের ক্ষেত্রে নিষ্ক্রিয় বা নিষ্ফল নিরপেক্ষ নয়, বরং ভারত সবসময় সরাসরি ‘শান্তির পক্ষে’ দাঁড়ায়। কোনও বিশেষ শক্তিশালী বলয়ে বা ক্যাম্পে যোগ না দিয়ে ভারত পৃথিবীর সমস্ত বিরোধী মেরুর দেশের সঙ্গে যোগাযোগ ও সংলাপের পথ খোলা রেখেছে। নয়াদিল্লির ব্রিকস সম্মেলন এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্য সংকট, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং মার্কিন বাণিজ্য ও শুল্কনীতির প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি নানা চ্যালেঞ্জের মুখে।

  • BRICS Summit Modi Putin: রুশ সফরে মোদিকে আমন্ত্রণ পুতিনের! ‘ফোর্ট্রেস অন হুইলস’-এ জমল কূটনীতির উষ্ণতা

    BRICS Summit Modi Putin: রুশ সফরে মোদিকে আমন্ত্রণ পুতিনের! ‘ফোর্ট্রেস অন হুইলস’-এ জমল কূটনীতির উষ্ণতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কূটনীতি সাধারণত বৈঠকের টেবিলেই হয়। তবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে সেই ছবিও। এবার সেই কূটনীতির সাক্ষী হল একটি বিলাসবহুল সাঁজোয়া গাড়ি। দিল্লিতে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাঁজোয়া অরাস সেনেট লিমুজিনে একসঙ্গে সফর করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পুতিন (BRICS Summit Modi Putin)। ১১ সদস্যের ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনের এক দিন আগে এই দৃশ্য ঘিরে তৈরি হয়েছে বিশেষ আগ্রহ। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর দুই নেতা একই গাড়িতে করে দিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ইনোপ্রোম (INNOPROM) প্রদর্শনীতে যান। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের ব্যবহৃত গাড়ি-কে নিরাপত্তার কারণে প্রায়ই ‘ফোর্ট্রেস অন হুইলস’ বা ‘চাকার উপর দুর্গ’ বলা হয়। গত বছর চিনে সাংহাই কর্পোরেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনের সময়ও মোদিকে পুতিনের সঙ্গে এই গাড়িতে সফর করতে দেখা গিয়েছিল।

    মোদি-পুতিন বিশেষ বৈঠক

    ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে শুক্রবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ১১ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা হয়। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, মহাকাশ, দক্ষতা ও কর্মী চলাচল এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ—সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন দুই রাষ্ট্রনেতা। চলতি বছরে এটি মোদি ও পুতিনের দ্বিতীয় সাক্ষাৎ। এর আগে ৩১ অগস্ট ২০২৬-এ বিশকেকে ২৬তম সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO) সম্মেলনের ফাঁকে তাঁদের বৈঠক হয়েছিল। বৈঠকে ভারত-রাশিয়া বাণিজ্য ও শিল্প সহযোগিতা আরও বাড়ানোর উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। রাশিয়ার আন্তর্জাতিক শিল্প প্রদর্শনী ‘INNOPROM India’-কে স্বাগত জানান দুই নেতা। ৯ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর প্রথমবারের মতো ভারতে আয়োজিত এই শিল্প প্রদর্শনী দুই দেশের বাণিজ্যিক ও শিল্প সম্পর্ক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তাঁরা। মোদি ও পুতিন দু’জনেই প্রদর্শনীটি পরিদর্শন করেন এবং সেখানে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন।

    বন্ধু পুতিনকে বিশেষ উপহার মোদির

    ইনোপ্রোম (INNOPROM) হল আন্তর্জাতিক শিল্প প্রদর্শনী। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নির্মাতা ও ক্রেতাদের একত্রিত করার পাশাপাশি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করাই এই প্রদর্শনীর অন্যতম উদ্দেশ্য। এর আগে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে পুতিনকে বিশেষ উপহার দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তিনি রুশ প্রেসিডেন্টের হাতে তুলে দেন প্রাচীন তামিল শাস্ত্র ‘তিরুক্কুরাল’-এর রুশ অনুবাদ। তাঁতিবংশের সাধক ও কবি তিরুবল্লুভরের রচিত এই গ্রন্থে মানবজীবনের বিভিন্ন দিকের কথা তুলে ধরা হয়েছে। পুতিনকে উপহার দেওয়ার সময় মোদি বলেন, প্রায় দু’হাজার বছর আগে তিরুবল্লুভর ‘তিরুক্কুরাল’ রচনা করেছিলেন। মানবজীবনের বিভিন্ন দিক এই গ্রন্থে উঠে এসেছে। রুশ ভাষায় এর অনুবাদ ভারত ও রাশিয়ার মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়াবে এবং দুই দেশের সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী। পরে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে মোদি লেখেন, মহান তিরুবল্লুভরের চিরন্তন জ্ঞানকে ভাষা ও দেশের সীমানা পেরিয়ে পৌঁছে দিতে পুতিনকে ‘তিরুক্কুরাল’-এর রুশ অনুবাদ উপহার দিয়েছেন তিনি।

