Tag: bangla news

bangla news

  • Abhishek Banerjee: ‘১৫ কোটি না দিলে জয়েনিং আটকে যাবে’! প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে অভিষেককে জেরা ইডির

    Abhishek Banerjee: ‘১৫ কোটি না দিলে জয়েনিং আটকে যাবে’! প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে অভিষেককে জেরা ইডির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সিজিও কমপ্লেক্সে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। রক্ষাকবচ ছাড়াই ইডি দফতরে হাজির হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির (Primary Recruitment Case) মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সোমবার তলব করেছে ইডি। এই মামলায় সিবিআইয়ের দেওয়া তৃতীয় অতিরিক্ত চার্জশিটের সূত্র ধরেই অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, বলে খবর। সেখানে ১৫ মিনিটের একটি কথোপকথনের উল্লেখ রয়েছে। তাতে একাধিক বার জনৈক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম এসেছে। চাকরি বিক্রি, ঘুষের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বের কথা শোনা গিয়েছে সেই কথোপকথনে। সে বিষয়ে অভিষেককে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

    কেন ইডির তলব অভিষেককে?

    ২০১৭ সালে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ধৃত সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডানহাত বলে পরিচিত ছিলেন। সিবিআই সূত্রে খবর, তাঁর বাড়িতেই একটা বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কুন্তল ঘোষ, শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়রা। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, ওই বৈঠকে একাধিক বিস্ফোরক বিষয় আলোচনা করা হয়েছিল, তারই উল্লেখ রয়েছে চার্জশিটে। বৈঠকে কী কী আলোচনা হয়েছিল? চার্জশিট সূত্রে খবর, সুজয় বৈঠকে কুন্তল, শান্তনুদের জানিয়েছিলেন, অভিষেক জানতে পেরেছেন যে প্রাথমিক নিয়োগে পার্থ চট্টোপাধ্যায় মোটা টাকা নিচ্ছেন। পার্থ যে টাকা নিয়েছেন, তার ভাগ তিনি কেন পাননি, সেই বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন অভিষেক। এমনকী, টাকা ভাগাভাগি নিয়ে পার্থ ও অভিষেকের মধ্যে দ্বন্দ্ব বেঁধে গিয়েছিল। সিবিআই চার্জশিট সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই যে বেআইনি নিয়োগ হয়ে গিয়েছিল, তার জন্য ১৫ কোটি টাকা চেয়েছিলেন অভিষেক। টাকা না পেলে প্রত্যেক চাকরিপ্রার্থীকে গ্রেফতারির হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। এমনকী, জয়েনিং আটকানোরও হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।

     অভিষেকের আর্থিক লেনদেন ইডির নজরে?

    ইডি সূত্রে খবর, প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতির (Primary Recruitment Case) ১৫ মিনিটের ওই অডিও ক্লিপে যে অভিষেকের কথা বলা হচ্ছে, সেই অভিষেকই তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক কি না, স্পষ্ট নয়। ইডি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। এ ছাড়া, কথোপকথনে এসেছে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে অন্যতম অভিযুক্ত প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নামও। অভিষেকের সংস্থা লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডসের কর্মচারী ছিলেন সুজয়কৃষ্ণ। সেই সংস্থার আর্থিক লেনদেনও ইডির নজরে রয়েছে। তা নিয়ে এর আগে অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছিল। পাশাপাশি অভিষেকের অন্য সংস্থাগুলিকেও ইডি এ বার তদন্তের আওতায় আনতে চাইছে। সোমবার তা নিয়েও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

  • Rahul Arunoday Banerjee: অভিনেতা রাহুল অরুণোদয়র রহস্যমৃত্যু, সিআইডি তদন্তের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    Rahul Arunoday Banerjee: অভিনেতা রাহুল অরুণোদয়র রহস্যমৃত্যু, সিআইডি তদন্তের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Arunoday Banerjee) আকস্মিক ও মর্মান্তিক প্রয়াণের পর আড়াই মাস কেটে গেলেও এখনও মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠছে, যার উত্তর মেলেনি।। অভিনেতার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করতে এবার রাজ্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হলো। আজ এক বিশেষ প্রশাসনিক ঘোষণায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এই মৃত্যুরহস্যের তদন্তভার রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি (CID)-র হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

    মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা ও পরিবারের আর্জি (Rahul Arunoday Banerjee)

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “অভিনেতার (Rahul Arunoday Banerjee) আকস্মিক চলে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং এর পেছনে কোনও গভীর রহস্য বা প্ররোচনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। নিরপেক্ষ এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” উল্লেখ্য, অভিনেতার পরিবার এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের পক্ষ থেকেও এই মৃত্যুর সঠিক তদন্তের দাবি জানানো হয়েছিল। সেই আর্জিকে গুরুত্ব দিয়েই রাজ্য সরকার সিআইডি-কে দ্রুত তদন্তভার গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।

    তদন্তের অভিমুখ

    প্রাথমিকভাবে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও, এখন থেকে সিআইডি-র বিশেষ দল এই মামলার সমস্ত নথিপত্র, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট (Rahul Arunoday Banerjee) এবং পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখবে। বিনোদন জগতের অত্যন্ত পরিচিত এবং প্রতিভাবান এই অভিনেতার মৃত্যুর নেপথ্যে কোনও মানসিক চাপ, প্ররোচনা নাকি অন্য কোনও কারণ জড়িত ছিল—তা সুনির্দিষ্টভাবে জানার অপেক্ষায় রয়েছে তাঁর পরিবার এবং অগণিত অনুরাগী। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, সত্য অনুসন্ধানে কোনও খামতি রাখা হবে না।

  • PoJK Unrest: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে লন্ডনে বিক্ষোভ ব্রিটিশ কাশ্মীরিদের

    PoJK Unrest: পাক অধিকৃত কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে লন্ডনে বিক্ষোভ ব্রিটিশ কাশ্মীরিদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আন্দোলনকারীদের (PoJK Unrest) ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর বলপ্রয়োগের অভিযোগে সরগরম ব্রিটেন। রবিবার লন্ডনের পার্লামেন্ট ভবন ‘প্যালেস অব ওয়েস্টমিনস্টারে’র বাইরে বিক্ষোভ দেখান হাজার হাজার ব্রিটিশ কাশ্মীরি (Global British Kashmiris Protest)। তাঁরা আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

