Tag: bangla news

bangla news

  • IPL 2026: আসন্ন আইপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল, কারণ ব্যাখ্যা করল বিসিসিআই

    IPL 2026: আসন্ন আইপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল, কারণ ব্যাখ্যা করল বিসিসিআই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইপিএলের (IPL 2026) উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল করে দিল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)। গত বছর ৪ জুন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু প্রথম বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার উৎসব চলাকালীন পদপিষ্ট হয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছিল। নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ বছরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিসিআই।

    কেন বাতিল অনুষ্ঠান

    বোর্ড সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া বলেন, “গত ৪ জুনের মর্মান্তিক ঘটনার কারণে আইপিএলের শুরুর দিন কোনও অনুষ্ঠান হবে না। দুর্ঘটনায় প্রয়াতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বিসিসিআই এ বার উদ্বোধনের দিন কোনও সাংস্কৃতিক বা বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে না। তবে, ফাইনালের দিন একটি বড় অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে।” তবে, বিসিসিআই এবং আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিল ঠিক করেছে, ফাইনালের দিন, অর্থাৎ ৩১ মে জমকালো সমাপ্তি অনুষ্ঠান হবে।

    আগেও বাতিল হয় অনুষ্ঠান

    উল্লেখ্য, গত বছর ইডেন গার্ডেন্সে অনুষ্ঠিত আইপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছিল অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ। উপস্থিত ছিলেন বলিউড বাদশা শাহরুখ খান, সঙ্গীতশিল্পী শ্রেয়া ঘোষাল, করণ আউজলা। পাশাপাশি নৃত্য পরিবেশন করেন অভিনেত্রী দিশা পাটানি। তবে এ বছর কোনও অনুষ্ঠান হচ্ছে না। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে পুলওয়ামা কাণ্ডের পরেও আইপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল করেছিল বিসিসিআই। সেবার উদ্বোধনের জন্য বরাদ্দ অর্থ শহিদ জওয়ানদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

    শোক ও শ্রদ্ধার আবহ

    আগামী শনিবার আইপিএল শুরু হচ্ছে। বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের মুখোমুখি হবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।  ২০২৫ সালে IPL জয়ের পরে RCB-র সেলিব্রেশনে ঘটে গিয়েছিল ভয়াবহ দুর্ঘটনা। ট্রফি জয়ের প্যারেডে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান ১১ জন, আহত হয়েছিলেন অনেকে। প্রাক্তন ক্রিকেটার ভেঙ্কটেশ প্রসাদের সভাপতিত্বে কর্নাটক ক্রিকেট সংস্থা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, স্টেডিয়ামের ভিতরে একটা স্মৃতিফলক বসানো হবে। এর মাধ্যমে প্রয়াত ভক্তদের শ্রদ্ধা জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের স্মৃতিতে স্টেডিয়ামের ভিতর ১১টি আসন ফাঁকা রাখা হবে। আইপিএল হোক বা আন্তর্জাতিক ম্যাচ, কোনও ম্যাচেই ওই আসনগুলোর টিকিট বিক্রি করা হবে না। সব মিলিয়ে শোক ও শ্রদ্ধার আবহেই শুরু হতে চলেছে আইপিএল।

  • Suvendu Adhikari: রামনবমীর শোভাযাত্রায় গেরুয়াময় ভবানীপুর, শুভেন্দুর সঙ্গে পা মেলালেন হাজার হাজার মানুষ

    Suvendu Adhikari: রামনবমীর শোভাযাত্রায় গেরুয়াময় ভবানীপুর, শুভেন্দুর সঙ্গে পা মেলালেন হাজার হাজার মানুষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার, রামনবমীর (Ram Navami) শোভাযাত্রার জেরে গেরুয়াময় কলকাতার ভবানীপুর। এই শোভাযাত্রার পুরোভাগে ছিলেন রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা, বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। যদুবাবুর বাজারে অজন্তা ধাবা থেকে শুরু হয় শোভাযাত্রা। সেখানেই দেখা যায়, একেবারে সামনের সারিতে হাঁটছেন গৈরিক পাগড়ি পরা শুভেন্দু। শোভাযাত্রায় ছিল খোল, করতাল, কীর্তনিয়ার কীর্তন এবং জয় শ্রীরাম স্লোগান।

    ভবানীপুরে রামনবমীর শোভাযাত্রা (Suvendu Adhikari)

    শোভাযাত্রা শুরু হতেই দলে দলে লোকজন পা মেলান। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আড়ে-বহরে বাড়তে থাকে শোভাযাত্রার কলেবর। শুভেন্দুকে এক ঝলক দেখতে ভিড় জমে যায় রাস্তার দু’পাশে। বাড়ির দোতলার বারান্দা থেকে ঝুঁকে পড়তেও দেখা গিয়েছে বহু মানুষকে। ভবানীপুরবাসীর এমন উৎসাহ দেখে আপ্লুত হয়ে পড়েন এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু। কয়েকটি বাড়িতে ঢুকেও পড়েন তিনি। শোভাযাত্রায় হাঁটতে হাঁটতেই শুভেন্দু বলেন, “বাংলায় এবার রাম রাজ্য প্রতিষ্ঠা হবে। হাতে কাজ, পেটে ভাত, মাথায় ছাদ হবে। মহিলাদের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। যুবক-যুবতীরা কাজ পাবেন এই বাংলায়ই। ভিন রাজ্যে আর কাজের খোঁজে যেতে হবে না তাঁদের।”

    শোভাযাত্রায় হাঁটলেন শুভেন্দু

    এবারের রামনবমীতে বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা শুভেন্দুর। তবে তিনি শুরুটা করলেন ভবানীপুর থেকেই (Suvendu Adhikari)। কারণ, এই কেন্দ্রেই বিজেপির বাজি তিনি। ভবানীপুরে তৃণমূলের প্রার্থী ঘাসফুল শিবিরের সর্বময় কর্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনে যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে, তা বলাই বাহুল্য। বর্তমানে প্রচারে বেরিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। অবশ্য কলকাতায় নেই তিনি। বৃহস্পতিবার তাঁর সভা করার কথা পাণ্ডবেশ্বর এবং দুবরাজপুরে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই ফাঁকেই রামনবমীর শোভাযাত্রার (Ram Navami) সঙ্গে সঙ্গে কৌশলে ভবানীপুরে একপ্রস্ত জনসংযোগ কর্মসূচিও সেরে নিলেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)।