    ভারত ও রাশিয়া দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক

    ভারত ও রাশিয়ার দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দিল্লির বৈঠকে দুই নেতাকে হাসিমুখে পরস্পরের সঙ্গে কথা বলতে এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দেখা যায়। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ভারত-রাশিয়ার ‘স্পেশাল অ্যান্ড প্রিভিলেজড স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ (Special and Privileged Strategic Partnership)-এর বিভিন্ন দিক নিয়ে মোদি ও পুতিনের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ—সহ একাধিক ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন তাঁরা। উল্লেখ্য, পুতিন শেষবার ভারত সফরে এসেছিলেন ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে। তবে চলতি মাসের শুরুতেই কিরগিজস্তানে এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে ফের মুখোমুখি বৈঠক হয়েছিল মোদী-পুতিনের। এবার দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের আগে তাঁদের বৈঠক এবং একই গাড়িতে সফর ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের উষ্ণতার নতুন ছবি তুলে ধরল।

    পশ্চিম এশিয়া এবং কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল নিয়ে আলোচনা

    এছাড়াও পশ্চিম এশিয়া এবং কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল-সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই রাষ্ট্রনেতা। পশ্চিম এশিয়া ও কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাতের কারণে সামুদ্রিক বাণিজ্য এবং ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রভাবিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। সংঘাতের সমাধানে আলোচনা ও কূটনীতিকেই এগিয়ে যাওয়ার পথ হিসেবে ভারত সমর্থন করে বলে ফের জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় ভারত প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

    রাশিয়া সফরে মোদিকে আমন্ত্রণ পুতিনের

    বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল রুশ প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণ। পুতিন প্রধানমন্ত্রী মোদিকে রাশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সেখানে অনুষ্ঠিত হবে ২৪তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলন। মোদী সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। দুই দেশের কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে সম্মেলনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে। বৈঠকে বহুপাক্ষিক ক্ষেত্রে ভারত-রাশিয়ার সহযোগিতা নিয়েও মতবিনিময় করেন মোদি ও পুতিন। বিশেষ করে ২০২৬ সালে ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের সময়ে দুই দেশের সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হয়। তিন দিনের ভারত সফরে শুক্রবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছন পুতিন। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কে ভি সিং। পুতিনের সঙ্গে রয়েছেন উচ্চপর্যায়ের রুশ প্রতিনিধি দল। তাঁর এই সফরে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

  • Modi-Xi Meet: মোদি-জিনপিং বৈঠকে গুরুত্ব বাণিজ্য ও সীমান্ত পরিস্থিতিকে, শনিবার ভারতে আসছেন চিনা প্রেসিডেন্ট

    Modi-Xi Meet: মোদি-জিনপিং বৈঠকে গুরুত্ব বাণিজ্য ও সীমান্ত পরিস্থিতিকে, শনিবার ভারতে আসছেন চিনা প্রেসিডেন্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ সাত বছর পর ভারতে আসছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Modi-Xi Meet)। আগামী ১২ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণেই তাঁর এই সফর। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, শনিবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন মোদি। দুই রাষ্ট্রপ্রধানের আলোচনায় বাণিজ্য, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেতে পারে। চিনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ৬৭ সদস্যের সরকারি প্রতিনিধিদল ভারতে আসছে। এই দলে রয়েছেন চিনের কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরোর স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য এবং শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কাই চি এবং চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই। পাশাপাশি পৃথক একটি বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদলও ভারতে আসবে।

    মোদির আমন্ত্রণেই ভারতে শি

    প্রায় ২৪ ঘণ্টার ঝটিকা সফরে ভারতে থাকবেন শি। শনিবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে তাঁর ভারতে পৌঁছনোর কথা। পরদিন রবিবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে তিনি ভারত ছাড়বেন। শনিবার দুপুর ২টা নাগাদ ভারত মণ্ডপমে তাঁকে এবং অন্যান্য রাষ্ট্রনেতাকে স্বাগত জানাবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, ব্রিকসের একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রধানমন্ত্রী মোদির দেওয়া নৈশভোজের আগে দুই নেতার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে। নৈশভোজেও উপস্থিত থাকবেন শি জিনপিং। গালওয়ান সংঘর্ষের পরে প্রথম ভারত সফরে আসছেন জিনপিং। গোটা বিশ্বের নজর থাকবে মোদি-জিনপিং বৈঠকের দিকে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা, কূটনৈতিক দূরত্ব এবং অর্থনৈতিক টানাপড়েনের পর ভারত ও চিন উভয় দেশ সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করতে পারে এই বৈঠকে।