    কী বলছেন বিক্ষোভকারীরা? (PoJK Unrest)

    বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পিওজেকের সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় বহু সাধারণ মানুষ নিহত ও জখম হয়েছেন। মহিলাদের হয়রানি এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের ঘটনাও ঘটেছে। বিক্ষোভকারীরা প্ল্যাকার্ড-ব্যানার হাতে ন্যায়বিচারের দাবি জানান। বিষয়টির প্রতি নজর দেওয়ার আহ্বান জানান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে। একই সঙ্গে তাঁরা রাষ্ট্রসঙ্ঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলির কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। এদিনের সমাবেশে বক্তারা বলেন, “পিওজেকের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক স্বস্তি, সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ, উন্নত প্রশাসন এবং সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনী অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। তাই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।”

    আন্দোলনকারীদের ওপর হিংসাত্মক দমন-পীড়নের অভিযোগ

    বিক্ষোভকারীরা পাকিস্তান রেঞ্জার্স ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলনকারীদের ওপর হিংসাত্মক দমন-পীড়নের অভিযোগ এনে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানান। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরের মানুষের বিভিন্ন সমস্যা আন্তর্জাতিক মহলের সামনে তুলে ধরা। এর পাশাপাশি সেখানে মৌলিক মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করা (PoJK Unrest)। বিক্ষোভকারীদের আরও অভিযোগ, রবিবার রাওয়ালাকোট ইদগাহে চলা একটি অবস্থান কর্মসূচিতে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী সরাসরি গুলি চালায়। এতে অন্তত দু’জন সাধারণ মানুষ নিহত এবং এক ডজনেরও বেশি মানুষ জখম হন।

    প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিককালে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনিক ব্যর্থতা, অর্থনৈতিক সঙ্কট, সংরক্ষিত আইনসভা আসনের বণ্টন, মুদ্রাস্ফীতি, চড়া বিদ্যুৎ বিল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সঙ্কট-সহ নানা ইস্যুতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন (Global British Kashmiris Protest) প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিক্ষোভ দমনে পাকিস্তান প্রশাসন আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে, যার ফলে সংঘর্ষ, হতাহতের ঘটনা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে (PoJK Unrest)।

     

  • India France Trade Talks: বলিউডের গানে মোদির সফরকে বিশেষ ছোঁয়া মাক্রঁর, ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ক আরও মজবুত করার বার্তা

    India France Trade Talks: বলিউডের গানে মোদির সফরকে বিশেষ ছোঁয়া মাক্রঁর, ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ক আরও মজবুত করার বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফ্রান্স সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিভিন্ন মুহূর্তকে বলিউডের ছোঁয়ায় তুলে ধরলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁ। জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘ধুরন্ধর’-এর সুপারহিট গান ‘আরি আরি’ (Aari Aari) ব্যবহার করে একটি ভিডিও মন্তাজ প্রকাশ করেছেন তিনি। মুহূর্তের (India France Trade Talks) মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় (Modi Macron Roadmap) এই ভিডিও মন্তাজ।

    মাক্রঁর সেলফি পোস্ট (India France Trade Talks)

    নিস শহর থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে তোলা একটি সেলফি পোস্ট করে মাক্রঁ শুধু লেখেন, “নিস”। এরপরেই তিনি প্রকাশ করেন সফরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের ভিডিও, যেখানে দুই নেতার বৈঠক, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন সংক্রান্ত কর্মসূচি এবং কূটনৈতিক আলোচনা তুলে ধরা হয়। বলিউডের জনপ্রিয় গানের ব্যবহার আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সফরে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে বলেই দাবি আন্তর্জাতিক মহলের। এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল নিসের ঐতিহাসিক ভিলা কেরিলোসে মোদি-মাক্রঁর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। চলতি বছরে ভারত ও ফ্রান্সের সম্পর্ক ‘স্পেশাল গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’-এ উন্নীত হওয়ার পর এটাই ছিল দুই নেতার প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ।

    ‘ইনোভেশন রোডম্যাপ ২০৩০’

    বৈঠকে উভয় দেশ ‘ইনোভেশন রোডম্যাপ ২০৩০’ গ্রহণ করে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, অসামরিক পারমাণবিক শক্তি, এআই (AI), বাণিজ্য এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে সম্মত হয়েছে দুই দেশই। সফরের আর একটি বড় আকর্ষণ, ‘ভারত ইনোভেটস’ উদ্যোগের যৌথ উদ্বোধন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতীয় স্টার্টআপ ও উদ্ভাবকদের সঙ্গে ফরাসি ও ইউরোপীয় বিনিয়োগকারীদের সংযোগ আরও মজবুত করা হবে। একই সঙ্গে গঠন করা হচ্ছে যৌথ ভারত-ফ্রান্স এআই ওয়ার্কিং গ্রুপ, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে যৌথ গবেষণা ও উন্নয়নে কাজ করবে (India France Trade Talks)।

    ইউপিআইয়ের গ্রহণযোগ্যতাকে স্বাগত

    দুই নেতা ফ্রান্সে ভারতের ইউপিআইয়ের (UPI) ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতাকেও স্বাগত জানিয়েছেন। এছাড়া উদ্ভাবনভিত্তিক সহযোগিতা জোরদারে দুই দেশের মধ্যে ১৯টি নতুন চুক্তিও সই হয়েছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় প্রচলিত ক্রেতা-বিক্রেতা সম্পর্কের বাইরে গিয়ে উন্নত সামরিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্মের যৌথ নকশা, উন্নয়ন ও উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মহাকাশ গবেষণায় মানব মহাকাশযাত্রা ও স্পেস সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেসের মতো ক্ষেত্রেও যৌথ উদ্যোগ বাড়ানো (Modi Macron Roadmap) হবে। অসামরিক পারমাণবিক শক্তি ক্ষেত্রে ভারতের নতুন শান্তি আইন (SHANTI) ছোট ও উন্নত মড্যুলার রিয়্যাক্টর উন্নয়নে নয়া সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে বলেও জানান দুই নেতা।

    গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ

    অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী করতে বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া কানপুরে অ্যারোনটিক্স বিষয়ে একটি অত্যাধুনিক সেন্টার অব এক্সেলেন্স ফর স্কিলিং গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে প্রধানমন্ত্রী ফরাসি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে ভারতের নতুন শিক্ষা নীতির আওতায় অফশোর ক্যাম্পাস তৈরির ডাক দেন। ভারতীয় নাগরিকদের জন্য ফরাসি বিমানবন্দরে ভিসামুক্ত ট্রানজিট চালু করায় ফরাসিকে প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদও জানান (India France Trade Talks) তিনি। আন্তর্জাতিক ইস্যুতেও ইউক্রেন ও পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে দুই নেতা মতবিনিময় করেন। আসন্ন জি৭ সম্মেলন উপলক্ষে ভারতের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে মাক্রঁর উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। বৈঠক শেষে (Modi Macron Roadmap) প্রেসিডেন্ট মাক্রঁ প্রধানমন্ত্রী মোদির সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন। সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আয়োজন দুই দেশের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সম্পর্কেরই (India France Trade Talks) প্রতীক।

     

  • Suvendu Adhikari: বন্দে ভারতে চেপে দিঘা! মুম্বইয়ের ধাঁচে মেরিন ড্রাইভ, স্বাস্থ্যব্যবস্থায় জোর, সৈকতনগরী ঘিরে গুচ্ছ পরিকল্পনা রাজ্যের

    Suvendu Adhikari: বন্দে ভারতে চেপে দিঘা! মুম্বইয়ের ধাঁচে মেরিন ড্রাইভ, স্বাস্থ্যব্যবস্থায় জোর, সৈকতনগরী ঘিরে গুচ্ছ পরিকল্পনা রাজ্যের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রেলযাত্রী ও পর্যটকদের জন্য এক অত্যন্ত ইতিবাচক খবর। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অদূর ভবিষ্যতে পর্যটন কেন্দ্র দিঘা রুটে চালু হতে পারে সেমি-হাইস্পিড ‘বন্দে ভারত এক্সপ্রেস’ (Vande Bharat Express)। সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানান, “নির্দিষ্ট একটি রেল প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলেই দিঘায় বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের পথ সুগম হবে।”

    পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রে দিঘাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। দিঘায় মুম্বই-চেন্নাইয়ের আদলে প্রশস্ত মেরিন ড্রাইভ ও পর্যটন ক্ষেত্রে বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দিঘায় আয়োজিত একটি প্রশাসনিক বৈঠক শেষে তিনি জানান, পর্যটন কেন্দ্রটির পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং পর্যটকদের সুবিধার্থে রাজ্য সরকার বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে।

    প্রশস্ত হচ্ছে দিঘার মেরিন ড্রাইভ (Suvendu Adhikari)

    মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “মুম্বই বা চেন্নাইয়ের মতো বড় শহরগুলোর উপকূলবর্তী সড়কের আদলে দিঘার মেরিন ড্রাইভকেও চওড়া ও আধুনিক করা হবে।” পূর্ববর্তী প্রশাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “মেরিন ড্রাইভের নামে অতীতে অত্যন্ত সংকীর্ণ একটি রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল। পর্যটকদের সুবিধার্থে সেই রাস্তাকে ন্যূনতম দুই লেনে (২-লেন) উন্নীত করা হবে।”

    মুক্ত হচ্ছে পর্যটন কর, ১ জুলাই থেকে স্বস্তি

    দিঘায় আসা পর্যটকদের জন্য আরেকটি বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আগামী ১ জুলাই থেকে দিঘায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের আর মাথাপিছু ১০ টাকা করে ‘চাঁদা’ বা কর দিতে হবে না। শুভেন্দু অধিকারী উল্লেখ করেন, বিগত সরকারের আমলে পর্যটকপিছু এই টাকা নেওয়া হতো, যা বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে পর্যটকদের ভ্রমণ আরও সাশ্রয়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    নন্দকুমার-দিঘা জোড়া রেললাইন ও জমি অধিগ্রহণ

    জেলা শাসকের উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “নন্দকুমার থেকে দিঘা পর্যন্ত রেললাইনকে দ্বিমুখী (Vande Bharat Express) করার জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া অত্যন্ত জরুরি। ইতিপূর্বেও রেলওয়ে বোর্ডের পক্ষ থেকে এই প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল এবং রেলমন্ত্রীর সঙ্গে জেলা শাসকের এই বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে।”

    পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দেশের প্রায় সমস্ত প্রধান উপকূলবর্তী শহরই রেল যোগাযোগের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছে। কিন্তু পূর্বতন প্রশাসনের নেতিবাচক মনোভাব ও জমি প্রদানে অনীহার কারণে দিঘা এই আধুনিক রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে পিছিয়ে পড়েছিল। তবে বর্তমান সরকার এই জট কাটাতে তৎপর। নন্দীগ্রাম রেল প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, ইতিমধ্যেই ৭৪ একর জমি রেলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বাকি মাত্র ৬ একর জমির প্রয়োজনীয়তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

    রানাঘাট রুট নিয়েও আশার আলো

    দিঘার পাশাপাশি নদিয়া জেলার রানাঘাট স্টেশন হয়েও বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চলাচলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রানাঘাটের উত্তর-পশ্চিমের বিধায়কের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রানাঘাট-কল্যাণী এবং রানাঘাট-কৃষ্ণনগর শাখার তৃতীয় লাইনের কাজ সম্পন্ন হলেই এই রুট দিয়েও ছুটতে পারে প্রিমিয়াম সেমি-হাইস্পিড ট্রেন। স্বাভাবিকভাবেই, এই রেল প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের পর্যটন শিল্পের যেমন বিকাশ ঘটবে, তেমনই সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত আরও দ্রুত ও আরামদায়ক হবে।

    দিঘার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে আগের সরকারকে তোপ

    একই ভাবে দিঘার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আগামী দিনে কার্যকর হতে দেখতে পারবেন। ডিপার্টমেন্টগুলি খতিয়ে দেখে বোঝা গিয়েছে, অন্তত অত দুই বছর আগের সরকার এখানে কোনও কাজ করেনি।”

    হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ন্যূনতম কোনও পরিষেবা নেই। একটাও আইসিইউ বেড নেই, একটাই অ্যাম্বুলেন্স। ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা নেই। ১৭ জন স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে নিউরোসার্জন, কার্ডিয়াক বা অর্থোপেডিক নেই। বহু মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন, গোটা সমুদ্রতটে মাত্র ৬৩ জন নুলিয়া রয়েছেন। তাঁদের সংখ্যা বাড়ানোর কথা বলেছি। তাঁদের অর্থবৃদ্ধি করার কথা বলেছি।”

    আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ও কলকাতা পুরসভায় মুখ্যমন্ত্রীর সফর

    এদিকে, আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে আগামী ২১ জুন কলকাতায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানাতে এবং তাঁর সম্মানে কলকাতা পুরসভা (কেএমসি) একটি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পরিকল্পনা করেছে। ‘স্বচ্ছতা সে স্বাগত’ নামক এই কর্মসূচিটি ১৫ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত চলবে। আজ, সোমবার দুপুর ৩টেয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার কলকাতা পুরসভায় (ছোট লালবাড়ি) যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি এই বিশেষ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন।

    পুরসভার প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও যোগ দিবসের আহ্বান

    উল্লেখ্য, কলকাতা পুরসভার বর্তমান বোর্ডের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকলেও, তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফার পর বর্তমানে পুরসভার সমস্ত দায়িত্ব সামলাচ্ছেন প্রশাসক তথা পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। আজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই সফরের সময় পুর প্রশাসকের সঙ্গে তাঁর কোনও বিশেষ বৈঠক হয় কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

    আগামী ২১ জুন সকাল সাড়ে ৬টা থেকে পৌনে ৮টা পর্যন্ত কলকাতায় মূল যোগ দিবসের অনুষ্ঠানটি সাড়ম্বরে উদযাপিত হবে। এই যোগ-যজ্ঞে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষকে শামিল হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন পুর প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে।

  • FIFA World Cup 2026: জার্মানির ৭, সুইডেনের ৫! ঐতিহাসিক, বিশ্বকাপে এক দিনে চার ম্যাচে ১৯ গোল

    FIFA World Cup 2026: জার্মানির ৭, সুইডেনের ৫! ঐতিহাসিক, বিশ্বকাপে এক দিনে চার ম্যাচে ১৯ গোল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক দিনে চার ম্যাচে ১৯ গোল। এত গোল বিশ্বকাপে আগে কবে হয়েছে, তা ভেবে দেখতে হবে। ভারতীয় সময় রবিবার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত চার ম্যাচে মোট ১৯ গোল হল। বড় জয় পেল জার্মানি, সুইডেন। ড্র হল নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান ম্যাচ। জিতল আইভরি কোস্টও।

    কুরাসাওকে ৭ গোল জার্মানির

    শেষ বার বিশ্বকাপে জার্মানি ৭-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতেছিল ১২ বছর আগে। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আয়োজক ব্রাজিলকে এই ব্যবধানেই হারিয়েছিল তারা। একই ফলাফল ফিরল এ বারের বিশ্বকাপে। হিউস্টনে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারাল জার্মানি। ১২ বছর পর ‘বন্ধু’ পেল ব্রাজিল। বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে ৯ নম্বর এবং চার বারের বিশ্বজয়ী জার্মানির বিরুদ্ধে ম্যাচ যে সহজ হবে না এটা অতি বড় কুরাসাও সমর্থকও বুঝতে পেরেছিলেন। তবে সাত গোল খেতে হবে এটা অনেকেই ভাবতে পারেননি। ম্যাচের শুরুতেই গোল করে এগিয়ে যায় জার্মানি। ২১ মিনিটে গোল শোধ করে দেয় কুরাসাও। ওই একটা গোল হজম জার্মানির খেলার মেজাজটাই বদলে দেয়। বাকি যে সময়টা খেলা হল, তাতে দাপট শুধু জার্মানির। বল নিয়ন্ত্রণ, শট, আগ্রাসন— সবেতেই এগিয়ে থেকেছে তারা। সাতটি গোলের মধ্যে ছ’জন আলাদা স্কোরার। এতেই বোঝা গিয়েছে জার্মানি কতটা দলগত খেলা উপহার দিয়েছে।

    নেদারল্যান্ডসকে রুখল জাপান

    রবিবার নেদারল্যান্ডস বনাম জাপান ম্যাচের প্রথমার্ধে ঘুমপাড়ানি ফুটবল চলছিল। দুই দলের খেলায় না ছিল তাগিদ, না ছিল আগ্রাসন। দ্বিতীয়ার্ধে সেই দুই দলের খেলাই আমূল বদলে গেল। খেলায় গতি এল, প্রাণ ফিরে পেল ম্যাচ। দেখা গেল লড়াকু, আগ্রাসী জাপানকে। এশিয়ার দল রুখে দিল নেদারল্যান্ডসকে। শেষ মুহূ্র্তের করা গোলে ২-২ ড্র হল ম্যাচ। সাম্প্রতিক অতীতে ইংল্যান্ড, ব্রাজ়িলের মতো দেশকে হারিয়েছে জাপান। গত বারের বিশ্বকাপে হারিয়েছে জার্মানির মতো দলকে।

    টিউনিশিয়াকে হারাল সুইডেন

    সুইডেনের খেলা দেখে মনে হল, এ বারের বিশ্বকাপের কালো ঘোড়া তারা। গত বার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি পোল্যান্ডের কাছে হেরে। এ বার সেই পোল্যান্ডকে হারিয়েই বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে তারা। প্রথম ম্যাচেই সুইডেন বুঝিয়ে দিল, তাদেরকে হালকা ভাবে নিলে ভুগতে হবে। এদিন পাঁচ গোল করলেও অন্তত সাত গোল করার সুযোগ পেয়েছিল সুইডেন। জাপান ও নেদারল্যান্ডস ড্র করায় এই গ্রুপ থেকে আপাতত শীর্ষে সুইডেন। তারা যে খেলাটা দেখাল, তাতে জাপান ও নেদারল্যান্ডসের সামনেও কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে।