     

  • Balendra Shah: শঙ্খধ্বনি ও বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যে রামনবমীতে শপথ নিলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ

    Balendra Shah: শঙ্খধ্বনি ও বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্যে রামনবমীতে শপথ নিলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালের নয়া প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের (Balendra Shah) শপথ ঘিরে সাজ সাজ রব। শঙ্খধ্বনি, ঘণ্টা-ঘড়িয়ালের আওয়াজ এবং বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে ২৬ মার্চ শুক্রবার, শপথ নিলেন বলেন্দ্র। তাঁর শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ। এই দিনটি চৈত্র নবরাত্রির একটি গুরুত্বপূর্ণ তিথি। হিন্দুদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব রাম নবমীর দিনই শপথ নিলেন বলেন্দ্র। স্থানীয় সময় অনুযায়ী দুপুর ১২টা ৪৪ মিনিটে নির্ধারিত হয়েছে শপথের শুভ মুহূর্ত। একই সময়ে অযোধ্যার রামমন্দিরে চলেছে বিশেষ পুজো, ফলে ধর্মীয় আবহে এক অনন্য সংযোগ তৈরি হয়েছে দুই দেশের মধ্যে।

    ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের মেলবন্ধন

    গত বছরে নেপালে জেন জি আন্দোলনের জেরে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটে। তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে হওয়া এই আন্দোলনের ফলে তৎকালীন সরকার ভেঙে দেওয়া হয় এবং নতুন করে নির্বাচনের পথ খুলে যায়। সেই আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন বলেন্দ্র শাহ। সাধারণ মানুষের সমর্থন পেয়ে তিনি এখন দেশের নেতৃত্ব গ্রহণ করলেন। ফলে এই শপথগ্রহণ শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এক নতুন যুগের সূচনার প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজনেও ছিল ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য মেলবন্ধন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পঞ্জিকা মেনে শুভ মুহূর্ত নির্ধারণ করা হয়। অনুষ্ঠানে ১০৮ জন হিন্দু বটুক স্বস্তিবাচন করেন, যা শুভ ও মঙ্গলজনক বলে মনে করা হয়। পাশাপাশি ১০৭ জন বৌদ্ধ লামা গুরু মঙ্গল পাঠ করেন, যা বৌদ্ধ ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটায়। এর মাধ্যমে নেপালের বহুধর্মীয় ঐক্য ও সহাবস্থানের চিত্র ফুটে ওঠে।

    পবিত্রতার বার্তা, রামায়নে প্রেরণা

    শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে, সাতজন ব্রাহ্মণ শঙ্খধ্বনি করেন, যার মাধ্যমে অনুষ্ঠানস্থল জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে পবিত্রতার বার্তা। পুরো পরিবেশ একাধারে আধ্যাত্মিক ও ঐতিহ্যবাহী আবহে ভরে ওঠে। এই আয়োজন নেপালে সনাতন ধর্মের গভীর প্রভাবকেই প্রতিফলিত করে। উল্লেখ্য, নেপালের প্রায় ৮১.১৯ শতাংশ জনগণ হিন্দু, যা সংখ্যায় প্রায় ২ কোটি ৩৭ লক্ষ। বলেন্দ্র শাহ তাঁর নির্বাচনী প্রচারেও বারবার রামায়ণ-এর প্রতীকী ব্যবহার করেছিলেন। তিনি প্রচার শুরু করেছিলেন জনকপুর থেকে, যা সীতার জন্মস্থান হিসেবে পরিচিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রামায়ণ-সংক্রান্ত এই প্রতীকী পদক্ষেপ এবং রাম নবমীর দিনে শপথ গ্রহণের সিদ্ধান্ত দেশের হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের অনুভূতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে।

  • India Oil Imports: হরমুজ সঙ্কটে বিকল্প উৎসের সন্ধান! দেশে সরবরাহ বজায় রাখতে ৬ কোটি ব্যারেল রুশ তেল কিনল ভারত

    India Oil Imports: হরমুজ সঙ্কটে বিকল্প উৎসের সন্ধান! দেশে সরবরাহ বজায় রাখতে ৬ কোটি ব্যারেল রুশ তেল কিনল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী মাসের জন্য রাশিয়ার থেকে প্রায় ৬ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল কিনেছে ভারত (India Russian oil purchase), এমনই দাবি করেছে একটি আন্তর্জাতিক রিপোর্ট। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল এখনও স্বাভাবিক হয়নি। ফলে তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটাতে এই বড় পরিমাণ তেল কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, ব্রেন্ট ক্রুডের তুলনায় প্রতি ব্যারেলে ৫ থেকে ১৫ ডলার বেশি দামে এই তেল কেনা হয়েছে, যা বাজারে সরবরাহের টানাপোড়েন ও উচ্চ চাহিদারই ইঙ্গিত দেয়।

    রুশ বাজারে ফিরল ভারত

    এই কেনাকাটা সম্ভব হয়েছে মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ৩০ দিনের একটি বিশেষ ছাড়ের কারণে। মার্চের শুরুর আগে যেসব রুশ তেলবাহী জাহাজে তেল তোলা হয়েছিল, সেগুলির ডেলিভারি নেওয়ার অনুমতি দেয় ওয়াশিংটন। পরে এই ছাড়ের সময়সীমা আরও বাড়ানো হয়, যাতে হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থার প্রভাব কিছুটা কমানো যায়। গত ডিসেম্বরের পর থেকে মার্কিন চাপের কারণে ভারতীয় রিফাইনারিগুলি রুশ তেল কেনা কমিয়ে দিয়েছিল। তবে বর্তমানে আবারও সেই বাজারে ফিরেছে হিন্দুস্থান মিত্তল এনার্জি লিমিটেড (Hindustan Mittal Energy Ltd) এবং ম্যাঙ্গালোর রিফাইনারি পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেড (Mangalore Refinery & Petrochemicals Ltd)-এর মতো সংস্থাগুলি।