    ভারত-চিন সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন

    শেষ বার সাত বছর আগে ২০১৯ সালে ভারতে এসেছিলেন চিনের প্রেসিডেন্ট। তার পরের বছরেই পূর্ব লাদাখের গালওয়ানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে চিনের ফৌজ। রক্তক্ষয়ী ওই সংগ্রামে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান নিহত হন। চিন সরকারি ভাবে তাদের বাহিনীর চার জনের মৃত্যুর কথা স্বীকার করে। ওই সংঘর্ষের পর থেকেই ভারত এবং চিনের পারস্পরিক সম্পর্কের দ্রুত অবনতি হয়। এই অবস্থায় দিল্লির ব্রিকস সম্মেলনে জিনপিংয়ের ভারত সফর তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও প্রশ্ন উঠছে, ১৯৬২-র যুদ্ধের পর থেকে শুরু হওয়া অবিশ্বাসের কাঁটা, যা ২০২০ সালে গালওয়ানে দুই দেশের সেনার মধ্যে সংঘর্ষে কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে অরুণাচল সীমান্তের অঞ্চলের দখলদারি নিয়েও দ্বন্দ্ব অব্যাহত। এর পরেও কি মধ্যপ্রাচ্যের একটানা চলা যুদ্ধের আবহে এশিয়ার দুই শক্তিশালী দেশ মধ্যবর্তী কোন সমঝোতায় আসবে?

    বাণিজ্যে ভারসাম্যের বার্তা দিতে পারেন মোদি

    ভারত-চিন সম্পর্কের সাম্প্রতিক উন্নতির মধ্যেও বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগ রয়েছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি চিনের বাজারে ভারতীয় পণ্যের জন্য আরও ন্যায্য ও সমান সুযোগ, সরবরাহ শৃঙ্খলের নির্ভরযোগ্যতা এবং দুই দেশের বাণিজ্যে ভারসাম্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরতে পারেন বলে জানা গিয়েছে। দুই দেশই অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়াতে আগ্রহী। ফলে শি জিনপিংয়ের সফরকে বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    আলোচনায় সীমান্ত সমস্যাও

    বাণিজ্যের পাশাপাশি সীমান্ত পরিস্থিতিও মোদি-শি বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। ২০২০ সালের পূর্ব লাদাখের সামরিক সংঘাতের পর ভারত ও চিনের মধ্যে সম্পর্কের যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, ২০২৪ সালে কাজানে মোদি-শি বৈঠকের পর তার বরফ গলতে শুরু করে। দুই দেশের সেনার সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নকরণ এবং সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। কাজান বৈঠকের পর দুই দেশ সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ভারতের অবস্থান হল, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক উন্নতির পূর্বশর্ত। এরপর বিশেষ প্রতিনিধিরা তিন দফা সীমান্ত বৈঠক করেছেন। চলতি বছরের অগস্টে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ বৈঠকে সীমান্ত নির্ধারণ ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে দ্রুত ও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির জন্য আলোচনার কাঠামো চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত-সহ মোট আটটি বিষয়ে ঐকমত্য হয়।

    সম্পর্কের বরফ গলাতে গুরুত্বপূর্ণ

    গত বছর সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (SCO)-এর শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে চিন সফর করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেই সফরেও শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তিনি। দুই নেতার ধারাবাহিক বৈঠকে ভারত-চিন সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত মিলেছে। দুই দেশের নেতাই ভারত ও চিনকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার’ হিসেবে দেখার বার্তা দিয়েছেন। এবার শি জিনপিংয়ের ভারত সফর চিনের কাছেও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আগামী বছর ব্রিকসের সভাপতিত্ব করবে চিন, ভারতের কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করবে তারা। ফলে ব্রিকসের পাশাপাশি ভারত-চিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়েও এই সফরে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী কাই চির সঙ্গেও এর আগে প্রধানমন্ত্রী মোদির বৈঠক হয়েছে। সেই সময় দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়ানো এবং দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে চিনের আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন কাই।

     

     

     

     

  • Suvendu on PM Birthday: তৈরি হবে ‘ভারত মণ্ডল’, মোদির জন্মদিনে ‘আশীর্বাদের প্রদীপ’ জ্বালাবে এক কোটি পরিবার, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu on PM Birthday: তৈরি হবে ‘ভারত মণ্ডল’, মোদির জন্মদিনে ‘আশীর্বাদের প্রদীপ’ জ্বালাবে এক কোটি পরিবার, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi Birthday) জন্মদিনে ‘মেগা সেলিব্রেশন’-এর পরিকল্পনা করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ৭৫ বছর পেরিয়ে ৭৬-এ পা রাখবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। প্রতি বছরই এই জন্মদিন উপলক্ষে বিজেপি একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। এবার এ রাজ্যেও বিজেপি সরকার। ফলে বঙ্গবাসীও সামিল হবেন সেই উৎসবে। বৃহস্পতিবার সেই সংক্রান্ত প্রস্তুতি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারপরই তিনি নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে বিস্তারিত কর্মসূচির কথা জানালেন। ১৭ সেপ্টেম্বর পূর্বঘোষণামতো ‘অন্নপূ্র্ণা দিবস’ পালনের পাশাপাশি কলকাতায় দিনভর একাধিক অনুষ্ঠান হবে।