    ইকুয়েডরকে হারাল আইভরি কোস্ট

    বাকি তিন ম্যাচে ১৮ গোল হলেও এই ম্যাচে মাত্র এক গোল হল। তা-ও একেবারে শেষ মুহূর্তে। দেখে মনে হচ্ছিল, ড্র হবে খেলা। কিন্তু ৯০ মিনিটের মাথায় আমাদ দিয়ালোর গোলে জেতে আইভরি কোস্ট। হারতে হল লাতিন আমেরিকার দল ইকুয়েডরকে।

  • Narendra Modi: প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্লোভাকিয়ায় নরেন্দ্র মোদি, ঐতিহাসিক সফরে নজরে একাধিক কর্মসূচি

    Narendra Modi: প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্লোভাকিয়ায় নরেন্দ্র মোদি, ঐতিহাসিক সফরে নজরে একাধিক কর্মসূচি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিন দেশের ইউরোপ সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে স্লোভাকিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা লাভের পর এই প্রথম কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী স্লোভাকিয়ায় গিয়েছেন (Bratislava Visit)। তাঁর এই সফর ভারত-স্লোভাকিয়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

    প্রধানমন্ত্রীর বার্তা (Narendra Modi)

    দু’দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরে মোদি রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় স্লোভাকিয়ার প্রেসিডেন্ট পিটার পেলিগ্রিনি (Peter Pellegrini) এবং প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর (Robert Fico)-র সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। এর পাশাপাশি মোদি স্লোভাকিয়ার শীর্ষ শিল্পপতি এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করবেন। স্লোভাকিয়ায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে জানান, এই সফর ভারত-স্লোভাকিয়া সম্পর্ককে আরও গভীর করবে, তৈরি করবে নয়া সহযোগিতার ক্ষেত্র। তিনি প্রেসিডেন্ট পিটার পেলেগ্রিনি ও প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠকের আশাও ব্যক্ত করেন।

    ঐতিহাসিক সফর

    এর আগে ফ্রান্স সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। পরে অংশ নেন নিস শহরে আয়োজিত ‘ভারত ইনোভেটস’ অনুষ্ঠানে। ভারতের বিদেশমন্ত্রকের (MEA) তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী ব্রাতিস্লাভায় স্লোভাকিয়ার বিদেশমন্ত্রী জুরাজ ব্লানাঁর (Juraj Blanár) স্বাগত জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। মোদিকে স্বাগত জানানো বন্দেমাতরম গানে।  তাঁকে স্লোভাকিয়ার ঐতিহ্যবাহী ‘ব্রেড অ্যান্ড সল্ট’ অভ্যর্থনা দেওয়া হয়। এটি দেশটির আতিথেয়তা, সম্মান ও শুভেচ্ছার প্রতীক। সফরের আগে মোদি একে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা দিয়ে জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত ও স্লোভাকিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যে গতিতে এগিয়েছে, এই সফর তারই (Narendra Modi) ধারাবাহিকতা। তাঁর আশা, স্লোভাক নেতাদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।

    আলোচনার সম্ভাব্য বিষয়

    বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, এই সফরের আগে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু স্লোভাকিয়া সফর করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে যোগ দিতে প্রেসিডেন্ট পিটার পেলেগ্রিনিও ভারতে এসেছিলেন (Bratislava Visit)। ভারত ও স্লোভাকিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অটোমোবাইল উৎপাদন, রেলওয়ে নির্মাণ এবং উদীয়মান প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ হিসেবে স্লোভাকিয়ার মাধ্যমে ইউরোপের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত সম্পর্ক আরও মজবুত করার দিকেও নজর দিচ্ছে নয়াদিল্লি।

    জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন মোদি

    স্লোভাকিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী ১৬-১৭ জুন ফ্রান্সের আভিয়োঁ-তে অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন। সেখানে জি৭ সদস্য ও অংশীদার দেশগুলির নেতাদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং এআই-সহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে আলোচনা করবেন। একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। ইউরোপ সফরের শেষ পর্যায়ে ১৮ জুন প্রধানমন্ত্রী প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউরোপের অন্যতম (Narendra Modi) বৃহত্তম প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ সম্মেলন ‘ভিভাটেক ২০২৬’-এ অংশ নেবেন, যেখানে (Bratislava Visit) উপস্থিত থাকবেন ফরাসি প্রেসিডেন্টও।

  • India vs Pakistan: কোন মন্ত্রে পাকবধ? জানালেন হরমন-দীপ্তি, টি২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে ৬৪ রানে হারাল ভারত

    India vs Pakistan: কোন মন্ত্রে পাকবধ? জানালেন হরমন-দীপ্তি, টি২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে ৬৪ রানে হারাল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের বাইশ গজে দাপট ভারতের। পুরুষ হোক বা মহিলা, একই ছবি দেখা যাচ্ছে গত কয়েক বছরে। বিশ্বক্রিকেটে ভারতের সামনে খেলতে নামলেই এক অজানা আতঙ্ক গ্রাস করে পাকিস্তানকে (India vs Pakistan)। শুরুটা ভাল করলেও যত ম্যাচ গড়ায় তত পিছিয়ে পড়ে তারা। মহিলাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও (ICC Women T20I World Cup 2026) সেই ছবি দেখা গেল। ভারতের সামনে দাঁড়াতে পারল না পাকিস্তান। বার্মিংহ্যামে দাপট দেখালেন হরমনপ্রীত কৌরেরা। পাকিস্তানকে ৬৪ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপ শুরু হল তাঁদের। ব্যাট হাতে নায়ক স্মৃতি মন্ধানা ও রিচা ঘোষ। বল হাতে ৫ উইকেট নিয়ে দাপট দেখালেন দীপ্তি শর্মা।