    লাভবান রাশিয়া

    সাম্প্রতিক মাসগুলিতে ভারত সৌদি আরব ও ইরাক থেকেও তেল আমদানি বাড়িয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুরু হওয়ার পর পারস্য উপসাগরে বহু তেলবাহী জাহাজ আটকে পড়ে, যার ফলে সরবরাহে আরও চাপ তৈরি হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ মহলের ধারণা, হরমুজ প্রণালীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন ছাড় বলবৎ থাকতে পারে। এদিকে, ভারতের মতো বড় ক্রেতার চাহিদা বাড়ায় রাশিয়াও লাভবান হচ্ছে। ইউক্রেন সংঘাত শুরুর পর ২০২২ সালের মার্চের পর থেকে এবারই রাশিয়ার তেল রফতানি থেকে সর্বোচ্চ আয় হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    বিকল্প উৎসের সন্ধানে ভারত

    ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি আমদানিকারক দেশ। দেশের মোট খনিজ তেলের চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশই আসে বিদেশ থেকে। ফলে কোনও একটি দেশের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ইরান দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহকারী দেশ ছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে সেই আমদানিতে বহুবার বাধা এসেছে। ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত এখন ভেনেজুয়েলার মতো বিকল্প উৎস থেকেও তেল আমদানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। বর্তমানে ভারত তার জ্বালানি আমদানির উৎসকে বহুমুখী করে তুলেছে। অর্থাৎ, একাধিক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে তেল ও গ্যাস সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে রাশিয়া। এ ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ সৌদি আরব, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং কুয়েত ভারতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। বিশেষ করে ইরাক বহু বছর ধরেই ভারতের অন্যতম প্রধান তেল রফতানিকারক দেশ হিসেবে পরিচিত।

    আমদানির বৈচিত্র্যই ভারতের বড় শক্তি

    শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নয় ভারতের তেল আমদানি। আমেরিকা থেকেও এখন বিপুল পরিমাণে তেল ও গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে। শেল অয়েল বিপ্লবের পর যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক বাজারে বড় খেলোয়াড় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে আফ্রিকার নাইজেরিয়া ও অ্যাঙ্গোলার মতো দেশ থেকেও তেল কেনে ভারত। শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নয় ভারতের আমদানি। আমেরিকা থেকেও এখন বিপুল পরিমাণে তেল ও গ্যাস আমদানি করা হচ্ছে। শেল অয়েল বিপ্লবের পর যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক বাজারে বড় খেলোয়াড় হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে আফ্রিকার নাইজেরিয়া ও অ্যাঙ্গোলার মতো দেশ থেকেও তেল কেনে ভারত। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি আমদানির এই বৈচিত্র্যই ভারতের বড় শক্তি। এপ্রিল মাসে ভেনেজুয়েলা থেকে প্রায় ৮ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আমদানির সম্ভাবনা রয়েছে, যা ২০২০ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে একক কোনও অঞ্চলের উপর নির্ভরতা কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে ভারত।

    কেন্দ্রের প্রচেষ্টায় ভারতে সরবরাহ চলছে

    বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও ভারতে তেল ও গ্যাস সরবরাহ চলছে। সম্প্রতি রুশ তেলবোঝাই ট্যাঙ্কার ‘মাউন্ট অ্যাকুয়া টাইটান’ ২২ মার্চ ভারতের উপকূলে পৌঁছেছে এবং ম্যাঙ্গালুরুর কাছে আরব সাগরে নোঙর করে রয়েছে। একই সময়ে টেক্সাস থেকে এলপিজি বোঝাই একটি কার্গো জাহাজও নিউ ম্যাঙ্গালোর বন্দরে পৌঁছেছে, যা জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, দেশের কোনও বন্দরে জট তৈরি হয়নি এবং পারস্য উপসাগর এলাকায় থাকা ২২টি ভারতীয় জাহাজ ও ৬১১ জন নাবিক নিরাপদ রয়েছেন। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে কেন্দ্র। বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা জানিয়েছেন, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে ১৪ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল ও এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে কিছু চার্জ মকুব করেছে নিউ ম্যাঙ্গালোর বন্দর কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, ‘জাগ লাডকি’ নামের একটি ভারতীয় ট্যাঙ্কার সফলভাবে গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরে পৌঁছেছে। পাশাপাশি ‘শিবালিক’ ও ‘নন্দা দেবী’ নামের এলপিজি বাহক জাহাজও হরমুজ প্রণালী পার হয়ে ভারতে পৌঁছেছে, যা সরকারি সহায়তায় দেশে জ্বালানি আমদানির ধারাবাহিকতা বজায় থাকারই প্রমাণ।

  • Akashvani: জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর ছ’টি স্তবকই সম্প্রচার শুরু করল আকাশবাণী

    Akashvani: জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর ছ’টি স্তবকই সম্প্রচার শুরু করল আকাশবাণী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, বৃহস্পতিবার থেকে ‘বন্দে মাতরম’-এর (Vande Mataram) পূর্ণ ছয় স্তবক সম্প্রচার শুরু করে দিল আকাশবাণী (Akashvani)। বুধবারই সরকার এ ব্যাপারে জানিয়েছিল। এত দিন দুই স্তবক গাওয়া হত। বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তিতে নিয়ে আসা হল এহেন গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন।

    ভারতের বৈচিত্র্যময় সঙ্গীত ঐতিহ্য (Akashvani)