    প্রদীপ জ্বালানো হবে রাজ্যজুড়ে

    শুধু প্রধানমন্ত্রী মোদির জন্মদিন নয়, ‘প্রশাসক’ নরেন্দ্র মোদির ২৫ বছরও পূর্ণ হচ্ছে এবছর। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ও দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে তিনি পেরিয়েছেন ২৫টি বছর। এই কৃতিত্বের জন্য তাঁকে এবার আলাদাভাবে সম্মানিত করতে চান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই উপলক্ষে ১৭ তারিখ বড়সড় অনুষ্ঠান হবে বাংলাজুড়ে। মূল অনুষ্ঠান অর্থাৎ সূর্যাস্তের পর প্রদীপ প্রজ্জ্বলন হবে কলকাতায়, গঙ্গার তীরে। ‘আশীর্বাদও কি দিয়া’ অর্থাৎ আশীর্বাদের প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে এই উদযাপনের সূচনা হবে। ওই দিন রাজ্যের অন্তত এক কোটি পরিবার এই কর্মসূচিতে অংশ নেবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী৷ এরপর নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে উদযাপন করা হবে প্রধানমন্ত্রী মোদির জন্মদিন। ওইদিন প্রায় ‘অকাল দিওয়ালি’র পরিবেশ তৈরি হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, ওইদিন কলকাতার বিভিন্ন সরকারি ও ঐতিহ্যবাহী ভবন, কালীঘাট মন্দির সাজানো হবে প্রদীপ দিয়ে। সবচেয়ে আকর্ষণীয় হতে চলেছে রঙ্গোলি যাত্রা। এতে প্রাকৃতিক সামগ্রী দিয়ে ১০৮ মিটার ‘ভারত মণ্ডল’ তৈরি হবে। রাজ্যজুড়ে মোদির জন্মদিনে মেগা সেলিব্রেশন হলেও নন্দীগ্রাম, রেজিনগরে তা পালিত হবে না। কারণ, আগামী ৬ অক্টোবর এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ‘‘নন্দীগ্রাম, রেজিনগরে সরকারের তরফে কোনও অনুষ্ঠান হবে না। কারণ, এই দুই জায়গায় আদর্শ আচরণবিধি লাগু রয়েছে। সেখানকার সাধারণ জনতা অথবা রাজনৈতিক দলের তরফে অবশ্য উদযাপন হতে পারে।”

    সেবা সম্পর্ক অভিযান

    ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন থেকে একমাস ব্যাপী সেবামূলক কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছে বিজেপি। যার নাম দেওয়া হয়েছে , সেবা সম্পর্ক অভিযান। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী এবং ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, তার এই যে লম্বা কার্যকাল, এটাকে আমরা মর্যাদার সঙ্গে, পালন করার জন্য, অন্যান্য রাজ্যের মত পশ্চিমবঙ্গ সরকারও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্কুলকে, ৮০ হাজারের বেশি স্কুলকে যুক্ত করা হয়েছে। আমাদের যারা বিদ্যার্থী আছেন, তাঁদের স্বপ্নের ভারত কেমন হওয়া উচিত, ২০৪৭ এর বিকশিত ভারত, তাঁকে সামনে রেখে ড্রয়িং, ক্যুইজ, তাৎক্ষণিক বক্তৃতা, বিতর্ক, রাইট আপ, নানা ধরণের কর্মসূচি, আমাদের স্কুল এডুকেশন ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে। এর বাইরেও নম সেবাগাথা, অঙ্গন কা উৎসব, কাহানী বদলাও কি, অর্থাৎ বিভিন্ন পরিবার, যারা প্রধানমন্ত্রী আবাস পেয়েছেন, শৌচালয় পেয়েছেন, জলজীবন মিশনের জল পেয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী সূর্যঘর পেয়েছেন, আয়ুষ্মান ভারতে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছেন, এছাড়াও পিএম কিষাণ সম্মাননিধি সহ, একাধিক কর্মসূচিতে যুক্ত হয়ে, তাঁদের পরিবারের এবং তাঁদের নিত্যদিনের, জীবন যাপনের ক্ষেত্রে, সামাজিক অর্থনৈতিক কী পরিবর্তন ঘটেছে, সেটাও আমাদের এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিকশিত ভারত সংকল্প যাত্রা, এই প্রোগ্রামও নেওয়া হয়েছে, বিভিন্ন জায়গায়, আমাদের এই উপলক্ষে সাইকেল ব়্যালি, বাইক ব়্যালি, পদযাত্রা, নানা ধরণের প্রোগ্রাম নেওয়া হয়েছে।”