    দুরন্ত বাংলার রিচা

    এই জয়ের রহস্য ফাঁস করেছেন ভারতের অধিনায়ক হরমনপ্রীত ও ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় দীপ্তি। হরমনপ্রীত দুই ক্রিকেটারকে জয়ের প্রধান কৃতিত্ব দিয়েছেন। তাঁরা হলেন স্মৃতি মন্ধানা ও দীপ্তি শর্মা। অধিনায়ক বলেন, “যখনই দরকার পড়ে, ওরা এগিয়ে আসে। দলকে জেতায়। ওদের নিয়ে বেশি কিছু বলার নেই। ওদের খেলায় আমি খুব খুশি। আশা করছি, আগামী দিনেও ওরা এ ভাবে খেলবে।” ব্যাট করতে নেমে শুরুতে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল ভারত। দেখে মনে হচ্ছিল, এই পিচে ব্যাট করা কঠিন। পিচ ততটাও কঠিন ছিল না বলে জানিয়েছেন হরমনপ্রীত। তিনি বলেন, “পিচ ঠিকই ছিল। আমার মনে হয়, শুরুতে অকারণে বেশি চাপ নিয়ে ফেলেছিলাম। পরে আমি ও স্মৃতি জুটি বাঁধলাম। সেখান থেকে খেলায় ফিরলাম।” ভারতের রান ১৭০ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব রিচা ঘোষের। ১৭ বলে ৩৪ রানের ইনিংস খেলেন বাংলার রিচা। হরমন চান, রিচা শুরু থেকে খেলুন। কিন্তু তা সম্ভব নয়। হরমনপ্রীত বলেন, “আমি চাই রিচা প্রথম বল থেকে ব্যাট করুক। আমার হাতে ক্ষমতা থাকলে ওকে শুরুতে নামাতাম। কিন্তু এই দলে ওর নির্দিষ্ট ভূমিকা রয়েছে। সেটাই ও খুব ভাল ভাবে পালন করছে।”

    দীপ্তির আভায় উজ্জ্বল ভারত

    ভারতের জয়ের নেপথ্যে একটা বড় ভূমিকা রয়েছে টিম ইন্ডিয়ার অলরাউন্ডার দীপ্তি শর্মার (Deepti Sharma)। এই ম্য়াচে তিনি ক্রিকেট ইতিহাসে এক নয়া অধ্যায় যোগ করেছেন। রবিবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দীপ্তি ৫ উইকেট শিকার করেন। ভারতীয় টি-২০ ক্রিকেট ইতিহাসে এটাই সর্বকালের সেরা পরিসংখ্যান। কোন মন্ত্রে এই সাফল্য! ম্য়াচ শেষ হতেই ফাঁস করলেন সিক্রেট। টিম ইন্ডিয়ার ম্য়াজিশিয়ান বললেন, একটি ছোট্ট পরিবর্তন করেই সফল হয়েছেন তিনি। দীপ্তি বলেন, “আমি এই ধরনের পিচে বল করতে ভালবাসি। বলের গতি কিছুটা কম রাখছিলাম। উইকেট লক্ষ্য করে বল করছিলাম। বাকিটা পিচ করে দিয়েছে।” যে ভাবে সমর্থকেরা তাঁদের উৎসাহ দিয়েছেন সে কথাও জানিয়েছেন হনুমানজির ভক্ত দীপ্তি। পাশাপাশি স্মৃতি ও হরমনপ্রীতের ব্যাটিংয়ের প্রশংসাও করেছেন তিনি।

  • TMC Revolt: তৃণমূলে ঐতিহাসিক ভাঙন! ২০ সাংসদের বিদ্রোহে একদা ‘নিষ্ক্রিয়’ এনসিপিআই এখন লোকসভার পঞ্চম বৃহত্তম দল

    TMC Revolt: তৃণমূলে ঐতিহাসিক ভাঙন! ২০ সাংসদের বিদ্রোহে একদা ‘নিষ্ক্রিয়’ এনসিপিআই এখন লোকসভার পঞ্চম বৃহত্তম দল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সংসদীয় রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন এবং বিস্ময়কর ঘটনায় বড়সড় ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। দলের লোকসভার দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সাংসদ বিদ্রোহ ঘোষণা করে এক অতি-অপরিচিত রাজনৈতিক দল, ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (NCPI)-তে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছেন তৃণমূলের একাধিক প্রবীণ ও প্রভাবশালী সাংসদ। তাঁরা ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে পৃথক আসন বিন্যাস এবং নতুন দল হিসেবে স্বীকৃতির আবেদন জমা দিয়েছেন। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ে আত্মপ্রকাশের পরই এই গোষ্ঠী এনডিএ (NDA) জোটে যোগদানের ঘোষণা করেছে। ফলে শুধু তৃণমূল নয়, জাতীয় স্তরেও বিরোধী রাজনীতির সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    কে এই এনসিপিআই?

    বিদ্রোহী সাংসদদের নতুন ঠিকানা হওয়া ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া (NCPI) নামটি রবিবার দুপুর পর্যন্ত কার্যত অজানাই ছিল। রাজনৈতিক মহলের অধিকাংশ সদস্যই এই দলের অস্তিত্ব সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। এমনকি ত্রিপুরার একাধিক রাজনৈতিক নেতা দাবি করেছেন, তাঁরা কোনওদিন এই দলের নামও শোনেননি। ভারতের নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, এনসিপিআই একটি নিবন্ধিত অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল। ২০২২-২৩ সালের মধ্যে দলটি নিবন্ধিত হলেও এটি কোনও স্বীকৃত জাতীয় বা আঞ্চলিক দল নয় এবং নির্বাচন কমিশনের তরফে তাদের কোনও স্থায়ী নির্বাচনী প্রতীকও বরাদ্দ করা হয়নি। দলের সদর দফতর পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার বাঁকড়ায় অবস্থিত। অর্থাৎ বিভিন্ন মহলে প্রচারিত ধারণার বিপরীতে, দলটির মূল ভিত্তি ত্রিপুরা নয়, পশ্চিমবঙ্গেই।

    মাত্র ৮২২ ভোট থেকে লোকসভার পঞ্চম বৃহত্তম দল

    এনসিপিআই-এর অতীত নির্বাচনী রেকর্ড অত্যন্ত সীমিত। ২০২৩ সালের ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনে দলটি মাত্র দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল। কৈলাসহর কেন্দ্রের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলি পান ২৮৬ ভোট এবং চাওমনু কেন্দ্রের প্রার্থী বরজেদা ত্রিপুরা পান ৫৩৬ ভোট। অর্থাৎ পুরো দল মিলিয়ে মোট ভোট ছিল মাত্র ৮২২। নির্বাচন কমিশনের ফলাফলে দলটির সংক্ষিপ্ত নাম হিসেবে ‘এনসিপিএন’ ব্যবহার করা হয়েছিল। কমিশনের নিজস্ব কোডিং ব্যবস্থার কারণে অনেক সময় দলের প্রচলিত সংক্ষিপ্ত নামের পরিবর্তে আলাদা কোড ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। তৃণমূলের ১৯-২০ জন সাংসদ যোগ দেওয়ায় কার্যত রাতারাতি লোকসভার পঞ্চম বৃহত্তম রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে এনসিপিআই। একইসঙ্গে এনডিএ-র অভ্যন্তরেও এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।

    কেন বিজেপিতে সরাসরি যোগ দিলেন না বিদ্রোহীরা?