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, মূল সংস্করণের পাশাপাশি ভারতের বৈচিত্র্যময় সঙ্গীত ঐতিহ্য তুলে ধরতে ছয় স্তবকের সম্পূর্ণ রচনাটি বিভিন্ন আঞ্চলিক শৈলীতেও রেকর্ড করা হচ্ছে। স্বাধীনতার পর থেকে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, আকাশবাণী কেন্দ্রগুলি তাদের সকালের সম্প্রচার শুরু করত একটি সিগনেচার সুরের মাধ্যমে।  এরপর প্রায় ৬৫ সেকেন্ডের দুই স্তবকের বন্দে মাতরম পরিবেশন করা হত। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ২৮ জানুয়ারি ২০২৬-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, জাতীয় গানটির ছয় স্তবক সম্বলিত পূর্ণ সংস্করণ ২৬ মার্চ ২০২৬ থেকে আকাশবাণীর সব কেন্দ্র থেকে সম্প্রচার শুরু হবে। নয়া সংস্করণটির সময়কাল ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড।”

    বন্দে মাতরম-এর বিভিন্ন সংস্করণ

    প্রথম যে সংস্করণটি সম্প্রচারিত হবে, সেটি বিশিষ্ট হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী পন্ডিত চন্দ্রশেখর ভেজ পরিবেশন করেছেন। এটি রাগ দেশে গাওয়া হয়েছে বলে জানান আধিকারিকরা। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছেন, বন্দে মাতরমের বিভিন্ন সংস্করণ আঞ্চলিক বাদ্যযন্ত্র ও সঙ্গীতশৈলী ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে। এগুলি বিভিন্ন রাজ্যের আকাশবাণী কেন্দ্র থেকে সম্প্রচার করা হবে, যাতে দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য আরও ভালোভাবে প্রতিফলিত হয় (Vande Mataram)। গত ১১ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় সরকার একটি নতুন ও বিস্তৃত নির্দেশিকা জারি করেছিল। তাতে বন্দে মাতরম পরিবেশনের সরকারি প্রোটোকল নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি অনুষ্ঠানে কখন এবং কীভাবে এটি পরিবেশন করতে হবে, এবং বিশেষ করে জাতীয় সঙ্গীতের ক্ষেত্রে দর্শকদের আচরণ কেমন হওয়া উচিত, তা-ও উল্লেখ করা হয়েছে (Akashvani)।

    গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের জারি করা এই নয়া নির্দেশিকাগুলির উদ্দেশ্য হল, দেশের সর্বত্র সরকারি এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরম-এর মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিক ভূমিকা সুসংহত করা এবং রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ও প্রাতিষ্ঠানিক সমাবেশে এর গুরুত্ব আরও বাড়ানো। নির্দেশিকা অনুযায়ী, ছয় স্তবক সম্বলিত পূর্ণাঙ্গ সরকারি সংস্করণটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড। এটি বড় কোনও রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে পরিবেশন কিংবা বাজানো হবে। এই অনুষ্ঠানগুলির মধ্যে রয়েছে ত্রিবর্ণ পতাকা উত্তোলন, রাষ্ট্রপতি ও রাজ্যপালদের সরকারি অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিক আগমন ও প্রস্থান, এবং তাঁদের নির্ধারিত ভাষণের আগে ও পরে এই গান পরিবেশন (Akashvani)। একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশে বলা হয়েছে, যদি কোনও অনুষ্ঠানে বন্দে মাতরম এবং জাতীয় সঙ্গীত উভয়ই থাকে, তবে জাতীয় সঙ্গীতের আগে অবশ্যই পরিবেশন করতে হবে বন্দে মাতরম (Vande Mataram)।

     

  • Middle East Crisis: নিশ্চিন্তে পার হতে পারবে ভারত, ৫ ‘বন্ধু’ দেশের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দিল ইরান

    Middle East Crisis: নিশ্চিন্তে পার হতে পারবে ভারত, ৫ ‘বন্ধু’ দেশের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দিল ইরান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-সহ পাঁচটি ‘বন্ধু’ দেশের জাহাজ চলাচলে তারা কোনও অবরোধ আরোপ করবে না। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের মধ্যেই একথা জানিয়ে দিল ইরান। ভারত ছাড়া রাশিয়া, চিন, পাকিস্তান এবং ইরাকের জাহাজগুলিকেও এই সংঘাতপূর্ণ অথচ গুরুত্বপূর্ণ জলপথ (হরমুজ প্রণালী) দিয়ে নিরাপদে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

    ইরানের বিদেশমন্ত্রীর ঘোষণা (Middle East Crisis)

    ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে বন্ধ নয়। যেসব দেশের সঙ্গে ইরানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, তাদের জাহাজ চলাচল অব্যাহত রয়েছে।” তিনি বলেন, “অনেক জাহাজ মালিক বা সংশ্লিষ্ট দেশ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরাপদে প্রণালী পার হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। যেসব দেশকে আমরা বন্ধু মনে করি, অথবা অন্য বিশেষ কারণে যাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তাদের জন্য আমাদের সশস্ত্র বাহিনী নিরাপদ পথ নিশ্চিত করেছে।” তিনি এও বলেন, “আপনারা খবরে দেখেছেন চিন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক এবং ভারতের কোনও সমস্যা হয়নি। কয়েক রাত আগে ভারতের দু’টি জাহাজও এই পথ পার হয়েছে। আরও কিছু দেশ, এমনকি আমার মনে হয় বাংলাদেশও, আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এই প্রক্রিয়া ভবিষ্যতেও চলবে, এমনকি যুদ্ধের পরেও।”

    এই অঞ্চল এখন যুদ্ধক্ষেত্র

    তিনি সাফ জানিয়ে দেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে জড়িত উপসাগরীয় দেশগুলির জাহাজকে এই যুদ্ধবিধ্বস্ত জলপথ দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। আরাঘচি বলেন, “আমরা যুদ্ধাবস্থায় আছি। এই অঞ্চল এখন যুদ্ধক্ষেত্র। আমাদের শত্রু ও তাদের মিত্রদের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কোনও কারণই নেই। তবে অন্যদের জন্য এটি খোলা থাকবে।” আরাঘচি বলেন, “প্রায় পাঁচ দশক পরে হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরান যে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে, তাতে তিনি সন্তুষ্ট।” তিনি জানান, যখন ইরান আংশিক অবরোধের কথা ঘোষণা করেছিল, তখন অনেকেই সেটিকে বিশ্বাস করেনি এবং এটিকে কেবল ব্লাফ বলে মনে করেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে ইরান তাদের ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব প্রমাণ করে দিয়েছে। আরাঘচি বলেন, “তারা (আমেরিকা এবং ইজরায়েল) ভেবেছিল ইরানের এত সাহস নেই। কিন্তু আমরা শক্ত হাতে পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছি। তারা আমাদের ঠেকাতে সব ধরনের চেষ্টা করেছে, যদিও ব্যর্থ হয়েছে। তারা অন্য দেশগুলির কাছেও সাহায্য চেয়েছে, এমনকি যাদের তারা নিজেরাই শত্রু বলে মনে করে। কিন্তু কেউ সাড়া দেয়নি। কারণ এটি বাস্তবসম্মত নয়।”