  • Suvendu in Kalighat: “মায়ের ভোগের মাছ বা পাঁঠাবলির প্রসাদ গ্রহণে আমার দ্বিধা নেই” কালীঘাটে পুজো দিয়ে স্পষ্ট বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    Suvendu in Kalighat: “মায়ের ভোগের মাছ বা পাঁঠাবলির প্রসাদ গ্রহণে আমার দ্বিধা নেই” কালীঘাটে পুজো দিয়ে স্পষ্ট বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কৌশিকী অমাবস্যায় (Koushiki Amabasya) কালীঘাট মন্দিরে (Kalighat) পুজো দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। পুজো শেষ হওয়ার পর মন্দিরের মাটিতে বসেই ভোগের প্রসাদ গ্রহণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর পাতে ছিল বাসন্তী পোলাও, মাছের মাথা ও পায়েস। বাঙালির ধর্মীয় সংস্কৃতিতে দেবীকে আমিষ ভোগ নিবেদনের যে দীর্ঘদিনের রীতি রয়েছে, এদিনের পুজোয় তারই প্রতিফলন দেখা যায়। মায়ের পুজোয় আমিষ গ্রহণ নিয়ে অকপট শুভেন্দু (Suvendu in Kalighat) বলেন, “সনাতন ও বাঙালি ঐতিহ্যকে কালিমালিপ্ত বা দুর্বল করার চেষ্টা কোনও দিন সফল হবে না। দুর্গাপুজোর অষ্টমী কিংবা কার্তিক মাসে আমি যেমন সম্পূর্ণ সাত্ত্বিক আহার মেনে চলি, তেমনই এক জন বাঙালি হিসেবে মায়ের ভোগের মাছ কিংবা পাঁঠাবলির প্রসাদ গ্রহণ করতেও আমার কোনও দ্বিধা নেই।”

    মাতৃকৃপায় তিনি জনকল্যাণে ব্রতী

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুজোর ডালা নিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ডালায় ছিল বেনারসি শাড়ি, ফুলের মালা ও মিষ্টি। দেবী কালীর চরণে সেগুলি নিবেদন করে আরতি ও অঞ্জলি দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর নামেই পুজোর সংকল্প করা হয়। ভবানীপুর কেন্দ্রে প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পর মায়ের আশীর্বাদ নেওয়ার স্মৃতি স্মরণ করে এদিন তিনি জানান, মাতৃকৃপা ও প্রাপ্ত ‘গুরুদায়িত্ব’ নিয়েই তিনি জনকল্যাণে ব্রতী হয়েছেন। পুজো নিবেদনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অখণ্ড ভারত গঠন, বাঙালি তথা সনাতন সংস্কৃতির সুরক্ষা এবং দেশবিরোধী শক্তির বিনাশই তাঁর মূল লক্ষ্য। শুভেন্দু বলেন, “যেদিন ভবানীপুরে আমার নাম ঘোষণা হয়েছিল, প্রথম মায়ের কাছে এসেছিলাম। মা পদধূলি দিয়ে বলেছিলেন, তোকে দায়িত্ব দিলাম।”

    বাঙালি ঐতিহ্য মেনেই মায়ের ভোগ

    বাঙালি হিন্দু সংস্কৃতির প্রচলিত রীতি মেনেই এদিন কালীঘাটে দেবীর জন্য সাজানো হয় নানা পদে সমৃদ্ধ ভোগের আয়োজন। সেখানে ছিল বাসন্তী পোলাও, পাঁচ রকম ভাজা, শুক্তো, ডাল, সবজি, পনির এবং একাধিক ধরনের মাছ। ইলিশ, চিংড়ি, ভেটকি, পার্শে ও কাতলা-সহ মাছের বিভিন্ন পদ ছিল ভোগের তালিকায়। ছিল কাতলা মাছের মাথাও। পাশাপাশি বলির পাঁঠার মাংস, পায়েস ও চাটনি পরিবেশন করা হয়। মায়ের ভোগ গ্রহণের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মন্দিরের পুরোহিতদের দেওয়া মাছ ভাজা, মাছের মাথা, বাসন্তী পোলাও-সহ বিভিন্ন পদ তিনি প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। নিজের খাদ্যাভ্যাসের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, অষ্টমীর দিন এবং কার্তিক মাসে তিনি সাত্ত্বিক আহার গ্রহণ করেন। আবার বাঙালি হিসেবে দেবীকে যে মাছ দিয়ে ভোগ দেওয়া হয়, সেই প্রসাদও তিনি গ্রহণ করেন। একইভাবে পাঁঠা বলির প্রসাদ গ্রহণের কথাও জানান তিনি।