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিদ্রোহী সাংসদদের এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে অত্যন্ত সূক্ষ্ম আইনি ও কৌশলগত হিসাব। ভারতের দশম তফশিল বা দলত্যাগ-বিরোধী আইন অনুযায়ী, কোনও সাংসদ বা বিধায়ক স্বেচ্ছায় দলত্যাগ করলে অথবা দলের হুইপ অমান্য করলে তাঁর সদস্যপদ খারিজ হতে পারে। তবে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম রয়েছে। যদি কোনও আইনসভা দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে সেটিকে দলত্যাগ নয়, বৈধ ‘মার্জার’ হিসেবে গণ্য করা হয়। বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের সংখ্যা এই দুই-তৃতীয়াংশের সীমা অতিক্রম করায় তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ আইন প্রযোজ্য হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। অন্যদিকে নতুন দল গঠন করলে এই সুরক্ষা পাওয়া যেত না। ফলে একটি বিদ্যমান নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে বেছে নেওয়া ছিল তাঁদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ এবং কার্যকর পথ।

    এনসিপিআই-কে বেছে নেওয়ার নেপথ্যে বড় কৌশল

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপিআই-এর মতো কার্যত নিষ্ক্রিয় ও নেতৃত্বহীন একটি দলকে বেছে নেওয়ার মধ্যে আরও বড় রাজনৈতিক সুবিধা রয়েছে। যদি বিদ্রোহীরা সরাসরি বিজেপি বা অন্য কোনও বড় এনডিএ শরিক দলে যোগ দিতেন, তাহলে তাঁদের প্রতিষ্ঠিত সাংগঠনিক কাঠামোর অধীনেই কাজ করতে হত। কিন্তু এনসিপিআই-এর ক্ষেত্রে বাস্তবিক অর্থেই পুরো দলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়া সম্ভব। অর্থাৎ আইনি সুরক্ষা বজায় রেখেই তাঁরা নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয়, সংগঠন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা ধরে রাখতে পারবেন। একই সঙ্গে এনডিএ-র অংশ হিসেবেও কাজ করতে পারবেন। এক কথায় আইনি জট এড়াতেই আলাদা দলে মিশে যাওয়ার পদক্ষেপ।

    তৃণমূলের ভবিষ্যৎ কী?

    এই বিদ্রোহের প্রভাব শুধু দিল্লির সংসদেই সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা নেই। সূত্রের দাবি, কলকাতাকেন্দ্রিক এক বৃহৎ গোষ্ঠী ইতিমধ্যেই দলের নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। প্রায় ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক বিদ্রোহী শিবিরের প্রতি সহানুভূতিশীল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। যদি বিধায়করাও একই পথে হাঁটেন এবং এনসিপিআই-তে যোগ দেন, তাহলে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তৃণমূলের শক্তি নাটকীয়ভাবে কমে যেতে পারে। অন্যদিকে এনডিএ-র রাজনৈতিক অবস্থান রাজ্যে অভূতপূর্বভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।

    ‘‘তৃণমূল’’ নাম ও প্রতীক নিয়ে নতুন লড়াই?

    সবচেয়ে আকর্ষণীয় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে দলীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে। যেহেতু বিদ্রোহী শিবিরের দাবি হবে যে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনপ্রতিনিধিকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে এসেছে, তাই ভবিষ্যতে ‘‘তৃণমূল’’ নাম, প্রতীক এবং সংগঠনের প্রকৃত উত্তরাধিকার নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এর আগে শিবসেনা, এনসিপি-সহ একাধিক দলের ক্ষেত্রে প্রতীক ও দলের মালিকানা নিয়ে আইনি লড়াই দেখা গেছে। সেই নজির অনুসরণ করে পশ্চিমবঙ্গেও অনুরূপ সংঘাত দেখা দিতে পারে।

    জাতীয় রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়

    যদি এই পরিস্থিতি বাস্তবে পূর্ণতা পায়, তাহলে এটি স্বাধীন ভারতের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম বড় দলীয় ভাঙন হিসেবে চিহ্নিত হবে। মাত্র কয়েক বছর আগে প্রতিষ্ঠিত, নির্বাচনে মাত্র ৮২২ ভোট পাওয়া একটি দল হঠাৎ করেই লোকসভার পঞ্চম বৃহত্তম শক্তিতে পরিণত হবে— এমন নজির ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রায় অদেখা। একই সঙ্গে এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্র, বিরোধী জোট রাজনীতি এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সমীকরণকেও আমূল বদলে দিতে পারে। বর্তমানে রাজনৈতিক মহলের নজর এখন একটাই প্রশ্নে— এই সাংসদদের পদক্ষেপের পর কি তৃণমূলের বিধায়করাও একই পথে হাঁটবেন, নাকি দলটি এই সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে?