    হরমুজ প্রণালী আংশিকভাবে বন্ধ করার ঘোষণার জের

    আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের কয়েকদিন পর ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর এক শীর্ষ আধিকারিক হরমুজ প্রণালী আংশিকভাবে বন্ধ করার কথা ঘোষণা করেছিলেন। সংবাদ মাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত তেল পরিবহণ পথ। এখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। তাই এই অবরোধ বৈশ্বিক জ্বালানি সঙ্কট সৃষ্টি করে এবং বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বেড়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে বহু দেশের ওপর। সমুদ্রপথের এই বিঘ্ন ভারতের এলপিজি (LPG) সরবরাহেও ঘাটতি সৃষ্টি করেছে। কারণ দেশটি তার মোট এলপিজির প্রায় ৯০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে আমদানি করে। এর ফলে ছোট রাস্তার বিক্রেতা থেকে শুরু করে রেস্টুরেন্ট মালিক পর্যন্ত বিরাট জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যদিও পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে কয়েক দিনের মধ্যেই, যখন ‘নন্দাদেবী’ ও ‘শিবালিক’-সহ এলপিজি বহনকারী কয়েকটি জাহাজকে হরমুজ প্রণালী পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই জাহাজগুলি ভারতে এসেও গিয়েছে।

     

  • All Party Meet: ‘পাকিস্তানের মতো দালাল দেশ নয় ভারত’, সর্বদলীয় বৈঠকে সাফ জানাল কেন্দ্র

    All Party Meet: ‘পাকিস্তানের মতো দালাল দেশ নয় ভারত’, সর্বদলীয় বৈঠকে সাফ জানাল কেন্দ্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘ভারত কোনওভাবেই পাকিস্তানের মতো দালাল দেশ নয়।’ বুধবার সর্বদলীয় বৈঠকে (All Party Meet) সাফ জানিয়ে দিল কেন্দ্র। পশ্চিম এশিয়ায় যে সংঘাত চলছে, সেখানে পাকিস্তানের কথিত মধ্যস্থতার (Pakistan) প্রসঙ্গে একথা জানিয়ে দেওয়া হয় কেন্দ্রের তরফে। সংসদ ভবনে আয়োজিত এই বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আটজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিরোধী দলের একাধিক সদস্য। বৈঠক বয়কট করে তৃণমূল।

    বিরোধীদের প্রশ্ন, জয়শঙ্করের উত্তর (All Party Meet)

    বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে আর ভারত নীরব দর্শক হয়ে রয়েছে। এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, “১৯৮১ সাল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে ব্যবহার করে আসছে। তাই এই ধরনের মধ্যস্থতা নতুন কিছু নয়।” এর পরেই তিনি বলেন, “আমরা কোনও দালাল রাষ্ট্র নই।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে টেলিফোনে আলাপচারিতা নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্নের উত্তরে জয়শঙ্কর জানান, প্রধানমন্ত্রী পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন। কারণ এই সংঘাত সবার পক্ষেই ক্ষতিকর। সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিটাসের প্রশ্ন ছিল, “সরকার কি এই সংঘাতে নীরবতাকেই কূটনীতি হিসেবে গ্রহণ করেছে?” জয়শঙ্কর বলেন, “নয়াদিল্লি নীরব নয়, বরং আমরা মন্তব্য করছি এবং প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছি।” সূত্রের খবর, ব্রিটাস উল্লেখ করেন যে কাতার, যেখান থেকে ভারত প্রায় ৪০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, তারাও স্বীকার করেছে উৎপাদন স্থিতিশীল করতে তাদের বহু বছর লাগবে (All Party Meet)।

    এনসিপি (এসপি) সাংসদের প্রশ্ন

    এনসিপি (এসপি) সাংসদ সুপ্রিয়া সুলের প্রশ্ন ছিল, “ভারতের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সম্পর্কের বিশেষ সুবিধা কী?” উত্তরে জয়শঙ্কর বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল দেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক ও প্রতিরক্ষা অংশীদার। ইরানও আমাদের আচরণে সন্তুষ্ট।” বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, ভারত ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর ঘটনায় দ্রুত শোক প্রকাশ করেনি। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়, ইরানি দূতাবাস খোলার পরপরই বিদেশসচিব সেখানে গিয়ে শোকপুস্তকে স্বাক্ষর করেছিলেন (Pakistan)। সরকার এও জানায়, উপসাগরীয় অঞ্চলে বসবাসরত প্রবাসী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণ করাই প্রধান লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে সরকার এখন পর্যন্ত সফলই হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে (All Party Meet)।

    সংসদে আলোচনার দাবি

    বিরোধীরা অবশ্য সরকারের দেওয়া উত্তরকে “অসন্তোষজনক” বলে অভিহিত করেন। তাঁরা লোকসভা ও রাজ্যসভা—সংসদের উভয় কক্ষেই পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনার দাবি জানান। সরকারকে নিশানা করে কংগ্রেস নেতা তারিক আনোয়ার বলেন, “লোকসভা ও রাজ্যসভায় এই বিষয়ে আলোচনা হওয়া উচিত। বিরোধী দলগুলি সরকারের জবাবে সন্তুষ্ট নয়।” ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটির অন্তর্ভুক্ত সকল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এদিনের বৈঠকে সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও উপস্থিত ছিলেন। বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি বৈঠকে একটি প্রেজেন্টেশন দেন (All Party Meet)। বৈঠকে উপস্থিত বিরোধী নেতাদের মধ্যে ছিলেন কংগ্রেসের তারিক আনোয়ার ও মুকুল ওয়াসনিক, সমাজবাদী পার্টির ধর্মেন্দ্র যাদব এবং বিজু জনতা দলের সাস্মিত পাত্র প্রমুখ (Pakistan)। তৃণমূলের কোনও প্রতিনিধি সর্বদলীয় বৈঠকে যোগ দেননি।

     

  • Jammu Kashmir: কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেত্রীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, কোন অপরাধে দোষী আসিয়া আন্দ্রাবি?