    দুর্গাপুজোয় আমিষ বিতর্ক, মন্দির থেকেই বার্তা

    সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাকে ঘিরে আলাদা তাৎপর্য দেখছে রাজনৈতিক মহল। দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার গ্রহণ নিয়ে বাগেশ্বর বাবার মন্তব্যের পর দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। যদিও বিজেপির একাধিক নেতা স্পষ্ট করেছেন, দুর্গাপুজোয় আমিষ খাওয়ার বিষয়ে দলের কোনও আপত্তি নেই। এই আবহে কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর আমিষ ভোগ গ্রহণকে নিছক ধর্মীয় আচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখছেন অনেকে। বিশেষ করে বাঙালির নিজস্ব ধর্মীয় আচার, খাদ্যসংস্কৃতি এবং সনাতন ঐতিহ্যের প্রসঙ্গটি এদিনের অনুষ্ঠানে নতুন করে সামনে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কোনও সন্ত বা ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব তাঁর নিজস্ব মতামত প্রকাশ করতেই পারেন। কে সেই মত গ্রহণ করবেন, তা ব্যক্তিগত বিষয়। আমিও কার্তিক মাস দামোদর মাসে সাত্ত্বিক আহার গ্রহণ করি, আবার বাঙালি হিসেবে..পাঁঠা বলির প্রসাদও গ্রহণ করি।”

    রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বার্তা

    বৃহস্পতিবার বিধানসভা অধিবেশনে বিবৃতি দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আগেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাগেশ্বর বাবার পরামর্শ কারও উপরে চাপিয়ে দেওয়া যেমন হবে না, তেমনই তাঁকে সামনে রেখে ঘোলা জলে বিরোধীরা মাছও ধরতে পারবে না। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘লিলুয়ায় একজন সাধু এসেছিলে‍‍ন। তিনি দেশপ্রেমের কথা, রাষ্ট্রবাদের কথা, অখণ্ড ভারতের কথা বলেছেন। ভারতের ঐতিহ্য, সংস্কৃতির কথা তাঁর মতো করে তিনি বলেছেন। যাঁরা সে সব গ্রহণ করতে চান, করবেন। যাঁরা চান না, করবেন না। তিনি কারও উপরে কিছু চাপিয়ে দিতে চাননি।’ এরপরে নাম না–করে মুখ্যমন্ত্রী নিশানা করেন কংগ্রেসকে। ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দেন, বাগেশ্বর বাবার পরামর্শ না–মানার অধিকার অবশ্যই আছে, কিন্তু তাঁর ছবি পোড়ানো সমর্থনযোগ্য নয়। মুখ্যমন্ত্রীর হুঙ্কার, ‘আমি কতগুলি লোককে দেখলাম, ভবানীপুর থানার সামনে ছবি পোড়াচ্ছে। আমি এখান থেকে সিপিকে (কলকাতার সিপি অজয় নন্দ) বলছি, ওই লোকগুলিকে গ্রেফতার করতে হবে। এ রাজ্যে এ সব চলবে না।’ তাঁর এই নির্দেশ থেকে স্পষ্ট, সাধু–সন্তদের অপমান বিজেপি–শাসিত বাংলায় কোনও ভাবেই বরদাস্ত করবে না সরকার।

    গেরুয়া ধ্বজা সব সময় উপরে থাকবে

    বাগেশ্বর বাবা আর বিজেপিকে এক বন্ধনীতে ফেলে পদ্ম–নেতাদের গায়ে বাঙালি বিরোধী তকমা সাঁটতে শুরু করে দিয়েছিলেন বিভিন্ন শিবিরের বিরোধীরা। যদিও বাগেশ্বর বাবার আমিষ–নিরামিষ সংক্রান্ত পরামর্শের সঙ্গে যে বিজেপি কোনও ভাবেই সম্পৃক্ত নয়, সেটা ঘটনার দু’দিনের মাথায় সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি নবমীর দিন পাঁঠার মাংস খাওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন। একই ভাবে নিজেদের আমিষপ্রীতির জানান দেন দি‍লীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, সুকান্ত মজুমদারের মতো শীর্ষ বিজেপি নেতা–নেত্রীরা, এমনকী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অন্যতম অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সঞ্জীব সান্যাল। এবার বিরোধীদের স্পষ্ট জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ধর্মীয় আচার ও বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতির প্রসঙ্গ তুলে শেষ পর্যন্ত সনাতন সংস্কৃতির জাগরণের কথাও বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, সনাতন ও বাঙালি ঐতিহ্যকে কালিমালিপ্ত বা দুর্বল করার চেষ্টা কোনও দিন সফল হবে না। তাঁর কড়া হুঁশিয়ারি, “গেরুয়া ধ্বজা সব সময় উপরে থাকবে, কখনও নীচে নামবে না।” ‘বহুজন সুখায় বহুজন হিতায়’ নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শুভেন্দু জানান, রাজ্য থেকে দেশবিরোধী শক্তিকে নির্মূল করার জন্য মায়ের কাছে শক্তি ও আশীর্বাদ প্রার্থনা করেছেন।