  • US-Iran Peace Deal: তেলের বাজারে স্বস্তি! ইরান-আমেরিকা শান্তিচুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের, ১০০ দিন পর খুলছে হরমুজ প্রণালী

    US-Iran Peace Deal: তেলের বাজারে স্বস্তি! ইরান-আমেরিকা শান্তিচুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের, ১০০ দিন পর খুলছে হরমুজ প্রণালী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অবশেষে স্বস্তি! দীর্ঘ তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত অবসানের পথে। যুদ্ধ থামিয়ে ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির ঘোষণা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (US President Donald Trump)। রবিবার, ১৪ জুন তিনি ঘোষণা করলেন যে আমেরিকা ও ইরান শান্তিচুক্তিতে (US-Iran Peace Deal) সম্মত হয়েছে। লেবানন সহ সমস্ত জায়গায় মিলিটারি অপারেশন বন্ধ করা হবে অবিলম্বে। একইসঙ্গে তিনি জানান যে হরমুজ প্রণালীও খুলে গিয়েছে (Strait of Hormuz Re-Opening)। হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের জন্য কোনও জাহাজকে টোল বা ট্যাক্স দিতে হবে না। ট্রাম্প বলেন যে এই শান্তিচুক্তি ওই এলাকায় স্থিতাবস্থা ফেরাতে বিরাট বড় পদক্ষেপ। শান্তিচুক্তিতে কী কী শর্ত রয়েছে, তাও তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষর

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বিষয়ে একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে। এই চুক্তির আওতায় লেবানন-সহ সমস্ত ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান প্রথম এই ঘোষণা করে। পরে ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয়ই বিষয়টি নিশ্চিত করে। আগামী ১৯ জুন, শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পূর্ণ হয়েছে। আমি হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে ও বিনামূল্যে উন্মুক্ত করার অনুমোদন দিচ্ছি। একইসঙ্গে মার্কিন নৌ অবরোধও প্রত্যাহার করা হবে। বিশ্বের জাহাজগুলো আবার চলাচল শুরু করুক, তেলের প্রবাহ স্বাভাবিক হোক।” এর কিছুক্ষণ পরেই ইরানের উপ-বিদেশমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানান, এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে চলা যুদ্ধের “তাৎক্ষণিক সমাপ্তি” ঘটছে। পাশাপাশি আগামী দুই মাসের মধ্যে একটি চূড়ান্ত সমঝোতার লক্ষ্যে নতুন আলোচনা শুরু হবে।

    চুক্তিতে কী কী শর্ত আছে?

    • হরমুজ প্রণালী: প্রথমেই ট্রাম্প জানান যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াত সম্পূর্ণ টোল ফ্রি বা কর মুক্ত হবে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতে যাতে কোনও বাধা সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করবে শান্তিচুক্তি। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলতে হবে চুক্তির নিয়মে।
    • ইরানের উপর নিষেধাজ্ঞা নয়: আমেরিকা ইরানের বন্দরে যাওয়া-আসার যে পথগুলি বন্ধ করে রেখেছিল, তাও তুলে নেবে ৩০ দিনের মধ্যে। যুদ্ধের সময় ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বিক্রিতে যে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল আমেরিকা, তা প্রত্যাহার করা হবে।
    • ইরানকে আর্থিক সাহায্য: খসড়া প্রস্তাবে সিদ্ধান্ত হয়েছে ইরানে যুদ্ধের জেরে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা পুনর্নির্মাণের জন্য আমেরিকা ও তার বন্ধু দেশগুলি অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক সাহায্য করবে। ইরানের ২৪ বিলিয়ন ডলার আটকে রয়েছে বিদেশি ভাঁড়ারে। সেই টাকাও ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইরান। শান্তিচুক্তিতে সই করার আগেই এই তহবিলের অর্ধেক টাকা দাবি করা হয়েছে।
    • ইরানের পরমাণু প্রোগ্রাম: ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু নাকি এই চুক্তিতে আপত্তি করেছিলেন। ট্রাম্প সে কথা ফাঁস করে দেন সাংবাদিক বৈঠকে। একইসঙ্গে তিনি বলেন যে নেতানিয়াহুর আপত্তি থাকলেও, এই চুক্তি ইজরায়েলকে সম্ভাব্য বিরাট বড় বিপর্যয় থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। ইরানের পরমাণু প্রোগ্রাম নিয়ে আলোচনাও হবে এই শান্তিচুক্তিতে, তা উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। যদি ইরান আমেরিকার সঙ্গে পরমাণু শক্তি নিয়ে চুক্তি করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ফের মিলিটারি অভিযান শুরু হবে।

    আন্তর্জাতিক মহলে স্বস্তি

    চুক্তির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তাঁর মতে, এটি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনের পথে একটি “গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ”। অন্যদিকে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইটালি জানিয়েছে, তারা ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে এবং দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সমাধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করবে।

    বাজারে ইতিবাচক প্রভাব

    শান্তিচুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়তেই আন্তর্জাতিক বাজারে স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করে। সোমবার এশিয়ার বাজার খুলতেই তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে যায়। একইসঙ্গে জাপানের নিক্কেই সূচক প্রায় ৩ শতাংশ বেড়ে যায়। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় গত কয়েক মাসে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি এবং বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েছিল। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, “এই চুক্তির ফলে শুধু এখনই নয়, দীর্ঘমেয়াদেও জ্বালানির দাম কমবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির নতুন পথ খুলবে।”

    যুদ্ধের অবসান!

    গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে এই সংঘাতের সূচনা হয়। পাল্টা জবাবে ইরান ইজরায়েল এবং মধ্য প্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। একইসঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেয়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলির বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ আরোপ করে। দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে যুদ্ধবিরতির পথে দুই দেশ এগোলেও, চূড়ান্ত চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে এখনও বহু প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। তবে আপাতত বিশ্ববাসীর নজর ১৯ জুনের জেনেভা বৈঠকের দিকে, যেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা।

    শান্তিচুক্তি না হলে কী হবে?

    ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে যদি পরমাণু শক্তি নিয়ে আলোচনায় ইরান সম্মতি না দেয়, তাহলে ফের সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে। আর যদি এই চুক্তিই ভেঙে যায়, তাহলে তিনি হয় তেহরানে ফের হামলা শুরু করবেন, নয়তো আমেরিকাকে মধ্য প্রাচ্যের অভিভাবক (Guardian of the Middle East) করে তুলবেন। এর বিনিময়ে তাদের ওই অঞ্চল থেকে পাওয়া রাজস্বের ২০ শতাংশ দেওয়া হতে পারে।

LinkedIn
Share