    Jammu Kashmir: কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেত্রীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, কোন অপরাধে দোষী আসিয়া আন্দ্রাবি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত থেকে জম্মু-কাশ্মীরকে আলাদা করতে চেয়েছিল আসিয়া আন্দ্রাবি। (Asiya Andrabi) সঙ্গে ছিল তার দুই সহকারী সোফি ফাহমিদা এবং নাহিদা নাসরিন। ২০১৮ সালে গ্রেফতার হয়েছিল এরা তিনজন। দীর্ঘ ৭ বছর মামলা চলার পর কাশ্মীরি বিচ্ছিন্নতাবাদী নেত্রী আসিয়া আন্দ্রাবিকে (Asiya Andrabi) সন্ত্রাসমূলক কার্যকলাপের মামলায় আজীবন কারাদণ্ড দিল দিল্লির বিশেষ আদালত। একই মামলায় তার সহযোগী সোফি ফাহমিদা (Sofi Fehmeeda) এবং নাহিদা নাসরিনকে (Nahida Nasreen) ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার আদালত এই সাজা ঘোষণা করে। এর আগে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি, তিনজনকেই দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তারা নিষিদ্ধ সংগঠন দুখতারান-এ-মিল্লাত-এর সঙ্গে যুক্ত থেকে বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপে অংশ নিয়েছিল। এই সংগঠনটি জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারত থেকে পৃথক করার পক্ষে কাজ করত।

    কোন কোন ধারায় দোষী

    আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে দেশবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত ছিল এবং নিষিদ্ধ সংগঠন দুখতারান-এ-মিল্লাত (Dukhtaran-e-Millat)-এর মাধ্যমে কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদী মতাদর্শ ছড়াত। তদন্তে উঠে এসেছে, তারা বিভিন্ন বক্তব্য, ভিডিয়ো ও প্রচারের মাধ্যমে ভারতের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে প্রচার চালাত এবং সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপকে পরোক্ষে সমর্থন করত। ২০১৮ সালে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) আসিয়া-সহ তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপ, উস্কানিমূলক ভাষণ এবং কাশ্মীরকে ভারত থেকে আলাদা করার ষড়যন্ত্রে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। দীর্ঘ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার পরে গত ১৪ জানুয়ারি আদালত ইউএপিএ (UAPA)-র একাধিক ধারা এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় তাদের দোষী সাব্যস্ত করে। দেশের মধ্যে অশান্তি তৈরি, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার মতো অভিযোগের কারণে এনআইএ আন্দ্রাবির যাবজ্জীবনের আবেদন জানিয়েছিল, তা মেনেই এ দিন সাজা ঘোষণা করে আদালত। আন্দ্রাবি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাবি ছিল, অভিযুক্তরা শুধুমাত্র মতাদর্শগত স্তরে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং সক্রিয়ভাবে এমন কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার জন্য হুমকি তৈরি করেছিল। আদালতও সেই যুক্তিকে গুরুত্ব দিয়েই এই কঠোর সাজা ঘোষণা করেছে।

    দুখতারান-এ-মিল্লাত ও আসিয়া আন্দ্রাবি

    দুখতারান-এ-মিল্লাত ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি কাশ্মীরভিত্তিক মহিলা সংগঠন, যার নেতৃত্বে ছিল আসিয়া আন্দ্রাবি (Asiya Andrabi)। ৬২ বছর বয়সি আসিয়া আন্দ্রাবি ‘দুখতারান-এ-মিল্লাত’ (DeM)-এর প্রতিষ্ঠাতা। সংগঠনটি প্রথমে একটি সামাজিক সংস্কারমূলক গোষ্ঠী হিসেবে শুরু হয়। ১৯৯১ সালে জম্মু ও কাশ্মীরে পর্দা প্রথা বাধ্যতামূলক করার প্রচারাভিযানের মাধ্যমে সংগঠনটি বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। ২০১৮ সালে কেন্দ্রীয় সরকার এটিকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে নিষিদ্ধ তকমা দেয়। পরে ২০১৮ সালে জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA) আন্দ্রাবিকে গ্রেফতার করে।

    জামাত-এ-ইসলামির সঙ্গে যোগ

    ১৯৬৩ সালে জন্মগ্রহণ করা আন্দ্রাবি শ্রীনগরে হোম সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করে এবং সেখান থেকেই স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে। পরবর্তীতে দার্জিলিংয়ে স্নাতকোত্তর করার পরিকল্পনা থাকলেও পরিবারের অনুমতি না পাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। এর পরে সে ইসলামিক সাহিত্যচর্চার দিকে ঝুঁকে পড়ে, যা তার মতাদর্শে বড় প্রভাব ফেলে। পরে জামাত-এ-ইসলামির মহিলা শাখায় যোগ দেয় আসিয়া। ১৯৯০ সালে আশিক হুসেন ফাকতুর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয় আন্দ্রাবি। আশিক বর্তমানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছে। দুই সন্তানের মা আন্দ্রাবিকে প্রথম ১৯৯৩ সালে গ্রেফতার করা হয় এবং পরে একাধিকবার পাবলিক সেফটি অ্যাক্ট (PSA)-এর আওতায় তাকে আটক করা হয়েছে।