  • University Staff Teacher Transfer Bill: তীব্র বাকযুদ্ধ-হট্টগোলের মধ্যেই বিধানসভায় পাস শিক্ষা বদলি বিল, যাদবপুর নিয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    University Staff Teacher Transfer Bill: তীব্র বাকযুদ্ধ-হট্টগোলের মধ্যেই বিধানসভায় পাস শিক্ষা বদলি বিল, যাদবপুর নিয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তীব্র বিতর্ক, শাসক-বিরোধী বাকযুদ্ধ এবং হট্টগোলের মধ্যেই রাজ্য বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে পাস হয়ে গেল বহুচর্চিত ‘আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মী ও শিক্ষক বদলি (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ (University Staff Teacher Transfer Bill)। ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে পড়েছে ১৭১টি ভোট। বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ১৫ জন বিধায়ক। এই ১৫ জনের মধ্যে (West Bengal) কালীঘাটের তৃণমূল শিবিরের ১১ জন বিধায়ক ছাড়াও রয়েছেন নওসাদ সিদ্দিকী, মোস্তাফিজুর রহমান এবং বিধানসভার দুই কংগ্রেস বিধায়ক।

    বিল নিয়ে দীর্ঘ আলোচনায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যদি এই বিল রাজ্য সরকার কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা প্রতিহিংসামূলকভাবে ব্যবহার না করে, তবে আমরা একে নীতিগতভাবে সমর্থন জানাব। তবে কোনওভাবেই যেন প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার না হয়। মুখ্যমন্ত্রী অতীতে সিপিএমের ‘অনিলায়ন’ এবং পরবর্তীতে ‘মমতায়নে’র কথা বলেছেন। আমাদের আশঙ্কা, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসন খর্ব করে এই বিলের আড়ালে এখন নতুন করে ‘গৈরিকীকরণ’ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।” এর পরেই ক্ষোভে বিধানসভা থেকে ওয়াকআউট করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিরোধী বিধায়করা।

    শুভেন্দুর সাফ কথা (University Staff Teacher Transfer Bill)

    বিল নিয়ে আলোচনার সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিরোধীদের কটাক্ষ করে বলেন, “অতীতে সিপিএম উচ্চশিক্ষায় অনিলায়ন করেছিল। আর আপনাদের পার্টি এখন তিন না চার টুকরো, জানি না, আপনারা করেছিলেন মমতায়ন! আমরা তার কোনওটাই করব না। আমাদের লক্ষ্য দুর্বল বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে আরও শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী করে তোলা।”

    এদিকে, বিলের মূল উদ্দেশ্য ও প্রস্তাবিত আইনের রূপরেখা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “স্বশাসনের নামে কোনও বিশ্ববিদ্যালয় যদি কুশাসন বা স্বেচ্ছাচারিতা চালায়, তবে এই বিলই হবে রাজ্য সরকারের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। বর্তমানে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কলেজের অধ্যাপকরা এক কলেজ থেকে অন্য কলেজে বদলির সুযোগ পেলেও, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের ক্ষেত্রে তা সম্ভব হত না। এই বৈষম্য দূর করতে এবং রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় সমতা আনতেই বিলটি পাস করা হল।”

    জুটার ‘ইতিহাস’ সরকারের কাছে রয়েছে: শুভেন্দু

    বিল নিয়ে আলোচনায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গও উঠে আসে একাধিকবার। মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে নিশানা করে বলেন, জুটার সদস্যরা অতীতে কোথায়, কখন কী ভূমিকা নিয়েছিলেন, তার সমস্ত ইতিহাস সরকারের কাছে রয়েছে।

    বামপন্থী শিক্ষকদের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “এত জ্ঞান, এত আন্তর্জাতিক বুদ্ধি যাঁদের, তাঁদের আমরা রাজ্যের নতুন ও পিছিয়ে পড়া দুর্বল বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পাঠাব, যাতে সেই সব কেন্দ্রগুলিও সবল হয়ে ওঠে।”

    মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, প্রস্তাবিত বিলের গুরুত্ব প্রথম দিকে বিরোধী দল এবং অধ্যাপক সংগঠনগুলি বুঝতে পারেনি। এখন সরকারের অবস্থান এবং বিলের সম্ভাব্য প্রয়োগের বিষয়টি আঁচ করেই বিভিন্ন মহলে আপত্তি ও প্রতিবাদ শুরু হয়েছে।