    জাতীয় ঐক্য রক্ষায় কেন্দ্রের কঠোর অবস্থান

    কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের ভূমিকা বহুচর্চিত ও আলোচিত। পাকিস্তান, বিশেষ করে তার গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই যে এই জঙ্গি সংগঠনগুলি মারফত কাশ্মীরে ভারতের বিরুদ্ধে ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে, তা-ও সর্বজনবিদিত। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের বিরামহীন সংঘর্ষে হাজার-হাজার প্রাণ যাচ্ছে উভয় পক্ষেই। এই আবহে কেন্দ্রের মোদি সরকার ২০১৯ সালে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করে নেয়। কেন্দ্রীয় সরকার ৩৭০ ধারা বাতিল করে জম্মু ও কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে রূপান্তরিত করে। এই সিদ্ধান্তের পরে কাশ্মীরের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে কেন্দ্রের কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন। বিশেষ করে ৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর কেন্দ্র সরকার যে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার ওপর জোর দিয়েছে, এই রায় সেই প্রক্রিয়ারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, আন্দ্রাবি-সহ অন্যদের বিরুদ্ধে এই সাজা কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের নীতি ও অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করে তুলল। এই মামলাটি কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারের বৃহত্তর অভিযানের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালতের এই রায় দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় সরকারের কঠোর অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে।

  • Assembly Election 2026: ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের মধ্যে ৩২ লক্ষের নিষ্পত্তি! প্রায় ৪০ শতাংশের নাম বাতিল, জানাল কমিশন

    Assembly Election 2026: ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের মধ্যে ৩২ লক্ষের নিষ্পত্তি! প্রায় ৪০ শতাংশের নাম বাতিল, জানাল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা ভোটের (Assembly Election 2026) আগে রাজ্যে বাদ যাওয়া নামের পরিসংখ্যান সামনে আনল নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় ‘অ্যাডজুডিকেশন’ (বিবেচনাধীন) তালিকায় থাকা প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের মধ্যে এ পর্যন্ত ৩২ লক্ষের তথ্য নিষ্পত্তি সম্ভব হয়েছে। তার মধ্যে ৪০ শতাংশ বাদ পড়েছে। অর্থাৎ নতুন করে ১৩ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। বুধবার এমনই তথ্য দিল নির্বাচন কমিশন (Election Commisson Of India)।

    এখনও পর্যন্ত বাদ ৭৬ লক্ষ নাম!

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয়েছিল এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকা। তার আগে খসড়া তালিকাতেই ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছিল। চূড়ান্ত তালিকায় প্রায় ৫ লক্ষের বেশি নাম বাদ যায়। মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে প্রথম সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট (SIR Supplementary List)। সেই তালিকায় কতজনের নাম আছে, কতজনের নাম নতুন করে বাদ পড়েছে, তা নিয়ে তৈরি হয় জল্পনা। বুধবার সন্ধ্যায় কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার যে তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, তাতে ১০ লক্ষ নাম রয়েছে। আরও জানা গিয়েছে যে, ৩২ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়েছে। তার মধ্যে ৪০ শতাংশ বাদ পড়েছে। অর্থাৎ ১৩ লক্ষ নাম নতুন করে বাদ পড়েছে। হিসেব বলছে সব মিলিয়ে ৭৬ লক্ষ নাম বাদ পড়ল এখনও পর্যন্ত।

    রাজ্যে কত জনের নাম বাদ যেতে পারে

    এসআইআর শুরু হওয়ার আগে ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯। খসড়া তালিকায় বাদ পড়েছিল ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ নাম। সেই তালিকায় নাম ছিল ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩০ জনের। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যে প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়। সেই তালিকায় বাদ পড়ে আরও ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম। সব মিলিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্যে বাদের হিসেব দাঁড়িয়েছিল ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জন। প্রথম সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট থেকে বাদ পড়েছে প্রায় ১৩ লক্ষ নাম। এই হিসেবে যদি চলা হয়, তাহলে আগামী তালিকাতেও বাদ পড়তে পারে প্রায় ৪০ শতাংশ নাম। আর এমন হলে এখনও প্রায় ১২ লক্ষ নাম বাদ পড়তে পারে বলেই খবর সূত্রের। ফলে, সব মিলিয়ে বাদ পড়তে পারে ৮৭ থেকে ৮৮ লক্ষ ভোটারের নাম। এখনও প্রায় ২৮ লক্ষ ভোটারের নামের নিষ্পত্তি বাকি। আর যদি এমন ঘটে তাহলে রাজের মোট ভোটারের ১১ শতাংশের বেশি নাম বাদ পড়ার একটা সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, এসআইআর শুরু হওয়ার আগে পশ্চিমবঙ্গের ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ। ফলে, এসআইআর শেষ হলে ভোটারের সংখ্যা হতে পারে ৬ কোটি ৮০ লক্ষ।

    বিজেপি’র দাবি মিলছে

    বুধবার পটাশপুরে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী একটি জনসভায় বাদ পড়া ভোটারের নিজস্ব হিসেব তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘‘৩২ লক্ষ ভোটারের সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ লক্ষ বৈধ ভোটার, ১৪ লক্ষের নাম বাদ গিয়েছে। সব মিলিয়ে অবধি ৭৯ লক্ষের নাম বাদ পড়ল। এখনো ২৮ লক্ষের নাম বিবেচনায় রয়েছে।’’ বিরোধী দলনেতার দাবি, রাজ্য বহু কেন্দ্রে অনেক ভুয়ো এবং মৃত ভোটার ছিল। এ ছাড়াও একটা বড় সংখ্যায় বাংলাদেশি মুসলিম ভোটারের নাম ছিল বলে দাবি শুভেন্দুর। তাঁর কথায়, ‘‘ওঁরা ভারতের নাগরিক নন। তাঁদের নাম বাদ যাওয়াই উচিত।’’ প্রসঙ্গত, বিজেপিই এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার মুখে রাজ্যে এক কোটি নাম বাদ যাওয়ার কথা বলেছিল। এখন হিসেব করলে দেখা যায়, নাম বাদের সংখ্যাটা সেই দিকেই যাচ্ছে।

    সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ

    পশ্চিমবঙ্গে কেন এসআইআর নিয়ে এত সমস্যা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সুপ্রিম কোর্টও। মঙ্গলবার সর্বোচ্চ আদালতের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘‘বাংলা ছাড়া অন্য কোনো সমস্যা হয়নি৷ কোনো বিবাদও হয়নি৷ অন্য রাজ্যেও তো বহু মানুষের নাম বাদ গিয়েছে!’’ রাজ্যের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করেন, অন্য রাজ্যে ‘লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি’ নিয়ে এত গোলমাল হয়নি। এটার জন্যই পশ্চিমবঙ্গে সমস্যা তৈরি হয়েছে। কোর্টের নির্দেশেই জুডিশিয়াল অফিসাররা নথি যাচাই করছেন। সেই অনুযায়ী প্রকাশিত হচ্ছে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি পুরো বিষয়টি তদারকি করছেন। বুধবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে তাকে চিঠি পাঠিয়ে বলা হয়েছে, কমিশন প্রতিদিন সাপ্লিমেন্টারি নামের তালিকা প্রকাশ করতে চায়।

    দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট কবে

    আগামী শুক্রবার দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশিত হবে বলে সূত্রের খবর। তবে সেই তালিকা বেরনোর কথা নিশ্চিত করেনি কমিশন। প্রতিদিন তালিকা বের করা হবে কি না, তাও ভেবে দেখছে কমিশন। আগামী তালিকাতেও বাদ পড়তে পারে অনেক নাম। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। তখন বিবেচনাধীন ভোটার ছিলেন ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫। এই তালিকা ৭০৫ জন বিচারক নিষ্পত্তি করছেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক নিষ্পত্তি হওয়া তালিকা ধাপে ধাপে বার করার কথা জানিয়েছে কমিশন। সেই অনুযায়ী সোমবার রাতে প্রথম অতিরিক্ত তালিকা বার হয়।

  • West Bengal Assembly Election: সত্যি হল জল্পনাই, পানিহাটিতে বিজেপির বাজি ‘অভয়া’র মা

    West Bengal Assembly Election: সত্যি হল জল্পনাই, পানিহাটিতে বিজেপির বাজি ‘অভয়া’র মা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জল্পনা চলছিলই। শেষমেশ সেই জল্পনাই সত্যি হল বুধ-সন্ধ্যায়। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election) উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে বিজেপির (BJP) প্রার্থী হলেন ‘অভয়া’র মা। আরজি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক ‘অভয়া’কে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল ২০২৪ সালে। তারপর এতগুলো বছর কেটে গেলেও, সুবিচার মেলেনি। সেই কারণেই এবার বিজেপির প্রার্থী হচ্ছেন অভয়ার মা।

    বিজেপির প্রার্থী তালিকা (West Bengal Assembly Election)

    ফেরা যাক খবরে। এদিন তৃতীয় দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে বিজেপি। এই তালিকায় নাম রয়েছে ১৯ জনের। তাঁর মধ্যে অভয়ার মা-ও একজন। এই কেন্দ্রে বামফ্রন্টের প্রার্থী হয়েছেন সিপিএমের কলতান দাসগুপ্ত। অভয়াকাণ্ডের প্রতিবাদে পথে নেমেছিলেন কলতানও। সেই কলতানের সঙ্গেই দ্বৈরথে নামছেন বিজেপির তরফে অভয়ার মা। প্রসঙ্গত, দিন কয়েক আগে অভয়ার মা নিজেই জানিয়েছিলেন, তিনি বিজেপি প্রার্থী হতে চেয়েছেন। তৃতীয় দফায় বিজেপি যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে তাঁর নামও রয়েছে। তিনি বলেন, “এটি পানিহাটির মানুষের জন্য জয়। পানিহাটির মানুষের জন্যই জয়ও হবে। এখানকার মানুষ প্রতিবাদ করতে ভুলে গিয়েছেন (West Bengal Assembly Election)। এখানে স্বাস্থ্য, সুরক্ষা, মানুষের মৌলিক অধিকার – সরকার এসবই কেড়ে নিয়েছে। মহিলা হলেও স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, মেয়েরা রাতে বাইরে বেরবে কেন? এসব (BJP) নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চাই। মহিলারা কেন রাতে বাইরে বেরবেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চাই। মহিলাদের সুরক্ষা দিতে চাই।”

    পানিহাটিতে বিজেপি প্রার্থী অভয়ার মা

    পানিহাটিতে অভয়ার মা এবং কলতান ছাড়াও, লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছেন তৃণমূলের তীর্থঙ্কর ঘোষ। তিনি তৃণমূল নেতা নির্মল ঘোষের ছেলে। অভয়ার মা জানান, তিনি মনে করেন বিজেপিই তাঁর মেয়ের বিচার দিতে পারবে। তাই বিজেপির প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। অভয়ার মা ছাড়াও এদিন আরও ১৮ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছেন পদ্ম-নেতৃত্ব। এঁরা হলেন, দীপাঞ্জন চক্রবর্তী (উত্তরপাড়া), অম্লান ভাদুড়ি (ইংরেজবাজার), রবীন্দ্রনাথ বসু (কোচবিহার দক্ষিণ), দীনেশ সরকার (রায়গঞ্জ), চিত্রজিৎ রায় (ইসলামপুর), হরিপদ বর্মণ (হেমতাবাদ), স্বপন দাস (শান্তিপুর), বিপ্লব মণ্ডল (হাওড়া), অরূপ কুমার দাস (সিঙ্গুর), দীপাঞ্জন কুমার গুহ (চন্দননগর), সুবীর নাগ (চুঁচুড়া), মধুমিতা ঘোষ (হরিপাল), হরেকৃষ্ণ বেরা (তমলুক), শঙ্কর গুছাইত (মেদিনীপুর), প্রাণকৃষ্ণ তপাদার (পূর্বস্থলী দক্ষিণ), কৃষ্ণ ঘোষ (কাটোয়া), কৃষ্ণকান্ত সাহা (সাঁইথিয়া) এবং অনিল সিং (নলহাটি) (West Bengal Assembly Election)।

LinkedIn
Share