    যাদবপুরে ১৩০০ কোটি টাকা অনুদানের ঘোষণা

    যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক স্লোগান এবং বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়েও বিধানসভায় সরব হন শুভেন্দু। তিনি বলেন, “অনুমতি নিয়ে জাতীয় পতাকা হাতে মিছিল করার অধিকার সবার আছে। কিন্তু ক্যাম্পাসে বসে ‘কিষেনজি’ বা দেশবিরোধী কোনও নাম লেখা কিংবা লাল সেলাম জানানো বরদাস্ত করা হবে না (University Staff Teacher Transfer Bill)।”

    তিনি আরও বলেন, “সনাতন ধর্মকে যারা কেবল সাংস্কৃতিক মনে করেন আর ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’র স্লোগান তোলেন, তাঁদের জবাব নেতাজির ভাষাতেই দেওয়া হবে, গান্ধীর ভাষায় নয়।”

    যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ১৩০০ কোটি টাকা অনুদানের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিধানসভায় তিনি বলেন, “রাজ্য ও কেন্দ্র মিলিয়ে ১৩০০ কোটি টাকা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া হবে।”

    অনুদানের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে যেন একটি পৃথক রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে। সেখানে দেশ ভাঙার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ‘কিষেনজি লাল সেলাম’, ‘ফ্রি প্যালেস্তাইন’ কিংবা ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’র মতো স্লোগান লেখা বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “ভারত তেরে টুকড়ে হোঙ্গে লিখলে, আমরাই টুকরো করে দেব। কিষেনজির নাম বিশ্ববিদ্যালয়ে লিখতে দেব না। বেছে বেছে গেরুয়াধারীদের তথাকথিত বামপন্থী অধ্যাপকরা টার্গেট করেছেন, এটা চলবে না।”

    সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী

    শিক্ষা বিল সংশোধনীর পক্ষে বক্তব্য রাখতে মুখ্যমন্ত্রী উঠতেই বিরোধীরা স্লোগান দিতে শুরু করেন। পাল্টা সুর চড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, “এই জন্যই আপনারা হেরেছেন। সামনের ভোটে আপনাদের কী অবস্থা গেরুয়া করবে, তা দেখবেন। আপনাদের বিরোধিতায় আমাদের সুবিধাই হচ্ছে।”

    তিনি আরও বলেন, “নতুন তৈরি হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তথাকথিত পণ্ডিতদের পাঠাব। প্রতিষ্ঠিত আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচুর অধ্যাপক ও শিক্ষাকর্মী আছেন, তাঁদের অন্যত্র পাঠানো হবে। অন্যান্য রাজ্যেও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলির সংস্থান রয়েছে। কোন লাইনে যাচ্ছি, বোঝা যেতেই বিল নিয়ে চিড়বিড় করা শুরু হয়েছে। রাজ্যে বিধানসভায় আইন প্রণয়নের এবং নিজস্ব শিক্ষা আইন আনার সম্পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। সরকারের আইনের জায়গা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের উপরে।”

    ‘স্বায়ত্তশাসন থাকবে, সরকারের দায়বদ্ধতাও দেখা হবে’

    বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বামেদেরও নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন রক্ষা হবে, পাশাপাশি সরকারের দায়বদ্ধতাও দেখা হবে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কি দেশের বাইরে? আইনের ফাঁকের সুযোগ নিয়ে মূলত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যা চলেছে, তার উত্তরে শৃঙ্খলা আনার জন্য এই আইন জরুরি। সিপিএম অনিলায়ন করেছিল, তৃণমূলের টুকরোরা মমতায়ন করেছিল, আমরা অবশ্য গৈরিকীকরণ করব না।”

    বদলি প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “বদলি চাকরির অন্তর্নিহিত শর্ত। অসুবিধা হলে চাকরি ছেড়ে দিন, ঝোলা নিয়ে হোলটাইমার হয়ে যান।”

    নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিজ্ঞ শিক্ষক পাঠানোর পরিকল্পনা

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই আইন রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ছিল। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, বিলের কোনও অপপ্রয়োগ হবে না। বিলের মাধ্যমে রাজ্যের আটটি প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের অপেক্ষাকৃত নবীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, এর ফলে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পড়ুয়ারাও অভিজ্ঞ শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন (West Bengal)। ব্যঙ্গের সুরে শুভেন্দু বলেন, “তথাকথিত সমাজবাদ যাঁরা প্রতিষ্ঠা করতে চান, তাঁদের বিরাট মেধাকে আমরা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে কাজে লাগাতে চাই। এতে আপত্তির কী আছে (University Staff Teacher Transfer Bill)?” বিল নিয়ে বিতর্কের গোটা পর্বে বার বার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে বামপন্থী শিক্ষকদের রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি।

     

LinkedIn
Share